Category: আন্তর্জাতিক

ওয়েস্টমিনস্টার হামলায় বৃটেন উদ্বিগ্ন

রায়হান আহমেদ তপাদার 
টেমস নদীর ওপর অবস্থিত ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্ত এসে লেগেছে পার্লামেন্ট এলাকায়।এই ওয়েস্টমিনস্টার সেতুর ওপর দিয়ে পার্লামেন্টের দিকে আসার পথে সজোরে গাড়ি চালিয়ে পথচারীদের ওপর উঠিয়ে দেন এক হামলাকারী।এরপর গাড়িটি পার্লামেন্টের নিরাপত্তাবেষ্টনীতে গিয়ে আঘাত হানে।সে দিনটি ছিল বাইশ মার্চ বুধবার।লন্ডন স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে ৩টার দিকে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের অধিবেশন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।হামলার সময় পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন চলছিল।প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে সংসদ ভবনে ছিলেন।প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত সংসদ ভবন থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়।এমপিদের নিরাপত্তায় পুরো সংসদ ভবন এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।কয়েক ঘণ্টার জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে পার্লামেন্ট ভবন।কিছু কিছু স্থান আছে যেগুলো সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনা থেকে ধীরে ধীরে মুছে যায়।সেগুলো পরিণত হয় অপছন্দের রাজনৈতিক শাষকগোষ্ঠী বা দূরবর্তী অতিক্ষমতাধর সরকারের সংক্ষিপ্ত নামে।আমেরিকায় এই জায়গাটি হলো:‘ওয়াশিংটন, ডিসি’।ইউরো সমালোচকদের জন্য ‘ব্রাসেলস’।আর বৃটেনের এই সমালোচিত রাজসিক দূর্গ হলো ‘ওয়েস্টমিনস্টার।লন্ডনে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের অধিবেশন চলাকালে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় হামলাকারীসহ নিহত হয়েছেন পাঁচজন। এদের মধ্যে পালার্মেন্টের সামনে ওই হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা পিসি কেইথ পালমার (৪৮)।আহত এই পুলিশ কর্মকর্তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী টবিয়াস এলউড। তৎক্ষণাৎ শুরু করেন প্রাথমিক চিকিৎসা।এই ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ‘বীরে’ পরিণত হন এই পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) খবর দ্য টেলিগ্রাফের।অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পিসি কেইথ পালমারকে বাঁচাতে না পারলেও সর্বশক্তি দিয়ে তার এই মানবতার বহিঃপ্রকাশ প্রশংসিত হচ্ছে নানা মহলে।দেশটির গণমাধ্যম তাকে হিরো বলে সম্বোধন করছে।  যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পার্লামেন্টের বাইরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবিসির অনলাইন প্রতিবেদনে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন।নিহত পাঁচ ব্যক্তির মধ্যে হামলাকারীও রয়েছেন,বলা হয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে। আর বাকি তিন জনের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। পার্লামেন্টে ঢুকতে বাঁধা দিলে হামলাকারী তাকে ছুরিকাঘাত করেন।বাকি তিনজন হামলাকারীর গাড়ি চাপায় মারা গেছেন বলা হয়েছে।পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন চলাকালে টেমস নদী সেতুর ওপর কয়েকজনকে চাপা দিয়ে পার্লামেন্টে পাশের এক রেলিংয়ে ধাক্কা খায় একটি গাড়ি।পরে গাড়ি থেকে নেমে ছুরি হাতে পার্লামেন্টে ঢুকতে চায় হামলাকারী। বাঁধা দিলে এক পুলিশ সদস্যের উপর ছুরি চালিয়ে দেন হামলাকারী।পরে পুলিশ তাকে গুলি করেন।এই হামলার দায় কেউ এখনো স্বীকার করেনি। তবে ঘটনাটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য এবং সব দিক মাথায় নিয়েই এই বিষয়ের তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য পুলিশ।ওদিকে, কমন্সের চেম্বারে নিরাপত্তা স্বার্থে আটকে পড়েন এমপিরা। তাদের অনেকেই ফোনে ছিলেন। আমাদের মতোই খবর দেখছিলেন। তবে তাদের দুশ্চিন্তাটা একটু হলেও ছিল বেশি: তারা বন্ধু, সহকর্মী আর নিজেদের অধীনস্তদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। সবার মাথায়ই ছিল একই চিন্তা: হতাহতের মধ্যে পরিচিত কেউ যদি থাকে?হামলার সময়, আমি ওয়েস্টমিনস্টারে ছিলাম (পার্লামেন্টে নয়)। এক এমপির সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক শেষে উঠছিলাম তখনই হামলা শুরু।তিনি নিরাপদ আছে কিনা জানার জন্য স্ত্রীর কাছ থেকে টেক্সট মেসেজ পেয়ে ঘটনাটি জানতে পারেন। টিভি পর্দায় হয়তো তাকে আর দশটা রাজনীতিকের মতো দেখাবে। কিন্তু আজ যদি মানুষ তাকে দেখতো তাহলে একজন সাধারণ মানুষ দেখতে পেতো।লন্ডনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাইরে ও ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজে হামলার ঘটনার পর বার্মিংহামে শহরের ছয়টি বাড়িতে রাতভর অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বিমানবন্দর ও মেট্রোস্টেশনে একযোগে তিনটি সন্ত্রাসী হামলার এক বছর পূর্তির দিনেই লন্ডনে এ ঘটনা ঘটে। ব্রাসেলসের হামলায় নিহত হয়েছিলেন ৩২ জন।ওয়েস্টমিনস্টার সেতুর ওপর দিয়ে পার্লামেন্টের দিকে আসার পথে সজোরে গাড়ি চালিয়ে তা পথচারীদের ওপর উঠিয়ে দেন হামলাকারী। এতে দুজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। গাড়ির ধাক্কায় নিহতদের মধ্যে একজন নারীর কথা জানিয়েছে স্কাই নিউজ।গাড়িটি পার্লামেন্টের নিরাপত্তাবেষ্টনীতে গিয়ে আঘাত হানে।স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গুলো বলছে,হামলাকারী ৮ ইঞ্চি ছুরি নিয়ে পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দিলে এক পুলিশ সদস্যের ওপর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন তিনি। তখন পুলিশ হামলাকারীকে গুলি করে নিবৃত করে।গুলিতে নিহত হন হামলাকারী।  পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন। সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের প্রধান মার্ক রওলি জানিয়েছেন, পার্লামেন্ট ভবনে হামলা চালাতে ওঁৎপেতে থাকা এক হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে ওই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ।ওই ঘটনার সময় সংসদের উভয় কক্ষে (হাউস অব লর্ডস এবং হাউস অব কমন্স) অধিবেশন চলছিল।ঘটনার মুহূর্তের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেকে সংসদ ভবন থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এমপিদের নিরাপত্তায় পুরো সংসদ ভবন এলাকা ঘিরে ফেলে আর্মড পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে পার্লামেন্ট ভবন। প্রতিদিন দর্শনার্থীদের ভিড়ে ঠাসা থাকে এই এলাকা। আটকা পড়ে সেই দর্শনার্থীরাও।পার্শ্ববর্তী ওয়েস্টমিনস্টার পাতাল রেলস্টেশনসহ পুরো এলাকার যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো লন্ডন শহরে।মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর (ইসলামিক স্টেট) প্রচারণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাইরে হামলা চালানো হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে দাবি করেছে দেশটির বার্তা সংস্থা রয়টার্স।ওই ইউরোপীয় কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, সন্দেহভাজন হামলাকারীর পরিচয় জানতে পেরেছেন ব্রিটিশ গোয়েন্দারা।সে একজন বৃটিশ নাগরিক খালেদ মাসুদ।যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম শহরের বাসিন্দা।  জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাজ্যের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘যদিও এ হামলার প্রেক্ষাপট এখনো স্পষ্ট নয়, তবু আমি পুনরায় আশ্বস্ত করতে চাই যে জার্মানি এবং এ দেশের জনগণ সব ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে যুক্তরাজ্যের পাশে দাঁড়াবে।হামলার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের সঙ্গে ফোনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কথা বলেন বলে জানায় হোয়াইট হাউস।এ তথ্য জানিয়ে ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার বলেন, ট্রাম্প ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।যুক্তরাজ্যকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো হামলার নিন্দা জানিয়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন যুক্তরাজ্যকে ওয়েস্টমিনস্টা রের নিন্দা যারা করেন, তারা যদি আজ দেখতেন! যে গতিতে পুলিশ আর এমার্জেন্সি সার্ভিসগুলো বিপদের দিকে ছুটে গেলো যেখানে কিনা সহজাত মানবিক প্রবৃত্তি আমাদের বেশিরভাগ মানুষকে বলবে দূরে পালাতে। ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজে আহত অবস্থায় মানুষকে পড়ে থাকতে দেখে সাধারণ মানুষ যেভাবে তাদের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলো।প্রহরারত পুলিশ সদস্যদের ট্রেতে করে চা এনে দিলেন কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মী। পর্যটকরা দলবেধে ছুটলো নিরাপদ স্থানে। আর পার্লামেন্টের সেন্ট্রাল লবিতে লকডাউনে আটকে পড়া সবাইকে উজ্জীবীত করতে গান দলবেধে গান গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো স্কুলের বাচ্চাদের দলটি।২০০৫ সালের ৭ জুলাই লন্ডনের টাভিস্টক স্কয়ারে দ্বিতল বাস ও পাতাল রেলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণে গত সোমবার একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয়েছে ওই এলাকায়।যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন লন্ডনে হামলার ১০ বছর পূর্তিতে নিহতদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।পশ্চিম ইউরোপে ইসলামী জঙ্গিদের আত্মঘাতী হামলার প্রথম ঘটনা ছিল এটি,যাতে নিহত হয়েছিল ৫৬ জন।   লন্ডনের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে বলে তার মুখপাত্র জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের কোনো বক্তব্য আসেনিলন্ডনের স্থানীয় সময় গতকাল দুপুরে ওই হামলা হয়। হামলার সময় পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন চলছিল। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে সংসদ ভবনে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত সংসদ ভবন থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়।এমপিদের নিরাপত্তায় পুরো সংসদ ভবন এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।কয়েক ঘণ্টার জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে পার্লামেন্ট ভবন।হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।হামলাকে ‘অসুস্থ ও বিকৃতি রুচির’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।থেরেসা মে বলেছেন, এই হামলা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও বাক্স্বাধীনতার মতো মূল্যবোধের ওপর আঘাত।লন্ডনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টর কাছে গুলি এবং ওয়েস্টমিনস্টার সেতুর কাছে সন্ত্রাসী হামলাকে অসুস্থ ও বিকৃতি রুচি অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে। ঘটনার পরপরই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়ে এক জরুরী বৈঠক শেষে ডাউনিং স্ট্রিটে এক ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন।একই সঙ্গে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের মত মূল্যবোধ চর্চা করে বিশ্বের শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা অর্জন করেছে।যারা এই মূল্যবোধ প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের কাছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট অবশ্যই একটি টার্গেটে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সন্ত্রাসের কাছে ব্রিটেন হার মানবে না, প্রত্যয় ব্যক্ত করে টেরিজা মে বলেন, বৃহস্পতিবার স্বাভাবিক নিয়মে সংসদের সভা বসবে।ঘৃণা এবং অশুভ শক্তি ব্রিটেনকে বিভক্ত করতে পারবে না জানিয়ে থেরেসা মে বলেন,“স্বাভাবিকভাবে লন্ডনের বাসিন্দারা নিজেদের দৈনন্দিন কাজকর্ম সারবেন।এবং শহরে বেড়াতে আসা পর্যটকেরাও স্বাভাবিক নিয়মে চলবে।

 

নেদারল্যান্ড-তুরস্ক দাঙ্গা ন্যাটো সামরিক জোটের জন্য হুমকি

 রায়হান আহমেদ তপাদার  
তুরস্ক ও ইউরোপীয় কয়েকটি দেশের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে।এর ফলে জার্মানি,নেদারল্যান্ডস,অস্ট্রিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক কূটনৈতিক সংকট।তা দিনকে দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হচ্ছে দেশগুলোর নেতাদের মধ্যে।সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।দুই মন্ত্রীর সফরে বাধা দেয়ায় নেদারল্যান্ডসকে মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।তিনি বলেছেন,দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষতি করায় ডাচকে ওই মূল্য দিতে হবে।এরদোয়ান বলেছেন, আমরা তাদেরকে আন্তর্জাতিক কূটনীতি শেখাবো।তুরস্কের এই প্রেসিডেন্ট নিজের ক্ষমতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী ১৬ এপ্রিল গণভোটের আয়োজন করেছে। গণভোটে প্রবাসীদের সমর্থন পেতে নেদারল্যান্ডে সমাবেশে অংশ নেয়ার কথা ছিল তুরস্কের পরিবার বিষয়ক মন্ত্রী ফাতমা বেতুল সায়ান কায়ার।পূর্বনির্ধারিত ওই সমাবেশে অংশ নিতে শনিবার সড়কপথে নেদারল্যান্ড যান তিনি।ওই সমাবেশে যোগ দেয়ার আগে রটারডামে তুরস্কের কনস্যুলেট কার্যালয়ে তাকে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়।পরে পুলিশি পাহারায় জার্মান সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয় সায়ান কায়ারকে।ডাচ সরকার বলছে, নেদারল্যান্ডসের আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের আগে এ ধরনের সমাবেশের ফলে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে।তুরস্কের দুই মন্ত্রীকে নেদারল্যান্ডসে প্রবেশ করতে না দেয়ার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।তুরস্কের দুই মন্ত্রীকে প্রবেশে বাধা দিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করায় নেদারল্যান্ডসকে মূল্য দিতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইপ এরদোগান।এর প্রতিক্রিয়ায়,ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট তুর্কি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।   এরদোগানের প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে গণভোট আদায়ে নেদারল্যান্ডসের বসবাসরত তুর্কিদের মধ্যে প্রচারণা চালাতে রটারডামে এক সমাবেশে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন দুই তুর্কি মন্ত্রী।তবে তাদের প্রবেশ করতে দেয়নি ডাচ কর্তৃপক্ষ।তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাবুসোগলু উড়োজাহাজে করে নেদারল্যান্ডে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।কিন্তু তাকে সেদেশে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়।নেদারল্যান্ড সরকারের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রটারডামে তুরস্কের কনস্যুলেট ভবনের কাছে প্রায় এক হাজার তুর্কি নাগরিক বিক্ষোভ করেছেন।এসময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা।পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও ঘোড়সওয়ারি পুলিশ মোতায়েন করা হয়।এদিকে, নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম।তিনি বলেন,তুরস্কের গণভোটের আগে পরিবারবিষয়ক মন্ত্রী ফাতমা বেতুল সায়ান কায়ারকে রটারডামের সমাবেশে অংশ নিতে না দিয়ে নেদারল্যান্ডস কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে।  উল্লেখ্য,সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থার বদলে রাষ্ট্রপতি শাসিত প্রজাতন্ত্রে ফিরে যেতে চায় তুরস্ক।এ লক্ষ্যে আগামী ১৬ এপ্রিল তুরস্কে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।এর ফলে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।তুরস্কের পরিবারবিষয়ক মন্ত্রী ফাতমা বেতুল সায়ান কায়া সড়ক পথে রটারডাম পৌঁছান।কিন্তু ডাচ পুলিশ তার প্রবেশ প্রত্যাখ্যান করে তাকে জার্মান সীমান্তের দিকে নিয়ে যায়।অন্যদিকে এরদোগানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু আকাশ পথে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার প্রবেশ প্রত্যাখান করে ডাচ কর্তৃপক্ষ।এদিকে রটারডামে তুরস্কের সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে দেয় ডাচ পুলিশ।এ সময় সমবেত তুর্কিদের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি হলে সেখানে জলকামান ব্যবহার করে ডাচ পুলিশ। প্রায় ৪ লাখ তুর্কি বংশোদ্ভত লোকজন নেদারল্যান্ডসে বসবাস করে।আঙ্কারা তাদের ভোট পেতে আগ্রহী।  ডাচ সরকার বলছে নেদারল্যান্ডসের সাধারণ নির্বাচনের আগে এ ধরনের সমাবেশ উত্তেজনায় ইন্ধন জোগাবে। এদিকে বিভিন্ন দেশে সমাবেশ করা নিয়ে জার্মানসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশের সঙ্গে বিব্রতকর সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছে তুরস্কের।তুরস্ক ও ইউরোপীয় কয়েকটি দেশের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে।এর ফলে জার্মানি,নেদারল্যান্ডস,অস্ট্রিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক কূটনৈতিক সংকট।তা দিনকে দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হচ্ছে দেশগুলোর নেতাদের মধ্যে।সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।নেদারল্যান্ডসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সমর্থনে বের করা বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করেছে।রটারডাম শহরে তুরস্কের কনস্যুলেটে প্রবেশের চেষ্টা করায় তুরস্কের একজন মন্ত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।এর জবাবে আঙ্কারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।একই সঙ্গে কঠোর প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছে।তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।ডাচ্‌ রাষ্ট্রদূত ও সিনিয়র কূটনীতিকদের বাসা সিল করে দেয়া হয়েছে।নিরাপত্তার অজুহাতে এমনটা করা হয়েছে।তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কালুসোগলুকে বহনকারী বিমান নেদারল্যান্ডসে অবতরণের অনুমতি না দেয়ায় এ উত্তেজনার সূচনা।এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি ও দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।প্রবেশ প্রত্যাখাত হওয়ার পর তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নেদারল্যান্ড?সকে ফ্যাসিজমের রাজধানী হিসেবে মন্তব্য করেছেন। ডাচ-তুর্কি সম্পর্ককে নেদারল্যান্ডস বিসর্জন দিয়েছে অভিযোগ তুলে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান সতর্ক করে বলেন,এ জন্য মূল্য দিতে হবে।নেদারল্যান্ডস সমালোচনা করে এরদোগান বলেন, আমি ভেবেছিলাম নািসবাদ শেষ হয়ে গেছে,কিন্তু আমি ভুল।গত সপ্তাহে এরদোগান জার্মানির বিরুদ্ধেও নািসবাদ ও ফ্যাসিবাদের একই ধরনের শব্দ ব্যবহার করেন।তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন,গত কয়েকদিনে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস এ ইসলাম ফোবিয়ার প্রতিফলন দেখেছি।  ডাচ ও জার্মানিতে নাসাবাদ ও ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশ রয়ে গেছে এরদোগানের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে জার্মান চ্যান্সেলর অঙ্গেলা মারকেল ও নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের বক্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য বলেছেন। পশ্চিমা গণতন্ত্রবিরোধী বক্তব্য ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে তুরস্কের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের জের ধরে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী লারস লোক্কা রাসমুসেন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমের সঙ্গে বৈঠক স্থগিত করেছেন।তুরস্কে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের ক্ষমতা আরো বাড়ানো নিয়ে যে গণভোট আয়োজন করা হয়েছে তাতে ‘হ্যাঁ’ভোটের পক্ষে তুরস্ক ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেয়।মার্ক রুট বলেন, তার সরকার দ্বন্দ্ব্ব কমাতে কাজ করছে।যদি তুরস্ক দ্বন্দ্ব্ব বাড়ানো পছন্দ করে, আমরা অবশ্যই প্রতিক্রিয়া দেখাবো।কিন্তু এ সমস্যা সমাধানে আমরা সব কিছু করতে পারি।কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নেদারল্যান্ডসে বসবাসরত তুর্কিদের বিষয়ে ডাচ প্রধানমন্ত্রী বলেন,তারা ডাচ নাগরিক,তাদের তুরস্কেও ভোটের অধিকার রয়েছে।এ ঘটনায় নেদারল্যান্ডসকে ‘ব্যানানা রিপাবলিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান।এ জন্য তিনি নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে অবরোধ দেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।তিনি পশ্চিমা দেশগুলোকে ইসলাম বিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি এক র‌্যালিতে বলেন,এর আগে আমি বলেছিলাম আমি মনে করি নাৎসীবাদ শেষ হয়ে গেছে।কিন্তু আমি ভুল ভেবেছিলাম।এখনো পশ্চিমে জীবিত আছে নাৎসীবাদ।তার এ বক্তব্যের কারণে রোববার ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডাচ্‌ প্রধানমন্ত্রী রুত্তি। নিজের দেশ সম্পর্কে তিনি বলেন,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসীরা এ দেশের ওপর বোমা হামলা করেছিল।তুরস্ক যেভাবে কথা বলছে তা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।তুরস্ক যদি তার বর্তমান অবস্থান অব্যাহত রাখে তাহলে নেদারল্যান্ডস তার পদক্ষেপ সম্পর্কে বিবেচনা করবে।   ওদিকে জার্মানির মন্ত্রীরাও তুরস্কের বিরুদ্ধে কড়া জবাব দিয়েছেন।জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল বলেছেন,জার্মানিতে আয়োজিত র‌্যালিতে তুরস্কের মন্ত্রীদের যোগদানের বিরোধী নয় তার সরকার।কিন্তু তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টমাস ডি মেইজিয়েরে বলেছেন,জার্মানিতে তুরস্কের রাজনৈতিক সমাবেশের বিরোধী তিনি।বলেন,তুরস্কের রাজনৈতিক প্রচারণার কোনো ক্ষেত্র নেই জার্মানিতে।জার্মানির অর্থমন্ত্রী উলফগ্যাং শোয়েবল বলেছেন,সহযোগিতার আরো অগ্রগতির ভিত্তি ধ্বংস করে দিয়েছে তুরস্কে।খবর পাওয়া যায়,সুইডেনের রাজধানী স্কটহোমেও এরদোগানপন্থিরা রোববার র‌্যালি আয়োজন করেছিল।কিন্তু তা বাতিল করা হয়।সেখানে যোগ দেয়ার কথা ছিল তুরস্কের কৃষি মন্ত্রীর।সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে,তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জড়িত নয় সুইডেন। উল্লেখ্য,তুরস্কের বৃহৎ বিরোধী দল সিএইচপির নেতা কামাল কিলিকদারোগলু অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে আয়োজিত এ গণভোট অবশ্যই সুষ্ঠু হবে।তুরস্ক এবং নেদারল্যান্ডের মধ্যে চলমান উত্তেজনা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক জোট ভেঙে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডেভিড লিন্ডর্ফ।ইরানের প্রেস টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।গতকাল নেদারল্যান্ডের একটি বিমানবন্দরে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লুকে নামতে না দেয়ার পর দেশটির সঙ্গে আংকারা সরকারের সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিনি এ কথা বলছেন।সাংবাদিক লিন্ডর্ফ বলেন,ন্যাটো জোট ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এ কারণে যে,তুরস্ক ও নেদারল্যান্ড দু দেশই এ জোটের সদস্য এবংসদস্য দেশের মধ্যকার দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে।তুরস্ককে কেন্দ্র করে পুরো ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক মনোভাব বিরাজ করছে।এছাড়া,জার্মানি ও তুরস্কের মধ্যে দ্বন্দ্ব এবংবাগযুদ্ধ চরম আকার ধারণা করেছে।লিন্ডর্ফ বলেন,ন্যাটো জোটে এরইমধ্যে এক ধরনের অচলাবস্থা রয়েছে;এরপর তুরস্ক ও নেদারল্যান্ডের মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্ব।ফলে এটা অবশ্যই ন্যাটো সামরিক জোটের জন্য বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

 

স্কটল্যান্ড স্বাধীনতার জন্য দ্বিতীয় গণভোট চায়

রায়হান আহমেদ তপাদার
ব্রেক্সিটের মূল্য চোকাতে হতে পারে ব্রিটেনকে।এবার ব্রিটেনে থাকবে কিনা তা নিয়ে গণভোট হবে স্কটল্যান্ডে। সোমবার স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্ট্রুগান জানিয়েছেন ২০১৮ বা ২০১৯ সালের মধ্যে তিনিও গণভোট চাইবেন।ওয়েস্টমিনস্টার সংবিধানের ৩০ ধারা মেনে ব্রিটেন থেকে বিচ্ছেদ চেয়ে গণভোট চাইতে স্কটল্যান্ডের পার্লামেন্টে তিনি বিল আনবেন বলে জানিয়েছেন।সেই গণভোটে যদি স্কটল্যান্ড আলাদা হওয়ার পক্ষে মত দেয় তবে ভেঙে যাবে ব্রিটেন।এর আগেও দু’‌দু’‌টি গণভোট দেখেছে স্কটল্যান্ড।প্রথম বার ছিল স্কটল্যান্ড ব্রিটেন থেকে বেরিয়ে যাবে কিনা।স্কটল্যান্ডকে ব্রিটেন থেকে বিচ্ছেদ রুখতে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সেবার জোরদার প্রচার চালিয়েছিলেন।স্কটিশরাও ব্রিটেনে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।পরিস্থিতি পাল্টায় ব্রেক্সিট নিয়ে গণভোটে।স্কটল্যান্ড ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।কিন্তু ইংল্যান্ড ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেয়।ব্রিটিনের প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে যতই ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বার হতে চাইছেন ততই বেঁকে বসছে স্কটল্যান্ড।তারা মনে করছেন মতের বিরুদ্ধে যাচ্ছে ব্রিটেন।এই অবস্থা আটকাতে আগেভাগে ব্রিটেন থেকেই বার হতে চাইছে স্কটল্যান্ড।স্ট্রুগান বলেন,আমি নিশ্চিত করতে চাই ইইউ থেকে ব্রিটেন বার হওয়ার পরেও যেন স্কটল্যান্ডের সামনে থেকে যাওয়ার একটা বিকল্প থাকে।স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোট সমর্থন করেন ব্রিটেনে বিরোধী লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন।তিনি মনে করেন,যদি স্কটিশরা চায় তাহলে এমন গণভোট হবে চমৎকার বিষয়।লন্ডনের দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট করবিনের বরাত দিয়ে জানায়,যদি স্কটল্যান্ডে গণভোটের দাবি করে তাহলে তা হতে দেওয়া উচিত।তিনি ইঙ্গিত দেন,স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জেন যদি দ্বিতীয় গণভোটকে সামনে নিয়ে আসেন তাহলে সে উদ্যোগে ওয়েস্ট মিনস্টারের বাধা দেওয়া উচিত নয় বলে তিনি বিশ্বাস করেন। দ্বিতীয় গণভোট কি অপরিহার্য?এর জবাবে জেরেমি করবিন বলেন,যদি একটি গণভোট হয় তাহলে তো সেটা খুবই ভালো কথা।আমি মনে করি এটা হতে পারে ব্রিটেনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের অধীনেই।তবে তার এ মতের সঙ্গে মেলে না স্কটিশ লেবার নেতা কেজিয়া ডুগডালের মতের।ওদিকে জেরেমি করবিনের মন্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর পরই স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির নেত্রী ও ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জেন টুইটে বলেছেন, স্কটল্যান্ডের পক্ষে থাকার জন্য সব সময়ই জেরেমি করবিনের প্রতি আমরা সন্তুষ্ট।স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষের সবচেয়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ক্ষমতাসীন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির।সরকার গঠনের আগে এ দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের।সরকার গঠনের পর শুধু প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে নয়,রীতিমতো কোমর বেঁধে নেমেছে দলটির নেতা-কর্মীরা।হ্যা’প্রচারণায় গঠন করা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল। রাস্তায় রাস্তায় সাধারণ মানুষকে গণহারে তারা বোঝাচ্ছেন,স্বাধীনতা মানে আরো উজ্জ্বল ভবিষ্যত্।যার নিয়ন্তা একান্ত নিজেরাই।হ্যা’ভোটের প্রচারকরা বলছেন, আসন্ন গণভোট এ জীবনের একমাত্র সুযোগ।একইভাবে রাজপথে ‘না’ প্রচারণার দাপটও কম নয়।যারা এখনও দোদুল্যমান রয়েছেন,তাদের ধরে ধরে বোঝানো হচ্ছে একত্রিত থাকার নানা সুবিধার কথা।কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব  কোনো কাজে আসেনি।আর তা আবার স্বাধীনতার দাবিতে আবারও গণভোটের দাবি জানাচ্ছে স্কটল্যান্ড। ২০১৮ সালের গ্রীষ্মের আগেই এ গণভোটের আয়োজন করতে অনুমতি চাওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজিওন।তিনি বলেছেন, ব্রিটেনের ইইউ ছাড়ার প্রক্রিয়ায় স্কটল্যান্ডের স্বার্থ সংরক্ষণে এ গণভোট প্রয়োজন।খবর বিবিসির।যুক্তরাজ্য থেকে বের হয়ে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা ঘোষণা করার পক্ষে-বিপক্ষে গণভোট করা হয়েছিল ২০১৪ সালে।৫১-৪৯ শতাংশ ভোটে তখন যুক্তরাজ্যের অখণ্ডতার পক্ষ নিয়েছিল স্কটিশ জনগণ।নিকোলা স্টারজিওন মনে করেন,২০১৪ সালের অবস্থা এখন আর নেই।পুরো বিষয়টির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্টে এ বিষয়ে প্রস্তাব তোলা হবে এবং গণভোট প্রশ্নে সেকশন-৩০ এর ভিত্তিতে আদেশ প্রার্থনা করা হবে।ওই আদেশে স্বাধীনতার দাবিতে আইনগতভাবে বাধ্যবাধকতামূলক গণভোটের অনুমতির কথা বলা হয়েছে।ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে নতুন গণভোটের অনুমতি দেবেন কিনা-সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।শনিবার বিরোধী লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন,স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোট সমর্থন করেন।তিনি মনে করেন, যদি স্কটিশরা চায় তাহলে এমন গণভোট হবে চমৎকার বিষয়।জেরেমি বলেন,স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজিওন যদি দ্বিতীয় গণভোটকে সামনে নিয়ে আসেন,তাহলে সে উদ্যোগে ওয়েস্ট মিনস্টারের বাধা দেয়া উচিত হবে না।বিশ্লেষকরা বলছেন,ব্রেক্সিট গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যে ভাঙন শুরু হয়েছে,তার ঢেউ গিয়ে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে খোদ যুক্তরাজ্যের মানচিত্রে।স্কটল্যান্ডের ৬২ শতাংশ মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পক্ষে রায় দিয়েছিল।আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল ৩৮ শতাংশ। উত্তর আয়ারল্যান্ডে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল ইইউ’র পক্ষে।কিন্তু ইংল্যান্ডের বাকি অংশ এবং ওয়েলস চেয়েছিল বিচ্ছেদ। ভোটের হিসাবে জিতে যায় ব্রেক্সিট পক্ষ।আর তাতেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনকে বের করে নিতে প্রক্রিয়া শুরু করতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মেকে।স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজিওন নিশ্চিত করেছেন, যুক্তরাজ্য থেকে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার জন্য দ্বিতীয় গণভোটের অনুমতি চাইবেন।তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের সিদ্ধান্তে স্কটিশ জনগণের স্বার্থরক্ষায় এই গণভোট আয়োজন করা প্রয়োজন।২০১৮ সালের শরৎ ও বসন্তের মাঝামাঝি সময়ে এই গণভোট আয়োজন করতে চান তিনি।তিনি বলেন,পার্লামেন্টে গণভোট সংশ্লিষ্ট সেকশন ৩০ অর্ডার জারি করার অনুমতি চাইবেন তিনি।স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার জন্য নতুন গণভোট আয়োজনের আইনগত ভিত্তির জন্য নির্দেশটি জারি করা প্রয়োজন।  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এতদিন পর্যন্ত এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাচ্ছিলেন যে স্কটল্যান্ডের গণভোট আয়োজনের অনুমতি দেয়া হবে কী না।স্টারজিওনের ঘোষণার প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, এটা পরিষ্কার যে স্কটল্যান্ডের মানুষ দ্বিতীয় গণভোট চায় না।দুই বছরেরও কম সময় আগে স্কটল্যান্ডের মানুষ যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছে যে ভোটকে এক প্রজন্মে একবার ভোট বলে অভিহিত করেছিল স্কটিশ সরকার।এদিকে আরেকটি গণভোট আয়োজন করলে বিভেদ সৃষ্টি হবে এবং সবচেয়ে সংকটময় সময়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করবে বলে অনেকের ধারণা।কিন্তু স্টারজিওন এডিনবার্গে বুট হাউসে দেয়া বক্তব্যে বলেন,স্কটল্যান্ডের মানুষকে হার্ড ব্রেক্সিট কিংবা স্বাধীনতা যেকোনো একটি বেছে নেয়ার সুযোগ দিতে হবে।স্কটিশ সরকারের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য একক ইউরোপীয় বাজার ত্যাগ করলেও স্কটল্যান্ড এর সদস্য থাকবে। থেরেসা মে বলেছেন, স্কটল্যান্ড এই সুযোগ পাবে।স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি কয়েক বছর আগে প্রথম যখন স্বাধীনতার প্রশ্ন তোলে, তখন মনে হয়েছিল বিষয়টি সুদূর পরাহত।কিন্তু নানা প্রচারণার কৌশলে এখন মনে হচ্ছে,স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা সময়ের ব্যাপার মাত্র।এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর আইন করে ভোটারদের বয়স ১৭ থেকে কমিয়ে ১৬ করেছে রাজ্য সরকার। এভাবে যত দিন গড়াচ্ছে, ততই যেন বাড়ছে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি।এক সপ্তাহ আগে অবজারভার পত্রিকার এক জনমত জরিপে দেখা গিয়েছিল ৫৩ শতাংশ স্কটিশ স্বাধীনতা চায় না।আর তাইতো কোনো পরিবর্তন আসেনি বিধায় তারা আবার গণভোটে যেতে চায়। ২০১৪ সালে গণভোটে স্কটল্যান্ডের ৪৫ ভাগ মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিয়েছিল।দেশটির ১ হাজার ৬০০ প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ওই জরিপ চালানো হয়।এদিকে,একই বিষয়ে ছোট পরিসরে জরিপ চালিয়ে সানডে টাইমস জানিয়েছে,স্কটল্যান্ডের ৫২ ভাগ ভোটার ব্রিটেন থেকে স্বাধীন হয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।এদিকে, ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো স্কটল্যান্ডও সদস্য হওয়ার আবেদন জানাতে পারবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।তবে সমস্যা হলো, স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা আন্দোলনের দিকে চেয়ে আছে স্পেনের কাতালোনিয়া প্রদেশ, কানাডার কুইবেক প্রদেশ এবং ফরাসি ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ কোরসিকার বাসিন্দারা। স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার বিতর্ক তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।১৭০৭ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়ালেসের সাথে একীভূত হয় স্কটল্যান্ড রাজ্য।এরপর কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে আর উন্নত ভবিষ্যতের লোভ দেখিয়ে স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারণা চালাতে থাকে স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি।২০১১ সালের মে মাসের পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে চমক দেখায় এই দল।অবশেষে ২০১২ সালের অক্টোবরে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের অনুমতি দেয় ব্রিটিশ সরকার।স্কটল্যান্ডের শতকরা ৫৯ ভাগ মানুষ এখন বৃটেন থেকে স্বাধীন হতে চায়। নতুন এক জনমত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেন বের হয়ে যাওয়ার দু দিনের মাথায় এ খবর এল।বৃটেনের সংবাদপত্র সানডে পোস্ট বলছে, বৃটেন থেকে স্বাধীন হওয়ার জন্য শতকরা ৫৯ ভাগ মানুষের এই সমর্থন নজিরবিহীন ঘটনা।

 

রাজনগরে মাদকসহ কলেজ ছাত্রী ও তার মা গ্রেফতার ২১ বোতল ফেন্সিডিল ১কেজি গাঁজা ও ৫ বোতল ভারতীয় হুইস্কি উদ্ধার


মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের রাজনগরের ফেন্সিাডল ও গাঁজাসহ কলেজ ছাত্রী ও তার মাকে গ্রেফতার করেছে মৌলভীবাজার ডিবি পুলিশ।
বুধবার (১৫ মার্চ) বিকালে উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের মাথিউড়া চা বাগান থেকে ২১ বোতল ফেন্সিডিল, ১কেজি গাঁজা ও ৫ বোতল ভারতীয় হুইস্কিসহ তাদের আটক করে মৌলভীবাজার ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এদিকে ওই মেয়েকে গ্রেফতার করায় স্থানীয় ভাবে অসন্তুষ দেখা দিয়েছে।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকালে উপজেলার মাথিউড়া চা বাগানে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মাদক ব্যবসায়ী গোপাল রাজনভরের বাড়িতে মৌলভীবাজার ডিবি পুলিশের এসআই নিতাই রায়, এসআই মোমিন ও এসআই সুকমল ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল অভিযান চালায়। গোপাল রাজভরের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ২১ বোতল ফেন্সিডিল, ১কেজি গাঁজা ও ৫ বোতল ভারতীয় হুইস্কি উদ্ধার করে। এসময় ঘরে থাকা গোপাল রাজভরের মা বিদ্যা রাজভর (৬০) ও তার বোন সাবিত্রি রাজভরকে (১৯) আটক করে। পরে তাদের মৌলভীবাজার ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এঘটনায় ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে রাজনগর থানায় মামলা করেছে।
মাথিউড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি সুগ্রিম গৌড় বলেন, গোপাল রাজভর মাদক ব্যবসায়ী ঠিক। কিন্ত তার বোন এতে জড়িত নয়। সে কলেজ শিক্ষার্থী। এতে বাগানের চা শ্রমিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার দেখা দিয়েছে। সাবিত্রি রাজভরের বিয়ে আগামী বৈশাখ মাসে ধার্য করা হয়েছে।
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক বলেন, তাদেরকে ডিবি পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। রাজনগর থানায় এখনো (সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা) হস্তান্তর করেনি।

নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে মানবাধিকার ও টেকসই শান্তি নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ


নিউইয়র্ক, ১৪ মার্চ :
বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে এবং নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে মানবাধিকার ও টেকসই শান্তি নিশ্চিত করতে জাতির পিতার দেখানো পথে কাজ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন ১৩ মার্চ সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে কমিশন অন দ্য স্টাটাস অভ্ উইমেন (সিএসডব্লিউ) এর ৬১তম সভায় বাংলাদেশ মিশন আয়োজিত ‘ডড়সবহ ধহফ ঝঁংঃধরহধনষব চবধপব: ঊংংবহঃরধষ ভড়ৎ ঐঁসধহ জরমযঃং ঃড় চবধপব’ শীর্ষক এক সাইড ইভেন্টে একথা বলেন।
স্থায়ী প্রতিনিধি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ নারী উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বের বুকে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। এরই স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী অর্জন করেছেন সাম্প্রতিক সময়ের ইউএন উইমেন এর ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরামের ‘এজেন্ট অভ্ চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’সহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার।
মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার মূলনীতি ও ধারাসমূহকে ধারণ করেই প্রণয়ন করা হয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান। বাংলাদেশ জাতিসংঘের মানবাধিকার রক্ষা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে জেনেভাস্থ মানবাধিকার রক্ষা কাউন্সিল কর্তৃক ‘মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তি নিশ্চিত’ করার আলোচনায় শুরু থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ‘শান্তির সংস্কৃতি ও অসহিংসতা’ বিকাশের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রবক্তা।
নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, বাংলাদেশ সবসময়ই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হাইতি ও কঙ্গোতে বাংলাদেশই প্রথম নারী পুলিশ কন্টিনজেন্ট প্রেরণ করে। জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত নারীর সুরক্ষা ও যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ বিষয়েও বাংলাদেশ সুনির্দিষ্টভাবে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া ২০১৬ সালে জাতিসংঘ পিস্ বিল্ডিং কমিশন গৃহীত ‘জেন্ডার স্ট্রাটেজি’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে মর্মে রাষ্ট্রদূত মোমেন তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের খ্যাতনামা কূটনীতিক, জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল করীম চৌধুরী এই সাইড ইভেন্টটির মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে আরো বক্তব্য রাখেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল পিস্ ব্যুরো’র জাতিসংঘের প্রতিনিধি ঈড়ৎধ ডবরংং, স্প্যানিস সোসাইটি ফর ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস্ ল’র সভাপতি ঈধৎষড়ং ঠরষষপ্সহ উঁৎপ্সহ, জাতিসংঘের শিশু অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য গরশরশড় ঙঃধহর এবং উইমেন ইউএন রিপোর্ট নেটওয়ার্ক এর সমন্বয়কারী খড়রং অ ঐবৎসধহ।
জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ১৩ মার্চ শুরু হওয়া সিএসডব্লিউ’র এই ৬১তম সভার উদ্বোধন করেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতারেস। আগামী ২৪ মার্চ পর্যন্ত এ সভার কার্যক্রম চলবে।

মিউনিখ সম্মেলনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান দৃঢ় হলো।

 রায়হান আহমেদ তপাদার  
মিউনিখের নিরাপত্তা সম্মেলনে এঙ্গেলা মেরকেল এবং মাইক পেন্স জার্মানির মিউনিখে যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলন চলছে সেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স আশ্বাস দিয়েছেন যে নেটো প্রতিরক্ষা জোটের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।তবে তিনি একই সঙ্গে একথাও বলেছেন যে ইউরোপীয় দেশগুলোকে আরও বেশি করে নেটোর সামরিক ব্যয়ের ভার বইতে হবে।এর আগে একই সম্মেলনে জার্মানির চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মের্কেল নিরাপত্তা ও শরণার্থী সংকটের মত সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধে ইউরোপ রাশিয়ার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের এ বক্তব্য ইউরোপীয় জনগণের সত্যিকার আকাক্সক্ষার প্রতিফলন।কিন্তু পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সামগ্রিক কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ রাশিয়ার সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা খুব সহজ হবে না। লক্ষণীয় যে,মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে আগের মতো এবারও রাশিয়া ইউরোপে মার্কিন খবরদারির বিরুদ্ধচারণ করেছে।মস্কোর উপলব্ধি ইউরোপে মার্কিন হস্তক্ষেপমূলক প্রবণতা বরাবরই আঞ্চলিক সামরিক অস্থিরতার কারণ। ঠিক তেমনি গঠনমূলক ভারসাম্যপূর্ণ রাশিয়া ইউরোপ সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ব্যাহত করে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্র। যে কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার মতপার্থক্য মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বরাবরই ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। ঠিক এর আগের সম্মেলনেও রুশ প্রধানমন্ত্রী ইউরোপে মার্কিন খবরদারি কমানোর উপদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ইউরোপীয় নেতাদের প্রাণান্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বেক্সিটের মধ্য দিয়ে ইউরোপে মার্কিন আধিপত্য নতুন মাত্রা পেয়েছে।ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র কোন পথে যাবে তা নিয়ে চরম বিভ্রান্তিতে আছে নেটোর ইউরোপীয় মিত্ররা। মিউনিখের এই নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স তাদের পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিয়েছেন তার ভাষণে।তিনি বলেছেন,যুক্তরাষ্ট্র এখনো শক্তভাবে নেটো জোটের পক্ষে এবং আটলান্টিকের দুই তীরের এই জোটের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ যে একই মূল্যবোধ ধারণ করে সেটাও তিনি উল্লেখ করেছেন। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি আবার ইউরোপের দেশগুলোকে এটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে নেটো জোটের জন্য তাদের ব্যয় আরও বাড়াতে হবে।  নেটোর সদস্য দেশগুলো তাদের জিডিপির দুই শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করবে বলে অঙ্গীকারবদ্ধ। অথচ মাত্র চারটি দেশ সেই অঙ্গীকার রক্ষ করেছে।ইউরোপের মিত্র দেশগুলোকে তাদের অঙ্গীকার রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট চান, তারা যেন তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ান। নেটোর দায়িত্ব সবাইকে ভাগাভাগি করে নিতে হবে।”শক্তিশালী ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভাঙনে উক্ত সংস্থার সদস্যরা এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই চিন্তায় আছে। এই সুযোগেই যুক্তরাষ্ট্র রুশ সামরিক আগ্রাসনের কল্পিত সম্ভাবনা জাগিয়ে রুশ-ইউরোপ সম্পর্কের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে চায়। সম্মেলনে মস্কোর প্রতিনিধি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ স্নায়ুযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কার্যত হুশিয়ারি দেন। ওই আলোকেই ল্যাভরভ ইউরোপিয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য ন্যাটোকে অভিযুক্ত করেন। এ ক্ষেত্রে ন্যাটো রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার পথ বন্ধ রাখলে ইউরোপে স্নায়ুযুদ্ধের প্রভাব অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ইউরোপে স্বার্থ বিঘিœত হলে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার রুশ সক্ষমতা সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করেন। এটি ইউরোপে রাশিয়া কি চায় তার প্রচ্ছন্ন প্রতিফলন। ল্যাভরভের বক্তব্যে প্রমাণ করে যে, স্নায়ুযুদ্ধ উত্তর রুশ-ইউরোপ মৈত্রী জোরদার করার ক্ষেত্রে এখনো যুক্তরাষ্ট্র তথা ন্যাটোই প্রধান বাধা। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপে রুশ স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা ব্যাহত হলে স্নায়ুযুদ্ধের আবহেই ক্রেমলিন পাল্টা ব্যবস্থা নেবে পরিষ্কার।মিউনিখের নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তৃতা দিচ্ছেন মাইক পেন্স।তবে এই নিরাপত্তা সম্মেলনে জার্মান চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মেরকেলের কথায় ছিল ভিন্ন সুর।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব জায়গা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে গুটিয়ে নিয়ে যে একলা চলো নীতির কথা বলছেন, এঙ্গেলা মেরকেল তার বিপরীতে জোর দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর।নিরাপত্তা, ইসলামী সন্ত্রাসবাদের মোকাবেলা, বিশ্বায়ন আর শরণার্থী সংকটের মতো সমস্যার মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কোন বিকল্প নেই।  এঙ্গেলা মেরকেল বলেন, আমরা এখন এমন এক বিশ্বে বাস করছি, যেখানে কোন সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। আর স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও রাশিয়ার সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর যে ধরণের সম্পর্ক হওয়া উচিত ছিল তা হয়নি।বিশ্ব আজ যেসব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তা এককভাবে কোন দেশের পক্ষে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।এর সমাধান হতে পারে বহুপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে।এঙ্গেলা মেরকেল বলেন এটা হতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, নেটো এবং জাতিসংঘের মতো বহুপক্ষীয় কাঠামোগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে।৫৩তম মিউনিখ সম্মেলন ইউরোপে স্থিতিশীলতা ফেরানোর কার্যকর ও ইতিবাচক কোনো ফল নিয়ে আসেনি। উল্টো দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য বিবৃতির প্রতিক্রিয়া ইউরোপের নিরাপত্তা সংকটের সাম্প্রতিক তিক্ততাকে আরো উত্তেজনাপ্রবণ করে তুলবে নিঃসন্দেহে। যা ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার ত্রিমুখী পরস্পর নির্ভরশীল সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অনিশ্চয়তার আবর্তেই ব্রেক্সিট উত্তর ইউরোপের অর্থনৈতিক, সামাজিক প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট সংকট আরো ঘনীভূত হবে। এ সুযোগেই ইউরোপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বৃদ্ধি পেতে পারে। সম্মেলনে মার্কিন প্রতিনিধি ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি খোলাসা করেছেন। যা ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সাম্প্রতিক চিন্তা কমাতে সহায়তা করবে। ইউরোপীয় নেতাদের আশ্বস্ত করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ন্যাটোকে আটলান্টিকের উভয় তীরের ঐক্য, সংহতি আর একই মূল্যবোধের প্রতিশ্রুতি বলে অভিহিত করেন। এ বক্তব্যের ভেতর দিয়ে ইউরোপ কার্যত স্নায়ুযুদ্ধ যুগেই ফিরে গেল ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। যেখান থেকে পূর্ব ইউরোপের অবনতিশীল পরিস্থিতিকে মারাত্মক সামরিক ঝুঁকিপ্রবণ করে তুলল। এ ধরনের পরিস্থিতি ইউরোপের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের কৌশলগত হুমকি।  ব্রেস্ট্র থিংক ট্যাংক কনফারেন্স হিসেবে বিবেচিত মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন নিরাপত্তাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা প্রশমনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা।৬৩ সাল থেকে প্রতিবছর জার্মানির মিউনিখে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের শক্তিধর রাষ্টসমূহের পাশাপাশি প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশ,আন্তর্জাতিক সংস্থা, প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট এক্সপার্টস এ সম্মেলনে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অভিমত দিয়ে থাকেন।মূলত বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির নাজুক ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থ সংরক্ষণের প্রচেষ্টাই মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য। রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ন্যাটো ইইউসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রায় সাড়ে চার শ প্রতিনিধি এবারের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক ইস্যুতে সম্মেলন ছিল সরগরম। আগের মতো সম্মেলনে এবারও ন্যাটো ও রাশিয়া আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ করে। এ-সংক্রান্ত ধারণাগত মতপার্থক্যের কারণে উভয়পক্ষ ইউরোপ, ভূমধ্যসাগরীয় অভিবাসী সংকট, বাল্টিক অঞ্চলে রুশ-মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্য আদান-প্রদান ইত্যাদি বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। উত্তেজনা কিংবা আক্রমণাত্মক মনোভাবের কারণে সংকট কমে আসার কোনো পূর্বাভাস নেই মিউনিখ সম্মেলনে। এ সম্মেলন স্পষ্টত ইউরোপের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কৌশলগত ঝুঁকি কমাতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ছাড়া ব্রেক্সিট-উত্তর ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক, সন্ত্রাসবাদ দমন, সিরিয়া সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে সম্মেলনে। এসব বিষয়ে নতুন মার্কিন প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপে অসন্তুষ্ট ইউরোপীয় নেতাদের পক্ষে জার্মান চ্যান্সেলর মের্কেল গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি আন্তর্জাতিক আইনের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে সবাইকে নিয়ে বিশ্ব সংকট মোকাবিলার আহ্বান জানান। এ বক্তব্যে রাশিয়ার প্রতি ইউরোপীয় নেতাদের মনোভাব নমনীয়তা প্রকাশ পায়। ঐক্যবদ্ধভাবে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সামনে আসা ঝুঁকি কমাতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।  এবার ৫৩তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ।বিরূপ বিশ্ব পরিস্থিতি, নিরাপত্তাসংক্রান্ত আঞ্চলিক জটিলতা,রোহিঙ্গা সমস্যা এবং বঙ্গোপসাগরের সামগ্রিক পরিস্থিতি ইত্যাদি কারণে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কৌশলগতভাবে সবিশেষ তাৎপর্যপূর্র্ণ।এ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি আলোচনায় বক্তব্য রেখেছেন।আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে সামগ্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ উত্তরণে বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী তার বিভিন্ন বক্তব্যে বলেন,বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখেই দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিবর্তনশীল।এ ক্ষেত্রে কয়েকটি মৌলিক বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে কর্মকৌশল প্রণীত হচ্ছে।অন্যদিকে আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সক্ষমতা অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেন তিনি।আবার বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক জীবনে নেতিবাচক সংকট ডেকে এনেছে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা।যদিও এটি একটি গুরুতর মানবিক সমস্যা।বাংলাদেশ জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদের প্রতি নিজের প্রতিশ্রতি ও সম্মান দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করেছেন।এখন তাদের পুনর্বাসন প্রয়োজন।এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতা আছে।তাই এ সমস্যার গ্রহণযোগ্য সমাধান দরকার।মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে স্বাগতিক জার্মানির চ্যান্সেলরসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করেছে।এখানে পরিষ্কারভাবে তিনি বলেন যে, এ ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।এটি এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি। একই সঙ্গে এ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।যেটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলেই বিবেচিত। সব মিলিয়ে ৫৩তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের বাংলাদেশের অংশগ্রহণ খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। এ আলোকে বাংলাদেশ সামনের দিনগুলোতে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান দৃঢ় হলো।

 

সৌদিআরব মদিনা মনোয়ারা বাংলাদেশ ইন্টারন্যশনাল স্কুল এন্ড কলেজের অমর একুশে উদযাপন

মোহাম্মদ আলী রাশেদ, সৌদিআরব প্রতিনিধি :
মদিনার বাংলাদেশ ইন্টারন্যশনাল স্কুল এন্ড কলেজ এর উদ্যোগে অমর একুশে উদযাপন করা হয়ছে। ২১ ফেব্রুয়ারী স্কুলের ছাত্র ছাত্রী, শিক্ষক শিক্ষিকা ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা প্রভাতফেরী করে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।এ উপলক্ষে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এরপর স্কুলের ছাত্রদের সম্মিলিত কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের সম্মিলিত কন্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোসলেহ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্কুলের অভিভাবক ফোরামের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডা. আবুল কাশেম। প্রধান বক্তা হিসাবে  উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ আলম।

প্রধান অতিথির ভাষনে ডা: আবুল কাশেম ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সবার সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন ভাষার জন্য সংগ্রাম করে জীবন দেয়ার ঘটনা শুধু আমাদেরই আছে। এটা আমাদের জাতীয় গর্ব করার ইতিহাস। এটা আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য। এ ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না। তিনি ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস বেশি করে পড়ার জন্য ছাত্রছাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানান।প্রধান বক্তা কাজী শাহ আলম বলেন সুদূর প্রবাসে এসেও আমরা আমাদের ভাষা শহীদদের একান্ত ভাবে স্মরণ করতে পারছি এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। আমাদের ভাষা আন্দোলন আজ বিশ্বে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সে কারনেই আজকের দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।আলোচনা শেষে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপন করা হয়।

সৌদিআরব জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ইয়ানবু আলবদর সিটির সম্মেলন ও অভিষেক

মোহাম্মদ আলী রাশেদ, মদিনা :
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষায় দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আলবদর সিটির সম্মেলন ও অভিষেক অনুষ্ঠান হয়েছে।
২৩শে ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার স্হানীয় সময় রাত এগারটায় সুহদা আলবদর একটি কমউনিটি সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলবদর শাখার সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ।প্রধান অতিথি ছিলেন ইয়ানবু প্রাদেশিক বিএনপির সভাপতি মাষ্টার আবুবক্কর সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইয়ানবু প্রাদেশিক কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি সোহেল আব্দুর রশিদ শিকদার, সিনিয়র সহসভাপতি এস এম আলমগীর, ইয়ানবু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক ইকবাল সরকার।বক্তারা বলেন, দেশ এখন চোরের রাজ্যে পরিণত হয়েছে। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার শুধু ব্যাংক ও ভোট চোরই নয়, তারা মানুষের আবেগও চুরি করেছে। বক্তারা আরো বলেন, প্রবাসীদের অর্থে দেশ চলে আর সেই প্রবাসীদের টাকা লুটে পুটে খাচ্ছে সরকার।সভায় বক্তারা আরো বলেন, সারা দেশ এখন জেলখানায় পরিণত হয়েছে। দেশে বাক স্বাধীনতা নেই। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই কারাগারে যেতে হয়।বক্তব্য রাখেন বক্তব্য রাখেন ভূইঁয়া মাসুদ, মোজ্জামেল,  হুমায়ুন কবির, জহির মিয়া, ইসমাইল হোসেন, সাইফুল ইসলাম লিটন, শাহআলম, মোতালেব, রহমত উল্লাহ, আলমগীর হোসেন, আবুল হোসেন হারবী, নাসির, কারী শাহআলম, মন্জিল, ইউসুফ আহমেদ ও ইসমাইল  প্রমুখ।নিয়াজ মোর্শেদ কে সভাপতি ও ভূইঁয়া মাসুদ কে সাধারন সম্পাদক করে ৭১ জন বিসিষ্ট তিন বছরের জন্য কমিটি ঘোষনা করা হয়।

মদিনায় বাংলাদেশী কমিউনিটির উদ্যোগে বার্ষিক বনভোজন

মোহাম্মদ আলী রাশেদ, মদিনা :
২১ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মদিনায় বাংলাদেশী কমিউনিটির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও বনভোজনের আয়োজন করা হয়েছে। মদিনা একটি কমউনিটি সেন্টারে ২০ শে ফেব্রুয়ারি সোমবার স্হানীয় সময় রাত ১২ টাই এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।বনভোজনের স্মৃতি লালন করে রাখতে, “প্রবাসে   সব বাংলাদেশী মিলে একটি বড় পরিবার। সেই পরিবারের নাম বাংলাদেশ”- এই বনভোজনে দল-মত নির্বিশেষে পূর্বনির্ধারিত সময়ে একে একে সবাই জড়ো হতে থাকেন মদিনা একটি কমউনিটি সেন্টারে।

প্রবাসে ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করে প্রশান্তি নিতে এই বনভোজনে উপস্থিত হয়েছিল দলমত নির্বিশেষে বহু প্রবাসী বাংলাদেশীরা। আভিজাত্যে ও চমকে ভরা এই আয়োজনে সারাক্ষন ঘোড়াঘুরি, হৈচৈ ও নানা আনন্দ-উল্লাস করেছে মদিনা প্রবাসীরা।মদিনার কমিউনিটি নেতা জাহেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউটি নেতা মোঃ মাহফুজুল আলম।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম, মোস্তফা কামাল, আব্দুল মতিন ও মোরশেদ।এইচ এম ফখরুদ্দিন খান মাদানীর কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বক্তাগণ একুশের চেতনায় প্রবাসে অবস্থানরত সকলকে উদ্বুদ্ধ হবার আহ্বান জানান। ব্ক্তাগণ বলেন একুশে উপলক্ষে আয়োজিত বনভোজন মূলত সমগ্র বাংলাদেশীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার প্রেরণা যোগানো।

আলোচনা শেষে দেশাত্মবোধক গান দেশীয় ঐতিহ্যবাহি খেলা কাবাডি, বস্তা দৌড়, মোরগ লড়াই, বেলুন ফুটানো, বেডমিন্টন ও দাবা খেলার আয়োজন করা হয়। খেলা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরন করেন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। সর্বশেষে র্যাফেল ড্র এর আয়োজন করা হয়।এনটিভি সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় অনেক চ্যানেল অনুষ্ঠানে মিডিয়া পার্টনার হিসাবে উপস্থিত ছিল।

সাভারের আশুলিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও কুয়েতের ৫৬ তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত


মোঃ গোলাম মোস্তফা, ঢাকা জেলা প্রতিনিধি।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও কুয়েতের ৫৬ তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে সাভারের আশুলিয়ায় কুয়েত থেকে পরিচালিত সোসাইটি অফ সোসাল রিফম হাইস্কুলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার দুপুরে আশুলিয়ার গৌরিপুর এলাকায় স্কুল মাঠে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।মাতৃভাষা দিবস ও কুয়েতের ৫৬ তম জাতীয় দিবসের আলোচনা সভায় এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত কুয়েতের রাষ্ট্রদুত আদেল মোহাম্মদ হায়াৎ।আলোচনা সভায় এসময় কুয়েতের রাষ্ট্রদুত বলেন বর্তমান বিশে^ সবাই কুটনৈতিক অর্থনৈতিক সর্ম্পকের কথা বলে এবং উন্নতির কথা বলে কিন্তু সবাই মানবতার কথা ভুলে যায়। কিন্তু কুয়েত সবসময় সবদেশে মানবতার কল্যাণে কাজ করে।পরে তিনি কুয়েতের ৫৬ তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে কেট কাটেন ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরুস্কার বিতরণ করেন।
আলোচনা সভায় এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাব-উদ্দিন মাদবর, সোসাইটি অফ সোসাল রিফম হাইস্কুলের মহাপরিচালক ড.সাঈদ সাব্বিরসহ আরো অনেকে।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »