Category: কৃষি

মেহেরপুর গাংনীতে মসুরীর বাম্পার ফলনের আশা কৃষকের

আল-আমীন সিনিয়র রিপোর্টার: মেহেরপুরে গাংনী উপজেলায় গত বছরে তুলনায় এবার কৃষকদের মাঝে বারি-৩ জাতের মসুরি চাষের হয়েছে ব্যপক । মেহেরপুর জেলার ৩টি উপজেলার হাজার হাজার বিঘা জমিতে এবার মসুরি হয় বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, প্রতি গ্রামের কৃষকেরা কিছু না হলের মসুরি চাষ করেছেন। এই ফসলটি কম খরচ ও স্বল্পমেয়াদী হওয়ায় চাষিদের মাঝে মসুরি চাষের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এসব গ্রামের একাধিক এলাকাজুড়ে এখন শুধু মসুরি আর মসুরি। চারিদিকে সবুজে ও সাদা ফুলের সমাহার উঠেছে মাঠে পর মাঠে।
চলতি মৌসুমে কোন প্রকার প্রাকৃতিক দূর্য্যোগ না হওয়াতে মসুরি ভাল ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করেন যে,মসুরি যথা সময়ে ঘরে তুলতে পাড়লে এবং বিক্রয় মূল্য ভাল পেলে মসুরি চাষের কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।
চলতি মৌসুমে গাংনী উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে মসুরি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এবছর ৩টি উপজেলার পায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে মসুরি আবাদ হয়েছে বলে জানা যায়। শুরুতে মসুরি ক্ষেতে পোকা-মাকড়ের আনাগোনা দেখা দিলেও মাঠ মসুরি চাষিদেরকে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পরামর্শ ও কারিগরী সহযোগিতার কারণে মসুরি ক্ষেত অনেকটা রোগ-বালাই মুক্ত হওয়ায় ভাল ফলনের আশাবাদী কৃষকেরা
গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া মাসুদ রানা জানান, এবছর প্রায় ৮ বিঘা জমিতে মসুরি চাষ করেছি।আমি নিজে বীজ ক্রয় করে জমিতে বপণ করেছি। মসুরি গাছে প্রচুর পরিমান ফুল ধরাতে মনে হচ্ছে এবার ভাল ফলন পাব। দাম ভাল পেলে মসুরি চাষের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাবে বলে জানান তিনি।
একই উপজেলার ধর্মচাকী গ্রামের কৃষক মাহবুব হাসান টুটুল জানান,এবার মসুরী আমার খুব ভাল হয়েছে।গত বছরের চেয়ে মসুরী গাছে প্রচুর ফুল দেখা দিয়েছে।কোন প্রকার রোগ বালাই না হলে বিঘা প্রতি ৯ মণ হবে বলে আমি আশাবাদি।
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, এবারে ৯টি ইউনিয়নে বিগত বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি পরিমান মসুরী চাষ হয়েছে। যথা সময়ে জমি চাষের যোগ্য হওয়ায় এলাকার কৃষকরা সুযোগ বুঝে মসুরী চাষ করেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদেরকে যথাযথ পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক দূর্য্যােগে কোন প্রকার ক্ষতি না হলে উপজেলায় মসুরী আবাদেও বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আর ও বলেন,মসুরী চাষের জমিগুলো উরর্বতা বেশি থাকায় কৃষকরা মসুরী চাষেও এর সুফল পাবে।

মেহেরপুরে কৃষকরা কনকনে শীত উপেক্ষা করে বোরো ধান রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।


আল-আমীন সিনিয়র রিপোর্টার
মেহেরপুরে ৩ উপজেলার কৃষকরা কনকনে শীত উপেক্ষা করে বোরো ধান রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেনগত বোরো মৌসুমের শেষ সময়ে দফায় দফায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে বোরো ধানের ফলনে ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেই সাথে বাজারে ধানের ভাল দাম না পাওয়ায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন তারা। তাদের সকল হতাশাকে দুরে ঠেলে দিয়ে আবারও এক বুক আশা নিয়ে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা।তাদের আশা পূর্বের সকল লোকসানকে পুষিয়ে এবার লাভের মুখ দেখবেন তারা। সেই আশাতেই পুরোদমে বোরো ধান রোপনে কোমর বেধে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় গাংনী উপজেলার চিতলা পাট বীজ খামারে এবার ১৫০ একর জমিতে বোরো ধান রোপন করা হবে এবং ইতিমধ্যে রোপন শুরু হয় কিন্ত কতৃপক্ষে ভয় বিদ্যুৎ নিয়ে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা উঁচু জমিতে রবি শস্য চাষ এবং নিচু জমিতে বোরো চাষে জমি প্রস্ততকরণ, বোরো ধানের চারা উত্তোলন ও রোপণের কাজে সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। পূর্বে রোপনকৃত বোরো ধানের চারা উত্তোলন করে তা চাষ দেওয়া জমিতে সারিবদ্ধ ভাবে রোপন করছে কৃষকরা। প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সময়মত সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বোরো ধান বাম্পার ফলনের আশা কৃষক সহ খামার কতৃপক্ষে।নিত্যানন্দপুর গ্রামের কৃষক মিটু সরকার জানান এবার ৩ একর বোরো রোপন করিবো আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বোরো ধান বাম্পার ফলনের হবে।মেহেরপুর জেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেষ্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষমাত্র নিধারণ করা হয়।জেলা কুষি অফিসার এস এম মুস্তাফিজুর রহমান জানান, বোরো ধানের চারা রোপনে সঠিক পদ্ধতি ও সরকার অনুমোদিত জাতের বীজের বোরো ধানের চারা রোপনে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগের আশা এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। গাংনী উপজেলা চিতলা পাট বীজ খামারের যুগ্ন পরিচালক আবির হোসেন জানান, বিদ্যুৎতের যে হালচাল তাতে বোরো ধান চাষ করিবার পরিবেশ নেই চিতলা পাট বীজ খামারে।

চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর এবার দেশের শ্রেষ্ট ভুট্রা চাষ জেলা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন

আল-আমীন সিনিয়র রিপোর্টারঃ
মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা দেশের সবচেয়ে বেশী ভুট্টার চাষ হয় ।মধ্যে সবুজ পাতার আড়ালে হাসছে হলুদ রঙের ভুট্টা মাথায় লাল ফুল, গায়ে হলুদ বর্ণের এসব ভুট্টা দোলা খাচ্ছে বাতাসে। উৎপাদন বেশি, খরচ কম তাই ভুট্টচাষে আগ্রহ বেড়েছে এখানকার কৃষকদের।মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা ৮ উপজেলায় ১৫০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে।কৃষকরা জানান, ধান চাষের পর ভুট্টা চাষটা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ ভুট্টা চাষে লাভ বেশি। ভুট্টার দানা মানুষের খাদ্য হিসেবে এবং ভুট্টার গাছ ও সবুজ পাতা উন্নত মানের গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবেও এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছ। একসাথে অনেকগুলো সুবিধার কারণে এ চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের।আদিকাল থেকে বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি এ অঞ্চলের কৃষকরা ভুট্টা চাষ করে আসছে। উচ্চফলন, বেশি লাভ আর চাহিদা অনেক থাকায় সম্প্রতি বছরগুলোতে ভুট্টা চাষাবাদ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তাই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চাষীদের কাছ থেকে সরাসরি ভুট্টা ক্রয় করছেন।গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার রইচ উদ্দীন জানান, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, মাটির উর্বরতা যেন ঠিক থাকে এবং চাষীরা যাতে পরিকল্পিতভাবে ভুট্টার আবাদ করতে পারে সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ধান ও গমের তুলনায় ভুট্টার পুষ্টিমান বেশি। এতে প্রায় ১১ভাগ আমিষ জাতীয় উপাদান রয়েছে। আমিষে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো এসিড, ট্রিপটোফ্যান ও লাইসিন অধিক পরিমাণে আছে। এছাড়া হলদে রংয়ের ভুট্টা দানায় প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৯০ মিলিগ্রাম ক্যারোটিন বা ভিটামিন এ থাকে।স্থানীয় ভুট্টা চাষীদের দাবি স্থানীয় কৃষিবিভাগের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হলে ভুট্টচাষীরা আরো ব্যাপক হারে এর চাষাবাদ এগিয়ে নিতে পারবে।মেহেরপুর জেলা কৃষি অফিসার এস এম মুস্তাফিজুর রহমান জানান মেহেরপুর ভুট্র চাষের জন্য অনুকুল পরিবেশ আছে।

নওগাঁর বদলগাছীতে শতশত বিঘা আলুর গাছ পচাঁকানা রোগে আক্রান্ত ॥ কৃষকদের মাথায় হাত


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ নওগাঁর বদলগাছীতে প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে উপজেলার শতশত বিঘা আলুক্ষেত পচাঁকানা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিকারে কোন আশানুরূপ সুফল না পাওয়ায় আলু চাষীদের মাথায় হাত পড়েছে। প্রতিকারে মাঠ পর্যায়ে তৎপর রয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, উপজেলার ৮ ইউনিয়নে সর্বত্রই আলুক্ষেতে পচাঁকানা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। কোন কোন মাঠে ব্যাপক হারে আক্রান্ত হয়েছে। অপরদিকে পচাঁকানা রোগ মোকাবেলা করতে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর কর্মকর্তা, কর্মচারী কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতে মাঠ পর্যায়ে তৎপর রয়েছে। এই উপজেলা কৃষি নির্ভরশীল এলাকা। রবিশষ্যের মধ্যে অন্যতম ফসল হচ্ছে আলুচাষ। প্রতিটি কৃষকই কমবেশী আলু চাষ করে থাকে।
আবার অনেক কৃষক ৮-১০ বিঘা বা তারও বেশী আলু চাষ করেছে। কৃষকদের লাভজনক ফসল আলুচাষ। অধিকাংশ কৃষকেরা অর্জিত আলু বিক্রি করে সংসারের অধিকাংশ চাহিদা পূরুন করে। এছাড়া সারা বছর তরকারী খাবারের আলু রেখে দেয় কৃষকেরা। এজন্য কৃষকেরা আলু ক্ষেতের উপর অধিক যতœশীল হয়ে থাকে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮ ইউনিয়নে মোট ৪ হাজার ২ শত হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। জমিতে আলুগাছ জমে উঠেছে। কৃষকেরা আলুর বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন। সম্প্রতি হঠাৎ ঘন কুয়াশা ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়তে থাকে। তারপর থেকেই শীত ঝেঁকে বসে ও রাতে ঘনকুয়াশা পড়তে থাকে। কোন কোন দিন বেলা ১২ টার আগে সূর্য্যরে মুখ দেখা যায় না। প্রতিকুল আবহাওয়া নেমে আসার কারনে আলুগাছে পচাঁকানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।
কিছু নামধারী কোম্পানীর নিম্নমানের কীটনাশক বাজার ছেঁয়ে গেছে। যে কীটনাশক ছিটিয়ে কৃষকেরা কোন ফল পাচ্ছে না। এতে কৃষকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতির পাশাপাশি নাজেহাল হয়ে পড়ছে নিম্ন আয়ের বা মধ্যম শ্রেনীর কৃষকেরা।
হলুদ বিহার গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম জানান, সে ১ বিঘা জমি আলু চাষ করেছে। সে আলুতে ইডোমিলগোল্ড সহ ৩ প্রকার কীটনাশক ছিটিয়ে কোন ফল হয়নি। পাত্রাবাড়ী গ্রামের কৃর্ষক মোঃ সহিদুল ইসলাম বলেন সে দেড় বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছে। বিভিন্ন কোম্পানীর কীটনাশক ব্যবহার করার পরও পচাকানা রোগ সারাতে পারেনি। দুধকুড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল মতিন, মোয়াজ্জেম, উজ্জল বেগুন জোয়ার গ্রামের আলু চাষী ছানাউল ইসলাম,সহ এলাকার অর্ধশতাধিক কৃষকের সংগে কথা বললে তারা একই সমস্যার কথা জানান। গত কয়েকদিন সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা আরও হতাশ হয়ে পড়ে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাসান আলী জানান আবহাওয়া জনিত কারনে আলুক্ষেতে পচাঁকানা রোগ দেখা দিয়েছে। তবে যে সকল ক্ষেতে এখনও পচাকানা রোগ ধরেনি সে ক্ষেত্রে কৃষকদের ডাইথেন এম-৪৫, ইন্ডোফিল, মেলোডি ডু-৩, ম্যানকোজেব ছিটাতে হবে এবং আক্রান্ত আলু ক্ষেতে সিকিউর, মেলোডি ডু-৩, ডাইথেন এম-৪৫ মিশ্রিত করে ছিটালে প্রতিকার পাওয়া যাবে।

আত্রাইয়ে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ ঃ বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা


নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ নওগাঁর আত্রাইয়ে এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। ভুট্টার বাম্পার ফলনের আশাবাদী কৃষকরা। বিভিন্ন বিল থেকে বন্যার পানি আগাম নেমে যাওয়া, অনুকুল আবহাওয়া ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় স্বল্প খরচে যথাসময়ে কৃষকরা এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন পাবে বলে অভিজ্ঞ মহল ধারণা করছেন।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবারে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে লক্ষামাত্রা ছাড়িয়ে ৩ হাজার ৮০০হেক্টর জমিতে ভুট্টার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার ভুট্টা চাষে এলাকার কৃষকরা বেশি ঝুঁকে পড়ছে। ভুট্টা চাষে খরচ কম অথচ ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ভুট্টা চাষের আগ্রহ বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। উপজেলার বড়ডাঙ্গা গ্রামের আয়েত আলী বলেন, এলাকার যেসব জমিতে পূর্বে বোরোচাষ করা হত সেসব জমির অনেক গুলোতেই আমারা এবার ভুট্টা করছি। বোরোচাষে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি অথচ যখন ধান কাটা মাড়াই শুরু হয় তখন ধানের বাজারে ধস নামে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচই উঠেনা। কিšুÍ ভুট্টার উৎপাদন খরচ যেমন কম দামও তেমন বেশি থাকে। এ জন্য আমরা ভুট্টা চাষে এবার ঝুঁকে পড়েছি। উপজেলার চৌড়বাড়ি গ্রামের আব্দুল জব্বার বলেন, আমাদের এলাকা আলু চাষের জন্য দীর্ঘদিন থেকে বিখ্যাত। উপজেলার সিংহভাগ আলু আমাদের এলাকায় উৎপন্ন হয়ে থাকে। গতবার আলুচাষে লোকসানের শিকার হয়েছি। মৌসুমের শেষদিকে আলুর দাম বাড়লেও এর মুনাফা কৃষকরা পায়নি। মুনাফা পেয়েছে মজুদদাররা। তাই এবার ভুট্টা চাষ করছি। আশা করি ফলনও বাম্পার হবে। তবে ন্যায্য দাম পেলে কষ্ট সার্থক হবে।উপজেলার ভবানীপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফি উদ্দিন আহম্মেদ জনান, এবার গত বছরের তুলনায় আমাদের এলাকায় ভুট্টার আবাদ অনেক বেশি হয়েছে। আশা করছি ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে।এবং নিয়োমিত কৃষকদের পর্যবেক্ষণ পরামর্শ দিয়ে আসছি।আত্রাই উপজেলা কৃষি অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কেরামত আলী বলেন, এলাকার কৃষকরা যাতে ভুট্টা যথাযথভাবে উৎপাদন করতে পারে এবং স্বল্প খরচে উচ্চ ফলনশীল ভুট্টা উৎপাদন করতে পারে এ জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কৃষকদের নিকট গিয়ে পরামর্শ প্রদান করছি। বিভিন্ন রোগবালাই থেকে ভুট্টাকে মুক্ত রাখতেও পরিমিত পরিমান ঔষধ প্রয়োগের পরামর্শ দিয়ে থাকি।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কে এম কাউছার এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, সকল প্রকার ফসল উৎপাদনে আমরা কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছি। যাতে করে কৃষকরা সহজভাবে কৃষি উপকরণ পায়। বিশেষকরে বীজ, সার ও তেল এর জন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। এবার ভুট্টার ফলন ভালো হয়েছে এবং বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাউকুল: ভাগ্য বদলে দিচ্ছে সাজেকের প্রান্তিক পাহাড়িদের


বিপ্লব তালুকদার:খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
বাউকুলের চাষ করে নিজেদের ভাগ্য বদলেছেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা সাজেকের অর্ধ-শতাধিক পাহাড়ি পরিবার। এবছর সাজেকে বাউকুলের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় সবগুলো গাছের ফল বিক্রিও শেষ পর্যায়ে। উৎপাদিত এসব বাউকুল স্বাদে ও মিষ্টি। সাজেক পাহাড়ের উঁচু নিচু জমিতে এবছর ব্যাপকহারে বাউকুল উৎপাদন হয়েছে।
ফলের ভারে নুয়ে পড়া গাছগুলোকে বাঁশের ঠেকা দিয়ে সোজা করে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ৫ থেকে ১০ ফুট উঁচু প্রতিটি গাছে ঝুলছে পরিপুষ্ট বাউকুল। কোনোটি সবুজ আবার কোনোটিতে হালকা বাদামী রং ধরেছে। ফলের ভারে কোনো কোনো ডাল বাউকুলসহ মাটির উপরেই লতার মতই পরে আছে।
গত ৭ জানুয়ারি রাঙামাটির সাজেকের বাঘাইহাট ডিপু পাড়ার সুজন চাকমার বাউকুল বাগানে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। ৮০শতাংশ জায়গা ঝুরে সুজন চাকমার বাগানে সব মিলিয়ে ১৮৫টি বাইকুল গাছ রয়েছে। সবকটি গাছেই ফলন এসেছে। বড় আকারের এই বাউকুল’র একেকটির ওজন ৩০ থেকে ৫০গ্রাম। স্বাদেও বেশ মিষ্টি।
শুধু সুজন চাকমা নন, সাজকের ডিপু পাড়া, গুচ্ছ গ্রাম নোয়াপাড়া, গ্লোকমা ছড়া, মাচালং এ্যাগোজ্যাছড়ি এলাকায় তাঁর মতো আরও অর্ধ-শতাধিক বাউকুলচাষী রয়েছেন। এ বছর এই এলাকায় বাউকুলের ফলন যেমন বেশি হয়েছে, তেমনি ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে। এই মৌসুমে একেকজন চাষি পঞ্চাশ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত বাউকুল বিক্রি করেছেন।
বাউকুল চাষী সুজন চাকমা জানান, ২০১৪ সালে খাগড়াছড়ির এক নর্সারী থেকে পঞ্চগড়ের বাউকুলবীজ নিয়ে আসেন। ৮০শতাংশ জায়গায় আমি ১৮৫টি চাড়া রুপন করি। ২০১৫ সাল থেকে বাগানে ফল আসা শুরু হয়। প্রথম বছরেই বাগান থেকে ২৫ থেকে ৩০হাজার টাকার মত বাউকুল বিক্রি করেছি। আর এই বাগান করতে প্রথমে আমার ১৫হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এবছর বাগানে বাদুর ও পাখিদের হাত থেকে রক্ষা করতে জাল দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় পুরো বাউকুল বাগান এবং ঔষুধ সহ বাগান পরিস্কার বাবত খরছ হয় ছয় হাজার টাকা মত। টিকমত বাগান পরিচর্যার কারনে বাগানে বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে ফলন্ত বাগন থেকে মাত্র অর্ধেক বাউকুল বিক্রি করে আয় হয়েছে ১লাখ ৭ হাজার টাকা ।প্রতি কেজি বাউকুল প্রথমে ৮০টাকা ও এখন ৬০টাকা কওে বিক্রি করেছি।
সুজন চাকমা আরও বলেন সাজেকরে বাউকুল সমতলে প্রিয় হওয়ায় সাজেক থেকে ও আমার বাগান থেকে বাউকুল চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, রাজধানী ঢাকাতেও নিয়ে যাচ্ছে দীঘিনালা খাগছড়িরর বাউকুল পাইকারি ব্যবসায়ীরা। সুজন চাকমার মত ডিপু পাড়ার শান্তিময় চাকমা, মিলন কার্বারী, খোখন চাকমা তাদের বাউকুল চাষে অভাবনী সাফল্যের বর্নণা দেন এবং বাউকুল চাষ করে অর্থনৈতিক ভাবে ও স্বাভলম্বী হয়েছেন বলে জানিয়েছন তারা।
সাড়া জাগানো এ বাউকুল নিয়েই এখন আলোচনা চলছে সাজেক জুড়ে। কম পুজিতে লাভ বেশি হওয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বাউকুল চাষ। বাম্পার ফলন আর বেশি লাভের আশায় জুম চাষ বাদদিয়ে বাউকুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে পাহাড়ি সাজেক অঞ্চলের কৃষকরা।
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলশনচাকমা বলেন, সাজেকে কয়েক বছর ধরে বাউকুল ফলছে। প্রতিবছর ফলন বেড়েই চলছে। এর মধ্যে ডিপু পাড়া গ্রামে বেশি বাউকুল চাষ হয়। পার্বত্য এলাকার সব চেয়ে সাজেকের বাউকুল বড় স্বাদেও মিষ্টি । এলাকায় মিশ্র ফলজ বাগানেরও প্রয়োজন রয়েছে সরকারি সাহায্য পেলে এখানে বাউকুল চাষ বাড়বে পাশাপাশি কৃষকেরা অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, উপজেলার ৫-৬ একর জমিতে বাউকুল চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সাজেকে ৩-৪একর জমিতে কৃষকেরা আমাদের কৃষি পরামর্শ ক্রমে এই চাষ করে, এবছর বাম্পার ফলন হয়েছে বলে বাউকুল চাষীদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। উপজেলার সাজেকেই প্রথম বাউকুল চাষ শুরু হয় এবং সেখানের আবহাওয়া ও মাটি উপযোগী হওয়ায় এর ফলন বেশী হচ্ছে।

আমন ধানে ক্ষতিকর বাদামী গাছ ফড়িং

আমন ধানে ক্ষতিকর বাদামী গাছ ফড়িং

লেখক: মুহাম্মদ শাহাদৎ হোসাইন সিদ্দিকী  |  

কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ। মাঠে মাঠে আমন ধান। সবুজ এ ধানের অন্যতম শত্রু বাদামী গাছ ফড়িং। এরা পাতার খোল, পাতা ও পাতার মধ্যশিরার ভেতরে ডিম পাড়ে। চার থেকে নয় দিনের মধ্যে ডিম থেকে নিম্ফ বের হয়। প্রথম পর্যায়ে নিম্ফগুলোর রঙ সাদা থাকে এবং পরে বাদামী রঙের হয়। নিম্ফ থেকে পূর্ণবয়ষ্ক ফড়িং এ পরিণত হতে ১৪ থেকে ২৬ দিন সময় লাগে। বীজতলা থেকে শুরু করে ধান পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত যেকোনো সময়ে এ পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে। তবে ধানগাছে  কাইচথোড় আসলে এর আক্রমণ বেড়ে যায়। এক জোড়া বাদামী গাছ ফড়িং ৩ থেকে ৪ প্রজন্মে ৩৫ লক্ষ পোকার জন্ম দিতে পারে এবং ৫০০০ মাইল পথ অতিক্রম করতে পারে। এরা শরীরের ওজনের তুলনায় ১০ থেকে ১২ গুণ বেশি খাবার খায়। দ্রুত বংশ বৃদ্ধির কারণে মাঠের পর মাঠ ফসলের ২০ থেকে ১০০% পর্যন্ত ক্ষতি করতে পারে।

আক্রমণের লক্ষণ: বাদামী গাছ ফড়িং-এর বাচ্চা ও পূর্ণবয়ষ্ক উভয় পোকা দলবদ্ধভাবে ধান গাছের গোড়ার দিকে অবস্থান করে গাছ থেকে রস খায়। আর এ কারণে গাছ দ্রুত শুকিয়ে যায়। বাদামী গাছ ফড়িং -এর তীব্র আক্রমণে গাছ প্রথমে হলুদ ও পরে শুকিয়ে যায়, ফলে দূর থেকে পুড়ে যাওয়ার মত বা বাজ পড়ার মত দেখায়। এ ধরনের ক্ষতিকে ‘হপার বার্ণ’ বলে।

অনুকূল পরিবেশ:১. অধিক সংখ্যক কুশি উত্পাদনশীল উচ্চ ফলনশীল ধানের চাষ করলে; ২. জমি অসমতল হলে নিচু স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। প্রখর সূর্যের তাপে উক্ত পানি বাষ্পিভূত হয়ে উষ্ণ ও আর্দ্র অবস্থা তৈরি হয় যা বাদামী গাছ ফড়িং -এর বংশবৃদ্ধি ও আক্রমণের জন্য অনুকূল পরিবেশ; ৩. চারা ঘন করে রোপণ করলে, জমি স্যাঁতস্যাঁতে হলে এবং জমিতে দাঁড়ানো পানি থাকলে; ৪. জমিতে বিকল্প পোষক আগাছা থাকলে; ৫. অসম হারে নাইট্রোজেন সার (ইউরিয়া সার) ব্যবহার করলে; ৬. বাতাস চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে।

দমনে করণীয়: ১. এলাকার সকল চাষিকে দলবদ্ধভাবে পোকা দমনের ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে; ২. এ কাজে আইপিএম/আইসিএম ক্লাবসহ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে সম্পৃক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; ৩. প্রতি ব্লকে দলীয় আলোচনার মাধ্যমে সচেতনা সৃষ্টি এবং বাদামী গাছ ফড়িং দমনের কলাকৌশল কৃষকদের মাঝে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে; ৪. বীজতলায় এ পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে, সে জন্য নিয়মিত বীজতলা পরিদর্শন, আলোর ফাঁদ পেতে পোকার উপস্থিতি নির্ণয় করতে হবে; ৫. জমির আইল পরিস্কার রাখতে হবে; ৬. পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা রাখতে হবে। আক্রান্ত জমির পানি সরিয়ে দিয়ে ৭ থেকে ৮ দিন জমি শুকনো রাখতে হবে; ৭. আক্রান্ত জমিতে ২ থেকে ৩ হাত দূরে দূরে ‘বিলিকেটে’ জমিতে সূর্যের আলো ও বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করতে হবে; ৮. শুধুমাত্র ইউরিয়া ব্যবহার না করে সুষম মাত্রায় ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ব্যবহার করতে হবে। ইউরিয়া কম ব্যবহার করতে হবে (ধাপে ধাপে ব্যবহার করতে হবে); ৯. বালাই সহনশীল জাতের (ব্রিধান ৩১, ব্রিধান ৩৫, বিনা ধান ৬) চাষ করতে হবে; ১০. জমিতে হাঁস ছেড়ে পোকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে; ১১. স্বল্প জীবনকালীন ফসলের চাষ করতে হবে এবং আক্রান্ত জমিতে ইউরিয়া সার প্রয়োগ আপাতত বন্ধ রাখতে হবে; ১২. চারা ঘন করে না লাগিয়ে সারি থেকে সারি ২৫ থেকে ৩০ এবং চারা থেকে চারা ২৩ থেকে ২৫ সে.মি. দূরত্বে রোপণ করতে হবে; ১৩. সন্ধ্যাবেলা আক্রান্ত জমি থেকে একটু দূরে আলোর ফাঁদ জ্বালিয়ে পোকা দমনের ব্যবস্থা করতে হবে; ১৪. প্রতি গোছায় ২ থেকে ৪টি গর্ভবতী বাদামী গাছ ফড়িং বা ৮ থেকে ১০টি নিম্ফ দেখা গেলে অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় ধান গাছের গোড়ার দিকে ভালভাবে সেপ্র করতে হবে; কিন্তু গাছে যদি একটি করে মাকড়সা থাকে তবে কীটনাশক ব্যবহার করা ঠিক হবে না।

কৃষি ব্যবস্থা ও পরিবেশ হুমকীর সম্মুখীন ২৭ বছরেও গঙ্গাবাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি


এনামুল হক রাসেল,কুষ্টিয়া থেকে ঃ কৃষি সেচ ব্যবস্থা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য দীর্ঘ ২৭ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি গঙ্গাবাঁধ প্রকল্প। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা তালবাড়িয়া পদ্মা নদীর উপর প্রস্তাবিত গঙ্গাবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প ফাইলটি দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে লাল ফিতায় বন্দি হয়ে আছে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেরর অর্থনীতি সেচ সুবিধা, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন ও কৃষি উৎপাদনে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে।
জানাযায়, বন্যা ও খরা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ও ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তর ৮টি জেলার ৬১ লাখ ৪০ হাজার একর কৃষিজমি সহ দেশের সর্ববৃহৎ গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের ৩ লাখ একর জমিতে আধুনিক চাষাবাদ সেচ সুবিধা প্রদান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, খরা মওসুমে লবণাক্ততা রোধে ও ভূগর্ভস্থ পানির স্বাভাবিক রাখতে ১৯৬৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষজ্ঞ দল গঙ্গাবাঁধ নির্মাণের জন্যে পর্যবেক্ষণ শেষে নির্মাণকাল নির্ধারণ করে। এ প্রকল্পের ব্যয় ধার্য করা হয় ৭ হাজার ৩শ’ ২৫ কোটি টাকা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশের পক্ষে এ বৃহৎ প্রকল্প বা¯Íবায়ন অসম্ভব হয়ে পড়ে। কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর রাজশাহী ও পাবনার উপর দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ২৯ টিরও বেশি নদী, হাজার হাজার পুকুর, অসংখ্য খাল বিল বাঁওড় খরা মওসুমে পানি শূন্য হয়ে পড়ে। ১৯৮০ সালের প্রথমদিকে তৎকালনী বিএনপি সরকার গঙ্গাবাঁধ নির্মাণ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তৎকালীন বিদ্যুৎ পানি সম্পদ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কাজী আনোয়ারুল উল হক ১৯৮০ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানার বাহিরচরে গঙ্গাবাঁধের ভিত্তিপ্র¯Íর স্থাপন করেন। এখানে গেষ্ট হাউজ ও প্রকল্পের গবেষণা মডেল তৈরী করেন। সময়ের ব্যবধানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পদ্মা নদীর ভাঙনে মডেলের কিছু অংশ বিলিন হয়ে গেছে। বাঁকী যেটুকু রয়েছে তাও গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। তথ্যসুত্রে জানা যায়, ১৯৮০ সালের পরিকল্পনা মোতাবেক গঙ্গাবাঁধের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয় ৬ হাজার ৯ম ৯০ ফুট। ভারতের ফারাক্কার হিসাবে পরিচিত গঙ্গা ব্যারেজের গেটের সংখ্যা ছিল ১শটি। ৬০ ফুট ও ৩৫ ফুট দৈর্ঘ্য প্রস্থ বিশিষ্ট এ সকল গেটে পানির নির্গমণ ক্ষমতা ধরা হয়েছিল ২৫ লাখ কিউসেক। একই সাথে বিশাল জলধারা সৃষ্টি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। গঙ্গা ব্যারেজের মূল উদ্দেশ্য ছিল পদ্মা নদীর ডান পাশ দিয়ে বয়ে চলা মাথা ভাঙ্গা, চন্দনা ও গড়াই নদীকে খাল হিসাবে ব্যবহার করে বিস্তীর্ণ এলাকায় সেচ সুবিধা ও পানির হিস্যা পৌঁছে দেয়া। ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালের মাধ্যমে গড়াই, নবগঙ্গা, কুমার, চিত্রনদী, আড়িয়াল খাঁ ও কপোতাক্ষ নদে রসারা বছর পানি প্রবাহ ঠিক রেখে এসব এলাকায় চাষাবাদ পদ্ধতির উন্নয়নসহ এ অঞ্চলের পানি প্রবাহ ঠিক রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পটি দীর্ঘ ২৭ বছরেও সম্পন্ন হয়নি। ফারাক্কার বিরুপ প্রভাব ও বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ন এলাকা ও জনপদ রক্ষার জন্য ফারাক্কা বাঁধের বিকল্প হিসেবে গঙ্গা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা আজ এ অঞ্চলের গণ মানুষের দাবীতে পরিণত হয়েছে। এ গঙ্গাবাঁধ প্রকল্পটি চালু হলে দক্ষিণ পশ্চিামাঞ্চলের লাখ লাখ একর জমি সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। কৃষক ও কৃষি ব্যবস্থা চাঙ্গা হবে। গঙ্গা পানির ফলে এ এলাকার ৪ কোটি মানুষ গঙ্গা নদীর পানির সুফল ভোগ করবে। কুষ্টিয়া জেলার ৮ দশমিক ১৬৪ লাখ একর, বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার ১১ দশমিক ৬৪ একর, বৃহত্তর যশোর জেলার ১৫ দশমিক ১৮১ লাখ, বৃহত্তর খুলনা জেলার ৬ দশমিক ৭৪৮ লাখ একর, বৃহত্তর রাজশাহী জেলার ১২ দশমিক ১৬৩ লাখ একর জমিতে ৩ ফসলী আবাদসহ দেশের শতকরা ৩৭ ভাগ কৃষি শিল্প মৎস্য ব্যবস্থঅর উন্নয়নে নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে। দেশের বিস্তীর্ন এলাকা প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও মরুময়তা থেকে রক্ষার জন্য এবং কষি ব্যবস্থার উন্নয়নের গঙ্গাবাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা এতদ্বাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবী। তাই দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে গঙ্গাবাঁধ প্রকল্প বা¯Íবায়নে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জনসাধারণের।

নওগাঁর ধামইরহাটে স্বেচ্ছাশ্রমে ২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ


নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর ধামইরহাটে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে দুই কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে উপজেলার ১নং ধামইরহাট ইউনিয়নের অন্তর্গত মইশড় জামে মসজিদ থেকে জগদল আব্দুল লতিফ মাস্টারের বাড়ী পর্যন্ত প্রায় ২কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে দুই গ্রামের প্রায় ১ হাজার ৫শ’ জন কোদাল ও ডালী নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ গ্রহণ করেন।
এ সময় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ধামইরহাট বনবিট কর্মকর্তা লÿণ চন্দ্র ভৌমিক, বিশিষ্ট সমাজসেবক দেওয়ান আলী আহমেদ, তনছের আলী মাস্টার, ইউপি সদস্য সাহানাজ পারভীন, মাজেদুর রহমান, মিজানুর রহমান, জাকারিয়া হোসেন, এনামুল হক, বিশিষ্ট আ’লীগ নেতা আমির হোসেন, দেলদার হোসেন ফকির, আব্দুল বারিক প্রমুখ।

নওগাঁয় বালুবাহী ও খালি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক সহ আহত-৫
নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় বালুবাহী ও খালি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই ট্রাকের চালক সহ আহত হয়েছে অন্তত ৫ জন। দূর্ঘটনার পর থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধথাকায় দূর্ভোগের শিকার হন যাত্রীরা।
নওগাঁ-মহাদেবপুর পাকা সড়কের নওহাটামোড়-সরস্বতীপুর বাজারের মাঝামাঝি আসাদ আলীর চাউল কলের সামনে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মহাদেবপুর থেকে নওগাঁ অভিমুখি বালুবাহী ট্রাক চট্রগ্রাম (ন) ৪৪৪৬ ও নওগাঁ থেকে মহাদেবপুর অভিমুখি খালি ট্রাক ফেনি (ট) ১১-০০১৮ নাম্বার নিয়ন্ত্রন হারিয়ে মুখোমুখি এ সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষে দুটি ট্রাকই দুমড়ে-মুচড়ে সড়কের উপরই পড়ে থাকে খবর পেয়ে সাথে সাথে নওহাটা পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই আমিনুল দূর্ঘটনাস্থলে পৌছে স্থানিয়দের সহযোগীতায় চালক সহ আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। এস আই আমিনুল তাৎক্ষনিকভাবে আহতদের নাম ঠিকানা জানাতে পারেননি। সড়ক দূর্ঘটনার পর থেকে ঘটনাস্থলের দুপার্শ্বে যাত্রবিাহী বাস সহ শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ায় চরম দূর্ভোগের মধ্যে পড়েন সড়কে চলাচলকারী লোকজন।

মেহেরপুরে কলাচাষীদের মাঝে ৬ লাখ ১০হাজার টাকা ঋন বিতরন

আল-আমীন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ঃ
কৃষকদের কলা চাষে উদ্বুদ্ধ করণে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড মেহেরপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে ৩৩জন কলা চাষীদের মাঝে ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা ঋন বিতরন করা হয়েছে আজ বিকালে কার্যালয় মিলনায়তনে ঋন বিতরন সভার চাষীদের হাতে এই ঋনের টাকা তুলে দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলার বন্দর পূর্বপাড়া কৃষক সমবায় সমিতির সভাপতি শরিফুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, মেহেরপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ের পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রত্মা রানী পাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা কাওসার আলি। বক্তব্য রাখেন বিআরডিবির পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম ও সমিতির ম্যানাজার বাবুল আক্তার।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »