Category: ভিতরের পাতা

সাতক্ষীরায় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল

আবু সাইদ সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:: বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সাতক্ষীরায় পালন করা হচ্ছে অমর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল নামে। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে শহীদ বেদি। এর আগে সন্ধ্যা থেকে একুশের গান, একুশের কবিতা, আবৃত্তি ও শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে শহীদ মিনার চত্বর।রাত ১২টা ১ মিনিটে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ ও আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।এরপর একে একে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টি, জেলা জাসদ, জেলা জাতীয় পার্টি, জেলা কমিউনিস্ট পার্টি, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব, সাতক্ষীরা পৌরসভা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা সাংস্কৃতিক পরিষদ, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি, সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিম, আমরা বন্ধুসহ দেড় শতাধিক রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী ও শ্রমজীবী সংগঠন শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে।

সাতক্ষীরায় দূর্ঘটনায় ভাতিজা নিহত, স্ট্রোকে চাচার মৃত্যু

আবু সাইদ সাতক্ষীরা প্রতিনিধি::সাতক্ষীরায় ট্রলিতে চাপা পড়ে প্রথমে গুরুতর আহত হন ট্রলি চালক আব্দুল মাজেদ (৩৫)। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদরের মাছখোলা এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে। ভাতিজার দূর্ঘটনার সংবাদ শুনে হাসপাতালে আসার সময় হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে মরা যান চাচা শিক্ষক আতাউর রহমান। নিহত আব্দুল মাজেদ মাছখোলা গ্রামের কওসার আলীর ছেলে। চাচা আতাউর রহমান মাছখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ হোসেন মোল্লা ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

শ্যামনগরে পালিত হলো অমর ২১ শে ফেব্রুয়ারি

আবু সাইদ সাতক্ষীরা প্রতিনিধি::আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি? ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে যারা বাংলা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিলেন সেইসকল ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে শ্যামনগরে পালিত হলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৭।২১ শে ফেব্রুয়ারি আমাদের বাঙ্গালিদের জন্য একটি গৌরব উজ্জ্বল দিন। ইতিহাসের এই দিনেই মাতৃভাষার জন্য রাজপথে জীবন দিতে হয়েছিল সালাম, বরকত, রফিক শফিক,জব্বার সহ নাম না জানা আরও অনেকেই।বিশ্বের ইতিহাসের বুকে মাতৃভাষার জন্য বীরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলাম আমরা এই বাঙালীরাই। আর তাই এই দিনটি আজ শুধু বাংলাদেশ স্মরণ করেনা। ২১ শে ফেব্রুয়ারি দিনটি স্বীকৃতি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের। সারা বিশ্বই দিনটি স্মরণ করে।২১ শে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২১ শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও পুষ্প মাল্য অর্পণ করেন।
তারপর ২১ শে ফেব্রুয়ারির প্রভাত ফেরিতে সকল সরকারি বেসরকারি অফিস আদালত,বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠিত, স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান র‌্যালি নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ মিনারে গিয়ে পুষ্প মাল্য অর্পন করেন।

শ্যামনগর নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে নওয়াবেকীতে বালি উত্তোলন বন্ধ,সরন্জামাদী জব্দ

আবু সাইদ সাতক্ষীরা প্রতিনিধি::
অবশেষে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম এর নেতৃত্বে প্রকাশ্যে নওয়াবেকীতে বালি উত্তোলন বন্ধ হলো। অনাবিল সংবাদ কয়েকটি অনলাইন আর ফেসবুকে নওয়াবেকীতে বালি উত্তোলনের স্ব- চিত্র ছবি সহ নিউজ প্রকাশ হওয়ার পর সরজমিনে যান, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ জাফর রানা।
সরেজমিনে ঘটনার সত্যতা মিললে তাৎক্ষণিক ভাবে নির্বাহী কর্মকর্তা বালি উত্তোলন বন্ধ করে দেন। এসময় বালি উত্তোলনের সরন্জামাদী জব্দ করা হয়।তবে প্রকৃত বালি বানিজ্য কারীদের না পাওয়া যাওয়ায় জরিমানা প্রদান করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।এর পর কোন প্রকার বালি উত্তোলনের চেষ্টা করলে, অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনের অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত সকলের সামনে জোরে সোরে ঘোষনা দেন।

বীরগঞ্জে ভুমিহীনদের বস্তিতে হামলা-ভাংচুর

এন.আই.মিলন, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ঃ বীরগঞ্জে সরকারী সম্পত্তির লাখ লাখ টাকা মুল্যের ১২টি শালসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ চুরি, ভুমিহীনদের বস্তিতে হামলা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার উত্তরে সাতোর ইউনিয়নের ডাকেশ্বরী গ্রামে ফাটা পুকুর পাড়ে একদল সন্ত্রাসী ধারাল অস্ত্র ও লাঠি-সোটা নিয়ে ভুমিহীন পরিবার এন্তাজ আলী, আব্দুস সালাম, মনছুর আলী, ললিত মোহন, দীনারাম, হরেন্দ্র নাথ, বুধা রায়, নবকান্ত, কৃঞ্চ কান্ত, অশেষ রায়, বীরেন রায়, বিশু মোহামদ, যোতিন্দ্র রায়, ধর্ম নারায়ন, দেবীবালা, কমলা কান্ত, দেব কুমার, যোতিশ রায়, খোগেন্দ্র রায়, আব্দুর রশিদ, মানিক, খলিল, মেহেরুন, মমতাজ সহ ৩২টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।
মরিচা ইউনিয়নের শালবাড়ী (বারোলিয়া) গ্রামের হাছেন আলীর ছেলে সিদ্দিকের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সরকারী সম্পত্তিতে ১০ বছর আগে লাগানো ৫ লাখ টাকা মুল্যের ১২টি শালসহ বিভিন্ন প্রজাতির ২ শতাধিক গাছ চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যায়।
সংবাদ পেয়ে এসআই প্রভাত চন্দ্র সরকার ও রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত চোরাই কাঠ উদ্ধার বা সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে পারেনি।

বীরগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্থম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন


এন.আই.মিলন, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ঃ বীরগঞ্জে শহীদ মিনার মোড়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে¢র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করা হয়েছে। ২০ ফেব্রুয়ারী বিকেলে ১৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে বহুল প্রত্যাশিত এই স্মৃতিস্থম্ভের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও দিনাজপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আজিজুল ইমাম চৌধুরী এবং দিনাজপুর-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল। এসময় তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নিদের্শে মুক্তিযুদ্ধে বাঙ্গালী দামাল সন্তানেরা বুকের তাজা রক্ত দিয়েছে।
বীরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার অধ্যাপক কালীপদ রায়ে’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেন, উপজেলা ডেপুটি কমান্ডার অধ্যাপক হামিদুল হক, দিনাজপুর জেলা পরিষদের সদস্য মো. নুর ইসলাম নুর, সদস্যা মীরা মাহাবুব প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগকে অতিথি না করায় বিরুপ পতিক্রিয়া দেখা যায়।

নোয়াখালীতে জুতা পায়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিলেন অধ্যক্ষ


জুয়েল রানা লিটন নোয়াখালী
নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুতা পায়ে শহীদ ভেদিতে পুস্ফস্তবক অর্পণ করলেন অধ্যক্ষ আখতারী বেগম। মহান একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সকাল সোয়া নয়টার দিকে তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে জুতা পায়ে এ শ্রদ্ধাঞ্জলি দেন। তবে এ সময় অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পায়ে জুতা দেখা যায়নি।ঘটনার পর পর জুতা পায়ে শহীদ মিনারে অধ্যক্ষের এ ছবিটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে কমেন্ট শুরু হয়ে যায়।
কলেজের সূত্র জানায়, সকাল সোয়া ৯টার দিক কলেজের শিক্ষক মিলনায়তন থেকে অধ্যক্ষ সহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে ফুলের ডালা নিয়ে যায়। পরে শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি দেন কলেজের অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক। বাকিরা সবাই পিছনে ছিলেন। এ সময় অনেকে ছবি তুলেছেন। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডিতে ছবিটি ভাইরাল হয়ে ওঠে।
একটি আইডিতে ছবিটি পোস্ট করে লেখা হয়েছে, ‘জুতো পায়েই শহীদ মিনারে পুষ্পাজ্ঞ দিচ্ছেন নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আখতারী বেগম। ম্যাডামের হেডম বলে কথা।’ এ রকম অসংখ্য পোস্ট দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।
একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানান, অধ্যক্ষ আখতারী বেগম স্বেচ্ছাচারী মনোভাব নিয়ে কলেজ চালাচ্ছেন। তিনি কলেজে কখনই ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের কোনো আয়োজনে উপস্থিত থাকেন না। বংশীয়ভাবে তিনি প্রতিক্রিয়াশীল পরিবারেরই সন্তান। তার বাবা এডভোকেট বাদশা আলম মুসলিম লীগ করতেন। তাঁর ছাত্রজীবনের এক বন্ধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব হওয়ায় দাফটের সাথে চলেন তিনি।
শহীদ মিনারে জুতা পায়ে ফুষ্পমাল্য দেয়ার কথা স্বীকার করেন অধ্যক্ষ আখতারী বেগম। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ অজ্ঞতা ও অসাবধানতা বশত: এ ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া কলেজ ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারটির চারপাশে কংক্রীট ছিল; যা অসাব ধানতার মূল কারণ। এ মুহুর্তে তিনি খুবই লজ্জিত বলে জানান।

রাণীনগরে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত


নওগাঁ প্রতিনিধি: যথাযথ মর্যাদায় সারা দেশের মত ভাষা শহীদের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা জানিয়ে নওগাঁর রাণীনগরে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান শহীদ ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।
রাণীনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে রাত ১২.০১ মিনিটে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে শহীদ মিনারে নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম এমপি’র পুষ্পস্তবক অপর্ণের মধ্যে দিয়ে দিবসের নানা কর্মসূচি শুরু হয়।
কর্মসূচির মধ্যে ছিল সূর্য উদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, বেসরকারি ও শায়ত্বস্বাসিত প্রতিষ্ঠান সমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া বিনতে তাবিব এর সভাপতিত্বে স্থাণীয় শহীদ মিনার চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শহীদদের আতœার মাগফিরাত কামনা করে উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদ সহ বিভিন্ন উপসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। অপর দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ, থানা বিএনপি, জাতীয় পার্টি, রাণীনগর প্রেস ক্লাব, নিরাপদ সড়ক চাই, সুশাসনের জন্য নাগরিক সহ রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক অংগসংগঠন ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অপর্ণ সহ নানা কর্মসূচি পালন করে।

চিলাহাটিতে বিভিন্ন সংগঠনের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

আপেল বসুনীয়া,নীলফামারী প্রতিনিধি ঃ মহান ২১ ফেব্রুয়ারী এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস চিলাহাটির বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে নানা কর্মসুচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। চিলাহাটি সরকারী ডিগ্রী কলেজ একুশের প্রথম প্রহরে চিলাহাটি সরকারী কলেজ প্রঙ্গানে স্থাপিত শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক
অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও প্রভাষক আবু সাদেক মোহাম্মদ জুন্নুন। চিলাহাটি গর্লস স্কুল এন্ড কলেজের পক্ষে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আইয়ুব আলী। চিলাহাটি জে.ইউ.ফাজিল মাদ্রাসার পক্ষে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন প্রাতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ জাকির হোসেন। সকাল ৯টায় বিভিন্ন সংগঠন চিলাহাটি হাইস্কুল গেট থেকে ডাকবাংলো পর্যন্ত এক বিশাল র‌্যালী বের করে। র‌্যালী শেষে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেত্রী সরকার ফারহানা আকতার সুমি,অনলাইন নিউজ পত্রিকা চিলাহাটি ওয়েব ডটকম এর পক্ষে পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক আপেল বসুনীয়া, ফিউচার ক্যান্ডেল এর পক্ষে আলহাজ্ব মোজাম্মেল হক,সানমুন কিন্ডার গর্টেন এর পক্ষে আজাদুল হক প্রামানীক,বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড ভোগডাবুড়ী ইউনিয়ন শাখার আহব্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বার কানু,সদস্য সচিব এ.কে.এম শাহাদাৎ হোসেন,বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মুরাদ আলী প্রামানীক, হাফিজুর রহমান বকুল, আসাদুজ্জামান ফিলিপ। ১নং ভোগডাবুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ডোমার উপজেলার সাধাঃসম্পাদক রেয়াজুল ইসলাম কালু,ভোগডাবুড়ী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি সফিকুল ইসলামকাজলসহ বিএনপির আব্দুর রউফ,রেজাউল করিম,আমিনুল ইসলাম,উদঙ্কুর সেবা সংস্থার প্রকল্প সমন্নয়কারী কায়কবাদ হোসেন, সোস্যাল ডেপলেপমেন্ট অফিসার আব্দুর রউফ, চাইল্ড অফিসার মোসলেম উদ্দীন, ২নং কেতকীবাড়ী ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন সংগঠন শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

শেষ হলো ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের উরস


মুহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিক, বিশ্ব জাকের মঞ্জিল, ফরিদপুর থেকে ফিরে ঃ
ফরিদপুর জেলার সদরপুরের আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবার শরিফের চারদিন ব্যাপী মহা পবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ-২০১৭ শেষ হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বাদ ফজর নামাজ শেষে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এ উরসের সমাপ্তি হয়।
বিশ্বওলী হযরত শাহ্ সূফী খাজাবাবা ফরিদপুরী ( কুঃছেঃআঃ) ছাহেবের রওজা মোবারক জিয়ারত ও আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার শেষ হয়েছে এ উরস। মঙ্গলবার বাদ ফজর বিশ্বওলী হযরত শাহ্ সূফী খাজাবাবা ফরিদপুরী ( কুঃছেঃআঃ) ছাহেবের রওজা মোবারক জিয়ারত শেষে লাখো মানুষ আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন।
রওজা শরীফ জিয়ায়ত ও আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্বওলী হযরত শাহ্ সূফী খাজাবাবা ফরিদপুরী ( কুঃছেঃআঃ) ছাহেবের অন্যতম আধ্যাত্মিক প্রতিনিধি জাকের পার্টির চেয়ারম্যান পীরজাদা আলহাজ্ব খাজা মোস্তফা আমীর ফয়সাল মুজাদ্দেদী। পীরজাদা আলহাজ্ব খাজা মাহফুযুল হক মুজাদ্দেদী, খাজা সাইফুল ইসলাম জামী মুজাদ্দেদী ও খাজা সায়েম আমীর ফয়সল সামী মুজাদ্দেদী এ মোনাজাতে শরিক হন।
আখেরি মোনাজাতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ, সমৃদ্ধি ও ঐক্য, বিশ্ব মানবকল্যাণ এবং ভাষা শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। রওজা শরিফ জিয়ারত ও আখেরি মোনাজাতকে ঘিরে মঙ্গলবার নতুন করে দেশ-বিদেশের আল্লাহর রহমত পিয়াসী নারী-পুরুষের অবিরাম কাফেলা অভাবনীয় দৃশ্যের অবতরণ করে। ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় একপর্যায়ে তিল ধারণের ঠাঁইও ছিল না। আখেরি মোনাজাতে শান্তিকামী মানুষের উপস্থিতি অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করে।
এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার শুরু হওয়া চার দিনের উরস শরিফে দেশ-বিদেশের কোটি ভক্ত ও আশেকান-জাকেরানরা দরবার শরিফসহ আশপাশের জায়গা নিয়ে মহান আল্লাহতালার নৈকট্য লাভের আশায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার, মোরাকাবা-মোশাহেদা, ওয়াজ-নসিহত, মিলাদ মাহফিল, ফরজ ও সুন্নত এবাদত বন্দেগির পাশাপাশি নফল এবাদতে মশগুল থাকেন।
মঙ্গলবার ভোরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি তথা বিশ্ব মানবের কল্যাণে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে চার দিনের উরস শরিফ শেষ হয়।

২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল সোমবার দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে বিশ্বওলি শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃছেঃআঃ) দারুল বাকায় তশরিফ নেন। তার পর থেকেই প্রতিবছর এই দিনে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে চার দিনের উরস শরিফ শুরু হয়।
উল্লেখ্য, বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেব ১৯৫৩ সালে তৎকালীন অজপাড়া গাঁ আটরশি গ্রামে উরস শরীফের সূচনা করেন। এর আগে ১৯৪২ সালে তদীয় আপন মুর্শিদ উপমহাদেশের প্রখ্যাত ওলিয়ে কামেল খাজা এনায়েতপুরী (কুঃ ছিঃ আঃ) ছাহেবের নির্দেশে প্রত্যন্ত পল্লী আটরশিতে আগমন করেন। সভ্যতা ও শিক্ষার আলো বঞ্চিত অত্যন্ত পশ্চাৎপদ এ গ্রাম থেকেই প্রথমে বাংলাদেশ এবং পরে বিশ্বব্যাপী হেদায়েতের বাণী প্রচার করেন বিশ্বওলি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ ছিঃ আঃ) ছাহেব।

১০৩ বছর পেরিয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে রাণীনগরের কামতা এস,এন উচ্চ বিদ্যালয়


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ কথায় আছে “ ধ্যানের চর্চা হয় গুহায়, ধর্মের চর্চা হয় মসজিদ, মন্দির, গির্জায় ও প্যাগোডায়, নীতির চর্চা হয় নিজ পরিবারে আর বিদ্যার চর্চা হয় বিদ্যালয়ে”।
আর বিদ্যা চর্চার এমন দ্বিতীয় শতবর্ষী বিদ্যাপিঠ নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ভান্ডার গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহি কামতা এস,এন (সত্যেন্দ্রনাথ) উচ্চ বিদ্যালয়টি ১০৩ বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। বিদ্যালয়টি রবীন্দ্র নিদর্শন এবং সমগ্র বাংলাদেশের মধ্য বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্টপোষকতায় তৎকালিন সময়ে দ্বিতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়টিতে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা প্রদান করা হয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্টপোষকতায় ১৯১৩ সালে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৫শত ৩০জন শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহন করে। এর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪শত জন শিক্ষার্থী পাঠগ্রহণ করে। বিদ্যালয়ে মোট ১৪জন শিক্ষক ও ৬জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। বিদ্যালয়ে নতুন ও পুরাতন মিলে মোট ১৮টি কক্ষের মধ্যে পাঠদান চলে ১০টি কক্ষে। বিদ্যালটিতে বিগত বিএনপি জোট সরকারের আমলে যে টুকু উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছিল। বিদ্যালয়ের মেয়েদের জন্য পুরাতন জরাজীর্ণ মাটির কক্ষ কমনরুম হিসাবে ব্যবহার করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই জরাজীর্ণ কমনরুম বার বার রং ও জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করে ব্যবহার করা হচ্ছে। কখন যে শিক্ষার্থীদের উপড় ভেঙ্গে পড়ে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। একাধিকবার উপড় মহলে লিখিত আবেদন করেও আজ পর্যন্ত কোন লাভ হয়নি বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান ।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা, ১৮৮৫ সালের শুরুর দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া কালীগ্রাম পরগনার জমিদারি দেখাশুনার জন্য ভান্ডার গ্রামে স্থাপন করেন দ্বিতীয় কাচারী বাড়ি। এই কাচারী বাড়ি এলাকার জমিদারীর ম্যানেজার ছিলেন শিক্ষানুরাগী বাবু প্যারী মোহন রায়। তারই সার্বিক প্রচেষ্টার ফলে এই বিদ্যালয়টি অত্র এলাকার মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বাস করতেন প্রজাদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে শিক্ষার প্রয়োজন। শিক্ষার আলো ছাড়া প্রজাদের সার্বিক উন্নয়ন একেবারেই সম্ভব নয়। সে উপলব্ধি থেকেই স্থানীয় কিছু শিক্ষানুরাগী তৎকালীন সমাজ সেবক ও পঞ্চপ্রধান মৌলভী মো: ইকিমুল্লাহ ও স্থানীয় পন্ডিতদের সহায়তায় এই প্রত্যন্ত ভান্ডার গ্রামে বিশ্বকবির ভাই সত্যেন্দ্রনাথের (এস,এন) নামে আদর্শ এই বিদ্যাপিঠ প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার সময় রবি ঠাকুরের ভাই এই বিদ্যালয়য়ের নামে ১একর ৯৪শতক জমি দান করেন। তাই তার নাম অনুসারে এই বিদ্যালয়ের নাম করন করা হয় কামতা সত্যেন্দ্রনাথ (এস,এন) উচ্চ বিদ্যালয়।
আদর্শ এই বিদ্যাপিঠ থেকে শিক্ষা নিয়ে এলাকার অনেকেই আজ দেশ-বিদেশ সহ নিজ দেশের বিভিন্ন বিভাগে উর্দ্ধতন পদে কর্মরত থেকে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে জ্বলছেন আর বিশ্বের মাঝে আলোকিত করেছেন এই অজপাড়া গ্রামের এই আদর্শ বিদ্যালয়টির নাম। এই আদর্শ বিদ্যাপিঠ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন বর্তমানে রংপুরের মহিলা এমপি ডালিয়া, ডাক্তার ইফাত নাইনি ফারাহ, বাংলা ভিশন টেলিভিশন ও মানবকণ্ঠ পত্রিকার নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি মো: বেলায়েত হোসনসহ আরোও অনেকেই ছিলেন এই আদর্শ বিদ্যাপিঠের শিক্ষার্থী।
পরবর্তি সময়ে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং শান্তি নিকেতনের প্রতিনিধিবৃন্দ। এছাড়াও দেশের মন্ত্রি, এমপি, সরকারি উর্দ্ধোতন কর্মকর্তা, রবীন্দ্র গবেষক, কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিকসহ নানা গুনিজন। কিন্তু শত বছরের ঐতিহ্য নিয়ে গৌরব উজ্জ্বল মুকুট মাথায় পড়ে দাঁড়িয়ে আছে যে বিদ্যাপিঠ সেই ঐতিহাসিক বিদ্যালয়টিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগানোর কোন প্রদক্ষেপ আজ পর্যন্ত গ্রহন করা হয়নি।
বিদ্যালয়ের উত্তর দিকে বিদ্যালয়ের নিজ অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছিল শহীদ মিনার। কিন্তু শহীদ মিনারটি অর্থের অভাবে দীর্ঘদিন কোন সংস্কার না করায় তাতে এখনো আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। তবে শিক্ষার্থীদেও সংখ্যায় বিদ্যালয়টিতে আধুনকি মান সম্মত পাঠদান কক্ষের ব্যাপক সংকট। ২০০৩ সালের পর থেকে এই বিদ্যালয়ে আর কোন নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়নি। যার কারণে পুরাতন কক্ষেই শিক্ষার্থীরা তাদেও পাঠগ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে।
বিদ্যালয়টিতে ২০০৪সাল থেকে খোলা হয় ভোকেশনাল (কারিগরি) শাখা। প্রত্যন্ত এলাকার শত শত শিক্ষার্থীরা এই বিদ্যাপিঠ থেকে কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এই কারিগরি শাখাটি এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় এই বিভাগের শিক্ষক ও কর্মচারীরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। কারিগরি শাখার শিক্ষক মো: ওয়াদুদ হোসেন জানান, আমাদের এই শাখাটি এক দশকেও এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় আমরা ৪জন শিক্ষক ও ২জন কর্মচারী পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছি। এত প্রতিক’লতার পরও প্রতিবছর আমাদের এই শাখায় শত ভাগ পাশের হার অব্যাহত আছে।
এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো: সামছুর রহমান বলেন, আমি এই আদর্শ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম বলে গর্বিত। আমি বর্তমানে এই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হয়ে চেষ্টা করে যাবো এই ঐতিহ্যবাহী আদর্শ বিদ্যাপিঠের সার্বিক উন্নয়ন করার জন্য।
এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বর্তমান প্রধান শিক্ষক সরদার মো: আব্দুল হামিদ জানান, আমি কখনো ভাবতে পারিনি যে আমি এই ঐতিহ্যবাহী আদর্শ বিদ্যাপিঠের ছাত্র থেকে শিক্ষক হবো। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমি সবসময় চেষ্টা করি এই বিদ্যাপিঠ থেকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে শিক্ষার্থীদের আগামীর জন্য তৈরি করার জন্য।

দৌলতপুরের পিপুলবাড়িয়ায় নেই শহীদ মিনার: ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারে না শিক্ষার্থীরা।


কুষ্টিয়া প্রতিনিধি॥ ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী সেদিন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে মাতৃভাষা বাংলা করার দাবী জানিয়ে বাঙ্গালী ছাত্র সমাজের বিশাল মিছিলে অতর্কিত গুলি চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। সে গুলিতে শহীদ হন রফিক , জব্বার, বরকত, সালামসহ আরো অনেকেই । এ ইতিহাস সবারই জানা। শহীদদের স্মরণে সমগ্র দেশে ও প্রায় প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মিত হলেও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে উপজেলার পিপুলবাড়িয়ায় এখনো গড়ে উঠেনি শহীদ মিনার । ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন ও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে না।এসব প্রতিষ্ঠানে শুধু জাতীয় পতাকা ও দোয়া পালন করেন শিক্ষার্থী শিক্ষকরাসহ সর্বস্তরের মানুষ। অথচ সরকারিভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একুশে ফেব্রুয়ারি উদ্যাপন করার নির্দেশ থাকলেও পিপুলবাড়িয়া এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছেন না বর্তমান নতুন প্রজন্ম। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক আন্তর্জাতিক শহীদ দিবস মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই প্রতিবছর সারবিশ্বে দিবসটি পালিত হয় তবে উপজেলার পিপুলবাড়িয়া এলাকায় মাতৃভাষা দিবসটি পালিত হয় হ-য-ব-র-ল ভাবে। হাইস্কুল, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক স্কুলগুলোতে দিবসটি পালিত হয় জাতীয় পতাকা দোয়া অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার গড়ে না উঠায় গুরুত্ব হারাচ্ছে দিবসটি। শিক্ষার্থীর বঞ্চিত হচ্ছে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ থেকে । ফলে নানা ক্ষোভ বিরাজ করছে ভাষা প্রেমিকদের মাঝে। ছিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কোরবান আলী বলেন, ১৯৫২ সালে মাতৃভাষার জন্য যাঁরা শহীদ হয়েছেন তাঁদের স্মরণে আজও এলাকার কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না গড়ে উঠায় শিক্ষার্থীদের ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা ও স্মরন করতে পারেন না। পিপুলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরোজুল ইসলাম বলেন, ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি। ভাষার জন্য যাঁরা শহীদ হয়েছেন তাঁদের স্মরণ করতে পারেন না অনেকে। আমাদেরে এলাকায় গড়ে উঠেনি কোন শহীদ মিনার।এই এলাকায় ৫টা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে পিপুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিপুলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পিপুলবাড়িয়া আহ্সানিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও শাপলা প্রি ক্যাডেট স্কুল। স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনসহ কোন ব্যক্তির উদ্যোগে গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ না হওয়ায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারেন না শিক্ষার্থীরাসহ এলাকার মানুষ। প্রতিষ্ঠানে যদি শহীদ মিনার থাকত তাহলে ভাষার গুরুত্ব ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, দো’আ, আলোচনা সভা ছড়িয়ে পড়ত সবার মাঝে। তৃণমূল পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের গুরুত্ব ছড়িয়ে দিতে বা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পিপুলবাড়িয়ায় শহীদ মিনার নির্মাণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন এলাকাবাসী। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পিপুলবাড়িয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনার নির্মাণ করা দাবী শিক্ষক ও ভাষাপ্রেমিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাকর্মকর্তাগণসহ সর্বস্থরে মানুষের।

ফুলবাড়ীয়ায় কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত


ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ গতকাল সোমবার ফুলবাড়ীয়া উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালী শেষে পল্লী উন্নয়ন মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কেন্দ্রিয় সমবায় সমিতির সভাপতি এডভোকেট ইমদাদুল হক সেলিমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, ইউএনও লীরা তরফদার,বিআরডিবি’র উপ পরিচালক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, মেয়র গোলাম কিবরিয়া, মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার এবি সিদ্দিক, কৃষি কর্মকর্তা ড. নাসরিন আক্তার বানু, সমবায় কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম প্রমূখ।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »