Category: আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘ মহাসচিবের সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের সাক্ষাৎ

নিউইয়র্ক, ২০ জুন ২০১৭:
পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক ১৯ জুন সোমবার জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেজের সাথে সাক্ষাৎ করেন।সাক্ষাতে জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের অসামান্য অগ্রগতি বিশেষ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দুর্যোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি সবসময় বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলার লড়াইয়ে প্রথম সারিতে দেখতে চান। তিনি এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতিতেও বাংলাদেশকে সামনের কাতারে আশা করেন।
শান্তিরক্ষা ও শান্তিনির্মাণে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কাযর্ক্রমে অন্যতম বৃহৎ সেনা ও পুলিশ সদস্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আসন্ন সাধারণ পরিষদের সময় অনুষ্ঠিতব্য ‘সার্কেল অভ্ লিডার’ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে মহাসচিব উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্র সচিব জাতিসংঘের মূল্যবোধ ও নীতিমালার প্রতি বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ জাতিসংঘ মহাসচিবের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। তিনি আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় মহাসচিবের অগ্রাধিকার প্রদানের প্রশংসা করেন। বিগত ৮ বছরে বাংলাদেশ আর্থসামাজিক উন্নয়নে যে অগ্রগতি সাধন করেছে পররাষ্ট্র সচিব সে বিষয়ে মহাসচিবকে অবহিত করেন।এর আগে, পররাষ্ট্র সচিব জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড্ ক্রাইম’ এর ওপর একটি হাই লেভেলে ডিবেটে বক্তব্য রাখেন। ইতালির স্থায়ী মিশন এবং জাতিসংঘের ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম অফিসের (ইউএনওডিসি) সহযোগিতায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি এ ইভেন্টের আয়োজন করেন।
পররাষ্ট্র সচিব তার বক্তৃতায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক-নিদের্শনায় ‘ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড্ ক্রাইম’ মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। এ জাতীয় অপরাধ দমনে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। অধিকতর নজরদারি ও কার্যকর বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধ অভিগমন ও মানব পাচার এবং চোরাচালানের প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জাতিসংঘ) সাদিয়া ফয়জুন্নেছা এবং বাংলাদেশ মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এসময় উপস্থিত ছিলেন।

মদিনা সাংবাদিক পরিষদের ইফতার ও দুআ মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোহম্মদ আলী রাশেদ, সৌদিআরব থেকে :
গত বুধবার ১৪ জুন পবিত্র মাহে রমযান উপলক্ষে ইফতার ও দুআ মাহফিল করেছে মদিনা সাংবাদিক পরিষদ। মসজিদে নববীর পার্শ্বস্থ বাঙ্গালী মার্কেটে এশিয়া হোটেল মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।প্রবাসের বিভিন্ন শ্রেণীর রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষাবিদ, আলেম-ওলামা, লেখক, গবেষক, ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ কমিউনিটির সম্মানে এ মাহফিলের আয়োজন করেছে মদিনা সাংবাদিক পরিষদ।সংগঠনের সভাপতি আরটিভি মদিনা প্রতিনিধি সাংবাদিক মুছা আব্দুল জলীলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এনটিভি মদিনা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোহাম্মাদ আলী রাশেদের সঞ্চালনায় এ দুআ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মুহাম্মাদুল্লাহ মাহদি। প্রধান অতিথি ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা জনাব ইকবাল সোবহান চৌধুরী।অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছিলেন সাবেক জজ ও বিশিষ্ট কলামিস্ট জনাব ইকতেদার আহমেদ।বিশেষ অতিথি ছিলেন নিরাপদ নিউজের প্রধান সম্পাদক, বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জনাব ইলিয়াস কাঞ্চন।বিশেষ আলোচক ছিলেন মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার ব্যবস্থা এবং ইসলামী রাষ্ট্র বিজ্ঞানের এমফিল গবেষক, দৈনিক প্রবাসীকাল ডটকম এর সম্পাদক ও মদিনা সাংবাদিক পরিষদের সহসভাপতি যাকারিয়্যা মাহমূদ।
তিনি “পবিত্র মাহে রামাদান ও আল কুরআন” শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেন।উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি মাইটিভির সাংবাদিক ফ ই ম ফরহাদ, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন যুগ্ন সম্পাদক বাংলাভিশনের সাংবাদিক আবুল খায়ের আশিক, অর্থ সম্পাদক আজকের সময় ডটকমের সাংবাদিক দেলওয়ার হোসেন সুমন এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এমকে টিভির সাংবাদিক জাবেদ ইকবাল।এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যাবসায়ী ও বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ।মাননীয় তথ্য উপদেষ্টা প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রবাসের মাটিতে নিজেদের কাজের পাশাপাশি তারা দেশের গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত আছেন এবং প্রবাসীদের সুখ-দুঃখের কথা তুলে ধরছেন। এটি সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।সাবেক জজ প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বলেন বাংলাদেশী অর্থনীতির প্রাণ হলো প্রবাসী কর্মরত শ্রমীক। প্রবাসী শ্রমিকদের প্রেরীত অর্থের কারনে আজ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার অত্যন্ত সমরিদ্ধ, প্রবাসের শ্রমিকরা প্রবাসে অত্যন্ত কায়ক্লাসে জীবন জাপন করে তাদের উপার্জিত অর্থের সিংহভাগ দেশে পাঠিয়ে দেন কিন্তু এটি আজ অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় বাংলাদেশের এক শ্রেণীর সুবিধা ভুগী বিগত ১৩ বছরে বাংলাদেশ হতে ৬ লক্ষ হাজার কুটি টাকার অধিক অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। এই ভাবে আপনাদের কষ্ট আর্জিত প্রেরিত অর্তে বিদেশে পাচার হয়ে গেলে দেশের কাংখিত উন্নতি  ও অগ্রগতি ব্যহত হবে। মদিনা সাংবাদিক পরিষদেরে এ ইফতার ও দুআ মাহফিলে মদিনা আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্য জোট, হেফাজতে ইসলামসহ সকল রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক সংগঠন সমূহের নেতৃবৃন্দ উপস্থিথ ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, ডাক্তার, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চাকুরী জীবী, পেশাজীবী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দসহ বাংলাদেশী কমিউনিটির অন্যান্য লোকজন।
ইফতারের আগ মুহূর্তে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহের সুখ-শান্তি সমৃদ্ধি ও কল্যাণ এবং প্রবাসীদের মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী।

কোনদিকে এগুচ্ছে মুসলিম বিশ্ব

 

রায়হান আহমেদ তপাদার   এক সময় ব্রিটিশ যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার বেশ দম্ভক্তির সূরে বলেছিলেন,ইউরোপের মাটিতে কখনো মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে দেয়া যায় না।তার এ বক্তব্যের পর পরই সার্ব সেনারা হায়েনার মত বসনিয়া নীরিহ মুসলমানদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলায় মেতে ওঠে।দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর বিশ্বে মুসলিম দেশগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।বসনিয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায় একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের স্বপ্ন দেখার পরপরই পশ্চিমা মদদপুষ্ট সার্ব বাহিনীর নৃশংসতা দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের ভয়াবহতাকে হার মানিয়েছে।শেষতক মুখ রক্ষার্থে তখন পশ্চিমা মদদপুষ্ট ও মেরুদণ্ডহীন জাতিসংঘ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ নামক দুইটি সংস্থার উদ্যোগে বসনিয়ায় যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হলেও নির্যাতিত মুসলমানরা সার্ব বাহিনীর নৃশংসতার কোন প্রতিকার পায়নি।ফিলিস্তিনিদের বাঁচা মরার অধিকারকে সমর্থনের অপরাধে মিশর ও সিরিয়াকে নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয় সত্তরের দশক থেকে।মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতকে উচিত শিক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে ১৯৬৭ সালে আগ্রাসন চালায় পশ্চিমাদের আশির্বাদপুষ্ট ইহুদিবাদি ইসরাইল।এরসময় মিশরের সেনাবাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হবার পাশাপাশি সিরিয়া ও মিশরের বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নেয় ইসরাইল।শেষতক ক্যাম্প-ডেভিড চুক্তির সুবাদে মিশর হারানো ভূখণ্ড ফিরে পেলেও গোলান মালভূমি এখনো ইসরাইলি বাহিনীর কব্জায় রয়েছে।১৪০০ হিজরীর প্রথম দিন ফজরের নামাজের পূর্বে আচমকা পবিত্র মক্কা শরীফ দখলে নেয় একটি সশস্ত্র অস্ত্রধারী গোষ্ঠী।ঘটনার পর পরই সৌদি সেনাবাহিনীর সাড়াঁশী অভিযানে অস্ত্রধারীরা পরাভূত হয়।পরে আটককৃত অস্ত্রধারীদের পরিচয় জানা যায়,তারা ওতাইবা গোত্রের লোক।কিন্তু এরা অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র কোথায় পেল কিংবা মহান আল্লাহর ঘর দখল করার উদ্দেশ্য কী ছিল-তা অজানা থেকে গেছে।  সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল আসাদ ছিলেন কট্টর ইসরাইল বিরোধী।আরব লীগের অনুরোধে তিনি ৩০ হাজার সিরীয় সেনাকে চরম ঝুঁকির মধ্যে বেকা উপত্যাকায় মোতায়েন করেন। দীর্ঘ ত্রিশ বছর বেকা উপত্যাকায় মোতায়েতকৃত সিরীয় সেনাবাহিনীর সাথে ইসরাইলি সেনাদের বেশ কয়েকটি ভয়াবহ যুদ্ধ সংগঠিত হয়। পরে অবশ্য ইসরাইলের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের কতিপয় মুসলিম দেশের সখ্যতা গড়ে উঠলে সিরিয় সরকার বেকা উপত্যাকা থেকে তার বাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়। বলে রাখা প্রয়োজন যে, সিরীয় প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল আসাদকে অপসারণের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি ষড়যন্ত্র শক্তিশালী সিরীয় সেনাবাহিনী বানচাল করে দেয়। হাফেজ আল আসাদের মৃত্যুর পর তার পুত্র ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ইসরাইল বিরোধী অবস্থান গ্রহণের ফলে আজ সিরিয়ার পরিণতি বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করছে।আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেন পরিস্থিতিও একই সূতোয় গাঁথা। প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ও কর্নেল মুয়াম্মার আল গাদ্দাফী তাদের শেষ সময় পর্যন্ত অযাচিতভাবে পশ্চিমাদের দিকে ঝুঁকে পড়ে। উদ্দেশ্য ছিল, পশ্চিমাদের সাথে বন্ধুত্ব করলে আজীবন ক্ষমতায় থাকা যাবে। কিন্তু স্বার্থপর মিত্ররা দুই শাসককে নির্মমভাবে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশ দু’টিকে বিরান ভূমিতে পরিণত করার ষড়যন্ত্রের ছক কষতে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, সাদ্দাম ও গাদ্দাফী পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্র মোটেই আঁচ করতে পারেনি উপরন্তু সাদ্দামের মাধ্যমে ইরানের সাথে দীর্ঘ আট বছর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ইরাক। যুদ্ধে ফলাফল ছিল চরম আত্মঘাতী। এতে উভয় দেশের লক্ষাধিক সেনা ও নীরিহ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ফলে সামরিক শক্তিতে উভয় দেশ উর্বল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সাদ্দামকে প্রলুব্ধ করে কুয়েত দখল নাটক মঞ্চস্থ করে পশ্চিমা শক্তি। শেষতক বহুজাতিক বাহিনীর ব্যানারে সাদ্দামকে পাকড়াও করে সমৃদ্ধশালী ইরাককে দোজখে পরিণত করা হয়।   লিবিয়ার গাদ্দাফীকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। বর্তমানে এ দু’টি দেশে নৈরাজ্যকর বিরাজ করছে। লিবিয়ায় কে আসল সরকার আর কে নকল সরকার সেটা বুঝার উপায় নেই।আফগান জাতিও একই পরিণতি ভোগ করছে। আফগানিস্তান কব্জা করতে পশ্চিমা বাহিনী সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। দীর্ঘ দুই দশকের যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটিতে কয়েক লক্ষাধিক নীরিহ মানুষ হতাহত হওয়া ছাড়াও অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। আফগান, ইরাক ও লিবীয় জনগণের রক্তের দাগ কাটতে না কাটতে সিরিয়া মিশন শুরু করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদি শক্তি। পশ্চিমারা সিরিয়া যুদ্ধে সুবিধা করতে না পেরে অবশেষে সৌদি আরবকে দিয়ে ইয়েমেনি জাতির বিরুদ্ধে একতরফা যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেয়। রাশিয়া ও ইরান কর্তৃক কঠোর পদক্ষেপের ফলে এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত সিরিয়া ও ইয়েমেন যুদ্ধে মার্কিন মিত্ররা পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। সিরিয়া যুদ্ধে অর্ধ কোটি মানুষ আজ পরবাসী। দেশটির ৭৫ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। সিরিয়া যুদ্ধে তুরস্ককেও জড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তুরস্ক একমাত্র মুসলিম দেশ যারা কিনা ন্যাটো সামরিক জোটের অন্যতম সদস্য। কিন্তু তাতে কি? তারাও মুসলমান। সুতরাং যা হবার এখন তাই ঘটছে তুরস্কে। অপরদিকে তুরস্ককে এখন রাশিয়ার প্রতিপক্ষ করে ফেলা হয়েছে। সিরীয় যুদ্ধে তুরস্কের ভূমি ব্যবহার করে বিদ্রোহীরা অনেক দূর এগিয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ার তীব্র অভিযানের মুখে এরা এখন কোনঠাসা।অপরদিকে তুরস্ক এখন সন্ত্রাসের শিকার। যুদ্ধ কিংবা বোমা বিস্ফোরণে প্রতিনিয়ত মানুষ মরছে তুরস্কে।উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র পরিবর্তনের মাধ্যমে এতদ্বঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোকে খণ্ড বিখণ্ড করে দুর্বল করে ফেলা এবং পশ্চিমাদের ‘সোনার ডিম’ বলে পরিচিত ইসরাইলকে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্য নিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যকে টার্গেট করা হয়। কিন্তু ক্ষমতালোভী স্বৈরশাসক ও রাজা বাদশাদের অযোগ্যতা ও সীমাহীন ব্যর্থতার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে।  আফগান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করে হাজার হাজার অস্ত্রধারী সৃষ্টি করে আমেরিকা। সে সময় পাকিস্তান থেকে প্রশিক্ষিত বিদ্রোহীরা সোভিয়েত সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। যুদ্ধের নেপথ্যে আমেরিকা তথা পশ্চিমা বিশ্ব সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সেনা প্রত্যাহারের পর আফগান উপজাতি, গোত্র এমনকি প্রতিটি অঞ্চলে সংঘাত সৃষ্টি হয়। অপরদিকে আফগান অভিযানের সময় পাকিস্তানের মাটিতে অসংখ্য সন্ত্রাসীগোষ্ঠী সৃষ্টি হয়। আজ যার খেসারত দিতে হচ্ছে পাকিস্তানের নীরিহ জনগণকে। পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য পশ্চিমারাই দায়ী। এটা খোদ পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ একবাক্যে স্বীকার করেছেন।আলজেরিয়া ও তিউনিশিয়ায় বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনায় যাদেরকে দায়ী করা হচ্ছে-তারাই পশ্চিমা মদদপুষ্ট অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। মিশর সরকার প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। হতাহত হচ্ছে প্রতি ঘন্টায়। মিশরের সিনাই উপত্যাকায় সন্ত্রাসীদের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি রয়েছে। এটা পশ্চিমারা দীর্ঘদিন থেকে অবহিত ছিল। কিন্তু মিশরের সার্বভৌমত্ব যখন হুমকির সম্মুখীন তখন মিশরীয় সেনাবাহিনী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে।আফ্রিকার মুসলিম অধ্যুষিত নাইজেরিয়াও একই পরিস্থিতির শিকার। ক্যামেরুন, ঘানা, সেনেগাল ও কেনিয়ায় সন্ত্রাসী হামলা পরিচালিত হচ্ছে। মোদ্দা কথা, বিশ্বের সকল মুসলিম দেশকে অস্থিতিশীল রাখার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে চলেছে। মুসলমানদের মধ্যে সীমাহীন অনৈক, গোত্রে গোত্রে এমনকি মাজহাব নিয়ে দ্বন্ধ সৃষ্টি, বিনা অজুহাতে এক দেশ অপর দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া, এক মুসলিম দেশকে শায়েস্তা করতে পশ্চিমাদের দারস্থ হওয়া নিত্যকার ব্যাপার। আর এসব অভ্যন্তরীণ সংকটকে কাজে লাগিয়ে উকৌশলে মুসলিম দেশগুলোকে দুর্বল করে ফেলা হচ্ছে। এতে করে মুসলমানদের দুঃখ-দুর্দশা আরো চরম আকার ধারণ করছে।ইরাক ও লিবিয়ায় কথিত রাসায়নিক ও জীবানু অস্ত্রের অজুহাতে দেশ দু’টি ধ্বংস করা হয়েছে।   পশ্চিমাদের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি এক প্রকার ঢাকঢোল পিটিয়ে পারমানবিক ও হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। অর্থাৎ উত্তর কোরিয়া তার অস্ত্র ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করছে। পশ্চিমারা উত্তর কোরিয়ার ধারেকাছে পৌছতে সাহস করছে না। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার স্থলে আজ যদি কোন্ মুসলিম দেশ একাজ করতো-তাহলে পরিস্থিতি কি হতো? এটাই হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রকৃত ষড়যন্ত্র।ইরান নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে তিন দশক পূর্বে। ভাগ্য সুপ্রসন্ন বলতে হবে ইরানি জাতিকে। তারা নিজেদের মধ্যে সীসাঢালা ঐক্য স্থাপন করে শত্রুপক্ষকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, শত্রুর বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ঐক্যবদ্ধ। তা না হলে অনেক আগেই ইরানকে কব্জা করে ফেলত পশ্চিমারা। লেবাননকে সন্দেহের চোখে দেখছে আমেরিকা। কারণ দেশটির অখণ্ডতা রক্ষায় বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জিহাদি সংগঠন ‘হিজবুল্লাহ’ অপশক্তিকে কোনো ছাড় দিতে নারাজ। আর সে জন্যই হিজবুল্লাহকে কালো তালিকাভূক্ত করাসহ লেবানন সরকারকে সাহায্য প্রদান বন্ধ করেছে কয়েকটি দেশ। অবশ্য এর নেপথ্যে কাজ করছে সৌদি আরব। তিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি হিজবুল্লাহর প্রশংসা করে যে বিবৃতি দিয়েছে তাতে আমার সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে যে, কবে আবার তিউনিশিয়াকে টার্গেট করা হয়।মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা কিংবা ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠার কোন আলামত আমি দেখছি না। কয়েক মাস পূর্বে সৌদি আরব হঠাৎ করে কয়েকটি দেশের সমন্বয়ে মুসলিম সামরিক জোট গঠন করে। কিন্তু অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বিষয়টি পরিস্কার হবে যে, সৌদিসহ উপসাগরীয় রাজা-বাদশাদের ওপর আস্থা রাখা যায় না। আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিমা শক্তি এবং ইসরাইলের সাথে এদের সুসম্পর্ক রয়েছে।সুতরাং আমেরিকা ইসরাইলকে সন্তুষ্ট রেখে এরা আজীবন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখছে।ওহাবী,তাকফিরি, সালাফীসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্টি মাধ্যমে এরা একদিকে যেমন মুসলমানের বিতর্কিত জাতি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে অপরদিকে মাজহাব নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে ফায়দা লোটার অপচেষ্টায় লিপ্ত।ইরাক, লিবিয়া ও সিরিয়ায় বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবে যারা যুদ্ধ করছে-তারা উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ,আমেরিকা সহ পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরাইল থেকে অস্ত্রশস্ত্র ও প্রশিক্ষণ লাভ করছে।এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল মুসলিম দেশগুলো নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে।                                      লেখক ও কলামিস্ট,যুক্তরাজ্য                                      raihan567@yahoo.com

 

কানাডার ম্যানিটোবায় বাংলাদেশ সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ


কানাডার ম্যানিটোবায় বাংলাদেশ সমিতি কানাডা-বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন এর ২০১৭-২০১৯ মেয়াদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্বাহি পরিষদ নির্বাচন মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির নবনির্বাচিত সদস্যরা হচ্ছেনঃ নাসরিন মাসুদ (সভাপতি), হেলাল মহিউদ্দীন (সহ-সভাপতি), ফায়সাল শিবলি (সাধারণ সম্পাদক), মোঃ রবিউল ইসলাম খান (সহ সাধারণ সম্পাদক), এস এম এ রানা (কোষাধ্যক্ষ), রেজা কাদির (জনসংযোগ সম্পাদক), মোঃ ওয়ালিউল্লাহ (সাংস্কৃতিক সম্পাদক), মোঃ মানিক হোসেন ও মোস্তারিনা বেগম (সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক), আবদুল বাতেন (ক্রীড়া সম্পাদক), এবং মোঃ শামিম চৌধুরী ও সামিলাত কায়সার (সহ-ক্রীড়া সম্পাদক)। নতুন নির্বাহি পরিষদ ৪ জুন দায়িত্বভার গ্রহণ করে, এবং ৮ জুন প্রথম নির্বাহি পরিষদ সভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সমিতির কর্মকান্ড শুরু করে। কানাডা-বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন-এর নবনির্বাচিত কমিটি ম্যানিটোবার বাংলাদেশিদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক উন্নয়নে নিরলস পরিশ্রমের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করে, এবং কমিউনিটির জন্য স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকান্ড বিস্তারের জন্য বাংলাদেশে ও বিদেশে সকল মহলের আন্তরিক সহায়তা ও সহযোগিতা প্রত্যাশি।

তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে — পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৫ মে) : তৈরি পোশাক শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষার খরচ শ্রমিকদের ওপর না চাপিয়ে মালিক পক্ষ, ক্রেতা এবং এ শিল্পের বন্ধুদের যৌথ সহায়তায় বহন করলে এ সম্পর্কিত উদ্যোগসমূহ অধিকতর ফলপ্রসূ হবে।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহ্্রিয়ার আলম আজ রাজধানীর হোটেল লেক শোরে ‘ওয়ার্কিং উইথ উইমেন প্রজেক্ট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের স্থায়িত্বের জন্য এ শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। শ্রমিকের নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কল্যাণের জন্য অপুষ্টি, কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি, সংক্রামক ব্যাধি, শিশুমৃত্যু, গর্ভধারণজনিত জটিলতা ইত্যাদি সম্পর্কে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে বলে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন।অনুষ্ঠানের আয়োজক এস এন ভি নেদারল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন তৈরি পোশাক শিল্প কারখানা ও এর শ্রমিকদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সংস্থাটি পরিচালিত একটি প্রকল্পের চার বছরের অভিজ্ঞতা বিনিময় করে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন স্টক হোল্ডারের সাথে।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার উল্লাহ, ঢাকাস্থ নেদাল্যান্ডস্ দূতাবাসের চার্জ দ্য এফেয়ার্স মার্টিন ভ্যান হুগস্ট্র্যাটেন (গধৎঃরহব াধহ ঐড়ড়মংঃৎধঃবহ), এসএনভির কান্ট্রি ডিরেক্টর জেসন বেলাঙ্গের (ঔধংড়হ ইবষধহমবৎ) প্রমুখ।

ব্রেক্সিট নয়,এক্সিটের ভোটম্যাপে যুক্তরাজ্য

রায়হান আহমেদ তপাদার (লন্ডন)

আগামী ৮ই জুনের সংসদ নির্বাচনের ফলাফল কি ঘটবে এটি নিঃসন্দেহে ধারণা করা যায়।নিদেনপক্ষে, বৃটেনের রাজনীতি নিয়ে যারা ন্যূনতম যারা ধারণা রাখেন তারা জানেন, ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টিই জিতবে। যে নির্বাচনে ক্ষমতায় থাকা দলটির সন্দেহাতীতভাবে জয়ী হবার সমূহ সম্ভাবনা, এমন নির্বাচন কেন সরকারই হঠাৎ করে আয়োজনের তাগিদ অনুভব করলো? এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বৃটেন রাষ্ট্র বা জনগনের প্রাপ্তি-প্রত্যাশা কোথায়;ব্রেক্সিট ট্রিগারের পর্যায়ে বৃটেনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে, সেটি প্রায় বছরখানেক আগে থেকেই লিখছি। কারণ, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তেরেসা মের এ সরকারের এক অর্থে জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট নেই। বহুবার অন্তর্বর্তী নির্বাচনের দাবি উঠলেও প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে ছিলেন নিশ্চুপ। তাহলে হঠাৎ তিনি কেন গত ১৮ই এপ্রিল আচমকাই নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন? তাও খুব কম সময় মাঝখানে রেখে। বৃটেনের বিরোধীদল লেবার পার্টি স্মরণকালের মধ্যে নেতৃত্বের জটিলতায় এখন সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে। দলের অভ্যন্তরে প্রশ্নবিদ্ধ পার্টি লিডার জেরেমি করবিনের নেতৃত্ব। সোশ্যাল বেনিফিট বা শুধু নাগরিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলটি নতুন প্রজন্মের ভোটারদের আগের মতো ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। পক্ষান্তরে, ব্যক্তিগত সুবিধার আগে বৃটেনের অর্থনীতি; কনজারভেটিভের এমন নীতির পাশাপাশি লিবডেম ও ইউকিপে আস্থা হারানো বিরক্ত ভোটার শেষ পর্যন্ত মন্দের ভালো খুঁজছেন টোরির দলেই।গত দশকে আস্তে আস্তে বাম ধারার দল লেবার পার্টি ক্রমশ নেতৃত্বের পথ বেয়ে ডান ধারায় ঝুঁকছিল। আর, দুনিয়াজুড়েই এক ধরনের জোয়ার ছিল উগ্র জাতীয়তাবাদের। সেটি কেবল যে আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বা ইউরোপের কিছু দেশে তা কিন্তু নয়। ভারতের সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনেও দেখেছি অভিন্ন চিত্র।

সম্প্রতি ফ্রান্স ও এর আগে বছরের শুরুতে নেদাল্যান্ডসের নির্বাচনেও অতি ডানদের পিছু হটা শুরু হয়েছে। এখন, বৃটেনে ফের ফার লেফটের পথে জেরেমির নেতৃত্বে লেবার পার্টির মূল নীতিতে ফিরবার পুনঃযাত্রায় বৃটিশ, বিশেষ করে ইংলিশ জনগণ কতটা প্রস্তুত, সেটিও প্রশ্নবোধক। লেবারের নেতৃত্ব নিয়ে ঘনীভূত সংকটের শতভাগ সুযোগ নিতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা। বিরোধী শিবিরের প্রতিকূল বাস্তবতাকে শতভাগ নিজের অনুকূলে কাজে লাগাতে চেয়েছেন তিনি। যেখানে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে লেবার পার্টি ভোটের লড়াইয়ের জন্য দল হিসেবে অনেকটাই অপ্রস্তুত। সরকারের উপকূলে থাকা মাঠে এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে লেবার পার্টি টানা তৃতীয়বারের মতো জনগণের ভোটে প্রত্যাখ্যাত হবে। এ পরাজয় আর দলীয় সংকটের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা হবে দলটির জন্য যথেষ্ট  সময়সাপেক্ষ। বর্তমান পার্টি লিডার জেরেমি করবিন একই সঙ্গে ব্যর্থ নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন। এর অব্যাবহিত পরবর্তী সময়ে লেবার পার্টি দলটির নতুন নেতৃত্বের জন্য ব্যস্ত থাকবে। আর ওই সময়ে তেরেসা মের সরকার থাকবে বিরোধীদলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের সুযোগে নিরাপদ। এরই মাঝে অবশ্য দু’শিবিরের অনেক সিনিয়র পার্লামেন্টারিয়ান আসছে নির্বাচনে না লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সার্বিক বিচারে এখন পর্যন্ত এ নির্বাচন কার্যত দেশটির সবচেয়ে আকর্ষণহীন সংসদ নির্বাচনে রূপ নিয়েছে।আসন্ন নির্বাচনে লেবার পার্টি কেন পরাজিত হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে এটুকু বলতে পারি,ব্রেক্সিটই একমাত্র কারণ নয়। লেবারের যে এমপি প্রার্থীরা এবারের নির্বাচনে লড়ছেন, তাদের বেশিরভাগ ব্রেক্সিটের গণভোটে রিমেইনের পক্ষে ক্যাম্পেইন করে হেরেছেন।গত বছরের ২৩শে জুন থেকে এ বছরের ৮ই জুন। মাঝখানের সময়স্বল্পতার নিরিখেই ভোটারদের ভুলবার নয়।দলীয় অভ্যন্তরীণ সংকটে দলটির বহু নেতাকর্মী নিজেরাই দল নির্বাচনে ক্ষমতায় যাবে এটি বিশ্বাস করেন না।যদিও, লেবার সমর্থকরা বলছেন, এ নির্বাচন তেরেসা মে আয়োজন করছেন তার নিজের নেতৃত্বে আরো শক্তিশালী সরকার ও পছন্দসই ব্রেক্সিটের জন্য,আসলে বৃটেনের জনগণের জন্য নয়।  দৃশ্যত, তেরেসা মে বিরোধী শিবিরের প্রতিকূলতাকে কাজে লাগাতে এ সময়টিকে মোক্ষম মনে করেছেন। আর নির্বাচন ঘোষণার পর পুুঁজিবাজার ও পাউন্ডের দরপতনের যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, তাও সত্য হয়নি। একথাও সত্য, বৃটেনে জনগণ ভোট দেয় দলগুলোর মূলত ম্যানিফেস্টো দেখে। শুধু শুরু থেকে ফেভারিট হিসেবে নয়, লন্ডনের গত মেয়র নির্বাচনে লেবারের সাদিক খানের জয়ের নেপথ্যে তার হোপার টিকিট, হাউজিংগের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেয়া ইশতেহারটিও প্রভাবক ভূমিকা রাখে। যদিও, শুরু থেকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী জ্যাক গোল্ডস্মিথ সাদিকের চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন। লন্ডনের বারাগুলো বেশিরভাগই লেবার অধ্যুষিত। সাদিক খান ওই নির্বাচনে ৫৬.৮ শতাংশ ভোট পান। গোল্ডস্মিথ পান ৪৩.২ শতাংশ।আসন্ন সংসদ নির্বাচনে কোনো দলের এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে ৬৫০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জিততে হবে ৩২৬টি আসনে। গত নির্বাচনে কনজারভেটিভ ৩৩০ আর লেবার পার্টি ২২৯টি আসনে জেতে। বাংলাদেশে বর্তমানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচিত সরকার দেশ শাসন করছে। বিএনপির রাজনৈতিক ব্যর্থতার উপর সরকার যেভাবে দেশ চালাচ্ছে, এখানকার সরকারি দলেরও এগিয়ে থাকার নেপথ্যে রয়েছে লেবারের সিদ্বান্তগত, কৌশলগত রাজনৈতিক ব্যর্থতা।বৃটেনের জনগণ সব সময় শক্তিশালী সরকার চায়। এবার এক্ষেত্রে লেবার সরকার গঠন যদি শেষ অবধি গঠন করেও (যদিও সবগুলো জনমত জরিপ বলছে সে সম্ভাবনা নেই ) সেটি হবে দুর্বল কোয়ালিশন সরকার। একথা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীও বল্টনে নির্বাচনী প্রচারণায় নিজে বলেছেন।নির্বাচনে আমার ধারণা, বড় জয় পাবে কনজারভেটিভ। আসনসংখ্যা বাড়বে ব্যবধানে।বর্ণবাদী দল হিসেবে চিহ্নিত ইউকিপের ভোট কমতে পারে বড় ব্যবধানে। গত নির্বাচনে যেসব ভোট পড়েছিল ইউকিপের বাক্সে, এবার সেসব ভোটের একটি বড় অংশের গন্তব্য হতে পারে কনজারভেটিভ।  লিবডেম কিছুটা পরিসংখ্যানের গ্রাফে এগুলেও সেটি ক্ষমতার নিয়ামক হবে না। বর্তমান পার্লামেন্টে ৫৪টি আসন নিয়ে স্বতন্ত্র স্বদেশের দাবিদার স্কটিশ ন্যাশন্যাল পার্টি আগামীতেও ফ্যাক্টর হিসেবে থাকবে বৃটেনের রাজনীতিতে।বিশ্বজুড়ে উগ্র আর একাধিপত্ববাদী জাতীয়তাবাদের জোয়ারের বিপরীতে বৃটেন কিছুটা হলেও ব্যতিক্রম। এখানে আগামী নির্বাচনে রাইট ব্লক বিজয়ী হবে কিন্তু ফার রাইটিস্টরা নয়। অন্তত ইউকিপের মতো বর্ণবিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত দলগুলো যে ক্ষমতার নিয়ামক হতে পারছে না, উল্টো হারিয়ে যাচ্ছে; সেটি বৃটিশ গণতন্ত্রের ভারসাম্যের বাহ্যিক সৌন্দর্য।আগামী নির্বাচন বৃটেনের জন্য কেন দরকার, এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজবার আগে একটি কথা বলে নিই। তেরেসা মে ইজ ভেরি স্পেসিফিক এন্ড ইউনিক এজ অ্যা লিডার। অনেকে তাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের অনমনীয় চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করতে ভালোবাসেন। আগামী নির্বাচনেও জয়ের পথ বেয়ে তেরেসা মের সরকার ব্রেক্সিট  সংহতভাবে বাস্তবায়ন করবে। জনগণের পুনরায় সরকারকে সার্বিক বিচারে আরো শক্তি জোগাবে। লেবারের ঐতিহাসিক পরাজয়ে কনজারভেটিভ পাবে আলটিমেট এন্ড এবসলিউট পাওয়ার।এ লেখার পাঠকদের কথা মাথায় রেখেই কিছু শব্দের বাংলা অনুবাদে সচেতনভাবেই যাইনি আমি। এ লেখা নিবেদিত বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষত বিলেত প্রবাসী আমাদের পাঠকদের জন্য। যা হোক, এবার মূল কথায় আসি। কেননা,এ বিষয়টি এখনো বৃটেনের কোন ধারার মিডিয়াতে আলোচনায় আসেনি, যেটি আমি অনুভব করি।বৃটেনে এখন ব্রেক্সিটই একমাত্র সংকট নয়।৮০০ বছর ধরে দেশটি লিখিত সংবিধান ছাড়া চলছে।কিন্তু, জেনোফোবিয়া বা প্রবাসীদের প্রতি বিদ্বেষ, বর্ডার, নাগরিক অধিকার বা প্রতিরক্ষায় জনগণের জবাব দিহিতার প্রশ্নে লিখিত সংবিধানের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য হয়ে পড়ছে।  এমআই ফাইভ বা সিক্স, সিক্রেট সার্ভিসের মডিফাই বা রেগুলেশন এখন আর আলোচনার বাইরের বিষয় নয়। আর বিশেষত ব্রেক্সিট চূড়ান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, তৎপরবর্তী প্রতিবেশী আর সীমান্ত সমস্যার সমাধান, সার্বিক বাস্তবতায় সাংবিধানিক উদ্যোগ এসবের জন্য দরকার সর্বোতভাবে শক্তিশালী সরকার।সঙ্গত কারণে, আসন্ন আকস্মিকতাময় এ নির্বাচন শুধু ব্রেক্সিট কেন্দ্রিক নয়, এখানে অনেক সামাজিক, ভূরাজনৈতিক এবং মনস্তাত্ত্বিক ইস্যু অনিষ্পন্ন। আসছে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনরায়ের পথ বেয়ে সরকার আসলে সাংবিধানিক সংস্কারের রুদ্ধ দুয়ারটিই উন্মুক্ত করতে চায়। আমি বিশ্বাস করি, ব্রেক্সিটের কিছুদিন পরই আমরা সিটিজেন এসেম্বলি কনসালটেশনের আলোচনা শুনতে পাবো। আমাদের তিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপির অন্তত দু’জন ফের জিতে আসবেন বিলেতের পার্লামেন্টে। তৃতীয়জনের চান্স ফিফটি ফিফটি।গণতন্ত্র বা ভোটের রাজনীতি মানে ৫১ শতাংশের জয়ের বিপরীতে ৪৯ শতাংশ জনগণের নীতিবদ্ধ পরাজয়।কূটকৌশলের খেলা।দেশে দেশে রাজনীতির অন্দরমহলের যাপিত সৌন্দর্য।কিন্তু শেষ বিচারে বৃটেনে বহমান গণতন্ত্রেরই জয় হয়।                                   লেখক ও কলামিস্ট,যুক্তরাজ্য

 

ওয়েস্টমিনস্টার হামলায় বৃটেন উদ্বিগ্ন

রায়হান আহমেদ তপাদার 
টেমস নদীর ওপর অবস্থিত ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্ত এসে লেগেছে পার্লামেন্ট এলাকায়।এই ওয়েস্টমিনস্টার সেতুর ওপর দিয়ে পার্লামেন্টের দিকে আসার পথে সজোরে গাড়ি চালিয়ে পথচারীদের ওপর উঠিয়ে দেন এক হামলাকারী।এরপর গাড়িটি পার্লামেন্টের নিরাপত্তাবেষ্টনীতে গিয়ে আঘাত হানে।সে দিনটি ছিল বাইশ মার্চ বুধবার।লন্ডন স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে ৩টার দিকে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের অধিবেশন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।হামলার সময় পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন চলছিল।প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে সংসদ ভবনে ছিলেন।প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত সংসদ ভবন থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়।এমপিদের নিরাপত্তায় পুরো সংসদ ভবন এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।কয়েক ঘণ্টার জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে পার্লামেন্ট ভবন।কিছু কিছু স্থান আছে যেগুলো সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনা থেকে ধীরে ধীরে মুছে যায়।সেগুলো পরিণত হয় অপছন্দের রাজনৈতিক শাষকগোষ্ঠী বা দূরবর্তী অতিক্ষমতাধর সরকারের সংক্ষিপ্ত নামে।আমেরিকায় এই জায়গাটি হলো:‘ওয়াশিংটন, ডিসি’।ইউরো সমালোচকদের জন্য ‘ব্রাসেলস’।আর বৃটেনের এই সমালোচিত রাজসিক দূর্গ হলো ‘ওয়েস্টমিনস্টার।লন্ডনে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের অধিবেশন চলাকালে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় হামলাকারীসহ নিহত হয়েছেন পাঁচজন। এদের মধ্যে পালার্মেন্টের সামনে ওই হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা পিসি কেইথ পালমার (৪৮)।আহত এই পুলিশ কর্মকর্তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী টবিয়াস এলউড। তৎক্ষণাৎ শুরু করেন প্রাথমিক চিকিৎসা।এই ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ‘বীরে’ পরিণত হন এই পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) খবর দ্য টেলিগ্রাফের।অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পিসি কেইথ পালমারকে বাঁচাতে না পারলেও সর্বশক্তি দিয়ে তার এই মানবতার বহিঃপ্রকাশ প্রশংসিত হচ্ছে নানা মহলে।দেশটির গণমাধ্যম তাকে হিরো বলে সম্বোধন করছে।  যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পার্লামেন্টের বাইরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবিসির অনলাইন প্রতিবেদনে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন।নিহত পাঁচ ব্যক্তির মধ্যে হামলাকারীও রয়েছেন,বলা হয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে। আর বাকি তিন জনের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। পার্লামেন্টে ঢুকতে বাঁধা দিলে হামলাকারী তাকে ছুরিকাঘাত করেন।বাকি তিনজন হামলাকারীর গাড়ি চাপায় মারা গেছেন বলা হয়েছে।পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন চলাকালে টেমস নদী সেতুর ওপর কয়েকজনকে চাপা দিয়ে পার্লামেন্টে পাশের এক রেলিংয়ে ধাক্কা খায় একটি গাড়ি।পরে গাড়ি থেকে নেমে ছুরি হাতে পার্লামেন্টে ঢুকতে চায় হামলাকারী। বাঁধা দিলে এক পুলিশ সদস্যের উপর ছুরি চালিয়ে দেন হামলাকারী।পরে পুলিশ তাকে গুলি করেন।এই হামলার দায় কেউ এখনো স্বীকার করেনি। তবে ঘটনাটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য এবং সব দিক মাথায় নিয়েই এই বিষয়ের তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য পুলিশ।ওদিকে, কমন্সের চেম্বারে নিরাপত্তা স্বার্থে আটকে পড়েন এমপিরা। তাদের অনেকেই ফোনে ছিলেন। আমাদের মতোই খবর দেখছিলেন। তবে তাদের দুশ্চিন্তাটা একটু হলেও ছিল বেশি: তারা বন্ধু, সহকর্মী আর নিজেদের অধীনস্তদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। সবার মাথায়ই ছিল একই চিন্তা: হতাহতের মধ্যে পরিচিত কেউ যদি থাকে?হামলার সময়, আমি ওয়েস্টমিনস্টারে ছিলাম (পার্লামেন্টে নয়)। এক এমপির সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক শেষে উঠছিলাম তখনই হামলা শুরু।তিনি নিরাপদ আছে কিনা জানার জন্য স্ত্রীর কাছ থেকে টেক্সট মেসেজ পেয়ে ঘটনাটি জানতে পারেন। টিভি পর্দায় হয়তো তাকে আর দশটা রাজনীতিকের মতো দেখাবে। কিন্তু আজ যদি মানুষ তাকে দেখতো তাহলে একজন সাধারণ মানুষ দেখতে পেতো।লন্ডনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাইরে ও ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজে হামলার ঘটনার পর বার্মিংহামে শহরের ছয়টি বাড়িতে রাতভর অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বিমানবন্দর ও মেট্রোস্টেশনে একযোগে তিনটি সন্ত্রাসী হামলার এক বছর পূর্তির দিনেই লন্ডনে এ ঘটনা ঘটে। ব্রাসেলসের হামলায় নিহত হয়েছিলেন ৩২ জন।ওয়েস্টমিনস্টার সেতুর ওপর দিয়ে পার্লামেন্টের দিকে আসার পথে সজোরে গাড়ি চালিয়ে তা পথচারীদের ওপর উঠিয়ে দেন হামলাকারী। এতে দুজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। গাড়ির ধাক্কায় নিহতদের মধ্যে একজন নারীর কথা জানিয়েছে স্কাই নিউজ।গাড়িটি পার্লামেন্টের নিরাপত্তাবেষ্টনীতে গিয়ে আঘাত হানে।স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গুলো বলছে,হামলাকারী ৮ ইঞ্চি ছুরি নিয়ে পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দিলে এক পুলিশ সদস্যের ওপর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন তিনি। তখন পুলিশ হামলাকারীকে গুলি করে নিবৃত করে।গুলিতে নিহত হন হামলাকারী।  পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন। সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের প্রধান মার্ক রওলি জানিয়েছেন, পার্লামেন্ট ভবনে হামলা চালাতে ওঁৎপেতে থাকা এক হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে ওই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ।ওই ঘটনার সময় সংসদের উভয় কক্ষে (হাউস অব লর্ডস এবং হাউস অব কমন্স) অধিবেশন চলছিল।ঘটনার মুহূর্তের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেকে সংসদ ভবন থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এমপিদের নিরাপত্তায় পুরো সংসদ ভবন এলাকা ঘিরে ফেলে আর্মড পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে পার্লামেন্ট ভবন। প্রতিদিন দর্শনার্থীদের ভিড়ে ঠাসা থাকে এই এলাকা। আটকা পড়ে সেই দর্শনার্থীরাও।পার্শ্ববর্তী ওয়েস্টমিনস্টার পাতাল রেলস্টেশনসহ পুরো এলাকার যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো লন্ডন শহরে।মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর (ইসলামিক স্টেট) প্রচারণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাইরে হামলা চালানো হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে দাবি করেছে দেশটির বার্তা সংস্থা রয়টার্স।ওই ইউরোপীয় কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, সন্দেহভাজন হামলাকারীর পরিচয় জানতে পেরেছেন ব্রিটিশ গোয়েন্দারা।সে একজন বৃটিশ নাগরিক খালেদ মাসুদ।যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম শহরের বাসিন্দা।  জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাজ্যের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘যদিও এ হামলার প্রেক্ষাপট এখনো স্পষ্ট নয়, তবু আমি পুনরায় আশ্বস্ত করতে চাই যে জার্মানি এবং এ দেশের জনগণ সব ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে যুক্তরাজ্যের পাশে দাঁড়াবে।হামলার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের সঙ্গে ফোনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কথা বলেন বলে জানায় হোয়াইট হাউস।এ তথ্য জানিয়ে ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার বলেন, ট্রাম্প ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।যুক্তরাজ্যকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো হামলার নিন্দা জানিয়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন যুক্তরাজ্যকে ওয়েস্টমিনস্টা রের নিন্দা যারা করেন, তারা যদি আজ দেখতেন! যে গতিতে পুলিশ আর এমার্জেন্সি সার্ভিসগুলো বিপদের দিকে ছুটে গেলো যেখানে কিনা সহজাত মানবিক প্রবৃত্তি আমাদের বেশিরভাগ মানুষকে বলবে দূরে পালাতে। ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজে আহত অবস্থায় মানুষকে পড়ে থাকতে দেখে সাধারণ মানুষ যেভাবে তাদের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলো।প্রহরারত পুলিশ সদস্যদের ট্রেতে করে চা এনে দিলেন কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মী। পর্যটকরা দলবেধে ছুটলো নিরাপদ স্থানে। আর পার্লামেন্টের সেন্ট্রাল লবিতে লকডাউনে আটকে পড়া সবাইকে উজ্জীবীত করতে গান দলবেধে গান গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো স্কুলের বাচ্চাদের দলটি।২০০৫ সালের ৭ জুলাই লন্ডনের টাভিস্টক স্কয়ারে দ্বিতল বাস ও পাতাল রেলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণে গত সোমবার একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয়েছে ওই এলাকায়।যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন লন্ডনে হামলার ১০ বছর পূর্তিতে নিহতদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।পশ্চিম ইউরোপে ইসলামী জঙ্গিদের আত্মঘাতী হামলার প্রথম ঘটনা ছিল এটি,যাতে নিহত হয়েছিল ৫৬ জন।   লন্ডনের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে বলে তার মুখপাত্র জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের কোনো বক্তব্য আসেনিলন্ডনের স্থানীয় সময় গতকাল দুপুরে ওই হামলা হয়। হামলার সময় পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন চলছিল। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে সংসদ ভবনে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত সংসদ ভবন থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়।এমপিদের নিরাপত্তায় পুরো সংসদ ভবন এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।কয়েক ঘণ্টার জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে পার্লামেন্ট ভবন।হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।হামলাকে ‘অসুস্থ ও বিকৃতি রুচির’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।থেরেসা মে বলেছেন, এই হামলা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও বাক্স্বাধীনতার মতো মূল্যবোধের ওপর আঘাত।লন্ডনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টর কাছে গুলি এবং ওয়েস্টমিনস্টার সেতুর কাছে সন্ত্রাসী হামলাকে অসুস্থ ও বিকৃতি রুচি অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে। ঘটনার পরপরই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়ে এক জরুরী বৈঠক শেষে ডাউনিং স্ট্রিটে এক ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন।একই সঙ্গে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের মত মূল্যবোধ চর্চা করে বিশ্বের শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা অর্জন করেছে।যারা এই মূল্যবোধ প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের কাছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট অবশ্যই একটি টার্গেটে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সন্ত্রাসের কাছে ব্রিটেন হার মানবে না, প্রত্যয় ব্যক্ত করে টেরিজা মে বলেন, বৃহস্পতিবার স্বাভাবিক নিয়মে সংসদের সভা বসবে।ঘৃণা এবং অশুভ শক্তি ব্রিটেনকে বিভক্ত করতে পারবে না জানিয়ে থেরেসা মে বলেন,“স্বাভাবিকভাবে লন্ডনের বাসিন্দারা নিজেদের দৈনন্দিন কাজকর্ম সারবেন।এবং শহরে বেড়াতে আসা পর্যটকেরাও স্বাভাবিক নিয়মে চলবে।

 

নেদারল্যান্ড-তুরস্ক দাঙ্গা ন্যাটো সামরিক জোটের জন্য হুমকি

 রায়হান আহমেদ তপাদার  
তুরস্ক ও ইউরোপীয় কয়েকটি দেশের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে।এর ফলে জার্মানি,নেদারল্যান্ডস,অস্ট্রিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক কূটনৈতিক সংকট।তা দিনকে দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হচ্ছে দেশগুলোর নেতাদের মধ্যে।সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।দুই মন্ত্রীর সফরে বাধা দেয়ায় নেদারল্যান্ডসকে মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।তিনি বলেছেন,দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষতি করায় ডাচকে ওই মূল্য দিতে হবে।এরদোয়ান বলেছেন, আমরা তাদেরকে আন্তর্জাতিক কূটনীতি শেখাবো।তুরস্কের এই প্রেসিডেন্ট নিজের ক্ষমতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী ১৬ এপ্রিল গণভোটের আয়োজন করেছে। গণভোটে প্রবাসীদের সমর্থন পেতে নেদারল্যান্ডে সমাবেশে অংশ নেয়ার কথা ছিল তুরস্কের পরিবার বিষয়ক মন্ত্রী ফাতমা বেতুল সায়ান কায়ার।পূর্বনির্ধারিত ওই সমাবেশে অংশ নিতে শনিবার সড়কপথে নেদারল্যান্ড যান তিনি।ওই সমাবেশে যোগ দেয়ার আগে রটারডামে তুরস্কের কনস্যুলেট কার্যালয়ে তাকে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়।পরে পুলিশি পাহারায় জার্মান সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয় সায়ান কায়ারকে।ডাচ সরকার বলছে, নেদারল্যান্ডসের আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের আগে এ ধরনের সমাবেশের ফলে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে।তুরস্কের দুই মন্ত্রীকে নেদারল্যান্ডসে প্রবেশ করতে না দেয়ার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।তুরস্কের দুই মন্ত্রীকে প্রবেশে বাধা দিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করায় নেদারল্যান্ডসকে মূল্য দিতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইপ এরদোগান।এর প্রতিক্রিয়ায়,ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট তুর্কি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।   এরদোগানের প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে গণভোট আদায়ে নেদারল্যান্ডসের বসবাসরত তুর্কিদের মধ্যে প্রচারণা চালাতে রটারডামে এক সমাবেশে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন দুই তুর্কি মন্ত্রী।তবে তাদের প্রবেশ করতে দেয়নি ডাচ কর্তৃপক্ষ।তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাবুসোগলু উড়োজাহাজে করে নেদারল্যান্ডে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।কিন্তু তাকে সেদেশে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়।নেদারল্যান্ড সরকারের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রটারডামে তুরস্কের কনস্যুলেট ভবনের কাছে প্রায় এক হাজার তুর্কি নাগরিক বিক্ষোভ করেছেন।এসময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা।পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও ঘোড়সওয়ারি পুলিশ মোতায়েন করা হয়।এদিকে, নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম।তিনি বলেন,তুরস্কের গণভোটের আগে পরিবারবিষয়ক মন্ত্রী ফাতমা বেতুল সায়ান কায়ারকে রটারডামের সমাবেশে অংশ নিতে না দিয়ে নেদারল্যান্ডস কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে।  উল্লেখ্য,সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থার বদলে রাষ্ট্রপতি শাসিত প্রজাতন্ত্রে ফিরে যেতে চায় তুরস্ক।এ লক্ষ্যে আগামী ১৬ এপ্রিল তুরস্কে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।এর ফলে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।তুরস্কের পরিবারবিষয়ক মন্ত্রী ফাতমা বেতুল সায়ান কায়া সড়ক পথে রটারডাম পৌঁছান।কিন্তু ডাচ পুলিশ তার প্রবেশ প্রত্যাখ্যান করে তাকে জার্মান সীমান্তের দিকে নিয়ে যায়।অন্যদিকে এরদোগানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু আকাশ পথে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার প্রবেশ প্রত্যাখান করে ডাচ কর্তৃপক্ষ।এদিকে রটারডামে তুরস্কের সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে দেয় ডাচ পুলিশ।এ সময় সমবেত তুর্কিদের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি হলে সেখানে জলকামান ব্যবহার করে ডাচ পুলিশ। প্রায় ৪ লাখ তুর্কি বংশোদ্ভত লোকজন নেদারল্যান্ডসে বসবাস করে।আঙ্কারা তাদের ভোট পেতে আগ্রহী।  ডাচ সরকার বলছে নেদারল্যান্ডসের সাধারণ নির্বাচনের আগে এ ধরনের সমাবেশ উত্তেজনায় ইন্ধন জোগাবে। এদিকে বিভিন্ন দেশে সমাবেশ করা নিয়ে জার্মানসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশের সঙ্গে বিব্রতকর সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছে তুরস্কের।তুরস্ক ও ইউরোপীয় কয়েকটি দেশের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে।এর ফলে জার্মানি,নেদারল্যান্ডস,অস্ট্রিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক কূটনৈতিক সংকট।তা দিনকে দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হচ্ছে দেশগুলোর নেতাদের মধ্যে।সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।নেদারল্যান্ডসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সমর্থনে বের করা বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করেছে।রটারডাম শহরে তুরস্কের কনস্যুলেটে প্রবেশের চেষ্টা করায় তুরস্কের একজন মন্ত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।এর জবাবে আঙ্কারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।একই সঙ্গে কঠোর প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছে।তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।ডাচ্‌ রাষ্ট্রদূত ও সিনিয়র কূটনীতিকদের বাসা সিল করে দেয়া হয়েছে।নিরাপত্তার অজুহাতে এমনটা করা হয়েছে।তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কালুসোগলুকে বহনকারী বিমান নেদারল্যান্ডসে অবতরণের অনুমতি না দেয়ায় এ উত্তেজনার সূচনা।এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি ও দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।প্রবেশ প্রত্যাখাত হওয়ার পর তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নেদারল্যান্ড?সকে ফ্যাসিজমের রাজধানী হিসেবে মন্তব্য করেছেন। ডাচ-তুর্কি সম্পর্ককে নেদারল্যান্ডস বিসর্জন দিয়েছে অভিযোগ তুলে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান সতর্ক করে বলেন,এ জন্য মূল্য দিতে হবে।নেদারল্যান্ডস সমালোচনা করে এরদোগান বলেন, আমি ভেবেছিলাম নািসবাদ শেষ হয়ে গেছে,কিন্তু আমি ভুল।গত সপ্তাহে এরদোগান জার্মানির বিরুদ্ধেও নািসবাদ ও ফ্যাসিবাদের একই ধরনের শব্দ ব্যবহার করেন।তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন,গত কয়েকদিনে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস এ ইসলাম ফোবিয়ার প্রতিফলন দেখেছি।  ডাচ ও জার্মানিতে নাসাবাদ ও ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশ রয়ে গেছে এরদোগানের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে জার্মান চ্যান্সেলর অঙ্গেলা মারকেল ও নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের বক্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য বলেছেন। পশ্চিমা গণতন্ত্রবিরোধী বক্তব্য ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে তুরস্কের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের জের ধরে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী লারস লোক্কা রাসমুসেন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমের সঙ্গে বৈঠক স্থগিত করেছেন।তুরস্কে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের ক্ষমতা আরো বাড়ানো নিয়ে যে গণভোট আয়োজন করা হয়েছে তাতে ‘হ্যাঁ’ভোটের পক্ষে তুরস্ক ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেয়।মার্ক রুট বলেন, তার সরকার দ্বন্দ্ব্ব কমাতে কাজ করছে।যদি তুরস্ক দ্বন্দ্ব্ব বাড়ানো পছন্দ করে, আমরা অবশ্যই প্রতিক্রিয়া দেখাবো।কিন্তু এ সমস্যা সমাধানে আমরা সব কিছু করতে পারি।কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নেদারল্যান্ডসে বসবাসরত তুর্কিদের বিষয়ে ডাচ প্রধানমন্ত্রী বলেন,তারা ডাচ নাগরিক,তাদের তুরস্কেও ভোটের অধিকার রয়েছে।এ ঘটনায় নেদারল্যান্ডসকে ‘ব্যানানা রিপাবলিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান।এ জন্য তিনি নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে অবরোধ দেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।তিনি পশ্চিমা দেশগুলোকে ইসলাম বিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি এক র‌্যালিতে বলেন,এর আগে আমি বলেছিলাম আমি মনে করি নাৎসীবাদ শেষ হয়ে গেছে।কিন্তু আমি ভুল ভেবেছিলাম।এখনো পশ্চিমে জীবিত আছে নাৎসীবাদ।তার এ বক্তব্যের কারণে রোববার ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডাচ্‌ প্রধানমন্ত্রী রুত্তি। নিজের দেশ সম্পর্কে তিনি বলেন,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসীরা এ দেশের ওপর বোমা হামলা করেছিল।তুরস্ক যেভাবে কথা বলছে তা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।তুরস্ক যদি তার বর্তমান অবস্থান অব্যাহত রাখে তাহলে নেদারল্যান্ডস তার পদক্ষেপ সম্পর্কে বিবেচনা করবে।   ওদিকে জার্মানির মন্ত্রীরাও তুরস্কের বিরুদ্ধে কড়া জবাব দিয়েছেন।জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল বলেছেন,জার্মানিতে আয়োজিত র‌্যালিতে তুরস্কের মন্ত্রীদের যোগদানের বিরোধী নয় তার সরকার।কিন্তু তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টমাস ডি মেইজিয়েরে বলেছেন,জার্মানিতে তুরস্কের রাজনৈতিক সমাবেশের বিরোধী তিনি।বলেন,তুরস্কের রাজনৈতিক প্রচারণার কোনো ক্ষেত্র নেই জার্মানিতে।জার্মানির অর্থমন্ত্রী উলফগ্যাং শোয়েবল বলেছেন,সহযোগিতার আরো অগ্রগতির ভিত্তি ধ্বংস করে দিয়েছে তুরস্কে।খবর পাওয়া যায়,সুইডেনের রাজধানী স্কটহোমেও এরদোগানপন্থিরা রোববার র‌্যালি আয়োজন করেছিল।কিন্তু তা বাতিল করা হয়।সেখানে যোগ দেয়ার কথা ছিল তুরস্কের কৃষি মন্ত্রীর।সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে,তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জড়িত নয় সুইডেন। উল্লেখ্য,তুরস্কের বৃহৎ বিরোধী দল সিএইচপির নেতা কামাল কিলিকদারোগলু অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে আয়োজিত এ গণভোট অবশ্যই সুষ্ঠু হবে।তুরস্ক এবং নেদারল্যান্ডের মধ্যে চলমান উত্তেজনা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক জোট ভেঙে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডেভিড লিন্ডর্ফ।ইরানের প্রেস টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।গতকাল নেদারল্যান্ডের একটি বিমানবন্দরে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লুকে নামতে না দেয়ার পর দেশটির সঙ্গে আংকারা সরকারের সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিনি এ কথা বলছেন।সাংবাদিক লিন্ডর্ফ বলেন,ন্যাটো জোট ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এ কারণে যে,তুরস্ক ও নেদারল্যান্ড দু দেশই এ জোটের সদস্য এবংসদস্য দেশের মধ্যকার দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে।তুরস্ককে কেন্দ্র করে পুরো ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক মনোভাব বিরাজ করছে।এছাড়া,জার্মানি ও তুরস্কের মধ্যে দ্বন্দ্ব এবংবাগযুদ্ধ চরম আকার ধারণা করেছে।লিন্ডর্ফ বলেন,ন্যাটো জোটে এরইমধ্যে এক ধরনের অচলাবস্থা রয়েছে;এরপর তুরস্ক ও নেদারল্যান্ডের মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্ব।ফলে এটা অবশ্যই ন্যাটো সামরিক জোটের জন্য বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

 

স্কটল্যান্ড স্বাধীনতার জন্য দ্বিতীয় গণভোট চায়

রায়হান আহমেদ তপাদার
ব্রেক্সিটের মূল্য চোকাতে হতে পারে ব্রিটেনকে।এবার ব্রিটেনে থাকবে কিনা তা নিয়ে গণভোট হবে স্কটল্যান্ডে। সোমবার স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্ট্রুগান জানিয়েছেন ২০১৮ বা ২০১৯ সালের মধ্যে তিনিও গণভোট চাইবেন।ওয়েস্টমিনস্টার সংবিধানের ৩০ ধারা মেনে ব্রিটেন থেকে বিচ্ছেদ চেয়ে গণভোট চাইতে স্কটল্যান্ডের পার্লামেন্টে তিনি বিল আনবেন বলে জানিয়েছেন।সেই গণভোটে যদি স্কটল্যান্ড আলাদা হওয়ার পক্ষে মত দেয় তবে ভেঙে যাবে ব্রিটেন।এর আগেও দু’‌দু’‌টি গণভোট দেখেছে স্কটল্যান্ড।প্রথম বার ছিল স্কটল্যান্ড ব্রিটেন থেকে বেরিয়ে যাবে কিনা।স্কটল্যান্ডকে ব্রিটেন থেকে বিচ্ছেদ রুখতে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সেবার জোরদার প্রচার চালিয়েছিলেন।স্কটিশরাও ব্রিটেনে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।পরিস্থিতি পাল্টায় ব্রেক্সিট নিয়ে গণভোটে।স্কটল্যান্ড ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।কিন্তু ইংল্যান্ড ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেয়।ব্রিটিনের প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে যতই ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বার হতে চাইছেন ততই বেঁকে বসছে স্কটল্যান্ড।তারা মনে করছেন মতের বিরুদ্ধে যাচ্ছে ব্রিটেন।এই অবস্থা আটকাতে আগেভাগে ব্রিটেন থেকেই বার হতে চাইছে স্কটল্যান্ড।স্ট্রুগান বলেন,আমি নিশ্চিত করতে চাই ইইউ থেকে ব্রিটেন বার হওয়ার পরেও যেন স্কটল্যান্ডের সামনে থেকে যাওয়ার একটা বিকল্প থাকে।স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোট সমর্থন করেন ব্রিটেনে বিরোধী লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন।তিনি মনে করেন,যদি স্কটিশরা চায় তাহলে এমন গণভোট হবে চমৎকার বিষয়।লন্ডনের দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট করবিনের বরাত দিয়ে জানায়,যদি স্কটল্যান্ডে গণভোটের দাবি করে তাহলে তা হতে দেওয়া উচিত।তিনি ইঙ্গিত দেন,স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জেন যদি দ্বিতীয় গণভোটকে সামনে নিয়ে আসেন তাহলে সে উদ্যোগে ওয়েস্ট মিনস্টারের বাধা দেওয়া উচিত নয় বলে তিনি বিশ্বাস করেন। দ্বিতীয় গণভোট কি অপরিহার্য?এর জবাবে জেরেমি করবিন বলেন,যদি একটি গণভোট হয় তাহলে তো সেটা খুবই ভালো কথা।আমি মনে করি এটা হতে পারে ব্রিটেনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের অধীনেই।তবে তার এ মতের সঙ্গে মেলে না স্কটিশ লেবার নেতা কেজিয়া ডুগডালের মতের।ওদিকে জেরেমি করবিনের মন্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর পরই স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির নেত্রী ও ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জেন টুইটে বলেছেন, স্কটল্যান্ডের পক্ষে থাকার জন্য সব সময়ই জেরেমি করবিনের প্রতি আমরা সন্তুষ্ট।স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষের সবচেয়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ক্ষমতাসীন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির।সরকার গঠনের আগে এ দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের।সরকার গঠনের পর শুধু প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে নয়,রীতিমতো কোমর বেঁধে নেমেছে দলটির নেতা-কর্মীরা।হ্যা’প্রচারণায় গঠন করা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল। রাস্তায় রাস্তায় সাধারণ মানুষকে গণহারে তারা বোঝাচ্ছেন,স্বাধীনতা মানে আরো উজ্জ্বল ভবিষ্যত্।যার নিয়ন্তা একান্ত নিজেরাই।হ্যা’ভোটের প্রচারকরা বলছেন, আসন্ন গণভোট এ জীবনের একমাত্র সুযোগ।একইভাবে রাজপথে ‘না’ প্রচারণার দাপটও কম নয়।যারা এখনও দোদুল্যমান রয়েছেন,তাদের ধরে ধরে বোঝানো হচ্ছে একত্রিত থাকার নানা সুবিধার কথা।কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব  কোনো কাজে আসেনি।আর তা আবার স্বাধীনতার দাবিতে আবারও গণভোটের দাবি জানাচ্ছে স্কটল্যান্ড। ২০১৮ সালের গ্রীষ্মের আগেই এ গণভোটের আয়োজন করতে অনুমতি চাওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজিওন।তিনি বলেছেন, ব্রিটেনের ইইউ ছাড়ার প্রক্রিয়ায় স্কটল্যান্ডের স্বার্থ সংরক্ষণে এ গণভোট প্রয়োজন।খবর বিবিসির।যুক্তরাজ্য থেকে বের হয়ে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা ঘোষণা করার পক্ষে-বিপক্ষে গণভোট করা হয়েছিল ২০১৪ সালে।৫১-৪৯ শতাংশ ভোটে তখন যুক্তরাজ্যের অখণ্ডতার পক্ষ নিয়েছিল স্কটিশ জনগণ।নিকোলা স্টারজিওন মনে করেন,২০১৪ সালের অবস্থা এখন আর নেই।পুরো বিষয়টির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্টে এ বিষয়ে প্রস্তাব তোলা হবে এবং গণভোট প্রশ্নে সেকশন-৩০ এর ভিত্তিতে আদেশ প্রার্থনা করা হবে।ওই আদেশে স্বাধীনতার দাবিতে আইনগতভাবে বাধ্যবাধকতামূলক গণভোটের অনুমতির কথা বলা হয়েছে।ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে নতুন গণভোটের অনুমতি দেবেন কিনা-সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।শনিবার বিরোধী লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন,স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোট সমর্থন করেন।তিনি মনে করেন, যদি স্কটিশরা চায় তাহলে এমন গণভোট হবে চমৎকার বিষয়।জেরেমি বলেন,স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজিওন যদি দ্বিতীয় গণভোটকে সামনে নিয়ে আসেন,তাহলে সে উদ্যোগে ওয়েস্ট মিনস্টারের বাধা দেয়া উচিত হবে না।বিশ্লেষকরা বলছেন,ব্রেক্সিট গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যে ভাঙন শুরু হয়েছে,তার ঢেউ গিয়ে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে খোদ যুক্তরাজ্যের মানচিত্রে।স্কটল্যান্ডের ৬২ শতাংশ মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পক্ষে রায় দিয়েছিল।আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল ৩৮ শতাংশ। উত্তর আয়ারল্যান্ডে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল ইইউ’র পক্ষে।কিন্তু ইংল্যান্ডের বাকি অংশ এবং ওয়েলস চেয়েছিল বিচ্ছেদ। ভোটের হিসাবে জিতে যায় ব্রেক্সিট পক্ষ।আর তাতেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনকে বের করে নিতে প্রক্রিয়া শুরু করতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মেকে।স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজিওন নিশ্চিত করেছেন, যুক্তরাজ্য থেকে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার জন্য দ্বিতীয় গণভোটের অনুমতি চাইবেন।তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের সিদ্ধান্তে স্কটিশ জনগণের স্বার্থরক্ষায় এই গণভোট আয়োজন করা প্রয়োজন।২০১৮ সালের শরৎ ও বসন্তের মাঝামাঝি সময়ে এই গণভোট আয়োজন করতে চান তিনি।তিনি বলেন,পার্লামেন্টে গণভোট সংশ্লিষ্ট সেকশন ৩০ অর্ডার জারি করার অনুমতি চাইবেন তিনি।স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার জন্য নতুন গণভোট আয়োজনের আইনগত ভিত্তির জন্য নির্দেশটি জারি করা প্রয়োজন।  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এতদিন পর্যন্ত এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাচ্ছিলেন যে স্কটল্যান্ডের গণভোট আয়োজনের অনুমতি দেয়া হবে কী না।স্টারজিওনের ঘোষণার প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, এটা পরিষ্কার যে স্কটল্যান্ডের মানুষ দ্বিতীয় গণভোট চায় না।দুই বছরেরও কম সময় আগে স্কটল্যান্ডের মানুষ যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছে যে ভোটকে এক প্রজন্মে একবার ভোট বলে অভিহিত করেছিল স্কটিশ সরকার।এদিকে আরেকটি গণভোট আয়োজন করলে বিভেদ সৃষ্টি হবে এবং সবচেয়ে সংকটময় সময়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করবে বলে অনেকের ধারণা।কিন্তু স্টারজিওন এডিনবার্গে বুট হাউসে দেয়া বক্তব্যে বলেন,স্কটল্যান্ডের মানুষকে হার্ড ব্রেক্সিট কিংবা স্বাধীনতা যেকোনো একটি বেছে নেয়ার সুযোগ দিতে হবে।স্কটিশ সরকারের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য একক ইউরোপীয় বাজার ত্যাগ করলেও স্কটল্যান্ড এর সদস্য থাকবে। থেরেসা মে বলেছেন, স্কটল্যান্ড এই সুযোগ পাবে।স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি কয়েক বছর আগে প্রথম যখন স্বাধীনতার প্রশ্ন তোলে, তখন মনে হয়েছিল বিষয়টি সুদূর পরাহত।কিন্তু নানা প্রচারণার কৌশলে এখন মনে হচ্ছে,স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা সময়ের ব্যাপার মাত্র।এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর আইন করে ভোটারদের বয়স ১৭ থেকে কমিয়ে ১৬ করেছে রাজ্য সরকার। এভাবে যত দিন গড়াচ্ছে, ততই যেন বাড়ছে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি।এক সপ্তাহ আগে অবজারভার পত্রিকার এক জনমত জরিপে দেখা গিয়েছিল ৫৩ শতাংশ স্কটিশ স্বাধীনতা চায় না।আর তাইতো কোনো পরিবর্তন আসেনি বিধায় তারা আবার গণভোটে যেতে চায়। ২০১৪ সালে গণভোটে স্কটল্যান্ডের ৪৫ ভাগ মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিয়েছিল।দেশটির ১ হাজার ৬০০ প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ওই জরিপ চালানো হয়।এদিকে,একই বিষয়ে ছোট পরিসরে জরিপ চালিয়ে সানডে টাইমস জানিয়েছে,স্কটল্যান্ডের ৫২ ভাগ ভোটার ব্রিটেন থেকে স্বাধীন হয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।এদিকে, ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো স্কটল্যান্ডও সদস্য হওয়ার আবেদন জানাতে পারবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।তবে সমস্যা হলো, স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা আন্দোলনের দিকে চেয়ে আছে স্পেনের কাতালোনিয়া প্রদেশ, কানাডার কুইবেক প্রদেশ এবং ফরাসি ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ কোরসিকার বাসিন্দারা। স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার বিতর্ক তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।১৭০৭ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়ালেসের সাথে একীভূত হয় স্কটল্যান্ড রাজ্য।এরপর কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে আর উন্নত ভবিষ্যতের লোভ দেখিয়ে স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারণা চালাতে থাকে স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি।২০১১ সালের মে মাসের পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে চমক দেখায় এই দল।অবশেষে ২০১২ সালের অক্টোবরে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের অনুমতি দেয় ব্রিটিশ সরকার।স্কটল্যান্ডের শতকরা ৫৯ ভাগ মানুষ এখন বৃটেন থেকে স্বাধীন হতে চায়। নতুন এক জনমত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেন বের হয়ে যাওয়ার দু দিনের মাথায় এ খবর এল।বৃটেনের সংবাদপত্র সানডে পোস্ট বলছে, বৃটেন থেকে স্বাধীন হওয়ার জন্য শতকরা ৫৯ ভাগ মানুষের এই সমর্থন নজিরবিহীন ঘটনা।

 

রাজনগরে মাদকসহ কলেজ ছাত্রী ও তার মা গ্রেফতার ২১ বোতল ফেন্সিডিল ১কেজি গাঁজা ও ৫ বোতল ভারতীয় হুইস্কি উদ্ধার


মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের রাজনগরের ফেন্সিাডল ও গাঁজাসহ কলেজ ছাত্রী ও তার মাকে গ্রেফতার করেছে মৌলভীবাজার ডিবি পুলিশ।
বুধবার (১৫ মার্চ) বিকালে উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের মাথিউড়া চা বাগান থেকে ২১ বোতল ফেন্সিডিল, ১কেজি গাঁজা ও ৫ বোতল ভারতীয় হুইস্কিসহ তাদের আটক করে মৌলভীবাজার ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এদিকে ওই মেয়েকে গ্রেফতার করায় স্থানীয় ভাবে অসন্তুষ দেখা দিয়েছে।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকালে উপজেলার মাথিউড়া চা বাগানে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মাদক ব্যবসায়ী গোপাল রাজনভরের বাড়িতে মৌলভীবাজার ডিবি পুলিশের এসআই নিতাই রায়, এসআই মোমিন ও এসআই সুকমল ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল অভিযান চালায়। গোপাল রাজভরের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ২১ বোতল ফেন্সিডিল, ১কেজি গাঁজা ও ৫ বোতল ভারতীয় হুইস্কি উদ্ধার করে। এসময় ঘরে থাকা গোপাল রাজভরের মা বিদ্যা রাজভর (৬০) ও তার বোন সাবিত্রি রাজভরকে (১৯) আটক করে। পরে তাদের মৌলভীবাজার ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এঘটনায় ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে রাজনগর থানায় মামলা করেছে।
মাথিউড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি সুগ্রিম গৌড় বলেন, গোপাল রাজভর মাদক ব্যবসায়ী ঠিক। কিন্ত তার বোন এতে জড়িত নয়। সে কলেজ শিক্ষার্থী। এতে বাগানের চা শ্রমিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার দেখা দিয়েছে। সাবিত্রি রাজভরের বিয়ে আগামী বৈশাখ মাসে ধার্য করা হয়েছে।
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক বলেন, তাদেরকে ডিবি পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। রাজনগর থানায় এখনো (সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা) হস্তান্তর করেনি।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »