Category: কৃষি

ছাদবাগান প্রিয় এক দম্পতির গল্প!


আবু সাইদ, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি::
কংক্রিটের দেওয়াল-ঘেরা বাড়িটার দিকে চোখ গেলে মনে হয়, গাছগাছালিতে ভরা। ছাদের দিকে তাকালে মনে হয়, যেন ফাগুনের ছোঁয়া লেগেছে তাতে। আর ভেতরে গেলে অবাক হতে হয়, যেন এটি বাড়ি নয়, পুরো একটি নার্সারি!
সাতক্ষীরা শহরের উপকণ্ঠের লাবসা এলাকায় চোখ জুড়ানো এ বাড়িটি অবস্থিত। এটির মালিক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার শেখ মনিরুজ্জামান ও তার স্ত্রী শাহিনা আক্তার। এই দম্পতি তাদের তিন হাজার দুইশ বর্গফুট বাড়ির ছাদে কয়েকশ গাছগাছালির একটি বাগান গড়ে তুলেছেন। পরম যতেœ গড়ে তোলা এ বাগানটি দেখলে বোঝা যায়, গাছগাছালির প্রতি এই দম্পতির রয়েছে অগাধ ভালোবাসা!
তিনতলা এই বাড়ির দুটি ছাদ। দোতলাতে একটি ও অপরটি তিনতলায়। বাগান করার জন্যই এই দম্পতি বাড়িতে দুটি ছাদ তৈরি করেছেন। এ কারণে এলাকার মানুষের কাছে বাড়িটির পরিচয় এখন ‘কৃষিবাড়ি’ হিসেবে।
ছয়বছর আগে বাড়ির ছাদ দুটিতে বাগান তৈরি করেছেন বলে জানালেন মনিরুজ্জামান-শাহিনা দম্পতি। এই ছাদ দুটিতে তারা দেশি-বিদেশি ফুল, ফল, সবজি ও ঔষধি গাছ লাগিয়েছেন। বিষমুক্ত শাকসবজি ও ফলমূল ও ঘরে বসে প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা পেতেই এ বাগান তৈরি করেছেন তারা। এতে পারিবারিক চাহিদাও মিটছে তাদের।
শেখ মনিরুজ্জামান-শাহিনা দম্পতি জানালেন, বাড়ির ছাদে বাগান করা খুব একটা কঠিন কাজ না। ইচ্ছে করলে যে কেউই ছাদে ফলমূল, শাকসবজির বাগান তৈরি করতে পারেন। এতে করে শাকসবজির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কোনো পরিবার আর্থিকভাবেও স্বাবলম্বী হতে পারে। পাশাপাশি অক্সিজেনও দেয় এসব গাছগাছালি।
সরেজমিন দেখা গেল, বাড়িতে ঢোকার পথেই রয়েছে, সারি সারি ঝাউগাছ। রয়েছে আম ও আমড়াগাছ। আমড়াগাছে পাতা না থাকলেও থোঁকা থোঁকা আমড়া ঝুলে রয়েছে তাতে। এর পাশেই রয়েছে আবার কামরাঙ্গাগাছ। এছাড়া টক ও মিষ্টি বরই গাছে ঝুলছে। মাটির ওপর বানানো মাচানে ঝুলছে, বড় বড় বেশ কয়েটা লাউ।
প্রায় এক বিঘা জমিতে ভরপুর বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধিগাছ। কোথাও একটুও ফাঁকা নেই। এখানে একটি ছোট পুকুরও দেখা গেল। মাছ চাষ করা হয়েছে এটিতে।
তবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ বাড়ির ছাদ দুটিকে ঘিরে। বাড়ির সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠে চক্ষু ছানাবড়া। মৌসুমী শাকসবজি আর ফুল-ফলে ভরে গেছে ‘কৃষিবাড়ি’র ছাদের বাগান।
ছাদে চেরি ও শিউলি ফুল দেখে শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে গাওয়া সেই জনপ্রিয় গানের কলি মনে পড়ে গেল- ‘ওগো বিদেশিনী, তোমার চেরি ফুল দাও, আমার শিউলি নাও/দুজনে দুজনে হই ঋণী।’
বাগান প্রিয় দম্পতি আরো জানালেন, তাদের বাড়ির ছাদ দুটিতে রয়েছে, ২২ প্রজাতির গোলাপ, ডালিয়া, জিনিয়া, পেনজি, পাফায়ার বলসহ দেশি-বিদেশি ফুল। রয়েছে হাসনা হেনা, সাপে কাটার ঔষধি গাছও। তুলসী, ঘৃতকুমারী, রক্ত করবী গাছও লাগানো রয়েছে ছাদে। টপের গাছে কমলালেবু, মালটা ও টমেটো ধরেছে।
মনিরুজ্জামা ও শাহিনা বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে গাছ সম্পর্কে ধারণা দিতে গাব, ঝাউগাছ ও ভূতেরগাছ হিসেবে পরিচিত ‘শাড়া’ গাছও লাগানো হয়েছে।
ছাদে বাতাবিলেবু, কদবেল, দেশিবেল, পামফলসহ অসংখ্য ফলদ গাছ লাগানো হয়েছে। থোঁকা থোঁকা মাল্টা পেকে হলুদ হয়ে রয়েছে।
লাল বাগানবিলাস ও হলুদ গাঁদা ফুলে মনে হচ্ছে ছাদে যেন ফাগুনের আগুন লেগেছে। বাড়ির ছাদ আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে, সুন্দরবনের গেওয়া, সুন্দরীগাছে। শুধু তাই-ই নয়, অরকিড কর্নারে বড় বড় কাকটাস দেখলে যে কারো মন ভরে যাবে।
ঘরের ভেতরেও বেশ কয়েকটি ইনডোর প্ল্যান্ট দেখা গেল।
সুন্দর করে সাজানো বাড়িটির নাম রাখা হয়েছে, ‘প্যাসিফিক প্যালেস’। শান্ত-সুনিবিড় ছায়াঘেরা বাড়িটির দোতলায় উঠে পূবদিকে তাকালে চোখে পড়ে আদিগন্ত ফসলের মাঠ। বাড়ির তিনপাশ সবুজের চাদরে ঘেরা। বাড়ির ছাদের যে দিকেই তাকানো যায়, সেদিকেই যেন সুন্দরের আগুন। ফুলে-ফলে ভরা বাড়িটি দেখলেই মনে পড়ে মা-মাটি ও মানুষের কথা।
শেখ মনিরুজ্জামান ও শাহিনা দম্পতির করা বাগানটি জেলার সেরা ছাদবাগান নির্বাচিত হয়েছে। তাদের ছাদের ওপর বাগান দেখে এলাকার অনেকেই ছাদে বাগান করার প্রতি অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।
তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা দুজনই ছোটবেলা থেকে বাগান করতেন। মেধা, মনন ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে তারা গড়ে তুলেছেন এই ‘প্যাসিফিক প্যালেস’। প্যালেসটিকে দেখাশোনায় স্ত্রী শাহিনাকে সাহায্য করেন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার স্বামী মনিরুজ্জামান। তাদের দুই ছেলে। বড়ছেলে হাসানাত ৮ম শ্রেণিতে ও ছোটছেলে আরাফাত ২য় শ্রেণিতে পড়ে। তারাও বাগান পরিচর্যায় মাবাবাকে সাহায্য করে।
শেখ মনিরুজ্জামান ও শাহিনা বলেন, এলাকার কারো কিছু হলে আমাদের বাড়িতে আসেন। সর্দিকাশি হলে শিউলি ফুল, আমাশয় হলে থানকুনিসহ বিভিন্ন ঔষধিগাছ নিয়ে যান তারা।
তাদের বড় ছেলে হাসানাত বলে, ‘মায়ের সাথে বাগান পরিচর্যার কাজ করি। এলাকার অনেকে বলেন, ‘কৃষিবাড়ি!’ তখন শুনতে অনেক ভালো লাগে। এলাকার সবাই আমার মা ও বাবার কাজের অনেক প্রশংসা করেন।’
মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি বছরের অর্ধেক সময় জাহাজে থাকি। তারপরও যে সময়টা বাড়িতে থাকি, বাগান নিয়ে পড়ে থাকি। সমুদ্রে থাকলে কী হবে, সেখানেও (জাহাজে) বাগান করেছি। আমার বাবা বাগান করতেন। তা দেখে সেই ছোটবেলা থেকেই বাগানের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছি।’
তবে সব কৃতিত্ব তার স্ত্রীকে দিয়ে মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি বেশি সময় বাইরে থাকি। আর ও (শাহিনা আক্তার) বাগানের দেখভাল করে।’
তিনি আরো বলেন, ‘অনেকে আমাদের বাগানের ছবি ও সেলফি তুলতে আসেন। পরিচালক জি এম সৈকতের বেশ কয়েকটি নাটকের শ্যুটিংও হয়েছে আমাদের ছাদে।’
মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বনসাইয়ের কারিগর উৎপল, সম্পর্কে আমার ভাগ্নে। তার কাছ থেকে বনসাই তৈরি করার কিছু পদ্ধতি শিখে বেশ কয়েকটি বটগাছের বনসাই তৈরি করেছি। আমাদের বাড়িতে কোনো মেহমান আসলে আগে ছাদে ওঠেন। ছাদটি এখন আমাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের পছন্দের জায়গা।’
তিনি জানান, বাড়ি তৈরির সময় কৃষি বিষয়ের কথা চিন্তা করে ইঞ্জিনিয়ারের কাছ থেকে পরিকল্পনা করে এভাবে বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। ছাদে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে লাউ, কুমড়া, আমড়া বিভিন্ন সবজি রয়েছে।
শাহিনা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হলেও সেই ছোটবেলা থেকে গাছ লাগাতেন। আমি স্কুলের টিফিনের খরচ বাঁচিয়ে বাবার বাড়িতে বাগান করতাম। শ্বশুর বাড়িতে এসে দেখি স্বামীরও বাগান করার শখ। দুই বৃক্ষ প্রেমিক মিলে শুরু করে দিলাম গাছ লাগানো।’
তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের ছাদে কমলালেবু, কাগজিলেবু, ছবেদা, সাদা জামরুলসহ আরো অনেক ফল রয়েছে। এখানে যে বিষমুক্ত ফল হয়, তা আমরা খাই ও মেহমান এলে তাদের আপ্যায়ন করি। আমার ছাদের মালটা বেশ সুস্বাদু।’
শাহিনা আক্তার মনে করেন, বাগান পরিচর্যা প্রতিদিনের গৃহস্থালি কাজের মতোই হয়ে গেছে। একদিন কাজ না করলে মনে হয়, কিছু একটা কাজ করা হয়নি। গাছগুলো যেন তাদের কাছে একেকটি সন্তানের মতো হয়ে গেছে।
সাতক্ষীরায় বাড়ির ছাদের উপর কৃষি ব্যবস্থপনা সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, এবিষয়ে তার কাছে কোন তথ্য নেই।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর গোবিন্দগঞ্জ চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ৩০ হাজার ১শ’ হেক্টর জমি চাষের লক্ষ্যমাত্র নির্ধান


গোবিন্দগঞ্জ ( গাইবান্ধা ) থেকে মোঃ তাজুল ইসলাম প্রধান ঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ৩০হাজার ১শত হেক্টর জমি চাষের লক্ষ্যমাত্র নির্ধান করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছাম্মদ সাহেরা বানু জানিয়েছেন, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে গোবিন্দগঞ্জের পৌর সভাসহ ১৭টি ইউনিয়নে চলতি অর্থ বছরে মোট ৩০ হাজার ১ শ’ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা র্নিধারন করেন। এর মধ্যে হাইব্রীট ৪ হাজার ৩শ’ ৯০ হেক্টর,উফশী ২৫ হাজার, ৬শ’১০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ১শ’ হেক্টর জমি চাষের লক্ষ্যমাত্র হাতে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগন নিরালস ভাবে কৃষকদের কে উদ্ভোধ করে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। ইতি মধ্যই ২৭ হাজার ৩ শ’৫৫ হেক্টর জমিতে রোপন কাজ শেষ হয়েছে। বাকী জমিতে আলু ,ষরিসাসহ অন্যান্য ফসল তোলার হলেই আগামী সপ্তাহের মধ্যেই রোপন কাজ শেষ হবে এবং লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে । তিনি আরো জানিয়েছেন, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ১ লক্ষ, ১৯ হাজার, ৯শ , ৮ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা র্নিধারন করেছেন।এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে বাম্পার ফলনের আশা প্রকাশ করেন।

মালটা চাষ করে ভাগ্য বদলে যাচ্ছে চাষীদের

আল-আমীন সিনিয়র রিপোর্টারঃ
আমদানি নির্ভর সুস্বাদু ফল মাল্টা। এটি রোগিদের পথ্য নয় বেশ মুৃখরোচক ফলও। এতদিন এ ফলটি সিলেট জেলায় চাষ হলেও, এবার মাল্টা চাষ হচ্ছে মেহেরপুরে। বেশ সফলতার মুখ দেখছেন অনেক কৃষক। গত কয়েক বছরে বেড়েছে মাল্টার বাগান। কৃষি বিশেষজ্ঞরা দাবী, বারি মাল্টা-১ চাষের জন্য উপযোগি এখানকার মাটি। মাল্টা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে পারলেই, দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে এ ফলটি।
জেলা কৃষি অফিসের হিসেব মতে, জেলায় অন্ততঃ ১৭ হেক্টর জমিতে মালটার চাষ করা হচ্ছে। ২০১৩ সালে প্রথম মালটা চাষ শুরু হয় এ জেলাতে। মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া বারি মাল্টা-১ এর ৫০ টি চারা তার ১২ কাটা জমির পটল ক্ষেতের মধ্যে রোপন করেন। পরিচর্যার দেড় বছরের মাথায় গাছে ফুল আসতে শুরু করে। দুই বছরের মাথায় গাছে ধরে ফল। ঐ বছরে ৬০ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করেন তিনি। পরে গাপ্টিং পদ্ধতিতে চারা তৈরি করে তিন লক্ষ টাকার চারা বিক্রি করেন। চলতি বছরে তিনি ৫ লক্ষ টাকার চারা বিক্রি করেছেন এখনও দুই লক্ষ টাকার মাল্টা বিক্রি করতে পারবেন। বাইরের জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে ক্ষেত থেকে মাল্টা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। একই অবস্থা ঐ উপজেলার মহাজনপুর গ্রামের চাষি মাহাবুল হক। অধিক লাভ দেখে তাদের সাথে চারা সংগ্রহ করে চাষিরা শুরু করেছেন মালটা চাষ। জেলায় এখন নতুন করে প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে মাল্টার বাগান হয়েছে।
কৃষক ইসমাইল হোসেন জানান, মালটা এলাকার লোকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এতে খরচ কম অথচ লাভ বেশী। মাল্টার জমিতে সাথী ফসল হিসেবে দুই বছর অন্য ফসলের আবাদ করা সম্ভব। অধিক লাভবান হওয়ায় অনেক বেকার যুবক এগিয়ে আসছেন মাল্টা চাষে।
মজিবনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোফাখ্খারুল ইসলাম জানান, মাল্টা চাষের জন্য উপযোগী মেহেরপুরের মাটি। এখন পর্যন্ত মাল্টা চাষে কোন সমস্যা দেখা দেয়নি। তবে ফল আসার সময় পোকার আক্রমন দেখা দেয়। কিটনাশক ও সেক্সফেরোমন ট্রাপ ব্যবহার করে চাষিরা সফলতাও পাচ্ছেন। স্বাদেও অতুলনিয় এখানকার মাল্টা ।
কৃষি বিশেষজ্ঞ ড. আক্তারুজ্জামান জানান, সিলেটের সাইট্রাস গবেষনা কেন্দ্র উদ্ভাবন করেছে বারি মাল্টা-১ জাতের। এটি বালাদেশের সব এলাকায় চাষ করা সম্ভব। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে পারলে আমদানি নয়, মাল্টা চাষ করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব।

আটোয়ারীতে বারি সরিষা-১৪ প্রদর্শণীর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত


আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি ঃ ‘কৃষিই সমৃদ্ধি‘ শ্লে¬াগানকে সামনে রেখে রাজস্ব খাতের অর্থায়নে রবি মৌসুমে নতুন জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারনে স্থাপিত প্রদর্শনীর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরে বাস্তবায়নে বারি সরিষা-১৪ জাতের প্রদর্শনীর উপর এই মাঠ দিবস গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার তোড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর বোধগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন সুলতানা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আব্দুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শামীম ইকবাল উপস্থিত থেকে কৃষি বান্ধব বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ পইমুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল গফুর, সরিষা চাষী সহ কৃষকবৃন্দ। মাঠ দিবসে গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি ও শতাধিক কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।

এক সময়ের আমদানি নির্ভর॥ সুস্বাদু মাল্টা চাষ হচ্ছে মেহেরপুর

আল-আমীন , মেহেরপুর : আমদানি নির্ভর সুস্বাদু ফল মাল্টা। এটি রোগিদের পথ্য নয় বেশ মুৃখরোচক ফলও। এতদিন এ ফলটি সিলেট জেলায় চাষ হলেও, এবার মাল্টা চাষ হচ্ছে মেহেরপুরে। বেশ সফলতার মুখ দেখছেন অনেক কৃষক। গত কয়েক বছরে বেড়েছে মাল্টার বাগান। কৃষি বিশেষজ্ঞরা দাবী, বারি মাল্টা-১ চাষের জন্য উপযোগি এখানকার মাটি। মাল্টা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে পারলেই, দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে এ ফলটি।
জেলা কৃষি অফিসের হিসেব মতে, জেলায় অন্ততঃ ৭০ হেক্টর জমিতে মালটার চাষ করা হচ্ছে। ২০১৩ সালে প্রথম মালটা চাষ শুরু হয় এ জেলাতে। মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া বারি মাল্টা-১ এর ৫০ টি চারা তার ১২ কাটা জমির পটল ক্ষেতের মধ্যে রোপন করেন। পরিচর্যার দেড় বছরের মাথায় গাছে ফুল আসতে শুরু করে। দুই বছরের মাথায় গাছে ধরে ফল। ঐ বছরে ৬০ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করেন তিনি। পরে গাপ্টিং পদ্ধতিতে চারা তৈরি করে তিন লক্ষ টাকার চারা বিক্রি করেন। চলতি বছরে তিনি ৫ লক্ষ টাকার চারা বিক্রি করেছেন এখনও দুই লক্ষ টাকার মাল্টা বিক্রি করতে পেরেছেন। বাইরের জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে ক্ষেত থেকে মাল্টা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। একই অবস্থা ঐ উপজেলার মহাজনপুর গ্রামের চাষি মাহাবুল হক। অধিক লাভ দেখে তাদের সাথে চারা সংগ্রহ করে চাষিরা শুরু করেছেন মালটা চাষ। জেলায় এখন নতুন করে প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে মাল্টার বাগান হয়েছে।
কৃষক ইসমাইল হোসেন জানান, মালটা এলাকার লোকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এতে খরচ কম অথচ লাভ বেশী। মাল্টার জমিতে সাথী ফসল হিসেবে দুই বছর অন্য ফসলের আবাদ করা সম্ভব। অধিক লাভবান হওয়ায় অনেক বেকার যুবক এগিয়ে আসছেন মাল্টা চাষে।
মজিবনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোফাখ্খারুল ইসলাম জানান, মাল্টা চাষের জন্য উপযোগী মেহেরপুরের মাটি। এখন পর্যন্ত মাল্টা চাষে কোন সমস্যা দেখা দেয়নি। তবে ফল আসার সময় পোকার আক্রমন দেখা দেয়। কিটনাশক ও সেক্সফেরোমন ট্রাপ ব্যবহার করে চাষিরা সফলতাও পাচ্ছেন। স্বাদেও অতুলনিয় এখানকার মাল্টা ।
কৃষি বিশেষজ্ঞ ড. আক্তারুজ্জামান জানান, সিলেটের সাইট্রাস গবেষনা কেন্দ্র উদ্ভাবন করেছে বারি মাল্টা-১ জাতের। এটি বালাদেশের সব এলাকায় চাষ করা সম্ভব। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে পারলে আমদানি নয়, মাল্টা চাষ করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব।

মেহেরপুরে গাংনীর মরা নদীতে মাছ চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছে মৎস্য জীবীরা


আল-আমীন সিনিয়র রিপোর্টার
মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের চরগোয়াল গ্রামের মরা নদীতে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে ১ শত ১৮টি পরিবার। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় মৎস সমবায় সমিতি ছাতিয়ান নামে ৫শত বিঘা জমি সরকারী রাজস্ব দিয়ে ৬ বছরের জন্য লিজ নিয়ে গত ২০১৬ সালের আগষ্ট মাসে ৬ লক্ষ টাকার মাছের পোনা ছাড়ে মৎস চাষিরা। মৎস চাষী নুরুল ইসলাম জানান আমরা ২০১৭ সালে জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে মাছ বিক্রয় শুরু করি এবং আজ অবধি প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মাছ বিক্রয় করেছি। তিনি আরো জানান আমরা ১শত ১৮টি পরিবার মাছ চাষ করে বর্তমানে খুব ভালো আছি ও ছেলে সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করছি।
সরকারী সহযোগীতা পেলে আরো ব্যাপক হারে মৎস চাষীরা আরো লাভবান হবে। মাছের খাবারে দাম আনুপাতিক হারে বেশী। গাংনী ্ উপজেলা মৎস কর্মকতা আবুল কালাম জানান গাংনী উপজেলা মৎস অফিস সার্বক্ষনিক মৎস জীবিদের সহযোগিতা করে থাকি বলে তিনি জানান

নওগাঁয় আশা’র ব্রয়লার মুরগী পালন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত


নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় ব্রয়লার মুরগী পালন খামারীদের নিয়ে দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে বেসরকারী সংস্থা আশা। সোমবার আশা’র নওগাঁ সদর শাখা ও পিরোজপুর ব্রাঞ্চে এই দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আশা’র লাইফস্টোক পরামর্শক শান্তি রঞ্জন দাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের সহকারি প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মোসা: শামীম নাহার, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: মাহফুজুর রহমান, আশা’র জেলা ব্যবস্থাপক মো: মামুন অর-রশিদ, সিনিয়র জেলা ব্যবস্থাপক খ ম আলা উদ্দিন, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (এগ্রি ও বিজনেস) শামসুদ্দিন, রাণীনগর অঞ্চলের সিআরএম আব্দুল কাদের প্রমুখ। জেলার নিতপুর, ধামইরহাট, মহাদেবপুর ব্রাঞ্চের আর এম ও নওগাঁ সদর ১ ও ২ নং ব্রাঞ্চ ও পিরোজপুর ব্রাঞ্চের সকল ব্রাঞ্চ ব্যবস্থাপক উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় ৬০ জন ব্রয়লার মুনগী পালনকারী খামারী অংশ গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, আশা এনজিও’র প্রেসিডেন্ট সফিকুল হক চৌধুরীর সুযোগ্য নেতৃত্বে কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে বিগত ১৯৭৮ সাল থেকে ক্ষুদ্র ঋণ বিনিয়োগের ভিত্তিতে দেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ বিভাগের প্রায় ৩০টির বেশি কর্মসূচিতে প্রামীণ উদ্যোগী খামারীদেরকে উৎপাদনমুখি কার্যক্রম পরিচালনায় সমগ্র দেশ ব্যাপী প্রসংশিত হচ্ছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

এ সবজি জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।


আল-আমীন সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরপুরে লাউ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে চাষিরা। খরচ কম ও দাম বেশি পাওয়ায় মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে এখন লাউ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাছের খামারের পাশে বা পতিত জমিতে লাউ চাষ করে বাড়তি আয় করতে পেরে খুব খুশি লাউ চাষিরা। কীটনাশকমুক্ত এ সবজি জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।শীতকালীন সবজিগুলোর মধ্যে অন্যতম সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর হলো লাউ। এটি খুবই সহজলভ্য এবং দামেও সস্তা। লাউয়ের পানি ও আঁশ আমাদের পরিপাক ক্রিয়াকে পরিষ্কার করে। এ কারণে যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য এ সবজিটি খুবই উপকারি। লাউয়ে গ্লুকোজ ও চিনি নেই বললেই চলে। ফলে ডায়বেটিসের রোগীরা লাউ খেলে উপকার পাবেন। সহজে হজম হয় এবং শরীর ঠান্ড রাখে বলে ডায়রিয়ার সময় এক গ্লাস লাউয়ের রসে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে খেলে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া পানি ও সোডিয়ামের চাহিদা পূরণ হয়। এ ছাড়া লাউ মূত্রনালির বিভিন্ন রোগ ও জ্বালাপোড়া রোধে খুবই উপকারি। লাউ কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস রোগ রোধেও খুব কার্যকর ভূমিকা রাখে। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়াতে লাউ খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। কাজেই লাউ লিভারের সংক্রমণে ভালো পথ্য হিসেবে কাজ করে। লাউয়ে পর্যাপ্ত আয়রন, থায়ামিন, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকে, যা সুস্বাস্থ্যের জন্য দরকারি। লাউয়ের রস এপিলেপ্সি, পাকস্থলীর এসিডিটি, আলসার এবং অন্যান্য স্নায়ুরোগ নিরাময়ে ভূমিকা রাখে। সহজে হজম করা যায় বলে জ্বরসহ অন্যান্য অসুস্থতায় লাউ পথ্য হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। মেহেরপুর গাংনী উপজেলার বাশবাড়ীয়া গ্রামের লাউ চাষি রবিউল ইসলাম জানান, শীতকালীন সবজি হলেও সারা বছর লাউ ধরে তার বাগানে। পোকামাকড় মুক্ত থাকায় কীটনাশক লাগে না লাউ চাষে। অধিক ফলন ও বাজার মূল্য বেশি পাওয়ায় লাউ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে বাড়ি পাশের পতিত জমিতে। অনেকে পুকুর ধার বা বাড়ির চালে সহজে এ লাউ চাষ করছে। তিনি আরও জানান, প্রতিটি লাউ ২০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি করতে পেরে তিনি খুব খুশি। এক বিঘা জমিতে তার লাউ চাষ করতে খরচ হয়েছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এর থেকে তিনি লাউ বিক্রি করবেন এক লাখের অধিক টাকা বলে তিনি জানান।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস এম মুস্তাফিজুর রহমান জানান, মেহেরপুর চলতি েেমৗসুমে ৬শ’ ৫০ হেক্টর মাছের খামারের পতিত জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে লাউ চাষ করা হয়েছে প্রায় ৩শ’ হেক্টর জমিতে। আগামীতে এ লাউ চাষ আরও প্রসারিত হবে। তিনি আরও জানান, জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় হচ্ছে মেহেরপুর উৎপাদিত এ লাউ। তাই সবজি উৎ্পাদনে মেহেরপুর লাউ একটি অর্থকারি ফসল হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।

যে সব কারণে কুল খাবেন…..!!!

আল আমিন, গাংনী ঃ

বড়ই বা কুল আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয় একটা ফল। যদিও এর আদি নিবাস আফ্রিকা, তবু বাংলাদেশে তো বটেই এটি পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় বহুল পরিচিত একটি ফল। মজার ব্যাপার হলো কুল-এর সরাসরি কোনো ইংরেজি নাম নেই!

বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই, সব ধরনের মাটিতে কুল গাছ জন্মে। কুল গাছ ছোট থেকে মাঝারি আকারের ঝাঁকড়া ধরনের বৃক্ষ। কুল গাছ সাধারণত ১২-১৩ মিটার লম্বা হয়। এই গাছ পত্রঝরা স্বভাবের অর্থাত্‍ শীতকালে পাতা ঝরে এবং বসন্তকালে নতুন পাতা গজায়। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে গাছে ফুল আসে এবং ফল ধরে শীতকালে। কাঁচা ফল সবুজ।

তবে পাকলে হলুদ থেকে লাল রং ধারণ করে। কাঁচা ও পাকা দু ধরনের কুল-ই খাওয়া যায়। স্বাদ টক ও টক-মিষ্টি ধরনের। তবে কুল কুল মিষ্টি হয়। কুল শুকিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। কাঁচা ও শুকনো কুল দিয়ে চমত্‍কার চাটনি ও আচার তৈরি করা যায়।

কুলে রয়েছে ব্যাপক পুষ্টিগুণ। প্রতি ১০০ গ্রাম কুল রয়েছে :

 খাদ্যশক্তি- ৭৯ কিলোক্যালরি

 শর্করা- ২০.২৩ গ্রাম

  চর্বি- ০.২ গ্রাম

    আমিষ- ১.২ গ্রাম

    জলীয় অংশ- ৭৭.৮৬ গ্রাম

    ভিটামিন এ- ৪০ আইইউ

    থায়ামিন- ০.০২ মিলিগ্রাম

    রিবোফ্লাভিন ০.০৪ মিলিগ্রাম

    নিয়াসিন ০.৯ মিলিগ্রাম

    ভিটামিন বি৬- ০.০৮১ মিলিগ্রাম

    ভিটামিন সি- ৬৯ মিলিগ্রাম

    ক্যালসিয়াম- ২১ মিলিগ্রাম

    আয়রন- ০.৪৮ মিলিগ্রাম

    ম্যাগনেসিয়াম- ১০ মিলিগ্রাম

    ম্যাংগানিজ- ০.০৮৪ মিলিগ্রাম

    ফসফরাস- ২৩ মিলিগ্রাম

    পটাশিয়াম- ২৫০ মিলিগ্রাম

    সোডিয়াম- ৩ মিলিগ্রাম

    জিংক- ০.০৫ মিলিগ্রাম

পুষ্টিগুণ ছাড়াও কুলয়ের রয়েছে অনেক রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা। যেমন : কুলয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। কুলয়ের ভিটামিন সি ইনফেকশনজনিত রোগ যেমন টনসিলাইটিস, ঠোঁটের কোণে ঘা, জিহ্বাতে ঘা, ঠোঁটের চামড়া উঠে যাওয়া ইত্যাদি দূর করে। কুলয়ের রসকে অ্যান্টি-ক্যান্সার হিসেবে গণ্য করা হয়। এই ফলের রয়েছে ক্যান্সার কোষ, টিউমার কোষ ও লিউকেমিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার অসাধারণ ক্ষমতা। যকৃতের নানা রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে কুল। এই ফল যকৃতের কাজ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। কুল অত্যন্ত চমত্‍কার একটি রক্ত বিশুদ্ধকারক। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কুল খুবই উপকারী ফল।ডায়রিয়া, ক্রমাগত মোটা হয়ে যাওয়া, রক্তশূন্যতা, ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি রোগ খুব দ্রুত সারিয়ে তোলে এই ফল।মৌসুমি জ্বর, সর্দি-কাশিও প্রতিরোধ করে কুল। এছাড়া হজম শক্তি বৃদ্ধি ও খাবারে রুচি বাড়িয়ে তোলে এ ফল।

ঝিনাইদহে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ পড়াশোনার পাশাপাশি ফসল উৎপাদনে শিক্ষার্থীরা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ঝিনাইদহ কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট। এ উদ্যোগে এখানকার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি কীটনাশকমুক্ত ফসল উৎপাদনে যুক্ত করা হয়েছে।জানা যায়, ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এখানে বর্তমানে চার শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। আর এসব শিক্ষার্থী এখন লেখাপড়ার পাশাপাশি ফসলও উত্পাদন করছে। আর তাদের এ সফলতা দেখে দেশের সব কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রই এ কার্যক্রম চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে।২১ দশমিক ৩৮ একর জমির ওপর এ কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে ১০টি শ্রেণীকক্ষ, পাঁচটি ল্যাবরেটরি, একটি লাইব্রেরি, একটি সভাকক্ষ, শিক্ষার্থীদের হোস্টেল, অধ্যক্ষের বাসভবন ও গুদাম ঘর রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের উপসহকারী প্রশিক্ষক মো. নাজিম উদ্দিন শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের পরিত্যক্ত জমিতে ফসল উত্পাদনের উদ্যোগ নেন, যাতে কৃষিকাজের বাস্তব জ্ঞান অর্জনসহ শিক্ষার্থীরা উত্পাদিত ফসল ভোগ করতে পারেন। এ ভাবনা থেকেই শিখি-করি-খাই কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়, আসে সফলতাও। কৃষি বিভাগ তাদের এ কর্মসূচি এখন মডেল হিসেবে গ্রহণ করেছে। দেশের সব কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান দেশের অন্য ১৫টি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এ কর্মসূচি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন।ইনস্টিটিউটের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক নাজিম উদ্দিনের পরিকল্পনা মোতাবেক তারা প্রথমে ৩৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করেন। ক্যাম্পাসের মধ্যে পরিত্যক্ত ৬০ শতক জমি আবাদযোগ্য করেন। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জৈব পদ্ধতিতে নিজেদের উত্পাদিত সবজিই সারা বছর খাচ্ছেন তারা।তারা আরো জানান, বর্তমানে তাদের আবাদী জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আট একরে। সেখানে চাষ করা হচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, মুলা, গাজর, লালশাক, পালংশাক, ব্রোকলি, ড্রাগন ফল, লেটুস, পুদিনা, ধনেপাতা, শালগম, ওলকপি, মটরশুঁটি, গম, সয়াবিন, ভুট্টা ও রসুনসহ ৬০ প্রকার ফসল। কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে ছেলেমেয়েরা কাজ করছেন ফসলের ক্ষেতে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে উত্পাদিত সবজি বাজারেও বিক্রি করছেন তারা। ফসল বিক্রি করা টাকায় কেনা হচ্ছে নানা কৃষি উপকরণ।এ কর্মসূচির উদ্যোক্তা প্রশিক্ষক নাজিম উদ্দিন জানান, সাধারণত দেশের কৃষি প্রতিষ্ঠানগুলোয় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে কৃষিকাজ দেখানোর জন্য বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যাতে পড়ালেখার পাশাপাশি সারা বছরই উত্পাদনে অংশ নিতে পারেন, এমন ভাবনা থেকেই এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ইনস্টিটিউটের পুকুরে মাছও চাষ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, তিনি সার্বক্ষণিক কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের এ কর্মসূচির পাশে আছেন।আর মুখ্য প্রশিক্ষক মাহফুজ হোসেন মৃধা স্টারমেইল টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, শিক্ষার্থীরা কৃষিক্ষেত্রে যাতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, সেজন্য এ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ফসল উত্পাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত শিখতে পারছে। ভবিষ্যতে সবজি বিক্রির টাকা দিয়ে তাদের শিক্ষাসফর ও টিউশন ফি পরিশোধেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

 


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »