Category: আন্তর্জাতিক

সাভারের আশুলিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও কুয়েতের ৫৬ তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত


মোঃ গোলাম মোস্তফা, ঢাকা জেলা প্রতিনিধি।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও কুয়েতের ৫৬ তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে সাভারের আশুলিয়ায় কুয়েত থেকে পরিচালিত সোসাইটি অফ সোসাল রিফম হাইস্কুলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার দুপুরে আশুলিয়ার গৌরিপুর এলাকায় স্কুল মাঠে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।মাতৃভাষা দিবস ও কুয়েতের ৫৬ তম জাতীয় দিবসের আলোচনা সভায় এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত কুয়েতের রাষ্ট্রদুত আদেল মোহাম্মদ হায়াৎ।আলোচনা সভায় এসময় কুয়েতের রাষ্ট্রদুত বলেন বর্তমান বিশে^ সবাই কুটনৈতিক অর্থনৈতিক সর্ম্পকের কথা বলে এবং উন্নতির কথা বলে কিন্তু সবাই মানবতার কথা ভুলে যায়। কিন্তু কুয়েত সবসময় সবদেশে মানবতার কল্যাণে কাজ করে।পরে তিনি কুয়েতের ৫৬ তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে কেট কাটেন ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরুস্কার বিতরণ করেন।
আলোচনা সভায় এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাব-উদ্দিন মাদবর, সোসাইটি অফ সোসাল রিফম হাইস্কুলের মহাপরিচালক ড.সাঈদ সাব্বিরসহ আরো অনেকে।

সৌদিআরব বাংলাদেশী চিকিৎসকদের মিলন মেলা

মোহম্মদ আলী রাসেদ, সৌদিআরব প্রতিনিধি  :
সৌদি আরবের অন্যতম বানিজ্যিক রাজধানী জেদ্দা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন  Lafontaine Obhur Resort এ হয়ে গেল সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশী ডাক্তারদের ২য় ও সবচেয়ে বড় মিলন মেলা। ” BD Doctors in KSA” (Bangladeshi Doctors in the Kingdom of Saudi Arabia) কর্তৃক আয়োজিত এ মিলন মেলায় সৌদি আরবের অধিকাংশ প্রাদেশিক শহর থেকে ডাক্তাররা অংশগ্রহণ করেন।  ১৬, ১৭, ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালের এই অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কুরান তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানে ছিল বিভিন্ন ( ছোট ও বড়দের)  খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রেফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

১৭ ই ফেব্রুয়ারি শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সৌদিআরবের নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ্। এই সময় তিনি উদ্বোধন করেন ডাক্তারদের প্রথম ম্যাগাজিন ” মরু নক্ষত্র ” এবং  BD Doctors in KSA এর নিজস্ব ওয়েব পেজ।
ডাক্তার আজাদের সন্চালনায় এই সময় বক্তব্য রাখেন  BD Doctors in KSA” এর এডমিন ডাক্তার মুসাব্বির হোসাইন এবং ডাক্তার আব্দুল্লাহ। এই সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন  ডাক্তার কামরুল,  ডাক্তার সামিউল হক,  ডাক্তার ইউসুফ ভূইঁয়া, ডাক্তার সাহাবুদ্দিন প্রমুখ।ডাক্তার আজাদ ও ডাক্তার মুশফিকার যৌথ  মন্চ পরিচালনা ও ডাক্তার কামরুলের উপস্থাপনায়  মেডিকেল কলেজ ভিত্তিক পরিচিতি পর্ব ছিল চোখ জুড়ানো।তাদের উপস্থাপনা ও করতালিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এ মিলন মেলায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে। এই সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রিয়াদ থেকে ডাক্তার মোমিন, ডাক্তার মতিন, মক্কা থেকে ডাক্তার হাদী, মদিনা থেকে ডাক্তার ইকবাল, ডাক্তার এনাম বিজু ও জিজান থেকে ডাক্তার মামুন । এই সময় ডাক্তার নাজমুল মজুমদার সোহেল ও ডাক্তার সেতুর যৌথ পরিচালনায় সব ডাক্তার ও তাদের পরিবারের বালুকাবেলা ভিডিও পরিবেশন করে।  শিশুদের গল্প, কবিতা, ছড়া গান, নিত্য ও ফ্যাশন শোর মত পরিবেশনা গভীর রাতেও সবার ঘুম কেড়ে নেয়। শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

আন্তর্জাতিক চাপে রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার সামরিক অভিযান বন্ধ করেছে

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে চার মাস ধরে চলা সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার। বুধবার রাতে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কাউন্সেলর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে মিয়ানমারের নতুন নিয়োগ পাওয়া নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাং টুনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘উত্তর রাখাইনের পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল হয়েছে। সামরিক বাহিনীর শুরু করা ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শেষ হয়েছে, সান্ধ্য আইন শিথিল করা হয়েছে এবং শান্তি বজায় রাখার জন্য সেখানে শুধু পুলিশ উপস্থিত আছে।’মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট দপ্তরের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ও উত্তর রাখাইনে সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে, কিন্তু ওই এলাকার ‘শান্তি ও নিরাপত্তা’ বজায় রাখার স্বার্থে সামরিক বাহিনী অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে তারা। এই তথ্যের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।

৯ অক্টোবর বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলায় নয় পুলিশ নিহত হওয়ার পর এই অভিযান শুরু করা হয়েছিল। এরপর থেকে প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বলে জাতিসংঘের হিসাব।
সামরিক অভিযান চলার সময় সহিংসতার খবর প্রকাশ পেলে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঢেউ বয়ে যায়। বলা হয়, উত্তর রাখাইনের মুসলিম সংখ্যালঘুদের সহায়তার জন্য শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী মিয়ানমারের নেত্রী অং সাং সু চি তেমন কিছুই করেননি।
রাখাইনে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ, রোহিঙ্গাদের দলগত ধর্ষণসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ উঠলেও সব অস্বীকার করে সু চির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমার সরকার। বিদ্রোহ দমনে আইন মেনেই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে দাবি করে তারা।
কিন্তু জাতিসংঘ একটি মন্তব্যের পর বিষয়টি আমলে নিতে বাধ্য হন সু চি। চার মাসের এ অভিযানে সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধ ও জাতিগত নির্মূলের মতো ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে অভিযোগ করে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের অভিযোগ তদন্ত করে দেখার প্রতিশ্রুতি দেন সু চি।
এরপর অভিযোগগুলো তদন্ত করতে দেশটির সামরিক বাহিনী ও পুলিশ দুটি পৃথক তদন্ত দল গঠন করে।
এর প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাং টুন জাতিসংঘের প্রতিনিধিগণ ও একদল কূটনীতিকের উপস্থিতিতে বলেছেন, ‘ফৌজদারি অপরাধ, মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অজুহাত থাকতে পারে না। যেখানেই লঙ্ঘনের পরিষ্কার প্রমাণ পাওয়া যাবে, আমরা ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রস্তুত, এটি আমরা দেখিয়েছি।’
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে নিযুক্ত জাতিসংঘের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, সম্ভবত উত্তর রাখাইনের ওই সামরিক অভিযানে এক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘে দু’দিনব্যাপী আইপিইউ’র পার্লামেন্টারি হিয়ারিং সমাপ্ত

নিউইয়র্ক, ১৫ ফেব্রুয়ারি :  নীল পৃথিবী : এজেন্ডা ২০৩০ এর প্রেক্ষিতে মানবকল্যাণ নিশ্চিত করতে সমুদ্র সংরক্ষণ ও ধরিত্রী সুরক্ষা (অ ডড়ৎষফ ড়ভ ইষঁব: চৎবংবৎারহম ঃযব ঙপবধহং, ঝধভবমঁধৎফরহম ঃযব চষধহবঃ, ঊহংঁৎরহম ঐঁসধহ ডবষষ-নবরহম রহ ঃযব ঈড়হঃবীঃ ড়ভ ঃযব ২০৩০ অমবহফধ)’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া দু’দিনব্যাপী আইপিইউ পার্লামেন্টারি হিয়ারিং ১৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে।
শেষ দিনের হিয়ারিং-এ সমুদ্র ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক ইন্টারভেশনে বাংলাদেশ ডেলিগেশনের প্রধান সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জাতিসংঘ সমুদ্র আইনসহ সমুদ্র বিষয়ক বিদ্যমান অন্যান্য আইনের বাস্তবায়নের বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। এ সকল আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে ঘাটতি রয়েছে তা উল্লেখ করে তিনি এই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়ে বিজ্ঞ প্যানেলিস্টদের কাছে প্রশ্ন রাখেন।
এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশ ডেলিগেশনের পক্ষে সংসদ সদস্য সাইমুম সারোয়ার কমল বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু সংক্রান্ত প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরকারী প্রথম সারির দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশই প্রথম দেশ যারা নিজস্ব তহবিল থেকে ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে।
সারোয়ার কমল আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি জনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সম্ভাব্য অভিগমন জনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন। এ সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্য উপায় কি হতে পারে তা তিনি বিজ্ঞ প্যানেলিস্টদের কাছে জানতে চান।
সমাপনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন আইপিইউ’র প্রেসিডেন্ট সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট পিটার থমসন, আইপিইউ’র মহাসচিব মার্টিন চুনগং।
আইপিইউ’র সভাপতি সমাপনী বক্তৃতায় বলেন, বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজের বাস্তবতায় সংসদ সদস্যগণ শুধু নিজ দেশের সংসদ বা আইন নিয়েই সীমাবদ্ধ নয় বরং বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানেও সম্মিলিত ভূমিকা রেখে চলছেন যা সমুদ্রসহ অন্যান্য এসডিজি বাস্তবায়নকে আরো এগিয়ে নিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি এ বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য আইপিইউ’র সম্মেলনে যোগদানের জন্য সংসদ সদস্যগণকে আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, বিশ্বের ৫৫টি দেশের ১৭৯ জন সংসদ সদস্যসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং ১৯টি এনজিও’র প্রতিনিধিগণ এই পার্লামেন্টারি হেয়ারিং এ যোগ দিয়েছেন।

স্পিকারের সাথে অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

অন্ধ্র প্রদেশ (ভারত), ১০ ফেব্রুয়ারি:স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের অমরাবতীতে অনুষ্ঠিতব্য ‘ন্যাশনাল উইমেন’স পার্লামেন্ট (এনডব্লিউপি)’ এ যোগদানের উদ্দেশ্যে বর্তমানে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে অবস্থান করছেন।সম্মেলন শুরুর পূর্বে আজ অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নারা চন্দ্রবাবু নাইডু তাজ গ্রেটওয়ে হোটেল কক্ষে স্পিকারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তাঁরা বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্কের বিষয় স্মরণ করেন।ভারতের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দু’দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।স্পিকার বলেন, ভারতের ‘ন্যাশনাল উইমেনস পার্লামেন্টের’ এ উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর সার্বিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। তিনি এ বিষয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

ব্রিটেনে নতুন আইন অভিবাসীদের জন্য নতুন বিপদ

রায়হান আহমেদ তপাদার   বৃটেনে উচ্চশিক্ষার্থে আসা বাংলাদেশি ছাত্ররা ইমিগ্রেশনের পরিবর্তিত আইনে বিপাকে পড়েছে।অনেক ছাত্রই নিরুপায় হয়ে বৃটেন ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।কেউ দেশে ফিরে যাচ্ছে।আবার কেউ পাড়ি জমাচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলোতে।বৃটেনে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর নানা কড়াকড়ি আরোপের নতুন এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে,ওয়ার্ক ভিসার ওপর কড়াকড়ি এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ১৪০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি তহবিল গঠন।বৃটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাড ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন,যে সব চাকরি বৃটিশ জনগণের পাওয়া উচিত সেগুলো যেন বিদেশি কর্মীরা না পায়।পরে বিষয়টি পষ্ট করে জানানো হয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কি অনুপাতে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দিচ্ছে তা প্রকাশের একটি বাধ্যবাধকতা যোগ করা হবে।এ খবর দিয়েছে গার্ডিয়ান। ব্রেক্সিট চূড়ান্ত হওয়ার আগে অভিবাসন কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা হিসেবে নতুন এসব কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দেয়া হয়েছে বলে খবরে বলা হয়।প্রতি বছর বৃটেনে আসা ৬ লাখ অভিবাসীদের মধ্যে ১ লাখ ৬৭ হাজার ইউরোপের বাইরের দেশগুলো থেকে আসে।রাড বলেন,তার মন্ত্রণালয় দ্রুতই নতুন স্টুডেন্ট ইমিগ্রেশন সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করবে।একইসঙ্গে আমলে নেয়া হবে শ্রম বাজার কড়াকড়ি করার বিষয়টি। নতুন ব্যবস্থার অধীনে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে অনুমোদন পেতে হবে। অ্যাম্বার রাড বলেন,বৃটিশ জনগণ যে কাজ করতে সক্ষম সে কাজগুলো যেন বিদেশি শ্রমিকরা না পায় সেটা নিশ্চিত করতে এ ব্যবস্থা।তিনি আরো ঘোষণা দেন, এ বছরে আইনের অধীনে বাধ্যতামূলক অভিবাসন অবস্থা যাচাই করার বিষয়টি কার্যকর হবে ডিসেম্বর মাস থেকে।গত ৪ ডিসেম্বর ডেম লুইস ক্যাসির ব্রিটেনের অভিবাসীদের ওপর রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়েছে।  প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সে দেশে অভিবাসীদের বিশেষ করে মুসলিম অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গৃহহীনদের জন্য চ্যারিটির সাবেক কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি কমিটি করেন।গত এক বছর এ কমিটি কাজ করেছে এই রিপোর্ট তৈরি করতে।ব্রিটেনের বহুল প্রচারিত পত্রিকা ডেইলি মেইল এই রিপোর্টকে ‘বোম্বশেল’ (কামানের গোলা) ও শকিং (আতঙ্কজনক, আপত্তিকর) বলে অভিহিত করে এক বিস্তারিত প্রতিবেদন ছাপিয়েছে।এই প্রতিবেদনে রিপোর্টটিকে আপত্তিকর বলা হয়েছে, রিপোর্টে প্রদর্শিত অভিবাসীদের বাড়িঘরের ছবি বা এলাকা আপত্তিকর তা বলা হয়নি।তবে তথ্যগুলো সত্যিই চিন্তার বিষয়।যেমন ২০১০ ও ২০১৪ মধ্যে ১১ হাজার তথাকথিত ‘অনার ক্রাইম’ (সম্মানের অপরাধ যথা পিতামাতার অগোচরে বা বিনা অনুমতিতে কোনো বিয়ে বা কাজ করলে,তার জন্য শাস্তিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা)-এর ঘটনা।মুসলিম মতে অনুষ্ঠিত এক লাখ বিয়েকে ব্রিটিশ আইনে অবৈধ ঘোষণা করা।ফলে এমন বিবাহিত স্ত্রীরা ব্রিটিশ আইনের কোনো সহায়তা লাভের অধিকারী হবেন না।আবার ব্রিটেনে বসবাসকারী বাংলাদেশী ও পাকিস্তানি মহিলাদের ৫৭.২ শতাংশ চাকরিবঞ্চিত। তবে অন্যান্য সংখ্যালঘু যেমন গ্রিক,স্লোভাকিয়ান বা পূর্ব ইউরোপের গোষ্ঠীভুক্তরা ৩৮.৫ শতাংশ চাকরিবঞ্চিত।শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে এর সংখ্যা ২৫ শতাংশ।নতুন নীতি অভিবাসীদের জন্য বেশ খানিকটা কঠিন হয়ে দাড়াবে। যারা অবৈধ অভিবাসী তাদের জন্য বাধ্যতামূলক জেল। যারা অবৈধ ব্যবসা চালাবে তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া হবে।

যারা অবৈধ অভিবাসীদের চাকরি দেবে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বন্ধ করে দেয়া হবে এবং জরিমানা করা হবে।আইন ভঙ্গকারীদের জোর করে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।নতুন এই নীতি ব্রিটেনকে অভিবাসীদের জন্য অসুখী দেশে পরিণত করবে বলে আমার ধারণা।  বিশেষ করে যারা অবৈধ অভিবাসী এতদিন আইনের ফাঁক ফোকর ব্যবহার করে এখানে বসবাস করছে তাদের সময় শেষ।যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে তাদেরকেও জেলে পাঠানো হবে এবং দেশে ফেরত পাঠানো হবে।বৃটিশ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ (ইউকেবিএ) অভিবাসনের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ,স্টুডেন্ট ভিসায় কাজের সুযোগ বন্ধ,ওয়ার্ক পারমিট হ্রাস এবং ভিসা জটিলতার কারণে লন্ডনে বিভিন্ন বিষয়ে পড়তে আসা ও পড়ালেখা শেষে বিভিন্ন পেশায় কর্মরতাদেরও একপ্রকার বাধ্য হয়েই বৃটেন ছাড়তে হচ্ছে।বাড়িভাড়া,যাতায়াতসহ জীবনযাত্রার ব্যয় অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় এবং আয় কমে যাওয়ায় ছাত্রদের এখন সেখানে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।রিপোর্টটির মূল বক্তব্য হচ্ছে ব্রিটেনে অভিবাসী সমস্যা এখন ব্যাপক রূপ ধারণ করেছে।তাই এখন তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।অভিবাসী এলাকার ওপর কড়া নজর রাখতে হবে এবং প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে নতুন অভিবাসীদের এক প্রতিজ্ঞাপত্র স্বাক্ষর করতে হবে। এ প্রতিজ্ঞাপত্রে ঘোষণা থাকবে অভিবাসীরা ব্রিটিশ মূল্যবোধ পুরোপুরি ধারণ করবে।এর মাঝে থাকবে ব্রিটিশ কৃষ্টি-সংস্কৃতি জীবনব্যবস্থা,ধর্মীয় অনুশাসন।ট্রাফালগার বা ওয়াটার লুর যুদ্ধ কিংবা জেমসের বাইবেল সংক্রান্তও ধারণা রাখতে হবে।নতুন এই আইনে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বাংলাদেশ থেকে বিবাহ সূত্রে আগত অভিবাসীরা।পাশাপাশি যারা এ দেশে বহুদিন ধরে আছেন অথচ বাংলাদেশি পাসপোর্ট রয়েছে।এমনকি যারা বৃটিশ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেননি কিংবা অবহেলায় এতোদিন করতে পারেননি।তারাই এই বিপদে পড়বেন। এমনও অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিরা আছেন যারা ১০-১৫ কিংবা ২০ বছর ধরে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বসে আছেন।অবহেলা ও খামখেয়ালিপনায় বৃটিশ পাসপোর্ট আবেদন করেননি।তারাই এখন সবচেয়ে বড় বিপদের মধ্যে পড়েছেন।নতুন এই আইনের ফলে বর্তমানে কমিউনিটিতে লাল পাসপোর্ট বা বৃটিশ পাসপোর্ট আবেদনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে,এই আইনের কারণে ইউরোপের বাইরের অভিবাসন আবেদন ৪৫% শতাংশ কমিয়ে আনবে।মনে রাখতে হবে যে, অভিবাসনের সিংহ ভাগ কিন্তু ইউরোপীয়।মাত্র ১৮% শতাংশ ইউরোপের বাইরের।এটাও লক্ষণীয় যে এই পরিবর্তন কেবল ইউরোপের বাহিরের লোকজনের ব্যাপারে প্রযোজ্য হবে, অর্থাৎ ইউরোপের কোন দেশে স্বামী/স্ত্রী আনতে প্রয়োগ করা হবে না।এই আইন কম আয়ের পরিবারগুলোকে বিচ্ছিন্ন রাখবে এবং তাদের জীবনে অনেক রকমের অশান্তি বয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।রিপোর্টে কয়েকটি তথ্য বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাঝে ২০০১-২০১১ মধ্যে ব্রিটেনের জনসংখ্যা বেড়েছে ৪১ লাখ এবং সাদা ব্রিটিশের সংখ্যা কমেছে চার লাখ। এ সময়ে মুসলমানদের সংখ্যা বেড়েছে ১৬ লাখ থেকে ২৯ লাখ। ৫০ শতাংশ জাতিগত সংখ্যালঘুরা (এথনিক) মাত্র লন্ডন, বার্মিংহাম ও ম্যানচেস্টার এই তিনটি শহরে বাস করে। এ সময়ে যে এলাকায় ৪০ শতাংশের বেশি পাকিস্তানি বাস করে সেগুলোর সংখ্যা ১২ থেকে বেড়ে ২৪ হয়েছে। বাংলাদেশীদের পাঁচজনের মধ্যে দু’জন কাজ করে রেস্টুরেন্টে। যেসব ওয়ার্ডে ৪০ শতাংশেরও বেশি মুসলমান বাস করে সেগুলোর সংখ্যা ৩৬ থেকে বেড়ে ৬৯ হয়েছে।৫১১টি স্কুলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশী ছাত্র ৫০ শতাংশ। ১৯ শতাংশ প্রাইমারি স্কুলের এবং ১৫ শতাংশ মাধ্যমিক স্কুলে ইংরেজি দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে পাঠ্য। ২৫ শতাংশ পাকিস্তানি ড্রাইভার হিসেবে কাজ করে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মানুষেরা বেশির ভাগ ‘বঞ্চিত’ এলাকায় বাস করে।বঞ্চিত অর্থ হচ্ছে যেখানে সরকারি সুযোগ-সুবিধার অভাব।দ্ইু লাখ ৫০ হাজার ছেলেমেয়ে দ্ইু হাজার মাদরাসায় পড়াশোনা করে। ৮৯ শতাংশ মানুষ কোহেসিভÑ অর্থাৎ এরা একে অন্যের সাথে যোগাযোগ রাখে। ৪৬ শতাংশ ব্রিটিশ মুসলিম মনে করে তারা পক্ষপাতের শিকার। বৃটিশ লাল পাসপোর্ট পেতে হলে অভিবাসীদের জানতে হবে বৃটেনের ইতিহাস ঐতিহ্য,রাজনীতি,সাহিত্য, ধর্ম ও সংস্কৃতির নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জানতে হবে বৃটেনে অতীতে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার বিবরণ।মুখস্থ করতে হবে জাতীয় সঙ্গীতের প্রথম স্তবক গড সেইভ দ্যা কুইন। জানতে হবে উইলিয়াম সেক্সপিয়ার থেকে নিয়ে বায়রন ও বিটলস সম্পর্কে।তবে ডেম ক্যাসি একটি সত্য ধারণা পোষণ করেছেন।তিনি বলেছেন,জিসিএসইতে পাকিস্তানি,বাংলাদেশী,চীনা,ভারতীয় ও আইরিশ ছেলেরা শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ ছেলেদের চেয়ে ভালো করে।তবে শেতাঙ্গ জিপসি ও রোমানেরা এ পরীক্ষায় সবচেয়ে খারাপ করে।ডেম ক্যাসির আপত্তি মসজিদ এবং শরিয়াহ আইনে। তার মতে,মসজিদ এবংইসলামিক সংস্থাগুলো মুসিলম মহিলা ও বালিকাদের তাদের ব্যবহার সম্পর্কে পশ্চাৎমুখী উপদেশ দিয়ে থাকে।যেমন কোনো ‘মহিলা স্বামীকে না বলে বাইরে যেতে পারবে না, কোনো মহিলা পাহারা ছাড়া চলাফেরা করা উচিত নয়, কোনো জিন পরতে পারবে না।একটু আলোচনা করলেই দেখা যাবে, ব্রিটেনে ব্রিটিশরাই কি এমনটি করে না? কোন ব্রিটিশ নারী তার স্বামীকে কয়েকবার ‘বাই’ না বলে বাইরে যায়? ব্রিটেনের রাস্তাগুলো এখন পুরুষদের জন্যই একা পথ চলা বিপজ্জনক।রাস্তায় নিগৃহীত হওয়া স্বাভাবিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীকেও তারা জানায় না।তা হলে অনুমান করা যায় মহিলাদের অবস্থা কেমন? যেহেতু ইসলামে নারী-পুরুষের অবৈধ সম্পর্কের প্রতি কড়া নির্দেশ আছে, তাই এ বক্তব্য স্বাভাবিক।এটা সত্য,এই অবৈধ সম্পর্কের কারণে পশ্চিমা বিশ্বে পারিবারিক সম্পর্ক অত্যন্ত শিথিল এবং পরিবারগুলো ভেঙে যাচ্ছে।ভয়াবহ বিষয় হলো প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষতার নামে তৃতীয় বিশ্বে পরিবার ভেঙে যাচ্ছে এবং যৌথ পরিবার বিষয়টি হারিয়ে যাচ্ছে।ছোট্ট একটি ঘটনা এখানে উল্লেখ না করেই পারি না।প্যারিসে পাঠাভ্যাসকালে,আমাদের ট্রেনিং সংস্থার এক মহিলা সেক্রেটারির দেয়া লাঞ্চ পার্টিতে তার দেয়া বক্তব্যে আমাকে আবাক হতে দেখে তিনি জিজ্ঞেস করলেন,‘তুমি অবাক হচ্ছ কেন?’ তিনি বলছিলেন, তার ভালো লাগছে এ জন্য যে, তিনি তার পিতাকে একটা ‘গেট ওয়েল কার্ড’ পাঠাতে পেরেছেন।  পশ্চিমা দেশে নিকটাত্মীয় অসুস্থ হলে ‘গেট ওয়েল’ পাঠানো একটা রেওয়াজ।জিজ্ঞেস করলাম, তার পিতা কোন হাসপাতালে? আমার অবাক হওয়া তার জবাব শুনে।কারণ যে হাসপাতালের নাম বললেন, তা আমাদের রেস্টুরেন্টের রাস্তার কয়েক রাস্তা পরে। তিনি বাবাকে হাসপাতালে যাওয়ার সময় পাননি বলে এই কার্ড পাঠিয়েছেন।যখন বললাম,এমনটি আমরা ভাবতেই পারি না।কেন,জানতে চাইলেন। বললাম,বাবা-মা অসুস্থ হলে সব কাজের আগে তাদের অসুস্থতার বিষয়।আমরা গরিব।তাই হাসপাতালে অসুস্থ মা-বাবার শয্যার পাশে বসে সৃষ্টিকর্তার নাম নিই আর ওষুধের চেষ্টা করি। তখন ফ্রাঁসোয়া বললেন,‘তোমাদের কালচার এবং আমরা পশ্চিমাদের সম্পদ যদি এক হতো,তাহলে বুঝি বিশ্বটাই এক স্বর্গ হয়ে যেত।’ফ্রাঁসোয়ার এই বক্তব্য অমলিন রয়েছে মনে।আসলে ডেম ক্যাসি অত্যন্ত ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে মুসলিম,তাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে দেখার চেষ্টায় পশ্চিমা শক্তির অন্যায় আচরণগুলোর দিকে দৃকপাত করতে পারেননি।তবে প্রশ্ন উঠতে পারে, অভিবাসী নিয়ে ব্রিটেনের এই উদ্বেগ এখন কেন? সে দেশে বেশির ভাগ অভিবাসী গেছে কমনওয়েলথের নাগরিক হিসেবে।কমনওয়েলথ গঠিত হয়েছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্য পতনের পর তাদের অধিকৃত এবংশোষিত দেশগুলো নিয়ে।ব্রিটেনই নিয়ম করেছিল কমনওয়েলথের নাগরিকেরা অবাধে সে দেশে যেতে পারবে।তারা থাকতে পারবে।তবে নাগরিক হতে চাইলে তাদের শপথবাক্য পাঠ করতে হতো।সাম্রাজ্যবাদের শোষণে রিক্ত এসব দেশ থেকে প্রচুর মানুষ নতুন ও সুন্দর জীবনের আশায় ইংল্যান্ডে পাড়ি জমায়।তবে সেখানে তাদের জীবনের তেমন পরিবর্তন ঘটেনি।কারণ তাদের সে দেশের প্রধান জীবনব্যবস্থার অঙ্গ হতে দেয়া হয়নি। তাদের তাই পৃথকভাবে জীবন যাপনে অভ্যস্ত হতে হয়।তবে এর প্রধান আকর্ষণ ছিল নিরাপত্তা।এই পৃথক ব্যবস্থায় ব্রিটেনও বাধা দেয়নি, বরং উৎসাহ জুগিয়েছে।ডেম ক্যাসিও সে কথা স্বীকার করেছেন। ডেম ক্যাসি ছোট ছোট দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন এই অভিবাসীদের প্রকাশভঙ্গির।যেমন ম্যানচেস্টারের রাস্তায় ৫০টি ভাষার সাইনবোর্ড পাওয়া যাবে।’ময়ূরকে খাবার দিও না’সাইন বোর্ডটি কয়েকটি ভাষায় দেখা যায়।আবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রগুলোর টাচ স্ক্রিনে গ্রিক,ফ্রেঞ্চ,আলবেনিয়ান,হিন্দি,চাইনিজ,টারকিশ,স্পেনিশ,উর্দু ও পোলিশ ভাষায় পাওয়া যায়।অবশ্য বাংলার কথা এখানে নেই।অর্থাৎ অধিবাসীদের তাদের এলাকা ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।কারণ তারা তাদের এলাকা স্বয়ংসম্পূর্ণ হিসেবে গড়ে তুলেছেন।অথচ অভিবাসীরা যদি শ্বেতাঙ্গদের এলাকায় থাকে তাদের খাবারের জন্য কোনো রেস্টুরেন্ট বা বাজার করার ব্যবস্থা থাকে না।অনেক অভিবাসী এলাকা অত্যন্ত অপরিসর বিধায় ঘিঞ্জি হয়ে পড়ছে।বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপের বাসিন্দাদের এলাকা।অধুনা ব্রিটেনের শ্বেতাঙ্গদের একাংশ চাইছে এই অভিবাসী আগমন বন্ধ হলে তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়বে।কেননা এ সুযোগগুলো একাংশ অভিবাসীরা ভোগ করছে।অনেকেই মনে করছে,ক্যামেরনের এই সবার জন্য শপথ পাঠ,অভিবাসী সংখ্যা নির্ধারণ,নিয়ন্ত্রণ এবং নজরদারি অভিবাসী সম্পর্কে ব্রিটেনের উদারনীতি সঙ্কোচনের প্রথম পদক্ষেপ।তবে এটা এখনো সরকারিভাবে কার্যকর করা হয়নি।বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন পরিকল্পনার ঘোষণা আসার পর বিরোধী লেবার দলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা এর তীব্র সমালোচনা করেছেন।আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের সহ-সভাপতি পল ব্লোমফিল্ড এটাকে পাগলামি বলে আখ্যা দিয়েছেন।শেফিল্ড সেন্ট্রালের লেবার এমপি বলেছেন,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে আমি বিস্মিত।তিনি আরো বলেছেন,ইউকেতে আমাদের কতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আছে সেটা তার জানা আছে বলে মনে হয় না।তিনি বর্তমান নিয়মকানুনও ঠিক বোঝেন বলে মনে হয় না,যেগুলোর জন্য তারই ভূমিকা রয়েছে।আর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যেসব বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরে পড়াশোনা করছে সেখানে তারা কি বিরাট অবদান রাখছে সেটা বোধগম্য হওয়া তো দূরের কথা।তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর বৃটিশ অর্থনীতিতে ৮০০ কোটি পাউন্ড এনে দিচ্ছে।হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করছে তারা।এতসব কিছুর পরও বৃটিশ সরকার কি পদক্ষেপ নেন সেটার দিকে তাকিয়ে লাখ লাখ অভিবাসী।

 

ওবামার বিদায়,ট্রাম্পের অভিষেক

রায়হান আহমেদ তপাদার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথগ্রহণ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।ঘড়ির কাঁটায় তখন ওয়াশিংটনে বেলা ১১টা ৫০ মিনিট।ইংরেজিতে মাত্র ৩৫ শব্দের শপথ বাক্যের শপথ।এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে তা উচ্চারণ সম্পন্ন করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।তিনি বললেন “আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে শপথ করছি যে, আমি বিশ্বস্ততার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দফতর পরিচালনা করবো এবং সাধ্যের সবটুকু দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান রক্ষা,সংরক্ষণ ও প্রতিপালনে সচেষ্ট থাকবো”।যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে এক জাকজমকপূর্ণ শপথ অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ শপথ বাক্য পাঠ করান দেশটির সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রোবার্টস।আর এই শপথ বাক্য পাঠের মধ্যদিয়ে যুক্তরাষ্টের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামার পদে স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি।এই শপথের মধ্য দিয়ে ৮ বছরের ওবামা যুগের অবসান ঘটলো।শুরু হলো যুগ ডোনাল্ড ট্রাম্প যুগ। ওয়াশিংটন ডিসি-র ন্যাশনাল মলে তার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির প্রায় আট লক্ষ মানুষ।প্রথা অনুযায়ী ট্রাম্পকে শপথগ্রহণ করান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস।আব্রাহাম লিঙ্কন যে বাইবেলে হাত রেখে শপথ নিয়েছিলেন,সেই বাইবেলে হাত রেখেই শপথ নিলেন ট্রাম্প।তার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন মাইক পেন্স। বারাক ওবামার স্থলাভিষিক্ত হলেন ট্রাম্প।তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া থেকে শুরু করে নির্বাচনের ফল ঘোষণা পর্যন্ত কম বিতর্ক হয়নি।কিন্তু এদিন সব বিতর্ক পিছনে ফেলে ৪৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হলেন ট্রাম্প।এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন,সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন,জর্জ বুশরাও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন।

সমাপ্তি ঘটছে আট বছর দায়িত্ব পালন করা আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্টের শাসনামলের।নানা আয়োজনের মাধ্যমে হোয়াইট হাউসে আজ প্রবেশ করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প যিনি আজ থেকে আমেরিকার ফার্স্ট লেডির খ্যাতি পাবেন। এমনটি জনস্বার্থবিরোধী ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন।ইতোমধ্যে আমরা দেখেছি তার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বেই স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত ওবামা সরকারের বহুল আলোচিত ‘ওবামা কেয়ার’ বাতিলের বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস সদস্যরা মতামত দিয়েছেন।ট্রাম্পের এই দায়িত্ব নেয়া আমেরিকার নিকট ইতিহাসের গত অপরাপর প্রেসিডেন্টদের মতো কোনো গতানুগতিক দায়িত্ব নেয়ার মতো বিষয় নয়।তিনি এককথায় প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দিয়ে নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন,যার বাস্তবায়নে এখন তার একাধারে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তথা পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে অভিনব কৌশল প্রয়োগ জরুরি।ট্রাম্প তার সময়টায় যে তার মতো করেই লড়ে যাবেন সদ্য সাম্প্রতিক অনেক আভাসের মধ্য দিয়ে এক্সন মোবাইল কোম্পানির প্রধান নির্বাহী রেক্স টিলারসনকে তার সরকারের পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করার মাধ্যমে আরেক দফা তা-ই জানান দিলেন।এর মধ্য দিয়ে পরবর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির একটা আগাম বার্তাও মেলে। যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাজ হচ্ছে বৈদেশিক সম্পর্ককে উন্নয়ন করা কিন্তু এই পদে যিনি আসীন থাকেন তার মূল চিন্তা থাকে জাতীয় স্বার্থের সর্বোচ্চ অর্জন।এক্ষেত্রে মার্কিন জাতীয় স্বার্থে ট্রাম্প যেভাবে বেছে বেছে কর্পোরেট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নিয়ে আসছেন এর মধ্য দিয়ে তিনি কার্যত এমন একটি ভবিষ্যৎ আমেরিকা গঠন করার পরিকল্পনা করছেন যেখানে মার্কিন অর্থনীতি হয়তো চাঙ্গা হবে কিন্তু বহির্বিশ্বে আমেরিকা দারুণভাবে তার গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।এর মধ্য দিয়ে মার্কিন ব্যবসায়ীদের অধিক প্রণোদনা দিতে গিয়ে এবংমূলধারার আমেরিকান দের অর্থনৈতিক সুবিধার বিষয়টি নিশ্চিত করতে গিয়ে অস্ত্র ব্যবসাকে আরো উস্কে দেবে না আর সেটা করতে গিয়ে বিশ্ব রাজনৈতিক অস্থিরতাকেই আরো বাড়িয়ে তোলা হবে।

এর ফলে আমেরিকান অর্থনীতিতে যদি গতি ফিরে আসে তবে তার পূর্ব ঘোষিত প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সকল আমেরিকান নয়,এর সুবিধাভোগী হবেন একটি নির্দিষ্ট অংশ, যারা শ্বেতাঙ্গ অথচ মূলধারার। অশ্বেতাঙ্গ এবং অভিবাসীদের সাথে তাদের বৈষম্য আরো প্রকট হওয়ার মধ্য দিয়ে ওবামা যে গণতন্ত্রের শঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছেন সেটা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।মূলত মার্কিন রাজনীতিতে রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাটদের যথাক্রমে কট্টরপন্থি এবং উদারপন্থি হিসেবে দেখা হলেও ট্রাম্পের মনোভাব থেকে একজন রিপাবলিক প্রসিডেন্ট হিসেবে তাকে কেবল কট্টরপন্থার একজন ব্যক্তি হিসেবে বিচার করাই যথেষ্ট হবে না।বরং তিনি সম্ভবত এমন একজন ব্যক্তি যিনি রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে চিন্তা করেন ব্যক্তিগত স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে। যদি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সত্যিই তিনি এমন ভাবধারার প্রকাশ ঘটাতে চান তবে আপাতত মার্কিন জনগণের তেমন কিছুই করার থাকবে না। কারণ তিনি একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিজয়ী হয়েছেন।এক্ষেত্রে অবশ্য এমন সম্ভাবনার কথাও ব্যাপকভাবে বলাবলি হচ্ছে যে, তার অনেক সিদ্ধান্তই প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটে আটকে যেতে পারে জনস্বার্থের কারণে এবং একপর্যায়ে তাকে অনাস্থা ভোটের সম্মুখীনও হতে হবে।এ সবই আসলে সম্ভাবনার কথা।এমনটি সত্য হলেও একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং সেটাও যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অবস্থার বিবেচনায় এ কথা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে, তার নিজ রাজনৈতিক দলসহ সর্বস্তরেই একটা চাপা অস্থিরতা কাজ করছে।নির্বাচনকালীন সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তার নিজ দলের নেতারা প্রকাশ্যে তার সমালোচনা করেও তার বিজয় ঠেকাতে ব্যর্থ হলেও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের মাধ্যমে আমেরিকাবাসী তাদের সম্ভাব্য ভয়কেই প্রকাশ করেছেন।এক্ষেত্রে যারা বিক্ষুব্ধ হয়েছেন তারাও নিশ্চয়ই ওবামার মতো আমেরিকার সম্ভাব্য গণতন্ত্রের সংকটকেও আঁচ করতে পেরেছেন। ওবামা বলেছেন,অনেক ভোটার ভোটকেন্দ্রে না যাওয়াই ডেমোক্র্যাটদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ।কিন্তু অতীতের নির্বাচনগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে বলতে হবে ভোটার উপস্থিতি তেমন হতাশাব্যঞ্জক ছিল না।

কিছুদিন আগেও ওবামা তার এক বক্তব্যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছিলেন,তৃতীয়বার নির্বাচন করার সুযোগ থাকলে মার্কিনিরা তাকেই নির্বাচিত করত।তার এই বক্তব্যকে ব্যাখ্যা করলে তা এমনটিই দাঁড়ায়,ডেমোক্র্যাট দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী মনোনয়ন ভুল ছিল।এক্ষেত্রে হিলারির স্থলে অন্য কেউ প্রার্থী হলে হয়তো ট্রাম্পের বিজয়কে ঠেকানো যেত। তবে একথা আজ আমেরিকার সকলের কাছেই সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত যে, ওবামা সকলের মনে মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিয়েই তার সময়টুকু শেষ করলেন।কি এক অদ্ভুত মোহজাগানিয়া ব্যক্তিত্ব বারাক ওবামা! যার কথায় মানুষ মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে থাকে,যিনি স্বপ্নের ফেরি করেন, যার দেখানো স্বপ্নের ঘোরে থাকেন সবাই আর সেই ঘোর কাটে যখন স্বপ্ন পরিণত হয় বাস্তবে। আর তাই তো শুরু আর শেষের মধ্যে নেই কোনো ছন্দপতন। ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিজয়ী হয়ে ফিরে যান সেই শিকাগোতে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে সেই সব মানুষের প্রতি যারা তাকে জীবনে প্রথমবারের মতো সিনেটর নির্বাচিত করেছিলেন। একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির হাতে গণতন্ত্র নিরাপদ কি না, তিনি মানুষের স্বপ্নকে ধারণ করতে পারেন কি না এবং তিনি কাক্সিক্ষত পরিবর্তনের পথে মানুষকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম কি না এমন অসংখ্য প্রশ্ন নিত্য সঙ্গী করে তাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছিল।আর তাই বিজয়ের রাতে বিজয়ী ভাষণে তার কণ্ঠে ছিল সকল প্রশ্নের দৃঢ় জবাব,‘আজ আপনাদের মাঝে এমন কেউ উপস্থিত আছেন কি যিনি এখনো সন্দেহ পোষণ করেন আমেরিকা সব সম্ভবের দেশ কি না, এমন কেউ যিনি দ্বিধায় আছেন যে আমাদের প্রতিষ্ঠাতাদের স্বপ্নগুলো এখনো বেঁচে আছে কি না,এমন কেউ যিনি এখনো আমাদের গণতন্ত্রের সক্ষমতাকে সন্দেহের চোখে দেখেন? তাদের সব প্রশ্নের  জবাব হচ্ছে আজকের এই রাতটি।’সেই রাতে খোলা মঞ্চে দাঁড়িয়ে আড়াই লাখ প্রত্যক্ষ শ্রোতা আর বিশ্বের কোটি কোটি টিভি দর্শক অবাক বিস্ময়ে অনেককাল পর এমন এক ভাষণ শুনলেন সম্ভবত এর প্রতীক্ষায়ই ছিলেন সবাই।  সাবলীল আত্মবিশ্বাসী চিত্তে তিনি সেই সময় আরো বলেন, ‘এটা সেই উত্তর যা সেইসব লোককে তাড়িত করেছে যাদেরকে অনেককাল ধরে অনেকেরই কাছ থেকে আমাদের অমিত সম্ভাবনা বিষয়ে যা নৈরাশ্যকর, ভীতিকর এবংসন্দেহজনকসহ নানান নেতিবাচক অভিধা সহ্য করতে হয়েছে।অথচ আমাদের এই অর্জন দিয়েই ইতিহাসের চাকাকে আরো একবার ঘুরিয়ে দিতে পারা যায় অনাগত স্বর্ণালি দিনের প্রত্যাশায়। আজকের এই রাতটা পর্যন্ত আসতে আমাদের অনেক লম্বা পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। কারণ, আমরা দিনের বেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যা করেছি-এই ফয়সালাকারী মুহূর্তে, এর ফসল হলো:আমেরিকায় পরিবর্তন সূচিত হয়েছে।’ ওবামার আবেগময় দীর্ঘ বক্তব্যে সেই সময় প্রত্যক্ষদর্শী এবং টিভি পর্দায় ভাষণ প্রত্যক্ষ করা অনেকের চোখে পানি ঝরেছে,সেই জল নিবারণের চেষ্টাও কেউ করেননি।

এ যেন কেবল একজন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের তার নিজ দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে দেয়া কোন বক্তৃতা নয়, এ যেন সারা পৃথিবীর পরিবর্তনকামী মানুষের ভেতরের অব্যক্ত কথাগুলো বেরিয়ে আসছিল একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির মুখ দিয়ে।২০০৮সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত, এই ৮ বছর সময়কাল বিশ্বের সবচেয়ে প্রতাপশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের শেষ সময়ে এসে তিনি আবারো ফিরে গেলেন সেই শিকাগোবাসীর কাছে। শিকাগো শহর বারাক ওবামার জš§স্থান নয়, তবে এটি তার রাজনৈতিক উত্থানের কেন্দ্রভূমি।ছাত্রজীবন শেষে এখানেই তিনি ‘কমিউনিটি অর্গানাইজার’ হিসেবে রাজনীতির প্রথম পাঠ নেন।এই শহর থেকেই তিনি অঙ্গরাজ্যের আইন পরিষদে সিনেটর ও যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার ভাষণের স্থান খোলা মাঠ নয়,২০ হাজার লোকে ঠাসা দেশের সর্ববৃহৎ সম্মেলনকক্ষ।এর আগের প্রেসিডেন্টরা যেখানে তাদের বিদায় ভাষণ দিয়েছিলেন চিঠি লিখে কিংবা তাদের নিজেদের দফতর থেকে,ওবামা এক্ষেত্রে বরাবরের মতোই তার স্বকীয়তার পরিচয় দিয়ে ফিরে গেলেন তাদের কাছে, যাদের প্রতি প্রতিজ্ঞতা জানিয়ে শুরু করেছিলেন তার দায়িত্ব। ৫০ মিনিটের ভাষণের সময় ম্যাককরমিক প্লেসের কনভেনশন সেন্টারের প্রত্যেক কৃতজ্ঞ দর্শক চোখের জলে বিদায় জানালেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে রূপান্তরশীল এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে।আবেগ সংবরণ করতে না পেরে অশ্রুসিক্ত হয়েছেন ওবামা নিজেও।নির্বাচিত হওয়ার পর ওবামা রাজনীতি ও বর্ণভিত্তিক বিভাজন অতিক্রম করে অবিভক্ত ও অনেক কম বৈষম্যমূলক এক যুক্তরাষ্ট্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।বিদায় নেয়ার আগে স্বীকার করতে বাধ্য হলেন,সেই প্রতিশ্রুতি তিনি রাখতে পারেননি।দেশ এখনো আগের মতো বিভক্ত,যে বিভক্তির ফলে এই দেশের গণতান্ত্রিক সম্ভাবনা হুমকির সম্মুখীন।ওবামা তার বক্তব্যে ট্রাম্পের নাম একটিবারের জন্য উচ্চারণ না করলেও কারও বুঝতে একটুও অসুবিধা হবার কথা নয় যে ট্রাম্পের জয়ে আমেরিকাবাসীর জন্য যে অশুভ ভবিষ্যৎ করছে তা নিয়ে তিনি গভীরভাবে চিন্তিত।আর তাই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থকদের মধ্যে হতাশা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা সৃষ্টির আশঙ্কা মাথায় রেখে ওবামা তাদের আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিশ্রমের আহ্বান জানান।হিলারির পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল অনেক ভোটারের অনুপস্থিতি সেদিকে ইঙ্গিত করে তরুণদের উদ্দেশে ওবামা বলেন, ‘ইন্টারনেটে একে অপরের সঙ্গে বিবাদ না করে বাস্তব জীবনে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলুন।আপনারা যদি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দের ব্যাপারে এতই হতাশ, তাহলে রাস্তায় নামো,দরকার হলে নিজেরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন।ওবামা বিদায় নিতে যাচ্ছেন এবং তার স্থলে নতুন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন এমন প্রসঙ্গ আসা মাত্রই সমবেত জনতার প্রতিরোধের মুখে তিনি সাংবিধানিক বিধান মোতাবেক শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরে আমেরিকার ঐতিহ্যের কথা সবাইকে মনে করিয়ে দেন।

একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে ওবামার প্রশংসায় সিক্ত হয়েছেন বাইডেন।হিলারি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অনেকে ওবামার উত্তরসূরি হিসেবে বাইডেনকে ভাবতে শুরু করেছিলেন।এখন মনে করা হচ্ছে বাইডেন যদি এই পদে নির্বাচন করতেন তবে ওবামা সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকত এবং এর ফলে আজকের শঙ্কার জায়গায় আমেরিকাকে দেখতে হতো না।সরাসরিভাবে না বললেও আজকে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দিকটিকে ইঙ্গিত করেই সম্ভবত ওবামা মার্কিন গণতন্ত্ররে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।এদিকে মার্কিন রাজনীতিতে রাশিয়ার প্রভাবের বিষয়টিকে ট্রাম্প হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।যুক্তির খাতিরে যদি ধরেও নেয়া হয় যে, মার্কিন রাজনীতিতে রাশিয়া বা দেশটির প্রেসিডেন্ট পুতিনের কোনো প্রভাব নেই তাহলেও প্রশ্ন এসে যায় পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতে রাশিয়া এবং চীন যেভাবে তাদের শক্তিমত্তাকে জানান দিচ্ছে এই অবস্থায় আমেরিকার নিজের শক্তিশালী অবস্থানকে ধরে রাখার জন্য কি কৌশল হতে পারে সেই বিষয়ে ট্রাম্প কতটুকু ভেবে রেখেছেন? ওবামা তার বিদায়ী ভাষণে হতাশার সঙ্গে এমন আশাবাদের কথাও উচ্চারণ করেছেন যে, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর নয়,পরিবর্তনের জন্য মানুষের নিজের সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখতে হবে, বিশ্বাস রাখতে হবে।এতদিন জনতার আস্থা, বিশ্বাস আর সক্ষমতার সঙ্গে প্রেসিডেন্টের আস্থা, বিশ্বাস আর সক্ষমতার যে মিশেল এক আমেরিকার যে পথচলা ছিল তা থেমে যাবে আর মাত্র কয়েকটি দিন পর।শুরু হবে ভিন্ন আস্থা বিশ্বাস আর সক্ষমতার এক আমেরিকার নতুন পথচলা।কিন্তু ব্যক্তি ওবামা মানুষের মনে অম্লান হয়ে থাকবেন অনেককাল পর্যন্ত।ট্রাম্প তার অভিষেক ভাষণে আমেরিকার শিশুদের জন্য ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দিতে চেয়েছেন, দরিদ্র পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর কথা বলেছেন।বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।তা ছাড়া অপরাধ,বিভিন্ন চক্র ও মাদকের কারণে অনেক সম্ভাবনাময়ী শিক্ষার্থী মারা যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।এ বিষয়ে অভিষেক ভাষণে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন,‘আমেরিকান হত্যাযজ্ঞ এখান থেকে এবংএখন থেকেই বন্ধ করতে হবে।নিজেদের দেশের সীমান্ত অরক্ষিত রেখে অন্য দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় অর্থ বিনিয়োগ ও নিজেদের সেনাদের উন্নয়নের পরিবর্তে অন্য দেশের সেনাদের অর্থ দেওয়ার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।তা ছাড়া অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।ট্রাম্পের ভাষণের পুরোটা জুড়ে জাতীয়তাবাদ ও জাতীয় ঐক্য বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।তিনি ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন।একেবারে শেষের দিকে ট্রাম্প বলেন,‘আমরা সবাই মিলে আমেরিকাকে আবারও শক্তিশালী করে তুলব।আমরা আবার সম্পদশালী হয়ে উঠবে।আমরা আবার আমেরিকাকে গর্বিত করব।আমরা আবার আমেরিকাকে নিরাপদ করব।এবং অবশ্যই আমরা আমেরিকাকে আবার মহান করে তুলব।ধন্যবাদ।ঈশ্বর আপনাদের মঙ্গল করুন,এবং যুক্তরাষ্ট্রেরও মঙ্গল করুণ।

লেখক ঃ প্রারফেসর রায়হান আহমেদ তপাদার
                                         লেখক ও কলামিস্ট,যুক্তরাজ্য  
                                         raihan567@yahoo.co.uk

হংকং শাখার আওয়ামীলীগের নব নির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান॥ সভাপতি মির্জাপুরের লিটন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল,মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)সংবাদদাতা
হংকং শাখার আওয়ামীলীগের নব নির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান হয়েছে।গতকাল বুধবার হংকং শহরের হেনরী জি লিয়াং ইয়াজমা কমিউনিটি সেন্টারে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে এ অভিষেক অনুষ্ঠান হয় বলে আজ বৃহস্পতিবার নব নির্বাচিত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ লিটন জানিয়েছেন।অভিষেক অনুষ্ঠানে নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুল হক কিরণ,সাবেক সবাপতি তারিকুল ইসলাম সহিদ,আলী মোহাম্মদ ইউসুফ,এম আক্তার হোসেন,মাসুদ কাদির,তাসমিনুল হক বিপু,আশরাফুর রহমান পলাশসহ চেম্বার অব কমার্সের নেত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কমিটিতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৯ নং বহুরিয়া ইউনিয়নের কৃতি সন্তান বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ী শিল্পপতি মো. আবুল কালাম আজাদ লিটনকে সভাপতি এবং মো.ফজলুল হক কিরনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিষেক অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে।
এদিকে মির্জাপুরের আবুল কালাম আজাদ লিটন হংকংয়ে আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. একাব্বর হোসেন এমপি,সভাপতি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি,মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিআরডিবির চেয়ারম্যান মীর শরীফ মাহমুদ,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু ও টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক এমপি ফজলুর রহমান খান ফারুক লিটনসহ কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

State Minister for Foreign Affairs Mr. Md. Shahriar Alam, MP attended the 15th ACD Ministerial Meeting in Abu Dhabi


Abu Dhabi, Tuesday, 17 January 2017
Hon’ble State Minister for Foreign Affairs H.E. Mr. Md Shahriar Alam, MP led the Bangladesh delegation at the 15th Ministerial Meeting of Asia Cooperation Dialogue (ACD) in Abu Dhabi on 17 January 2017. 34 Asian Countries participated in the meeting under the theme “Sustainable Energy”. Bangladesh is a Co-Prime Mover in two pillars of cooperation in ACD named 1) Inter-relation of Food, Water and Energy Security and 2) Connectivity. His Highness Sheikh Abdullah bin Zayed Al Nahyan, Minister of Foreign Affairs and International Cooperation of the United Arab Emirates chaired the meeting.
In the meeting, the State Minister stated in his speech that the continued economic growth of Bangladesh has created enormous demand for energy and power. Under the leadership of Hon’ble Prime Minister of Bangladesh Her Excellency Sheikh Hasina, Bangladesh has become able to produce 15,000 MW electricity. Government has an ambitious plan to produce 24,000 MW by 2021 and 40,000 MW by 2030. Bangladesh has installed 4.5 million solar home systems in remote and rural areas. The goal of Bangladesh is to create an energy mix with a good balance of renewable energy to attain sustainable development. At present Bangladesh is producing 430 MW electricity from renewable energy sources. Bangladesh expects that the Energy Action plan to be adopted by ACD would play an important catalytic role to respond challenges and opportunities that Asia facing today.
At the sideline of the ACD meeting, the State Minister called on H.H. Sheikh Abdullah bin Zayed Al Nahyan, Minister of Foreign Affairs and International Cooperation of the United Arab Emirates on 17 January 2017. The State Minister handed over a letter of condolence from Bangladesh Foreign Minister to UAE Foreign Minister on the death of five UAE officials in Kandahar, Afghanistan who were killed in a terrorist attack earlier this month. In the meeting both the Ministers discussed important bilateral issues. They agreed to strengthen bilateral cooperation in the field of civil aviation, trade, economic and cultural matters. The State Minister requested the UAE Foreign Minister to ease the visa process for Bangladeshi nationals including businessmen, workers and tourists. The UAE Foreign Minister assured that UAE Government would give due consideration in this matter. The UAE Foreign Minister appreciated the initiatives taken by Government of Bangladesh to develop skilled workforce and recruitment of manpower by other countries. He also requested the State Minister for active participation of Bangladesh at the Expo 2020 to be held in Dubai. Both of them emphasized on arranging high level visits, exchange of trade and cultural delegations and expressed their interests to work closely to further strengthen the relations between Bangladesh and the UAE. Ambassador of Bangladesh to the UAE Mr. Muhammad Imran, officials of the Embassy and officials of the Foreign Ministry of Bangladesh and the Foreign Ministry of the UAE were present during the meeting.

সিরিয়াকে ঘিরে পশ্চিমা রাজনীতি

রায়হান আহমেদ তপাদার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শুরু হওয়া স্নায়ুযুদ্ধ বা ঠাণ্ডাযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগী পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার মিত্র জোটের। এ স্নায়ুযুদ্ধ ছিল ক্ষমতা ও আদর্শগত দ্বন্দ্বের মিশেলে। নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব আশা করেছিল তারা স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটাতে পেরেছে।কিন্তু ২০১০-এর দশকে এসে নতুনরূপে বিশ্ব আবার স্নায়ুযুদ্ধের যুগে ফিরে এসেছে।তবে নতুন এই স্নায়ুযুদ্ধের সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর স্নায়ুযুদ্ধের পার্থক্য রয়েছে।সে সময় ক্ষমতার সঙ্গে ছিল আদর্শের মিশেল।আর এখন আদর্শ নয়, শুধুই ক্ষমতা ও বাজার দখলের লড়াই।বিশেষ করে এ বাজার হচ্ছে অস্ত্র ব্যবসার।নতুন এ স্নায়ুযুদ্ধোত্তর প্রতিদ্বন্দ্বী মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।ইউরোপে রাশিয়ার দোরগোড়ায় ইউক্রেন নিয়ে যা শুরু এখন মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে সিরিয়াযুদ্ধে তা প্রলম্বিত আকার নিয়েছে।প্রাগৈতিহাসিক শহর। চার বছর ধরে দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন।আক্রান্ত।যুক্তরাষ্ট্র,তুরস্ক,সৌদি ও কাতারের দেওয়া অর্থ ও অস্ত্রের মদদে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করে।এর পরের ধাপে তুরস্ক থেকে রীতিমতো প্রশিক্ষিত ভাড়াটে যোদ্ধারা শহর দখলে নেয়।শিয়া গণহত্যা ঘটানো হয় একাধিকবার। ছোট বাচ্চাদেরও শামিল করা হয় ওই ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’ গ্রুপে। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বন্দুক। তাদের শেখানো হয় কিভাবে সিরিয়া সরকারি সেনা দেখলেই গুলি করতে হয়।এভাবেই বেশ চলছিল।চুপ ছিল পশ্চিমা বিশ্ব।রাষ্ট্রসংঘে বসে কেউ এসব দেখতে পায়নি।এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে রাশিয়া সক্রিয়ভাবে সিরিয়া সংকটে যোগ দেওয়ার পর।এখন পাশা উল্টে গেছে। রাশিয়া ও ইরানের সাহায্যে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী আলেপ্পোর পূর্ব অংশ পুনর্দখল করেছে চার বছর পর। আলেপ্পোর যুদ্ধ আসলেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্ট্র্যাটেজিক পরাজয়। তাই তারা ও তাদের তাঁবেদার মিডিয়া হাহাকার করছে।রাশিয়ার যোগদানের পর থেকে সিরিয়া সংকটে আরো একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তুরস্কের শিবির বদল। তুরস্ককে ব্যবহার করেই প্রধানত আলেপ্পোসহ সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে আল-কায়েদা, আল-নুসরা প্রভৃতি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ঢুকিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব।তারা ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’ সেজে সিরিয়ায় রয়েছে এবং একটানা সরকারবিরোধী সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।যে তুরস্ক তাদের সীমান্ত সর্বক্ষণ খুলে রেখে তাদের জন্য অস্ত্র সরবরাহ করেছে,সেই তুরস্ক কয়েক মাস আগে হঠাৎই বেসুরো গাইতে শুরু করে। ওয়াশিংটন বুঝতে দেরি করেনি। একদা তাদের বিশ্বস্ত এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সেনা-অভ্যুত্থান হয়, আর সেটা সম্পূর্ণ মার্কিন মদদেই। ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ফলে তুরস্ক রাশিয়ার আরো কাছাকাছি চলে আসে।জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ১৫ দিনের মধ্যেই মস্কোতে বৈঠকে মিলিত হন এরদোয়ান ও পুতিন। বৈঠকের পরই দীর্ঘদিনের চেনা সুরের বদলে অন্য সুরে বলে ওঠেন এরদোয়ান সিরিয়া সংকট সমাধানে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রাশিয়াকে প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের কপালের ভাঁজ চওড়া হয়।এখন প্রশ্নের মুখে তুরস্ক-ন্যাটো সম্পর্ক।ফের রুশ-তুরস্কের নয়া সম্পর্ককে ঝটকা দিতেই আংকারায় রুশ রাষ্ট্রদূতকে হত্যার ঘটনা ঘটল।কিন্তু রাশিয়া ও তুরস্ক কোনো প্ররোচনায় পা দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।তাই যৌথ তদন্তদল গঠিত হয়েছে।আর আজ শুধু রাশিয়া নয়,ইরানকেও সঙ্গে নিয়ে সিরিয়া প্রশ্নে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক সারা শেষ।২১ তারিখের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে তুরস্কের বিদেশমন্ত্রীর সাফ কথা, আলেপ্পোর সাফল্য সিরিয়ার বাকি অশান্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে দিতে হবে।সিরিয়াকে মুক্ত করতে হবে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে। চীনের শীর্ষস্থানীয় এক পত্রিকায় মঙ্গলবার অভিযোগ করে বলা হয়েছে,সিরিয়ায় ঠাণ্ডা লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।প্রতিপক্ষ দেশ দুটির উপলব্ধি করা উচিত,ঠাণ্ডা লড়াইয়ের যুগ গত হয়েছে এবংতাদের শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে এ সঙ্কটের সমাধানে এগিয়ে আসা উচিত বলেও মন্তব্য করেছে পত্রিকাটি।সম্প্রতি সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুশ বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর চীনা সরকারি পত্রিকায় এই সংবাদ ভাষ্য প্রকাশিত হয়।ক্ষমতাসীন দলের দৈনিক দা পিপলস ডেইলি’তে মঙ্গলবার সিরিয়ার ওপর প্রকাশিত সংবাদভাষ্যটিতে বলা হয়েছে,সিরিয়া নিয়ে ঠাণ্ডা লড়াইয়ের দিনগুলোর মত কূটনৈতিক ও সামরিক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।পত্রিকাটির অভিযোগ ওয়াশিংটন ও মস্কো তৃতীয় একটি দেশের মাটিতে প্রভাব বিস্তারের জন্য সব ধরণের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।প্রতিদ্বন্দ্বী ওই দেশ দুটি পুরনো দিনের ঠাণ্ডা লড়াইয়ের মতই পরস্পরের বিরুদ্ধে আঘাত ও প্রতিঘাতের খেলায় মেতে ওঠেছে।কিন্তু আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে রয়েছি।দেশ দুটির এই বাস্তবতা মাথায় রাখা উচিত।সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে মস্কো ও ওয়াশিংটনে র নগ্ন হস্তক্ষেপেরও সমালোচনা করেছে পিপলস ডেইলি।গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সিরিয়ায় জিহাদিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু কেরছে রাশিয়া।তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এই হামলার সমালোচনা করে বলেছে,সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বশির আল আসাদকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতেই এ হামলা শুরু করেছে মস্কো।এতদিন ধরে সিরিয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট।তারা আসাদের পতনকেই সিরিয়া সঙ্কটের একমাত্র সমাধান বলে মনে করে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধকে ‘প্রক্সি ওয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করে পিপলস ডেইলি বলছে,ওই দেশ দুটির এ যুদ্ধে সরকার বা বিরোধী দল কারো পক্ষ না নিয়ে এর একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চালানো উচিত।পত্রিকাটির ভাষায়,‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মত বৃহৎ দেশগুলো, যাদের সিরিয়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে, তাদের জরুরি ভিত্তিতে এই সঙ্কটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা উচিত।মঙ্গলবার ‘জং শেং’(চীনের কণ্ঠ) নামের এক কলামে ওই ধারাভাষ্যটি প্রকাশিত হয়।এই কলামটিতে বিশ্ব রাজনীতির ওপর প্রায়ই নানা মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে থাকে।মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল হলেও ওই অঞ্চলে কূটনৈতিকভাবে কখনোই তেমন প্রভাবশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেনি চীন।যদিও শুরু থেকেই তারা বলে আসছে, সামরিকভাবে সিরিয়া সঙ্কটের সমাধান করা যাবে না।স্বাভাবিক।আজ রাশিয়া,তুরস্ক,ইরান যেখানে তাদের সাফল্য দেখছে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব তাদের চরম বিপর্যয় দেখছে।আসলেই এক জটিল রাজনীতির পাশা খেলা চলছে সিরিয়াকে ঘিরে।আজ পাঁচ বছর পরে সিরিয়ায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে এক লাখের বেশি অসামরিক ব্যক্তি।এর মধ্যে আছে ১৫ হাজার শিশু ও ১২ হাজার নারী।দেশের মোট দুই কোটি ৩০ লাখ নাগরিকের মধ্যে ৫০ লাখ মানুষ দেশত্যাগ করে শরণার্থী হয়েছে এবং আরো ৬৫ লাখ হয়েছে গৃহহীন।যুদ্ধকবলিত অঞ্চলগুলোর সব শিশুই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।২০১১ সালের পর যারা জন্মেছে তারা শুধু যুদ্ধই দেখছে,বোমা হামলাই দেখছে।এটাই তাদের শৈশবের জগৎ।একটানা বোমা হামলা হবে।তা থেকে বাঁচার জন্য দৌড়াতে হবে,মাটির নিচে আশ্রয় নিতে হবে, মাঝেমধ্যেই অভুক্ত থাকতে হবে।সিরীয় শিশুদের জন্য এটাই রোজনামচা। আলেপ্পোর বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে যে কোনো সময়ই হিজবুল্লাহসহ ইরান, আফগানিস্তান ও ইরাকের শিয়া বাহিনীর সহযোগিতায় তা দামেস্ক সরকারের পূর্ণ করায়ত্ত হতে যাচ্ছে। সিরিয়া সামনে এক মারাত্মক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। সিরিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করণীয় কাজের সুযোগ ক্রমেই হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। আর এজন্য সে পূর্ব আলেপ্পোর আল-নুসরা ও আইএস দখলদারী এলাকায় বেসামরিক লোকদের ওপর রাশিয়ার বিমান হামলার ব্যাপারে ‘সতর্ক’ করে দিয়েছে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে পূর্ব আলেপ্পোর ধ্বংসযজ্ঞ ও মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের সংবাদ ও তার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হচ্ছে। দামেস্কের সরকারি বাহিনী ও জিহাদিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বলবৎকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে সরকারি বাহিনীর ওপর বিমান হামলা চালিয়ে চুক্তির বরখেলাপ করে, তা অনেকটা উহ্যই থেকে যায়।বস্তুত এ কারণেই ভেঙে যায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য আসতে থাকে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা রাশিয়াকে এই বলে হুশিয়ার করে দেন যে, রাশিয়ার সৈন্যদের শিগগিরই ‘লাশ’ হয়ে সিরিয়া ছাড়তে হবে। আরো বলা হয় যে, মস্কোর সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হলে তারা তাদের উপসাগরীয় এলাকার সহযোগীদের (সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা) মাধ্যমে বিদ্রোহীদের (আল-নুসরা ও আইএস) আরো উন্নত অস্ত্র সরবরাহ করবে।অর্থাৎ আফগান মুজাহিদিন দের যে বিমান বিধ্বংসী মিসাইল (ম্যানপ্যাড) সরবরাহ করা হয়েছিল, সেই অস্ত্র বিদ্রোহীদের দেওয়া হবে। সিরিয়ায় রাশিয়ার আসল মতলব কী?নোংরা কাজ অন্য কেউ করে দিলে আপত্তির কারণ থাকতে পারে না৷ কিন্তু অভিযোগ, জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর বদলে রুশ বোমারু বিমান সিরীয় বিদ্রোহীদের উপর হামলা চালাচ্ছে৷ রাশিয়া তা নস্যাৎ করে দিয়েছে৷ রাশিয়ার বক্তব্য, তারা সিরিয়ার সরকারের আমন্ত্রণেই হামলা চালাচ্ছে৷ অর্থাৎ বাশার আল-আসাদ সরকারকে সরাসরি সাহায্য করাই রাশিয়ার উদ্দেশ্য৷ রাশিয়াই আইএস-এর মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বেশি আন্তরিক৷ নিজেদের বক্তব্যের সম্মেলনে তারা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে৷কিন্তু ওয়াশিংটনের অভিযোগ, আইএস-এর বদলে বিদ্রোহীদের দমন করাই পুটিন ও আসাদের মূল উদ্দেশ্য৷ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সরাসরি এ বিষয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন৷ভবিষ্যতে সিরিয়ায় রুশ-মার্কিন সংঘাতের আশঙ্কা দূর করতে দুই দেশের সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে বৈঠকে বসতে চলেছে৷সিরিয়া সংকটের জটিলতা ও বিভিন্ন পক্ষের স্বার্থের সংঘাতের বিষয় নিয়ে একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেছেন অনেকে৷সিরিয়াকে ঘিরে অ্যামেরিকা, রাশিয়া ও ইরানের স্বার্থের সংঘাত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল৷ওবামা আন্তর্জাতিক সংকটগুলি থেকে দূরে থাকার নীতি নেওয়ার ফলে শূন্যস্থান পূরণ করতে পুটিন এগিয়ে এসেছেন এই অভিযোগের ভিত্তিতে এক ব্যাঙ্গচিত্র শেয়ার করেছেন অনেকে৷


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »