Archive for: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৭

শ্রীলংকায় ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে বাণিজ্যমন্ত্রী বাণিজ্য বিনিয়োগ বাড়াতে সাফটা, বিমসটেক ও আশিয়ানকে শক্তিশালী করতে হবে

ঢাকা, ১৯ ভাদ্র (৩ সেপ্টেম্বর) :
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ভারত মহাসাগর দিয়ে বিশে^র অর্ধেক কনটেইনারবাহী জাহাজ, তিন ভাগের এক ভাগ কার্গো ট্রাফিক, তিন ভাগের দুই ভাগ তেলবাহী জাহাজ চলাচল করে। বাণিজ্যিক দিক থেকে এ অঞ্চল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও পাইরেসি রোধসহ সন্ত্রাস বিরোধী পদক্ষেপ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দারিদ্র্যবিমোচন, আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য বহুমুখী বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ও বাণিজ্য জাহাজের নিরাপদ চলাচলের মাধ্যমে বাণিজ্য উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে সাফটা, বিমসটেক, আশিয়ান-এর মতো বাণিজ্যিক জোটগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। এ জন্য ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী দেশগুলোর মধ্যে প্রিফারেন্সিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ) এর কথা চিন্তা করতে পারে।
বাণিজ্যমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোয় অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও সিঙ্গাপুরের থিংকট্যাংকসমূহের যৌথ আয়োজনে তিন দিনব্যাপী দ্বিতীয় “ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স ২০১৭”-এর প্রথম বিশেষ প্লেনারি অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানের সময় এ কথা বলেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিশে^র মহাসাগরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হলো ভারত মহাসাগর। বিশে^র প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যে মানবিক বিপর্যয় ঘটে, তার ৭০ ভাগই হয় এ অঞ্চলে। সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যায় বাংলাদেশ, ভারত, নেপালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটেছে। সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য না থাকায় কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের টেকশই উন্নয়নের জন্য ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। আমার বিশ^াস সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী দেশগুলোর নিরাপত্তা, বাণিজ্য-বিনিয়োগ এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন সম্ভব।
মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ নিরপেক্ষ বাণিজ্য, মানব কল্যাণ এবং অন্যান্য দেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে সক্ষম। এর সুফল সংশ্লিষ্ট সকলেই ভোগ করতে পারে।
উল্লেখ্য, কনফারেন্সে ২৯ দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এবারের কনফারেন্সের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল পিস, প্রোগ্রেস এন্ড প্রোসপারিটি। প্রথম সম্মেলন ২০১৬ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ভারতের ইনস্টিটিউট অভ্ চাইনিজ স্টাডিজ এর পরিচালক এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত অশোক কান্থা’র সভাপতিত্বে অধিবেশনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমসিংহে (জধহরষ ডরপশৎবসবংরহমযব), ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ (ঝঁংযসধ ঝধিৎধল), সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান (উৎ. ঠরারধহ ইধষধশৎরংযহধহ), নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষ্ণ বাহাদুর মাহারা (কৎরংযহধ ইধযধফঁৎ গধযধৎধ), মরিশাসের ওশান ইকোনমি, মিনারেল রিসোর্সেস, ফিশারিজ এন্ড শিপিং বিষয়ক মন্ত্রী প্রেমদূত কনজো (চৎবসফঁঃ কড়ড়হলড়ড়), শ্রীলংকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিলক মারাপানা (ঞরষধশ গধৎধঢ়ধহধ), জাপানের পররাষ্ট্র বিষয়ক পার্লামেন্টারি ভাইস-মিনিস্টার আইওয়া হোরি (ওধিড় ঐড়ৎরর)।

অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন এখন প্রধান লক্ষ্য –এলজিআরডি মন্ত্রী


ঢাকা,২০ ভাদ্র (৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭) : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এখন আমরা অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করছি। এ মুক্তি অর্জনই জাতির সামনে এখন প্রধান লক্ষ্য।
মন্ত্রী আজ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঈদ পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে একথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ঈদ-উল-আযহা ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত পবিত্র ধর্মীয় উৎসব। ত্যাগের এই আদর্শকে ধারণ করে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে সবাইকে আত্মনিয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা এখন আর্থ-সামাজিক সকল সূচকে এগিয়ে যাচ্ছি। দেশে এখন শান্তি বিরাজ করছে। স্বাধীনতার বিগত ৪৬ বছর পর বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশ সবচেয়ে ভাল অবস্থায় আছে। মন্ত্রী অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলনে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে শতকরা ৭৫ ভাগ কাজ আপনাদেরই করতে হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, এ মন্ত্রণালয়ের ওপর জাতির উন্নয়নের গুরুদায়িত্ব রয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় ষাট হাজারেরও অধিক জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। শেখ হাসিনা ঘোষিত মধ্যম ও উন্নত আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার মূল দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের হাতে। তাদের কর্মকান্ড সচল রাখতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যেতে হবে। এ মন্ত্রণালয়ের সেবা গ্রাম থেকে শহরে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষ গ্রহণ করে। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কাজ করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেক এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মাফরূহা সুলতানাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানগণও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

 ১ নভেম্বর জেএসসি পরীক্ষা শুরু

 

ঢাকা,২০ভাদ্র(৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭)ঃ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, আগামী ১ নভেম্বর এ বছরের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট  (জেএসসি) ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে। এজন্য সকল প্রস্তুতি নেয়া হযেছে। এছাড়া আগামী বছরের ১ জানুয়ারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বই বিতরণ করা হবে। এজন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কাজ করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।শিক্ষামন্ত্রী আজ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে একথা বলেন।  শিক্ষামন্ত্রী সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং মন্ত্রণালয় পরিচালনায় সকলের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের কাজ আরো গতিশীল করতে হবে । তিনি বলেন, সকল প্রকল্পের কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নিতে হবে। দ্রুত প্রকল্পের কাজগুলো শেষ করতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের সম্পদ কম। এ সীমিত সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। এক টাকা দিয়ে দুই টাকার কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অনেক সম্ভাবনাময় উল্লেখ করে তিনি বলেন,  আমরা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।    মন্ত্রী আরো বলেন, স্বাধীন দেশের উপযোগী একটি শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর আমরা জোর দিচ্ছি। শিক্ষার গুনগত মান, নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধির জন্য আরো কাজ করতে হবে।পরে শিক্ষামন্ত্রী পরিবহন পুল ভবনে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, অতিরিক্ত সচিব মো. মহিউদ্দিন খান ও আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে আসছেন ইউনিডোর মহাপরিচালক

ঢাকা, ২০ ভাদ্র (৪ সেপ্টেম্বর) : জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) এর মহাপরিচালক লি ইয়ং ৬ সেপ্টেম্বর তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর আমন্ত্রণে তিনি এ সফর করবেন। সফরকালে তিনি চার সদস্যের ইউনিডো প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
বাংলাদেশ সফরে লি ইয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করবেন। তিনি শিল্পমন্ত্রীর সাথেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। এছাড়া তিনি অর্থ, বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করবেন।
তিনি জাতিসংঘ ঘোষিত স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই শিল্পায়ন এবং উদ্ভাবনে উৎসাহিতকরণ শীর্ষক এসডিজি’র নবম লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য “বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই শিল্প উন্নয়ন” বিষয়ক এক সেমিনারে অংশ নেবেন। এছাড়া তিনি ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ডিইপিজেড) এবং সাভার চামড়া শিল্পনগরী পরিদর্শন করবেন।
এতে তিনি বাংলাদেশে শিল্পখাতে অর্জিত অগ্রগতি এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশে চলমান ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও টেকসই শিল্পায়ন কৌশল সম্পর্কে সরেজমিনে ধারণা পাবেন। তিনি রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭-২০২২ সালের জন্য ইউনিডোর কান্ট্রি প্রোগ্রামের আওতায় বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো এশিয়ার পাইলট কান্ট্রি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ সংস্থা ইতোমধ্যে ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে বাংলাদেশে ৪২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে তৈরিপোশাক, হিমায়িত মৎস্য ও চামড়া শিল্পখাতে উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন এবং দেশে গুণগতমান অবকাঠামোর উন্নয়ন উল্লেখযোগ্য।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সফরের অংশ হিসেবে ব্যাংকক মিশনশেষে ইউনিডো মহাপরিচালক ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে ঢাকা পৌঁছবেন। তিনি নির্ধারিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণশেষে ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন। তাঁর এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পখাতে গুণগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইউনিডোর সহায়তা আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফুলছড়িতে ত্রাণ সামগ্রীসহ চারা বিতরণ

আবু বক্কর সিদ্দিক, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার ফুলছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রীসহ ধানের চারা বিতরণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।
সোমবার বাংলাদেশ পুলিশের হেড কোয়ার্টরের পক্ষে ও গাইবান্ধা জেলা পুলিশের আয়োজনে উপজেলার ৫ শতাধিক বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী ও আমণ ধানের চারা বিতরণ করেন- প্রধান অতিথি রাখেন, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক। এ উপলক্ষ্যে জেলা পুলিশ সুপার-মাশরুুকুর রহমান খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান- হাবিবুর রহমান, ইউএনও- আব্দুল হালিম টলষ্টর, থানা অফিসার ইনচার্জ আশরাফুজ্জামান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মন্ডল প্রমুখ। এসময ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন- বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যরা তাদের দুঃখ ভোগের অবসান ঘটাতে দেশের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একদিনের বেতন বরাদ্দ করেছে।
ডিআইজি আরো বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদীতে বিশেষ করে অপরাধ, জলদস্যুতা না করতে পারে। সে জন্য স্থানীয়দের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে কোন জঙ্গিরা যাতে চর এলাকায় প্রশিক্ষণ দিতে না পারে। পরে, ডিআইজি আনুষ্ঠানিক ভাবে বন্যার শিকার ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী এবং আমন ধানের চারা বিতরণ করেন

সুন্দরগঞ্জে ভাঙ্গণ কবলিতদেরকে অর্থ প্রদান
আবু বক্কর সিদ্দিক, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ও নদী ভাঙ্গণ কবলিত ১০টি পরিবারকে নগদ অর্থ প্রদান করেছে ঢাকাস্থ টেক ক্লাউড লিমিটেড।সোমবার বিকেলে উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের কছিম বাজারে এসব পরিবার প্রতি নগদ ৫ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করেন- টেক ক্লাউড লিমিটেডের প্রডাকশন এডমিন অফিসার- ইউনুছ আলী। এসময় ছিলেন- ইউপি চেয়ারম্যান- জালাল উদ্দিন সরকার, সুন্দরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক- নুরে শাহী আলম লাবলু।
এছাড়া,উপস্থিত ছিলেন- বিভিন্ন ওয়ার্ড সদস্য- আব্দুস ছালাম, মামুন-অর-রশিদ, টুলু মিয়া, টেক ক্লাউড লিমিটেডের বিভিন্ন পদস্থ কর্মচারী- জিয়াউর রহমান, আরিফ আকন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

নিজ দেশে পরবাসী

রোহিঙ্গারা নিজ দেশে পরবাসী

রায়হান আহমেদ তপাদার

পৃথিবীর খুব কম জাতির মধ্যেই দেখা যায়। আরাকানের বর্মী সৈন্যদের দখলদারিত্বের টানাপড়েনেই বাংলা-বার্মার মধ্যে দু’বার সামরিক সংঘাতের সূচনা হয়। সুদীর্ঘ ৩৫০ বছর পর্যন্ত আরাকান রোহিঙ্গা মুসলমান কর্তৃক শাসিত হওয়ার পর ১৭৮৪ সালে বার্মার রাজা ভোদাপায়া আরাকান দখল করে পূর্বের সব চুক্তি অস্বীকার করে আরাকানকে বার্মার অংশে পরিণত করেন। ভাগ্যের নির্মম, নির্দয়, নিষ্ঠুর পরিহাস, ক্ষমতালোভী সামন্তদের অনুপ্রেরণায় আরাকানীরা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে পরম আনন্দে বর্মী সৈন্যদের স্বাগত জানালেও এই আনন্দ এক মাসও স্থায়ী হয়নি। অতি অল্প দিনের মধ্যেই আরাকানীরা দেখতে পেল বর্মী সৈন্যদের বর্বর ও পাশবিক চরিত্র হাহাকার আর চিৎকারে প্রকম্পিত মিয়ানমার। কেউ মা হারিয়ে দিশাহারা, কেউ বাবা হারিয়ে আবার কেউবা আদরের সন্তানের লাশ দেখে নির্বাক। যখন ছোট্ট শিশু মা-বাবার নিথর দেহ ধরে বলে,আম্মু, আব্বু ওঠো! কথা বলো আম্মু প্লিজ কথা বলো।কেমন লাগবে আপনার কাছে তখন? নিজেকে ধিক্কার দেওয়ার ভাষা আমার জানা নেই। কী বলব? কীভাবে সান্ত¡না দেব, কিছুই আমার জানা নেই। নিজেকে শুধুই স্বার্থপরই মনে হয়। আজ তাদের জন্য আমরা কিছুই করতে পারছি না। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফের রোহিঙ্গা মুসলমান নিধন শুরু হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, পুলিশ এবং মগ দস্যুরা একাট্টা হয়ে এই নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে। সম্প্রতি ২৪টি নিরাপত্তা চেকপোস্টে হামলার যে ঘটনা ঘটে তারই অজুহাতে নিরীহ-নিরপরাধ রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। এবং রোহিঙ্গাদের ওপর আবারো নেমে এসেছে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস।

অন্যদিকে বর্বরতার সীমা ছাড়িয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বার্মা সন্ত্রাসীরা ভয়ঙ্কর বর্বরতায় মেতে উঠেছে। হত্যা, ধর্ষণসহ ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর নিন্দা জানানোর ভাষাও যেন বিশ্ববাসী হারিয়ে ফেলেছে।একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও আজ রোহিঙ্গারা নিজ দেশে পরবাসী। রোহিঙ্গা শব্দটি রৌহিঙ্গা বা রোহিঙ্গিয়া শব্দ থেকে এসেছে, যা ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা। আর এই ভাষার সঙ্গে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভাষার রয়েছে অবিশ্বাস্য মিল এবং বাংলার সঙ্গে কিছুটা। অন্য মতে, রোহিঙ্গা শব্দটি রাহমা শব্দ থেকে এসেছে। অষ্টম শতাব্দীতে আরব বণিকদের জাহাজ রামরি দ্বীপে এসে পৌঁছালে তৎকালীন আরাকানের রাজা তাদের আশ্রয় দেন। তবে এই দয়ার কারণে বণিকরা আরাকানের অধিবাসীদের রাহমা বলে ডাকতেন (রাহমা অর্থ দয়াবান)। মতান্তরে ম্রৌহাঙ্গ শব্দ থেকে রোহিঙ্গা শব্দটির আগমন।ম্রৌহাঙ্গ ছিলেন আরাকানের পুরাতন রাজা।এ পৃথিবীতে প্রত্যেক জাতির একটি উত্থানকাল আছে। আমার মনে হয়, কোনো জাতির উত্থানকালীন সময়ের আচরণই সে জাতির বৈশিষ্ট্যের প্রতিনিধিত্ব করে। অধিকাংশ জাতির উত্থান পর্বের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এসব সবল জাতিসমূহ পার্শ্ববর্তী দুর্বল জাতির স্বাধীনতা হরণ করেছে, সম্পদ লুণ্ঠন করেছে ও তাদের অধিকার হরণ করেছে। কিন্তু বাংলার মুসলিম শাসকরা সে পথে অগ্রসর হননি। তারা পার্শ্ববর্তী ও ক্ষুদ্র রাষ্ট্রসমূহের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।গত ১১ আগস্ট হঠাৎই রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রবেশ করে। তখনই আশঙ্কা করা হয়।

রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর আরেকটি জুলুম-নির্যাতনের তান্ডব আসন্ন। সেনা ও পুলিশ সদস্যরা গ্রামগুলো অবরুদ্ধ করে টহল শুরু করে। এতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান খাদ্য-পানিসহ নানরকম সঙ্কটে পতিত হয়। তারপরই ওই নিরাপত্তা চেকপোস্টে হামলার ঘটনা ঘটে। আর তাকে উসিলা করেই শুরু হয়েছে গণহত্যা, গণনির্যাতন ও গণবিতাড়ন। ঘটনা প্রবাহ থেকে সহজেই প্রতীয়মাণ হয়, এই গণহত্যা, গণনির্যাতন ও গণবিতাড়ন পূর্ব পরিকল্পিত। কথিত হামলার ঘটনা তাকে দ্রুতায়িত করেছে মাত্র। স্মরণ করা যেতে পারে, গত বছর ৯ অক্টোবর এ রকমই একটি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, পুলিশ ও মগ দস্যুরা ব্যাপক গণহত্যা চালায়। শত শত রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত হয়। নিপীড়ন-নির্যাতন লুণ্ঠন, ধর্ষণ সীমা ছাড়িয়ে যায়। হাজার হাজার অসহায়-নিরাশ্রয় রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এবারও সেসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।গেল বছরের গণহত্যা, গণনির্যাতন ও গণ বিতাড়নের ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে। জাতিসংঘ ছাড়াও বিভিন্ন দেশ এর প্রতিবাদ জানায়। মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে হত্যা-নির্যাতন বন্ধ করতে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রশ্নে বিশ্বজনমত একই সমতলে এসে দাঁড়ায়। এ ব্যাপারে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে একটি কমিশন ঘটিত হয়। ক’দিন আগে কমিশন তার রিপোর্ট ও সুপারিশ পেশ করেছে। ওই রিপোর্টে রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে ৮৮টি সুপারিশ করা হয়েছে, যার মধ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের চলাফেরার ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার ও তাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কমিশনের এই রিপোর্ট ও সুপারিশ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে যখন ইতিবাচক একটি পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা জাগ্রত করে, ঠিক সেই সময়ে নতুন করে রোহিঙ্গা হত্যা-নির্যাতনের আরেকটি অধ্যায় সূচিত হয়েছে। এর শেষ কীভাবে, কোথায় গিয়ে হবে-তা এখনই বলার উপায় নেই। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা হত্যা-নির্যাতনের কথা কখনই স্বীকার করে না। গত বছরের ঘটনা তদন্তে সরকারিভাবে গঠিত কমিটির রিপোর্টে নির্লজ্জভাবে দাবি করা হয়েছে, কোনো হত্যা-নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। বড়ই পরিতাপের বিষয়,গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী বলে পরিচিত অং সান সূচি নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের হত্যা-নির্যাতন ও বর্বরতার প্রশংসা করেছেন। বলেছেন,আমি নিরাপত্তাবাহিনীর ও পুলিশ সদস্যদের প্রশংসা করতে চাই যারা অসীম সাহসের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন।’ আশঙ্কা করা হচ্ছে, অং সান সূচির এই মনোভাবের প্রেক্ষাপটে চলমান পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে পারে।রাখাইনে রোহিঙ্গা হত্যা-নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেই বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়ে যায়। অসহায়-নিরাশ্রয় রোহিঙ্গা মুসলমানরা বাংলাদেশের দিকেই ছুটে আসে। এভাবে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান এখন বাংলাদেশে অবস্থান করছে। গত বছর এসেছে প্রায় এক লাখ। মানবিক কারণেই বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিতে বাধ্য হয়। এবারো ইতোমধ্যে কয়েকশ রোহিঙ্গা মুসলমান প্রবেশ করেছে। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ দু’জনের একজন হাসপাতালে মারা গেছে। মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাঙালি বলে প্রচার করে, যদিও তারা শত শত বছর ধরে মিয়ানমারে বসবাস করছে।অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর লোকের মতো তারাও সেখানকার ভূমিপুত্র। বাঙালি বলে অভিহিত করে মিয়ানমার তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিতে চায়।

মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর হত্যা, নৃশংসতা ও বর্বরতার অবসান হবে না। এজন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে। গোটা একটি জাতিগোষ্ঠী নির্মূল করে দেওয়া হবে, এটা হতে পারে না। এ কথা সবারই জানা, রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান হতে পারে। এ ব্যাপারে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে। চীন এক্ষেত্রে সবচেয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা আশা করতে চাই, হত্যা-নির্যাতন-বিতাড়নের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধ প্রতিরোধে চীন কার্যকর উদ্যোগ নেবে। এ মুহূর্ত গণহত্যা বন্ধ করা জরুরি। বাংলাদেশ-চীনসহ প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহ এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সম্প্রদায়ক একযোগে সোচ্চার হয়ে বলতে হবে-গণহত্যা বন্ধ করা হোক। বন্ধ করা হোক গণনির্যাতন ও গণবিতাড়ন। পরিশেষে এটাই বলব, তারাও তো আমাদের ভাই। এক দেহের একই প্রাণ। এক অঙ্গে ব্যথা পেলে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে, তেমনি মিয়ানমারের ভাই-বোনদের ব্যথায় আমাদের ব্যথিত হওয়া উচিত। তবে সে ব্যথা শুধুই মুখে প্রকাশ নয়, কঠোর আন্দোলন দিয়ে তা প্রকাশ করতে হবে। প্রয়োজনে এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। দাঁড়াতে হবে তাদের পাশে।রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বর্তমানে বিশ্ব সমাজ চুপ করে বসে নেই, বিক্ষোভ মিছিল ও নিন্দা জানাচ্ছে। তিব্বতের ধর্মীয় নেতা দালাইনামাসহ অনেকে গণতান্ত্রিক নেত্রী ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সুচির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সাগরের বুকে ভেসে থাকা অসহায় বৃদ্ধ, বিপন্ন মা, ক্রন্দনরত শিশু আর ভীত সন্ত্রস্ত গৃহবধূর প্রকাশিত নিদারুণ ছবিগুলো বিশ্ববিবেককে প্রতিমুহূর্তে কষ্ট দিচ্ছে।তাই দীর্ঘদিনের জটিল এবং স্পর্শকাতর এই ইস্যুর স্থায়ী সমাধান না হয়ে বর্তমান পরিস্থিতিকে বিশ্ববাসী মনে করছে রোহিঙ্গাদের জন্য ডাঙ্গায় বাঘ, জলে কুমির আর আকাশে শকুন।আর তাই তারা আজ নিজ দেশে পরবাসী।

                                    লেখক ও কলামিস্ট

হাতিয়ায় সাংবাদিকদের সাথে মাহমুদ আলী রাতুলের ঈদ শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়


নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর হাতিয়ায় সাংবাদিকদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন শিল্পপতি শহীদ পরিবারের সন্তান মাহমুদ আলী রাতুল ।আজ সকালে হাতিয়ার ওছখালিতে এই ঈদ শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় মাহমুদ আলী রাতুল সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ছোটবেলা থেকে আমি আওয়ামীলীগের আদর্শ ও স্বাধীনতার চেতনা লালন করে আসছি। বর্তমানে হাতিয়ায় আওয়ামীলীগের দুইটি গ্রুপে বিভক্তির কারণে খুন-জখম ও মামলা হামলায় সাধারণ সমর্থকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দলীয় ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমি হাতিয়ার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ লোকজনের আহ্বানে সাড়া দিতে বাধ্য হই।
মাহমুদ আলী রাতুল দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং বিদেশে অবস্থানরত হাতিয়ার কৃতি সন্তানদেরকে নিয়ে হাতিয়ার সার্বিক উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি প্রেসার গ্রুপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কাজ করছেন বলে জানান। তিনি বলেন, শুধু রাজনীতি নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নদী ভাঙ্গন, বিদ্যুত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এ প্রেসারগ্রুপ নিজের ব্যক্তি ইমেজ ব্যবহার করে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বয় সাধন করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করে যাবেন।
এসময় সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কৃষ্ণ চন্দ্র মজুমদার, ইফতেখার হোসেন তুহিন, মোঃ ফিরোজ উদ্দিন, জি.এম ইব্রাহিম, সাখাওয়াত হোসেন, খলিল উল্যাহ চৌধুরী শাকিব, নজির আহাম্মদ, মুহাম্মদ কেফায়েতুল্ল¬াহ, তাজুল ইসলাম তছলিম, ছাইফুল ইসলাম এবং উত্তম সাহা।

মধুখালীতে ঈদুল আযহা উদ্যাপিত


সাগর চক্রবর্ত্তী, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি ০৪ সেপ্টেম্বর সোমবার ঃ ২ সেপ্টম্বর শনিবার সারা দেশের ন্যায় মধুখালীতে শান্তিপূর্ণ ভাবে যথাযথ মর্যাদায় পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়েছে।উপজেলার কোথাও কোন অপ্রিতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি।
সকাল ৯ টায় মধুখালী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে পবিত্র ঈদের নামাজ আদায় করেন ও ফরিদপুর-১ আসনের জনসাধারনের মঙ্গল এবং শান্তি কামনায় বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদ মোঃ আব্দুর রহমান। ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেন মধুখালী উপজেলা চেয়ারম্যান মো.আজিজুর রহমান মোল্যা, পৌর মেয়র খন্দকার মোরশেদ রহমান লিমন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মধুখালী উপজেলা শাখার সভাপতি মির্জা মনিরুজ্জামান বাচ্চুসহ স্বর্বস্তরের কয়েক হাজার মুসল্লীগন।
এছাড়া উপজেলার ব্যাসদী ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন বিচারপতি মো.মজিবর রহমান মিঞা, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ব্যাসদী রাশিদা নবী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাহেদুন নবী মনি। গ্রামের কয়েকশত মুসল্লী ঈদের নামাজ আদায় করেন। অন্যদিকে উপজেলার বাগাট ঈদগাহ মাঠে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ সাধারন কয়েক হাজার মুসল্লীগন ঈদের নামাজ আদায় করেন।বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ উপজেলার শাখার সাধারন সম্পাদক মোঃ রেজাউল হক বকু তিনি উপজেলার নিজ গ্রাম মোরারদিয়ায় ঈদের নামাজ আদায় করেন।
বিকেলে উপজেলা সদরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোরবানী পশুর চামড়া আসতে শুরু করে রাত অবধী কেনা বেচা চলতে দেখা গেছে । বিভিন্ন সাইজের চামড়া ৭শ টাকা থেকে ১৪শ টাকায় বিক্রয় হয়েছে। ছাগলের চামড়া ২০টাকা থেকে ১৩০টাকায় কেনা বেচা হয়েছে বলে ক্রয়/বিক্রয়কারী জানান ।

চামড়া বিক্রির টাকা খাজনা দিতে শেষ


নওগাঁ প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে জেলায় প্রায় ১ লাখের অধিক গৃহপালিত পশু কোরবানি দিয়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসলামানরা। কোরবানির পশুর চামড়ায় গরীব-মিসকিনদের হক রয়েছে। উপযুক্ত মূল্যে কোরবানিদাতারা চামড়া বিক্রি করে সেই টাকা গরীব-মিসকিনদের দিয়ে থাকেন। তবে চামড়ার দাম এবার কম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন গরীব-মিসকিনরা। আর মাঝখান থেকে লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা।
কোরবানি ঈদের সময় মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী বা ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের আনাগোনা থাকে বেশি। তারা ধারদেনা করে টাকা সংগ্রহ করে চামড়া কিনে থাকেন। লাভের টাকা থেকে আবার তা পরিশোধ করে থাকেন। তারা গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে চামড়া কিনে চামড়া হাটে বিক্রি করেন। সেখান থেকে বড় বড় চামড়া ব্যবসায়ীরা তাদের কাছ থেকে চামড়া কিনে থাকেন।
জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের ২৫০ জনের মতো সদস্য হলেও মৌসুমে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজারের মতো ফড়িয়া ব্যবসয়ীরা চামড়া কেনেন। এ ঈদে ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের অনেকেই লোকসানের আশঙ্খা করছেন। চামড়া কিনে বিপদে পড়তে হয়েছে বলে জানা গেছে। কেউ কেউ কেনা দামেও চামড়া বিক্রি করেছেন। এতে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত উঠার উপক্রম হয়েছে। ফলে চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কোরবানিদাতা ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।
আবার যারা কোরবানি দিয়েছেন তারাও চামড়ার ন্যায্য দাম পাননি বলেও জানা গেছে। এক কথায় পানির দামে তাদের চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে। বেশি সময় ধরে চামড়া রাখলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই বাধ্য হয়েই অল্পমূল্যে চামড়া বিক্রি করে দিয়েছেন।
শনিবার ঈদের দিন ছিল জেলার মান্দা উপজেলার সতিহাট চামড়ার হাট। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বকরির চামড়া ৫-১৫ টাকা, খাসির চামড়া ১০-৫০ টাকা, বকনা গরু ১৫০-২০০, ষাঁড় গরু ৭৫০-৯০০ টাকায় চামড়া বিক্রি হয়েছে।
মান্দার গনেশপুর গ্রামের মকবুল হোসেন বলেন, এবার একটি বকরি কোরবানি দিয়েছেন। ভাল দাম পাওয়ার আশায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে আড়াই কিলোমিটার দূর থেকে সতিহাটে চামড়া বিক্রি করতে এসে বড়ই বিপদে পড়েছেন। ‘চামড়ার দাম না থাকায় পাঁচ টাকা দিয়ে বিক্রি করতে হয়েছে। যেখানে চামড়ার খাজনাই পাঁচ টাকা।’ তবে চামড়ার দাম না থাকায় গরীব মিসকিনরা তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আল মামুন বলেন, এ বছর প্রায় ৫০ হাজার টাকার কাঁচা চামড়া কিনেছেন। চামড়ার হাটে বড় বড় চামড়া ব্যবসায়ীরা না আসায় কিছুটা লোকসানে আশঙ্খা করছেন।
পতœীতলা উপজেলার নজিপুর পৌর এলাকা নতুন হাটের চামড়া ব্যবসায়ী নয়ন কুমার বলেন, ধারদেনার টাকায় চামড়া কিনে খুব হতাশার মধ্যে পড়েছি। সময়মতো এসব চামড়ায় লবণ দিতে না পারলে বা বিক্রি করতে না পারলে চামড়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই অনেকেই কোরবানির পশুর চামড়া অল্পমূল্যেই বিক্রি করে দিয়েছেন। লবণের দামও বেশি। পাইকাররাও তেমন আসছেন না। এ মাল কবে বিক্রি হবে তার কোন ঠিক নেই।
নওগাঁ জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি মমতাজ হোসেন বলেন, সরকার চামড়ার যে মূল্য নির্ধারন করে দিয়েছে তার থেকে ফড়িয়া ব্যবসয়ীরা অনেক বেশি দামে চামড়া কিনেছে। তারা চামড়ার ধরন ও ফুট না বুঝে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা বর্গফুটে চামড়া কেনায় এখন লোকসানের মুখে। ফলে বেশি দামে চামড়া কেনায় কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। মোট কথায় আগামীতে চামড়ার বাজার পাটের তুলনায় খারাপ হওয়ার আশঙ্খা রয়েছে।#

ফুলবাড়ীয়ায় একই মাঠে ৩১০টি পশু কোরবানী

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নে বৈইলাজান গ্রামে একইমাঠে ৩১০টি পশু কোরবানীর এবং ১৫০০টি খানায় পঞ্চায়াতরে বন্টন দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
সরজমিনেগিয়ে জানা যায়, বৈলাজান গ্রামের এ মাঠে প্রায় ২০০ বছর র্পূবে থেকে গ্রামবাসী একত্রে কোরবানী করে আসছে । এ গ্রামে পাচটি মসজদি সমাজ থাকলেও কোরবানীর মাঠ একটি । কোরবানী ঈদ আসলেই এ গ্রামে শুরু হয় এক অন্য রকম উৎসব । গরীব ধনী সকলরে মাঝে সৃষ্টি হয় এক ভ্রাতৃতরে বন্ধন । ভিন্ন মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করলেও কোরবানীর পশু নিয়ে চলে আসে কোরবানীর মাঠে এবং কোরবানীর পশু জবাই করার পর ব্যস্ত হয়ে পরে নিজ নিজ পশুর মাংস তৈরীর কাজে । কোরবানীকৃত পশুর মাংস তিন ভাগ করে এক ভাগ মাংস যেখানে জমা দিতে হয় তাকে বলে হয় পঞ্চায়তে । পঞ্চায়েতের লোকজন তা গ্রামের ১৫০০টি খানায় সমান হারে বন্টন করে প্রতি ঘরে ঘরে পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে । ১১১ বছর বয়স্ক হাজী আমজাদ হোসনে বলেন, আমি ছোট থেকেই দেখে আসছি এ কোরবানীর মাঠ , আমার দাদারাও এ মাঠে কোরবানী করতো , তখন এত কোরবানী হতো না । সাংবাদিক হাফিজুল ইসলাম স্বপন বলেন, আমরা যারা এলাকার বাহিরে থাকি তারা সকলইে এই দিনটার জন্য অপেক্ষায় থাকি এবং অন্যকে আনন্দভরে এই দিনটি উপভোগ করি আমাদের মত এত বড় কোরবানীর মাঠ দেশে আরো কোথায় আছে কিনা আমার জানা নেই । পঞ্চায়েতের দায়িত্বে থাকা হারুন অর রশদি দুলাল ও নুরুল ইসলাম বলেন ,গত বছররে চেয়ে এ বছর কোরবানী বেশী হয়েেছ । ১২৫টি গরু ও ১৮৫টি খাসী, এ মাঠের রয়েছে নানা সমস্যা আবজনা পরিস্কারের তেমন কোন ব্যবস্থা নেই, পশুর রক্ত পরিস্কারের জন্য দরকার একটি টিউবওয়েল । র্বষা মৌসুমে পঞ্চায়তেরে মাংস বন্টন করতে কষ্ট হয় এর জন্য একটি ঘর দরকার।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org