Category: অর্থ ও বাণিজ্য

বিত্তশালী ও চাকুরীজীবীদের নাম অন্তর্ভূক্ত করায় উলিপুরে ইজিপিটি প্রকল্প নিয়ে তোলপাড়

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা॥
কুড়িগ্রামের উলিপুরে অতি-দরিদ্রদের জন্য কর্ম-সংস্থান কর্মসূচীর (ইজিপিটি) প্রকল্পের তালিকায় বিত্তশালী ও চাকুরীজীবিদের নাম অন্তর্ভূক্ত করায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে, ব্রম্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন উপজেলার সাহেবের আলগা গ্রামে। গত সোমবার ঐ ইউনিয়নের বঞ্চিত মানুষজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এসে বিত্তশালীদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেন।
জানা গেছে, ঐ ইউনিয়নে এ প্রকল্পের ৪শ’ ৮৭জন অতিদরিদ্র ব্যক্তি তালিকাভূক্ত হয়ে কাজ করে আসছিল। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নব-নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা মিলে অর্ধেক নাম কর্তন করে টাকার বিনিময়ে বিত্তশালী, চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ী এমনকি কলেজ ছাত্রকেও তালিকাভূক্ত করান। প্রকল্পের কাজ শুরু হলে পূর্বের তালিকাভূক্ত হত-দরিদ্ররা কাজে যোগ দিতে গেলে চেয়ারম্যান মিম্বাররা সাফ জানিয়ে দেন অফিসের নির্দেশে তাদের নাম কর্তন করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইউপি সদস্যরা বিত্তশালী ও স্বাবলম্বি ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়ে তাদের নাম অন্তর্ভূক্ত করান। বিষয়টি জানাজানি হলে বঞ্চিতরা ক্ষোভে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ঐ ইউনিয়নের বঞ্চিত ২, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের বিক্ষুব্ধ মানুষজন গত সোমবার ব্রম্মপুত্র নদ পাড়ি দিয়ে উপজেলা কার্যালয়ে এসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বরাবর প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঐ ইউনিয়নের নুর ইসলামের পুত্র সাইফুল ইসলাম পল্লী চিকিৎসক, ওমর আলীর পুত্র আঃ রশিদের স্ত্রী স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত থাকলেও তার নাম এ প্রকল্পে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এছাড়াও বর্তমান ইউপি সদস্য তাহের-এর পুত্র রবিউল, রবিউলের স্ত্রী কবিযুল বেগমের নামও অন্তর্ভূক্ত করান। আহমেদ আলীর পুত্র রুস্তম আলীর পাকা বাড়ি ও ছেলে চাকুরী করলেও তার নাম তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে, রশিদ নামের এক ব্যবসায়ী দিনভর পালসার মোটর সাইকেল হাকালেও তার নাম রয়েছে তালিকায়। একই অবস্থা সবকটি ওয়ার্ডে বলে জানা যায়। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যু, ৬০বছরের উর্ধেব বয়স ও এলাকায় না থাকলে শুধু মাত্র তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়ার নিয়ম। কিন্তু এ নিয়ম একেবারেই মানা হয়নি।
অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঐ ইউনিয়নে নতুন করে বরাদ্দ পাওয়া ৩শ’ ৪৯জনের তালিকা প্রনয়নেও টাকা আদায় করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তালিকাভূক্ত একাধিক ব্যক্তি জানান, ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দিয়ে তালিকাভূক্ত হতে হয়। এ কারণে প্রকৃত দরিদ্ররা এ তালিকা হতে বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী মন্ডল বলেন, মিম্বারা নির্বাচিত হয়ে তালিকা পরিবর্তনের জন্য চাপ দিলে আমি অনুমতি দেই। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খন্দকার ফিজানুর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উলিপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ ও আন্তর্জাতীক মাতৃভাষা দিবস পালিত

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা॥
কুড়িগ্রামের উলিপুরে যথাযোগ্য মর্যদায় বাঙ্গালীর অন্যতম প্রেরণার উৎস মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পনের মধ্য দিয়ে একুশের প্রথম প্রহরে শুরু হয়। রাত ১২.০১ মিনিটে সামাজিক, রাজনৈনিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রƒদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে গভীর ভালবাসার সাথে মিনারে পুস্প অর্পনের মাধ্যমে ভাষা শহীদরে প্রতি শ্রƒদ্ধা প্রদর্শন করা হয়।
এ ছাড়াও উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে পৃথক পৃথক ভাবে শহীদদের প্রতি ভালবাসা ও সম্মান প্রদর্শন পূর্বক অনুরূপ কর্মসূচী গ্রহন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিত্রাংকন, আলোচনা সভা ও দো’আ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্য

রায়হান আহমেদ তপাদার  জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দনেই শ্রম অভিবাসন খাতে।অথচ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে তৈরি পোশাক খাতের চেয়ে অভিবাসী খাতের অবদান বেশি।গত ৪০ বছর ধরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল রাখাসহ নানা ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলা এ খাতটি কখনোই গুরুত্ব পায়নি আমাদের জাতীয় বাজেটে।যথোপযুক্ত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই খাতটি আরো বেশি অবদান রাখতে পারবে।বিশ্ব শ্রমবাজারে এই খাত থেকে আরো বেশি উপার্জনের জন্য অধিক পরিমাণে প্রফেশনাল ও দক্ষ কর্মী প্রেরণ করা প্রয়োজন।এজন্য সরকারিভাবে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ খাতকে আরো বেশি গতিশীল করা দরকার।সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন নিরাপদ অভিবাসন জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য অপরিহার্য।টেকসই লক্ষ্যমাত্রার ২৩০টি সূচকের মধ্যে ৪টি সূচক মাইগ্রেশন সম্পর্কিত।এই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভাল করার বড় একটা ব্যাটল গ্রাউন্ড হলো অভিবাসন খাতে ভাল করা।দেশ থেকে প্রতি বছর ৬-৭ লাখ লোক বিদেশ যাওয়ার ফলে বেকারত্ব সমস্যার সমাধান হচ্ছে।তবে গড় রেমিটেন্স হিসেবে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে।বাংলা দেশের গড় রেমিটেন্স ভারতের চেয়ে আড়াই গুণ কম।তিনি উল্লেখ করেন,জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিল ২০২০ সালের মধ্যে ৩ মিলিয়ন ও ২০২৫ সালের মধ্যে ৫ মিলিয়ন দক্ষ লোক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে যা প্রবাসে শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।পেশা বৈচিত্র্যকরণের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অভিবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ ব্যক্ত করেন।এ ক্ষেত্রে তিনি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ এবং অভিবাসন খাতে যথাযথ পরিবীক্ষণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।তিনি জাতীয় অভিবাসন নীতির আলোকে বিধিমালা তৈরি ও এর প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ এবংঅভিবাসন বিষয়ে সরকারী উদ্যোগে গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণের খুবই প্রয়োজন।  ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪ লাখ ৬১ হাজার লোক বিদেশে গেছে।সর্বশেষ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসনের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার।২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা।এই অর্থবছরে বাংলাদেশের বাজেটের আকার ছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকা।সে বছরের তুলনামূলক বিচারে মোট বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি এসেছিল প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ থেকে।আবার ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা।ওই বছর বাজেটের মোট পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা,যা মোট বাজেটের প্রায় অর্ধেক।সর্বশেষ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থের পরিমাণ ছিল জিডিপির ৭.৯ শতাংশ।বাংলাদেশ থেকে পেশাজীবী,দক্ষ,আধা-দক্ষ ও স্বল্পদক্ষ লোক বিদেশে যায়।২০১৪ সালের তথ্যানুযায়ী,পেশাজীবী জনশক্তি প্রেরণের হার ১ শতাংশেরও কম।দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের হার ৩৬ শতাংশ, স্বল্পদক্ষ জনশক্তি প্রেরণ করা হয়েছে ৪৭ শতাংশ এবং আধা-দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের হার ১৭ শতাংশ।অর্থাৎ মোট জনশক্তি প্রেরণের অর্ধেকেরও বেশি লোক দক্ষ নয়।বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা বলা হলেও জাতীয় বাজেটে অভিবাসন খাত খুবই অবহেলিত।বৈদেশিক আয়ের পরিমাণ বছরের পর বছর বাড়লেও আমাদের জাতীয় বাজেটে অভিবাসন খাতে বরাদ্দ বাড়েনি।বাড়েনি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তুলনামূলক বিচারে বাজেট বরাদ্দ খুবই কম।২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ ছিল ৪৮০ কোটি টাকা।আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এই বরাদ্দ ছিল ৪৩৮ কোটি টাকা।২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫৬০ কোটি টাকা।  অভিবাসন খাতের জন্য এই বরাদ্দ মোট বাজেটের মাত্র ০.১৬ শতাংশ।তৈরি পোশাক শিল্পের মাধ্যমে ২০১৫ সালে বিজিএমইএ-এর তথ্যানুযায়ী রপ্তানি আয়ের পরিমাণ প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার।তবে তুলা, সুতা, কাঁচামাল ইত্যাদির খরচ বাদ দিলে নিট রপ্তানি আয় দাঁড়ায় ১৩ বিলিয়ন।অন্যদিকে প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ প্রায় ১৫ বিলিয়নেরও বেশি। সেই বিবেচনায় সব দিক থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সই আমাদের বৈদেশিক আয়ের প্রধান খাত।বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত অত্যন্ত শক্তিশালী এবংবৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত।এ খাতে প্রায় ৫০ লাখ লোক কর্মে নিয়োজিত রয়েছে।অন্যদিকে জনশক্তি প্রেরণ খাতে প্রায় ১ কোটিরও বেশি লোক কর্মে নিয়োজিত রয়েছে যা পোশাক শিল্প খাতের দ্বিগুণ।তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বিশেষ জোন,স্বল্পমূল্যে বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস, ব্যাংক লোন, শুল্ক হ্রাস,বিশ্বমন্দায় প্রণোদনাসহ বহুমুখী সহযোগিতা করা হয়।২৯ জুন, ২০১৬ জাতীয় সংসদে পাস হওয়া অর্থবিলে তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতে উেস করহার নির্ধারণ করা হয়েছে ০.৭%।অর্থমন্ত্রী বাজেট প্রস্তাবে এই করহার ১.৫% করার প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু পরে বিজিএমইএ নেতাদের দাবি ও সরকারের নীতিনির্ধারক দের পরামর্শে করহার কমিয়ে ০.৭% করা হয়।এক হিসাবে দেখা যায়, সরকারের এই একটি সিদ্ধান্তে তৈরি পোশাক খাত প্রায় ১৬০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত সুবিধা পাবে।উল্লেখ্য, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে করহার ছিল ০.৬%।এ পোশাক শিল্পে বিভিন্ন সময়ে প্রণোদনা দেওয়া হলেও অভিবাসন খাতে সে তুলনায় সরকারি সহযোগিতা অনেক কম।অভিবাসী শ্রমিকদের টাকায় প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে সুদসহ লোন নিতে হয় অভিবাসনপ্রত্যাশী শ্রমিকদের। এই ব্যাংক গ্রামীণ জনপদের অভিবাসনপ্রত্যাশীর চাহিদা পূরণ করতে না পারায় চড়া সুদে গ্রাম্য মহাজন অথবা এনজিও থেকে উচ্চ হারে সুদ দেওয়ার শর্তে অভিবাসন ব্যয় নির্বাহ করতে হয়।  আমি মনে করি,জনশক্তি খাত আমাদের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।এ খাত থেকে প্রতি বছর অতি সহজে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স আসে তা আর কোনো খাত থেকে আসে না।তাই অভিবাসন খাতের সম্ভাবনাগুলোকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে।সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রতি বছর বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার।আর আমাদের রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার।আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, অভিবাসন খাত একটি সম্ভাবনাময় খাত।এ খাতে নিকট ভবিষ্যতেই প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।আমাদের ট্র্যাডিশনাল শ্রমবাজার সৌদি আরব, দুবাই, কুয়েত, কাতার, ইরাক, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী প্রেরণের সম্ভাবনা আবারও জোরালো হচ্ছে।২০২২ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হবে কাতারে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রচুর দক্ষ নির্মাণশ্রমিকের চাহিদা তৈরি হয়েছে।তাই টেকসই ও প্রশিক্ষিত কর্মী প্রেরণের মাধ্যমে চাহিদাভিত্তি ক যুগোপযোগী আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান করে বৈধ উপায়ে কর্মক্ষম জনশক্তি বিদেশে প্রেরণ করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনসহ দারিদ্র্য বিমোচনে বিশাল ভূমিকা রাখা সম্ভব।বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা বলা হলেও জাতীয় বাজেটে অভিবাসন খাত খুবই অবহেলিত।এবারের বাজেটে অভিবাসন খাতের জন্য বরাদ্দমোট বাজেটের মাত্র ০.১৬ শতাংশ।অথচ অভিবাসন খাতকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উৎস বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে এককভাবে এ খাতের অবদানই বেশি।বিজিএমইএ-এর তথ্য অনুযায়ী তৈরি পোশাক খাতের মাধ্যমে ২০১৫ সালে রফতানি আয়ের পরিমাণ প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার বলা হলেও তুলা,সুতা, কাপড়,কাঁচামাল ইত্যাদির খরচ বাদ দিলে নীট রফতানি আয় দাড়ায় ১৩ বিলিয়ন।আর একই অর্থবছরে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স-এর পরিমাণ ১৫ বিলিয়ন ডলার।সেই বিবেচনায় সর্বদিক থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে,প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সই আমাদের বৈদেশিক আয়ের প্রধান খাত।  ফিলিপাইনের ৩৫ লাখ লোক দেশের বাইরে অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে,যে সংখ্যা বাংলাদেশী অভিবাসী শ্রমিকের অর্ধেকের চেয়েও কম, অথচ ফিলিপাইন প্রতি বছর রেমিটেন্স হিসেবে আয় করছে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার।এটিও সম্ভব হয়েছে দক্ষ শ্রমিক প্রেরণের কারণে।আমার পরামর্শ থাকবে এ ব্যাপারে আরো বেশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ যেমন ভাড়বে তেমনি দেশের অর্থনীতির চাকাও সচল হবে।পরিশেষে বলব,বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কৃষি, শিল্পসহ কর্মসংস্থানের সব ক্ষেত্রে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনের কারণে মানুষের নতুন নতুন চাহিদা তৈরি হচ্ছে।মনে রাখতে হবে,আমাদের দেশটি জনসংখ্যার তুলনায় আযতনে খুবই ছোট। তবে এ দেশটিতে আছে উদ্যমী জনগোষ্ঠী।অন্যদিকে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই ভূমি ও অবকাঠামো গত প্রাচুর্য থাকলেও পর্যাপ্ত জনশক্তির অভাব রয়েছে।তাই আমাদের প্রয়োজন,জনশক্তিকে জনসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে দেশের টেকসই উন্নয়ন অব্যাহত রাখা।তাহলে অদূর ভবিষ্যতে তৈরি পোশাক খাত থেকে বাংলাদেশ যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে অভিবাসন খাত তার চেয়ে নিশ্চিত বহু বেশি উপার্জন করতে সক্ষম হবে।আমরা বিশ্বাস করি,বেঁচে থাকার নিরন্তর সংগ্রামের অংশ হিসেবে বিদেশের পথে কাজের সন্ধানে এগোয় মানুষ,এগোয় দেশ।আমরা চাই বিশ্বদরবারে সততা,দক্ষতা ও মর্যাদায় উদ্ভাসিত হবে আমাদের বাংলাদেশ।

 

ছাদবাগান প্রিয় এক দম্পতির গল্প!


আবু সাইদ, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি::
কংক্রিটের দেওয়াল-ঘেরা বাড়িটার দিকে চোখ গেলে মনে হয়, গাছগাছালিতে ভরা। ছাদের দিকে তাকালে মনে হয়, যেন ফাগুনের ছোঁয়া লেগেছে তাতে। আর ভেতরে গেলে অবাক হতে হয়, যেন এটি বাড়ি নয়, পুরো একটি নার্সারি!
সাতক্ষীরা শহরের উপকণ্ঠের লাবসা এলাকায় চোখ জুড়ানো এ বাড়িটি অবস্থিত। এটির মালিক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার শেখ মনিরুজ্জামান ও তার স্ত্রী শাহিনা আক্তার। এই দম্পতি তাদের তিন হাজার দুইশ বর্গফুট বাড়ির ছাদে কয়েকশ গাছগাছালির একটি বাগান গড়ে তুলেছেন। পরম যতেœ গড়ে তোলা এ বাগানটি দেখলে বোঝা যায়, গাছগাছালির প্রতি এই দম্পতির রয়েছে অগাধ ভালোবাসা!
তিনতলা এই বাড়ির দুটি ছাদ। দোতলাতে একটি ও অপরটি তিনতলায়। বাগান করার জন্যই এই দম্পতি বাড়িতে দুটি ছাদ তৈরি করেছেন। এ কারণে এলাকার মানুষের কাছে বাড়িটির পরিচয় এখন ‘কৃষিবাড়ি’ হিসেবে।
ছয়বছর আগে বাড়ির ছাদ দুটিতে বাগান তৈরি করেছেন বলে জানালেন মনিরুজ্জামান-শাহিনা দম্পতি। এই ছাদ দুটিতে তারা দেশি-বিদেশি ফুল, ফল, সবজি ও ঔষধি গাছ লাগিয়েছেন। বিষমুক্ত শাকসবজি ও ফলমূল ও ঘরে বসে প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা পেতেই এ বাগান তৈরি করেছেন তারা। এতে পারিবারিক চাহিদাও মিটছে তাদের।
শেখ মনিরুজ্জামান-শাহিনা দম্পতি জানালেন, বাড়ির ছাদে বাগান করা খুব একটা কঠিন কাজ না। ইচ্ছে করলে যে কেউই ছাদে ফলমূল, শাকসবজির বাগান তৈরি করতে পারেন। এতে করে শাকসবজির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কোনো পরিবার আর্থিকভাবেও স্বাবলম্বী হতে পারে। পাশাপাশি অক্সিজেনও দেয় এসব গাছগাছালি।
সরেজমিন দেখা গেল, বাড়িতে ঢোকার পথেই রয়েছে, সারি সারি ঝাউগাছ। রয়েছে আম ও আমড়াগাছ। আমড়াগাছে পাতা না থাকলেও থোঁকা থোঁকা আমড়া ঝুলে রয়েছে তাতে। এর পাশেই রয়েছে আবার কামরাঙ্গাগাছ। এছাড়া টক ও মিষ্টি বরই গাছে ঝুলছে। মাটির ওপর বানানো মাচানে ঝুলছে, বড় বড় বেশ কয়েটা লাউ।
প্রায় এক বিঘা জমিতে ভরপুর বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধিগাছ। কোথাও একটুও ফাঁকা নেই। এখানে একটি ছোট পুকুরও দেখা গেল। মাছ চাষ করা হয়েছে এটিতে।
তবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ বাড়ির ছাদ দুটিকে ঘিরে। বাড়ির সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠে চক্ষু ছানাবড়া। মৌসুমী শাকসবজি আর ফুল-ফলে ভরে গেছে ‘কৃষিবাড়ি’র ছাদের বাগান।
ছাদে চেরি ও শিউলি ফুল দেখে শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে গাওয়া সেই জনপ্রিয় গানের কলি মনে পড়ে গেল- ‘ওগো বিদেশিনী, তোমার চেরি ফুল দাও, আমার শিউলি নাও/দুজনে দুজনে হই ঋণী।’
বাগান প্রিয় দম্পতি আরো জানালেন, তাদের বাড়ির ছাদ দুটিতে রয়েছে, ২২ প্রজাতির গোলাপ, ডালিয়া, জিনিয়া, পেনজি, পাফায়ার বলসহ দেশি-বিদেশি ফুল। রয়েছে হাসনা হেনা, সাপে কাটার ঔষধি গাছও। তুলসী, ঘৃতকুমারী, রক্ত করবী গাছও লাগানো রয়েছে ছাদে। টপের গাছে কমলালেবু, মালটা ও টমেটো ধরেছে।
মনিরুজ্জামা ও শাহিনা বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে গাছ সম্পর্কে ধারণা দিতে গাব, ঝাউগাছ ও ভূতেরগাছ হিসেবে পরিচিত ‘শাড়া’ গাছও লাগানো হয়েছে।
ছাদে বাতাবিলেবু, কদবেল, দেশিবেল, পামফলসহ অসংখ্য ফলদ গাছ লাগানো হয়েছে। থোঁকা থোঁকা মাল্টা পেকে হলুদ হয়ে রয়েছে।
লাল বাগানবিলাস ও হলুদ গাঁদা ফুলে মনে হচ্ছে ছাদে যেন ফাগুনের আগুন লেগেছে। বাড়ির ছাদ আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে, সুন্দরবনের গেওয়া, সুন্দরীগাছে। শুধু তাই-ই নয়, অরকিড কর্নারে বড় বড় কাকটাস দেখলে যে কারো মন ভরে যাবে।
ঘরের ভেতরেও বেশ কয়েকটি ইনডোর প্ল্যান্ট দেখা গেল।
সুন্দর করে সাজানো বাড়িটির নাম রাখা হয়েছে, ‘প্যাসিফিক প্যালেস’। শান্ত-সুনিবিড় ছায়াঘেরা বাড়িটির দোতলায় উঠে পূবদিকে তাকালে চোখে পড়ে আদিগন্ত ফসলের মাঠ। বাড়ির তিনপাশ সবুজের চাদরে ঘেরা। বাড়ির ছাদের যে দিকেই তাকানো যায়, সেদিকেই যেন সুন্দরের আগুন। ফুলে-ফলে ভরা বাড়িটি দেখলেই মনে পড়ে মা-মাটি ও মানুষের কথা।
শেখ মনিরুজ্জামান ও শাহিনা দম্পতির করা বাগানটি জেলার সেরা ছাদবাগান নির্বাচিত হয়েছে। তাদের ছাদের ওপর বাগান দেখে এলাকার অনেকেই ছাদে বাগান করার প্রতি অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।
তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা দুজনই ছোটবেলা থেকে বাগান করতেন। মেধা, মনন ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে তারা গড়ে তুলেছেন এই ‘প্যাসিফিক প্যালেস’। প্যালেসটিকে দেখাশোনায় স্ত্রী শাহিনাকে সাহায্য করেন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার স্বামী মনিরুজ্জামান। তাদের দুই ছেলে। বড়ছেলে হাসানাত ৮ম শ্রেণিতে ও ছোটছেলে আরাফাত ২য় শ্রেণিতে পড়ে। তারাও বাগান পরিচর্যায় মাবাবাকে সাহায্য করে।
শেখ মনিরুজ্জামান ও শাহিনা বলেন, এলাকার কারো কিছু হলে আমাদের বাড়িতে আসেন। সর্দিকাশি হলে শিউলি ফুল, আমাশয় হলে থানকুনিসহ বিভিন্ন ঔষধিগাছ নিয়ে যান তারা।
তাদের বড় ছেলে হাসানাত বলে, ‘মায়ের সাথে বাগান পরিচর্যার কাজ করি। এলাকার অনেকে বলেন, ‘কৃষিবাড়ি!’ তখন শুনতে অনেক ভালো লাগে। এলাকার সবাই আমার মা ও বাবার কাজের অনেক প্রশংসা করেন।’
মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি বছরের অর্ধেক সময় জাহাজে থাকি। তারপরও যে সময়টা বাড়িতে থাকি, বাগান নিয়ে পড়ে থাকি। সমুদ্রে থাকলে কী হবে, সেখানেও (জাহাজে) বাগান করেছি। আমার বাবা বাগান করতেন। তা দেখে সেই ছোটবেলা থেকেই বাগানের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছি।’
তবে সব কৃতিত্ব তার স্ত্রীকে দিয়ে মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি বেশি সময় বাইরে থাকি। আর ও (শাহিনা আক্তার) বাগানের দেখভাল করে।’
তিনি আরো বলেন, ‘অনেকে আমাদের বাগানের ছবি ও সেলফি তুলতে আসেন। পরিচালক জি এম সৈকতের বেশ কয়েকটি নাটকের শ্যুটিংও হয়েছে আমাদের ছাদে।’
মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বনসাইয়ের কারিগর উৎপল, সম্পর্কে আমার ভাগ্নে। তার কাছ থেকে বনসাই তৈরি করার কিছু পদ্ধতি শিখে বেশ কয়েকটি বটগাছের বনসাই তৈরি করেছি। আমাদের বাড়িতে কোনো মেহমান আসলে আগে ছাদে ওঠেন। ছাদটি এখন আমাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের পছন্দের জায়গা।’
তিনি জানান, বাড়ি তৈরির সময় কৃষি বিষয়ের কথা চিন্তা করে ইঞ্জিনিয়ারের কাছ থেকে পরিকল্পনা করে এভাবে বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। ছাদে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে লাউ, কুমড়া, আমড়া বিভিন্ন সবজি রয়েছে।
শাহিনা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হলেও সেই ছোটবেলা থেকে গাছ লাগাতেন। আমি স্কুলের টিফিনের খরচ বাঁচিয়ে বাবার বাড়িতে বাগান করতাম। শ্বশুর বাড়িতে এসে দেখি স্বামীরও বাগান করার শখ। দুই বৃক্ষ প্রেমিক মিলে শুরু করে দিলাম গাছ লাগানো।’
তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের ছাদে কমলালেবু, কাগজিলেবু, ছবেদা, সাদা জামরুলসহ আরো অনেক ফল রয়েছে। এখানে যে বিষমুক্ত ফল হয়, তা আমরা খাই ও মেহমান এলে তাদের আপ্যায়ন করি। আমার ছাদের মালটা বেশ সুস্বাদু।’
শাহিনা আক্তার মনে করেন, বাগান পরিচর্যা প্রতিদিনের গৃহস্থালি কাজের মতোই হয়ে গেছে। একদিন কাজ না করলে মনে হয়, কিছু একটা কাজ করা হয়নি। গাছগুলো যেন তাদের কাছে একেকটি সন্তানের মতো হয়ে গেছে।
সাতক্ষীরায় বাড়ির ছাদের উপর কৃষি ব্যবস্থপনা সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, এবিষয়ে তার কাছে কোন তথ্য নেই।

জাফলংয়ে টাস্কফোর্সের অভিযান ১১ ক্রাশার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ


সিলেটের জাফলংয়ে টাস্কফোর্সের অভিযানে ১১টি ক্রাশার মেশিন ও চারটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং কান্দুবস্তি এলাকা থেকে অবৈধ ভাবে পাথর উত্তোলনের ৪টি গর্ত মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে জাফলংয়ের বল্লাঘাট বাজার থেকে চুনা কোয়ারি এলাকা এবং কান্দুবস্তি এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। গোয়াইনঘাটের উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালাহ উদ্দিন’র নেতৃত্বে এ অভিযান চলে। এসময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. দেলওয়ার হোসেন, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের সহকারি পরিচালক হাফিজুর রহমান, বিজিবি সংগ্রাম সীমান্ত ফাঁড়ির ক্যাম্প কমান্ডার মো. হুমায়ুন কবিরসহ পুলিশ ও বিজিবি’র অর্ধশতাধিক সদস্য।
ইউএনও গোয়াইনঘাট মো. সালাহ উদ্দিন বলেন পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ের পরিবেশ রক্ষা করতে রাস্তার পাশ দিয়ে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা ১১টি ক্রাশার মেশিন, চুনা কোয়ারি এলাকা থেকে ৪টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও কান্দুবস্তি এলাকায় পাথর তোলার ৪টি গর্ত ভরাট করা হয়েছে। জাফলংয়ের পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে আমাদের টস্কেফোর্সের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জাফলংয়ে পিয়াইন নদীতে নির্মাণাধীন সেতুর
চেইন ছিরে ব্যবসায়ীর মৃত্যু
সিলেটের জাফলংয়ের পিয়াইন নদীর উপড় নির্মাণাধীন সেতুর চেইন ছিরে এক পাথর ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তি গোয়াইনঘাট উপজেলার আসামপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল বাছেদ’র পুত্র আব্দুস সামাদ (৬৫)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাযায় গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে নির্মাণাধীন সেতুটির একটি পিলারের কাজ চলাকালীন সময়ে পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন আব্দুস সামাদ। এসময় পিলারটির সরঞ্জামের সাথে বাধা একটি চেইন হঠাৎ করে ছিরে গিয়ে সজোরে আঘাত লেগে তার মাথা ফেটে যায়। এতে সাথে সাথেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেখান থেকে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গোয়াইনঘাট থানার ওসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

মেহেরপুরে প্রথম জিরা চাষে ব্যাপক সফলতা

আল-আমীন, মেহেরপুর ঃ মেহেরপুরে ইরানি জাতের জিরা চাষে সফলতার খবর পাওয়া গেছে। জিরাক্ষেত দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে অসংখ্য কৃষক।মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের কিবরিয়া মাষ্টার ৩৩ শতক ও একই উপজেলার বানিয়াপুকুর গ্রামের চাষি আব্দুল্লাহ ১ একর জমিতে এবারই প্রথম জিরা চাষ করেন। তার ক্ষেতের ফুলে জিরা দানা বাধতে শুরু করেছে।

জিরার বিশ্বব্যাপী বাজার থাকলেও ইরান, ভারতসহ হাতেগোনা ৫-৬টি দেশে বেশি চাষ হয়। ভারতে বেশি চাষ হলেও উৎপাদিত জিরার ৯০ ভাগ অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি হয়। অন্যদিকে সিরিয়া, তুরস্ক ও ইরানে উৎপাদিত জিরার সিংহভাগ রপ্তানি হয়ে থাকে।
জিরা চাষি আব্দুল্লাহ ও কিবরিয়া মাষ্টার জানান, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জিরা ক্ষেত দেখতে আসছেন। বাড়ি থেকে শুরু করে মাঠে, হাটে-বাজারে যেখানে যাচ্ছি সেখানেই মানুষ পাগল করে ফেলছে জিরার বীজের জন্য। অনেকেই অগ্রিম টাকা দিচ্ছেন ।
তিনি আরও বলেন ১একর জমিতে ১০ মণ জিরা হবে বলে তিনি আশা করেন । প্রতি ১০০ গ্রাম বীজ এক হাজার টাকা দরে বিক্রির আশাও করছেন। এতে জিরাবীজ বেচে ২০ লাখ টাকা পাবেন বলেও আশাবাদী তিনি।

গাংনী উপজেলায় মালসাদহ গ্রামের তাহাজ ভাইয়ের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করেন।তার কাছ থেকেই ৯ হাজার টাকায় ৯০০ গ্রাম বীজ আনেন আব্দুল্লাহ ।ক্ষেতে পরিমাণমতো পটাশ, টিএসপি ও জিপসাম ছিটিয়ে কার্তিক মাসের শেষ সপ্তাহে জমিতে জিরার বীজ বপন করেন তিনি।গাছ বড় হলে ১৫ কেজি ইউরিয়া সার ও ভিটমিন ওষধ এবং কয়েক বার সেচ দিয়েছি। তাতে সব মিলিয়ে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।ফালগুন মাসের প্রথমে গাছে ফুল আসে। এখন ফুল থেকে জিরার দানা বাধতে শুরু করেছে। চৈত্র মাসের শুরুতে পরিপক্ব দানার জিরা ঘরে উঠবে ।তিনি ধারণা করছেন এই জিরার মানও ইরানি জিরার মতোই উন্নত হবে।গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দীন বলেন, প্রথম বারের মতো গাংনী উপজেলায় সাহারবাটি ও বানিয়াপুকুর সহ বিভিন্ন মাঠে ৩একর জমিতে জিরার চাষ হয়েছে। জিরা যেহেতু একটি অর্থকারী মসলা ফসল, সেদিক বিবেচনায় সফল ফলন হলে পরবর্তীতে গোটা জেলায় এ চাষ সম্প্রসারণ করা হবে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম মুস্তাফিজুর রহমান জানান, আমাদের দেশে জিরা চাষে প্রধান বাধা কুয়াশা। শীতকালে কুয়াশা পড়লে জিরা চাষ সম্ভব নয়। জিরা চাষে শুষ্ক আবহাওয়া, ঝিরঝিরে বাতাস ও সূর্যের আলো প্রয়োজন।

মির্জাপুরসহ টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলায় ভরা মৌসুমে ইউরিয়া সারের তীব্র সংকট॥


মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল,টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা
মির্জাপুর উপজেলাসহ টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলায় ভরা মৌসুমে ইউরিয়া সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।বোরো মৌসুমের শুরুতেই ইউরিয়া সারের সংকট থাকায় কৃষকরা সার না পেয়ে হাট বাজারে এমনকি কৃষি অফিস ও স্থানীয় সার ডিলারদের দ্ধারে দ্ধারে ঘুরছে।অনেকেই বাধ্য হয়ে চড়া দামে বাজার থেকে নিম্ন মানের পচা সার কিনছে বলে জানিয়েছে।ডিলারগনও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।আজ রবিবার মির্জাপুর উপজেলার সার ডিলার, কৃষি অফিস ও হাট বাজারে সার বিক্রির দোকান ঘুরে ইউরিয়া সার সংকটের সত্যতা পাওয়া গেছে।ভরা মৌসুমে ইউরিয়া সারের অভাবে অধিকাংশ এলাকায় বোরো জমি অনাবাদী থাকার আশংকা করছে কৃষকরা বলে জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলায় গত ১০-১৫ দিন ধরে চলছে ইউরিয়া সারের তীব্র সংকট।উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র জানায়, মির্জাপুরে একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে সরকারী ভাবে সারের ডিলার রয়েছেন ১৫।উপজেলার পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, লতিফপুর, গোড়াই, তরফপুর, আজগানা ও বাঁশতৈল ইউনিয়নে এই ১৫ জন ডিলার কৃষকদের মধ্যে ইউরিয়া সারসহ বিভিন্ন সার ও বীজ বিক্রি ও বিতরণ করে থাকেন।কিন্ত এ বছর বোরো মৌসুমের শুরুতেই ইউরিয়া সারের সংকট থাকায় ডিলারগনও পরেছেন বিপাকে বলে জানিয়েছেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,মির্জাপুর ও টাঙ্গাইল জেলার ১২ উপজেলার সার ডিলারগন ইউরিয়া সার উত্তোলন করে থাকেন জামালপুর জেলার নান্দিনা যমুনা ইউরিয়া সার কারখানা থেকে।কিন্ত কোন কারন ছাড়াই কর্তৃপক্ষ কয়েক দিন পুর্বে রহস্য জনক কারনে টাঙ্গাইলের ডিলারদের যমুনা সার কারখানা থেকে ইউরিয়া সার উত্তোলন বন্ধ ঘোষনা করেন ।ফেব্র“য়ারি মাসে সার উত্তোলনের জন্য টাঙ্গাইলের সার ডিলারগন ৫০-৬০ ভাগ টাকা জামা দিয়েছেলেন যমুনা সার কারখানায় সার উত্তোলনের জন্য।পরে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন যারা টাকা জমা দিয়েছিলেন তাদের ডিও দেওয়া যমুনা সার কারখানার পরিবর্তে পাবনার ইশ্বরদী সার খানায়।এই সার কারখানায় সার উত্তোলন করতে গিয়ে ডিলারগন দেখতে পারেন, তাদের যে সারের চালান দেওয়া হয়েছে তা চিন থেকে আমদানীকৃত পচা, দলামিশ্রিত এবং অতি নিম্ন মানের সার।এই সার দীর্ঘ দিন খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ভিজে ও রোদে পুরে নষ্ট হয়ে গেছে।অনেকেই এই সার নিয়ে এলেও কৃষকরা পচা ও নিম্ন মানের এ কিনছে না বলে জানা গেছে।ফলে ডিলারগনও পরেছেন চরম বিপাকে বলে জানায়।আবার এই পচা ও নিম্ন মানের সার কিছু কিছু মুনাফাভোগী ডিলার চরা দামে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করছে বলে জামুর্কির এলাকার কৃষক আবুল বাশার(৬০) ও মহেড়ার কৃষক আবুল হোসেন(৫৫) অভিযোগ করেছেন।
অপর দিকে ডিলারগন অভিযোগ করেছেন, যমুনা সার কারখানা থেকে এক ট্রাক সার আনতে খরচ পরতো সারে সাত হাজার থেকে আট হাজার টাকা।আর পাবনা থেকে এক ট্রাক সার আনতে খরচ পরছে ১৮-১৯ হাজার টাকা।তিন থেকে চারগুন টাকা খরচ দিয়ে সার এনেও তারা কৃষকদের মাঝে পচা ও জমাট বাঁধা সার বিক্রি করতে পারছে না।অপর দিকে একই অবস্থা বিরাজ করছে টাঙ্গাইলের সদর উপজেলা, বাসাইল, দেলদুয়ার, নাগরপুর, কালিহাতি, ভুয়াপুর, ঘাটাইল, সখীপুর, গোপালপুর, মধুপুর ও ধনবাড়ি বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলায় ডিলারদের মাঝে যমুনা সার কারখানার ইউরিয়া সার সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে বিশেষ একটি সিন্ডিকেট চক্র এই সার জামালপুর ও শেরপুর জেলায় সরবরাহ করছে।পাবনার ইশ্বরদী সার খানায় জমা থাকা পচা সার বিক্রির জন্য মন্ত্রী ও উপরের মহলের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজসে এই কারসাজি হয়েছে বলে ডিলারগন অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি ও টাঙ্গাইল জেলা সার ডিলার সমিতির সহ-সভাপতি দেওয়ান মো. রেফাজ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, যমুনা সারকারখানার ইউরিয়া সার সরবরাহ বন্ধ থাকায় তারা কৃষকদের মাঝে সার বিক্রি করতে পারছেন না।চিন থেকে আমদানীকৃত পাবনার ইশ্বরদী থেকে যে সার টাঙ্গাইলেল বিভিন্ন হাট বাজারে আসছে তা জমাট বাধা ও অতি নিম্ন মানের।এই সার কৃষকরা বাজার থেকে নিচ্ছে না।ফলে তারা বিভিন্ন স্থান্যে সারের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে।
এ ব্যাপারে কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,বিশেষ কারনে যমুনা সার কারখানা থেকে ইউরিয়া সার সরবরাহ সাময়িক ভাবে বন্ধ রয়েছে।কিন্ত পাবনার ইশ্বরদী থেকে সার এনে ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে।তবে এই সার সংকট বেশী দিন থাকবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাফলংয়ে চুনা কোয়ারিতে মাটি চাপায় দুই শ্রমিক নিহত ও আহত ১, আটক ৬


আবু সালাম আজাদ, গোয়াইনঘাট থেকেঃ
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে বিজিবি’র সংগ্রাম সীমান্ত ফাঁড়ি সংলগ্ন চুনা কোয়ারি এলাকায় চুনা পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে মাটি চাপা পড়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন কোম্পাণীগঞ্জ উপজেলার তেলিখাল গ্রামের মদরিস আলীর পুত্র কামরুজ্জামান (২৮) ও একই এলাকার জিয়াদুর রহমান’র পুত্র তাজ উদ্দিন (৩০)। এঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুর রশিদ নামের একজনকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায় জাফলং চুনা কোয়ারি এলাকার কথিত ইজারাদার সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাঘবাড়ি গ্রামের আফসার আলী ও একই উপজেলার কালারুকা গ্রামের আব্দুল হান্নান বিজিবি’র সংগ্রাম সীমান্ত ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় গর্ত করে চুনা পাথর উত্তোলন করে আসছিল। গতকাল রোববার ওই গর্ত থেকে চুনা পাথর তুলার সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাটির পাড় ধসে তিন শ্রমিক মাটি চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় গর্তে কর্মরত দুই শ্রমিক। স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে দুই জনের লাশ উদ্ধার করে। এ দূর্ঘটনায় অপর আরেক জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে সিলেটের সহকারী পুলিশ সুপার আবুল হোসেন, সার্কেল এ এসপি মতিয়ার রহমান ও ইউএনও গোয়াইনঘাট মো. সালাহ উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে থানা পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
থানার ওসি দেলওয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার জানান এঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদী এখন কৃষকের ধানের ক্ষেত

ঝিনাইদাহ প্রতিনিধি ঐতিহাসিক নবগঙ্গা নদীটি ঝিনাইদহ জেলার বুক চিরে অতিবাহিত হয়েছে। বহুঘটনার সাক্ষী হয়ে বয়ে চলা নদী আজ তার রূপ যৌবন আর জৌলশ হারিয়ে এখন কৃষকের ধানের ক্ষেতে পরিনিত হলেও এই ঐতিহাসিক নবগঙ্গা নদীটি পূর্নখনন কিংবা সংরক্ষনের কোন উদ্যগ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষর নেই। সরকার প্রতিবছর কতৃপক্ষর মাধ্যেমে নদী খননের বরাদ্ধ দিলেও কি সদ ব্যবহার হয়েছে ? নবগঙ্গ নদীর।এমন প্রশ্ন অভিজ্ঞ মহলের মাঝে দেখা দিয়েছে। গত কাল সরেজমিনে বৈডাঙ্গা ভাতুড়ীয়া এলাকার নবগঙ্গা নদীর মাঝে ঘুরে দেখা গেছে শুধুই ধান ক্ষত আর ধান ক্ষত। সাধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দীন এই প্রতিবেদকের মাধ্যেমে নদীটি পৃর্নখননের দাবি করলেন কতৃপক্ষর কাছে। জানান নদী গুলো তার লব্যতা হারিয়েছে এবং নদী যাগা বিষেশ দখল হয়ে আছে সেই জাগা দখল মুক্ত করে নদী খনন করলে নদীর তার পুরনো যৌবন ফিরে পাবে।

সীমান্তে ভারতীয় গরু আটক

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী সীমান্ত থেকে ১৪টি ভারতীয় গরু আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার ভোরে উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের কাইজারচর সীমান্তের চরাঞ্চল থেকে গরুগুলো আটক করা হয়। এগুলোর আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা।কুড়িগ্রাম-৪৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের শালঝোড় বিওপির হাবিলদার মো. আব্দুল আউয়াল জানান, চোরাচালান প্রতিরোধে এখন বিজিবির বিশেষ অভিযান চলছে। সোমবার ভোর ৪টায় উপজেলার কাইজারচর নামক স্থানে মেইন পিলার ৯৮৭-এর ৪ আর-এর কাছে অবস্থান নেয় বিজিবির টহল দল। তাদের অবস্থান টের পেয়ে ১৪টি ভারতীয় বলদ গরু রেখে চোরাকারবারীরা পালিয়ে যায়। চর থেকে উদ্ধার করা গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
আটক গরুগুলো নাগেশ্বরী উপজেলার জয়মনি কাস্টমস কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার থেকে রাজধানীর মাংসের দোকানগুলো খুলবে

টানা ছয় দিনের ধর্মঘটের পর কোনো ধরনের মীমাংসা ছাড়াই ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে ঢাকা মহানগর মাংস ব্যবসায়ী সমিতি।সোমবার থেকে রাজধানীর মাংসের দোকানগুলো খুলবে। রোববার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি ও ঢাকা মহানগর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা।

রাজধানীর গাবতলী গরুর হাটে মহানগর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম। তিনি বলেন, মাংস ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের স্বার্থেই ধর্মঘট ডেকেছিল। আবার ভোক্তাদের কথা চিন্তা করে ধর্মঘট প্রত্যাহার করছে। সোমবার থেকে রাজধানীর মাংস ব্যবসায়ীরা দোকান খুলবেন; কিন্তু মাংসের বাজার কী হবে, তা নির্ভর করছে বাণিজ্যমন্ত্রী ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রের পদক্ষেপের ওপর। মাংসের বাজারে কোনো শৃঙ্খলা আশা করা ঠিক হবে না। কারণ ব্যবসায়ীরা খরচের সঙ্গে মুনাফা যোগ করেই বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করবেন।
গাবতলী গরুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায় ও চাঁদাবাজি বন্ধ করাসহ চার দফা দাবিতে ঢাকা মহানগর মাংস ব্যবসায়ী সমিতি গত সোমবার থেকে ছয় দিনের এ ধর্মঘট শুরু করে। শনিবার ধর্মঘট শেষ হলেও সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী রোববার ঢাকায় ‘মিটলেস ডে’ অধিকাংশ মাংসের দোকান বন্ধ ছিল। তবে কয়েকটি এলাকায় মাংস বিক্রি হয়েছে। সেসব দোকানে গরুর মাংস বিক্রি হয় ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যানুযায়ী, খাসির মাংস বিক্রি হয় ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়।
জানা যায়, সমিতির ডাকে সাড়া দিয়ে ছয় দিন ঢাকা মহানগরীর প্রায় পাঁচ হাজার দোকানে মাংস বিক্রি বন্ধ ছিল। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গাবতলী গরুর হাটের ইজারাদাররা সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ইচ্ছামতো খাজনা আদায় করছে।
গত ছয় দিনে রাজধানীতে মাংস সরবরাহ বন্ধ থাকায় হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সাধারণ জনগণও বিপাকে পড়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সিটি করপোরেশন আলোচনার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সবশেষে রোববার সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুন্সী সফিউল হক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আমিনুল ইসলাম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বৈঠকে থাকার কথা থাকলেও তিনি ঢাকার বাইরে থাকায় অংশ নিতে পারেননি। এরপর দুপুরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য গেলেও মেয়রের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক থাকায় তিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসতে পারেননি। এরপর বিকেলে মাংস ব্যবসায়ী সমিতি সংবাদ সম্মেলন করে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মর্তুজা মন্টু, সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন, মহানগর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল বারেক, সাধারণ সম্পাদক ছালিম আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »