সাগর চক্রবত্তী , ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি ১১ সেপ্টেম্বর সোমবারঃ মধুখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা বিশিষ্ট কলামিষ্ট ও সাংবাদিক আকরাম খান জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ রাধেশ্যাম সাহার অধিনে চিকিৎসাধীন আছেন।
রোববার বিকেলে মধুখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজল বসুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ মধুখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা বিশিষ্ট কলামিষ্ট সাংবাদিক আকরাম খানকে দেখতে যান। প্রতিনিধি দল কিছুসময় তাঁর শয্যা পাশে অবস্থান করেন এবং চিকিৎসার খোজ খবর নেন।
প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন মধুখালী প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সৈয়দ এটিএম মাসউদ, নির্বাহী সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শাহজাহান হেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আবুল বাশার, সদস্য সাগর চক্রবর্ত্তী, মোঃ মেহেদী হোসেন পলাশ, গোলাম মাহাবুব হোসেন, সামিয়া আফরিন স্বপ্নাসহ প্রমুখ।

 

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ মৎস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁর আত্রাই আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতি না থাকায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

নওগাঁ জেলার একমাত্র বৃহৎ আত্রাইয়ের আহসানগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশনের উপর দিয়ে প্রতিদিন ঢাকাগামী ৫টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করলেও মাত্র একটি ট্রেন ছাড়া ঢাকাগামী অন্য ট্রেনের বিরতি নেই। এ অঞ্চলের অসংখ্য ঢাকাগামী যাত্রীদের প্রতিনিয়ত বাস যোগে যাতায়াত করতে অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। এদিকে সাম্প্রতিক বন্যায় আত্রাই-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে রাজধানী ঢাকার সাথে ট্রেন এক মাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় ঢাকাগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ আরো বেড়েই চলেছে।

আহসানগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশন সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের মধ্যে কেবল নীলসাগর এক্সপ্রেসের বিরতি এ আহসানগঞ্জ ষ্টেশনে রয়েছে। তাও আবার আসন সংখ্যা বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ৩৫টি। অথচ আত্রাই থেকে প্রতিদিন ঢাকা যাতায়াত করেন আত্রাই উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার প্রায় ২ শতাধিক যাত্রী। ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতি না থাকায় আত্রাই থেকে মৎস ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন শত শত টন মাছ বিভিন্ন মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যায়। এত করে তাদের খরচ ও পরিশ্রম দুটোই বেশি পড়ে। এদিকে এ স্টেশনে নীলসাগর এক্সপ্রেস ছাড়াও আত্রাইয়ের উপর দিয়ে প্রতিদিন দ্রুতযান এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস এবং একতা এক্সপ্রেস নামে আরও ৪টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। অথচ আত্রাইবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি সত্বেও এসব আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতি আজও কার্যকর হয়নি।

এ বিষয়ে নাগরিক উদ্যোগের শাহাগোলা ইউনিয়নের দলিত মানবাধিকার কর্মী শ্রীঃ দিনেশ কুমার পাল বলেন, প্রতিদিন আত্রাই থেকে যেসব যাত্রীরা ঢাকায় যাতায়াত করেন তাদের আসন সংখ্যা এ ষ্টেশনে পর্যাপ্ত পরিমান না থাকায় হয় সান্তাহার না হয় নাটোরে গিয়ে তাদের টিকিট কেটে ঢাকায় যেতে হয়। এতে করে একদিকে সময়ের ব্যাপক অপচয় অন্যদিকে অর্থও অনেক বেশি খরচ হয়।

আত্রাই উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম বলেন, আত্রাইয়ে ঢাকাগামী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ দিতে আমরা এলাকাবাসী দীর্ঘদিন থেকে দাবি জানিয়ে আসছি। আত্রাই আহসানগঞ্জ স্টেশনে এক বার দুই নয় এমন কি মাসব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছি। আমরা রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি যাতে যাত্রী দুর্ভোগ লাঘোব এবং রাজস্ব আয়ের স্বার্থে আত্রাইয়ে ঢাকাগামী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতি কার্যকর হয়।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক সুমন বলেন, আত্রাই আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন একটি ঐতিহ্যবাহী স্টেশন। এ স্টেশনে এক সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বিশ্ব কবিগুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন কি মহত্মাগান্ধী ও ট্রেনে করে এ স্টেশনে এসেছিলেন। আহসানগঞ্জ স্টেশনে ঢাকাগামী একটি ট্রেনের বিরতি থাকলে এলাকার ব্যবসায়ী মহলসহ সর্ব স্তরের জনগণকে অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হবে না এবং আর্থিক ভাবেও তারা লাভোবান হবে। এতে করে সরকারের ও রাজস্ব আয় বাড়বে। তিনি আরো বলেন আত্রাইসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার জনগণের একটাই প্রাণের দাবি আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতি।

এদিকে এলাকার সচেতন মহল মনেকরেন যাত্রী সাধারনের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে তাদের দুর্ভোগ লাঘোব এবং রাজস্ব আয়ের স্বার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আত্রাইয়ে ঢাকাগামী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতি কার্যকর করবেন। এছাড়াও আত্রাই উপজেলবাসী এ স্টেশনে সকল আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতির জন্য রেল মন্ত্রীর নিকট তাদের প্রাণের দাবি জানিয়েছেন।

ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ ফুলবাড়ীয়ায় যৌতুক না দেওয়ায় স্বামীর নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছে স্ত্রী আছমা আক্তার (২৪)। হাত পাঁ বেঁধে শারীরিক ভাবে নির্মম নির্যাতন করার পর সিগারেটের আগুনের ছ্যাকা দিয়ে অসংখ্য ক্ষত করে দিয়েছে স্ত্রী’র দুটি হাত। এঘটনায় রবিবার রাতে স্ত্রী বাদী হয়ে ফুলবাড়ীয়া থানায় মামলা করেন। রাতেই স্বামী সাইফুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করেন। ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের কানাইপাড় গ্রামের মোঃ ওয়াজ উদ্দিনের কন্যা আছমা আক্তারের ৪ বছর পূর্বে বিয়ে হয় একই উপজেলার আছিম পাটুলী গ্রামের ওমেদ আলীর পুত্র সাইফুল ইসলামের কাছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছিল স্ত্রীকে। যৌতুকের টাকা না দেওয়া স্ত্রী আছমা আক্তারের চলতি বছর বিএ পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করে দেয় স্বামী। গত শনিবার রাতে স্বামীর বাড়িতে ঘরের দরজা বন্ধ করে স্ত্রীকে হাত পাঁ বেঁধে ব্যাপক মারপিট করে সিগারেটের আগুন দিয়ে দুটি হাতে অসংখ্য ক্ষত করে দেয়। নির্যাতনের শিকার আছমা আক্তার বলেন, যৌতুকের জন্য ঘরের দরজাবন্ধ করে আমার স্বামী নিষ্ঠুরভাবে শারীরিক নির্যাতন করে, সিগারেটের আগুন দিয়ে জলসে দিয়েছে দুটি হাত। শিক্ষা জীবনটাও আমার ধ্বংস করে দিয়েছে যৌতুকের কারনে, চলতি বছর ৬ টি বিষয়ে বিএ পরীক্ষা দেওয়ার পর অন্য বিষয়ে পরীক্ষা দিতে দেয়নি। পিতা মোঃ ওয়াজ উদ্দিন বলেন, আমি দরিদ্র মানুষ, মেয়ের সুখের আশায় মাঝে মধ্যে টাকা পয়সা দিয়েছি, তারপরও যৌতুকের জন্য আমার মেয়ের দুটি হাত সিগারেটের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। ফুলবাড়ীয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ কবিরুল ইসলাম জানান, যৌতুকের জন্য স্ত্রী নির্যাতনের ঘটনায় স্বামী সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: তোফা-তোহুরা জন্মের প্রায় ১বছর পর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামে রবিবার গভীর রাতে নানার বাড়ীতে ফিরে এসেছে। তার নানার নাম শহিদ মিয়া। তারা বাড়ীতে আসার পর গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে। জানা যায় ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর শাহিদা বেগম কোমরে জোড়া লাগানো দু’কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। দীর্ঘ দিন চিকিৎসা শেষে সুস্থ্র হয়ে তোফা-তোহুরা নানার বাড়ীতে আসায় এলাকায় আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের এক নজর দেখার জন্য সোমবার সকাল থেকেই উৎসুক জনতাকে ভিড় করতে দেখা যায়। গত সোমবার ১১ সেপ্টেম্বর বিকালে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম গোলাম কিবরিয়া, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিয়ার রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা তাদের বাড়ীতে গিয়ে ফুল দিয়ে তাদের স্বাগত জানান। তোফা-তোহুরার পিতার বাড়ী উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম ঝিনিয়া গ্রামে। তারা রাজু মিয়া ও শাহিদা বেগমের জমজ ২য় ও ৩য় সন্তান। ১ম সন্তান সাজ্জাদ মিয়া (৫) এখনো বিদ্যালয়ে ভর্তি হননি। রাজু মিয়া পেশায় একজন কৃষক। কন্যা সস্তানদ্বয়ের চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকার গ্রহণ করায় তাদের পরিবার সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নির্মমভাবে হত্যা ও নির্যাতন করার প্রতিবাদে ফুলবাড়ীয়ায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রেসিডেন্ট অং সান সুচির কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে বিক্ষোব্ধরা।
সোমবার সকালে উপজেলার আছিম বাজারে ওরিয়েন্ট স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের আয়োজনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ গ্রহণ করে আছিম বহুমূখি উচ্চ বিদ্যালয়, আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেতন, আছিম আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, তালিমুল মিল্লাদ দাখিল মাদ্রাসা, ডাঃ জামান একাডেমি, ইসলামিক কিন্ডার গার্ডেন ও আছিম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারন মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বিক্ষোভ মিছিল শেষ মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট অং সান সুচির কোশপত্তলিকা দাহ করা হয়।
ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, প্রধান শিক্ষক আঃ রাজ্জাক দুলাল, র,ই শামছ আল আসাদ সোহেল, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আরিফ হোসেন ও মোজাম্মেল হক প্রমূখ।