Category: গল্প-কবিতা

বাংলা শুধু এখন আমাদের মাতৃভাষা নয়, রাষ্ট্র ভাষাও বটে


আল-আমীন,মেহেরপুর
আমরা বাঙালী ও বাংলাদেশী। বাংলা শুধু এখন আমাদের মাতৃভাষা নয়, রাষ্ট্র ভাষাও বটে। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সে সময় এদেশের সাধারণ মানুষের মনে একটি বিশ্বাস জন্ম নিয়েছিল যে, তারা ব্রিটিশদের কাছ থেকে যে সকল ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিল পাকিস্তান রাষ্ট্র হলে সে সব বঞ্চনা ও সমস্যার সমাধান হবে। তখন পাকিস্তানের উভয় অংশের জনগণ ভোগ করবে সমাধিকার। কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ চরম ভাবে অবহেলিত হতে লাগল। তাদের মাঝে জমা হতে থাকে ক্ষোভ। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ দেখতে পায় রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে এদেশের মানুষের কোন মূল্যায়ন নেই, অথচ ভাষাভাষীর দিক থেকে উর্দুভাষী মানুষ ছিল শতকরা ৮ ভাগ। আর বাংলাভাষী মানুষ ছিল ৫৬ ভাগ।
১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে পূর্ব পাকিস্তান কংগ্রেস (পূর্ব বাংলা) দলের সদস্য ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত একটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সংশোধনটি ছিল খসড়া নিয়ন্ত্রণ প্রণালীর ২৯ নং ধারা সম্পর্কে। এই ধারায় বলা হয়েছিল পরিষদের সকল সদস্যকে ইংরেজি বা উর্দু ভাষায় বক্তৃতা করতে হবে। ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত ইংরেজী ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের সরকারী ভাষা করার প্রস্তাব করেন। ২৫ ফেব্রুয়ারী এই প্রস্তাব সম্পর্কে অধিবেশনে আলোচনা হয় এবং তুমুল বিতর্কের পরও তা অগ্রাহ্য হয়।
১৯৫২ সালে ২৭ জানুয়ারী পাকিস্তানের প্রধান মন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন ঢাকা সফরে আসেন এবং নিখিল পাকিস্তান মুসলিম লীগের পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় ভাষন দেন। বক্তৃতায় তিনি উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষনা করেন। এ ঘোষনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ৩০জানুয়ারী ছাত্র ধর্মঘট ও সভা আহবান করে। ২৭ জানুয়ারী থেকে ২১ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত যে কর্মসূচী গৃহিত হয় তাতে দুটি দাবী ছিল (১) বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা (২) আরবী হরফে বাংলা লেখার প্রচলন বন্ধ করা।
ভাষা আন্দোলন ঃ
১৯৫২ সালের ৩১জানুয়ারী ২১ফেব্রুয়ারীকে রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্ততি গ্রহণ করে সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ এবং ঐ দিন তদানীন্তন প্রদেশের সর্বত্র সাধারণ ধর্মঘট এবং শোভাযাত্রা সহকারে ২১ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্র ভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হবে ঠিক হয়। ২১ফেব্রুয়ারীর আগের সভা ও মিছিলগুলির কারণে কেবল ছাত্রদের মধ্যেই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা জাগ্রত হয়েছিল এবং সকলে প্রতিরোধ ও সংগ্রামের প্রত্যক্ষ কর্মসূচীই প্রত্যাশা করছিল। এরকম অবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান (পূর্ব বাংলা) সরকার ২০ফেব্রুয়ারী থেকে ১ মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে ঢাকা শহরে যে কোন রকম সভা সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও মিছিল প্রভৃতি সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
১৯৫২ সালের ২১ফেব্রুয়ারী দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার ৮ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আ্উয়াল ১৩৭১ হিজরী। ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভংগ করার জন্য যাবতীয় প্রস্ুস্তু শেষ করে রেখেছিল। সিদ্ধান্ত মত ছাত্ররা দু’চার জন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকায় জমায়েত হচ্ছে। বৈকাল ৩ ঘটিকায় ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে মিছিল বের করে। এ সময় ছাত্রদের একটি অংশ কর্তব্যরত পুলিশ ও ইপিআর এর সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রচন্ড সংঘর্ষে ছাত্রদের নিক্ষিপ্ত ইটের সামনে পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়। ছাত্ররা পুলিশ ও ইপিআরদের চারদিক থেকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকলে এক পর্যায়ে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের গুলিতে প্রথম নিহত হয় একজন রিকসা চালক, তারপর সালাউদ্দিন, বরকত, রফিক, জব্বার। পুলিশের গুলি বর্ষনে ছাত্র জনতা নিহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের কান্না জড়িত ক্ষুব্ধ মুখ দেখা যায়। এরই প্রতিফলন ঘটেছিল ২২ফেব্রুয়ারী অর্থাৎ পরদিন শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ ব্যারাকে নিহতদের জানাযার নামাজে হাজার হাজার মানুষের অংশ গ্রহণ। সকলে চোখে মুখে ঘৃণা ও ক্রোধ নিয়ে সমবেত হয়। ২২ফেব্রুয়ারী জানাযার নামাজ শেষে ছাত্র জনতা শহীদদের লাশ নিয়ে মিছিল বের করলে পুলিশ আবারো মিছিলে গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে অহিউল্লাহ নামের ১৪ বছরের এক কিশোরসহ নিহত হয় ৪ জন। এঘটনার পর রাষ্ট্র ভাষার দাবী ছড়িয়ে পড়ে মফস্বল এলাকা গুলোতে।
১৯৪৭ সাল থেকে মেহেরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গন ছিল মুসলিম লীগের দখলে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে মেহেরপুরের কোন রাজনীতিক, রাজনৈতিক দল বা ছাত্র সংগঠন কোনরুপ ভূমিকা পালন করেছিল কিনা তার কোন সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায় না। তবে সাংবাদিক সৈয়দ আমিনুল ইসলাম রচিত মেহেরপুরের ইতিহাস ও বেঁচে থাকা অংশগ্রহণকারী ভাষা সৈনিক থেকে জানা যায়, ১৯৫২ সালের দুই দিন পর অর্থাৎ ২৪ফেব্রুয়ারী মেহেরপুর মডেল ইংরেজি হাই স্কুলের ছাত্র মুন্সি সাখাওয়াৎ হোসেন (কবি নজরুল শিক্ষা মঞ্জিলের প্রাক্তণ প্রধান শিক্ষক) কাওছার আলী (চানা) ওরফে গোলাম কাওছার (চানা) (মেহেরপুর পৌর সভার অবসর প্রাপ্ত কর্মচারী) বংকু ঘোষ ওরফে সতীনাথ ঘোষ (বড় বাজার বাগান পাড়া) শান্তিনারায়ন চক্রবর্তী (কাশ্যবপাড়া) আবুল হোসেন (তাঁতীপাড়া, সাবেক সভাপতি, বাস মালিক সমিতি) মীর মোজাম্মেল হক (মীর পাড়া, আমঝুপি) সিরাজুল ইসলাম(বাওট, গাংনী) জান মোহাম্মদ (অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, খন্দকারপাড়া) ইছাহাক আলী বিশ^াস(অবসরপ্রাপ্ত ফুটবল খেলোয়াড়, মোহিনি মিল, কুষ্টিয়া) রফেজুদ্দীন রতন (ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের কন্ট্রাক্টর, পিরোজপুর, মেহেরপুর) সুলতান উদ্দীন (কালাচাঁদপুর, মেহেরপুর) আওলাদ হোসেন মাষ্টার (বুড়িপোতা ইউপির শালিখা) প্রমুখ ছাত্র নেতা মেহেরপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে পোস্টারিং, পিকেটিংসহ মিছিল বের করেছিল। উল্লেখ্য গোলাম কাওছার চানা, মীর মোজাম্মেল, সুলতান শেখ ও সিরাজুল ইসলাম জীবিত আছেন।
এরপর ১৯৫৬ সালে ২১ফেব্রুয়ারী মাতৃভাষা দিবস ২২ফেব্রুয়ারী পালনে মেহেরপুর শহরে মিছিল ও পোস্টারিং করে মেহেরপুর মডেল ইংরেজী হাইস্কুলের ছাত্ররা। বিদ্যালয়ের শৃংখলা ভংগের অপরাধে উক্ত বিদ্যালয়ের ছাত্র নজীর হোসেন (পিরোজপুর) ইসমাইল হোসেন (জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি) মরহুম কবির খান (মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে) মোশারফ হোসেন (জিকে প্রজেক্টের কর্মচারী, ভেড়ামারা কুষ্টিয়া) মরহুম সামসুল আলা (বড় বাজার, মেহেরপুর) কদম রসুল, আবুল কাশেম(সাবেক চেয়ারম্যান বুড়িপোতা ইউপি) প্রমুখকে বিদ্যালয় থেকে রাজটিকিট করা হয়। পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন শিক্ষাবিদ ও মুসলিম লীগ মহকুমা সভাপতি জনাব সাবদার আলী বিশ্বাস । এছাড়া ১৯৫৬ সালের ২২ফেব্রুয়ারী মেহেরপুরের গাংনীতে রাষ্ট্রভাষা দিবস পালিত হয়। মোঃ দাউদ হোসেন (চেংগাড়া) মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (গাংনী চৌগাছা) ইসলাম আলী মাস্টার (যাদবপুর, মেহেরপুর) খোরশেদ আলী (গাংনী) প্রমুখ ছাত্র নেতা গাংনী শহরে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবীতে মিছিল করেছিল বলে জানা যায়।
ঐক্যবদ্ধ বাঙালীর আন্দোলনের তীব্রতায় তদানিন্তন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে প্রস্তাব গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। ১৯৫৩ সালে মূলনীতি কমিটির রিপোর্টেও বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম সরকারী ভাষা হিসেবে মর্যাদা প্রদানের সুপারিশ করা হয়। ১৯৫৬ সালে সংবিধানে উর্দুর সংগে বাংলাও রাষ্ট্রভাষা হিসেবে আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকৃতি লাভ করে।
২১এর চেতনায় বাঙালীরা ১৯৫৪’র নির্বাচন ১৯৫৮’র সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন ১৯৬৬’র ছয় দফা কর্মসূচী, ১৯৬৯’র ১১ দফা ও গণআন্দোলন ১৯৭০ এর নির্বাচন সর্বোপরি ১৯৭১ সালে মুক্তি সংগ্রামে ২১ফেব্রুয়ারী বাঙালী জাতিকে করে অনুপ্রাণীত। ১৯৫২ সালে কতজন ছাত্র-জনতা পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছে কোন তার নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো অজানা রয়ে গেছে। ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস না জানার কারনে প্রশাসন সহ স্বেচ্ছাসেবক অনেক সংগঠন মেহেরপুরে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে অবদানকারী প্রকৃত ভাষা সৈনিকদের মূল্যায়ন না করে তাদের পাশ কাটিয়ে ১৯৫৬ সালে ভাষা দিবস পালনকারীদের ভাষা সৈনিকের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে বিভিন্ন সম্মানে ভূষিত করছে। এতে মেহেরপুরের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস হচ্ছে বিকৃত। পৃথিবীর বুকে একমাত্র বাঙালী জাতিই রক্তাক্ত সংগ্রামের মাধ্যমে ছিনিয়ে এনেছে তার ভাষার অধিকার। কথা প্রসঙ্গে জনাব ইসলাম আলী মাষ্টারকে বলেছিলাম ১৯৫৬ সালে আপনি ভাষা দিবস পালন করলেন তবে কেন ভাষা সৈনিক হননি? তিনি আমাকে বললেন ভাষা সৈনিক তাঁরাই যাঁরা শুধু মাত্র ১৯৫২ সালে প্রতিবাদ করেছিলেন।
শেষ কথা ঃ
ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে ১৭নভেম্বর ৩০তম অধিবেশনে ২১ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বের ১৮৮টি দেশে ২১ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে সারা পৃথিবীতে

বাহান্নোর ভাষা আন্দোলন ও আমাদের স্বাধীনতা


এস,এম শাহাদৎ হোসাইন,গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: আমি বাংলায় ভাসি,বাংলায় হাঁসি,বাংলায় মোদের গৌরব, বাংলায় মোদের স্বাধীনতার চেতনা ও মায়ের মুখের ভাষা। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভূলিতে পারি। ২১শে ফেব্রুয়ারী মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিবসটির তাৎপর্য অপরিসীম। জাতি শহীদদের প্রতি বিনম্্র শ্রদ্ধা জানিয়ে মিনারে পুস্প অর্পণের মাধ্যমে গভীর ভালবাসার সাথে দিবসটি বিভিন্ন কর্মসুচীর মধ্য দিয়ে করে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা হয়।। বাংলাদেশের ন্যায় বিশ্বের সকল দেশে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্্র শ্রদ্ধার জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালত করে। রফিক সালাম জব্বার বরকতসহ নাম না জানা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ বাংলা ভাষার সম্মান চির দিন অটুট রাখার জন্য আমাদের নতুন প্রজন্মকে ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে হবে বা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রকৃত ইতিহাস আমাদের সন্তানদের মাঝে তুলে ধরা আমাদের সকলের দায়িত্ব।এ দায়িত্ব বোধ থেকেই আমাদের নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় আতœবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। বাঙ্গালী জাতি মাথা নত করার জাতি না এ কথাটি পাকিস্তানের শাসক শ্রেণী কখনই মনে করেনি। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৪ আগস্ট ভারতীয় উপমহাদেশ ভেঙ্গে পাকিস্তানের জন্ম হয়। পাকিস্তানের জাতির পিতা কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিনাহ এবং পাকিস্তানী শাসকরা সবাই উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা করার জন্য অড়ন রইল এবং শাসক গোষ্টি ঘোষনা করল উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তখন বাঙ্গালী জাতি এই ঘোষনাকে কেবল সাংস্কৃতিক আঘাত বা শোষনের হাতিয়ার হিসেবে উপলব্ধ করেনি বরং এর মধ্যে অর্থনৈতিক শোষনের কালোছায়াও অনুভব করেছিল। সেই অনুভূতি থেকে মায়ের মুখের ভাষা বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে ছাত্র,শিক্ষক,চিকিৎসক,কৃষকসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভাষা আন্দোলনে রাস্তায় নেমে আসেন। বাঙ্গালী মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ বুঝতে পেয়ে ছিল, রাষ্ট্র বা সরকারী ভাষা উর্দু হলে জীবনের বহু ক্ষেত্রে তারা এবং সাধারণ মানুষ অনেক বাঞ্চানার শিকার হবে। ইংরেজ বা বৃটিশ শাসনের অভিজ্ঞতা থেকে তারা ভালভাবে বুঝতে পেয়েছিল উপমহাদেশের রাষ্ট্রভাষা ইংরেজী থাকার ফলে যারা ইংরেজী ভাল জানতেন কেবল তারাই রাষ্ট্র শাসনের সঙ্গে যুক্ত হতেন, অন্যরা নয়। ভাষা আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) জনগণকে এই চেতনায় উজ্জীবিত ও উৎকন্ঠিত করেছিল যে, পাকিস্তানের শাসক শ্রেণী পূর্ব পাকিস্তানকে শোষনের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে। পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান মিলে সে সময় জনসংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৯০ লক্ষ। পশ্চিম পাকিস্তানের বেশীর ভাগ মানুষ উর্দু বলতে পারলেও এ ভাষা কারো নিজের ভাষা ছিল না। অনেক ভাষায় কথা বলার সম্প্রদায় ছিল পাকিস্তানে। পেশোয়ারের মানুষের মাতৃভাষা ছিল পোশতু,সিন্ধু অঞ্চলের ভাষা ছিল সিন্ধু,পাঞ্জাবে পাঞ্জাবী ভাষা,বেলুচিস্তানে বেলুচ ভাষা। তারপরও যদি ধরে নেয়া যায় পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষ উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে মানবে, তারা অনেকেই উর্দুতে কথা বলতে, পড়তে পারে তা হলেও পশ্চিম পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যা ২ কোটি ৫০ লক্ষ। আর পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা ভাষায় কথা বলার মানুষের সংখ্যা ৪ কোটি ৪০ লক্ষ। এই হিসেবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা হওয়া উচিত বাংলা।এরপরও কি করে পাকিস্তানের শাসকগোষ্টি ৫৮ শতাংশ মানুষের মুখের ভাষা বাংলাকে অস্বীকার করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষনা দিতে পারল। পাকিস্তানী শাসক গোষ্টির ঘোষনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র,শিক্ষক,চিকিৎসক,কৃষকসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মায়ের মুখের ভাষা বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে বুদ্ধিজীবি ও সংস্কৃতিবিদরা রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে ১১ই মার্চ ধর্মঘট আহবান করেছিলেন। ধর্মঘাটের সময় আন্দোলনের নেতা শওকত আলী, কাজী গোলাম মাহবুব,শামসুল হক,অলি আহাদ,শেখ মজিবুর রহমান, আব্দুল ওহাবকে গ্রেফতার করেন পুলিশ। ছাত্র নেতা আব্দুল মতিন, আব্দুল মালেক, উকিল প্রমুখ ঢাকায় মিছিল নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পসে সভা চলাকালে পুলিশ আক্রমণ করে। ছাত্র নেতা তোয়াহা পুলিশের রাইফেল কেড়ে নিতে গেলে তিনি মারাতœক আহত হন। ১২মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলতে থাকে ধর্মঘট। ভাষা আন্দোলনের জন্য গঠিত হয় জাতীয় রাষ্ট্রভাষা কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা কমিটি, ভাষা আন্দোলনের প্রথম দিকে কমিউনিস্ট পাটি ও তার ছাত্র ফ্রন্ট ছাত্র ফেডারেশন একটি বড় ও তাৎপর্যময় ভুমিকা পালন করেছিল। তাছাড়াও ভাষা আন্দোলনের আরও দু’টি সংগঠন নেতৃত্ব দিয়েছিল। সংগঠন দু’টি হ’ল যুবলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন। তবে ছাত্র ইউনিয়ন ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় ভুমিকা পালন করেছিল দেশ ব্যাপী। ফলে ভাষা আন্দোলন শুধু রাজধানী ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগানটির তাৎপর্য সেই সময়ের সাধারণ মানুষ অনেকেই না বুঝলেও সর্বস্তরের মানুষ নিজ নিজ অনুভুতি থেকে দাবী বা অধিকার আদায়ের জন্য ভাষা আন্দোলনে শরীক হয়েছিল। সংসদে পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন বাঙ্গালীদের ভাষার দাবির বিরোধিতা করেন। তখন সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশসহ বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যগণ অধিবেশন ত্যাগ করে চলে আসেন। তারা রাজ পথে এসে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দেন। শাসক শ্রেণী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ২১শে ফেব্রুয়ারী ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেন, যাতে শহরে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুহ ধর্মঘট ও মিটিং মিছিল সমাবেশ করতে না পারে। ২১শে ফেব্রুয়ারী সকালে ১৪৪ ধারা উপেক্ষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের কলা ভবনে ছাত্র জমায়েত হয় এবং মাইকে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’শ্লোগান ও বক্তব্য চলে। বিকাল ৩টার দিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে প্রাদেশিক সংসদ ভবন অভিমুখে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে মিছিলটি অগ্রসর হচ্ছিল। সে সময় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রদের ব্যারাকের সামনে পুলিশ ও মিলিটারী মিছিলটির উপর গুলি বর্ষণ করে। এতে ছাত্রসহ কয়েকজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ২১শে ফেব্রুয়ারী পুলিশের গুলিতে ছাত্র শহীদ হওয়ার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ব্যারাকে অবস্থান করা ছাত্ররা শহীদদের স্বরণে একটি শহীদ মিনার তৈরীর সিদ্ধান্ত নেন এবং ২৩শে ফেব্রুয়ারী রাতে ঢাকায় প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করেন। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে এই অস্থায়ী শহীদ মিনারটি সরিয়ে বড় করে শহীদ মিনার বানানো হয়। শহীদ মিনারের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দিন দিন শহীদ মিনারের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে সারা বিশ্বে শহীদ মিনার নির্মিত হচ্ছে। নিউইয়কে জাতিসংর্ঘের সদর দপ্তরের সামনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। ভাস্কর্যটি ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ২১শে ফেব্রুয়ারী প্রথম প্রহরে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ভাস্কর্যটির স্থাপতি শিল্পী মৃনাল কান্তি। ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারী মহান শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষনা করেন। ২০০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে বিশ্বব্যাপী। এছাড়াও ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটকে ইউনেস্কো সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষনা করেন। বাহান্নোর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙ্গালী জতির মাঝে মহান স্বাধীনতার বাসনা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের শক্তি সঞ্চয় করেছে। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের বাঙ্গালী জাতির মুক্তির মহানায়ক, জাতির পিতা, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে যা সাধারণ মানুষের মধ্যে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা ,উৎসাহও উদ্দেপনা দিয়েছে।

তরুণ লেখক পরিষদের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত

‘সম্প্রীতির জন্য সাহিত্য’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদ একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭ তে তরুণ লেখক পরিষদের সদস্যদের সক্রিয় অংশ গ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত করলো ‘তরুণ লেখকদের আত্মপ্রকাশ শীর্ষক’ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মিত মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে এ অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও, বাংলা একাডেমীর অবহেলা ও মঞ্চ পরিচালনার কোন নিয়োম নীতি না থাকায় বিশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠান করেনি লেখক পরিষদ। মোড়ক উন্মোচনে আগত সকল অতিথিদের বিভ্রান্তি পরিবেশে ঠেলে দেওয়ার পেছনে বাংলা একাডেমী দায়ী বলে প্রকাশ করেছেন সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তরুণ লেখক পরিষদের ব্যানারে গতকাল বিকেল ৫.৪০টায় মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয় ‘তরফদার প্রকাশনী’ সামনে।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য জিনাত নাজিয়া।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদের সভাপতি আশিকুল কায়েস। মহান একুশে গ্রন্থমেলায়-২০১৭ সালে ‘তরুণ লেখকদের আত্মপ্রকাশ শীর্ষক’ কর্মসূচির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে থাকছে তরুণ লেখকদের ৫টি বই। এসব বইয়ের মাধ্যমে তরুণ লেখক পরিষদ থেকে ২৭ জন লেখক অংশগ্রহণ করেছেন।অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আগামী মার্চ মাসের ২৪ তারিখ দিন ব্যাপী তরুণ লেখক পরিষদের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ বিভিন্ন কলেজের তরুণ লেখক পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসটি শুধু প্রিয়তম-প্রিয়তমার জন্য নয়!


এস,এম শাহাদৎ হোসাইন,গাইবান্ধা প্রতিনিধি: আজ ২ ফাল্গুন ১৪ ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালবাসা দিবস। দিবসটি পালনে তরুন তরুনীরা নানা সাজে সাজিয়ে মনের মানুষকে শুভেচ্ছা জানাতে কখনো ভূর করে না।এই দুনিয়ায় প্রেমিক-প্রেমিকার চিঠি চালাচালির বিষয়টি যুগে যুগে ভাস্বর। হৃ দয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে কেউ ভাল না বাসলেও, সভ্যতা খুঁড়ে প্রাচীন প্রেমপত্র খুঁজে বের করাই যায়। প্রত্নত্বত্তের পাথুরে প্রমাণ, পৃথিবীর প্রাচীনতম প্রেমপত্রটি নাকি অন্তত ৪ হাজার বছরের পুরনো। আর সেই চিঠি মানে, এক খ- পাথুরে মাটি। পাওয়া গিয়েছে ক্যালডিয়ায়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মেসোপটেমিয়ার এক কোণের একটা এলাকা ক্যালডিয়া, যেখানে একটা রমরমা সভ্যতা ছিল। সেখানকার লোকেরা কথা বলত- হিব্রু, আরবি, যিশুর ভাষা অ্যারামাইকসহ নানান ভাষায়। সেখানেই, সম্ভবত ২২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ব্যাবিলনের এক ছেলে চিঠি লিখেছিলো ইউফ্রেটিস তীরের শহর সিপারায় থাকা এক মেয়েকে। “ও আমার কাসবুয়া (ছোট্ট ভেড়ার ছানা), এই চিঠি লিখছি আমি, মারদুক (ব্যাবিলনের অধিষ্ঠাতা দেবতা)-এর ভক্ত। তোমার শরীর কেমন আছে, যদি জানতে পারতাম! থাকি ব্যাবিলনে, তোমাকে দেখিনি কোনও দিন, আর তাই খুব চিন্তায় আছি। তুমি কবে আমার কাছে আসছ? অনেক দিন বেঁচে থাকো, অন্তত আমার জন্য।” মাটির টুকরোয় লেখা এ রকম চিঠি সে কালের দিওয়ানাদের মধ্যেও চালাচালি হত। না-দেখা মেয়েটির জন্যে প্রেমিকের হৃদয় কেমন পুড়ছে! পাথুরে মাটিতে লেখা এই চিঠিতেই সেটা বোঝা যায়। বিরহী এ হৃদয়ের যন্ত্রণা বোঝাতে প্রেয়সীর কাছে সেই চিঠি পৌছে দিত মেঘদূত।এ ছাড়া ১৪৭৭ সালের ফেব্রুয়ারীতে লেখা একটা চিঠি। প্যাস্টনবাড়ির ছেলে জন প্যাস্টনকে লিখেছিলো তার প্রেমিকা মার্গারি ব্রিউস। চিঠির সম্বোধন ‘মাই রাইট ওয়েল-বিলাভেড ভ্যালেন্টাইন’। মার্গারির বক্তব্য তার শরীর-মন কোনটাই ভাল নেই। থাকবেও না, যতক্ষণ না জনের ফিরতি চিঠি আসছে। মেয়েটি লিখছে ‘আমার বিশ্বাস তুমি আমাকে ভালবাসো। জানি, তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে না’। জন প্যাস্টন আর মার্গারি ব্রিউসের বিয়েটা পরে হয়েছিল ঠিকই। সে বিয়ে কেউ মনে রাখেনি। কিন্তু ইতিহাসে থেকে গেছে মার্গারির সেই চিঠিটা। ইংরেজি ভাষায় লেখা সেটাই প্রথম ভ্যালেন্টাইন লেটার। ভ্যালেন্টাইন, প্রেম আর বসন্তের মায়াময় সময়ের কথা সবার আগে লিখে গিয়েছেন ইংরেজ কবি জিওফ্রি চসার। চতুর্দশ শতকের শেষের দিকে লেখা তাঁর দীর্ঘ কবিতা ‘পার্লামেন্ট অব ফাউলস’ এ আছে, সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে, নরম বসন্তের দিনে পাখিরা তুমুল পাখসাটে খুঁজে নিচ্ছে নীড়বন্ধুকে। শেক্সপিয়রের ‘হ্যামলেট’ এ আবার অন্য মাত্রা। প্রেমিকের হাতে বাবা পোলোনিয়াস খুন হওয়ার পর পাগলিনিপ্রায় ওফেলিয়া গুনগুনিয়ে ওঠে,‘টুমরো ইজ সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে, / অল ইন দ্য মর্নিং বিটাইম, / অ্যান্ড আই আ মেড অ্যাট ইয়োর উইন্ডো, / টু বি ইয়োর ভ্যালেন্টাইন’ বসন্ত বাতাসে হৃদয়ের মিথস্ক্রিয়ায় সারা বিশ্বের প্রেমপিয়াসী যুগলরা বছরের এ দিনটিকেই বেছে নেয় মনের গহিনের কথকতার কলি ফোটাতে। চ-িদাসের অনাদিকালের সেই সুর ‘দুহঁ করে দুহঁ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া/ আধতিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া/ সখী কেমনে বাধিঁব হিয়া’। এ আবেদনও বাজে কারও কারও হৃদয়ে। দিনটি যে শুধু তরুণ-তরুণীদের নয়, পিতামাতা সন্তানদের ভালবাসাও বড়মাত্রায় উদ্ভাসিত করে। যারা একটু বিজ্ঞ তারা বলেন, প্রেমের কোন দিন থাকে না, ভালবাসলেই ভ্যালেন্টাইন, সেলিব্রেট করলেই ভ্যালেন্টাইন ডে। ভালবাসার এই দিনটির ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে অনেক ধরণের কাহিনীর কথা জানা গেছে। প্রধান যে কাহিনী প্রচলিত আছে তা এক রোমান ক্যাথলিক পাদ্রি বা সন্তের কাহিনী। তার নাম সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। তিনি ছিলেন একজন চিকিৎসক ও পাদ্রি। তখন রোমানদের দেবদেবীর পূজোর বিষয়টি ছিল মূখ্য। তারা বিশ্বাসী ছিলেন না খ্রিস্টান ধর্মে। কিন্তু খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারের অপরাধে ২০৭ খ্রিষ্টাব্দে সাধু ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয় রোমের স¤্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের আদেশে। তবে তিনি যখন জেলে বন্দী, তখন ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ভালবাসার কথা জানিয়ে জেলের জানালা দিয়ে তাকে ছুড়ে দিত চিরকুট। বন্দী অবস্থাতেই তিনি চিকিৎসার মাধ্যমে জেলারের অন্ধ মেয়েকে ফিরিয়ে দেন দৃষ্টিশক্তি। অনুমান করা হয় মেয়েটির সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। মৃত্যুর আগে মেয়েকে একটি চিঠি লেখেন, সেখানে তিনি উল্লেখ করেন ‘ফ্রম ইউর ভ্যালেন্টাইন’ বলে। অনেকের মতে এই সাধু ভ্যলেন্টাইনের নামানুসারে পোপ প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারীকে ভ্যালেন্টাইন ডে হিসাবে ঘোষণা করেন। আরও একটি ভ্যলেন্টাইনের নাম পাওয়া যায় ইতিহাসে। যুদ্ধের জন্য সৈন্য সংগ্রহে ছেলেদের বিয়ে করতে নিষিদ্ধ করেন রোমান স¤্রাট ক্লডিয়াস। কিন্তু যুবক ভ্যালেন্টাইন সেই নিষেধ অমান্য করে বিয়ে করেন। ফলে তাকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। তার নামানুসারেও এই দিনটি চালু হতে পারে এমনও ধারণা রয়েছে। ‘তোমরা যে বল তোমরা যে বল দিবস রজনী, ভালোবাসা ভালোবাসা/সখী ভালোবাসা কারে কয়’। এভাবেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলে গেছেন ভালোবাসার কথা। ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন’স ডে একটি বার্ষিক উৎসবের দিন যা ১৪ই ফেব্রুয়ারী ভালোবাসা এবং অনুরাগের মধ্যে উদযাপিত হয়। বিশ্বজুড়ে হাসি, আনন্দ আর ভালোবাসায় উদযাপিত হয় দিনটি। দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হয়ে থাকে, যদিও অধিকাংশ দেশেই দিনটি ছুটির দিন নয়। বর্তমান সময়ে নানা রঙ্গে, নানা আয়োজনে উদযাপন করা হলেও দিনটি শুরু হওয়ার ইতিহাস কিন্তু খুবই করুণ! এক মর্মান্তিক ভালোবাসার পরিণতি থেকেই এই দিনটির যাত্রা। ভালোবাসা দিবসটি শুধু প্রিয়তম-প্রিয়তমার জন্য নয়। এই দিবসের তাৎপর্য বিশাল ও সর্বজনীন। সন্তানের প্রতি পিতামাতার অপত্য স্নেহ এবং পিতামতার প্রতি সন্তানের আন্তরিক সংবেদন সব মিলিয়েই ভালোবাসার এই দিন। আদরের ছেলেমেয়ের জন্য বাবা-মার থাকবে অসীম মঙ্গল প্রার্থনা। ছেলেমেয়েও শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত করবে বাবা-মাকে।

কবি রফিক আজাদের ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার প্রসঙ্গ।


বাংলাদেশে আধুনিক কাব্যচর্চার অন্যতম পথিকৃৎ, কবি রফিক আজাদ-এর কাব্যচর্চার ধারা এবং তাঁর অবদানকে তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সম্প্রতি দেশের বিশিষ্ট কবি, বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিত্ববর্গ ও পরিবারের সদস্য সমন্বয়ে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট ‘কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পর্ষদ’গঠন করা হয়েছে। কবি রফিক আজাদ-এর ৭৫তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা ভালোবাসায় কবির অবদান ও কৃতিকে স্মরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে আগামী পহেলা ফাল্গুন, ১৪২৩, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, সোমবার বিকেল ৪টায় বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান হলে কবিকে নিবেদিত রবীন্দ্র সংগীত, স্বরচিত কবিতা পাঠ, কবির কবিতা থেকে আবৃত্তি, আলোচনা ও কবির ৭৫টি কবিতা নিয়ে প্রকাশিত ‘রফিক আজাদের কবিতা ৭৫’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
‘কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পর্ষদ’ গঠনের সংবাদ এবং পর্ষদ আয়োজিত কবির ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সংবাদ আপনার বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রে ও টিভি চ্যানেলে ধারণ / প্রচার করার জন্য উল্লিখিত দিনে একজন প্রতিনিধি প্রেরণের জন্য অনুরোধ জানানো হলো।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মফস্বলের ছেলে সানজিদের কৃতিত্ব॥একুশে বই মেলায় নতুন প্রজন্মের লেখক সানজিদ খান এর লেখা মানবের তরে গীতিকাব্য- জীবনের গীতালির ব্যাপক চাহিদা


মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল,টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা
তিনি একজন লেখক, কবি, সুরকার ও গীতিকার।বর্তমান নতুন প্রজন্মদের নিয়ে তিনি কিছু একটা করার চেষ্টা করছেন।পেশায় তিনি একজন ছাত্র।নাম সানজিদ খান।পড়াশোনা করছেন জার্মান-বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার কম্পিউটার সাইন্সে।টিউশনীর টাকা আর প্রতিমাসে বাবা মায়ের পাঠানো দেওয়া মাসিক খরচ বাঁচিয়ে অতিরিক্ত যে টাকা থাকে এই টাকা নিজে খরচ না করে জমানো টাকা দিয়ে শুরু করেছেন সুর, গান, ও লেখালেখী।এবারের একুশের বই মেলায় নবীন এই লেখক নুতন প্রজন্মদের জন্য লিখেছেন একটি গীতিকাব্যের বই।নাম দিয়েছেন মানবের তরে গীতিকাব্য-জীবনের গীতালি।১০০টি কবিতা ও গান নিয়ে এই গীতিকাব্য।একুশে বই মেলায় কাশবন প্রকাশনার স্টলে বইটি পাওয়া যাচ্ছে।আগামী ১৪ ফেব্র“য়ারি লেখক সানজিদ খান ও কাশবন প্রকাশনার উদ্যোগ্যে বইটির মোড়ক উন্মোচন হবে বলে আজ শনিবার বইটির লেখক সানজিদ খান জানিয়েছেন।মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও খ্যাতিমান গুনী শিল্পীরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
জানা গেছে, সানজিদ খানের পিতার নাম পারভেজ আলী খান এবং মাতার নাম আফরোজা খাতুন।গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের পৌরসভার বাইমহাটি প্রফেসরপাড়া গ্রামে।আজ শনিবার সানজিদ খান মির্জাপুরে এসে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন,শিশুকাল থেকেই তার গান, নাটক, কবিতা ও লেখালেখির প্রতি প্রচুর আগ্রহ ছিল।প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক কৃতিত্বের সঙ্গে পাশ করার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি হন জার্মান-বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির বিএসসি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার সাইন্সে।১০০টি গান ও সুর নিয়ে এবারের বই মেলায় তার নিজের লেখা মানবের তরে গীতিকাব্য-জীবনের গীতালি বের হয়েছে।বইটি পাঠকদের হৃদয়ে স্থান দখল করে নেওয়ায় ব্যাপক বিক্রি হচ্ছে।এর আগে কবিতার জলসাসহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে।তার এই অসামন্য সুন্দর ও সাবলিল ভাষায় বই লেখালেখির কারনে বাংলাদেশ কবি সংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তাকে পুরস্কৃতও করেছেন।এছাড়া অন্যান্য অনুষ্ঠানেও পেয়েছেন পুরষ্কার।সবার সহযোগিতা পেলে নবীন এই লেখক আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

ভালবেস চিরদিন

ভালবেস চিরদিন

আমার সাদাকালো পৃথিবিটা
যে করেছে রঙ্গিন!
যাকে নিয়ে রাত দুপুরে
সপ্ন দেখি অনাবিল!
যার কথা ভেবে ভেবে
পথা চলা সীমাহীন!
যার হাসিতে দুঃখ ভুলে
উল্লাসিত সীমাহীন!
যার মাঝে অগচোরে
ডুবে থাকি নিশিদিন!
যার দুঃখের গল্প শুনে
হয়ে যাই মলিন!
যার সুখে অজান্তেই
উদ্ভাসিত অন্তহীন!
আমার দেখা যে মানুষটা
সবচেয়ে বেশি শালীন!
থাকতে পারি না ছন্দহীন!
যাকে ছাড়া জীবন আমার
ষোল আনাই অর্থহীন!
যে পাশে না থাকলে
সময় আমার মূল্যহীন!
যার সাথে এই আমি
থাকতে চাই নিত্যদিন!
তাকে আমি বলতে চাই
ভুল-না আমায় কোনদিন!
তাকে আমি বলতে চাই
মনে রেখ চিরদিন!!
তাকে আমি বলতে চাই
ভালবেস চিরদিন!!!

প্রতিদিন প্রেমে পড়ি

প্রতিদিন প্রেমে পড়ি


এস এম সেবুল

প্রতিদিন প্রেমে পড়ি প্রেম এই ঘাস
আমাকে রেখেছে সুখি দূর নীল আকাশ
মুগ্ধ এ আমি শুনি পাখিদের গান
আমাকে মাতাল করে সবুজের ঘ্রাণ।

প্রতিদিন প্রেমে পড়ি প্রেম এই পাতা
আমার সুনাম রচে কবিতার খাতা
আমি খুঁজি সেই নারী মিলে যাকে শ’তে
কদাচিৎ দেখা মেলে চেনা মেঠোপথে।

প্রতিদিন প্রেমে পড়ি প্রেমে বসবাস
ভালোবেসে আমি কিনি বড়ো রাজহাঁস
আকাশে রোপণ করি রাশি রাশি নীল
কে না ভালোবাসে বলো শালুকের বিল।

প্রতিদিন প্রমে পড়ি প্রমে বাঁচা মরা-
বিরহী দহনে পুড়ি বারো মাস খরা।
——————————
এখনও মানুষ প্রিয়
এস এম সেবুল

এখনও মানুষ প্রিয়,নেই তার শেষ
এই বুকে লিখে রাখি প্রিয় এই দেশ।
সহজে হৃদয় কাড়ে রাখালের বাঁশি
ফসলের মাঠে দেখি কৃষকের হাসি।

এখনও ভীষণ প্রিয় শিশুদের হাসি
আমি সদা নদী মাঠ ফুল ভালোবাসি,
বর্ষার জল প্রিয়, প্রিয় রঙ নীল
আমূল হৃদয় জুড়ে দূর গাঙচিল।

ভালোলাগে মন কাড়ে সবুজের মাঠ
অবসরে এই আমার প্রিয় বই পাঠ
একা থাকি গান শুনি হেঁটে যাই দূর
এখনও আমার প্রিয় ভাটিয়ালি সুর।

বর্ষায় ভালো লাগে গয়নার নাও
যেখানে এ-মন চায় দূর চলে যাও
অচেনা সুদূরে ডাকে সাগরের ঢেউ
কতটা ভীষণ প্রিয় জানেনা তা কেউ।

এখনও মানুষ প্রিয়,প্রিয় এই দেশ
এদেশ রুপের রাণী নেই তার শেষ।
———————————-
পাখির ঠোঁটে ভোর পাঠালাম
আবু সালেহ মো:ইউসুফ

এই কবিতা মধ্যরাতে লিখিছি তোমার নামে
বকুল ফুলের গন্ধ দিলাম শুভ্র মেঘের খামে।

কাঁঠালচাঁপার ঘ্রাণ পাঠালাম দখিন হাওয়ার পীঠে
গাঙশালিকের গান শুনিও মন হলে খিটখিটে।

পাখির ঠোঁটে ভোর পাঠালাম-ফুলের পরাগ-ঘাসও
ঘুঘুর ডাকে চমকে উঠে নদীর মতো হাসো।

তোমার হাসি ঝংকারে ফুল ফুটবে ধরাধামে
তোমার হাসি কিনবো আমি গ্রেট সিলেটের দামে।

একটুখানি করতে পরখ তোমার গালের তিল
পানির দামে অনায়াসে বেঁচবো চলন বিল।

তুমিহীনা ফুল ফোটেনা-চাঁদ নীলিমা ফিকে
তোমার নামে দেবো উদার আকাশখানি লিখে।

নীলে ঠাসা বন হরিণীর করতে দুচোখ পাঠ
দলিল করে দেবো নদীর শিশির ভেজা মাঠ।

নির্বাসনে পাঠিয়ে তব ধরার সকল ফুল
চাঁপা হয়ে আঁকড়ে রবো তোমার কালো চুল।

ভুল করে এ খোঁপা যদি খোলো হে অপ্সরা
তলিয়ে যাবে অন্ধকারে আলোর বসুন্ধরা।

আত্রাইয়ে কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির অপরূপ শিল্প বাবুই পাখির বাসা


নওগাঁ প্রতিনিধি : ‘বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়ুই, কুঁড়েঘরে থেকে করো শিল্পের বড়াই। আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে’ কবি রজনী কান্ত সেনের এই অমর কবিতাটি এখন এদেশে ৩য় শ্রেণীর বাংলা বইয়ে পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকের কবিতা পড়েই এখনকার শিক্ষার্থীরা বাবুই শিল্পের অলৌকিক কথা জানতে পারছে। এখন আর চোখে পরেনা বাবুই পাখি ও তার নিজের তৈরী দৃষ্টিনন্দন সেই ছোট্ট বাসা তৈরির নৈসর্গিক দৃশ্য।
হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির বয়ন শিল্পী, স্থপতি এবং সামাজিক বন্ধনের কারিগর বাবুই পাখি ও তার বাসা। খড়, তালপাতা, ঝাউ ও কাশবনের লতাপাতা দিয়ে বাবুই পাখি উঁচু তালগাছে বাসা বাঁধে। সেই বাসা দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি মজবুত। প্রবল ঝড়েও তাদের বাসা পরে যেতনা। বাবুই পাখির শক্ত বুননের এ বাসাটি শিল্পের এক অনন্য সৃষ্টি যা টেনেও ছেঁড়া সম্ভব নয়।
একসময় বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে সারি সারি উঁচু তালগাছে বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা দেখা যেত। এখন তা আর সচরাচর চোখে পরেনা। কালের বিবর্তনে ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে সেই দৃষ্টি ভোলানো পাখিটিকেও তার নিজের তৈরী বাসা যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যকে আরও ফুটিয়ে তুলত, তা আজ আমরা হারাতে বসেছি। বাবুই পাখি বাসা তৈরির পর সঙ্গী খুঁজতে যায় অন্য বাসায়। সঙ্গী পছন্দ হলে স্ত্রী বাবুইকে সাথী বানানোর জন্য নানাভাবে ভাব-ভালবাসা নিবেদন করে এরা। বাসা তৈরির কাজ অর্ধেক হলে কাঙ্খিত স্ত্রী বাবুইকে সে বাসা দেখায়। বাসা পছন্দ হলে কেবল সম্পর্ক গড়ে। স্ত্রী বাবুই পাখির বাসা পছন্দ হলে বাকী কাজ শেষ করতে পুরুষ বাবুই পাখির সময় লাগে চারদিন। স্ত্রী বাবুই পাখির প্রেরণা পেয়ে পুরুষ বাবুই মনের আনন্দে শিল্পসম্মত ও নিপুণভাবে বিরামহীন কাজ করে বাসা তৈরির কাজ শেষ করে। প্রেমিক বাবুই যত প্রেমই দেখাক না কেন, প্রেমিকা ডিম দেয়ার সাথে সাথেই প্রেমিক বাবুই আবার খুঁজতে থাকে অন্য সঙ্গী। পুরুষ বাবুই এক মৌসুমে ছয়টি বাসা তৈরি করতে পারে। ক্ষেতের ধান পাকার সময় হলো বাবুই পাখির প্রজনন মৌসুম। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হবার পরপরই বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য স্ত্রী বাবুই ক্ষেত থেকে দুধ ধান সংগ্রহ করে।
বর্তমানে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে গ্রামাঞ্চল থেকে হারিয়ে যেতে বসছে প্রকৃতির এক অপরূপে সৃষ্টি বাবুই পাখি। প্রকৃতির বয়ন শিল্পী, স্থপতি ও সামাজিক বন্ধনের কারিগর নামে সমধিক পরিচিত বাবুই পাখি ও তার অপরূপ শিল্পসম্মত বাসা এখন আর চোখে পরেনা।
এ বিষয়ে নাগরিক উদ্যোগের শাহাগোলা ইউনিয়নের দলিত মানবাধিকার কর্মী শ্রীঃ দিনেশ কুমার পাল বলেন, প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের আগ্রাসী কার্য্যকলাপের বিরুপ প্রভাবেই আজ বাবুই পাখি ও তার বাসা হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে দেশের কিছু কিছু জায়গায় এখনো চোখে পড়ে বাবুই পাখির বাসা। বাবুই পাখি ও তার বাসা টিকিয়ে রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তিনি।

বন্ধু

 বন্ধু

Muhammod Tushar
ভাল লাগে তোদের সাথে
ঝগড়া আমার করতে,
যেমন করে ভাল লাগে
নীল আকাশের চাঁদকে।

ভাল লাগে তোদের মুখের
মিষ্টি হাসি দেখতে,
যেমন করে ভাল লাগে
সকালের সূর্যকে।

ভাল লাগে তোদেরকে
জড়িয়ে ধরতে,
যেমন করে ভাল লাগে
শীতের কাঁথাকে।

ভাল লাগে তোদের সাথে
অজানা পথে হাটতে,
যেমন করে ভাল লাগে
বসন্তের বাতাসকে।

ভাল লাগে তোদের
হাসি মুখ দেখতে,
যেমন করে ভাল লাগে
শিশির ভেজা ঘাসকে।

ভাল লাগে তোদের সাথে
হৈ হোল্লোর করতে,
যেমন করে ভাল লাগে
পাখির কলতানকে।

ভাল লাগে তোদের সাথে
জমিয়ে আড্ডা দিতে,
যেমন করে ভাল লাগে
বৃষ্টিস্নাত দিনকে।

ভাল লাগে তোদের সাথে
মনের কথা বলতে,
যেমন করে ভাল লাগে
মায়ের কোলে থাকতে।

ভাল লাগে তোদেরকে
বন্ধু বলে ডাকতে,
যেমন করে ভাল লাগে
শীতের পিঠা খেতে।

ভাল লাগে তোদের নিয়ে
সারাটিক্ষন ভাবতে,
যেমন করে ভাল লাগে
শৈশবের স্মৃতিকে।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »