Category: অর্থ ও বাণিজ্য

জ্বালানি সাশ্রয়ে জ্বালানি নিরাপত্তার অধিক্ষেত্র বাড়ানো হবে — বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

,ঢাকা ৫ মাঘ (১৮ জানুয়ারি) :
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, জ্বালানি সাশ্রয় বাড়াতে জ্বালানি নিরাপত্তার অধিক্ষেত্র বাড়ানো হবে। তিনি আজ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্লোডা) র সম্মেলন কক্ষে Stakeholders Validation Workshop on National Energy Audit Regulation এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আর্কিটেকচার, রাজউক, চেম্বার বডি বা বিজিএমইএ কে জ্বালানির সাশ্রয় ও দক্ষ ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ স্রেডাকেই নিতে হবে। ২০২০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ ও ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায়। প্রাথমিকভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির মূল্য একটু বেশি হলেও চূড়ন্তভাবে মূল্য সাশ্রয়ী। টেকসই উন্নয়নের জন্য জ্বালানি সাশ্রয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি সাশ্রয় করতে পারলে উৎপাদন খরচও কম হবে। ২০২০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব হলে প্রায় ৭ হাজার ৪৮২ গিগাওয়াট-আওয়ার বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে যা ২ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি পাওয়ার প্ল্যান্টে প্রায় ১ বছর উৎপাদিত বিদ্যুতের সময়।
ম্রেডার সদস্য সিদ্দিক জোবায়ের তার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বলেন, শিল্পখাতে ৫৪ শতাংশ জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। সচেতনভাবে জ্বালানি ব্যবহার করলে এখান থেকে ৩১ ভাগ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস কর্মশালায় বলেন, জ্বালানি নিরীক্ষা করার জন্য বিধিমালা থাকা প্রয়োজন। কর্মশালা থকে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ প্রদান করে নীতিমালাটিকে বাস্তবায়নযোগ্য ও সময়োপযোগী করার আহ্বান জানান তিনি। অন্যান্যের মধ্যে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলাম এ সময় বক্তব্য রাখেন।

অর্থ আত্মসাতের মামলায ২৮ বছর পরে রায়

জালিয়াতির মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংকের পৌনে এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই ব্যাংকের তৎকালীন তিন কর্মকর্তা এবং ছয় ব্যবসায়ীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে আট লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা করে অর্থদণ্ড  দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার  চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মীর রহুল আমিন এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত আরো দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
দণ্ডিত ও খালাস পাওয়া ১১ আসামির মধ্যে শুধুমাত্র অগ্রণী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখার বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের প্রাক্তন ইছহাক চৌধুরী আদালতে হাজির ছিলেন। অন্যরা পলাতক রয়েছেন।পিপি অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ২৮ বছর আগে আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে নূর ট্রেডার্সের নামে ভুয়া আমদানি ঋণপত্র দেখিয়ে ৭০ লাখ ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেন। ১৯৮৮ সালের ১৩ অক্টোবর দুর্নীতি দমন ব্যুরো তৎকালীন পরিদর্শক আবু মো.আরিফ সিদ্দিকী বাদী হয়ে কোতয়ালি থানায় ৭৫ লাখ ৫৭ হাজার ৩১৮ টাকা ব্যাংকের ক্ষতিসাধনের অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪০৯, ১০৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করে। ১৯৯৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগ গঠনের পর মামলায় মোট সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। আসামিদের বিরুদ্ধে ৪০৯ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অগ্রণী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখার প্রাক্তন ব্যবস্থাপক আনসারুল হক, প্রাক্তন ক্যাশ ইনচার্জ আব্দুস শুক্কুর ও ক্যাশিয়ার মঈনউদ্দিন চৌধুরী এবং খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী স্বপন কুমার ঘোষ, নূর ট্রেডার্সের মালিক আব্দুন নূর, মেসার্স আলম ব্রাদার্স এন্ড কোম্পানির মালিক জামাল উদ্দিন, মেসার্স পারভিন অটোমোবাইলসের মালিক কোরবান আলী, আজিজ অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক আজিজুর রহমান এবং রহমান অ্যান্ড কোম্পানির মালিক শহীদুল আমানকে দণ্ডাদেশ দেন আদালত।
খালাস পায় পাওয়া দুজন হলেন, অগ্রণী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখার বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের প্রাক্তন ইনচার্জ ইছহাক চৌধুরী এবং খাতুনগঞ্জের হোসেন অ্যান্ড ব্রাদার্সের মোহাম্মদ হোসেন। –

মেহেরপুর গাংনীতে মসুরীর বাম্পার ফলনের আশা কৃষকের

আল-আমীন সিনিয়র রিপোর্টার: মেহেরপুরে গাংনী উপজেলায় গত বছরে তুলনায় এবার কৃষকদের মাঝে বারি-৩ জাতের মসুরি চাষের হয়েছে ব্যপক । মেহেরপুর জেলার ৩টি উপজেলার হাজার হাজার বিঘা জমিতে এবার মসুরি হয় বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, প্রতি গ্রামের কৃষকেরা কিছু না হলের মসুরি চাষ করেছেন। এই ফসলটি কম খরচ ও স্বল্পমেয়াদী হওয়ায় চাষিদের মাঝে মসুরি চাষের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এসব গ্রামের একাধিক এলাকাজুড়ে এখন শুধু মসুরি আর মসুরি। চারিদিকে সবুজে ও সাদা ফুলের সমাহার উঠেছে মাঠে পর মাঠে।
চলতি মৌসুমে কোন প্রকার প্রাকৃতিক দূর্য্যোগ না হওয়াতে মসুরি ভাল ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করেন যে,মসুরি যথা সময়ে ঘরে তুলতে পাড়লে এবং বিক্রয় মূল্য ভাল পেলে মসুরি চাষের কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।
চলতি মৌসুমে গাংনী উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে মসুরি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এবছর ৩টি উপজেলার পায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে মসুরি আবাদ হয়েছে বলে জানা যায়। শুরুতে মসুরি ক্ষেতে পোকা-মাকড়ের আনাগোনা দেখা দিলেও মাঠ মসুরি চাষিদেরকে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পরামর্শ ও কারিগরী সহযোগিতার কারণে মসুরি ক্ষেত অনেকটা রোগ-বালাই মুক্ত হওয়ায় ভাল ফলনের আশাবাদী কৃষকেরা
গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া মাসুদ রানা জানান, এবছর প্রায় ৮ বিঘা জমিতে মসুরি চাষ করেছি।আমি নিজে বীজ ক্রয় করে জমিতে বপণ করেছি। মসুরি গাছে প্রচুর পরিমান ফুল ধরাতে মনে হচ্ছে এবার ভাল ফলন পাব। দাম ভাল পেলে মসুরি চাষের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাবে বলে জানান তিনি।
একই উপজেলার ধর্মচাকী গ্রামের কৃষক মাহবুব হাসান টুটুল জানান,এবার মসুরী আমার খুব ভাল হয়েছে।গত বছরের চেয়ে মসুরী গাছে প্রচুর ফুল দেখা দিয়েছে।কোন প্রকার রোগ বালাই না হলে বিঘা প্রতি ৯ মণ হবে বলে আমি আশাবাদি।
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, এবারে ৯টি ইউনিয়নে বিগত বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি পরিমান মসুরী চাষ হয়েছে। যথা সময়ে জমি চাষের যোগ্য হওয়ায় এলাকার কৃষকরা সুযোগ বুঝে মসুরী চাষ করেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদেরকে যথাযথ পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক দূর্য্যােগে কোন প্রকার ক্ষতি না হলে উপজেলায় মসুরী আবাদেও বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আর ও বলেন,মসুরী চাষের জমিগুলো উরর্বতা বেশি থাকায় কৃষকরা মসুরী চাষেও এর সুফল পাবে।

রাণীনগরের তৈরি লেপ-গদি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চালান হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে পৌষ মাসের শেষের দিকে ঘনকুয়াশা, শৈতপ্রবাহ আর কনকনে শীতের কারণে ব্যস্ত সময় পার করছেন লেপ-গদি তৈরি করার কারিগররা। হঠাৎ শীত জেঁকে বসায় লেপ-তোষক ও গদি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে উপজেলার কারিগররা।
উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে লেপ-তোষক ও গদি তৈরি করে বিভিন্ন এলাকার গ্রামে-গঞ্জে ফেরি করে ঘুড়ে বেরাচ্ছে। ছয় ঋতুর এই দেশে শীতের আগমনী বার্তা শীত কালে হওয়ার কথা থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তা ঋতুর সাথে তাল মিলছে না। গ্রাম-বাংলার প্রবাদ আছে “আশ্বিন মাসে গাঁ করে শিনশিন”। পৌষ মাসের শেষ ভাগে সকাল হলেই ঘন কুয়াশার আচ্ছন্ন আর শীতের দাপটে গত কয়েক দিন ধরে দুপুর গড়ালেও সূর্যের মুখ দেখা মিলছে না।
সন্ধ্যা নামার পরপরই প্রায় সারা রাত ধরেই ভাড়ি ও মাঝারী ধরণের শৈতপ্রবাহের কারণে অনেক বাসা-বাড়িতে শীত নিবারণের জন্য লেপ-তোশখ তৈরির ধুম পড়েছে। পাশাপাশি লেপ-তোষক তৈরি ও ব্যবসায়ীর সাথে জড়িতরা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের উত্তর জেলাগুলোতে পাইকারি ভাবে ট্র্যাক যোগে লেপ-তোষক সরবারহ করছেন।

সরেজমিন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিন যতই গড়ছে শীত ততই বেশি পড়ার আশংকায় উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষেরা নতুন নতুন লেপ তৈরি করছে। লেপ তৈরির কারিগররা শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে অর্ডার নিলেও যথা সময়ে সরবারহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। লেপ-তোষক অর্ডার দিতে আশা মানুষের তারাহুরার কারণে উপজেলা কোবরাতলী, বিএনপি’র মোড়, স্টেশন রোড, বেতগাড়ী বাজার ও আবাদপুকুর হাটের শোরুমের পার্শে¦ ফাকা জায়গাই ক্রেতাদের উপস্থিতি আর কারিগরদের ধুনুক দিয়ে তুলা ফাটানোর সরগরমেই যেন বলে দিচ্ছে লেপ-তোষক তৈরির ধুম পড়েছে। শীতের কারণে তুলার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ত্রিমোহনী-কুবরাতলী এলাকায় ৭ টি তুলার মিলে উৎপাদিত মানসম্পন্ন তুলা দোকানীদের কাছে সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রতি কেজি শিমল তুলা ২শ’ ৮০টাকা থেকে ২শ’ ৯০টাকা, মিলের তুলা ভাল মানের ৪০ টাকা, কারপাস তুলা ১শ’ ৬০টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রেণী ভেদে তুলার দাম মিল মালিকরা বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠছে।

কুড়িগ্রাম জেলা থেকে আসা লেপ-তোষক পাইকার ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন জানান, শীত আসলে আমি কুবরাতলী থেকে তৈরি লেপ-তোষক নানান মাপের বিভিন্ন দামে কিনে নিয়ে আমার এলাকায় নিজস্ব গুদাম ঘর থেকে ভ্যান যোগে গ্রামে গ্রামে গিয়ে বিক্রয় করি। এতে করে সব খরচ বাদ দিয়ে শীতের দুই মাস আমার ভালই ব্যবসা হয়।

উপজেলার বেলবাড়ি গ্রাম থেকে লেপ তৈরি করতে কোবরাতলী মোড়ে আশা আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, গত বছর শীতে আমি যে লেপ বানিয়ে ছিলাম তার চেয়ে এবারে বেশি দাম চাচ্ছে। প্রয়োজনের তাগিদে একটু চড়া দাম দিয়েই বানাতে হচ্ছে।

লেপ-তোষক তৈরির সাথে জরিত রাণীনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকার মোজাফ্ফর হোসেন জানান, এখানে তুলার মিল স্থাপনের পর থেকে আমি সহ পরিবারের সদস্যরা মিলে ২৯ বছর ধরে এই কাজ করে আসছি। তুলা, কাপড়, সুতা ও অন্যান্য উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ৬/৭ ফিট মাপের মিলের তুলা দিয়ে তৈরি তোষক ১৮শ’ টাকা এবং একটু কম মানের তুলা দিয়ে তৈরি করলে ১৫শ’ টাকার মত খরচ পড়ে। আমাদের তেমন লাভ না হলেও পেশার তাগিদে এই কাজ করে আসছি।

চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর এবার দেশের শ্রেষ্ট ভুট্রা চাষ জেলা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন

আল-আমীন সিনিয়র রিপোর্টারঃ
মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা দেশের সবচেয়ে বেশী ভুট্টার চাষ হয় ।মধ্যে সবুজ পাতার আড়ালে হাসছে হলুদ রঙের ভুট্টা মাথায় লাল ফুল, গায়ে হলুদ বর্ণের এসব ভুট্টা দোলা খাচ্ছে বাতাসে। উৎপাদন বেশি, খরচ কম তাই ভুট্টচাষে আগ্রহ বেড়েছে এখানকার কৃষকদের।মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা ৮ উপজেলায় ১৫০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে।কৃষকরা জানান, ধান চাষের পর ভুট্টা চাষটা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ ভুট্টা চাষে লাভ বেশি। ভুট্টার দানা মানুষের খাদ্য হিসেবে এবং ভুট্টার গাছ ও সবুজ পাতা উন্নত মানের গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবেও এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছ। একসাথে অনেকগুলো সুবিধার কারণে এ চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের।আদিকাল থেকে বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি এ অঞ্চলের কৃষকরা ভুট্টা চাষ করে আসছে। উচ্চফলন, বেশি লাভ আর চাহিদা অনেক থাকায় সম্প্রতি বছরগুলোতে ভুট্টা চাষাবাদ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তাই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চাষীদের কাছ থেকে সরাসরি ভুট্টা ক্রয় করছেন।গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার রইচ উদ্দীন জানান, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, মাটির উর্বরতা যেন ঠিক থাকে এবং চাষীরা যাতে পরিকল্পিতভাবে ভুট্টার আবাদ করতে পারে সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ধান ও গমের তুলনায় ভুট্টার পুষ্টিমান বেশি। এতে প্রায় ১১ভাগ আমিষ জাতীয় উপাদান রয়েছে। আমিষে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো এসিড, ট্রিপটোফ্যান ও লাইসিন অধিক পরিমাণে আছে। এছাড়া হলদে রংয়ের ভুট্টা দানায় প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৯০ মিলিগ্রাম ক্যারোটিন বা ভিটামিন এ থাকে।স্থানীয় ভুট্টা চাষীদের দাবি স্থানীয় কৃষিবিভাগের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হলে ভুট্টচাষীরা আরো ব্যাপক হারে এর চাষাবাদ এগিয়ে নিতে পারবে।মেহেরপুর জেলা কৃষি অফিসার এস এম মুস্তাফিজুর রহমান জানান মেহেরপুর ভুট্র চাষের জন্য অনুকুল পরিবেশ আছে।

নওগাঁর রাণীনগরে বাড়ছে ভুট্টার চাষ ॥ বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা


নওগাঁ প্রতিনিধিঃ দেশের উত্তর জনপদের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় ব্যাপক ধান চাষের পাশাপাশি ভুট্টা চাষের উজ্জল স¤া¢বনা দেখা দিয়েছে। স্বল্প খরচে অধিক লাভ অল্প পরিশ্রমের কারণে চাষিরা এই ফসল চাষের দিকে ঝুকে পড়ছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চলতি রবি মৌসুমে বোরো ধানের পাশাপাশি দিগন্ত জুড়ে ভুট্টা চাষের ডানা মেলছে। কৃষকরা ভাল বাজার দর পেলে এবার ভুট্টা চাষিদের মুখে হাসির ঝিলিক ফুটবে এমনটাই আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। জেলার অন্যান্য উপজেলার চেয়ে রাণীনগর উপজেলায় এবার ভুট্টা চাষের প্রায় শীর্ষ স্থান দখল করে নিয়েছে। নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের হিসাব মতে, মাত্র তিন বছরে উপজেলায় প্রায় ছয়শত হেক্টর ধানী জমিতে কৃষকরা ধান চাষ না করে চলতি রবিশস্য মৌসুমে ভুট্টা চাষ করছে। কৃষি বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে চারশত হেক্টর হলেও মাঠ পর্যায়ে ভুট্টা হচ্ছে প্রায় ছয়শত হেক্টর জমিতে। ধান, পাট ও সবজির আবাদ করে কৃষকদের প্রতি মৌসুমে লোকসান হওয়ায় এবং বিগত বছর গুলোতে অনুকুল আবহাওয়া থাকায় ভুট্টার ভাল ফলন ও দাম আসানুরুপ পাওয়ায় এলাকার চাষিরা অন্যান্য ফসলের চেয়ে ভুট্টা চাষের দিকে প্রতি বছরই ঝুকে পড়ছেন কৃষকরা। উপজেলা মিরাট ইউনিয়নের জালালাবাদ গ্রামের মো: গিয়াস, আব্দুস সাত্তার সহ একাধিক ভুট্টা চাষি বলেন, আমরা নিজের সব জমিতেই বোরো ধানের চাষ করতাম। কিন্তু ধানের জমি কিছুটা কমিয়ে ধীরে ধীরে ভুট্টা চাষের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। গত বছর ভুট্টা উঠার সাথে সাথে আধাশুকনা ভুট্টা কাটা মাড়াই সময়ে উঠান থেকেই ভাল দামে বিক্রয় করেছি। বর্তমানে এলাকায় ভুট্টার আবাদ দিনদিন পাচ্ছে তাই বর্তমানে এই এলাকায় সরকারি ভাবে ভুট্টার বাজার দর বেধে দিলে চাষিরা নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবে না বলে তারা জানান।
গত বছর গুলোতে চাষিদের উৎপাদিত অন্যান্য কৃষিজাত ফসলে লোকসান হওয়ার কারণে এলাকার চাষিরা কয়েক বছর ধরে ব্যাপক হারে ভুট্টার আবাদ করছে। এবারও ফলন ও দাম ভাল পেলে চাষিদের মুখে হাসির ঝিলিক ফুটবে। ভরা মৌসুমে প্রাকৃতিক কোন রুপ দূর্যোগ দেখা দিলে অন্যান্য ফসলের যেমন ক্ষতি হয় ভুট্টার তেমন একটা ক্ষতি হয় না। প্রতি বিঘায় ২৬ থেকে ২৮ মন পর্যন্ত ভুট্টা উৎপাদন হয়। ধান চাষের পরেই এলাকায় কৃষি ফসলের পাশাপাশি ভুট্টা চাষের উজ্জল সম্ভবনা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, মাঠ পর্যায়ে চাষিদের ভুট্টা চাষের আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রান্তিক পর্যায়ের চাষিদের চলতি রবিশস্য মৌসুমে উপজেলার প্রায় দুইশত কৃষককে আগাম জাতের ভুট্টা বীজ দিয়েছি। চাষযোগ্য জমিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উপযুক্ত পরামর্শ দেওয়ার ফলে সঠিক সময়ে বীজ বপন করায় এবং নিবির পরিচর্চার কারণে এবার ভুট্টা চাষের উজ্জল সম্ভবনা দেখা দিয়েছে।

সেই মাসুদ মিয়ার তৈরী ‘ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ’ ওষুধে দাররুণ সুফল পাচ্ছে রোগীরা

অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোটার :
টাঙ্গাইল পৌর কলেজ মোড়স্থ কবিরাজ মাসুদ মিয়ার তৈরী ওষুধে হচ্ছে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ। গাছ গাছরা দিয়ে তৈরী এ ওষুধে স্থায়ী ভাবে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে আসায় দিনদিন তার রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভীড় জমছে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর। এর সুফলও পাচ্ছে রোগীরা।সরেজমিনে, মাসুদ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে ও ডায়াবেটিস রোগীদের সাথে কথা বলে যেসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে তা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল –সিরাজগঞ্জের সাহেব পাড়া গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা বাহাদুর মিয়ার স্ত্রী জয়গন, তার বয়স বর্তমানে ৭০এর অধিক। সে জানায়, তার বয়স যখন ৩৫/৪০ বছর তখন থেকেই তার ডায়াবেটিস রোগ হয়েছে বলে সে জানতে পারেন। প্রথমেই ২৭/২৮ পর্যন্ত ডায়াবেটিস থাকতো। সব সময় মাথা ঘুরানো সহ শরীর অসুস্থ্য থাকতো। কোন প্রকার কাজ কর্ম তার ভাল লাগতো না তার।অনেক চিকিৎসা সেবা এমনকি ইন্সুলেন্সও নিয়েছেন তিনি। অনেক বছর ধরে কত চিকিৎসা করেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারছিলেন না। পরে তিনি জানতে পারলেন টাঙ্গাইলের মাসুদ মিয়ার গাছ-গাছরা দিয়ে তৈরী ওষুধের কথা।এর পর তিনি ছেলেকে নিয়ে চলে আসেন এবং এখান থেকে ওষুধ নিয়ে খেতে থাকেন। প্রথমবার ২১দিনের এক কোর্স ফাইল খাওয়ার পরপরই তার শরীর অনেকটা সুস্থ্যবোধ করেন। পরে একে একে ৪টি ফাইল খাওয়ার পর তিনি অনেকটাই সুস্থ্য। বর্তমানে তার ডায়াবেটিস নেমে ৬/ ৭ এ চলে এসেছে।
তিনি আরো জানান, এটি স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কবিরাজ বলেছেন ৫ম ফাইলটি খেতে হবে। তাই ৫ম ফাইলের জন্যই আমি এসেছি। এখন আমি সাংসারিক সকল প্রকার কাজ কর্ম করতে পারি এবং হাটা চলা ফেরা করতে পারছি।
চিবিৎসা নিতে আসা নোয়াখালীর মহতাপুর গ্রামের শফিউল্লাহ জানান, তার বয়স ৬৫ বছর। আমার ডায়াবেটিস হওয়ার পর থেকেই শরীর আস্তে আস্তে নিস্তেজ হতে থাকে। আমি শরীরে বল পাইনা। আমার একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। অনেক চিকিৎসা সেবা নেয়ার পরও সুস্থ্য হইনি। বর্তমানে আমি টাঙ্গাইলের কবিরাজ মাসুদ মিয়ার তৈরী করা ওষুধ খেয়ে পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে উঠেছি। বর্তমানে আমার ডায়াবেটিস
এ নিয়ে কথা হয়, গোপালগঞ্জ জেলার পাটকেলবাড়ি গ্রামের বিনোদ রায়ের ছেলে স্বপন রায়ের সাথে। তার ডায়াবেটিস হওয়ার পর ঢাকা বারডেম হাসপাতালেসহ বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। পরে টাঙ্গাইল থেকে কবিরাজে গাছ-গাছরার তৈরী করা ওষুধ খেয়ে ৮৪ দিনেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।এ ছাড়াও কথা হয়, চাঁদপুরের ফখরুল ইসলামের স্ত্রী নাজমুন নাহার, ঢাকা ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন ও ভোলার শফি উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন ডায়াবেটিস রোগীর সাথে।
তারা জানান, ডায়াবেটিস একটি নিরব ঘাতক রোগ। শরীরে বাসা বেঁধে ধীরে ধীরে শরীরকে অসুস্থ্য করে তুলে। এবং শরীরের কাটা ছেড়া ও ফুড়া উঠলে তা সেরে উঠতে চায় না। এ রোগ চিরজীবনের জন্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাসুদ মিয়ার ওষুধ খেয়ে এখন আমরা ভাল ও সুস্থ্য আছি।এ ব্যাপারে কবিরাজ মাসুদ মিয়া জানান, বিভিন্ন প্রকার ঔষধি গাছ-গাছরা দিয়ে তৈরী করা বড়ি, ফাঁকি ওষুধ ও সরবত আকারে ২১দিনের কোর্স করে একটি ফাইল দেয়া হয়।২১দিন পরপর ৫ ফাইল ওষুধ সেবন করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। আর এই নিয়ন্ত্রণ চিরজীবন ধরে রাখতে শুধু পানির সাথে মধু মিশিয়ে খেতে হবে। এতেই স্থায়ীভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকবে।তিনি জানান, ঔষধি গাছ-গাছরা চাহিদা অনুযায়ী সংগ্রহ করতে না পারায় কাঙ্ক্ষিত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে পারছি না। তবে ঔষধি গাছ-গাছরার চাষ করতে পারলে সকল ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হত।

বেনাপোল-যশোর-খুলনা কমিউটার ট্রেনে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে চলছে যাতায়াত : যাত্রীদের টিকিটের টাকা দেদারছে ঢুকছে টিটিদের পকেটে :– রেলপথে এসব দেখার কেউ


তানভীর মহসিন বেনাপোল
বেনাপোল-যশোর-খুলনা কমিউটার ট্রেনে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে চলছে যাতায়াত ব্যবস্থা। সেইসঙ্গে দুই হাত ভরে অর্জন করছে সরকারকে ফাঁকি দিয়ে অবৈধ টাকা। যাত্রীদের টাকা দেদারছে ঢুকছে টিটিদের পকেটে। রেলপথে এসব দেখার কেউ নেই। নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত সবাই।
বেনাপোল থেকে যশোরে ভাড়া ২০ টাকা ও খুলনার ভাড়া ৪৫ টাকা। বেনাপোল থেকে ছেড়ে যাওয়া কমিউটার ট্রেনে দেখা গেছে শতকরা ৪০ ভাগ লোক ট্রেনে টিকিট না কেটে ওঠে। এরা অর্ধেক পয়সায় গন্তব্য পৌঁছে যায় আবার অনেকে ফাঁকি দিয়ে যায় নানা ছলচাতুরির মধ্য দিয়ে। আসার সময়ও একই অবস্থা। খুলনা থেকে ২০ টাকা ও যশোর থেকে দশ টাকায় চলে আসা যায় নগদ দিয়েই। আর সে কারণে অনেকে টিকিট কাটতে চায় না। এ ট্রেনে সাধারণ যাত্রীদের চেয়ে মহিলা চোরাচালানিরা উঠে থাকে বেশি। তারা টিকিট না কেটে পা তুলে সিটে বসে থাকে। অথচ টিকিট কাটা অনেককেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ট্রেনের বিভিন্ন জায়গা ছিদ্র করে তারা চোরাই মালামাল নিয়ে যায়। ট্রেনের মধ্যে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) থাকলেও তারা একটি বগিতে সিট নিয়ে ঘুমায়। আর যাওয়ার সময় চোরাচালানিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেনাপোল থেকে সকাল সোয়া ১০টার সময় এবং দুপুর দুইটার সময় দুটো ট্রেন যশোর ও খুলনা রুটে চলাচল করে। ট্রেনের চেকাররা (টিটি) প্রতিটি বগিতে গিয়ে টিকিট চেকের সময় টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকা নিয়ে নিচ্ছে বিনা রশিদে। তাদের টিকিট না কেটে উঠার অপরাধে কোনো জরিমানাও করা হয় না। আর এ সুযোগে বেশির ভাগ যাত্রী অর্ধেক টাকা দিয়ে তাদের গšতব্য পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে যাত্রীদের অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে আর অপরদিকে লাভবান হচ্ছে ট্রেনের চেকাররা। এ দৃশ্য প্রতিদিনের যাওয়া আসায় চোখে পড়বে সবার। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ঠিকমতো অর্থ জমা না হওয়ায় বাংলাদেশ রেলওয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বেনাপোল রেলস্টেশনের মাস্টার আজিজুর রহমান জানান, এরা অনেক টাকা ঘুষ দিয়ে চাকরি নিয়েছে, বদলি (একজনের পরিবর্তে আরেকজন) নিয়েছে। যার কারণে এসব কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। আইন আছে টিকিট না কাটলে তাদের জরিমানা করে অর্থদন্ড দেওয়া। কিন্তু বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম। এরকম কিছু দেখা যায় না।’
আপনারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘টিটিরা আমাদের কাছে রিপোর্টেবল না। তাদের ইন্সপেক্টর আছে তাদের কাছে ওরা জবাবদিহিতা করে।
বেনাপোল রেলস্টেশনের একটি সূত্র জানায়, যাত্রীদের টিকিট না কাটার ব্যাপারে টিটেইরাই উৎসাহিত করে। যাত্রীদের বলে ট্রেনে যান, ওখান থেকে টিকিটের টাকা নেওয়া হবে। এভাবে দেশের সম্পদ রেলওয়ে প্রতিষ্ঠানকে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধ্বংসের মুখে নিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে রেলের পাওয়ার বগিতে থাকা কর্মচারীরা তার পাওয়ার বগিতে চোরাচালানের পণ্য উঠিয়ে থাকে অর্থের বিনিময়ে। আর চোরাচালানিদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়ে থাকে তারা।

ভালুকায় বোর ধান রোপন শুরু


ইতি শিকদার, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ পৌষের সকালে কুয়াশার চাদর আর কনকনে হিমশীতল হাওয়া চারিদিকে বীজতলায় চারা উঠানোয় ব্যস্ত কৃষক। শীত উপেক্ষা করে ভালুকায় শুরু হয়েছে বোর ধানের চারা রোপন। ক্ষেতে ক্ষেতে সুতা টেনে চারা রোপন করছেন শ্রমিকরা। নদীরপাড় ও নীচু জমিতে ধানের চারা লাগানোর এটাই উপযুক্ত সময়। এছারা স্যালু ও গভীর নলকূপ থেকে পানি সেচ দিয়ে টানি জমিতে হাল চাষ দিয়ে জমি নরম করে বোর ধানের চারা রোপনের উপযোগী করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। নানা প্রতিকুলতার মধ্যদিয়ে উন্নত প্রযুক্তিতে সারিবদ্ধ লাইনেও ধানের চারা রোপন করছেন চাষীরা। হবিরবাড়ী জামতলা গ্রামের কৃষক সামছুল হক জানান তিনি প্রায় ৩ একর জমিতে বোর আবাদ করছেন। তিনি প্রতি কাঠা জমি চাষ বাবদ ৩০০ টাকা, মঈ দেয়া ১৫০ টাকা, চারা রোপন ২৫০ টাকা, সার কীটনাশক ও সেচ বাবদ আরও ১৫০০ টাকা খরচ হবে। ফলন ভাল হলে প্রতি কাঠা জমিতে ৪/৫ মন ধান পাওয়ার আশা করেন তিনি। তিনি জানান জমি চাষের সময় বাংলা টিএসপি সার প্রতি বস্তা ১৫০০ টাকায় ক্রয় করেছেন সীডষ্টোর বাজারের এক সার ব্যবসায়ীর দোকান থেকে। তবে ধানের বাজার মূল্যের প্রায় কাছাকাছি উৎপাদন খরচ হওয়ায় চাষীরা হতাশ। অথচ টি এস পি সার ৫০ কেজির প্রতি বস্তা সরকার নির্ধারিত মূল্য ধরা হয়েছে ১১০০ টাকা অর্থাৎ ২২ টাকা প্রতি ১ কেজি। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী দামে সার বিক্রি করছেন। পৌর সদর সহ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে ডিলার কিংবা খুচরা সার বিক্রেতাদের কোন কোন দোকানে সরকার নির্ধারিত মূল্য তালিকার বালাই নেই। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে চলতি মৌসুমে ১৮ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে বোর আবাদের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। আর উৎপাদন সম্ভাবনা আছে ৭৩ হাজার ৪০ মেট্রিক টন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আজম খান জানান চলতি মৌসুমে বোর আবাদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে সার মজুদ রয়েছে, টি এস পি সারের সরকারী মূল্য ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ১১০০ টাকা ইউরিয়া ৮০০ টাকা। কেউ যদি বেশি দামে বিক্রি করে প্রমান সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিবেন। তবে চট্রগ্রামে উৎপাদিত বাংলা টি এস পি নামে পরিচিত সার বাজারে কোন কোন ডিলার কৃষকের কাছে গোপনে বিক্রি করে থাকেন বলে তিনি জানান। যদিও ওই সার ফ্যাক্টরী দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ রয়েছে।

৭ম কৃষি প্রযুক্তি মেলা সমাপ্ত সার্বিক বিবেচনায় চিক্স এন্ড ফিডস প্রথম

ঢাকা, ৩০ পৌষ (১৩ জানুয়ারি) :আজ রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ), বগুড়া এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ারস এন্ড এক্সিবিশন এর যৌথ উদ্যোগে ৩ দিনব্যাপী ৭ম কৃষি প্রযুক্তি মেলা শেষ হয়েছে।মেলায় সার্বিক বিবেচনায় ‘চিক্স এন্ড ফিডস ১ম, এসিআই লিঃ ও গেটকো যৌথভাবে ২য় এবং এগ্রো বেস্ট কর্পোরেশন ও আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ যৌথভাবে ৩য় স্থান অর্জন করেছে।এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরডিএ’র মহাপরিচালক এম এ মতিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান আরাস্তু খান এবং অন্যান্যের মধ্যে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সরদার আবুল কালাম, চীনের এফসিএম এর ভাইস জেনারেল ম্যানেজার রবার্ট গেন, আরডিএ’র পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম খান ও লিমরা’র কাজী সারোয়ার উদ্দিন বক্তব্য রাখেন।মেলায় দেশীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ভারত, চীন, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও কানাডাসহ ১৯টি দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের কৃষি প্রযুক্তি নির্ভর যন্ত্রপাতি, খাদ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি, জ্বালানী শক্তি, উদ্যান ফসলের উন্নয়ন প্রযুক্তি, গবাদি পশু-পাখির খাদ্য ও পুষ্টি উৎপাদন প্রযুক্তির ৩৬৫টি স্টল স্থান পায়।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »