Category: স্পোর্টস

চিলাহাটিতে দেলোয়ার স্মৃতি কাপ ব্যাটমিন্টন ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

আপেল বসুনীয়া, নীলফামারী প্রতিনিধি ঃ
নীলফামারী জেলার চিলাহাটির বোতলগঞ্জ বাজারে দোকানদার সমিতি কর্তৃক আযোজিত ব্যাটমিন্টন প্রতিযোগীতার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার রাতে বোতলগঞ্জ বাজারে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় শ্রাবনী ট্রের্ডাস লিখন কম্পিউটারকে ২-১ সেটে হারায়। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ উপ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক সরকার ফারহানা আখতার সুমি প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে খেলোয়ারদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন ২নং কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য আবু তারেক,সমাজ সেবক হাসিবুল আলম প্রামাণীক রিজু,আশেকুর রহমান,আব্দুর রাজ্জাক ডাকুয়া প্রমূখ্য।

বাংলাদেশ-লংকা ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের চোখ থাকবে জয় দিয়ে র‌্যাঙ্কিং য়ে নিজেদের উন্নতি করার।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শনিবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এর আগে মাশরাফি বিন মুতর্জার দল সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। যেখানে তারা সিরিজই হারেনি হয়েছে হোয়াইটওয়াশও। সেবারও টাইগারদের সামনে সুযোগ ছিল র‌্যাঙ্কিংয়ে ছয়ে ওঠার। এবার লঙ্কার বিপক্ষেও সেই সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে। তাই এই সিরিজে বাংলাদেশের চোখ থাকবে জয় দিয়ে র‌্যাঙ্কিং য়ে নিজেদের উন্নতি করার। বর্তমানে বাংলাদেশ ৯১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে সাতে অবস্থান করছে। অন্যদিকে র‌্যাঙ্কিংয়ের ছয়ে থাকা শ্রীলঙ্কার রেটিং পয়েন্ট ৯৮। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে লঙ্কানদের হোয়াইটওয়াশ করতে পারলে র‌্যাঙ্কিংয়ে দু’দলের রেটিং হবে সমান ৯৬ পয়েন্ট। তবে পয়েন্টের ভগ্নাংশের হিসেবে এগিয়ে থাকবে টাইগাররা। সেই হিসেবে লঙ্কাকে পিছনে ফেলে র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি ঘটবে বাংলাদেশের। বিশেষ করে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে এখন থেকেই বাংলাদেশ দলকে প্রতিটি সিরিজেই চোখ রাখতে হবে র‌্যাঙ্কিংয়ের দিকেই।
ডামবুলাতে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ থেকেই জয়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে সাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। কারণ সিরিজে হেরে গেলে তাদের পয়েন্ট পাওয়ার পরিবর্তে হারানোর ভয়টাও কম নয়। ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানধারী দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্ট ১১৯। এক রেটিং পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে প্রোটিয়াদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে অস্ট্রেলিয়া। ১১৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে অবস্থান করছে নিউজিল্যান্ড। এক পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে ভারতের অবস্থান চারে। আর ১০৮ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে রয়েছে ইংল্যান্ড। ৯৮ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলঙ্কার অবস্থান এখন ছয় নম্বরে। স্বাগতিক লঙ্কানদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিততে পারলেও রেটিং পয়েন্টে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে মাশরাফিদের। যেখানে বাংলাদেশের দুই রেটিং বাড়বে সেখানে এক রেটিং পয়েন্ট হারাবে উপল থারাঙ্গার দল। তখন দু’দলের রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান কমে আসবে। বাংলাদেশের চেয়ে দুই পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের অষ্টম স্থানে পাকিস্তান। ৮৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে নয় নম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
অবশ্য এরই মধ্যে সাতে থেকে বাংলাদেশ দল জুনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা নিশ্চিত করেছে। তবে ইংল্যান্ডে হবে ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সেখানে সরাসরি খেলতে হলে অবশ্যই টাইগারদের ৮শ স্থান ধরে রাখতে হবে। যে কারণে সামনের প্রতিটি ওয়ানডে ম্যাচই হবে বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ড্র করে দারুণ ফর্মে আছে তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসানরা। গতকাল লঙ্কার বিপক্ষে তারা খেলেছে সিরিজের এক মাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটি। সুযোগ পেয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে শক্তিশালী লঙ্কানরা ৩৫৪ রানের বড় এক লক্ষ্য ছুড়ে দেয়। কিন্তু জবাব দিতে নেমে সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমান ঝড় তুলে আউট হলেও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার ঝড়ো ফিফটি দলকে জয়ের পথ দেখায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২ উইকেট হাতে থাকতে হেরে যায় মাত্র ২ রানের জন্য। কিন্তু এই বিধ্বংসী ব্যাটিং ও শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করার ইচ্ছা থেকে বোঝা যায় দল ওয়ানডে সিরিজ জয়ের জন্য কতটা মুখিয়ে আছে। ২৫শে মার্চ প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দু’দল। রাঙ্গিরি ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায়। একই মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচ ২৮শে মার্চ। এরপর সিরিজের শেষ ও তৃতীয় ম্যাচটি হবে কলম্বোতে ১লা এপ্রিল। ওয়ানডে সিরিজ শেষ হতেই শুরু হবে টি-টোয়েন্টি লড়াই। সিরিজের থাকছে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ৪ ও ৬ এপ্রিল।

শততম টেস্ট বিজয়। শ্রীলংকার মাটিতে টাইগার বাহিনীর বিজয়ে জাতি উল্লসিত

প্রথম টেস্টে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টেই ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। লড়াই করে জয় ছিনিয়ে নিলেন টাইগারসরা। প্রথম টেস্টে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টেই জয় ছিনিয়ে নিল বাংলাদেশ। যার ফল দুই টেস্টের সিরিজ শেষ হল ১-১এই।

টস জিতে ঘরের মাঠে ব্যাটিংই নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু তাদের বড় রানের পথে প্রথমে বাঁধা হয়ে দাঁড়ালেন বাংলাদেশের বোলাররা। দীনেশ চান্দিমালের একটি সেঞ্চুরি ছাড়া সেই ইনিংসে শ্রীলঙ্কার পক্ষ থেকে লড়াই দিতে পারেনি আর কোনও ব্যাটসম্যানই। শ্রীলঙ্কা শিবিরে প্রথম থেকেই হামলা করতে শুরু করে দিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর, মেহেদি হাসানরা। না হলে চান্দিমালের ১৩৮ ছাড়া আর কেউই ৪০ রানের গন্ডিও পেড়তে পারেননি। প্রথম ইনিংসে মেহেদি হাসান মিরাজের তিন উইকেট ছাড়াও দুটো করে উইকেট নিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর, শুভাশিস ও সাকিব।

বোলারদের লড়াইয়ের মর্যাদা দিয়ে গেলেন ব্যাটসম্যানরাও। ৩৩৮ রানের লক্ষ্যে নেমে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হল ৪৬৭তে। তামিমের ৪৯ ও সৌম্য সরকারের ৬১ রানের ইনিংস ভিতটা তৈরি করেই দিয়েছিল। এর পর বাংলাদেশের ইনিংসকে ভরসা দেন সাবির রহমান। তিনি আউট হন ৪২ রানে। শেষ বেলায় অবশ্য আসল কাজটি করে যান সাকিব আল হাসান। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১১৬ রান। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত মুশফিকুর রহিম (৫২) ও মোসাদ্দাক হোসেন (৭৫) এর। হেরাথ ও সান্দাকানের চারটি করে উইকেট বড় রান করা থেকে বাংলাদেশকে আটকাতে পারেনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে সেঞ্চুরি করেন শ্রীলঙ্কার ওপেনার করুনারত্নে। তাঁর ব্যাচ থেকে আসে ১২৬ রান। এর পর আর কেউই দাঁড়াতে পারেননি বাংলাদেশ বোলিংয়ের সামনে। আট ও ১০ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন পেরেরা (৫০) ও লাকমল (৪২)। কিন্তু তাঁদের লড়াই শেষ হয়ে যায় দলগত ৩১৯ রানে। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেট নেন সাকিব। তিন উইকেট মুস্তাফিজুরের। দ্বিতীয় ইনিংসে শুরু থেকেই বাংলাদেশকে লড়াইয়ে তুলে আনেন ওপেনার তামিম ইকবাল। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৮২ রান। সাব্বির রহমান আউট হন ৪১ রানে। শেষ বেলায় বেশ কিছুটা চাপে পরে যায় বাংলাদেশ ব্যাটিং। সাকিব আউট হন মাত্র ১৫ রানে। কিন্তু শেষটা ভাল মতই সামলে দেন মুশফিকুর রহিম ও মোসাদ্দেক হোসেন। এই ম্যাচেই টেস্ট অভিষেক হয়েছে মোসাদ্দেকের। ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন শেষ মুহূর্তে। কিন্তু ভাগ্য ভাল ছিল তাঁর সেই ক্যাচ মিস করেন শ্রীলঙ্কা ফিল্ডার। কিন্তু দু’রান বাকি থাকতে আউট হয়ে প্যাভেলিয়নে ফেরেন মোসাদ্দেক। তাঁর জায়গায় নেমে  জয়ের দু’রান তুলে নেন মেহদি হাসান মিরাজ।

জাতীয় শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট সাভারের বিকেএসপিতে অনুষ্ঠিত “প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি”-খেলা অনুষ্ঠিত

ঢাকাজেলা সংবাদ প্রতিনিধি
সাভারের জিরানিতে অবস্থিত বিকেএসপির প্রশিক্ষণ মাঠে আজ বুধবার, সকাল ৯টায় এ কর্মসূূচি শুরু হয়েছে। যার মধ্য দিয়ে জাতীয় শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলের জন্য ২০ জন ক্রিকেটার নির্বাচিত করা হবে। নির্বাচিত ক্রিকেটাররা ৯ থেকে ১১ মার্চ বিকেএসপিতে অনুষ্ঠিতব্য প্রশিক্ষণ কাম্পে অংশ নিবে।
সুতরাং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের খেলাধুলায় অংশগ্রহনের মাধ্যমে সমাজে মূলধারার অন্তর্ভুক্তকরনের এ উদ্যোগ ও বার্তা সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বুধবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সাভারের বিকেএসপিতে অনুষ্ঠিত “প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি”-খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।এই খেলার মাধ্যমে প্রতিবন্ধীতার সঙ্গে যে কুসংস্কার ও বৈষম্য জড়িয়ে আছে তা কমে আসবে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে এবং তাদের দক্ষতা-সক্ষমতা বেশি গুরুত্ব পাবে।
ইতিমধ্যে প্রায় আড়াইশ’র মত আগ্রহী প্রতিবন্ধী ক্রিকেটার এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে এসএমএস এর মাধ্যমে রেজিস্টেশন করেছে। আশা করা হচ্ছে এ কর্মসূচিতে দেশের প্রায় সব জেলা থেকে প্রতিবন্ধী ক্রিকেটাররা যাদের ক্রিকেট সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান আছে ও ক্রিকেট খেলায় পারদর্শী তারা অংশ নিবে। অংশগ্রহনকারীদের দৃশ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধীতা থাকতে হবে।
উল্লেখ্য ,বিসিবি শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দল গঠনে প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের খোঁজে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র সহযোগিতায় ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) যৌথভাবে এক প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ২০১৭ আয়োজন করেছে।

মাগুরায় বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনালে শেখ রাসেল চ্যাম্পিয়ন

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে গতকাল রোববার বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলায় শেখ ক্রীড়া চক্র লিমিটেড ঢাকা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে । ১ম ও ২য় আর্ধের খেলা গোল শূণ্য থাকায় খেলা ট্রাইব্রেকারে গড়ায় ।পরে ট্রাইবেকারে ৫-৪ গোলের ব্যবধানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে পরাজিত করে টুর্ণামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি অর্জন করে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ঢাকা ।
বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী দলের হাতে চ্যাপিম্পয়ন ট্রফি তুলে দেন । এ সময় বসুন্ধরা গ্রুপের কর্মকর্তা, মাগুরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম , জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি তানজেল হোসেন খান , মাগুরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ কুমার কুন্ডু সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রস্তম আলী , প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারি সচিব এ্যাড. সাইফুজ্জামান শিখর , পৌর মেয়র খুরশিদ হায়দার টুটুল ,জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন ও টুর্ণামেন্টের আহবায়ক জিল্লুর রহমান লাজুক উপস্থিত ছিলেন ।
টুর্ণামেন্টে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের ফুটবলার অরুপ কুমার বৈদ্য । গত ২০ জানুয়ারি এ টুর্ণামেন্টে শুরু হয়ে ছিল । বসুন্ধরা সিমেন্ট এর পৃষ্ঠপোষকতায় মাগুরা জেলা সংস্থার সার্বিক সহযোগিতায় আছাদুজ্জামান ফুটবল একাডেমী মহম্মদপুর মাগুরা এ টুর্ণামেন্টের আয়োজন করে । এ টুর্ণামেন্টে মোট ১২ টি ফুটবল দল অংশ নেয় । টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলায় মাগুরা স্টেডিয়ামের প্রতিটি দর্শক গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ ছিল । সমগ্র টুর্ণামেন্টে প্রতিটি খেলায় জাতীয় ক্রীড়াধারা ভাষ্যকর কুমার কল্যাণ ও প্রদ্যুৎ কুমার রায়ের ধারা বিবরণী ছিল মনমুগ্ধ ও চমৎকার । টুর্ণামেন্টের প্রতিটি খেলায় দর্শনের বিনোদনের জন্য ছিল র‌্যাফেল ড্র । আর এই র‌্যাফেল মাধ্যমে টুর্ণামেন্টের প্রতিটি খেলায় ১০ টি করে আকর্ষনীয় পুরস্কার প্রদান করা হয় দর্শকদের মাঝে । তাছাড়া র‌্যাফেল ড্র’র মাধ্যমে ২টি সেমি ফাইনাল ও ফাইনালে পুরস্কার হিসেবে ৩ টি মোটর সাইকেলও দর্শদের মাঝে প্রদান করা হয় । শেষে সন্ধ্যায় স্থানীয় ও ঢাকার শিল্পীবৃন্দ সংগীত পরিবেশন করেন ।

সাভারের কলমা ওয়াজ আলী মডেল স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরুস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত


সাভার(ঢাকা)প্রতিনিধিঃ
সাভারের কলমা ওয়াজ আলী মডেল স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরুস্কার বিতরণ করা হয়েছে।সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরুস্কার বিতরণ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা.এনামুর রহমান।সংসদ সদস্য ডা.এনামুর রহমান বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সাভারের রাস্তা ঘাট কালভাট বিভিন্ন উন্নয়ন হচ্ছে তার আমলে। এসময় তিনি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সামনের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাকে ঢাকা ১৯ আসন থেকে মনোনয়ন দিবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসময় উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ২ সোহেল রানা,ঢাকা জেলা পরিষদের সাধারণ সদস্য ও সাভার উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সেলিম মন্ডল,কলমা ওয়াজ আলী মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুরুজ মিয়াসহ আরো অনেকে।

পার্বতীপুরে ফুটবলে ঐতিহ্যমন্ডিত ও গৌরবোজ্জল ইতিহাস ফুটবলার কিংবদন্তীর মহান নায়ক সামাদের ৫৩ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ

মোঃ তৌহিদুজ্জামান, পার্বতীপুর প্রতিনিধি-
পার্বতীপুরে ফুটবলে ঐতিহ্যমন্ডিত ও গৌরবোজ্জল ইতিহাস যাদুকর সামাদ। তিনি একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ফুটবলার। যাকে বলা হয় ফুটবল কিংবদন্তীর মহান নায়ক। বিস্ময়কর ক্রীড়াকৌশলী এবং উন্নতমানের খেলা জন্য ফুটবলের যাদুকর উপাধিতে ভূষিত হন। তার তেইশ বছরের খেলোয়াড়ী জীবনে এমন সব বিস্ময়কর ও অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে যা ক্রীয়াঙ্গনে উজ্জ¦ল দৃষ্ঠান্ত হয়ে আছে।

পশ্চিম বাংলার পুর্ণিয়া জেলায় ১৮৯৫ সালে যাদুকর সামাদের জন্ম হয়। ১৯১২ সালে কোলকাতার মেইন টাউন ক্লাবে প্রথম ফুটবল খেলা শুরু করে তখন তার বয়স ১২ বছর। ১৯১৮ সালে এরিয়েন্স ক্লাবের সদস্য হন ১৯১৯-২০ মধ্যে তাজহাট ক্লাবের পরিচালক নিযুক্ত হন। ১৯২১-১৯৩১ সাল পর্যন্ত ই,বি,আর টিমে খেলেন ১৯২৪ সালে প্রথম ভারতীয় দলে খেতে জাভা (ইন্দোনেশিয়া) যান। স্মরনযোগ্য এটাই ভারতীয় দলের প্রথম বিদেশ যাত্রা। ১৯২৬ সালে পুনরায় জাভা যান। একই বছর সামাদ মোহামেডান স্পোটিং টীমের পক্ষে খেলে চুড়ান্ত কাপ বিজয়ী হন। ১৯৩২ সালে অল ইন্ডিয়া ফুটবল এ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে খেলতে তিনি শ্রীলংকা যান।

১৯৩৩ সালে মোহামেডান স্পোটিং -এ যোগ দেন। সে বর্ছ উন্নতমানের খেলার জন্য “হিরোস আব দি গেমস” সম্মানে ভূষিত হন। তার পরের বছরগুলো মোহামেডানের স্বার্ণযুগ। কারন পরপর ৫ বছর আইএফ- এর শীন্ড ও লীগ বিজয়ী হবার গৌরব এ সময় অর্ডন করে মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব।

১৯৪৭ সালে দেশে বিভাগের পর যাদুকর সামাদ ভারত থেকে বাংলাদেশে চলে আসেন এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় স্থায়ী বসবাস করেন। পার্বতীপুরে সাহেব পাড়া কলোনীতে টিÑ১৪৭ নম্বর বাসায় থাকতেন। তিনি পার্বতীপুরে রেলওয়ে প্লাটফরম ইন্সপেক্টর পদে চাকুরী করেন। চাকরি থেকে অবসর নেন ১৯৫৭ সালে। এ সময় কিছুদিন ঢাকা ক্রীড়া নিয়ন্ত্রন বোর্ডের হয়ে কোচের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৬৪ সালে ২ ফেব্রুয়ারী পার্বতীপুরে সাহেব পাড়া কলোনীতে টিÑ১৪৭ নম্বর বাসাতেই মৃত্যু বরন করেন। তিনি হয়ত আজ নেই কিন্তু তারই স্মৃতি জীবিত রাখার জন্য পার্বতীপুর শহরের ইসলামপুর কবর স্থানে সমাহিত করার দীর্ঘ ২৫ বছর অবহেলিত অরক্ষিত থাকার পর ১৯৮৯ সালে সাবেক দিনাজপুর জেলা প্রশাসক জনাব সাখাওয়াৎ হোসেনের সরাসরি উদ্যোগে গঠিত সামাদ স্মৃতিসৌধ। । এখনো এখানে রয়েছে সামাদ রেলওয়ে মিলনায়তন যা ১৯৪৯ সালে ফুটবল যাদুকর সামাদের নামে উৎসর্গ করা হয়েছিল। রয়েছে তার বসবাসকৃত রেলের বাসা সহ বেশকিছু স্মৃতি চিহ্ন। কিন্তুু প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে তার স্মৃতি চিহ্নগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে।

সংশ্লিষ্টদের সরকারের কাছে দাবী পার্বতীপুরে ফুটবলে ঐতিহ্যমন্ডিত ও গৌরবোজ্জল ইতিহাস ফুটবলার কিংবদন্তীর মহান নায়ক সামাদ স্মৃতি হিসেবে তার বাড়ীটি যাদুঘর হিসেবে তৈরী করে এবং সামাদ ক্রীড়া সংঘের রেজিষ্টেশন করে পরবর্তী প্রজন্মেদের ফুটবলের প্রতি প্রেরনা জাগে।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়েও ফুটবলার ওহিদুলের ভাগ্যে জোটেনি সরকারী চাকরী

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ
বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়েও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মাঠ কাপানো ফুটবলার ওহিদুলের ভাগ্যে সরকারি চাকরী জোটেনি। খেলা থেকে অবসরে না গেলেও মনের কষ্টে এখন ঘরের মধ্যেই কাটে তার জীবন। বিভিন্ন অফিসে দেন দরবার করেও কোন ফল হয়নি। বিভিন্ন মাঠে দারুন খেলা দেখিয়ে অর্জিত সার্টিফিকেট, মেডেল, ক্রেস্ট দেখিয়ে ওহিদুলের আক্ষেপ সারা জীবন সে কি বেকারই থেকে যাবে। ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ পৌরসভার বলিদাপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমীন ওরফে কালাপাহাড় এর ছেলে ওহিদুল। ওহিদুল ইসলাম জানান, বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। চার ভাই ও এক বোনের সংসার। বাবা মোবারকগঞ্জ চিনিকলের একজন শ্রমিক ছিলেন। অবসরে গেছেন বেশ কয়েক বছর আগে। সংসারে হাল ধরতে হবে তার। কিন্তু নেই কোন কাজ। খেলা ধুলার পেছনে সময় দিতে গিয়ে পড়াশোনা করতে পারেনি ঠিক মতো। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে সে। ফুটবলকে সাথে নিয়ে চষে বেড়িয়েছে সারা দেশে। দেশের এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত গেছেন ফুলবল খেলতে। ২০০০ সালে ২য় ঢাকা বিভাগ লীগে সেরা গোলদাতা সে, ২০০৫ সালে প্রথম বিভাগ ঢাকা লীগেও সে সেরা গোলদাতা হয়। তার ঝুলিতে রয়েছে অর্ধশতাধিক ক্রেস্ট,মেডেল ও সার্টিফিকেট। কিন্তু তার কপালে জোটেটি একটি চাকুরি। ওহিদুল ইসলাম জানান, এখন আর তেমন ফুটবল খেলতে পারি না। শারিরিক ভাবে অসুস্থ্যও হয়ে পড়েছে সে। চাকুরি বাকরি নেই। সারাদিন ঘরেই বসে থাকি। সংসারের হালও ধরতে পারছি না। তিনি আরো জানান, সরকার মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য অনেক সুযোগ সুবিধা করেছে। আমার খেলার কোটাও আছে। কিন্তু তার কোন চাকরী হচ্ছে না। তিনি ছোটখাট একটা সরকারী চাকরী দাবী করেছেন।

এশিয়ান ইংলিশ অলিম্পিকে অংশ গ্রহন করতে লালমনিরহাটের দুই ছাত্রী


এস.এম সহিদুল ইসলাম লালমনিরহাট প্রতিনিধি ঃ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী এশিয়ান ইংলিশ অলিম্পিকে অংশ গ্রহন করার জন্য আগামী ৮ ফেব্র“য়ারী ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন। আগামী ৯ ফেব্র“য়ারী থেকে ১৩ ফেব্র“য়ারী পর্যন্ত ৫ দিন ব্যাপী ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় এশিয়ান অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হবে। এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করবেন করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী উম্মে হাবিবা লিমা, পাবলিক স্পীচ বিষয়ে এবং একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী আফিয়া জাহীন রোদসি, নিউজ কাষ্টিং বিষয়ে প্রতিযোগীতায় অংশ নিবেন। এই দুজন ছাত্রীর সাথে অবজারভার হিসেবে থাকবেন কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদরুল আলম জাদু । ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় এশিয়ান অলিম্পিকে অংশ গ্রহন করার জন্য জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মোঃ আলা উদ্দিন খান ওই দুই ছাত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তাদের সাফল্য কামনা করেছেন।

নিউজিল্যান্ডের আবহাওয়ায় আস্থাশীল হতে নেই

সপ্তাহ তিনেকের অভিজ্ঞতায় জানা হয়ে গেছে নিউজিল্যান্ডের আবহাওয়ায় আস্থাশীল হতে নেই। এই রোদ তো একটু পরই কনকনে হাওয়ায় হাড় কাঁপানো শীত। বাংলাদেশ দল যেমন আর কি। সুযোগ তৈরি করে হাতছাড়াও করে চটজলদি। ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের প্রথম দিনেও ব্যতিক্রম হয়নি, ২ উইকেটে ১৬৫ রান থেকে পিছলে ২৮৬ রানে অল আউট। হ্যাগলি ওভাল উইকেটের চরিত্র, চোটে জর্জরিত বাংলাদেশের অনভিজ্ঞ ব্যাটিং এবং নিউজিল্যান্ডের পেস আক্রমণ মিলিয়ে স্কোরটাকে যাচ্ছেতাই বলার উপায় নেই। বরং এ মাঠে সর্বশেষ টেস্টে পাকিস্তানের ১৩৩ ও ১৭১ বিবেচনায় অনেক ভালো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। তবু আক্ষেপের জায়গাটা হলো, সৌম্য সরকার ও সাকিব আল হাসানের মধ্যকার ১২৭ রানের তৃতীয় উইকেট জুটির ব্যাটিংয়ে যখন বড় ইনিংসের হাতছানি তখনই ঘটে ছন্দপতন। ইমরুল কায়েসের ইনজুরির কারণে টেস্টে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পাওয়া সৌম্য আউট হয়েছেন ব্যক্তিগত ৮৬ রানে, টিম সাউদির ড্রাইভ খেলার ফাঁদে পা দিয়ে। নাগালের একটু দূরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ দিয়েছেন বাঁহাতি এ ওপেনার। তাতে নিজের প্রথম টেস্ট ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে নিয়ে যেতে পারেননি সৌম্য। খেই হারিয়ে ফেলে তাঁর দলও।

অবশ্য বাংলাদেশের শুরুটাও ভালো হয়নি। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে আস্থার ছাপ ছিল অধিনায়ক তামিম ইকবালের ব্যাটে। বোল্টের শর্ট বল পুল শটে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে তিনি সাউদিকে উইকেট দেন পরের ওভারেই। এ সফরে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের বিপাকে ফেলার একটা রেসিপি আবিষ্কার করেছে কিউইরা। লেগস্টাম্পের ওপর পাঁজর উচ্চতায় বল ঠুকলে মিলছেও উইকেট। এ ফাঁদে কাল প্রথম ধরা পড়েছেন তামিম। ঘণ্টা দুয়েক পর তাঁকে অনুসরণ করেছেন সাকিব। মাঝে সৌম্য গেছেন, এর আগে বোল্টকে উইকেট দিয়ে যেন ‘মুক্তি’ পেয়েছেন মাহমুদ উল্লাহ। মমিনুল হকের অনুপস্থিতিতে তিন নম্বরে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু মাহমুদের ২৪ বল স্থায়ী ইনিংসটাকে মুহূর্তের জন্যও স্বস্তিকর মনে হয়নি।

৩৮ রানে ২ উইকেট তুলে নেওয়া নিউজিল্যান্ড তখনো সে অর্থে শর্ট বোলিংয়ের মহড়া শুরু করেনি। হ্যাগলি ওভালের উইকেটে সুইংয়ের আশায় বোল্ট-সাউদির সঙ্গে নীল ওয়াগনারও ওপরে বল ফেলে সুইং করানোয় মনোযোগী ছিলেন। সৌম্য এবং সাকিবের সঙ্গে কিউই পেসারদের সে লড়াইটা ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর। লেন্থে সামান্য গোলমাল হলেই অনায়াসে বাউন্ডারিতে বল পাঠিয়েছেন এ দুই বাঁহাতি। আবার স্ট্রোক প্লের ফাঁদে ফেলে ক্যাচও বানিয়েছিলেন কিউই পেসাররা। কিন্তু ফিল্ডিংয়ে দুর্দান্ত নিউজিল্যান্ডারদের হাত থেকে কাল ক্যাচ পড়েছে টপাটপ। গোটা চারেক তো হবেই। যে কারণে ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবার ইনিংসে ৫ উইকেট পাওয়া সাউদিকে সাফাই গাইতে হয়েছে, ‘ক্রিকেটে এমনটা হতেই পারে। কেউ ইচ্ছা করে ক্যাচ ফেলে না। ’

প্রতিপক্ষের দেওয়া এ উপহারের পূর্ণ সদ্ব্যবহার অবশ্য করতে পারেননি সৌম্য-সাকিব। আবার একেবারে যে বিলিয়ে দিয়েছেন, সেটিও বলা যাচ্ছে না। তরতরিয়ে রান করে ড্রেসিংরুম থেকে হ্যাগলি ওভালের উইকেটকে ঘিরে জমে থাকা আশঙ্কা দূর করেছিলেন ঠিকই। সৌম্যর বিদায়ের আগে পর্যন্ত ওভারপিছু পাঁচেরও বেশি রান যোগ করেছে এ জুটি। মাত্র ৫২ বলে ৫০ রানের জুটির ‘সেঞ্চুরি’ পূর্ণ হয় মাত্র ১১৭ বলে। না, তাতে হাল ছাড়েনি নিউজিল্যান্ড। বরং টেস্ট অভিজ্ঞতা বলে প্রতিপক্ষ যত আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করবে ততই বাড়বে উইকেটপ্রাপ্তির সম্ভাবনা। স্বাগতিকরা সে সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিল, বিফলেও যায়নি। সৌম্য ফেরার কিছুক্ষণ পর বোল্টের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন ওয়েলিংটনে জোড়া ফিফটি করা সাব্বির রহমান। পরের ওভারে শরীর থেকে দূরের বলে বিজে ওয়াটলিংয়ের গ্লাভসে ধরা পড়েছেন সাকিব। অবশ্য ততক্ষণে আরেকটি টেস্ট ফিফটির পথে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৯ হাজার আন্তর্জাতিক রানের ল্যান্ডমার্ক ছুঁয়েছেন তিনি।

কিন্তু বাংলাদেশকে ততক্ষণে ছুঁয়ে ফেলেছে কিছুটা দুর্দশা, বাকিটা দুর্ভাবনা। দুর্ভাবনা দুই অভিষিক্তকে ঘিরে। দুর্ভাবনা নাজমুল হোসেন ও নুরুল হাসানকে ঘিরে। দলের শেষ স্বীকৃত ব্যাটিং জুটি, যাঁদের টেস্ট অভিষেকই হয়েছে গতকাল। নুরুল হাসানের গায়ে তবু আন্তর্জাতিক বাতাস লেগেছে; কিন্তু নাজমুলের ক্রাইস্টচার্চ টেস্টই প্রথম বড় অভিজ্ঞতা। সিনিয়র দুই ক্রিকেটার চোটের কারণে ছিটকে পড়াতেই সুযোগ মিলেছে নাজমুল আর নুরুলের। আর উত্তাল ২২ গজে দুজনের দেখা কয়েক বলের ব্যবধানে। এ নিয়ে সৌম্যর আফসোস, ‘ওরা যদি অপর প্রান্তে অভিজ্ঞ কোনো ব্যাটসম্যানকে পেত, তাহলে আরো ভালো করত। ’

নবাগত হিসেবে খারাপ করেননি নাজমুল আর নুরুল। ৫৩ রানের জুটি গড়েছেন তাঁরা। এর মধ্যে বলের পেছনে শরীর নিয়ে যে আস্থার সঙ্গে খেলেছেন নাজমুল, তা প্রশংসিত হয়েছে সর্বমহলে। অন্যদিকে শুরুতে নার্ভাস মনে হলেও ৪৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন নুরুল হাসান।তবে দিন শেষের পর্যালোচনায় ভূয়সী প্রশংসা মিলেছে কামরুল হাসানের ভাগ্যেও। মাত্র ২ রান করেছেন এই টেল এন্ডার। তবে কিউইদের লাগাতার বাউন্সার সামলে ৬২ বল খেলে ফেলাতেই সৌম্য সরকারের বন্দনা পেয়েছেন কামরুল, “প্রেস কনফারেন্সে আসার আগে রাব্বি ভাইকে (কামরুল ইসলাম) বলছিলাম, ‘আপনি যে ব্যাটিংটা করলেন তাতে অন্য প্রান্তে স্বীকৃত ব্যাটসম্যান থাকলে সেঞ্চুরি করে ফেলত!’”বীরত্বের মুকুট পাওনা রুবেল হোসেনেরও। শুভাশীষ রায়ের পরিবর্তে একাদশে জায়গা পাওয়া এ মিডিয়াম ফাস্ট বোলার সবার শেষে ব্যাটিংয়ে নেমে দলকে দিয়েছেন মূল্যবান ১৬ রান। তবে ভয়ও ছড়িয়েছেন ড্রেসিংরুমে। বোল্টের বাউন্সার সোজা আঘাত হেনেছে রুবেলের ডান কনুইয়ে। তবে কিছুক্ষণ শুশ্রূষার পর ব্যাটিং করেছেন, এক্স-রেতে কোনো সমস্যা ধরাও পড়েনি। কিন্তু গত রাতেও ব্যথা ছিল।

এ সফরে কেউ ব্যথা পেলেই কেঁপে ওঠে পুরো দল। রুবেল হোসেনের ব্যথায়ও তাই কাল ককিয়ে উঠেছিলেন সৌম্য সরকার, ‘আমাদের পেস বোলারই তিনজন। এ অবস্থায় একজন কমে গেলে সমস্যা হবে আমাদের। ’তবে আশার কথা, হ্যাগলি ওভালের উইকেট এখনো প্রাণে ভরপুর। এখন সে সুবিধা কাজে লাগিয়ে যদি প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ে হুল ফোটাতে পারেন বাংলাদেশের পেসাররা। সৌম্য তো গতকালই ডিমান্ড নোট দিয়ে রেখেছেন, ‘বোলারদের কাজ হবে কাল (আজ) ১০ উইকেট তুলে নেওয়া!’


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »