Category: রাজনীতি

৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বন্ধ করে ভারত বাংলাদেশকে মরুভূমিতে পরিণত করতে চায়

সম্পাদকীয়

ভারত বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির প্রবাহ বন্ধ করে বাংলাদেশকে মরুভূমিতে পরিণত করতে প্রয়াস চালাচ্ছে। অথচ আমরা ভারতকে সকল ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক সুবিধা ও করিডোর দিয়ে দিচ্ছি সামান্য টাকার বিনিময়ে। বাংলােদেশের সামনে সুযোগ ছিল করিডোর ও বাণিজ্যিক সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে বাংলাদেশকে পানির সকল সুযোগ দিতে বাধ্য করা। সরকার এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক ভাবে পরাজিত হয়েছে। ভারতকে চাপে রাখতে চীন ও রাশিরয়ার সাথে বন্ধুত্ব যোরদার করা একান্ত প্রয়োজন। ভারতকে বন্ধু মনে করে যত ছাড় দেয়া হবে ততেই ভারত বাংলাদেশকে চাপে রাখবে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন পিছিয়ে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পুনর্নির্ধারণ

অনলাইন রিপোর্টার ॥ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন পিছিয়ে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পুনর্নির্ধারণ করেছেন আদালত।প্রধান আসামি খালেদার অনুপস্থিতিতে তার আইনজীবীদের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস্থায়ী আদালত।বৃহস্পতিবার অরফানেজ মামলায় খালেদা জিয়ার ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থন ও চ্যারিটেবল মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে অসমাপ্ত লিখিত বক্তব্য পাঠের দিন ধার্য ছিল। তবে তার অনুপস্থিতিতে সময়ের আবেদন জানান খালেদার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, আব্দুর রেজাক খান, জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। এর বিরোধিতা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।সময়ের আবেদনে খালেদার অসুস্থতা ও এ আদালত পরিবর্তনে উচ্চ আদালতে করা তার আবেদন শুনানির অপেক্ষায় থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

 

নওগাঁর মহাদেবপুরে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মানববন্ধন


নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুরে শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিক শারমিন আক্তারের নিয়োগ বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কমিটির সদস্যবৃন্দ। সোমবার প্রতিষ্ঠানের সামনে এ মানববন্ধন পালিত হয়। মানববন্ধন থেকে কমিটির সদস্য ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেন শারমিন আক্তার বিজয়পুর বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করা কালিন নানা অনিয়ম দূরনীতি ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসভনিয় আচরন করতেন। এমন অভিযোগে শালিশি বৈঠকে তার অনিয়ম ও দূরর্নীতি প্রমানিত হলে শাস্তি হিসাবে ১৫ জানুয়ারী তারিখে তাকে বাড়ি থেকে ২০ কি:মি: দূরে মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী করা হয়। কিন্তু এই বদলী আদেশের ৫ দিনের মধ্যে বাড়ি থেকে ২’শ মিটার দুরের বিদ্যালয়ে বদলী হয়ে আসেন। আর এতে কমিটির সদস্য, অভিভাবগ ও শিক্ষার্থীরা দারুণ উৎকন্ঠায় পড়েছেন। শারমিন আক্তার এই বিদ্যালয়ে যোগদান করলে শিক্ষার মান ক্ষুন্ন হবে তাই শারমিন আক্তার এই বিদ্যালয়ে যোগদান করলে সকল শিক্ষার্থীরা এ বিদ্যালয় থেকে অন্যত্র ভর্তি হবেন বলে জানান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। উল্লেখ্য, ২২ তারিখে যোগদানের আদেশ থাকলেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের বাধার মুখে আজ অবদি যোগদান করতে পড়েনি প্রধান শিক্ষিক শারমিন আক্তার।এব্যপারে শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল আজিজ আফানের জানান, শারমিন আক্তার একজন বিতর্কিত শিক্ষিকা। সে এ বিদ্যালয়ে যোগদান করলে তিলে তিলে গড়ে তোলা এ বিদ্যালয়টি ধ্বংস হয়ে যাবে। অভিভাবকরা কোন শিক্ষার্থী দিবেন না। শিক্ষার্থীর অভাবে প্রতিষ্ঠানটি অচল হয়ে পড়বে। এ প্রতিষ্ঠানকে টিকে রাখার স্বার্থেই আমাদের এ আন্দোলন। প্রধান শিক্ষিকা শারমিন আক্তার জানান, একটি মহল ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অন্যায় ভাবে তাকে বিদ্যালয়ে যোগদানে বাধা দিচ্ছে।
মহাদেবপুর উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মামুনুর রশিদ জানান, শারমিন আক্তারকে ওই বিদ্যাল কমিটি ও অভিভাবগ চাচ্ছেন না। তারা শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছে। এই আন্দোলনের মুখে আমাদের আর কি করার। তবে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কুটনীতিকদের মিয়ানমারের পরিস্থিতি বর্ণনা করেন

ঢাকা, 05 ফেব্রুয়ারি 2017: পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব একটি এইচ মাহমুদ আলী এমপি, আজ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মিয়ানমারের শরণার্থী ও অনথিভুক্ত মিয়ানমারের নাগরিকদের পরিস্থিতির উপর কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সদস্যদের কাছে তুলে ধরেন. প্রায় 60 (ষাট) রাষ্ট্রদূতরা / হাই কমিশনার / মিশনসমূহের প্রধানগণ / UNRC কার্যালয়, আইওএম, ইউএনএইচসিআর এবং অন্যান্য জাতিসংঘের সংস্থা থেকে ঢাকার বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন সেইসাথে প্রতিনিধি সম্মেলনে উপস্থিত হন. ব্রিফিং এছাড়াও উপদেষ্টা দ্বারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক পররাষ্ট্র মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব প্রমুখ graced ছিল.
ব্রিফিংয়েও মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধাপের কূটনৈতিক সম্প্রদায় অবহিত করেন যে, বাংলাদেশ সরকার সামনাসামনি মিয়ানমারের শরণার্থী ও অনথিভুক্ত মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিপীড়ন এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রবেশ গ্রহণ করেছে . এই বিপুল জনসংখ্যার সংখ্যায়ন বেশি 400,000 (সহ সদ্য 69.000 আগত) দুই নিবন্ধিত ক্যাম্প এবং অস্থায়ী বসতি কক্সবাজারে প্রধানত বসবাস করছেন. তিনি একটি চুক্তি 1991-92 সময় নেননি যা তিনি গভীরভাবে তার পদসামর্থ্যে জড়িত ছিল মাধ্যমে প্রায় 236.599 মায়ানমার শরণার্থীদের সফল প্রত্যাবাসন সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে.
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, কক্সবাজার জেলার মায়ানমার নাগরিকদের সংখ্যক উপস্থিতি শুধুমাত্র কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তাদের মানবিক সহায়তা পরিচালনা করতে কিছু এমনিতেই সৃষ্টি করেননি বরং উপর বিরূপ প্রভাব একটি সংখ্যা সৃষ্টি সার্বিক আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, কক্সবাজারের, ডেমোগ্রাফিক পরিবেশগত এবং মানবিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সংলগ্ন জেলায় এবং নেতিবাচক ইকো পর্যটন সম্ভাবনাকে প্রভাবিত. এই শহরের জনসংখ্যার প্রবন প্রকৃতি তুলে ধরে তিনি আরো বলেন যে নেটওয়ার্ক মানব পাচার ও চেতনানাশক ওষুধের চোরাচালান উদ্দেশ্যে এই এলাকায় আবির্ভূত হয়েছে.
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেছেন যে যেহেতু মিয়ানমারের শরণার্থী এবং অনথিভুক্ত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য কক্সবাজার জেলায় বিদ্যমান আবাসন ব্যবস্থা ইতিমধ্যে ওভার প্রসারিত হয়, নতুন আগমন জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে. এই অবস্থায়, যাতে মিয়ানমার নাগরিকদের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের Thengar চর, একটি দ্বীপ বঙ্গোপসাগরে হাতিয়া দ্বীপ পাশে এই জনসংখ্যা স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে. তিনি আশা প্রকাশ করেন যে অনথিভুক্ত মিয়ানমারের নাগরিকসহ মানবিক সহায়তা ভাল এক্সেস আছে মায়ানমার শরণার্থীদের সাহায্য করবে. পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবহিত অর্ডার জায়গা বাসযোগ্য করতে হবে, সরকারি আশ্রয়, স্কুল, হাসপাতাল / স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মসজিদ, রাস্তাঘাট ইত্যাদি এবং তিনি যে স্থানান্তরের সঞ্চালিত হবে যোগ উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয় পরে শুধুমাত্র সহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা করে . তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তিনি কূটনৈতিক সম্প্রদায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জায়গা দেখার জন্য একবার অবকাঠামো জায়গা হয় সক্ষম হবে.
এই প্রসঙ্গে তিনি দ্বিপাক্ষিক জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অনুরোধ দ্বীপ উন্নয়নশীল এবং তাদের বসবাসের নতুন জায়গা বাংলাদেশে বসবাসকারী মিয়ানমারের নাগরিকদের পরিবহনের সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এই স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাদের সমর্থন রেন্ডার. তিনি আরো উল্লেখ করেন, যখন এই মায়ানমার শরণার্থীদের জন্য একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা থাকে, বাংলাদেশে তাদের ঘরবাড়ি মিয়ানমারে ফিরে এই জনসংখ্যার প্রত্যাবাসন জন্য অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাই.
কূটনৈতিক কোরের ডিন ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত, মার্কিন রাষ্ট্রদূত, সৌদি রাষ্ট্রদূত UNRC অত্যন্ত কয়েক দশক ধরে এই জনসংখ্যা হোস্টিং এবং তাদের প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রশংসা করেন. সৌদি রাষ্ট্রদূত বিশেষ করে সৌদি আরবে মায়ানমার জনসংখ্যার উপস্থিতি উল্লেখ এবং স্পষ্টভাবে বাংলাদেশে তার সরকারের সমর্থন বিবৃত. সাধারণভাবে কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা সরকার স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং যখন এটি চূড়ান্ত করা হয় সাহায্য করতে তাদের প্রস্তুতি প্রকাশ. তারা তাদের আশা এই এই জনসংখ্যার বসবাস অবস্থায় উন্নতি আনব প্রকাশ. উপরন্তু প্রতিনিধিদের স্বীকৃত যে চূড়ান্ত সমাধান তাদের মাতৃভূমিতে মায়ানমার থেকে এই শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন এই ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ এবং এই ব্যাপারে তাদের পূর্ণ সমর্থন আশ্বাস দেন.
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে তাদের উপস্থিতি জন্য কূটনৈতিক সম্প্রদায় ধন্যবাদ জানান এবং তাদের এই বিষয়ে সব ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পাশাপাশি চলার আশ্বাস দেন.

পদ্মবীণা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে গুণীজন সম্মাননা ও শীতবস্ত্র বিতরণ

চট্টগ্রামের সৃজনশীল ও আর্ত-মানবতার সেবায় নিবেদিত সংগঠন পদ্মবীণা ফাউন্ডেশনের ১ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে গত ২১ জানুয়ারী শনিবার বিকাল ৩টায় ফটিকছড়ি উপজেলাধীন ১৭নং জাফত নগর ইউনিয়নের জাহানপুর গ্রামের কোঠের পাড়ের প্রয়াত ডা: অখিল কবিরাজের ভবনের সম্মুখে সংগঠনের চেয়ারম্যান ও গৃহায়ণ লি. এর চেয়ারম্যান সমাজদরদী ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক প্রকৌশলী মৃণাল কান্তি বড়–য়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন, ১৭নং জাফত নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হালিম, ১৮নং ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ুম ও সাবেক ছাত্রনেতা জাহান আমজাদ আলী আবদুল হাদী ইনষ্টিটিউশন পরিচালনা কমিটির সভাপতি এইচ এম আবু তৈয়ব।

সভায় বক্তারা বলেন, সমাজের উন্নয়নে ও অবহেলিত মানুষের কল্যাণে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পদ্মবীণা ফাউন্ডেশন দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। পদ্মবীণা ফাউন্ডেশনের সামাজিক কার্যক্রম সমাজকে বদলে দেবে। সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে ও সামাজিক উন্নয়নে পদ্মবীণা ফাউন্ডেশনের মতো আরও সমাজদরদী ব্যক্তিত্বদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সভায় বক্তারা আরো বলেন, জনহিতকর কল্যানে যারা জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করেন তারা সমাজে অমর ও স্মরণীয় হয়ে থাকেন। অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন, আলহাজ্ব মোঃ ইলিয়াছ চৌধুরী, আলহাজ্ব শেখ সামশুল আলম, আলহাজ্ব মোঃ আবদুল মান্নান চৌধুরী, আলহাজ্ব মোঃ বদিউর রহমান মুন্সি, মোঃ জহিরুল ইসলাম, এড. শ্যামল কান্তি বড়–য়া, মাষ্টার অসিম কান্তি বড়–য়া, মাষ্টার সাধন বড়–য়া, গোপাল চন্দ্র বড়–য়া, মন্সত্থ রঞ্জন বড়–য়া (মরনোত্তর), তীর্থ মিত্র উদয়ন বড়–য়া, মাষ্টার মনোরঞ্জন শীল, শিবু রঞ্জন বড়–য়া। সংগঠনের কর্মকর্তা সাজু বড়–য়ার সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিপ্লব বড়–য়া, সরিৎ চৌধুরী সাজু, শ্যামল বড়–য়া, সুপায়ন বড়–য়া, রীমা বড়–য়া, কঙ্কন বড়–য়া, মোস্তাফিজুর রহমান মানিক প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে ৫ গ্রামের ৩’শ জন হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাকা হরতালে পূর্ণ সমর্থন রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিতে হরতাল সফল করুন ———————————- আদর্শ নাগরিক আন্দোলন

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিতে ২৬ জানুয়ারি তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা কমিটির ডাকা অর্ধ দিবস হরতালে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিককে হরতাল সফল করার আহবান জানিয়েছেন আদর্শ নাগরিক আন্দোলন-Ideal Citizen Movement- কেন্দ্রীয় কমিটি।
আজ মঙ্গলবার সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আল-আমীন এক বিবৃতিতে বলেন, জাতীয় তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা কমিটির ডাকা অর্ধ দিবস (সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা) হরতাল দেশের মানুষের স্বার্থে ঘোষণা করা হয়েছে। এই হরতালে কোন ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ নেই। তাই আমরা এই হরতালে পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করছি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের ক্রমবর্ধামন চাহিদা নিরসনে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিকল্প নেই। তাই বলে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনেই করতে হবে কেন? আমরা দেশের সাধারণ নাগরিক সমাজ কোনোভাবেই তা সুন্দরবনের মতো নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিকে ধ্বংস করে বিদ্যুৎকেন্দ্র চাই না। যদি বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেই হয়, তবে রামপালে নয়, বরং পরিবেশ ঝুঁকি কম এমন কোনো স্থানে এ প্রকল্প স্থানান্তরের জন্য সরকার এবং উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের সম্পদ নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র। আর বিশ্বে সুন্দরবন একটাই। সুতরাং বাংলাদেশে সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নেই। এই সুন্দরবন ধ্বংস হলে কেউ তা তৈরি করতে পারবে না। তা সম্ভবও না। কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করার মতো অনেক জায়গা আছে। তাই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রামপাল থেকে সরিয়ে অন্য কোথাও নির্মাণ করা উচিত।
নেতৃবৃন্দ বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের কাছে অবিলম্বে এই প্রকল্পটি স্থানান্তরের জন্য আহবান জানিয়ে বলেন, দেশের জনগণ, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা এর বিরোধিতা করছে, তাই আমরাও জাতি ও বিশ্বের সাথে ঐক্যমত প্রকাশ করছি। যদি বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেই হয়, পরিবেশ ঝুঁকি কম এমন কোনো স্থানে এ প্রকল্প স্থানান্ত করার আহবান জানাচ্ছি।

গণতন্ত্র ক্লাবের সাথে জঙ্গি ক্লাবের আপস নয় — তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা, ৬ মাঘ (১৯ জানুয়ারি): গণতন্ত্র ক্লাবের সাথে জঙ্গি ক্লাবের আপস গণতন্ত্রের জন্য আত্মঘাতী বলে উল্লেখ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।আজ ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে শহিদ আসাদের ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (মা.লে.) আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দু’টি ক্লাব। একদিকে গণতন্ত্র ও প্রগতি ক্লাব অন্যদিকে জঙ্গি, যুদ্ধাপরাধী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী ক্লাব। এই দুই ক্লাবের আপস ফর্মুলা গণতন্ত্রের জন্য আত্মঘাতী হবে এবং জঙ্গিদের পক্ষে যাবে। সুতরাং দেশকে নিরাপদ করতে জঙ্গি-সন্ত্রাসী ক্লাবকে নির্মূল করার বিকল্প নেই।আগামী নির্বাচনের আগেই জঙ্গি ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের ষড়যন্ত্র থেকে জনগণকে বাঁচানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে হাসানুল হক ইনু বলেন, যদি বাংলাদেশে আর হলি আর্টিজান, শোলাকিয়া, ব্লগার হত্যা, বিদেশি হত্যা না দেখতে চান, তবে আগামী নির্বাচনের আগেই জঙ্গি ও তাদের সঙ্গীদের নির্মূল করতে হবে।সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে বিশিষ্ট কলাম লেখক ও বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ বিশেষ অতিথি হিসেবে এবং দলের পলিট ব্যুরোর সদস্য কমরেড লুৎফর রহমান, কমরেড মাহমুদুর রহমান বাবু প্রমুখ সভায় বক্তব্য রাখেন।

সিরিয়াকে ঘিরে পশ্চিমা রাজনীতি

রায়হান আহমেদ তপাদার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শুরু হওয়া স্নায়ুযুদ্ধ বা ঠাণ্ডাযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগী পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার মিত্র জোটের। এ স্নায়ুযুদ্ধ ছিল ক্ষমতা ও আদর্শগত দ্বন্দ্বের মিশেলে। নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব আশা করেছিল তারা স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটাতে পেরেছে।কিন্তু ২০১০-এর দশকে এসে নতুনরূপে বিশ্ব আবার স্নায়ুযুদ্ধের যুগে ফিরে এসেছে।তবে নতুন এই স্নায়ুযুদ্ধের সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর স্নায়ুযুদ্ধের পার্থক্য রয়েছে।সে সময় ক্ষমতার সঙ্গে ছিল আদর্শের মিশেল।আর এখন আদর্শ নয়, শুধুই ক্ষমতা ও বাজার দখলের লড়াই।বিশেষ করে এ বাজার হচ্ছে অস্ত্র ব্যবসার।নতুন এ স্নায়ুযুদ্ধোত্তর প্রতিদ্বন্দ্বী মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।ইউরোপে রাশিয়ার দোরগোড়ায় ইউক্রেন নিয়ে যা শুরু এখন মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে সিরিয়াযুদ্ধে তা প্রলম্বিত আকার নিয়েছে।প্রাগৈতিহাসিক শহর। চার বছর ধরে দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন।আক্রান্ত।যুক্তরাষ্ট্র,তুরস্ক,সৌদি ও কাতারের দেওয়া অর্থ ও অস্ত্রের মদদে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করে।এর পরের ধাপে তুরস্ক থেকে রীতিমতো প্রশিক্ষিত ভাড়াটে যোদ্ধারা শহর দখলে নেয়।শিয়া গণহত্যা ঘটানো হয় একাধিকবার। ছোট বাচ্চাদেরও শামিল করা হয় ওই ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’ গ্রুপে। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বন্দুক। তাদের শেখানো হয় কিভাবে সিরিয়া সরকারি সেনা দেখলেই গুলি করতে হয়।এভাবেই বেশ চলছিল।চুপ ছিল পশ্চিমা বিশ্ব।রাষ্ট্রসংঘে বসে কেউ এসব দেখতে পায়নি।এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে রাশিয়া সক্রিয়ভাবে সিরিয়া সংকটে যোগ দেওয়ার পর।এখন পাশা উল্টে গেছে। রাশিয়া ও ইরানের সাহায্যে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী আলেপ্পোর পূর্ব অংশ পুনর্দখল করেছে চার বছর পর। আলেপ্পোর যুদ্ধ আসলেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্ট্র্যাটেজিক পরাজয়। তাই তারা ও তাদের তাঁবেদার মিডিয়া হাহাকার করছে।রাশিয়ার যোগদানের পর থেকে সিরিয়া সংকটে আরো একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তুরস্কের শিবির বদল। তুরস্ককে ব্যবহার করেই প্রধানত আলেপ্পোসহ সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে আল-কায়েদা, আল-নুসরা প্রভৃতি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ঢুকিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব।তারা ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’ সেজে সিরিয়ায় রয়েছে এবং একটানা সরকারবিরোধী সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।যে তুরস্ক তাদের সীমান্ত সর্বক্ষণ খুলে রেখে তাদের জন্য অস্ত্র সরবরাহ করেছে,সেই তুরস্ক কয়েক মাস আগে হঠাৎই বেসুরো গাইতে শুরু করে। ওয়াশিংটন বুঝতে দেরি করেনি। একদা তাদের বিশ্বস্ত এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সেনা-অভ্যুত্থান হয়, আর সেটা সম্পূর্ণ মার্কিন মদদেই। ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ফলে তুরস্ক রাশিয়ার আরো কাছাকাছি চলে আসে।জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ১৫ দিনের মধ্যেই মস্কোতে বৈঠকে মিলিত হন এরদোয়ান ও পুতিন। বৈঠকের পরই দীর্ঘদিনের চেনা সুরের বদলে অন্য সুরে বলে ওঠেন এরদোয়ান সিরিয়া সংকট সমাধানে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রাশিয়াকে প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের কপালের ভাঁজ চওড়া হয়।এখন প্রশ্নের মুখে তুরস্ক-ন্যাটো সম্পর্ক।ফের রুশ-তুরস্কের নয়া সম্পর্ককে ঝটকা দিতেই আংকারায় রুশ রাষ্ট্রদূতকে হত্যার ঘটনা ঘটল।কিন্তু রাশিয়া ও তুরস্ক কোনো প্ররোচনায় পা দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।তাই যৌথ তদন্তদল গঠিত হয়েছে।আর আজ শুধু রাশিয়া নয়,ইরানকেও সঙ্গে নিয়ে সিরিয়া প্রশ্নে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক সারা শেষ।২১ তারিখের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে তুরস্কের বিদেশমন্ত্রীর সাফ কথা, আলেপ্পোর সাফল্য সিরিয়ার বাকি অশান্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে দিতে হবে।সিরিয়াকে মুক্ত করতে হবে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে। চীনের শীর্ষস্থানীয় এক পত্রিকায় মঙ্গলবার অভিযোগ করে বলা হয়েছে,সিরিয়ায় ঠাণ্ডা লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।প্রতিপক্ষ দেশ দুটির উপলব্ধি করা উচিত,ঠাণ্ডা লড়াইয়ের যুগ গত হয়েছে এবংতাদের শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে এ সঙ্কটের সমাধানে এগিয়ে আসা উচিত বলেও মন্তব্য করেছে পত্রিকাটি।সম্প্রতি সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুশ বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর চীনা সরকারি পত্রিকায় এই সংবাদ ভাষ্য প্রকাশিত হয়।ক্ষমতাসীন দলের দৈনিক দা পিপলস ডেইলি’তে মঙ্গলবার সিরিয়ার ওপর প্রকাশিত সংবাদভাষ্যটিতে বলা হয়েছে,সিরিয়া নিয়ে ঠাণ্ডা লড়াইয়ের দিনগুলোর মত কূটনৈতিক ও সামরিক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।পত্রিকাটির অভিযোগ ওয়াশিংটন ও মস্কো তৃতীয় একটি দেশের মাটিতে প্রভাব বিস্তারের জন্য সব ধরণের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।প্রতিদ্বন্দ্বী ওই দেশ দুটি পুরনো দিনের ঠাণ্ডা লড়াইয়ের মতই পরস্পরের বিরুদ্ধে আঘাত ও প্রতিঘাতের খেলায় মেতে ওঠেছে।কিন্তু আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে রয়েছি।দেশ দুটির এই বাস্তবতা মাথায় রাখা উচিত।সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে মস্কো ও ওয়াশিংটনে র নগ্ন হস্তক্ষেপেরও সমালোচনা করেছে পিপলস ডেইলি।গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সিরিয়ায় জিহাদিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু কেরছে রাশিয়া।তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এই হামলার সমালোচনা করে বলেছে,সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বশির আল আসাদকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতেই এ হামলা শুরু করেছে মস্কো।এতদিন ধরে সিরিয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট।তারা আসাদের পতনকেই সিরিয়া সঙ্কটের একমাত্র সমাধান বলে মনে করে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধকে ‘প্রক্সি ওয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করে পিপলস ডেইলি বলছে,ওই দেশ দুটির এ যুদ্ধে সরকার বা বিরোধী দল কারো পক্ষ না নিয়ে এর একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চালানো উচিত।পত্রিকাটির ভাষায়,‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মত বৃহৎ দেশগুলো, যাদের সিরিয়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে, তাদের জরুরি ভিত্তিতে এই সঙ্কটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা উচিত।মঙ্গলবার ‘জং শেং’(চীনের কণ্ঠ) নামের এক কলামে ওই ধারাভাষ্যটি প্রকাশিত হয়।এই কলামটিতে বিশ্ব রাজনীতির ওপর প্রায়ই নানা মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে থাকে।মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল হলেও ওই অঞ্চলে কূটনৈতিকভাবে কখনোই তেমন প্রভাবশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেনি চীন।যদিও শুরু থেকেই তারা বলে আসছে, সামরিকভাবে সিরিয়া সঙ্কটের সমাধান করা যাবে না।স্বাভাবিক।আজ রাশিয়া,তুরস্ক,ইরান যেখানে তাদের সাফল্য দেখছে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব তাদের চরম বিপর্যয় দেখছে।আসলেই এক জটিল রাজনীতির পাশা খেলা চলছে সিরিয়াকে ঘিরে।আজ পাঁচ বছর পরে সিরিয়ায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে এক লাখের বেশি অসামরিক ব্যক্তি।এর মধ্যে আছে ১৫ হাজার শিশু ও ১২ হাজার নারী।দেশের মোট দুই কোটি ৩০ লাখ নাগরিকের মধ্যে ৫০ লাখ মানুষ দেশত্যাগ করে শরণার্থী হয়েছে এবং আরো ৬৫ লাখ হয়েছে গৃহহীন।যুদ্ধকবলিত অঞ্চলগুলোর সব শিশুই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।২০১১ সালের পর যারা জন্মেছে তারা শুধু যুদ্ধই দেখছে,বোমা হামলাই দেখছে।এটাই তাদের শৈশবের জগৎ।একটানা বোমা হামলা হবে।তা থেকে বাঁচার জন্য দৌড়াতে হবে,মাটির নিচে আশ্রয় নিতে হবে, মাঝেমধ্যেই অভুক্ত থাকতে হবে।সিরীয় শিশুদের জন্য এটাই রোজনামচা। আলেপ্পোর বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে যে কোনো সময়ই হিজবুল্লাহসহ ইরান, আফগানিস্তান ও ইরাকের শিয়া বাহিনীর সহযোগিতায় তা দামেস্ক সরকারের পূর্ণ করায়ত্ত হতে যাচ্ছে। সিরিয়া সামনে এক মারাত্মক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। সিরিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করণীয় কাজের সুযোগ ক্রমেই হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। আর এজন্য সে পূর্ব আলেপ্পোর আল-নুসরা ও আইএস দখলদারী এলাকায় বেসামরিক লোকদের ওপর রাশিয়ার বিমান হামলার ব্যাপারে ‘সতর্ক’ করে দিয়েছে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে পূর্ব আলেপ্পোর ধ্বংসযজ্ঞ ও মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের সংবাদ ও তার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হচ্ছে। দামেস্কের সরকারি বাহিনী ও জিহাদিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বলবৎকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে সরকারি বাহিনীর ওপর বিমান হামলা চালিয়ে চুক্তির বরখেলাপ করে, তা অনেকটা উহ্যই থেকে যায়।বস্তুত এ কারণেই ভেঙে যায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য আসতে থাকে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা রাশিয়াকে এই বলে হুশিয়ার করে দেন যে, রাশিয়ার সৈন্যদের শিগগিরই ‘লাশ’ হয়ে সিরিয়া ছাড়তে হবে। আরো বলা হয় যে, মস্কোর সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হলে তারা তাদের উপসাগরীয় এলাকার সহযোগীদের (সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা) মাধ্যমে বিদ্রোহীদের (আল-নুসরা ও আইএস) আরো উন্নত অস্ত্র সরবরাহ করবে।অর্থাৎ আফগান মুজাহিদিন দের যে বিমান বিধ্বংসী মিসাইল (ম্যানপ্যাড) সরবরাহ করা হয়েছিল, সেই অস্ত্র বিদ্রোহীদের দেওয়া হবে। সিরিয়ায় রাশিয়ার আসল মতলব কী?নোংরা কাজ অন্য কেউ করে দিলে আপত্তির কারণ থাকতে পারে না৷ কিন্তু অভিযোগ, জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর বদলে রুশ বোমারু বিমান সিরীয় বিদ্রোহীদের উপর হামলা চালাচ্ছে৷ রাশিয়া তা নস্যাৎ করে দিয়েছে৷ রাশিয়ার বক্তব্য, তারা সিরিয়ার সরকারের আমন্ত্রণেই হামলা চালাচ্ছে৷ অর্থাৎ বাশার আল-আসাদ সরকারকে সরাসরি সাহায্য করাই রাশিয়ার উদ্দেশ্য৷ রাশিয়াই আইএস-এর মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বেশি আন্তরিক৷ নিজেদের বক্তব্যের সম্মেলনে তারা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে৷কিন্তু ওয়াশিংটনের অভিযোগ, আইএস-এর বদলে বিদ্রোহীদের দমন করাই পুটিন ও আসাদের মূল উদ্দেশ্য৷ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সরাসরি এ বিষয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন৷ভবিষ্যতে সিরিয়ায় রুশ-মার্কিন সংঘাতের আশঙ্কা দূর করতে দুই দেশের সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে বৈঠকে বসতে চলেছে৷সিরিয়া সংকটের জটিলতা ও বিভিন্ন পক্ষের স্বার্থের সংঘাতের বিষয় নিয়ে একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেছেন অনেকে৷সিরিয়াকে ঘিরে অ্যামেরিকা, রাশিয়া ও ইরানের স্বার্থের সংঘাত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল৷ওবামা আন্তর্জাতিক সংকটগুলি থেকে দূরে থাকার নীতি নেওয়ার ফলে শূন্যস্থান পূরণ করতে পুটিন এগিয়ে এসেছেন এই অভিযোগের ভিত্তিতে এক ব্যাঙ্গচিত্র শেয়ার করেছেন অনেকে৷

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ৩ বছর কেমন কাটলো?

তিন বছর হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এ সময় নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। অর্জন করেছেন অনেক অভিজ্ঞতা। মন্ত্রী থাকাকালে তার ভালো ও খারাপ দিকগুলোর কথা বললেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার ভালো লাগার দিক হল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি আমাকে কোনো দিন বলেননি যে এই লোকটাকে ছেড়ে দাও। সব সময় বলেছেন, অপরাধী যেই হোক তাকে ধর।আসাদুজ্জামান খাঁন আরো বলেন, অনেক জায়গায় অনেক ক্ষেত্রে অনেক বিধি নিষেধ থাকে যে, ওমুক রাজনৈতিক নেতাকে ছেড়ে দাও, কেন ধরেছো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কোনোদিন আমাকে এ ধরনের কথা বলেননি।মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নতুন নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাতে এক প্রশ্নের জবাবে এ সব কথা বলেন তিনি। চ‌্যালেঞ্জের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চ্যালেঞ্জ অনেক। হঠাৎ হঠাৎ নানান ধরনের ষড়যন্ত্র হয়। তার মোকাবেলা করতে হয়। কারণ বাংলাদেশে ষড়যন্ত্রের অভাব নেই। আমাদের ষড়যন্ত্র আজকের নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে যে জায়গায় নিয়ে গেছেন। তাতে ষড়যন্ত্র হবে না, এমন চিন্তাই আমরা করি না। আমাদের ষড়যন্ত্র হচ্ছে, হতে থাকবে।সৌজন্য সাক্ষাতে ক্র্যাব সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলমসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। –

সুপ্রিম কোর্টের সামনে মূর্তি স্থাপন বন্ধ না করলে সবার আগে প্রয়োজনে আমার বুকের তাজা রক্ত দিব- ওলামা লীগ সভাপতি

বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগসহ সমমনা ১৩টি ইসলামিক দলের উদ্যোগে আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নেতৃবৃন্দ ৪ দফা দাবী তুলে ধরেন।
মানববন্ধনে ওলামা লীগের সভাপতি মাওলানা আখতার হুসাইন বুখারী বলেন, প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের সামনে মূর্তি স্থাপন বন্ধ না করলে ওলামা লীগ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। প্রয়োজনে সবার আগে আমার বুকের তাজা রক্ত দিব। তারপরও সুপ্রিম কোর্টের সামনে গ্রীক দেবীর মূর্তি স্থাপন বন্ধ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, এদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ, যদি কিছু তৈরী করতেই হয় তাহলে পবিত্র কুরআন শরীফ বা পবিত্র কালেমা শরীফের স্থাপত্য নির্মাণ করা হোক।
ওলামা লীগের কার্যনির্বাহি সভাপতি আলহাজ্জ হাফেজ আব্দুস সাত্তার বলেন, সারাদেশে আমাদের সাড়ে তিন লাখ কর্মী রয়েছে। যদি সুপ্রিমকোর্টের মূর্তি স্থাপন বন্ধ করা না হয় তাহলে সারাদেশে আমাদের সব কর্মী রাস্তায় নেমে আসবে। কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে। এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিকে হেয় করা, অবজ্ঞা করা চলবে না। অনতিবিলম্বে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করতে হবে।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রীক দেবী থেমিসের মূর্তি স্থাপন বন্ধ করতে হবে। গত কয়েকদিন থেকে বিভিন্ন সংগঠন এ বিষয়টি নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে পেপার পত্রিকায় বক্তৃতা, বিবৃতি দিচ্ছে এবং মিছিল সমাবেশ করে যাচ্ছে। সরকার সমর্থিত ওলামারাও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম- ফেসবুকেও সমালোচনার ঝড় বইছে। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দেয়ার অপচেষ্ঠা বন্ধ করতে হবে। এর পেছনে যারা জড়িত তাদের খুজে বের করতে হবে এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে সরকার বিরোধী অপতৎপরতা বন্ধে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে গ্রীক দেবীর মূর্তি সরিয়ে ফেলতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ট হিসেবে মুসলমানদের কোন ধর্মীয় নিদর্শন এখানে স্থাপন করা উচিত ছিল। যাতে সরকারকে আরো জনপ্রিয় ও ধর্মপ্রাণদের সরকার হিসেবে তুলে ধরা যায়।
বক্তারা বলেন, প্রধান বিচারপতি সুপ্রিমকোর্টে মূর্তি স্থাপন করছেন এটা নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি।’ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার সেটা বলেছেন। অন্যান্য আইনজীবীরাও বলেছেন, এই ভাস্কর্য নিয়ে আইনজীবী এবং সাধারণ মানুষের আপত্তি রয়েছে। (দৈনিক আমাদের অর্থনীতি, ১৩ই জানুয়ারী) দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণও বলেছেন সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে মূর্তি স্থাপন বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সর্বোপরি ধর্মীয় চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী তথা মূর্তি স্থাপন ইসলাম ধর্মে সম্পূর্ণ হারাম। তারা বলেছেন এ ভাস্কর্য স্থাপন দেশের মানুষ কোনোভাবেই সমর্থন করবে না। তারপরও প্রধান বিচারপতি তার নিজস্ব চিন্তা চেতনায় বিধর্মী মূর্তি মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। গ্রীক দেবী এদেশের জনগণের সংস্কৃতিক ঐতিহ্য নয়। বিশেষ করে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের সংস্কৃতির সম্পূর্ণ খিলাফ। ভারতে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাবধারা মূল্যায়ন করা হয়, তবে এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ভাবধারা মূল্যায়ন করা হবেনা কেন? এটা সংবিধানের ২(ক) অনুচ্ছেদ তথা রাষ্টধর্ম ইসলামেরও বিরোধী।
বক্তারা বলেন, ভারতীয় টিভি চ্যানেল ও সিরিয়াল আমদানির সুযোগ দিয়ে সরকারই এদেশে অবাধ ভারতীয় সংস্কৃতির লালন ও প্রসার করছে। যা সংবিধানের ২৩নং অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট খেলাপ। সংবিধানের ২৩নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।’
বক্তারা বলেন, ভারতের খবরদারী, চোখরাঙ্গানী সব উপেক্ষা করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নেপাল ভারতের ৪২টি টিভি চ্যানেল বন্ধ করেছে। তাহলে পরকীয়ার জন্য সন্তান হন্তারক মা তৈরীকারী, পিতা-মাতা হন্তারক সন্তান তৈরীকারী পারিবারিক বন্ধন ও শান্তি ধ্বংসকারী, কিশোর অপরাধী তৈরীকারী, আত্মহত্যা ও হত্যায় উদ্বুদ্ধকারী, ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি সৃষ্টিকারী স্টার জলসা, জি বাংলা, স্টার প্লাস, সনি টিভি, জিটিভি, জি’সিনেমাসহ সব ভারতীয় টিভি চ্যানেল বাংলাদেশ বন্ধ হবেনা কেন? অবিলম্বে এসব ভারতীয় টিভি নিষিদ্ধ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, নতুন পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলাম অবমাননাকর হিন্দুত্ববাদী ও নাস্তিক্যবাদী পাঠ্যক্রম বাদ দেয়া হয়েছে বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে সামান্য ব্যতীত বর্তমান পাঠ্যপুস্তক থেকে বিতর্কিত হিন্দুত্ববাদ বাদ দেয়া হয়নি। বরং পাঠ্যপুস্তকে তা বহাল তবিয়তেই আছে। শুধু ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ে বিভিন্ন আয়াত শরীফ, হাদীস শরীফ এর মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ২৪টি ভূল করা হয়েছে। বাংলাভাষার স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জণবর্ণ মিলে মোট ৪৯টি বর্ণের উদাহরণ দিতে ৩৪%-এরও বেশি ইসলাম ধর্ম অবমাননাকর অনৈসলামিক হিন্দুত্ববাদী ও বিজাতীয় সংস্কৃতি শেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাংবিধানিক অধিকার মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষা না করে উপজাতি নৃ-গোষ্ঠীর ভাষায় পাঠ্যবই ছাপানো হয়েছে। এমনকি শিশুদের ১ম শ্রেণীর পাঠ্য বইয়ে ষড়যন্ত্রমূলক ম্যাসেজ হিসেবে ছবির মাধ্যমে কোমলমতি শিশুদের শিশুবেলাতেই যৌনতার পাঠ দেয়া হয়েছে।
বক্তারা বলেন, কিছু মিডিয়া জনকণ্ঠ, সংবাদ, কালেরকণ্ঠ, বিডিনিউজ, প্রথম আলো এবং বামপন্থী মহল যারা প্রতিনিয়ত হিন্দুত্ববাদ, নাস্তিক্যবাদ তোষণ করে, তারা পাঠ্যপুস্তকে সামান্য হিন্দুত্ববাদ বাদ দেয়াকে মৌলবাদ আর জামাত-হেফাযতের নামে মুসলমানদের ধর্মীয় অনূভূতির বিরুদ্ধে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তারা পাঠ্যপুস্তকে গুটি কয়েক ইসলামী ভাবধারার প্রবন্ধকে মৌলবাদের উগ্রপন্থা বলেও আখ্যায়িত করেছে। সাম্প্রদায়িক পাঠ্যবই বলেও আখ্যায়িত করেছে। অথচ জামাত-জোট, হেফাযতীরা কিংবা মৌলবাদ ‘ইসলাম ও মুসলমান’দের প্রতিনিধিত্ব করেনা। তাছাড়া ২০১৬ সালের পুরো পাঠ্যসূচিই ছিল হিন্দুত্ববাদ ও নাস্তিক্যবাদী সাম্প্রদায়িকতায় ভরপুর। এবারের পাঠ্যপুস্তকেও সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদের জয়জয়কার। অথচ সাম্প্রদায়িক মিডিয়া ও মহল তখন এসব বই ও প্রবন্ধকে হিন্দু মৌলবাদী বই বা সাম্প্রদায়িক পাঠ্যবই বলেনি এবং এখনো বলছেনা। পাঠ্যপুস্তকে সাধারণ ভূল নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও ইসলামী বিষয়ে মারাত্মক ভূলগুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বামপন্থী মিডিয়া ও মহল প্রচার করছে নতুন পাঠ্যপুস্তকের বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রবন্ধ কবিতা ঢুকানো হয়েছে। মূলত এর নামে তারা বিএনপি জামাত-জোটের নামে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের পাঠ্যসূচীই বাদ দিতে চায়। কারণ উল্লেখিত সবগুলো প্রবন্ধ কবিতা ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও পাঠ্য ছিল।
বক্তারা বলেন, নতুন পাঠ্যক্রমে ‘ও’ অক্ষরে ‘ওড়না’ শব্দ ব্যবহার নিয়ে একটি কুচক্রী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। ওড়না মুসলমানদের ধর্মীয় পোশাক হওয়ায় তারা সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ করছে। অথচ একই পাঠ্যক্রমে ঋ-তে শেখানো হচ্ছে ‘ঋষি’। র-তে শেখানো হচ্ছে ‘রথ টানি’। এরুপ আরো অনেক হিন্দুয়ানী শব্দ। সেক্ষেত্রে তারা সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ করছেনা। শুধু তাই নয়, পাঠ্যপুস্তকে ‘ওড়না’ শব্দ থাকায় নাকি লিঙ্গ বৈষম্য হয়েছে। নাস্তিক্যবাদীদের মতে “একেবারে ছোট বয়স থেকে নারী ও পুরুষের পার্থক্য তৈরি করে এমন কোন শব্দ ব্যবহার করা উচিৎ নয়।” তাহলে তো স্কুলের ছাত্র ও ছাত্রীদের আলাদা ইউনিফর্মও তুলে দিতে হবে! কারণ ছেলে ও মেয়েদের আলাদা ইউনিফর্ম তাদের মধ্যে পার্থক্য তৈরী করছে এবং লিঙ্গ বৈষম্য শিখছে। পাশপাশি ওড়না বিরোধীদের বক্তব্য অনুযায়ী তাহলে মেয়েরা অন্তর্বাস পরাতে পারবেনা। সেলোয়ার কামিজ পরাতে পারবেনা। এভাবেও তো তাহলে লিঙ্গ বৈষম্য তৈরী হয়! নারী ও পুরুষের পার্থক্য তৈরি হয়! নাস্তিক্যবাদীরা কি এগুলো বাদ দিবে? এছাড়া বাংলার নারীদের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া, বঙ্গমাতা ফজিলতুন নেছা, বর্তমান কালে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, কৃষিমন্ত্রী সবাই মাথায় শাড়ি বা ওড়না দিয়ে মাথা ঢাকেন। এভাবেই তো তারা দেশ চালাচ্ছেন। ওড়না কি তাদের নারী প্রগতিতে কোন অন্তরায় হয়েছে?
বক্তারা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় মুসলমানদের ধর্মীয় স্বকীয়তা নিয়ে আমরা চরম আতঙ্কিত। অবিলম্বে পাঠ্যপুস্তক থেকে সব হিন্দুত্ববাদ ও নাস্তিক্যবাদ প্রত্যাহার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে হিন্দু নিয়োগে আধিপত্য বন্ধ করতে হবে। এলক্ষ্যে আগামী ১৫ জানুয়ারী আমরা পাঠ্যপুস্তক ভবন ঘেরাও কর্মসূচী পালন করব।
বক্তারা উন্নয়নের মানসকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ট নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে অবিরাম গতিতে এগিয়ে চলায় এবং ব্যাপক সাফল্যের সাথে সরকার তিন বছর পূর্ণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রাণঢালা উষ্ণ অভিনন্দন জানান।
সমন্বয় করেন, পীরজাদা, পীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বর্ষীয়ান বিপ্লবী জননেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী, (পীর সাহেব, টাঙ্গাইল), সভাপতি- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন- আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, সাধারণ সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার, সভাপতি- সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ, মাওলানা মুহম্মদ শওকত আলী শেখ ছিলিমপুরী, দপ্তর সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, মাওলানা মুজিবুর রহমান চিশতি সহ সভাপতি বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ। হাফেজ মাওলানা মোস্তফা চৌধুরী বাগেরহাটি হুযূর-সভাপতি বাংলাদেশ এতিমখানা কল্যাণ সমিতি, হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল জলিল, ডা. সাইফুদ্দীন মিয়াজি, আল্লামা পীরজাদা পীর আলহাজ্জ হাফেয ক্বারী মাওলানা কাজী মাসুদুর রহমান- সভাপতি বাংলাদেশ ইমাম মুয়াজ্জিন মুসল্লী দ্বীনি কল্যাণ পরিষদ, ডাক্তার মাওলানা মুহম্মদ সাইফুদ্দিন মিয়াজী, মাওলানা আব্দুর রহিম শেরপুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ চেয়ারম্যান- আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার। মিছিল শেষে শহীদ বঙ্গবন্ধু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রূহের মাগফিরাত কামনা করে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হায়াতে তৈয়বার জন্য দোয়া মোনাজাত করেন- আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী।
বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ, জাতীয় কুরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ওলামা মাশায়েখ ঐক্যজোট, বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা পরিষদ, কেন্দ্রীয় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, বাংলাদেশ, হাক্কানী আলেম সমাজ, জাতীয় ওলামা পরিষদ, বাংলাদেশ এতিমখানা কল্যাণ সমিতি, ইমাম মোয়াজ্জিন কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ ফেৎনা প্রতিরোধ কমিটি,


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »