Category: স্বাস্থ্য

হার্টের জন্য যে খাবার গুলি উপকারি

হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারি খাবারের কথা বললে আমাদের সামনে যেসব খাবারের কথা মনে আসে সেগুলো ছাড়াও কিছু খাবার রয়েছে। এসব খাবারের কথা তুলে ধরা হলো এ লেখায়।

শিম
শিমের এ স্বাস্থ্যগত উপকারিতার কথা আগে মানুষ জানত না। সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, শিমের আঁশ ও এর পটাসিয়াম হৃদযন্ত্রের (হার্ট) জন্য খুবই উপকারী। এ ছাড়া শিমে রয়েছে প্রোটিন, যা মাংসের স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করে। এটি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতেও ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন প্রচুর শিম খেতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। খাবারের সঙ্গে তরকারি হিসেবে পরিমিত শিম খেলেও উপকার মিলবে।

আঙুরের জুস
আঙুরের জুসে রয়েছে হৃদপিণ্ডের জন্য বহু উপকারী উপাদান। তবে এটি শতভাগ আঙুরের জুস হতে হবে। অর্থাৎ স্বাদ বাড়ানোর জন্য বাড়তি চিনি কিংবা অন্য কোনো উপাদান মেশানো যাবে না।

ডিম
ডিম পুষ্টিকর খাবার হিসেবে বহুদিন ধরেই পরিচিত। তবে এর কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, ডিম হৃদপিণ্ডের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং উপকারী। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ১৩ ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল। আর একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, প্রতিদিন একটি করে ডিম খেলে তাতে হৃদরোগের আশঙ্কা কমে যায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত।

পেঁপে
বিভিন্ন শাকসবজি খেলে হৃদরোগ থেকে দূরে থাকা যায়। আর এ তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে পেঁপে। গবেষকরা জানান, পেঁপেতে রয়েছে লাইকোপেন। এটি হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। টমেটোর তুলনায় পেঁপেতে রয়েছে প্রায় আড়াই গুণ বেশি লাইকোপেন।

ডার্ক চকোলেট
অনেকেই চকোলেটকে ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করেন। কোকোয়া বার দিয়ে তৈরি ডার্ক চকোলেট টাইপ টু ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করে। ২০১৫ সালের এক গবেষণায় জানা যায়, ডার্ক চকোলেট খাওয়ার পর রক্তচাপ বেশ কমে যায়। আর রক্তচাপ কমলে হৃদরোগও কমে যায়। গবেষকরা বলেন, ডার্ক চকোলেট প্রতিদিন এক থেকে দুই আউন্স পরিমাণ খেলেই উপকার পাওয়া যাবে।

 

ছানি অপারেশনঃ কৃত্রিম লেন্সের দাম ও কার্যকারিতা

ছানি অপারেশনঃ কৃত্রিম লেন্সের দাম ও কার্যকারিতা

হালিমা খাতুন (ছদ্মনাম) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পঞ্চাশের ওপর বয়স। এ বয়সেই তাঁর চোখে ছানি পড়েছে। ফলে ঠিকমতো কাজকর্ম করতে পারেন না। তিনি জেনেছেন ছানি রোগের ভালো চিকিৎসা হচ্ছে আজকাল। আগের মতো আর অপারেশনের পর দুই দিন সটান শুইয়ে রাখা হয় না। এরপর মাস দেড়েক পর মোটা কাচের চশমা ব্যবহার করতেও হয় না। আগে হাজার পাওয়ারের ওপরে, ওই চশমা হারিয়ে গেলে নতুন চশমা না নেওয়া অবধি অচল থাকতে হতো। আজকাল আর এসব নেই। চোখে অস্ত্রোপচার করে কৃত্রিম লেন্স সংযোজন করা হয়। ফলে রোগী অস্ত্রোপচার সম্পন্নের দিন থেকেই দেখতে শুরু করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক দিনের মতো চোখ ঢেকে রাখা হয়, পরের দিন থেকেই দৃষ্টি লাভ! কৃত্রিম লেন্স সংযোজনের দরুন পুরোপুরি দৃষ্টিপ্রাপ্তি সম্ভব। অর্থাৎ তরুণ বয়সের দৃষ্টিশক্তির মতোই দৃষ্টিশক্তি পাওয়া যায়। হালিমা খাতুন এসব জেনেই এসেছেন ছানির অপারেশন করাতে।

হালিমা খাতুন যথারীতি হাসপাতালে ভর্তি হন। অপারেশনের আগের দিন তাঁর চোখের লেন্সের পাওয়ারের মাপ নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে তিনি জেনেছেন, চোখে যে লেন্স সংযোজন করা হয় তা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। লেন্সের প্রকারভেদে মূল্য ২০০ টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। হালিমা বাড়ি থেকে যে টাকা নিয়ে এসেছেন, তাতে ১৫ হাজার টাকার লেন্স সংযোজন সম্ভব নয়। সাধারণভাবেই তাঁর ধারণা, ১৫ হাজার টাকার লেন্স নিশ্চয়ই ২০০ টাকার লেন্সের চেয়ে অনেক ভালো।

তাঁর মনে দ্বিধা জন্মায়। একবার ভাবেন এযাত্রায় অস্ত্রোপচার না করিয়ে বাড়ি গিয়ে ধারদেনা করে টাকা নিয়ে এসে ওই ১৫ হাজার টাকার লেন্সই চোখে লাগাবেন। আবার ভাবেন, বেতনের টাকার বাইরে তেমন তো তাঁর আয় নেই! ধার করা টাকা পরিশোধ করতে বেতনের টাকায় বেশ কমাস লাগবে। কাজেই প্রয়োজন কী? তিনি তাঁর চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন। চিকিৎসক জানান, চোখের ভেতর ঠিকমতো পৌঁছতে পারলে ১৫ হাজার টাকার লেন্স যা করবে, ২০০ টাকার লেন্স তা-ই করবে।
ওপরের ঘটনাটি থেকে বোঝা যায় যে রোগীরা আধুনিক চিকিৎসালয়ে এসে এক ধরনের বিভ্রান্তির শিকার হন। লেন্সের মূল্যের তারতম্যে এ বিভ্রান্তি আসাটাই স্বাভাবিক। এ ছাড়া আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ বিদেশি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের জিনিসের প্রতি দুর্বল। যুক্তরাষ্ট্রের লেন্স নিশ্চয়ই ভারতের লেন্সের চেয়ে ভালো! কাজেই যুক্তরাষ্ট্রের লেন্স লাগাবেন এ ধরনের সিদ্ধান্ত অনেক সময় নিয়ে ফেলেন রোগীরা।

এ ক্ষেত্রে লেন্স সম্পর্কে রোগীদের মনে সৃষ্ট এ বিভ্রান্তি নিরসনে চিকিৎসকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকেরই দায়িত্ব হলো রোগীকে বুঝিয়ে বলা যে লেন্সের মূল্যের তারতম্য লেন্সের কার্যকারিতায় তেমন কোনো ভূমিকা পালন করে না। ২০০ টাকার ভারতীয় লেন্সের সঙ্গে দুই হাজার ২০০ টাকার যুক্তরাষ্ট্রের লেন্সের কার্যকারিতায় কোনো তফাত নেই। লেন্স সংযোজনে কোনো অসুবিধা না হলে উভয় ক্ষেত্রে সমপর্যায়ের দৃষ্টিশক্তি লাভ করা যায়। তবে লেন্স পছন্দের ক্ষেত্রে রোগীর পছন্দের স্বাধীনতা অবশ্যই থাকা দরকার।

এবার আবার হালিমা খাতুনের প্রসঙ্গে আসি। হালিমা খাতুন চিকিৎসকের মন্তব্য শুনে কিছুটা আশঙ্কামুক্ত হন। তিনি তাঁর নিয়ে আসা টাকায়ই অস্ত্রোপচারের যাবতীয় খরচ নিষ্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন। এর পরও তাঁর মনে একরকম খুঁত থাকে-নিশ্চয়ই ১৫ হাজার টাকার লেন্সটা হয়তো ভালো। তাঁর পাশের শয্যার ব্যবসায়ী সন্তানের মাকে ওই লেন্স লাগানো হবে। আবার তাঁর অদূরে এক পোশাকশ্রমিকের মায়ের চোখে লাগানো হবে ২০০ টাকার লেন্স।

একই দিনে তাঁদের সবার চোখে লেন্স সংযোজন হয়। একই সার্জন তা করেন। পরের দিন অস্ত্রোপচারকৃত সব রোগীর চক্ষু পরীক্ষার কক্ষে নিয়ে আসা হয়। তালিকা দেখিয়ে রোগীদের দৃষ্টি মাপা হয়। হালিমা দেখলেন তাঁর দৃষ্টি, তাঁর পাশের ব্যবসায়ীর মায়ের দৃষ্টি ও পোশাকশ্রমিকের মায়ের দৃষ্টিতে কোনো পার্থক্য নেই। অর্থাৎ ১৫ হাজার টাকা, দুই হাজার ২০০ টাকা, ২০০ টাকার লেন্সের কার্যকারিতা একই স্তরের।

এবার হালিমা খাতুনের মনে আর দ্বন্দ্ব নেই। তিনি ছুটির কাগজপত্র নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হন। সঙ্গে নিয়ে যান কৃত্রিম লেন্স সম্পর্কে এক রকম ধারণা। মনে মনে সিদ্ধান্ত নেন, তাঁর পরিচিত ছানি রোগীদের এ বার্তাটাই দেবেন যে লেন্সের কার্যকারিতায় দামের পার্থক্যের তেমন কোনো ভূমিকা নেই।

মো· শফিকুল ইসলাম
সহযোগী অধ্যাপক, চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

ছানির অপারেশন কোথায় কত খরচ

ছানির অপারেশন কোথায় কত খরচ
ডা. নাফিসা আবেদীন ঃ ছানির অপারেশন করাতে গেলে এর খরচের কথাটা প্রথমে চলে আসে। প্রয়োজন আর সাধ্যের সমন্বয় ঘটবে কি-না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন অনেকেই। তাই পাঠকের সুবিধার জন্য আমরা ছানির অপারেশনের আনুমানিক একটা খরচ তুলে ধরছি।বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ছানি অপারেশন করাতে লাগে ১ হাজার ৫শ’ টাকা আর ফ্যাকো (সলিড), ৮ হাজার ৫শ’ টাকা এবং ফোল্ডেড ১৭ হাজার টাকা বলে জানান অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিভাগের প্রধান ডা. শরফুদ্দিন আহমেদ।জাতীয় চক্ষু ইনস্টিটিউটে সাধারণ ছানি অপারেশনে ভারতের লেন্স দিয়ে করলে ১ হাজার টাকার মধ্যেই করা সম্ভব। যুক্তরাজ্যের লেন্স দিয়ে করলে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা লাগবে। আর ফ্যাকো করলে লেন্সের দাম দিতে হবে। তবে চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক দীন মোহাম্মদ জানান, সাইট সাইভারস্-এর উদ্যোগে সিয়িং ইন বিলিভিং প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল, মিরপুর বিএনএসবি ও সালাউদ্দিন হাসপাতালে রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছানির অপারেশন করাতে হয়। লায়েন্স চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক সালমা পারভীন জানান, তার হাসপাতালে ছানির অপারেশনের খরচ ৬ হাজার ৫শ’ টাকা আর ফ্যাকো অপারেশন লেন্সভেদে ১১ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ছানির অপারেশনে সাধারণ ওয়ার্ডে নূ্যনতম ৩ হাজার ৫৮৫ টাকা দিয়ে করা যায়। এছাড়া সিট বা কেবিনভেদে এবং লেন্স অনুযায়ী খরচ নির্ধারিত হয়। এখানে দিনে অপারেশন করিয়ে বাড়ি চলে যাওয়ার ব্যবস্থা আছে। ডে ক্যাস সার্জারিতে ফ্যাকোর খরচ ৭ হাজার ৫০৫, ১১ হাজার ৫৫০, ১৫ হাজার ৫৫০, ২৫ হাজার ৫০ টাকা। বারডেমের সহযোগী অধ্যাপক মানস কুমার গোস্বামী জানান, তার হাসপাতালে চোখের অপারেশন অন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চেয়ে অনেক কম, মাত্র ২ হাজার টাকা। ফ্যাকো করতে লেন্সভেদে লাগে ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। তার মতে, বেসরকারি ক্লিনিকে যেখানে ফ্যাকো করতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়, সেখানে বারডেম খুব অল্প খরচেই অপারেশন করছে। তার মতে, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ রোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়েই তো তাদের প্রতিষ্ঠান চালাতে হয়।

বাংলাদেশ ইউ এস এ থেকে বাণিজ্যে সমান চিকিত্সা কামনা

বাংলাদেশ ইউ এস এ থেকে বাণিজ্যে সমান চিকিত্সা কামনা বাংলাদেশ, সব স্বল্পোন্নত দেশ পক্ষে, বিনামূল্যে দায়িত্ব সমান চিকিত্সা চাওয়া কোটামুক্ত (DFQF) বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন হিসেবে মার্কিন বাজারে প্রবেশ করতে সাক্ষাৎ
ওয়াশিংটন ডি.সি. বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান সিনেটর কোরি গার্ডনার.সিনেটর কোরি মালী (কলোরাডো) ফরেন রিলেশনস কমিটির একজন সদস্য এবং কমার্স, বিজ্ঞান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সিনেটের পরিবহন কমিটির. এই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড যেহেতু মার্কিন সিনেটরদের সঙ্গে রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিনের তৃতীয় সভা ছিল ভেরী 20 জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন. এর আগে রাষ্ট্রপতি ভেরী এর নতুন সম্পাদক হিসেবে ধনকুবের উইলবার রস মনোনীত কমার্স অ্যান্ড রবার্ট Lighthizer আন্তর্জাতিক সঙ্গে মোকাবেলা করতে নতুন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির হিসাবে বাণিজ্য. বর্তমানে, শুধুমাত্র 34 স্বল্পোন্নত AGOA অধীনে DFQF বাজার প্রবেশাধিকার (আফ্রিকান গ্রোথ এবং ভোগ সুযোগ অ্যাক্ট) 2000 সালে মার্কিন সরকার কর্তৃক প্রণীত উদ্দেশ্য অর্থনীতির সহায়তা করা সাব সাহারান আফ্রিকা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করার.
AGOA 2025 থেকে আরও 10 বছর জুন 2015 সালে সম্প্রসারণ করা হয়. রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন কলোরাডো সেনেটর অবহিত যা হয় 14 অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বাইরে ইউ এস এ দ্বারা এই DFQF বাজার ব্যবস্থা থেকে বাদ নয়জন এশীয় দেশ
বাংলাদেশ, চার ওশানিক দেশ ও হাইতি. অতএব, তিনি বলেন, এসব দেশে বৈষম্য মনে এবং এইভাবে বিচার এবং ন্যায্য খেলা ভিত্তিতে মার্কিন থেকে সমান চিকিত্সার চাইতে. ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি ব্যবস্থা নামক সব স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য DFQF এক্সেস প্রদান করে ‘সবকিছু কিন্তু অস্ত্র’ (EBA). রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম সেনেটর এ কথা জানান কাউন্টার টেরোরিজম সহযোগিতা, নারী ক্ষমতায়ন ও সহ বাংলাদেশ সরকারের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক. রাষ্ট্রদূত হাইলাইট যে আরো চার মিলিয়ন বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের নারী যারা অর্থনীতিতে অবদান রাখছে সেইসাথে দারিদ্র্য বিমোচন ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ধারণকারী দ্বারা সমাজ. অতএব, তিনি উল্লেখ করেছেন যদি বাংলাদেশ অর্থনীতি তারপর সেখানে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সাহায্যে আরও হত্তয়া পারে আরো নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক পরিবর্তন হয় যার দ্বারা বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে হবে এবং পরিণামে তার নিজস্ব সম্পদ দ্বারা সন্ত্রাস ও সহিংস চরমপন্থা শিকড় আছে.

যে সব কারণে কুল খাবেন…..!!!

আল আমিন, গাংনী ঃ

বড়ই বা কুল আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয় একটা ফল। যদিও এর আদি নিবাস আফ্রিকা, তবু বাংলাদেশে তো বটেই এটি পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় বহুল পরিচিত একটি ফল। মজার ব্যাপার হলো কুল-এর সরাসরি কোনো ইংরেজি নাম নেই!

বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই, সব ধরনের মাটিতে কুল গাছ জন্মে। কুল গাছ ছোট থেকে মাঝারি আকারের ঝাঁকড়া ধরনের বৃক্ষ। কুল গাছ সাধারণত ১২-১৩ মিটার লম্বা হয়। এই গাছ পত্রঝরা স্বভাবের অর্থাত্‍ শীতকালে পাতা ঝরে এবং বসন্তকালে নতুন পাতা গজায়। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে গাছে ফুল আসে এবং ফল ধরে শীতকালে। কাঁচা ফল সবুজ।

তবে পাকলে হলুদ থেকে লাল রং ধারণ করে। কাঁচা ও পাকা দু ধরনের কুল-ই খাওয়া যায়। স্বাদ টক ও টক-মিষ্টি ধরনের। তবে কুল কুল মিষ্টি হয়। কুল শুকিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। কাঁচা ও শুকনো কুল দিয়ে চমত্‍কার চাটনি ও আচার তৈরি করা যায়।

কুলে রয়েছে ব্যাপক পুষ্টিগুণ। প্রতি ১০০ গ্রাম কুল রয়েছে :

 খাদ্যশক্তি- ৭৯ কিলোক্যালরি

 শর্করা- ২০.২৩ গ্রাম

  চর্বি- ০.২ গ্রাম

    আমিষ- ১.২ গ্রাম

    জলীয় অংশ- ৭৭.৮৬ গ্রাম

    ভিটামিন এ- ৪০ আইইউ

    থায়ামিন- ০.০২ মিলিগ্রাম

    রিবোফ্লাভিন ০.০৪ মিলিগ্রাম

    নিয়াসিন ০.৯ মিলিগ্রাম

    ভিটামিন বি৬- ০.০৮১ মিলিগ্রাম

    ভিটামিন সি- ৬৯ মিলিগ্রাম

    ক্যালসিয়াম- ২১ মিলিগ্রাম

    আয়রন- ০.৪৮ মিলিগ্রাম

    ম্যাগনেসিয়াম- ১০ মিলিগ্রাম

    ম্যাংগানিজ- ০.০৮৪ মিলিগ্রাম

    ফসফরাস- ২৩ মিলিগ্রাম

    পটাশিয়াম- ২৫০ মিলিগ্রাম

    সোডিয়াম- ৩ মিলিগ্রাম

    জিংক- ০.০৫ মিলিগ্রাম

পুষ্টিগুণ ছাড়াও কুলয়ের রয়েছে অনেক রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা। যেমন : কুলয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। কুলয়ের ভিটামিন সি ইনফেকশনজনিত রোগ যেমন টনসিলাইটিস, ঠোঁটের কোণে ঘা, জিহ্বাতে ঘা, ঠোঁটের চামড়া উঠে যাওয়া ইত্যাদি দূর করে। কুলয়ের রসকে অ্যান্টি-ক্যান্সার হিসেবে গণ্য করা হয়। এই ফলের রয়েছে ক্যান্সার কোষ, টিউমার কোষ ও লিউকেমিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার অসাধারণ ক্ষমতা। যকৃতের নানা রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে কুল। এই ফল যকৃতের কাজ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। কুল অত্যন্ত চমত্‍কার একটি রক্ত বিশুদ্ধকারক। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কুল খুবই উপকারী ফল।ডায়রিয়া, ক্রমাগত মোটা হয়ে যাওয়া, রক্তশূন্যতা, ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি রোগ খুব দ্রুত সারিয়ে তোলে এই ফল।মৌসুমি জ্বর, সর্দি-কাশিও প্রতিরোধ করে কুল। এছাড়া হজম শক্তি বৃদ্ধি ও খাবারে রুচি বাড়িয়ে তোলে এ ফল।

ক্যান্সার ঠেকাবে দুই ওষুধের মিশ্রণ

সুইজারল্যান্ডের বাসেল ইউনিভার্সিটির একদল বিজ্ঞানীর গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।টাইপ টু ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ওষুধ হিসেবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীদের মেটফরমিন সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ওষুধ রক্তে সুগারের পরিমাণ কম রাখার পাশাপাশি ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও কাজ করে।যদিও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাধারণত যে মাত্রায় মেটফরমিন সেবন করতে বল হয় সেটি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াইয়ে ক্ষেত্রে অনেক কম।বাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল হলের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্সারের বিরুদ্ধে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওষুধ সাইরোসিঙ্গোপিনের  কার্যকারিতাও মেটফরমিনের মত।

গবেষকরা বলেন, যৌথভাবে এ দু’টি ওষুধের ব্যবহার ক্যান্সার কোষগুলোকে আপনা থেকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলতে চালকের ভূমিকা পালন করে।তবে উচ্চমাত্রায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ওষুধ ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতে বাধা দিলেও এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে।মেটফরমিনের ক্যান্সার কোষ বৃদ্ধি ঠেকানোর ক্ষমতা বাড়াতে গবেষকরা এক হাজারের বেশি ওষুধ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। পরীক্ষার পর দেখা গেছে, মেটফরমিনের সঙ্গে যৌথভাবে সাইরোসিঙ্গোপিনের ব্যবহার ক্যান্সার কোষ ধ্বংসে বেশি কার্যকর।বাসেল ইউনিভার্সিটির ডন বেঞ্জামিন বলেন, “উদাহরণ হিসেবে, আমরা লিউকোমিয়া আক্রান্ত রোগীদের শরীর থেকে নমূনা সংগ্রহ করেছিলাম। সেগুলোর উপর মেটফরমিন ও সাইরোসিঙ্গোপিনের ককটেল প্রয়োগ করে দেখেছি, প্রায় সব টিউমার কোষ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আমরা যে মাত্রায় ওষুধ দিয়েছি তা আসলে স্বাভাবিক কোষের জন্য বিষাক্ত ছিল না।”“ওষুধগুলো একচেটিয়াভাবে শুধু ক্যান্সার কোষের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে। লিউকোমিয়ার চিকিৎসায় সুস্থ ব্যক্তির শরীর থেকে নেওয়া রক্তকোষে এটি কোনও প্রভাব ফেলে না।”দ্য জার্নাল সায়েন্স অ্যাডভান্সে এ গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ পায়।

কোন যৌক্তিক কারন ছাড়া দফায় দফায় ওষুধের দাম বৃদ্ধি

ওই কোম্পানি ও ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক বলছেন, তারা এই ‍ওষুধের দাম বাড়াননি।বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ‘তামান্না ফার্মেসিতে’ সোমবার সকালে ভেন্টোলিন ইনহেলার কিনতে যান মাহবুবা হক।তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি এটা ১৭২ টাকায় কিনি। কিন্তু সোমবার সকালে তারা ৪০০ টাকা চাইল। পরে আমি বাংলাদেশে তৈরি করা একই ইনহেলার নিয়ে কিনে আনি।”শুভ আহমেদ নামে ওই ফার্মেসির একজন বিক্রেতা এ বলেন “চাহিদা বাড়লে দাম আরও বাড়তে পারে। পাইকারি বাজার থেকে গায়ে লেখা দামের চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে এটা আমাদের কিনতে হয়।”

শীতের সময়ে শ্বাসকষ্ট এবং অ্যাজমার জন্য ভেন্টোলিন ইনহেলার দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।এই ওষুধের দাম বাড়ানো হয়নি জানিয়ে ই-মেইলে জিএসকের হেড অফ কমিউনিকেশনস রুমানা আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জিএসকে শুধু এটা নিশ্চিত করতে পারে যে, ভেন্টোলিন রেসপিরেটরি সলিউশনের কোম্পানি মূল্য ১৭৩ টাকা ৪২ পয়সা। প্রায় এক দশক ধরেই এই দাম রয়েছে।

“কোনো ফার্মেসি দামে হেরফের করলে তা নিয়ন্ত্রণের এখতিয়ার জিএসকের নেই।”ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মুস্তাফিজুর রহমানও একে ‘অবৈধ’ আখ্যায়িত করেছেন।“না…ওষুধ প্রশাসন ছাড়া কেউ দাম বাড়াতে পারে না। এটা অবৈধ।”এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমাদের মনিটরিং টিম আছে। আমরা এটা দেখব।”বাংলাদেশে আড়াই লাখের বেশি ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রি হয়।“কিন্তু এদের অনেকগুলোরই লাইসেন্স পর্যন্ত নেই,” বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসির অধ্যাপক এবিএম ফারুক। দেশজুড়ে ওষুধ কোম্পানি পরিদর্শনকারী সংসদীয় দলে বিশেষজ্ঞ হিসেবে ছিলেন তিনি।

বাংলাদেশে মুদি দোকানের মতো ওষুধের দোকান বেড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সরকারের তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি কঠোরভাবে ফার্মেসিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।”আইন লংঘনের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।ওষুধের দাম বাড়ানোর জন্য পাইকারদের দোষারোপ করেন অধ্যাপক ফারুক।তিনি বলেন, মিটফোর্ডের পাইকাররা কিছু ওষুধের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এবং দাম বাড়িয়ে নেয়।“এখানে নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে।”সরকার ও কোম্পানিগুলোর এদের তদারক করার মতো যথেষ্ট জনবল নেই বলেও পর্যবেক্ষণ তার।

বন্ধ হোক চিকিৎসাসেবার নামে বাণিজ্য

রায়হান আহমেদ তপাদার

হাসপাতালে মানুষ রোগমুক্তির স্বপ্ন দেখে,মানব সেবার স্বপ্ন দেখে।হাসপাতাল হলো এমন একটি স্থান যেখানে একজন রোগী সুস্থ হওয়ার স্বপ্ন দেখে,একজন মুমুর্ষ রোগী জীবন ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখে৷ কিন্তু বাংলাদেশের বেলায় বাস্তব সম্পূর্ণ ভিন্ন।ঢাকা শহরে বেক্তিগত মালিকানায় গড়ে উঠা হাসপাতালগুলোতে আদৌ কোনো চিকিত্সা হয় কি?রোগী কি সেখানে এসে কোনো শন্তি বা আস্থা পায়? যে সুস্থ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আগমন তার কি কোনো প্রতিফলন ঘটে? ঢাকা শহর সহ বিভিন্ন বড় বড় শহরে যেভাবে প্রাইভেট হাসপাতালগুলো গড়ে উঠছে তাদের বাস্তব চেহারা সম্পূর্ণ ভিন্ন।১৬ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশে জনসংখা অনুপাতে পরিমানমত সরকারী হাসপাতাল নেই প্রতিটি জেলা উপজেলায়।সরকারী হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিক থাকলেও অবস্থা একেবারে নাই নাইয়ের মতই।কারণ এসকল হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোতে না আছে পরিমানমত ঔষধ না আছে চাহিদা অনুপাতে শয্যার বেবস্থা।তাছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় ডাক্তারও নেই।অনেকে বলেন যেসকল ডাক্তারদের জেলা উপজেলায় পোস্টিংদেওয়া হয়।তাদের অনেকেরই হাসপাতালগুলোতে উপস্থিতি নিয়ম মাফিক নেই।তারা ঢাকা সহ বড় বড় শহরে এসে প্রাইভেট প্রেকটিসে নাকি বেস্ত থাকেন।একদিকে মাসহারা সরকারী বেতন ও স্টেটাস আর অন্যদিকে প্রাইভেট প্রেকটিস এভাবেই সরকারকে ফাকি দিয়ে তারা গড়ে তুলছেন অর্থের পাহাড়।সরকার গ্রামঞ্চলের মানুষের জন্য সহজে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার লক্ষে কমিউনিটি ক্লিনিক বেবস্থা চালু করেছে।বর্তমান সরকারের এই মহান প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ ইতিমধ্যে সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে।সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় পরিদর্শনকালে চিকিত্সকদের উদ্দেস্য করে জনসেবায় নিয়জিত থাকার নির্দেশ প্রধান করেন।কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবে আদৌ কি মানবে তারা?এ টিম বি টিম সমিতির জোরে যে রাজনৈতিক দল যখন ক্ষমতায় আসে তখন তারা হয়ে যায় প্রচন্ড শক্তিশালী।যার কারণে এপর্যন্ত কোনো সরকারী এসকল হাসপাতালগুলো ও চিকিত্সকদের বিরুদ্ধে কোনো বেবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি।  তাছাড়া মন্ত্রী মিনিস্টার নেতা নেত্রীরা অসুস্থ হলে দ্রুত ফ্লাই করেন সিঙ্গাপুর না হয় থাইলেন্ডে।যার ফলে এদিকটায় তাদের নজর নেই।

ক্ষমতাসীনদের অবহেলার সুযোগে এই অমানবিক প্রাইভেট চিকিত্সা কেন্দ্রগুলো দিন দিন কোটি কোটি টাকা কমিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।উন্নয়ন সুষম হলে তা টেকসই হবেদেশজুড়েই চিকিৎসাসেবার নামে চলছে অনৈতিক বাণিজ্য।গ্রাম থেকে শহর সবখানেই দালাল-বাটপারদের রামরাজ্য।টাকার কুমির কতিপয় ডাক্তার খুলে বসেছেন চিকিৎসা সেবার নামে গলাকাটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।অসহায় রোগীরা উপায়ান্তর না পেয়ে জীবন বাঁচাতে এদের খপ্পরে পড়ে খোয়াচ্ছেন সর্বস্ব।কোনো ক্ষেত্রে মারা যাওয়া রোগী নিয়েও চলে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অমানবিক বাণিজ্য।অথচ একজন চিকিৎসক স্বপ্ন নিয়ে নিজেকে গড়ে তোলেন মানবসেবার মহান ব্রত হিসেবে।একটি চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে ওঠে মানুষের কল্যাণে,মানবতার উপকারের জন্যই।চিকিৎসাসেবার নামে ষোলো আনাই বাণিজ্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে অনেক চিকিৎসা কেন্দ্র ও ডাক্তারদের বিষয়ে।হাসপাতালে কর্মরত কমিশনভোগী স্টাফ,নার্স,ওয়ার্ডবয় ও ডাক্তার আর দালালদের কারণে সাধারণ রোগীরা প্রতিনিয়ত হচ্ছে বলির পাঁঠা।ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিকপ্রেমী ডাক্তাররা সরকারি হাসপাতালকে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অঙ্গ-সহযোগী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করেই চলেছেন,অবস্থাদৃষ্টে তাই মনে হচ্ছে।আর বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র তো অনুমোদিত বাণিজ্যালয়।ব্যক্তিগত মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত এসকল হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকটি অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ ও বিবেচ্য বিষয়৷ এবেপারে সরকারকে দ্রুত এগিয়ে আসা উচিত বলে পর্যবেক্ষকমহল মনে করেন।বেক্তিগত মালিকানাধিন হাসপাতালগুলোতে মূলত বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রোগীদের কাছে আকর্ষনীয় করে তুলে ধরার সবরকম বেবস্থা রাখা হয়েছে৷   চাকচিক্যেতার কারণে বেশির ভাগ প্রাইভেট চিকিত্সা প্রতিষ্ঠানে রোগীদের প্রচন্ড ভিড় হয়৷ আমাদের ভুলে গেলে চলবে না,একটি বিপণিকেন্দ্র আর একটি হাসপাতাল এক বিষয় নয়।একটি বিপণিকেন্দ্র শুধুমাত্র বানিজ্যিক দৃষ্টিকনের আলোকে প্রতিষ্ঠিত হয়৷ অন্যদিকে হাসপাতাল হলো মৃত্যু পথযাত্রী রোগী কিংবা অসুস্থ রোগীর জীবন বাচানোর লক্ষে প্রতিষ্ঠিত একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান৷ অথচ সরকারের অবহেলার কারণে এসকল হাসপাতাল গুলোতে চলছে মানুষের জীবন নিয়ে বানিজ্য।না না টালবাহানা করে রোগীদের কাছ থেকে হাতড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে লক্ষলক্ষ টাকা।চিকিৎসার নামে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের সবক্ষেত্রেই চলে বেপরোয়া কমিশন বাণিজ্য।

সেবার নামে চিকিৎসা কেন্দ্র আর চিকিৎসকের বাণিজ্যের প্রতারণা থেকে রোগী বা তাদের স্বজন কারও নিস্তার নেই।আর প্রতিটি ধাপেই চলে শুধু টাকা আদায়ের অনিয়ন্ত্রিত ধান্দাবাজি।চিরচেনা আরেক যন্ত্রণার নাম ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি।অখ্যাত কোম্পানির এসব এসআর’রা ডাক্তারদের মাসিক মাসোহারার বিনিময়ে ওষুধ লিখিয়ে থাকেন।এদের কারণেও ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা,কমছে সেবার মান। চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইনবোর্ডে অর্থোসার্জারি, নিউরোসার্জারি,গাইনি,জেনারেল শিশু সার্জারি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহ অসংখ্য টাইটেলধারী ডাক্তারের বিশাল নামের তালিকা থাকলেও ভেতরে হাসপাতাল নয়,আছে ডাক্তার আর হাসপাতাল নামে ব্যবসায়ীদের কসাইখানা!বিষয়টি নিয়ে এখন সবাইকে ভাবতে হবে, বিশেষ করে সরকারকে।চিকিত্সা সেবার নামে রোগীদের এসির মধ্যে রেখে এসকল প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু বাণিজ্যিক ভাবে একতরফাভাবে লাভবান হচ্ছে।মুলোতপক্ষে এখানে আসা রোগীদের কোনো চিকিত্সা হয় না।সুতরাং এসকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে রোগ নিরাময়ের কেন্দ্র না বলে মৃত্যুকেন্দ্র বলে আখ্যায়িত করা যেতে পারে।  অন্যদিকে বেক্তিগত মালিকানাধীন হাসপাতালগুলোতে সরকারের সরাসরি আদৌ কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে বলে মনে হয় না।চিকিত্সা সেবার কথা চিন্তা করে এক্ষেত্রে সরকার কোনো ভেট রাখেনি।ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপর কোনো নজরদারি করারও সুযোগ নেই।সরকার এসকল হাসপাতালগুলো থেকে শুধুমাত্র টেক্স আদায় করে থাকে।কারণ ভেট দেওয়া মানে রোগীদের খরচ আরো বেড়ে যাওয়া।ফলে ভেট প্রথা না থাকাতে সরকারের নজরদারিও হাতছাড়া হয়ে গেছে।যেভাবে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয় সেভাবে হাসপাতালগুলো সরকারকে টেক্স পরিশোদ করে কি না সন্দেহ রয়েছে বলে পর্যবেক্ষকমহল মনে করেন।সবখানেই একই অবস্থা?হয়তো হ্যাঁ,অথবা না। ব্যতিক্রমও আছে।সঠিক-মানসম্মত চিকিৎসাও অনেক ডাক্তার দিয়ে যাচ্ছেন,নয়তো দেশের রোগীরা সব মৃত্যুর মুখে পতিত হতো।সাধুবাদ ওইসব ভালো ও আদর্শ চিকিৎসা কেন্দ্র এবংচিকিৎসকদের।বেশরিভাগ ক্ষেত্রেই রোগীদের অভিযোগ, ডাক্তাররা সামান্য ঠাণ্ডা জ্বর কাশির জন্যও একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা লিখে দিচ্ছেন। অনেক সময় অপ্রয়োজনেও শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা, হাসপাতালে ভর্তি,ছোট-বড় অপারেশনের মুখোমুখি করিয়ে লাইফ সাপোর্টেও পাঠানো হয় রোগীকে!রোগী ভর্তি করলেই ডাক্তার বা সংশ্লিষ্টদের জন্য ৪০ থেকে ৫০ ভাগ কমিশনের ব্যবস্থা,যা রোগী নামক পাবলিকের পকেট থেকেই।বেসরকারি চিকিৎসা আর চিকিৎসকের বাণিজ্যের সামনে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বেহাল।আবার শহর ছাড়তেও নারাজ অনেক চিকিৎসক। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর অভিযোগ জানানোর জায়গা নেই। কারণ অসহায় জনগণ অসুস্থ হচ্ছেন,চিকিৎসাও নিচ্ছেন ঠেকায় পড়ে।যদি এসব কাজে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা থাকত তবে হয়তো রোগী নামক বলির পাঁঠাদের একটু হলেও স্বস্তিতে বাঁচা হতো।অসাধু ক্লিনিক মালিক, ভুয়া ডাক্তার ও দালাল চক্রের হাত থেকে বাঁচতে চায় আমজনতা।

লেখক ও কলামিষ্ট রায়হান আহমেদ তরফদার্। আই সি ইউ তে এক রাত থাকা মানে আপনার জন্য এক বিরাট অর্থের যোগান দেওয়া।আমার জানা মতে এখানে একজন রোগীকে ভুল ঔষধ দেওয়ার কারণে রোগী একটানা ছয় সাতদিন আই সি ইউতে ঘুমিয়ে ছিলেন।পরবর্তিতে অনুসন্ধান করে জানা যায় ৬৫ বত্সরের উপরের রোগীকে নাকি এই ঔষদ দেওয়া নিষেধ।রোগীর বয়স আশি বত্সরের উপরে হওয়া সত্তেও ভুল ঔষদ দেওয়ার কথা ডাক্তার সহ কর্তৃপক্ষ স্বীকার করলেও এর বিরুদ্ধে কোনো বেবস্থা নেওয়ার উপায় নেই।যা হবার তাতো হয়েই গিয়েছে।ডাক্তারের ভুল হওয়া সত্বেও রোগীকে কয়েকদিন আই সি ইউ তে রাখার কারণে সব কয়টি দিনের বিল পরিশোদ করতে হয়েছে রোগীকে।শুধু তাই নয় এই ভুল ঔষদ খাওয়ানোর কারণে রোগীর স্টোক হয়।যার ফলে তিনি তার সৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলেন এবং কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়।তবুও কিছু করার নেই।জানা যায় এই রোগীর এক রাতের ঔষদের বিল নাকি ধার্য করা হয় ২৬ হাজার টাকা।এভাবে রোগীকে একটানা কয়েকদিন আই সি ইউ তে রাখার পর নিয়ে আসা হয় সি সিউ তে।ডাক্তারদের মতে কেবিনে নিয়ে আসার মতো অবস্থা নাকি রোগীর এখনো হয়নি।অর্থাত আরো কিছু আয় করার পন্থা।এখানে ডাক্তারদের অতিরিক্ত উপার্জনের জন্য অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ থাকে।অনেক সময় প্রয়োজন না হলেও অস্ত্রোপচারেরও শিকার হতে হয় রোগীকে।এসময় রোগী কিংবা আত্বীয় স্বজনের আর কোনো উপায় থাকে না।তারা ডাক্তারদের কোথায় বিশ্বাস করে আপনজনের জীবন রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তাবে রাজি হতে বাধ্য হয়।আমরা চাই,মানুষের মহান সেবক ও বন্ধু চিকিৎসক এবং হাসপাতালগুলো মানবতার উপকারেই কাজে লাগোক,অন্যকিছু নয়।মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্যসেবা পেতে সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও জনসচেতনতা জরুরি।  সময়ের দাবি।বন্ধ হোক চিকিৎসাসেবার নামে সব ধরনের বাণিজ্য।সরকারী মালিকানাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বারডেম হাসপাতালে জরুরি বিভাগ ও রোগীদের জন্য চাহিদা অনুপাতে শয্যার বেবস্থা করলে এসকল হাসপাতাল নামের দানবদের অত্যাচার থেকে রোগীরা কিছুটা হলেও মুক্তি পাবে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন।সরকারকে অতিসত্তর হাসপাতাল গুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ও রেভিনিউ বোর্ডকে এখানে অতিরিক্ত নজরদারির জন্য বেপকভিত্তিতে নিয়জিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে পর্যবেক্ষকমহল মনে করেন।চিকিত্সা ক্ষেত্রে ভেট চালুর মাধ্যমে আয় করা অর্থ দিয়ে সরকারী হাসপাতালগুলো কে আরো উন্নত করার চেষ্টা করতে পারে সরকার।চিকিত্সার নামে এই বানিজ্য বন্ধ করতে হলে ও জনগনকে এধরনের অত্যাচার নিপীড়ন থেকে মুক্ত করতে হলে সরকারের হস্থক্ষেপ জরুরি হয়ে পরেছে।বেক্তিগত মালিকানাধীন হাসপাতালগুলোর উপর আমরা সরকারের সরাসরি দ্রুত হস্তক্ষেপ চাই।

চলছে ডাক্তারদের ফিসের নৈরাজ্য।সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরী

রাজধানীতে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকই এক হাজার টাকা বা তার বেশি নেন রোগী দেখার ফি বাবদ। নামিদামি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যাঁরা বসেন তাঁদের ফি ১২০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ঢাকার বাইরেও অনেক চিকিৎসকই এখন ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত ফি নেন। ফলে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীরা প্রথমেই চিন্তায় পড়ে চিকিৎসকের ফি নিয়ে। ফি বেশি হওয়ায় বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের চিকিৎসকরা নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। তাঁদের ভরসা একমাত্র সরকারি হাসপাতাল। কিন্তু বেশির ভাগ কর্মজীবী মানুষের পক্ষে কাজ ফেলে দিনের বেলা সরকারি হাসপাতালে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের জন্য রোগী দেখার ফির কোনো হার নির্ধারণ করে না দেওয়ায় যে যার খুশিমতো ফি নিয়ে থাকেন বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে চিকিৎসকরাও একাট্টা হয়ে ফি নির্ধারণে আপত্তি তুলছেন। তাঁদের অজুহাত, অন্য পেশার ক্ষেত্রেও তো ফি নির্ধারণ করা নেই।

সরকারেরই স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের মহাপরিচালক আসাদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চিকিৎসা ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হচ্ছে চিকিৎসকের ফি। এটা নির্ধারণ করা খুবই জরুরি। তা না হলে নৈরাজ্য চলতেই থাকবে। এ ক্ষেত্রে ডাক্তারদের ক্যাটাগরি করে তার ভিত্তিতে ফি শ্রেণিবিন্যাস করা যেতে পারে। বিশ্বের বহু দেশে এমন নজির রয়েছে। এটা করতে পারলে রোগীরা উপকৃত হবে। ’

আসাদুল ইসলাম আরো বলেন, চিকিৎসার প্রশ্নে শুরুতেই মানুষ চিন্তায় পড়ে ডাক্তারের ফি নিয়ে। এটা খুবই উদ্বেগজনক। অন্য পেশা আর চিকিৎসাসেবা পেশাকে এক পাল্লায় দেখা যাবে না।

বেশ কিছুদিন ধরে হাঁটু ও কোমরের ব্যথায় ভুগছেন লোকমান হোসেন। তা নিয়েই নিজেকে এক রকম টেনেহিঁচড়ে কাজের প্রয়োজনে ছোটাছুটি করেন। সবাই বলে চিকিৎসক দেখাতে। পরিবারের লোকজনও চাপে রাখে প্রতিদিন। অফিস আর সরকারি হাসপাতালের সময়সূচি এক হওয়ায় সরকারি হাসপাতালে যেতে পারছেন না তিনি। আবার শুক্রবার সরকারি হাসপাতাল থাকে বন্ধ। শুক্রবার সকালে ধানমণ্ডি লেকের পারে হাঁটতে এসে এসব কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন তিনি। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী লোকমান হোসেন নিজেকে সামলে নিয়ে চোখ মুছে বলেন, ‘সমস্যার কথা শুনে সবাই শুধু ডাক্তারের কাছে যাইতে বলে। কিন্তু আজকাল ডাক্তারের কাছে তো খালি হাতে যাওন যায় না। ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা না হয় পরের কথা। শুরুতেই তো নগদ একটা হাজার টাকা দেওয়া লাগে। আর ওই এক হাজার টাকা দিয়া আমার বাসার প্রায় এক সপ্তাহের বাজার চালাইতে পারি অথবা বাচ্চার স্কুলের দুই মাসের বেতন দেওন যায়। তাই ডাক্তারের ফি আর অন্যান্য খরচের কথা চিন্তা করলেই শারীরিক কষ্ট ভোগ করে হলেও মনে হয়, আগে না হয় অন্য খরচ সামাল দেই। ’

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ইকবাল রোডে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান কেয়ার হাসপাতালে প্রসূতি ও বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা করেন অধ্যাপক ডা. পারভীন ফাতেমা। তিনি নতুন রোগীর কাছ থেকে ফি নেন ১২০০ টাকা। দ্বিতীয়বার দেখাতে গেলে নেন ৭০০ টাকা। তাঁর চেম্বারে গিয়ে সব রোগী ও স্বজনকে দেখেই বোঝা যায় তাঁরা ধনী পরিবারের লোক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীকে বলেন, “ডাক্তার ম্যাডাম (পারভীন ফাতেমা) প্রথমেই জানতে চেয়েছেন—‘টাকা আছে তো’। ”

ধানমণ্ডিতে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে বসেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ এহতেশামুল হক। তিনি দিনে দুই দফা (সকাল ও বিকেল) রোগী দেখেন ওই হাসপাতালে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন রোগীর ক্ষেত্রে ডা. এহতেশামুল হকের ফি ১২০০ টাকা এবং এক মাসের মধ্যে পুনরায় গেলে তখন ফি নেওয়া হয় ৮০০ টাকা।

ওই দুই চিকিৎসক ছাড়াও এখন ঢাকার অনেক চিকিৎসকই ফি নেন ১২০০ থেকে ১৬০০ টাকা। আর বেশির ভাগ চিকিৎসকের ফি এক হাজার টাকা।

দক্ষিণ বাড্ডার বাসিন্দা আরসাদ আলী বলেন, ‘দেশের বাইরে অনেক স্থানেই চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু বাংলাদেশের মতো চিকিৎসার নামে ডাক্তারদের ফি নিয়ে এমন বেপরোয়া বাণিজ্য পৃথিবীর আর কোথাও আছে বলে জানা নেই। এখানকার ডাক্তাররা নিজেদের ইচ্ছামতো ফি নির্ধারণ করে থাকেন। সরকার এ ক্ষেত্রে রীতিমতো দেখেও না দেখার ভান করছে। কোনো রকম নিয়ন্ত্রণ নেই। ’ তিনি আরো বলেন, পাশের দেশ ভারতেও ৫০০ টাকার ওপরে কোনো ফি নেই। সরকার সেখানে ডাক্তারদের ফির বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে ব্যর্থই থেকে যাচ্ছে।

ঢাকার বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, কোথাও কোনো ডাক্তারের ভিজিটই এখন ৫০০ টাকার নিচে নেই। বরং ৫০০ থেকে শুরু করে যার যত ইচ্ছা বেশি নিচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তাঁদের প্রশ্রয় দেয়। সাধারণ চেম্বারের বাইরে বড় হাসপাতালের চেম্বারে চিকিৎসকদের ফি আকাশচুম্বী।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, সেবার নামে ডাক্তাররা বেপরোয়া হয়ে মানুষের টাকা কেড়ে নিচ্ছেন। বেশির ভাগ সিনিয়র ডাক্তারই এখন এক হাজার টাকা করে ভিজিট নেন। প্রতিদিন রোগী দেখেন ৪০-৫০ জন করে। কেউ কেউ আরো বেশি রোগীও দেখেন। ফলে দিনে কেবল রোগীর ফি থেকেই তাঁদের আয় হয় ৪০-৫০ হাজার টাকা। এর বাইরে ল্যাবরেটরি, প্যাথলজি, ওষুধ কম্পানি, হাসপাতালের কমিশনসহ নানা মাধ্যমে আসে আরো কয়েক হাজার টাকা। এত টাকার পেছনে ছুটতে গিয়ে তাঁদের নীতিনৈতিকতা কিছুই থাকে না। প্রাইভেট প্র্যাকটিসের আড়ালে তাঁরা এক ধরনের টাকার মেশিনে পরিণত হয়ে উঠছেন। চিকিৎসকদের এই প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় সেবাব্রত বা মানবিকতা বলে কিছুই থাকবে না।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ  বলেন, ডাক্তারদের ফি নির্ধারণ নিয়ে বিভ্রান্তি আছে। বেশির ভাগ ডাক্তারই বলে থাকেন, আইনজীবী, প্রকৌশলী, শিল্পীসহ অন্য পেশার ক্ষেত্রে ফি নির্ধারণের ব্যবস্থা না থাকলে শুধু চিকিৎসকদের বেলায় ফি নির্ধারণের প্রশ্ন আসতে পারে না। তাই বিষয়টি নিয়ে আরো আলোচনা-পর্যালোচনা প্রয়োজন।

মহাপরিচালক বলেন, তবে সরকার সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে এর আওতায় বিশেষ স্কিমের মাধ্যমে দরিদ্র শ্রেণির মানুষের জন্য বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বেশি নজর দিচ্ছে।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকেও চিকিৎসকের ফি নির্ধারণ করার কোনো উদ্যোগ নেই। নতুন প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যসেবা আইনের খসড়ায় কেবল ডাক্তারদের ফি নির্ধারণে সরকার পদক্ষেপ নেবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ওই ফি কত হবে সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি।

 প্রস্তাবিত খসড়া আইনের ১০ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘(১) সরকার সময় সময় গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আদায়যোগ্য চার্জ বা ফিস এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার চার্জ বা ফিস নির্ধারণ করিবে; (২) চিকিৎসকের ফিস বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আদায়যোগ্য চার্জ বা মূল্য বা ফিসের তালিকা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা চেম্বারের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করিতে হইবে; (৩) চিকিৎসাসেবা বাবদ আদায়কৃত চার্জ বা মূল্য বা ফিসের রসিদ সংশ্লিষ্ট সেবাগ্রহীতা বা তাহার অভিভাবক বা তাহার প্রতিনিধিকে প্রদানপূর্বক উক্ত রসিদের অনুলিপি সংরক্ষণ করিতে হইবে। ’

তবে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) নতুন মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এহতেশামুল এক চৌধুরী  বলেন, ‘ডাক্তারদের স্বার্থের প্রশ্ন এলেই অন্য পেশার চেয়ে মহান পেশা হিসেবে চিহ্নিত করে আমাদের মানসিকভাবে কাবু করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অন্য পেশার মানুষরাও তো মানুষকে কোনো না কোনোভাবে সেবার নামে লাখ লাখ বা হাজার হাজার টাকা কামিয়ে নেন, তা নিয়ে তো কথা হয় না। ’ তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘সরকারের উচিত সব পেশার জন্যই ফি নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া। আর ওই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই তখন আমরা চিকিৎসকদের ফির ব্যাপারে পদক্ষেপ নেব। তবে এটাও ঠিক যে কোনো চিকিৎসক যেন ফি আদায়ে বেপরোয়া হয়ে না ওঠেন। ’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও গণস্বাস্থ্য সংস্থার কর্ণধার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও একই সুরে বলেন, চিকিৎসকদের ফি নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে না। কারণ অন্য পেশায় অনেক বেশি ফি নেওয়া হয়। সেগুলো নির্ধারণের বিষয়ে তো কোনো পদক্ষেপ নেই। তিনি অবশ্য বলেন, ‘ডাক্তাররা ফি যেটাই নেন না কেন চিকিৎসাটা যেন ঠিকমতো দেন সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। সেই সঙ্গে ডাক্তারদের কমিশন বাণিজ্য এবং চিকিৎসার নামে নানা রকম প্রতারণা বন্ধ করতে সরকারের আরো দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার আছে। ’ বিএমএর সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান কালের কণ্ঠকে বলেন, ফি নিয়ন্ত্রণে এর আগে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ফলপ্রসূ করা যায়নি। তা ছাড়া অন্য পেশাজীবীরাও যে যার মতো ফি নিচ্ছেন। তাই কেবল ডাক্তারদের ফি নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলে সেটা পেশাগত বৈষম্য তৈরি করতে পারে। ডা. আর্সনাল বলেন, ‘তবে আমরা ডাক্তাররা যেহেতু অন্য যেকোনো পেশাজীবীদের চেয়ে আলাদা বা মানুষের জীবন-মরণের সেবামূলক ব্রত নিয়ে এ পেশায় এসেছি, তাই এ ক্ষেত্রে নিজেদেরই আরো সচেতন ও নীতি-আদর্শ মেনে চলা উচিত। ’

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) রেজিস্ট্রার ডা. জাহিদুল হক বসুনিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ক্ষেত্রে কোনো ফি নির্ধারণ হয়নি। এ ক্ষেত্রে আইন বা নীতিও নেই। নেই কোনো গাইডলাইনও। বহু আগে একবার ডাক্তারদের ফি নির্ধারণে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আর এগোয়নি।

ডায়াবেটিস কি? ধরন, লক্ষণাদি, রক্তে সুগারের মাত্রা কেন নিয়ন্ত্রন করতে হবে, প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ, নিয়ন্ত্রণে না এলে করণীয়ঃ

ডায়াবেটিস – যা বাংলাতে বহুমূত্র রোগ নামে পরিচিত তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে সমাজের প্রতিটি স্তরে। ডায়াবেটিসের জন্য দেখা দেয় নানা ধরনের সমস্যা , আর এই রোগটি অন্যান্য রোগ থেকে ভিন্ন ধরনের –

কেন এই ভিন্নতা??
খেয়াল করে দেখুন আগের বেশির ভাগ রোগই হত কোন না কোন organism দ্বারা আক্রমনের জন্য। ফলে, এন্টি ব্যাক্টেরিয়াল কিংবা এন্টি ফাংগাল ঔষধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যেত। কিন্তু, ডায়াবেটিসের জন্য এমন কোন Organism নেই, বরং বলা হয়, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, কায়িক শ্রম কমে যাওয়া, দুশ্চিন্তা বেড়ে যাওয়া – সব মিলিয়ে ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ডায়াবেটিস কি?
দেহযন্ত্র অগ্ন্যাশয় যদি যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা শরীর যদি উৎপন্ন ইনসুলিন ব্যবহারে ব্যর্থ হয়, তাহলে যে রোগ হয় তা হলো ডায়াবেটিস বা বহুমুত্র রোগ। তখন রক্তে চিনি বা শকর্রার উপস্থিতিজনিত অসামঞ্জস্য দেখা দেয়। ইনসুলিনের ঘাটতিই হলো এ রোগের মূল কথা। অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হরমোন ইনসুলিন, যার সহায়তায় দেহের কোষগুলো রক্ত থেকে গ্লুকোজকে নিতে সমর্থ হয় এবং একে শক্তির জন্য ব্যবহার করতে পারে। ইনসুলিন উৎপাদন বা ইনসুলিনের কাজ করার ক্ষমতা-এর যেকোনো একটি বা দুটোই যদি না হয়, তাহলে রক্তে বাড়তে থাকে গ্লুকোজ। আর একে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ঘটে নানা রকম জটিলতা, দেহের টিস্যু ও যন্ত্র বিকল হতে থাকে।

ধরন:
ডায়াবেটিস প্রধানত ২ ধরনের –
১) টাইপ ১ ডায়াবেটিস – (Insulin Dependent Diabetes , Juvenile Diabetes)
২) টাইপ ২ ডায়াবেটিস (Insulin Non Dependent Diabetes, Adult Onset Diabetes)

১) টাইপ ১ ডায়াবেটিস – (Insulin Dependent Diabetes , Juvenile Diabetes)
নাম দেখেই বুঝা যাচ্ছে যে টাইপ ১ ডায়াবেটিস সাধারনত ছোট বয়সেই দেখা দেয় এবং প্রত্যহ ইনসুলিন গ্রহন ব্যাতিরেকে এর কোন চিকিৎসা নেই। (যত দিন বেঁচে থাকবে, ইনসুলিন নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে)
২) টাইপ ২ ডায়াবেটিস (Insulin Non Dependent Diabetes, Adult Onset Diabetes)
টাইপ ২ ডায়াবেটিস বলতে ই আমরা সাধারনত ডায়াবেটিসকে বুঝাই, যার সূচনা ঘটে ৪০ বছর পরবর্তি সময়ে। এবং এই ডায়াবেটিস ই বংশ পরম্পরায় ছড়িয়ে পড়ে। এর চিকিৎসার জন্য রয়েছে নানা ধরনের ঔষধ, যার ভেতর রয়েছে Oral Hypoglysemic Agents – Metformin, Glipizide, Repaglinide etc এই ঔষধ গুলো মুখে খাওয়ার জন্য, এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ি খেতে হয়।

টাইপ ২ ডায়াবেটিস এর আরেকটি ঔষধ হচ্ছে INSULIN – যখন উপরোক্ত ঔষধ গুলো আর কাজ করে না কিংবা liver diseases অথবা Surgery এর সময় এ Insulin দেয়া হয়।

আর টাইপ ২ ডায়াবেটিস এ সব সময় রোগীকে বলা হয় প্রত্যহ ব্যায়াম করার জন্য।

প্রশ্ন করা যেতে পারে কতটুকু ব্যায়াম ??

সবার শারীরীক ক্ষমতা তো আর সমান নয়, তাই, ব্যায়াম ও সবার সমান নয়, তবে যেই পরিমান ব্যায়াম করলে বুক ধড়ফড় করবে ততটুকু ব্যায়াম করা যেতে পারে – তার অধিক নয়!!
শৃক্ষলা মেনে চললে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব!!!

সাধারণ লক্ষণাদি:
১। ঘন ঘন প্রস্রাব। এ কারণে এ রোগটির নাম বহুমূত্র রোগ ;
২। অধিক তৃষ্ণা এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়া ;
৩। অতিশয় দুর্বলতা ;
৪।সার্বক্ষণিক ক্ষুধা ;
৫।স্বল্প সময়ে দেহের ওজন হ্রাস ;
৬।চোখে ঝাপসা দেখা। ;
৭।ঘন ঘন সংক্রমণ।
৮।ত্বক চুলকানি;
৯।দূর্বল আর ক্লান্ত অনুভব করা;
১০।পা অবশ বা ঝিন ঝিন করা;
১১।কাটা বা ঘা হলে ধীরে ধীরে সারা;
১২।ত্বকে ইনফেকসান।

রক্তে সুগারের মাত্রা কেন নিয়ন্ত্রন করতে হবেঃ

অধিক সময়ের জন্য রক্তে হাই গ্লুকোস টকসিক৷
সময়ের সাথে সাথে রক্তের হাই গ্লুকোস ব্লাড ভেসেলগুলির ক্ষতি করে, মূত্রাসয়, চোখ, নার্ভ এর ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা থাকে এবং শরীরের প্রমুখ অঙ্গগুলির চিরতরের জন্য অকেজো হয়ে যেতে পারে৷
নিউরেপ্যাথি নার্ভের রোগ হলে পা অথবা অন্য অঙ্গগুলি অবশ হতে পারে৷ আর্টেরিওসিরোলিসিস ব্লাড ভেসেল এর রোগ যার কারণে হার্টঅ্যাটাক, স্ট্রোক, রক্ত সঞ্চালনের অসুখ হতে পারে৷
চোখের সমস্যা হতে পারে যাতে ব্লাড ভেসেল ড্যামেজ হতে পারে যাকে বলে রেটিনোপ্যাথি, চোখের প্রেসারের সমস্যা যার নাম গ্লুকোমা এবং চোখের মনির চারপাশে ঘোলাটে হয়ে যাওয়া যার নাম ক্যাটারাক্ট(চোখে ছানি পরা)৷
নেফরোপ্যাথি মূত্রাশয়ের (কিডনি)রোগ যার ফলে কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ আলাদা করতে পারে না৷ হাইপারটেনসান, হাই ব্লাড প্রেসার যার ফলে হৃতপিণ্ড রক্ত সঞ্চালন করার জন্য স্বাভাবিকের থেকে অনেক জোরে জোরে কাজ করে৷

প্রতিরোধ, কীভাবে?
ডায়াবেটিস রোগে প্রতিরোধ বলতে সুস্পষ্টভাবে তিন ধরনের বা তিনটি ধাপে প্রতিরোধ করার কথা বলা হয়। প্রথমটি হচ্ছে প্রাথমিক প্রতিরোধ বা প্রাইমারি প্রিভেনশন। অর্থাৎ রোগ হওয়ার আগেই একে প্রতিরোধ করা। রোগটি আদতে না হতে দেওয়া। এ জন্য চাই সামাজিক সচেতনতা। ছোটবেলা থেকেই সবুজ শাকসবজি, মাছ ও কম চর্বি-শর্করাযুক্ত খাদ্য গ্রহণে সবাইকে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। অধিক ক্যালরিযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড, কোমল পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার, চকলেট, আইসক্রিম ইত্যাদি পরিহার করতে হবে। ধূমপানের বিরুদ্ধে যেমন গণসচেতনতা গড়ে উঠেছে, তেমনিভাবে মন্দ খাদ্যাভ্যাসের বিরুদ্ধেও সচেতনতা গড়ে তোলা দরকার। শিশু, কিশোর ও বয়স্ক—সবার মধ্যেই কায়িক শ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। খেলার মাঠ ছাড়া কোনো স্কুল-কলেজ থাকতে পারবে না। পাড়ায় পাড়ায় চাই পার্ক বা খোলা জায়গা, চাই হাঁটার উপযোগী ফুটপাত, সর্বোপরি নিরাপদে হাঁটার পরিবেশ। এই সচেতনতা গড়ে তুলতে পাঠ্যপুস্তকে সঠিক জীবনাচরণ সম্পর্কে তথ্য অন্তর্ভুক্তি, মিডিয়ার ব্যবহার, শিক্ষক-ধর্মীয় নেতা-সামাজিক নেতাদের প্রশিক্ষণ, সমাজকর্মীদের সচেতন করে তোলা, সচেতনতা ক্যাম্প ইত্যাদির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রতিরোধের দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রদান। রোগের লক্ষণ ও ঝুঁকি সম্পর্কে অবগতি, কখন কেন রক্তের চিনি পরীক্ষা করা জরুরি, শনাক্তকরণ পরীক্ষার সহজলভ্যতা ও ব্যয় সংকোচন—এই বিষয়গুলো সেকেন্ডারি প্রিভেনশনের আওতায় পড়ে।
চল্লিশ-পরবর্তী সব নাগরিকের অন্তত তিন বছর পরপর ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা জরুরি। স্থূলতা, পারিবারিক ইতিহাস ইত্যাদি ঝুঁকি থেকে থাকলে বছরে একবার। গর্ভবতী হওয়ার পর অবশ্যই প্রতিবার ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে হবে। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করলে অনেক জটিলতাই এড়ানো সম্ভব। তৃতীয় ধাপে আছে যাদের ইতিমধ্যে জটিলতা দেখা দিয়েছে তাদের সঠিক চিকিৎসা দেওয়া ও আরও জটিলতা এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। ডায়াবেটিস নীরবে রোগীর চোখ, রক্তনালি, হার্ট, কিডনি, স্নায়ুতন্ত্র ও পদযুগলের ভয়ানক ক্ষতি করে থাকে। জটিল রোগীদের সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত করা ও পুনর্বাসন করাও ডায়াবেটিস চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আসুন, সবাই মিলে কাজ করি। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও চিকিৎসা একটি সমন্বিত, সামাজিক পদক্ষেপ। সরকার, চিকিৎসক, কোনো প্রতিষ্ঠান বা কারও একার পক্ষে কখনো এই বিপুল কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। সমাজের প্রতি স্তরে, পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যন্ত—সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে একে প্রতিরোধ করার জন্য। আসুন, একটি সুস্থ, কর্মোদ্যম ও প্রাণবন্ত জাতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাই মিলে এই নীরব ঘাতকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ:

ডায়াবেটিস স্বল্পকালীন চিকিৎসায় পুরোপুরি সেরে যাওয়ার মত অসুখ নয়। এটিকে সারা জীবন ধরে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের নানাবিধ কার্যকরী ব্যবস্থা রয়েছে। ওষুধ ছাড়া নিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণ এবং শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামই কখনও কখনও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট।
যে কয়টি অসুখ মানুষের দীর্ঘমেয়াদী ভোগান্তীর সৃষ্টি করে তার মধ্যে ডায়াবেটিস অন্যতম। সারা বিশ্বেই ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইনসুলিন নামক হরমোনের অভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে ডায়াবেটিস-এর উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। ইনসুলিনের অভাব হলে শরীরে শর্করা, আমিষ এবং চর্বিজাতীয় খাবারের বিপাক যথাযথভাবে সংঘটিত হতে পারে না। এতে শরীরে পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট-এর স্বাভাবিক সমতাও বিনষ্ট হয়। দীর্ঘমেয়াদী অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস শরীরের প্রায় প্রতিটি তন্ত্রকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে কিডনী, হ্নৎপিন্ড, চোখ, কান, ত্বক, স্নায়ুতন্ত্র, অস্থিসন্ধি এবং প্রজননতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যহত করে থাকে। ডায়াবেটিস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। কখনও কখনও স্ট্রোক, অন্ধত্ব অঙ্গহানি কিংবা মৃত্যুর মত মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করে।

সংক্রামক রোগের মত ডায়াবেটিস-এর সুনিদিষ্ট কোন কারণ জানা যায়নি। তবে বংশগতি বা পারিবারিক প্রবণতা, পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়স, অধিক মাত্রায় খাদ্যগ্রহণ, মুটিয়ে যাওয়া, রক্তে ক্ষতিকর চর্বি বেড়ে যাওয়া, গর্ভাবস্থা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, বিষণ্নতা, কম শারীরিক পরিশ্রম তথা সার্বিক জীবন-যাপনের ধরনের সঙ্গে ডায়াবেটিস-এর নিবীড় যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। পূর্বে উল্লিখিত বিষয়গুলো ডায়াবেটিস-এর ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়, বিশেষ করে ওজন বেড়ে যাওয়াকে ডায়াবেটিস-এর অন্যতম প্রাথমিক কারণ হিসেবে ধরা হয়। তাই জীবন যাপনের ধরন পরিবর্তনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ডায়াবেটিস-এর চিকিৎসা ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদী যা বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের একটি পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে চিকিৎসার পাশাপাশি এর প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অধিকমাত্রায় ক্লান্তি বোধ করা ডায়বেটিসের সাধারণ উপসর্গ। কখনও কখনও ডায়াবেটিস থাকা সত্ত্বেও এসব উপসর্গ অনুপস্থিত থাকতে পারে। কারও ডায়বেটিস-এর লক্ষণ থাকলে কিংবা নিকট আত্মীয়দের মধ্যে কারও ডায়াবেটিস থাকলে রেজিষ্টারড চিকিৎসকের পরামর্শ মত ডায়াবেটিস নির্ণয়ের ল্যাবরেটরী পরীক্ষা করতে হবে। এতে আগেভাগে ডায়াবেটিস নির্ণয় করে এবং নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে ডায়াবেটিস-এর মারাত্মক সব জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে। ডায়াবেটিস-এর কারণ, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। কার্যকর স্বাস্থ্যশিক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিস-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদেরকে স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ তথা সুশৃঙ্খল জীবন-যাপনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। প্রতি বছর ২৮শে ফেব্রুয়ারি “জাতীয় ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস” হিসেবে পালিত হয়। এ দিবসটির উদ্দেশ্য হচ্ছে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সকলের সচেতনতা বৃদ্ধি করে এর প্রতিরোধ এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বাস্তবায়ন করা।

ডায়াবেটিস স্বল্পকালীন চিকিৎসায় পুরোপুরি সেরে যাওয়ার মত অসুখ নয়। এটিকে সারা জীবন ধরে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের নানাবিধ কার্যকরী ব্যবস্থা রয়েছে। ওষুধ ছাড়া নিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণ এবং শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামই কখনও কখনও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট। এর সাথে কারও কারও মুখে খাওয়ার ওষুধ-এর প্রয়োজন হয়। কারও আবার প্রয়োজন হয় ইনসুলিন ইনজেকশনের। তবে সকল ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রিত এবং সুশৃঙ্খল জীবন যাপন আবশ্যক। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে এবং ডায়াবেটিস-এর জটিলতামুক্ত সুন্দর জীবনের অধিকারী হতে নিচের টিপসগুলো মেনে চলা প্রয়োজনঃ

১• আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত সুষম খাবার গ্রহণ করুন।

২• অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিজাতীয় খাবার যথাসম্ভব পরিহার করুন। প্রতিদিন কিছু পরিমাণ শাক-সবজি ও ফলমূল খান।

৩• ফাস্ট-ফুড এবং কোল্ড-ড্রিংক্‌স পরিহার করুন। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করুন।

৪• বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে পরিবেশিত রিচ ফুড যথাসম্ভব পরিহার করুন।

৫• ওজন নিয়ন্ত্রণের চমৎকার একটি উপায় হচ্ছে হাঁটা। তাই কম দূরত্বের জায়গাগুলোতে হেঁটে চলাচল করুন।

৬• লিফ্‌ট-এর বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।

৭• একটানা অধিক সময় বসে কাজ করবেন না। কাজের ফাঁকে উঠে দাঁড়ান। একটু পাঁয়চারি করুন।

৮• অলসতা দূর করতে সংসারের টুকিটাকি কাজ নিজেই করুন। সুযোগ থাকলে বাগান করুন, খেলাধুলা করুন। সাঁতার কাটুন।

৯• সপ্তাহে তিন/চার দিন কিছু সময় ফ্রি-হ্যান্ড (যন্ত্র ছাড়া) ব্যায়াম করুন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী আপনার উপযুক্ত ব্যায়াম নির্বাচন করুন। কারণ সব ব্যায়াম সবার জন্য উপযুক্ত নয়। ব্যায়াম করছেন এ ধারণা মাথায় রেখে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করবেন না।

১০• কোমড়ে চওড়া বেল্ট ব্যবহার করতে পারেন। এতে মেদ দ্রুত বাড়তে পারবে না।

১১• প্রচলিত বিজ্ঞাপনের চমকে আকৃষ্ট হয়ে দ্রুত চিকন হওয়ার ওষুধ বা যন্ত্র ব্যবহার করতে যাবেন না। এতে আপনার অমঙ্গলের আশংকাই বেশী।

১২• প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শমত আপনার মুটিয়ে যাওয়ার মাত্রা নির্ণয় করে বয়সানুসারে সুষম খাদ্যের তালিকা তৈরী করুন।

১৩• ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শমত চিকিৎসা গ্রহণ করুন। ওষুধ, ব্যায়াম, খাদ্যগ্রহণ তথা সার্বিক জীবনযাপন সংক্রান্ত তার সুনির্দিষ্ট এবং বিজ্ঞানসম্মত নির্দেশনা (যা শুধুমাত্র আপনার জন্য প্রযোজ্য) মেনে চলুন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না এলে করণীয়:

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না! ডাক্তারের পরামর্শমত নিয়মিত ওষুধ সেবন করছি, ইনসুলিনও নিচ্ছি তার ওপর মুটিয়ে যাচ্ছি, কী করব? এ ধরনের প্রশ্ন অনেক রোগীর। কিন্তু তাদের মনে রাখা দরকার, এর পাশাপাশি খুব সহজ একটা কাজ করার আছে, সেটা হলো হাঁটা। প্রতিদিন এক ঘণ্টা (ষাট মিনিট) জোরে জোরে হাঁটা এবং অন্তত দুই মাইল হাঁটবেন। হাঁটার কোনো সময় নেই তবে সকাল অথবা বিকাল, যখন সূর্যের আলোর প্রখরতা কম থাকে তখনই হাঁটার সবচেয়ে ভালো সময়। সুতরাং যখনই হাঁটুন, যতবার হাঁটুন—দুই মাইল হাঁটতে হবে এবং এতে বেশ ভালো ফল পাওয়া যাবে। গবেষকদের মতে, যারা নিয়মিত অন্তত দুই মাইল হাঁটে তাদের বডি মাস ইনডেক্স (ইগও) কমে, শরীরের ওজন কমে শরীরটা হালকা লাগে, তলপেটের মেদ কমে এবং উন্নত হয় ইনসুলিনের প্রতি দেহকোষের সংবেদনশীলতা। সর্বোপরি কমে যায় ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত শরীরের অন্যান্য ঝুঁকি। তাছাড়া একজন সুস্থ মানুষ প্রতিদিন দুই মাইল হাঁটলে ডায়াবেটিস রোগ হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে এবং এর প্রতিরোধও সম্ভব।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মেথি একটি গুরুত্ববহ প্রাকৃতিক পথ্য। মেথিকে মসলা, খাবার ও পথ্য তিনটিই বলা চলে। মেথি স্বাদে তিতা হলেও এতে রয়েছে রক্তে সুগার বা শর্করা নিয়ন্ত্রণের বিস্ময়কর শক্তি। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক চামচ চিনি চিবিয়ে খেলে বা এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানি সকালে খালি পেটে পান করলে শরীরের রোগ জীবাণু মরে, রক্তে শর্করার মাত্রা কমে, রক্তের ক্ষতিকর চর্বির (কোলেস্টেরল) মাত্রা কমে, শরীরে কৃমি থাকলে মারা যায়, গরম জনিত ত্বকের অসুখাদি দূর হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সকালে মেথি খান তাদের ডায়াবেটিস জনিত অন্যান্য অসুখ কম হয়, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং স্ট্রোক হওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম থাকে। সুতরাং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মেথি হলো শ্রেষ্ঠ পথ্য তবে তার সঙ্গে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্যাবলেট বা ইনসুলিন সঠিকভাবে ব্যবহার অব্যাহত রাখতে হবে। যাদের ডায়াবেটিস নেই তাদের জন্যও মেথি উপকারী, যেমন— মাতৃদুগ্ধ বৃদ্ধির জন্য, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য, শরীরকে সতেজ রাখার জন্য, রক্তের উপাদানগুলোকে বেশি মাত্রায় কর্মক্ষম করার জন্য মেথি অত্যন্ত উপকারী। বার্ধক্যকে দূরে ঠেলে তারুণ্যকে দীর্ঘস্থায়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে মেথি। নানাবিধ গুণসম্পন্ন এই মেথি আজ থেকেই হোক আমাদের সবার গুরুত্বপূর্ণ খাবার।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »