Category: স্বাস্থ্য

লেসিক কখন করবেন?

প্রশ্ন : লেসিক করলে কী সারাজীবন এভাবেই চলবে? না কি আরো কিছু করতে হবে?

উত্তর : খুব ভালো প্রশ্ন। লেসিক করলেই কি ভালো হয়ে যায়? আমরা বলি যে ২১ বছর বয়সে লেসিক করবেন না। কেন বলি? কারণ হলো, সাধারণত মানুষের চোখের পাওয়ারগুলো ২১ থেকে ২২ বছর বয়সের মধ্যে স্থির হয়ে যায়। একজন শিশুর পাওয়ার ছিল মাইনাস দুই। প্রতি বছরই সেটি বেড়ে যাচ্ছে। ২১ বছর পর হয়তো আর বাড়ছে না। আমরা বলছি পাওয়ারটা স্থির হয়েছে। তখনই সে লেসিক সার্জারি করতে পারবে। কেননা লেসিক সার্জারি করার পর তার পাওয়ারটা জিরো হয়ে গেল। সাধারণত পাওয়ারটা আর বেশি বাড়ে না। তবে যদি এমন হয়, একজন রোগী, তাঁর ১৮ বছর বয়স, তাঁর পাওয়ারটা স্থির হয়নি, তিনি লেসিক করলেন। তাঁর হয়তো বিয়ের বিষয় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে বা কোনো মেডিকেল চেকআপের প্রয়োজন রয়েছে, উনি করে ফেললেন। তবে তাঁর পাওয়ার স্থির হয়নি। দেখবেন, এক বছর পর তাঁর পাওয়ার আবার মাইনাস এক হয়েছে বা মাইনাস দুই হয়ে গেছে।

প্রশ্ন : তার কি আবারও লেসিক করা সম্ভব?

উত্তর : সাধারণত হয় না। সেক্ষেত্রে চশমা বা কনট্যাক্ট লেন্স ভালো উপায়।

প্রশ্ন : আর পাওয়ার স্থির হওয়ার পর করলে?

উত্তর : সাধারণত তাদের পাওয়ার আর বাড়ে  না। বাড়লেও খুব কম। এতে চশমা পরার প্রয়োজন হয় না।

প্রশ্ন : যাদের আগে লেসিক করা হয়, তাদের বেলায় ছানি পড়ার প্রবণতা কেমন?

উত্তর : লেসিকের সঙ্গে ছানির তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। তবে লেসিক করা চোখে ছানি অস্ত্রোপচারের সময় পাওয়ারের বিরাট পার্থক্য হয়। যে পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা লেন্সের পাওয়াটা নির্ধারণ করি, যাকে বলি বায়োমেট্রি। যদি কারো চোখে লেসিক করা থাকে সেটি একরকম হবে না। সেক্ষেত্রে অন্য কোনো পদ্ধতির সাহায্যে এটি করতে হবে।

কিডনী রোগীর খাবার

কিডনি রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ঘন ঘন ইউরিন ইনফেকশ, অস্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত খাওয়া-দাওয়া, অতিরিক্ত ওজন ছাড়া আরো নানা কারণে কিডনি রোগ হতে দেখা যায়। যে কারণেই কিডনির সমস্যা হোক না কেন দীর্ঘ মেয়াদি কিডনি রোগের চিকিৎসায় একমাত্র উপায় হলো সঠিক পথ্য। অন্যান্য রোগের চেয়েও খুব হিসাব-নিকাশ করে কিডনি রোগীর চিকিৎসার পথ্য নির্ধারণ করতে হয়। রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বৃদ্ধিকে ধীর গতিতে চালোনার ক্ষেত্রে সঠিকপথ্য দারুণভাবে কার্যকরী। কিছু ক্ষেত্রে সঠিক পথ্য মেনে চললে রক্তে ক্রিয়েটিনের মাত্রাকে অনেকটা নামিয়ে আনা সম্ভব। তবে রোগী ভেদে কিডনির পথ্য নির্ধারণে কিছুটা ভিন্নতা থাকে। কেননা রক্তে ইলেকট্রোলাইটসের পরিমাণ, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, ইউরিয়া ও ইউরিক এসিডের পরিমাণ, রক্ত ও ইউরিনে এলবুমিনের পরিমাণ এবং ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা ভেদে পথ্যটিকে সাজাতে হয়। সে ক্ষেত্রে একজন ক্লিনিক্যাল ডায়েটেশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া একান্ত জরুরি। তারপরও সাধারণভাবে যে বিষয়গুলো মনে রাখা প্রয়োজন সেগুলো হলো :

১. ক্যালরি

কিডনি রোগীদের সাধারণত ক্যালরির চাহিদা অন্যান্য রোগীদের তুলনায় বাড়ানো হয়। যথাযথ শক্তি প্রদান করার মাধ্যমে রোগীর সঠিক মাংসপেশীকে বজায় রাখতে ক্যালরি সাহায্য করে। সাধারত প্রতি কেজি ওজনের জন্য রোগী ভেদে ৩০ থেকে ৩৫ কিলোক্যালরি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এই ক্যালরি রোগীকে শক্তিপ্রদান করা ছাড়াও সচল এবং কর্মক্ষম রাখে। যা রোগীকে এই রোগ মোকাবিলায় দারুণভাবে সাহায্য করে।

২. কার্বোহাইড্রেট

কিডনি রোগী মোট ক্যালোরি চাহিদার বেশির ভাগই কার্বোহাইড্রেটের মাধ্যমে পূরণ হয়। কার্বোহাইড্রেট কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে বন্ধুবৎসল। খাবারে অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ করতে হয় বলে কাবোর্হাইড্রেটকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে শর্করার মাত্রা বিবেচনা করে কার্বোহাইড্রেট হিসাব করা হয়। ভাত, ময়দা, রুটি, চিরা, সুজি , চালের গুঁড়া, চালের রুটি, সাগু, সেমাই ইত্যাদি কিডনি রোগীর জন্য উত্তম কার্বোহাইড্রেট।

৩. প্রোটিন  

কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে প্রোটিন নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ মেয়াদি কিডনি রোগে প্রতি কেজি ওজনের জন্য পয়েন্ট পাঁচ থেকে পয়েন্ট আট গ্রাম প্রোটিন বরাদ্দ করা যেতে পারে। যদিও এই হিসাব নির্ভর করবে রোগীর অবস্থা ও বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্টের ওপর। সাধারণত ডাল, বাদাম, কাঁঠালের বিচি, সিমের বিচি ইত্যাদি রোগীকে বর্জন করতে হয়। প্রতিদিনের দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা ডিমের সাদা অংশ, মাছ, মুরগির মাংস ও দুধ বা  দই ইত্যাদি থেকে হিসাব করে বরাদ্দ করা হয়। গরু, খাসির মাংস, কলিজা, মগজ ইত্যাদি অবশ্যই এড়িয়ে যেতে বলা হয়।

৪. চর্বি  

বেশির ভাগ কিডনির রোগীই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগে। এ ছাড়া কিডনি রোগীদের যাতে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে না যায়- প্রেশার নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে তাই চর্বির হিসাব যথাযথভাবে করতে হয়। সাধারণত স্যাচুরেটেট বা সম্পৃক্ত চর্বি জাতীয় খাবার, ভাজাপোড়া খাবার, ফাস্ট ফুড, ডিমের কুসুম এড়িয়ে যেতে হয়। রান্নার তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে উদ্ভিজ্জ তেল, সূর্যমুখী, কর্ন অয়েল, ক্যানোলা অয়েল ইত্যাদি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। অনেক কিডনি রোগীকে ভয়ে তেল খাওয়া বন্ধ করতে দেখা যায়। যা একেবারেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। প্রতিদিনের রান্নায় চার চা চামচ (২০ এমএল) তেল ব্যবহার করলে ভালো।

৫. সবজি

রক্তে পটাশিয়াম, ইউরিক এসিডের মাত্রা, ফসফরাস ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে সবজি হিসাব করা হয়। অতিরিক্ত পিউরিন ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ শাকসবজি, পিচ্ছিল ও গাড় লাল রঙের শাক সবজি এড়িয়ে যেতে হবে। তবে কিডনি রোগীদের জন্য চালকুমড়া, চিচিঙ্গা, ঝিংগা ইত্যাদি পানীয় সবজি উপকারী। উপকারী হলেও এগুলোর পরিমাণ মেনে চলাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা সবজির সালাদ, সবজি স্যুপ ইত্যাদি কিডনি রোগীদের এড়িয়ে চলতে হয়।

৬. ফল

কিডনি রোগীদের ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সতর্ক হতে হয়। অক্সালিক এসিড, ইউরিক এসিডস, পটাশিয়াম, রক্তচাপ ছাড়াও আরো অনেক কিছু বিবেচনা করে ফল নির্ধারণ করা হয়। তিন চারটি ফল রোগী ভেদে সীমিত আকারে দেওয়া হয়। যেমন : আপেল, পাকা পেপে, পেয়ারা ইত্যাদি। অনেকই কিডনি রোগ হলে ফল খাওয়া বন্ধ করে দেয়। যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ ক্ষেত্রে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বিবেচনা করে ফল নির্ধারণ করতে হবে।

৭. লবণ

লবণ বা সোডিয়াম নিয়ন্ত্রিত পথ্য কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি। রক্তচাপ, রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা, ইডিমা বা শরীরের পানির পরিমাপের ওপর ভিত্তি করে লবণের পরিমাপ করা হয়। সাধারণত দুই থেকে পাঁচ গ্রাম লবণ নির্ধারণে করা হয় যা নির্ভর করবে আপনার শারীরিক অবস্থা ও ডায়েটেশিয়ানের ওপর। তবে আলাদা লবণ অবশ্যই পরিহার করতে হবে এবং অতিরিক্ত সোডিয়ামযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন : চিপস, পাপর, চানাচুর, আচার ইত্যাদি। যা শুধু কিডনি রোগীর চিকিৎসায় নয়, কিডনি রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

৮. তরল/ পানি

কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে তরল নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। দৈনিক চা, দুধ, পানি সব মিলিয়ে তরলের হিসাব করা হয়। কোনো রোগীকে কতটুকু তরল বরাদ্দ করা হবে তা নির্ভর করবে রোগীর অবস্থার ওপর। শরীরের ইডিমা, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, সোডিয়ামের মাত্রা, ইজিএসআর- এসবের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে এক থেকে দেড় লিটার, কখনো কখনো দুই লিটার পর্যন্ত তরল বরাদ্দ হয়। অনেকেই্ অসুস্থ কিডনিকে সুস্থ করার জন্য অতিরিক্ত পানি খায়, এটি ভুল।

দীর্ঘ মেয়াদি ক্রনিক কিডনি রোগী এ ধরনের খাবার মেনে চললে কিডনিকে মারাত্মক জটিলতা থেকে রক্ষা করা যেতে পারে। কিছুটা এক ঘেয়েমি হলেও ধৈর্যের সঙ্গে সঠিক পথ্য ব্যবস্থাপনা মেনে চলা প্রত্যেক কিডনি রোগীর জন্য একান্ত জরুরি।

বিঃ দ্রঃ ডায়ালাইসিসের আগ পর্যন্ত রোগাক্রান্ত কিডনি সুরক্ষার জন্য এই খাবারগুলো মেনে চলা যায়।

লেখক : প্রধান পুষ্টিবিদ, অ্যাপোলো হাসপাতাল।

চিনি? দিনে ৭ চায়ের চামচের বেশি নয় পরামর্শ দিলেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

২১ জুলাই (রেডিও তেহরান): দিনে সাত চায়ের চামচের বেশি চিনি না খাওয়ার উপদেশ দিয়েছে বিশেষজ্ঞদের একটি দল। ব্রিটিশ সরকারের সায়েন্টিফিক এডভাইজরি কমিটি অন নিউট্রিশন বা এসএসিএন দেশটির চিনি সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা পর্যালোচনার করার পর এ পরামর্শ দিয়েছে।মাত্রাতিরিক্ত চিনি গ্রহণের সঙ্গে দন্তক্ষয়, মুটিয়ে যাওয়া, হৃদরোগ, আন্ত্রিক সমস্যা  এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সম্পর্কের বিষয় পর্যালোচনার পর এ পরামর্শ দেয়া হয়।এতে চার থেকে ছয় বছরের শিশুদেরকে দৈনিক ১৯ গ্রাম বা চায়ের চামচের ছয় চামচ, সাত থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুদের ২৪ গ্রাম বা ছয় চায়ের চামচ এবং ১১ থেকে তদূর্ধ্ব বছর বয়সিদের জন্য ৩০ গ্রাম বা সাত চায়ের চামচ চিনি গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সরাসরি চিনির বদলে যারা সুগার কিউব ব্যবহার করেন তাদের জন্য  হিসাবটিতে বলা হয়েছে, প্রতি সুগার কিউবে এক চায়ের চামচ পরিমাণ চিনি থাকে। এসএসিএন বলেছে, ক্রম বর্ধমান মুটিয়ে যাওয়া, দন্তক্ষয় এবং ডায়াবেটিস সমস্যা নির্মূল করতে চাইলে এ উপদেশ মানা ছাড়া বিকল্প নেই। #

আগামী ৩০ বছরে ৫০০ কোটি মানুষ দৃষ্টি হিনতায় ভূগতে পারে

বিশ্বের অর্ধেক জনগোষ্ঠী অর্থাৎ প্রায় ৫০০ কোটি মানুষ আগামী ৩০ বছরের মধ্যে দৃষ্টিক্ষীণতার শিকার হবেন । ফলে এদের মধ্যে এক পঞ্চমাংশের অন্ধ হওয়ার আশংকা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়বে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এ ভয়াবহ তথ্য ওঠে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ভিত্তিক ব্রায়েন হোল্ডেন ভিশন ইন্সটিটিউট এ সমীক্ষা চালিয়েছে।গবেষকরা বলছেন, দৃষ্টিক্ষীণতা বলতে দূরের জিনিস ভাল ভাবে দেখতে কষ্ট হওয়াকে বোঝানো হয় এবং এটি বিশ্বে স্থায়ী অন্ধত্বের কারণ হয়ে দেখা দেবে। গবেষকরা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে আরো বলেছেন, ২০০০ সালের তুলনায় ২০৫০ সালে ক্ষীণদৃষ্টি জনিত অন্ধত্বের হার সাত গুণ বাড়বে। বর্তমান বিশ্বে ক্ষীণদৃষ্টির অন্তত ২০০ কোটি মানুষ ভুগছেন। এ সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে ব্রায়েন হোল্ডেন ভিশন ইন্সটিটিউট।জীবন-যাপনের পরিবর্তনকে এটি বাড়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, বাইরে প্রাকৃতিক আলোয় সময় কাটানোর বদলে বেশির ভাগ সময় ঘরে বই পড়ে বা কম্পিউটারসহ অন্যান্য পর্দার দিকে তাকিয়ে সময় ব্যয় করছে শিশু। এ জাতীয় অভ্যাস দৃষ্টিক্ষীণতার অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।শিশুর নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করার পাশাপাশি তাদেরকে নিয়মিত বাইরে খেলাধুলা করতে পাঠানোর জন্য মা-বাবা কিংবা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা। এ ছাড়া, শিশুর কম্পিউটারসহ সব পর্দার ব্যবহারও সীমিত করে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুদের দক্ষ মানবসম্পদে গড়ে তোলা যাবে —বিডা নির্বাহী চেয়ারম্যান


রাজশাহী, ২০ জ্যৈষ্ঠ (৩ জুন) : বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ওরা প্রতিবন্ধী নয়, ওরা বিশেষ প্রয়োজনের শিশু। যথাযথ শিক্ষা ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা যাবে। তখন তারা দেশ ও জাতির বোঝা না হয়ে আশীর্বাদ হিসেবে পরিগণিত হবে।তিনি আজ সকালে নগরীর পঞ্চবটীতে রাজশাহী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়কে উত্তরা মোটরস লিমিটেড এর পক্ষ থেকে মাইক্রোবাস প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে ও তাঁর সুযোগ্যা কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের তত্ত্বাবধানে বর্তমান সরকার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের উন্নয়নে যেসব যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা বিশ্ব দরবারে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ও সমাদৃত হয়েছে।রাজশাহী জেলা প্রশাসক মোঃ হেলাল মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মোঃ নুর উর রহমান এবং উত্তরা মোটরস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মতিউর রহমান।

চেয়ারম্যান বলেন, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের মাঝে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া শুধু আমাদের মানবিক ও নৈতিক কর্তব্য নয়, বরং এটা আমাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। তিনি উত্তরা মোটরস লিমিটেডের চেয়ারম্যানকে তাদের কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে এ ধরনের মহতী কাজে এগিয়ে আসার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উত্তরা মোটরস লিমিটেডের এ উদ্যোগ বেসরকারি খাতকে এ ধরনের সামাজিক কাজে আরো বেশি হারে অংশগ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করবে।পরে বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান প্রতিষ্ঠানটির মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে মাইক্রোবাসের চাবি হস্তান্তর করেন। মাইক্রোবাসটি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতসহ আনুষঙ্গিক কাজে ব্যবহার করা হবে।

ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীকে অতিমাত্রায় রেডিও থেরাপি দেয়ার সময় সুস্থ কোষ রক্ষা করে যন্ত্রণা লাঘব———–

 

ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীকে অতিমাত্রায় রেডিও থেরাপি দেয়ার সময় সুস্থ কোষ রক্ষা করে যন্ত্রণা লাঘব আর কিছুটা সময় বেঁচে রাখার বিশেষ ধরনের ডিজিটাল যন্ত্র উদ্ভাবন করে বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। এই যন্ত্র পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের চার ধারে এবং যে কোন রেডিয়েশন এলাকার পরিবেশ তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নিরূপণ করে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করবে। ইতোমধ্যে ব্রিটেন, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশ তার গবেষণায় উদ্ভাবিত ডিজিটাল যন্ত্রটি ক্যান্সার হাসপাতালে এবং রেডিয়েশন আওতাভুক্ত এলাকায় ব্যবহার শুরু করেছে। বাংলাদেশের এই তরুণ কৃতী পরমাণু বিজ্ঞানীর নাম ড. এ কে এম মিজানুর রহমান। বাড়ি পাবনা জেলার সাথিয়া উপজেলায়। ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত রেডিয়েশনের সঠিক মাত্রা প্রয়োগ ও নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের ডিজিটাল যন্ত্রটি মে মাসে মালয়েশিয়ায় ইন্টারন্যাশনাল ইনভেনশন ইনোভেশন এ্যান্ড টেকনোলজি এক্সিবিশনে (আইটেক্স) স্বর্ণপদক পেয়েছে। এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর এক হাজার উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয়। বাংলাদেশী এই তরুণ পরমাণু বিজ্ঞানীর স্বর্ণপদক বিশ্বে অভিনন্দিত হয়।

সাঁথিয়ার গ্রামের প্রাথমিক স্কুল থেকে ৪৫ বছর বয়সী এই পরমাণু বিজ্ঞানীর লেখাপড়া শুরু। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন। পরে পিএইচডি করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পরমাণু শক্তি কেন্দ্র ঢাকার স্বাস্থ্য ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। ছেলেবেলা থেকেই যে কোন বিষয়ে জানার কৌতূহল তাকে গবেষণার পথে এনেছে। তিনি লক্ষ্য করেন মরণব্যাধি ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীকে কী কঠিন যন্ত্রণা সইতে হয়। ক্যান্সার প্রতিরোধে কোন ওষুধ ও চিকিৎসা আজও আবিষ্কৃত হয়নি। বিজ্ঞানীদের এই ব্যর্থতা ড. মিজানকে ভাবিয়ে তোলে।

বর্তমানে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীকে যে রেডিয়েশন দেয়া হয় তা অতিমাত্রার। এই রেডিও থেরাপি না দিলেও নয়। কেমোথেরাপিও যন্ত্রণাদায়ক, যা ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর শরীরে প্রভাব ফেলে। রং পাল্টে যায়। মাথার চুল উঠে যায়। রেডিও থেরাপি বা রেডিয়েশন দেয়ার সময় কিছু সুস্থ কোষ বা টিস্যু নষ্ট বা ধ্বংস হয়ে যায়।

ড. মিজানের গবেষণা শুরু এই জায়গাতেই। কিভাবে রেডিয়েশনে সুস্থ কোষগুলো রক্ষা করা যায়। প্রতিবার রেডিও থেরাপি দেয়ার সময় ক্ষতিকর কোষের পাশাপাশি অনেক সুস্থ কোষও ধ্বংস হয়। ড. মিজানের গবেষণায় রেডিয়েশনে সুস্থ কোষগুলো রশ্মির আওতায় না এসে তা কার্যকর থাকে। এই সুস্থ কোষগুলো রোগীকে পৃথিবীতে আরও কিছুকাল বেঁচে থাকতে দেবে।

এই ডিজিটাল যন্ত্রটি যে কোন রেডিয়েশনের আওতাভুক্ত এলাকার পরিবেশ অনেকটা রক্ষা করতে পারবে। রেডিয়েশনের আওতাভুক্ত এলাকার মাত্রা কত তা নিরূপণ করে দেবে। সেল ফোন (মোবাইল ফোন) অপারেটরদের প্রতিটি টাওয়ার থেকেই রেডিয়েশন ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি মোবাইল ফোন সেটে কথা বলার সময় মানব দেহে রশ্মি প্রবাহিত হয়। এই রেডিয়েশন ক্ষতিকর। উদ্ভাবিত যন্ত্রটি রেডিয়েশনের মাত্রা বলে দেবে। সাধারণত পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের চার ধারে রেডিয়েশন ছড়িয়ে পড়ে। যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর এবং কখনও দুর্ঘটনা ঘটায়। এই যন্ত্রটি ক্ষতিকর মাত্রা নিরূপণ করে দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সহায়তা দেবে।

ড. মিজানের উদ্ভাবিত আধুনিক যন্ত্রটি তার ডক্টরেট অব ফিলোসফির (পিএইচডি) গবেষণার একটি অংশ ছিল। গবেষণাটি বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রদত্ত বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ অব সায়েন্স এ্যান্ড আইসিটি প্রকল্পের আওতায় মালয়েশিয়ার মাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে সম্পন্ন করেন। গবেষণায় সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রফেসর হাইরুল আজাহার আবদুর রশীদ ও ব্রিটেনের প্রফেসর ডেভিড এ্যান্ডু ব্র্যাডলি। এই গবেষণা স্পেন, চীন, গ্রীস, আয়ারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে উপস্থাপিত হয়। ড. মিজানের স্ত্রী ড. মাহফুজা বেগম বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। তাদের ১ মেয়ে ১ ছেলে। তিনি সাংবাদিক ও কলামিস্ট হাবিবুর রহমান স্বপনের ছোট ভাই। ড. মিজানুর রহমানের কথাÑ তার গবেষণা থেমে থাকবে না। বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে সম্মানের আসনে পৌঁছে দেয়া এবং মানব কল্যাণের ব্রত নিয়ে তিনি এগিয়ে চলেছেন।

এই ১০টি ওষুধ সবসময় আপনার বাসায় রাখবেন! বিপদ কখনআসে বলা যায় না।জেনে নিন নাম ও ব্যাবহার বিধি

এই ১০টি ওষুধ সবসময় আপনার বাসায় রাখবেন! বিপদ কখনআসে বলা যায় না।জেনে নিন নাম ও ব্যাবহার বিধি

১. প্যারাসিটামল (Paracetamol)
২. ট্রামাডল (Tramadol)
৩. টাইমনিয়াম মিথাইলসালফেট (Tiemonium
Methylsulfate)
৪. এসোমিপ্রাযল/ ওমিপ্রাযল (Esomeprazole/
omeprazole)
৫. অ্যালুমিনিয়াম হাইডঅক্সাইড (Aluminium hydroxide
suspension)
৬. ওরস্যালাইন (Oral Rehydration Saline)
৭. ফেক্সোফেনাডিন/রুপাটাডিন (Fexofenadine/
Rupatadine)
৮. সিলভার সালফাডায়াযিন অয়ন্টমেন্ট (Silver
sulfadiazine ointment)
৯. পোভিডন-আয়োডিন মলম (Povidone-iodine ointment)
১০. অ্যাসপিরিন (Aspirin)

#প্যারাসিটামল(Paracetamol).
জ্বরের জন্য প্রথমে একটি প্যারাসিটামল খেতে পারেন। জ্বর বাড়লে (<১০৩F) বা ৩ দিনের বেশি জ্বর থাকলে ডাক্তার দেখান। তবে পেটে ব্যাথা, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া বা জন্ডিসের অন্য কোন উপসর্গ দেখলে প্যারাসিটামল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন.

#ট্রামাডল(Tramadol).
কোন প্রকার ঝুঁকি ছাড়াই ট্রামাডল পেইনকিলার হিসেবে নেয়া যায়; এমনকি অ্যাসমা রোগীরাও এটি নিতে পারবেন।

#টাইমোনিয়াম_সালফেট(Tiemonium_sulphate).
যেকোন প্রকার পেটে ব্যাথার ক্ষেত্রে বিশেষ করে পিরিয়ডের প্রথম কয়েক দিনের ব্যাথার জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি ওষুধ।

#এসোমিপ্রাযল/#ওমিপ্রাযল(Esomeprazole/#Omeprazole).
অধিকাংশ মানুষই কোন না কোন সময় বুক জ্বলা বা গ্যাসের সমস্যায় ভুগতে হয়; বিশেষ করে ভরপেট খাওয়ার পর। এসোমিপ্রাযল/ ওমিপ্রাযল পাকস্থলীতে অ্যাসিড গঠন কমিয়ে বুক জ্বলা কমাতে সাহায্য করে। অনেক সময় গ্যাসের জন্য অনেকটা হার্ট অ্যাটাকের মত বুকে ব্যাথা হয়, এজন্য ৩০ মিনিটের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে যোগাযোগ করুন।

#অ্যালুমিনিয়াম_হাইড্রক্সাইড_সাস্পেনশন (Aluminum
hydroxide suspension).
বুক জ্বলা এবং গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য ২চামচ করে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড সাস্পেনশন খেতে পারেন। সাস্পেনশন্টি ফ্রিজে রাখতে পারবেন এবং ঠাণ্ডা খেলেই বেশি আরাম পাবেন। এরপার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে কয়েকবার পাতলা পায়খানা হতে পারে, এতে চিন্তার কিছু নেই।

#ওরস্যালাইন(Oral Rehydration Saline).
ডায়রিয়ার সময় খুব সহজেই শরীর থেকে অনেক পানি বেরিয়ে যায়। প্রত্যেকবার পাতলা পায়খানা হওয়ার পর স্যালাইন খাওয়া উচিত। শরীরে পানিশূন্যতা হলে নানারকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনতিবিলম্বে ডাক্তার দেখান যদি; আপনার ডায়রিয়ার সাথে জ্বরও হয়
২ দিনের বেশি সময় ডায়রিয়া থাকে মুখ শুকিয়ে গিয়ে পিপাসা লাগে খুব কম অথবা একেবারেই পেশাব না হলে প্রচণ্ড পেটে ব্যাথা হলে পায়খানার সাথে রক্ত গেলে আপনার উচ্চ রক্তচাপ (hypertension) থাকলে ওরস্যালাইন খাওয়ার আগে রক্তচাপ মেপে নেয়া ভাল।
#ফেক্সোফেনাডিন/#রুপাটিডিন(Fexofenadine/
Rupatadine).
এই অ্যান্টিহিস্টামিনগুলো তুলনামুলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ। যাদের অ্যালারজিক রাইনিটিস (ধুলা, পরাগ,
তেলাপোকা ইত্যাদির সংস্পর্শে আসলে হাঁচি হওয়া) আছে তারা রাতে একবার ফেক্সোফেনাডিন বা রুপাটিডিন নিলে হাঁচি ও নাক থেকে পানি পড়ার উপশম
হবে।
ডাঃ শিরিন চৌধুরী মেরী.
লিলাবাতি মেডিকেল,
মোম্বাই ইন্ডিয়া ।
ভালো থাকুন সবসময়।

পেয়ারার তত গুণ

পেয়ারা অতি সুস্বাদু ও উপকারী এক ফল। দেশি ফল হিসেবে পেয়ারার রয়েছে বেশ সুনাম।
 অনেকেই কাঁচা পেয়ারা মরিচ ও লবণ দিয়ে খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু গরমকালে পেয়ারা খাওয়া যায় ব্লেন্ডারে জুস করে। অনেকে পেয়ারার জেলি ও মোরব্বা পছন্দ করেন। ফলটির রয়েছে অবিশ্বাস্য সব উপকারিতা। জেনে অবাক হবেন, ১০০ গ্রাম পেয়ারায় ১৮০ মি. গ্রাম ভিটামিট সি থাকে; যা কমলার তুলনাযয় পাঁচগুণ বেশি।আসুন জেনে নেওয়া যাক মজার এই ফল শরীরের কী কী উপকারে আসে-
কর্মশক্তি বাড়ায় পেয়ারা
পেয়ারার ম্যাগনেসিয়াম আমাদের মাংসপেশী ও স্নায়ু সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এ কারণে কাজ শেষে অথবা অনেক চাপ নেওয়ার পর একটি পেয়ারা খেলে কর্মশক্তি আবার বেড়ে যায়।
ওজন কমাতে সাহায্য করে
পেয়ারাতে গ্লুকোজের পরিমাণ কম থাকে। এ কারণে এটি ওজন কমাতে বেশ ভালো প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।
দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় 
পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ আছে; যা দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া চোখের ছানি হওয়ার ঝুঁকি কমায় এই ফল।
রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
পেয়ারাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি; যা শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

পেয়ারাতে লাইকোপেন, কোয়ারকেটিন, ভিটামিন সি ও পলিফেনল আছে; যা শক্তিশালী এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। আর এই এন্টি-অক্সিডেন্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। বিশেষ করে প্রোস্টেট ক্যান্সার কমাতে খুব সাহায্য করে পেয়ারা। ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিও কমায় পেয়ারা।কর্মশক্তি বাড়ায় পেয়ারা

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়
পেয়ারাতে ফাইবার ও কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকার কারণে এটি খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ কারণে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে 
পেয়ারা শরীরের সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বাড়ায়; যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
হার্টের সমস্যা কমায়
পেয়ারা ট্রাইগ্লিসারাইড ও এলডিএল নামক খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। যার ফলে হার্টের বিভিন্ন সমস্যা অনেক কমে যায়। পেয়ারা এইচডিএল নামক কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় যা হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনে 
পেয়ারাও ভিটামিন বি৩ ও ভিটামিন বি৬ মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখতে সাহায্য করে।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
পেয়ারা একটি ফাইবার জাতীয় ফল। এটি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
গর্ভবর্তীদের জন্য খুবই প্রয়োজন
এর ফলিক এসিড গর্ভবতী মায়ের জন্য খুবই প্রয়োজন। ফলিক এসিড গর্ভের বাচ্চার নার্ভাস সিস্টেমকে উন্নত করে। সেই সঙ্গে এটি বাচ্চাদের নিউরোলোজিক ডিজঅর্ডার থেকে দূরে রাখে।
কফ দূর করে
পেয়ারার ভিটামিন সি ও আয়রন কফ দূর করতে বড় ভূমিকা পালন করে। কারও যদি কফ জমে যায় গলায় তাহলে সেক্ষেত্রে পেয়ারা খুব ভালো ওষুধ যা মুহূর্তেই কফমুক্ত করে শরীরের ফুসফুস।
পেয়ারার পাতায় রোগ সংক্রমণ দূর 
পেয়ারার পাতায় আছে এন্টি-ইনফ্লামেটরি গুণ এবং খুব শক্তিশালি এন্টিব্যাক্টেরিয়াল ক্ষমতা; যা ইনফেকশনের সঙ্গে যুদ্ধ করে এবং জীবাণু ধ্বংস করে। পেয়ারার পাতা দাঁত ব্যথার জন্য খুব ভালো একটি ওষুধ, যা ঘরে বসেই দূর করতে পারবেন।
প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারায় রয়েছে:
প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারায় ০.২১ মি.গ্রাম ভিটামিন বি-১ ও ০.০৯ মি.গ্রাম বি-২, ১.৪ গ্রাম প্রোটিন ও ১.১ গ্রাম স্নেহ, ১৫.২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ০.৬ গ্রাম মিনারেল, ০.০৩  মি.গ্রাম থায়ামিন, ০.০৩ রিবোফ্লেভিন ১.৪ মি.গ্রাম আয়রন, ২৮ মি.গ্রাম ফসফরাস ও ২০ মি.গ্রাম ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। সূত্র: বোল্ড স্কাই

মধূর যত গুন

মুধুকে বলা হয় সর্বরোগের ওষুধ। স্বাস্থ্য সুরক্ষা, চিকিৎসা, সৌন্দর্য চর্চা- মধুর ব্যবহার সবখানে। মধুতে আছে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল, ভিটামিন ও এনজাইম যা শরীরকে বিভিন্ন অসুখ বিসুখ থেকে রক্ষা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। আসুন জেনে নিই মধুর উপকারিতা সম্পর্কে-
ওজন কমায় মধু
প্রতিদিন সকালে মধু খেলে শরীরের বাড়তি ওজন কমে। বিশেষ করে যদি সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খাওয়া হয়, তাহলে ওজন কমে কিছুদিনের মধ্যেই। এছাড়া প্রতিদিন নিয়মিত মধু খেলে পাকস্থলী পরিষ্কার থাকে, শরীরের বিষাক্ত উপাদান বের হয়ে যায়।
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়
ঘুমানোর আগে এক চামচ মধু খেলে তা মস্তিষ্কের কাজ সঠিক ভাবে চালাতে খুব সাহায্য করে। এতে মস্তিষ্কের শক্তি তথা বুদ্ধি বাড়ে। যেকোনো কাজে মস্তিষ্ক আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় হয়। যাদের মাথা খাটিয়ে কাজ করতে হয়, তাদের জন্য মধু এনে দেয় নতুন উদ্যম ও সৃষ্টিশীলতা।
হৃৎপিণ্ডের সমস্যার ঝুঁকি হ্রাস করতে মধু
মধুর সাথে দারচিনি গুঁড়া মিশিয়ে খেলে তা রক্তনালীর বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। রক্তনালী পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এবং রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। মধু ও দারচিনির এই মিশ্রণ নিয়মিত খেলে হৃদরোগের ঝুকি অনেকাংশে কমে যায়।
ব্যথা নিরাময়ে
শরীরের জোড়ায় জোড়ায় ব্যথা থাকলে তা থেকে দ্রুত মুক্তি মেলে মধু খাওয়ার মাধ্যমে। যে অবাঞ্ছিত রসের কারণে বাতের জন্ম, সেই রস অপসারাণে মধু বিশেষ ভূমিকা রাখে। ফলে বাতের ব্যাথা সেরে যায়।
হজমে সাহায্য করে  
মধু পেটের অম্লীয়ভাব কমিয়ে হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। হজমের সমস্যা অনেকাংশে দূর করার জন্য প্রতিবার ভারী খাবারের আগে এক চামচ মধু খেয়ে নিন। ভালো ফলের জন্য প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক চামচ মধু খেতে পারেন।
শক্তি বাড়াতে মধু 
মধুতে আছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি। এই প্রাকৃতিক চিনি শরীরে শক্তি যোগায় এবং শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাদের মিষ্টির প্রতি ঝোক রয়েছে, তারা অন্য মিষ্টি খাবারের বদলে মধু খেতে পারেন।
রক্ত পরিষ্কার করে
এক গ্লাস হালকা গরম পানির সাথে এক বা দুই চামচ মধু এবং এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খেতে পারেন। এটা রক্ত ও রক্তনালী পরিষ্কার করে।
হাঁপানি রোধে
আধা গ্রাম গুঁড়া গোলমরিচের সাথে সমপরিমাণ মধু এবং আদা মিশিয়ে দিনে অন্তত তিন বার খেলে হাঁপানির সমস্যা অনেকটা দূর হয়।
গ্যাস্ট্রিক আলসার থেকে মুক্তি  
হজম সমস্যার সমাধানেও কাজ করে মধু। একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, গ্যাস্ট্রিক আলসার থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন তিন বেলা দুই চামচ করে মধু বেশ উপকারী। এতে করে গ্যাস্ট্রিক আলসার থেকে মুক্তি মেলে সহজেই।
আয়ু বৃদ্ধি করে
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নিয়মিত যারা মধু ও সুষম খাবারে অভ্যস্ত, তারা  তুলনামূলক বেশি কর্মক্ষম।
ত্বক নমনীয় করে
মধু হিউম্যাকটেন্ট যৌগে সমৃদ্ধ। এই যৌগটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার কাজ করে এবং ত্বকের উপরিভাগের ইলাস্টিসিটি বজায় রাখে। হিউম্যাকটেন্ট যৌগটি ত্বককে নমনীয় করতেও সাহায্য করে। ফলে ত্বক থাকে দীর্ঘদিন বার্ধক্যের ছাপ মুক্ত।
কাশি নিরাময়ে
দীর্ঘমেয়াদী হোক আর স্বল্পমেয়াদী হোক, যাদের খুসখুসে কাশির সমস্যা আছে, তারা প্রতিদিন এক চামচ আদার রসের সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেয়ে নিতে পারেন।
ক্ষত, পোড়া ও কাটা জায়গার চিকিৎসায়
মধু শরীরের ক্ষত, পোড়া ও কাটা জায়গার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। মধুতে মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা ক্ষত, পোড়া ও কাটা জায়গায় ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। কোথাও পুরে, কেটে গেলে ক্ষত স্থানে মধুর একটি পাতলা প্রলেপ দিয়ে দিন। ব্যথা কমবে ও দ্রুত নিরাময় হবে।
প্রকৃতিক সানস্ক্রিন মধু
মধুতে আছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির বিরুদ্ধে কাজ করে শরীরের চামড়াকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। অনেকটা প্রাকৃতিক সানস্ক্রিনের কাজ করে মধু। রোদে পোড়া ত্বককে স্বাভাবিক করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এক চামচ মধুর সাথে পানি মিশিয়ে প্রতিদিন মুখে ফেস প্যাকের মতন লাগান। রোদে পোড়া জনিত কালো দাগ দূর হয়ে চেহারা হবে ঝলমলে। সূত্র: বোল্ড স্কাই

 

হার্ট অ্যাটাক ও হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা:-


হার্ট অ্যাটাক একটি মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ অবস্থা যেখানে জীবন ও মৃত্যু খুব কাছাকাছি চলে আসে।
কোন ব্যক্তির হার্ট অ্যাটাক হলে সেটি অল্পতেই ভাল হতে পারে আবার হতে পারে প্রাণঘাতী। তাই হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। চিকিৎসক ও রোগীর পরিবারকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে রোগী যাতে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পায়। সাধারণত ECHO, ECG করে নিশ্চিত হওয়া যায় রোগীর হার্ট অ্যাটাক হয়েছে কিনা। হার্ট অ্যাটাক এর চিকিৎসার প্রথম ধাপটি হল এসপিরিন গ্রুপ এর ওষুধ ও ইঞ্জেকশান দিয়ে রক্ত পাতলা করা। এর পর Primary Angioplasty করে জমাট বাধা রক্ত অপসারন করা। Primary Angioplasty করার পরেও অনেক সময় রোগী ঝুকি মুক্ত হয়না যদি রোগীর Cardiac Arrhythmia বা অনিয়মিত হৃদ স্পন্দন হয়। এই অনিয়মিত হৃদ স্পন্দনের সমস্যাকে মোটেই অবহেলা করা যাবেনা কেননা, অনিয়মিত হৃদ স্পন্দনের ফলে আবারো হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তাই হার্ট অ্যাটাকের প্রথম ৪৮-৭২ ঘণ্টা অনবরত ECG মনিটরিং করে দেখতে হবে অনিয়মিত হৃদ স্পন্দনের সমস্যা আছে কিনা। একই সাথে রোগীর রক্তচাপ ঠিক আছে কিনা সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। বেড সাইড ইকো করে সর্বদা হৃদযন্ত্রের পর্দার অবস্থার উপর নজর রাখতে হবে। Stethoscope দিয়ে দেখতে হবে হৃদযন্ত্র থেকে কোন অস্বাভাবিক শব্দ হচ্ছে কিনা। কারন রোগীর হার্টের ভেতরের বা বাইরের পর্দা ফেটে গেলে তাকে সবচেয়ে মারাক্তক অবস্থা বলে গণ্য করা হয়। এ অবস্থায় রোগীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সার্জারি না করলে মৃত্যুর ঝুকি শতকরা ৯৯ ভাগ। সর্বোপরি হার্ট অ্যাটকের পর ২-৩ দিন রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। অবস্থা স্থিতিশীল হলে চিকিৎসকের দায়িত্ব রোগীকে কাউন্সেলিং করে অবহিত করা খাদ্যাভ্যাস, জীবন যাত্রা ও পরবর্তী চিকিৎসা সম্পর্কে যেমন Angiogram কখন করাবে ইত্যাদি। একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, Angiogram করার পর চিকিৎসা গ্রহনের পূর্বে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ কার্ডিওলজিস্ট ও কার্ডিয়াক সার্জনের পরামর্শ নিতে হবে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরন করলে দীর্ঘ মেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »