Category: প্রথম পাতা

৭ খুন মামলার বাদী বিউটিকে হুমকি

*কারাদন্ড প্রাপ্ত ৯ আসামির বিরুদ্ধে আপিল হবে : পিপি *আপিল করবে নূর হোসেন তারেক রানা আরিফ *মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা কনডেম সেলে *বিএনপির শঙ্কা
প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত বাস্তবায়ন চেয়েছেন নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি। ৭ খুন মামলার বাদী বিউটির ওপর অব্যাহত হুমকি, মামলা, ব্যবসা বাণিজ্য দখল করে নেয়াসহ এখনও বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তার অভাবে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছেন না বলে জানান তিনি।তিনি বলেন, আমরা চাই রায়টা যাতে উচ্চ আদালতেও বহাল থাকে এবং দ্রুত কার্যকর হয়। এছাড়া যেসব আসামি পলাতক রয়েছে তাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তিনি আরও জানান, আমরা এখনও হুমকির মধ্যে রয়েছি। নূর হোসেনের সহযোগীরা এখনও এলাকায় রয়েছে। আমাকে কিছুদিন আগেও চিঠির মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বলা হয়েছিল।এছাড়া আমাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে নিহত তাজুলের স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য দখল করে নেয়া হয়েছে। যতদিন পর্যন্ত রায় কার্যকর না হয় ততদিন পর্যন্ত আমরা আতঙ্কে আছি। নিরাপদে কোথাও স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছি না।৭ খুন মামলায় ৩৫ আসামির মধ্যে ২৬ আসামিকে মৃত্যুদ- তথা ফাঁসির আদেশ দেয়া হলেও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ-প্রাপ্ত ৯ আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন।

তিনি আরও জানান, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পেলে সেটা আমরা বিশ্লেষণ করব। যদি রায়ে দেখা যায় ওই ৯ আসামির দ- কম হয়ে থাকে, তাহলে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। একটি অপহরণের সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে ১০ বছর সশ্রম কারাদ- এবং আলামত নষ্ট করার সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছর। আপাত দৃষ্টিতে আইন মোতাবেক ৯ আসামিকে যথাযথ দ- প্রদান করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এরপর রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পেয়ে যদি দেখা যায় দ- কম দেয়া হয়েছে তাহলে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। আমি আশা করি উচ্চ আদালতেও আমরা ন্যায়বিচার পাব।সাত খুন মামলায় মৃত্যুদ- পাওয়া আসামি নূর হোসেন, র‌্যাবের চাকরিচ্যুত র‌্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এমএম রানা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবীরা।নূর হোসেনের পক্ষের আইনজীবী মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেন, রায়ের পর নূর হোসেন আমাকে বলেছেন, ‘এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট না। রায়ের বিরুদ্ধে অচিরেই আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। আশা করি, উচ্চ আদালতে আমরা ন্যায়বিচার পাব।’র‌্যাব-১১ এর চাকরিচ্যুত মেজর (অব.) আরিফ হোসেন ও নূর হোসেনের সহযোগী আবুল বাশারের আইনজীবী নারায়ণগঞ্জ বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ বলেন, ৭ খুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অনেক ত্রুটি রয়েছে।তারেক সাঈদের আরেক আইনজীবী শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আবেগতাড়িত হয়ে রায় দিয়েছে। কোনো ধরনের প্রমাণ আদালতে হাজির করতে পারেনি। বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এমএম রানার আইনজীবী রিতা ইসলামও উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা সাংবাদিকদের বলেছেন।

মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ১২ আসামি নারায়ণগঞ্জকারাগারের কনডেম সেলে

রায় ঘোষণার পর জেলা কারাগারে দ-প্রাপ্ত ১৮ আসামিকে রাখা হয়েছে যাদের মধ্যে ১২ জনই মৃত্যুদ-প্রাপ্ত। তাদেরকে কারগারের ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামিদের জন্য নির্ধারিত কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। আর ৬ আসামিকে রাখা হয়েছে বিভিন্ন সেলে।গত সোমবার ১৬ জানুয়ারি সকালে রায় ঘোষণার পর দুপুরে আনুষঙ্গিক কাজ শেষে সাত খুনের মামলায় গ্রেফতারকৃত ২৩ আসামির মধ্যে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে ১৮ ও গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে ৫ জনকে পাঠানো হয়। রায় ঘোষণার আগে এসব কারাগার থেকেই সমসংখ্যক আসামিদের নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়েছিল।নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার আসাদুর রহমান জানান, দুপুরে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে ১৮ আসামিকে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ও ৬ জন বিভিন্ন কারাগারে দ-প্রাপ্ত। আর কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে ৫ জনকে। তারা হলো নূর হোসেন, র‌্যাবের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাসুদ রানা (এমএম রানা) ও ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন।অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে আছে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে হাবিলদার এমদাদুল হক, আরওজি-১ আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, সিপাহি আবু তৈয়ব, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, এসআই পুর্নেন্দ বালা, র‌্যাবের সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, নূর হোসেনের সহযোগী মোর্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দিপু, রহম আলী, আবুল বাশার।

এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে দ-প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে করপোরাল রুহুল আমিন (১০ বছর), এএসআই বজলুর রহমান (৭ বছর), হাবিলদার নাসির উদ্দিন (৭ বছর), এএসআই আবুল কালাম আজাদ (১০ বছর), সৈনিক নুরুজ্জামান (১০ বছর), কনস্টেবল বাবুল হাছান (১০)।

বিএনপি শঙ্কা

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও তা কার্যকর নিয়ে শঙ্কিত রয়েছে বিএনপি। গতকাল বিএনপির কেন্দীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এ শঙ্কা প্রকাশ করেন।মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বাংলাদেশে আইনও আছে শাসনও আছে, কিন্তু আইনের শাসন নেই। আইনে যেটা আছে সেটা মনমতো সাজানো। আর শাসন যা আছে তা বিএনপিসহ প্রতিবাদীকণ্ঠকে নিশ্চিহ্ন করার। তিনি বলেন, এ সরকার বড় গলায় বলছে বিচার বিভাগ স্বাধীন আছে। কিন্তু তার প্রমাণ পাওয়া যাবে উচ্চ আদালতে এই রায় বহাল থাকলে। মামলার রায় হলেও কার্যকর নিয়েও দেশের মানুষ শঙ্কিত। কারণ বর্তমান সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি অনেক মৃত্যুদ-প্রাপ্তকে মুক্তি দিয়েছেন। আর যাদের মুক্তি দেয়া হয়েছে তাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের নেতা। এই মামলায় যারা ফাঁসির আসামি তাদের যদি আবার রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করে দেন তবে আইনের শাসন কার্যকর হবে না। মানুষের প্রত্যাশাও পূরণ হবে না।নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন প্রসঙ্গে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রতি আমাদের আস্থা আছে। তবে রাজনৈতিকভাবে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলে তা মেনে নেয়া হবে না। সার্চ কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আবার যদি আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষক, তাদের দোসর কোন ব্যক্তিকে প্রধান করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়, তাহলে জনগণ মেনে নেবে না। আর বিএনপি যেহেতু জনগণের অধিকার নিয়ে কাজ করে সুতরাং এটি বিএনপিও মেনে নেবে না। এর বিরুদ্ধে যতোরকম ব্যবস্থা নেয়া দরকার বিএনপি নেবে

সিরিয়াকে ঘিরে পশ্চিমা রাজনীতি

রায়হান আহমেদ তপাদার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শুরু হওয়া স্নায়ুযুদ্ধ বা ঠাণ্ডাযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগী পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার মিত্র জোটের। এ স্নায়ুযুদ্ধ ছিল ক্ষমতা ও আদর্শগত দ্বন্দ্বের মিশেলে। নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব আশা করেছিল তারা স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটাতে পেরেছে।কিন্তু ২০১০-এর দশকে এসে নতুনরূপে বিশ্ব আবার স্নায়ুযুদ্ধের যুগে ফিরে এসেছে।তবে নতুন এই স্নায়ুযুদ্ধের সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর স্নায়ুযুদ্ধের পার্থক্য রয়েছে।সে সময় ক্ষমতার সঙ্গে ছিল আদর্শের মিশেল।আর এখন আদর্শ নয়, শুধুই ক্ষমতা ও বাজার দখলের লড়াই।বিশেষ করে এ বাজার হচ্ছে অস্ত্র ব্যবসার।নতুন এ স্নায়ুযুদ্ধোত্তর প্রতিদ্বন্দ্বী মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।ইউরোপে রাশিয়ার দোরগোড়ায় ইউক্রেন নিয়ে যা শুরু এখন মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে সিরিয়াযুদ্ধে তা প্রলম্বিত আকার নিয়েছে।প্রাগৈতিহাসিক শহর। চার বছর ধরে দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন।আক্রান্ত।যুক্তরাষ্ট্র,তুরস্ক,সৌদি ও কাতারের দেওয়া অর্থ ও অস্ত্রের মদদে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করে।এর পরের ধাপে তুরস্ক থেকে রীতিমতো প্রশিক্ষিত ভাড়াটে যোদ্ধারা শহর দখলে নেয়।শিয়া গণহত্যা ঘটানো হয় একাধিকবার। ছোট বাচ্চাদেরও শামিল করা হয় ওই ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’ গ্রুপে। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বন্দুক। তাদের শেখানো হয় কিভাবে সিরিয়া সরকারি সেনা দেখলেই গুলি করতে হয়।এভাবেই বেশ চলছিল।চুপ ছিল পশ্চিমা বিশ্ব।রাষ্ট্রসংঘে বসে কেউ এসব দেখতে পায়নি।এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে রাশিয়া সক্রিয়ভাবে সিরিয়া সংকটে যোগ দেওয়ার পর।এখন পাশা উল্টে গেছে। রাশিয়া ও ইরানের সাহায্যে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী আলেপ্পোর পূর্ব অংশ পুনর্দখল করেছে চার বছর পর। আলেপ্পোর যুদ্ধ আসলেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্ট্র্যাটেজিক পরাজয়। তাই তারা ও তাদের তাঁবেদার মিডিয়া হাহাকার করছে।রাশিয়ার যোগদানের পর থেকে সিরিয়া সংকটে আরো একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তুরস্কের শিবির বদল। তুরস্ককে ব্যবহার করেই প্রধানত আলেপ্পোসহ সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে আল-কায়েদা, আল-নুসরা প্রভৃতি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ঢুকিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব।তারা ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’ সেজে সিরিয়ায় রয়েছে এবং একটানা সরকারবিরোধী সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।যে তুরস্ক তাদের সীমান্ত সর্বক্ষণ খুলে রেখে তাদের জন্য অস্ত্র সরবরাহ করেছে,সেই তুরস্ক কয়েক মাস আগে হঠাৎই বেসুরো গাইতে শুরু করে। ওয়াশিংটন বুঝতে দেরি করেনি। একদা তাদের বিশ্বস্ত এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সেনা-অভ্যুত্থান হয়, আর সেটা সম্পূর্ণ মার্কিন মদদেই। ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ফলে তুরস্ক রাশিয়ার আরো কাছাকাছি চলে আসে।জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ১৫ দিনের মধ্যেই মস্কোতে বৈঠকে মিলিত হন এরদোয়ান ও পুতিন। বৈঠকের পরই দীর্ঘদিনের চেনা সুরের বদলে অন্য সুরে বলে ওঠেন এরদোয়ান সিরিয়া সংকট সমাধানে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রাশিয়াকে প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের কপালের ভাঁজ চওড়া হয়।এখন প্রশ্নের মুখে তুরস্ক-ন্যাটো সম্পর্ক।ফের রুশ-তুরস্কের নয়া সম্পর্ককে ঝটকা দিতেই আংকারায় রুশ রাষ্ট্রদূতকে হত্যার ঘটনা ঘটল।কিন্তু রাশিয়া ও তুরস্ক কোনো প্ররোচনায় পা দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।তাই যৌথ তদন্তদল গঠিত হয়েছে।আর আজ শুধু রাশিয়া নয়,ইরানকেও সঙ্গে নিয়ে সিরিয়া প্রশ্নে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক সারা শেষ।২১ তারিখের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে তুরস্কের বিদেশমন্ত্রীর সাফ কথা, আলেপ্পোর সাফল্য সিরিয়ার বাকি অশান্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে দিতে হবে।সিরিয়াকে মুক্ত করতে হবে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে। চীনের শীর্ষস্থানীয় এক পত্রিকায় মঙ্গলবার অভিযোগ করে বলা হয়েছে,সিরিয়ায় ঠাণ্ডা লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।প্রতিপক্ষ দেশ দুটির উপলব্ধি করা উচিত,ঠাণ্ডা লড়াইয়ের যুগ গত হয়েছে এবংতাদের শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে এ সঙ্কটের সমাধানে এগিয়ে আসা উচিত বলেও মন্তব্য করেছে পত্রিকাটি।সম্প্রতি সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুশ বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর চীনা সরকারি পত্রিকায় এই সংবাদ ভাষ্য প্রকাশিত হয়।ক্ষমতাসীন দলের দৈনিক দা পিপলস ডেইলি’তে মঙ্গলবার সিরিয়ার ওপর প্রকাশিত সংবাদভাষ্যটিতে বলা হয়েছে,সিরিয়া নিয়ে ঠাণ্ডা লড়াইয়ের দিনগুলোর মত কূটনৈতিক ও সামরিক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।পত্রিকাটির অভিযোগ ওয়াশিংটন ও মস্কো তৃতীয় একটি দেশের মাটিতে প্রভাব বিস্তারের জন্য সব ধরণের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।প্রতিদ্বন্দ্বী ওই দেশ দুটি পুরনো দিনের ঠাণ্ডা লড়াইয়ের মতই পরস্পরের বিরুদ্ধে আঘাত ও প্রতিঘাতের খেলায় মেতে ওঠেছে।কিন্তু আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে রয়েছি।দেশ দুটির এই বাস্তবতা মাথায় রাখা উচিত।সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে মস্কো ও ওয়াশিংটনে র নগ্ন হস্তক্ষেপেরও সমালোচনা করেছে পিপলস ডেইলি।গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সিরিয়ায় জিহাদিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু কেরছে রাশিয়া।তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এই হামলার সমালোচনা করে বলেছে,সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বশির আল আসাদকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতেই এ হামলা শুরু করেছে মস্কো।এতদিন ধরে সিরিয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট।তারা আসাদের পতনকেই সিরিয়া সঙ্কটের একমাত্র সমাধান বলে মনে করে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধকে ‘প্রক্সি ওয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করে পিপলস ডেইলি বলছে,ওই দেশ দুটির এ যুদ্ধে সরকার বা বিরোধী দল কারো পক্ষ না নিয়ে এর একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চালানো উচিত।পত্রিকাটির ভাষায়,‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মত বৃহৎ দেশগুলো, যাদের সিরিয়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে, তাদের জরুরি ভিত্তিতে এই সঙ্কটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা উচিত।মঙ্গলবার ‘জং শেং’(চীনের কণ্ঠ) নামের এক কলামে ওই ধারাভাষ্যটি প্রকাশিত হয়।এই কলামটিতে বিশ্ব রাজনীতির ওপর প্রায়ই নানা মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে থাকে।মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল হলেও ওই অঞ্চলে কূটনৈতিকভাবে কখনোই তেমন প্রভাবশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেনি চীন।যদিও শুরু থেকেই তারা বলে আসছে, সামরিকভাবে সিরিয়া সঙ্কটের সমাধান করা যাবে না।স্বাভাবিক।আজ রাশিয়া,তুরস্ক,ইরান যেখানে তাদের সাফল্য দেখছে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব তাদের চরম বিপর্যয় দেখছে।আসলেই এক জটিল রাজনীতির পাশা খেলা চলছে সিরিয়াকে ঘিরে।আজ পাঁচ বছর পরে সিরিয়ায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে এক লাখের বেশি অসামরিক ব্যক্তি।এর মধ্যে আছে ১৫ হাজার শিশু ও ১২ হাজার নারী।দেশের মোট দুই কোটি ৩০ লাখ নাগরিকের মধ্যে ৫০ লাখ মানুষ দেশত্যাগ করে শরণার্থী হয়েছে এবং আরো ৬৫ লাখ হয়েছে গৃহহীন।যুদ্ধকবলিত অঞ্চলগুলোর সব শিশুই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।২০১১ সালের পর যারা জন্মেছে তারা শুধু যুদ্ধই দেখছে,বোমা হামলাই দেখছে।এটাই তাদের শৈশবের জগৎ।একটানা বোমা হামলা হবে।তা থেকে বাঁচার জন্য দৌড়াতে হবে,মাটির নিচে আশ্রয় নিতে হবে, মাঝেমধ্যেই অভুক্ত থাকতে হবে।সিরীয় শিশুদের জন্য এটাই রোজনামচা। আলেপ্পোর বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে যে কোনো সময়ই হিজবুল্লাহসহ ইরান, আফগানিস্তান ও ইরাকের শিয়া বাহিনীর সহযোগিতায় তা দামেস্ক সরকারের পূর্ণ করায়ত্ত হতে যাচ্ছে। সিরিয়া সামনে এক মারাত্মক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। সিরিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করণীয় কাজের সুযোগ ক্রমেই হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। আর এজন্য সে পূর্ব আলেপ্পোর আল-নুসরা ও আইএস দখলদারী এলাকায় বেসামরিক লোকদের ওপর রাশিয়ার বিমান হামলার ব্যাপারে ‘সতর্ক’ করে দিয়েছে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে পূর্ব আলেপ্পোর ধ্বংসযজ্ঞ ও মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের সংবাদ ও তার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হচ্ছে। দামেস্কের সরকারি বাহিনী ও জিহাদিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বলবৎকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে সরকারি বাহিনীর ওপর বিমান হামলা চালিয়ে চুক্তির বরখেলাপ করে, তা অনেকটা উহ্যই থেকে যায়।বস্তুত এ কারণেই ভেঙে যায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য আসতে থাকে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা রাশিয়াকে এই বলে হুশিয়ার করে দেন যে, রাশিয়ার সৈন্যদের শিগগিরই ‘লাশ’ হয়ে সিরিয়া ছাড়তে হবে। আরো বলা হয় যে, মস্কোর সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হলে তারা তাদের উপসাগরীয় এলাকার সহযোগীদের (সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা) মাধ্যমে বিদ্রোহীদের (আল-নুসরা ও আইএস) আরো উন্নত অস্ত্র সরবরাহ করবে।অর্থাৎ আফগান মুজাহিদিন দের যে বিমান বিধ্বংসী মিসাইল (ম্যানপ্যাড) সরবরাহ করা হয়েছিল, সেই অস্ত্র বিদ্রোহীদের দেওয়া হবে। সিরিয়ায় রাশিয়ার আসল মতলব কী?নোংরা কাজ অন্য কেউ করে দিলে আপত্তির কারণ থাকতে পারে না৷ কিন্তু অভিযোগ, জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর বদলে রুশ বোমারু বিমান সিরীয় বিদ্রোহীদের উপর হামলা চালাচ্ছে৷ রাশিয়া তা নস্যাৎ করে দিয়েছে৷ রাশিয়ার বক্তব্য, তারা সিরিয়ার সরকারের আমন্ত্রণেই হামলা চালাচ্ছে৷ অর্থাৎ বাশার আল-আসাদ সরকারকে সরাসরি সাহায্য করাই রাশিয়ার উদ্দেশ্য৷ রাশিয়াই আইএস-এর মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বেশি আন্তরিক৷ নিজেদের বক্তব্যের সম্মেলনে তারা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে৷কিন্তু ওয়াশিংটনের অভিযোগ, আইএস-এর বদলে বিদ্রোহীদের দমন করাই পুটিন ও আসাদের মূল উদ্দেশ্য৷ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সরাসরি এ বিষয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন৷ভবিষ্যতে সিরিয়ায় রুশ-মার্কিন সংঘাতের আশঙ্কা দূর করতে দুই দেশের সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে বৈঠকে বসতে চলেছে৷সিরিয়া সংকটের জটিলতা ও বিভিন্ন পক্ষের স্বার্থের সংঘাতের বিষয় নিয়ে একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেছেন অনেকে৷সিরিয়াকে ঘিরে অ্যামেরিকা, রাশিয়া ও ইরানের স্বার্থের সংঘাত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল৷ওবামা আন্তর্জাতিক সংকটগুলি থেকে দূরে থাকার নীতি নেওয়ার ফলে শূন্যস্থান পূরণ করতে পুটিন এগিয়ে এসেছেন এই অভিযোগের ভিত্তিতে এক ব্যাঙ্গচিত্র শেয়ার করেছেন অনেকে৷

 

পার্বতীপুরে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে অতিষ্ঠ জনজীবন-দিনের বেলায় জলছে বাতি


মোঃ তৌহিদুজ্জামান, পার্বতীপুরঃ-
হিমালয় কোল ঘেষা দেশের উত্তরাঞ্চলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে কয়েকদিন যাবৎ ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ দমকা হিমেল হাওয়ার কনকনে ঠান্ডা সেই সাথে ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ। এই শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্টের শিকার হচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ এবং হতদরিদ্র ছিন্নমূল মানুষ। কখনো কখনো দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিললেও রাতে প্রচুর ঠান্ডা অনুভুত হচ্ছে। কনকনে ঠান্ডায় সকল স্তরের মানুষ শীতে কুঁক্ড়ে গেছে।
শৈত্যপ্রবাহের কারণে শীত থেকে রক্ষার জন্য শীতের কাপড় কিনতে প্রায় অনেকে বিভিন্ন হাটবাজারসহ বিভিন্ন কাপড় মার্কেটের দোকান গুলোতে সোয়েটার, জ্যাকেট, নিতে সকলেই ভীড় করছে । দাম একটু বেশি। লেপ-তোষক তৈরি করছে অনেকে । কারিগররা লেপ-তোষক তৈরির কাজে মহাব্যস্ত সময় পার করছে। যেন, দম ফেলার কোনো সময় নেই। যারা লেপ-তোষক তৈরি করতে পারছে না, তারা পুরানো কাপড় দিয়ে কাঁথা সেলাই করছে। রাস্তার পাশে কেউ কেউ শীত নিবারণের জন্য গাছের পাতা ও খড় দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে প্রায়শই ঠান্ডাকে আয়ত্বে আনার চেষ্টা করছে অনেকে। ঘন কুয়াশার কারনে দোকানপাট, অফিস, রাস্তাঘাটসহ এবং সকল যানবাহন গুলোতে দিনের বেলায় বৈদ্যুতিক আলো জ্বলতে দেখা গেছে।
পর্যাপ্ত শীতবন্ত্র না পাওয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ অসহায়ের মত বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। এবার এই অঞ্চলে শীত বেশি পড়ার আশংকা থেকেই আগাম শীতবস্ত্র বিতরণ করা দরকার। তা না হলে শীতে প্রাণহানীর সম্ভাবনা অভিজ্ঞ মহলকে ভাবিয়ে তুলছে। বিভিন্ন এলাকার খেঁটে খাওয়া মানুষগুলোও সকলের প্রতি শীতবস্ত্র চেয়ে তা আগাম প্রদানের অনুরোধ করেছে।

ধরা পড়লে র‌্যাবে আমারে মাইরা ফালাইবো বইলা ভারতে গিয়েছিলাম—-নুর হোসেন

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আগে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হয়। ভারতীয় সীমান্তবর্তী একটি বিএসএফ ক্যাম্পে তাকে জেরা করেন বাংলাদেশের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।
এ সময় নূর হোসেন সাত খুনের আদ্যোপান্ত খুলে বলেন। নূর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের পুরো বিষয়টি ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। ভিডিওতে নূর হোসেনকে একজন কর্মকর্তা প্রশ্ন করেন, র‌্যাব কী ইন্টারেস্টে সাতজন মানুষকে মেরে ফেলল? উত্তরে নূর হোসেন জানান, তিনি শুধু প্যানেল মেয়র নজরুলকে মারার জন্য র‌্যাবের সঙ্গে কন্টাক্ট করেছিলেন। তবে মেজর আরিফও নজরুলকে সরিয়ে দেয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন। কারণ মেজর আরিফের সঙ্গে নজরুলের জমি দখলের দ্বন্দ্ব ছিল।
ভারতে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নূর হোসেন বলেন, ঘটনার পর সবাই বলল র‌্যাব আমাকে পেলেই মেরে ফেলবে। তাই প্রাণ বাঁচাতে ভারতে পালিয়ে আসি। নিজের উত্থান ও সিদ্ধিরগঞ্জে নিজের মাদক সাম্রাজ্য নিয়ে নূর হোসেন বলেন, ‘আমি মূলত বাসের হেলপার ছিলাম। অনেক কষ্ট কইরা এই জায়গায় আইছি। ১৮ বছর ওয়ার্ড কাউন্সিলর, আমার লোকজন তো থাকবই।’ এ সময় নূর হোসেন দাবি করেন, মাদক সাম্রাজ্য থেকে তার প্রতিদিন যে আয় হতো তার একটি বড় অংক পেত পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব ও স্থানীয় কিছু গণমাধ্যমকর্মী। যারা টাকা নিতেন তারা সবাই নূর হোসেনের কথামতো কাজ করতেন।
বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি আব্দুল মতিন নূর হোসেনের কথায় ওঠাবসা করতেন বলে দাবি করেন নূর হোসেন। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে নূর হোসেন জানান, তার কাছে সার্বক্ষণিক ১৬টি আগ্নেয়াস্ত্র থাকতো। এর মধ্যে ১৪টির লাইসেন্স ছিল। বিভিন্ন জায়গা থেকে তাকে একাধিকবার খুনেরও পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু আমারে মারতে কোনো কিলার রাজি হয় নাই’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার শ্বশুর শহীদ চেয়ারম্যানেরও ব্যাপক দ্বন্দ্ব ছিল বলে দাবি করেন নূর হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে লিখিত এভিডেন্স (প্রমাণ) আছে, যেখানে প্রকাশ্যে শহীদ চেয়ারম্যান বলেছেন- নজরুলকে তিনি পিটিয়ে মেরে ফেলবেন।’ নূর হোসেন আরও বলেন, ভারতের কারাগারে থাকার সময় বাংলাদেশ থেকে তার লোকজন নিয়মিত যোগাযোগ রাখতো। ভারতের কারাগারে তিনি ভালোই ছিলেন। এ কারণে তিনি দেশে ফিরতে রাজি ছিলেন না। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টারও বেশি সময় নূর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে নো ম্যানস ল্যান্ডে নিয়ে আসা হয়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ, তদন্তকারী কর্মকর্তা, নারাণগঞ্জ জেলা ডিবির সদস্য, বিজিবি ও র‌্যাবের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদল। নো ম্যানস ল্যান্ডে নূর হোসনেকে  নিয়ে আসা হলে তাকে রিসিভ করা জন্য এগিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু বিএসএফ পুলিশের হাতে নূর হোসেনকে হস্তান্তরে অস্বীকার করে। এ সময় একজন পদস্থ বিএসএফ কর্মকর্তা জানতে চান, এখানে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান উপস্থিত আছেন কিনা? কারণ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে জিয়াউল আহসান ছাড়া অন্য কারও কাছে নূর হোসেনকে যেন হস্তান্তর করা না হয়। পরে জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে র‌্যাবের পরিচালক (অপস) আবুল কালাম আজাদসহ তিনজন র‌্যাব কর্মকর্তা নূর হোসেনকে গ্রহণ করেন।   শেষ রাতের দিকে নূর হোসেনের হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ হয়। এরপর তাকে হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে ঢাকার পথে রওনা দেয় র‌্যাব

পাওয়ার অভ্ অ্যাটর্নি আইন ও বিধিমালার অস্পষ্টতা দূর করা হবে — আইনমন্ত্রী


ঢাকা, ৪ মাঘ (১৭ জানুয়ারি) :
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, পাওয়ার অভ্ অ্যাটর্নি আইন, ২০১২ এবং পাওয়ার অভ্ অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫ এর যে সমস্ত অনুচ্ছেদে অস্পষ্টতা রয়েছে তা শিগগিরই দূর করা হবে। একইসাথে নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৪ এর যে সমস্ত বিধি ও উপবিধিতে অস্পষ্টতা রয়েছে তাও দূর করা হবে।আজ ঢাকায় আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।বৈঠকে আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরলে আইনমন্ত্রী তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রাম জেলা জজশিপের শূন্য পদগুলো এক সপ্তাহের মধ্যে পূরণ করা হবে বলে জানান।বৈঠকে আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, যুগ্ম-সচিব এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া ও বিকাশ কুমার সাহাসহ আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ”ট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেনসহ সমিতির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিচারপতি রুহুল আমিনের মৃত্যুতে আইনমন্ত্রীর শোক
ঢাকা, ৪ মাঘ (১৭ জানুয়ারি) :সাবেক প্রধান বিচারপতি এম এম রুহুল আমিনের মৃত্যুতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রী আজ এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি পরিদর্শনে ৩ দেশের রাষ্ট্রদূত

ইমরান জাহেদ, কক্সবাজার ॥
মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয়স্থল উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি ঘুরে দেখলেন তিন দেশের রাষ্ট্রদূত। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মেরেট লুনডেমো, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত হ্যানে ফুগল এস্কেয়ার ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত জোহান ফ্রিসেল কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জের কার্যালয়ে এনজিও প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করে রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি ও পরিবেশ জানতে চান।
এসময় ক্যাম্প ইনচার্জ মোঃ শামশুদ্দোজ্জা নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সংক্ষিপ্ত বিবরণী তুলে ধরেন। পরে তিন দেশের রাষ্ট্রদূত কুতুপালং বনভূমির পাহাড়ে ঝুঁপড়ি বেঁেধ আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা বস্তি ঘুরে দেখেন। এসময় তারা রোহিঙ্গাদের সংকট সমস্যা ও জীবনজীবিকা সম্পর্কে জানতে চান এবং রোহিঙ্গাদের সাথে সরাসরি কথা বলেন। তিন দেশের রাষ্ট্রদূতের উদ্ধৃতি দিয়ে ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিক জানান, তিন দেশের রাষ্ট্রদূত মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর দমন নিপীড়নের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন এবং এখানে তারা কোন সমস্যায় আছে কিনা তাও খোঁজখবর নিয়েছেন। তিন দেশের রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের আবাসস্থল ঝুঁপড়ি গুলো প্রত্যক্ষ করে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।
এর আগে গত সোমবার তিন দেশের রাষ্ট্রদূত টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী শিবির, লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবির ও সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের সেনা তান্ডবে বর্বরতা শিকার হয়ে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়া জাদিমুরা রোহিঙ্গা বস্তি পরিদর্শন করেন। কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি পরিদর্শন কালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল, সহকারি পুলিশ সুপার (ডিএসবি) কাজী হুমায়ুন রশিদ ও উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের উপস্থিত ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের সামনে মূর্তি স্থাপন বন্ধ না করলে সবার আগে প্রয়োজনে আমার বুকের তাজা রক্ত দিব- ওলামা লীগ সভাপতি

বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগসহ সমমনা ১৩টি ইসলামিক দলের উদ্যোগে আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নেতৃবৃন্দ ৪ দফা দাবী তুলে ধরেন।
মানববন্ধনে ওলামা লীগের সভাপতি মাওলানা আখতার হুসাইন বুখারী বলেন, প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের সামনে মূর্তি স্থাপন বন্ধ না করলে ওলামা লীগ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। প্রয়োজনে সবার আগে আমার বুকের তাজা রক্ত দিব। তারপরও সুপ্রিম কোর্টের সামনে গ্রীক দেবীর মূর্তি স্থাপন বন্ধ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, এদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ, যদি কিছু তৈরী করতেই হয় তাহলে পবিত্র কুরআন শরীফ বা পবিত্র কালেমা শরীফের স্থাপত্য নির্মাণ করা হোক।
ওলামা লীগের কার্যনির্বাহি সভাপতি আলহাজ্জ হাফেজ আব্দুস সাত্তার বলেন, সারাদেশে আমাদের সাড়ে তিন লাখ কর্মী রয়েছে। যদি সুপ্রিমকোর্টের মূর্তি স্থাপন বন্ধ করা না হয় তাহলে সারাদেশে আমাদের সব কর্মী রাস্তায় নেমে আসবে। কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে। এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিকে হেয় করা, অবজ্ঞা করা চলবে না। অনতিবিলম্বে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করতে হবে।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রীক দেবী থেমিসের মূর্তি স্থাপন বন্ধ করতে হবে। গত কয়েকদিন থেকে বিভিন্ন সংগঠন এ বিষয়টি নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে পেপার পত্রিকায় বক্তৃতা, বিবৃতি দিচ্ছে এবং মিছিল সমাবেশ করে যাচ্ছে। সরকার সমর্থিত ওলামারাও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম- ফেসবুকেও সমালোচনার ঝড় বইছে। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দেয়ার অপচেষ্ঠা বন্ধ করতে হবে। এর পেছনে যারা জড়িত তাদের খুজে বের করতে হবে এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে সরকার বিরোধী অপতৎপরতা বন্ধে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে গ্রীক দেবীর মূর্তি সরিয়ে ফেলতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ট হিসেবে মুসলমানদের কোন ধর্মীয় নিদর্শন এখানে স্থাপন করা উচিত ছিল। যাতে সরকারকে আরো জনপ্রিয় ও ধর্মপ্রাণদের সরকার হিসেবে তুলে ধরা যায়।
বক্তারা বলেন, প্রধান বিচারপতি সুপ্রিমকোর্টে মূর্তি স্থাপন করছেন এটা নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি।’ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার সেটা বলেছেন। অন্যান্য আইনজীবীরাও বলেছেন, এই ভাস্কর্য নিয়ে আইনজীবী এবং সাধারণ মানুষের আপত্তি রয়েছে। (দৈনিক আমাদের অর্থনীতি, ১৩ই জানুয়ারী) দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণও বলেছেন সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে মূর্তি স্থাপন বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সর্বোপরি ধর্মীয় চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী তথা মূর্তি স্থাপন ইসলাম ধর্মে সম্পূর্ণ হারাম। তারা বলেছেন এ ভাস্কর্য স্থাপন দেশের মানুষ কোনোভাবেই সমর্থন করবে না। তারপরও প্রধান বিচারপতি তার নিজস্ব চিন্তা চেতনায় বিধর্মী মূর্তি মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। গ্রীক দেবী এদেশের জনগণের সংস্কৃতিক ঐতিহ্য নয়। বিশেষ করে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের সংস্কৃতির সম্পূর্ণ খিলাফ। ভারতে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাবধারা মূল্যায়ন করা হয়, তবে এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ভাবধারা মূল্যায়ন করা হবেনা কেন? এটা সংবিধানের ২(ক) অনুচ্ছেদ তথা রাষ্টধর্ম ইসলামেরও বিরোধী।
বক্তারা বলেন, ভারতীয় টিভি চ্যানেল ও সিরিয়াল আমদানির সুযোগ দিয়ে সরকারই এদেশে অবাধ ভারতীয় সংস্কৃতির লালন ও প্রসার করছে। যা সংবিধানের ২৩নং অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট খেলাপ। সংবিধানের ২৩নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।’
বক্তারা বলেন, ভারতের খবরদারী, চোখরাঙ্গানী সব উপেক্ষা করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নেপাল ভারতের ৪২টি টিভি চ্যানেল বন্ধ করেছে। তাহলে পরকীয়ার জন্য সন্তান হন্তারক মা তৈরীকারী, পিতা-মাতা হন্তারক সন্তান তৈরীকারী পারিবারিক বন্ধন ও শান্তি ধ্বংসকারী, কিশোর অপরাধী তৈরীকারী, আত্মহত্যা ও হত্যায় উদ্বুদ্ধকারী, ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি সৃষ্টিকারী স্টার জলসা, জি বাংলা, স্টার প্লাস, সনি টিভি, জিটিভি, জি’সিনেমাসহ সব ভারতীয় টিভি চ্যানেল বাংলাদেশ বন্ধ হবেনা কেন? অবিলম্বে এসব ভারতীয় টিভি নিষিদ্ধ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, নতুন পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলাম অবমাননাকর হিন্দুত্ববাদী ও নাস্তিক্যবাদী পাঠ্যক্রম বাদ দেয়া হয়েছে বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে সামান্য ব্যতীত বর্তমান পাঠ্যপুস্তক থেকে বিতর্কিত হিন্দুত্ববাদ বাদ দেয়া হয়নি। বরং পাঠ্যপুস্তকে তা বহাল তবিয়তেই আছে। শুধু ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ে বিভিন্ন আয়াত শরীফ, হাদীস শরীফ এর মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ২৪টি ভূল করা হয়েছে। বাংলাভাষার স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জণবর্ণ মিলে মোট ৪৯টি বর্ণের উদাহরণ দিতে ৩৪%-এরও বেশি ইসলাম ধর্ম অবমাননাকর অনৈসলামিক হিন্দুত্ববাদী ও বিজাতীয় সংস্কৃতি শেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাংবিধানিক অধিকার মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষা না করে উপজাতি নৃ-গোষ্ঠীর ভাষায় পাঠ্যবই ছাপানো হয়েছে। এমনকি শিশুদের ১ম শ্রেণীর পাঠ্য বইয়ে ষড়যন্ত্রমূলক ম্যাসেজ হিসেবে ছবির মাধ্যমে কোমলমতি শিশুদের শিশুবেলাতেই যৌনতার পাঠ দেয়া হয়েছে।
বক্তারা বলেন, কিছু মিডিয়া জনকণ্ঠ, সংবাদ, কালেরকণ্ঠ, বিডিনিউজ, প্রথম আলো এবং বামপন্থী মহল যারা প্রতিনিয়ত হিন্দুত্ববাদ, নাস্তিক্যবাদ তোষণ করে, তারা পাঠ্যপুস্তকে সামান্য হিন্দুত্ববাদ বাদ দেয়াকে মৌলবাদ আর জামাত-হেফাযতের নামে মুসলমানদের ধর্মীয় অনূভূতির বিরুদ্ধে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তারা পাঠ্যপুস্তকে গুটি কয়েক ইসলামী ভাবধারার প্রবন্ধকে মৌলবাদের উগ্রপন্থা বলেও আখ্যায়িত করেছে। সাম্প্রদায়িক পাঠ্যবই বলেও আখ্যায়িত করেছে। অথচ জামাত-জোট, হেফাযতীরা কিংবা মৌলবাদ ‘ইসলাম ও মুসলমান’দের প্রতিনিধিত্ব করেনা। তাছাড়া ২০১৬ সালের পুরো পাঠ্যসূচিই ছিল হিন্দুত্ববাদ ও নাস্তিক্যবাদী সাম্প্রদায়িকতায় ভরপুর। এবারের পাঠ্যপুস্তকেও সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদের জয়জয়কার। অথচ সাম্প্রদায়িক মিডিয়া ও মহল তখন এসব বই ও প্রবন্ধকে হিন্দু মৌলবাদী বই বা সাম্প্রদায়িক পাঠ্যবই বলেনি এবং এখনো বলছেনা। পাঠ্যপুস্তকে সাধারণ ভূল নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও ইসলামী বিষয়ে মারাত্মক ভূলগুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বামপন্থী মিডিয়া ও মহল প্রচার করছে নতুন পাঠ্যপুস্তকের বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রবন্ধ কবিতা ঢুকানো হয়েছে। মূলত এর নামে তারা বিএনপি জামাত-জোটের নামে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের পাঠ্যসূচীই বাদ দিতে চায়। কারণ উল্লেখিত সবগুলো প্রবন্ধ কবিতা ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও পাঠ্য ছিল।
বক্তারা বলেন, নতুন পাঠ্যক্রমে ‘ও’ অক্ষরে ‘ওড়না’ শব্দ ব্যবহার নিয়ে একটি কুচক্রী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। ওড়না মুসলমানদের ধর্মীয় পোশাক হওয়ায় তারা সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ করছে। অথচ একই পাঠ্যক্রমে ঋ-তে শেখানো হচ্ছে ‘ঋষি’। র-তে শেখানো হচ্ছে ‘রথ টানি’। এরুপ আরো অনেক হিন্দুয়ানী শব্দ। সেক্ষেত্রে তারা সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ করছেনা। শুধু তাই নয়, পাঠ্যপুস্তকে ‘ওড়না’ শব্দ থাকায় নাকি লিঙ্গ বৈষম্য হয়েছে। নাস্তিক্যবাদীদের মতে “একেবারে ছোট বয়স থেকে নারী ও পুরুষের পার্থক্য তৈরি করে এমন কোন শব্দ ব্যবহার করা উচিৎ নয়।” তাহলে তো স্কুলের ছাত্র ও ছাত্রীদের আলাদা ইউনিফর্মও তুলে দিতে হবে! কারণ ছেলে ও মেয়েদের আলাদা ইউনিফর্ম তাদের মধ্যে পার্থক্য তৈরী করছে এবং লিঙ্গ বৈষম্য শিখছে। পাশপাশি ওড়না বিরোধীদের বক্তব্য অনুযায়ী তাহলে মেয়েরা অন্তর্বাস পরাতে পারবেনা। সেলোয়ার কামিজ পরাতে পারবেনা। এভাবেও তো তাহলে লিঙ্গ বৈষম্য তৈরী হয়! নারী ও পুরুষের পার্থক্য তৈরি হয়! নাস্তিক্যবাদীরা কি এগুলো বাদ দিবে? এছাড়া বাংলার নারীদের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া, বঙ্গমাতা ফজিলতুন নেছা, বর্তমান কালে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, কৃষিমন্ত্রী সবাই মাথায় শাড়ি বা ওড়না দিয়ে মাথা ঢাকেন। এভাবেই তো তারা দেশ চালাচ্ছেন। ওড়না কি তাদের নারী প্রগতিতে কোন অন্তরায় হয়েছে?
বক্তারা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় মুসলমানদের ধর্মীয় স্বকীয়তা নিয়ে আমরা চরম আতঙ্কিত। অবিলম্বে পাঠ্যপুস্তক থেকে সব হিন্দুত্ববাদ ও নাস্তিক্যবাদ প্রত্যাহার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে হিন্দু নিয়োগে আধিপত্য বন্ধ করতে হবে। এলক্ষ্যে আগামী ১৫ জানুয়ারী আমরা পাঠ্যপুস্তক ভবন ঘেরাও কর্মসূচী পালন করব।
বক্তারা উন্নয়নের মানসকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ট নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে অবিরাম গতিতে এগিয়ে চলায় এবং ব্যাপক সাফল্যের সাথে সরকার তিন বছর পূর্ণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রাণঢালা উষ্ণ অভিনন্দন জানান।
সমন্বয় করেন, পীরজাদা, পীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বর্ষীয়ান বিপ্লবী জননেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী, (পীর সাহেব, টাঙ্গাইল), সভাপতি- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন- আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, সাধারণ সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার, সভাপতি- সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ, মাওলানা মুহম্মদ শওকত আলী শেখ ছিলিমপুরী, দপ্তর সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, মাওলানা মুজিবুর রহমান চিশতি সহ সভাপতি বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ। হাফেজ মাওলানা মোস্তফা চৌধুরী বাগেরহাটি হুযূর-সভাপতি বাংলাদেশ এতিমখানা কল্যাণ সমিতি, হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল জলিল, ডা. সাইফুদ্দীন মিয়াজি, আল্লামা পীরজাদা পীর আলহাজ্জ হাফেয ক্বারী মাওলানা কাজী মাসুদুর রহমান- সভাপতি বাংলাদেশ ইমাম মুয়াজ্জিন মুসল্লী দ্বীনি কল্যাণ পরিষদ, ডাক্তার মাওলানা মুহম্মদ সাইফুদ্দিন মিয়াজী, মাওলানা আব্দুর রহিম শেরপুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ চেয়ারম্যান- আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার। মিছিল শেষে শহীদ বঙ্গবন্ধু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রূহের মাগফিরাত কামনা করে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হায়াতে তৈয়বার জন্য দোয়া মোনাজাত করেন- আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী।
বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ, জাতীয় কুরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ওলামা মাশায়েখ ঐক্যজোট, বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা পরিষদ, কেন্দ্রীয় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, বাংলাদেশ, হাক্কানী আলেম সমাজ, জাতীয় ওলামা পরিষদ, বাংলাদেশ এতিমখানা কল্যাণ সমিতি, ইমাম মোয়াজ্জিন কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ ফেৎনা প্রতিরোধ কমিটি,

অপরাধী সে যেই হোকনা কেন তার সাজা হবেই—–স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আজ বলেছেন, সাত-খুন মামলার রায়ের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি সতর্ক করে দেন।  আজ রায়ের পর সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের সাতখুনের মামলায় প্রমাণিত হয়েছে অপরাধের ক্ষেত্রে সরকার কাউকেই ছাড় দেয়না। ’ সাতখুনের মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা আবারও প্রমাণিত হয়েছে দেশে আইনের শাসন রয়েছে।
তিনি বলেন, অপরাধ করেছে এমন কয়েকজন বিপথগামী কর্মকর্তার জন্য র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) দায়ি হবে না, কেননা দেশে অপরাধ দমনের জন্যই এই প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই রায়ের ফলে বাহিনীটির অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে র‌্যাবও সহায়তা করেছে। ’ পলাতক দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই তাদেরকে বিচারের আওতায় আনবেন।  উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে নারায়নগঞ্জের সাত-খুন মামলায় আজ সকালে আদালত প্রধান অভিযুক্ত নূর হোসেন এবং র‌্যাব-এ ডেপুটেশনে কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীর বরখাস্তকৃত তিন কর্মকর্তাসহ ২৬ ব্যক্তিকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে।  এছাড়াও আদালত অপর ৯ অভিযুক্তকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর সাথে লন্ডনের ক্যামডেন মেয়রের সাক্ষাৎ


ঢাকা, ৩ মাঘ (১৬ জানুয়ারি) :
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সাথে আজ ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে যুক্তরাজ্যের লন্ডন বোরো অভ্ ক্যামডেন এর মেয়র নাদিয়া শাহ’র নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে লিডার অভ্ দি কাউন্সিল সারাহ হ্যাওয়ার্ড সহ ৫ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র। বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য সহযোগিতা করে আসছে। ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরো জোরদার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে ড্রপ-আউট অনেক কমে এসেছে। স্কুলে যাওয়া ছেলেমেয়েদের মধ্যে জেন্ডার সমতা অর্জিত হয়েছে। স্কুলগুলোতে মেয়েদের সংখ্যা এখন ছেলেদের চেয়ে বেশি। শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার এখন কাজ করছে। তিনি শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন শিক্ষানীতিতে কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এর বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে শতকরা ১৪ ভাগ শিক্ষার্থী বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে পড়াশুনা করছে। ২০২১ সালের মধ্যে তা ২০ শতাংশ এবং ২০৩০ সালে তা ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে।সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে দুদেশের মধ্যে সহযোগিতা আরো বাড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তারা নারী শিক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন। বাংলাদেশি বংশদ্ভুত ক্যামডেন মেয়র বাংলাদেশে দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে সহযোগিতার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

মতবিনিময়কালে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু ডিজিটাল বাংলাদেশ পাবলিসিটি কাউন্সিল শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নে কাজ করছে

দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের কাছে তুলে ধরা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ শেখ হাসিনার আধুনিক ও স্বপ্নযাত্রার স্বাপ্নিক নাম ডিজিটাল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বিশ্ব সভ্যতায়। দেশরতœ শেখ হাসিনা এখন আধুনিক সভ্যতায় এক সাহসী নেত্রীর নাম। বিশ্বের বুকে ক্ষমতাধর নেত্রী ও সাহসী রাষ্ট্র নায়কের প্রতীক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার স্বপ্ন ও ভিশন ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন। তাই ২০০৮ সালের নির্বাচনে নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পরিণত করতে স্বপ্ন দেখেছেন এবং ঘোষনা করেন ডিজিটাল বাংলাদেশ তথা ২০২১ রূপকল্প। আর এই রূপকল্প বাস্তবায়নে এবং শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘ ৮ বছর কাজ করছে ডিজিটাল বাংলাদেশ পাবলিসিটি কাউন্সিল। ডিজিটাল বাংলাদেশ পাবলিসিটি কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়কালে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

সৃজনশীল জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও মুজিব আদর্শের চেতনাবাহী সংগঠন ডিজিটাল বাংলাদেশ পাবলিসিটি কাউন্সিলের ৮ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গত ১৩ জানুয়ারী সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার পল্টনস্থ দৈনিক প্রভাত কার্যালয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, প্রবীণ রাজনীতিবিদ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জননেতা মোজাফ্ফর হোসেন পল্টুর সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময়কালে মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু আরো বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। শেখ হাসিনার দৃঢ় ও সাহসী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নত রাষ্ট্রের দ্বারপ্রান্তে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীকে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সহ সভাপতি মো: জসিম উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক স.ম. জিয়াউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সৈয়দ মো: মিসবাহ উদ্দীন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এস, এম, লিয়াকত হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো: সাইফুল ইসলাম মজুমদার, দপ্তর সম্পাদক প্রকৌশলী টি,কে, সিকদার, অর্থ সম্পাদক জে. বি. এস আনন্দবোধি ভিক্ষু, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো: জামাল উদ্দীন, সদস্য অভিজিৎ দে রিপন, হারুনুর রশীদ, শেখ মো: আব্দুল্লাহ, সুমন চৌধরী, মোস্তাফিজুর রহমান মানিক, কাজী সাইফুল ইসলাম, আসিফ ইকবাল, আমিরুন্নেসা জেরিন, মো: হাসানুজ্জামান শিমুল। মতবিনিময় সভার শুরুতে জননেতা মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু পুণরায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মনোনীত হওয়ায় সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল এবং ক্রেষ্ট উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »