Category: উপ-সম্পাকীয়

সিরিয়াকে ঘিরে পশ্চিমা রাজনীতি

রায়হান আহমেদ তপাদার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শুরু হওয়া স্নায়ুযুদ্ধ বা ঠাণ্ডাযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগী পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার মিত্র জোটের। এ স্নায়ুযুদ্ধ ছিল ক্ষমতা ও আদর্শগত দ্বন্দ্বের মিশেলে। নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব আশা করেছিল তারা স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটাতে পেরেছে।কিন্তু ২০১০-এর দশকে এসে নতুনরূপে বিশ্ব আবার স্নায়ুযুদ্ধের যুগে ফিরে এসেছে।তবে নতুন এই স্নায়ুযুদ্ধের সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর স্নায়ুযুদ্ধের পার্থক্য রয়েছে।সে সময় ক্ষমতার সঙ্গে ছিল আদর্শের মিশেল।আর এখন আদর্শ নয়, শুধুই ক্ষমতা ও বাজার দখলের লড়াই।বিশেষ করে এ বাজার হচ্ছে অস্ত্র ব্যবসার।নতুন এ স্নায়ুযুদ্ধোত্তর প্রতিদ্বন্দ্বী মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।ইউরোপে রাশিয়ার দোরগোড়ায় ইউক্রেন নিয়ে যা শুরু এখন মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে সিরিয়াযুদ্ধে তা প্রলম্বিত আকার নিয়েছে।প্রাগৈতিহাসিক শহর। চার বছর ধরে দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন।আক্রান্ত।যুক্তরাষ্ট্র,তুরস্ক,সৌদি ও কাতারের দেওয়া অর্থ ও অস্ত্রের মদদে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করে।এর পরের ধাপে তুরস্ক থেকে রীতিমতো প্রশিক্ষিত ভাড়াটে যোদ্ধারা শহর দখলে নেয়।শিয়া গণহত্যা ঘটানো হয় একাধিকবার। ছোট বাচ্চাদেরও শামিল করা হয় ওই ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’ গ্রুপে। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বন্দুক। তাদের শেখানো হয় কিভাবে সিরিয়া সরকারি সেনা দেখলেই গুলি করতে হয়।এভাবেই বেশ চলছিল।চুপ ছিল পশ্চিমা বিশ্ব।রাষ্ট্রসংঘে বসে কেউ এসব দেখতে পায়নি।এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে রাশিয়া সক্রিয়ভাবে সিরিয়া সংকটে যোগ দেওয়ার পর।এখন পাশা উল্টে গেছে। রাশিয়া ও ইরানের সাহায্যে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী আলেপ্পোর পূর্ব অংশ পুনর্দখল করেছে চার বছর পর। আলেপ্পোর যুদ্ধ আসলেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্ট্র্যাটেজিক পরাজয়। তাই তারা ও তাদের তাঁবেদার মিডিয়া হাহাকার করছে।রাশিয়ার যোগদানের পর থেকে সিরিয়া সংকটে আরো একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তুরস্কের শিবির বদল। তুরস্ককে ব্যবহার করেই প্রধানত আলেপ্পোসহ সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে আল-কায়েদা, আল-নুসরা প্রভৃতি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ঢুকিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব।তারা ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’ সেজে সিরিয়ায় রয়েছে এবং একটানা সরকারবিরোধী সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।যে তুরস্ক তাদের সীমান্ত সর্বক্ষণ খুলে রেখে তাদের জন্য অস্ত্র সরবরাহ করেছে,সেই তুরস্ক কয়েক মাস আগে হঠাৎই বেসুরো গাইতে শুরু করে। ওয়াশিংটন বুঝতে দেরি করেনি। একদা তাদের বিশ্বস্ত এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সেনা-অভ্যুত্থান হয়, আর সেটা সম্পূর্ণ মার্কিন মদদেই। ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ফলে তুরস্ক রাশিয়ার আরো কাছাকাছি চলে আসে।জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ১৫ দিনের মধ্যেই মস্কোতে বৈঠকে মিলিত হন এরদোয়ান ও পুতিন। বৈঠকের পরই দীর্ঘদিনের চেনা সুরের বদলে অন্য সুরে বলে ওঠেন এরদোয়ান সিরিয়া সংকট সমাধানে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রাশিয়াকে প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের কপালের ভাঁজ চওড়া হয়।এখন প্রশ্নের মুখে তুরস্ক-ন্যাটো সম্পর্ক।ফের রুশ-তুরস্কের নয়া সম্পর্ককে ঝটকা দিতেই আংকারায় রুশ রাষ্ট্রদূতকে হত্যার ঘটনা ঘটল।কিন্তু রাশিয়া ও তুরস্ক কোনো প্ররোচনায় পা দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।তাই যৌথ তদন্তদল গঠিত হয়েছে।আর আজ শুধু রাশিয়া নয়,ইরানকেও সঙ্গে নিয়ে সিরিয়া প্রশ্নে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক সারা শেষ।২১ তারিখের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে তুরস্কের বিদেশমন্ত্রীর সাফ কথা, আলেপ্পোর সাফল্য সিরিয়ার বাকি অশান্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে দিতে হবে।সিরিয়াকে মুক্ত করতে হবে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে। চীনের শীর্ষস্থানীয় এক পত্রিকায় মঙ্গলবার অভিযোগ করে বলা হয়েছে,সিরিয়ায় ঠাণ্ডা লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।প্রতিপক্ষ দেশ দুটির উপলব্ধি করা উচিত,ঠাণ্ডা লড়াইয়ের যুগ গত হয়েছে এবংতাদের শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে এ সঙ্কটের সমাধানে এগিয়ে আসা উচিত বলেও মন্তব্য করেছে পত্রিকাটি।সম্প্রতি সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুশ বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর চীনা সরকারি পত্রিকায় এই সংবাদ ভাষ্য প্রকাশিত হয়।ক্ষমতাসীন দলের দৈনিক দা পিপলস ডেইলি’তে মঙ্গলবার সিরিয়ার ওপর প্রকাশিত সংবাদভাষ্যটিতে বলা হয়েছে,সিরিয়া নিয়ে ঠাণ্ডা লড়াইয়ের দিনগুলোর মত কূটনৈতিক ও সামরিক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।পত্রিকাটির অভিযোগ ওয়াশিংটন ও মস্কো তৃতীয় একটি দেশের মাটিতে প্রভাব বিস্তারের জন্য সব ধরণের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।প্রতিদ্বন্দ্বী ওই দেশ দুটি পুরনো দিনের ঠাণ্ডা লড়াইয়ের মতই পরস্পরের বিরুদ্ধে আঘাত ও প্রতিঘাতের খেলায় মেতে ওঠেছে।কিন্তু আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে রয়েছি।দেশ দুটির এই বাস্তবতা মাথায় রাখা উচিত।সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে মস্কো ও ওয়াশিংটনে র নগ্ন হস্তক্ষেপেরও সমালোচনা করেছে পিপলস ডেইলি।গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সিরিয়ায় জিহাদিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু কেরছে রাশিয়া।তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এই হামলার সমালোচনা করে বলেছে,সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বশির আল আসাদকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতেই এ হামলা শুরু করেছে মস্কো।এতদিন ধরে সিরিয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট।তারা আসাদের পতনকেই সিরিয়া সঙ্কটের একমাত্র সমাধান বলে মনে করে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধকে ‘প্রক্সি ওয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করে পিপলস ডেইলি বলছে,ওই দেশ দুটির এ যুদ্ধে সরকার বা বিরোধী দল কারো পক্ষ না নিয়ে এর একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চালানো উচিত।পত্রিকাটির ভাষায়,‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মত বৃহৎ দেশগুলো, যাদের সিরিয়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে, তাদের জরুরি ভিত্তিতে এই সঙ্কটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা উচিত।মঙ্গলবার ‘জং শেং’(চীনের কণ্ঠ) নামের এক কলামে ওই ধারাভাষ্যটি প্রকাশিত হয়।এই কলামটিতে বিশ্ব রাজনীতির ওপর প্রায়ই নানা মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে থাকে।মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল হলেও ওই অঞ্চলে কূটনৈতিকভাবে কখনোই তেমন প্রভাবশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেনি চীন।যদিও শুরু থেকেই তারা বলে আসছে, সামরিকভাবে সিরিয়া সঙ্কটের সমাধান করা যাবে না।স্বাভাবিক।আজ রাশিয়া,তুরস্ক,ইরান যেখানে তাদের সাফল্য দেখছে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব তাদের চরম বিপর্যয় দেখছে।আসলেই এক জটিল রাজনীতির পাশা খেলা চলছে সিরিয়াকে ঘিরে।আজ পাঁচ বছর পরে সিরিয়ায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে এক লাখের বেশি অসামরিক ব্যক্তি।এর মধ্যে আছে ১৫ হাজার শিশু ও ১২ হাজার নারী।দেশের মোট দুই কোটি ৩০ লাখ নাগরিকের মধ্যে ৫০ লাখ মানুষ দেশত্যাগ করে শরণার্থী হয়েছে এবং আরো ৬৫ লাখ হয়েছে গৃহহীন।যুদ্ধকবলিত অঞ্চলগুলোর সব শিশুই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।২০১১ সালের পর যারা জন্মেছে তারা শুধু যুদ্ধই দেখছে,বোমা হামলাই দেখছে।এটাই তাদের শৈশবের জগৎ।একটানা বোমা হামলা হবে।তা থেকে বাঁচার জন্য দৌড়াতে হবে,মাটির নিচে আশ্রয় নিতে হবে, মাঝেমধ্যেই অভুক্ত থাকতে হবে।সিরীয় শিশুদের জন্য এটাই রোজনামচা। আলেপ্পোর বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে যে কোনো সময়ই হিজবুল্লাহসহ ইরান, আফগানিস্তান ও ইরাকের শিয়া বাহিনীর সহযোগিতায় তা দামেস্ক সরকারের পূর্ণ করায়ত্ত হতে যাচ্ছে। সিরিয়া সামনে এক মারাত্মক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। সিরিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করণীয় কাজের সুযোগ ক্রমেই হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। আর এজন্য সে পূর্ব আলেপ্পোর আল-নুসরা ও আইএস দখলদারী এলাকায় বেসামরিক লোকদের ওপর রাশিয়ার বিমান হামলার ব্যাপারে ‘সতর্ক’ করে দিয়েছে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে পূর্ব আলেপ্পোর ধ্বংসযজ্ঞ ও মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের সংবাদ ও তার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হচ্ছে। দামেস্কের সরকারি বাহিনী ও জিহাদিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বলবৎকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে সরকারি বাহিনীর ওপর বিমান হামলা চালিয়ে চুক্তির বরখেলাপ করে, তা অনেকটা উহ্যই থেকে যায়।বস্তুত এ কারণেই ভেঙে যায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য আসতে থাকে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা রাশিয়াকে এই বলে হুশিয়ার করে দেন যে, রাশিয়ার সৈন্যদের শিগগিরই ‘লাশ’ হয়ে সিরিয়া ছাড়তে হবে। আরো বলা হয় যে, মস্কোর সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হলে তারা তাদের উপসাগরীয় এলাকার সহযোগীদের (সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা) মাধ্যমে বিদ্রোহীদের (আল-নুসরা ও আইএস) আরো উন্নত অস্ত্র সরবরাহ করবে।অর্থাৎ আফগান মুজাহিদিন দের যে বিমান বিধ্বংসী মিসাইল (ম্যানপ্যাড) সরবরাহ করা হয়েছিল, সেই অস্ত্র বিদ্রোহীদের দেওয়া হবে। সিরিয়ায় রাশিয়ার আসল মতলব কী?নোংরা কাজ অন্য কেউ করে দিলে আপত্তির কারণ থাকতে পারে না৷ কিন্তু অভিযোগ, জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর বদলে রুশ বোমারু বিমান সিরীয় বিদ্রোহীদের উপর হামলা চালাচ্ছে৷ রাশিয়া তা নস্যাৎ করে দিয়েছে৷ রাশিয়ার বক্তব্য, তারা সিরিয়ার সরকারের আমন্ত্রণেই হামলা চালাচ্ছে৷ অর্থাৎ বাশার আল-আসাদ সরকারকে সরাসরি সাহায্য করাই রাশিয়ার উদ্দেশ্য৷ রাশিয়াই আইএস-এর মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বেশি আন্তরিক৷ নিজেদের বক্তব্যের সম্মেলনে তারা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে৷কিন্তু ওয়াশিংটনের অভিযোগ, আইএস-এর বদলে বিদ্রোহীদের দমন করাই পুটিন ও আসাদের মূল উদ্দেশ্য৷ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সরাসরি এ বিষয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন৷ভবিষ্যতে সিরিয়ায় রুশ-মার্কিন সংঘাতের আশঙ্কা দূর করতে দুই দেশের সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে বৈঠকে বসতে চলেছে৷সিরিয়া সংকটের জটিলতা ও বিভিন্ন পক্ষের স্বার্থের সংঘাতের বিষয় নিয়ে একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেছেন অনেকে৷সিরিয়াকে ঘিরে অ্যামেরিকা, রাশিয়া ও ইরানের স্বার্থের সংঘাত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল৷ওবামা আন্তর্জাতিক সংকটগুলি থেকে দূরে থাকার নীতি নেওয়ার ফলে শূন্যস্থান পূরণ করতে পুটিন এগিয়ে এসেছেন এই অভিযোগের ভিত্তিতে এক ব্যাঙ্গচিত্র শেয়ার করেছেন অনেকে৷

 

ইয়াবার ভয়ঙ্কর আগ্রাসন

ইয়াবার ভয়ঙ্কর আগ্রাসন

রায়হান আহমেদ তপাদার  

মহামারী রূপ নিয়েছে’ক্রেজি ড্রাগ’ইয়াবা।শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে গ্রামের আনাচে কানাচে পর্যন্ত বিস্তার ঘটেছে নীরব এই ঘাতক ইয়াবা ট্যাবলেটের। ইয়াবায় সম্পৃক্ততা মিলছে জঙ্গিদেরও।স্কুল,কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী,তরুণ-তরুণী,ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীদের অনেকেই এখন ইয়াবায় আসক্ত।তবে এদের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রী তরুণ-তরুণীর সংখ্যাই বেশি। ইয়াবার ভয়াবহ ধোঁয়া আগামী প্রজন্মকে আজ ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।এ অবস্থায় আগামীতে দেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।ইয়াবার ভয়াবহ আগ্রাসন নিয়ে সরকার যেমন উদ্বিগ্ন, চিন্তিত অভিভাবকমহলও।দেশের সর্বত্র মহামারীরূপে ছড়িয়ে পড়ছে সর্বনাশা মাদক ইয়াবা।ইয়াবাসেবীর সংখ্যা ক্রমে ক্রমে বেড়ে চলেছে।প্রতিদিন দেশের এক প্রান্ত টেননাফ থেকে বিভিন্ন উপায় ও কৌশলে ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের আরেক প্রান্ত তেতুলিয়া পর্যন্ত।রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে,গ্রামগঞ্জে এখন ইয়াবার জমজমাট ব্যবসা প্রসারিত।মিয়ানমারের ৬০ টাকার এই ট্যাবলেট পাচার হয়ে দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলে বিক্রি হচ্ছে ৪শ থেকে ৫শ টাকায়।এটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।আর এ কারণে পেশা পরিবর্তন করে মাদক ব্যবসায় ঝুঁকছে অনেক মানুষ।সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ,এমপি, রাজনৈতিক নেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কাহিনীর কতিপয় সদস্যর সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী সিন্ডিকেট ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।এ কারণেই কোনভাবেই এর আগ্রাসন রোধ করা যাচ্ছে না,ঠেকানো যাচ্ছে না ইয়াবার ব্যবসা।মাদক চিকিৎসার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা বলেছেন, এখন চিকিৎসা নিতে আসা মাদকসেবীদের অধিকাংশই ইয়াবা আসক্ত।মাদকসেবীরা ধোঁয়ায় উড়িয়ে দিচ্ছে বিপুল অংকের টাকা।ইয়াবার সর্বনাশা থাবায় লাখো পবিরারের সন্তানদের জীবন এখন বিপন্ন।প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধ্বংস করে মাদক ব্যবসার এই সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার কোটি টাকা।   ইয়াবা প্রবেশ রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতীতের চেয়ে এখন বেশি তৎপর।২০১৪ সাল পর্যন্ত বিগত সাত বছরে ৯৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করলেও গত বছরে উদ্ধার হয়েছে ২ কোটি পিসেরও বেশি।ইয়াবার ভয়ঙ্কর থাবায় চূড়ান্ত সর্বনাশের অতল খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে এদেশে একশ্রেণীর মাদকাসক্ত তরুণ সম্প্রদায়।গাঁজা,ফেনসিডিল,হেরোইনকে ছাপিয়ে ইয়াবা হয়ে উঠেছে শীর্ষ নেশার বস্তু।বিশেষ বিশেষ সামাজিক স্তরের তরুণ-তরুণীদেরও একমাত্র নেশা হয়ে উঠেছে ইয়াবা ট্যাবলেট।মায়ানমার থেকে সীমান্ত পথে আসা ইয়াবা এদেশীয় একদল মাদক ব্যবসায়ী-গডফাদারদের ছত্রচ্ছায়ায় বিতরিত হয়ে বলে এই মারাত্মক মাদক দ্রব্যটি এদেশে ছড়িয়ে পড়েছে অতি দ্রুততার সাথে।২৫ থেকে ৩৫ মিলিগ্রাম মেথ্যাম ফিটামিনের সাথে ৪৫ থেকে ৬৫ মিলিগ্রাম ক্যাফিন মিশিয়ে তৈরি ইয়াবা একটি ভয়ঙ্কর মাদকদ্রব্য,যা যুবসমাজকে গ্রাস করে নিয়েছে একালে।এর প্রতিটি ট্যাবলেটের দাম মান ভেদে ১৫০টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।এনিয়ে নানা সামাজিক সমস্যায় জড়িয়ে পড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মাদকাসক্তদের পরিবারগুলো।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে,ইয়াবা বিরোধী বিভিন্ন অভিযানে ২০১৪ সালে যেখানে আটক হয়েছে ৬৫ লাখেরও কিছু বেশি ইয়াবা,একই সময় বেচাকেনা হয়েছে ২৬ কোটিরও বেশি এদেশে।এই চিত্রটি সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধের কথাও আমাদের ভাবতে হবে।একসময় চীন ও থাইল্যান্ড ছিল ইয়াবার বড়ো বাজার।২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ইয়াবা প্রচার-প্রসারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।এমনকি বহু ইয়াবা ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের হত্যা করা হয়।ফলে সে সব দেশ এখন ইয়াবার থাবা থেকে মুক্ত।  হালে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত দেশের সর্বত্র মহামারী রূপে ছড়িয়ে পড়েছে নীরব এই ঘাতক। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশে এই মাদকের চাহিদা বেড়েই চলেছে।বর্তমানে দিনে চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখ পিসে।এই বিপুল সংখ্যক ইয়াবা প্রতিদিনই বিভিন্ন কৌশলে দেশে ঢুকছে। সেবনকারীরা প্রতি পিস ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা করে ইয়াবা কিনছেন। সেই হিসাবে প্রতিদিন এই মাদকের পেছনে খরচ করছে তারা পৌনে দুইশ কোটি টাকা।জানা যায়,মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচার ঠেকাতে ২০১৪ সালে ১২ শতাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ীর একটি তালিকা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শীর্ষ ৪০ জনের একটি তালিকা ধরে অভিযান চালায়।কিন্তু বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ভেস্তে যায়। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে দেখা যাচ্ছে সীমান্ত এলাকার জনপদে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের আশ্রয়-প্রশয় রয়েছে ইয়াবার ব্যবসার বিস্তার ঘটনারো পেছনে।এই অভিযোগের সত্যাসত্য বিচার বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে যে কোনো বিষফোঁড়া নির্মূলে দেশবাসীর সমর্থন থাকবে।এক সময় গলি-ঘুপচি কিংবা বস্তি এলাকায় গাঁজা,ফেনসিডিল ও হেরোইনের আড্ডা ও কেনাবেচার রমরমা হাট চলতো।এখন ইয়াবার রাজত্ব বস্তি ছেড়ে অভিজাত পাড়ার স্কুল কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস,সাইবার ক্যাফে,ফার্স্টফুড শপ,সেলুন,কফি হাউজ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।হাত বাড়িয়ে চাইলেই মিলে যাচ্ছে ইয়াবা ট্যাবলেট।পাশের বন্ধুই হয়ে পড়েছে ইয়াবা বিক্রেতা।জানা যাচ্ছে, চট্টগ্রামসহ দেশের অভিজাত এলাকাগুলোতে স্টাডি সার্কেলের মতো গড়ে উঠছে ইয়াবা সার্কেলও।   দুর্ভাগ্যজনক সংবাদগুলো তথ্য মতে এদের অনেকেরই বয়স ১৩ থেকে ১৯ এর মধ্যে।কেউ পড়ে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের উচ্চ শ্রেণীতে আবার কেউবা এইচএসসির ছাত্র।তাদের কাছে এটা জাস্ট এনজয় মাত্র।সেই সাথে আরও একটি ভয়াবহ সংবাদ হলো মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের এক জরিপের তথ্যে বলা হচ্ছে,দেশে স্কুলগামী শিক্ষার্থী দের ৭৭ শতাংশই পর্ণোগ্রাফি দেখা অভ্যস্ত।এই বিকৃত রুচির সাথে ইয়াবার সম্মিলন যে ঘটছে না তা কে বলবে? এই উত্তর খুঁজতে হবে সমাজকে।সমাজের অভিভাব কত্বের জাগরণ ঘটাতে হবে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা ৭৬৪ ইয়াবা ব্যবসায়ীর পৃথক আরেকটি গোপন তালিকার শুরুতেও ওইসব প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম উঠে আসে।কিন্তু তারা সবসময় থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।২০১৪ সালের মার্চে টেকনাফে ইয়াবা গডফাদার নিধনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ার পর ইয়াবা চোরাচালান অনেকটা কমে যায়।ইয়াবা গডফাদার রা দেশে-বিদেশে পালিয়ে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কয়েকজন মারাও যান।কিন্তু গতবছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ঢিলেঢালা হওয়ায় গডফাদাররা আবার এলাকায় ফিরে আসে।ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড় দিয়ে প্রায়ই কাভার্ড ভ্যানে,প্রাইভেট কারে, কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়িতে,জুতার মধ্যে,শরীরের বিভিন্ন অংশে বেঁধে ইয়াবা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে।নতুন পদ্ধতি হিসেবে কলার মধ্যে পলিথিন দিয়ে ঢুকিয়ে সেই কলা গিলে খেয়ে পেটের মধ্যে করেও পাচার হচ্ছে ইয়াবা।এই পদ্ধতি সাধারণত মহিলা ব্যবসায়ীরাই করে থাকেন।গত ১৬ জানুয়ারি ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৮ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে র‌্যাব।এ যাবৎকালের ইয়াবার সবচেয়ে বড় চালান ছিল সেটি, যার বাজার মূল্য ১১৩ কোটি টাকা।দেশে মাদকসেবীর সংখ্যা ৫০ লাখ।এরমধ্যে প্রায় ৫০ ভাগ অর্থাৎ ২৫ লাখ মানুষ ইয়াবা আসক্ত।একজন মাদকসেবী দিনে যদি সর্বনিম্নে দু’টি করে সেবন করে তাহলে ২৫ লাখ মাদকাসক্ত প্রতিদিন সাবাড় করছে ৫০ লাখ পিস ইয়াবা।আর এই ৫০ লাখ পিস ইয়াবার পেছনে খরচ করছে দুই’শ কোটি টাকা।   মরণ নেশা ইয়াবার একদিনের চাহিদার এমন আশঙ্কা জনক তথ্য খোদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে,সর্বনিম্ন ব্যবহারে হিসাবে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা চাহিদা তথ্য পাওয়া গেলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।হু হু করে ইয়াবাসেবীদের সংখ্যা বেড়েই চলছে।আর এই ইয়াবা প্রতিদিন আসছে অবৈধ পথে পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার থেকে।দেশের এক প্রান্ত টেকনাফের স্থল ও সাগর পথের ১১টি পয়েন্ট দিয়ে দিনেরাতে ঢুকছে ইয়াবা চালান।আর এই ইয়াবা বিভিন্ন উপায়ে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের আরেক মাথা তেতুলিয়া পর্যন্ত।দীর্ঘদিন টেকনাফে চাকরি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন একজন কর্মকর্তা জানান,টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকার মাদক প্রচারের পয়েন্টগুলোতে সর্বোচ্চ নজরদারি রাখা হলেও নানা কৌশলে অবিশ্বাস্যভাবে ইয়াবা চালান আসছে যেমন মাছ ধরা ট্রলারে জালে বেঁধে সাগরে ভাসতে ভাসতে,মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানে,প্রাইভেট কারে,কুরিয়ার সার্ভিসের পরিবহনের গাড়িতে,মানুষের পায়ের জুতার মোজার ভেতরে ও বিভিন্ন শরীরে অংশের মধ্যে।অরক্ষিত ১১ পয়েন্ট:মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এক কর্মকর্তা বলেন,সড়কপথে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাচারকারীরা নৌপথকে নিরাপদ রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে।নৌপথে বিভিন্ন মাছ ধরার ট্রলারে করে মাঝি-মাল্লাদের সহায়তায় এসব ইয়াবা পাচার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।বেশি টাকার লোভে অনেক মাঝি-মাল্লা মাছ ধরা ছেড়ে ইয়াবার হাতবদলে সহায়তা করছে বলেও তিনি জানান।এই মাঝিরা এখন তাদের আসল পেশা ছেড়ে মাদক ব্যবসায় নেমেছে।নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে,বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের ১৫টি স্থানে ৩৭টি ইয়াবা কারখানা রয়েছে।যেখান থেকে সাগর ও সড়কপথে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ,নয়াপাড়া,সাবরাংমৌলভীপাড়া,নাজিরপাড়া,জালিয়াপাড়া,নাইট্যংপাড়া,জলিলেরদিয়া,লেদা,আলীখালী,হৃলাসহ অন্তত ১১টি পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবার চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।এসব ইয়াবা তৈরি ও পাচারে আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী যেমন জড়িত রয়েছে তেমনি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের গডফাদারও রয়েছে।

 

জোর করে চাপিয়ে দিয়েও অর্জিত হচ্ছে কি উপযুক্ত শিক্ষা?

।। আশিকুল কায়েস ।। বাধ্যতামূলক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীতে উন্নীত করায় সরকারের এই উদ্যোগকে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্নস্তরের জনগণ স্বাগতম জানিয়েছে। এমনকি শিক্ষাবিদগণও বাদ যাননি।  অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা কতটা মানুষের উপকারে আসবে সেটা পর্যালোচনা না করে বরং উন্নয়নমুখী কার্য্যক্রমের এই পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানিয়েছে। ২০১০ সালে প্রণীত শিক্ষানীতিতে এমনটা উল্লেখ করা হলেও তা বাস্তবে শেষ ধাপে আসতে সময় লেগেছে ছয় বছর। শিক্ষানীতিতে উল্লেখ করা হয় ২০১৮ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণীতে পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। এটি ড. কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষানীতির আলোকে প্রণীত হয়। বর্তমান আইন অনুসারে পঞ্চম শ্রেণী বাধ্যতামূলক এবং অবৈতনিক। কিন্তু ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, ভর্তি ও পরীক্ষা ফি দিতে হয়। শুধু তাই নয়, এতদিন সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসার অধীনে থাকা স্কুল-কলেজ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংযুক্ত পঞ্চম শ্রেণী পর্য্যন্ত শিক্ষা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনেই পরিচালিত হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর গ্রহণ করত। এখন এই সংক্রান্ত বিষয়াদি দেখভাল করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পাঠদানের অনুমতি, একাডেমিক স্বীকৃতি, বিষয় খোলা, বিভাগ খোলা, শ্রেণী-শাখা খোলা, এমপিওভুক্তি, নতুন শিক্ষাক্রম, পাঠ্যপুস্তক এবং শিক্ষক নির্দেশিকাসহ সব শিক্ষা কার্য্যক্রম এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সম্পাদিত হবে। যদিও এখন পর্য্যন্ত এ বিষয়ে কোন পরিকল্পনা বা রূপরেখাও তৈরি করেনি । (২০১৬ সালের তথ্যমতে)দেশে অষ্টম শ্রেণী কেন ? বিএ পর্যন্ত বাধ্যতামূলক করলে জনগণের কি আসে যায়? শিক্ষাব্যবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের পাশের হার শতভাগ নিশ্চিত করা গেলেও শিক্ষার মান সেভাবে উন্নত হয়নি। প্রতিনিয়ত বেকারত্বের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, দেশে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যখন কোন মানুষ সাবলম্বি হতে স্বপ্ন দেখে, ঠিক সেই মুহুর্তে প্রথম স্বপ্ন দেখতে হয় প্রভাবশালী, ক্ষমতাবান ও প্রশাসনের লোকদের বছরে কত টাকা চাঁদা দিয়ে খুশি করতে হবে। শিক্ষা অধিদপ্তরগুলোর তথ্যসূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬২ হাজারের বেশি, সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৮ হাজার ৮৮টি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশ কখনও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন ছাত্র সদ্ব্য শিখতে থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় নিজের কাছে কষ্টসাধ্য বলে মনে করে, সেক্ষেত্রে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যাওয়ার জন্য পাঁচবছর ধরে স্বপ্ন বুনতে থাকে নিজের মধ্যে। একটানা অষ্টশ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থার পথ পাড়ি দিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া একজন ছাত্রকে অসুস্থ হতে হবে। কাগজে কলমে প্রাথমিকভাবে পড়া হলেও অর্ধেক ছাত্র-ছাত্রী ঝড়ে পড়বে অকাতরে। অষ্টম শ্রেণীর সার্টিফিকেট অর্জিত না হলেও প্রাথমিক শিক্ষার কলেবর একই অবস্থানে থাকবে, সেটা দ্বিতীয় শ্রেণী হোক আর ষষ্ঠ শ্রেণী হোক নিশ্চিততো হলো প্রাথমিক শিক্ষা। মানুষের মধ্যে এতশিক্ষা জোর করে চাপিয়ে দিয়েও আসলেই অর্জিত হচ্ছে কি উপযুক্ত শিক্ষা? সামান্য জমির উপর গড়ে ওঠা ৫ রুমের ভবনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কি হবে? আর যদি সেই বিদ্যালয়ের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাওয়া হয় তাহলে ৬২ হাজারের বেশি প্রথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে কতশত কোটি টাকা ব্যয় করে কত দিন হলে এই উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করবে। তারপরতো থাকলো উপযুক্ত শিক্ষার কথার কথা। আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বড় বড় দুই তলা তিন তলা ও কয়েক একর জমির কি ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে বাংলাদেশ সরকার, বেসরকারি ব্যবস্থায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চাকরিতে কর্মরত শিক্ষকদেরই বা কি ব্যবস্থা হবে। শিক্ষক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থায় মোটের উপর তবে কি বেকারত্বের মধ্যে বৃদ্ধি পাবে আরও কিছু শিক্ষিত বেকার? কর্মসংস্থানের কথা বলতে গেলে, অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছাত্রদের মধ্যে কখনও কর্মসংস্থানের আবহটা সৃষ্টি করতে পারে না। বরং কর্মসংস্থানটা কি সেটার সঙ্গা মুখস্থ করার উপযুক্ত সময় এটি। ঢাকার বাইরের পরিবেশের কথা বলা যেতে পারে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবক গ্রামীন চাষী কিংবা দরিদ্র জনগণ। বড়বড় ক্লাসে খরচা করে পড়ানোর পয়সা তাদের নেই, কতজনের বাবাই বা পারেন ঢাকাতে পাঠিয়ে ছেলেকে পড়াতে? এখানে একটা প্রশ্ন আসতে পারে, উচ্চশিক্ষা কি শুধু ঢাকাতেই অবস্থান করে? গ্রামে কি উচ্চ শিক্ষা নেই? যদি তাই হতো তাহলে বড় বড় উচ্চবিত্ত লোকজন গ্রামে বুড়ো বুড়েকে রেখে ঢাকায় পড়ে থাকতো না। দেশে প্রধান মন্ত্রীতো একজন, রাষ্ট্রপতিও একজন তবে তারা কেন ঢাকাতে থাকেন? গ্রামের লোকেদের ধারনা ঢাকাতে গেলে বাবু হওয়া যায়। বর্তমান করের বোঝা মাথায় নিয়ে অর্থমন্ত্রী আছেন খুবই দু:শ্চিন্তায়, সুযোগ পেলেই হয়তো কোন কিছুর উপর কর চাপিয়ে দেবেন। বয়সের ভারে অর্থমন্ত্রী হয়তো করের উৎস মোট কতটি সেটা মনে রাখতে পারবেন না। শিক্ষার উপর করারোপ করার চেষ্টা ব্যর্থ হলেও, তাঁর মাথার চিন্তা কোনক্রমেই থেমে নেই। মেডিটেশনের উপরও করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকারি চাকুরিজীবিদের চাকুরি ভাতা বৃদ্ধি করে গ্রামীন কৃষকদের গোলার ধান জোর করে টেনে হেচড়ে আনছে। বাবুদের পেশাভিত্তিক কর্মকাণ্ডে মজুরিতে খুশি হলেও একশ্রেণীর মানুষের সরকারের চাহিদা মেটাতে মাথার ঘাম পায়ে পড়ছে আরও দ্বিগুন হারে। এদিক থেকে তাদের কষ্টের পরিমাণটা বেড়েছে আরও বেশি। এঅবস্থায় গ্রামীন পরিবেশে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণহীন ও ঘরে ঘরে যেভাবে অসুস্থতার পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতেকরে গ্রামীন একটা শিশুর অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াতো দূরে থাক পঞ্চম শ্রেণীর পিএসসি পরীক্ষা মাড়িয়ে যেতে পারবে বলে আমার সন্দেহ হয়।

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ওষুধের ব্যবহার ও জাতীয় ওষুধনীতি

মুহাম্মদ আবদুল কাহহার

গত ১৯ ডিসেম্বর জাতীয় ‘ওষুধনীতি ২০১৬’ অনুমোদন করেছে সরকার। ২০০৫ সালের পর এটিই পরিপূর্ণ এক নীতিমালা। নীতিমালায় বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা সংশোধন, কার্যকর,  নিরাপদ ও ওষুধের মান, ওষুধ প্রস্তুত, বিক্রি, ওষুধ সংগ্রহ, মজুদ, বিতরণ, বিজ্ঞাপন, মূল্য নির্ধাারণ, আমদানি ও রপ্তানি ওষুধ গবেষণা উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। একই সাথে ওষুধের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা রোধে প্রতিবছর ওষুধের দাম হালনাগাদ করার বিধান রাখা হয়েছে। তিন দশকে ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি রিপোর্ট থেকে জানা যায়, গার্মেন্টস শিল্পের মতো ওষুধ শিল্পও এগিয়ে চলছে। এখন দেশের ওষুধের চাহিদার ৯৭ শতাংশ ওষুধের যোগান দিচ্ছে দেশীয় কোম্পানিগুলো। স্বাধীনতার পর পর মোট চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ ওষুধ আমাদের দেশে তৈরী হয়েছে, আর ৮০ শতাংশ নির্ভর করতে হয়েছে বৈদেশিক আমদানির উপর। সেই বাংলাদেশ এখন ৯৭ শতাংশ অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।  ডা. এহসানুল কবির এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রায় ২৬৯টি ওষুধ কোম্পানি বিশ্বের ১৩৩টি দেশে বাংলাদেশ ওষুধ রফতানি করছে। দেশের অনেক কোম্পানি এখন আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ তৈরী করছে এ দৃষ্টান্ত যেমন আছে আবার ভেজাল ওষুধ খেয়ে মানুষের মৃত্যু ঘটেছে এ দৃষ্টান্তও আছে। ‘শৃঙ্খলা ফিরছে ওষুধ শিল্পে’ এই ধরণের শিরোনাম পত্রিকায় দেখলে আশান্বিত হই। ঠিক একইভাবে কোনো জাতীয় দৈনিকের শিরোনাম যখন এরকম হয়  ‘ভেজাল ওষুধে ২৮ জনের প্রাণহানি ’ তখন হতাশ হই। কিন্তু কেন? এ প্রশ্ন সবার। নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ কেনা যাবে মাত্র ৩৯টি, বাকি প্রায় এক হাজার ২০০ আইটেমের ওষুধ কিনতে প্রেসক্রিপশন লাগবে। এবারই প্রথম অ্যালোপেথিকের বাইরে আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথিক, ইউনানির মতো ওষুধকেও নীতিমালার আনা হয়েছে। ওষুধ খাতে বিশৃঙ্খলা কমাতে সরকার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা ইতিবাচক হলেও এ বিষয় খবর রাখেননি অসংখ্য ওষুধ বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান।আমরা প্রত্যেকেই চাই যেন সুস্থ থাকি। এজন্য নানা উপায় অবলম্বন করি। ব্যক্তিবিশেষে বিভিন্ন ধরণের ওষুধ গ্রহণ করে আমরা অভ্যস্ত। এ ক্ষেত্রে খুব কম সময়ে আমরা চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ সেবন করি। আর অধিকাংশ সময় নিজেকে অভিজ্ঞ ডাক্তারের আসনে বসাই। তাছাড়া আমাদের অনেকেরই একটি প্রচলিত অভ্যাস হলো, রাজনৈতিক ব্যাপারে আলোচনা শুনলেই নিজেই হয়ে উঠি বড় একজন রাজনীতিবীদ কিংবা বুদ্ধিজীবী। মাসয়ালা-মাসায়েল বিষয়েও আমরা জ্ঞানীদের চেয়ে নিজেরাই বড় ফতোয়াবাজ হয়ে যাই। কথা বলার সুযোগ পেলে সবটুকু সময় একাই কথা বলতে চাই, নিজেকে ভাবি একজন বড় মাপের বক্তা। তেমনিভাবে কারো অসুস্থতার কথা শুনেই সে রোগের ওষুধের নাম বলতে থাকি। আমাদের এমন চিন্তাধারাতেও পরিবর্তন আনতে হবে।

ওষুধের মান বজায় না থাকলে অসুখ ভালো হওয়ার পরিবর্তে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। ভোক্তার যেমন জানা নেই ওষুধনীতি তেমনি ওষুধ প্রেসক্রাইবকারী ও বিক্রেতা তার মুনাফা বৃদ্ধির জন্য ইচ্ছামাফিক ওষুধ দিয়ে থাকেন। ভেজাল ঔষধের বাজার কোন পর্যায়ে পৌছেছে সে বিষয়ে একটি ঘটনা বললে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। দু’বছর আগে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে একজন শিশুবিশেষজ্ঞের চেম্বারে অবস্থানকালে একজন ব্যক্তির সাথে দেখা হলো, যিনি মিডফোর্ড থেকে প্রস্তুতকৃত একটি ঔষুধ বাজারজাত করেন। তিনি ওই হাসপাতালে তার এক আত্মীয়ের সাথে দেখা করতে এসেছেন। সেখানে উপস্থিত চার ব্যক্তিই একজন আরেকজনের সাথে পূর্ব পরিচিতি। ঔষধ কীভাবে বাজারজাত করেন, লভ্যাংশের হার কেমন, কোথায় তৈরি, কোন রোগের উপকার করবে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি না ইত্যাদি জানতে চাইলে তিনি চিকিৎসকের এক প্রশ্নের জবাবে বলেই ফেললেন ‘আমার এ ওষুধে কারো উপকারও হবে না, আবার কারো ক্ষতিও হবে না। চিকিৎসক তাকে প্রশ্ন করলেন, ‘তাহলে ওই ওষুধ রোগীরা কেন কিনবেন? আর আপনি তা জেনে-শুনে কেন বিক্রি করছেন?’ লোকটি তখন বললো, পড়ালেখা করেছি, চাকরি পাচ্ছিনা, একটা কিছু না করলে চলবো কীভাবে? পাঠকদেরকে এ ঘটনাটি এ জন্য জানালাম যে, আমাদের সমাজে  এমন অসংখ্য অসাধু ব্যক্তি আছে যারা মানুষের সাথে নিয়মিত প্রতারনা করে চলছেন। এমন ভেজাল ওষুধ বাজারজাত করতে অসংখ্য মানুষ হন্য হয়ে ঘুরছেন,কিন্তু আমরা হয়তো কারো খবর রাখছি না।

শহর থেকে পল্লী এলাকার পথে-ঘাটে যত্রতত্র ফেরি করে ওুষধ বিক্রি করে চলছে এক শ্রেণির ঔষধ বিক্রেতা। কখনো রাস্তার পাশে, কখনো বাজারে, হয়তো বাসস্ট্যান্ডে নয়তো রেলস্টেশনে, কিংবা জনসমাগম হয় এমন স্থানে তারা নি¤œমানের ওষুধ বিক্রি করেন। তাদের ওষুধে মৃত্যু ছাড়া সব রোগ ভাল হয় এমনটিই তারা দাবি করছেন। কোনো কোনো ওষুধ তারা নিজ হাতে বাড়িতে তৈরি করেন আবার কিছু কিছু তারা বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেন। কেউ হ্যান্ড মাইক নিয়ে,কেউ প্রাইভেটকারের ছাদে মাইক লাগিয়ে কেউবা নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে স্থান-কাল পাত্র ভেদে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে মানুষকে আকৃষ্ট করে নি¤œ মানের ওষুধ বিক্রি করছেন। তাদেরকে ওই ব্যবসা বন্ধে সরকারকে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না। ওইসব ভেজাল ও গুণগত মান পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া যে সব ওষুধ বাজারে আসছে তার উৎস বন্ধ করা না হলে সাধারণ মানুষ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে না। ক্রেতা-বিক্রেতা যে যার মতো করে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করে চলছে। ফলে সুস্থতার পরিবর্তে ক্রমশ জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অ্যালোপ্যাথিক ও আয়ুর্বেদিকসহ সব ঔষধেই ভেজাল পাওয়া যাচ্ছে। ওষুুধ কোম্পানিগুলো লোভনীয় অফার দিয়ে চিকিৎসকদের ম্যানেজ করে নি¤œমানের ঔষধ বাজারজাত করার ঊপায় অবলম্বন করছেন।

অপরদিকে অধিকাংশ রোগীর একটা অভ্যাস হলো তারা বেশি ওষুধ খেতে রাজি নয়। অ্যান্টিবায়োটিক কিংবা স্বাভাবিক ওষুধ কোনটি পূর্ণ মাত্রায় সেবন করবেন না। খুব তাড়াতাড়ি ভাল হতে অধিক মাত্রার ওষুধ গ্রহণ করেন। এ ক্ষেত্রে রোগী নিজেই নিজের চিকিৎসক। ওইসব রোগীরা চিকিৎসকদের এড়িয়ে চলেন। পরবর্তীতে দেখা যায় এই লোকগুলোই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিতর্কিত ওইসব ওষুধ খেয়ে কিডনি বিকল, বিকলঙ্গতা, লিভার, মস্তিষ্কের জটিল রোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। অধিকাংশ মানুষ এতটা অসচেতন যে, ভুল চিকিৎসা কিংবা ভুল ওষুধ গ্রহণে বড় ধরণের ক্ষতি হচ্ছে অথচ নিজের মধ্যে কোনো উপলব্ধি নেই। সে কারণে একজন লেখক বাস্তবতা তুলে ধরে লিখেছেন, ‘দেশে প্রচুর ওষুধ, কিন্তু মানুষের জন্য ওষুধ নেই। ছোট্ট এই কথাটি মর্মার্থ অধিক।

সর্বোপরি, জনসচেতনতা কীভাবে বৃদ্ধি করা যায় সে লক্ষ্যে প্রত্যেকের অবস্থান থেকে চেষ্টা করতে হবে। তাছাড়া বাজারে ভেজাল, মেয়াদউত্তীর্ণ, নকল, অনুমোদনহীন যেসব ওষুধ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যা বন্ধ করা না হলে নীতিমালা কাজে আসবেনা। এজন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে যথাযথ মনিটরিং জোরদার করতে হবে। কোন ওষুধের মূল্য কত হবে তা ওষুধ প্রশাসনের ওয়েবসাইটে উল্লেখ থাকলেই হবে না বরং তা মাঠপর্যায়ে কার্যকর হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। কৃত্রিম সংকট তৈরী করে কেউ যাতে বেশি টাকা না নিতে পারে সে বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয় তা ফাইলবন্দি না রেখে আইনের বাস্তবায়ন করতে হবে।

সিরিয়াকে ঘিরে পশ্চিমা রাজনীতি

রায়হান আহমেদ তপাদার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শুরু হওয়া স্নায়ুযুদ্ধ বা ঠাণ্ডাযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগী পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার মিত্র জোটের। এ স্নায়ুযুদ্ধ ছিল ক্ষমতা ও আদর্শগত দ্বন্দ্বের মিশেলে। নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব আশা করেছিল তারা স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটাতে পেরেছে।কিন্তু ২০১০-এর দশকে এসে নতুনরূপে বিশ্ব আবার স্নায়ুযুদ্ধের যুগে ফিরে এসেছে।তবে নতুন এই স্নায়ুযুদ্ধের সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর স্নায়ুযুদ্ধের পার্থক্য রয়েছে।সে সময় ক্ষমতার সঙ্গে ছিল আদর্শের মিশেল।আর এখন আদর্শ নয়, শুধুই ক্ষমতা ও বাজার দখলের লড়াই।বিশেষ করে এ বাজার হচ্ছে অস্ত্র ব্যবসার।নতুন এ স্নায়ুযুদ্ধোত্তর প্রতিদ্বন্দ্বী মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।ইউরোপে রাশিয়ার দোরগোড়ায় ইউক্রেন নিয়ে যা শুরু এখন মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে সিরিয়াযুদ্ধে তা প্রলম্বিত আকার নিয়েছে।প্রাগৈতিহাসিক শহর। চার বছর ধরে দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন।আক্রান্ত।যুক্তরাষ্ট্র,তুরস্ক,সৌদি ও কাতারের দেওয়া অর্থ ও অস্ত্রের মদদে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করে।এর পরের ধাপে তুরস্ক থেকে রীতিমতো প্রশিক্ষিত ভাড়াটে যোদ্ধারা শহর দখলে নেয়।শিয়া গণহত্যা ঘটানো হয় একাধিকবার। ছোট বাচ্চাদেরও শামিল করা হয় ওই ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’ গ্রুপে। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বন্দুক। তাদের শেখানো হয় কিভাবে সিরিয়া সরকারি সেনা দেখলেই গুলি করতে হয়।এভাবেই বেশ চলছিল।চুপ ছিল পশ্চিমা বিশ্ব।রাষ্ট্রসংঘে বসে কেউ এসব দেখতে পায়নি।এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে রাশিয়া সক্রিয়ভাবে সিরিয়া সংকটে যোগ দেওয়ার পর।এখন পাশা উল্টে গেছে। রাশিয়া ও ইরানের সাহায্যে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী আলেপ্পোর পূর্ব অংশ পুনর্দখল করেছে চার বছর পর। আলেপ্পোর যুদ্ধ আসলেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্ট্র্যাটেজিক পরাজয়। তাই তারা ও তাদের তাঁবেদার মিডিয়া হাহাকার করছে।রাশিয়ার যোগদানের পর থেকে সিরিয়া সংকটে আরো একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তুরস্কের শিবির বদল। তুরস্ককে ব্যবহার করেই প্রধানত আলেপ্পোসহ সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে আল-কায়েদা, আল-নুসরা প্রভৃতি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ঢুকিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব।তারা ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’ সেজে সিরিয়ায় রয়েছে এবং একটানা সরকারবিরোধী সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।যে তুরস্ক তাদের সীমান্ত সর্বক্ষণ খুলে রেখে তাদের জন্য অস্ত্র সরবরাহ করেছে,সেই তুরস্ক কয়েক মাস আগে হঠাৎই বেসুরো গাইতে শুরু করে। ওয়াশিংটন বুঝতে দেরি করেনি। একদা তাদের বিশ্বস্ত এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সেনা-অভ্যুত্থান হয়, আর সেটা সম্পূর্ণ মার্কিন মদদেই। ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ফলে তুরস্ক রাশিয়ার আরো কাছাকাছি চলে আসে।জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ১৫ দিনের মধ্যেই মস্কোতে বৈঠকে মিলিত হন এরদোয়ান ও পুতিন। বৈঠকের পরই দীর্ঘদিনের চেনা সুরের বদলে অন্য সুরে বলে ওঠেন এরদোয়ান সিরিয়া সংকট সমাধানে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রাশিয়াকে প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের কপালের ভাঁজ চওড়া হয়।এখন প্রশ্নের মুখে তুরস্ক-ন্যাটো সম্পর্ক।ফের রুশ-তুরস্কের নয়া সম্পর্ককে ঝটকা দিতেই আংকারায় রুশ রাষ্ট্রদূতকে হত্যার ঘটনা ঘটল।কিন্তু রাশিয়া ও তুরস্ক কোনো প্ররোচনায় পা দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।তাই যৌথ তদন্তদল গঠিত হয়েছে।আর আজ শুধু রাশিয়া নয়,ইরানকেও সঙ্গে নিয়ে সিরিয়া প্রশ্নে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক সারা শেষ।২১ তারিখের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে তুরস্কের বিদেশমন্ত্রীর সাফ কথা, আলেপ্পোর সাফল্য সিরিয়ার বাকি অশান্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে দিতে হবে।সিরিয়াকে মুক্ত করতে হবে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে। চীনের শীর্ষস্থানীয় এক পত্রিকায় মঙ্গলবার অভিযোগ করে বলা হয়েছে,সিরিয়ায় ঠাণ্ডা লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।প্রতিপক্ষ দেশ দুটির উপলব্ধি করা উচিত,ঠাণ্ডা লড়াইয়ের যুগ গত হয়েছে এবংতাদের শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে এ সঙ্কটের সমাধানে এগিয়ে আসা উচিত বলেও মন্তব্য করেছে পত্রিকাটি।সম্প্রতি সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুশ বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর চীনা সরকারি পত্রিকায় এই সংবাদ ভাষ্য প্রকাশিত হয়।ক্ষমতাসীন দলের দৈনিক দা পিপলস ডেইলি’তে মঙ্গলবার সিরিয়ার ওপর প্রকাশিত সংবাদভাষ্যটিতে বলা হয়েছে,সিরিয়া নিয়ে ঠাণ্ডা লড়াইয়ের দিনগুলোর মত কূটনৈতিক ও সামরিক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।পত্রিকাটির অভিযোগ ওয়াশিংটন ও মস্কো তৃতীয় একটি দেশের মাটিতে প্রভাব বিস্তারের জন্য সব ধরণের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।প্রতিদ্বন্দ্বী ওই দেশ দুটি পুরনো দিনের ঠাণ্ডা লড়াইয়ের মতই পরস্পরের বিরুদ্ধে আঘাত ও প্রতিঘাতের খেলায় মেতে ওঠেছে।কিন্তু আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে রয়েছি।দেশ দুটির এই বাস্তবতা মাথায় রাখা উচিত।সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে মস্কো ও ওয়াশিংটনে র নগ্ন হস্তক্ষেপেরও সমালোচনা করেছে পিপলস ডেইলি।গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সিরিয়ায় জিহাদিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু কেরছে রাশিয়া।তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এই হামলার সমালোচনা করে বলেছে,সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বশির আল আসাদকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতেই এ হামলা শুরু করেছে মস্কো।এতদিন ধরে সিরিয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট।তারা আসাদের পতনকেই সিরিয়া সঙ্কটের একমাত্র সমাধান বলে মনে করে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধকে ‘প্রক্সি ওয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করে পিপলস ডেইলি বলছে,ওই দেশ দুটির এ যুদ্ধে সরকার বা বিরোধী দল কারো পক্ষ না নিয়ে এর একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চালানো উচিত।পত্রিকাটির ভাষায়,‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মত বৃহৎ দেশগুলো, যাদের সিরিয়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে, তাদের জরুরি ভিত্তিতে এই সঙ্কটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা উচিত।মঙ্গলবার ‘জং শেং’(চীনের কণ্ঠ) নামের এক কলামে ওই ধারাভাষ্যটি প্রকাশিত হয়।এই কলামটিতে বিশ্ব রাজনীতির ওপর প্রায়ই নানা মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে থাকে।মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল হলেও ওই অঞ্চলে কূটনৈতিকভাবে কখনোই তেমন প্রভাবশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেনি চীন।যদিও শুরু থেকেই তারা বলে আসছে, সামরিকভাবে সিরিয়া সঙ্কটের সমাধান করা যাবে না।স্বাভাবিক।আজ রাশিয়া,তুরস্ক,ইরান যেখানে তাদের সাফল্য দেখছে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব তাদের চরম বিপর্যয় দেখছে।আসলেই এক জটিল রাজনীতির পাশা খেলা চলছে সিরিয়াকে ঘিরে।আজ পাঁচ বছর পরে সিরিয়ায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে এক লাখের বেশি অসামরিক ব্যক্তি।এর মধ্যে আছে ১৫ হাজার শিশু ও ১২ হাজার নারী।দেশের মোট দুই কোটি ৩০ লাখ নাগরিকের মধ্যে ৫০ লাখ মানুষ দেশত্যাগ করে শরণার্থী হয়েছে এবং আরো ৬৫ লাখ হয়েছে গৃহহীন।যুদ্ধকবলিত অঞ্চলগুলোর সব শিশুই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।২০১১ সালের পর যারা জন্মেছে তারা শুধু যুদ্ধই দেখছে,বোমা হামলাই দেখছে।এটাই তাদের শৈশবের জগৎ।একটানা বোমা হামলা হবে।তা থেকে বাঁচার জন্য দৌড়াতে হবে,মাটির নিচে আশ্রয় নিতে হবে, মাঝেমধ্যেই অভুক্ত থাকতে হবে।সিরীয় শিশুদের জন্য এটাই রোজনামচা। আলেপ্পোর বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে যে কোনো সময়ই হিজবুল্লাহসহ ইরান, আফগানিস্তান ও ইরাকের শিয়া বাহিনীর সহযোগিতায় তা দামেস্ক সরকারের পূর্ণ করায়ত্ত হতে যাচ্ছে। সিরিয়া সামনে এক মারাত্মক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। সিরিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করণীয় কাজের সুযোগ ক্রমেই হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। আর এজন্য সে পূর্ব আলেপ্পোর আল-নুসরা ও আইএস দখলদারী এলাকায় বেসামরিক লোকদের ওপর রাশিয়ার বিমান হামলার ব্যাপারে ‘সতর্ক’ করে দিয়েছে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে পূর্ব আলেপ্পোর ধ্বংসযজ্ঞ ও মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের সংবাদ ও তার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হচ্ছে। দামেস্কের সরকারি বাহিনী ও জিহাদিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বলবৎকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে সরকারি বাহিনীর ওপর বিমান হামলা চালিয়ে চুক্তির বরখেলাপ করে, তা অনেকটা উহ্যই থেকে যায়।বস্তুত এ কারণেই ভেঙে যায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য আসতে থাকে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা রাশিয়াকে এই বলে হুশিয়ার করে দেন যে, রাশিয়ার সৈন্যদের শিগগিরই ‘লাশ’ হয়ে সিরিয়া ছাড়তে হবে। আরো বলা হয় যে, মস্কোর সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হলে তারা তাদের উপসাগরীয় এলাকার সহযোগীদের (সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা) মাধ্যমে বিদ্রোহীদের (আল-নুসরা ও আইএস) আরো উন্নত অস্ত্র সরবরাহ করবে।অর্থাৎ আফগান মুজাহিদিন দের যে বিমান বিধ্বংসী মিসাইল (ম্যানপ্যাড) সরবরাহ করা হয়েছিল, সেই অস্ত্র বিদ্রোহীদের দেওয়া হবে। সিরিয়ায় রাশিয়ার আসল মতলব কী?নোংরা কাজ অন্য কেউ করে দিলে আপত্তির কারণ থাকতে পারে না৷ কিন্তু অভিযোগ, জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর বদলে রুশ বোমারু বিমান সিরীয় বিদ্রোহীদের উপর হামলা চালাচ্ছে৷ রাশিয়া তা নস্যাৎ করে দিয়েছে৷ রাশিয়ার বক্তব্য, তারা সিরিয়ার সরকারের আমন্ত্রণেই হামলা চালাচ্ছে৷ অর্থাৎ বাশার আল-আসাদ সরকারকে সরাসরি সাহায্য করাই রাশিয়ার উদ্দেশ্য৷ রাশিয়াই আইএস-এর মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বেশি আন্তরিক৷ নিজেদের বক্তব্যের সম্মেলনে তারা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে৷কিন্তু ওয়াশিংটনের অভিযোগ, আইএস-এর বদলে বিদ্রোহীদের দমন করাই পুটিন ও আসাদের মূল উদ্দেশ্য৷ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সরাসরি এ বিষয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন৷ভবিষ্যতে সিরিয়ায় রুশ-মার্কিন সংঘাতের আশঙ্কা দূর করতে দুই দেশের সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে বৈঠকে বসতে চলেছে৷সিরিয়া সংকটের জটিলতা ও বিভিন্ন পক্ষের স্বার্থের সংঘাতের বিষয় নিয়ে একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেছেন অনেকে৷সিরিয়াকে ঘিরে অ্যামেরিকা, রাশিয়া ও ইরানের স্বার্থের সংঘাত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল৷ওবামা আন্তর্জাতিক সংকটগুলি থেকে দূরে থাকার নীতি নেওয়ার ফলে শূন্যস্থান পূরণ করতে পুটিন এগিয়ে এসেছেন এই অভিযোগের ভিত্তিতে এক ব্যাঙ্গচিত্র শেয়ার করেছেন অনেকে৷

বিশ্বকে যে বার্তা দিয়ে গেলেন ওবামা


রায়হান আহমেদ তপাদার 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণ 
করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্এর মাধ্যমে দুই মেয়াদে থাকা বর্তমান প্রেসিডেন্ট 
বারাক ওবামার ৮ বছরের সময়কালের পরিসমাপ্তি ঘটবে। প্রেডিসেন্ট 
হিসেবে বিদায়ের ৯দিন আগে মঙ্গলবার তিনি জাতির উদ্দেশে শিকাগোতে
শেষ ভাষণ দেন। এ ভাষণে ওবামা তার সময়কার সাফল্য,যুক্তরাষ্ট্রের 
ভবিষ্যৎ ঝুঁকি, গণতন্ত্র,ঐক্য ইত্যাদি নানা বিষয়ে কথা বলেন। বিদায়ী 
ভাষণ দিতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হন ওবামা।যা বলা চলে,আগে কোনো 
ভাষণে দেখা যায়নি। আমেরিকানদের শতর্ক সতর্ক করলেন প্রেসিডেন্ট 
বারাক ওবামা।জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে 
মঙ্গলবার তিনি শেষ ভাষণ দেন।এতে সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ ও 
জাতীয়তাবাদের বিষয়ে তিনি হুঁশিয়ার করে দিলেন মার্কিন ভোটারদের।
এ সময় তিনি বর্তমান বিশ্বে যেসব জটিল সমস্যা রয়েছে সে দিকেই দৃষ্টি 
আকর্ষণ করেন।বরাবরের মতোই তিনি এদিনও ছিলেন দৃপ্তকণ্ঠের বক্তা। আগামী ৮ই নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট
নির্বাচন।এতে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প।তার নাম উল্লেখ না করেই তার বাণিজ্য,অভিবাসন,বহুত্ববাদ 
সহ তুলে ধরেন।নির্বাচনে যদি ‘আগ্রাসী জাতীয়তাবাদ’ অথবা ‘অশোধিত জনপ্রিয়তা’বিজয়ী হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও
বিশ্বের জন্য যে ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে তার একটি অন্ধকারময় চিত্র তুলে ধরেন বারাক ওবামা।ডনাল্ড ট্রাম্প তার
নির্বাচনী প্রচারণায় মেক্সিকো সীমান্তে যে দেয়াল নির্মাণের কথা বলেছেন, সীমান্ত নিরাপত্তার কথা বলেছেন সে বিষয়ে
তুলে ধরেন তিনি।ট্রাম্পের ওই প্রস্তাবের সমালোচনা করে ওবামা বলেন,একটি জাতি যদি দেয়াল দিয়ে চারদিক থেকে
নিজেকে আবৃত করে তাহলে তার মধ্য দিয়ে সে শুধু নিজেকেই বন্দি করবে।এ সময় বারাক ওবামা পরমানু অস্ত্রমুক্ত 
বিশ্ব গড়ে গোলার আহ্বান জানান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন,রাজনীতিবিদ রা মুসলিমদের কটাক্ষ করলে তা আমাদের নিরাপদ করে না।
যখন একটি মসজিদে হামলা হয় বা কোনো শিশু নিপীড়নের শিকার হয় তখন আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।
’স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে জাতির উদ্দেশে শেষ ভাষণ (স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন 
অ্যাড্রেস) দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট এসব কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন 
রাজনীতি পরিহার করতে হবে,যা নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা ধর্মকে আঘাত করে।এ বিষয়গুলোয় আসলে রাজনৈতিক 
সংস্কারের কোনো প্রয়োজন নেই।এগুলো বোঝার বিষয়।শান্তির কথা বলেন, যেমনটা তিনি এর আগে জাতিসংঘের 
ভাষণে বলেছিলেন। সময় এবং মানবজাতি এমন একটি পর্যায়ে এসেছে যেখানে বার বার যুদ্ধ ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে
। হয়তো এটাই আমাদের পরিণতি। ওই ভাষণে ওবামা ঘোষণা করেন ৫০ টি দেশ এ বছর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর 
৩ লাখ ৬০ হাজার শরণার্থীকে নেয়ার অঙ্গীকার করেছে। তিনি আরও বলেন, জার্মানি, কানাডা সহ বিশ্ব নেতারা 
গত বছরের চেয়ে দ্বিগুন শরণার্থী নিতে চেয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে যুদ্ধ অথবা নির্মমতার শিকার হয়ে প্রায় ২ 
কোটি ১০ লাখ মানুষ নিজ দেশ ছেড়ে শরণার্থী হয়েছে। এর মধ্যে ৬ বছরের যুদ্ধকবলিত সিরিয়ারই রয়েছে ৯০ লাখ
মানুষ। বাকিরা যুদ্ধকবলিত অন্য দেশগুলো থেকে পালিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বারাক ওবামা বলেন, আমরা আমাদের চোখ 
বন্ধ করে রাখতে পারি না। পারি না পিছু ফিরতে। এসব বাস্তুচ্যুত মানুষগুলোর জন্য যদি আমরা দরজা বন্ধ করে 
দিই তাহলে আমাদের গভীরে যে মূল্যবোধ রয়েছে তার সঙ্গে প্রতারণা করা হবে।২০১৭ আর্থিক বছরে নতুন এক লাখ 
১০ হাজার শরণার্থী নিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।এ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে ১লা অক্টোবর থেকে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন,সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সমর্থন দিয়ে রাশিয়া কৌশলগত
ভুল করেছে।সিরিয়ার এই যুদ্ধ তার ও পুতিনের মধ্যকার কোন প্রতিযোগিতার বিষয় নয়।সম্প্রতি সিরিয়া নিয়ে 
মার্কিন সিদ্ধান্তহীনতার যে অভিযোগ ওঠেছে তার জবাবে তিনি এ কথা বলেন বলে এএফপি জানিয়েছে।মঙ্গলবার 
ওবামা বলেন,এটা আমার ও পুতিনের মধ্যকার কোনো প্রতিযোগিতা নয়।’তিনি বলেন, রাশিয়াকে যে প্রশ্নটি করা 
উচিত তা হলো,তারা কি মনে করছে যে তারা একটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া দেশে কয়েকশ কোটি মার্কিন ডলার 
ব্যয় করে বিজয়ী পক্ষের মিত্র হিসেবে খুব বড় কিছু অর্জন করতে পারবে?তিনি আরো বলেন,‘পুতিন মনে করে 
থাকতে পারেন যে তিনি রুশ সৈন্যদের সহায়তায় সিরিয়াকে স্থায়ীভাবে দখল করার মতো প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
কিন্তু এর জন্য তাকে চরম মূল্য দিতে হবে।দেশটির তিন চতুর্থাংশ এলাকা আসাদের নিয়ন্ত্রণে নেই বলেও তিনি মন্তব্য 
করেছেন।ওবামা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত অস্ত্রবিরতি কার্যকর করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।এর জন্যে 
পুতিনই অনেকটা দায়ী।সিরিয়ায় এক সপ্তাহের মধ্যে অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।প্রসঙ্গত,২০১৩ সালে 
সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালানোর যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল মার্কিন সিনেটের সমর্থন না পেয়ে শেষ মুহূর্তে এসে 
তা বাতিল করে দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ওবামা।এ নিয়ে মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়া সম্মেলনে ফ্রান্স অভিযোগ করার পর 
আত্মপক্ষ সমর্থন করে এসব কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।আসলে বুধবার পর্যন্ত আমেরিকার শিকাগোতে বৃষ্টির 
কোনো পূর্বাভাস ছিল না।তবে শিকাগোতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেওয়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামার বিদায়ী 
আবেগময় ভাষণে ওবামার পরিবার,উপস্থিত জনতা ও গোটা দেশের মানুষের চোখ দিয়ে অশ্রু বর্ষিত হচ্ছিল।বারাক 
ওবামা কেবল মিশেল শব্দটি উচ্চারণ করছিলেন;উপস্থিত জনসমুদ্র তাতে স্বতঃস্ফূর্ত জয়ধ্বনির মাধ্যমে ফার্স্ট লেডিকে 
অভিবাদন জানায় উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে ওবামা বলেন,‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আট বছর পার 
করেছি।
আমি আমার দেশ এবং দেশের মানুষের উন্নয়নের কথাই সব সময় ভেবেছি।তিনি আরো বলেন,‘আমি সব সময় 
সব বিষয়ে ইতিবাচক ছিলাম, সবাই সেখানে ব্যর্থ ছিল সেখানে আমি আশার আলো
ইতিবাচক ছিলাম, সবাই যেখানে ব্যর্থ ছিল সেখানে আমি আশার আলো জাগিয়েছি।আমি মার্কিনদের চাকরির ক্ষেত্রে 
প্রসার ঘটিয়েছি।দেশে বেকারের সংখ্যা হ্রাস করেছি।দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছি।আমি আশা 
করব শরণার্থী ইস্যুতে আমাদের যে অবস্থান রয়েছে তা ভবিষ্যতে আরও উন্নত হবে।২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের
কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘আমি জানি এটা নির্বাচনের মৌসুম।আর এটা প্রত্যাশার সময় যে ভবিষ্যত সময়ে 
আমরা কি পাবো।গত বছরের শেষের দিকে বাজেট এবং ট্যাক্স সংক্রান্ত কাজে গঠনমূলক পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য 
মাননীয় স্পিকার এবং অন্যান্য নেতাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমি আশা করি আমরা সবাই মিলে সামনের 
সময়গুলোতেও একত্রে কাজ করতে পারব।তিনি আরো বলেন,‘আজ রাতে আমি সামনের দিনগুলোর জন্য সহজ 
কিছু প্রথাগত প্রস্তাবের তালিকা জানাতে চাই।চিন্তার কিছু নেই।আমি রোগীদের চিকিৎসার সুব্যবস্থার জন্য কম্পিউটার 
কোডকে পার্সোনালাইজ করে ব্যবহারের পদ্ধতি ছাত্রদের শিখতে সাহায্য করেছি এবং উন্নয়নের জন্য যেসব কাজ করা 
প্রয়োজন সেগুলো চালিয়ে যাব।অভিবাসন পদ্ধতির জন্য একটি নির্ধারিত পদ্ধতি, আমাদের শিশুদের বন্দুক সহিংসতা 
থেকে সুরক্ষা,কাজ ও বেতনের মধ্যে সমতা, বেতনভোগী ছুটি,ন্যূনতম মজুরিসহ বিভিন্ন কঠিন কাজগুলো একত্রে 
সমাধান করতে হবে।আর এগুলোই এখনও সবার মৌলিক অধিকার বলে গুরুত্ব দিতে হবে।এই কাজগুলো সমাধান 
না হওয়া পর্যন্ত আমি হাল ছাড়ছি না।ভাষণে ওবামা ভবিষ্যতের প্রতি জোর দিয়ে বলেছেন,‘কিন্তু আমার এই শেষ 
ভাষণে আমি শুধু সামনের বছরের কথা বলতে চাই না।বরং আমি পরবর্তী পাঁচ বছর,দশ বছর বা তারও পরের 
সময়ের প্রতি জোর দিতে চাই। আসলে আমি ভবিষ্যতের ওপরই বেশি আলোকপাত করতে চাই।ভাষণের এক পর্যায়ে 
ওবামা বলেছেন, আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মানেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নয়। তিনি আরো বলেছেন,সন্ত্রাস এবং অর্থনৈতিক 
পরিবর্তন নিয়ে মার্কিনদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।তাদের ভবিষ্যত নিয়ে ভয় পাওয়া কিছু নেই।কেননা দেশে সন্ত্রাসের
 বিরুদ্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।আর আমি আমার প্রচেষ্টায় বন্দুক আইনের ওপরও জোর দিয়েছি।আমি 
এদেশে বন্দুক সংক্রান্ত সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন করতে চাই যেন সন্ত্রাসীরা অবাধে বন্দুক কেনা বেচা-কেনা করতে 
না পারে।ভাষণে ওবামা আরো বলেন,‘আইএস এবং আল কায়েদা জঙ্গি সংগঠনের জন্য আফগানিস্তান এবংপাকিস্তান
সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কয়েক দশক ধরে অস্থিরতা চলতেই থাকবে।নিজের শেষ ভাষণে ওই দুই জঙ্গি গোষ্ঠীকে 
সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন ওবামা।তিনি বলেন,‘আইএস এবং আল কায়েদা উভয়ই বর্তমান বিশ্বে 
আমাদের লোকজনের জন্য হুমকি স্বরুপ।তাদের কাছে মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই।তারা নিজেদের জীবনেরও 
পরোয়া করে না।তারা বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করতে পারে।তারা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে সহজ-সরল মানুষদের 
মনের ওপর প্রভাব খাটাচ্ছে। আর এদের দিয়ে মানুষ হত্যার মত জঘন্য কাজ করাচ্ছে।তিনি আরো বলেন,‘আমাদের 
পররাষ্ট্রনীতিতে আইএস এবং আল কায়েদার হুমকির বিষয়টিকেও আলোকপাত করতে হবে।আইএস ও আল কায়েদার 
কারণে মধ্য প্রাচ্য, আফগানিস্তান,পাকিস্তান,মধ্য আমেরিকা,আফ্রিকা এবং এশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশেই অস্থিরতা 
কয়েক দশক ধরে চলতে থাকবে।আর এ কারণে এসব স্থান সন্ত্রাসীদের জন্য নতুন নিরাপদ স্বর্গরাজ্যে পরিণত হতে 
পারে।

							
						

বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সভায় শেখ শফিউল আজম। অনতিবিলম্বে ১৭% হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহবান

বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ডাঃ শেখ শফিউল আজম বলেছেন,- সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ১৭% হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের সিদ্ধান্তে চট্টগ্রামবাসীর মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এমনিতেই চট্টগ্রামের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে খুবই দুর্বল অবস্থা অতিক্রম করছে। এবং চট্টগ্রামে এমন কিছু পরিবার আছে যারা শুধুমাত্র এক চিলতে জমি/ঘর ভাড়া দিয়ে কোন রকমে জীবন নির্বাহ করে। সেই ঘর ভাড়ার উপর যদি ১৭% হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করা হয় তা হলে এ সকল মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে রাস্তায় নামা ছাড়া আর অন্য কোন গত্যান্তর নেই। এই কথাগুলো বিবেচনায় এনে ১৭% হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের সিদ্ধান্ত পরিহার করে কাঁচা ও আধাপাকা ঘরের হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ করার জন্য তিনি মাননীয় সিটি মেয়রের প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি আরো বলেন এক সময় চট্টগ্রামের মানুষ ওয়াসার পানি সাপ্লাইয়ের সল্পতার কারণে যে ভোগান্তিতে ছিল তা নিরসনে আওয়ামীলীগ সরকার উদ্যোগ নিলে জাইকা কর্তৃক অর্থ অনুদানের বিনিময়ে কর্ণফূলি পানি প্রকল্প বা¯Íবায়নের মাধ্যমে তা অনেকাংশ নিরসন হয়। কিন্তু সম্প্রতি চট্টগ্রাম ওয়াসা পানির মূল্য বৃদ্ধি করার যে সিদ্ধান্ত বা¯Íবায়নের চেষ্টা করছে তা চট্টগ্রামবাসী কখনও মেনে নিবে না। তিনি এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রতি আহবান জানান। তিনি বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির নিয়মিত সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখছিলেন।
সভায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির মহাসচিব আলহাজ¦ এইচ এম মুজিবুল হক শুক্কুর বলেন গ্যাস স্বল্পতার অজুহাতে সরকার গ্যাসের দাম বাড়ানোর যে ন্যাক্কারজনক সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে তা অযৌক্তিক ও অমানবিক। তিনি বলেন কক্সবাজারের মগনামা, চট্টগ্রমের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি, পার্বত্য অঞ্চল সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জরিপে দেখা যায় এখনো অনেক যায়গায় গ্যাসের মজুদ রয়েছে। যার প্রমাণ দেশের কিছু দৈনিক পত্রিকায় খবরে প্রকাশিত টিউবওয়েল দিয়ে গ্যাস বেরোনোর সংবাদে দৃশ্যমান। তিনি অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের মূল্য না বাড়ানো পরামর্শ দিয়ে বলেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস কুপ খনন করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান।
সভায় বক্তারা বলেন নগরীর অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ না করার কারণে চট্টগ্রাম নগরের রা¯Íাঘাট ক্রমশঃ সরু হয়ে আসছে এবং চলাচল অনুপোযোগী হয়ে পড়ছে। এই নগরীর সড়কগুলোর দ্রæত সংস্কার সহ যানজট নিরসনে ফুটপাত হকার মুক্ত করার জন্য সংশিøষ্টদের প্রতি জোর দাবী জানান।
গতকাল ০৩ জানুয়ারী’১৭ ইং মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম ষ্টেশন রোডস্থ হোটেল প্যারামাউন্ট ইন্টারন্যাশনালে বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির নিয়মিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সিঃ ভাইস চেয়ারম্যান ডাঃ শেখ শফিউল আজম, মহাসচিব আলহাজ¦ এইচ এম মুজিবুল হক শুক্কুর, ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা ইব্রাহীম বানু, হাকিম আলহাজ¦ মোহাম্মদ উলø্যাহ্, অধ্যÿ নুরুল ইসলাম সিদ্দিকী, যুগ্ন মহাসচিব ইঞ্জিঃ মোহম্মদ ইব্রাহীম, অর্থ সচিব কাজী গোলাপ রহমান, আলহাজ¦ এম এ সবুর, ইঞ্জিঃ হারুনুর রশিদ, শাহেদা আক্তার শেপু, মোহাম্মদ আজম উদ্দীন, এম গোফরান চৌধুরী, মোহাম্মদ হাসান সিকদার, নুরুল ইসলাম রিপন, মোহাম্মদ নুরল আবছার, রিমন কান্তি মুহুরী প্রমূখ।
সভায় এক প্রস্তাবে ফেব্রুয়ারী মাসকে সাংগঠনিক মাস ঘোষনা করে সংগঠনের ওয়ার্ড ও থানা কমিটি গুলো নবায়ন ও গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় মরমী শিল্পী মরহুম আবদুল গফুর হালির ইন্তেকালে শোক প্রস্তাব আনা হয় এবং অসুস্থ সংগঠনের চেয়ারম্যান স্থপতি তসলিম উদ্দীন চৌধুরীর রোগ মুক্তি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

যুদ্ধাপরাধী সাব্যস্ত করে বিচার করা উচিৎ

দেশ ও জনগণের স্বার্থে সরকারের উচিত- নরখাদক,বিচ্ছিন্নতাবাদী, রাষ্ট্রদ্রোহী। সংবিধানবিরোধী।কুচক্রী ও ষড়যন্ত্রকারী সন্তু লারমাকে যুদ্ধাপরাধী সাব্যস্ত করা ও বিচার করা। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিমন্ত্রী ও বিশেষ সুবিধায় থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙালিদের উচ্ছেদ করার জন্য চরম ঔদ্ধত্যমূলক ও রাষ্ট্রদোহিতামূলত কর্মকা- প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছে। উপজাতি সন্ত্রাসীদের মুখপাত্র সন্তু লারমা এবং তার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। সন্তু লারমার উদ্দেশ্য পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙালি উচ্ছেদ করে একচ্ছত্রভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী উপজাতি সন্ত্রাসীদের কর্তৃত্ব স্থাপন। গত জুমুয়াবার প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী নেতা সন্তু লারমার এই ঘৃণ্য কাজের প্রতিবাদ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান। তিনি বলেছেন, ‘সন্তু লারমা চায় না, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিরা থাকুক। তাকে (সন্তু লারমা) এই অধিকার কে দিয়েছে? ওই ব্যক্তি কিভাবে ওখান থেকে বাঙালিদের সরে যেতে বলে? সে কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নয়। তার বাংলাদেশের আইডেন্টিটি নেই। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ভূমিকা কি ছিল তাও কেউ জানে না।
প্রসঙ্গত আমরা মনে করি, ড. তারেকের এ কথা যথার্থ। কিন্তু অতীব আফসোস ও গভীর পরিতাপের বিষয় হলো- এ বিষয়ে বহুদিন যাবৎ লেখালেখির পরও এখন পর্যন্ত তথাকথিত কোনো বুদ্ধিজীবী মুখ খুলেনি। ড. তারেক মুখ খুললেন এবং বললেন, কিন্তু অনেক দেরিতে বললেন। বাস্তবে স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে যারা মুখে ফেনা তুলে তারা মূলত দেশের এক দশমাংশ ভূমি পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো চিন্তাই করে না। বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী নেতা সন্তু লারমা গংদের চক্রান্ত তাদেরকে বিচলিত করে না।
অথচ বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী নেতা সন্তু লারমার এই অপতৎপরতার প্রধান উদ্দেশ্য হলো- বাংলাদেশ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা একটি দেশ প্রতিষ্ঠা করা। আর এর পেছনে কাজ করছে মার্কিন সম্রাজ্যবাদী শক্তি ও ইহুদী লবিং। সিএচটি কমিশন হলো ইহুদী সম্রাজ্যবাদীদের দোসর। ফলে পাহাড়ে তৈরি হয়েছে দেশবিরোধী কিছু উপজাতি সন্ত্রাসী সংগঠন। জেএসএস এবং ইউপিডিএফ যাদের মধ্যে প্রধান। এরা সশস্ত্র এবং সংগঠিত। দেশবিরোধী আর এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতারা কিন্তু শুধু বিদেশী নয়, দেশী হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন, সোশাল ওয়ার্কার, মানবাধিকার কর্মী, এনজিও তথাকথিত সুশীল ব্যক্তি ইত্যাদি ছদ্মবেশে পাহাড়ে অবস্থান করে এরা বিচ্ছিন্নতাবাদী উপজাতি সন্ত্রাসীদের অর্থ সহায়তা দিয়ে চলেছে আর এই অর্থের ৯০ ভাগই ব্যবহার করা হচ্ছে মায়ানমার ও ভারত থেকে অস্ত্র সংগ্রহে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নের নাম করে বিভিন্ন সংস্থা পাহাড়ে এসব বিচ্ছিন্নতাবাদী উপজাতি সন্ত্রাসীদেরকে মদদ দিয়ে চলেছে এমনকি এরা কূটনৈতিক সহায়তাও পাচ্ছে বিদেশ থেকে।
আমরা দ্ব্যার্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সন্তু লারমা আজকে পাহাড়ে বাঙালি উচ্ছেদ করে শুধু দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রেই লিপ্ত নয়, বরং সে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ঘৃণ্য নীলনকশা বাস্তবায়নে অনেকটাই অগ্রসর হয়েছে। উল্লেখ্য, এই সন্তু লারমার পূর্বপুরুষরা স্বাধীনতার সময়ও পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষ অবলম্বন করে ঘৃণ্য রাজাকারের ভূমিকায় ছিল এবং মুক্তিযোদ্ধা ও এদেশবাসীকে হত্যা করেছিলো।
বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সন্তু লারমা পাহাড় থেকে বাংলাদেশীদের হটানোর নেপথ্যে ‘উপজাতি’দেরকে ‘আদিবাসী’ বলে প্রচার করছে। যা বাংলাদেশের সংবিধান বিরোধী। কারণ সংবিধানে এসব নৃ-গোষ্ঠীকে ‘উপজাতি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সন্তু লারমা ও রাজাকার পুত্র ত্রিদিব রায় অতীতে বলেছিলো- ‘আদিবাসী নয়, সবাই উপজাতি’। কিন্তু বর্তমানে হঠাৎ করে কয়েক বছর ধরে এই কুটকৌশলের অধিকারী বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সন্তু লারমা কেন আদিবাসী ইস্যু নিয়ে নাক গলাচ্ছে?
সরকারের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সন্তু লারমা কিছুদিন পর পর নানা হুমকি ও হুঁশিয়ারী দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গ্রুপকে উস্কে দিচ্ছে। যার কারণে প্রতিনিয়ত ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে পাহাড়। এর আগেও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সন্তু লারমা নানা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে হাজার হাজার বাঙালিকে শহীদ করেছিলো। ১৯৭৯ সালের ১৯শে ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা থেকে পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত সময়ে ঘুমন্ত মানুষের উপর রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলা সদর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম কলঙ্কজনক অধ্যায় লংগদু গণহত্যা করে ৩৮ হাজার বাঙালিকে হত্যা করেছিলো বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী নেতা সন্তু লারমার নেতৃত্বে জেএসএস। বাঙালিদের প্রত্যেকটি গ্রামে অগ্নি সংযোগসহ লুটতরাজ, সামনে যে বাঙালিকে পেয়েছে তাকেই হত্যা করেছে, বাঙালি নারীদের গণসম্ভ্রমহরণ ও পরে হত্যা, নরকীয়তা সৃষ্টি করেছিলো খুনি সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এর সশস্ত্র সংগঠন শান্তিবাহিনীর গেরিলা যোদ্ধারা ও উপজাতি সন্ত্রাসী হায়নারা। এছাড়া কাউখালী গণহত্যা, বেতছড়ি গণহত্যাসহ প্রায় ১৫টির মতো গণহত্যার মাধ্যমে এই সন্তু লারমা সে প্রায় লাখখানেক বাঙালিকে হত্যা করেছে।
সঙ্গতকারণেই আমরা বলতে চাই, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে কোনো প্রকার স্বাধীনতা বিরোধীদের অভয়ারণ্য হতে পারে না। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয় প্রতিনিয়ত দেশবিরোধী, সরকারবিরোধী এবং সংবিধানবিরোধী বক্তব্য দেয়ার পরও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সন্তু লারমার বিরুদ্ধে এখনো আইনের প্রয়োগ করা হয়নি। তাকে দেয়া প্রতিমন্ত্রীর সুবধিা প্রত্যাহার করা হয়নি।
অথচ যারা পাহাড়ে বাঙালি উচ্ছেদের কথা বলে তারা রাষ্ট্রদ্রোহী। সংবিধানবিরোধী। তারা বাংলাদেশবিদ্বেষী। দেশবিরোধী এসব কুচক্রী ও ষড়যন্ত্রকারীদের এদেশে থাকার, চলার, সংগঠন করার, বক্তব্য দেয়ার কোনো অধিকার নেই। তারা ১৯৭১-এর শান্তিকমিটির মতো দেশে অশান্তি বিস্তার করছে, বিদ্বেষ তৈরি করছে। বৈষম্য লালন করছে। এরা ষড়যন্ত্রকারী এবং কুচক্রী। এরা এদেশে অবাঞ্ছিত। এদের উৎখাত করতে দেশবাসীকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তাই সরকারের উচিত, সন্তু লারমাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। সেইসাথে পাহাড়ে বাঙালিদের সুরক্ষা এবং শান্তির পরিবেশ কায়েম করার জন্য যথাযোগ্য সামরিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

প্রাচীন জোতির্বিজ্ঞানীদের গবেষণা কর্মেও উদঘাটিত হয়েছে পৃথিবীর ঘুর্ণন গতি কমে আসছে

প্রাচীন জোতির্বিজ্ঞানীদের গবেষণা কর্মেও উদঘাটিত হয়েছে পৃথিবীর ঘুর্ণন গতি কমে আসার বিষয়টি। যদিও এখনকার বিজ্ঞানীরা যতটা বিশ্বাস করেন ঠিক ততটা নয়।

প্রতি শতকে সৌর দিনের দৈর্ঘ্য বা পৃথিবীর একটি পূর্ণকালীন আবর্তনের জন্য যে সময় লাগে তা ১.৮ মিলি সেকেন্ড করে বাড়ছে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করে ৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের নতুন একটি গবেষণা মতে গবেষকরা জানতে পেরেছেন, পৃথিবীর ঘুর্ণনের গতি ধীর হয়ে আসছে সমুদ্র স্রোতের কারণে সৃষ্ট ঘর্ষণ বা সংঘর্ষের ফলে। চাঁদের মধ্যাকর্ষণ শক্তির বলে টান খাওয়া পানি পৃথিবীর ভূভাগের বিপরীতে আঘাত করার ফলে এটা ঘটছে।
তবে সমুদ্র স্রোতের প্রভাব পরিমাপ করে দেখা গেছে প্রতি শতকে পৃথিবীর ঘুর্ণন গতি ২.৩ মিলিসেকেন্ড করে কমে আসা উচিৎ ছিল। যা নতুন গবেষণায় প্রাপ্ত সময় থেকে কিছুটা বেশি।
২.৩ মিলি সেকেন্ড এবং ১.৮ মিলি সেকেন্ডের মধ্যে পার্থক্য খুব কমে বলে মনে হতে পারে, বলেছেন, গবেষক লেসলি মরিসন। যিনি রয়্যাল গ্রিনউইচ অবজারভেটরিতে প্রায় ৪০ বছর কাজ করেছেন।
কিন্তু মিলি সেকেন্ডের ওই ভগ্নাংশগুলো পৃথিবীর আকার গত বরফ যুগের শেষ থেকে, প্রায় ১২,০০০ বছর আগে থেকে শুরু করে কীভাবে বদলে গেছে তা বুঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৭২০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দের এই গবেষণাটি করেছেন প্রাচীন ব্যবিলনীয় সভ্যতার বিজ্ঞানীরা। ১৮ শতকেই এই গবেষণার রেকর্ডগুলো পাওয়া যায় ব্যবিলনীয় সভ্যতার প্রত্নতাত্মিক নিদর্শন খুঁড়তে গিয়ে। মাটির তৈরি ফলকে এগুলো লিখিত ছিল। কিন্তু ভাষাটি জানা না থাকায় এতদিন তা বুঝা যায়নি। গত কয়েক দশকের চেষ্টার পর কা উদঘাটন করা সম্ভভ হয়েছে।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স

আমার বীরশ্রেষ্ঠ বাবা –

আমার বীরশ্রেষ্ঠ বাবা


-ফাতেমা আমিন

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ বিশ্ব ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় স্বাতন্ত্র্যে ভরপুর। এই মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহঙ্কার। এই মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা নিজের জীবন বাজি রেখে শত্রু মোকাবেলা করেছেন তারা যুগ যুগ ধরে আমাদের হৃদয়ে মর্যাদার আসনে স্থান করে রেখেছেন।

এই মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া এক অসম সাহসী বীর একজন সাধারণ পরিবারের ছেলে। নাম তার রুহুল। মা আদর করে তার নাম দিয়েছেন রুহুল। মা জুলেখা খাতুন বাবা আজহার পাটোয়ারি মিঞা ছোট কাল হতে রুহুলের ভিতর এক অসামান্য প্রতিভা দেখতে পেয়েছিলেন। সবার সাথে তার ছেলেটি অনায়াসে মিশে যেতে পারতেন। অকৃত্রিম বন্ধুবৎসল, সদা হাসিমুঝখ, মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ইত্যাদি চরিত্রের অধিকারি ছিলেন রুহুল। নিজের সহজ-সরল স্বভাব দিয়ে যে কোন আড্ডার মধ্যমণী হতে সময় নেন না পলকমাত্র। এমনি চরিত্রের অধিকারি রুহুলের আচরণ দেখে বাবা তাকে নিয়ে ভীষণ আশাবাদী ছিলেন। গ্রামের কোন মানুষের কোন সমস্যায় সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। কোন দ্বিধা ছিল না তার।
মুক্তিযুদ্ধের শুরুর প্রারম্ভেই রুহুলের জীবনে এক বড় সংকট তৈরি হয়। তার প্রাণপ্রিয় স্ত্রী জাকিয়া ছোট ছোট ছয় সন্তান রেখে এ পৃথিবী হতে বিদায় নেয়। সংসারে আরো চার বোন ২ ভাই, মা-বাবা। এত কিছুর পরও রুহুল মা-মাটি দেশের কথা ভেবে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।
বাবার যুদ্ধে যাওয়ার কথা শুনে ১০ বছর বয়সের মেয়ে নারগীছ কান্না-কাটি শুরু করে। ছোট ছোট ভাইবোনগুলোকে কে দেখবে কি হবে তাদের এ সকল চিন্তা করে নারগীছ প্রায় দিশেহারা। বাবা রুহুল মেয়েকে সারা জীবনের একটা দিক নির্দেশনা দিলেন। বসে বসে অনেক বুঝালেন। কঠিন ও কঠোর এ পিতা বোঝালেন কিন্তু নিজে বুঝলেন না। কি অসহায় করে যাচ্ছেন এই পরিবারটিকে। তার যাওয়া যে পরিবারটিকে শেষ করে দেয়া এক মুহুর্তের জন্য তিনি ভাবলেন না। মা জুলেখা খাতুন ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল। ছেলের এহেন সিদ্ধান্ত মা মেনে নিতে পারেন নি। আবার এই দুর্দিনে দেশের কাজে আসবে। দেশ মাতৃকার সেবা এই পুত্র যে তার কত যোগ্য একমাত্র তিনিই জানেন। কঠিন করে নিষেধ করতে পারলেন না। শুধু বললেন- ‘তোর মা-হারা এই সন্তানগুলোকে কে দেখবে বাবা, তুই কেন চলে যাইতেছস, তুই যাসনে বাবা’। মায়ের আকুতি, বাবার নিষেধ, সন্তানের আহাজারি সব কিছুকে পিছনে ফেলে পুত্র রুহুল একটি কথাই বললেন- মা আমার জন্য চিন্তা করো না, আমি মরলে যে দাম এবং বাঁচলেও আমার দাম তেমনি থাকবে। যে দেশের জন্য আমি জীবন দিতে যাচ্ছি সে দেশ আমার সন্তান ও আমার পরিবারকে দেখবে। তুমি ভেবো না মা”। রুহুল জীবীত কালীন যে কথা বলেছে সত্যিই বাস্তবে সেটি হয়েছে। এই মা জুলেখা খাতুনকে বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীতে ঢাকায় নিয়ে যান এবং তার হাতে তার পুত্রের ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ সন্মাননা সার্টিফিকেট তুলে দেন এবং মারা যাওয়ার পর রাষ্ট্রীয় সম্মানে তাঁকে দাফন করা হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মা জুরেখা যে রাস্তা দিয়ে রুহুল চলে গিয়েছেন তার পানে সব সময় চেয়ে থাকতেন। রুহুলের শহীদ হওয়ার খবর পেয়ে বাবা আজহার তৎক্ষণাৎ বুকে হাত দিয়ে বিছানা পড়ে যান এবং মৃত্যুমুখে পতিত হন। অনাদরে অবহেলায় তার ছোট সন্তানটি মারা যায়।
“এক পা নেই, দু হাতে দুটো ক্রাচ ধরে আস্তে আস্তে একজন মানুষ বাড়িতে প্রবেশ করল। তখন ঘরময় বাতাসে পর্দাগুলো উড়ছে। জানালার ফাঁক দিয়ে মানুষটি ভিতরে উঁকি দিয়ে দেখল ভেতরের মানুষগুলো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। এরা তো সবাই ভালোই আছে। ঘুমন্ত মানুষগুলোকে দেখেই মানুষটি বুঝল এদের কাছে আমার প্রয়োজন নেই’। মানুষটি যেমন করে এলো ঠিক তেমনি করে আবার চলেও গেলো”। এই মানুষটি আর কেউ নয়। আমাদের বাবা। আমাদের জন্মদাতা বাবা। এই স্বপ্নটা দেখি এই জন্য যে আমরা কখনও বাবার লাশটি দেখিনি। সুপ্ত মনে সদা জাগরুক হয়ে আছে- বাবা আমার আছে, বেঁচে আছে। আমাদের সব কর্মকা- আমার বাবা দেখতে পাচ্ছেন। আমাদের চারপাশেই আমার বাবা সর্বদা বিচরণ করছেন।
অনেক বড় বিপদে কেমন করে যেন রেহাই পেয়ে যাই। মনে হয় আমার বাবা আমাকে বিপদ হতে উদ্ধার করছেন। অনেক বড় সমস্যা দুই/তিন দিন ভাবছি। হঠাৎ একটা সমাধান হয়। জীবনে চলার পথে বাবার অভাব যে কি রকম অনুভব করেছি তা একমাত্র আমাদের পরিবারটিই বুঝতে পেরেছে। ১৯৭১ সালে বাবা ঘর ছেড়ে গেছেন। পেছনে রেখে গিয়েছেন মা হারা ছয় সন্তান অবিবাহিত বোন, কর্মহীন ভাই ও মা-বাবা। এ পরিবারটি দেখার কেউ ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা অনেক অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। আমার নানা আজহার মিঞা এবং নানী ছালেহা খাতুন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমাদের সহযোগিতা করেন। অনেক সময় ভাবি আমার বাবার এভাবে যাওয়া উচিত হয়নি। একজন সাধারণ মা-বাবার সন্তান হয়ে কিভাবে একজন মানুষ এত অসাধারণ হতে পারে? পৃথিবীতে কেউ অবিনশ্বর নহে। জন্মিলে মরিতে হবে। আমার বাবার মৃত্যু আমাদের চলার পথ অনেক কণ্টকাকীর্ণ করলেও এ ভেবে সুখ পাই যে, আমার বাবা কোন সাধারণ ব্যক্তি নয়। বিশ্বের যে কোন দেশে আমার বাবাকে এক নামে চিনে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমীন। বিনা চিকিৎসায় আমার ছোট ভাই মানসিক ভাবে অসুস্থ, বড় ভাই মো. আলী এ পৃথিবীতে নেই। আমরা তথা আমাদের পরিবারটি এত বেশি কষ্টের মধ্যে ছিলাম যে, কখনো খেয়ে কখনো না খেয়ে জীবনাতিপাত করেছি। এক সময় নৌবাহিনী থেকেই বলছিল এদের কোন অভিভাবক যেহেতু নেই এদের এতিমখানায় পাঠিয়ে দেয়া হোক। শহিদ পরিবার হওয়ার কারণে বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হওয়ায় ৭৫ পরবর্তী সময়ে আমরা অনেকটা লুকিয়ে জীবনযাপন করতে হত। বার বার আমাদের পরিবারের প্রতি আঘাত আসার পরও বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমাদের পুরো পরিবার ছিল/আছি/থাকব চিরকাল আস্থাশীল বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি বলেই ২০০৯ সালে আমাদের পুরো পরিবারটিকে ভাতের সাথে বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলতে চেয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী শক্তিরা। বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকা আজাদীসহ বিভিন্ন পত্রিকায় এটি ছাপিয়েছিল। বাংলাদেশ নৌবাহিনী যদি তড়িৎ ব্যবস্থা না গ্রহণ করত তাহলে পরিবারের প্রায় সদস্য সেদিন মৃত্যুমুখে পতিত হত। নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত এই বীর পরিবারটি। সেই ১৯৭১ সালের ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো আমাদের সমাজে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যে কোন সময় তাদের কালো থাবা আমার বাবাদের মত দেশ প্রেমিকদের কে শেষ করছেই তাদের পরিবারকে পর্যন্ত রেহাই দেয় নি। আমি ব্যক্তি পর্যায়ে কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। আমার বাবার নামে নোয়াখালী জেলার শহীদ রুহুল আমিন উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সেটি আমাদের পরিবার হতেই প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। চট্টগ্রামে রাঙ্গুনিয়াতে উত্তর পোমরা উচ্চ বিদ্যালয় টি আমার বাবার নামে প্রথম নামকরণ করা হলেও প্রশাসনিক অসহযোগিতার কারনে পরবর্তীতে সেটি স্থানীয় জায়গার নামে নামকরণ করা হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখা করি, কিন্তু তিন যাদের নির্দেশ প্রদান করেন তারা তা রাখেন নি। বর্তমানে স্কুলটিতে প্রায় ৬০০ জন ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করছে। প্রথমে আমার স্বামীর দেয়া খরচে শিক্ষকদের বেতন দেয়া হলেও পরবর্তীতে স্কুলটি এমপিওভুক্তি হয়।
দেশের সেবা, দেশের মানুষের সেবা করাই হচ্ছে আমি এবং আমাদের পুরো পরিবারের উদ্দেশ্য। জীবনে দেশ সেবা করার যদি কোন সুযোগ পাই তাহলে বঙ্গবন্ধু আদর্শে ভরা সোনার বাংলা গঠন কল্পে জীবন বিসর্জন দিতে কুণ্ঠাবোধ করব না।
আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যাকে একবার সেনাকুঞ্জে প্রশ্ন করেছিলাম – আপা আপনি ঢাকা থেকে সব মহিলা সাংসদ নির্বাচন করেছেন, যারা কখনও গ্রামে যাবেনা, আপনি চট্টগ্রামে মাত্র দু’জন মহিলা সাংসদ নিয়েছেন। ’ আমার নেত্রী আপা তার মিষ্টি হাসি দিয়ে আমাকে বলেছিলেন – তোমার বয়স এখন কম। পরের বার তোমার কথা ভেবে দেখব। আমি আমার আপার কথায় আশাবাদী। দেশের উপকারে যেন নিজেকে বিসর্জন দিতে পারি সে সুবর্ণ অপেক্ষায় আছি এবং থাকব।
আজ ১০ই ডিসেম্বর। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন রূপসার বুকে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন বীরের মত। দেশ মাতৃকার জন্য, পরিবার, সন্তান, মাতা-পিতা, ভাই-বোন কাউকে মনে স্থান দেননি। দেশকে সবার উপরে তুলে ধরেছেন। যেখানে নিপুন সাঁতারু এই বাবা আমার অনায়াসে বেঁচে থাকতে পারতেন কিন্তু সেখানে তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে জাহাজকে রক্ষা করার জন্য শেষ পর্যন্ত শত্রু অভিমুখে কামান চালিয়ে গেছেন এবং নিজেকে দেশের জন্য উৎসর্গ করেছেন। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর এই বীর বাবাকে মাথা নিচু করে স্যালুট করি। সাথে সাথে শ্রদ্ধা জানাই আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে যিনি এই বীরকে তার যোগ্য সম্মান বীরশ্রেষ্ঠ পদকে ভূষিত করেছেন। এই অভিসাংবাদিত বিশ্ব নেতাকে আন্তরিকভাবে সালাম জানাই।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা তৃণমূলে যে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের শহীদ পরিবারদের যারা কখনও জাতীয়ভাবে মূল্যায়িত হয়নি তাদেরকে তিনি সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং মূল্যায়ন করেছেন। আশার কথা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি ওয়েভ সাইট করা হচ্ছে যেখানে সব ধরণের মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচিতি রক্ষিত থাকবে। তাদের সব ধরনের সমস্যা গুলো একটি ফিতায় আবদ্ধ করা হবে। যেখানে মুক্তিযোদ্ধা মানেই গরীব, মুক্তিযোদ্ধা মানেই গৃহহীন এই ধারণাটা বদলে যাবে। যার ডাকে সাড়া দিয়ে এ সকল মুক্তিযোদ্ধারা সব হারিয়েছে, তার সুযোগ্য কন্যা এ সকল মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলিকে সঠিকভাবে মূল্যায়ণ করছেন এবং ভবিস্যতেও করবেন এটা আশা করি। এই কাজগুলো করার জন্য আমাদের দেশনেত্রীকে আল্লাহ্ যেন সুষ্ঠ রাখেন, দেশদ্রোহীদের কুনজর থেকে রক্ষা করেন সব সময় এই দোয়া করি।
আজ ১০ই ডিসেম্বর দিবসকে সামনে রেখে সকলের কাছে একটিই আহবান এ বীর যে উদ্দেশ্য নিয়ে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন সে উদ্দেশ্যকে আমরা বাস্তবে রূপ দিতে সদা প্রস্তুত থাকব। এ বীরের কীর্তি সদা জাগরুক রবে আজীবন। আমরা সকলে এ বীর এবং তার পরিবারের জন্য দোয়া ও মঙ্গল কামনা করি। – আমিন


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »