Category: শেষ পাতা

সৈয়দপুরে সেতুবন্ধনের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন


সৈয়দপুর নীলফামারী প্রতিনিধি ঃ
মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেতুবন্ধনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২১ শে ফেব্রুয়ারি রোজ মঙ্গলবার সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের সুতারপাড়া ইসলামীক সমাজ কল্যাণ সমিতির প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। . সুতারপাড়া ইসলামীক সমাজ কল্যাণ সমিতির প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর আরেফিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ সৈয়দপুর শাখার প্রধান উপদেষ্টা হিটলার চৌধুরী ভুলু। এছাড়াও বিশেষ অতিথির মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন সেতুবন্ধন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উপদেষ্টা রইজ উদ্দিন রকি, সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, কাশিরাম বেলপুকুর ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেকেন্দার আলী, প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সহ-সাধারন সম্পাদক খুরশিদ জামান কাকন। . পরে এম আর আলী টুটুলের নেতৃত্বে একদল শিল্পি গোষ্ঠী দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। এসময় গানের ফাঁকেফাঁকে সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রতিবন্ধী শিশুদের পুরষ্কৃত করা হয়। . এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক নওশাদ আনসারী, প্রচার সম্পাদক আফরোজ আহমেদ সিদ্দিকী টুইংকেল, কার্যকরী সদস্য মোজাহারুল ইসলাম জুয়েল, আহসান হাবীব জনি প্রমুখ।

আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস পালিত

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ঢাকা জেলার কেরাণীগঞ্জ, দোহার, নবাবগঞ্জ, সাভার ও ধামরাই উপজেলায় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্ব স্ব আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
একুশের প্রথম প্রহরে সাভারের অধর চন্দ্র স্কুলে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে প্রথমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাভারের সংসদ সদস্য ডা.এনামুর রহমান। পরে উপজেলা আওয়ামী লীগ উপজেলা প্রশাসন ও আওয়ামী এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদেন করেন।অন্যদিকে আশুলিয়ায় একটি স্কুলের শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাব-উদ্দিন মাদবরসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।এদিকে জাহাঙ্গীনগর বিশ^বিদ্যালয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি একুশের প্রথম প্রহরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড.ফারজানা ইসলাম।এছাড়া ঢাকার ধামরাইয়ে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদেন করেন ধামরাইয়ের সংসদ সদস্য এম এ মালেকসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জের শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদেন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট সালমা ইসলাম সহ জতীয় পার্টি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।এ ছাড়া ঢাকার কেরাণীগঞ্জে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদেন করেন উপজেলার চেয়ারম্যান শাুিহনুর ইসলাম, তারানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোশাররফ হুসাইন ফারুকসহস্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

খাগড়াছড়িতে অমর একুশে ফেব্র“য়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে


বিপ্লব তালুকদার খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি॥
খাগড়াছড়িতে যথাযোগ্য মর্যাদায় অমর একুশে ফেব্র“য়ারী শহীদ ভাষা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে। রাত ১২.১মিনিটে স্থানীয় সংদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াদিুজ্জামান, পুলিশ সুপার শেখ মো: মজিদ আলী ,প্রেস ক্লাব, খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়ন,জেলা আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপ আলাদাভাবে ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পু®পমাল্য অর্পন করে ভাষা শহীদের শ্রদ্ধা জানান।
সকালে সর্ব স্তরের মানুষের অংশ গ্রহনে প্রভাত ফেরী ছাড়াও শহীদদের আত্মার শান্তি ও দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মুনাজাত, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। এছাড়া ও জেলার বিভিন্ন ৯ টি উপজেলা বিভিন্ন আয়েজনে পালিত হচ্ছে অমর একশে ফেব্র“য়ারী ও আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস।

গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজারের সকল স্কুল ও কলেজে,বিশ্ববিদ্যালয় পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস!

কামরান আহমদ: সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজের বিভিন্ন স্থানে যথাযাথ পালিত হচ্ছে  আন্তরজার্তিক মাতৃভাষা দিবস। এ উপলক্ষে  বিয়ানীবাজার  ও গোলাপগঞ্জের উপজেলার  মধ্যবর্তী
স্থান আছিরগঞ্জের কুশিয়ারা ছাত্র ঔক্য পরিষদের উদ্দ্যেগে প্রভাতফেরিতে আছিরগঞ্জের উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শহীদ মিনারে এসে, এর পরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ এর মাধ্যমে শেষ হয়।উপর দিকে ঢাকাদক্ষিন বিশ্ববিদ্যলয়ের  আয়োজনে সভার আয়োজন করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে।  সভাপতি ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ অনুরঞ্জন দাস,উপস্তিত ছিলেন, জুয়েল,অপু মালাকার, মালাকার,ফয়জুর,রাজন,তানবির,নাছিম,মুরাদ,বুলবুল,মিজু,সুলতান,রুবেল সহ আরো  অনেক। সভায় সাধারণ বক্তব্য রাখেন, ঢাকাদক্ষিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাহিদ জামান যে বক্তব্যতে ফুটে উঠে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তিনি বলেন,সময় অবিরাম চলে যায় নদীর স্রোতের মত।কালের গর্বে বিলীন হয় দিন-মাস-বছর। এভাবেই ৫২-র ভাষা আন্দোলনের বছর মিশে একাকার হয়ে গেছে অনন্তকালের মাঝে। একুশ আমাদের অহংকার। একুশ আমাদের গর্ব, অমর একুশ আমাদের মাঝে প্রতি বছর ফিরে আসে নবচেতনা নব উদ্দীপনা নিয়ে।  আমাদের সারা জীবনই একুশের ডাক প্রতিধ্বনিত হবে, আনন্দ উল্লাস বিজয়ের গৌরবে উদ্দিপ্ত হবে আজীবন। বাঙ্গালী জাতিসত্তা আর ‘৫২-র ভাষা আন্দোলন এক সূত্রে গাঁথা। হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন বাঙ্গালির মেধায় মননে একুশের সাথে সম্পৃক্ত। অমর একুশ বা  মহান শহীদ দিবস আমাদের চলার পথের ধ্র“বতারা। আমরা সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়েছি, লড়েছি স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে; আজও লড়ছি একুশের চেতনা বুকে লালন করেই। আমাদের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের সূত্রপাত হয়।

কিন্তু দুঃখজনক ভাবে বলতে হয় আমাদের মধ্য এখন একুশের চেতনা প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ একুশের চেতনাকে লালন করেই ১৯৭১ সালে যুদ্ধ এগিয়ে গিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন কিন্তু সেই ভাষা আন্দোলনের সময় ‘৫২-র একুশে ফেব্র“য়ারীর সময়ই সূচিত হয়।পরিশেষে তখন ১৯৪৮ সাল সেই থেকে শুরু করে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত গোটা পূর্ব বাংলা উত্তপ্ত হয়ে উঠলো। পাকিস্থানের লোক সংখ্যার ৫৬ ভাগ লোক বাংলা ভাষাভাষী হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্থানের একরোখা মুসলীম সরকার পূর্ব পাকিস্থানের জনগণের প্রতি চরম অবজ্ঞা ও অবহেলা দেখাতে শুরু করলো। ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ এবং ২৪ মার্চ ঢাকার কার্জন হলে কায়দে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ দৃঢ় কন্ঠে ঘোষণা দিলেন একমাত্র ঊর্দূই হবে পাকিস্থানের রাষ্ট্রভাষা। জিন্নাহর এমন একরোখা ঘোষণার সাথে সাথে পূর্ব পাকিস্থানের ছাত্র-জনতা প্রতিবাদে ও বিক্ষোভে সারা বাংলায় ফেটে পড়লো।১৯৫২ সালে ২১ ফেব্র“য়ারী ( ৮ ফালগুন ১৩৫৮ বাংলা) ভাষার অধিকারে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দানের লক্ষ্যে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ পাকিস্থানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল বের করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আমতলায় সর্বস্থরের ছাত্র-জনতা জমায়েত হতে থাকে। ছাত্র জনতা পাকিস্থান সরকারের জারি করা ১৪৪ ধারা ভাঁঙ্গার চেষ্ঠায় লিপ্ত হতে থাকে। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্র“য়ারী জুলুমবাজ পাকিস্থানি পুলিশ বাহিনী মুসলিম লীগ সরকার আন্দোলকারী ছাত্র-জনতার উপর নির্মমভাবে অতর্কিত গুলি বর্ষণ শুরু করে দিল। যার ফলে সাথে সাথেই শহীদ হলেন আমাদের বাংলা মায়ের দামাল ছেলে সালাম,বরকত, রফিক, জব্বার,সফিকসহ আরো অনেক।  পরে সভাপতির বক্তব্য মাধ্যমে সভা শেষ হয়।
এ উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন ও করা হয়েছে ওই দুই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে।

চিলমারীতে অমর একুশে ফেব্রুয়ারী পালিত


চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চিলমারীতে উপজেলা চত্তরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পনের মধ্য দিয়ে একুশের প্রথম প্রহরের কর্মসুচী শুরু হয়। শহীদ মিনার চত্বরে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। রাত ১২.০১ মিনিটে উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের পক্ষে চিলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীর বিক্রম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগন শহীদ মিনারের পুস্পমাল্য অর্পন করেন। এরপরে একে একে বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়। পরে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দো’আ মোনাজাত করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, পুরুস্কার বিতরন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চিলমারী উপজেলা শাখা, চিলমারী উচ্চ বিদ্যালয়, উপজেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করা হয়।

চিলমারীতে শহীদ দিবসেও সরকারী ভবনে উত্তোলিত হয়নি জাতীয় পতাকা
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সরকারী, বেসরকারি ও স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান সমূহে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ জাতীয় পতাকা উত্তোলিত করা হয়নি। এঘটনায় মুক্তিযোদ্ধাসহ স্বাধীনতাকামী সাধারন মানুষের মনে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া।
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চিলমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কার্যালয়, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস (সময় বেলা ১১টা) সহ বিভিন্ন সরকারী, বে-সরকারী অফিস কার্যালয়ে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। সকল সরকারী, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসকারী ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার সরকারী নির্দেশনা থাকলেও বেশকিছু প্রতিষ্ঠানে এসব সরকারি নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে। পতাকা উত্তোলন না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুজন কর্মকর্তা বলেন আমরা মনে করেছিলাম পরিষদ ভবনে শুধু উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তার অফিস ভবনে উত্তোলন করলেও চলবে। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মির্জা মুরাদ হাসান বেগ বলেন, জাতীয় দিবসসমূহ জাতীয় পতাকা উত্তোলন বাধ্যতামূলক। কোন প্রতিষ্ঠান সরকারি নিদের্শনা ভঙ্গ করলে তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অপরদিকে বিষয়টিকে ঘিরে মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারন মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া অনেকে দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়ারও দাবি জানান।

ভালুকায় সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ১ রাস্তা অবরোধ বাসে আগুন


ইতি শিকদার, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ ঃ ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মাস্টারবাড়ী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওয়াল্টন প্লাজার সামনে রাস্তা পারাপারের সময় ময়মনসিংহগামী আলম এশিয়া যাত্রীবাহী বাস চাপায় শ্রী বলাই কৃষ্ণ দাস (২৫) নিহত হয়। জানা যায়, (২০ফেব্রুয়ারী) সোমবার রাত পৌনে ১১টার সময় রাস্তা পার হতে গিয়ে বাস চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয় মাওনা এলাকার একটি ওয়ার্কসপের কর্মচারী শ্রী বলাই কৃষ্ণ দাস। নিহত শ্রী বলাই কৃষ্ণ দাস গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলার পুলিশ লাইন এলাকার সুরেন চন্দ্র দাসের ছেলে। এ ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধরা এনা পরিবহনের একটি গাড়ি (ঢাকা- মেট্টো-ব-১৪-৬০৩৫) তে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় যাত্রীরা দ্রুত গাড়ী থেকে নেমে যাওয়ায় হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি। পরে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী ঘটনাস্থলে আসার আগেই স্থানীয় স্কয়ার নীট ফ্যাশনের পানির লাইন দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে স্থানীয় শ্রমীক জনতা। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ জনতা রাস্তা অবরোধ করলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহাম্মেদ বাচ্চু ও ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন অর-রশিদের নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় অবরোধ ও আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। ভরাডোবা হাইওয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে গেলে সেখান থেকে তার পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নানা আয়োজনে মহান একুশে ফেব্র“য়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা শহীদ দিবস উদযাপন


মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা
রাত ১২টা এক মিনিটে শহীদ মিনারে পুষ্প স্তবক অর্পন, প্রভাত ফেরী, শিশুদের চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা, বই মেলা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মহান একুশে ফেব্র“য়ারী আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা (শহীদ দিবস) উদযাপিত হয়েছে।উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।রাত ১২টা এক মিনিটে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, মির্জাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটি, প্রেস ক্লাব, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্প স্তবক অর্পন করা হয়।সকালে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশু কিশোরদের অংশ গ্রহনে প্রভাত ফেরী বের করা হয়।একই অনুষ্ঠান পালন করা হয় কুমুদিনী কমপ্লেক্্র, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, ভারতেশ্বরী হোমস ও নার্সিং স্কুল এন্ড কলেজে।এখানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার শিক্ষা পরিচালক প্রতিভা মুৎসুদ্দি।
এদিকে সকাল নয়টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্তরে শিশুদের চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা, বই মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।মির্জাপুর শিল্পকলা একাডেমির ও চিত্র শিল্পী খন্দকার হুমায়ুন কবীরের উদ্যোগ্যে আখর নামে একটি দেয়াল পত্রিকা বের করা হয়।উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত সাদমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু।অনুষ্ঠানের আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এএসএম মোজাহিদুল ইসলাম মনির, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাকির হোসেন মোল্লা, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. খলিলুর রহমান, কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, পরিবার পরিকল্পনা অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। পরে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।

সাভারে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির নির্মাতা ও উপস্থাপক হানিফ সংকেতের খালাতো ভাই নিহত


মোঃ গোলাম মোস্তফা, ঢাকা জেলা প্রতিনিধি।
সাভারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির নির্মাতা ও উপস্থাপক হানিফ সংকেতের খালাতো ভাই নুরুজ্জামান বাচ্চু (৫০)।সোমবার বিকেলে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের সাভারের আমিনবাজার এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
নুরুজ্জামান বাচ্চুর স্ত্রী জানায় তার স্বামী রাজধানীর পান্থপথ ফিরোজ টাওয়ারে মান বাংলাদেশ লিমিটেড এ ম্যাকানিক চিপ পদে চাকুরী করতেন। পরে আজ দুপুরে সাভারের আশুলিয়ার নবীনগরে আসার জন্য তিনি ঢাকার অফিস থেকে মোটরসাইকেলে করে রওয়ানা দেন। এসময় তিনি ঢাকা আরিচা মহাসড়কের সাভারের আমিনবাজার এলাকায় পৌছলে পিছন থেকে আসা দ্রুত গতির একটি ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাভারের পার্বতীনগর এলাকায় এনাম মেডিক্যাল অ্যান্ড কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিবির পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউএর ) লাইফ সাপর্টে তাকে রাখা হয়। পরে রাত সাড়ে আটটায় তাকে মৃত ঘোষনা করেন এনাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের অপারেশন (ওটি) ইনচার্য নাছির উদ্দিন ।
মান বাংলাদেশ লিমিটেড নামের ওই প্রতিষ্ঠানে লিফট সরবরাহ করা হতো। মান বাংলাদেশে লিমিটেডের মালিক বাংলাদেশের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির নির্মাতা ও উপস্থাপক হানিফ সংকেতের বড় ভাই হাবিব শাইখ । আর নিহত ওই ব্যক্তি হানিফ সংকেতের আপন খালাতো ভাই। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহত ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন।
নিহত ওই ব্যক্তি স্ত্রী মাহফুজা ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ভাড়া থাকতেন।এদিকে রাতে নিহত ওই ব্যক্তির লাশ নিতে হাসপাতালে আসার কথা রয়েছে হানিফ সংকেতের।নিহত ওই ব্যক্তির বাড়ি বরিশাল জেলার সদর থানার আস্তাকাটি গ্রামে। তার বাবার নাম ইয়াকুব আলী মাষ্টার।

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই দূর্নীতিতে বাসদ এর উদ্বেগ প্রকাশ


গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) থেকে তাজুল ইসলাম প্রধান ঃ
গোবিন্দগসহ সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ে বড় ধরনের দূর্নীতি , দলবাজি ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানীতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ।
বাসদ কেন্দ্রীয় নেতা ও গনতান্ত্রিক বাম মোর্চার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শাখার আহবায়ক কমরেড রফিকুল ইসলাম রফিক গত রবিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ সর্ম্পকে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে।
বাদস নেতা ও বিশিষ্ট সাংবাদিক কমরেড রফিকুল ইসলাম রফিক আরও বলেন , ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বাদ দেওয়ার বদলে এই প্রক্রিয়ায় এর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এ ব্যাপােির মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আশু দৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গোবিন্দগঞ্জে পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রতারিত ৫ ব্যাক্তি
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) থেকে তাজুল ইসলাম প্রধান ঃ
প্রতারিত ৫ ব্যাক্তির বিরুদ্ধে বগুড়ার সোনাতলা থানায় মামলা হয়েছে। বর্তমানে তার পুলিশের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
তার হচ্ছেন- গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জচ উপজেরার পান্থাপাড়া গ্রামের মৃত মোবারক আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৪৫), চক গোবিন্দ গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে হারেছ আলী (৩০), দুর্গাপুর গ্রামের মৃত মোবারক আলীর ছেলে আলামীন (৩৫) , সোনাতলা উপজেলার শালিখা গ্রামের মৃত আবুল মন্ডলের ছেলে আমিরুল ইসলাম (৫৬) ও গোপালপুর গ্রামের মৃত জতেন্দ্রনাথের ছেলে বিমল (৪৫) ।
আমিনুল ইসলাম জানান, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীপতিপুর গ্রামের মোজাফ্ফর রহমানের ছেলে মামুনুর রশিদ প্রতারক চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য। তিনি সেনা বাহিনীতে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে পাশ্ববর্তী সোনাতলা উপজেলার শালিখা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে শফিকুলের নিকট থেকে সাড়ে ৫ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেন।
শফিকুল ইসলাম তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত ১৫ জুন আড়াইশত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিমূলে উক্ত টাকা নিয়েছেন। এর পর প্রায় ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি চাকরী দিতে পারেননি। এমন কি টাকাও ফিরেও দেননি। টাকা ফিরে না দেওয়ায় এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
এরই জের ধরে মোজাফ্ফর রহমান বাদী হয়ে সোনাতলা থানায় ১লা জানুয়ারী মামলা করেন। তিনি জানান, তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়, প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সুশান্ত কুমার জানান, আদালতের নির্দেশে এ মামলা হয়েছে। এই মূহুর্তে মামলার সত্যতা নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। তবে মামলাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান।

খাগড়াছড়িতে দুর্নীতির মাধ্যমে চলছে অবৈধ ইটভাটা পুড়ছে কোটি টাকার কাঠ

বিপ্লব তালুকদার খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়িতে লাইসেন্স বিহীন ২৯টি ইটভাটায় নির্বিচারে পোড়ানো হচ্ছে পরিবেশ ধ্বংস করে পাহাড়ী বনাঞ্চলের কচিকাচা গাছ। ইট তৈরীতে কয়লার স্থলে ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড়ের মাটি। তারপরও অনুমতি বিহীন এসব ইটভাটা বন ও পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ চললেও দেখার কেউ নেই।

ইটভাটার মালিক ও জেলা ইটভাটা সভাপতি/সম্পাদক’কে ৩শ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরের মাধ্যমে অঙ্গিকার নামার মাধ্যমে ভাটা পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি জানা যায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভায়। গত ২৩ নভেম্বর বিকেলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত সভার বিবরণিতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।জলবায়ু পরিবর্তনের ঝূঁকিতে থাকা সত্ত্বেও এসব ইটভাটার মালিকরা প্রভাব খাটিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই বিশেষ মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে ফসলি জমি, জনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং নদীর তীরে গড়ে তুলেছে এসব ইটভাটা। খাগড়াছড়ি জেলা সদরসহ ৯টি উপজেলায় জ্বালানীকাঠ দিয়ে ২৯টি অনুমোদন বিহীন ইটভাটার জ্বালানীর যোগান দিতে উজাড় করা হচ্ছে পাহাড়ের সবুজ বেষ্টনী ও পাহাড়ী বনাঞ্চল।

অভিযোগ আছে, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই অবৈধ ইটভাটাগুলো বছরের পর বছর ধরে বীরদর্পে অপকর্ম করেই যাচ্ছে। প্রত্যেক মৌসুমের মুচলেকা আদায়ের মাধ্যমে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা নিজেদের দায় এবং আখের গুছালেও অবৈধ ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করা যায়নি। আর কখনো বন্ধ থাকেওনি। এবছরও ঠিক তাই ঘটতে যাচ্ছে খাগড়াছড়িতে।

স্থানীয় সূত্র থেকে তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়িতে ২৯টি ইটভাটার মধ্যে ২৯টিই ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কোন ছাড়পত্র নেয়। এসব ভাটা জনবসতিপূর্ণ কৃষি জমি নিকটবর্তী স্থানে অবস্থান এবং বেশির ভাগেই ব্যবহার হচ্ছে (টিনের) ড্রাম ছিমনী। তারপরও অনুমোদন বিহীন এসব ইটভাটার উৎপাদন কখনো বন্ধ থাকেনি। এবারও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে শুরু করেছে উৎপাদন।উপজেলা বেশকয়েকটি ইটভাটা ঘুরে দেখা যায়, কয়লা ব্যবহারের স্থলে পাহাড়ে কচি কাচা গাছ আর ১২০ ফুট উচ্চতার স্থায়ী চিমনির স্থলে ২০/৩০ ফুট উচ্চতার ড্রাম চিমনী ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এ সব ভাটার গড়ে উঠেছে ধানের ফসলি জমি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। এসব ভাটায় শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে শিশুদেরও। যা আইনে সম্পূন্ন নিষিদ্ধ। এছাড়াও খাগড়াছড়ি জেলায় প্রতিবার ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে লাখ লাখ মণ পাহাড়ী বনের গাছ। যার মূল্য কোটি কোটি টাকা।তাবে রহস্যজনক কারণে বন বিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসন নীরবতা অভিযোগ থাকলেও এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোমিনুর রশীদ বলেন, জ্বালানী হিসেবে পাহাড়ি গাছ পোড়ানো বিষয়ে আমরা অভিযান পরিচালিত করছি। ইতিমধ্যে মাটিরাঙ্গা ও রামগড়ে জ্বালানী গাছ বোঝায় গাড়ি আটক করা হয়েছে। এ অভিযান পুরো জেলায় অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

সংরক্ষিত বন, ফসলি জমি ও বসত বাড়ী ঘেঁষে অবৈধ ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বেশ কিছু ইটভাটা।তিন পার্বত্য জেলায় বনবিভাগের আওতাধীন গাছ কেটে উজাড় করছে। পরিবেশের ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, ইটভাটা নির্মাণকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে বারবার বাঁধা দিয়েও কোন কাজ হয়নি। কর্মকর্তারা জানান, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী বনের ফরেষ্ট রেঞ্জের অধীনে সরকারী বাগানের দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোন ইটভাটা নির্মাণ করা যাবেনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়: বান্দরবান জেলার আলীকদম এলাকায় ইটেরভাটা সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন যুবক জানান, ইটভাটা যারা নির্মাণ করছে, তাঁরা পয়সাওয়ালা ও প্রভাবশালী।টাকা দিয়ে সবার মুখ বন্ধ করে রেখেছে। সেটি হলে অবশ্যই বনসহ পরিবেশের ব্যপক ক্ষতি হবে।অত্র জেলায় ৪০টিরও অধীক ইটেরভাটা রয়েছে যা বন বিভাগের সংরক্ষিত বাগানের কচি-কাচা গাছ কেটে বিভিন্ন ভাবে ক্ষতী সাধন করছে। তবে গ্রামবাসীরা বা সচেতন কোন ব্যক্তি বনবিভাগে কোনো প্রকার মৌখিক বা লিখিত ভাবে কিছু জানায়নি বলে জানিয়েছে বন বিভাগের এক কর্মকর্তা। ইটভাটা নির্মানে পরিবেশ ছাড়পত্র বা লাইসেন্স আছে কিনা জানাতে অনীহা প্রকাশ করেন মালিক পক্ষ।অপরদিকে: পার্বত্য জেলার খাগড়াছড়ি,রাঙ্গামাটি, বান্দরবানেও প্রায় ১শত ৩০টি ইটভাটা রয়েছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কার্যালয়ে গিয়ে ইটের ভাটা সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় কর্মকর্তা জানান, পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া কেউ কোন ইটভাটা নির্মাণ করতে পারবে না। পরিবেশ আইন অমান্য করে কাউকে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হবেনা। আইন লংঘন করে কেউ ইটভাটা করলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।অবৈধ ইট ভাটার বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, নির্ধারিত বিধি অমান্য করে কোন ইট ভাটার মালিক ভাটা চালালে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »