Category: স্বাস্থ্য

হার্ট অ্যাটাক ও হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা:-


হার্ট অ্যাটাক একটি মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ অবস্থা যেখানে জীবন ও মৃত্যু খুব কাছাকাছি চলে আসে।
কোন ব্যক্তির হার্ট অ্যাটাক হলে সেটি অল্পতেই ভাল হতে পারে আবার হতে পারে প্রাণঘাতী। তাই হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। চিকিৎসক ও রোগীর পরিবারকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে রোগী যাতে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পায়। সাধারণত ECHO, ECG করে নিশ্চিত হওয়া যায় রোগীর হার্ট অ্যাটাক হয়েছে কিনা। হার্ট অ্যাটাক এর চিকিৎসার প্রথম ধাপটি হল এসপিরিন গ্রুপ এর ওষুধ ও ইঞ্জেকশান দিয়ে রক্ত পাতলা করা। এর পর Primary Angioplasty করে জমাট বাধা রক্ত অপসারন করা। Primary Angioplasty করার পরেও অনেক সময় রোগী ঝুকি মুক্ত হয়না যদি রোগীর Cardiac Arrhythmia বা অনিয়মিত হৃদ স্পন্দন হয়। এই অনিয়মিত হৃদ স্পন্দনের সমস্যাকে মোটেই অবহেলা করা যাবেনা কেননা, অনিয়মিত হৃদ স্পন্দনের ফলে আবারো হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তাই হার্ট অ্যাটাকের প্রথম ৪৮-৭২ ঘণ্টা অনবরত ECG মনিটরিং করে দেখতে হবে অনিয়মিত হৃদ স্পন্দনের সমস্যা আছে কিনা। একই সাথে রোগীর রক্তচাপ ঠিক আছে কিনা সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। বেড সাইড ইকো করে সর্বদা হৃদযন্ত্রের পর্দার অবস্থার উপর নজর রাখতে হবে। Stethoscope দিয়ে দেখতে হবে হৃদযন্ত্র থেকে কোন অস্বাভাবিক শব্দ হচ্ছে কিনা। কারন রোগীর হার্টের ভেতরের বা বাইরের পর্দা ফেটে গেলে তাকে সবচেয়ে মারাক্তক অবস্থা বলে গণ্য করা হয়। এ অবস্থায় রোগীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সার্জারি না করলে মৃত্যুর ঝুকি শতকরা ৯৯ ভাগ। সর্বোপরি হার্ট অ্যাটকের পর ২-৩ দিন রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। অবস্থা স্থিতিশীল হলে চিকিৎসকের দায়িত্ব রোগীকে কাউন্সেলিং করে অবহিত করা খাদ্যাভ্যাস, জীবন যাত্রা ও পরবর্তী চিকিৎসা সম্পর্কে যেমন Angiogram কখন করাবে ইত্যাদি। একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, Angiogram করার পর চিকিৎসা গ্রহনের পূর্বে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ কার্ডিওলজিস্ট ও কার্ডিয়াক সার্জনের পরামর্শ নিতে হবে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরন করলে দীর্ঘ মেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে।

মাথাব্যথার কারণে অনেকেই ডিসপ্রিন, প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ খেয়ে থাকেন যার মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে

ডাঃ শিরিন চৌধুরী মেরী

মাথাব্যথার কারণে অনেকেই ডিসপ্রিন, প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ খেয়ে থাকেন যার মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। ঔষধ না খেয়ে প্রাকৃতিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন পদ্ধতি ব্যবহার করে মাথাব্যথার হাত
থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। মাথাব্যথা কোনো রোগ নয় এটা আমরা সবাই জানি,এটা অন্য রোগের উপসর্গ | তাই যদি আমাদের এর কারণ জানা না থাকে অনেকেই অনেক রকম ওষুধ গ্রহণ করে যা আমাদের জন্য ক্ষতিকর| সাধারণ মাথাব্যথা: মাথায় ঠাণ্ডা বা রোদ লেগে কিংবা ঘুম কম হলে এ ধরনের ব্যথা হয়। এটি কিছুটা কষ্টদায়ক হলেও তেমন তীব্র হয় না। আর এ-জাতীয় মাথাব্যথা সারিয়ে তোলার উপায়ও সহজ। সামান্য পানি দিয়ে হাত দুটি ভিজিয়ে নিন। ভেজা হাতে মুছে নিন আপনার কপাল, মুখমণ্ডল ও ঘাড়। দু-তিনবার এভাবে করুন। জায়গাগুলো একটু ভেজা ভেজা হলে কিছুক্ষণ বসে থাকুন খোলা বাতাসে।
প্রাকৃতিক খোলা বাতাস না পেলে ধীরগতিতে ফ্যান ছেড়ে ভেজা জায়গাগুলোয় বাতাস লাগান। কিছুক্ষণ পর তা শুকিয়ে যাবে। এর সঙ্গে সঙ্গে সেরে যাবে আপনার মাথাব্যথা। তীব্র ব্যথা: বিভিন্ন কারণে তীব্র মাথাব্যথা হয়ে থাকে। তবে এর কমন কারণ হলো সর্দি অথবা সাইনোসাইটিস। যে কারণেই হয়ে থাকুক এর চিকিত্সাব্যবস্থাটি কিন্তু সহজ। এক-দুই কোয়া রসুন ছেঁচে রসটুকু ছেঁকে নিন। এবার দু-তিন ফোঁটা করে রস নাকের দুই ছিদ্র দিয়ে ভেতরে টেনে নিন। এমন গতিতে টানবেন যেন রসের ফোঁটা নাকের একেবারে ভেতরে চলে যায়। ঠিকমতো যদি রসটুকু আপনার নাকের গভীর পর্যন্ত যেতে পারে, তাহলে কয়েক মিনিট নয়, মাথাব্যথা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য কয়েক সেকেন্ডই যথেষ্ট। আধকপালি মাথাব্যথা: সারা মাথা নয়, ডান বা বামদিকে কপালসহ মাথার অর্ধেকজুড়ে যে ব্যথা হয়, তাকে বলা হয় আধকপালি মাথাব্যথা। এ ব্যথা খুবই কষ্টের। ভীষণ যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে রোগী। ঘুমাতে বা খেতে পারে না। ব্যথার তীব্রতায় বমি বমি লাগে। কখনো কখনো বমি হয়েও যায়। ‘হিং’ পানিতে গুলে ফোঁটায় ফোঁটায় নাকের ভেতর দিলে এমন ব্যথা সেরে যায়। বাজারে প্রচুর ভেজাল হিং পাওয়া যায়। আসল হিং বনেদি এবং সুনামসমৃদ্ধ দোকান থেকে সংগ্রহ করে নিতে হবে। মাইগ্রেন: মাইগ্রেন আলাদা ধরনের কোনো ব্যথা নয়। সাধারণত ক্রনিক (পুরনো) সাইনোসাইটিসের সমস্যা থেকে মাইগ্রেনের উত্পত্তি ঘটে। যদিও মাঝে মধ্যে অন্য কোনো জ্ঞাত বা অজ্ঞাত কারণেও মাইগ্রেন আক্রান্ত হতে দেখা যায়। মাইগ্রেনের রোগী ব্যথার যন্ত্রণায় এতটাই কাতর হয়ে পড়ে যে, কেবল ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে থাকাকেই একমাত্র চিকিত্সা এবং আরামের উপায় বলে মনে করে। ঘুমালে রোগী যন্ত্রণা এড়িয়ে থাকতে পারলেও, মাইগ্রেনের সমস্যা থেকে কিন্তু মুক্ত হতে পারে না। তবে ইবনে সিনার মতে -কৈবুক্রার পাতার রস লবন দিয়ে মিশায়ে কপালে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলেই পূর্ণ আরোগ্য লাভ হবে I

ফুলবাড়ীয়ায় ২০ সেকেন্ডে চোখের চিকিৎসা


ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ গতকাল শুক্রবার ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আছিম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা মিডটাউনের সহযোগীয়তায় দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। চিকিৎসা কার্যক্রমের সার্বিক পৃষ্ঠপোষক ছিলেন কাস্টমস এর জয়েন্ট কমিশনার ড. তাজুল ইসলাম। রোগী প্রতি এক মিনিটের কম সময় নিয়ে রোগীর ব্যবস্থাপত্র দেয়ায় চোখের পলকে চোখের চিকিৎসা দেয়ার অভিযোগ করেছে রোগীরা। অনেকেই এটাকে নিজেকে বিকশিত করার দায়সারার কাজ বলে অভিযোগ করেছেন। চোখের চিকিৎসার নামে দায়সারা ক্যাম্পে রোগীরা এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার এ চিকিৎসা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষরে মহাসচিব প্রফেসর ডা. এম এ আজিজ। পরে জয়েন্ট কমিশনার তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জানানো হয়, গতবার ৩শ রোগীকে বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। এবার ৬শ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এবার প্রায় ১০ হাজার রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে।
গতবার বিনামূল্যে চিকিৎসা নিয়ে একেবারেই অন্ধ হয়ে গেছেন হুরবাড়ী গ্রামের শতবর্ষী রাবেয়া খাতুন। তিনি জানান, গতবার চিকিৎসা নিতে আসার পর এক মহিলা তার ডান চোখের ওষুধ দেয়ার এখন আর কিছু দেখেন না। এবারও চিকিৎসা নিতে এসে মাঠে ঘুরা ফেরা করছেন। চিকিৎসা ক্যাম্পের মাঠে কথা হয় মা আমেনা খাতুন (১০০) মেয়ে জহুরা খাতুনের (৬০) সাথে। তারা জানান, ১ মিনিটের মধ্যে ডাক্তার ২ টা ওষুধ লিখে তাদেরকে রুম থেকে বের করে দেন।
মোবাইলে ফুলবাড়ীয়ার স্থানীয় সাংবাদিক মোঃ হাবিবুল্লাহ হাবিব জানান, ২০ থেকে ১৮ সেকেন্ডের মধ্যে তার চোখের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। আসলে এটা মুলত চিকিৎসা সেবা না। সরকারী চাকরীজীবি হয়ে নিজেকে বিকশিত করছে তাজুল ইসলাম। ভবিষ্যতে সে রাজনীতি করবেন বলে মনে হয়।
ডা. তাজুল ইসলামের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এবার বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এমনটা হয়েছে।

হার্টের জন্য যে খাবার গুলি উপকারি

হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারি খাবারের কথা বললে আমাদের সামনে যেসব খাবারের কথা মনে আসে সেগুলো ছাড়াও কিছু খাবার রয়েছে। এসব খাবারের কথা তুলে ধরা হলো এ লেখায়।

শিম
শিমের এ স্বাস্থ্যগত উপকারিতার কথা আগে মানুষ জানত না। সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, শিমের আঁশ ও এর পটাসিয়াম হৃদযন্ত্রের (হার্ট) জন্য খুবই উপকারী। এ ছাড়া শিমে রয়েছে প্রোটিন, যা মাংসের স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করে। এটি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতেও ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন প্রচুর শিম খেতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। খাবারের সঙ্গে তরকারি হিসেবে পরিমিত শিম খেলেও উপকার মিলবে।

আঙুরের জুস
আঙুরের জুসে রয়েছে হৃদপিণ্ডের জন্য বহু উপকারী উপাদান। তবে এটি শতভাগ আঙুরের জুস হতে হবে। অর্থাৎ স্বাদ বাড়ানোর জন্য বাড়তি চিনি কিংবা অন্য কোনো উপাদান মেশানো যাবে না।

ডিম
ডিম পুষ্টিকর খাবার হিসেবে বহুদিন ধরেই পরিচিত। তবে এর কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, ডিম হৃদপিণ্ডের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং উপকারী। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ১৩ ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল। আর একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, প্রতিদিন একটি করে ডিম খেলে তাতে হৃদরোগের আশঙ্কা কমে যায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত।

পেঁপে
বিভিন্ন শাকসবজি খেলে হৃদরোগ থেকে দূরে থাকা যায়। আর এ তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে পেঁপে। গবেষকরা জানান, পেঁপেতে রয়েছে লাইকোপেন। এটি হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। টমেটোর তুলনায় পেঁপেতে রয়েছে প্রায় আড়াই গুণ বেশি লাইকোপেন।

ডার্ক চকোলেট
অনেকেই চকোলেটকে ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করেন। কোকোয়া বার দিয়ে তৈরি ডার্ক চকোলেট টাইপ টু ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করে। ২০১৫ সালের এক গবেষণায় জানা যায়, ডার্ক চকোলেট খাওয়ার পর রক্তচাপ বেশ কমে যায়। আর রক্তচাপ কমলে হৃদরোগও কমে যায়। গবেষকরা বলেন, ডার্ক চকোলেট প্রতিদিন এক থেকে দুই আউন্স পরিমাণ খেলেই উপকার পাওয়া যাবে।

 

ছানি অপারেশনঃ কৃত্রিম লেন্সের দাম ও কার্যকারিতা

ছানি অপারেশনঃ কৃত্রিম লেন্সের দাম ও কার্যকারিতা

হালিমা খাতুন (ছদ্মনাম) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পঞ্চাশের ওপর বয়স। এ বয়সেই তাঁর চোখে ছানি পড়েছে। ফলে ঠিকমতো কাজকর্ম করতে পারেন না। তিনি জেনেছেন ছানি রোগের ভালো চিকিৎসা হচ্ছে আজকাল। আগের মতো আর অপারেশনের পর দুই দিন সটান শুইয়ে রাখা হয় না। এরপর মাস দেড়েক পর মোটা কাচের চশমা ব্যবহার করতেও হয় না। আগে হাজার পাওয়ারের ওপরে, ওই চশমা হারিয়ে গেলে নতুন চশমা না নেওয়া অবধি অচল থাকতে হতো। আজকাল আর এসব নেই। চোখে অস্ত্রোপচার করে কৃত্রিম লেন্স সংযোজন করা হয়। ফলে রোগী অস্ত্রোপচার সম্পন্নের দিন থেকেই দেখতে শুরু করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক দিনের মতো চোখ ঢেকে রাখা হয়, পরের দিন থেকেই দৃষ্টি লাভ! কৃত্রিম লেন্স সংযোজনের দরুন পুরোপুরি দৃষ্টিপ্রাপ্তি সম্ভব। অর্থাৎ তরুণ বয়সের দৃষ্টিশক্তির মতোই দৃষ্টিশক্তি পাওয়া যায়। হালিমা খাতুন এসব জেনেই এসেছেন ছানির অপারেশন করাতে।

হালিমা খাতুন যথারীতি হাসপাতালে ভর্তি হন। অপারেশনের আগের দিন তাঁর চোখের লেন্সের পাওয়ারের মাপ নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে তিনি জেনেছেন, চোখে যে লেন্স সংযোজন করা হয় তা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। লেন্সের প্রকারভেদে মূল্য ২০০ টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। হালিমা বাড়ি থেকে যে টাকা নিয়ে এসেছেন, তাতে ১৫ হাজার টাকার লেন্স সংযোজন সম্ভব নয়। সাধারণভাবেই তাঁর ধারণা, ১৫ হাজার টাকার লেন্স নিশ্চয়ই ২০০ টাকার লেন্সের চেয়ে অনেক ভালো।

তাঁর মনে দ্বিধা জন্মায়। একবার ভাবেন এযাত্রায় অস্ত্রোপচার না করিয়ে বাড়ি গিয়ে ধারদেনা করে টাকা নিয়ে এসে ওই ১৫ হাজার টাকার লেন্সই চোখে লাগাবেন। আবার ভাবেন, বেতনের টাকার বাইরে তেমন তো তাঁর আয় নেই! ধার করা টাকা পরিশোধ করতে বেতনের টাকায় বেশ কমাস লাগবে। কাজেই প্রয়োজন কী? তিনি তাঁর চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন। চিকিৎসক জানান, চোখের ভেতর ঠিকমতো পৌঁছতে পারলে ১৫ হাজার টাকার লেন্স যা করবে, ২০০ টাকার লেন্স তা-ই করবে।
ওপরের ঘটনাটি থেকে বোঝা যায় যে রোগীরা আধুনিক চিকিৎসালয়ে এসে এক ধরনের বিভ্রান্তির শিকার হন। লেন্সের মূল্যের তারতম্যে এ বিভ্রান্তি আসাটাই স্বাভাবিক। এ ছাড়া আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ বিদেশি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের জিনিসের প্রতি দুর্বল। যুক্তরাষ্ট্রের লেন্স নিশ্চয়ই ভারতের লেন্সের চেয়ে ভালো! কাজেই যুক্তরাষ্ট্রের লেন্স লাগাবেন এ ধরনের সিদ্ধান্ত অনেক সময় নিয়ে ফেলেন রোগীরা।

এ ক্ষেত্রে লেন্স সম্পর্কে রোগীদের মনে সৃষ্ট এ বিভ্রান্তি নিরসনে চিকিৎসকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকেরই দায়িত্ব হলো রোগীকে বুঝিয়ে বলা যে লেন্সের মূল্যের তারতম্য লেন্সের কার্যকারিতায় তেমন কোনো ভূমিকা পালন করে না। ২০০ টাকার ভারতীয় লেন্সের সঙ্গে দুই হাজার ২০০ টাকার যুক্তরাষ্ট্রের লেন্সের কার্যকারিতায় কোনো তফাত নেই। লেন্স সংযোজনে কোনো অসুবিধা না হলে উভয় ক্ষেত্রে সমপর্যায়ের দৃষ্টিশক্তি লাভ করা যায়। তবে লেন্স পছন্দের ক্ষেত্রে রোগীর পছন্দের স্বাধীনতা অবশ্যই থাকা দরকার।

এবার আবার হালিমা খাতুনের প্রসঙ্গে আসি। হালিমা খাতুন চিকিৎসকের মন্তব্য শুনে কিছুটা আশঙ্কামুক্ত হন। তিনি তাঁর নিয়ে আসা টাকায়ই অস্ত্রোপচারের যাবতীয় খরচ নিষ্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন। এর পরও তাঁর মনে একরকম খুঁত থাকে-নিশ্চয়ই ১৫ হাজার টাকার লেন্সটা হয়তো ভালো। তাঁর পাশের শয্যার ব্যবসায়ী সন্তানের মাকে ওই লেন্স লাগানো হবে। আবার তাঁর অদূরে এক পোশাকশ্রমিকের মায়ের চোখে লাগানো হবে ২০০ টাকার লেন্স।

একই দিনে তাঁদের সবার চোখে লেন্স সংযোজন হয়। একই সার্জন তা করেন। পরের দিন অস্ত্রোপচারকৃত সব রোগীর চক্ষু পরীক্ষার কক্ষে নিয়ে আসা হয়। তালিকা দেখিয়ে রোগীদের দৃষ্টি মাপা হয়। হালিমা দেখলেন তাঁর দৃষ্টি, তাঁর পাশের ব্যবসায়ীর মায়ের দৃষ্টি ও পোশাকশ্রমিকের মায়ের দৃষ্টিতে কোনো পার্থক্য নেই। অর্থাৎ ১৫ হাজার টাকা, দুই হাজার ২০০ টাকা, ২০০ টাকার লেন্সের কার্যকারিতা একই স্তরের।

এবার হালিমা খাতুনের মনে আর দ্বন্দ্ব নেই। তিনি ছুটির কাগজপত্র নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হন। সঙ্গে নিয়ে যান কৃত্রিম লেন্স সম্পর্কে এক রকম ধারণা। মনে মনে সিদ্ধান্ত নেন, তাঁর পরিচিত ছানি রোগীদের এ বার্তাটাই দেবেন যে লেন্সের কার্যকারিতায় দামের পার্থক্যের তেমন কোনো ভূমিকা নেই।

মো· শফিকুল ইসলাম
সহযোগী অধ্যাপক, চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

ছানির অপারেশন কোথায় কত খরচ

ছানির অপারেশন কোথায় কত খরচ
ডা. নাফিসা আবেদীন ঃ ছানির অপারেশন করাতে গেলে এর খরচের কথাটা প্রথমে চলে আসে। প্রয়োজন আর সাধ্যের সমন্বয় ঘটবে কি-না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন অনেকেই। তাই পাঠকের সুবিধার জন্য আমরা ছানির অপারেশনের আনুমানিক একটা খরচ তুলে ধরছি।বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ছানি অপারেশন করাতে লাগে ১ হাজার ৫শ’ টাকা আর ফ্যাকো (সলিড), ৮ হাজার ৫শ’ টাকা এবং ফোল্ডেড ১৭ হাজার টাকা বলে জানান অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিভাগের প্রধান ডা. শরফুদ্দিন আহমেদ।জাতীয় চক্ষু ইনস্টিটিউটে সাধারণ ছানি অপারেশনে ভারতের লেন্স দিয়ে করলে ১ হাজার টাকার মধ্যেই করা সম্ভব। যুক্তরাজ্যের লেন্স দিয়ে করলে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা লাগবে। আর ফ্যাকো করলে লেন্সের দাম দিতে হবে। তবে চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক দীন মোহাম্মদ জানান, সাইট সাইভারস্-এর উদ্যোগে সিয়িং ইন বিলিভিং প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল, মিরপুর বিএনএসবি ও সালাউদ্দিন হাসপাতালে রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছানির অপারেশন করাতে হয়। লায়েন্স চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক সালমা পারভীন জানান, তার হাসপাতালে ছানির অপারেশনের খরচ ৬ হাজার ৫শ’ টাকা আর ফ্যাকো অপারেশন লেন্সভেদে ১১ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ছানির অপারেশনে সাধারণ ওয়ার্ডে নূ্যনতম ৩ হাজার ৫৮৫ টাকা দিয়ে করা যায়। এছাড়া সিট বা কেবিনভেদে এবং লেন্স অনুযায়ী খরচ নির্ধারিত হয়। এখানে দিনে অপারেশন করিয়ে বাড়ি চলে যাওয়ার ব্যবস্থা আছে। ডে ক্যাস সার্জারিতে ফ্যাকোর খরচ ৭ হাজার ৫০৫, ১১ হাজার ৫৫০, ১৫ হাজার ৫৫০, ২৫ হাজার ৫০ টাকা। বারডেমের সহযোগী অধ্যাপক মানস কুমার গোস্বামী জানান, তার হাসপাতালে চোখের অপারেশন অন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চেয়ে অনেক কম, মাত্র ২ হাজার টাকা। ফ্যাকো করতে লেন্সভেদে লাগে ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। তার মতে, বেসরকারি ক্লিনিকে যেখানে ফ্যাকো করতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়, সেখানে বারডেম খুব অল্প খরচেই অপারেশন করছে। তার মতে, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ রোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়েই তো তাদের প্রতিষ্ঠান চালাতে হয়।

বাংলাদেশ ইউ এস এ থেকে বাণিজ্যে সমান চিকিত্সা কামনা

বাংলাদেশ ইউ এস এ থেকে বাণিজ্যে সমান চিকিত্সা কামনা বাংলাদেশ, সব স্বল্পোন্নত দেশ পক্ষে, বিনামূল্যে দায়িত্ব সমান চিকিত্সা চাওয়া কোটামুক্ত (DFQF) বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন হিসেবে মার্কিন বাজারে প্রবেশ করতে সাক্ষাৎ
ওয়াশিংটন ডি.সি. বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান সিনেটর কোরি গার্ডনার.সিনেটর কোরি মালী (কলোরাডো) ফরেন রিলেশনস কমিটির একজন সদস্য এবং কমার্স, বিজ্ঞান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সিনেটের পরিবহন কমিটির. এই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড যেহেতু মার্কিন সিনেটরদের সঙ্গে রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিনের তৃতীয় সভা ছিল ভেরী 20 জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন. এর আগে রাষ্ট্রপতি ভেরী এর নতুন সম্পাদক হিসেবে ধনকুবের উইলবার রস মনোনীত কমার্স অ্যান্ড রবার্ট Lighthizer আন্তর্জাতিক সঙ্গে মোকাবেলা করতে নতুন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির হিসাবে বাণিজ্য. বর্তমানে, শুধুমাত্র 34 স্বল্পোন্নত AGOA অধীনে DFQF বাজার প্রবেশাধিকার (আফ্রিকান গ্রোথ এবং ভোগ সুযোগ অ্যাক্ট) 2000 সালে মার্কিন সরকার কর্তৃক প্রণীত উদ্দেশ্য অর্থনীতির সহায়তা করা সাব সাহারান আফ্রিকা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করার.
AGOA 2025 থেকে আরও 10 বছর জুন 2015 সালে সম্প্রসারণ করা হয়. রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন কলোরাডো সেনেটর অবহিত যা হয় 14 অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বাইরে ইউ এস এ দ্বারা এই DFQF বাজার ব্যবস্থা থেকে বাদ নয়জন এশীয় দেশ
বাংলাদেশ, চার ওশানিক দেশ ও হাইতি. অতএব, তিনি বলেন, এসব দেশে বৈষম্য মনে এবং এইভাবে বিচার এবং ন্যায্য খেলা ভিত্তিতে মার্কিন থেকে সমান চিকিত্সার চাইতে. ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি ব্যবস্থা নামক সব স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য DFQF এক্সেস প্রদান করে ‘সবকিছু কিন্তু অস্ত্র’ (EBA). রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম সেনেটর এ কথা জানান কাউন্টার টেরোরিজম সহযোগিতা, নারী ক্ষমতায়ন ও সহ বাংলাদেশ সরকারের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক. রাষ্ট্রদূত হাইলাইট যে আরো চার মিলিয়ন বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের নারী যারা অর্থনীতিতে অবদান রাখছে সেইসাথে দারিদ্র্য বিমোচন ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ধারণকারী দ্বারা সমাজ. অতএব, তিনি উল্লেখ করেছেন যদি বাংলাদেশ অর্থনীতি তারপর সেখানে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সাহায্যে আরও হত্তয়া পারে আরো নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক পরিবর্তন হয় যার দ্বারা বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে হবে এবং পরিণামে তার নিজস্ব সম্পদ দ্বারা সন্ত্রাস ও সহিংস চরমপন্থা শিকড় আছে.

যে সব কারণে কুল খাবেন…..!!!

আল আমিন, গাংনী ঃ

বড়ই বা কুল আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয় একটা ফল। যদিও এর আদি নিবাস আফ্রিকা, তবু বাংলাদেশে তো বটেই এটি পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় বহুল পরিচিত একটি ফল। মজার ব্যাপার হলো কুল-এর সরাসরি কোনো ইংরেজি নাম নেই!

বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই, সব ধরনের মাটিতে কুল গাছ জন্মে। কুল গাছ ছোট থেকে মাঝারি আকারের ঝাঁকড়া ধরনের বৃক্ষ। কুল গাছ সাধারণত ১২-১৩ মিটার লম্বা হয়। এই গাছ পত্রঝরা স্বভাবের অর্থাত্‍ শীতকালে পাতা ঝরে এবং বসন্তকালে নতুন পাতা গজায়। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে গাছে ফুল আসে এবং ফল ধরে শীতকালে। কাঁচা ফল সবুজ।

তবে পাকলে হলুদ থেকে লাল রং ধারণ করে। কাঁচা ও পাকা দু ধরনের কুল-ই খাওয়া যায়। স্বাদ টক ও টক-মিষ্টি ধরনের। তবে কুল কুল মিষ্টি হয়। কুল শুকিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। কাঁচা ও শুকনো কুল দিয়ে চমত্‍কার চাটনি ও আচার তৈরি করা যায়।

কুলে রয়েছে ব্যাপক পুষ্টিগুণ। প্রতি ১০০ গ্রাম কুল রয়েছে :

 খাদ্যশক্তি- ৭৯ কিলোক্যালরি

 শর্করা- ২০.২৩ গ্রাম

  চর্বি- ০.২ গ্রাম

    আমিষ- ১.২ গ্রাম

    জলীয় অংশ- ৭৭.৮৬ গ্রাম

    ভিটামিন এ- ৪০ আইইউ

    থায়ামিন- ০.০২ মিলিগ্রাম

    রিবোফ্লাভিন ০.০৪ মিলিগ্রাম

    নিয়াসিন ০.৯ মিলিগ্রাম

    ভিটামিন বি৬- ০.০৮১ মিলিগ্রাম

    ভিটামিন সি- ৬৯ মিলিগ্রাম

    ক্যালসিয়াম- ২১ মিলিগ্রাম

    আয়রন- ০.৪৮ মিলিগ্রাম

    ম্যাগনেসিয়াম- ১০ মিলিগ্রাম

    ম্যাংগানিজ- ০.০৮৪ মিলিগ্রাম

    ফসফরাস- ২৩ মিলিগ্রাম

    পটাশিয়াম- ২৫০ মিলিগ্রাম

    সোডিয়াম- ৩ মিলিগ্রাম

    জিংক- ০.০৫ মিলিগ্রাম

পুষ্টিগুণ ছাড়াও কুলয়ের রয়েছে অনেক রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা। যেমন : কুলয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। কুলয়ের ভিটামিন সি ইনফেকশনজনিত রোগ যেমন টনসিলাইটিস, ঠোঁটের কোণে ঘা, জিহ্বাতে ঘা, ঠোঁটের চামড়া উঠে যাওয়া ইত্যাদি দূর করে। কুলয়ের রসকে অ্যান্টি-ক্যান্সার হিসেবে গণ্য করা হয়। এই ফলের রয়েছে ক্যান্সার কোষ, টিউমার কোষ ও লিউকেমিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার অসাধারণ ক্ষমতা। যকৃতের নানা রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে কুল। এই ফল যকৃতের কাজ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। কুল অত্যন্ত চমত্‍কার একটি রক্ত বিশুদ্ধকারক। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কুল খুবই উপকারী ফল।ডায়রিয়া, ক্রমাগত মোটা হয়ে যাওয়া, রক্তশূন্যতা, ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি রোগ খুব দ্রুত সারিয়ে তোলে এই ফল।মৌসুমি জ্বর, সর্দি-কাশিও প্রতিরোধ করে কুল। এছাড়া হজম শক্তি বৃদ্ধি ও খাবারে রুচি বাড়িয়ে তোলে এ ফল।

ক্যান্সার ঠেকাবে দুই ওষুধের মিশ্রণ

সুইজারল্যান্ডের বাসেল ইউনিভার্সিটির একদল বিজ্ঞানীর গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।টাইপ টু ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ওষুধ হিসেবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীদের মেটফরমিন সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ওষুধ রক্তে সুগারের পরিমাণ কম রাখার পাশাপাশি ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও কাজ করে।যদিও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাধারণত যে মাত্রায় মেটফরমিন সেবন করতে বল হয় সেটি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াইয়ে ক্ষেত্রে অনেক কম।বাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল হলের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্সারের বিরুদ্ধে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওষুধ সাইরোসিঙ্গোপিনের  কার্যকারিতাও মেটফরমিনের মত।

গবেষকরা বলেন, যৌথভাবে এ দু’টি ওষুধের ব্যবহার ক্যান্সার কোষগুলোকে আপনা থেকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলতে চালকের ভূমিকা পালন করে।তবে উচ্চমাত্রায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ওষুধ ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতে বাধা দিলেও এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে।মেটফরমিনের ক্যান্সার কোষ বৃদ্ধি ঠেকানোর ক্ষমতা বাড়াতে গবেষকরা এক হাজারের বেশি ওষুধ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। পরীক্ষার পর দেখা গেছে, মেটফরমিনের সঙ্গে যৌথভাবে সাইরোসিঙ্গোপিনের ব্যবহার ক্যান্সার কোষ ধ্বংসে বেশি কার্যকর।বাসেল ইউনিভার্সিটির ডন বেঞ্জামিন বলেন, “উদাহরণ হিসেবে, আমরা লিউকোমিয়া আক্রান্ত রোগীদের শরীর থেকে নমূনা সংগ্রহ করেছিলাম। সেগুলোর উপর মেটফরমিন ও সাইরোসিঙ্গোপিনের ককটেল প্রয়োগ করে দেখেছি, প্রায় সব টিউমার কোষ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আমরা যে মাত্রায় ওষুধ দিয়েছি তা আসলে স্বাভাবিক কোষের জন্য বিষাক্ত ছিল না।”“ওষুধগুলো একচেটিয়াভাবে শুধু ক্যান্সার কোষের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে। লিউকোমিয়ার চিকিৎসায় সুস্থ ব্যক্তির শরীর থেকে নেওয়া রক্তকোষে এটি কোনও প্রভাব ফেলে না।”দ্য জার্নাল সায়েন্স অ্যাডভান্সে এ গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ পায়।

কোন যৌক্তিক কারন ছাড়া দফায় দফায় ওষুধের দাম বৃদ্ধি

ওই কোম্পানি ও ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক বলছেন, তারা এই ‍ওষুধের দাম বাড়াননি।বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ‘তামান্না ফার্মেসিতে’ সোমবার সকালে ভেন্টোলিন ইনহেলার কিনতে যান মাহবুবা হক।তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি এটা ১৭২ টাকায় কিনি। কিন্তু সোমবার সকালে তারা ৪০০ টাকা চাইল। পরে আমি বাংলাদেশে তৈরি করা একই ইনহেলার নিয়ে কিনে আনি।”শুভ আহমেদ নামে ওই ফার্মেসির একজন বিক্রেতা এ বলেন “চাহিদা বাড়লে দাম আরও বাড়তে পারে। পাইকারি বাজার থেকে গায়ে লেখা দামের চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে এটা আমাদের কিনতে হয়।”

শীতের সময়ে শ্বাসকষ্ট এবং অ্যাজমার জন্য ভেন্টোলিন ইনহেলার দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।এই ওষুধের দাম বাড়ানো হয়নি জানিয়ে ই-মেইলে জিএসকের হেড অফ কমিউনিকেশনস রুমানা আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জিএসকে শুধু এটা নিশ্চিত করতে পারে যে, ভেন্টোলিন রেসপিরেটরি সলিউশনের কোম্পানি মূল্য ১৭৩ টাকা ৪২ পয়সা। প্রায় এক দশক ধরেই এই দাম রয়েছে।

“কোনো ফার্মেসি দামে হেরফের করলে তা নিয়ন্ত্রণের এখতিয়ার জিএসকের নেই।”ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মুস্তাফিজুর রহমানও একে ‘অবৈধ’ আখ্যায়িত করেছেন।“না…ওষুধ প্রশাসন ছাড়া কেউ দাম বাড়াতে পারে না। এটা অবৈধ।”এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমাদের মনিটরিং টিম আছে। আমরা এটা দেখব।”বাংলাদেশে আড়াই লাখের বেশি ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রি হয়।“কিন্তু এদের অনেকগুলোরই লাইসেন্স পর্যন্ত নেই,” বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসির অধ্যাপক এবিএম ফারুক। দেশজুড়ে ওষুধ কোম্পানি পরিদর্শনকারী সংসদীয় দলে বিশেষজ্ঞ হিসেবে ছিলেন তিনি।

বাংলাদেশে মুদি দোকানের মতো ওষুধের দোকান বেড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সরকারের তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি কঠোরভাবে ফার্মেসিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।”আইন লংঘনের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।ওষুধের দাম বাড়ানোর জন্য পাইকারদের দোষারোপ করেন অধ্যাপক ফারুক।তিনি বলেন, মিটফোর্ডের পাইকাররা কিছু ওষুধের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এবং দাম বাড়িয়ে নেয়।“এখানে নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে।”সরকার ও কোম্পানিগুলোর এদের তদারক করার মতো যথেষ্ট জনবল নেই বলেও পর্যবেক্ষণ তার।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »