Category: উপ-সম্পাকীয়

স্বাধীনতা আমার অহংকার

—এম.এ.ফরিদ— বাঙ্গালী জাতীর ইতিহাস অত্যান্ত সমৃদ্ধশালী ইতিহাস। যা নিয়ে আমরা গর্ববোধ করতে পারি। বাঙ্গালীর অর্জন গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতাকে অর্জন করতে পেরেছি। স্বাধীনতা কার না ভালো লাগে? ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালী জাতি পূর্ন স্বাধীনতা লাভের আশায় দিন ক্ষন গুনতে থাকে। মুক্তি পাবার আশায় বাঙ্গালী জাতি পাগল হয়ে উঠে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সাধারন মানুষ মূল লক্ষে পৌছাতে জোট বদ্ধ হতে লাগল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আমরা পৌছে গেলাম সেই মাহেন্দ্রক্ষনে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ এর ভাষন স্বাধীনতার দাড়কে উন্মোচিত করল। ইতিহাসবীদদের মতে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষনটি ছিল ঐতিহাসিক। রেসকোর্স ময়দানের ওই ভাষনের মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধু পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছিলেন। পরবর্তিতে একাত্তরের ২৫ শে মার্চ রাতের আধারে পাকিস্থানী হানাদাররা আমাদের দেশে গনহত্যা শুরু করে দেয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৫ শে মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পাক হানাদার বাহিনী। গ্রেফতার হবার আগেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে যান। পরবর্তিতে আওয়ামীলীগের নেতা,সেনাবাহিনীর অক্ষাত মেজর সহ অনেকেই বঙ্গবন্ধুর লেখাটি তার পক্ষে পাঠ করে শোনান। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে এক শ্রেণীর ভন্ড প্রতারক স্বাধীনতা বিরোধী চক্র ইসলামের দোহাই দিয়ে এ দেশের মা-বোনদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছিল। ওরা আমাদের মা-বোনদের গনি মতের মাল বলে মনে করেছিল। অবশেষে আমরা ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে এবং ২ লাক্ষ মা-বোনের সভ্রমহানীর মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতাকে অর্জন করতে সক্ষম হই।। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে নিয়ে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র বর্তমান সময়েও সক্রিয় রয়েছে। সুযোগ পেলেই ওরা আমাদের স্বাধীনতাকে নিয়ে যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। আমাদের দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে স্বাধীনতা বিরোধীরা তৎপর রয়েছে। স্বাধীনতার মূল লক্ষ ও আদর্শকে সমন্বিত রাখার জন্য সবাইকে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধীদের রুখে দিতে আমাদেরকে সবর্দা তৎপর থাকতে হবে। স্বাধীনতার সুফলকে প্রতিটি নাগরিকের ঘরে পৌছে দিতে হবে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই স্বাধীনতাকে নিয়ে আমরা অহংকার করতেই পারি।

দুষ্টের উচ্চারিত ‘আল্লাহু আকবর’!

দুষ্টের উচ্চারিত ‘আল্লাহু আকবর’!

মূল কথায় যাওয়ার আগে চলুন পুরানো একটা গল্প নতুনভাবে মনে করা যাক । চলছে আমেরিকার জাতীয় নির্বাচন । রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক দলের দু’সদস্য নিজ নিজ দলের প্রচারে নেমেছে । তবে আশ্চার্যের বিষয়, দু’জনেই ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থীর জন্য ভোট চাচ্ছে !  ভাবছেন বোধহয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মতো রিপাবলিকান দলের কর্মীও ডেমোক্রেটিক দলের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে এ কর্ম করছে ! আসলে ঘটনা তা নয় ! তবে, কিভাবে ?  শুনুন তবে  !

যিনি ডেমোক্রেট দলের সদস্য তিনি সিএনজিতে উঠে এর চালকের সাথে নম্র ও সদয়ভাবে খুব ভালো ব্যবহার করছে, ড্রাইভারকে আপনি বলে সম্বোধন করছে, ঠিকঠাক ভাড়া পরিশোধ করে বিদায় বেলায় শুধু একবার আহ্বান করে ড্রাইভারের কাছে অনুরোধ রেখেছে, আমাকে যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তবে ডেমোক্রেটিক পার্টি মনোনীত প্রার্থীকে আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে আমেরিকার সম্মৃদ্ধিতে সহায়তা করবেন । অন্যদিকে রিপাবলিকান পার্টির অনুসারীও সিএনজিতে চেপেছে, সিএনজির চালকের সাথে চরম অভদ্র আচরণ করেছে, গালি-গালাজের যতোটুকু জানা ছিলো তাও সিএনজির ড্রাইভারকে দিয়েছে, দু’একটি চড়-থাপ্পরও বাদ যায়নি । সিগারেটের ধোঁয়া ড্রাইভারের চোখ-মুখের দিকে ফুঁকেছে, তুই তুকারি করে নেমে যাওয়ার সময় সিএনজির ভাড়া না মিটিয়ে উপরন্ত চোখ লাল লাল করে শাসিয়ে বলে গেছে, আমি ডেমোক্রেটিক দলের নেতা ! ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থীকে ভোট না দিলে তুইসহ তোর চৌদ্দগোষ্ঠীর খবর আছে ! রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীর জন্য নতুন করে আর ভোট চাওয়ার দরকার আছে ? এবার চলুন জঙ্গীদের মুখ থেকে উচ্চারিত ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনির ব্যাপারে কিছু বলা যাক ।

বাংলাদেশে এ যাবৎ যতোগুলো জঙ্গি হামলা ঘটেছে তার প্রায় প্রত্যেকটিতে জঙ্গিরা ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বণি তুলে সাধারণ মানুষের ওপর হামলে পড়েছে এবং নীরিহ মানুষ হত্যা করেছে । মানবতা বিবর্জিত কাজের সাথে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বণির সাজুয্য কোথায় তা একমাত্র জঙ্গিগোষ্ঠীই ভালো বলতে পারবে । অথচ যে মহান আল্লাহ ও তার প্রেরিত শ্রেষ্ঠ পুরুষ হযরত মুহাম্মদ সা. অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যাকে সবচেয়ে বড় পাপ বলে বারবার ঘোষণা দিলেন এবং পরিণামে কঠোর শাস্তির যে হুঁশিয়ারী দিলেন সেই আল্লাহর দোহাই দিয়ে যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে মানবতাবিরোধী কাজের সাথে নিজেদেরকে জড়িয়েছে তারা একদিকে যেমন মানবতার শত্রু অন্যদিকে কপটমূর্খ । তাদের মূর্খতার কারণেই আজ ইসলামের দুর্ণাম হচ্ছে । এরা ইসলামকে ব্যানার হিসেবে ব্যবহার করে এদের অনৈতিক কর্মকান্ডের বৈধতা দিতে ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সহানুভূতি আদায় করতে চায় । অথচ ইসলামের সাথে এদের এবং এদের হীন কর্মকান্ডের ন্যূনতম সম্পর্ক নাই ।

ইসলাম শান্তির ধর্ম । বিশ্বের বুকে আর কোথাও এমন কোন ধর্ম ও জীবন ব্যবস্থার সন্ধান পাওয়া যাবে না যা ইসলামের চেয়ে বেশি পরিণত, অধিক পূর্ণ । অথচ মুসলিম নামধারী গুটিক’তক মানুষের ধর্ম অসর্থিত কাজের কারনে আজ ইসলামকে পার্থিবভাবে কোনঠাসা অবস্থানে পৌঁছতে হয়েছে । ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বণি উচ্চারণ করে মহান রবের বড়ত্ব-শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দেয়া চলে কিন্তু মানুষ হত্যায়, মানবতা বিরোধী কর্মকান্ডের পরিচালনায় যারা ইসলামের এমন মহৎ ঘোষণার অপব্যবহার করে ইসলাম ও মুসলমানের শরীরে কলুষিত আভা লেপন করার চক্রান্ত ফেঁদেছে তারা ইসলাম নামক সত্য ধর্মের ওপর অধিষ্ঠিত নাই । এরা অন্যকোন তৃতীয় শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই ইসলামের দুর্ণাম ঘটাচ্ছে ।

আল্লাহর জমীনে আল্লাহ প্রেরিত জীবন বিধান বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর অবশ্য পালনীয় তবে এর অর্থ এই নয় যে, সেটা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে কিংবা সহিংসতা অবলম্বন করে সে উদ্দেশ্যকে পূর্ণ করতে হবে । ইসলাম এটা বলেনি, সমর্থনও করেনি । যারা জেনে-বুঝে অথবা না বুঝে মানবতা বিধ্বংসী কর্মকান্ড সম্প্রসারণের সাথে ‘আল্লাহু আকবর’ কিংবা এরূপ ধর্মের অন্যান্য কোন শ্বাশ্বত ঘোষণাকে একাকার করে ফেলছেন, আল্লাহর ওয়াস্তে তারা বিরত হোন । উগ্রতা, জঙ্গিবাদ কিংবা বিচ্ছিন্নবাদ ধর্ম কিংবা মানবীয় দৃষ্টিকোন সমর্থিত কোন পন্থা হতে পারেনা ।  পৃথিবীতে বহু শব্দ, বাক্য আছে-অমানবিক কর্মকান্ড পরিচালনায় সেসব ব্যবহার করুণ । ইসলাম নামক পবিত্র ধর্মের কোন পবিত্র শব্দকে অনৈসলামিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে ধর্মের দুর্ণাম করা যেমন উচিত হচ্ছে না তেমনি সাধারণ মুসলমানদের প্রতি জগৎবাসীর বিতৃষ্ণভাব উদয়ের আবহ দয়া করে সৃষ্টি করবেন না ।

 ‘আল্লাহ আকবর’ ধ্বনির মহত্বের অপব্যবহার করে যারা ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করছে তাদের বিরুদ্ধে ঐকব্যদ্ধ হওয়া আজ মুসলিম মিল্লাতের জন্য অত্যাবশ্যকীয় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে । পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বিপথগামী এসব তরুন ও নর-নারীকে ফেরাতে না পারলে রাষ্ট্রীয় জীবনে একদিকে যেমন অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়াত্মক পরিবেশ তৈরি হবে তেমনি অন্যদিকে ইসলাম ধর্মের চিরায়ত সৌন্দর্যের ওপর কালিমা লেপন হবে এবং ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে এসে জীবনকে ধণ্য করতে চায় তারও সংশয়ে পতিত হবে । যারা প্রকৃত ইসলামের অনুসারী সাচ্চা মুসলিম তাদের কেউ যেমন জঙ্গীবাদকে সমর্থন করবে না, তেমনি এদেরকে সামগ্রিকভাবে বয়কট করে মানবতার পক্ষেই জয়গান গাইবে । ইসলাম সর্বদাই শান্তি ও আলোর পথকে নির্দেশ করে । যারা ইসলামের এ অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করবে, আল্লাহর কসম, তাদেরকে কাল-হাশরের ময়দানে মহান প্রভূ কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তির মুখোমুখি করবেন ।

রাজু আহমেদ । কলামিষ্ট ।

ওয়েস্টমিনস্টার হামলায় বৃটেন উদ্বিগ্ন

রায়হান আহমেদ তপাদার 
টেমস নদীর ওপর অবস্থিত ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্ত এসে লেগেছে পার্লামেন্ট এলাকায়।এই ওয়েস্টমিনস্টার সেতুর ওপর দিয়ে পার্লামেন্টের দিকে আসার পথে সজোরে গাড়ি চালিয়ে পথচারীদের ওপর উঠিয়ে দেন এক হামলাকারী।এরপর গাড়িটি পার্লামেন্টের নিরাপত্তাবেষ্টনীতে গিয়ে আঘাত হানে।সে দিনটি ছিল বাইশ মার্চ বুধবার।লন্ডন স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে ৩টার দিকে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের অধিবেশন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।হামলার সময় পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন চলছিল।প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে সংসদ ভবনে ছিলেন।প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত সংসদ ভবন থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়।এমপিদের নিরাপত্তায় পুরো সংসদ ভবন এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।কয়েক ঘণ্টার জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে পার্লামেন্ট ভবন।কিছু কিছু স্থান আছে যেগুলো সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনা থেকে ধীরে ধীরে মুছে যায়।সেগুলো পরিণত হয় অপছন্দের রাজনৈতিক শাষকগোষ্ঠী বা দূরবর্তী অতিক্ষমতাধর সরকারের সংক্ষিপ্ত নামে।আমেরিকায় এই জায়গাটি হলো:‘ওয়াশিংটন, ডিসি’।ইউরো সমালোচকদের জন্য ‘ব্রাসেলস’।আর বৃটেনের এই সমালোচিত রাজসিক দূর্গ হলো ‘ওয়েস্টমিনস্টার।লন্ডনে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের অধিবেশন চলাকালে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় হামলাকারীসহ নিহত হয়েছেন পাঁচজন। এদের মধ্যে পালার্মেন্টের সামনে ওই হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা পিসি কেইথ পালমার (৪৮)।আহত এই পুলিশ কর্মকর্তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী টবিয়াস এলউড। তৎক্ষণাৎ শুরু করেন প্রাথমিক চিকিৎসা।এই ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ‘বীরে’ পরিণত হন এই পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) খবর দ্য টেলিগ্রাফের।অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পিসি কেইথ পালমারকে বাঁচাতে না পারলেও সর্বশক্তি দিয়ে তার এই মানবতার বহিঃপ্রকাশ প্রশংসিত হচ্ছে নানা মহলে।দেশটির গণমাধ্যম তাকে হিরো বলে সম্বোধন করছে।  যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পার্লামেন্টের বাইরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবিসির অনলাইন প্রতিবেদনে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন।নিহত পাঁচ ব্যক্তির মধ্যে হামলাকারীও রয়েছেন,বলা হয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে। আর বাকি তিন জনের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। পার্লামেন্টে ঢুকতে বাঁধা দিলে হামলাকারী তাকে ছুরিকাঘাত করেন।বাকি তিনজন হামলাকারীর গাড়ি চাপায় মারা গেছেন বলা হয়েছে।পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন চলাকালে টেমস নদী সেতুর ওপর কয়েকজনকে চাপা দিয়ে পার্লামেন্টে পাশের এক রেলিংয়ে ধাক্কা খায় একটি গাড়ি।পরে গাড়ি থেকে নেমে ছুরি হাতে পার্লামেন্টে ঢুকতে চায় হামলাকারী। বাঁধা দিলে এক পুলিশ সদস্যের উপর ছুরি চালিয়ে দেন হামলাকারী।পরে পুলিশ তাকে গুলি করেন।এই হামলার দায় কেউ এখনো স্বীকার করেনি। তবে ঘটনাটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য এবং সব দিক মাথায় নিয়েই এই বিষয়ের তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য পুলিশ।ওদিকে, কমন্সের চেম্বারে নিরাপত্তা স্বার্থে আটকে পড়েন এমপিরা। তাদের অনেকেই ফোনে ছিলেন। আমাদের মতোই খবর দেখছিলেন। তবে তাদের দুশ্চিন্তাটা একটু হলেও ছিল বেশি: তারা বন্ধু, সহকর্মী আর নিজেদের অধীনস্তদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। সবার মাথায়ই ছিল একই চিন্তা: হতাহতের মধ্যে পরিচিত কেউ যদি থাকে?হামলার সময়, আমি ওয়েস্টমিনস্টারে ছিলাম (পার্লামেন্টে নয়)। এক এমপির সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক শেষে উঠছিলাম তখনই হামলা শুরু।তিনি নিরাপদ আছে কিনা জানার জন্য স্ত্রীর কাছ থেকে টেক্সট মেসেজ পেয়ে ঘটনাটি জানতে পারেন। টিভি পর্দায় হয়তো তাকে আর দশটা রাজনীতিকের মতো দেখাবে। কিন্তু আজ যদি মানুষ তাকে দেখতো তাহলে একজন সাধারণ মানুষ দেখতে পেতো।লন্ডনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাইরে ও ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজে হামলার ঘটনার পর বার্মিংহামে শহরের ছয়টি বাড়িতে রাতভর অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বিমানবন্দর ও মেট্রোস্টেশনে একযোগে তিনটি সন্ত্রাসী হামলার এক বছর পূর্তির দিনেই লন্ডনে এ ঘটনা ঘটে। ব্রাসেলসের হামলায় নিহত হয়েছিলেন ৩২ জন।ওয়েস্টমিনস্টার সেতুর ওপর দিয়ে পার্লামেন্টের দিকে আসার পথে সজোরে গাড়ি চালিয়ে তা পথচারীদের ওপর উঠিয়ে দেন হামলাকারী। এতে দুজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। গাড়ির ধাক্কায় নিহতদের মধ্যে একজন নারীর কথা জানিয়েছে স্কাই নিউজ।গাড়িটি পার্লামেন্টের নিরাপত্তাবেষ্টনীতে গিয়ে আঘাত হানে।স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গুলো বলছে,হামলাকারী ৮ ইঞ্চি ছুরি নিয়ে পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দিলে এক পুলিশ সদস্যের ওপর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন তিনি। তখন পুলিশ হামলাকারীকে গুলি করে নিবৃত করে।গুলিতে নিহত হন হামলাকারী।  পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন। সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের প্রধান মার্ক রওলি জানিয়েছেন, পার্লামেন্ট ভবনে হামলা চালাতে ওঁৎপেতে থাকা এক হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে ওই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ।ওই ঘটনার সময় সংসদের উভয় কক্ষে (হাউস অব লর্ডস এবং হাউস অব কমন্স) অধিবেশন চলছিল।ঘটনার মুহূর্তের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেকে সংসদ ভবন থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এমপিদের নিরাপত্তায় পুরো সংসদ ভবন এলাকা ঘিরে ফেলে আর্মড পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে পার্লামেন্ট ভবন। প্রতিদিন দর্শনার্থীদের ভিড়ে ঠাসা থাকে এই এলাকা। আটকা পড়ে সেই দর্শনার্থীরাও।পার্শ্ববর্তী ওয়েস্টমিনস্টার পাতাল রেলস্টেশনসহ পুরো এলাকার যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো লন্ডন শহরে।মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর (ইসলামিক স্টেট) প্রচারণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাইরে হামলা চালানো হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে দাবি করেছে দেশটির বার্তা সংস্থা রয়টার্স।ওই ইউরোপীয় কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, সন্দেহভাজন হামলাকারীর পরিচয় জানতে পেরেছেন ব্রিটিশ গোয়েন্দারা।সে একজন বৃটিশ নাগরিক খালেদ মাসুদ।যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম শহরের বাসিন্দা।  জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাজ্যের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘যদিও এ হামলার প্রেক্ষাপট এখনো স্পষ্ট নয়, তবু আমি পুনরায় আশ্বস্ত করতে চাই যে জার্মানি এবং এ দেশের জনগণ সব ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে যুক্তরাজ্যের পাশে দাঁড়াবে।হামলার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের সঙ্গে ফোনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কথা বলেন বলে জানায় হোয়াইট হাউস।এ তথ্য জানিয়ে ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার বলেন, ট্রাম্প ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।যুক্তরাজ্যকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো হামলার নিন্দা জানিয়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন যুক্তরাজ্যকে ওয়েস্টমিনস্টা রের নিন্দা যারা করেন, তারা যদি আজ দেখতেন! যে গতিতে পুলিশ আর এমার্জেন্সি সার্ভিসগুলো বিপদের দিকে ছুটে গেলো যেখানে কিনা সহজাত মানবিক প্রবৃত্তি আমাদের বেশিরভাগ মানুষকে বলবে দূরে পালাতে। ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজে আহত অবস্থায় মানুষকে পড়ে থাকতে দেখে সাধারণ মানুষ যেভাবে তাদের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলো।প্রহরারত পুলিশ সদস্যদের ট্রেতে করে চা এনে দিলেন কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মী। পর্যটকরা দলবেধে ছুটলো নিরাপদ স্থানে। আর পার্লামেন্টের সেন্ট্রাল লবিতে লকডাউনে আটকে পড়া সবাইকে উজ্জীবীত করতে গান দলবেধে গান গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো স্কুলের বাচ্চাদের দলটি।২০০৫ সালের ৭ জুলাই লন্ডনের টাভিস্টক স্কয়ারে দ্বিতল বাস ও পাতাল রেলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণে গত সোমবার একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয়েছে ওই এলাকায়।যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন লন্ডনে হামলার ১০ বছর পূর্তিতে নিহতদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।পশ্চিম ইউরোপে ইসলামী জঙ্গিদের আত্মঘাতী হামলার প্রথম ঘটনা ছিল এটি,যাতে নিহত হয়েছিল ৫৬ জন।   লন্ডনের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে বলে তার মুখপাত্র জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের কোনো বক্তব্য আসেনিলন্ডনের স্থানীয় সময় গতকাল দুপুরে ওই হামলা হয়। হামলার সময় পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন চলছিল। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে সংসদ ভবনে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত সংসদ ভবন থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়।এমপিদের নিরাপত্তায় পুরো সংসদ ভবন এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।কয়েক ঘণ্টার জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে পার্লামেন্ট ভবন।হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।হামলাকে ‘অসুস্থ ও বিকৃতি রুচির’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।থেরেসা মে বলেছেন, এই হামলা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও বাক্স্বাধীনতার মতো মূল্যবোধের ওপর আঘাত।লন্ডনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টর কাছে গুলি এবং ওয়েস্টমিনস্টার সেতুর কাছে সন্ত্রাসী হামলাকে অসুস্থ ও বিকৃতি রুচি অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে। ঘটনার পরপরই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়ে এক জরুরী বৈঠক শেষে ডাউনিং স্ট্রিটে এক ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন।একই সঙ্গে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের মত মূল্যবোধ চর্চা করে বিশ্বের শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা অর্জন করেছে।যারা এই মূল্যবোধ প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের কাছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট অবশ্যই একটি টার্গেটে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সন্ত্রাসের কাছে ব্রিটেন হার মানবে না, প্রত্যয় ব্যক্ত করে টেরিজা মে বলেন, বৃহস্পতিবার স্বাভাবিক নিয়মে সংসদের সভা বসবে।ঘৃণা এবং অশুভ শক্তি ব্রিটেনকে বিভক্ত করতে পারবে না জানিয়ে থেরেসা মে বলেন,“স্বাভাবিকভাবে লন্ডনের বাসিন্দারা নিজেদের দৈনন্দিন কাজকর্ম সারবেন।এবং শহরে বেড়াতে আসা পর্যটকেরাও স্বাভাবিক নিয়মে চলবে।

 

২৫ মার্চের গণহত্যা ও পাকিস্থানের হীনমানবতা


এস,এম শাহাদৎ হোসাইন,গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের ভয়াল ২৫শে মার্চের কালরাত। যে রাতের কথা মনে হলেই শিহরী উঠে বাংলার প্রতিটি মানুষের শরীরের লোম। কেপে উঠে প্রতিটি মানুষের হৃদয়। ইতিহাসের এই দিনে বাংলার বুকে নেমে আসে এক ভয়ংকর কালরাত্রী। পাশবিকতা, নৃশংসতা আর হিং¯্রতার কালো থাবা। একাত্তরের এই রাতে স্বাধীনতাকামী বাঙ্গালীর ওপর বর্বর পাকিস্থানী বাহিনী হিং¯্র হায়েনার মত ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাক হানাদার বাহিনী পূর্বপরিকল্পিতভাবে পূর্ণ সমর সজ্জায় সঞ্জিত হয়ে রাত ১০টা অতিক্রম করার সাথে সাথে শুরু করে সারা দেশব্যাপী পৃথিবীর ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞ ও ধবংসলীলা। সামরিক ভাষায়“ অপারেশন সার্চলাইট” নামে পরিচিত এই গণহত্যা-অভিযান। পরাজয় নিশ্চিত জেনে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ এড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খাঁন বাঙ্গালী হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়নের পথে এগোলেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ২৫শে মার্চ দিবাগত রাতে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙ্গালীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল পাকহানাদার বাহিনী। এই বর্বরোচিত হামলায় বিশ্ববাসী হতবাক হয়ে দেখেছিল পাক বাহিনীর গণহত্যা,ধর্ষণ,অগ্নিসংযোগের নিষ্ঠুরকান্ড ও পাকিস্থানের হীনমানবতা। মধ্যযুগীয় কায়দায় হানাদাররা রাজারবাগ পুলিশ লাইন,পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গোটা ঢাকা শহরে চালায় হত্যাযজ্ঞ এবং অগ্নিসংযোগ। মধ্য রাতের পর গ্রেফতার করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। গ্রেফতারের আগে তিনি দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে দেশের মানুষের প্রতি আহবান জানান। ২৫শে মার্চ রাতের বেদনাদায়ক ঘটনা সমগ্র জাতিকে শিহরিত করে। নিরীহ-নিরস্ত্র মানুষকে নির্বিচারে পাখির মত গুলি করে হত্যা করে সেদিন মুক্তিকামী মানুষের কন্ঠ স্তব্ধ করা যায়নি। ২৫শে মার্চের ভয়াবহ সেই রাতের হত্যাযজ্ঞ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা বাঙ্গালীকে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রণোদনা যোগায়। প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খাঁন সন্ধ্যা পৌঁনে ৬টায় প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে সরাসরি এয়ারপোর্ট চলে যান। রাত পৌনে ৮টায় তিনি গোপনে বিমানে ঢাকা ত্যাগ করেন নিরপরাধ বাঙ্গালীদের ওপর কাপুরুষোচিত সশস্ত্র হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়ে। পাকহানাদার বাহিনী জেনারেল ইয়াহিয়া খাঁনের নির্দেশে জল্লাদের মত বাংলার নিরস্ত্র জনগণের ওপর মেশিনগান,মর্টার আর ট্যাস্ক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঢাকা শহরে ৫০ হাজারেরও বেশী মানুষকে হত্যা করে। ঘড়ির কাটায় রাত যখন ১টা তখন ২২তম রেজিমেন্টের সৈন্যরা পিলখানা ইপিআর হেড কোয়ার্টারে আক্রমণ চালায়। কেন্দ্রীয় কোয়ার্টারে গার্ডে ১৮ জন বাঙ্গালী গার্ড থাকলেও তারা পাল্টা আক্রমণের সুযোগ পায়নি। পলখানা আক্রমণের সাথে সাথে রাজারবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,শাখারি বাজারসহ সমগ্র ঢাকাতেই শুরু হয় প্রচন্ড আক্রমণ। বিভিন্ন এলাকাতে যথেচ্ছ গণহত্যা, লুন্ঠন, ধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগ করে বর্বর পাক হানাদার বাহিনী। মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢুকে পড়ে মার্কিন ট্যাক,সঙ্গে সেনাবোঝাই লরি। ইকবাল হল (বর্তমানে জহুরুল হল),জগনাথ হলে মধ্যযুগীয় কায়দায় চলে পাকিস্থানী হানাদারদের বর্বরতা। শহীদ হন কয়েক শত ছাত্র-ছাত্রী। এছাড়াও ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টচার্য, ড.মনিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন বিভাগের নয়জন শিক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। পাকিস্থানের সৈন্যরা ঢাকা সেনানিবাস থেকে সাঁজোয়া যানসহ ট্যাক নিয়ে বের হলে রাস্তায় সাধারণ জনগণের প্রতিরোধের মুখে পড়ে। তারা রাস্তায় গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে। হানাদারেরা চলার পথে রাস্তার দুই পাশে গুলি ছুড়ে অসংখ্য নিরীহ সাধারণ মানুষকে হত্যা করে এ অবরোধ ভেঙ্গে এগিয়ে যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও ছাত্রাবাসে গোলার পর গোলা ছুড়ে হত্যা করা হয় অসংখ্য মানুষ। রাজারবাগে পুলিশের বাঙ্গালী সদস্যরা প্রচন্ড প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তাদের সামান্য অস্ত্রশস্ত্র দিয়েই। ট্যাক আর ভারী মেশিনগানের মুখে তাদের এ প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টেকেনি। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা তেমন প্রতিরোধের মুখে পড়েনি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ছাত্র নেতারা এর আগে ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। গ্যাসোলিন ছিটিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয় পুরো সদর দপ্তর। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে মুক্তিসংগ্রামের মহানায়ক বাংলাদেশের স্থাপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। গোপনে ওয়্যারলেস বার্তায় তিনি বলেন ‘পাকিস্থানী বাহিনী আমাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। ছাত্র-জনতা,পুলিশ, ইপিআর শত্রুর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রাম শুরু হয়েছে। আমি ঘোষণা করছি আজ থেকে গণপ্রজাতস্ত্রী বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। সর্বস্তরের নাগরিকদের আমি আহবান জানাচ্ছি,আপনারা যে যেখানে যে অবস্থাতেই থাকুন,যার যা আছে তাই নিয়ে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ না করা পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। সম্মিলিতভাবে শত্রুর মোকাবিলা করুন। এই হয়তো আপনাদের প্রতি আমার শেষ বাণী হতে পারে। আপনারা শেষ শত্রুটি দেশ থেকে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যান।’ রাত ১টায় পাকিস্থানী বাহিনীর একটি দল বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের অদুরে শুক্রাবাদে ব্যারিকেডের মুখোমুখি হয়। এখানে ব্যারিকেড ভেঙ্গে হানাদাররা রাত দেড়টায় বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে আসে। হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। বঙ্গবন্ধুকে রাত দেড়টায় তার বাসভবন থেকে বন্দী করে শেরেবাংলা নগরস্থ সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে থেকে বঙ্গবন্ধুকে সেনাবাসে স্থানান্তর করা হয়। সকাল পর্যন্ত আদমজী কলেজের একটি কক্ষে বঙ্গবন্ধুকে আটক রাখা হয়। নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ ভয়াল ২৫শে মার্চের কালরাতের ৪৬তম বছরে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী,গণতন্ত্রের মানস কন্যা, দেশরতœ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, বাংলাদেশের উন্নয়নের রুপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ২৫শে মার্চ প্রথমবারের মত জাতীয়ভাবে গণহত্যা দিবস পালন করছে। এছাড়াও দিবসটি আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভের জন্য জাতিসংর্ঘের কাছে আবেদন করার সিন্ধান্ত নিয়েছে। ২৫শে মার্চকে গণহত্যা দিবস পালনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে পাস হয়। মহান জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন জাসদের সংসদ সদস্য শিরীন আখতার। তার ধারাবাহিকতায় সংসদে সবার সর্বসম্মতিক্রমে এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।পরে এ বিষয়ে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এসময় স্পিকারের অনুমতিতে একাত্তরের ২৫শে মার্চের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার ভিডিওচিত্র সংসদে দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।এ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনা করা হয় । এরপর সংসদ সদস্যরা ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা স্মরণ দিবস এবং পহেলা ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা দিসব হিসেবে পালনের প্রস্তাব করেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ২৫শে মার্চ দিবাগত রাতে বাংলার নিরীহ নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকহানাদার বাহিনী শুধু গণহত্যা,ধষণ ও অগ্নিসংযোগ করেনি বরং তারা মনবতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। হীনমানবতার পরিচয় দিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে। বাংলাদেশের মানুষকে তারা যে মানুষ মনে না করে পশুর মত আচরণ করে মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছেন। ভয়াল ২৫শে মার্চের রাতে পাকহানাদার বাহিনীর নির্মম হত্যাকান্ড, গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে পাকিস্থানকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

বরিশালের বাকেরগঞ্জে অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনে যুব ক্ষমতায়িত হবে ১৭ হাজার যুব


বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৩০ শতাংশ হচ্ছে তরুণ-তরুনী। যুবদের উন্নয়ন মানে বাংলাদেশের উন্নয়ন। তবে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ হওয়া সত্ত্বেও খুব কম ক্ষেত্রে তাদের বিষয়গুলো গুরুত্ব দেয়া হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দক্ষিনাঞ্চলের উপকূলীয় মানুষ খুবই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকায় ব্যাপক বিরূপ প্রভাব পড়ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি পরিবর্তিত জলবায়ুর সাথে খাপ খাইয়ে চলতে হলে যুব ও নারীদের এগিয়ে আসতে হবে। তারাই পারে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখতে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ ঝুঁকি থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে মনে করছেন বিশিষ্টজন। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় অর্থনৈতিক সক্ষমতার লক্ষ্যে যুব ক্ষমতায়ন প্রকল্প অবহিতকরন সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বুধবার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উন্নয়ন সংস্থা অক্সফাম ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে এ অবহিতকরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়নুল আবেদীন। ৫ বছর মেয়াদী এ কর্মসূচির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আক্রান্ত বাকেরগঞ্জের ২টি ইউনিয়নের ১৭ হাজার যুবকসহ দেশের ৪টি জেলার ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী ৬৭ হাজার তরুণ-তরুণীদের সংগঠিত করে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং ন্যায্য মজুরী নিশ্চিতসহ কর্মেও উপযুক্ত পরিবেশ বির্ণিমানে এই প্রকল্পটি পরিচালিত হবে। দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসকরন ও অভিযোজনের পাশাপাশি জেন্ডার ভিত্তিক সংহিসতা এবং যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকারকেও এই প্রকল্পে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাকেরগঞ্জ পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া বলেন, যুবসমাজ অফুরন্ত শক্তির আধার । যুব সমাজ পারেনা এমন কোন কাজ নেই। দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে তারাই ছিল অগ্রগামী । সব তরুণই তাদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কিছুনা কিছু করতে চায়। যখন তারা কারো কাছ থেকে উদ্দীপনা পায়না তখন বিকল্প পথে ধাবিত হয়। নানাধরনের অবক্ষয়ের সাথে তারা জড়িয়ে পরে। অনেক সময়ে তারা প্রতারিত হয়ে স্বর্বস্ব হারায়। তাদের কর্মদক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়া দরকার। তারা যদি নিজেরা দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত হতে পারে তাহলে তাদের চাকুরির পিছু ছুটতে হবেনা । বরং চাকরিই তাদের খুঁজে নেবে। সভার শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি আনিসুর রহমান এবং এম্পাওয়ার ইয়ূথ ফর ওয়ার্ক প্রকল্পের উপর তথ্যপত্র উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্নয়কারী মিজানুর রহমান। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো: ফারুক গাজী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তহমিনা বেগম, মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার মানিক হোসেন মোল্লা, উন্নয়ন সংগঠক শুভঙ্কর চক্রবর্তী, ইয়ূথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের সমন্নয়ক সোহানুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ আলোচনায় অংশ নেন। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অক্সফামের ইকোনোমিক জাস্টিস রেসিলেন্স প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. মো: খালিদ হোসেন জানান, ২০১৬ সাল থেকে একই সাথে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দেনেশিয়া, এবং ইথোপিয়ায় আইকিয়া ফাইন্ডেশনের অর্থায়নে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বরিশালে বাকেরগঞ্জে অক্সফাম বাংলাদেশ ও ওয়েভ ফাইন্ডেশেন সম্মিলিতভাবে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। আলোচনায় বক্তারা সকলের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ন্যায্য মজুরী বন্টনসহ নারীবান্ধব যথাযথ কর্মপরিবেশ বির্ণিমানের দাবি জানান, যাতে যুব সমাজ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে সম্মানের সাথে মর্যাদাপূর্ন জীবন ধারন করতে পারে।

স্কটল্যান্ড স্বাধীনতার জন্য দ্বিতীয় গণভোট চায়

রায়হান আহমেদ তপাদার
ব্রেক্সিটের মূল্য চোকাতে হতে পারে ব্রিটেনকে।এবার ব্রিটেনে থাকবে কিনা তা নিয়ে গণভোট হবে স্কটল্যান্ডে। সোমবার স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্ট্রুগান জানিয়েছেন ২০১৮ বা ২০১৯ সালের মধ্যে তিনিও গণভোট চাইবেন।ওয়েস্টমিনস্টার সংবিধানের ৩০ ধারা মেনে ব্রিটেন থেকে বিচ্ছেদ চেয়ে গণভোট চাইতে স্কটল্যান্ডের পার্লামেন্টে তিনি বিল আনবেন বলে জানিয়েছেন।সেই গণভোটে যদি স্কটল্যান্ড আলাদা হওয়ার পক্ষে মত দেয় তবে ভেঙে যাবে ব্রিটেন।এর আগেও দু’‌দু’‌টি গণভোট দেখেছে স্কটল্যান্ড।প্রথম বার ছিল স্কটল্যান্ড ব্রিটেন থেকে বেরিয়ে যাবে কিনা।স্কটল্যান্ডকে ব্রিটেন থেকে বিচ্ছেদ রুখতে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সেবার জোরদার প্রচার চালিয়েছিলেন।স্কটিশরাও ব্রিটেনে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।পরিস্থিতি পাল্টায় ব্রেক্সিট নিয়ে গণভোটে।স্কটল্যান্ড ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।কিন্তু ইংল্যান্ড ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেয়।ব্রিটিনের প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে যতই ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বার হতে চাইছেন ততই বেঁকে বসছে স্কটল্যান্ড।তারা মনে করছেন মতের বিরুদ্ধে যাচ্ছে ব্রিটেন।এই অবস্থা আটকাতে আগেভাগে ব্রিটেন থেকেই বার হতে চাইছে স্কটল্যান্ড।স্ট্রুগান বলেন,আমি নিশ্চিত করতে চাই ইইউ থেকে ব্রিটেন বার হওয়ার পরেও যেন স্কটল্যান্ডের সামনে থেকে যাওয়ার একটা বিকল্প থাকে।স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোট সমর্থন করেন ব্রিটেনে বিরোধী লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন।তিনি মনে করেন,যদি স্কটিশরা চায় তাহলে এমন গণভোট হবে চমৎকার বিষয়।লন্ডনের দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট করবিনের বরাত দিয়ে জানায়,যদি স্কটল্যান্ডে গণভোটের দাবি করে তাহলে তা হতে দেওয়া উচিত।তিনি ইঙ্গিত দেন,স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জেন যদি দ্বিতীয় গণভোটকে সামনে নিয়ে আসেন তাহলে সে উদ্যোগে ওয়েস্ট মিনস্টারের বাধা দেওয়া উচিত নয় বলে তিনি বিশ্বাস করেন। দ্বিতীয় গণভোট কি অপরিহার্য?এর জবাবে জেরেমি করবিন বলেন,যদি একটি গণভোট হয় তাহলে তো সেটা খুবই ভালো কথা।আমি মনে করি এটা হতে পারে ব্রিটেনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের অধীনেই।তবে তার এ মতের সঙ্গে মেলে না স্কটিশ লেবার নেতা কেজিয়া ডুগডালের মতের।ওদিকে জেরেমি করবিনের মন্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর পরই স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির নেত্রী ও ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জেন টুইটে বলেছেন, স্কটল্যান্ডের পক্ষে থাকার জন্য সব সময়ই জেরেমি করবিনের প্রতি আমরা সন্তুষ্ট।স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষের সবচেয়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ক্ষমতাসীন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির।সরকার গঠনের আগে এ দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের।সরকার গঠনের পর শুধু প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে নয়,রীতিমতো কোমর বেঁধে নেমেছে দলটির নেতা-কর্মীরা।হ্যা’প্রচারণায় গঠন করা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল। রাস্তায় রাস্তায় সাধারণ মানুষকে গণহারে তারা বোঝাচ্ছেন,স্বাধীনতা মানে আরো উজ্জ্বল ভবিষ্যত্।যার নিয়ন্তা একান্ত নিজেরাই।হ্যা’ভোটের প্রচারকরা বলছেন, আসন্ন গণভোট এ জীবনের একমাত্র সুযোগ।একইভাবে রাজপথে ‘না’ প্রচারণার দাপটও কম নয়।যারা এখনও দোদুল্যমান রয়েছেন,তাদের ধরে ধরে বোঝানো হচ্ছে একত্রিত থাকার নানা সুবিধার কথা।কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব  কোনো কাজে আসেনি।আর তা আবার স্বাধীনতার দাবিতে আবারও গণভোটের দাবি জানাচ্ছে স্কটল্যান্ড। ২০১৮ সালের গ্রীষ্মের আগেই এ গণভোটের আয়োজন করতে অনুমতি চাওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজিওন।তিনি বলেছেন, ব্রিটেনের ইইউ ছাড়ার প্রক্রিয়ায় স্কটল্যান্ডের স্বার্থ সংরক্ষণে এ গণভোট প্রয়োজন।খবর বিবিসির।যুক্তরাজ্য থেকে বের হয়ে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা ঘোষণা করার পক্ষে-বিপক্ষে গণভোট করা হয়েছিল ২০১৪ সালে।৫১-৪৯ শতাংশ ভোটে তখন যুক্তরাজ্যের অখণ্ডতার পক্ষ নিয়েছিল স্কটিশ জনগণ।নিকোলা স্টারজিওন মনে করেন,২০১৪ সালের অবস্থা এখন আর নেই।পুরো বিষয়টির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্টে এ বিষয়ে প্রস্তাব তোলা হবে এবং গণভোট প্রশ্নে সেকশন-৩০ এর ভিত্তিতে আদেশ প্রার্থনা করা হবে।ওই আদেশে স্বাধীনতার দাবিতে আইনগতভাবে বাধ্যবাধকতামূলক গণভোটের অনুমতির কথা বলা হয়েছে।ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে নতুন গণভোটের অনুমতি দেবেন কিনা-সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।শনিবার বিরোধী লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন,স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোট সমর্থন করেন।তিনি মনে করেন, যদি স্কটিশরা চায় তাহলে এমন গণভোট হবে চমৎকার বিষয়।জেরেমি বলেন,স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজিওন যদি দ্বিতীয় গণভোটকে সামনে নিয়ে আসেন,তাহলে সে উদ্যোগে ওয়েস্ট মিনস্টারের বাধা দেয়া উচিত হবে না।বিশ্লেষকরা বলছেন,ব্রেক্সিট গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যে ভাঙন শুরু হয়েছে,তার ঢেউ গিয়ে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে খোদ যুক্তরাজ্যের মানচিত্রে।স্কটল্যান্ডের ৬২ শতাংশ মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পক্ষে রায় দিয়েছিল।আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল ৩৮ শতাংশ। উত্তর আয়ারল্যান্ডে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল ইইউ’র পক্ষে।কিন্তু ইংল্যান্ডের বাকি অংশ এবং ওয়েলস চেয়েছিল বিচ্ছেদ। ভোটের হিসাবে জিতে যায় ব্রেক্সিট পক্ষ।আর তাতেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনকে বের করে নিতে প্রক্রিয়া শুরু করতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মেকে।স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজিওন নিশ্চিত করেছেন, যুক্তরাজ্য থেকে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার জন্য দ্বিতীয় গণভোটের অনুমতি চাইবেন।তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের সিদ্ধান্তে স্কটিশ জনগণের স্বার্থরক্ষায় এই গণভোট আয়োজন করা প্রয়োজন।২০১৮ সালের শরৎ ও বসন্তের মাঝামাঝি সময়ে এই গণভোট আয়োজন করতে চান তিনি।তিনি বলেন,পার্লামেন্টে গণভোট সংশ্লিষ্ট সেকশন ৩০ অর্ডার জারি করার অনুমতি চাইবেন তিনি।স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার জন্য নতুন গণভোট আয়োজনের আইনগত ভিত্তির জন্য নির্দেশটি জারি করা প্রয়োজন।  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এতদিন পর্যন্ত এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাচ্ছিলেন যে স্কটল্যান্ডের গণভোট আয়োজনের অনুমতি দেয়া হবে কী না।স্টারজিওনের ঘোষণার প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, এটা পরিষ্কার যে স্কটল্যান্ডের মানুষ দ্বিতীয় গণভোট চায় না।দুই বছরেরও কম সময় আগে স্কটল্যান্ডের মানুষ যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছে যে ভোটকে এক প্রজন্মে একবার ভোট বলে অভিহিত করেছিল স্কটিশ সরকার।এদিকে আরেকটি গণভোট আয়োজন করলে বিভেদ সৃষ্টি হবে এবং সবচেয়ে সংকটময় সময়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করবে বলে অনেকের ধারণা।কিন্তু স্টারজিওন এডিনবার্গে বুট হাউসে দেয়া বক্তব্যে বলেন,স্কটল্যান্ডের মানুষকে হার্ড ব্রেক্সিট কিংবা স্বাধীনতা যেকোনো একটি বেছে নেয়ার সুযোগ দিতে হবে।স্কটিশ সরকারের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য একক ইউরোপীয় বাজার ত্যাগ করলেও স্কটল্যান্ড এর সদস্য থাকবে। থেরেসা মে বলেছেন, স্কটল্যান্ড এই সুযোগ পাবে।স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি কয়েক বছর আগে প্রথম যখন স্বাধীনতার প্রশ্ন তোলে, তখন মনে হয়েছিল বিষয়টি সুদূর পরাহত।কিন্তু নানা প্রচারণার কৌশলে এখন মনে হচ্ছে,স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা সময়ের ব্যাপার মাত্র।এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর আইন করে ভোটারদের বয়স ১৭ থেকে কমিয়ে ১৬ করেছে রাজ্য সরকার। এভাবে যত দিন গড়াচ্ছে, ততই যেন বাড়ছে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি।এক সপ্তাহ আগে অবজারভার পত্রিকার এক জনমত জরিপে দেখা গিয়েছিল ৫৩ শতাংশ স্কটিশ স্বাধীনতা চায় না।আর তাইতো কোনো পরিবর্তন আসেনি বিধায় তারা আবার গণভোটে যেতে চায়। ২০১৪ সালে গণভোটে স্কটল্যান্ডের ৪৫ ভাগ মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিয়েছিল।দেশটির ১ হাজার ৬০০ প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ওই জরিপ চালানো হয়।এদিকে,একই বিষয়ে ছোট পরিসরে জরিপ চালিয়ে সানডে টাইমস জানিয়েছে,স্কটল্যান্ডের ৫২ ভাগ ভোটার ব্রিটেন থেকে স্বাধীন হয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।এদিকে, ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো স্কটল্যান্ডও সদস্য হওয়ার আবেদন জানাতে পারবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।তবে সমস্যা হলো, স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা আন্দোলনের দিকে চেয়ে আছে স্পেনের কাতালোনিয়া প্রদেশ, কানাডার কুইবেক প্রদেশ এবং ফরাসি ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ কোরসিকার বাসিন্দারা। স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার বিতর্ক তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।১৭০৭ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়ালেসের সাথে একীভূত হয় স্কটল্যান্ড রাজ্য।এরপর কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে আর উন্নত ভবিষ্যতের লোভ দেখিয়ে স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারণা চালাতে থাকে স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি।২০১১ সালের মে মাসের পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে চমক দেখায় এই দল।অবশেষে ২০১২ সালের অক্টোবরে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের অনুমতি দেয় ব্রিটিশ সরকার।স্কটল্যান্ডের শতকরা ৫৯ ভাগ মানুষ এখন বৃটেন থেকে স্বাধীন হতে চায়। নতুন এক জনমত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেন বের হয়ে যাওয়ার দু দিনের মাথায় এ খবর এল।বৃটেনের সংবাদপত্র সানডে পোস্ট বলছে, বৃটেন থেকে স্বাধীন হওয়ার জন্য শতকরা ৫৯ ভাগ মানুষের এই সমর্থন নজিরবিহীন ঘটনা।

 

“জীবনে বড় অর্জনে ছোট ভুল ত্যাগ প্রয়োজন”

নজরুল ইসলাম তোফা||  জীবনে অনেক বড় কিছু পাবার আশায় ছোট ছোট অনেক কিছু ভুলে যাই। যেমনঃ
১. সম্মান
২. সম্পূর্ণ সৎ থাকা
৩. নীরবতা উপভোগ করা
৪. বাবা-মাকে বাদ নিয়ে অন্যকে নিয়ে চিন্তা
৫. মাফ করে দিবেন কিন্তু কখনো ভুলবেন না তাকে। আসলে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জীবনে অনেক বেশী প্রভাব ফেলে। এই বিষয়গুলো মানুষ অবহেলা করার কারনে জীবনে অনেক বিপত্তির আশঙ্কা থাকে।

অন্যকে সম্মান করলে নিজে সম্মানিত হওয়া যায়। এই সত্যটা জানা থাকা সত্ত্বেও মানুষ ভুলে যায়। আসলে দাম্ভিকতা, আত্ত-অহংকার নিয়ে পজিটিভ ফলোদয় হয় না, আশা করাও বৃথা। তবুও মানুষ করে, মানুষকে সম্পূর্ণ রুপে উপভোগ করার যে কি মজা। ভালোবাসার মধ্যে যে কি আনন্দ। মানুষকে বিভ্রান্ত না করে বুঝার চেষ্টা করি। মানুব জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করি। জীবনে অনেক ছোট হই, পজিটিভ কিছু দ্বার প্রান্তে আসবেই। অতিরিক্ত অসম্মানিত আচরণ পরিহার করে নিজেকে আগামীর সফলতায় তৈরী করি।

মিথ্যা বলা, প্রতারণা করা, অন্যের তথ্য নিয়ে আলোচনা করা ইত্যাদি অনেক খারাপ অভ্যাস পরিহার করি। আমাদের একটি সত্য কথা অনেকের জন্য মঙ্গলের কারন হতে পারে। মাঝে মাঝে কিছু সত্য আছে যা আমাদেরকে কলুষমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। তাই সব সময় নিজের সাথে সৎ চেতনার বিকাশ ঘটায়।

পৃথিবীতে মানুষ সারাক্ষণ অনেক আওয়াজ এর মধ্যে বসবাস করে। কখনও ফোনে, কখনো টিভিতে, রেডিওতে এবং অন্যান্য ডিভাইসে মানুষ সংযুক্ত থাকে। কিন্তু কখনও কখনও জীবনে নীরবতারও প্রয়োজনীয়তা আছে। এই নীরবতা মানুষের মনে প্রশান্তি বিরাজ করে। এতে মানুষ মনের ভাবনা গুলো নিজের ধ্যান-জ্ঞানে সঠিক উদ্দেশ্য আলোকিত বুঝতে পারে।

পৃথিবীতে আসার প্রধান কারন হল আপনার আমার বাবা-মা। তাদেরকে কখনও অসম্মান না করি। সব সময় তাদেরকে সম্মান করি। জীবনে কখনও বাবা-মা’র আসনে অন্য কাউকে নির্বাচন না করি। একমাত্র মা-বাবাকে সৃষ্টিকর্তা স্বয়ং নির্বাচন করে আমাদের হাজারো বিপদ থেকে উদ্ধারে পথ সৃষ্টি করে দিয়েছে।

ক্ষমা করে দেয়া একটি মহৎ গুণ। কারও কোন ভুলের জন্য তাকে যদি আপনি ক্ষমা করে দেন, তবুও তার কৃতকর্ম কথা কখনো ভুলবেন না। জীবনে বন্ধুত্বের সহিত এগিয়ে যাওয়াটাই ভালো, এর জন্য অনেক সময় অনেক কথা ভুলতে হয়। কিন্তু আপনার যে ক্ষতি করেছে, তার সে ক্ষতির কথাটি ভুলবেন না। কারণ ক্ষতিকারক মানুষ কোন দিনও আপনার আর উপকারে আসবে না। যদি আসে তো বুঝবেন আবারও ক্ষতি করছে।

ব্রেক্সিটের প্রভাবে অস্থিরতায় বৃটেন

রায়হান আহমেদ তপাদার  
গত বছরের ২৩ জুন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম সদস্য দেশ যুক্তরাজ্য ইইউ থেকে বেরিয়ে আসে।যা বেক্সিট চুক্তি হিসেবে পরিচিত।যুক্তরাজ্যের ইইউ ত্যাগের সিদ্ধান্ত রেফারেন্ডোমের মাধ্যমে নেয়া হয়,যাতে ৭০ শতাংশের বেশি যুক্তরাজ্যবাসী তাদের বিশ্ববাজারের বিনিময় মুদ্রা হিসেবে পাউন্ডকেই পুনরায় বেছে নেয়।যে বৃটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য কখনো অস্ত যেত না, সেই ঐতিহ্য, অহংকার এবং আত্মবিশাসী বৃটিশ জাতি ইউরোতে নিজেকে বিলীন করতে আর রাজি নয়। কিন্তু নেপথ্যের পরোক্ষ কারণ বিশ্বব্যাপী উদ্বাস্ত সমস্যা সমাধানে ইইউ-এর যুদ্ধপীড়িত দরিদ্র দেশগুলো থেকে আগতদের সমগ্র ইউরোপে পূনর্বাসনের সিদ্ধান্তকে মেনে না নেওয়ার প্রতিবাদ হিসেবেই এই ব্রেক্সিট।ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের প্রস্তাবিত ব্রেক্সিট বিল সংশোধনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন হাউস অব লর্ডসের সদস্যরা।স্থানীয় সময় বুধবার, হাউজ অব লর্ডসের ৩৫৮ জন মন্ত্রী সংশোধনের পক্ষে মত দেন।অন্যদিকে অসংশোধনের দিকে ভোট দেন ২৫৬ জন।ইউরোপীয় ইউনিয়ন (নোটিফিকেশন অব উইথড্রয়াল বিল) বিলটি ব্রেক্সিট বিল হিসেবে পরিচিত। হাউস অব লর্ডসের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য বিলটি সংশোধনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তা পাস হতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।প্রথম সংশোধনীতে বর্তমানে ব্রিটেনে বসবাসরত ৩০ লাখ ইউরোপীয় নাগরিকের স্বার্থ নিশ্চিত করার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে।দ্বিতীয় সংশোধনীর জন্য আগামী সপ্তাহে আরেক দফা ভোট গ্রহণ করা হবে।গত বছর জুনে গণভোটে ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট দেয় বৃটেনের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার।এরপর ব্রেক্সিট বিলটির খসড়া জানুয়ারিতে বৃটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে অনুমোদন পায়।প্রায় চার মাস হয়েছে ইইউতে গ্রেট বৃটেন আর নেই।ইইউ গর্বিত হওয়ার পর থেকে অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক লেনদেন নিয়ন্ত্রন হত যৌথভাবে।হঠাৎ নেয়া এই সিদ্ধান্তের কি ধরনের প্রভাব দেশটির অর্থনীতিতে পড়বে তা নিয়ে তাদের সরকার এবং প্রসাশন চিন্তান্বিত হয়ে পড়ে।   ব্রেক্সিট পরিকল্পনায় বৃটিশ সরকারকে বছরে খরচ করতে হবে ৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড।এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে কমপক্ষে ৫০০ সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে।তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে সময়ের অপচয় হচ্ছে।ইন্সটিটিউট ফর গভর্নমেন্ট নামের থিংক ট্যাংক থেকে প্রকাশিত প্লানিংফর ব্রেক্সিট:সাইলেন্স ইজ নট এ স্ট্রাটেজি’ নামের রিপোর্টে এসব কথা বলা হয়েছে।এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের নীরবতার সমালোচনা করা হয়েছে।বলা হয়েছে,ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে সুস্পষ্টভাবে সরকারি কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই।ব্রেক্সিট বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেনকে বের করে আনার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তিনটি বিভাগকে।তা হলো ফরেন অফিস, ডিপার্টমেন্ট অব এক্সিটিং দ্য ইইউ এবং ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড।এ দায়িত্বে আছেন বরিস জনসন,ডেভিড ডেভিস ও লিয়াম ফক্স।

এক্ষেত্রে ক্ষমতার বন্টন নিয়ে তিনজনের মধ্যে বিরোধের ঝুঁকি রয়েছে।দ্বন্দ্বও দেখা দেয়ার আশঙ্কা আছে।এসবই বলা হয়েছে ওই রিপোর্টে।ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে,এই তিনটি ডিপার্টমেনট ভিন্নতা ও অসঙ্গতি সৃষ্টি করে ফেলতে পারে।সেই আপিলের বিষয়ে গত ৫ই ডিসেম্বর থেকে ৪ দিন শুনানি হয় বৃটিশ সুপ্রিম কোর্টে।তারপর আগামী মঙ্গলবার বৃটেনের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেয়ার কথা সুপ্রিম কোর্টের।বিষয়টির দিকে তাকিয়ে বৃটেন,ইউরোপসহ সারাবিশ্ব।কারণ, ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে বিশ্ব অর্থনীতির অনেকটাই।এর ওপর নির্ভর করছে ওই অঞ্চলে বিনিয়োগ, ব্যবসা, বাণিজ্য।লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট লিখেছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তেরেসা মে হেরে যাবেন বলেই অনেকে মনে করছে। যদি সরকার হেরে যায় তাহলে পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট বিষয়ক বিল উত্থাপনে তেরেসা মে বিলম্ব করবেন বলে মনে হয় না।কারণ,তিনি এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে,তিনি হেরে গেলেও অনুচ্ছেদ ৫০ সক্রিয় করার সময়সীমা থেকে তিনি পিছপা হবেন না।তিনি এরই মধ্যে পরিষ্কার বলেছেন,মার্চ মাস শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই তিনি অনুচ্ছেদ ৫০ সক্রিয় করবেন।তা করা হলে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করতে তিনি দু’বছর সময় পাবেন।   ডলারের বিপরীতে ব্রিটিশ পাউন্ড স্টার্লিংয়ের দাম নেমে আসে ১৯৮৫ সালের পর থেকে সর্বনিম্নে পর্যায়ে।বিশ্ব অর্থ বাজারের লোকসান ২ লাখ কোটি ডলার।ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেনের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে বিশ্ব অর্থ বাজার বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে।শুধু একদিনেই বিশ্ব অর্থবাজারে লোকসান হয়েছে দুই লাখ কোটি ডলার।এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্ণর বলেছেন,পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁর হাতে ২৫০ বিলিয়ন পাউন্ড তৈরি আছে।চ্যান্সেলর জর্জ অবসর্নও বলেছেন,শক্তি দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে ব্রিটেন।কিন্তু কিছুতেই যেন তারা সামলিয়ে উঠতে পারছে না।এমন অভয় সত্ত্বেও ইউরোপজুড়ে শেয়ারবাজার এলোমেলো হয়ে গেছে। ফ্রাঙ্কফুর্ট ও প্যারিসে শতকরা ৭ থেকে ৮ ভাগ পর্যন্ত দরপতন হয়েছে।ইতালি ও স্পেনে একদিনে সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে।সেখানে শতকরা ১২ ভাগের বেশি দরপতন হয়েছে। ইতালির ইউনিক্রেডিট পড়ে গেছে শতকরা ২৪ ভাগ।স্পেনের ব্যাংকো স্ট্যান্ডার পড়ে গেছে শতকরা ২০ ভাগ।লন্ডনের এফটিএসইতে দরপতন হয়েছে শতকরা ৩.২ ভাগ।যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ার বাজারে পতন ঘটে শতকর ৩ ভাগ। ডো জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়ালে দরপতন ঘটে ৫৪৪ পয়েন্ট।ডো জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়ালের গড় দরপতন ঘটে ৫২০.১৯ পয়েন্ট বা শতকরা ২.৮৯ ভাগ।এসঅ্যান্ডপির দরপতন ঘটে ৬৫.৭৫ পয়েন্ট।নাসডাক কম্পোজিট দর হারায় শতকরা ১৮২.৪৬ পয়েন্ট।এমএসসিআইয়ের সূচকে সব দেশের বিশ্ব অর্থ সূচকের পতন হয় শতকরা ৪.৪ ভাগ।ব্রেক্সিট গণভোটের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বড় ধরনের পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে এবংভোগ করতে হবে।এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।  বৃটেনের ছোট বড় প্রতিটি সেকশনে ব্রেক্সিটের আঘাতে জর্জরিত।যা সামাল দিতে নীরবে মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করে যা করার নয় তাই করছে।আর বড় বুলি আওড়াচ্ছে।তথাপি প্রধানমন্ত্রী মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তাঁর সরকার যারা কোন রকমে জীবন ধারর করছে তাঁদের দিকে নজর দেবে।এরা সেই আয়ের মানুষ যারা ট্যাক্স ক্রেডিট এর দ্বারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির সাথে সাথে লাভবান হবে।এই কথাগুলোর সাথে বাস্তবের কোন মিল নেই।ব্রেক্সিট আপোষ মীমাংসা (অথবা,আরও নির্ভুলভাবে,ব্রেক্সিট আপোষ-মীমাংসার অভাব) ব্যাপারটাকে আরও জটিল করে তুলবে।এক অর্থে,সহযোগিতার হাত বাড়াতে সরকারের অনিচ্ছা অন্যদিকে,একই সাথে এক ধরনের আপোষহীন মেজাজ ধারন করাটা বেশ বোধগম্য।সরকার যতটা ছাড় বা সুবিধা পাওয়া সম্ভব তার জন্য একটি কঠিন ব্রেক্সিটকে হুমকীর মুখে রাখার প্রয়োজন মনে করে।এ অনুচ্ছেদ সক্রিয় করলে বৃটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য সময় পাবে দু’বছর।তবে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট সহ কয়েকজন পদস্থ ব্যক্তি বলেছেন,বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে এ অনুচ্ছেদটি আগামী জানুয়ারি,ফেব্রুয়ারিতে সক্রিয় করার আশ্বাস দিয়েছেন।কিন্তু ওই রিপোর্টে এ বিষয়টি স্পষ্ট করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।ইন্সটিটিউট ফর গভর্নমেন্টের প্রোগ্রাম পরিচালক ও এই রিপোর্টের সহ-লেখক ড.হান্নাহ হোয়াইট বলেছেন, নীরবতা কোনো কৌশল হতে পারে না।আমরা যারা তাড়াতাড়ি ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন চাই তাদের কাছে বর্তমান পরিস্থিতিটি বিব্রতকর।প্রধানমন্ত্রী শপথ করেছেন তিনি সমঝোতা নিয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।কিন্তু তাকে দ্রুততার সঙ্গে স্পষ্ট করতে হবে যে,কিভাবে এবং কখন ব্রেক্সিট সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে সরকার।রিপোর্টটির সহ-লেখক জিল রাটার বলেছেন,ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মন্ত্রীরা অনেকগুলো জটিল সমস্যার মুখোমুখি হবেন।  লিবারেল ডেমোক্রেটরা তো বলেই দিয়েছে, তারা ব্রেক্সিট চূড়ান্ত করার আগে দ্বিতীয় আরেকটি গণভোট চায়।কিন্তু এতে সমর্থন নেই বিরোধী লেবার দলের।এক্ষেত্রে উত্তর আয়ারল্যান্ড,স্কটল্যান্ড সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,পার্লামেন্টে সর্বসম্মত সম্মতি আদায় করার বিষয়টি বৃটেনকে পুরোপুরি একটি সাংবিধানিক সংকটে ফেলতে পারে।তাতে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে ব্রেক্সিটের জন্য যে সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন তাও মিইয়ে যেতে পারে।সুপ্রিম কোর্টের মোট ১১ জন বিচারক ৫ই ডিসেম্বর থেকে ৪ দিনের শুনানির পর বিচার বিশ্লেষণ করছেন।এরপরই মঙ্গলবার তাদের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন।এ জন্য ওই রিপোর্টে সরকারের সব পর্যায় ও অর্থনৈতিক খাতগুলোকে একজন মিলে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।এ বিষয়ে সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমাদের বেরিয়ে যাওয়া হবে বৃটেনের জন্য একটি নতুন অধ্যায়। আমরা সারাদেশের জন্য একটি ভাল চুক্তি করতে পারবো এ বিষয়ে আমাদের আস্থা রয়েছে।তাই গণভোটের পর প্রধানমন্ত্রী সরকারযন্ত্রকে এ জন্য সর্বোত্তম একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার জন্য তাড়িত দিয়েছেন।তবে লিবারেল ডেমোক্রেট দলের এমপি টম ব্রেক বলেছেন,এই রিপোর্টে ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের ভিতরকার বিশৃংখলা ও অন্তঃকলহ প্রকাশ পেয়েছে।তাছাড়া বৃটেনের সব সেক্টরেই এর প্রভাব বিস্তার অব্যাহত আছে।এবংবর্ণবাদি সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় মানুষ আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে।

ধর্মঘটের নামে কোটি মানুষের ভোগান্তি।কিসের জন্য?

বাংলা ব্যাকরণের সমাস পাঠে ধর্মঘটের ব্যসবাক্য হচ্ছে, ‘ধর্ম রক্ষার ঘট’ । অথচ বর্তমান সময়ে ধর্মঘট বলতে অধর্ম প্রতিষ্ঠার আয়োজনকেই বোঝায় । যে আয়োজনের দ্বারা রাষ্ট্রের কোটি কোটি মানুষকে বিপাকে ফেলা হয় তা কোনভাবেই ধর্ম রক্ষার `কলসি’তুল্য হতে পারে না । সাধারণ মানুষ কিংবা সরকারকে জিম্মি করে কোন স্বার্থান্বেষী পক্ষ কিংবা কুচক্রী মহল তাদের অন্যায় দাবীকে চরিতার্থ করার হাতিয়ার হিসেবে ধর্মঘটের অপব্যবহার করে । তবে ধর্মঘট যে কেবল অনৈতিকতা প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয়েছে একথা অন্তত বিগত শতাব্দীর ষাটের দশক পর্যন্ত ভাবা যেতো না । বর্তমান সময়েও কতিপয় যৌক্তিক দাবী আদায়-পূরণের স্বার্থে বিভিন্নমহল থেকে ধর্মঘট আহুত হয় তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যারা এর আড়ালে থেকে ইন্ধন জোগায় তারা মানুষ হিসেবে রাষ্ট্রের কিংবা জাতীয় স্বার্থের কল্যানকামী নয় ।

চলমান পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটে প্রায় অচল সারাদেশ । কোটি মানুষ চরমভাগে ভোগান্তির স্বীকার । আদালতে রায়ে সংক্ষুব্ধ শ্রমিকরা যেভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে তাদের দাবী আদায়ের চেষ্টা করছেন, সেটাকে কোনভাবেই যৌক্তিক আখ্যা দেওয়া চলে না । সড়ক দুর্ঘটনার মামালায় দন্ডপ্রাপ্তদের পথে তাদের সহকর্মী পরিবহন শ্রমিকরা কিংবা তাদের সংঘ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করতে পারতেন এবং সেটা যৌক্তিক হতো । অথচ তারা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে যেপথে এগুলেন সেটা কোনভাবেই আইনসঙ্গত হতে পারেনা । রাষ্ট্রের উন্নতি-অগ্রগতির চাকা সচল রাখতে যে শ্রমিকদের রক্ত-ঘাম সঞ্জীবনী শক্তির ভূমিকা পালন করে সেই শ্রমিকরা যখন রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার মদদ যোগায় তখন সেটা বেমানান দেখায় ।

বিশ্বের যতগুলো রাষ্ট্রে সড়ক দূর্ঘটনার হার বেশি তার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষের দিকে । এখানের সড়কে প্রতিদিন বহুলোকের হতাহতের ঘটনা ঘটে । এজন্য যে এককভাবে শুধু চালকপক্ষ দায়ী একথা বলার যৌক্তিক ভিত্তি নাই । সড়কের অবকাঠামোগত ত্রুটি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির দ্বারা লাইসেন্স প্রদান ও ভাঙাচোড়া যানবাহনকে ফিটনেস দয়ার প্রবণতাও দুর্ঘটনাকে ত্বরান্বিত করে । বিশ্বের কোথাও দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে কোন একক পক্ষকে শাস্তির সর্বোচ্চ বিধান দেওয়ার নজির নাই । কেননা ‘Composite  Negligence’ তথা সংমিশ্রিত অবহেলা ছাড়া দূর্ঘটনা ঘটা প্রায় অসম্ভব । দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মোট দায়ের কারো ‍দুই-তৃতীয়াংশ আবার কারো এক-তৃতীয়াংশ দায় থাকতেই হয় । তা না হলে দুর্ঘটনা হতে পারেনা । অবশ্য ব্যতিক্রম যে ঘটে না তা নয় ।কখনো কখনো শুধু একপক্ষের ভুলেও দুর্ঘটনা হয় । তবে সে সংখ্যা নেহায়েত কম । তবে বাংলাদেশের সড়কে মনিটরিং ব্যবস্থায় এখনো ততোটা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সুনিশ্চিত হয়নি যাতে বিচারের ক্ষেত্রে চালকের একক দায় সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা যায় ।

পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটের দাবী যৌক্তিক কি অযৌক্তিক তা নিরূপন করতে রাষ্ট্র যতোবেশি সময়ক্ষেপণ করবে জনমানুষের ভোগান্তি ততোবেশি দীর্ঘায়িত হবে এবং বাড়বে । বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তি ছাড়া কোন শ্রমিক সংঘঠন নাই । কাজেই সরকারের উচ্চমহল থেকে ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করলে দু’একদিনের মধ্যেই আমরা সমাধান পেতে পারি । শ্রমিকদের দাবী পুরোপুরি অযৌক্তিক এমন মনোভাব দেখালে কিংবা শ্রমিকদের সকল দাবী মানার মানসিকতা দেখালেও তার একদিকে যেমন বেঁকে বসবে অন্যদিকে স্বেচ্ছাচারী হওয়ার প্রবণতা পাবে । সুতরাং উদ্ভূত বিষয়টি দক্ষকূটনীতির মাধ্যমেই তরিৎ সমাধান করা আবশ্যক । হঠাৎ হঠাৎ এমন অবরোধ আহ্বান নিরুৎসাহিত করার জন্য রাষ্ট্রের কঠোর আইন থাকা উচিত । সকল ক্ষেত্রের দুর্নীতি দূর করতে পারলেই কেবল বিভিন্ন ক্ষেত্রের অস্থিরভাব কমে আসবে । সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করে যারা ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করে তারা কোনভাবেই জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সহায়ক শক্তির ভূমিকায় থাকতে পারেনা ।

দেশি মদদে কোন পথে এগুচ্ছে সিরিয়া

রায়হান আহমেদ তপাদার

বিদেশি মদদে সিরিয়ায় সংঘাত চাপিয়ে দেয়ার আগে আলেপ্পো ছিল দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী ও বাণিজ্যিক রাজধানী।দামেস্ক থেকে ৩১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই শহরের অবস্থান তুরস্ক সীমান্ত থেকে মাত্র ৫৪ কিলোমিটার দূরে।সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো নগরী দীর্ঘ চার বছর পাঁচ মাস বিদেশি মদদপুষ্ট জঙ্গিদের দখলে থাকার পর গত ১৩ ডিসেম্বর পুনরুদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী।এ ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিরিয়া সরকারের বিরোধী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহল।এক হাজার আঠারো সালের আগে তুরস্কের গাজিয়ানতেপ,কিলিস ও আরো কিছু এলাকা বৃহত্তর আলেপ্পোর অন্তর্ভুক্ত ছিল।নগরটি তুরস্কের সীমান্ত থেকে ৬৬ কিলোমিটার দূরে।প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফরাসি দখলদারিত্বের সময় ওসমানিয়া সাম্রাজ্য থেকে আলেপ্পোকে পৃথক করা হলেও এখানকার লোকজনদের সাথে তুরস্কের রয়েছে নাড়ির সম্পর্ক। আলেপ্পোর প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা সবময়ই তুরস্কের আনাতোলিয়ায় সাথে সুসম্পর্ক রেখেছেন।সুলতান সুলায়মান ১৬ শতকে বাগদাদ অভিযান থেকে ফেরার পথে পুরো একটি শীতকাল আলেপ্পোতে কাটিয়েছিলেন।শীতকালে আলেপ্পোর আবহাওয়া কিছুটা গরম থাকে।আলেপ্পো একটি কসমোপলিটান নগরী।১৮৯০ সালে নগরীর এক লাখ ২৫ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে ছিল আরব,তুর্কি ও কুর্দি মুসলমান এবং বাকিরা খ্রিষ্টান।তখন এখানে ছিল ২৬০টি স্কুল,১২০টি সরাইখানা ও ৭২টি গোসলখানা।বিশ্বের সেরা সরাইখানা ও বাজারের জন্য আলেপ্পো খ্যাত।দুকাকিন সরাইখানা ৩০ হাজার বর্গমিটার,হানজাদ সরাইখানা আট হাজার বর্গমিটার পরিসর।এ ছাড়া রয়েছে অটোম্যান বা ওসমানিয় আমলের বাহরাম পাশা মসজিদ,ওসমান পাশা মাদরাসা ইত্যাদি।গ্রান্ড মসজিদ একটি জাঁকজমকপূর্ণ মসজিদ এটাকে হজরত জাকারিয়া মসজিদও বলা হয়।ক্রুসেড ও মঙ্গোল আগ্রাসনে যদিও এর প্রচুর ক্ষতি হয়েছিল,পরে আলেপ্পোর গভর্নর মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করেন।দুই হাজার বার সালের জুলাই মাসে আলেপ্পোর পূর্ব অংশ দখল করে নিয়েছিল জঙ্গিরা।তখন থেকে এতদিন এই নগরীর পূর্ব অংশ জঙ্গিদের এবং পশ্চিম অংশ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।     বর্তমানে গোটা শহরের ওপর সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।সেনাবাহিনীর আলেপ্পো বিজয় এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে,আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম একে বাশার আল-আসাদ সরকারের সবচেয়ে বড় বিজয় এবং বিদ্রোহীদের কঠিনতম পরাজয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।  ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্টে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বিশিষ্ট লেখক রবার্ট ফিস্ক লিখেছেন:বাশার আসাদ বিরোধী গণমাধ্যমগুলো আলেপ্পো পুনরুদ্ধারকে সেনাবাহিনীর হাতে আলেপ্পোর পতন’ বলে উল্লেখ করেছে। অথচ এসব গণমাধ্যমই এতদিন দায়েশ জঙ্গিদের হাতে কোনো শহরের পতন হলে সেটাকে ‘নিয়ন্ত্রণ’ শব্দ দিয়ে ব্যাখ্যা করে এসেছে।আলেপ্পো পাঁচ হাজার বছরের পুরনো নগর।সমতল ভূমিতে বিশাল নগরী।নগরীর চারিধারে রয়েছে ফুলের বাগান ও পেস্তা গাছের বন,যেখানে প্রচুর ফল হয়।পাশে তুরস্কের গাজিয়ানতেপেও রয়েছে এমন সুন্দর বাগান ও বন।

আলেপ্পোর রয়েছে এক পবিত্র পরিচিতি।হজরত ইব্রাহিম আ:,ইলিয়াস আ:,জাকারিয়া আ:ও শেমুন আ:-এর মাজার শরিফ রয়েছে এখানেই।দুনিয়ার বুকে আলেপ্পো পুরনো নগরীগুলোর একটি।আরবিতে নগরীকে ‘হালাব আল শাহবা’ নামে ডাকা হয়। কথিত আছে,হজরত ইব্রাহিম আ: এখানে তার সাদা গরুর (শাহবা) দুধ দোহন করে গরিবদের মাঝে বিলি করতেন। সেমেটিক ভাষায় দুধকে হালাব বলা হয়। আলেপ্পোর সাদা রঙের পাথরও এ নামের সাথে সম্পর্কিত। ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবুবকরের রা:সময়ে এই নগরী মুসলমানদের হস্তগত হয় এবং সে সময় থেকে এখানে ইসলাম প্রসারলাভ করে। আলেপ্পো মসজিদ, মাদরাসা ও সরাইখানার শহর। ব্যবসায় বাণিজ্যও প্রসার লাভ করে।ফলে আলেপ্পো একটি সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত হয়।তুলা,রেশম,জয়তুন বা জলপাই তেল ও জুয়েলারির কেন্দ্রীয় ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য এবং সারা বিশ্বে পরিচিতি লাভ করে।তুরস্ক, আরব ও ইরানের ব্যবসায়ীরা এখানে ভিড় জমাতেন বেশি।গৃহযুদ্ধের আগে সিরিয়ার সমৃদ্ধ নগরী ছিল এই আলেপ্পো।সন্ত্রাসীদের হাতে নিহতদের গণকবর শুধু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নয় পশ্চিমা বিশ্ব ও তাদের আরব মিত্র দেশগুলিও আলেপ্পো পুনর্দখলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।   এমনকি জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনও ১৪ ডিসেম্বর নিরাপত্তা পরিষদে দেয়া এক বক্তব্যে বলেন, আলেপ্পোর বেসামরিক নাগরিকদের দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে তার সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করছে।তিনি আরো বলেন,‘আলেপ্পোর হত্যাকাণ্ড’বন্ধ করতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে।প্রশ্ন হচ্ছে, একটি দেশের সেনাবাহিনীর হাতে সেদেশেরই একটি শহর পুনর্দখলের বিরুদ্ধে এত বেশি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখানো হলো কেন? কেন বাশার আসাদের বিরোধী দেশগুলো প্রকাশ্যে এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করল? সিরিয়ার সরকার ও তার মিত্ররা কি এমন বিজয় অর্জন করল যে,আন্তর্জাতিক সমাজের পক্ষ থেকে এমন কড়া প্রতিক্রিয়া দেখানো হলো?আলেপ্পোর বর্তমান জনসংখ্যা ২৫ লাখের ওপরে।বেশির ভাগ মানুষ সুন্নি। ইসলামের কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের নগরী আলেপ্পো।রাশিয়া, সিরিয়া ও ইরান যেন নগরটিকে শেষ করার জন্য প্রতিযোগিতা করছে। এ এক নতুন বধ্যভূমি, হলোকাস্ট, স্রেব্রেনিৎসা ও রুয়ান্ডার মতো।বছরখানেক আগে সমুদ্রসৈকতে তোলা সিরিয়ার আইনাল কুর্দির ছবি, আরেক সিরীয় বালক ওমরান দাকিশ রক্তাক্ত চেহারা, সারা গা বোমার ছাইয়ে আচ্ছাদিত, যে এই অবস্থায় প্রায় বরফ আচ্ছাদিত।এসব ছবি সামাজিক সাইটগুলোতে আলোড়ন তুললেও আক্রমণকারী ও পশ্চিমা বিশ্বের বিবেককে নাড়াতে পারেনি।বরং ফ্রান্সের হেবদো পত্রিকা শিশু আইনালের ছবি এঁকে মন্তব্য করেছে সে বড় হলে সন্ত্রাসী হতো।এটা হচ্ছে পাশ্চাত্যের মূল চেহারা আলেপ্পোয় হাজার হাজার সাধারণ মানুষ হত্যা করেছে আসাদ সরকার।নিজ নাগরিককের ওপর এমন গণহত্যা ইতিহাসে বিরল।যারা বেঁচে আছে তারা শিশু,বৃদ্ধ নর-নারী।পঙ্গু,মহিলা ও অসহায় নাগরিকদের করুণ আর্তনাদ,এমন হাজার হাজার মানুষেরা বরফে আচ্ছাদিত এলাকায়,খোলা

আকাশের নিচে,একটিমাত্র কম্বল সম্বল করে, কোনো খাবার আর ওষুধবিহীন অবস্থায় রাত-দিন কাটিয়েছে তারা জানে না কখন মিলিশিয়ারা আক্রমণ করবে।কখন ব্যারেল বোমা বিস্ফোরিত হবে।প্রচণ্ড শীতে,বৃষ্টি শীতের তীব্রতাকে আরো বাড়িয়ে দেয়। তবুও এই অসহায় মানুষগুলো বৃষ্টি কামনা করছে।কেন? বৃষ্টি হলে রাশিয়ার বিমানগুলো অন্তত আক্রমণ চালাতে আসবে না। আলেপ্পোর যুদ্ধেকে জিতল কে হারল, তার হিসাব কেউ করছে না।   বিশ্ব দেখছে সিরিয়া ও আলেপ্পোর অসংখ্য মানুষ হারিয়েছে তাদের সব কিছু,সহায়সম্পদ ও ভবিষ্যৎ।যারা বেঁচে আছে বা থাকবে, তারা কবে ফিরে পাবে স্বাভাবিক জীবন নিকট ভবিষ্যতে তো নয়ই, দূরভবিষ্যতেও নয়। ৫০ বছরেও এই ধ্বংসস্তূপকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। অথচ এখানেই রাশিয়ার সামরিক কর্তাদের মনোরঞ্জনের জন্য রেড আর্মির বিরাট বাদকদল পাঠোনা হয় মস্কো থেকে।কিন্তু সে বিশাল বিমান উড়াল দেয়ার দুই মিনিটের মধ্যেই ব্ল্যাক সিতে পড়ে ক্রুসহ সবাই নিহত হলো।এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে সিরিয়ায় আলেপ্পো নগরীর কৌশলগত গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে।সন্ত্রাসীরা সিরিয়ায় অস্ত্রশস্ত্র ও জঙ্গি অনুপ্রবেশের কাজে এই সীমান্ত ব্যবহার করত।সংঘাত শুরুর আগে সিরিয়ার শতকরা ৬০ ভাগ রপ্তানি আলেপ্পো নগরী থেকে হতো বলে অর্থনৈতিক দিক দিয়েও এই শহরের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এ কারণে জঙ্গিরা এই নগরীকে কেন্দ্র করে বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করে।তাদের ধারণা ছিল, আলেপ্পো দখল করতে পারলে সিরিয়া সরকারকে অর্থনৈতিক দিকে দিয়ে দুর্বল করে ফেলা যাবে।এ ছাড়া, আলেপ্পো নগরীতে ছিল সেনাবাহিনীর স্কুল ও সামরিক অ্যাকাডেমি। অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রাগারও ছিল এই শহরে।সেনাবাহিনীর তরুণ অফিসারদের প্রশিক্ষণ হতো এখানকারই সামরিক অ্যাকাডেমিগুলোতে এরই মধ্যে তুরস্ক চেষ্টা করেছে মানবিক সাহায্য দিতে আলেপ্পো থেকে নাগরিকদের নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেয়া জরুরি।এখানেই সিরিয়ার আসাদ বাহিনী প্রচণ্ড আক্রমণ চালিয়েছে। ১০-১৫ হাজার মানুষকে তুরস্ক সরিয়ে নিয়েছে।আরো হাজার হাজার আটকা পড়ে আছে।তুরস্ক সীমান্তের কাছে ইদলিব অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থান।কিন্তু সেখানে আগে থেকেই হাজার হাজার শরণার্থী।আরো মানুষের আগমনে সেখানে দেখা দিয়েছে খাদ্যসঙ্কট ও ত্রাণের অপ্রতুলতা।

  ক্রেমলিনের তৈরি করা সিরিয়ার নতুন সংবিধানে সিরিয়ার আরব ও মুসলিম পরিচিতি মুছে ফেলা হয়েছে। খসড়া সংবিধান আসাদ সরকার ও বিরোধীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।সিরিয়াকে আগের মতো সিরিয়ান আরব রিপাবলিক হিসেবে উল্লেখ না করে সিরিয়া রিপাবলিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ আরব পরিচিতি পর্যন্ত মুছে ফেলা হয়েছে।প্রস্তাবিত সংবিধানে সিরিয়াকে সেকুলার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখানো হয়েছে।আগের সংবিধানে ছিল,যেকোনো আইনের ভিত্তি হবে ইসলামি আইন।রাশিয়া সিরিয়ায় একক ও প্রতাপশালী নায়কে পরিণত হয়েছে।ধারণা হয়,ইসরাইল ও জর্দান বিভিন্ন বিষয়ে হোয়াইট হাউজের পরিবর্তে ক্রেমলিনমুখী হতে বাধ্য হবে।আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ বিজয় ছিল প্রকারান্তরে আমেরিকার বিরুদ্ধে রাশিয়ার বিজয়।রাশিয়া আলেপ্পো উদ্ধার অভিযানে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে সিরিয়ার সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছে।এ বিজয়ের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার ক্ষেত্রে রাশিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে দর কষাকষি করতে পারবে।সামরিক সহযোগিতিার পাশাপাশি আসাদ সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রতিহত করতেও ভূমিকা রেখেছে রাশিয়া।গত পাঁচ বছরে বাশার আসাদ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আনা পাঁচটি প্রস্তাব ভেটো দিয়ে আটকে দিয়েছে মস্কো।সার্বিকভাবে বলা যায়, আলেপ্পো পুনর্দখলের ফলে দেশের ভেতরে শক্তির ভারসাম্য এখন ব্যাপকভাবে প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদের পক্ষে চলে যাবে।বিদেশি মদদপুষ্ট জঙ্গিরা ক্রমেই দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে পড়বে এবং এক সময় তাদের সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হবে।কিন্তু সৌদি আরবের মতো জঙ্গিদের আঞ্চলিক মিত্র এবং আমেরিকার মতো আন্তর্জাতিক মিত্ররা আলেপ্পো বিজয়ে সন্তুষ্ট নয় বলে তারা নতুন উদ্যেমে জঙ্গিদের সহযোগিতা দিতে এগিয়ে আসতে পারে।সিরিয়া সরকার ও তার মিত্ররা সে ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

 


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »