Category: প্রথম পাতা

টিপ ও ঘোমটার ধর্ম নেই — তথ্যমন্ত্রী


ঢাকা, ১০ ফাল্গুন (২২ ফেব্রুয়ারি): টিপ ও ঘোমটা দেখে মানুষের জাত বিচার বা আচরণে বৈষম্য ঠিক নয়। অঞ্চল ও ধর্ম নির্বিশেষে সকলের প্রতি সম্মান ও মমত্ববোধেই সংস্কৃতির জয়গান। এ কারণে কপালে টিপ দিলে হিন্দু বা ঘোমটা দিলে মুসলমান এমন ভাবনা অমূলক।
আজ রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের আয়োজনে তাদের মিলনায়তনে ‘সাংস্কৃতিক ঘাটতি ও প্রগতির অন্ধকার’ শীর্ষক গণবক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এ কথা বলেন। জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি শিল্পী হাশেম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা সংস্কার, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি সম্মান, অর্থনীতিতে ঘুষ-দুর্নীতি পরিহার ও দলের ভেতরে গণতন্ত্রের চর্চা দেশকে এগিয়ে নেবে ও সাংস্কৃতিক ঘাটতিও পূরণ করবে।
চার হাজার বছরের পুরনো বাঙালি সভ্যতাকে বিশ্বের বুকে একটি সমৃদ্ধ সংস্কৃতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বই’র গণআন্দোলনের মতো মীমাংসিত বিষয় নিয়ে বিসংবাদ তৈরি করতে দেয়া যাবে না। অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে এই তিন অর্জন আমাদের সংস্কৃতির গৌরব।
হাসানুল হক ইনু বলেন, শুধু উপার্জন নয়, শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে আদর্শবান মানুষ হওয়া। এজন্য প্রয়োজন অসাম্প্রদায়িক বৈষম্যমুক্ত চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষা। মানুষ, প্রকৃতি, দেশ ও সমাজের জন্য ভালবাসার মন্ত্রে জীবন গড়তে হবে। যার যার জায়গায় বিবেকবান জীবনের ছোট ছোট উদাহরণ সমৃদ্ধ করবে জাতীয় সংস্কৃতি।
এ সময় উপস্থিত সাংবাদিক ও দর্শকদের সংস্কৃতির ঘাটতি ও উত্তরণ বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রী।

বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে উত্তরায় আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে দেশে শতকরা ৬০ ভাগ মানুষ মারা যাচ্ছে নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ-এ ————-স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

এস,এম, মনির হোসেন জীবন / শহিদুল ইসলাম শিশির / জাফিয়া সুলতানা : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক (এমপি) বলেছেন, দেশে শতকরা ৬০ ভাগ মানুষ মারা যাচ্ছে নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ বা এনসিডি-এ। এর মধ্যে ১০ ভাগই ক্যান্সার। দেশে ক্যান্সারের চিকিৎসা অপ্রতুল। এধরনের রোগ নির্মূলের জন্য জনসচেতনতা আরও বাড়ানোর দরকার। সেই সাথে চিকিৎসা সেবার ও ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ।

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরে ”বিশ্ব ক্যান্সার দিবস -২০১৭ উপলক্ষে আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট কাজী রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সভাপতি ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিডি’র পরিচালক ডাঃ ফারুক আহম্মেদ ভুঁইয়া, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের ঢাকা বিভাগের সহ-সভাপতি ডাঃ জামাল উদ্দিন খলিফা। অনুষ্টানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ সৈয়দ ফজলে রহিম (অবঃ)। ক্যান্সার বিষয়ক প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন করেন সি. কন্সালটেন্ট অনকোলজী অধ্যাপক ডাঃ এম.এম. শরীফুল আলম প্রমুখ।

”বিশ্ব ক্যান্সার দিবস” উদযাপন আলোচনা অনুষ্টানে বক্তারা জানান,বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্যান্সার রোধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিতে পারলে ২০২৫ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে প্রায় সাড়ে আট কোটি মানুষ মারা যাবে । ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার-এর তথ্যমতে, বাংলাদেশে ২০০৫ সালে ক্যান্সারের কারণে মৃত্যুর হার ছিল ৭.৫%, ২০৩০ সালে এই হার বেড়ে হবে ১৩%। ক্যান্সারের উৎপত্তি কখনো ভাগ্যের উপর নির্ভরশীল নয়। শুধুমাত্র জীবন যাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে অর্ধেক ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের অধিকাংশ টিউবওয়েলে আর্সেনিক॥ জীবন ধারনের জন্য বিশুদ্ধ পানি বলতে নদী, নালা, ব্যর, ডোবা, পুকুর, খাল-বিলের পানি!

১৯৯৯ সাল থেকে বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার ১৩ নং হারতা মৌজা ২নং হারতা ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের নলকূপ আর্সেনিকে আক্রান্ত? দেখার নেই কেউ? এলাকার জনগণের বিশুদ্ধ পানির জন্য নদী, নালা, ব্যর, ডোবা, পুকুর, খাল-বিলের পানিই একমাত্র ভরসা।
বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার ১৩ নং মৌজার ২নং হারতা ইউনিয়নের হারতা গ্রামের মোঃ আয়নাল হক ব্যাপারী, পিতা মৃত: কাসেম আলী ব্যাপারীর একমাত্র স্যালো নলকূপটি ১৯৯৯ সালের ১৫ অক্টোবর নলকুপটি একটি প্রাইভেট সংস্থার মাধ্যমে স্থাপন করা হয়। অত্র এলাকার ২৫/৩০টি পরিবার উক্ত টিউবওয়েল থেকে বিশুদ্ধ পানি পান করেছিল। কিন্তু ১৯৯৯ সালের ৩ নভেম্বর ‘বাংলাদেশ আর্সেনিক মিটিগেশন ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট ইমার্জেন্সী স্ক্রীনিং প্রোগাম পরিবারের পর্যবেক্ষণ তথ্য’ বাংদেশ আর্সেনিক মিটিগেশন ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট, বাড়ী নং ৪৫০ম রাস্তা নং ৩১, নিউ ডিওএইচএস, মহাখালী, ঢাকা-১২০৬, এর মাধ্যমে আর্সেনিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করার মাধ্যমে অত্র এলাকার ১৫০ নং নলকুপটির গভীরতা ছিল ৬৪ ফিট, আর্সেনিকের পরিমাণ ছিল ০৭% পার্সেন্ট। এলাকার জনগণের মধ্যে আর্সেনিকে আক্রান্তের সংখ্যাও ছিল ৬ জন। উক্ত সংস্থার প্রধান ও আর্সেনিক পরীক্ষক এবং স্বাক্ষরকারী প্রজেক্ট প্রধান প্রফুল্ল কুমার বিশ্বাস। সংস্থার প্রধান বলেছিল যে, অত্র এলাকায় মিটিগেশন প্রয়োজন আছে। অত্র এলাকায় এ পর্যন্ত সরকার বা কোন সংস্থা অত্র এলাকায় আর্সেনিক মুক্ত গভীর নলকুপ স্থাপন করার কথা তো দূরে থাক একটি সংস্থাও নলকূপ স্থাপন করার জন্য তেমন কোন সহযোগীতা করেনি। এমনকি স্থানীয় সরকার ও সমাজসেবামূলক এনজিওগুলোও খবর নেয়নি। তারা সর্বদা ব্যস্ত থাকার কারণে কার খবর কে রাখে?
বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার ১৩ নং মৌজার ২নং হারতা ইউনিয়নের হারতা গ্রামের মোঃ আয়নাল হক ব্যাপারী, পিতা মৃত: কাসেম আলী ব্যাপারী বাড়ীর একমাত্র স্যালো নলকূপটিতে আর্সেনিক ধরা পরার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোন বিশুদ্ধ পানির জন্য কোন নলকূপ স্থাপন করতে পারি নাই। এমনকি কোন সংস্থা ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোন রকম কোন নলকূপ স্থাপন করেনি অথবা অত্র এলাকায় বিশুদ্ধ পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করার কোন চিন্তাও করেনি।
আমি উজিরপুর উপজেলার ২নং হারতা ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়ীতে অথবা ৩/৪ টি পরিবারের মধ্যে একটি করে গভীর নলকূপ স্থাপন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

মেহেরপুরে মাদক পাচারকারীরা বেপরোয়া


মেহেরপুর প্রতিনিধি:মেহেরপুরে মাদক পাচারকারীরা আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পুলিশের হাতে আটক ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদন্ড পাবার কয়েকদিন পরই জামিনে এসে তারা শুরু করছে মাদক পাচার। পুলিশের চিরুনী অভিযানের ভয়ে যে সব মাদক পাচারকারীরা আত্মসমর্পণ করেছিলেন তাদের সিংহভাগই আবারো জড়িয়ে পড়েছে মাদক পাচারে। এছাড়াও প্রশাসনের কথিত সোর্সদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদেও অনেকে মাদক পাচারে জড়িয়ে পড়ছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, মেহেরপুরে দু’শতাধিক চিহ্নিত মাদক পাচারকারীসহ অন্ততঃ পাঁচ শতাধিক মাদক সেবী রয়েছে। গত ৬ মাসে পুলিশ ৫০ জন মাদক পাচারকারী, ৬২ জন মাদক সেবীকে আটক করে। এছাড়াও ৫২ জন মাদক পাচারকারী আত্ম সমর্পণ করেন। এদের মধ্যে ৫৫ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদন্ড দেয়া হয়। বাকিদের নামে দেয়া হয় নিয়মিত মামলা। ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ছাড়াও নিয়মিত মামলার আসামীরা আটকের কয়েকদিনের মাথায় জামিনে বেরিয়ে এসে শুরু করছেন মাদক ব্যবসা।
জানা গেছে, গাংনীর বাওটের চিহ্নিত মাদক পাচারকারী সামিয়ারা পরপর ১১ বার পুলিশের হাতে আটক হয়। প্রতিবার আটকের কয়েকদিনের মাথায় সে জামিনে এসে শুরু করে মাদক পাচার। একই গ্রামের সোহেলের নামে রয়েছে ৬টি মামলা। বামন্দির বুলুর স্ত্রী অঞ্জণার নামে রয়েছে ১২ টি মামলা। গাংনীর হল পাড়ার হাফিজুল ও তার স্ত্রী আলেয়া ও কনা পুলিশ ও র‌্যাবের হাতে ১৪ বার আটক হয়। ভ্রাম্যামাণ আদালতে তার সাজা হয় ৩ বার। তার পর থেমে নেই মাদক পাচার। এদিকে র‌্যাবের সোর্স পরিচয় দানকারী বামন্দির রিপন, ফিরোজ, দিঘিরপাড়ার বাদল ও তার স্ত্রী ১৬ বার আটক হয়। এরা সবাই জামিনে এসে শুরু করছে মাদক পাচার।
পুলিশের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসি সমন্বয় সভায় মাদক বিরোধি অভিযানের ব্যাপারে আলোচনার সময় জেলা প্রশাসনের কোন ম্যাজিস্ট্রেট আসেন না আবার কোন সমন্বয় করেন না। যাদেরকে মোবাইল কোর্টে সাজা দেয়া হয় তাদের পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হলে আদালত জামিন দিয়ে দেন। ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, সিমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক পাচার হয়। অথচ সিমান্ত বাহিনীদের তেমন ভুমিকা পরিলক্ষিত হয়নি ।
বিজিবির পক্ষ থেকে দাবী করা হয়, বিজিবি সব সময় পুলিশের সহযোগিতা করে থাকে। মাদক পাচার বন্ধে জোর প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে বিজিবি। সিমান্ত এলায় যারা চিহ্নিত মাদক পাচারকারী ছিল তারা অনেকেই আত্মসমর্পণ করেছেন। আর যারা আছে তারা পলাতক। তবে মাদক নির্মূলে বিজিবি বদ্ধ পরিকর।

গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক রমজান আলী জানান, মাদক পাচারকারী ও সেবীকে কারাদন্ড দেয়া ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদক বিরোধি সেমিনার মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন করা উচিৎ। সেই সাথে মাদক পাচারকারী ও সেবীদের বিরুদ্ধে গণ সচেনতা সৃষ্টি করলে মাদক পাচার ও সেবন বহুলাংশে কমে যাবে।

গাংনী থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, পুলিশ মাঠ পর্যায় থেকে মাদক পাচারকারীদের তালিকা করে অভিযান চালিয়ে পাচারকারী ও মাদক সেবীদেরকে আটক করে। পুলিশের চিরুনী অভিযানে মাদক ব্যবসায়িদের অনেকেই আত্মসমর্পণ করে। পরে প্রশাসনের কথিত সোর্সদের সহযোগিতা ও স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্ররোচনায় তারা অনেকেই মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ সুযোগ পেলেই আবারো তাদেরকে আটক করবে।

মুজিবনগরের অধিকাংশ টিউবয়েলে আর্সেনিক ॥ জীবনধারনে একমাত্র অবলম্বন ডোবার নোংরা পানি


মেহেরপুর প্রতিনিধি:মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার তারানগর গ্রামের ১৬৫টি টিউবওয়েলের মধ্যে ১৬০টিতেই অধিক মাত্রার আর্সেনিক সনাক্ত করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর । এমনকি যে কটি কুয়ো রয়েছে তাতেও আর্সেনিকের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। নিরাপদ বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকায় জিবন ধরনের জন্য ডোবার নোংরা পানিই গ্রামবাসীর একমাত্র ভরসা।মুজিবনগর উপজেলার তারা নগর গ্রামে বসবাস করে প্রায় ২হাজার ৮শ ৫৮ জন মানুষ। এ গ্রামে গত কয়েক বছরে আর্সেনিকে আক্রান্ত্র হয়ে মারা গেছে ৭০ থেকে ৮০ জন। আর আর্সেনিকোসিস রোগে আক্রান্ত্র সংখ্যা এখন প্রায় ৭ শ ৪৮ জন। বর্তমানে এখানকার পানিতে ৯৫ দশমিক ৫৮ ভাগ আর্সেনিক। সরকারী ও বিভিন্ন এনজিও-র দেওয়া বিশুদ্ধ পানির যে উৎসগুলো ছিলো তা সঠিকভাবে তদরকির অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে অনেক আগেই। ফলে এখানকার মানুষেরা বাধ্য হয়ে গ্রামের ডোবা থেকে পানি সংগ্রহ করে জীবন ধারন করছে ।তারানগর গ্রামের গৃহবধু লিপিয়ারা জানান,এখান টিউবয়েলের পানি পশুপাখি ,গরুবাছর যাকে খাওয়ানো হয় তাকেই আর্সেনিকে ধরে । আমরা গাভির দুধ পরিক্ষা করে তাতেও আর্সেনিক পেয়েছি। তাই বাধ্য হয়ে রুচিনা হলেও ডোবা পুকুরে পঁচা পানি খেয়ে বেঁচে আছি আমরা।গ্রামের অপর যুবক লিয়াকত হোসেন বলেন,২ হাজার সাল থেকে এপর্যন্ত ৪৫-৫৫ জন এ রোগে মারা গেছে প্রায় ২ বৎসর পূর্বে সেভ দ্যা চিলড্রেন এখানে একটি বিশুদ্ধ পানির ট্রাংক স্থাপন করে কিন্তু তা ১৫ দিন সচল রাখে তারপর বন্ধ করে দিয়ে আর কোন খোজ খবর রাখেনি। আমরা এবিষয়ে কয়েকবার মেহেরপুরস্থ সেভদ্যা চিলড্রেনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে অফিসের গেট থেকে আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গ্রামের ৬০ উদ্ধো রহিমা বেগম বলেন এই আর্সেনিক রোগে সাথে আমাদের বসবাস এরোগ আমার স্বামী, সন্তানকে কেড়ে নিয়েছে, আমিও এ রোগে ভূগছি । আমার মতো প্রতিটি পরিবার এ রোগে ভুগছে। ভোটের সময় নেতরা ভোট নিতে আমাদের এ অভিশাপ মচনের আশ্বাস শুনালেও ভোটের পরে তারা আর মনে রাখেনা।
বাগোয়ান ইউপি চেয়ারম্যান আয়ুর হোসেন বলেন, এ গামের ৯৫ ভাগ লোক আর্সেনিকে আক্রান্ত বিশুদ্ধ পানির আভাবে তাদের জীবন দুবিসহ হয়ে পরেছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করলে তারা এ গ্রামে একটি জরিপ পরিচালনা করেছে। তাদের এ জরিপে এক ভয়াভয় চিত্র ফুটে উঠেছে। এ গ্রামের মানুষ যেন শিুদ্ধ পানি পন করতে পারে তার চেষ্টা চালাচ্ছি।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর প্রাককালনিক জাহাঙ্গীর আলম জানা, এ গ্রামের শতকরা ৯৫ ভাগ নলকুপে আর্সেনিক রয়েছে ।এ খানকার আসৈনিক চিত্র খুব ভয়াভহ। আমরা উদ্ধতন কর্তৃপক্ষর কাছে এ গ্রামের জন্য ওয়াটার স্পালাই অথবা মিনি আসৈনিক ট্রিটমেন্ট প্লান স্থাপনের জন প্রস্তাব পেশ করেছি।
মুজিবনগর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্ত ডাঃ মোঃ আবুহেনা মোহাম্মদ জামাল বলেন, তারানাগর গ্রামে আসৈনিকের অবস্থ্যা ভয়াভয়। তবে মুজিবনগর হাসপাতালে আর্সেনিকের কোন ঔষধ বরাদ্দ নেই। তাই আর্সেনিক আক্রান্ত রোগীদেরকে ব্যবস্থাপত্র প্রদান আর পরামর্শ দেওয়ার বাইরে কোন সেবা প্রদান করতে পারছিনা ।

মেহেরপুরে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ অর্পণ

আল-আমীন, মেহেরপুর:
ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে মেহেরপুর গাংনীতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। রাত ১২.১ মিনিটে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের শহীদ মিনারে পূষ্পার্ঘ অর্পণ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ-উজ-জামান, সাবেক মেয়র আহাম্মদ আলী,গাংনী পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম জামাল আহম্মেদ, গাংনী থানার ওসি আনোয়ার হোসেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম শফিকুল আলম, সাবেক মেয়র আহম্মেদ আলী, হাজী মহাসিন আলী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাংগঠনিক কমান্ডার আমিরুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য নুর আহম্মেদ বকুল ও জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাবুদ, গাংনী প্রেস ক্লাব সভাপতি রজমান আলী, উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক শফি কামাল পলাশ, যুবলীগ নেতা মাসুদ পারভেজ, উপজেলা যুবদল সভাপতি আক্তারুজ্জামান ও জেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহ সভাপতি সুলেরী আলভীসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ, জাতীয় পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহম্মেদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ হাসিব, পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি মানিক আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাবীব, সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের হোসেন উজ্জল, উপজেলা শ্রমিক লীগ সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার, গাংনী উপজেলা আওয়ামী নবীনলীগের আহবায়ক এহসান কবির সবুজ, যুগ্ম আহবায়ক মানিক হোসেন, মামুন পারভেজ ও সদস্য সচিব আকরাম হোসেন, স্কাউট ও উপজেলা শিক্ষক সমিতি স্ব স্ব সংগঠন ও ব্যক্তির পক্ষে পৃথক পুষ্পার্ঘ অর্প ণ করেন।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে পতাকা উত্তোলন, প্রভাতফেরি, আলোচনাসভা, শিশুদের চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

অপরদিকে একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শহীদ মিনারের পাদদেশে পুষ্পমাল্য অর্পনের মধ্যে দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ।
রাত ১২ টা ১ মিনিটে মেহেরপুর শহীদ সামুসজ্জোহা পার্কের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে প্রথমে রাষ্ট্রের পক্ষে জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন, পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুলসহ পরিষদের সদস্যরা শ্রদ্ধাঞ্জলি অপর্ন করেন। এর পর একে একে (ক্রমানুযায়ী নয়) জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বশির আহমেদসহ মুক্তিযোদ্ধারা, পৌরসভার পক্ষে মেয়র মোতাচ্ছিম বিল্লাহ মতু, শহর আওয়ামীলীগের পক্ষে সাধারন সম্পাদক আক্কাস আলী, জেলা যুবলীগের পক্ষে আহবায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন, যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল ইসলাম পেরেশান, জেলা ছাত্রলীগের পক্ষে সভাপতি বারিকুল ইসলাম লিজন, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানাসহ নেতৃবন্ধ, উপজেলা সভাপতি জুলফিকার আলী, শহর সভাপতি শেখ আরিফ, কলেজ শাখার সভাপতি কুদরত ই খুদা রুবেল,সম্পাদক মাসুদ রানা, মেহেরপুর সরকারী মহিলা কলেজের উপাধাক্ষ আসাফ উদ দৌলা, সরকারী কলেজের পক্ষে সহযোহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল আমিন, মেহেরপুর পৌর কলেজের পক্ষে অধ্যক্ষ একরামুল আযীমের নেতৃত্বে শিক্ষকরা, পাবলিক প্রসিকিউটর পল্লব ভট্টাচার্য , জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের পক্ষে সভাপতি গোলাম রসুল, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের পক্ষে সহকারী পরিচালক বশির উ্দ্িদন, জেলা আইনজীীবী সমিতির পক্ষে সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উদিচি শিল্প গোষ্টীর পক্ষে সভাপতি ফৌজিয়া আফরোজ তুলিসহ সদস্যরা, নাশনাল আওয়ামী পার্টি,পাবলিক লাইব্রেরী, ব্লাক এন্ড হোয়াইট ব্যান্ড এসোসিয়েশন, সাহিত্য পরিষদ, মেহেরপুর থিয়েটার, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি, শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদ, মেহেরপুর ব্যবসায়ী সমিতি, জাগো বাঙালি, জেলা রেডক্রিসেন্ট ইউনিট,মৃত্তিকা গ্রুপ থিয়েটার, অবসর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, প্রাণী সম্পদ বিভাগ, ইয়াং বাংলা ফিউচার লিডার্স, প্রজন্ম মুজিবনগর, কৃষিবিদ ইন্সিটিউট, শ্রমিক লীগ, মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, বঙ্গবন্ধু শিশু একাডেমী, সুজন, নজরুল একাডেমী, শিল্পকলা একাডেমী, সড়ক বিভাগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, আইনজীবি সমিতি, শ্রমিক লীগ,শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ, রাসেল স্মৃতি সংঘ, বাস্তহারালীগ, উপজেলা কৃষকলীগ, আনছার ও ভিডিপি, কৃষিবিদ ইনষ্টিটিউশন, গনপূর্ত বিভাগ, জাতীয় মহিলা সংস্থা, জেলা পরিবেশক সমিতি, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থা পক্ষ থেকে কর্মকর্তারা একে একে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন।

নওগাঁ টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউটের শিক্ষক-কর্মচারীদের ৮ মাস ধরে বেতন ভাতা বন্ধ ॥ মানবেতর জীবন-যাপন

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউটের শিক্ষক-কর্মচারীরা গত ৮ মাস ধরে বেতন ভাতা পাচ্ছেন না। কবে নাগাদ তারা বেতন পাবেন তার কোন নিশ্চিয়তা নেই। দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা না পেয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অর্থের অভাবে অনেকেই তাদের সন্তানদের লেখা-পড়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। শুধু নওগাঁর এই ভোকেশনাইলই নয় দেশের মধ্যে এরকম আরো ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একই অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। এতে করে একদিকে যেমন তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন তেমনি প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যহত হচ্ছে। এদিকে দ্রুত বেতন ভাতা পরিশোধ ও প্রকল্পটিকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করার দাবি জানিয়ে নওগাঁ টেক্সটাইল ভোকেশনালের শিক্ষক-কর্মচারীরা যৌথ স্বাক্ষরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
জানা গেছে মাঠ পর্যায়ে বস্ত্র খাতে দক্ষ জনবল তৈরী করার লক্ষে ২০০৬ সালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রনালয়ের নিয়ন্ত্রনাধীন বস্ত্র পরিদপ্তর কর্তৃক আড়াই বছর মেয়াদে ১০টি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট স্থাপন প্রকল্প নামে দেশের ১০ টি জেলাতে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় সুপারিন্টেন্ডেন্ট, ইন্সট্রাকটর, শিক্ষকসহ ১৫টি পদে জনবলসহ ইতিমধ্যে স্থায়ী অবকাঠামো, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রে সমৃদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে জেলা পর্যায়ে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে।
একই প্রকল্পের আওতায় আবার ২০১৭ সাল থেকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় শিফট চালু করা হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে ১২০ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ন হয়ে বিভিন্ন টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট ,পলিটেকনিক, মেরিন, নার্সিং ইন্সটিটিউটে ভর্তি হয়ে উচ্চ শিক্ষা লাভ করছে। অনেকেই টেক্সটাইল মিলে চাকুরীর সুযোগ পেয়ে আসছে। আবার অনেকেই এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেরাই আতœকর্মসংস্থানে নিয়োজিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে দফায় দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি করে ২০১৪ সালের জুনে এসে শেষ হয় প্রকল্পের মেয়াদ। এরপর বিদ্যমান জনবল দ্বারাই প্রকল্পের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং ৬ থেকে ৮ মাস পর পর থোক বরাদ্ধ থেকে তিন মাস করে বেতন ভাতা দেওয়া হয়। প্রকল্প শুরুর পর থেকেই প্রকল্পের জনবল রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যতঃ কোন কাজ হয়নি।
এই অবস্থায় সর্বশেষ গত ২০১৬ সালের জুন মাসে তাদের বেতন ভাতা দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকে তারা ঈদুল আজহার উৎসবভাতাসহ আর কোন বেতন এখন পর্যন্ত ভাগ্যে জোটেনি। দীর্ঘদিন বেতন না পেয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েছেন।
নওগাঁ টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্মটিটিউিটে কর্মরত অফিস সহকারী নাজনীন আখতার বলেন এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছি। ঋন করে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া চালাচ্ছি। খুব দ্রুত বেতন না পেয়ে ছেলে-মেয়ের লেখা-পড়া বন্ধসহ না খেযে থাকতে হবে।
একই প্রতিষ্ঠানের নৈশ প্রহরী গাজী সালাউদ্দিন বলেন যে সব দোকানে বাকি করে চলছিলাম তারা বাকি বন্ধ করে দিয়েছে। সুদের উপর টাকা নিয়ে কোন ভাবে সংসার চালাচ্ছি। বেতন না পেলে আত্মহত্যা ছাড়া কোন পথ থাকবে না। ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১১ জন স্টাফের একই অবস্থা বিরাজ করছে।
এব্যাপারে বস্ত্র পরিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন তাদের বেতন ভাতা পরিশেধের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সৌদিআরব বাংলাদেশী চিকিৎসকদের মিলন মেলা

মোহম্মদ আলী রাসেদ, সৌদিআরব প্রতিনিধি  :
সৌদি আরবের অন্যতম বানিজ্যিক রাজধানী জেদ্দা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন  Lafontaine Obhur Resort এ হয়ে গেল সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশী ডাক্তারদের ২য় ও সবচেয়ে বড় মিলন মেলা। ” BD Doctors in KSA” (Bangladeshi Doctors in the Kingdom of Saudi Arabia) কর্তৃক আয়োজিত এ মিলন মেলায় সৌদি আরবের অধিকাংশ প্রাদেশিক শহর থেকে ডাক্তাররা অংশগ্রহণ করেন।  ১৬, ১৭, ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালের এই অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কুরান তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানে ছিল বিভিন্ন ( ছোট ও বড়দের)  খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রেফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

১৭ ই ফেব্রুয়ারি শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সৌদিআরবের নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ্। এই সময় তিনি উদ্বোধন করেন ডাক্তারদের প্রথম ম্যাগাজিন ” মরু নক্ষত্র ” এবং  BD Doctors in KSA এর নিজস্ব ওয়েব পেজ।
ডাক্তার আজাদের সন্চালনায় এই সময় বক্তব্য রাখেন  BD Doctors in KSA” এর এডমিন ডাক্তার মুসাব্বির হোসাইন এবং ডাক্তার আব্দুল্লাহ। এই সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন  ডাক্তার কামরুল,  ডাক্তার সামিউল হক,  ডাক্তার ইউসুফ ভূইঁয়া, ডাক্তার সাহাবুদ্দিন প্রমুখ।ডাক্তার আজাদ ও ডাক্তার মুশফিকার যৌথ  মন্চ পরিচালনা ও ডাক্তার কামরুলের উপস্থাপনায়  মেডিকেল কলেজ ভিত্তিক পরিচিতি পর্ব ছিল চোখ জুড়ানো।তাদের উপস্থাপনা ও করতালিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এ মিলন মেলায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে। এই সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রিয়াদ থেকে ডাক্তার মোমিন, ডাক্তার মতিন, মক্কা থেকে ডাক্তার হাদী, মদিনা থেকে ডাক্তার ইকবাল, ডাক্তার এনাম বিজু ও জিজান থেকে ডাক্তার মামুন । এই সময় ডাক্তার নাজমুল মজুমদার সোহেল ও ডাক্তার সেতুর যৌথ পরিচালনায় সব ডাক্তার ও তাদের পরিবারের বালুকাবেলা ভিডিও পরিবেশন করে।  শিশুদের গল্প, কবিতা, ছড়া গান, নিত্য ও ফ্যাশন শোর মত পরিবেশনা গভীর রাতেও সবার ঘুম কেড়ে নেয়। শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

মাগুরায় আ.লীগের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ঘে ৩০ বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ,আহত ৩৫ জন

মাগুরা প্রতিনিধি ॥ মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বালিদিয়া দক্ষিণ পাড়া গ্রামে সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আওয়ামীলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০টি বাড়ি ঘরে হামলা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সাড়ে চার ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আনে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বালিদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা মফিজুর রহমান মিনা ও ইউনুস আলী সর্দারের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের এক পর্যায়ে সোমবার সকালে ইউনুস শিকদারের সমর্থক ইউসুফ মোল্যার জামাই গোলাপ মিয়ার স্ত্রী রেবেকাকে মারধোর ও বাড়িঘর ভাংচুর করে মফিজুর রহমান মিনার লোকজন। এই ঘটনার সূত্র ধরে ইউনুস সমথর্কেরা দেশি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মফিজুর রহমান মিনার লোকজনের উপর হামলা চালায়। এসময় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চালাকালে উভয় পক্ষের প্রায় ৩০টি বসত ঘরে ব্যাপক হামলা ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। এতে নারী শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ২০ জনকে মহম্মদপুর, মাগুরা ও ফরিদপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহতরা হলেন আজগার (৩০), ফিরোজ মৃধা (৫০), ইতি (২৫), আতিয়ার মোল্যা (৩৫), ওমর শিকদার (৩০), বকুল মোল্যা (৬০),মোস্তফা (৫০), ইদ্রিস মিনা (৩৫), কাজল মিনা (১৮), হারিম মিনা (৫০), লিটন মিনা (৩০), শরিফুল মিনা (৩৪), শরিফুল মিনা (৩৫), নাজমুল মিনা (২০) ও সামাদ মোল্যা (৪০)। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় কামাল মিনা, জামাল মিনা, হারুন মিনা, রবিউল মিনা, আলমগীর মিনা, খায়রুল মিনা, বাবু মিনা, শাদিক মিনা, মফিজ মিনা, তোছাজ্জেল মিনা, রিজাউল মিনা, ওসমান মিনা, ই¯্রাফিল মিনা, নবির মিনা, নান্নুু মিনা, সাইদ মিনা, চান মোল্যা ও ইউনুস সর্দারসহ অন্তত ৩০টি বসত ঘরে ব্যাপক হামলা ভাংচুর ও লুট করা হয় বলে ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেন।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.তরিকুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ ১০৮ রাউ- শর্টগানের রাবার বুলেট ও ১৬ রাউ- টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। পরবর্তি পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মাগুরার পুলিশ সুপার মুনিবুর রহমার ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন।

আখের গোছাতে শৈলকুপা ইউএনও’র কোটি টাকার মিশন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের শৈলকুপার সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত দেড় বছর ধরে উপজেলা প্রশাসনের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পরিষদকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। গত ১৭ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে তাকে প্রেষণে বদলী করে সরকার। বদলীর আদেশ হওয়ার পরপরই তিনি কয়েক কোটি টাকার মিশন নিয়ে আখের গোছাতে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। উপজেলাজুড়ে বন উজাড় করে ফেলায় স্থানীয়রা তাকে দিয়েছেন ‘বনখেকো’ উপাধি।অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক মাসের মধ্যে মোটা অংকের টাকা নিয়ে অন্তত ৫ ব্যক্তির কাছে শৈলকুপা নতুন বাজারের সরকারি জমির অবৈধ বন্দোবস্ত দিয়েছেন। বন্দোবস্ত পাওয়া পাঁচ ব্যক্তি হলেন- আওয়ামী লীগ নেতার ভাই মোস্তফা বাদল, ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান জিকু, পৌর কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম, বিএনপি নেতা শাহিন আক্তার পলাশ ও ইউএনও অফিসের পিওন আক্তার হোসেনের মা নাসরিন বেগম।উপজেলা ভূমি অফিস সুত্র জানায়, সরকারি বিধি অনুযায়ী জমি বরাদ্দ পেতে হলে অবশ্যই তাকে বাজারের প্রকৃত ব্যবসায়ী হতে হবে এবং তিনি অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল হবেন। কিন্তু সরকারি এই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্বচ্ছল ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ইউএনও দিদারুল আলম অবৈধভাবে টাকার বিনিময়ে এই জমি বরাদ্দ দিয়েছেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে  উপজেলা ভুমি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর ধরে বাজারের জমি বরাদ্দ বন্ধ ছিলো। গত ৪ জানুয়ারি এসিল্যান্ড সুমি মজুমদার বদলি হলে ভারপ্রাপ্ত এসিল্যান্ডের দায়িত্ব পান ইউএনও দিদারুল আলম। উপজেলা প্রশাসনে প্রচার রয়েছে, ভূমি অফিসকে দখলে নিতেই মন্ত্রণালয়ে তদ্বীর করে সুমি মজুমদারকে বদলি করান ইউএনও। এসব কাজে ইউএনওকে সহযোগিতা করেন ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার এজাজ আহমেদ। এই এজাজ আহমেদই গত চার বছরের বেশি সময় ধরে ভূমি অফিসকে জিম্মি করে রেখেছেন। ইউএনওর জোরেই ভূমি কর্মকর্তাকে তটস্থ করে রাখতেন তিনি। এমনকি এজাজের কথায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতেও বাধ্য হতেন এসিল্যা-। মূলত নিরীহ  ব্যবসায়ীদের মনে ভয়ে ভয় ঢুকিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন এজাজ।এসিল্যা- বদলি হয়ে যাওয়ার পর পুরো ভূমি অফিসই এখন এজাজের নিয়ন্ত্রণে। ইউএনওকে ২০ লাখ টাকা দিয়ে প্রথম দফায় নতুন বাজারের পাঁচটি প্লট ইজারা দেন। এছাড়া ত্রিবেণী, রামচন্দ্রপুর, খুলুমবাড়ীয়া ও কাঁচেরকোল বাজারে আরো ৪০টি প্লট কোটি টাকার বিনিময়ে বন্দোবস্ত দেওয়ার কাগজপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইউএনও দিদারুল আলম শৈলকুপা ছাড়ার আগেই এই কোটি টাকার মিশন বাস্তবায়ন করবেন বলে প্রচার রয়েছে উপজেলা প্রশাসনে।এখানেই শেষ নয়; দেড় বছর ধরে দায়িত্ব পালন করার সময় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সরকারি বন বিভাগের  গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে ইউএনও’র বিরুদ্ধে। ফুলহরি বাজারে মন্দিরের পাশে শতবর্ষী নিমগাছ কেটে ঢাকায় নিজের বাসায় ফার্ণিচার তৈরী করেছেন বলে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। ফুলহরি ইউনিয়ন পরিষদের নায়েব গোলাম কুদ্দুস বলেন, গাছটির বাজার মূল্য অন্তত ২ লাখ টাকা হবে। ভাটই বাজারের রাস্তার পাশে কয়েখ লাখ টাকা মূল্যের কড়াই গাছ বিক্রি করে পকেটস্থ করেছেন ইউএনও। বাগুটিয়া, খুলুমবাড়িয়া, কামান্না ও কাতলাগাড়ি বাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ খালের সহ¯্রাধিক গাছ কেটে বিক্রি করেছেন ইউএনও। এ কারণে এলাকাবাসী তাকে ‘বনখেকো’ উপাধি দিয়েছেন।শৈলকুপা উপজেলা চেয়ারম্যান শিকদার মোশাররফ হোসেন সোনা বলেন, ফুলহরি বাজারে নিমগাছ কাটার কথা আমি লোকমুখে শুনেছি। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে জমি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে এ সংক্রান্ত ফাইল পাঠানো হয়েছিল; তবে আমি সরাসরি না করে দিয়েছি।এদিকে, শৈলকুপায় ৬ কোটি টাকার দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন মো. নায়েব আলী জোয়ার্দ্দার নামে একজন ঠিকাদার। আদালত ইউএনওসহ তিনজনকে এ বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলেছেন। ঠিকাদারদের অভিযোগ, ইউএনও ৫০ লাখ টাকা নিয়ে এই দরপত্রে ঘাপলা করেছেন। এ বিষয়ে ঠিকাদাররা দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারুল আলম কথা বলতে রাজি হননি।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »