Archive for: আগস্ট ২০১৭

সুন্দরগঞ্জে মৎস্য খাতে ক্ষতি সাড়ে ৭৮ লাখ টাকা

আবু বক্কর সিদ্দিক, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বন্যায় মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৭৮ লাখ টাকা।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, এবারের দু’দফায় ঘটে যাওয়া বন্যায় মৎস্য খাতে ৩শ’ ৩৩ জন মালিকের ৪শ’ ৪টি পুকুরের ক্ষতি হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৭৮ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পুকুর মালকি ও মৎস্যচাষীদের মধ্যে অনেকেই র্সবশান্ত হয়েছেন। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অঃ দাঃ)- মজিবর রহমান বলেন- মৎস্যচাষীদরে ক্ষতি পুশিয়ে দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে উর্দ্ধতন দপ্তরে চাহিদা প্রেরণ করা হয়েছে।

গাইবান্ধায় ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক

আবু বক্কর সিদ্দিক, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ভগবানপুর গ্রাম থেকে মাদক ব্যবসায়ী তৌহিদুল ইসলাম (২৬), সোহেল মিয়া (২৬) ও তাহের মিয়া (৩৯)কে ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে জেলা শহরের পুলবন্দী নয়ন বিরিয়ানী হাউজের সামন বিক্রির সময় ৫শ’ ৫০ পিচ ইয়াবাসহ তৌহিদুলকে আটক করে ডিবি পুলিশ। সে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ভগবানপুর গ্রামের আবু বক্কর ছিদ্দিকের ছেলে। এদিকে, শহরের মধ্য- ধানঘড়া বিসিক সংলগ্ন এলাকা থেকে সোহেল ও তাহেরকে ১শ’ টি ফেন্সিডিলের বোতলসহ গ্রেপ্তার করেন। তারা ২ জন ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে বিশেষ কায়দায় ফেন্সিডিল পাঁচার করছিল। সোহেল পলাশবাড়ি উপজেলার পূর্ব-গোপীনাথপুর গ্রামের ফজলুল করিমের ছেলে ও তাহের ছোট বৌলারপাড়া গ্রামের আবু হোসেনের ছেলে। তাদের বিরুদ্ধে বেশ ক’টি করে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)- একেএম মেহেদী হাসান- জানান, তৌহিদুলের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম হলেও ইতোপূর্বে সোহেলের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪টি ও তাহেরর বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে। ঐসব মামলা ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে আজকের ঘটনায় নতুন করে মামলা যোগ হলো।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে এক গৃহবধুর এক সঙ্গে তিন সন্তান প্রসব

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
ফাতেমা আক্তার ঝুমা(২৫) নামে এক গৃহবধুর এক সঙ্গে তিন সন্তান প্রসব হয়েছে।আজ বৃহস্পাতবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে কোন সিজার ছাড়াই(নরমাল ভাবে) ঐ গৃহবধুর এক সঙ্গে তিন সন্তান প্রসব হয়।গৃহবধুর বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলা সদরের সখীপুর গ্রামে।আজ বৃহস্পতিবার কুমুদিনী হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে গৃহবধু ফাতেমা আক্তার ঝুমা সুস্থ্য রয়েছেন।কিন্ত তার নবজাতক তিন সন্তানের মধ্যে এক সন্তান সুস্থ্য এবং দুই সন্তান শারনীরিক ভাবে অসুস্থ্য রয়েছে।
গৃহবধুর স্বামী শিমুল আহম্মেদ জানান, তিনি সখীপুরে ব্যবসা করেন।তাদের সংসারের ময়না আক্তার(৫) নামে প্রথম এক কন্যা সন্তান রয়েছে।তিন স্ত্রীর এক সঙ্গে তিন সন্তান প্রসব হওয়ায় তিনি আনন্দিত হলেও নানা সংশয় দেখা দিয়েছে তাদের বাছিয়ে রাখা নিয়ে।স্ত্রী ফাতেমা সুস্থ্য হলেও নব জাতক তিন সন্তানের মধ্যে দুই সন্তান শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে পরেছে।দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান হলেও দুই সন্তান শারীরিব ভাবে বিকলান্ক।ফলে তাদের বাছিয়ে রাখাই দুষ্কর হয়ে পরেছে।তবে কুমুদিনী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকগন গৃহবধু ও তার তিন সন্তানকে বাছিয়ে রাখতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে শিশুল আহমেদ জানিয়েছেন।তিন নব জাতককে কুমুদিনী হাসপাতালের তিন তলায় শিশু ওয়ার্ডের আইসিইউতে (ইনসেন্টিভ কেয়ারে) রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচারখ ডা. দুলাল চন্দ্র পোদ্দার ও সহকারী প্রষাক সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, চিকিৎসক ও সেবিকাদের অক্লান্ত শ্রমের ফলে গৃহবধু ফাতেমা আক্তারের বিনা সিজারে নরমাল ভাবে তিন নব জাতকের জন্ম হয়েছে।বর্তমানে ও মা ও তার তিন সন্তান সুস্থ্য রয়েছে।

এ্যাপেক্স ক্লাব গোপালগঞ্জ এর পক্ষ থেকে গরীব-অসহায় মানুষের মধ্যে ঈদ সামগ্রী বিতরন

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদউল আযাহা উপলক্ষে এ্যাপেক্স ক্লাব গোপালগঞ্জ এর পক্ষ থেকে গরীব-অসহায় মানুষের মধ্যে ঈদ সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় প্রেসক্লাব চত্তরে শতাধিক দরিদ্রের মধ্যে ত্রান সামগ্রী বিতরন করা হয়।
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মাহবুব আলী খান প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে দরিদ্রদের মাঝে এসব সামগ্রী বিতরন করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এ্যাপেক্স কøাব গোপালগঞ্জ এর সভাপতি এপে. কবি কোহিনুর ইসলাম, সহ সভাপতি এপে. এসএম মুনির হিটলার, সাধারন সম্পাদক এপে. সৈয়দ মুরাদুল ইসলাম, সার্ভিস ডিরেক্টর এপে. খন্দকার মুরাদ আহম্মদ, কোষাধ্যক্ষ এপে. বুলবুল আলম বুলু, সার্জেন্ট অব এটার্মাস এপে. হুসাইন ইমাম সবুজ, এপে. শরিফ ফরিদ, এপে, ডা: আনিসুজ্জামান, এপে, সাহিদা আকতার লিপি, এপে. মো: সেলিম রেজা, এপে, জয়ন্ত শিরালী জয়, এপে, এস এম সাব্বির, এপে, রাকিব সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ব ক্রিকেট তারকাদের অভিনন্দনে বাংলাদেশ 

রায়হান আহমেদ তপাদার :: শরতের আকাশে ছিল রোদের খেলা। তবুও কেমন যেন নিষ্প্রাণ মিরপুর। কারণ দুই অসি ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ। কিন্তু হঠাৎ করেই জ্বলে উঠলেন সাকিব-তাইজুল-মিরাজরা।এ তিনজনের হাত ধরে ১১ বছর আগে ফতুল্লায় হারের প্রতিশোধ নিল বাংলাদেশ। আর মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ পেল ২০ রানের ঐতিহাসিক জয়।মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে বাংলাদেশ বন্দনায় মেতে উঠেছে বিশ্ব ক্রিকেটের রথী-মহারথীরা। শচীন টেন্ডুলকার,বিরেন্দ্র শেবাগ, মাহেলা জয়াবর্ধনে, আকাশ চোপড়াসহ অনেকে।ক্রিকেটের কুলীন শক্তি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ২০ রানের জয় টাইগারদের মনকেও ছুঁয়ে গেছে। ভারতের ক্রিকেট ইশ্বরখ্যাত শচীন টেন্ডুলকার টুইটারে বলেছেন,দুটি আপসেট হল দুদিনে। টাইগারদের অনুপ্রেরণাদায়ী পারফরমেন্স। টেস্ট ক্রিকেটের উন্নতি চলছেই।মাহেলা জয়াবর্ধনে বলেন, ঐতিহাসিক টেস্টে দারুণ খেলেছে টাইগাররা। দুর্দান্ত টেস্ট ম্যাচ। একসময় বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে খোটা দেয়া বিরেন্দ্র শেবাগও মিরপুর টেস্টে মেনে নিয়েছে টাইগারদের শ্রেষ্ঠত্ব।তিনি বলেন,খুব ভালো বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সত্যিই বিশেষ কিছু।বাংলাদেশের ভক্ত ভারতীয় ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়া লেখেন, চারদিনে ৯৪২ রান। ৪০ উইকেট। জয়-পরাজয়ের ব্যবধান মাত্র ২০। খুব ভালো বাংলাদেশ। ইতিহাস রচিত হলো।অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক অজিদের হারে কষ্ট পেলেও ঠিকই অভিনন্দন জানিয়েছেন টাইগারদের। তিনি টুইটারে লেখেন, অভিনন্দন বাংলাদেশ। আমি কখেনো ভাবিনি এমন টুইট লিখতে হবে। তবে যাদের প্রশংসা প্রাপ্য তাদের তো প্রশংসা করতেই হয়। ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ যে শক্তিধর দল তা আবারও প্রমাণ করল টাইগাররা। এমনকি, বলার অপেক্ষা রাখে না যে, টেস্ট ক্রিকেটে বড় দলের বিপক্ষে জয় পাওয়াও বাংলাদেশের জন্য এখন আর অসম্ভব কিছু নয়। গতকাল দুপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষের টেস্ট জয়, আর শুধু জয়ই নয়, এটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়! এই জয় নিসন্দেহেই ঐতিহাসিক। কেননা এক সময়ের প্রবল পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়া, টেস্টের জগতের সেই অভিজাত অস্ট্রেলিয়া, ১১ বছর পর বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট খেলা, আর এই খেলায় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিল বাংলাদেশ। ২০ রানের রোমাঞ্চকর ও মহাকাব্যিক জয়ে স্মরণীয় হয়ে রইল মিরপুর টেস্ট। আমরা আমাদের প্রাণের ভেতর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিবাদন জানাই।বলার অপেক্ষা রাখে না, এই জয়ের মধ্য দিয়ে আরেকটি অনন্য অর্জন যোগ হলো সাকিবের। টেস্টে তৃতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়াই এগিয়ে, হাতে ৮ উইকেট নিয়ে জয় থেকে ১৫৬ রান দূরে ছিল তারা। কিন্তু গতকাল সকালে সাকিব আল হাসানের স্পিনে ঘুরে গেল ম্যাচের মোড়। সকালের সেশনে তার ৩ উইকেটে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। এরপর লাঞ্চ শেষে প্রথম বলেই বিপজ্জনক গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকেও ফেরান বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ১০ উইকেটও পেলেন সাকিব আল হাসান। নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্যার রিচার্ড হ্যাডলির পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এক টেস্টে ১০ উইকেট ও নূ্যনতম ৫০ রান করার কীর্তিটা নিজের করে নিলেন। ব্যক্তিগত সেই অর্জন ছাপিয়ে এই জয় দুর্দান্ত এক দলগত অর্জন বাংলাদেশের।  এ ছাড়া জাদুকরী পারফরম্যান্সে সাকিব রাঙালেন নিজের ৫০তম টেস্ট। আর তার পাশাপাশি তামিমেরও এটি ছিল ৫০তম টেস্ট। মুশফিকুর রহিম টেস্টের আগে বলেছিলেন, এই দুই নায়কের জন্যই খেলবে বাংলাদেশ। সতীর্থদের উপহার দিলেন তারা দুজনই, উপহার দিলেন দেশকে এক ঐতিহাসিক জয়। সাকিবের অসাধারণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্স, ব্যাটিং দুরূহ উইকেটে তামিমের ৭১ ও ৭৮! বলার অপেক্ষা রাখে না, গত বছর এই শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামেই ইংল্যান্ডকে ১০৮ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর গত মার্চে শ্রীলঙ্কায় হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কাকে। টেস্টে এগিয়ে যাওয়ার পালায় যোগ হলো আরও একটি অর্জন।আমরা বলতে চাই, দলগত যে কোনো খেলারই সাফল্য নির্ভর করে টিম স্পিরিট এবং সঠিক সমন্বয়ের ওপর। ক্রিকেটেও বিষয়টা তাই। ব্যাটিং,বোলিং, ফিল্ডিং-এ তিন ক্ষেত্রে ভালো করতে পারলেই সাফল্য হাতের মুঠোয় ধরা দেয়। বর্তমানে টাইগারদের মধ্যে এ সমন্বয় এবং এগিয়ে যাওয়ার যে অদম্যতা লক্ষণীয় তা আশাব্যঞ্জক। তবে আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বাজয় রাখতে হলে নিজেদের আরও বেশি গড়ে তুলতে সামগ্রিক প্রচেষ্টা অব্যহত রাখতে হবে। পাশপাশি সংশ্লিস্টদেরও যথাযথ উদ্যোগ জারি রাখার বিকল্প নেই। এমনও লক্ষ করা গেছে, কোনো টেস্টের প্রথম ইনিংসে খুব ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েও দ্বিতীয় ইনিংসে খারাপ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই এর ফলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন বা জয়ের কাছাকাছি এসেও ব্যর্থ হতে হয়েছে। ফলে আমরা মনে করি,বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দুর্বল জায়গাগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা অপরিহার্য।  সর্বোপরি বলতে চাই, বাংলাদেশের মানুষের ক্রিকেট প্রীতি প্রবল। আর টাইগাররাও বার বার বিশ্বের সামনে একেকটি জয় অর্জর্নের মধ্য দিয়ে দেশের নাম আরও উজ্জ্বল করেছে। ফলে আমরা চাই, এই জয়ের ধারা অব্যাহত থাকুক। টাইগারদের যে কোনো দুর্বলতা থাকলে তা কাটিয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে তারা আরও এগিয়ে যাবে এবং আরও জয় উপহার দেবে আমাদের, এমনটি প্রত্যাশা। তাছাড়া নিজেদের ৫০তম টেস্টে জ্বলে উঠলেন সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। মাইলফলকে পৌঁছানোর ম্যাচে দু’জনের দারুণ নৈপুণ্যে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। অর্ধশতক ও ১০ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। দুই ইনিংসেই অর্ধশতক পেয়েছেন তামিম। মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ প্রায় শতভাগ মুসলমানের এদেশে আর মাত্র একদিন বাদেই সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব প্রবিত্র ঈদুল আজহা। এই জয়ে ঈদের আগে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে ঈদের সবচেয়ে সুন্দর উপহারই দিল সাকিব-তামিমরা। অস্ট্রেলিয়া বিপক্ষে পাঁচ টেস্টে এটাই বাংলাদেশের প্রথম জয়। সেই সঙ্গে টেস্টে বাংলাদেশের জয় পৌঁছাল দুই অঙ্কে-১০১ টেস্টে ১০টি। জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কার পর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ। চার দিনে শেষ হওয়া ঢাকা টেস্টের সারাংশ এটিই। সিরিজের ২য় টেস্ট আগামী ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এই টেস্ট সিরিজের জন্য আসলেই ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষা। নির্দিষ্ট করে বললে ১১ বছরেরও বেশি। সেই ২০০৬ সালের এপ্রিলে রিকি পন্টিংয়ের অস্ট্রেলিয়া দুটি টেস্ট খেলে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া আবার এলো স্টিভেন স্মিথের দল। এই দীর্ঘ সময়ে বদলে গেছে কত কিছু। দুটি দলের মধ্যেই প্রজন্মের ব্যবধান ঘটে গেছে।  অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি নামের সংকরায়িত ক্রিকেটের উন্মাদনায় সারা বিশ্বই উথালপাথাল। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে আর টেস্ট খেলতে আসেনি। বাংলাদেশকেও তারা টেস্ট খেলতে ডাকেনি নিজের দেশে।২০১১ সালে তিন ম্যাচের একটি ওয়ানডে সিরিজ অবশ্য খেলে গেছে, সে ছিল সান্তনা। বাংলাদেশকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আক্ষরিক অর্থে তখন সান্তনাই দিয়েছিল এই বলে যে, আপাতত তিনটি ওয়ানডেই হোক,পরে সময়-সুযোগ বুঝে দুটি টেস্ট খেলে যাওয়া যাবে। তাছাড়া দ্বিপক্ষীয় অনেক যোগাযোগ-প্রক্রিয়া শেষে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে সেই দুটি টেস্ট খেলতে রাজি হলো ২০১৫ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে। সবকিছু ঠিকঠাক, সারা বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া দলের আগমনের প্রতীক্ষায় সময় গুনছে। ঠিক তখনই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাকে কারণ দেখিয়ে সফর বাতিল করে দিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দিলেও মন গলেনি অস্ট্রেলিয়ার। কদিন পরই অবশ্য শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফর করে গেছে। বাংলাদেশ সফলভাবে আয়োজন করেছে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট, কোনো ক্রিকেট দলই নিরাপত্তা নিয়ে কোনো অনুযোগ তোলেনি। শুধু অস্ট্রেলিয়াই বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। সে কারণে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও তাদের দল পাঠায়নি।২০১৫ টেস্ট সফর বাতিল করার পর অস্ট্রেলিয়া অবশ্য বলেছিল,এ সফরটি তারা পরে সুবিধামতো এক সময়ে করবে। সেই সুবিধামতো সময়টা’ অবশেষে এল। ইংল্যান্ডের নির্বিঘ্নে বাংলাদেশ সফর নিশ্চয়ই ভূমিকা রেখেছে এখানে। ইংল্যান্ড দুটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে খেলে গেছে গত বছরের অক্টোবরে ইংল্যান্ড দলকে দেওয়া সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়া দলকেও।  বাংলাদেশ আর আগের দল নেই,সেটি ভালোই জানে অস্ট্রেলিয়াও। এদেশে এসে হেরে যাবার ভয়ের পেছনে নিরাপত্তার যে মিথ্যা অজুহাত দাঁড় করিয়েছিল অজিরা,সেটি ভালোই বোঝা গেল। দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে চার দিনে এই টেস্ট হেরে আজ র‌্যাঙ্কিংয়ের পাঁচে নেমে গেছে অস্ট্রেলিয়া। সিরিজ শুরুর আগে চারে ছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।এক পরাজয়ে তিনটি মহামূল্য রেটিং পয়েন্ট হারিয়ে তাদের পয়েন্ট এখন হয়ে গেল ৯৭। নেমে গেল পাঁচে। আর বাংলাদেশের এই এক জয়ে ৪ রেটিং পয়েন্ট বাড়ল। কাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অমন অবিশ্বাস্য জয় না পেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে বাংলাদেশের পয়েন্ট ব্যবধান তখন নেমে আসত ভগ্নাংশে।অস্ট্রেলিয়া এখন সিরিজের শেষ টেস্ট জিতলেও পাঁচ থেকে চারে উঠে আসতে পারবে না। তবে বাংলাদেশের সামনে আটে উঠে আসার সম্ভাবনা থাকল। বাংলাদেশ যদি ২-০-তে সিরিজ জেতে, আর ওদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি ২-১-এ সিরিজ হারে, তাহলে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার মাত্র দুই ধাপ পরে নিজেদের আবিষ্কার করতে পারবে। অস্ট্রেলিয়া যে তখন নেমে আসবে ছয়ে! এই ভয়টাও কি তাদের মনে খেলে গেছিল সিরিজ বিলম্বে।ভাবতে ভালোই লাগছে সারা বিশ্ব চেয়ে চেয়ে দেখল টাইগারদের বিজয়।

লেখক ও কলামিস্ট

raihan567@yahoo.com

মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে আমাদের নিজে বাঁচার স্বপ্নে বিভোর নির্যাতিত রোহিঙ্গারা


ইমরান জাহেদ, কক্সবাজার ॥
একদিন পর কোরবানের ঈদ। ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে পশুত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে মনুষ্যত্বকে বিকশিত করার শিক্ষায় হলো কোরবান। মিয়ানমারের আরাকান রাখাইন রাজ্যে এবার জলাঞ্জলি দিয়েছে স্ত্রী তার স্বামীকে, বোন তার ভাইকে, বাবা তার মেয়েকে। এমন পরিস্থিতিতে নিজে বাঁচার স্বপ্নে বিভোর নির্যাতিত রোহিঙ্গারা। টেকনাফের নাফ নদীতে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনায় আরও ১৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। মিয়ানমারে ফিরে গুলির মুখে পড়তে চান না স্বজনকে গুলির মুখে ফেলে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। তারা ঢুকতে চান উখিয়া-টেকনাফর রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে। উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প এবং নতুন গড়ে ওঠা বালুখালী বস্তিতে জায়গা পেতে প্রহর গুনছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী ও শিশু। ক্যাম্পের বাইরে দিনের পর দিন জড়ো হচ্ছেন তারা। একদিকে প্রশাসন, অন্যদিকে ক্যাম্পে পুরনো বসবাসকারীদের বাধার মুখে নতুনরা। গত শনিবার থেকে সব ধরণের বাধা, প্রতিরোধ উপেক্ষা করে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ঢুকে পড়ছে অসংখ্য রোহিঙ্গা। তবে অনেকেই এরই মধ্যে স্বজনদের সহায়তায় ক্যাম্পে ঢুকে পড়েছে। বাকিরা খোলা আকাশের নিচে রাস্তার পাশে ও ক্যাম্পের চারপাশে অবস্থান নিয়েছে। নতুন গড়ে ওঠা বালুখালী রোহিঙ্গা বস্তির নেতা লালু মাঝি বলেন, গত চার দিনে আট শতাধিক পরিবার প্রবেশ করেছে বালুখালী বস্তিতে। তাদের কোনো পরিসংখ্যান নেই। স্বজনদের মাধ্যমে তারা ওখানে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকেই নতুন ঝুঁপড়ি ঘর তৈরির চেষ্টা করছে। তবে পুরনো রোহিঙ্গাদের বাধার মুখে কোনো নতুন ঘর তৈরি করতে পারছে না তারা। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় যারা ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে আছেন তাদের ম্যানেজ করে বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের পরও একইভাবে স্রোতের বেগে সীমান্তে আসছে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা। গতকাল বৃহস্পতিবার উখিয়া কুতুপালং ইউএনএইচসিআর অফিস থেকে পুলিশ, আনসার ব্যারাক পেরিয়ে কমিউনিটি সেন্টার ও এমএসএফ হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কযোগে হাজার হাজার রোহিঙ্গার জটলা দেখা গেছে। তারা সবাই গত সোমবার ভোর থেকে অবস্থান করছে। অন্যদিকে অনিবন্ধিত কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বালুখালী রোহিঙ্গা বস্তিতে প্রতিনিয়ত চর্তুদিক দিয়ে রোহিঙ্গা প্রবেশ করতে দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে নিবন্ধিত অনিবন্ধিত মিলে প্রায় দেড় লক্ষাধিক ও বালুখালী নতুন রোহিঙ্গা বস্তিতে প্রায় ৩৫ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পে গত ১০ মাস আগে পালিয়ে আসা প্রায় ১৯ হাজার পরিবার অবস্থান করছে। এখন প্রতিটি ঘরে নতুন প্রবেশকারী রোহিঙ্গা আশ্রয় নিচ্ছে বলে জানা গেছে। মিয়ানমারের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম ঢেকিবনিয়া, চাকমাকাটা, ফকিরাপাড়া, তুমব্র“ মেদায়, কুমিরখালী, বলিবাজার, টং বাজার, ধুমবাইপাড়া, ফকিরাবাজার, সাহেববাজার, মংপ্রিচং, রেইখ্যাপাড়া, ছেংখোলা, কোনারপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে এই রোহিঙ্গারা প্রবেশ করে জড়ো হয়েছে। উখিয়ার সীমান্ত এলাকার পাহাড়ী জনপদ রেজু আমতলী, ফাত্রাঝিরি হয়ে ডেইলপাড়া, করইবনিয়া, ডিগলিয়া, হাতিমোরা, দরগাবিল, ঘুমধুমের বড়বিল, জলপাইতলী, আজুখাইয়া সড়ক পথে টমটম ও অটোরিকসা যোগে কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসছে তারা। ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান করা রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের মধ্যে এনজিওর মাধ্যমে পুষ্টিসমৃদ্ধ বিস্কুট বিতরণ করতে দেখা গেছে। এনজিও মুক্তির এপিসি আবদুল্লাহ আল মামুন শাহীন জানান, নিবন্ধিত শিবিরের তথ্য নেই। তবে কুতুপালং এ অনিবন্ধিত ১৬ টি ব্লকে প্রায় হাজারের অধিক রোহিঙ্গা পরিবার আম্রয় নিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্টে গত সাত দিন ধরে অবস্থান করছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। তারা পলিথিনের ছাউনি তৈরি করে ওখানে অবস্থান করছে। তবে মঙ্গলবার থেকে পলিথিন দিয়ে তৈরি করা অস্থায়ী ছাউনি তুলে কাটাঁতারের দিকে রোহিঙ্গাদের যেতে দেখা গেছে। নারী-পুরুষ, শিশু সবাই আতঙ্কিত অবস্থায় চলে যাচ্ছেন সেই লাইন বরাবর, যার ওপারেই তাদের জন্য অপেক্ষা করছে ভয়ংকর মিয়ানমার সেনাবাহিনী। পালিয়ে আসা যুবক আবদুর রহমান বলেন, আমার বাবা আব্দস সালাম ও বড় ভাই রাহাত আলমকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে। জান বাঁচাতে আমরা এখানে এসেছি। এখন আমাদের আবার ঠেলে দেওয়া হচ্ছে মৃত্যুর দিকে। সেখানে গুলি করার পর জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করছে সেনাবাহিনী। প্রতিদিন একর পর এক ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এখন কাটাতারের বেড়ায় থাকতে ভয় হচ্ছে। ওরা হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি করতে পারে আমার আরো অনেক আতœীয় স্বজন ওখানে রয়ে গেছে। এভাবেই আশঙ্কা প্রকাশ করে রোহিঙ্গা যুবক আব্দুর রহমান। অভিযানের নামে আগস্ট মাসের শুরুতে রাখাইনে সেনা মোতায়েন করে মিয়ানমার সরকার। এরই মধ্যে গ্রামের পর গ্রাম রোহিঙ্গাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। গত বছরের অক্টোবরে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো মিয়ানমার সেনাদের এমনই এক হত্যাকান্ডের ঘটনায় জাতিসংঘের সাবেক প্রধান কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন বৃহস্পতিবার তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। কমিশন রোহিঙ্গাদের ওপর থেকে বিধি নিষেধ প্রত্যাহার এবং তাদের নাগরিকত্ব প্রদানের আহবান জানায়। প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই নতুন করে হামলা ও হত্যাকান্ড শুরু করে মিয়ানমার। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এসব এলাকায় বাংলাদেশ সীমান্ত বাহিনী বিজিবির কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও তারা রাতে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে। এছাড়া নোম্যনস ল্যান্ডে অবস্থান করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা।

হত্যা মামলায় ওসির ১০ বছরের জেল!

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জয়নাল আবেদীন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ওয়াহিদ্দুজামান শিপলু হত্যা মামলায় তাহিরপুর থানার তৎকালীন ওসি শরিফ উদ্দিনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।মামলার অন্যতম আসামি তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল এবং উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান উজ্জ্বলসহ সাতজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রণয় কুমার দাশ এ মামলার রায় দেন।উল্লেখ্য, গত ২৭ আগস্ট মামলার রায়পূর্ব শুনানিতে আসামিরা উপস্থিত হলে আদালত সবাইকে জেল হাজতে পাঠান।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ২০ মার্চ  তাহিরপুর উপজেলার ভাটি তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বাদাঘাট জয়নাল আবেদীন কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ওয়াহিদ্দুজামান শিপলু নিজ বাড়িতে রাতের আধারে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ছাত্রলীগের ওই নেতার মৃত্যুর তিন দিন পর ২৩ মার্চ তার মা আমিরুন নেছা সুনামগঞ্জ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তাহিরপুর থানার তৎকালীন ওসি মো. শরিফুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান কামরুল, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুনাব আলী, বিএনপিকর্মী শাহীন মিয়া, শাহজান মিয়া, তাহিরপুর থানার সাবেক এসআই রফিকুল ইসলামকে আসামি করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার এ মামলার রায়ে তাহিরপুর থানার সাবেক ওসি শরিফুল ইসলাম ছাড়া অন্য সাত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

২০০২ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির তৎকালীন রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে তাহিরপুর থানার ওসি শরিফ উদ্দিন ও থানার এসআই  রফিকুল ইসলামের সহযোগিতায় ছাত্রলীগ নেতাকে রাতের আঁধারে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগপত্রে নিহতের মা অভিযোগ করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে ওসি ও এসআইসহ সাতজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করা হয়।আদালতে দাখিলকৃত চাজশিটে ওসি ও এসআই’র সম্পৃক্ততা থাকার কারণে ওসি শরিফ উদ্দিন ও এসআই রফিকুল ইসলামকে চাকরি থেকে বরখাস্ত  করা হয়। দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনার ১৫ বছর পর আলোচিত এ মামলার রায় দেন।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর কবির রুমেন বলেন,”ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাহিরপুর থানার ওসিকে আদালত ১০ বছরের কারাদণ্ড  দিয়েছেন। কিন্তু অন্য আসামিরা অপরাধী হয়েও খালাস পাওয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। “

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আব্দুল হক বলেন, “আমাদের আসামিদের রাজনৈতিক এ মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। অবশেষে আদালত আমাদের আসামিদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন। আমরা আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট। “

ঈদের আগেই বাড়ছে রেমিটেন্স

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। চলতি আগস্ট মাসের ২৫ দিনে মোট ১০৪ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন তারা। মাসের বাকি দিনগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহের হার আরও বেড়ে সবমিলিয়ে এ মাসে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৩০ কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের আগে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। শেষ দু’দিনেও পরিবার-পরিজনের ঈদের খরচ মেটাতে বেশি করে অর্থ দেশে পাঠাবেন প্রবাসীরা। তাই আমরা প্রত্যাশা করছি আগস্ট মাসে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৩০ কোটি ডলারের মতো হতে পারে।
রেমিট্যান্স বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ১০৩ কোটি ৯১ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১১১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন তারা, যা গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে ছিল ১১ শতাংশ বেশি। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রায় পুরো সময় ধরে পড়তির দিকে থাকা রেমিট্যান্স প্রবাহের ঊর্ধ্বগতি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সুখবরই দিচ্ছে।
দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি রেমিট্যান্সের নিম্নগতি সরকারের নীতিনির্ধারকদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছিল। রেমিট্যান্স বাড়াতে মাশুল না নেওয়াসহ নানা ঘোষণাও দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। যদিও সেটা সম্ভব নয় বলে সিন্ধান্ত হয়েছে।
২৫ দিনে ১০৪ কোটি ডলারের মধ্যে সরকারি ৬ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২৯ কোটি ৯ লাখ ডলার। দুটি বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে আসে ৮৯ লাখ ডলার। এ সময় ৩৯টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৭২ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। আর ৯টি বিদেশি ব্যাংকের মাধামে আসে ৯৮ কোটি ডলার।
শুভঙ্কর সাহা বলেন, প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে আগ্রহী করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তারই ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে এখন। মাশুল না নেওয়ার ঘোষণা কার্যকর হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়বে বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র।
বাংলাদেশের জিডিপিতে ১২ শতাংশ অবদান রাখে প্রবাসীদের পাঠানো এ বৈদেশিক মুদ্রা। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এক হাজার ২৭৭ কোটি (১২ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের ৬ অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিদেশ থেকে অবৈধ পথে টাকা পাঠানোকে দায়ী করছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি।
অন্যদিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের অর্থনীতির নাজুক অবস্থার কথা বলে আসছে আইএমএফ। সেখানে গিয়ে অনেকের বেকার পড়ে থাকার খবরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আসছে। দেশের রেমিট্যান্সের অর্ধেকের বেশি আসে মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি দেশ-  সৌদিআরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত ও বাহরাইন থেকে।

বাংলাদেশের বিজয় ঐতিহাসিক। প্রতিশোধের। তাচ্ছিলের সঠিক জবাব

ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে সবার মনেই ঘুরপাক খেয়েছে অজনা আশঙ্কা। ২০০৬ সালের ফতুল্লার স্মৃতিও জেগে উঠেছিল। এবারো সুযোগ হাত ফসকে যাওয়ার দুশ্চিন্তা করছিলেন অনেকেই। ফতুল্লায় ৩০৬ রানের লক্ষ্য দিয়েও রিকি পন্টিংয়ের অস্ট্রেলিয়াকে থামাতে পারেনি হাবিবুল বাশারের বাংলাদেশ। ১১ বছর পর মিরপুরে ফতুল্লার স্মৃতিকে ফিরতে দেয়নি মুশফিকুর রহিমের দল।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পেয়েছে প্রথম জয়। বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিক বলেছেন, এ জয় ঐতিহাসিক। এটি অনেক বড় অর্জন।
নিজেদের মাঠে পরপর দুই টেস্টে ইংল্যান্ডের পর অস্ট্রেলিয়াকে হারালো উন্নতির সিঁড়িতে থাকা বাংলাদেশ। গতকাল ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক বলেছেন, ‘অবশ্যই এটা তো অনেক বড় একটা অর্জন। এখন বলতে পারি, এই ম্যাচটা ঐতিহাসিক ছিল। ১১ বছর পর খেলা। ম্যাচ কোনো দিন ঐতিহাসিক হয় না। ফলের কারণে হয়তো কোনো ম্যাচকে মনে রাখা যায়। এটাকে আমি অনেক বড় অর্জন বলবো।’
গতকাল ম্যাচের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল ১৫৬ রানের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার শেষ আট উইকেট তুলে নেয়ার। সেই চ্যালেঞ্জ জয়ে সফল হয়েছেন সাকিব ও তাইজুলরা। এদিন ১৩৫ রানের মাঝেই অজিদের আট ব্যাটসম্যানকে আউট করে দুর্দান্ত জয়টি পায় বাংলাদেশ।
অনেক টালবাহানার পর প্রতিশ্রুত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। র্যাংকিং, শক্তিমত্তার ব্যবধান থাকলেও সিরিজ শুরুর আগেই বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বলেছেন, সিরিজ জেতা সম্ভব। বিনয়ী মুশফিক অবশ্য গতকাল বললেন, সহজে আসেনি এই জয়।
বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়ক বলেন, ‘আসলে এটা তো ঘোষণা না! আমরা বলেছি সম্ভব। এটা তো অসম্ভবের কিছু না। এটা শুধু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নয়, যে কোনো দলের বিপক্ষেই এটা বলার চেষ্টা করবো। কারণ হোম কন্ডিশনের শক্তিটা আমরা জানি। সব মিলিয়ে বলবো যে, এটা সহজ নয়। গত চারটা দিন অনেক কষ্ট করেছি। ওরাও অনেক লড়াই করেছে। এটা বড় একটা সন্তুষ্টি। একই সঙ্গে এটা আমাদের শিক্ষাও। যত বড় দলই হোক না কেনো, এই কন্ডিশনে আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতে জিততে পারি।’
ওয়ার্নারের ব্যাটিং ঝড়ের পরও জয়ের আশা হারায়নি বাংলাদেশ। স্মিথ-ওয়ার্নারের জুটি ভাঙতে পারলেই জয়ের পথ সুগম হবে, এমন বিশ্বাস ছিল সবার মাঝে। মুশফিক বলেন, ‘এমন উইকেটে ৮ উইকেট হাতে নিয়ে ১৫৬ রান করা সব সময় বিশ্বাস ছিল। ওদের দুই জন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ক্রিজে ছিল। আমাদের তিনজন উঁচু মানের স্পিনার ছিল, বিশ্বাস ছিল সুযোগ আসবেই। শেষে কামিন্স যখন দুইটা ছয় মারল তখনো আমার বিশ্বাস ছিল। আউট হতে লাগে একবল আর তখনো দরকার ২০ রান। সে দিক থেকে বিশ্বাসটা ছিল। শুধু আমার না আমাদের পুরো দলের ভেতরে ছিল। এই জয় আমাদের জন্য অনেক দরকার ছিল।’
মাঠে শুধু ব্যাটে-বলে নয়, দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে কথার লড়াইও হয়েছে বেশ। স্বভাবগতভাবেই অস্ট্রেলিয়ানরা স্লেজিং করে, আক্রমণাত্মক থাকে। মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন ওয়ার্নারদের স্লেজিংয়ের।
মুশফিক বলেন, ‘ওদের মধ্যে আক্রমণাত্মক মনোভাব তো অবশ্যই ছিল। তবে ওরাও বুঝেছে বাংলাদেশও কতটা আগ্রাসী হতে পারে। শুধু ব্যাট-বল না শারীরিক ভাষাতেও ওরা সেটা টের পেয়েছে। এমনকি আমাদের টেলেন্ডরা যারা ব্যাটিং করতে গেছে তাদের পর্যন্ত ওরা কথা বলেছে। ওরা আমাদের জুনিয়রদের অনেক কথা বলেছে যা কি না আমরা ফিরিয়ে দিয়েছি। আমরা যে আগের জায়গায় নেই সেটা ওরা হাড়েহাড়ে টের পেয়েছে।’

বাংলাদেশের বিজয় অবশ্যই যোগ্য দল হিসেবেই হয়েছে———অজি অধিনায়ক

আগের চার টেস্টেই বাংলাদেশকে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ১১ বছর বিরতির পর টেস্ট ক্রিকেটে পঞ্চম সাক্ষাতেই টাইগারদের দাপুটে পারফরম্যান্সে ম্লান অজিরা। ম্যাচের চতুর্থ দিনে শেষ আট উইকেটে ১৫৬ রান দরকার ছিল অস্ট্রেলিয়ার। ওয়ার্নারের সেঞ্চুরির পরও বাংলাদেশের স্পিনারদের তোপে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪৪ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। গতকাল মিরপুর টেস্টে ২০ রানে হেরে সিরিজে ১-০ তে পিছিয়ে পড়েছে স্টিভেন স্মিথের দল।
অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক অবশ্য এ হারের জন্য কোনো অজুহাত দেননি। বরং বাংলাদেশের দুই সিনিয়র ক্রিকেটার সাকিব-তামিমের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন। তার দৃষ্টিতে, প্রথম ইনিংসেই ম্যাচে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলেই দুই ম্যাচের সিরিজ খেলতে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। গতকাল ম্যাচের পর স্মিথ বলেছেন, ‘আমরা খুব ভালোভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি। নেটে অনুশীলন করেছি। সব কিছুই ঠিক আছে। তবে অনেকেই ভালো করতে পারেনি। আসলে সব কিছুই ওদের (বাংলাদেশ) পক্ষে ছিল। এই হারের কোনো অজুহাত নেই। পরের ম্যাচের জন্য তৈরি হবো।’ প্রথম ইনিংসে ১০ রানে তিন উইকেট হারানোর পরও বাংলাদেশ ২৬০ রান করেছিল। যার পেছনে মূল অবদান সাকিব-তামিমের ১৫৫ রানের জুটির। বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে করেছিল ২১৭ রান। সেখানেই পিছিয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে স্মিথ বলেছেন, ‘অবশ্যই এটা খুব ক্লোজ ম্যাচ ছিল। প্রথম ইনিংসে ২৬০ এবং সাকিব-তামিমের প্রথম ইনিংসে ওই জুটিই ম্যাচটা তাদের দিকে নিয়ে গেছে। আমরাও সম্ভবত তাদেরকে সুযোগ দিয়েছি কিছুটা। আমার মনে হয় প্রথম ইনিংসটা ১৮০ বা ২০০ হলে আমাদের জন্য ভালো হতো। তারপর আমরা প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ভালো করতে পারিনি। এটা সবসময় কঠিন যখন আপনি উপমহাদেশের উইকেটে শেষ ইনিংসে ব্যাট করবেন। এটা সবসময় কঠিন কাজ।’
ব্যাটে-বলে সাকিব ছিলেন উজ্জ্বল। ৮৯ রান ও ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরাও হয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সাকিবের পারফরম্যান্স নিয়ে স্মিথ বলেন, ‘সাকিব আক্রমণাত্মক খেলেছে প্রথম ইনিংসে। একটু জায়গা পেলেই শটস খেলেছে। আমরা সম্ভবত কিছুটা শর্ট ও বাইরে বোলিং করেছি। আমাদের ফাস্ট বোলার ও স্পিনাররা ধারাবাহিকভাবে প্রয়োজনীয় লেন্থে বোলিং করতে পারেনি। আমার মনে হয় এটাই মূল যেটা সাকিব ভালোভাবে করেছে। তার লেন্থ ছিল অসাধারণ এবং সে বল হাতে যা ইচ্ছা করেছে। এটা খুব কঠিন হয়ে যায় যখন কেউ ভালো লেন্থে বল করে। এবং আমার মনে হয় আমাদের স্পিনাররা কিছুটা তাদের লেন্থের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক ছিল না।’

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org