Category: রাজনীতি

সিরিয়াকে ঘিরে পশ্চিমা রাজনীতি

রায়হান আহমেদ তপাদার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শুরু হওয়া স্নায়ুযুদ্ধ বা ঠাণ্ডাযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগী পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার মিত্র জোটের। এ স্নায়ুযুদ্ধ ছিল ক্ষমতা ও আদর্শগত দ্বন্দ্বের মিশেলে। নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব আশা করেছিল তারা স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটাতে পেরেছে।কিন্তু ২০১০-এর দশকে এসে নতুনরূপে বিশ্ব আবার স্নায়ুযুদ্ধের যুগে ফিরে এসেছে।তবে নতুন এই স্নায়ুযুদ্ধের সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর স্নায়ুযুদ্ধের পার্থক্য রয়েছে।সে সময় ক্ষমতার সঙ্গে ছিল আদর্শের মিশেল।আর এখন আদর্শ নয়, শুধুই ক্ষমতা ও বাজার দখলের লড়াই।বিশেষ করে এ বাজার হচ্ছে অস্ত্র ব্যবসার।নতুন এ স্নায়ুযুদ্ধোত্তর প্রতিদ্বন্দ্বী মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।ইউরোপে রাশিয়ার দোরগোড়ায় ইউক্রেন নিয়ে যা শুরু এখন মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে সিরিয়াযুদ্ধে তা প্রলম্বিত আকার নিয়েছে।প্রাগৈতিহাসিক শহর। চার বছর ধরে দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন।আক্রান্ত।যুক্তরাষ্ট্র,তুরস্ক,সৌদি ও কাতারের দেওয়া অর্থ ও অস্ত্রের মদদে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করে।এর পরের ধাপে তুরস্ক থেকে রীতিমতো প্রশিক্ষিত ভাড়াটে যোদ্ধারা শহর দখলে নেয়।শিয়া গণহত্যা ঘটানো হয় একাধিকবার। ছোট বাচ্চাদেরও শামিল করা হয় ওই ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’ গ্রুপে। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বন্দুক। তাদের শেখানো হয় কিভাবে সিরিয়া সরকারি সেনা দেখলেই গুলি করতে হয়।এভাবেই বেশ চলছিল।চুপ ছিল পশ্চিমা বিশ্ব।রাষ্ট্রসংঘে বসে কেউ এসব দেখতে পায়নি।এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে রাশিয়া সক্রিয়ভাবে সিরিয়া সংকটে যোগ দেওয়ার পর।এখন পাশা উল্টে গেছে। রাশিয়া ও ইরানের সাহায্যে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী আলেপ্পোর পূর্ব অংশ পুনর্দখল করেছে চার বছর পর। আলেপ্পোর যুদ্ধ আসলেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্ট্র্যাটেজিক পরাজয়। তাই তারা ও তাদের তাঁবেদার মিডিয়া হাহাকার করছে।রাশিয়ার যোগদানের পর থেকে সিরিয়া সংকটে আরো একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তুরস্কের শিবির বদল। তুরস্ককে ব্যবহার করেই প্রধানত আলেপ্পোসহ সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে আল-কায়েদা, আল-নুসরা প্রভৃতি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ঢুকিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব।তারা ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’ সেজে সিরিয়ায় রয়েছে এবং একটানা সরকারবিরোধী সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।যে তুরস্ক তাদের সীমান্ত সর্বক্ষণ খুলে রেখে তাদের জন্য অস্ত্র সরবরাহ করেছে,সেই তুরস্ক কয়েক মাস আগে হঠাৎই বেসুরো গাইতে শুরু করে। ওয়াশিংটন বুঝতে দেরি করেনি। একদা তাদের বিশ্বস্ত এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সেনা-অভ্যুত্থান হয়, আর সেটা সম্পূর্ণ মার্কিন মদদেই। ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ফলে তুরস্ক রাশিয়ার আরো কাছাকাছি চলে আসে।জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ১৫ দিনের মধ্যেই মস্কোতে বৈঠকে মিলিত হন এরদোয়ান ও পুতিন। বৈঠকের পরই দীর্ঘদিনের চেনা সুরের বদলে অন্য সুরে বলে ওঠেন এরদোয়ান সিরিয়া সংকট সমাধানে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রাশিয়াকে প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের কপালের ভাঁজ চওড়া হয়।এখন প্রশ্নের মুখে তুরস্ক-ন্যাটো সম্পর্ক।ফের রুশ-তুরস্কের নয়া সম্পর্ককে ঝটকা দিতেই আংকারায় রুশ রাষ্ট্রদূতকে হত্যার ঘটনা ঘটল।কিন্তু রাশিয়া ও তুরস্ক কোনো প্ররোচনায় পা দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।তাই যৌথ তদন্তদল গঠিত হয়েছে।আর আজ শুধু রাশিয়া নয়,ইরানকেও সঙ্গে নিয়ে সিরিয়া প্রশ্নে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক সারা শেষ।২১ তারিখের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে তুরস্কের বিদেশমন্ত্রীর সাফ কথা, আলেপ্পোর সাফল্য সিরিয়ার বাকি অশান্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে দিতে হবে।সিরিয়াকে মুক্ত করতে হবে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে। চীনের শীর্ষস্থানীয় এক পত্রিকায় মঙ্গলবার অভিযোগ করে বলা হয়েছে,সিরিয়ায় ঠাণ্ডা লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।প্রতিপক্ষ দেশ দুটির উপলব্ধি করা উচিত,ঠাণ্ডা লড়াইয়ের যুগ গত হয়েছে এবংতাদের শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে এ সঙ্কটের সমাধানে এগিয়ে আসা উচিত বলেও মন্তব্য করেছে পত্রিকাটি।সম্প্রতি সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুশ বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর চীনা সরকারি পত্রিকায় এই সংবাদ ভাষ্য প্রকাশিত হয়।ক্ষমতাসীন দলের দৈনিক দা পিপলস ডেইলি’তে মঙ্গলবার সিরিয়ার ওপর প্রকাশিত সংবাদভাষ্যটিতে বলা হয়েছে,সিরিয়া নিয়ে ঠাণ্ডা লড়াইয়ের দিনগুলোর মত কূটনৈতিক ও সামরিক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।পত্রিকাটির অভিযোগ ওয়াশিংটন ও মস্কো তৃতীয় একটি দেশের মাটিতে প্রভাব বিস্তারের জন্য সব ধরণের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।প্রতিদ্বন্দ্বী ওই দেশ দুটি পুরনো দিনের ঠাণ্ডা লড়াইয়ের মতই পরস্পরের বিরুদ্ধে আঘাত ও প্রতিঘাতের খেলায় মেতে ওঠেছে।কিন্তু আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে রয়েছি।দেশ দুটির এই বাস্তবতা মাথায় রাখা উচিত।সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে মস্কো ও ওয়াশিংটনে র নগ্ন হস্তক্ষেপেরও সমালোচনা করেছে পিপলস ডেইলি।গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সিরিয়ায় জিহাদিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু কেরছে রাশিয়া।তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এই হামলার সমালোচনা করে বলেছে,সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বশির আল আসাদকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতেই এ হামলা শুরু করেছে মস্কো।এতদিন ধরে সিরিয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট।তারা আসাদের পতনকেই সিরিয়া সঙ্কটের একমাত্র সমাধান বলে মনে করে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধকে ‘প্রক্সি ওয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করে পিপলস ডেইলি বলছে,ওই দেশ দুটির এ যুদ্ধে সরকার বা বিরোধী দল কারো পক্ষ না নিয়ে এর একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চালানো উচিত।পত্রিকাটির ভাষায়,‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মত বৃহৎ দেশগুলো, যাদের সিরিয়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে, তাদের জরুরি ভিত্তিতে এই সঙ্কটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা উচিত।মঙ্গলবার ‘জং শেং’(চীনের কণ্ঠ) নামের এক কলামে ওই ধারাভাষ্যটি প্রকাশিত হয়।এই কলামটিতে বিশ্ব রাজনীতির ওপর প্রায়ই নানা মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে থাকে।মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল হলেও ওই অঞ্চলে কূটনৈতিকভাবে কখনোই তেমন প্রভাবশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেনি চীন।যদিও শুরু থেকেই তারা বলে আসছে, সামরিকভাবে সিরিয়া সঙ্কটের সমাধান করা যাবে না।স্বাভাবিক।আজ রাশিয়া,তুরস্ক,ইরান যেখানে তাদের সাফল্য দেখছে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব তাদের চরম বিপর্যয় দেখছে।আসলেই এক জটিল রাজনীতির পাশা খেলা চলছে সিরিয়াকে ঘিরে।আজ পাঁচ বছর পরে সিরিয়ায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে এক লাখের বেশি অসামরিক ব্যক্তি।এর মধ্যে আছে ১৫ হাজার শিশু ও ১২ হাজার নারী।দেশের মোট দুই কোটি ৩০ লাখ নাগরিকের মধ্যে ৫০ লাখ মানুষ দেশত্যাগ করে শরণার্থী হয়েছে এবং আরো ৬৫ লাখ হয়েছে গৃহহীন।যুদ্ধকবলিত অঞ্চলগুলোর সব শিশুই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।২০১১ সালের পর যারা জন্মেছে তারা শুধু যুদ্ধই দেখছে,বোমা হামলাই দেখছে।এটাই তাদের শৈশবের জগৎ।একটানা বোমা হামলা হবে।তা থেকে বাঁচার জন্য দৌড়াতে হবে,মাটির নিচে আশ্রয় নিতে হবে, মাঝেমধ্যেই অভুক্ত থাকতে হবে।সিরীয় শিশুদের জন্য এটাই রোজনামচা। আলেপ্পোর বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে যে কোনো সময়ই হিজবুল্লাহসহ ইরান, আফগানিস্তান ও ইরাকের শিয়া বাহিনীর সহযোগিতায় তা দামেস্ক সরকারের পূর্ণ করায়ত্ত হতে যাচ্ছে। সিরিয়া সামনে এক মারাত্মক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। সিরিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করণীয় কাজের সুযোগ ক্রমেই হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। আর এজন্য সে পূর্ব আলেপ্পোর আল-নুসরা ও আইএস দখলদারী এলাকায় বেসামরিক লোকদের ওপর রাশিয়ার বিমান হামলার ব্যাপারে ‘সতর্ক’ করে দিয়েছে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে পূর্ব আলেপ্পোর ধ্বংসযজ্ঞ ও মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের সংবাদ ও তার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হচ্ছে। দামেস্কের সরকারি বাহিনী ও জিহাদিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বলবৎকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে সরকারি বাহিনীর ওপর বিমান হামলা চালিয়ে চুক্তির বরখেলাপ করে, তা অনেকটা উহ্যই থেকে যায়।বস্তুত এ কারণেই ভেঙে যায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য আসতে থাকে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা রাশিয়াকে এই বলে হুশিয়ার করে দেন যে, রাশিয়ার সৈন্যদের শিগগিরই ‘লাশ’ হয়ে সিরিয়া ছাড়তে হবে। আরো বলা হয় যে, মস্কোর সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হলে তারা তাদের উপসাগরীয় এলাকার সহযোগীদের (সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা) মাধ্যমে বিদ্রোহীদের (আল-নুসরা ও আইএস) আরো উন্নত অস্ত্র সরবরাহ করবে।অর্থাৎ আফগান মুজাহিদিন দের যে বিমান বিধ্বংসী মিসাইল (ম্যানপ্যাড) সরবরাহ করা হয়েছিল, সেই অস্ত্র বিদ্রোহীদের দেওয়া হবে। সিরিয়ায় রাশিয়ার আসল মতলব কী?নোংরা কাজ অন্য কেউ করে দিলে আপত্তির কারণ থাকতে পারে না৷ কিন্তু অভিযোগ, জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর বদলে রুশ বোমারু বিমান সিরীয় বিদ্রোহীদের উপর হামলা চালাচ্ছে৷ রাশিয়া তা নস্যাৎ করে দিয়েছে৷ রাশিয়ার বক্তব্য, তারা সিরিয়ার সরকারের আমন্ত্রণেই হামলা চালাচ্ছে৷ অর্থাৎ বাশার আল-আসাদ সরকারকে সরাসরি সাহায্য করাই রাশিয়ার উদ্দেশ্য৷ রাশিয়াই আইএস-এর মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বেশি আন্তরিক৷ নিজেদের বক্তব্যের সম্মেলনে তারা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে৷কিন্তু ওয়াশিংটনের অভিযোগ, আইএস-এর বদলে বিদ্রোহীদের দমন করাই পুটিন ও আসাদের মূল উদ্দেশ্য৷ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সরাসরি এ বিষয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন৷ভবিষ্যতে সিরিয়ায় রুশ-মার্কিন সংঘাতের আশঙ্কা দূর করতে দুই দেশের সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে বৈঠকে বসতে চলেছে৷সিরিয়া সংকটের জটিলতা ও বিভিন্ন পক্ষের স্বার্থের সংঘাতের বিষয় নিয়ে একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেছেন অনেকে৷সিরিয়াকে ঘিরে অ্যামেরিকা, রাশিয়া ও ইরানের স্বার্থের সংঘাত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল৷ওবামা আন্তর্জাতিক সংকটগুলি থেকে দূরে থাকার নীতি নেওয়ার ফলে শূন্যস্থান পূরণ করতে পুটিন এগিয়ে এসেছেন এই অভিযোগের ভিত্তিতে এক ব্যাঙ্গচিত্র শেয়ার করেছেন অনেকে৷

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ৩ বছর কেমন কাটলো?

তিন বছর হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এ সময় নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। অর্জন করেছেন অনেক অভিজ্ঞতা। মন্ত্রী থাকাকালে তার ভালো ও খারাপ দিকগুলোর কথা বললেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার ভালো লাগার দিক হল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি আমাকে কোনো দিন বলেননি যে এই লোকটাকে ছেড়ে দাও। সব সময় বলেছেন, অপরাধী যেই হোক তাকে ধর।আসাদুজ্জামান খাঁন আরো বলেন, অনেক জায়গায় অনেক ক্ষেত্রে অনেক বিধি নিষেধ থাকে যে, ওমুক রাজনৈতিক নেতাকে ছেড়ে দাও, কেন ধরেছো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কোনোদিন আমাকে এ ধরনের কথা বলেননি।মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নতুন নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাতে এক প্রশ্নের জবাবে এ সব কথা বলেন তিনি। চ‌্যালেঞ্জের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চ্যালেঞ্জ অনেক। হঠাৎ হঠাৎ নানান ধরনের ষড়যন্ত্র হয়। তার মোকাবেলা করতে হয়। কারণ বাংলাদেশে ষড়যন্ত্রের অভাব নেই। আমাদের ষড়যন্ত্র আজকের নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে যে জায়গায় নিয়ে গেছেন। তাতে ষড়যন্ত্র হবে না, এমন চিন্তাই আমরা করি না। আমাদের ষড়যন্ত্র হচ্ছে, হতে থাকবে।সৌজন্য সাক্ষাতে ক্র্যাব সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলমসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। –

সুপ্রিম কোর্টের সামনে মূর্তি স্থাপন বন্ধ না করলে সবার আগে প্রয়োজনে আমার বুকের তাজা রক্ত দিব- ওলামা লীগ সভাপতি

বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগসহ সমমনা ১৩টি ইসলামিক দলের উদ্যোগে আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নেতৃবৃন্দ ৪ দফা দাবী তুলে ধরেন।
মানববন্ধনে ওলামা লীগের সভাপতি মাওলানা আখতার হুসাইন বুখারী বলেন, প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের সামনে মূর্তি স্থাপন বন্ধ না করলে ওলামা লীগ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। প্রয়োজনে সবার আগে আমার বুকের তাজা রক্ত দিব। তারপরও সুপ্রিম কোর্টের সামনে গ্রীক দেবীর মূর্তি স্থাপন বন্ধ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, এদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ, যদি কিছু তৈরী করতেই হয় তাহলে পবিত্র কুরআন শরীফ বা পবিত্র কালেমা শরীফের স্থাপত্য নির্মাণ করা হোক।
ওলামা লীগের কার্যনির্বাহি সভাপতি আলহাজ্জ হাফেজ আব্দুস সাত্তার বলেন, সারাদেশে আমাদের সাড়ে তিন লাখ কর্মী রয়েছে। যদি সুপ্রিমকোর্টের মূর্তি স্থাপন বন্ধ করা না হয় তাহলে সারাদেশে আমাদের সব কর্মী রাস্তায় নেমে আসবে। কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে। এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিকে হেয় করা, অবজ্ঞা করা চলবে না। অনতিবিলম্বে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করতে হবে।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রীক দেবী থেমিসের মূর্তি স্থাপন বন্ধ করতে হবে। গত কয়েকদিন থেকে বিভিন্ন সংগঠন এ বিষয়টি নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে পেপার পত্রিকায় বক্তৃতা, বিবৃতি দিচ্ছে এবং মিছিল সমাবেশ করে যাচ্ছে। সরকার সমর্থিত ওলামারাও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম- ফেসবুকেও সমালোচনার ঝড় বইছে। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দেয়ার অপচেষ্ঠা বন্ধ করতে হবে। এর পেছনে যারা জড়িত তাদের খুজে বের করতে হবে এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে সরকার বিরোধী অপতৎপরতা বন্ধে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে গ্রীক দেবীর মূর্তি সরিয়ে ফেলতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ট হিসেবে মুসলমানদের কোন ধর্মীয় নিদর্শন এখানে স্থাপন করা উচিত ছিল। যাতে সরকারকে আরো জনপ্রিয় ও ধর্মপ্রাণদের সরকার হিসেবে তুলে ধরা যায়।
বক্তারা বলেন, প্রধান বিচারপতি সুপ্রিমকোর্টে মূর্তি স্থাপন করছেন এটা নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি।’ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার সেটা বলেছেন। অন্যান্য আইনজীবীরাও বলেছেন, এই ভাস্কর্য নিয়ে আইনজীবী এবং সাধারণ মানুষের আপত্তি রয়েছে। (দৈনিক আমাদের অর্থনীতি, ১৩ই জানুয়ারী) দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণও বলেছেন সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে মূর্তি স্থাপন বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সর্বোপরি ধর্মীয় চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী তথা মূর্তি স্থাপন ইসলাম ধর্মে সম্পূর্ণ হারাম। তারা বলেছেন এ ভাস্কর্য স্থাপন দেশের মানুষ কোনোভাবেই সমর্থন করবে না। তারপরও প্রধান বিচারপতি তার নিজস্ব চিন্তা চেতনায় বিধর্মী মূর্তি মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। গ্রীক দেবী এদেশের জনগণের সংস্কৃতিক ঐতিহ্য নয়। বিশেষ করে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের সংস্কৃতির সম্পূর্ণ খিলাফ। ভারতে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাবধারা মূল্যায়ন করা হয়, তবে এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ভাবধারা মূল্যায়ন করা হবেনা কেন? এটা সংবিধানের ২(ক) অনুচ্ছেদ তথা রাষ্টধর্ম ইসলামেরও বিরোধী।
বক্তারা বলেন, ভারতীয় টিভি চ্যানেল ও সিরিয়াল আমদানির সুযোগ দিয়ে সরকারই এদেশে অবাধ ভারতীয় সংস্কৃতির লালন ও প্রসার করছে। যা সংবিধানের ২৩নং অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট খেলাপ। সংবিধানের ২৩নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।’
বক্তারা বলেন, ভারতের খবরদারী, চোখরাঙ্গানী সব উপেক্ষা করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নেপাল ভারতের ৪২টি টিভি চ্যানেল বন্ধ করেছে। তাহলে পরকীয়ার জন্য সন্তান হন্তারক মা তৈরীকারী, পিতা-মাতা হন্তারক সন্তান তৈরীকারী পারিবারিক বন্ধন ও শান্তি ধ্বংসকারী, কিশোর অপরাধী তৈরীকারী, আত্মহত্যা ও হত্যায় উদ্বুদ্ধকারী, ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি সৃষ্টিকারী স্টার জলসা, জি বাংলা, স্টার প্লাস, সনি টিভি, জিটিভি, জি’সিনেমাসহ সব ভারতীয় টিভি চ্যানেল বাংলাদেশ বন্ধ হবেনা কেন? অবিলম্বে এসব ভারতীয় টিভি নিষিদ্ধ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, নতুন পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলাম অবমাননাকর হিন্দুত্ববাদী ও নাস্তিক্যবাদী পাঠ্যক্রম বাদ দেয়া হয়েছে বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে সামান্য ব্যতীত বর্তমান পাঠ্যপুস্তক থেকে বিতর্কিত হিন্দুত্ববাদ বাদ দেয়া হয়নি। বরং পাঠ্যপুস্তকে তা বহাল তবিয়তেই আছে। শুধু ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ে বিভিন্ন আয়াত শরীফ, হাদীস শরীফ এর মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ২৪টি ভূল করা হয়েছে। বাংলাভাষার স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জণবর্ণ মিলে মোট ৪৯টি বর্ণের উদাহরণ দিতে ৩৪%-এরও বেশি ইসলাম ধর্ম অবমাননাকর অনৈসলামিক হিন্দুত্ববাদী ও বিজাতীয় সংস্কৃতি শেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাংবিধানিক অধিকার মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষা না করে উপজাতি নৃ-গোষ্ঠীর ভাষায় পাঠ্যবই ছাপানো হয়েছে। এমনকি শিশুদের ১ম শ্রেণীর পাঠ্য বইয়ে ষড়যন্ত্রমূলক ম্যাসেজ হিসেবে ছবির মাধ্যমে কোমলমতি শিশুদের শিশুবেলাতেই যৌনতার পাঠ দেয়া হয়েছে।
বক্তারা বলেন, কিছু মিডিয়া জনকণ্ঠ, সংবাদ, কালেরকণ্ঠ, বিডিনিউজ, প্রথম আলো এবং বামপন্থী মহল যারা প্রতিনিয়ত হিন্দুত্ববাদ, নাস্তিক্যবাদ তোষণ করে, তারা পাঠ্যপুস্তকে সামান্য হিন্দুত্ববাদ বাদ দেয়াকে মৌলবাদ আর জামাত-হেফাযতের নামে মুসলমানদের ধর্মীয় অনূভূতির বিরুদ্ধে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তারা পাঠ্যপুস্তকে গুটি কয়েক ইসলামী ভাবধারার প্রবন্ধকে মৌলবাদের উগ্রপন্থা বলেও আখ্যায়িত করেছে। সাম্প্রদায়িক পাঠ্যবই বলেও আখ্যায়িত করেছে। অথচ জামাত-জোট, হেফাযতীরা কিংবা মৌলবাদ ‘ইসলাম ও মুসলমান’দের প্রতিনিধিত্ব করেনা। তাছাড়া ২০১৬ সালের পুরো পাঠ্যসূচিই ছিল হিন্দুত্ববাদ ও নাস্তিক্যবাদী সাম্প্রদায়িকতায় ভরপুর। এবারের পাঠ্যপুস্তকেও সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদের জয়জয়কার। অথচ সাম্প্রদায়িক মিডিয়া ও মহল তখন এসব বই ও প্রবন্ধকে হিন্দু মৌলবাদী বই বা সাম্প্রদায়িক পাঠ্যবই বলেনি এবং এখনো বলছেনা। পাঠ্যপুস্তকে সাধারণ ভূল নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও ইসলামী বিষয়ে মারাত্মক ভূলগুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বামপন্থী মিডিয়া ও মহল প্রচার করছে নতুন পাঠ্যপুস্তকের বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রবন্ধ কবিতা ঢুকানো হয়েছে। মূলত এর নামে তারা বিএনপি জামাত-জোটের নামে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের পাঠ্যসূচীই বাদ দিতে চায়। কারণ উল্লেখিত সবগুলো প্রবন্ধ কবিতা ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও পাঠ্য ছিল।
বক্তারা বলেন, নতুন পাঠ্যক্রমে ‘ও’ অক্ষরে ‘ওড়না’ শব্দ ব্যবহার নিয়ে একটি কুচক্রী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। ওড়না মুসলমানদের ধর্মীয় পোশাক হওয়ায় তারা সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ করছে। অথচ একই পাঠ্যক্রমে ঋ-তে শেখানো হচ্ছে ‘ঋষি’। র-তে শেখানো হচ্ছে ‘রথ টানি’। এরুপ আরো অনেক হিন্দুয়ানী শব্দ। সেক্ষেত্রে তারা সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ করছেনা। শুধু তাই নয়, পাঠ্যপুস্তকে ‘ওড়না’ শব্দ থাকায় নাকি লিঙ্গ বৈষম্য হয়েছে। নাস্তিক্যবাদীদের মতে “একেবারে ছোট বয়স থেকে নারী ও পুরুষের পার্থক্য তৈরি করে এমন কোন শব্দ ব্যবহার করা উচিৎ নয়।” তাহলে তো স্কুলের ছাত্র ও ছাত্রীদের আলাদা ইউনিফর্মও তুলে দিতে হবে! কারণ ছেলে ও মেয়েদের আলাদা ইউনিফর্ম তাদের মধ্যে পার্থক্য তৈরী করছে এবং লিঙ্গ বৈষম্য শিখছে। পাশপাশি ওড়না বিরোধীদের বক্তব্য অনুযায়ী তাহলে মেয়েরা অন্তর্বাস পরাতে পারবেনা। সেলোয়ার কামিজ পরাতে পারবেনা। এভাবেও তো তাহলে লিঙ্গ বৈষম্য তৈরী হয়! নারী ও পুরুষের পার্থক্য তৈরি হয়! নাস্তিক্যবাদীরা কি এগুলো বাদ দিবে? এছাড়া বাংলার নারীদের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া, বঙ্গমাতা ফজিলতুন নেছা, বর্তমান কালে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, কৃষিমন্ত্রী সবাই মাথায় শাড়ি বা ওড়না দিয়ে মাথা ঢাকেন। এভাবেই তো তারা দেশ চালাচ্ছেন। ওড়না কি তাদের নারী প্রগতিতে কোন অন্তরায় হয়েছে?
বক্তারা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় মুসলমানদের ধর্মীয় স্বকীয়তা নিয়ে আমরা চরম আতঙ্কিত। অবিলম্বে পাঠ্যপুস্তক থেকে সব হিন্দুত্ববাদ ও নাস্তিক্যবাদ প্রত্যাহার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে হিন্দু নিয়োগে আধিপত্য বন্ধ করতে হবে। এলক্ষ্যে আগামী ১৫ জানুয়ারী আমরা পাঠ্যপুস্তক ভবন ঘেরাও কর্মসূচী পালন করব।
বক্তারা উন্নয়নের মানসকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ট নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে অবিরাম গতিতে এগিয়ে চলায় এবং ব্যাপক সাফল্যের সাথে সরকার তিন বছর পূর্ণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রাণঢালা উষ্ণ অভিনন্দন জানান।
সমন্বয় করেন, পীরজাদা, পীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বর্ষীয়ান বিপ্লবী জননেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী, (পীর সাহেব, টাঙ্গাইল), সভাপতি- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন- আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, সাধারণ সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার, সভাপতি- সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ, মাওলানা মুহম্মদ শওকত আলী শেখ ছিলিমপুরী, দপ্তর সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, মাওলানা মুজিবুর রহমান চিশতি সহ সভাপতি বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ। হাফেজ মাওলানা মোস্তফা চৌধুরী বাগেরহাটি হুযূর-সভাপতি বাংলাদেশ এতিমখানা কল্যাণ সমিতি, হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল জলিল, ডা. সাইফুদ্দীন মিয়াজি, আল্লামা পীরজাদা পীর আলহাজ্জ হাফেয ক্বারী মাওলানা কাজী মাসুদুর রহমান- সভাপতি বাংলাদেশ ইমাম মুয়াজ্জিন মুসল্লী দ্বীনি কল্যাণ পরিষদ, ডাক্তার মাওলানা মুহম্মদ সাইফুদ্দিন মিয়াজী, মাওলানা আব্দুর রহিম শেরপুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ চেয়ারম্যান- আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার। মিছিল শেষে শহীদ বঙ্গবন্ধু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রূহের মাগফিরাত কামনা করে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হায়াতে তৈয়বার জন্য দোয়া মোনাজাত করেন- আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী।
বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ, জাতীয় কুরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ওলামা মাশায়েখ ঐক্যজোট, বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা পরিষদ, কেন্দ্রীয় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, বাংলাদেশ, হাক্কানী আলেম সমাজ, জাতীয় ওলামা পরিষদ, বাংলাদেশ এতিমখানা কল্যাণ সমিতি, ইমাম মোয়াজ্জিন কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ ফেৎনা প্রতিরোধ কমিটি,

বেগম জিয়ার পরবর্তী তারিখ ১২ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছেন আদালত

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থন এবং  জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নতুন করে একজনের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য পরবর্তী তারিখ ১২ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছেন আদালত। ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদার আজ শুনানি শেষে এ দিন ধার্য করেন। আজ খালেদার আইনজীবীরা দুই মামলায় সময় চেয়ে আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাক্ষীর শপথ গ্রহণ সঠিকভাবে হয়নি মর্মে একটি আবেদন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে ১২ই জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেন। অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার প্রথম অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নূর আহমেদকে সাক্ষী হিসেবে হাজির করার জন্য আদালতে আবেদন করেন খালেদার আইনজীবীরা। আদালত নূর আহমেদকে ১২ই জানুয়ারি হাজিরের জন্য সমন জারির নির্দেশ দেন। আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল। খালেদার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, আবদুর রেজাক খান, এজে মোহাম্মদ আলী, মাহবুব উদ্দিন খোকন, এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
দুই মামলায় হাজিরা দিতে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে খালেদা জিয়া রওনা হন। সকাল সাড়ে ১১টায় পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে পৌঁছেন তিনি। ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী ভবনে বিশেষ এজলাসে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলা দুটির বিচারকাজ চলছে। এর আগে গত বছর ২৯ ডিসেম্বর আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ জানুয়ারি আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের তারিখ ধার্য করে। এদিন আদালতে হাজির না হলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করা হবে বলে আদালত জানায়। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক হারুনুর রশিদ মামলাটি করেন।

ফুলবাড়ীয়ায় গণতন্ত্রের বিজয় উপলক্ষ্যে র‌্যালী ও সমাবেশ


ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ৫ জানুয়ারী গণতন্ত্রের বিজয় উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে র‌্যালী পূর্ব আলোচনা সমাবেশে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মোসলেম উদ্দিন এড. এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আঃ মালেক সরকারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক এড., পৌর মেয়র গোলাম কিবরিয়া, এড. কেবিএম আমিনূল ইসলাম খাইরুল, উসমান গণি, কামরুজ্জামান জামান, আঃ মালেক, আঃ কদ্দুস, বছির আহম্মেদ, হারুন অর রশিদ, ছাত্রলীগ সভাপতি মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকির, সম্পাদক গোলাম সারোয়ার প্রমুখ। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এটিএম মহসিন শামীম, ইউপি চেয়ারম্যান এসএম সাইফুজ্জামান, শামছুল হক, ময়েজ উদ্দিন তরফদার, তাজুল ইসলাম বাবলু, এড. মফিজ উদ্দিন মন্ডল।

খাগড়াছড়িতে পুলিশের বাঁধায় ৫ জানুয়ারী গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করেছে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি

বিপ্লব তালুকদার: খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের উদ্যোগে“৫ জানুয়ারী গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করেছে জেলা বিএনপি। খাগড়াছড়ি জেলা ক্ষমতা জবর দখল করে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকা যায় না উলেøখ্য করে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কর্মসংস্থান বিষয়ক সহ-সম্পাদক ওয়াদুদ ভূইয়া বলেছেন, শেখ হাসিনার পতন অচিরেই ঘটবে। স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের ন্যায় শেখ হাসিনারও অবৈধ আখড়ে ধরা ক্ষমতার পতন অনিবার্য বলে তিনি উলেøখ্য করেন।
সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের উদ্যোগে“৫ জানুয়ারী গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন কালো পতাকা মিছিল পুলিশী বাঁধায় জেলা শহরের কলাবাগানে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি গণতন্ত্র পুনোর উদ্ধারে সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহবান জানান। এসময় বক্তব্য রাখেন, জ্যোষ্ঠ সহ-সভাপতি প্রবীন চন্দ্র চাকমা, সাধারণ স¤পাদক আবু ইউসুফ চৌধুরী প্রমূখ।এসময় বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে কালো পতাকা মিছিল করতে চাইলে কলাবাগানে পুলিশী বাঁধার মূখে পড়ে। পরে নেতাকর্মীরা সেখানেই কালো পতাকা হতে মিছিল করে সমাবেশ করে।
এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি কংচাইরী মাষ্টার,মংসাথোয়াই চৌধুরী,যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক এমএন আফসার,আইন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মালেক মিন্টু,দপ্তর সম্পাদক মো: ইউসুফ,সহ-দপ্তর সম্পাদক আবু তালেব, জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক মাহবুব উল আলম সবুজ, জেলা ছাত্রদলের সি:সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম আসাদ, মহিলা দলের সভানেত্রী শাহনাজ বেগম রোজি, সম্পাদিকা কুহেলী দেওয়ান প্রমূখ।

আগামীতে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য———-মতিয়া চৌধুরী

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, হুংকার বাদ দেন, গণতন্ত্রের পথে আসেন। ২০১৯ সালে সংবিধান অনুযায়ী ইলেকশন হবে।সেই নির্বাচনে আপনারা আসতে বাধ্য হবেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী যুবলীগ আয়োজিত ৫ জানুয়ারী গণতন্ত্র রক্ষা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। ‘যে কোন মূল্যে সরকারের পতন ঘটাতে হবে’ খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের জবাবে মতিয়া চৌধুরী বলেন, আপনি পারেন নাই, এখন গুড়াগাড়া পোলাপান নিয়া হুকুম দিতাছেন। অনর্থক এই কোমলমতি বাচ্চাদের মাথাডা খাইয়েন না।
তিনি বলেন, আমরা জানি ২০১৪ সালে বেগম খালেদা জিয়া চক্রান্ত করেছিলেন, জঙ্গীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন ৫ জানুয়ারী নির্বাচন সংবিধানের বাধ্যবাধকতা শুধু নয় গণতন্ত্রকে সুসংগঠিত করার পদক্ষেপকে তিনি (খালেদা) ভন্ডুল করে দেবেন। পারেন নাই। পদ্মা সেতুতে দূর্নীতি হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পদ্মাসেতু করার আপনার সক্ষমতাই হয় নাই। নানা কলকাঠি নাড়ছেন। বিশ্বব্যাংক কইছে দুর্নীতি হইছে। কানাডার মাটিতে রায় হইছে পদ্মা সেতুতে কোন দূর্নীতি হয় নাই। এখন আপনি সাই ধরছেন। যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সাথে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আলোচনা


ঢাকা, ৭ পৌষ( ২১ ডিসেম্বর):
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সাথে আজ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম এর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপতি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিনিধিদলকে বঙ্গভবনে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি অপরিহার্য উপাদান। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব।
আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানোর জন্য কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির আলোচনার উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ উদ্যোগ নিযে রাষ্ট্রপতি যথাযথ অভিভাবকের ভ‚মিকা পালন করছেন। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রপতি একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন।
প্রতিনিধিদলের সদস্য কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বেগম নাসরীন কাদের সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীর প্রতিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রিন্সিপাল ইকবাল সিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, ময়মনসিংহ জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল এম এ রশিদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল হালিম সরকার লাল, টাঙ্গাইল জেলার সাধারণ সম্পাদক হাসমত আলী নেতা, যুব আন্দোলনের সভাপতি হাবিরুন নবী সোহেল, ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাতুল ইসলাম দীপ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফরিদ আহমেদ ও মহিলা নেত্রী মনোয়ার বেগম মনি, এডভোকেট রফিকুল ইসলাম এবং আবুল হোসেন মলিøক আলোচনাকালে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়–য়া, রাষ্ট্রপতির সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইনুর রহমান এবং রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সাথে লিবারেল

ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)’র আলোচনা

ঢাকা, ৭ পৌষ( ২১ ডিসেম্বর):
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সাথে আজ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)’র প্রেসিডেন্ট ড. অলি আহমদ, বীর বিক্রম এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত বিষযে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি প্রতিনিধিদলকে বঙ্গভবনে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখবে।
বঙ্গভবনে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানোর জন্য এলডিপি’র প্রেসিডেন্ট ড. অলি আহমদ রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি রাষ্ট্রপতির উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সমগ্র জাতি একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের দিকে তাকিয়ে আছে। তিনি আরো বলেন, অনেক সময় আইনের মাধ্যমে যা করা সম্ভব নয় আলোচনার মাধ্যমে তা করা সহজতর হয়। তিনি সার্চ কমিটি গঠনে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
প্রতিনিধিদলের সদস্য এলডিপি’র মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট আবদুল করিম আব্বাসী, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোহাম্মদ খলিলুর রহমান, প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, আবদুল গনি, মো. কামাল উদ্দিন মোস্তাফা কামাল যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, এডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী এবং তমিজ উদ্দিন টিটু আলোচনাকালে উপস্থিত ছিলেন।রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, রাষ্ট্রপতির সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইনুর রহমান এবং রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

দেশে আন্তর্জাতিকমানের ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে — স্বাস্থ্যমন্ত্রী


ঢাকা, ৭ পৌষ (২১ ডিসেম্বর) :
দেশে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে। সম্প্রতি চীন সফরকালে তিনি নিজেই সে দেশের সরকার ও উদ্যোক্তাদের কাছে বাংলাদেশে এধরনের একটি হাসপাতাল নির্মাণে সহায়তা চেয়েছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, খুব শীঘ্রই চীনের একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতাল নির্মাণে সমীক্ষা চালাতে বাংলাদেশে আসবে। এক্ষেত্রে দেশী বিদেশী উদ্যোক্তাদেরও স্বাগত জানাবে সরকার।
তিনি আজ রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে বিজয়ের মাস ও বিনামূল্যে ক্যানসার পরী্ক্ষা শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা মোয়াররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা আবুল কালাম আজাদ বক্তব্য রাখেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদেরও এগিয়ে আসা উচিত। তারা যদি নিজ উদ্যোগে সরকারি হাসপাতালে একটি ল্যাবরেটরি বা একটি ওয়ার্ড নির্মাণ করে দেন অথবা একটি আধুনিক মেশিন দান করেন তবে তাদের দেশের গরীব মানুষেরাই উপকৃত হবে।
হাসপাতালকে তীর্থস্থান মনে করে মানুষকে সেবা দিতে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রতি আহবান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সাথে রোগীদের সেবা দিন। নিজের ঘরবাড়ীর যত্ন  নিতে পারলে কর্মস্থল হাসপাতালেরও যত্ন নিতে কেন পারবেন না ? যে যন্ত্রপাতি দিয়ে রোগীর সেবা দিবেন সেই যন্ত্র সবসময় যেন সচল থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। নিয়মিত হাসপাতাল চত্বর, টয়লেট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গত বছর থেকে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে মাসব্যাপী বিমামূল্যে ক্যানসার পরীক্ষা কর্মসূচি পালন করে আসছে জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউট। এ মাসে এ পর্যন্ত ৫০০ নারীর ক্যানসার পরীক্ষা সস্পন্ন করেছে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি।

দুর্যোগকালে প্রতিবন্ধীদের নিরাপদ আশ্রয়দান, উদ্ধার ও পুনর্বাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে – সায়মা হোসেন

ঢাকা, ৭ পৌষ ( ২১ ডিসেম্বর)
প্রতিবন্ধীতা বান্ধব দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। বিশে^র সকল দেশের প্রতিবন্ধী সংস্থাসহ বিদেশী সহ¯্র অতিথিকে এ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হবে। প্রতিবন্ধীতা বান্ধব দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
আজ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকÿে টাস্কফোর্সের আহবায়ক সায়মা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীরবিক্রম, টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. শাহ্ কামাল, স্বাস্থ্য সচিব, স্থানীয় সরকার সচিবসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় কমিটির কাঠামো পরিবর্তন করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রীকে কমিটির চেয়ারম্যান এবং সায়মা হোসেনকে কমিটির প্রধান উপদেষ্টা করা হয়।
সভায় ঢাকা সম্মেলনে গৃহীত ৮ দফা ঘোষণা, এর কর্মপন্থা নির্ধারণ ও অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সায়মা হোসেন বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সকল ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, অংশগ্রহণ ও ÿমতায়ন বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন প্রতিবন্ধীরা এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। দুর্যোগে তারা আরও ঝুঁকিতে থাকেন। তাই তাদের নিরাপদ আশ্রয়দান, উদ্ধার ও পুনর্বাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সভা শেষে সংবাদকর্মীদের ব্রিফিংকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব বলেন, দেশে ১৫ লক্ষের মতো প্রতিবন্ধী আছে। এর ১০-১৫ শতাংশ জন্মগত প্রতিবন্ধী। বাকিরা বিভিন্ন দুর্যোগের শিকার হয়ে প্রতিবন্ধী হয়েছেন। এ সংখ্যা দৃশ্যমানহারে কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি বলেন, সকল প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষন দেয়া হবে।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »