Category: ক্রাইম রিপোর্ট

নওগাঁর রাণীনগরেনওগাঁর রাণীনগরে হেরোইনসহ একজন গ্রেফতার একজন গ্রেফতার

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে হেরোইন সহ জহুরুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে রাণীনগর থানাপুলিশ। মঙ্গলবার রাতে আবাদপুকুর চারমাথা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত জহুরুল উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান চলাকালিন সময়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাণীনগর থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান প্রয়োজনীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলার আবাদপুকুর চারমাথা মোড় এলাকা থেকে ৫ গ্রাম হেরোইন সহ জহুরুলকে গ্রেফতার করে। এব্যাপারে রাণীনগর থানায় একটি মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা হলে বুধবার দুপুরে জহুরুলকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

ধামইরহাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১ ব্যক্তির মৃত্যু

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর ধামইরহাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোকছেদ আলী (৬২) নামে ১ ব্যক্তি মারা গেছে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে হাফিজা খাতুন (৩৫) নামে এক মহিলাকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত বীরগ্রাম বড় মোল্লাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা সংঘটিত হয়। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের মৃত বদিউল আলমের ছেলে নুর মোহাম্মদ (৪৩) বাড়ীঘরের পানি রাস্তার মধ্য দিয়ে যাওয়ার জন্য একটি নল স্থানীয় ইউপি পরিষদ থেকে চেয়ে নেয়। কিন্তু ওই নয়টি বেশ কিছু দিন পেরিয়ে গেলেও নুর মোহাম্মদ সেটি রাস্তার ড্রেনে না বসিয়ে নিজ বাড়ীতে রাখে। ঘটনার দিন নুর মোহাম্মদ ভ্যান নিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে মৃত মফের উদ্দিনের ছেলে মোকছেদ আলীর বাড়ীর সামনে দিয়ে যাওয়ার পথে কেন ড্রেনে নল বসানো হয়নি তা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। নুর মোহাম্মদ ও তার স্ত্রী হাফিজা খাতুন দুজন মিয়ে মোকছেদ আলীকে বেধড়ক মারপিট করে।
তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে নুর মোহাম্মদের ভ্যানের হ্যান্ডেল মোকদের আলীর বুকে লাগে। তাৎক্ষনিক সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে মারা যায়। খবর পেয়ে থানা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। এব্যাপারে ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ রকিবুল ইসলাম বলেন,ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ নুর মোহাম্মদের স্ত্রী হাফিজা খাতুন আটক করেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল। উল্লেখ্য মোকছেদ আলী জাতীয় সংসদের হুইপ মো.শহীদুজ্জামান সরকার এমপি গ্রামের বাড়ী দেখাশুনা করতো।

বেপরোয়া মাদক সিন্ডিকেট নোয়াখালীতে বিপথগামী যুবসমাজ


জুয়েল রানা লিটন, নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালী জেলা শহরে মাদকের বিষাক্ত ছোবলে বিপদগামী হচ্ছে যুবসমাজের বড় একটি অংশ। মাদকের সহজলভ্যতায় তারা দিনদিন যেভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে তাতে মাদকের টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা সামাজিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবমান হচ্ছে। এতে জেলা শহরে ছিনতাই-নিরব চাঁদাবাজি-চুরির সংখ্যাও দিনদিন বাড়ছে। জেলার একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীও মাদকাসক্ততায় জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনুসন্ধানে উপরোক্ত অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে একটি সেবা সংস্থাও।
নোয়াখালীতে মাদকবিরোধী সভা-সেমিনার ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য আটক ও এলাকার মসজিদ-মন্দির-গির্জায় মাদক সেবনের কুফল,অপব্যবহার ও মাদক পাচাররোধে জনসাধারণকে সচেতন করার পরও কোনোক্রমেই রোধ করা যাচ্ছে না মাদক সেবন ও পাচার। বরং, নিত্যনতুনভাবে মাদকের থাবায় বিলীন হচ্ছে স্কুলপড়ুয়া ছাত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। এতে মেয়েরাও পিছিয়ে নেই।সচেতন নাগরিকেরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এখনই শক্ত হাতে এর লাগাম টেনে না ধরলে ধ্বংস হয়ে যাবে যুবসমাজ। তাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে সভা-সেমিনারে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
মাদকের বিষাক্ত ছোবলে নাকাল জেলার যুবসমাজের বিরাট একটি অংশ। মাদকসামগ্রীর এমন কোনো উপাদান নেই যা এ জেলায় পাওয়া যায় না। হেরোইন,ফেনসিডিল,মদ,গাঁজা,ইয়াবাÑকি নেই? হাত বাড়ালেই সব পাওয়া যায়। সহজলভ্য এসব উপাদান সরবরাহে নিরলসভাবে কাজ করে যা”েছ প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট। প্রকাশ্য এবং গোপনীয় এমন কিছু ¯’ান আছে যেখানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকের বিরাট একটা চালান এসে মজুদ হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের সীমান্ত পয়েন্ট ফেনী ও কুমিল্লা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন,বাস.প্রাইভেট কার, মাইক্রোগুলোতে আসা মাদক পুলিশের তল্লাশিতে মাঝেমধ্যে অল্প কিছু মাদকদ”ব্য উদ্ধার হলেও পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাদক চোরাকারবারীরা ব্যবহার করছে ভিন্ন রুট। ছড়িয়ে পড়ছে তা রাজধানীসহ সবক’টি জেলায়। সীমান্ত জেলা দিয়ে সরাসরি সয়লাব হচ্ছে পাড়া-মহল্লা আর গ্রাম-গঞ্জে। দেশজুড়ে মাদক সিন্ডিকেটের ছড়িয়ে থাকা শক্তিশালী জালের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে মাদক। তারই ধারাবাহিকতায় নোয়াখালী জেলা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবাধে অনুপ্রবেশ ঘটছে মাদক উপাদানের। আর এসব মাদক উপাদান নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা বেশ প্রভাবশালী। কথিত এই প্রভাবশালী রথি-মহারথিরা সবসময় থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশি অভিযানে যারা ধরা পড়ে তারা নেহায়েৎ বহনকারী মাত্র। আর ধৃত ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে কথিত বড় ভাইয়েরা পর্দার আড়ালে থেকে দেন-দরবার শুরু করেন।
আজ থেকে দেড় দশক আগে নোয়াখালীতে শুধু চোলাই মদ আর গাঁজা পাওয়া যেতো। কিন্তু কালের বিবর্তনের ছোঁয়ায় এখানকার মদ্যপায়ীরা এখনো সনাতনী স্বাদ নেবে কেন? কারণ এখন নিত্যনতুন সব মাদকই তো হাতের নাগালে। বর্তমানে যুবসমাজের ওপর ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলছে ইয়াবার নীল থাবা। দিন দিন কাবু হয়ে যা”েছ এই জেলার ছাত্র ও যুবসমাজ। জেলার একাধিক এমপি মাদকের বিরুদ্ধে কাঠোর অব¯’ানের কথা জানালেও দলীয় নেতাকর্মীরা জড়িত থাকায় ¯’ানীয় প্রশাসন শ্যাম রাখি না কুল রাখি অব¯’ায় রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বলেন, আমাদের সক্রিয় চেষ্টায় জেলায় মাদকসক্ততার অবসান অনেকটা ফলপ্রসূভাবে এগিয়ে যা”েছ। জেলার সচেতন মহল দেশের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে যুবসমাজকে নিয়ে দল-মত নির্বিশেষে দ্রুত মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান আরো জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

খাগড়াছড়ির জেলার দূর্গম উপজেলা লক্ষীছড়িতে লাগামহীন চাঁদাবাজী, কৃষক থেকে ব্যবসায়ীরাও বাদ যাচ্ছেন না কেউ!


নিজস্ব প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ির জেলার দূর্গম উপজেলা লক্ষীছড়িতে লাগামহীন ভাবে চাঁদাবাজী করছে আঞ্চলিক সংগঠনগুলো। যা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না কৃষক থেকে ব্যবসায়ীরাও। পাহাড়ের অনিবন্ধিত আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) সহ একাধিক আঞ্চলিক সংগঠনের বিরুদ্ধে এমন বিস্তর অভিযোগ উঠলেও ভয়ে আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন না কেউ।স্থানীয় সূত্রমতে, খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলায় ইউপিডিএফ’র প্রভাব ব্যাপক। অনুন্নত সড়ক ব্যবস্থা ও অধিকাংশ স্থানে সড়ক যোগাযোগ না থাকায় অপরাধের নিরাপদ জোন হিসেবে লক্ষীছড়িকে বাছাই করেছে আঞ্চলিক এ সংগঠন। নিরাপত্তা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান ও নিয়মিত টহলে মাঝে মাঝে অস্ত্রাধারী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা আটক হলেও দেশে প্রচলিত আইনের বিভিন্ন ফাঁক ফোকর দিয়ে জামিনে বেরিয়ে আসছে অপরাধীরা। ফের ফিরছে অপকর্মে। আধিপত্য বিস্তারের লড়াই করছে প্রতিনিয়ত।
সূত্রমতে লক্ষীছড়ি উপজেলার সব ক’টি হাট-বাজার থেকে চাঁদা আদায় করে ইউপিডিএফ’র চাঁদা আদায়কারীরা। ক্রেতা বিক্রেতা ছাড়াও পরিবহন থেকে পৃথক পৃথক ভাবে চাঁদা আদায় করা হয়। এছাড়াও উন্নয়ন প্রকল্প, বাঁশ কাঠ পরিবহন, যাত্রী পরিবহন, ভাড়ায় মোটরসাইকেল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি বেসরকারি চাকুরীজীবীসহ নানা শ্রেণী পেশার লোক থেকে বাৎসরিক এবং ক্ষেত্র বিশেষে এককালীন চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
লক্ষীছড়ির যতীন্দ্র কার্বারী পাড়া, মরা চেঙ্গী, শিলাছড়ি। সিন্দুকছড়ির বটতলী, চাহ্লাতলী। মানিকছড়ি-লক্ষীছড়ি সড়কের মংহ্লাপাড়া ও লক্ষীছড়ি-ফটিকছড়ি সড়কের বাইর্না ছড়া নামক ৭টি স্থান থেকে ইউপিডিএফ’ নিয়মিত চাঁদাবাজি করছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। এবং লক্ষী চাকমা, রক্তিম চাকমা ও সুইসোনা চাকমা, রতন বসু চাকমা, তোরেন চাকমা ও অজয় চাকমা, আপ্রুশী মার্মা ও রেশমী চাকমা ইউপিডিএফ’র সাংগঠনিক ও চাঁদা আদায়কারীদের নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
সূত্রগুলো আরও জানায়, ইউপিডিএফসহ আঞ্চলিক সংগঠনগুলো সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য নেতাকর্মীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বদলি করে থাকে। যার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে এসব সন্ত্রাসীদের সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়ে উঠে না।নাম প্রকাশে অনচ্ছুক এক পাহাড়ী জানান, স্ব জাতির লোক হওয়া শর্তেও আমরাও রেহাই পাই না। জুম ফসল বাজারে বিক্রীর আগে তাদের টাকা দিতে হয়। বাজারে মালামাল বিক্রী করতে যাওয়ার পথে তাদের হিসেব দিয়ে যেতে হয়। এসে আবার সে হিসেবে মতো চাঁদা দিতে হয়।একই শর্তে আরেকজন জানান, লক্ষীছড়ির ধুরুং খাল দিয়ে বাঁশ কাঠ আনা নেয়ার সময় প্রতিটি হারে আমাদের চাঁদা পরিশোধ করতে হয়।
ভাড়ায় চালিত এক মোটরসাইকেল চালক জানান, বাৎসরিক চাঁদা দিয়ে আমরা মোটরসাইকেল চালায়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর ও গুমের হুমকি দেয়। প্রশাসন সব জেনেও নীরব থাকে।
লক্ষীছড়ি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির শীর্ষ এক নেতা জানান, কয়েকটি সংগঠনকে চাঁদা দিতে হচ্ছে লক্ষীছড়ির ব্যবসায়ীদের। চাঁদা না দেয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে দেউলিয়া হয়েছেন এখানকার অনেক ব্যবসায়ী। আমরা লক্ষীছড়ির ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য মন্ত্রী ও ব্যবসায়িক নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করি। দিবালোকে চিহ্নিত চাঁদাবাজরা লক্ষীছড়িসহ খাগড়াছড়ি শহরে ঘুরে বেড়ালেও অজ্ঞাত কারণে তারা এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে।লক্ষীছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ আরিফ ইকবাল জানান, চাঁদাবাজীর বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ তিনি পাননি। কেউ যদি অভিযোগ করে তাহলে পুলিশ ব্যবস্থা নিবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউপিডিএফ’র লক্ষীছড়ি উপজেলা সংগঠক রক্তিম চাকমার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া জেলা শহরের স্বর্ণিভরস্থল ইউপিডিএফ’র কার্যালয়ে গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি।

লালমনিরহাটে ৭০ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক ১


এস.এম সহিদুল ইসলাম লালমনিরহাট প্রতিনিধি ঃ জেলাকে মাদক মুক্ত করার লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ একটি অভিযানে কালীগঞ্জ উপজেলার পারঘাট ব্রীজ এলাকা থেকে ফেন্সিডিল সহ মাদক ব্যবসায়ী আটক করেছে পুলিশ।
কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম সরকার জানান, গত সোমবার (১৬ জানুয়ারী ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপন একটি সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের পারঘাট ব্রীজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাহাদুল হক (২০) কে ৭০ বোতল ফেন্সিডিলসহ একটি জেলিং মোটর সাইকেল আটক করা হয়েছে। এ সময় শ্রী লিটন চন্দ্র রায় পালিয়ে যায়। আটককৃত মাদক ব্যবসায়ী সাহাদুল ভেলাগুড়ী ইউনিয়নের ভোলার ডাঙ্গা জালাল উদ্দিনের পুত্র এবং পলাতক শ্রী লিটন চন্দ্র রায় দলগ্রাম ইউনিয়নের চামনার পাড় এলাকার বিজয় সাধুর ছেলে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দু’জনের নামে মামলা হয়েছে। আটক সাহাদুল কে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টায় লালমনিরহাট জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল ইসলাম জানান, জেলাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ প্রশাসনের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালিহাতীতে ইয়াবা ও হেরোইনসহ আটক ১

অন্তু দাস হৃদয়, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে উপজেলায় ২৫ পিস ইয়াবা ও নয় গ্রাম হেরোইনসহ বারেক ওরফে রফিক (৩০) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার উত্তর বেতডোবা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বারেক উপজেলার ঘূনি সালেংকা গ্রামের মৃত মালেক মিয়ার ছেলে।এ বিষয়ে কালিহাতী থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) নব কুমার ঘোষ জানান, বারেক উত্তর বেতডোবা গোরস্থান এলাকায় ইয়াবা ও হেরোইন বিক্রি করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। পরে, বারেকের কাছে থাকা ২৫ পিচ ইয়াবা ও নয় গ্রাম হেরোইনসহ তাকে আটক কারা হয়।

ইয়াবার ভয়ঙ্কর আগ্রাসন

ইয়াবার ভয়ঙ্কর আগ্রাসন

রায়হান আহমেদ তপাদার  

মহামারী রূপ নিয়েছে’ক্রেজি ড্রাগ’ইয়াবা।শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে গ্রামের আনাচে কানাচে পর্যন্ত বিস্তার ঘটেছে নীরব এই ঘাতক ইয়াবা ট্যাবলেটের। ইয়াবায় সম্পৃক্ততা মিলছে জঙ্গিদেরও।স্কুল,কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী,তরুণ-তরুণী,ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীদের অনেকেই এখন ইয়াবায় আসক্ত।তবে এদের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রী তরুণ-তরুণীর সংখ্যাই বেশি। ইয়াবার ভয়াবহ ধোঁয়া আগামী প্রজন্মকে আজ ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।এ অবস্থায় আগামীতে দেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।ইয়াবার ভয়াবহ আগ্রাসন নিয়ে সরকার যেমন উদ্বিগ্ন, চিন্তিত অভিভাবকমহলও।দেশের সর্বত্র মহামারীরূপে ছড়িয়ে পড়ছে সর্বনাশা মাদক ইয়াবা।ইয়াবাসেবীর সংখ্যা ক্রমে ক্রমে বেড়ে চলেছে।প্রতিদিন দেশের এক প্রান্ত টেননাফ থেকে বিভিন্ন উপায় ও কৌশলে ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের আরেক প্রান্ত তেতুলিয়া পর্যন্ত।রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে,গ্রামগঞ্জে এখন ইয়াবার জমজমাট ব্যবসা প্রসারিত।মিয়ানমারের ৬০ টাকার এই ট্যাবলেট পাচার হয়ে দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলে বিক্রি হচ্ছে ৪শ থেকে ৫শ টাকায়।এটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।আর এ কারণে পেশা পরিবর্তন করে মাদক ব্যবসায় ঝুঁকছে অনেক মানুষ।সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ,এমপি, রাজনৈতিক নেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কাহিনীর কতিপয় সদস্যর সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী সিন্ডিকেট ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।এ কারণেই কোনভাবেই এর আগ্রাসন রোধ করা যাচ্ছে না,ঠেকানো যাচ্ছে না ইয়াবার ব্যবসা।মাদক চিকিৎসার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা বলেছেন, এখন চিকিৎসা নিতে আসা মাদকসেবীদের অধিকাংশই ইয়াবা আসক্ত।মাদকসেবীরা ধোঁয়ায় উড়িয়ে দিচ্ছে বিপুল অংকের টাকা।ইয়াবার সর্বনাশা থাবায় লাখো পবিরারের সন্তানদের জীবন এখন বিপন্ন।প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধ্বংস করে মাদক ব্যবসার এই সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার কোটি টাকা।   ইয়াবা প্রবেশ রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতীতের চেয়ে এখন বেশি তৎপর।২০১৪ সাল পর্যন্ত বিগত সাত বছরে ৯৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করলেও গত বছরে উদ্ধার হয়েছে ২ কোটি পিসেরও বেশি।ইয়াবার ভয়ঙ্কর থাবায় চূড়ান্ত সর্বনাশের অতল খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে এদেশে একশ্রেণীর মাদকাসক্ত তরুণ সম্প্রদায়।গাঁজা,ফেনসিডিল,হেরোইনকে ছাপিয়ে ইয়াবা হয়ে উঠেছে শীর্ষ নেশার বস্তু।বিশেষ বিশেষ সামাজিক স্তরের তরুণ-তরুণীদেরও একমাত্র নেশা হয়ে উঠেছে ইয়াবা ট্যাবলেট।মায়ানমার থেকে সীমান্ত পথে আসা ইয়াবা এদেশীয় একদল মাদক ব্যবসায়ী-গডফাদারদের ছত্রচ্ছায়ায় বিতরিত হয়ে বলে এই মারাত্মক মাদক দ্রব্যটি এদেশে ছড়িয়ে পড়েছে অতি দ্রুততার সাথে।২৫ থেকে ৩৫ মিলিগ্রাম মেথ্যাম ফিটামিনের সাথে ৪৫ থেকে ৬৫ মিলিগ্রাম ক্যাফিন মিশিয়ে তৈরি ইয়াবা একটি ভয়ঙ্কর মাদকদ্রব্য,যা যুবসমাজকে গ্রাস করে নিয়েছে একালে।এর প্রতিটি ট্যাবলেটের দাম মান ভেদে ১৫০টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।এনিয়ে নানা সামাজিক সমস্যায় জড়িয়ে পড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মাদকাসক্তদের পরিবারগুলো।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে,ইয়াবা বিরোধী বিভিন্ন অভিযানে ২০১৪ সালে যেখানে আটক হয়েছে ৬৫ লাখেরও কিছু বেশি ইয়াবা,একই সময় বেচাকেনা হয়েছে ২৬ কোটিরও বেশি এদেশে।এই চিত্রটি সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধের কথাও আমাদের ভাবতে হবে।একসময় চীন ও থাইল্যান্ড ছিল ইয়াবার বড়ো বাজার।২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ইয়াবা প্রচার-প্রসারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।এমনকি বহু ইয়াবা ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের হত্যা করা হয়।ফলে সে সব দেশ এখন ইয়াবার থাবা থেকে মুক্ত।  হালে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত দেশের সর্বত্র মহামারী রূপে ছড়িয়ে পড়েছে নীরব এই ঘাতক। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশে এই মাদকের চাহিদা বেড়েই চলেছে।বর্তমানে দিনে চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখ পিসে।এই বিপুল সংখ্যক ইয়াবা প্রতিদিনই বিভিন্ন কৌশলে দেশে ঢুকছে। সেবনকারীরা প্রতি পিস ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা করে ইয়াবা কিনছেন। সেই হিসাবে প্রতিদিন এই মাদকের পেছনে খরচ করছে তারা পৌনে দুইশ কোটি টাকা।জানা যায়,মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচার ঠেকাতে ২০১৪ সালে ১২ শতাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ীর একটি তালিকা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শীর্ষ ৪০ জনের একটি তালিকা ধরে অভিযান চালায়।কিন্তু বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ভেস্তে যায়। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে দেখা যাচ্ছে সীমান্ত এলাকার জনপদে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের আশ্রয়-প্রশয় রয়েছে ইয়াবার ব্যবসার বিস্তার ঘটনারো পেছনে।এই অভিযোগের সত্যাসত্য বিচার বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে যে কোনো বিষফোঁড়া নির্মূলে দেশবাসীর সমর্থন থাকবে।এক সময় গলি-ঘুপচি কিংবা বস্তি এলাকায় গাঁজা,ফেনসিডিল ও হেরোইনের আড্ডা ও কেনাবেচার রমরমা হাট চলতো।এখন ইয়াবার রাজত্ব বস্তি ছেড়ে অভিজাত পাড়ার স্কুল কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস,সাইবার ক্যাফে,ফার্স্টফুড শপ,সেলুন,কফি হাউজ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।হাত বাড়িয়ে চাইলেই মিলে যাচ্ছে ইয়াবা ট্যাবলেট।পাশের বন্ধুই হয়ে পড়েছে ইয়াবা বিক্রেতা।জানা যাচ্ছে, চট্টগ্রামসহ দেশের অভিজাত এলাকাগুলোতে স্টাডি সার্কেলের মতো গড়ে উঠছে ইয়াবা সার্কেলও।   দুর্ভাগ্যজনক সংবাদগুলো তথ্য মতে এদের অনেকেরই বয়স ১৩ থেকে ১৯ এর মধ্যে।কেউ পড়ে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের উচ্চ শ্রেণীতে আবার কেউবা এইচএসসির ছাত্র।তাদের কাছে এটা জাস্ট এনজয় মাত্র।সেই সাথে আরও একটি ভয়াবহ সংবাদ হলো মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের এক জরিপের তথ্যে বলা হচ্ছে,দেশে স্কুলগামী শিক্ষার্থী দের ৭৭ শতাংশই পর্ণোগ্রাফি দেখা অভ্যস্ত।এই বিকৃত রুচির সাথে ইয়াবার সম্মিলন যে ঘটছে না তা কে বলবে? এই উত্তর খুঁজতে হবে সমাজকে।সমাজের অভিভাব কত্বের জাগরণ ঘটাতে হবে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা ৭৬৪ ইয়াবা ব্যবসায়ীর পৃথক আরেকটি গোপন তালিকার শুরুতেও ওইসব প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম উঠে আসে।কিন্তু তারা সবসময় থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।২০১৪ সালের মার্চে টেকনাফে ইয়াবা গডফাদার নিধনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ার পর ইয়াবা চোরাচালান অনেকটা কমে যায়।ইয়াবা গডফাদার রা দেশে-বিদেশে পালিয়ে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কয়েকজন মারাও যান।কিন্তু গতবছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ঢিলেঢালা হওয়ায় গডফাদাররা আবার এলাকায় ফিরে আসে।ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড় দিয়ে প্রায়ই কাভার্ড ভ্যানে,প্রাইভেট কারে, কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়িতে,জুতার মধ্যে,শরীরের বিভিন্ন অংশে বেঁধে ইয়াবা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে।নতুন পদ্ধতি হিসেবে কলার মধ্যে পলিথিন দিয়ে ঢুকিয়ে সেই কলা গিলে খেয়ে পেটের মধ্যে করেও পাচার হচ্ছে ইয়াবা।এই পদ্ধতি সাধারণত মহিলা ব্যবসায়ীরাই করে থাকেন।গত ১৬ জানুয়ারি ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৮ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে র‌্যাব।এ যাবৎকালের ইয়াবার সবচেয়ে বড় চালান ছিল সেটি, যার বাজার মূল্য ১১৩ কোটি টাকা।দেশে মাদকসেবীর সংখ্যা ৫০ লাখ।এরমধ্যে প্রায় ৫০ ভাগ অর্থাৎ ২৫ লাখ মানুষ ইয়াবা আসক্ত।একজন মাদকসেবী দিনে যদি সর্বনিম্নে দু’টি করে সেবন করে তাহলে ২৫ লাখ মাদকাসক্ত প্রতিদিন সাবাড় করছে ৫০ লাখ পিস ইয়াবা।আর এই ৫০ লাখ পিস ইয়াবার পেছনে খরচ করছে দুই’শ কোটি টাকা।   মরণ নেশা ইয়াবার একদিনের চাহিদার এমন আশঙ্কা জনক তথ্য খোদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে,সর্বনিম্ন ব্যবহারে হিসাবে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা চাহিদা তথ্য পাওয়া গেলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।হু হু করে ইয়াবাসেবীদের সংখ্যা বেড়েই চলছে।আর এই ইয়াবা প্রতিদিন আসছে অবৈধ পথে পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার থেকে।দেশের এক প্রান্ত টেকনাফের স্থল ও সাগর পথের ১১টি পয়েন্ট দিয়ে দিনেরাতে ঢুকছে ইয়াবা চালান।আর এই ইয়াবা বিভিন্ন উপায়ে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের আরেক মাথা তেতুলিয়া পর্যন্ত।দীর্ঘদিন টেকনাফে চাকরি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন একজন কর্মকর্তা জানান,টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকার মাদক প্রচারের পয়েন্টগুলোতে সর্বোচ্চ নজরদারি রাখা হলেও নানা কৌশলে অবিশ্বাস্যভাবে ইয়াবা চালান আসছে যেমন মাছ ধরা ট্রলারে জালে বেঁধে সাগরে ভাসতে ভাসতে,মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানে,প্রাইভেট কারে,কুরিয়ার সার্ভিসের পরিবহনের গাড়িতে,মানুষের পায়ের জুতার মোজার ভেতরে ও বিভিন্ন শরীরে অংশের মধ্যে।অরক্ষিত ১১ পয়েন্ট:মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এক কর্মকর্তা বলেন,সড়কপথে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাচারকারীরা নৌপথকে নিরাপদ রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে।নৌপথে বিভিন্ন মাছ ধরার ট্রলারে করে মাঝি-মাল্লাদের সহায়তায় এসব ইয়াবা পাচার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।বেশি টাকার লোভে অনেক মাঝি-মাল্লা মাছ ধরা ছেড়ে ইয়াবার হাতবদলে সহায়তা করছে বলেও তিনি জানান।এই মাঝিরা এখন তাদের আসল পেশা ছেড়ে মাদক ব্যবসায় নেমেছে।নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে,বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের ১৫টি স্থানে ৩৭টি ইয়াবা কারখানা রয়েছে।যেখান থেকে সাগর ও সড়কপথে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ,নয়াপাড়া,সাবরাংমৌলভীপাড়া,নাজিরপাড়া,জালিয়াপাড়া,নাইট্যংপাড়া,জলিলেরদিয়া,লেদা,আলীখালী,হৃলাসহ অন্তত ১১টি পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবার চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।এসব ইয়াবা তৈরি ও পাচারে আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী যেমন জড়িত রয়েছে তেমনি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের গডফাদারও রয়েছে।

 

হরিণাকুন্ডুর শিশু জুবায়ের হত্যা। কার কথা ঠিক?

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার সাবেক নিত্যানন্দপুর গ্রামের ৪ বছরের শিশু জুবায়ের হত্যা মামলার বাদী নিহত শিশুটির বাবা মধু সর্দার মামলা গ্রহন না করা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সাক্ষিদের হয়রানীর অভিযোগ করেছেন। সোমবার দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মধু সরদার এ দাবী করেন। লিখিত বক্তব্যে মধূ সরদার অভিযোগ করেন, পুর্ব শত্রুতার জের ধরে হরিণাকুন্ডু উপজেলার সাবেক নিত্যানন্দপুর গ্রামের আতিয়ার সর্দার ও তার সহযোগীরা গত বছরের ৩ নভেম্বর মধু সর্দারের ৪ বছরের ছেলে জুবায়েরকে অপহরণ করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। অপহরণের ২ দিন পর ৬ নভেম্বর ওই গ্রামের একটি পুকুর থেকে শিশু জুবায়েরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মধু সর্দার হরিণাকুন্ডু থানায় মামলা দিতে গেলে মামলা নিতে অস্বীকার করে। পরে আদালতে ১১ জনকে আসামী করে মধু সর্দার মামলা দায়ের করে। মামলাটি এজাহার হিসেবে গন্য করে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য হরিণাকুন্ডু থানার ওসির বিরুদ্ধে নির্দেশ দেয় আদালত। এ নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে বাদীর পরিবারকে বিভিন্ন সময় মামলা তুলে নিতে হুমকি ধামকি দেয়। মধু সর্দার অভিযোগ করেন, পুলিশের ছত্রছায়ায় আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বাদীসহ সাক্ষিগন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়, আসামীদের হুমকির বিষয়ে থানায় জিডি করতে গেলেও জিডি গ্রহণ করেনি। এ ব্যাপারে আসামীদের গ্রেফতার ও দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্তপুর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন মধু সর্দার। মামলাটি হরিণাকুন্ডু থানার পরিবর্তে অন্য কোন সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবী জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে মধু সর্দারের বাবা শরিফুল ইসলাম ও বেড়বিন্নি গ্রামের খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে হরিণাকুন্ডু থানার ওসি মাহাতাব উদ্দীন বলেন, সংবাদ সম্মেলনে মধু সর্দার যে অভিযোগ করেছে তার সম্পুর্ন্ন মিথ্যা। তিনি বলেন, মামলার আসামী খায়রুল ও শুকুর আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, বাদী ও সাক্ষিদের ভয়ভীতি ও মামলা না নেওয়ার ঘটনাটি সম্পুর্ন বানোয়াট। কারণ পুলিশ সব সময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও নির্যাতিতদের পাশে রয়েছে।

ঝিনাইদহে কিডন্যাপ করে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ!

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহ শহরের দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ (কালব) নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ম্যাসেঞ্জার সাইফুল ইসলাম ওরফে সাহেব আলীকে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করে দুই লাখ ১৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। সোমবার দুপুরে সাইফুল ইসলাম ওরফে সাহেব আলীকে রাজশাহীর পুটিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজারে পাওয়া যায়। সাইফুল ইসলাম হরণিাকুন্ডু উপজেলার হিজলী গ্রামের ছোলাইমান জোয়ারদারের ছেলে। পরিবারিক সুত্রে জানা গেছে, রোববার বিকাল ৩টার দিকে শহরের গোরস্থান রোডের অফিস থেকে সাইফুল প্রতিষ্ঠানের টাকা ব্যাংকে রাখার জন্য বের হন। এরপর থেকে তাকে আর খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সোমবার দুপুরে রাজশাহীর পুটিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজার থেকে অফিসে ফোন করে জানান, তাকে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করে নিয়ে এখানে ফেলে রেখে যায়। এরপর তিনি নিজেই ফিরে আসেন। অফিসের কেও এই অপহরণের সাথে যুক্ত থাকতে পারে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে ধারণা করা হচ্ছে। সাইফুলের বোন মৌসুমি খাতুন ও নানা রইচ বিশ্বাস জানান, রোববার থেকে বহু স্থানে খোজাখুজির কারণে থানায় জিডি করতে পারেনি। এ বিষয়ে দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ (কালব) এর ঝিনাইদহ অফিসে গেলে কোন কর্মকর্তা মুখ খোলেনি। তাদের ভাষ্য সাইফুল সোমবার বিকালে অক্ষত ভাবে ফিরে এসেছে। এলাকাবাসি প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজারকে অফিসের মধ্যেই সন্ধ্যা পর্যন্ত আটকে রাখে। তারা সাইফুল ফিরে না আসলে ম্যানেজারকে ছাড়বে না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

নওগাঁয় শিল্প ও বানিজ্য মেলার অন্তরালে রাণীনগরে র‌্যাফেল ড্র নামে জুয়ার ফাঁদে সর্বশান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ


নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় শিল্প ও বানিজ্য মেলার অন্তরালে দৈনিক স্বপ্ন ছোঁয়া র‌্যাফেল ড্র নামক লটারীর মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় আর্থিক ভাবে সর্বশান্ত হচ্ছে রাণীনগরের সাধারণ মানুষ। উপজেলা সদর, আবাদপুকুর বাজার, সিম্বা, লোহাচূড়া, চৌমোহনী, বেলঘড়িয়া, খানপুকুর, বগারবাড়ি, কুবরাতলি, কুজাইল, বেতগাড়ী বাজার সহ আশপাশের এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের কাছ থেকে র‌্যাফেল ড্র নামক জুয়ার লোভনীয় অফার দিয়ে লটারীর টিকেট বিক্রয় করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে জুয়ার পরিচালকরা।
জানা গেছে, নওগাঁ জেলা সদরে “নওগাঁ চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ড্রাষ্ট্রি’র আয়োজনে পুলিশ লাইন সংলগ্ন মাঠে শিল্প ও বানিজ্য মেলা গত ৩০ ডিসেম্বর উদ্বোধনের পর থেকে দৈনিক স্বপ্ন ছোঁয়া র‌্যাফেল ড্র নামক জুয়ার মাধ্যমে ২০ টাকা মূল্যের টিকেট বিক্রয় করে রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় সর্বশান্ত হচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ। স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে প্রায় সব বয়সের মানুষ আসক্ত হয়ে পড়ছে এই জুয়ার নেশায়। আয়োজকদের দিনদিন লাভ বেশি হওয়ায় স্থানীয় টেলিভিশন চ্যালেনে সরাসরি প্রচার করায় বিশ্বাস বসত্ব আর্কষনীয় পুরস্কারের আশায় টিকেট কাটায় হুমড়ি খেয়ে পড়ছে এক শ্রেণীর মানুষ। রবিবার রাতে বিভিন্ন ব্যান্ডের ৭ টি মটরসাইকেল সহ ৯১ টি পুরস্কারের ঘোষনা দিয়ে ৮/১০ জন প্রচারম্যানরা সিএনজি ও চার্জার গাড়িতে মাইক লাগিয়ে পুরো উপজেলার গ্রামে গ্রামে গিয়ে মন ভুলানো কথা বলে সকাল থেকে রাত অবদি বিরতিহীন ভাবে টিকেট বিক্রয় করে যাচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে এই এলাকার মানুষের কাছে টিকেট কেনা যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মত হয়েছে। ব্যক্তি বিশেষ একটা থেকে একশটা পর্যন্ত টিকেট কেনার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার সিম্বা গ্রামের মিলন, করজগ্রামের রতন, কুজাইল গ্রামের শরিফ জানান, মেলার শুরু থেকে মটরসাইকেল পাওয়ার আশায় অনেক টিকেট কিনেছি কিছু না পেলেও আশা না ছেড়ে অদ্যবদি পর্যন্ত টিকেট কিনে যাচ্ছি। গত ১২ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সকালে রাণীনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাসিক আইন-শৃংখলা সভায় বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা র‌্যাফেল ড্র নামের রাণীনগরে এই জুয়া বন্ধের দাবি তুললে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া বিনতে তাবিব এই লটারী বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলেও অদ্যবদি প্রশাসনিক কোন উদ্দ্যোগ চোখে পড়ছে না।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »