Category: কৃষি

মহাদেবপুরের বেগুন যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায় অধিক লাভজনক হওয়ায় ধান ছেড়ে বেগুন চাষে ঝুকছে নওগাঁর মহাদেবপুরের কৃষকরা


নওগাঁ প্রতিনিধিঃ অধিক লাভজনক হওয়ায় ধান ছেড়ে বেগুন চাষে ঝুকছে নওগাঁর মহাদেবপুরের কৃষকরা। বেগুন চাষ করে একদিকে কৃষকরা যেমন আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন অন্যদিকে দেশের সবজির চাহিদা পুরনে উল্লে¬খযোগ্য ভুমিকা রাখছেন। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার মহাদেবপুর সদর , রাইগাঁ , চেরাগপুর ও এনায়েতপুর ইউনিয়নে গত তিন বছর ধরে বোরো মওসুমে তাদের জমিতে বোরো ধান চাষ না করে বেগুন চাষ শুরু করেছেন। অধিক লাভজনক হওয়ায় এলাকার প্রত্যেক কৃষকই নিন্মে ৫ কাঠা থেকে সর্বোচ্চ দুই বিঘা পর্যন্ত জমিতে বেগুনের চাষ করেছেন। এসব এলাকায় মাঠে মাঠে এখন কেবল বেগুনের ক্ষেত। কৃষকরা যশোহরের ইসলামপুরী এবং সাদা গুটি জাতের বেগুন চাষ করেছেন। উপজেলার নাটশাল গ্রামের হানিফ ২৫ কাঠা জমি প্রতিবছর ১৫ হাজার টাকায় ৫ বছরের জন্য লিজ নিয়ে গত তিন বছর ধরে বেগুন চাষ করে তার সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে। ফটিকপুর গ্রামের নওশাদ আলী তার নিজস্ব এক বিঘা জমিতে করেছেন বেগুনের ক্ষেত। গোপালপুর গ্রামের জামাল উদ্দিন তার ১০ কাঠা জমিতে এবং নাটশাল গ্রামের একরামুল হক ১৫ কাঠা জমিতে বেগুনের চাষ করেছে । এসব বেগুন চাষীরা জানিয়েছেন, বেগুন চাষে বোরো আবাদের চেয়ে পানি কম লাগে। সার ও শ্রমিক খরচও অনেক কম। তুলনামুলক ভাবে বাজারে মুল্য বেশী পাওয়া যাচ্ছে। এক বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করলে সব মিলিয়ে খরচ পড়ে প্রায় ১২/১৩ হাজার টাকা। ধান পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ১৮ থেকে ২০ মন। প্রতি মন ৭শ টাকা হিসেবে উৎপাদিত ধানের বাজার মূল্য সর্বোচ্চ ১৪ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ বাদ দিলে কৃষকের ঘরে লাভ তেমন কিছুই আসে না। অপরদিকে কৃষকদের বিবরন অনুযায়ী এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করতে সর্বোচ্চ খরচ পড়ে ২৬/২৮ হাজার টাকা। সেখানে পুরো মওসুমে তা বেগুন পাচ্ছেন প্রায় দেড়শ মন। বর্তমান বাজার অনুযায়ী গড়ে প্রতি মন বেগুন পাইকারী পর্যায়ে বিক্রি করছেন ৭শ টাকা। খরচ বাদ দিয়ে কৃষকরা ৭৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার পর্যন্ত লাভ করছেন। যার ফলে যে এলাকায় কোন দিন সবজি চাষ সম্ভব ছিল না সেখানকার কৃষকরা বেগুন চাষে এগিয়ে এসেছেন। তারা জানান আমন ধানের আবাদ ঘরে তোলার পর বোরো চাষের চিন্তা না করে বেগুন চাষের জন্য জমি প্রস্তুত শুরু করেন। বেগুন চাষের পর আবার তারা মনযোগ দেন আমন চাষের প্রতি। বেগুন চাষের পর আমন চাষের ক্ষেত্রে কৃষকদের দুটি লাভ হয়। এক্ষেত্রে জমিতে চাষ ও সার কম দিতে হয়। সেই কারনে সারের খরচও কমে যায় বলে সার্বিক ভাবে আমন চাষের উৎপাদন খরচও কম পড়ে। এতে কৃষকরা বেগুন চাষে অধিক লাভবান হচ্ছে। বেগুন বিক্রি করতে কৃষকদের কষ্ট করে হাটে বাজারে যেতে হয় না। পাইকারী কাঁচা তরকারী ব্যবসায়ীরা সরাসরি ক্ষেত থেকে কিনে নগদ টাকা দিয়ে যায়। এতেও তারা অনেক বেশী লাভবান হচ্ছেন। পাইকারী বেগুন ক্রেতারা জানিয়েছেন, এখানকার বেগুন কিনে নিয়ে তারা নওগাঁ জেলা পর্যায়ের বাজার ছাড়াও বগুড়া, রাজশাহী, সিলেট, চট্রগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করেন। এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ একে এম মফিদুল ইসলাম জানান, এ বছর উপজেলায় মোট ৪২০ হেক্টর জমিতে বেগুনের চাষ হয়েছে। যা গত বছর বেগুন চাষের জমির পরিমান ছিল সাড়ে ৩শ হেক্টর। অবশ্যই বোরো চাষের চেয়ে বেগুন চাষ অধিক লাভজনক হিসেবে কৃষকদের নিকট পরিলক্ষিত হয়েছে। বেগুন চাষে পানি কম লাগে। সেচ খরচ একেবারে নেই বললেই চলে। একদিকে উৎপাদন খরচ কম অন্যদিকে ভালো বাজার মূল্য কৃষকদের বেগুন চাষে উৎসাহিত করে তুলছে। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ কৃষকদের পাশে থেকে তাদের নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

আত্রাইয়ে কাঁঠালের মুচি পঁচা রোগে উদ্বিগ্ন চাষী


নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ নওগাঁর আত্রাইয়ে কাঁঠালের মুচি পঁচা রোগ ব্যাপক হারে দেখা দেওয়ায় দুশ্চিতা করছেন চাষীরা। এ রোগের প্রতিকার সম্পর্কেও তারা ভালো ভাবে জানেন না। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের কাঁঠাল গাছে গাছে এ রোগ দেখা দিয়েছে। তবে কৃষিবিদের মতে, দেশের প্রায় সব অঞ্চলে প্রচুর পরিমানে কাঁঠাল উৎপাদন হলেও এর বড় একটি অংশ মুচি পঁচা রোগে নষ্ট হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা, বিশ্বে প্রায় ৫০ প্রজাতির কাঁঠাল রয়েছে। এসব প্রজাতির অনেক গাছেই খাওয়ার উপযোগী উৎপন্ন করে। এ ফল কাচা ও পাকা দুই অবস্থাতে খাওয়া যায়। তবে এ জাতীয় ফলের ১৩টি রোগ শনাক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি ছাত্রাকজনিত, একটি ভাইরাসজনিত, একটি শেওলাজনিত, একটি পরগাছাজনিত এবং ২টি শরীরবৃত্তীয় কারণজনিত রোগ। আমাদের দেশে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে কাঁঠালের গাছে গাছে ফুল বা মুচি আসতে শুরু করে। এসব মুচি থেকে কাঁঠাল হয়। মুচির মধ্যে স্ত্রী ও পুরুষ মুচি রয়েছে। পুরুষ মুচি থেকে কাঁঠাল হয় না। পরাগায়নের পর পুরুষ মুচিদের কাজ সম্পন্ন হয়। স্ত্রী মুচি আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে পুরুষ মুচিগুলো শুকিয়ে বা পঁচে ঝরে যায়। কিন্তু সমস্যা হল যখন পুরুষ-স্ত্রী মুচি নির্বিচারে পঁচতে শুরু করে আর এটি হয় রোগের কারণ। রোগটির নাম কাঁঠালের মুচি পঁচা রোগ।
এ ব্যাপারে উপজেলার সিংসাড়া গ্রামের মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা গায়ের মানুষ, তাই আমরা সব কিছু বুঝে উঠতে পারিনা। কাঁঠালের মুচি পঁচা রোগের লক্ষণ ও এ রোগের প্রতিকার সম্পর্কে আমরা না জানার কারণে প্রতি বছর বড় ধরনের কাঁঠাল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। চলতি বছরেও আমার কাঁঠাল গাছে ব্যাপক হারে মুচি পঁচা রোগ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষক কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, কাঁঠাল গাছে মুচি পঁচা রোগ দেখা দিলে পঁচা মুচি মাটিতে না ফেলে গাছ থেকে অনেক দুরে নিরাপদ স্থানে মাটিতে পুঁতে ফেললে রোগ জীবাণু বেশি ছড়াতে পারবে না। এ রোগের উপর কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে আসছে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা বৃন্দ।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম কাউছার হোসেন জানান, এ রোগের আক্রমণ প্রথমে মুচি বা কচি ফলের উপর নরম ভেজা ভেজা ছোট ছোট বাদামী দাগ পড়ে। পরে এ দাগ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এক সময় এ দাগ কালো ছাতার মতো আবরণে ঢেকে যায়। তিনি আরো বলেন, এ রোগের জীবাণু পঁচা, আবর্জনা, কাঁঠাল গাছের সরা-পঁচা, ডাল-পালা ও আগাছা ইত্যাদির মধ্যে বেঁচে থাকে। তাই কাঁঠাল গাছ ও নিচের জমি পরিচ্ছন্ন রাখলে এ রোগ অনেক কম হয়। এছাড়াও আক্রমণ ফল ভিজা বস্তায় জড়িয়ে তুলে মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করতে হবে। এতে করে মুচি পঁচা রোগ অনেকাংশে কমে গিয়ে ভালো ফল আসবে।

রাণীনগরে কৃষকদের মাঝে ফুটপাম্প মেশিন বিতরন


নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে কৃষি অফিসের উদ্যোগে উপজেলার ১০জন কৃষকদের মাঝে ফুটপাম্প মেশিন বিতরন করা হয়েছে। সোমবার খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি- ২য় পর্যায় শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে শতকরা ৫০% উন্নয়ন সহায়তায় উপজেলার কৃষকদের মাঝে এই ফুটপাম্প মেশিন বিতরণ করা হয়। কৃষকরা সহজেই নিজেরা এই মেশিনের মাধ্যমে ফলগাছসহ অন্যান্য ফসলের জমিতে বালাইনাশক স্পে করতে পারবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান পিন্টু, একডালা ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম, কালিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু, কৃষক জাহাঙ্গির আলম, মোবারক আলী, রশিদুল ইসলাম প্রমুখ।

কালের আবর্তে ঝিনাইদহ জেলার গ্রাম থেকে হারিয়ে গেছে গ্রামীণ জনপদের বাংলার ঐতিহ্যবাহী হুক্কা


ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
কালে কালে বদলায় সমাজ হারিয়ে যায় অতীত ঐতিহ্য। কালের আবর্তে ঝিনাইদহ জেলার গ্রাম থেকে হারিয়ে গেছে গ্রামীণ জনপদের বাংলার ঐতিহ্যবাহী অনুসঙ্গ হুক্কা। ৫০/৬০ দশকেও জনপ্রিয় ধুমপানের মাধ্যম ছিল হুক্কা। এক সময় বঙ্গদেশের কৃষক-শ্রমিক বাড়ির ওঠোনে সকালে ও বিকালে কাজের ফাঁকে আয়েসী ভঙ্গিতে এক ছিলিম তামাকের সাথে নারিকেলের আশে আগুন ধরিয়ে তা ছিলিমে দিয়ে পরমান্দে হুক্কা টানত। এতে কৃষকরা ক্লান্তি কেটে পরিতৃপ্ত পেত। জমিদার জোতদার ও গ্রামের মোড়লরা নানাভাবে তামাক তৈরি করে হুক্কায় টান দিয়ে পরম আনন্দে তৃপ্তির স্বাদ নিত।অধিকাংশ শ্রমিকরা নিজের ক্ষেতের তামাক শুকিয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে তাতে নালী মিশিয়ে ছিলিমে করে ধুমপান করত। ঝিনাইদহ জেলার বংকিরা গ্রামের বদর উদ্দিন (৭০) বলেন তিনি একটানা ৪৫ বছর ধরে হুক্কা দিয়ে ধূমপান করেন। তিনি বলেন, আগে গ্রামের সবাই হুক্কা টানত। এখন হুক্কা ছেড়ে বিড়ি সিগারেট ও গাঁজা খায়। এই গ্রামে এখন আমি একাই হুক্কা টানি। হুক্কার নেশায় যারা অভ্যস্ত তারা হুক্কা ছাড়া থাকতে পারবে না। সকালে ঘুম থেকে ওঠে হুক্কার পানি বদলায়ে না খাইলে আমার পেট পরিষ্কার হয় না। আমার হুক্কা আমি নিজেই তৈরি করি।কিভাবে হুক্কা তৈরি করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঝুনা নারিকেলের একটা মালাই দুটো ফুটো করে তার উপর কারুকার্য করা একটি কাঠের নল তৈরি করে তাতে মাটির তৈরি ছিলিম বা কলকি দিয়ে নারিকেলের মালাই ভর্তি পানি ভরালেই হুক্কা হয়ে যায়। আগের আমলে জমিদার জোতদারা পিতলের হুক্কা ব্যবহার করত।এখনও শখে হুক্কা টানেন এমন একজন জানালেন, দৈনিক ১০ হতে ১২ বার হুক্কা সেবন করেন তিনি। হুক্কা সেবন করতে খরচ কম নয়। এক সময় স্থানীয় বাজারে ‘তওমিটা’ পাওয়া গেলেও এখন আর পাওয়া যায় না। এখন এক কেজি তওমিটা ১০০ টাকা। তাও এলাকার একটি নির্দিষ্ট দোকান থেকে ‘তওমিটা’ আনতে হয়। এদিকে দৈনিক সকালে হুক্কার পানি বদলাতে হয়। আর হুক্কার টিক্কা তৈরি করতে হয় শিম গাছের লতাকে পুড়িয়ে ও ভাতের মাড় দিয়ে। বিড়ি-সিগারেট থেকে হুক্কা সেবন ভালো কি না, জানতে চাইলে তিনি জানান, পাকিস্তান আমলে মহাজনের ঘরে দিনমজুরের কাজ করার সময় থেকে হুক্কা সেবন করে আসছি। সেজন্য এখনও সেবন করি। তবে হুক্কার স্বাদই আলাদা। হুক্কা সেবন করলে পেটে ভালো লাগে। বিড়ি-সিগারেট থেকে খরচ অনেক বেশি পড়ে। তিনি জানান, এক সময় ঘরে ঘরে হুক্কা সেবন চলতো। এখন হাজারে এক হুক্কা সেবন করা চোখে পড়বে। হুক্কা আর চোখে পড়ে না। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই খাওয়া তো দূরের কথা চোখেই দেখেনি হুক্কা। হুক্কার জায়গা দখল করে নিয়েছে বিড়ি, সিগারেটসহ অন্যন্য মাদকদ্রব্য। বর্তমান প্রজন্মের জন্য হুক্কা একটি আশ্চর্য বিষয়। এদিকে বর্তমানে বিভিন্ন মানুষের কাছে হুক্কা থাকলেও এর উপাদানগুলো বাজারে না পাওয়ার কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে হুক্কা সেবন ছেড়ে দিয়েছে। সে সময় গ্রামের সাংস্কৃতির প্রাচীন নিদর্শন ছিলো হুক্কা। মজুর থেকে শুরু করে জমিদার বাড়ি পর্যন্ত হুক্কার প্রচলন ছিল সর্বত্রই। বাহারি ধরনের হুক্কা তৈরি হতো নারকেলের মালাই দিয়ে। তার সঙ্গে সাবধানে লাগানো হতো কারুকার্য করা কাঠের নল আর তার ওপর মাটির ছিলিম বা কলকি বসিয়ে তামাক সাজানো হতো। নারকেলের মালাই ভর্তি থাকতো পানি। মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে সবাই হুক্কা খেতো। শীতের সকালে মহাজন বাড়ির কাচারি থেকে শুরু করে জমিদার বাড়ির কাচারি পর্যন্ত হুক্কা ছিল নিজস্ব জায়গায়। পালাবদল করে হুক্কা খাওয়া চলতো সবার মাঝে। জমিদার বাড়ির এবং স্বচ্ছল পরিবারগুলোতে হুক্কা ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। সেসব হুক্কায় থাকতো লম্বা পাইপ আর সেই লম্বা পাইপের মাথায় থাকা হুক্কা তামাক থাকতো। নলটি মুখে দিয়ে আয়েশ করে হুক্কা টানতা মহাজনরা। হুক্কার উপকারিতাও ছিল অনেক। দেহের পেটের পীড়া, শরীরের আঘাতসহ নানাবিধ রোগে হুক্কার পানি ছিল মহৌষধ। গরুর ক্ষুরা রোগের চিকিৎসা করা হতো। হুক্কার স্থান দখল করে নিয়েছে বিড়ি-সিগারেট আর প্রত্যন্ত অঞ্চলে তামাক দিয়ে তৈরি এক ধরনের নেশা। আধুনিক যুগের ছেলেমেয়ে হুক্কা দেখেনি, তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পরিচয়ের জন্য হুক্কা সংরক্ষণ খুবই জরুরি।

আত্রাইয়ে টমেটো চাষ করে সফল এলাহী


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ শীতকালীন টমেটো চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার পকুরপাড়া গ্রামের সফল কৃষক এলাহী সরদার। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ৪০ শতাংশ জমিতে শীতকালীন টমেটো চাষ করেছেন। ৪০ শতাংশ জমিতে প্রায় ৪ হাজার টমেটোর চারা রোপন করেছিলেন তিনি।
গত নভেম্বর মাসের শেষের দিকে চারা রোপন করে ৫০ দিনের পরিচর্যায় টমেটোর গাছে ফুল আসে এবং ধরা শুরু হয়। আরো এক মাস পর্যন্ত টমেটো পাওয়া যাবে এ জমি থেকে। বর্তমানে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ কেজি পাকা টমেটো বাজারে বিক্রি করছেন এলাহী। এ পর্যন্ত ১৮/২০ মণ টমেটো বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি। বারি হাইব্রিড টমেটো-৪ জাতের এ টমেটো চাষে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়েছেন তারাটিয়া ব্লকের ভারপ্রাপ্ত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফি উদ্দিন আহম্মেদ। ওই এলাকার সবজি চাষী হিসাবে ইতোমধ্যে সুনাম অর্জন করেছেন এলাহী। টমেটো চাষে তার সফলতা দেখে এলাকার আরো অনেকে টমেটো চাষ করে সফলতা অর্জন করেছে বলে জানা যায়।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বর্তমান তার বয়স ৭৫ বছর। আর তিনি সারা বছর জমিতে বিভিন্ন রকম সাক-সবজি চাষ করে থাকেন। প্রতি বছরের মতো এবারও তার জমিতে টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। নিজস্ব কিছু পুঁজি খাটিয়ে সারা বছর রোদ বৃষ্টিতে ভিজে চাষাবাদ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলার তারাটিয়া ব্লকের ভারপ্রাপ্ত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফি উদ্দিন জানান, শাহাগোলা ইউনিয়নের সফল কৃষক এলাহী সারাটা বছর তার জমিতে বিভিন্ন সাক-সবজির চাষ করে থাকেন। কৃষক এলাহীকে এ ব্যাপারে বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এম কাউছার হোসেন জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর আত্রাইয়ে উচ্চ ফলনশীল আগাম জাতের টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শসহ বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। এ জন্য আত্রাই উপজেলার কৃষক দিন দিন টমেটো চাষে আগ্রহী হচ্ছে।

বীরগঞ্জে এসিআই কোম্পানীর আলু চাষ করে কৃষকেরা বিপাকে

বীরগঞ্জে এসিআই কোম্পানীর আলু চাষ করে কৃষকেরা বিপাকে
এন.আই.মিলন, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের আওলাকুড়ি গ্রামে চলতি আলু মৌসুমে প্রায় ৫৫ একর জমিতে এসিআই কোম্পানির হয়ে ডায়মন্ড আলু বীজ উৎপাদনের লক্ষে আলু চাষ করে বিপাকে পরেছে।
কৃষকদের সঙ্গে প্রতারনার সংবাদ পেয়ে সরজমিনে গেলে ২০/২৫ জন কৃষকের স্বাক্ষরিত ১ অভিযোগে জানাযায়, এসিআই কোম্পানি আলুর বীজ উৎপাদন করার লক্ষে কৃষকদেরকে ভুল বুঝিয়ে ভিত্তি বীজ দেওয়ার কথা বলে প্রত্যায়ীত/খাওতা বীজ দিয়ে প্রতারনা করেছে। এ সময় কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠ কর্মকর্তা আবু তাহেরের উপস্থিতিতে কৃষক আশাড়–, শহিদুল, পরেশ, খলিলুর সহ স্বাক্ষরিত কৃষকরা জানায়, প্রতারনা করে খাওতা/প্রত্যায়ীত বীজ দেওয়ার ফলে আলুর বাম্পার ফলন না হয়ে আলু হয়েছে কম ও দাগী। বীজ দেওয়ার সময় খারাপ বীজ কৃষকরা দেখালে কোম্পানির কর্মকর্তারা তা সরিয়ে নিয়ে যাওয়া মোতই ঘটনা ঘটে। বেশ কয়েক জন কৃষক অভিযোগে করে বলেন ১ বিঘা আবাদে রোকিং করে ১৬/১৭ শত গাছ তুলা হয়েছে। কিছু জমি প্রজেক্টে থাকার পরেও উদ্ধতন কর্তৃপক্ষ পরিদর্শনে গেলে তাদেরকে ভুল বুঝিয়ে কৃষকদের নিজেস্ব আবাদ বলে চালিয়ে দিয়ে প্রতারনার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
এব্যাপারে বীরগঞ্জ জোন ইনচার্জ মাসুদুর রহমান মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানায় আলুর সমস্যা যা হয়েছে তা প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও কৃষকদের কারনেও হয়েছে, তবুও আমরা চেষ্টা করছি সমাধানের। তবে কৃষকেরা কোন সমস্যা করলে কোম্পানি আইনে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
অপরদিকে ভুক্তভুগী কৃষকরা দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য, বীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান, বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সুষ্ট সমাধান কামনা করেন

সড়ক ও জনপথের রাস্তা উপর হাট বসায় যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

আল-আমীন,মেহেরপুরঃ সাড়া দেশের ন্যায় কুষ্টিয়া- মেহেরপুর সড়কের বিভিন্ন জায়গায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তাার উপর হাট বসছে এতে যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। মেহেরপুর জেলার মহাসড়কের উপর যে হাট গুলো বসে নতুন দরবেশপুর , বাড়াদী , রাজনগর, আমঝুপি ,মেহেরপুর পশু হাট, গোপালপুর, মদনাডাঙ্গা, গাড়াডোব , বাঁশবাড়িয়া, গাংনী,জোডপুকুরিয়া, তেরাইল , বাওট, আকুবপুর, এর ব্যতিক্রম নয় এই কারনে প্রতি দিন বাজার সংল্গ এলাকায় বাজারে দিনে পথচারীরা দুর্ঘটনা শিকার হচ্ছে। ব্যস্ততম সড়কের উপর হাট বসায়, হাটের দিন হাটুরিয়া, পথচারি ও যানবাহন চলাচল করে অত্যান্ত ঝুঁকি নিয়ে এ অবস্থায় যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সংশিস্ট মহলের নিকট সচেতন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগি মহলের দাবি, সরকার যে সব হাট থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা রাজ্বস নেয় কিন্ত দুর ভাগ্য জনক হলেও সত্য একটি হাটের নিজ্ব জায়গা নেই সড়ক ও জনপথের জায়গা ব্যবহার করা হচ্ছে যাহা সর্ম্পন বে আইনি রাস্তা হতে নিদিৃষ্ট দুরতে হাট বসানোর ব্যবস্থা করতে পারলে। জন দুর্ভোগের লাঘব হবে।মেহেরপুর জেলা সড়ক ও জনপথের দাত্বিরত নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারী এই নং ০১৭৩০৭৮২৭৮০ যোগাযোগ করিলে উনি ফোনটি রিসিভ করেননি।

মেহেরপুরের তামাক চাষের কারনে ঝুঁকিতে জনগন

আল-আমীন, মেহেরপুর: মেহেরপুর জেলায় তামাকের চাষ হয়। এখন দিন দিন এ চাষের জমির আয়তন বাড়ছে।বিস্তৃত হচ্ছে ভৌগলিক এলাকা।অভিযোগ রয়েছে, তামাক বিরোধী সচেতনতার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত সংশ্লিষ্টরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেন না। তাই প্রচলিত শস্য উৎপাদনে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে না।অপরদিকে তামাক উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করছে, কৃষি বিষয়ক পরামর্শ দিচ্ছে, তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করছে।মেহেপুর এমন একটি জেলা যেখানে তামাকের চাষ বাড়ছে দিন দিন। স্বাভাবিক ভাবে এলাকার নারী-পুরুষ শিশু তামাক চাষ ছাড়াও তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে সম্পৃক্ত হচ্ছে। তাই তাদের নানা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৪০ বছর আগেও মেমেহরপুরের কোথাও তামাকের আবাদ হতো না। ৩০/৩৫ বছর আগে গাংনী উপজেলার ভোমরদাহ এবং পরে একই উপজেলার হিন্দা এলাকায় দুয়েকটি স্থানে তামাকের আবাদ করতে দেখা যায়। এরপর থেকে ক্রমে ওইসব এলাকাসহ আশপাশে তামাকের আবাদ বাড়তে থাকে।বিভিন্ন তামাক কোম্পানির প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও আর্থিক সহায়তায় মেহেরপুর সদর, গাংনী, মুজিবনগর উপজেলায় এখন বিস্তৃত এলাকায় তামাকের আবাদ হচ্ছে।জেলার কয়েকজন তামাক চাষী জানান, বিভিন্ন উপজেলায় ধান, পাট, গম, মরিচ, আলু, পেয়াজ, কপিসহ সব ধরনের শস্য ও সবজির উৎপাদন হয়। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ফসলে লোকসান দিতে হয়েছে। তাই বেশি মুনাফার সুযোগ থাকায় বাধ্য হয়ে তামাক চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন সাধারণ কৃষকরা।

তাছাড়া তামাক কোম্পানিগুলো কৃষকদের তামাক চাষে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসহ বিনামূল্যে তামাকের বীজ, সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে সার, কীটনাশক ও নগদ অর্থ প্রদান করছে।শুধু তাই নয়, তামাক কোম্পানিগুলোর নিয়োগ করা সুপারভাইজারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। বাজারে তামাকের চাহিদা থাকায় বিক্রিতেও কোনো ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না কৃষকদের।কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কৃষকদের কৃষি বিষয়ক পরামর্শ দিয়ে অসহযোগিতা করেন না। তাই লোকসানের মুখে পড়ে নানা প্রচলিত শস্য চাষ হ্রাস পাচ্ছে এবং তামাকের চাষ বাড়ছে।কৃষকরা জানান, তারা বারবার চেষ্টা করেও কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের দেখা পান না। প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সাহায্য না পেয়েই বিভিন্ন ফসল আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন তারা। এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে তামাক কোম্পানিগুলো।গাংনী উপজেলার হিন্দা গ্রামের তামাক চাষি দাউদ ও নাসির জানান, অন্যান্য ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে তারা তামাক চাষ করছেন।
এলাকার অন্যরা তামাক চাষ করে লাভবান হয়েছে দেখে তিনিও এ বছর তামাক চাষ শুরু করেছেন।গাংনী স্কুল এন্ড কলেজের কৃষি বিভাগের প্রভাষক আনিচুজ্জামান বলেন,মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দিন দিন তামাক চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তামাক চাষের ব্যাপারে যারা কৃষকদের নিরুৎসাহিত করার কথা তাদের দেখা পাওয়া যায় না।অপরদিকে সিগারেট কোম্পানিগুলো বেশি লাভের প্রলোভন দেখিয়ে তামাক চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে, বলেন তিনি।তিনি মনে করেন, কৃষি কর্মকর্তাদের উচিত চাষিদের কাছে গিয়ে তাদের তামাক চাষের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন করা।মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা.রাশেদা সুলতানা বলেন, তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণে জড়িতরা ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এছাড়া ক্রনিক ব্রংকাইটিস, ক্রনিক অ্যাজমাসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে।মেহেরপুর গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচউদ্দীন বলেন, তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করার জন্য আমাদের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। যারা তামাক চাষাবাদ করছেন তারা নিজেদের উদ্যোগেই করছেন।মেহেপুরের জেলা কৃষি উপ-পরিচালক মুুস্তাফিজুর রহমান জানান,এবার প্রায় ৪হাজার হেক্টর জমিতে তামাকের আবাদ হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মেহেরপুরে বিএনপি রাজনীতি থেকে অবসর
আল-আমীন, মেহেরপুর:বিএনপির বর্তমান সংকটময় রাজনীতি থেকে পারিবারিক ভাবে অবসর গ্রহন করেলেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএকে খাইরুল বাশার।
গতকাল দুপুরে তার নিজ বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে অবসর গ্রহনের ঘোষনা দেন।
তিনি জেলা যুবদলের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন দীর্ঘদিন। একই সাথে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তার ভাই জেলা জাসাসের সাবেক আহবায়ক এ বাকা বিল্লাহ, সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠানিক সম্পাদক আব্দুল মাবুদ নান্নু, বিএনপির সক্রিয় কর্মী আব্দুল ওয়াদুদ পান্নু ও ছেলে সাবেক ছাত্রদল নেতা মীর দানিয়েল রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহন করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য এমএকে বাশার বলেন, ১৯৭৮ সালে বিএনপি গঠিত হলে মেহেরপুরের সাবেক এমপি মরহুম আহাম্ম আলীর সাথে জেলাতে বিএনপিকে শক্তিশালী করতে তৃনমূলে কাজ শুরু করি। রাজনৈতিক জীবনে জেলা যুবদলের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। পরে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করি। আমার নেতৃত্বে যুবদলে ছিলেন এমন অনেক নেতা আজ বিএনপিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হলে আমাকে কোন ভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।
তিনি বলেন, সারা জীবন জিয়ার আর্দশকে ধারন করে রাজনীতি করেছি। বর্তমানের এই নষ্ট রাজনীতি আমাকে কষ্ঠ দেয়। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন রাজনীতির মাধ্যমে গণমানুষের জন্য কাজ করেছি। বাকি সময়টা নিজের পরিবার ও ভাইদের নিয়ে কাটাতে চাই। তাই স্বেচ্ছায় রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহন করছি।
তার ভাই এ বাকা বিল্লাহ বলেন, পারিবারিক ভাবে আমরা বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। রাজনীতি করতে গিয়ে আমার অনেক ক্ষতির স্বীকার হয়েছি। কিন্তু জেলা বিএনপির কমিটিতে কোন মূল্যায়ন করা হয়নি।
এসময় তার পরিবারের লোকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ জানুয়ারী সাবেক এমপি মাসুদ অরুনকে সভাপতি ও আমজাদ হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩২ সদস্যার জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি অনুমোদন দেন কেন্দ্র। কিন্তু তাকে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএকে খাইরুল বাশার ও তার পরিবারের কাওকে স্থান দেওয়া হয়নি।

ছাদবাগান প্রিয় এক দম্পতির গল্প!


আবু সাইদ, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি::
কংক্রিটের দেওয়াল-ঘেরা বাড়িটার দিকে চোখ গেলে মনে হয়, গাছগাছালিতে ভরা। ছাদের দিকে তাকালে মনে হয়, যেন ফাগুনের ছোঁয়া লেগেছে তাতে। আর ভেতরে গেলে অবাক হতে হয়, যেন এটি বাড়ি নয়, পুরো একটি নার্সারি!
সাতক্ষীরা শহরের উপকণ্ঠের লাবসা এলাকায় চোখ জুড়ানো এ বাড়িটি অবস্থিত। এটির মালিক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার শেখ মনিরুজ্জামান ও তার স্ত্রী শাহিনা আক্তার। এই দম্পতি তাদের তিন হাজার দুইশ বর্গফুট বাড়ির ছাদে কয়েকশ গাছগাছালির একটি বাগান গড়ে তুলেছেন। পরম যতেœ গড়ে তোলা এ বাগানটি দেখলে বোঝা যায়, গাছগাছালির প্রতি এই দম্পতির রয়েছে অগাধ ভালোবাসা!
তিনতলা এই বাড়ির দুটি ছাদ। দোতলাতে একটি ও অপরটি তিনতলায়। বাগান করার জন্যই এই দম্পতি বাড়িতে দুটি ছাদ তৈরি করেছেন। এ কারণে এলাকার মানুষের কাছে বাড়িটির পরিচয় এখন ‘কৃষিবাড়ি’ হিসেবে।
ছয়বছর আগে বাড়ির ছাদ দুটিতে বাগান তৈরি করেছেন বলে জানালেন মনিরুজ্জামান-শাহিনা দম্পতি। এই ছাদ দুটিতে তারা দেশি-বিদেশি ফুল, ফল, সবজি ও ঔষধি গাছ লাগিয়েছেন। বিষমুক্ত শাকসবজি ও ফলমূল ও ঘরে বসে প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা পেতেই এ বাগান তৈরি করেছেন তারা। এতে পারিবারিক চাহিদাও মিটছে তাদের।
শেখ মনিরুজ্জামান-শাহিনা দম্পতি জানালেন, বাড়ির ছাদে বাগান করা খুব একটা কঠিন কাজ না। ইচ্ছে করলে যে কেউই ছাদে ফলমূল, শাকসবজির বাগান তৈরি করতে পারেন। এতে করে শাকসবজির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কোনো পরিবার আর্থিকভাবেও স্বাবলম্বী হতে পারে। পাশাপাশি অক্সিজেনও দেয় এসব গাছগাছালি।
সরেজমিন দেখা গেল, বাড়িতে ঢোকার পথেই রয়েছে, সারি সারি ঝাউগাছ। রয়েছে আম ও আমড়াগাছ। আমড়াগাছে পাতা না থাকলেও থোঁকা থোঁকা আমড়া ঝুলে রয়েছে তাতে। এর পাশেই রয়েছে আবার কামরাঙ্গাগাছ। এছাড়া টক ও মিষ্টি বরই গাছে ঝুলছে। মাটির ওপর বানানো মাচানে ঝুলছে, বড় বড় বেশ কয়েটা লাউ।
প্রায় এক বিঘা জমিতে ভরপুর বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধিগাছ। কোথাও একটুও ফাঁকা নেই। এখানে একটি ছোট পুকুরও দেখা গেল। মাছ চাষ করা হয়েছে এটিতে।
তবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ বাড়ির ছাদ দুটিকে ঘিরে। বাড়ির সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠে চক্ষু ছানাবড়া। মৌসুমী শাকসবজি আর ফুল-ফলে ভরে গেছে ‘কৃষিবাড়ি’র ছাদের বাগান।
ছাদে চেরি ও শিউলি ফুল দেখে শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে গাওয়া সেই জনপ্রিয় গানের কলি মনে পড়ে গেল- ‘ওগো বিদেশিনী, তোমার চেরি ফুল দাও, আমার শিউলি নাও/দুজনে দুজনে হই ঋণী।’
বাগান প্রিয় দম্পতি আরো জানালেন, তাদের বাড়ির ছাদ দুটিতে রয়েছে, ২২ প্রজাতির গোলাপ, ডালিয়া, জিনিয়া, পেনজি, পাফায়ার বলসহ দেশি-বিদেশি ফুল। রয়েছে হাসনা হেনা, সাপে কাটার ঔষধি গাছও। তুলসী, ঘৃতকুমারী, রক্ত করবী গাছও লাগানো রয়েছে ছাদে। টপের গাছে কমলালেবু, মালটা ও টমেটো ধরেছে।
মনিরুজ্জামা ও শাহিনা বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে গাছ সম্পর্কে ধারণা দিতে গাব, ঝাউগাছ ও ভূতেরগাছ হিসেবে পরিচিত ‘শাড়া’ গাছও লাগানো হয়েছে।
ছাদে বাতাবিলেবু, কদবেল, দেশিবেল, পামফলসহ অসংখ্য ফলদ গাছ লাগানো হয়েছে। থোঁকা থোঁকা মাল্টা পেকে হলুদ হয়ে রয়েছে।
লাল বাগানবিলাস ও হলুদ গাঁদা ফুলে মনে হচ্ছে ছাদে যেন ফাগুনের আগুন লেগেছে। বাড়ির ছাদ আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে, সুন্দরবনের গেওয়া, সুন্দরীগাছে। শুধু তাই-ই নয়, অরকিড কর্নারে বড় বড় কাকটাস দেখলে যে কারো মন ভরে যাবে।
ঘরের ভেতরেও বেশ কয়েকটি ইনডোর প্ল্যান্ট দেখা গেল।
সুন্দর করে সাজানো বাড়িটির নাম রাখা হয়েছে, ‘প্যাসিফিক প্যালেস’। শান্ত-সুনিবিড় ছায়াঘেরা বাড়িটির দোতলায় উঠে পূবদিকে তাকালে চোখে পড়ে আদিগন্ত ফসলের মাঠ। বাড়ির তিনপাশ সবুজের চাদরে ঘেরা। বাড়ির ছাদের যে দিকেই তাকানো যায়, সেদিকেই যেন সুন্দরের আগুন। ফুলে-ফলে ভরা বাড়িটি দেখলেই মনে পড়ে মা-মাটি ও মানুষের কথা।
শেখ মনিরুজ্জামান ও শাহিনা দম্পতির করা বাগানটি জেলার সেরা ছাদবাগান নির্বাচিত হয়েছে। তাদের ছাদের ওপর বাগান দেখে এলাকার অনেকেই ছাদে বাগান করার প্রতি অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।
তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা দুজনই ছোটবেলা থেকে বাগান করতেন। মেধা, মনন ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে তারা গড়ে তুলেছেন এই ‘প্যাসিফিক প্যালেস’। প্যালেসটিকে দেখাশোনায় স্ত্রী শাহিনাকে সাহায্য করেন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার স্বামী মনিরুজ্জামান। তাদের দুই ছেলে। বড়ছেলে হাসানাত ৮ম শ্রেণিতে ও ছোটছেলে আরাফাত ২য় শ্রেণিতে পড়ে। তারাও বাগান পরিচর্যায় মাবাবাকে সাহায্য করে।
শেখ মনিরুজ্জামান ও শাহিনা বলেন, এলাকার কারো কিছু হলে আমাদের বাড়িতে আসেন। সর্দিকাশি হলে শিউলি ফুল, আমাশয় হলে থানকুনিসহ বিভিন্ন ঔষধিগাছ নিয়ে যান তারা।
তাদের বড় ছেলে হাসানাত বলে, ‘মায়ের সাথে বাগান পরিচর্যার কাজ করি। এলাকার অনেকে বলেন, ‘কৃষিবাড়ি!’ তখন শুনতে অনেক ভালো লাগে। এলাকার সবাই আমার মা ও বাবার কাজের অনেক প্রশংসা করেন।’
মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি বছরের অর্ধেক সময় জাহাজে থাকি। তারপরও যে সময়টা বাড়িতে থাকি, বাগান নিয়ে পড়ে থাকি। সমুদ্রে থাকলে কী হবে, সেখানেও (জাহাজে) বাগান করেছি। আমার বাবা বাগান করতেন। তা দেখে সেই ছোটবেলা থেকেই বাগানের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছি।’
তবে সব কৃতিত্ব তার স্ত্রীকে দিয়ে মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি বেশি সময় বাইরে থাকি। আর ও (শাহিনা আক্তার) বাগানের দেখভাল করে।’
তিনি আরো বলেন, ‘অনেকে আমাদের বাগানের ছবি ও সেলফি তুলতে আসেন। পরিচালক জি এম সৈকতের বেশ কয়েকটি নাটকের শ্যুটিংও হয়েছে আমাদের ছাদে।’
মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বনসাইয়ের কারিগর উৎপল, সম্পর্কে আমার ভাগ্নে। তার কাছ থেকে বনসাই তৈরি করার কিছু পদ্ধতি শিখে বেশ কয়েকটি বটগাছের বনসাই তৈরি করেছি। আমাদের বাড়িতে কোনো মেহমান আসলে আগে ছাদে ওঠেন। ছাদটি এখন আমাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের পছন্দের জায়গা।’
তিনি জানান, বাড়ি তৈরির সময় কৃষি বিষয়ের কথা চিন্তা করে ইঞ্জিনিয়ারের কাছ থেকে পরিকল্পনা করে এভাবে বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। ছাদে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে লাউ, কুমড়া, আমড়া বিভিন্ন সবজি রয়েছে।
শাহিনা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হলেও সেই ছোটবেলা থেকে গাছ লাগাতেন। আমি স্কুলের টিফিনের খরচ বাঁচিয়ে বাবার বাড়িতে বাগান করতাম। শ্বশুর বাড়িতে এসে দেখি স্বামীরও বাগান করার শখ। দুই বৃক্ষ প্রেমিক মিলে শুরু করে দিলাম গাছ লাগানো।’
তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের ছাদে কমলালেবু, কাগজিলেবু, ছবেদা, সাদা জামরুলসহ আরো অনেক ফল রয়েছে। এখানে যে বিষমুক্ত ফল হয়, তা আমরা খাই ও মেহমান এলে তাদের আপ্যায়ন করি। আমার ছাদের মালটা বেশ সুস্বাদু।’
শাহিনা আক্তার মনে করেন, বাগান পরিচর্যা প্রতিদিনের গৃহস্থালি কাজের মতোই হয়ে গেছে। একদিন কাজ না করলে মনে হয়, কিছু একটা কাজ করা হয়নি। গাছগুলো যেন তাদের কাছে একেকটি সন্তানের মতো হয়ে গেছে।
সাতক্ষীরায় বাড়ির ছাদের উপর কৃষি ব্যবস্থপনা সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, এবিষয়ে তার কাছে কোন তথ্য নেই।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর গোবিন্দগঞ্জ চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ৩০ হাজার ১শ’ হেক্টর জমি চাষের লক্ষ্যমাত্র নির্ধান


গোবিন্দগঞ্জ ( গাইবান্ধা ) থেকে মোঃ তাজুল ইসলাম প্রধান ঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ৩০হাজার ১শত হেক্টর জমি চাষের লক্ষ্যমাত্র নির্ধান করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছাম্মদ সাহেরা বানু জানিয়েছেন, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে গোবিন্দগঞ্জের পৌর সভাসহ ১৭টি ইউনিয়নে চলতি অর্থ বছরে মোট ৩০ হাজার ১ শ’ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা র্নিধারন করেন। এর মধ্যে হাইব্রীট ৪ হাজার ৩শ’ ৯০ হেক্টর,উফশী ২৫ হাজার, ৬শ’১০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ১শ’ হেক্টর জমি চাষের লক্ষ্যমাত্র হাতে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগন নিরালস ভাবে কৃষকদের কে উদ্ভোধ করে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। ইতি মধ্যই ২৭ হাজার ৩ শ’৫৫ হেক্টর জমিতে রোপন কাজ শেষ হয়েছে। বাকী জমিতে আলু ,ষরিসাসহ অন্যান্য ফসল তোলার হলেই আগামী সপ্তাহের মধ্যেই রোপন কাজ শেষ হবে এবং লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে । তিনি আরো জানিয়েছেন, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ১ লক্ষ, ১৯ হাজার, ৯শ , ৮ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা র্নিধারন করেছেন।এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে বাম্পার ফলনের আশা প্রকাশ করেন।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »