Category: অর্থ ও বাণিজ্য

ঝিনাইদহের মানুষের রক্ত ঘামানো টাকা নিয়ে লাইফ ইন্সুরেন্সগুলো চরম ভাবে প্রতারণা করছে

 

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ মানুষের রক্ত ঘামানো টাকা নিয়ে ঝিনাইদহের লাইফ ইন্সুরেন্সগুলো চরম ভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। তাদের প্রতারণা ফাঁদে পড়ে হতদরিদ্রসহ সব শ্রেনীর মানুষ নি:স্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্য অনেক লাইফ ইন্সুরেন্সের এজেন্টরা টাকা হাতিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। ক্লায়েন্টদের টাকাও ঠিক মতো জমা করা হয়নি কোম্পানীর রেজিষ্টোরে। এমন শত শত প্রমান পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে হতদরিদ্রদের টাকায় ফুলে ফেঁপে উঠছে লাইফ ইন্সুরেন্সের কর্ণধর ও তাদের এজেন্টরা। নিজের ও প্রজন্মের ভবিষ্যাত গড়তে মানুষ লাইফ ইন্সুরেন্সগুলোর দারস্থ হলেও আইনকানুন যথাযথ ভাবে মানা হচ্ছে না। টাকা জমা করার সময় সহজ শর্তে নিলেও মেয়াদ পুর্ন হলেই বাধছে ঝামেলা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় ৫ বছর, ১০ বছর ধরে জমানো অর্থ তুলতে গেলে নানা রকমের ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে। টাকা তোলার সময় গ্রাহকদের আবারো নতুন করে ইন্সুরেন্স করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমন অভিযোগ নামী দামী ইন্সুরেন্স আমেরিকান ইন্সুরেন্স কোম্পানী (এলিকো) সহ দেশীয় কোম্পানীদের বিরুদ্ধে। কলাবাগান পাড়ার এক বিশিষ্ট ব্যক্তি জানালেন, তার স্ত্রী আমেরিকান ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে ইন্সুরেন্স করেছিলেন। কিন্তু টাকা তোলার সময় তার জমানো টাকা বুঝে দেওয়া হয়নি। শহরের নতুন কোর্টপাড়ার নাম প্রকাশে এক মহিলা অভিযোগ করেন, তিনি সন্ধানীতে ইন্সুরেন্স করেছিলেন। ঝিনাইদহ স্টিফিন নগরের দেলোয়ার হোসেন সে সময় ঝিনাইদহ সন্ধানীর এজেন্ট ছিলেন। তার কাছে মাসিক কিস্তির টাকা জমা করেন। এরপর অফিস গুটিয়ে তিনি উধাও হয়ে যান। পরে ঝিনাইদহ ওয়াজির আলী স্কুলের কাছে সন্ধানীর অফিসে গিয়ে তিনি জানতে পারেন তার সব কিস্তুর টাকা জমা করা হয়নি। উপশহরপাড়ার আরেক মহিলাও এমন অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে দুই মহিলার একজন টাকা তুলতে পারেন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বেতাই ও জিয়ালা গ্রামের অন্তত ১০ ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তারা পপুলার লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর আব্দুর রশিদের কাছে টাকা জমা করে। প্রথম অবস্থায় তার অফিস ছিল ঝিনাইদহ শহরের আরাপুর। পরে তিনি সেখান থেকে ডাকবাংলা বাজারের মাহিরা মার্কেটে অফিস স্থান্তর করেন। সর্বশেষ তিনি আবারো ঝিনাইদহ শহরের হামদহ আরিফ ফিলিং স্টেশনের কাছে অফিস নেন। এরপর তিনি গ্রাহকদের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যান। এখনো প্রায় আড়াই’শ গ্রাহক পপুলার লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর কাছে ১০ লাখ টাকা পাবেন। টাকা না দিয়ে আব্দুর রশিদ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অনেকের চেক দিয়েছেন, কিন্তু ব্যাংকে গেলে চেক ডিসঅনার হচ্ছে। টাকার শোকে অনেক মানুষ পথে বসেছে। খোজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরে পদ্মা, সন্ধানী, বায়রা, ফারইস্ট, প্রাইম, পপুলার, মেঘনা, ন্যাশনাল, এলিকো, ডেল্টা, হোমল্যান্ড, প্রটেকটিভ, গোল্ডেন ও সানরাইফসহ অসংখ্য লাইফ ইন্সুরেন্স আছে। এ সব অফিসে খোজ নিয়ে জানা গেছে, তাদের নিয়োজিত এজেন্টরা চটকদার মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করেন। অনেক মানুষ ২/১ কিস্ত টাকা দিয়ে আর দেন না। এমন মানুষের সংখ্যা শত শত। মাসিক কিস্তি চালাতে না পেরে অনেক মানুষ হাল ছেড়ে দেন। মানুষের এ সব টাকা আর ফেরৎ দেওয়া হয় না। ঝিনাইদহ শহরের মাওলানা ভাসানী সড়কের চবিরণ নেছা জানান, তিনি মানুষের বাড়িতে কাজ করে লাইফ ইন্সুরেন্স করেছেন। এই টাকা তিনি আদৌ পাবেন কিনা তা জানেন না। শ অদ্যক্ষরের এক মহিলা অভিযোগ করেন, তিনি একটি ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে চাকরী করতেন, কিন্তু যে ভাবে মনুষকে প্রতারণা করা হয় আমি দেখে চাকরী ছেড়ে মাগুরায় চলে এসেছি। বিষিয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম হাসিবুর রহমান, আমাদের দেশে যে ভাবে ইন্সুরেন্স করা হয় তাতে ভোগান্তি বৃদ্ধি পায়। যথাযথ ভাবে আইন মানা হয় না। তিনি বলেন নিয়ন্ত্রন সংস্থার নজরদরী কাের হলে এমনটি হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

চালু হচ্ছে দেশের প্রথম ফ্রীল্যান্স সার্ভিস মার্কেটপ্লেস

বাংলাদেশে প্রথমবারের মত চালু হতে যাচ্ছে ফ্রীল্যান্স সার্ভিস  মার্কেটপ্লেস robotlancer.com এই ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে ফ্রীল্যান্সাররা নিজেদের আইটি সার্ভিস ওয়েবসাইটে সাবমিট করে বিক্রয় করতে পাড়বে এবং যে কনো প্রতিষ্ঠান সে সকল সার্ভিস অনলাইনে সরাসরি ক্রয় করতে পাড়বে। আছারাও বায়াররা অনলাইন জব পোস্ট করতে পাড়বে এবং ফ্রীল্যান্সাররা বিড করতে পারবে।
দেশের সুপরিচিত আইটি প্রতিষ্ঠান হ্যাশট্যাগ আইটি থেকে এই মার্কেটপ্লেসটি চালু হচ্ছে। গতকাল রবিবার  (২৬ মার্চ), রাজধানীর Hashtag IT Planet এর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে এর ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মাহমুদুল হাসান। তবে ওয়েবসাইটটি এখনো উদ্বোধন করা না হলেও এপ্রিল ২০১৭ এর মাঝের দিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে এর যাত্রা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন হ্যাশট্যাগ আইটির কর্মী সহ আরো অনেকেই।
মার্কেটপ্লেসটির সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মাহমুদুল হাসান, আইটি সেক্টরে বাংলাদেশ এখন মিলিয়ন ডলার আয় করছে বিভিন্য মাধ্যমে, যার মাঝে অন্যতম একটি হল ফ্রীল্যান্সিং। দেশে অনেক ট্যালেন্টেট আইটি কনসাল্টেন্ট আছেন কিন্তু এখনো নতুনদের মাঝে অনেকেই জায়গা করে নিতে পারছে না বিদেশী মার্কেটপ্লেস গুলোতে, তার সব থেকে বড় একটি কারন হচ্ছে পেমেন্ট গেটইয়য়ে এবং ভাশাগত সমস্যা, যা আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের আয়তার বাইরে। আবার অন্যদিকে বৃহৎ সমস্যা হচ্ছে দেশের অনেক ছোট এবং মাঝারি প্রতিষ্ঠান আছেন যাদের অস্থায়ী ভাবে বিভিন্য আইটি সার্ভিস প্রয়োজন হয় কিন্তু বেদেশি মার্কেটপ্লেসটি থেকে সেটি কেনা সম্ভব নয় পেমেন্ট গেটওয়ের জন্য। তাই রোবটল্যন্সার.কম মূলত দেশের ফ্রীল্যান্সার এবং প্রতিষ্ঠানগুলের মদ্ধে এই যোগ সুত্র করে দিবে বাংলাদেশী পেমেন্ট গেটওয়ে এবং অন্যান্য সুবিধার মাধ্যমে।
দেশে বর্তমানে একটি ফ্রীল্যান্স মার্কেটপ্লেস আছে যারা শুধু মাত্র দেশিও বাজারকে টার্গেট করে কাজ করছে কিন্তু ফ্রীল্যান্স “সার্ভিস” মার্কেটপ্লেস RobotLancer এই প্রথম বারের মত চালু হতে যাচ্ছে। এই দুটি মার্কেটপ্লেস কাজ করবে সম্পূর্ণ ভিন্য পদ্ধতিতে।
আমাদের মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিদেশী বায়ারদের আকর্ষণ করে আন্তর্জাতিক ভাবে এটিকে পরিচিত করে তোলা। সাইটে থাকবে বিদেশী পেমেন্ট গেটওয়ে এবং এটি আন্তর্জাতিক ভাবে বাজারজাত করা হবে। যার ফলে বিদেশী বায়াররা আমাদের দেশিও ফ্রীল্যান্সারদের কাছ থেকে বিভিন্য সার্ভিস ক্রয় করতে পারবে।

রাণীনগরে প্রথম মিনি কম্বাইন হার্ভেস্টার মেশিন বিতরন


নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে সোমবার কৃষকদের মাঝে সরকারি ভুর্তকিতে এই প্রথম মিনি কম্বাইন হার্ভেস্টার মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। এদিন সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এস এম গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্বে বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সত্যব্রত সাহা। খামার যান্ত্রিকরনের মধ্যে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প (২য় পর্যায়) এর আওতায় উপজেলার বড়গাছা ইউপি’র কৃষক মো: ওসমান গণির হাতে এই মিনি কম্বাইন হার্ভেস্টার মেশিনটি হস্তান্তর করা হয়।
কৃষকরা এই যন্ত্রের মাধ্যমে খুব সহজেই তাদের ধান ও গম ফসল কর্তন ও মাড়াই করতে পারবেন। বর্তমান শ্রমিক সংকটের সময়ে শ্রমিক সংকট ও অর্থ অপচয় যাতে না হয় তাই কৃষি বিভাগ কৃষকদের মাঝে এই ব্যয়বহুল মেশিনটি সরকারি ভুর্তকিতে বিতরন শুরু করেছে। এতে দেশের অবহেলিত কৃষকদের মাঝে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিকে ছড়িয়ে দিতে সরকার একধাপ এগিয়ে যাচ্ছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা।
উক্ত বিতরণ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো: আব্দুল আজিজ, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো: মাসুদুর রহমান, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছনিয়া ইসলাম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সবুজ কুমার সাহা, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান পিন্টু প্রমুখ।

কালীগঞ্জে ৪টি গ্রাম সজিনা প্রযুক্তি গ্রাম ঘোষণা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৪টি গ্রামকে সজিনা  প্রযুক্তি গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করেছে কৃষি বিভাগ। সজিনার পুষ্টি ও ওষুধী গুনের কথা ভেবেই প্রত্যেক বাড়িতে কমপক্ষে ১/২টি করে সজিনা গাছ থাকবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। ইতিমধ্যে সজিনার গাছ লাগানো কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায় ক্রমে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় আরো ১৫ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। সজিনা নিজের পরিবারের চাহিদা পুরণ করে অতিরিক্তটুকু বিক্রি করে আর্থিক  ভাবেও স্বাবলম্বী হতে পারে গ্রামবাসী।  বাড়ির আশে পাশে, রাস্তার পাশে পরিত্যক্তজায়গায় এ গাছগুলো লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, মুজিবনগর সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ৪টি গ্রামকে সজিনা প্রযুক্তি গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে  উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর ও ভাটপাড়া, নিয়ামপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম, পৌরসভার বলিদাপাড়া/মোচিক কলোনী এলাকাকে সজিনা প্রযুক্তি গ্রাম ঘোষণা করে সজিনা গাছ লাগানো শুরু হয়েছে। কমপেক্ষ প্রত্যেক বাড়িতে ১/২টি করে সজিনা গাছ থাকাবে সেই লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এই গাছ গুলো লাগানো হচ্ছে। বিভিন্ন বাড়ি থেকে সজিনার ডাল সংগ্রহ করে কাটিং পদ্ধতিতে ডালগুলো লাগানো হচ্ছে। ঐ চারটি গ্রামে মার্চ-এপ্রিল মাসে কমপক্ষে ২ হাজার ডাল লাগানো হবে। কৃষি অফিস আরো জানান, পর্যায় ক্রমে উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার সজিনা গাছ লাগনো হবে। মার্চ এপ্রিল মাসে সজিনা গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। এ সময় বিভিন্ন গাছ থেকে কাটিং পদ্ধতিতে ডালগুলো সংগ্রহ করে সেগুলোকে লাগানো হয়।কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদুল করিম জানান, সজিনাতে রয়েছে পুষ্টি ও ওষুধী গুনাগুন। উপজেলার জনগনের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তার কথা ভেবে মুজিবনগর সমন্বিত কৃষিউন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ৪টি গ্রামকে সজিনা প্রযুক্তি গ্রাম ও পুরো উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার সজিনা গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে কৃষিবিভাগ। তিনি আরো জানান, আয়ুর্বেদ শ্বাস্ত্রে সজিনায় প্রায় ৩শ প্রকার ব্যাধীর প্রতিষোধক হিসেবে ব্যবহৃত  হয়। শরীরের প্রয়োজনীয় সব  সাথে আবশ্যকীয় প্রায় সবগুলি এমাইনো এসিড সজিনা পাতায় বিদ্যমান বলে বিজ্ঞানীরা একে পুষ্টির ডিনামাইট হিসেবে আখ্যাতি করেছেন। সজিনা পাতা,ফুল ও সজিনা  খাওয়া যায়। এ্যানিমিয়া জয়েন্ট পেইন, ব্লাড পেশার, কিডনিতে পাথর,মায়ের দুধ বৃদ্ধিকরা,ক্যান্সার কোষ্টকাঠিন্য,ডায়াবেটিস, ডায়রিয়াম হার্ড পেইনসহ বিভিন্ন ওষধি গুনাগুন রযেছে বলে পুষ্টি বিশেজ্ঞরা মনে করেন। কৃষি অফিসার জাহিদুল করিম আরো জানান, সজিনা সাধারণত ধরে ফেব্রুয়ারী-মার্চ মাসে।  স্থানীয় ভেদে এক কেজি সজিনা প্রথম পর্যায় ১৫০- থেকে ২০০ টাকা কেজি দওের বিক্রয় করাহয় এবং ৫০-৮০ টাকা দরে বিক্রি করে। এছাড়াও সজিনার ফুল ও পাতাও বিক্রি হয়। অনেকে আবার একটি সজিনার ডাল ১০/২০ টাকায় বিক্রিও করে। যদি কেউ সজিনার  বাগান করতে চাই তাহলে কৃষি অফিস থেকে  তাকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

 

মিনিকেট’ নামে ধানের কোনো জাত নেই

ঝিনাইদহ থেকে আতিক রহমানঃ মিনিকেট ধানের চালের ভাতের প্রতি সবারই আগ্রহ রয়েছে। অথচ এ নামে ধানের কোনো জাত নেই। একশ্রেণির চালকল মালিক ভোক্তাদেরকে বোকা বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মোটা চাল ছেঁটে সরু করে তা মিনিকেট নামে চালিয়ে যাচ্ছে।কৃষিবিদ আব্দুল মজিদ বলেন, “দেশের নানা অঞ্চলে ধান গবেষণা ইনিস্টিটিউট উদ্ভাবিত জাতগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় জাতের ধান চাষ হয়। কিন্তু মিনিকেট নামে ধানের কোনো জাত দুদেশের কোথাও নেই। এ নামটি একটি গুজব।”মিনিকেট নামের উৎপত্তি নিয়ে কৃষিবিদ খোন্দকার সিরাজুল করিম বলেন, “১৯৯৫ সালের দিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতের কৃষকদের মাঝে সে দেশের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট নতুন জাতের চিকন শতাব্দী ধানবীজ বিতরণ করে। মাঠপর্যায়ে চাষের জন্য কৃষকদেরকে এ ধানবীজের সঙ্গে আরো কিছু কৃষি উপকরণসহ একটি মিনিপ্যাকেট প্রদান করে ভারতীয় সরকার।”তিনি আরো বলেন, “মিনিপ্যাকেটে করে দেয়ায় ভারতীয় কৃষকদের কাছে এ ধান শেষমেষ মিনিকিট বলে পরিচিতি লাভ করে। কৃষকরা মিনিপ্যাকেট শব্দটির মধ্য থেকে ‘প্যা’ অক্ষরটি বাদ দিয়ে মিনিকেট বলে পরিচয় দিতে শুরু করে।”কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে চাষযোগ্য এ ধানবীজ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের কৃষকদের হাতে পৌঁছায়। ঝিনাইদহ জেলার সীমান্তবর্তী মহেশপুর উপজেলার চাষিরা সর্বপ্রথম এ ধানবীজ চাষ শুরু করে। দেশে আগে নাজির শাইল, পাজাম ও বালাম ধানের চাষ হতো। এসব দেশি সরু ধানের চালের ব্যাপক চাহিদা ছিল।সূত্র আরো জানায়, বরিশালে বালামের সুনাম ছিল সারা ভারত উপমহাদেশ জুড়ে। কালের বিবর্তনে পসসব সরু জাতের ধানচাষ উঠে যায়। তবে সরু চালের সন্ধান করতে থাকে ক্রেতারা। এসময় বাজারে কথিত মিনিকেটের আর্বিভাব ঘটে। ক্রেতারা লুফে নেয় এ সরু জাতের চাল। সুযোগ বুঝে একশ্রেণির মিলমালিক মাঝারি সরু বি আর- ২৮, বিআর- ২৯ ও বি আর-৩৯ জাতের ধান ছেঁটে মিনিকেট বলে বাজারজাত করতে শুরু করে। বর্তমানে সারাদেশে চিকন চাল বলতে এখন মিনিকেটই বোঝায়, যার দামও চড়া।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা ও চুয়াডাঙ্গায় কথিত মিনিকেট ধানের চাষ হয়। গত বোরো মৌসুমে যশোর জেলায় ৩০ হাজার হেক্টরে, ঝিনাইদহ জেলায় ১৮ হাজার হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় তিন হাজার হেক্টরে ও মাগুরা জেলায় এক হাজার হেক্টর কথিত এ মিনিকেট ধানের চাষ হয়। সর্বমোট এ অঞ্চলে ৫৫ হাজার হাজার হেক্টরে মিনিকেট চাষ হয়েছিল। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ছিল ৩ দশমিক ৬২ মেট্রিক টন।ঝিনাইদহের ডাকবাংলা বাজারের চালকল ব্যাবসায়ীরা জানায়, যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা ও মাগুরা জেলা ছাড়া অন্য কোনো জেলায় মিনিকেট ধান উৎপাদন হয় না। গত বোরো মৌসুমে ধান ওঠার পর প্রতিমণ মিনিকেট ধানের দাম ছিল সাড়ে সাতশ থেকে আটশ টাকা। আর সে সময় প্রতিকেজি মিনিকেট চাল পাইকারি ৩৪-৩৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। একশ্রেণির চালকল মালিক বিআর-২৯ ও বিআর-৩৯ জাতের চাল ফিনিশিং করে মিনিকেট বলে বাজারজাত করছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়ার খাজানগর, পাবনা, নওগাঁ প্রভৃতি স্থানের চালকল থেকে সারাদেশে কথিত মিনিকেট চালের সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, লাখ লাখ মন এই মিনিকেট চালের যোগান কোথা থেকে আসছে। গত বছর যে ধান উৎপাদন হয়েছে তাতে এক লাখ ৩২ হাজার মেট্রিকটন চাল হওয়ার কথা।ঝিনাইদহ মেছুয়া বাজারের আড়তদাররা জানায়, অটো রাইচমিল মালিকরা কথিত মিনিকেট বলে যে চাল সরবরাহ করছে তারাও মিনিকেট বলে তাই বাজারে বিক্রি করছেন। তবে এ নামে সরকার অনুমোদিত কোনো জাতের ধান নেই। বিআর ২৮, কল্যানী, রতœা, বেড়ে রতœা, স্বর্ণা, গুটি স্বর্ণা, লাল স্বর্ণা আইআর ৫০, জাম্বু ও কাজললতা জাতের ধান ছেঁটে মিনিকেট বলে বিক্রি করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা আহম্মেদ হোসেন বলেন, “পাঁচ বছর আগে সুপার ফাস্ট নামে বোরো মৌসুমে চাষের জন্য ভারতের ধান গবেষণা ইনিস্টিটিউট একটি সরু জাতের ধান অবমুক্ত করে। এ ধানের চাল একশ্রেণির মিলমালিক সুপার মিনিকেট বলে এখন বাজারে বিক্রি করছে। এ চাল কথিত মিনিকেটের চেয়ে আরো বেশি চিকন।”তিনি আরো বলেন, “দেশব্যাপী মিনিকেট চালের নামে যে চালবাজি চলছে তা কেবল ক্রেতাদের মাঝে সচেতনা বাড়লেই নিরসন সম্ভব।”কৃষিবিদ ড. মো. শমসের আলী বলেন, “মিনিকেট নামে কোনো জাতের ধান বাংলাদেশে নেই। এটি প্রতারণা। এ প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে হলে সচেতনতার পাশাপাশি আমাদের সৎ হতে হবে। চাল ব্যবসায়ীরা আসল পরিচয়ে চাল বিক্রি করলে ক্রেতারা প্রতারিত হবে না।” তিনি আরো বলেন, “আমাদের চাল বাজারগুলো ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে। ফলে তারা ইচ্ছা মতো চালের নাম দিয়ে বাজারে বিক্রি করছে।

আটোয়ারীতে পাটের গুদামে আগুন


আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি ঃ পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে পাটের গুদামে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। গত শনিবার সকালে উপজেলার ফকিরগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনৈক মো: গোলাম রসুলের পাটের গুদামে বৈদুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়ে ভয়াবহ এই অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। অগ্নিকান্ডের প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার পাট ভসি¥ভুত হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, ওই দিন সকাল সোয়া দশ ঘটিকার সময় গুদামের ঘড়ে আগুন দেখে এলাকার মানুষ পঞ্চগড় এবং বোদা ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনে খবর দিলে তাৎখনকি ভাবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা শুরু করতেই গুদামে রক্ষিত বেশীর ভাগই পাট ভস্মিভুত হয়ে গছে। উলে¬খ্য, আটোয়ারী উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন না থাকায় প্রতি বছর এ মৌসুমে কোটি কোটি টাকার সম্পদ আগুনের লেলীহাণ শিখা গ্রাস করে নিচ্ছে। উপজেলাবাসীর প্রাণের দাবী অবিলম্বে আটোয়ারীতে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন স্থাপন করে এ দুর্যোগের ছোবল থেকে তাঁদের রক্ষা করা হউক। ঘটনার পর তাৎক্ষনিকভাবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আব্দুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন সুলতানা, সাবেক চেয়রম্যান মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ শাহাজাহান ও মীরা রাণী, ওসি মোঃ আমিনুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুৃগ্ম সাধারণ সম্পাদ এ্যাড. আনিছুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান হাসান হাবিব আল আজাদ, মোঃ আবু জাহেদ প্রমুখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা লুটপাটকারিরা ব্যাংকে আগুন দিয়েছে

আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাংক তহবিল লোপাটের মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা। চুরি হওয়া আট কোটি দশ লাখ ডলার চলে গিয়েছিল ফিলিপিন্সের ব্যাংক ও জুয়ার বাজারে। সে অর্থ ফেরত আনার জন্য তদবিরও করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু বিষয়টি এখন সেদেশে অনেকটাই স্থবির আছে। এর দুটো কারণ আছে বলে জানালেন ফিলিপিন্সের ইনকোয়ারার পত্রিকার অনুসন্ধানী সাংবাদিক ড্যাক্সিম লুকাস, যিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা প্রথমে বিস্তারিত ফাঁস করে ব্যাপক আলোড়ন তোলেন। প্রথমত, ফিলিপিন্সের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেছে। দ্বিতীয়ত, সেদেশের অনেক কর্মকর্তা মনে করেন, ব্যাংক তহবিল লোপাটের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ কেউ জড়িত।
বিষয়টি নিয়ে ফিলিপিন্স সংসদের উচ্চকক্ষ সেনেটে বেশ কয়েকবার শুনানিও হয়। টেলিফোনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে লুকাস জানিয়েছেন, ফিলিপিন্সের আইন-প্রণেতারা গত কয়েকমাসে বিষয়টিকে তেমন একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। গত বছরের মাঝামাঝি ফিলিপিন্সে সাধারণ নির্বাচন হয়েছে। সেদেশে নতুন প্রেসডেন্ট ক্ষমতাসীন হয়েছেন। দেশটির সংসদের উচ্চকক্ষ সেনেটে এখন নতুন নেতৃত্ব। ফলে পরিস্থিতি কিছুটা বদলে  গেছে।
লুকাস বলেন, গত বছর শুনানি অনুষ্ঠানের ব্যাপারে যেসব সেনেটর ভূমিকা রেখেছিলেন, তাদের অনেকেই সর্বশেষ নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেন নি। বিশেষ করে যে সেনেটর সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন, তিনিও নির্বাচনে জয়লাভে ব্যর্থ হয়েছেন। ফিলিপাইনের আইন প্রণেতারা এখন দেশের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয় নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশের চুরি যাওয়া টাকা নিয়ে শুনানির বিষয়টি এখন চাপা পড়ে আছে।
এ শুনানি সহসা শুরু হবে কি-না সে বিষয়ে কোন ধারণা করতে পারছেন না ফিলিপিন্সের এ সাংবাদিক। সেদেশের আইন প্রণেতারা বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের অর্থ ফিলিপিন্সে কোথাও আছে। কিন্তু এটি খুঁজে বের করার বিষয়ে কেউ কোন আগ্রহ পাচ্ছে না।
এ টাকা চুরির ঘটনায় কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফিলিপিন্স কর্তৃপক্ষ সেদেশে মামলা দায়ের করেছে। এদের মধ্যে আরসিবিসি ব্যাংকের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছে।
এখন এ মামলাটি আদালতে বিচারাধীন আছে। ফিলিপিন্সে যাওয়া টাকার মধ্যে কিছু টাকা বাংলাদেশ ফেরতও পেয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ টাকা এখনো পায়নি।
গত বছরের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল চুরির টাকা উদ্ধার করতে ফিলিপিন্সের সহায়তা পাবার আশায় সেদেশ সফর করেছিলেন। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি বলে মনে হচ্ছে।
সাংবাদিক লুকাস জানালেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে ফিলিপিন্সের তরফ থেকে বলা হয়েছে, রিজার্ভ চুরির হোতারা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে আছে বলে তাদের ধারণা। বাংলাদেশ তদন্তে কী ধরনের তথ্য পাচ্ছে সেটিও ফিলিপিন্সকে দেখানোর জন্য বলেন সেদেশের কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ফিলিপিন্স সফর করার পর সেখানে আর কোন অগ্রগতি নেই বলে উল্লেখ করেন এ অনুসন্ধানী সাংবাদিক।
লুকাস জানালেন, তার সাথে ফিলিপিন্সের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলাপ হয়েছে। বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের যে প্রতিনিধি দলটি ফিলিপিন্স সফর করেছিল, তাদের সাথে তখন বৈঠক করেছিলেন সাবেক এ মন্ত্রী। ফিলিপিন্সের কিছু কর্মকর্তা বিশ্বাস করেন, যারা এ অপরাধের সূচনা করেছিল তারা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরের লোক। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, বাংলাদেশ অযথাই ফিলিপিন্সের ঘাড়ে বেশি দোষ চাপাচ্ছে। অপরাধীরা হয়তো ঢাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে তিনি মনে করেন, বলছিলেন সাংবাদিক লুকাস।
বাংলাদেশের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত জন গোমেজকে ফিলিপিন্সের নতুন প্রেসিডেন্ট মৌখিক আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, অর্থ উদ্ধারে ফিলিপিন্স সরকার সহায়তা করবে। তবে ফিলিপিন্সের নতুন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কী হবে তার উপরই নির্ভর করছে বিষয়টি কোন দিকে এগুবে। তাছাড়া আদালতে যে মামলা এখন থমকে আছে সেটি কবে নাগাদ নিষ্পত্তি হবে সে বিষয়ে কিছু বলা মুশকিল বলে উল্লেখ করেন ফিলিপাইনের অনুসন্ধানী সাংবাদিক ড্যাক্সিম লুকাস। (সূত্র : বিবিসি বাংলা)

চিলাহাটিতে পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের চেক হস্তান্তর

আপেল বসুনীয়া,নীলফামারী প্রতিনিধি ঃ নীলফামারী জেলার চিলাহাটি পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোং লিঃ এর আয়োজনে মেয়াদ পুর্তি ও মৃত্যুদাবী চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল দুপুরে চিলাহাটি জোন কার্যালয়ে মেয়াদ পুর্তি ও মৃত্যুদাবী ৮ জন সদস্যর হাতে চেক হস্তান্তর করা হয়। চিলাহাটি জোন সহকারী প্রকল্প পরিচালক মাসুম বিল্লাহ্ সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ভোগডাবুড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুরাদ আলী প্রামানিক,অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক সিদ্দীকুর রহমান, উপ-প্রকল্প পরিচালক সৈয়দপুর শেখ আশ্রাফ,সাংবাদিক জুয়েল বসুনীয়া ও জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন প্রমুখ্য। আলোচনা সভাশেষে মৃত্যুদাবী সেকান্দার আলীর স্ত্রী তানজিলা বেগমের হাতে ২৮ হাজার টাকার চেকসহ মেয়াদ পুর্তি ৭ জনের হাতে চেক তুলে দেন অতির্থীরা। উল্লেখ্য,মৃত্যুদাবী সেকান্দার আলী পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সে মাত্র আট কিস্তিতে ১৬ শত টাকা জমা দেওয়ার পর মারা যান। তার মৃত্যুর পর কোম্পানী ইনস্যুরেন্সের সমুদয় ২৮ হাজার টাকার চেকটি আনুষ্ঠানিক ভাবে স্ত্রী তানজিলা বেগমের হাতে তুলে দেওয়ায় পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর প্রতি আস্থা ফিরে আসে এলাকাবাসিদের মধ্যে।
রেললাইন থেকে অজ্ঞাত দুই লাশের সন্ধান মিলেছে
আপেল বসুনীয়া,নীলফামারী প্রতিনিধি ঃ নীলফামারী জেলার মিরর্জাগঞ্জ-চিলাহাটির রেললাইনের মাঝামাঝি স্থান থেকে ট্রেনে কাটা বিহীন উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত দুই কিশোরের লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে।নিহতরা হলো,ঠাকুরগাঁও জেলা সদরের জগন্নাথপুর ইউনিয়নের সিংগিয়া মুন্সিপাড়া গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে মঈন উদ্দিন (১৪) ও একই গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে রাশেদুল ইসলাম (১৩)। বুধবার সৈয়দপুর রেলওয়ে পুলিশ মিরজাগঞ্জে রেল লাইনের ওপর থেকে অজ্ঞাত লাশ দুটি উদ্ধার করে। নীলফামারী রেলওয়ে জেলার ওসি এ.কে.এম লুৎফর রহমান চিলাহাটি ওয়েব ডটকমকে বলেন,তাদের বন্ধ থাকা মুঠোফোন দুটি চালু করে মুঠোফোনে থাকা নম্বরে ফোনকরে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়।তাদের পরিবারের লোকজন আসলে ময়না তদন্ত শেষে লাশ দুটি হস্তান্তর করা হয়।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বাঁশতৈল মো.মনশুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়॥ ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে নবীণ-প্রবীণদের মিলন মেলা


মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
৫০ বছর পূতি উপলক্ষে সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠান হয়েছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পাহাড়ি সবুজ ঘেরা মনোরম পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী বাঁশতৈল মো. মনশুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে।আজ বৃহস্পতিবার এক আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে দিন ব্যাপি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসি।দীর্ঘ দিন পর বিদ্যালয় আঙ্গিনায় এমন একটি অনুষ্ঠানে একে অপরকে পেয়ে অনেকেই আবেগ আপ্লুত হয়ে পরেন।আবার অনেকেই যেন চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না।পুরো অনুষ্ঠানস্থল ঠিক যেন নবীণ-প্রবীণদের মিলন মেলায় পরিনত হয়।আজ বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে গিয়ে দেখা গেছে নবীণ আর প্রবীণদের পদ চারনায় মুখরিত অনুষ্ঠানস্থল।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানের উদ্ধোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. একাব্বর হোসেন এমপি।অনুষ্ঠানের মুল আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শান্তি,সংঘর্ষ ও অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ডালেম চন্দ্র বর্মন, টাঙ্গাইল কুমুদিনী সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শরিফা রাজিয়া এবং সরকারী সাদত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উপধ্যক্ষ ও চর্যা গবেষক প্রফেসর আলীম মাহমুদ।
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মঞ্জুরুল কাদের বাবুলের সভাপতিত্বে ও এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র এবং দেওহাটা এ জে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এমরান হোসেন, ১৩ নং বাঁশতৈল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান মিল্টন, জুঁই যুঁথি ফিলিং স্টেশনের প্রোভাইটর আলহাজ্ব মো. হুমায়ুন কবীর, সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বিএসসি, খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফায়জুল ইসলাম ও অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. একাব্বর হোসেন প্রমুখ।
১৯৮২ ব্যাচের ছাত্র ও বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. এমরান হোসেন বলেন, পাহাড়ি এলাকাবাসির শিক্ষা বিস্তারের জন্য এলাকাবাসির যৌথ উদ্যোগ্যে ১৯৬৫ সালে বাঁশতৈল নয়াপাড়া এলাকায় মনোরম পরিবেশে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠত হয়।অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বিদ্যালয়টি আজ সয়ং সম্পুর্ন রুপ নিয়েছে।বর্তমানে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসা শাখায় ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ৯শ ৪৫ জন।দক্ষ পরিচালনা পরিষদ ও মেধাবী শিক্ষকদের অক্লান্ত শ্রমের ফলে বিদ্যালয়ের বার্ষিক, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল অর্জন করে আসছে।
বিদ্যালয়ের প্রাপ্তন ছাত্র ও উত্তর পেকুয়া জাগরণী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিসেস ফরিদা ইয়াসমিন, ১৩ নং বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান মিল্টন বলেন, সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগদান করতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করছি।বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ দিন পরে হলেও এমন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন এ জন্য তারা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একাব্বর হোসেন এমপি বলেন, বিদ্যালয়টি বয়সের দিক দিয়ে পুরনো হলেও এটি এখন নতুন রুপে সাজ নিয়েছে। এই বিদ্যালয়ের ছাত্ররা আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে।তাদের নের্তৃত্বেই কেউ প্রধান মন্ত্রী, কেউ শিক্ষা মন্ত্রী, কেউ সচিব, কেউ ডাক্তার, কেউ প্রকৌশলী হবে।বিদ্যালয়কে সার্বিক সহযোগিতার জন্য তিনি ঘোষনা দেন।

বৃটিশ আমলে ঝিনাইদহ শহরে ট্রেন চলতো এখন চলে না !

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহ হয়ে পদ্মাসেতু পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে জেলাবাসী। চলতি মাসে দুই দফায় মানববন্ধন করে দাবির কথা জানিয়ে আসছেন তাঁরা। ঝিনাইদহবাসীর দাবি, ২০ লাখ মানুষের এই জেলাকে অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ করে তুলতে পদ্মাসেতুর রেল লাইনের সঙ্গে ঝিনাইদহকে যুক্ত করে যশোর থেকে ঝিনাইদহ হয়ে মাগুরা পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপন করতে হবে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃটিশ আমলে ঝিনাইদহে রেল লাইন চালু ছিল।ভারত বিভাগের পর স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। যে কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প কারখানা স্থাপনে ঝিনাইদহ পিছিয়ে পড়েছে। ঝিনাইদহবাসীর দীর্ঘদিনের প্রানের দাবি এই রেললাইন স্থাপনে প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন জেলার সব শ্রেনী পেশার মানুষ।যোগাযোগ ব্যবস্থায় এ জেলার রয়েছে ঐতিহ্য।ঝিনাইদহকে বলা হয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চেলর প্রবেশদ্বার। ১৯১৩-১৪ সালে ঝিনাইদহে রেলগাড়ি চলতো। জে.জে (যশোর-ঝিনাইদহ) রেল কোম্পানী গঠন করে রেলপথ নির্মিত হয়। রেলপথটিকে মার্টিন কোম্পানীর রেল পথ বলেও দাবী করা হয়ে থাকে। তখন আপ-ডাউন আটটি ট্রেন এ জেলায় চলাচল করতো। যশোর-ঝিনাইদহ ২৮ মাইল রাস্তার মধ্যে প্রসন্ন নগর, মোবারকগঞ্জ, বারোবাজার ও চুড়ামনকাঠী,সুন্দরপুর রেল ষ্টেশন ছিল। এসময় কোটচাঁদপুরে চিনি শিল্প গড়ে ওঠায় কালীগঞ্জকে জংশন করে কোটচাঁদপুর পর্যন্ত ৮ মাইল রেল লাইন সম্প্রসারিত করা হয়। তখন রেলের ভাড়া ছিল ১ পয়সা। পরে ১৯৩৫-৩৬ সালে বাস সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। যশোর-ঝিনাইদহ বাস সার্ভিস চালু হয়।রাজধানী ঢাকা থেকে ঝিনাইদহ শহরে আসার মাধ্যম সড়ক পথ। সড়ক পথে ঢাকা হতে ঝিনাইদহের দুরত্ব ২১০ কিলোমিটার। ঢাকা হতে সরাসরি ঝিনাইদহে আসার জন্য ট্রেন যোগাযোগ নেই। নৌপথেও ঝিনাইদহের সাথে নেই কোন যোগাযোগ।আকাশ পথে ঢাকা হতে ঝিনাইদহে আসার জন্য সরাসরি বিমান যোগাযোগ নেই। তবে ঢাকা হতে বিমানযোগে যশোর বিমান বন্দরে এসে যশোর হতে সড়ক পথে ঝিনাইদহে আসা যায়। যশোর হতে ঝিনাইদহের দুরত্ব ৪৫ কিলোমিটার।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »