Category: গল্প-কবিতা

আদর্শ


মো:নাঈম উদ্দিন

আদর্শবান মানুষ হতে চায় অনেক জনে,
আদর্শবান হতে তারা পারে কয় জনে।
গভীর রাতে ঘুমায় তারা দেখে সিনেমা-খেলা,
প্রতিদিন উঠে তারা করে অনেক বেলা।
অফিস-কলেজে কাটায় তারা দুপুর বেলা,
হেলায়-খেলায় কাটায় তারা বিকেল বেলা।
মাগরীবের ঐ আযান শুনে দেয় না তারা সায়,
বল ভাই মরিলে তাদের হবে কি উপায়?
বর্তমানের ছেলে-মেয়েরা আদর্শ কি জানে?
লেলিন ও গান্ধীকে তারা আদর্শ বলে মানে।
সকল সৃষ্টির ¯্রষ্টা যিনি,
আল্লাহ মেহেরবান,
মোহাম্মদ (সা:) কে করলেন তিনি
-আদর্শবান।
আদর্শবান হতে হলে কুরআন-হাদিস জান,
কুরআন-হাদিস বুঝে তুমি মোহম্মদকে মান।
শিশুকালে কখনোই যিনি,
শুনে নাই একটা গান,
ভুলে ও করেননি তিনি,
একটাও পাপের কাম।
জার চরিত্র দয়া দেখে কুরাইশ কাফেরগণ,
আলামিন বলে ভূষিত করল মক্কা বাসীগণ।
কুরআন নাজিল হওয়ার পরে কালেমার এই বাণী,
সকলের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন,
তাও আমরা জানি।
তায়েফ ও উহুদের কাহিনী আমরা জানি,
বল ভাই কতটা তাহার সুন্নত আমরা মানি।
শিশু বল, যুবক বল,বল বৃদ্ধবান,
সৈনিক বল, শাসক বল, বল দেশের প্রধান,
সকল স্তরের শ্রেষ্ঠ হলেন তিনি আদর্শবান।

“প্রতিভাবান ড্রামস বাদক আব্দুল বারী মিউজিক নিয়ে গভীর স্বপ্নে বিভোর”

নজরুল ইসলাম তোফা||  পৃথিবীতে যুগে যুগে কিছু মানুষের সৃষ্টি হয়েছে, তাদের অধিকাংশই কোটি কোটি টাকায় ভোগ-বিলাস, ধন-সম্পদ, বাড়ি-গাড়ি নিয়ে জীবন স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু এমন কিছু বিকল্প চিন্তা চেতনার মানুষকে খোঁজে পাওয়া যায়, জীবনে কোন কিছুর মোহ নেই, নেই নূন্যতম মনের ইচ্ছা পূরণের উচ্চাকাঙ্খা। জীবনকে সঠিক পথে পরিচালনার উদ্দেশ্য অতীব ক্ষিন। অর্থের লোভ না থাকলেও প্রয়োজন আছে পেটে ভাতে বেঁচে থাকার অধিকার। কিন্তু উপার্জনের আদৌ কোনোই পরিকল্পনা নেই, এমন একজন প্রতিভাবান, সরল, কোমল মনের ছোট্ট মানুষ, শুধুই দেখে রঙিন স্বপ্ন, চরম আশা আশঙ্কা মিউজিক নিয়ে। মিউজিক জগতে বহুগুনের অধিকারী ছেলেটি সবাইকে অবাক করে দেওয়ার মতোই প্রতিভা। মিউজিকের নেশাটা নিত্য দিনের জীবন সঙ্গী। নাম তার মো: আব্দুল বারী।

নওগাঁ জেলার মান্দা থানায় তেরো নম্বর কশর ইউনিয়নের পাঁজর ভাঙা গ্রামে নিজ পিতা-মাতা, সহধর্মিণী সহ এক পুত্র সন্তান নিয়ে তার বসবাস। গ্রামের সহজ সরল মানুষের কাছে গান ও মিউজিক বাজানোটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। ছেলে মেয়েরা তার কাছে মিউজিকের সঙ্গে কিভাবে গান করতে হয় তা শিখে নিয়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় তথা গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিনোদন দিয়ে থাকে। মিউজিক প্রেমী আব্দুল বারী তাদের সহযোগী হয়েই সকল অনুষ্ঠানে মিউজিক বাজায়। অনেক মিউজিক বাজাতে পারে। যেমন: হারমোনিয়াম, ড্রামস, কঙ্গো, জুড়ি, ফুলোট এবং আঁড় বাঁশি। তার মধ্যে ড্রামস মিউজিকই উপস্থিত দর্শকদের মাঝে বাজিয়ে বেশ আনন্দ পায়। তার প্রিয় মিউজিক সহ অন্যান্য মিউজিক নিয়ে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বায়না যায়।

তরুণ প্রজন্মের প্রতিভাবান তারুণ্যের প্রতিক, স্বল্প ভাষী, মিউজিক ম্যান আব্দুল বারী অল্প বয়সেই জয় করেছে অসংখ্য শ্রোতা ও দর্শকের হৃদয়। এখন তার বয়স প্রায় সাতাশ আটাশ হয়তো হবে। ছাত্র জীবনের শুরুতেই তার জীবনে নেমে আসে অমানিশার ঘোর আঁধার, পড়াশোনা হয়নি তার। সঙ্গীত, নৃত্য, বিভিন্ন মিউজিকের সাথে সখ্যতায় ছোটবেলা কাটে। নিজস্ব স্টাইল বজায় রেখে মিউজিক বাদ্যে আত্মবিশ্বাসের সাথেই কাজ করে। জেনে নিই এমন ছেলেটির করুন কাহিনীর আদ্যোপান্ত।

সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেই তার বেড়ে ওঠা নয়। বাবার নাম মো: কমর উদ্দিন শাহানা তিনি একজন গুণী মৌলবী। মা মোছা: মনোয়ার বেগম একজন পর্দাশীল গৃহিণী মহিলা। বাবা মিউজিক অনুরাগী না হলেও বংশে তার দাদা ছিল কবি গানের সরদার অর্থাৎ ছন্দের গায়ক।  ক্লাস সেভেন পর্যন্ত মো: আব্দুল বারীকে তার বাবা ধরে বেঁধে জোরপূর্বক লেখাপড়া শেখাতে পেরেছে। পরিবারের কেউ ভাবেনি সে প্রফেশনালি ড্রামস বাদক হয়ে লেখাপড়ার পাঠ চুকে দিবে। ইচ্ছে ছিল ছেলে বড় হয়ে সমাজের আর দশটা ছেলেদের মতো চাকরি করবে। কিন্তু বাল্য বয়সে মস্তিষ্কের কোষে কোষে গেঁথে গেল যাত্রা দলের গান, যাত্রার নৃত্য এবং যাত্রার মিউজিক। সব কিছু ছাপিয়ে যাত্রার যে ড্রামস মিউজিক তা নিয়ে মাতিয়ে তোলে মন্ত্রমুগ্ধ বাদ্যের ঢংঙে।

তরুণ বয়সে নিজ গ্রামের স্কুলে প্রতি বছর যাত্রা নাটকে নারী চরিত্রের পাঠ গাওয়া ও নাচনেওয়ালী মেয়ে নিয়ে আসতো। আব্দুল বারী শৈশব থেকেই তাদের সঙ্গে একই ভঙ্গিতে নাচনেওয়ালী সঙ্গে নাচতো এবং দর্শক নারী-পুরুষের নৃত্যে বেশ মজা নিতো। গায়ক হিসেবে তার পরিচয় যতটা না ছিল তারচেয়ে নাচ ও মিউজিক বাজানোর পরিচিতি অনেক উর্ধে ছিল। মিউজিক বাজানো অভিজ্ঞতা তার দেখে দেখে শেখা। তেমন কোন উস্তাদ গুরু ছিলো না, বলতে গেলে নিজস্ব প্রতিভা তার। তবে বাড়ির পাশে একজন দক্ষ প্রবীণ ব্যক্তি উত্তর খুব সুন্দর হারমোনিয়াম ও অর্গান বাজাতো। তার সঙ্গে আব্দুল বারীর উঠা বসা হতো। উত্তম নামের ব্যক্তি এমন প্রতিভা দেখে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেত। বলা যায় অল্প বয়সে কচি মেধার ছেলেটিকে এমন ভাবে সঙ্গে না নিয়ে ঘুরলে হয়তো জীবনে শিক্ষা-দিক্ষার দ্বার প্রান্তে পৌঁছাতে পারতো। আব্দুল বারী কাঁচা বুদ্ধিতে উত্তমের সঙ্গী সাথী হয়ে দূরদূরান্তের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচতো এবং বিভিন্ন মিউজিক বাজিয়ে দর্শকদের আনন্দ দিত। আর এসব কারণেই শ্রী উত্তম কুমার প্রয়োজনের তাগিদে মো: আব্দুল বারীকে ব্যবহার করতো। ব্যতিক্রম চিন্তা ধারার ছোট্ট ছেলেটি উত্তমের ডাকে স্কুল ফাঁকি দিয়ে বিয়ে-বাদি, কিচ্ছা-কাহিনী, যাত্রা-পাটি এবং স্কুল-কলেজের অনুষ্ঠানে নৃত্য করা ও মিউজিক বাজানোর কাজে দূরদূরান্তে চলে যেতো। তার বাবা মার হাজারো বাধা উপেক্ষা করে। লেখাপড়ায় ক্ষতি হতে লাগল মুটেও টের পাওয়া মানসিকতা তার ছিলোনা। স্কুল শিক্ষক তার বাবাকে জানালেন আপনার ছেলে স্কুলে আসেনা। স্কুল কর্তৃপক্ষ এমন অনিয়মিত ছাত্র আর চায়না। বাবা নিরুপায় এখন ছেলেকে নিয়ে কি করবে? পরে চিন্তা করে স্থির করলেন চার ছেলে ও দুই মেয়ে মধ্যে একটি ছেলে হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি  হলে মন্দা হয়না। যথারীতি সেখানে আব্দুল বারীকে ভর্তি করিয়েও মিউজিক বাজানোর পোকা থেকে সরাতে পারেননি। মনে ভর করে থাকা ড্রামস মিউজিক, বানিয়ে ফেলতো ওজুর বদনা, পানির কলস এবং  খাবার প্লেট-বাটি। ছাত্রদের কাছে বাজিয়ে আনন্দ করতো এবং নাচতো। প্রতিদিনের এমন আচরণে তার উস্তাদ চরম বেত্রাঘাত করলে সেখান থেকে বাড়ি পালিয়ে আসে। দু’তিন বার পাঠিয়েও তাকে মন স্থির করাতে পারেনি। তবে এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিন পারা কোরআন শরীফ মুখস্থ করেছে। এত সুন্দর শুদ্ধ উচ্চারণ, শ্রুতি মধুর গলা শুনলে সত্যিই অবাক হবেন।

প্রতিভাবান এই ছেলে লেখাপড়ায় অনুগত নাহলে আবারও চরম মারধর করে। জেদী ছেলে আব্দুল বারী পালিয়ে যায় বাড়ি থেকে এবং ছয় মাস নাটরের এক যাত্রা ক্লাবে উঠে। অল্প সময়ের মধ্যে যাত্রা দলের মেয়েদে নৃত্য গুরু হয়ে উঠে। সেখানেই থাকতে থাকতে যাত্রার সব মিউজিক যন্ত্র বাজনো পুঙ্খানুপুংখ শিখে ফেলে। বিশেষ করে যাত্রার মিউজিকের মধ্যে ড্রামস বাজানোর পারদর্শীকতায় অতুলনীয় ছিল। যেখানেই যাত্রাদল ভাড়া যেতো সেখানেই মেয়েদের সঙ্গে চলে যেতো। কারণ তাদের গুরু ড্রামস না বাজালে মেয়েরা নাকি নাচতে পারতো না। এমন প্রতিভাবান ছেলের সন্ধান অনেক খোঁজাখুঁজি পর মিলে।। বাড়িতে জোর করে ধরে এনেও এ জগৎ থেকে সরিয়ে রাখতে পারেননি তার বাবা। কি করবে ছেলেকে? পড়াশুনায় সে নারাজ, স্থির করলেন বিয়ে দিলেই ঠিক হবে হয়তো। যথারীতি বিয়ে হয় কিন্তু সংসার টিকে না। দীর্ঘ সময় একাগ্রতায় কোন দন্দ-ফাসাৎ না করেই সে চলে। এদিকে তার বাবা-মা জানতে পারে কলেজ পড়ুয়া মেয়ে রাজিয়া তাকে ভালোবাসে। প্রেমের বিয়েতে এক পুত্র সন্তানের বাবা আব্দুল বারী। স্ত্রীর রাজিয়া বিএ পাশ করে আশা ব্যাংকের ক্যারিয়ার পদে চাকরি করে সংসার চালায়। কিন্তু মিউজিক নিয়ে যে পরিকল্পনা, মনের ইচ্ছা অপূর্ণই থাকে নিজ ইনকাম নেই বলে। তার চাওয়া একটা মিকচার মেশিন অর্থাৎ সে যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে সব ধরনের মিউজিক মিশ্রণ করে শ্রুতিমধুর বাদ্যে শ্রোতা, দর্শনের মন জয় করবে। তাছাড়া কোন সুহৃদ ব্যক্তির সান্নিধ্য পেলে তার ড্রামস মিউজিক বাদ্যটি কাজে লাগাতে আশা পোষণ করে।

কণ্ঠশিল্পী মাজারুল ইসলাম মাসুম তার সংগীত ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা

এখনো তোমার কন্ঠ শুনে কেঁপে উঠে কত প্রান,এখনো তোমার ভাষন শুনে কাদে মানুষের প্রাণ এখনো কাঁদে তোমার মেয়ে শেখ হাসিনার প্রাণ, এইত আমায় গান শেখ মুজিবুর রহমান, এখনো তোমার জন্য কত যোদ্ধা থাকে চেয়ে, তোমার মেয়ে বাবা বলে কাদে দেখনা তুমি চেয়ে। এখনো কাদে হাজার রিদয় লক্ষ কোটি প্রাণ, এইত আমার গান, এখনো তোমার বাংলায় কত শত্রুরা খেলা করে,দেশটা গরতে তোমার মেয়ে দিন রাত খেটে মরে,গাইব আমি গান আমি রাখবো দেশের মান। এইতো আমার গান। এই জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা, যার এক গানেই মন কেড়ে নিলো, এবং জয় করে নিল সরিষাবাড়ীর পৌর মেয়র মো:রুকনুজ্জামান রুকনের মন।সে আর কেউ নয় বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কন্ঠশিল্পী মাজহারুল ইসলাম মাসুম। জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী মাজারুল ইসলাম মাসুম তার সংগীত ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলেন বিবিসি লাইভের সঙ্গে। বিবিসি লাইভ: কেমন আছেন আপনি? মাসুম: ভালো আপনি? বিবিসি লাইভ: ভালো আছি। বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে? মাসুম: এই তো গান নিয়েই আছি। বিবিসি লাইভ: আপনার গান ও ছেলেবেলা সম্পর্কে জানতে চাই। মাসুম: আমি ছোটবেলা খুব দুষ্টু ছিলাম। স্কুলে ইউনিফর্ম কাদা-বালি মাখিয়ে বাসায় আসতাম। গান শোনার জন্য বন্ধুরা আমাকে ঘিরে থাকতো সবসময়। বড় হওয়ার সাথে সাথে দুষ্টুমিগুলো অনেক কমে গেছে। বিবিসি লাইভ: শুনেছি অনেক ভাল গান করেন, কিভাবে গাইতে পারেন এত সুন্দর করে? মাসুম: আসলে কথাটা ঠিক নয় আল্লাহ যেটুকু ই দিয়েছন সেটার জন্যই মানুষের মনের মাঝে পৈাছাতে পারি। আর যারা বলে আমি ভালো গাই, তারা আমাকে খুব ভালোবাসে। তাই সবাই একটু বেশিই বলে। কন্ঠশিল্পী মাজহারুল ইসলাম মাসুম- মেয়র রুকনুজ্জামান রুকন কন্ঠশিল্পী মাজহারুল ইসলাম মাসুম- মেয়র রুকনুজ্জামান রুকন বিবিসি লাইভ: বর্তমান অবস্থানে কিভাবে আসলেন? মাসুম: আল্লহর অশেষ রহমত ও ইচ্ছায় এবং মেয়র আমার বড় ভাইয়ের, সহযোগিতায় ঢাকায় এসেছি, যেটুকু সুর আল্লাহ আমাকে দিয়েছন শহরের গুনি দের কাছাকাছি থেকে তার পরিচর্জা করার জন্য এমনকি, অনেক কিছুই শিখছি যা আমার জন্য আশির্বাদ সরুব।আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমার নতুন জীবনের শুরুই মেয়র মেয়র রুকনুজ্জামান রুকন। এবং সংগীত জীবনে পেয়েছি অনেকেরি সহযোগিতা ও অনেক অনেক ভালবাসা। সংঙ্গীত নিয়ে সবার কিছু না কিছু আশা আকাঙ্ক্ষা থাকে তবে আশা করার আগেই অনেকে আবার অনেক কিছু পেয়ে যায় তেমনি ঢাকায় এসে আমার যোগ্যতার চেয়েও যে বেশি কিছু দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছে আমার বন্ধু, ভাই, বাংলাদেশের তমুল জনপ্রিয় গীতিকার এইচ এম রিপন। গীতিকার এইচ এম রিপন- কন্ঠশিল্পী মাজহারুল ইসলাম মাসুম -মেয়র রুকনুজ্জামান রুকন গীতিকার এইচ এম রিপন- কন্ঠশিল্পী মাজহারুল ইসলাম মাসুম -মেয়র রুকনুজ্জামান রুকন বিবিসি লাইভ: এতো সুন্দর গান করার সময় কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখেন? মাসুম: গানগুলো করার সময় আমি অবশ্যই একটা ইমাজিনেশন মাথায় আনি- এখন কাকে আনি সেটা তো বলতে পারবো না। এটা একান্তই ব্যক্তিগত। এটা আমার ক্রিয়েটিভিটির জায়গা। আপনার পরিবার, আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব যত যাই কিছু থাকুক না কেন- যখন আপনি কোনো সৃষ্টির খোঁজে যাবেন তখন আপনাকে একা হতে হবে। বিবিসি লাইভ: ক্রিয়েটিভ জায়গায় আপনার অনুভূতি কেমন হয়? মাসুম: আই থিংক, এই ব্যাপারে আমি পুরো স্বাধীন থাকি। যেটা করে আমার আত্মা শান্তি পাবে আমি কিন্তু সেটাই করি। শেষ পর্যন্ত গানটা আত্মার স্বাধীনতা থেকেই আসে। বিবিসি লাইভ: অবসরে কী করেন? মাসুম: অবসরে আমার মাথায় দুটো বিষয় বেশি নাড়া দেয়। মেয়র আমার বড় ভাই আমায় আবিষ্কার করেছেন। তখন আমি আমার নিজেকে আবিষ্কার করি। বিবিসি লাইভ: ধন্যবাদ আপনাকে বিবিসি লাইভে সময় দে’য়ার জন্য। মাসুম: আমার পক্ষথেকে বিবিসি লাইভ পরিবারকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা

আগামী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হলো বিধান চন্দ্র পালের নতুন কবিতার বই ‘চেতনা ও প্রেরণায়’ ৫২’কে স্মরণে রেখে কবিতার মাঝে দিয়ে ৫২ প্রাজ্ঞজনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রেস রিলিজ


২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ফেব্রুয়ারির মাসটা ২৮ দিনের না হয়ে একটু বেশি হলে খুব ভালো হতো, আর কিছু না হোক অন্তত বইমেলার কারণে। কিন্তু বইমেলা শেষ দিকে হলে কি হবেÑ বইমেলার প্রতিটা দিনই বইপাগল বাঙালির কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মেলার শুরু থেকে প্রতিটি দিনেই এর স্পষ্ট ছাপ বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়। এর মাঝে একুশের কারণে বইমেলা এক অন্যরকম আবহে রূপ নিয়েছে। একদিকে উৎসুক পাঠকের ভীড়, অন্যদিকে নতুন বইয়ের সমারোহ। নতুন এ বইয়ের ভা-ারে সম্প্রতি যুক্ত হলো আরেক প্রাণ, বিধান চন্দ্র পালের নতুন কবিতার বই ‘চেতনা ও প্রেরণায়’। ৫২’কে স্মরণে রেখে ৫২ প্রাজ্ঞজনকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে লেখা কবিতা। আগামী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত কবিতার এ নতুন বইটি আজ থেকে বইমেলাতে পাওয়া যাবে।

সাহিত্য, শিল্পকলা, দর্শন, শিক্ষা, সমাজবিজ্ঞান, সঙ্গীত, পারফর্মিং আর্ট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রকৃতি ও পরিবেশ, গণমাধ্যম, মুক্তিসংগ্রাম, চিকিৎসা বিজ্ঞান, ইতিহাস ও গবেষণা, সংগঠন চর্চা, মানবাধিকার, নারী অধিকার আন্দোলন, আইন, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, আলোকচিত্র, রাজনীতি ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা নিরন্তর অবদান রেখে গেছেন এবং এখনও রেখে চলেছেন কবিতার মধ্য দিয়ে তাঁদের প্রতি গভীর সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

তরুণ কবি, লেখক, গবেষক ও বাচিকশিল্পী বিধান চন্দ্র পাল। সংগঠন চর্চা অন্যতম একটি আগ্রহের জায়গা তাঁর। তাই কর্মসূত্রের বাইরেও ব্যক্তিগতভাবে একাধিক বেসরকারি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে নানাভাবে যুক্ত রয়েছেন। কবিতা লেখা ও চর্চা ছোটবেলা থেকেই। একক ও যৌথভাবে বিধান চন্দ্র পালের একাধিক কবিতা অ্যালবামও প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া ছোটবেলার লেখা কবিতাসমূহের সমন্বয়ে ইতোপূর্বে তাঁর একটি কবিতাগ্রন্থ আগামী প্রকাশনী থেকেই প্রকাশ পেয়েছে। কবিতা লেখার বাইরেও তিনি বিভিন্ন ধরনের লেখালেখি, গবেষণা ও উদ্ভাবনীমূলক উদ্যোগে যুক্ত রয়েছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, কবিতার এ নতুন বইটিকে উৎসর্গ করা হয়েছেÑ বিভিন্ন ক্ষেত্র আরও সমৃদ্ধ করে তুলতে যাঁরা নিজেদেরকে নিবিষ্ট করবেন নতুন প্রজন্মের সেই সকল তরুণকে …।

বাংলা শুধু এখন আমাদের মাতৃভাষা নয়, রাষ্ট্র ভাষাও বটে


আল-আমীন,মেহেরপুর
আমরা বাঙালী ও বাংলাদেশী। বাংলা শুধু এখন আমাদের মাতৃভাষা নয়, রাষ্ট্র ভাষাও বটে। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সে সময় এদেশের সাধারণ মানুষের মনে একটি বিশ্বাস জন্ম নিয়েছিল যে, তারা ব্রিটিশদের কাছ থেকে যে সকল ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিল পাকিস্তান রাষ্ট্র হলে সে সব বঞ্চনা ও সমস্যার সমাধান হবে। তখন পাকিস্তানের উভয় অংশের জনগণ ভোগ করবে সমাধিকার। কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ চরম ভাবে অবহেলিত হতে লাগল। তাদের মাঝে জমা হতে থাকে ক্ষোভ। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ দেখতে পায় রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে এদেশের মানুষের কোন মূল্যায়ন নেই, অথচ ভাষাভাষীর দিক থেকে উর্দুভাষী মানুষ ছিল শতকরা ৮ ভাগ। আর বাংলাভাষী মানুষ ছিল ৫৬ ভাগ।
১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে পূর্ব পাকিস্তান কংগ্রেস (পূর্ব বাংলা) দলের সদস্য ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত একটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সংশোধনটি ছিল খসড়া নিয়ন্ত্রণ প্রণালীর ২৯ নং ধারা সম্পর্কে। এই ধারায় বলা হয়েছিল পরিষদের সকল সদস্যকে ইংরেজি বা উর্দু ভাষায় বক্তৃতা করতে হবে। ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত ইংরেজী ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের সরকারী ভাষা করার প্রস্তাব করেন। ২৫ ফেব্রুয়ারী এই প্রস্তাব সম্পর্কে অধিবেশনে আলোচনা হয় এবং তুমুল বিতর্কের পরও তা অগ্রাহ্য হয়।
১৯৫২ সালে ২৭ জানুয়ারী পাকিস্তানের প্রধান মন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন ঢাকা সফরে আসেন এবং নিখিল পাকিস্তান মুসলিম লীগের পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় ভাষন দেন। বক্তৃতায় তিনি উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষনা করেন। এ ঘোষনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ৩০জানুয়ারী ছাত্র ধর্মঘট ও সভা আহবান করে। ২৭ জানুয়ারী থেকে ২১ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত যে কর্মসূচী গৃহিত হয় তাতে দুটি দাবী ছিল (১) বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা (২) আরবী হরফে বাংলা লেখার প্রচলন বন্ধ করা।
ভাষা আন্দোলন ঃ
১৯৫২ সালের ৩১জানুয়ারী ২১ফেব্রুয়ারীকে রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্ততি গ্রহণ করে সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ এবং ঐ দিন তদানীন্তন প্রদেশের সর্বত্র সাধারণ ধর্মঘট এবং শোভাযাত্রা সহকারে ২১ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্র ভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হবে ঠিক হয়। ২১ফেব্রুয়ারীর আগের সভা ও মিছিলগুলির কারণে কেবল ছাত্রদের মধ্যেই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা জাগ্রত হয়েছিল এবং সকলে প্রতিরোধ ও সংগ্রামের প্রত্যক্ষ কর্মসূচীই প্রত্যাশা করছিল। এরকম অবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান (পূর্ব বাংলা) সরকার ২০ফেব্রুয়ারী থেকে ১ মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে ঢাকা শহরে যে কোন রকম সভা সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও মিছিল প্রভৃতি সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
১৯৫২ সালের ২১ফেব্রুয়ারী দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার ৮ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আ্উয়াল ১৩৭১ হিজরী। ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভংগ করার জন্য যাবতীয় প্রস্ুস্তু শেষ করে রেখেছিল। সিদ্ধান্ত মত ছাত্ররা দু’চার জন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকায় জমায়েত হচ্ছে। বৈকাল ৩ ঘটিকায় ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে মিছিল বের করে। এ সময় ছাত্রদের একটি অংশ কর্তব্যরত পুলিশ ও ইপিআর এর সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রচন্ড সংঘর্ষে ছাত্রদের নিক্ষিপ্ত ইটের সামনে পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়। ছাত্ররা পুলিশ ও ইপিআরদের চারদিক থেকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকলে এক পর্যায়ে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের গুলিতে প্রথম নিহত হয় একজন রিকসা চালক, তারপর সালাউদ্দিন, বরকত, রফিক, জব্বার। পুলিশের গুলি বর্ষনে ছাত্র জনতা নিহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের কান্না জড়িত ক্ষুব্ধ মুখ দেখা যায়। এরই প্রতিফলন ঘটেছিল ২২ফেব্রুয়ারী অর্থাৎ পরদিন শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ ব্যারাকে নিহতদের জানাযার নামাজে হাজার হাজার মানুষের অংশ গ্রহণ। সকলে চোখে মুখে ঘৃণা ও ক্রোধ নিয়ে সমবেত হয়। ২২ফেব্রুয়ারী জানাযার নামাজ শেষে ছাত্র জনতা শহীদদের লাশ নিয়ে মিছিল বের করলে পুলিশ আবারো মিছিলে গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে অহিউল্লাহ নামের ১৪ বছরের এক কিশোরসহ নিহত হয় ৪ জন। এঘটনার পর রাষ্ট্র ভাষার দাবী ছড়িয়ে পড়ে মফস্বল এলাকা গুলোতে।
১৯৪৭ সাল থেকে মেহেরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গন ছিল মুসলিম লীগের দখলে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে মেহেরপুরের কোন রাজনীতিক, রাজনৈতিক দল বা ছাত্র সংগঠন কোনরুপ ভূমিকা পালন করেছিল কিনা তার কোন সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায় না। তবে সাংবাদিক সৈয়দ আমিনুল ইসলাম রচিত মেহেরপুরের ইতিহাস ও বেঁচে থাকা অংশগ্রহণকারী ভাষা সৈনিক থেকে জানা যায়, ১৯৫২ সালের দুই দিন পর অর্থাৎ ২৪ফেব্রুয়ারী মেহেরপুর মডেল ইংরেজি হাই স্কুলের ছাত্র মুন্সি সাখাওয়াৎ হোসেন (কবি নজরুল শিক্ষা মঞ্জিলের প্রাক্তণ প্রধান শিক্ষক) কাওছার আলী (চানা) ওরফে গোলাম কাওছার (চানা) (মেহেরপুর পৌর সভার অবসর প্রাপ্ত কর্মচারী) বংকু ঘোষ ওরফে সতীনাথ ঘোষ (বড় বাজার বাগান পাড়া) শান্তিনারায়ন চক্রবর্তী (কাশ্যবপাড়া) আবুল হোসেন (তাঁতীপাড়া, সাবেক সভাপতি, বাস মালিক সমিতি) মীর মোজাম্মেল হক (মীর পাড়া, আমঝুপি) সিরাজুল ইসলাম(বাওট, গাংনী) জান মোহাম্মদ (অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, খন্দকারপাড়া) ইছাহাক আলী বিশ^াস(অবসরপ্রাপ্ত ফুটবল খেলোয়াড়, মোহিনি মিল, কুষ্টিয়া) রফেজুদ্দীন রতন (ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের কন্ট্রাক্টর, পিরোজপুর, মেহেরপুর) সুলতান উদ্দীন (কালাচাঁদপুর, মেহেরপুর) আওলাদ হোসেন মাষ্টার (বুড়িপোতা ইউপির শালিখা) প্রমুখ ছাত্র নেতা মেহেরপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে পোস্টারিং, পিকেটিংসহ মিছিল বের করেছিল। উল্লেখ্য গোলাম কাওছার চানা, মীর মোজাম্মেল, সুলতান শেখ ও সিরাজুল ইসলাম জীবিত আছেন।
এরপর ১৯৫৬ সালে ২১ফেব্রুয়ারী মাতৃভাষা দিবস ২২ফেব্রুয়ারী পালনে মেহেরপুর শহরে মিছিল ও পোস্টারিং করে মেহেরপুর মডেল ইংরেজী হাইস্কুলের ছাত্ররা। বিদ্যালয়ের শৃংখলা ভংগের অপরাধে উক্ত বিদ্যালয়ের ছাত্র নজীর হোসেন (পিরোজপুর) ইসমাইল হোসেন (জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি) মরহুম কবির খান (মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে) মোশারফ হোসেন (জিকে প্রজেক্টের কর্মচারী, ভেড়ামারা কুষ্টিয়া) মরহুম সামসুল আলা (বড় বাজার, মেহেরপুর) কদম রসুল, আবুল কাশেম(সাবেক চেয়ারম্যান বুড়িপোতা ইউপি) প্রমুখকে বিদ্যালয় থেকে রাজটিকিট করা হয়। পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন শিক্ষাবিদ ও মুসলিম লীগ মহকুমা সভাপতি জনাব সাবদার আলী বিশ্বাস । এছাড়া ১৯৫৬ সালের ২২ফেব্রুয়ারী মেহেরপুরের গাংনীতে রাষ্ট্রভাষা দিবস পালিত হয়। মোঃ দাউদ হোসেন (চেংগাড়া) মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (গাংনী চৌগাছা) ইসলাম আলী মাস্টার (যাদবপুর, মেহেরপুর) খোরশেদ আলী (গাংনী) প্রমুখ ছাত্র নেতা গাংনী শহরে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবীতে মিছিল করেছিল বলে জানা যায়।
ঐক্যবদ্ধ বাঙালীর আন্দোলনের তীব্রতায় তদানিন্তন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে প্রস্তাব গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। ১৯৫৩ সালে মূলনীতি কমিটির রিপোর্টেও বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম সরকারী ভাষা হিসেবে মর্যাদা প্রদানের সুপারিশ করা হয়। ১৯৫৬ সালে সংবিধানে উর্দুর সংগে বাংলাও রাষ্ট্রভাষা হিসেবে আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকৃতি লাভ করে।
২১এর চেতনায় বাঙালীরা ১৯৫৪’র নির্বাচন ১৯৫৮’র সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন ১৯৬৬’র ছয় দফা কর্মসূচী, ১৯৬৯’র ১১ দফা ও গণআন্দোলন ১৯৭০ এর নির্বাচন সর্বোপরি ১৯৭১ সালে মুক্তি সংগ্রামে ২১ফেব্রুয়ারী বাঙালী জাতিকে করে অনুপ্রাণীত। ১৯৫২ সালে কতজন ছাত্র-জনতা পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছে কোন তার নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো অজানা রয়ে গেছে। ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস না জানার কারনে প্রশাসন সহ স্বেচ্ছাসেবক অনেক সংগঠন মেহেরপুরে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে অবদানকারী প্রকৃত ভাষা সৈনিকদের মূল্যায়ন না করে তাদের পাশ কাটিয়ে ১৯৫৬ সালে ভাষা দিবস পালনকারীদের ভাষা সৈনিকের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে বিভিন্ন সম্মানে ভূষিত করছে। এতে মেহেরপুরের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস হচ্ছে বিকৃত। পৃথিবীর বুকে একমাত্র বাঙালী জাতিই রক্তাক্ত সংগ্রামের মাধ্যমে ছিনিয়ে এনেছে তার ভাষার অধিকার। কথা প্রসঙ্গে জনাব ইসলাম আলী মাষ্টারকে বলেছিলাম ১৯৫৬ সালে আপনি ভাষা দিবস পালন করলেন তবে কেন ভাষা সৈনিক হননি? তিনি আমাকে বললেন ভাষা সৈনিক তাঁরাই যাঁরা শুধু মাত্র ১৯৫২ সালে প্রতিবাদ করেছিলেন।
শেষ কথা ঃ
ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে ১৭নভেম্বর ৩০তম অধিবেশনে ২১ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বের ১৮৮টি দেশে ২১ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে সারা পৃথিবীতে

বাহান্নোর ভাষা আন্দোলন ও আমাদের স্বাধীনতা


এস,এম শাহাদৎ হোসাইন,গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: আমি বাংলায় ভাসি,বাংলায় হাঁসি,বাংলায় মোদের গৌরব, বাংলায় মোদের স্বাধীনতার চেতনা ও মায়ের মুখের ভাষা। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভূলিতে পারি। ২১শে ফেব্রুয়ারী মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিবসটির তাৎপর্য অপরিসীম। জাতি শহীদদের প্রতি বিনম্্র শ্রদ্ধা জানিয়ে মিনারে পুস্প অর্পণের মাধ্যমে গভীর ভালবাসার সাথে দিবসটি বিভিন্ন কর্মসুচীর মধ্য দিয়ে করে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা হয়।। বাংলাদেশের ন্যায় বিশ্বের সকল দেশে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্্র শ্রদ্ধার জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালত করে। রফিক সালাম জব্বার বরকতসহ নাম না জানা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ বাংলা ভাষার সম্মান চির দিন অটুট রাখার জন্য আমাদের নতুন প্রজন্মকে ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে হবে বা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রকৃত ইতিহাস আমাদের সন্তানদের মাঝে তুলে ধরা আমাদের সকলের দায়িত্ব।এ দায়িত্ব বোধ থেকেই আমাদের নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় আতœবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। বাঙ্গালী জাতি মাথা নত করার জাতি না এ কথাটি পাকিস্তানের শাসক শ্রেণী কখনই মনে করেনি। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৪ আগস্ট ভারতীয় উপমহাদেশ ভেঙ্গে পাকিস্তানের জন্ম হয়। পাকিস্তানের জাতির পিতা কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিনাহ এবং পাকিস্তানী শাসকরা সবাই উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা করার জন্য অড়ন রইল এবং শাসক গোষ্টি ঘোষনা করল উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তখন বাঙ্গালী জাতি এই ঘোষনাকে কেবল সাংস্কৃতিক আঘাত বা শোষনের হাতিয়ার হিসেবে উপলব্ধ করেনি বরং এর মধ্যে অর্থনৈতিক শোষনের কালোছায়াও অনুভব করেছিল। সেই অনুভূতি থেকে মায়ের মুখের ভাষা বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে ছাত্র,শিক্ষক,চিকিৎসক,কৃষকসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভাষা আন্দোলনে রাস্তায় নেমে আসেন। বাঙ্গালী মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ বুঝতে পেয়ে ছিল, রাষ্ট্র বা সরকারী ভাষা উর্দু হলে জীবনের বহু ক্ষেত্রে তারা এবং সাধারণ মানুষ অনেক বাঞ্চানার শিকার হবে। ইংরেজ বা বৃটিশ শাসনের অভিজ্ঞতা থেকে তারা ভালভাবে বুঝতে পেয়েছিল উপমহাদেশের রাষ্ট্রভাষা ইংরেজী থাকার ফলে যারা ইংরেজী ভাল জানতেন কেবল তারাই রাষ্ট্র শাসনের সঙ্গে যুক্ত হতেন, অন্যরা নয়। ভাষা আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) জনগণকে এই চেতনায় উজ্জীবিত ও উৎকন্ঠিত করেছিল যে, পাকিস্তানের শাসক শ্রেণী পূর্ব পাকিস্তানকে শোষনের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে। পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান মিলে সে সময় জনসংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৯০ লক্ষ। পশ্চিম পাকিস্তানের বেশীর ভাগ মানুষ উর্দু বলতে পারলেও এ ভাষা কারো নিজের ভাষা ছিল না। অনেক ভাষায় কথা বলার সম্প্রদায় ছিল পাকিস্তানে। পেশোয়ারের মানুষের মাতৃভাষা ছিল পোশতু,সিন্ধু অঞ্চলের ভাষা ছিল সিন্ধু,পাঞ্জাবে পাঞ্জাবী ভাষা,বেলুচিস্তানে বেলুচ ভাষা। তারপরও যদি ধরে নেয়া যায় পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষ উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে মানবে, তারা অনেকেই উর্দুতে কথা বলতে, পড়তে পারে তা হলেও পশ্চিম পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যা ২ কোটি ৫০ লক্ষ। আর পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা ভাষায় কথা বলার মানুষের সংখ্যা ৪ কোটি ৪০ লক্ষ। এই হিসেবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা হওয়া উচিত বাংলা।এরপরও কি করে পাকিস্তানের শাসকগোষ্টি ৫৮ শতাংশ মানুষের মুখের ভাষা বাংলাকে অস্বীকার করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষনা দিতে পারল। পাকিস্তানী শাসক গোষ্টির ঘোষনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র,শিক্ষক,চিকিৎসক,কৃষকসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মায়ের মুখের ভাষা বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে বুদ্ধিজীবি ও সংস্কৃতিবিদরা রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে ১১ই মার্চ ধর্মঘট আহবান করেছিলেন। ধর্মঘাটের সময় আন্দোলনের নেতা শওকত আলী, কাজী গোলাম মাহবুব,শামসুল হক,অলি আহাদ,শেখ মজিবুর রহমান, আব্দুল ওহাবকে গ্রেফতার করেন পুলিশ। ছাত্র নেতা আব্দুল মতিন, আব্দুল মালেক, উকিল প্রমুখ ঢাকায় মিছিল নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পসে সভা চলাকালে পুলিশ আক্রমণ করে। ছাত্র নেতা তোয়াহা পুলিশের রাইফেল কেড়ে নিতে গেলে তিনি মারাতœক আহত হন। ১২মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলতে থাকে ধর্মঘট। ভাষা আন্দোলনের জন্য গঠিত হয় জাতীয় রাষ্ট্রভাষা কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা কমিটি, ভাষা আন্দোলনের প্রথম দিকে কমিউনিস্ট পাটি ও তার ছাত্র ফ্রন্ট ছাত্র ফেডারেশন একটি বড় ও তাৎপর্যময় ভুমিকা পালন করেছিল। তাছাড়াও ভাষা আন্দোলনের আরও দু’টি সংগঠন নেতৃত্ব দিয়েছিল। সংগঠন দু’টি হ’ল যুবলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন। তবে ছাত্র ইউনিয়ন ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় ভুমিকা পালন করেছিল দেশ ব্যাপী। ফলে ভাষা আন্দোলন শুধু রাজধানী ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগানটির তাৎপর্য সেই সময়ের সাধারণ মানুষ অনেকেই না বুঝলেও সর্বস্তরের মানুষ নিজ নিজ অনুভুতি থেকে দাবী বা অধিকার আদায়ের জন্য ভাষা আন্দোলনে শরীক হয়েছিল। সংসদে পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন বাঙ্গালীদের ভাষার দাবির বিরোধিতা করেন। তখন সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশসহ বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যগণ অধিবেশন ত্যাগ করে চলে আসেন। তারা রাজ পথে এসে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দেন। শাসক শ্রেণী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ২১শে ফেব্রুয়ারী ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেন, যাতে শহরে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুহ ধর্মঘট ও মিটিং মিছিল সমাবেশ করতে না পারে। ২১শে ফেব্রুয়ারী সকালে ১৪৪ ধারা উপেক্ষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের কলা ভবনে ছাত্র জমায়েত হয় এবং মাইকে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’শ্লোগান ও বক্তব্য চলে। বিকাল ৩টার দিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে প্রাদেশিক সংসদ ভবন অভিমুখে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে মিছিলটি অগ্রসর হচ্ছিল। সে সময় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রদের ব্যারাকের সামনে পুলিশ ও মিলিটারী মিছিলটির উপর গুলি বর্ষণ করে। এতে ছাত্রসহ কয়েকজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ২১শে ফেব্রুয়ারী পুলিশের গুলিতে ছাত্র শহীদ হওয়ার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ব্যারাকে অবস্থান করা ছাত্ররা শহীদদের স্বরণে একটি শহীদ মিনার তৈরীর সিদ্ধান্ত নেন এবং ২৩শে ফেব্রুয়ারী রাতে ঢাকায় প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করেন। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে এই অস্থায়ী শহীদ মিনারটি সরিয়ে বড় করে শহীদ মিনার বানানো হয়। শহীদ মিনারের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দিন দিন শহীদ মিনারের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে সারা বিশ্বে শহীদ মিনার নির্মিত হচ্ছে। নিউইয়কে জাতিসংর্ঘের সদর দপ্তরের সামনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। ভাস্কর্যটি ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ২১শে ফেব্রুয়ারী প্রথম প্রহরে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ভাস্কর্যটির স্থাপতি শিল্পী মৃনাল কান্তি। ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারী মহান শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষনা করেন। ২০০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে বিশ্বব্যাপী। এছাড়াও ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটকে ইউনেস্কো সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষনা করেন। বাহান্নোর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙ্গালী জতির মাঝে মহান স্বাধীনতার বাসনা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের শক্তি সঞ্চয় করেছে। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের বাঙ্গালী জাতির মুক্তির মহানায়ক, জাতির পিতা, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে যা সাধারণ মানুষের মধ্যে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা ,উৎসাহও উদ্দেপনা দিয়েছে।

তরুণ লেখক পরিষদের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত

‘সম্প্রীতির জন্য সাহিত্য’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদ একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭ তে তরুণ লেখক পরিষদের সদস্যদের সক্রিয় অংশ গ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত করলো ‘তরুণ লেখকদের আত্মপ্রকাশ শীর্ষক’ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মিত মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে এ অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও, বাংলা একাডেমীর অবহেলা ও মঞ্চ পরিচালনার কোন নিয়োম নীতি না থাকায় বিশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠান করেনি লেখক পরিষদ। মোড়ক উন্মোচনে আগত সকল অতিথিদের বিভ্রান্তি পরিবেশে ঠেলে দেওয়ার পেছনে বাংলা একাডেমী দায়ী বলে প্রকাশ করেছেন সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তরুণ লেখক পরিষদের ব্যানারে গতকাল বিকেল ৫.৪০টায় মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয় ‘তরফদার প্রকাশনী’ সামনে।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য জিনাত নাজিয়া।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদের সভাপতি আশিকুল কায়েস। মহান একুশে গ্রন্থমেলায়-২০১৭ সালে ‘তরুণ লেখকদের আত্মপ্রকাশ শীর্ষক’ কর্মসূচির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে থাকছে তরুণ লেখকদের ৫টি বই। এসব বইয়ের মাধ্যমে তরুণ লেখক পরিষদ থেকে ২৭ জন লেখক অংশগ্রহণ করেছেন।অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আগামী মার্চ মাসের ২৪ তারিখ দিন ব্যাপী তরুণ লেখক পরিষদের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ বিভিন্ন কলেজের তরুণ লেখক পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসটি শুধু প্রিয়তম-প্রিয়তমার জন্য নয়!


এস,এম শাহাদৎ হোসাইন,গাইবান্ধা প্রতিনিধি: আজ ২ ফাল্গুন ১৪ ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালবাসা দিবস। দিবসটি পালনে তরুন তরুনীরা নানা সাজে সাজিয়ে মনের মানুষকে শুভেচ্ছা জানাতে কখনো ভূর করে না।এই দুনিয়ায় প্রেমিক-প্রেমিকার চিঠি চালাচালির বিষয়টি যুগে যুগে ভাস্বর। হৃ দয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে কেউ ভাল না বাসলেও, সভ্যতা খুঁড়ে প্রাচীন প্রেমপত্র খুঁজে বের করাই যায়। প্রত্নত্বত্তের পাথুরে প্রমাণ, পৃথিবীর প্রাচীনতম প্রেমপত্রটি নাকি অন্তত ৪ হাজার বছরের পুরনো। আর সেই চিঠি মানে, এক খ- পাথুরে মাটি। পাওয়া গিয়েছে ক্যালডিয়ায়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মেসোপটেমিয়ার এক কোণের একটা এলাকা ক্যালডিয়া, যেখানে একটা রমরমা সভ্যতা ছিল। সেখানকার লোকেরা কথা বলত- হিব্রু, আরবি, যিশুর ভাষা অ্যারামাইকসহ নানান ভাষায়। সেখানেই, সম্ভবত ২২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ব্যাবিলনের এক ছেলে চিঠি লিখেছিলো ইউফ্রেটিস তীরের শহর সিপারায় থাকা এক মেয়েকে। “ও আমার কাসবুয়া (ছোট্ট ভেড়ার ছানা), এই চিঠি লিখছি আমি, মারদুক (ব্যাবিলনের অধিষ্ঠাতা দেবতা)-এর ভক্ত। তোমার শরীর কেমন আছে, যদি জানতে পারতাম! থাকি ব্যাবিলনে, তোমাকে দেখিনি কোনও দিন, আর তাই খুব চিন্তায় আছি। তুমি কবে আমার কাছে আসছ? অনেক দিন বেঁচে থাকো, অন্তত আমার জন্য।” মাটির টুকরোয় লেখা এ রকম চিঠি সে কালের দিওয়ানাদের মধ্যেও চালাচালি হত। না-দেখা মেয়েটির জন্যে প্রেমিকের হৃদয় কেমন পুড়ছে! পাথুরে মাটিতে লেখা এই চিঠিতেই সেটা বোঝা যায়। বিরহী এ হৃদয়ের যন্ত্রণা বোঝাতে প্রেয়সীর কাছে সেই চিঠি পৌছে দিত মেঘদূত।এ ছাড়া ১৪৭৭ সালের ফেব্রুয়ারীতে লেখা একটা চিঠি। প্যাস্টনবাড়ির ছেলে জন প্যাস্টনকে লিখেছিলো তার প্রেমিকা মার্গারি ব্রিউস। চিঠির সম্বোধন ‘মাই রাইট ওয়েল-বিলাভেড ভ্যালেন্টাইন’। মার্গারির বক্তব্য তার শরীর-মন কোনটাই ভাল নেই। থাকবেও না, যতক্ষণ না জনের ফিরতি চিঠি আসছে। মেয়েটি লিখছে ‘আমার বিশ্বাস তুমি আমাকে ভালবাসো। জানি, তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে না’। জন প্যাস্টন আর মার্গারি ব্রিউসের বিয়েটা পরে হয়েছিল ঠিকই। সে বিয়ে কেউ মনে রাখেনি। কিন্তু ইতিহাসে থেকে গেছে মার্গারির সেই চিঠিটা। ইংরেজি ভাষায় লেখা সেটাই প্রথম ভ্যালেন্টাইন লেটার। ভ্যালেন্টাইন, প্রেম আর বসন্তের মায়াময় সময়ের কথা সবার আগে লিখে গিয়েছেন ইংরেজ কবি জিওফ্রি চসার। চতুর্দশ শতকের শেষের দিকে লেখা তাঁর দীর্ঘ কবিতা ‘পার্লামেন্ট অব ফাউলস’ এ আছে, সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে, নরম বসন্তের দিনে পাখিরা তুমুল পাখসাটে খুঁজে নিচ্ছে নীড়বন্ধুকে। শেক্সপিয়রের ‘হ্যামলেট’ এ আবার অন্য মাত্রা। প্রেমিকের হাতে বাবা পোলোনিয়াস খুন হওয়ার পর পাগলিনিপ্রায় ওফেলিয়া গুনগুনিয়ে ওঠে,‘টুমরো ইজ সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে, / অল ইন দ্য মর্নিং বিটাইম, / অ্যান্ড আই আ মেড অ্যাট ইয়োর উইন্ডো, / টু বি ইয়োর ভ্যালেন্টাইন’ বসন্ত বাতাসে হৃদয়ের মিথস্ক্রিয়ায় সারা বিশ্বের প্রেমপিয়াসী যুগলরা বছরের এ দিনটিকেই বেছে নেয় মনের গহিনের কথকতার কলি ফোটাতে। চ-িদাসের অনাদিকালের সেই সুর ‘দুহঁ করে দুহঁ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া/ আধতিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া/ সখী কেমনে বাধিঁব হিয়া’। এ আবেদনও বাজে কারও কারও হৃদয়ে। দিনটি যে শুধু তরুণ-তরুণীদের নয়, পিতামাতা সন্তানদের ভালবাসাও বড়মাত্রায় উদ্ভাসিত করে। যারা একটু বিজ্ঞ তারা বলেন, প্রেমের কোন দিন থাকে না, ভালবাসলেই ভ্যালেন্টাইন, সেলিব্রেট করলেই ভ্যালেন্টাইন ডে। ভালবাসার এই দিনটির ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে অনেক ধরণের কাহিনীর কথা জানা গেছে। প্রধান যে কাহিনী প্রচলিত আছে তা এক রোমান ক্যাথলিক পাদ্রি বা সন্তের কাহিনী। তার নাম সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। তিনি ছিলেন একজন চিকিৎসক ও পাদ্রি। তখন রোমানদের দেবদেবীর পূজোর বিষয়টি ছিল মূখ্য। তারা বিশ্বাসী ছিলেন না খ্রিস্টান ধর্মে। কিন্তু খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারের অপরাধে ২০৭ খ্রিষ্টাব্দে সাধু ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয় রোমের স¤্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের আদেশে। তবে তিনি যখন জেলে বন্দী, তখন ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ভালবাসার কথা জানিয়ে জেলের জানালা দিয়ে তাকে ছুড়ে দিত চিরকুট। বন্দী অবস্থাতেই তিনি চিকিৎসার মাধ্যমে জেলারের অন্ধ মেয়েকে ফিরিয়ে দেন দৃষ্টিশক্তি। অনুমান করা হয় মেয়েটির সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। মৃত্যুর আগে মেয়েকে একটি চিঠি লেখেন, সেখানে তিনি উল্লেখ করেন ‘ফ্রম ইউর ভ্যালেন্টাইন’ বলে। অনেকের মতে এই সাধু ভ্যলেন্টাইনের নামানুসারে পোপ প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারীকে ভ্যালেন্টাইন ডে হিসাবে ঘোষণা করেন। আরও একটি ভ্যলেন্টাইনের নাম পাওয়া যায় ইতিহাসে। যুদ্ধের জন্য সৈন্য সংগ্রহে ছেলেদের বিয়ে করতে নিষিদ্ধ করেন রোমান স¤্রাট ক্লডিয়াস। কিন্তু যুবক ভ্যালেন্টাইন সেই নিষেধ অমান্য করে বিয়ে করেন। ফলে তাকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। তার নামানুসারেও এই দিনটি চালু হতে পারে এমনও ধারণা রয়েছে। ‘তোমরা যে বল তোমরা যে বল দিবস রজনী, ভালোবাসা ভালোবাসা/সখী ভালোবাসা কারে কয়’। এভাবেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলে গেছেন ভালোবাসার কথা। ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন’স ডে একটি বার্ষিক উৎসবের দিন যা ১৪ই ফেব্রুয়ারী ভালোবাসা এবং অনুরাগের মধ্যে উদযাপিত হয়। বিশ্বজুড়ে হাসি, আনন্দ আর ভালোবাসায় উদযাপিত হয় দিনটি। দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হয়ে থাকে, যদিও অধিকাংশ দেশেই দিনটি ছুটির দিন নয়। বর্তমান সময়ে নানা রঙ্গে, নানা আয়োজনে উদযাপন করা হলেও দিনটি শুরু হওয়ার ইতিহাস কিন্তু খুবই করুণ! এক মর্মান্তিক ভালোবাসার পরিণতি থেকেই এই দিনটির যাত্রা। ভালোবাসা দিবসটি শুধু প্রিয়তম-প্রিয়তমার জন্য নয়। এই দিবসের তাৎপর্য বিশাল ও সর্বজনীন। সন্তানের প্রতি পিতামাতার অপত্য স্নেহ এবং পিতামতার প্রতি সন্তানের আন্তরিক সংবেদন সব মিলিয়েই ভালোবাসার এই দিন। আদরের ছেলেমেয়ের জন্য বাবা-মার থাকবে অসীম মঙ্গল প্রার্থনা। ছেলেমেয়েও শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত করবে বাবা-মাকে।

কবি রফিক আজাদের ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার প্রসঙ্গ।


বাংলাদেশে আধুনিক কাব্যচর্চার অন্যতম পথিকৃৎ, কবি রফিক আজাদ-এর কাব্যচর্চার ধারা এবং তাঁর অবদানকে তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সম্প্রতি দেশের বিশিষ্ট কবি, বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিত্ববর্গ ও পরিবারের সদস্য সমন্বয়ে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট ‘কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পর্ষদ’গঠন করা হয়েছে। কবি রফিক আজাদ-এর ৭৫তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা ভালোবাসায় কবির অবদান ও কৃতিকে স্মরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে আগামী পহেলা ফাল্গুন, ১৪২৩, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, সোমবার বিকেল ৪টায় বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান হলে কবিকে নিবেদিত রবীন্দ্র সংগীত, স্বরচিত কবিতা পাঠ, কবির কবিতা থেকে আবৃত্তি, আলোচনা ও কবির ৭৫টি কবিতা নিয়ে প্রকাশিত ‘রফিক আজাদের কবিতা ৭৫’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
‘কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পর্ষদ’ গঠনের সংবাদ এবং পর্ষদ আয়োজিত কবির ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সংবাদ আপনার বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রে ও টিভি চ্যানেলে ধারণ / প্রচার করার জন্য উল্লিখিত দিনে একজন প্রতিনিধি প্রেরণের জন্য অনুরোধ জানানো হলো।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মফস্বলের ছেলে সানজিদের কৃতিত্ব॥একুশে বই মেলায় নতুন প্রজন্মের লেখক সানজিদ খান এর লেখা মানবের তরে গীতিকাব্য- জীবনের গীতালির ব্যাপক চাহিদা


মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল,টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা
তিনি একজন লেখক, কবি, সুরকার ও গীতিকার।বর্তমান নতুন প্রজন্মদের নিয়ে তিনি কিছু একটা করার চেষ্টা করছেন।পেশায় তিনি একজন ছাত্র।নাম সানজিদ খান।পড়াশোনা করছেন জার্মান-বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার কম্পিউটার সাইন্সে।টিউশনীর টাকা আর প্রতিমাসে বাবা মায়ের পাঠানো দেওয়া মাসিক খরচ বাঁচিয়ে অতিরিক্ত যে টাকা থাকে এই টাকা নিজে খরচ না করে জমানো টাকা দিয়ে শুরু করেছেন সুর, গান, ও লেখালেখী।এবারের একুশের বই মেলায় নবীন এই লেখক নুতন প্রজন্মদের জন্য লিখেছেন একটি গীতিকাব্যের বই।নাম দিয়েছেন মানবের তরে গীতিকাব্য-জীবনের গীতালি।১০০টি কবিতা ও গান নিয়ে এই গীতিকাব্য।একুশে বই মেলায় কাশবন প্রকাশনার স্টলে বইটি পাওয়া যাচ্ছে।আগামী ১৪ ফেব্র“য়ারি লেখক সানজিদ খান ও কাশবন প্রকাশনার উদ্যোগ্যে বইটির মোড়ক উন্মোচন হবে বলে আজ শনিবার বইটির লেখক সানজিদ খান জানিয়েছেন।মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও খ্যাতিমান গুনী শিল্পীরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
জানা গেছে, সানজিদ খানের পিতার নাম পারভেজ আলী খান এবং মাতার নাম আফরোজা খাতুন।গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের পৌরসভার বাইমহাটি প্রফেসরপাড়া গ্রামে।আজ শনিবার সানজিদ খান মির্জাপুরে এসে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন,শিশুকাল থেকেই তার গান, নাটক, কবিতা ও লেখালেখির প্রতি প্রচুর আগ্রহ ছিল।প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক কৃতিত্বের সঙ্গে পাশ করার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি হন জার্মান-বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির বিএসসি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার সাইন্সে।১০০টি গান ও সুর নিয়ে এবারের বই মেলায় তার নিজের লেখা মানবের তরে গীতিকাব্য-জীবনের গীতালি বের হয়েছে।বইটি পাঠকদের হৃদয়ে স্থান দখল করে নেওয়ায় ব্যাপক বিক্রি হচ্ছে।এর আগে কবিতার জলসাসহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে।তার এই অসামন্য সুন্দর ও সাবলিল ভাষায় বই লেখালেখির কারনে বাংলাদেশ কবি সংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তাকে পুরস্কৃতও করেছেন।এছাড়া অন্যান্য অনুষ্ঠানেও পেয়েছেন পুরষ্কার।সবার সহযোগিতা পেলে নবীন এই লেখক আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »