Category: স্বাস্থ্য

হৃদরোগ কি ও তার প্রতিকার

প্রশ্ন: হৃদরোগ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নয় এমন মানুষেরা কিভাবে হৃদযন্ত্রের যত্ন নিতে পারে?
উত্তর: ১. খাবারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। শর্করা এবং চর্বিজাত খাবার কম খেতে হবে। আর আমিষের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে।
২. সপ্তাহে অন্তত পাঁচদিন আধা ঘণ্টা করে হাঁটতে হবে। লিফটে চড়া এড়াতে হবে। একটানা বেশি সময় বসে থাকা যাবে না।
৩. ধূমপান ত্যাগ করতে হবে।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৫. রক্তচাপ এবং সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
প্রশ্ন: শাক জাতীয় নয়, এমন খাবার (যেমন মাছ) খাওয়া কি হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী?
উত্তর: না।
প্রশ্ন: মাঝে মাঝে শোনা যায় সুস্থ মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে যা খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখেন?
উত্তর: এটাকে বলে নীরব আক্রমণ। এজন্যই ত্রিশোর্ধ্ব সকলের উচিত নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।
প্রশ্ন: মানুষ কি উত্তরাধিকারসূত্রে হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে?
উত্তর: হ্যা।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ পড়ে কেন? এর থেকে উত্তরণের উপায় কি?
উত্তর: জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। জীবনে সব কিছু নিখুঁত হবে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।
প্রশ্ন: জগিং করার চেয়ে কি হাঁটা ভারেঅ? নাকি হৃদযন্ত্রের যত্ন নেয়ার জন্য আরো কঠিন ব্যায়াম জরুরি?
উত্তর: হ্যাঁ, জগিং করার চেয়ে হাঁটা ভালো। জগিং করলে মানুষ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায় এবং জয়েন্টে ব্যথা হয়।
প্রশ্ন: নিম্ন রক্তচাপে যারা ভোগেন, তারা কি হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে?
উত্তর: সেটা হবে খুবই বিরল।
প্রশ্ন: কোলেস্টেরলের মাত্রা কি অল্প বয়স থেকেই বাড়তে থাকে? নাকি ত্রিশের পর এ বিষয়ে চিন্তিত হওয়া উচিত?
উত্তর: না, কোলেস্টেরলের মাত্রা ছোটবেলা থেকেই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
প্রশ্ন: অনিয়মিত খাদ্যাভাস কিভাবে হৃদযন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে?
উত্তর: অনিয়মিত খাদ্যাভাস মানুষকে জাঙ্ক ফুডের দিকে ঠেলে দেয়। আর তখনই হজমের জন্য ব্যবহৃত এনজাইমগুলো দ্বিধায় পড়ে যায়।
প্রশ্ন: ওষুধ ছাড়া কিভাবে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
উত্তর: নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস, হাঁটাহাঁটি এবং আখরোট খাওয়ার মাধ্যমে।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রের জন্য সবচেয়ে ভালো এবং সবচেয়ে খারাপ খাবার কোনটি?
উত্তর: ফল এবং সবজি সবচেয়ে ভাল খাবার। আর সবচেয়ে খারাপ তৈলাক্ত খাবার।
প্রশ্ন: কোন তেল ভালো? সূর্যমুখী নাকি জলপাই?
উত্তর: যেকোনো তেলই খারাপ।
প্রশ্ন: নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কি নির্দিষ্ট কোনো পরীক্ষা আছে?
উত্তর: নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সুগার এবং কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। তাছাড়া রক্তচাপ পরিমাপও জরুরি।
প্রশ্ন: হার্ট অ্যাটাক হলে প্রাথমিকভাবে কি কি পদক্ষেপ নিতে হবে?
উত্তর: রোগীকে প্রথমে শুইয়ে দিতে হবে। এরপর জিহ্বার নিচে একটি এ্যাসপিরিন ট্যাবলেট রাখতে হবে। যদি পাওয়া যায় তবে এ্যাসপিরিনের পাশাপাশি একটি সরবিট্রেট ট্যাবলেটও রাখতে হবে। এরপর দ্রুত হাসপাতালে নেবার ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়।
প্রশ্ন: হৃদরোগজনিত ব্যথা এবং গ্যাস্ট্রিকের ব্যথার মধ্যে পার্থক্য করা যায় কিভাবে?
উত্তর: ইসিজি ছাড়া এটা সত্যিই খুব কঠিন।
প্রশ্ন: যুবকদের মধ্যে হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত সমস্যার আধিক্যের কারণ কি?
উত্তর: : একটানা দীর্ঘ সময় বসে থাকা, ধূমপান এবং জাঙ্ক ফুড। তাছাড়া ব্যায়াম না করাও একটি প্রধান কারণ। কিছু কিছু দেশের মানুষের জেনেটিক কারণেই ইউরোপিয়ান এবং আমেরিকানদের চেয়ে তিন গুণ বেশি হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
প্রশ্ন: রক্তচাপের স্বাভাবিক মাত্রা (১২০/৮০) না থাকলেও কি কেউ পুরোপুরি সুস্থ থাকতে পারে?
উত্তর: : হ্যাঁ।
প্রশ্ন: নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে করলে সন্তানের হৃদরোগ হতে পারে- এটা কি সত্য?
উত্তর: : হ্যাঁ। নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে জন্মগত অস্বাভাবিকতার দিকে ঠেলে দেয়।
প্রশ্ন: বেশিরভাগ মানুষ অনিয়ন্ত্রিত রুটিন অনুসরণ করে। মাঝে মাঝে মানুষকে অনেক রাত পর্যন্ত অফিসে থাকতে হয়। এতে কি হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হয়? যদি হয় তবে এক্ষেত্রে কি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?
উত্তর: : তরুণ বয়সে প্রকৃতি মানুষকে এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
প্রশ্ন: অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধ গ্রহণ করলে অন্য কোন জটিলতা তৈরি হয়?
উত্তর: : হ্যাঁ, বেশিরভাগ ওষুধেরই কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে। কিন্তু আধুনিক অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধগুলো অনেক নিরাপদ।
প্রশ্ন: অতিরিক্ত চা বা কফি খেলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে?
উত্তর: : না।
প্রশ্ন: অ্যাজমা রোগীদের কি হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি?
উত্তর: : না।
প্রশ্ন: জাঙ্ক ফুডকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন?
উত্তর: : যেকোনো ধরনের ফ্রাইড ফুড যেমন কেন্টাকি, ম্যাকডোনাল্ডস, সমুচা। এমনকি মাসালা দোসাও জাঙ্ক ফুড।
প্রশ্ন: আপনার মতে ভারতীয় ও বাংলাদেশীদের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা তিন গুণ বেশি। এর কারণ কি?
উত্তর: : পৃথিবীর প্রতিটি জাতিরই কিছু নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। দুঃখজনক হলেও সত্য, জাতি হিসেবে ভারতীয়দের ও বাংলাদেশীদের সবচেয়ে ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি।
প্রশ্ন: কলা খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমে?
উত্তর: : না।
প্রশ্ন: হার্ট অ্যাটাক হলে কেউ কি নিজে নিজে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারে?
উত্তর: : অবশ্যই। তাকে প্রথমেই শুতে হবে এবং একটি এ্যাসপিরিন ট্যাবলেট জিহবার নিচে রাখতে হবে। এরপর দ্রুত আশপাশের কাউকে বলতে হবে যেন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি মনে করি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করা ঠিক নয়। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাম্বুলেন্স যথাসময়ে হাজির হয় না।
প্রশ্ন: রক্তে শ্বেতকণিকা এবং হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে কি হৃদরোগ হতে পারে?
উত্তর: : না। কিন্তু নিয়মিত ব্যায়াম করার জন্য হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকা জরুরি।
প্রশ্ন: আমাদের ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে অনেক সময় ব্যায়াম করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে ঘরের স্বাভাবিক কাজের সময় হাঁটাহাঁটি করা অথবা সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করা কি ব্যায়ামের বিকল্প হতে পারে?
উত্তর: : অবশ্যই। একটানা আধা ঘণ্টার বেশি বসে থাকার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। এমনকি এক চেয়ার থেকে উঠে অন্য চেয়ারে যেয়ে বসাও শরীরের জন্য অনেকটা সহায়ক।
প্রশ্ন: হৃদরোগ এবং রক্তে সুগারের পরিমাণের সাথে কি কোনো সম্পর্ক আছে?
উত্তর: : বেশ গভীর সম্পর্ক আছে। ডায়াবেটিস রোগীদের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অনেক।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর কি কি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে?
উত্তর: : পরিমিত খাদ্যাভাস, ব্যায়াম, নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা। পাশাপাশি রক্তচাপ এবং ওজনও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
প্রশ্ন: যারা রাতের শিফটে কাজ করেন তাদের কি হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি?
উত্তর: : না।
প্রশ্ন: আধুনিক অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধগু কোনগুলো?
উত্তর: : অনেক ওষুধই আছে। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি। তবে আমার পরামর্শ হলো, ওষুধ এড়িয়ে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা। আর সেজন্য নিয়মিত হাঁটা, ওজন কমে এমন খাবার খাওয়া এবং জীবনযাত্রার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি।
প্রশ্ন: ডিসপিরিন বা এই ধরনের মাথাব্যথা উপশমকারী ট্যাবলেট কি হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ায়?
উত্তর: : না।
প্রশ্ন: মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা কেন হৃদরোগে বেশি আক্রান্ত হয়?
উত্তর: : প্রকৃতি মেয়েদেরকে ৪৫ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার উপায় কি?
উত্তর: : স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। জাঙ্ক ফুড ও ধূমপান পরিহার করতে হবে। প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে। আর বয়স ত্রিশ পার হলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। অন্তত প্রতি ছয় মাসে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতেই হবে।

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ওষুধের ব্যবহার ও জাতীয় ওষুধনীতি

মুহাম্মদ আবদুল কাহহার

গত ১৯ ডিসেম্বর জাতীয় ‘ওষুধনীতি ২০১৬’ অনুমোদন করেছে সরকার। ২০০৫ সালের পর এটিই পরিপূর্ণ এক নীতিমালা। নীতিমালায় বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা সংশোধন, কার্যকর,  নিরাপদ ও ওষুধের মান, ওষুধ প্রস্তুত, বিক্রি, ওষুধ সংগ্রহ, মজুদ, বিতরণ, বিজ্ঞাপন, মূল্য নির্ধাারণ, আমদানি ও রপ্তানি ওষুধ গবেষণা উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। একই সাথে ওষুধের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা রোধে প্রতিবছর ওষুধের দাম হালনাগাদ করার বিধান রাখা হয়েছে। তিন দশকে ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি রিপোর্ট থেকে জানা যায়, গার্মেন্টস শিল্পের মতো ওষুধ শিল্পও এগিয়ে চলছে। এখন দেশের ওষুধের চাহিদার ৯৭ শতাংশ ওষুধের যোগান দিচ্ছে দেশীয় কোম্পানিগুলো। স্বাধীনতার পর পর মোট চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ ওষুধ আমাদের দেশে তৈরী হয়েছে, আর ৮০ শতাংশ নির্ভর করতে হয়েছে বৈদেশিক আমদানির উপর। সেই বাংলাদেশ এখন ৯৭ শতাংশ অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।  ডা. এহসানুল কবির এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রায় ২৬৯টি ওষুধ কোম্পানি বিশ্বের ১৩৩টি দেশে বাংলাদেশ ওষুধ রফতানি করছে। দেশের অনেক কোম্পানি এখন আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ তৈরী করছে এ দৃষ্টান্ত যেমন আছে আবার ভেজাল ওষুধ খেয়ে মানুষের মৃত্যু ঘটেছে এ দৃষ্টান্তও আছে। ‘শৃঙ্খলা ফিরছে ওষুধ শিল্পে’ এই ধরণের শিরোনাম পত্রিকায় দেখলে আশান্বিত হই। ঠিক একইভাবে কোনো জাতীয় দৈনিকের শিরোনাম যখন এরকম হয়  ‘ভেজাল ওষুধে ২৮ জনের প্রাণহানি ’ তখন হতাশ হই। কিন্তু কেন? এ প্রশ্ন সবার। নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ কেনা যাবে মাত্র ৩৯টি, বাকি প্রায় এক হাজার ২০০ আইটেমের ওষুধ কিনতে প্রেসক্রিপশন লাগবে। এবারই প্রথম অ্যালোপেথিকের বাইরে আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথিক, ইউনানির মতো ওষুধকেও নীতিমালার আনা হয়েছে। ওষুধ খাতে বিশৃঙ্খলা কমাতে সরকার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা ইতিবাচক হলেও এ বিষয় খবর রাখেননি অসংখ্য ওষুধ বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান।আমরা প্রত্যেকেই চাই যেন সুস্থ থাকি। এজন্য নানা উপায় অবলম্বন করি। ব্যক্তিবিশেষে বিভিন্ন ধরণের ওষুধ গ্রহণ করে আমরা অভ্যস্ত। এ ক্ষেত্রে খুব কম সময়ে আমরা চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ সেবন করি। আর অধিকাংশ সময় নিজেকে অভিজ্ঞ ডাক্তারের আসনে বসাই। তাছাড়া আমাদের অনেকেরই একটি প্রচলিত অভ্যাস হলো, রাজনৈতিক ব্যাপারে আলোচনা শুনলেই নিজেই হয়ে উঠি বড় একজন রাজনীতিবীদ কিংবা বুদ্ধিজীবী। মাসয়ালা-মাসায়েল বিষয়েও আমরা জ্ঞানীদের চেয়ে নিজেরাই বড় ফতোয়াবাজ হয়ে যাই। কথা বলার সুযোগ পেলে সবটুকু সময় একাই কথা বলতে চাই, নিজেকে ভাবি একজন বড় মাপের বক্তা। তেমনিভাবে কারো অসুস্থতার কথা শুনেই সে রোগের ওষুধের নাম বলতে থাকি। আমাদের এমন চিন্তাধারাতেও পরিবর্তন আনতে হবে।

ওষুধের মান বজায় না থাকলে অসুখ ভালো হওয়ার পরিবর্তে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। ভোক্তার যেমন জানা নেই ওষুধনীতি তেমনি ওষুধ প্রেসক্রাইবকারী ও বিক্রেতা তার মুনাফা বৃদ্ধির জন্য ইচ্ছামাফিক ওষুধ দিয়ে থাকেন। ভেজাল ঔষধের বাজার কোন পর্যায়ে পৌছেছে সে বিষয়ে একটি ঘটনা বললে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। দু’বছর আগে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে একজন শিশুবিশেষজ্ঞের চেম্বারে অবস্থানকালে একজন ব্যক্তির সাথে দেখা হলো, যিনি মিডফোর্ড থেকে প্রস্তুতকৃত একটি ঔষুধ বাজারজাত করেন। তিনি ওই হাসপাতালে তার এক আত্মীয়ের সাথে দেখা করতে এসেছেন। সেখানে উপস্থিত চার ব্যক্তিই একজন আরেকজনের সাথে পূর্ব পরিচিতি। ঔষধ কীভাবে বাজারজাত করেন, লভ্যাংশের হার কেমন, কোথায় তৈরি, কোন রোগের উপকার করবে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি না ইত্যাদি জানতে চাইলে তিনি চিকিৎসকের এক প্রশ্নের জবাবে বলেই ফেললেন ‘আমার এ ওষুধে কারো উপকারও হবে না, আবার কারো ক্ষতিও হবে না। চিকিৎসক তাকে প্রশ্ন করলেন, ‘তাহলে ওই ওষুধ রোগীরা কেন কিনবেন? আর আপনি তা জেনে-শুনে কেন বিক্রি করছেন?’ লোকটি তখন বললো, পড়ালেখা করেছি, চাকরি পাচ্ছিনা, একটা কিছু না করলে চলবো কীভাবে? পাঠকদেরকে এ ঘটনাটি এ জন্য জানালাম যে, আমাদের সমাজে  এমন অসংখ্য অসাধু ব্যক্তি আছে যারা মানুষের সাথে নিয়মিত প্রতারনা করে চলছেন। এমন ভেজাল ওষুধ বাজারজাত করতে অসংখ্য মানুষ হন্য হয়ে ঘুরছেন,কিন্তু আমরা হয়তো কারো খবর রাখছি না।

শহর থেকে পল্লী এলাকার পথে-ঘাটে যত্রতত্র ফেরি করে ওুষধ বিক্রি করে চলছে এক শ্রেণির ঔষধ বিক্রেতা। কখনো রাস্তার পাশে, কখনো বাজারে, হয়তো বাসস্ট্যান্ডে নয়তো রেলস্টেশনে, কিংবা জনসমাগম হয় এমন স্থানে তারা নি¤œমানের ওষুধ বিক্রি করেন। তাদের ওষুধে মৃত্যু ছাড়া সব রোগ ভাল হয় এমনটিই তারা দাবি করছেন। কোনো কোনো ওষুধ তারা নিজ হাতে বাড়িতে তৈরি করেন আবার কিছু কিছু তারা বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেন। কেউ হ্যান্ড মাইক নিয়ে,কেউ প্রাইভেটকারের ছাদে মাইক লাগিয়ে কেউবা নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে স্থান-কাল পাত্র ভেদে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে মানুষকে আকৃষ্ট করে নি¤œ মানের ওষুধ বিক্রি করছেন। তাদেরকে ওই ব্যবসা বন্ধে সরকারকে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না। ওইসব ভেজাল ও গুণগত মান পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া যে সব ওষুধ বাজারে আসছে তার উৎস বন্ধ করা না হলে সাধারণ মানুষ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে না। ক্রেতা-বিক্রেতা যে যার মতো করে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করে চলছে। ফলে সুস্থতার পরিবর্তে ক্রমশ জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অ্যালোপ্যাথিক ও আয়ুর্বেদিকসহ সব ঔষধেই ভেজাল পাওয়া যাচ্ছে। ওষুুধ কোম্পানিগুলো লোভনীয় অফার দিয়ে চিকিৎসকদের ম্যানেজ করে নি¤œমানের ঔষধ বাজারজাত করার ঊপায় অবলম্বন করছেন।

অপরদিকে অধিকাংশ রোগীর একটা অভ্যাস হলো তারা বেশি ওষুধ খেতে রাজি নয়। অ্যান্টিবায়োটিক কিংবা স্বাভাবিক ওষুধ কোনটি পূর্ণ মাত্রায় সেবন করবেন না। খুব তাড়াতাড়ি ভাল হতে অধিক মাত্রার ওষুধ গ্রহণ করেন। এ ক্ষেত্রে রোগী নিজেই নিজের চিকিৎসক। ওইসব রোগীরা চিকিৎসকদের এড়িয়ে চলেন। পরবর্তীতে দেখা যায় এই লোকগুলোই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিতর্কিত ওইসব ওষুধ খেয়ে কিডনি বিকল, বিকলঙ্গতা, লিভার, মস্তিষ্কের জটিল রোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। অধিকাংশ মানুষ এতটা অসচেতন যে, ভুল চিকিৎসা কিংবা ভুল ওষুধ গ্রহণে বড় ধরণের ক্ষতি হচ্ছে অথচ নিজের মধ্যে কোনো উপলব্ধি নেই। সে কারণে একজন লেখক বাস্তবতা তুলে ধরে লিখেছেন, ‘দেশে প্রচুর ওষুধ, কিন্তু মানুষের জন্য ওষুধ নেই। ছোট্ট এই কথাটি মর্মার্থ অধিক।

সর্বোপরি, জনসচেতনতা কীভাবে বৃদ্ধি করা যায় সে লক্ষ্যে প্রত্যেকের অবস্থান থেকে চেষ্টা করতে হবে। তাছাড়া বাজারে ভেজাল, মেয়াদউত্তীর্ণ, নকল, অনুমোদনহীন যেসব ওষুধ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যা বন্ধ করা না হলে নীতিমালা কাজে আসবেনা। এজন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে যথাযথ মনিটরিং জোরদার করতে হবে। কোন ওষুধের মূল্য কত হবে তা ওষুধ প্রশাসনের ওয়েবসাইটে উল্লেখ থাকলেই হবে না বরং তা মাঠপর্যায়ে কার্যকর হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। কৃত্রিম সংকট তৈরী করে কেউ যাতে বেশি টাকা না নিতে পারে সে বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয় তা ফাইলবন্দি না রেখে আইনের বাস্তবায়ন করতে হবে।

নওগাঁয় আশা’র ৩দিন ব্যাপী ফিজিওথেরাপী ক্যাম্পের উদ্বোধন


নওগাঁ প্রতিনিধি : সোমবার নওগাঁর কীর্ত্তিপুরে বে-সরকারি এনজিও সংস্থা আশা’র উদ্দ্যোগে ৩দিন ব্যাপী ফিজিওথেরাপী ক্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। এদিন সকালে আশা’র কীর্ত্তিপুর ব্রাঞ্চে আশা’র নওগাঁ জেলার ব্যবস্থাপক মো: মামুন-অর রশিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: তোরিকুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কীর্ত্তিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: আতাউর রহমান, কীর্ত্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব মো: আব্দুস সামাদ, কীর্ত্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আজাহারুল ইসলাম মতি, আশা’র নওগাঁ সদর অঞ্চলের আরএম মো: আবুল কালাম আজাদ, রাণীনগর অঞ্চলের আরএম আব্দুল কাদের, ফিজিওথেরাপিষ্ট মো: জুবায়ের রহমান, ব্রাঞ্চের ব্যবস্থাপক মো: মানিক আলী, স্যানিটেশন এসএমও শরিফুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আশা’র ৩জন সদস্য কে চিকিৎসা সহায়তা বাবদ নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।

সেই মাসুদ মিয়ার তৈরী ‘ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ’ ওষুধে দাররুণ সুফল পাচ্ছে রোগীরা

অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোটার :
টাঙ্গাইল পৌর কলেজ মোড়স্থ কবিরাজ মাসুদ মিয়ার তৈরী ওষুধে হচ্ছে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ। গাছ গাছরা দিয়ে তৈরী এ ওষুধে স্থায়ী ভাবে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে আসায় দিনদিন তার রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভীড় জমছে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর। এর সুফলও পাচ্ছে রোগীরা।সরেজমিনে, মাসুদ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে ও ডায়াবেটিস রোগীদের সাথে কথা বলে যেসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে তা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল –সিরাজগঞ্জের সাহেব পাড়া গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা বাহাদুর মিয়ার স্ত্রী জয়গন, তার বয়স বর্তমানে ৭০এর অধিক। সে জানায়, তার বয়স যখন ৩৫/৪০ বছর তখন থেকেই তার ডায়াবেটিস রোগ হয়েছে বলে সে জানতে পারেন। প্রথমেই ২৭/২৮ পর্যন্ত ডায়াবেটিস থাকতো। সব সময় মাথা ঘুরানো সহ শরীর অসুস্থ্য থাকতো। কোন প্রকার কাজ কর্ম তার ভাল লাগতো না তার।অনেক চিকিৎসা সেবা এমনকি ইন্সুলেন্সও নিয়েছেন তিনি। অনেক বছর ধরে কত চিকিৎসা করেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারছিলেন না। পরে তিনি জানতে পারলেন টাঙ্গাইলের মাসুদ মিয়ার গাছ-গাছরা দিয়ে তৈরী ওষুধের কথা।এর পর তিনি ছেলেকে নিয়ে চলে আসেন এবং এখান থেকে ওষুধ নিয়ে খেতে থাকেন। প্রথমবার ২১দিনের এক কোর্স ফাইল খাওয়ার পরপরই তার শরীর অনেকটা সুস্থ্যবোধ করেন। পরে একে একে ৪টি ফাইল খাওয়ার পর তিনি অনেকটাই সুস্থ্য। বর্তমানে তার ডায়াবেটিস নেমে ৬/ ৭ এ চলে এসেছে।
তিনি আরো জানান, এটি স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কবিরাজ বলেছেন ৫ম ফাইলটি খেতে হবে। তাই ৫ম ফাইলের জন্যই আমি এসেছি। এখন আমি সাংসারিক সকল প্রকার কাজ কর্ম করতে পারি এবং হাটা চলা ফেরা করতে পারছি।
চিবিৎসা নিতে আসা নোয়াখালীর মহতাপুর গ্রামের শফিউল্লাহ জানান, তার বয়স ৬৫ বছর। আমার ডায়াবেটিস হওয়ার পর থেকেই শরীর আস্তে আস্তে নিস্তেজ হতে থাকে। আমি শরীরে বল পাইনা। আমার একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। অনেক চিকিৎসা সেবা নেয়ার পরও সুস্থ্য হইনি। বর্তমানে আমি টাঙ্গাইলের কবিরাজ মাসুদ মিয়ার তৈরী করা ওষুধ খেয়ে পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে উঠেছি। বর্তমানে আমার ডায়াবেটিস
এ নিয়ে কথা হয়, গোপালগঞ্জ জেলার পাটকেলবাড়ি গ্রামের বিনোদ রায়ের ছেলে স্বপন রায়ের সাথে। তার ডায়াবেটিস হওয়ার পর ঢাকা বারডেম হাসপাতালেসহ বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। পরে টাঙ্গাইল থেকে কবিরাজে গাছ-গাছরার তৈরী করা ওষুধ খেয়ে ৮৪ দিনেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।এ ছাড়াও কথা হয়, চাঁদপুরের ফখরুল ইসলামের স্ত্রী নাজমুন নাহার, ঢাকা ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন ও ভোলার শফি উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন ডায়াবেটিস রোগীর সাথে।
তারা জানান, ডায়াবেটিস একটি নিরব ঘাতক রোগ। শরীরে বাসা বেঁধে ধীরে ধীরে শরীরকে অসুস্থ্য করে তুলে। এবং শরীরের কাটা ছেড়া ও ফুড়া উঠলে তা সেরে উঠতে চায় না। এ রোগ চিরজীবনের জন্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাসুদ মিয়ার ওষুধ খেয়ে এখন আমরা ভাল ও সুস্থ্য আছি।এ ব্যাপারে কবিরাজ মাসুদ মিয়া জানান, বিভিন্ন প্রকার ঔষধি গাছ-গাছরা দিয়ে তৈরী করা বড়ি, ফাঁকি ওষুধ ও সরবত আকারে ২১দিনের কোর্স করে একটি ফাইল দেয়া হয়।২১দিন পরপর ৫ ফাইল ওষুধ সেবন করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। আর এই নিয়ন্ত্রণ চিরজীবন ধরে রাখতে শুধু পানির সাথে মধু মিশিয়ে খেতে হবে। এতেই স্থায়ীভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকবে।তিনি জানান, ঔষধি গাছ-গাছরা চাহিদা অনুযায়ী সংগ্রহ করতে না পারায় কাঙ্ক্ষিত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে পারছি না। তবে ঔষধি গাছ-গাছরার চাষ করতে পারলে সকল ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হত।

আমন ধানে ক্ষতিকর বাদামী গাছ ফড়িং

আমন ধানে ক্ষতিকর বাদামী গাছ ফড়িং

লেখক: মুহাম্মদ শাহাদৎ হোসাইন সিদ্দিকী  |  

কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ। মাঠে মাঠে আমন ধান। সবুজ এ ধানের অন্যতম শত্রু বাদামী গাছ ফড়িং। এরা পাতার খোল, পাতা ও পাতার মধ্যশিরার ভেতরে ডিম পাড়ে। চার থেকে নয় দিনের মধ্যে ডিম থেকে নিম্ফ বের হয়। প্রথম পর্যায়ে নিম্ফগুলোর রঙ সাদা থাকে এবং পরে বাদামী রঙের হয়। নিম্ফ থেকে পূর্ণবয়ষ্ক ফড়িং এ পরিণত হতে ১৪ থেকে ২৬ দিন সময় লাগে। বীজতলা থেকে শুরু করে ধান পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত যেকোনো সময়ে এ পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে। তবে ধানগাছে  কাইচথোড় আসলে এর আক্রমণ বেড়ে যায়। এক জোড়া বাদামী গাছ ফড়িং ৩ থেকে ৪ প্রজন্মে ৩৫ লক্ষ পোকার জন্ম দিতে পারে এবং ৫০০০ মাইল পথ অতিক্রম করতে পারে। এরা শরীরের ওজনের তুলনায় ১০ থেকে ১২ গুণ বেশি খাবার খায়। দ্রুত বংশ বৃদ্ধির কারণে মাঠের পর মাঠ ফসলের ২০ থেকে ১০০% পর্যন্ত ক্ষতি করতে পারে।

আক্রমণের লক্ষণ: বাদামী গাছ ফড়িং-এর বাচ্চা ও পূর্ণবয়ষ্ক উভয় পোকা দলবদ্ধভাবে ধান গাছের গোড়ার দিকে অবস্থান করে গাছ থেকে রস খায়। আর এ কারণে গাছ দ্রুত শুকিয়ে যায়। বাদামী গাছ ফড়িং -এর তীব্র আক্রমণে গাছ প্রথমে হলুদ ও পরে শুকিয়ে যায়, ফলে দূর থেকে পুড়ে যাওয়ার মত বা বাজ পড়ার মত দেখায়। এ ধরনের ক্ষতিকে ‘হপার বার্ণ’ বলে।

অনুকূল পরিবেশ:১. অধিক সংখ্যক কুশি উত্পাদনশীল উচ্চ ফলনশীল ধানের চাষ করলে; ২. জমি অসমতল হলে নিচু স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। প্রখর সূর্যের তাপে উক্ত পানি বাষ্পিভূত হয়ে উষ্ণ ও আর্দ্র অবস্থা তৈরি হয় যা বাদামী গাছ ফড়িং -এর বংশবৃদ্ধি ও আক্রমণের জন্য অনুকূল পরিবেশ; ৩. চারা ঘন করে রোপণ করলে, জমি স্যাঁতস্যাঁতে হলে এবং জমিতে দাঁড়ানো পানি থাকলে; ৪. জমিতে বিকল্প পোষক আগাছা থাকলে; ৫. অসম হারে নাইট্রোজেন সার (ইউরিয়া সার) ব্যবহার করলে; ৬. বাতাস চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে।

দমনে করণীয়: ১. এলাকার সকল চাষিকে দলবদ্ধভাবে পোকা দমনের ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে; ২. এ কাজে আইপিএম/আইসিএম ক্লাবসহ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে সম্পৃক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; ৩. প্রতি ব্লকে দলীয় আলোচনার মাধ্যমে সচেতনা সৃষ্টি এবং বাদামী গাছ ফড়িং দমনের কলাকৌশল কৃষকদের মাঝে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে; ৪. বীজতলায় এ পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে, সে জন্য নিয়মিত বীজতলা পরিদর্শন, আলোর ফাঁদ পেতে পোকার উপস্থিতি নির্ণয় করতে হবে; ৫. জমির আইল পরিস্কার রাখতে হবে; ৬. পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা রাখতে হবে। আক্রান্ত জমির পানি সরিয়ে দিয়ে ৭ থেকে ৮ দিন জমি শুকনো রাখতে হবে; ৭. আক্রান্ত জমিতে ২ থেকে ৩ হাত দূরে দূরে ‘বিলিকেটে’ জমিতে সূর্যের আলো ও বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করতে হবে; ৮. শুধুমাত্র ইউরিয়া ব্যবহার না করে সুষম মাত্রায় ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ব্যবহার করতে হবে। ইউরিয়া কম ব্যবহার করতে হবে (ধাপে ধাপে ব্যবহার করতে হবে); ৯. বালাই সহনশীল জাতের (ব্রিধান ৩১, ব্রিধান ৩৫, বিনা ধান ৬) চাষ করতে হবে; ১০. জমিতে হাঁস ছেড়ে পোকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে; ১১. স্বল্প জীবনকালীন ফসলের চাষ করতে হবে এবং আক্রান্ত জমিতে ইউরিয়া সার প্রয়োগ আপাতত বন্ধ রাখতে হবে; ১২. চারা ঘন করে না লাগিয়ে সারি থেকে সারি ২৫ থেকে ৩০ এবং চারা থেকে চারা ২৩ থেকে ২৫ সে.মি. দূরত্বে রোপণ করতে হবে; ১৩. সন্ধ্যাবেলা আক্রান্ত জমি থেকে একটু দূরে আলোর ফাঁদ জ্বালিয়ে পোকা দমনের ব্যবস্থা করতে হবে; ১৪. প্রতি গোছায় ২ থেকে ৪টি গর্ভবতী বাদামী গাছ ফড়িং বা ৮ থেকে ১০টি নিম্ফ দেখা গেলে অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় ধান গাছের গোড়ার দিকে ভালভাবে সেপ্র করতে হবে; কিন্তু গাছে যদি একটি করে মাকড়সা থাকে তবে কীটনাশক ব্যবহার করা ঠিক হবে না।

চোখের সাধারণ সমস্যা

চোখের সাধারণ সমস্যা

চোখের সাধারণ সমস্যা কনটেন্টটিতে চোখে কোনো কিছু পড়া, সদ্যজাত শিশুর চোখের প্রদাহ, চোখ লাল হওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, ট্যারা চোখ, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, সেবাদান কেন্দ্র সন্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।চোখ মানুষের একটি অমূল্য সম্পদ এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল অঙ্গ। চোখের অনেক ছোট এবং সাধারণ অসুখ থেকে বড় জটিলতার সৃষ্টি হয় এমন কি অন্ধত্বেরও সৃষ্টি হতে পারে। যদি প্রাথমিক অবস্থায় চোখের এই সব সাধারণ রোগ বা সমস্যাগুলোর সঠিক চিকিৎসা বা যত্ন নেওয়া যায় তাহলে অন্ধত্বের হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

চোখে কোন কিছু পড়া 

আমাদের খালি চোখে অহরহ বাহিরের কিছু না কিছু পড়ে থাকে যেমন- বালি ধূলিকণা, কীটপতঙ্গ, বাঁশ, ইট, কাঠের টুকরা ইত্যাদি। এগুলি আমাদের চোখে দারুন ভাবে পীড়া দেয়। যদি তাড়াতাড়ি বের না করা যায় তাহলে কর্ণিয়ায় ঘসা লেগে তা মারাত্মক ক্ষতি করে। এমনকি চোখ অন্ধও হয়ে যেতে পারে।

লক্ষণ 

  • চোখ খচ খচ করে পানি পড়ে।
  • রোগী তাকাতে পারে না, চোখ বন্ধ রাখলে আরাম পায়।
  • চোখ লাল হয় এবং চোখের ভিতরে কিছু পাওয়া যায়।

চিকিৎসা 

চোখে ঘষা দেওয়া যাবে না। সহজ ভাবে কিছু পড়ে থাকলে তুলা দিয়ে আলতো ভাবে তুলে নিতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চোখের জীবাণুনাশক মলম ও প্যাড দিয়ে ব্যান্ডেজ দিয়ে একদিন অপেক্ষা করতে হবে। কিছু ফুটে বা লেগে থাকলে চক্ষু হাসপাতালে রেফার করতে হবে।

সদ্যজাত শিশুর চোখের প্রদাহ 

সদ্য প্রসুত শিশুর জন্মের ২১ দিনের মধ্যে চোখের (কনজাংটিভার) সংক্রমন ও প্রদাহ হলে তাকে অপথলমিয়া নিওনেটারাম বলে। ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দিয়ে সংক্রমন হতে পারে। এসব সংক্রমন সাধারণত মায়ের প্রসব পথ থেকে আসে।

 লক্ষণ  

  • চোখের পাতা ফুলে যায়
  • প্রচুর ময়লা/ পুঁজ দিয়ে দুই পাতা লেগে থাকে
  • মা বলেন জন্মের পর থেকেই পুঁজ পড়ছে
  • শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে

করণীয় 

  • সাধারণত চেখের কোনায় হালকা ভাবে মালিশ করলে এটা ভাল হয়ে যায়। 
  • ঘন্টায় ঘন্টায় চোখ পরিষ্কার করতে হবে।  
  • যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতাল বা চক্ষু চিকিৎসকের নিকট রেফার করতে হবে। 

জটিলতা 

কর্ণিয়ায় ঘা, কর্ণিয়া ছিদ্র হয়ে চোখ অন্ধ হতে পারে।

চোখ লাল হওয়া 

কনজাংটিভার ভিতরে অবস্থিত ছোট ছোট রক্ত নালী থেকে রক্ত বেরিয়ে আসলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

দুটি কারনে চোখ লাল হয়

         ১.কনজাংটিভায় রক্তক্ষরণ

         ২.চোখের ভিতর রক্তক্ষরণ

১.কনজাংটিভায় রক্তক্ষরণ 

সমস্যা বা রোগের কারণ 

  • চোখে আঘাত
  • জোরে কাশি (হুপিং কাশি)
  •  অতিরিক্ত ভারী জিনিস তোলা
  •  অতিরিক্ত বমি
  • রক্তের রোগ
  •  ডায়াবেটিস
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • কনজাংটিভার প্রদাহ
  •  ঔষধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রভৃতি কারণে রক্ত ক্ষরণ হয়ে চোখ লাল হয়।

রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ 

  • চোখ লাল হয়ে যায়
  • সাধারণত কোন ব্যাথা থাকে না (আঘাত ছাড়া) দৃষ্টির তেমন কোন অসুবিধা হয় না
  •  ২/১ সপ্তাহের মধ্যে এই রক্ত আপনা আপনিই দূর হয়ে যায়।

চিকিৎসা  

যেহেতু দৃষ্টির কোন অসুবিধ হয় না তাই চোখের চিকিৎসার তেমন প্রয়োজন হয় না।

২.চোখের ভিতর রক্তক্ষরণ 

লক্ষণ 

  • চোখ লাল হয়ে যায় 
  • আঘাত বা দুর্ঘটনার ইতিহাস থাকবে 
  • সাধারণত এক চোখে কিন্তু দুই চোখেও হতে পারে 
  • চোখে ব্যথা হবে 
  • চোখের দৃষ্টি শক্তি কমে যেতে পারে 

চিকিৎসা 

উভয় চোখে প্যাড ব্যান্ডেজ করে বিশেষজ্ঞের নিকট রেফার করতে হবে।

চোখ দিয়ে পানি পড়া 

চোখ সব সময় ভিজিয়ে রাখার জন্য চোখের গ্রন্থি থেকে পানি তৈরী হয়। এই পানি নীচের পাতায় নাকের দিকে অবস্থিত একটি নালা দিয়ে নাকের ভিতর গিয়ে পড়ে। কোন কারণে ঐ নালী বন্ধ হয়ে গেলে পানি নাকে না গিয়ে পাতায় গড়িয়ে পড়তে থাকে। দীর্ঘদিন এই নালি বন্ধ থাকলে সেখানে জীবাণু দ্বারা সংক্রমণ হয়ে প্রদাহ হয় এবং চোখের কোনে পুজ হয়। অনেক সময় চোখ দিয়ে পুজ পড়ে।

করণীয়

পানি পড়া দেখলেই চক্ষু চিকিৎসকের নিকট রেফার করতে হবে।

ট্যারা চোখ 

যখন কোন বস্তুর দিকে তাকাতে গিয়ে এক চোখ সোজা থাকে এবং অন্য চোখ বেকে যায় তখন সেই বাকা চোখকে ট্যারা চোখ বলে। যেই চোখ ট্যারা থাকে সেই চোখে রোগী কিছুই দেখে না। এক চোখ দিয়ে কোন রকমে কাজ চালিয়ে নেয়। ট্যারা চোখ বালক বালিকাকে মানুষ লক্ষ্ণী ট্যারা বলে থাকে। তাদের ধারণা ট্যারা চোখ মঙ্গলের লক্ষণ। এটি মস্ত বড় ভুল ধারণা কেননা সময় মত চিকিৎসা না করলে চোখের দৃষ্টিশক্তি একেবারেই নষ্ট হয়ে চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

 লক্ষণ  

১.প্রয়োজনে বস্তুর দিকে ঠিকমত চোখ ঘুরাতে পারে না বরং মাথা ও মুখ  বস্তুর দিকে  ঘুরিয়ে নেয়

২. একটি বস্তুকে দুইটি দেখে

৩. কান ভোঁ- ভোঁ করে অনেক সময় রোগী বমি করে

চিকিৎসা 

জন্ম থেকে যদি ট্যারা হয় তবে ৬ মাস থেকে ১ বৎসর বয়সের মধ্যে অপারেশনে ভাল হয়। দুই থেকে ৮ বৎসর বয়সের শিশুদের চশমা দিয়ে, চোখের ব্যয়াম দিয়ে ভাল ফল পাওয়া যায়। চশমা, চোখের ব্যায়াম দিয়ে ভাল ফল না হলে অপারেশন করে ভাল করা যায়।

ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি

দীর্ঘমেয়াদী অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিক রোগের কারণে উক্ত রোগীদের রেটিনায় প্রদাহের ফলে যে জটিলতার  সৃষ্টি হয় তাকে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি বলে।

রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ 

দৃষ্টি ক্রমেই ঝাপসা হবে এবং সময় মত ব্যবস্থা না নিলে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যাবে।

চিকিৎসা  

প্রতিরোধই এই রোগের প্রধান চিকিৎসা।

প্রতিরোধের উপায় 

  • জনগণের মধ্যে ডায়াবেটিক রোগ এবং এর ফলে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে
  • ডায়াবেটিক রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে
  • মেডিসিনের দ্বারা চিকিৎসা
  • লেজার থেরাপি
  • অপারেশন

সেবাদান কেন্দ্র 

  • উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
  • জেলা হাসপাতাল
  • মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
  • বিশেষায়িত সরকারী/বেসরকারী হাসপাতাল

সচরাচর জিজ্ঞাসা 

প্রশ্ন.১.চোখে কোন কিছু পড়লে কি করতে হবে? 

উত্তর. চোখে ঘষা দেওয়া যাবে না। সহজ ভাবে কিছু পড়ে থাকলে তুলা দিয়ে আলতো ভাবে তুলে নিতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চোখের জীবাণুনাশক মলম ও প্যাড দিয়ে ব্যান্ডেজ দিয়ে একদিন অপেক্ষা করতে হবে। কিছু ফুটে বা লেগে থাকলে চক্ষু হাসপাতালে রেফার করতে হবে। 

প্রশ্ন.২.সদ্যজাত শিশুর চোখে প্রদাহের লক্ষণ গুলো কি কি? 

উত্তর.

  • চোখের পাতা ফুলে যায়
  • প্রচুর ময়লা/ পুঁজ দিয়ে দুই পাতা লেগে থাকে
  • মা বলেন জন্মের পর থেকেই পুঁজ পড়ছে
  • শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে 

প্রশ্ন.৩.সদ্যজাত শিশুর চোখে প্রদাহ হলে কি করতে হবে? 

উত্তর. ঘন্টায় ঘন্টায় চোখ পরিষ্কার করতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতাল বা চক্ষু চিকিৎসকের নিকট রেফার করতে হবে। বেশিরভাগ শিশুর ক্ষেত্রে চোখ এর কোনায় হালকাভাবে মালিশ করলে এটা এমনিতেই সেরে যায়। তবে মালিশের সময় হাত পরিষ্কার করে নিতে হবে। 

প্রশ্ন.৪.কি কারনে চোখ লাল হয়? 

উত্তর. দুটি কারনে চোখ লাল হয়

         ১.কনজাংটিভায় রক্তক্ষরণ

         ২.চোখের ভিতর রক্তক্ষরণ

প্রশ্ন.৫.চোখের ভিতর রক্তক্ষরণ হলে কি করতে হবে?

উত্তর. উভয় চোখে প্যাড ব্যান্ডেজ করে বিশেষজ্ঞের নিকট রেফার করতে হবে। 

প্রশ্ন.৬.চোখ দিয়ে পানি পড়ে কেন?

উত্তর. চোখ সব সময় ভিজিয়ে রাখার জন্য চোখের গ্রন্থি থেকে পানি তৈরী হয়। এই পানি নীচের পাতায় নাকের দিকে অবস্থিত একটি নালা দিয়ে নাকের ভিতর গিয়ে পড়ে। কোন কারণে ঐ নালী বন্ধ হয়ে গেলে পানি নাকে না গিয়ে পাতায় গড়িয়ে পড়তে থাকে। 

প্রশ্ন.৭.চোখ দিয়ে পানি পড়লে কি করতে হবে?

উত্তর. পানি পড়া দেখলেই চক্ষু চিকিৎসকের নিকট রেফার করতে হবে।

প্রশ্ন.৮.চোখ ট্যারার চিকিৎসা কি? 

উত্তর. জন্ম থেকে যদি ট্যারা হয় তবে ৬ মাস থেকে ১ বৎসর বয়সের মধ্যে অপারেশনে ভাল হয়। দুই থেকে ৮ বৎসর বয়সের শিশুদের চশমা দিয়ে, চোখের ব্যয়াম দিয়ে ভাল ফল পাওয়া যায়। চশমা, চোখের ব্যায়াম দিয়ে ভাল ফল না হলে অপারেশন করে ভাল করা যায়। মনে রাখতে হবে চোখ ট্যারা ভাল লক্ষণ নয়, এটার অবশ্যই চিকিৎসা করাতে হবে।

তথ্যসূত্র 

  1. প্রাথমিক চক্ষু পরিচর্যা প্রশিক্ষণ মডিউল, ন্যাশনাল আই কেয়ার, পৃষ্ঠা: ২৪, ২৬ ,২৭, ২৮,২৯, ৪১ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার  কল্যাণ মন্ত্রনালয় মে, ২০০৮।

বিনা অপারেশনে হার্টের রক্তনালী ব্লকের চিকিৎসায়

হার্ট আমাদের শরীরে রক্ত সরবারাহ করে থাকে হার্টের উপরে অবস্থিত করোনারী রক্তনালী থেকে হার্ট তার নিজস্ব রক্ত সরবরাহ পেয়ে থাকে । এই রক্তনালী গুলি বিভিন্ন কারনে বন্ধ হয়ে গেলে হাটে প্রয়োজনের তুলনায় রক্ত সরবরাহ কম পায় ফলে বুক ব্যাথা শুরু হয় যাকে এনজাইনা বলে। হার্টের কোনো একটি রক্তনালী যদি হঠাৎ করে শতভাগ বন্ধ হয়ে যায় ফলে তবে তাৎক্ষনাৎ ঐ রক্ত নালী দিয়ে হার্টের যে অংশ পরিবাহিত হত তা দূর্বল হয়ে কোষগুলি পচে যেতে থাকে যাকে হার্ট এ্যাটাক বলা হয়। হার্ট এ্যাটাকের পর মূহুর্ত গুলি খুবই বিপদজনক কারন তাৎক্ষনিক ১০-১৫% মৃত্যু ঘটে। এ্যানজাইনা বা বুক ব্যথা শুরু হবার পরে এনজিওগ্রাম করে হার্টের রক্তনালী গুলি দেখে নিয়ে রক্তনালীর ব্লক অনুযয়ি রিং পরানো বা ষ্টেন্টিং করা হয় অথবা বাইপাস সার্জারীর পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে এ্যানজিওগ্রাম করার পরে রক্তনালীতে ব্লক থাকা সত্ত্বে ও শতকরা ১০ ভাগ ক্ষেত্রে রিং পরানো বা বাইপাস করা সম্ভব হয় না। এ ছাড়া বাইপাস বা রিংরসানো পরেও একটা সময়ের পরে রক্তনালী পূনরায় ব্লক হয়ে বুকের ব্যাথা আসতে পারে। আবার হার্ট এ্যাটাকের পর হার্টের মাংসপেশী ড্যামেজ হয়ে যাবার কারনে হার্টের সংকোচন ক্ষমতা একেবারে কমে যায় সে ক্ষেত্রে কোন প্রকার অপারেশনের ঝুকিতে যাওয়া সম্ভব হয় না। এ সকল ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঔষুধের উপরেই রুগীদের নির্ভর করতে হয় । কিন্তু শুধুমাত্র ঔষুধে এ সকল রোগীদের বুক ব্যাথা কমানো সম্ভব হয় না। এসকল ক্ষেত্রে ইসিপি হার্ট থেরাপী একটা ভূমিকা রাখে। ই এস এম আর হার্ট থেরাপী এ সকল রুগীদের জন্য আশার আলো জাগিয়েছে।

কাদের জন্য প্রয়োজ্য:

যাদের হার্টের রক্তনালীতে ব্লক আছে কিন্তু রক্তনালীর গঠন বৈশিষ্ট্যের কারনে রিং বসানো বা বাইপসা সার্জারী করা যাচ্ছে না। রক্তনালীর ব্লকের কারনে ইতিমধ্যেই বাইপাস সার্জারী বা রিং বসিয়ে ফেলেছেন কিন্তু পরবর্তিতে আবারও বুকের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন রক্ত নালী সর্ম্পূন রুপে বন্ধ হয়ে ক্যালসিয়াম জমে গেছে বিধায় যেখানে রিং বসানো সম্ভব হচ্ছেনা হার্ট এ্যাটাকের ফলে হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা কমে যাবার কারনে বার বার শ্বষ কষ্ট হচ্ছে বিধায় অন্য কোনো অপারেশনের ঝুকিতে যাওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। হার্টের ছোট ছোট রক্তনালী গুলিতে ব্লক থাকার কারনে যেখানে রিং বসানো যাচ্ছে না।

কিভাবে ই এস এম আর থেরাপী প্রয়োগ করা হয়?

এ্যানজিওগ্রামের মাধ্যমে যাদের রক্তনালীতে ব্লক পাওয়া গেছে তাদের থ্যালিয়ম স্ক্যানিং টেষ্টের মাধ্যমে হার্টের রক্ত স্বল্পতায়  আক্রান্ত অংশগুলিকে চিহিৃত করা হয়। রুগীকে ইএসএম আর যন্ত্রের বেডে শুয়ানো হয়। তারপর ইকোকার্ডিওগ্রাম যন্ত্রের সাহায্যে রুগীর হার্টের রক্ত স্বল্পতাই  আক্রান্ত অংশগুলিকে ইকোর মাধ্যমে ছবীতে আনা হয় । তারপর ইকোর মাধ্যমে সনাক্তকৃত অংশে ইএসএমআর মেশিনের এ্যাপলিকেটরের মাধ্যমে সেই অংশগুলিকে ম্যাপিং করা হয় এবং একেকটি অংশে ১০০-৩০০শক প্রদান করা হয়। ই এস এম আর(একসট্রা করপোরিয়াল শকওয়েভ মায়োকার্ডিয়াল রিভাসকুলার রাইজেশন) থেরাপীতে সর্বাধুনিক কমপিউটারাইজড মেশিনের সাহায্যে হাই ভোলেটেজ আলট্রাসনিক শক ওয়েভ হার্টের দূর্বল মাংসপেশীতে প্রয়োগ করা হয়। যার ফলে হার্টের ব্লকের রক্তনালীর আশেপাশে নতুন রক্তনালী তৈরি হয়। পৃথিবীর প্রায় ২০টি দেশের অর্ধ শতাধিক হাসপাতালে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এই সফল চিকিৎসা। যাদের রক্তনালীতে ব্লক আছে কিন্তু বাইপাস সার্জারী বা রিং পরানো যাচ্ছে না রক্ত নালীর ব্লকের কারণে ইতিমধ্যেই বাইপাস সার্জারী বা রিং বসিয়ে ফেলেছেন কিন্তু পরবর্তিতে আবারো বুকের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন রক্তনালী সম্পূর্নরুপে বন্ধ হয়ে শক্ত হয়ে গেছে বিধায় সেখানে রিং বসানো সম্ভব হচ্ছে না । হার্ট এ্যাটাকের ফলে হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে বার বার শ্বাষ কষ্ট হচ্ছে এবং অন্য কোনো অপারেশনের ঝুকিতে যাওয়া  হচ্ছে না তুলনা মূলক ভাবে ছোট রক্ত নালীতে ব্লক থাকার কারণে রিং বসানো যাচ্ছে না (২মিলিমিটার রক্তনালীর নিচে) তারা ব্যথা বেদনা ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিহীন সম্পূর্ন নতুন প্রযুক্তির এই ই এস এম আর থেরাপী নিতে পারেন।

টমেটো থেকে ভ্যাকসিন আবিস্কার!

আখতার হামিদ খান
অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী চার্লস আর্নটজেন গত পাঁচবছর ধরে চেষ্টা করছেন টমেটোর রস দিয়ে এমন একটি ভ্যাকসিন তৈরি করতে যা দিয়ে ডায়রিয়ার মতো ভয়ঙ্কর রোগ নির্মূল করা সম্ভব। ডায়রিয়ায় সারাবিশ্বে প্রতিবছর বিশ লাখ মানুষ মারা যায়। এর মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি। তবে সাধারণ টমেটো দিয়ে আর্নটজেনের ভ্যাকসিন তৈরি করা সম্ভব নয়। এজন্য দরকার ই কোলাই ব্যাকটেরিয়াম আছে এমন টমেটো। এ ব্যাকটেরিয়াম দিয়ে একটি বিশেষ টমেটো। এ ব্যাকটেরিয়াম দিয়ে একটি বিশেষ প্রোটিন তৈরি করা হবে যা ভ্যাকসিন হিসেবে কাজ করবে। এ ভ্যাকসিন শরীরে ঢুকে ডায়রিয়ার জীবাণুর সাথে যুদ্ধ করে তাকে মেরে ফেলবে। ডায়রিয়ার যেসব ভ্যাকসিন পাওয়া যায় সেগুলোর উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। আর্টজেন মূলত তৃতীয় বিশ্বের দেশ, বিশেষ করে ভিয়েতনাম এবং বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশের চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষের জন্য তার ভ্যাকসিন তৈরি করছেন। আর যে টমেটোর রস দিয়ে এ ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে, সে জাতের টমেটো এসব দেশে সহজেই চাষ করা সম্ভব। ফলে স্থানীয়ভাবে, কম খরচে ভ্যাকসিন উৎপাদন করা সম্ভব হবে। আর্নটজেন তার টমেটো ভ্যাকসিন এ বছরেই পশুদেহে প্রয়োগ করে দেখবেন। শুধু ডায়রিয়া নয়, কলেরা হেপাটাইটিস ইত্যাদি রোগের চিকিৎসার জন্যও ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চিন্তাভাবনা করছেন আর্নটজেন। তবে তিনি একা নন, আরও চার ডজন গবেষণাগারে এ নিয়ে কাজ চলছে। শুধু টমেটো নয়, কলা এবং আলু দিয়েও ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চলছে। আশা করা যায়, কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের ভয়ঙ্করতম কিছু রোগের চিরতরে ধ্বংস ঘটবে এসব ভ্যাকসিন চিকিৎসার দৌলতে।
নিরাপত্তা সিঁড়ি
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংস হওয়ার পরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে বিপদের সময় আকাশ ছোঁয়া দালান থেকে কীভাবে দ্রুত এবং অল্প সময়ে নিচে নেমে আসা যাবে। এ সমস্যার একটা সমাধানও মিলেছে। AMES-1 নামে একটি ইভানুকয়েবান সিস্টেম, সেটি দেখতে অনেকটা বিনোদন পার্কের ওয়াটার স্লাইডের মতো, এর সাহায্যে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে উঁচু উঁচু বিল্ডিং থেকে নিচে নেমে আসা সম্ভব। এ জিনিস বসানো থাকবে দালানের বাইরের দেয়ালে। ইমার্জেন্সির সময় খুলে যাবে ইউনিট স্প্রিং হঠাৎ করে মাটিতে নেমে আসবে সরু, ঢালু পথটা। পরীক্ষা করে দেখা গেছে এ ধরনের ওয়াটার স্লাইডে এগারতলা দালান থেকে মাটিতে নেমে আসতে মাত্র উনিশ সেকেন্ড সময় লাগে। আমাদের দেশের গার্মেন্ট কারখানাগুলোতে এ সিস্টেম অবিলম্বে চালু করা উচিত, গার্মেন্ট কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য। একেকটি ইভাকুয়েশন সিস্টেমের দাম কুড়ি হাজার ডলার। বিস্তারিত খোঁজ নিতে পারেন www.ames-1.com।
খুঁজে বের করে ধ্বংস করা
সারা পৃথিবীতে, মাটির নিচে শিকারের জন্য ওঁৎ পেতে আছে মরণঘাতী ল্যান্ড মাইন। প্রতিদিন এ মাইনের শিকার হয়ে কত মানুষ যে মারা পড়ছে, আর প্রাণে বেঁচে যাওয়া হতভাগারা বিস্কোরণে হাত-পা হারিয়ে বিকলাঙ্গ জীবনযাপন করছে তার হিসাব নেই। মাটির নিচের এ মরণ ফাঁদ খুঁজে বের করার চেষ্টারও ত্রুটি নেই। ডেভিড সামার্সের এলাডিন নামের যন্ত্রটি এ প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে অনেকদূর। মাইন খুঁজে বের করতে এলাডিনকে সর্বোৎকৃষ্ট চিন্তাধারার ফসল বলা যায়। এলাডিন মাইন ফিল্ডে পানি ছুঁড়ে এবং শব্দ মনিটর করে কোথায় মাইন আছে তা খুঁজে বের করতে তো পারবেই, ওটাকে অকেজো করার ক্ষমতাও রাখে। আর এলাডিনের টার্গেটের অভাব হবে না। কারণ বিশ্বজুড়ে যুদ্ধক্ষেত্রগুলোতে লাখ লাখ মাইন ছড়িয়ে আছে।
আর্থ সিমুলেটর
একদল জাপানি ইঞ্জিনিয়ার এমন একটি কম্পিউটার তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন, যা হবে অসম্ভব শক্তিশালী, বিশ্বের ঘটমান সবকিছু নখদর্পণে থাকবে সে যন্ত্রের। বলিভিয়ার বাষ্পীভূত রেইন ফরেস্ট, মেক্সিকোর ধোঁয়া উদগীরণ করা কলকারখানা, জেট স্ট্রিম, গালফ স্ট্রিম, লোকজনের কর্মকাণ্ড ইত্যাদি সবকিছুর খবর রাখবে এটা। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নের অর্থাৎ কম্পিউটারটি তৈরির সাহসও তারা দেখান। ২০০২ সালের ১১ মার্চ তারা এ কাজ শেষ করেছেন। ইঞ্জিনিয়াররা এমন একটি কম্পিউটার তৈরি করেছেন যার শক্তির তুলনা নেই। তারা তাদের আবিষ্কারের নাম দিয়েছেন আর্থ সিমুলেটর।

চোখের রেটিনায় কী ধরনের সমস্যা হয়?

চোখের রেটিনায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়। কোনো কোনো সমস্যা থেকে চোখ অন্ধ হয়ে যাওয়ারও ঝুঁকি তৈরি হয়। আজ ৫ অক্টোবর এনটিভির স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২১৬৫তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ও পরামর্শক অধ্যাপক ডা. মো. সালেহ আহমেদ।

প্রশ্ন : চোখের রেটিনা কী এবং এর কাজ কী?

উত্তর : চোখের তিনটি লেয়ার থাকে। এন্টিরিয়র ফাইব্রাস্কোড, মিডল ভাসকুলার কোড ও নিউরাল কোড। চোখের সামনে এন্টিরিয়র ফাইব্রাস্কোডে কর্নিয়া এবং স্ক্লেরা থাকে। মধ্যম লেয়ার হলো ভাসকুলার কোড। এটি থেকে চোখে রক্ত সঞ্চালন করে, চোখের অন্যান্য অংশে পুষ্টি সরবরাহ করে। তারপর রয়েছে নিউরাল কোড। এখান থাকে রেটিনা। এই তিনটি লেয়ার মিলে চোখ হয়। কোনো একটি বস্তু থেকে আলো এসে চোখের কর্নিয়া থেকে গিয়ে রেটিনার ওপর ফোকাস হয়। তখন সেখানে একটা দৃশ্যের তৈরি হয়। ওই দৃশ্যটা অপটিক অবস্থায় প্রেরিত হয়ে মস্তিষ্কে নিয়ে যায়। মস্তিষ্কে যাওয়ার পর কম্পিউটারের মতো কাজ করে তখন আমরা দেখতে পাই। দেখার জন্য যে নিউরাল লেয়ার সেটা হলো রেটিনা। সরাসরি যা সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে।

প্রশ্ন : সাধারণত রেটিনায় কোন কোন সমস্যা নিয়ে রোগীরা আসেন?

উত্তর : বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা নিয়ে রোগীরা আসেন। বাচ্চা বয়সে ম্যাকুলার ডিসট্রফি রোগ নিয়ে আসে। এটি একটি জিনগত রোগ। এই রোগে বাচ্চারা কম দেখতে পায়। অনেক সময় বাবা-মায়ের থেকে রোগটা আসে।

প্রশ্ন : কীভাবে প্রকাশ পাবে এই সমস্যাটি?

উত্তর : এতে শিশুরা চোখে কম দেখে। পাঁচ থেকে সাত বছরে বাচ্চারা যখন স্কুলে যায়, তখন বোর্ড দেখতে থাকে তখনই শিক্ষকরা লক্ষ করে সে ভালোভাবে দেখতে পায় না। তখন শিক্ষকরা অভিযোগ করেন যে শিশু দেখতে পাচ্ছে না। চোখের চিকিৎসক দেখান। অপটিক নার্ভের পাশে ম্যাকুলা থাকে। এই সমস্যায় বাচ্চারা ভালো দেখতে পারে না। এটা জন্মগত রোগ।

প্রশ্ন : এর কি সমাধান আছে?

উত্তর : বাচ্চারা যাতে পড়াশোনা করতে পারে, এ রকম কিছু ডিভাইস আছে লো ভিজুয়াল এইড, যা দিয়ে সমস্যার সমাধান করা হয়। এই সমস্যা হচ্ছে বুঝতে পারলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রশ্ন : ম্যাকুলার ডিসট্রফি যদি সময়মতো নির্ণয় না করে চিকিৎসা করা না হয় সে ক্ষেত্রে কী হতে পারে?

উত্তর : এই রোগে ধীরে ধীরে চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে। বাচ্চাদের স্কুলের পড়াশোনা ব্যাহত হবে। তাদের মানসিক বৃদ্ধি ভালোভাবে হবে না।

প্রশ্ন : বড়দের রেটিনার কী কী সমস্যা হতে পারে?

উত্তর : যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের ডায়াবেটিক রেটিনো প্যাথি হয়। যদি ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকে। এই অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থেকে চোখের রেটিনাতে অনেক ধরনের সমস্যা হতে পারে। যাদের অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, সেটা থেকে চোখের ভেতর সমস্যা হতে পারে। যাদের কোলেস্টেরল বেশি থাকে, উচ্চ রক্তচাপ থাকে তাদের রেটিনার রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়ে চোখের ভেতর রক্তক্ষরণ হতে পারে। তারা অন্ধ হয়ে যেতে পারে। টিউবারকুলোসিস, সিফিলিস, কিছু অটোইমিউন রোগ রয়েছে, এগুলো থেকে সমস্যা হতে পারে।

প্রশ্ন : ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি কখন হয়? হওয়ার সময় উপসর্গগুলো কী থাকে?

উত্তর : যখন অনেক দিন ধরে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকে, তখন মেটাবলিক সমস্যা হয়। তখন রক্তনালির মধ্যে ভাসকুলার অকার্যকর হয়ে যায়। সাধারণত রক্তনালির মধ্যে একটি পুরো মেমব্রেন পড়ে। এটি হলে  রক্ত চলাচলের স্বাভাবিক গতি বন্ধ হয়ে যায়। এটি হলে চোখের পুষ্টিও ব্যাহত হয়। রক্ত চলাচল কমে গেলে হাইপোক্সিয়া হবে। রোগী তখন ঝাপসা দেখবে। এই সমস্যায় অনেক সময় চোখ ডলা দিলে রক্তক্ষরণ হবে। রক্তক্ষরণ হয়ে রোগী অন্ধ হয়ে যাবে।

প্রশ্ন : এই রোগে যখন রোগী ঝাপসা দেখবে, ওই অবস্থায় কী করবে?

উত্তর : যখন চোখে ঝাপসা দেখবে, আজকাল অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে, চোখের যে লিকেজ আছে, লেজার দিয়ে সেই অংশটাকে আমরা ধ্বংস করে দিতে পারি।

প্রশ্ন : এই চিকিৎসায় রোগী কি আবার আগের অবস্থায় চলে যায়?

উত্তর : জি, রোগী আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। লেজারের পাশাপাশি আজকাল নতুন কিছু ইনজেকশন বেরিয়েছে যাকে বলে অ্যান্টিভিজিএফ। এটা দিয়েও ভালো করা যায়

ক্যান্সার! শোনার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে যায় এবং নিশ্চিত মৃত্যু বলে মনে করে। আসলে তা ঠিক নয়

  • ডাঃ কাজী মনজুর কাদের

ক্যান্সার! শোনার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে যায় এবং নিশ্চিত মৃত্যু বলে মনে করে। আসলে তা ঠিক নয়। এ রোগ যদি সূচনায় ধরা পড়ে এবং সময়মতো চিকিৎসা দেয়া যায় তাহলে এক-তৃতীয়াংশ সম্পূর্ণভাবে নিরাময় করা যায়। বাকি এক-তৃতীয়াংশ চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বাকি এক -তৃতীয়াংশ অনেক দেরিতে ধরা পড়ে বলে নিরাময় বা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে উপশম করা যায়। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এবং ক্যান্সার সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। তবে এটা ঠিক, ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যয়বহুল।

স্তন ক্যান্সার মহিলাদের অন্যতম প্রধান ক্যান্সার। আমাদের দেশে যতটুকু তথ্য, উপাত্ত আছে তাতে দেখা যায় ব্যাপকতার দিক দিয়ে জরায়ু মুখের ক্যান্সারের সমান্তরালে এর অবস্থান। পৃথিবীতে অনেক দেশেই মহিলাদের এক নম্বর ক্যান্সার হলো ব্রেস্ট ক্যান্সার এবং সাধারণত প্রতি এক লাখ মহিলার মধ্যে আশি জনের বেশি প্রতিবছর আক্রান্ত হন। আমাদের দেশে সকল মহিলা ক্যান্সার রোগীর প্রায় ২০-২৫ শতাংশই স্তন ক্যান্সার। সাধারণত স্তনের দুগ্ধবাহী নালীতে হয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি স্তনের অন্যান্য কলা থেকেও শুরু হতে পারে। এটি পি- বা চাকা হিসেবেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রথম ধরা পড়ে এবং ক্যান্সার রোগের সাধারণ নিয়মÑধীরে ধীরে বড় হয় এবং শরীরের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। স্তনের সঙ্গে নিকটস্থ বাহুমূলের লসিকা গ্রন্থিগুলোর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকায় এগুলোতে টিউমার ছড়িয়ে পড়ার সম্ভবনা সর্বপ্রথম এবং সর্বাধিক।

স্তন ক্যান্সারের উপসর্গ ও লক্ষণসমূহ যা রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে

ি স্তনে চাকা বা পি-,

ি স্তনের আকারের পরিবর্তন,

ি স্তনের বোঁটা ভেতরে ঢুকে যাওয়া, অসমান বা বাঁকা হয়ে যাওয়া,

ি স্তনের বোঁটা দিয়ে অস্বাভাবিক রস বা রক্তক্ষরণ হওয়া,

ি চামড়ার রঙ বা চেহারার পরিবর্তন,

ি উন্মুক্ত ক্ষত,

ি বগতলায় পি- বা চাকা এবং

ি বাহুমূলে স্তনে ব্যথা।

প্রাথমিকভাবে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধোযোগ্য না হলেও এই রোগের ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে সর্বসাধারণের মাঝে প্রচারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে কোন কোন ক্ষেত্রে ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমিয়ে দেবে। এই ঝুঁকি বাড়ে সাধারণত বয়স যখন পঞ্চাশের উধ্বে, মেদবহুল শরীর এবং যারা অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার খেয়ে থাকে, যাদের পরিবারে আরও মহিলাদের স্তন ক্যন্সার আছে বা ছিল, অল্প বয়সে মাসিক শুরু বা অধিক বয়সে মাসিক শেস হওয়া, একেবারেই গর্ভবতী না হওয়া, অধিক বয়সে প্রথম গর্ভধারণ, বুকের দুধ না খাওয়ানো, স্তনে অন্য ধরনের সাধারণ চাকা, যাদের জরায়ু বা ডিম্বাশয়ে ক্যান্সার হয়েছে, যারা স্তনে তেজস্ক্রিয় বিকিরণের মুখোমুখি হয়েছে, যেমন এক্সরে। তবে মনে রাখতে হবে, স্তনে চাকা বা পি- হলে ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা রয়েছে; তেমনি সব চাকাই যে ক্যান্সার তাও নয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা গেছে স্তনের চাকার ক্ষেত্রে শতকরা দশভাগ পর্যন্ত ক্যান্সার হিসেবে চিহ্নিত হয় বাকি নব্বই ভাগই সহজে নিরাময়যোগ্য সাধারণ রোগ। সুতরাং সঠিক পরীক্ষার মাধ্যমে রোধের ধরন জানা অত্যন্ত জরুরী। স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয়ের জন্য একটি কার্যকরী পদ্ধতি হলো নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করা (ইৎবধংঃ ঝবষভ ঊীধসরহধঃরড়হ: ইঝঊ)। প্রতিটি মহিলাই যদি প্রতিমাসে নিজের স্তন মাসিক শেষ হওয়ার পর পরই একটি নির্দিষ্ট দিনে ভালভাবে পরীক্ষা করেন তাহলে যে কোন ধরনের অসামঞ্জস্য ও অসুবিধা নিজেই চিহ্নিত করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারবেন। নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করার ধাপ রয়েছে সেই মোতাবেক পরীক্ষা করাই শ্রেয়। ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য সাধারণত সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন:

ি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও প্রচারের মাধ্যমে,

ি নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষার অভ্যাস গড়ে তোলা,

ি চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী দ্বারা স্তন পরীক্ষা এবং

ি আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ম্যামোগ্রাফি (প্রয়োজন)।

স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা

এই চিকিৎসা সমন্বিত ও বহুমাত্রিক চিকিৎসা পদ্ধতি। শল্য চিকিৎসা, চিকিৎসা, রেডিওথেরাপি (বিকিরণ চিকিৎসা), কেমোথেরাপি, হরমোন চিকিৎসা ও ইমিউনোথেরাপি, টারগেটেড থেরাপি সমন্বিতভাবে প্রদান করা যায়। এই রোগের মূল লক্ষ্য দুইটি (১) মূল টিউমার অপসারণ এবং (২) সামগ্রিক চিকিৎসা প্রদান।

শল্য চিকিৎসা (সার্জারি)

সার্জারি স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে অন্য যে কোন চিকিৎসার চেয়ে রোগীকে বেশি আরোগ্য করে। যদি টিউমার স্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, শরীরের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়া টিউমারের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা নগণ্য।

রেডিওথেরাপি

এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে মূল টিউমার এলাকা। সাধারণত অপারেশনের পরও চোখে দেখা যায় না যদি এমন কিছু কোষ থেকে থাকে, তাকে দমন করা। সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে দেয়া হয়ে থাকে। যখন এ রোগ মস্তিষ্ক বা হাড়ে ছড়িয়ে পড়ে তখন জরুরী ভাবে পেলিয়েশন বা প্রশমন করার জন্য রেডিওথেরাপির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে রেডিওথেরাপি দেয়া যায় বলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।

কেমোথেরাপি ও হরমোন

প্রায় প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রেই কেমোথেরাপি হরমোনথেরাপি প্রয়োগ করা যায়। সামগ্রিকভাবে শরীরের সর্বত্রই এই রোগের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য এর ব্যবহার অপরিহার্য। দেখা গেছে, খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণীত হলে এবং যথোপযুক্ত চিকিৎসা নিলে শতকরা ৭৫-৮০ ভাগ রোগী ১০ বছরেরও বেশি বেঁচে থাকে। মাঝ পর্যায়ে নির্ণীত হলে এই হার ৫০ থেকে ২৫ শতাংশে নেমে আসে এবং শেষ পর্যায়ে ভাল কিছু করার সুযোগ প্রায় থাকেই না। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো যথোপযুক্ত চিকিৎসা নেয়া এ রোগ মোকাবেলা করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই।

স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে করণীয়

ক্যান্সার সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান বিশেষ করে এর কারণসমূহ ও কিভাবে প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্ভব সে সম্পর্কিত প্রচার বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহে সামাজিক বাধা ও লাজলজ্জা দূরে করে সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা করতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা।মহিলাদের রোগ চিকিৎসায় সময়মতো উদ্যোগী হওয়া এবং অবহেলা না করা। নির্ণীত রোগীর ক্ষেত্রে সামাজিক বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে তার পক্ষে নৈতিক ও সামাজিক সমর্থন জোরদার করা।সহিঞ্চুতা, সহযোগিতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি ক্যান্সার নিরাময়ে সহায়ক।

সহযোগী অধ্যাপক জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »