ব্রেকফাস্টে ব্রেড-বাটার! আর বিকালের স্ন্যাক্স অফিসের স্যান্ডউইচ। মাঝে কখনও তেল চ্যাপচ্যাপে পরটা, তো কখনও অন্য কোনও ফাস্ট ফুড। এই তো হল সারা দিনের খাবার রুটিন, যা শুধু আমাদের মৃত্যুর দিকে আমাদের ঠেলে দিচ্ছে না, সেই সঙ্গে অনেকাংশে পঙ্গুও বানাচ্ছে। বিশেষত হওয়াট ব্রেড বা গোদা বাংলায় যাকে আমরা পাউরুটি বলে থাকি, তা যে কত রকমভাবে আমাদের ক্ষতি করছে, সে বিষয়ে কারওই খেয়াল নেই।

গবেষণা বলছে উত্তর এবং পূর্ব ভারতে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ১ জন সিলিয়াক ডিজিজ নামে একটি ভয়ঙ্কর অটোইমিউন ডিজিজে আক্রান্ত হচ্ছে শুধুমাত্র পাউরুটির কারণে। শুধু তাই নয়, আরও নানা ধরনের মারণ রোগ শরীরে এসে বাসা বাঁধছে এই খাবরটির কারণে। তাই তো চিকিৎসকেরা আর কাল বিলম্ব না করে যত শীঘ্র সম্ভব পাউরুটি থেকে দূরত্ব বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। আর যদি কেউ এমনটা না করেন, তাহলে কি রোগ হতে পারে জানেন?

. শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়: অনেকই মনে করেন পাউরুটি বেশ স্বাস্থ্যকর। কিন্তু এই ধরণা একেবারেই ঠিক নয়। কারণ ময়দা বানানোর সময় এর শরীরে কোনও ধরনের পুষ্টিকর উপাদানই আর অবশিষ্ট থাকে না। ফলে পাউরুটি খেলে শরীরের তো কোনও উপকার হয়ই না, উল্টে ময়দা পেটের রোগে আক্রান্ত হওয়ার পথকে প্রশস্ত করে, সেই সঙ্গে শরীরের অন্দরে মারাত্মক ক্ষতি সাধনও করে থাকে। তাই এই খাবারটি থেকে দূরে থাকাটাই শ্রেয়!

. রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায়: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে পাউরুটি শরীরে প্রবেশ করার পর হজম হতে সময় নেয়, কিন্তু যে মুহূর্তে হজম হয়, তখনই রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে ইনসুলিনের ক্ষরণও বেড়ে যায়। এমনটা দিনের পর দিন হতে থাকলে শরীরের অন্দরে ইনসুলিন রেজিস্টেন্স তৈরি হয়ে যায়। ফলে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা মারাত্মক বৃদ্ধি পায়। সেই কারণেই তো যাদের পরিবারে এই মারণ রোগটির ইতিহাস রয়েছে, তাদের পাউরুটি থেকে শত হস্ত দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিকাল নিউট্রিশিয়ানে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে উল্লেখ ছিল, যারা হোল গ্রেন খাবার বেশি মাত্রায় খায়, তাদের শরীরে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার কেনাও আশঙ্কাই থাকে না। কিন্তু এমনটা না করে যারা রিফাইন ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার বেশি মাত্রায় খেয়ে থাকেন, যেমন ধরুন পাঁউরুটি, তাদের শরীরে ডায়াবেটিস রোগ বাসা বাঁধার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৩. ওজন বৃদ্ধি পায়: গবেষণা বলছে পাউরুটি খাওয়ার পর শরীরে একদিকে যেমন শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায়, তেমনি অন্যদিকে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণও বাড়তে শুরু করে। ফলে এমমনটা যদি কয়েক দিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে ওজন বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে লেজুড় হয় কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগও।

৪. ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে: ২০১৫ সালে জার্নাল অব ক্লিনিকাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুসারে পাউরুটি এবং ডিপ্রেশনের মধ্যে গভীর যোগ রয়েছে। বিশেষত পোস্ট মেনোপজাল সময়ে মহিলাদের ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হওয়ার পিছেন এই খাবরটি যে বিশেষ ভাবে দায়ি, সে বিষয়ে আর কোনও সন্দেহ নেই। তাই এবার থেকে ব্রেড-বাটার খাওাযার আগে একবার অন্তত ভেবে দেখবেন, খাবারের নামে বিষ খাচ্ছেন না তো!

৫. শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়: টানা ১২ সপ্তাহ ৩৬ জন মানুষের উপর গবেষণা চালিয়ে বিশেষজ্ঞরা লক্ষ করেছেন, নিয়মিত পাউরুটি বা ময়দা দিয়ে তৈরি কোনও খাবার খেলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা মারাত্মক বৃদ্ধি পায়। আর যেমনটা আপনাদের সকলেরই জানা আছে যে কোলেস্টরল আমাদের হার্টের জন্য় একেবারেই ভাল নয়। কারণ এই উপাদানটির পরিমাণ রক্তে বাড়তে থাকলে হার্ট অ্যাটাক সহ নানাবিধ হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তথ্যসূত্রঃ বোল্ডস্কাই অবলম্বনে

 

 

হস্তমৈথুন বা স্বমৈথুন টিন এজারদের মধ্যে স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু অতিরিক্ত হস্তমৈথুন মাঝেমধ্যেই খুব বড় সমস্যা তৈরি করে বিশেষত টিন এজার বয়সে।

কিভাবে দূর করবেন এই সমস্যা? রইল বিশেষজ্ঞদের দেওয়া কয়েকটি টিপস:

বেশিরভাগ সময় পরিবার-পরিজনেদের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করুন। নিজেকে একলা ঘরে বন্দী করে রাখবেন না। তাহলে এই প্রবণতা কমবে।

যতটা সম্ভব কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখুন। তাহলেও এই প্রবণতা কমতে পারে।

পর্ন দেখা কমান। পর্ন থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

যে সমস্ত বন্ধু সবসময় পর্ন নিয়েই আড্ডা দেয় বা কথা বলে, তাদের থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করুন, একদিনেই নিজেকে পরিবর্তন করা যাবে না। তাই বলে চেষ্টা করা ছেড়ে দেওয়া যাবে না।

বাস্তবসম্মত একটি কাজ করতে পারেন। যে কম্পিউটারে পর্ন দেখেন, সেটি পারলে বাড়ির লিভিং রুমে রাখুন। পর্ন দেখা কমলে হস্তমৈথুনের অভ্যাসও কমবে।

দুপুরে দিকে বা রাতে সবথেকে বেশি হস্তমৈথুনের প্রবণতা জাগে। যখনই এই ইচ্ছে হবে, তখন কয়েকটি ফ্রি হ্যান্ড যোগাসন করুন। ম্যাজিকের মতো ফল পাবেন।

অনেকেই সকালে ঘুন থেকে উঠতে পারেন না। তাই সকালে ঘুম থেকে ওঠার জন্য মোবাইল বা ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়ে রাখেন।

তবে দীর্ঘদিন ধরে গভীর ঘুমকে অ্যালার্ম দিয়ে ভাঙালে শরীরে নানাবিধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আমাদের আজকের প্রতিবেদনে সেই সম্পর্কে রইলো বিস্তারিত-

১। খুব বেশি পরিমাণে আপত্কালীন অ্যাড্রিনালিন হরমোন ক্ষরণ হয়। অ্যাড্রিনালিন হরমোনের অধিক ক্ষরণে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়।

২। অ্যালার্মে ঘুম ভাঙলে হৃদযন্ত্রের ওপর খুব বেশি চাপ পড়তে পারে । এই চাপ পড়াটাও ক্ষতিকারক। হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়ে।

৩।

লক্ষ্য করবেন, অ্যালার্ম কলে ঘুম ভেঙে গেলেও বেশ কিছুক্ষণ ঘুমভাব থেকে যায়। কাজ করার এনার্জি থাকে না।

৪। অ্যালার্মে ঘুম ভাঙলে ঠিকঠাক ঘুম নাও হতে পারে। যার ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। মাথায় যন্ত্রণা অনুভব হতে পারে।

৫। অবসাদ বাড়িয়ে তোলে। কোনও বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ক্রমশ লোপ পায়।

শরীরের ওজন কমাতে কতজন কতকিছুই না করে থাকেন। শরীরের বাড়তি মেদ কমাতে কেউ খাওয়া-দাওয়াই কমিয়ে দিয়েছেন।

মেনে চলছেন অনেক বিধি-নিষেধ। তারপরও কমছে না ওজন। তবে প্রতিদিনের খাবার সম্পর্কে একটু সচেতন থাকলেই শরীরে বাড়তি মেদ জমবে না। দ্রুত শরীরের ওজন কমাতে ফলের বিকল্প নেই। নিচে ওজন কমাতে সহায়ক ৭টি ফল নিয়ে আলোচনা করা হলো :

আপেল : আপেলের পেকটিন ফাইবার পেট ভরানোর পাশাপাশি দেহে মেদের পরিমাণও কমাবে। ভারী খাবার খাওয়ার আগে আপেল খাওয়া তাই উপকারী।

তরমুজ : তরমুজ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ওজন ঝরাতে সাহায্য করে। দিনে একটা তরমুজ খিদে কমিয়ে দেওয়ার সঙ্গে মেদ জমতেও দেবে না।

লেবু : লেবুতে আছে ভিটামিন সি ও সাইট্রিক অ্যাসিড। যা ওবেসিটির পরিমাণ কমায়।

নারকেল : নারকেল যকৃতের বিপাক হার বাড়িয়ে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে প্রকারান্তরে নিয়ন্ত্রণে থাকে ওজন।

বেদানা : বেদানা দেহে লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিনের হার কমায়। খিদের হার কমায়।

পেঁপে : পেঁপে রক্তে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দেয়। রক্তে শর্করা ওবেসিটির লক্ষণ।

কমলালেবু : কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে পানি, ভিটামিন ও ফাইবার থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ফলে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

বাংলাদেশে আশ্রিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের ট্রমা থেকে বের করে আনতে আবারও ৩ দিনব্যাপী ‘ড্রামা থেরাপি’র আয়োজন করা হয়েছে।বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও পিপল্স থিয়েটার এসোসিয়েশনের (পিটিএ) উদ্যোগে আগামীকাল ১২ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে দ্বিতীয় ধাপের এ থেরাপি।মিয়ানমারের সহিংসতা থেকে বেঁচে আসা এবং বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া অনাথ ও অসহায় শিশুদের মানসিক শক্তি তৈরির জন্য একাডেমির মহাপরিচালক ও পিটিএ’র প্রতিষ্ঠাতা লিয়াকত আলী লাকির পরিকল্পনায় গত ৭ ও ৮ অক্টোবর প্রথম ড্রামা থেরাপি পরিচালিত হয় উখিয়া ও টেকনাফের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে।কুতুপালং বালুখালী, ঘুমধুম, পালং খালি, থ্যাংখালি ও টেকনাফের উনছ্রিপাংয়ে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শিশুরা প্রথম ড্রামা থেরাপিতে অংশগ্রহণ করে। বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশ নিয়ে এ শিশুরা ব্যাপক আনন্দ লাভ করে। শিশুদের এ আনন্দ, ক্যাম্পে অবস্থানরত বড়দের মাঝেও ব্যাপকভাবে সঞ্চারিত হয়। এ সময় তারা এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ১২, ১৩ ও ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও পিটিএ’র আয়োজনে আরেকটি দল টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থিত অনাথ ও অসহায় শিশুদের মাঝে তাদের মানসিক শক্তি তৈরির লক্ষ্যে ‘ড্রামা থেরাপি’ পরিচালনা করবে।

আমাদের দেশে দিনে দিনে কিডনি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে ক্রনিক কিডনি রোগী ও শিশু কিডনি রোগী সর্বাধিক।
এর কিছু সাধারণ কারণ হলো:
১. খাদ্যে ভেজাল ও বিষাক্ত খাদ্য
২. বাহিরের খাবারের প্রতি আগ্রহ ও খাদ্য গ্রহণ বৃদ্ধি
৩. প্রত্যেক স্কুলের সামনে অস্বাস্থ্যকর খোলা খাবার বিক্রয়
৪. ডায়াবেটিস
৫. উচ্চ রক্তচাপ
৬. শরীরে অতিরিক্ত ওজন
৭. প্রস্রাবে এলবুমিন নির্গত হওয়া
৮. কিছু কিছু ক্ষেত্রে জেনেটিক ও বংশগত কারণও দায়ী করা হয়।
এর মধ্যে অনেক রোগের অন্যতম কারণ হলো নিজের প্রতি নিজের অসচেতনতা, অযত্ন। নিজেকেই নিজের যত্ন নিতে হবে। এক জন মানুষের প্রথম চিকিৎসক সে নিজেই নিজের একটুখানি সচেতনতা। তাকে অনেক রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে। “কথায় বলে” preren fidr is beter then ceree অর্থাৎ নিরাময়ের চেয়ে প্রতিকার ভালো। ব্যাক্তি সচেতনতা দিতে পারে নিরোগ শরীর। আর নিরোগ শরীরের জন্য চিকিৎসার কোন প্রয়োজন নেই। আমরা প্রত্যেকে যদি নিজে কেবলমাত্র নিজের দায়িত্ব নেই তবে রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। কিছু নিয়ম-নীতি মেনে চললে অর্জন হবে সুস্বাস্থ্য, বেচে যাবে বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা খাতের খরচ।

সাধারণ নিয়ম-নীতিগুলো হলো: 
১. নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, প্রতিদিন গোসল করা ও খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।
২. স্বাস্থ্যকর সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে। বাসী, পচাঁ খাবার ত্যাগ, অসচেতনতার দরুন বাসী পচাঁ খাবার থেকে ডায়রিয়া, আমাশয় এমনকি দির্ঘদিনের অভ্যাস থেকে কিডনি অকেজো হতে পারে।
৩. শরীরের আদর্শ ওজন বজায় রাখা। স্থূল শরীর বা অতিরিক্ত ওজন সমস্ত- রোগের সম্ভাবনাকে বাড়ায়, যেমন: ডায়াবেটিস, উচ্চরক্ত চাপ এরা উভয়ে মিলে আক্রমণ করে কিডনির উপর।
৪.শুয়ে বসে দিন পার না করে স্বাভাবিক হাঁটাচলা, কাজকর্ম বজায় রাখা, নিয়মিত স্বাভাবিক ব্যায়াম করুন অথবা হাটুন।
৫. রক্তে চিনির স্বাভাবিক মাত্রার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং নিয়মিত পরীক্ষা করা।
৬. নিয়মিত রক্তচাপ (ব্লাডপ্রেসার) পরীক্ষা করা। স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০।
৭. খাদ্যাভ্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ, প্রত্যেককে জানতে হবে সুস্থ্য নিরোগ আদর্শ ওজনের শরীরের জন্য কোন খাবার খাবো, কোন খাবার কম খাবো, কোন খাবার পরিহার করবো। কোন খাবার কি পরিমাণে খাবো।

উদাহরণ: একজন কিডনি রোগী যার সিরাম ক্রিয়েটিনিন ৪০০ এর উপরে এবং সিরাম পটাসিয়াম ৫.৩ সে শারীরিক দুর্বলতার কারণে পর পর দুই দিন ইচ্ছামত মুরগীর স্যুপ এবং প্রচুর ফল খায়, ৩য় দিন তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার ধারণা ছিল উক্ত খাবার তার দুর্বলতা কাটাবে, সে স্বাভাবিক সুস্থ্যতা ফিরে পাবে। অথচ উক্ত খাবার উক্ত রোগীর জন্য বর্জনীয়। সে পরিমিত প্রোটিন (অর্থাৎ মুরগী), ফল (পটাসিয়াম সমৃদ্ধ) একে বারেই বর্জনীয়। প্রত্যেককে খাদ্য সমন্ধে সচেতন হতে হবে, পুষ্টিজ্ঞান অত্যন্ত- প্রয়োজন।
বিশেষ কিছু রোগের খাদ্য নির্বাচন যেমন:
(ক) ডায়াবেটিক
(খ) উচ্চরক্ত চাপ
(গ) কিডনী রোগ
(ঘ) হৃদরোগ
(ঙ) অতিরিক্ত ওজন কিডনী রোগীর বেলায়।

৮. প্রচুর পানি পান করুন। এ কথাটি মোটেও প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে কিডনি রোগের বেলায়। কারণ মূত্রত্যাগ এর পরিমানের উপর নির্ভর করে কতটুকু পানি পান করবেন। প্রচুর কথাটির নিদির্ষ্ট কোন মাপ নেই। তাই কিডনি রোগীকে বিশেষ সতর্ক হতে হবে পানি গ্রহনের ব্যাপারে। এ ব্যাপারে আপনার ডাক্তার অথবা ডাইটিশিয়ান অথবা স্বাস্থ্যকর্মির পরামর্শ নিন।
উদাহরণ: কোন কোন কিডনি রোগীকে ৫০০ ml পানি (২৪ ঘন্টায়) পান করার উপদেশ দেয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে।

৯. লবণ গ্রহণ: অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ কিডনি রোগকে তরান্বিত করে। প্রতিদিন রান্নায় ১ চা চামচ লবণ গ্রহণ করুন, এতে আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সংযত থাকুন: আচার, পনির, চিপস, লোনামাছ, শুটকি এবং সালাদ ও টকফল এর সাথে লবণ খাওয়া থেকে।

১০. ধূমপান ছেড়ে দিন। নতুবা এটি আপনাকে ছাড়বে না। উদাহরণ: একজন ৮০ বছর বয়স্ক বৃদ্ধা ফুসফুসের ক্যান্সার নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তার বিবরণী থেকে জানা গেল সে ২০ বছর বয়স থেকে সিগারেট টানা শুরু করছে, ৩০ বছর ক্রমাগত সিগারেট খেয়েছেন এবং ৩০ বছর ধরে খাচ্ছেন না = ৮০ বছর বয়সের হিসাব। বর্তমানে ৮০ বছর বয়সে ফুসফুসের ক্যান্সার। চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখনই আপনি সিদ্ধান্ত- নিন এখনই সচেতন হোন।

১১. খুব বেশী ওষুধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। একটুতেই ওষুধ মুখে নেবেন না। আপনার কিডনি ক্রমাগত উপকারী পুষ্টি ছেকে শরীরে ধরে রাখছে এবং অপ্রয়োজনীয় বর্জপদার্থ বের করে দিচ্ছে। আর স্বাভাবিক কাজে তাকে সাহায্য করুন।

১২. শক্তিবর্ধক ভিটামিন টেবলেট খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এটি ধীরে ধীরে আপনার কিডনি অকেজো করে দেয়। মনে রাখবেন আপনি যদি নিয়মিত সুষম খাবার (Balance Diet) গ্রহণ করেন তবে কোন কৃত্রিম ভিটামিনের প্রয়োজন নেই। সাময়িক স্বস্তির কাছে স্থায়ী কিডনি অকেজো সীমাহীন দুর্ভোগ নিজেই নিজের কিডনি অকেজো করবেন না। কিডনি রোগ অত্যন্ত- যন্ত্রনাদায়ক, অত্যন্ত- ব্যায়বহুল এবং বছরে ৪০ হাজার রোগী মারা যায়। আক্রান্ত-দের মধ্যে ৯০ ভাগের পক্ষে এই ব্যায়বহুল চিকিৎসা করা সম্ভব হয় না।

১৩. ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ হতে দুরে থাকুন। আমাদের দেশে ৫১ ভাগ লোকই জানে না তাদের ডায়াবেটিস এবং ৩৫ ভাগ লোকই জানে না তাদের উচ্চ রক্তচাপ। এই অজানা একত্রিত হয়ে জন্ম দেয় নতুন বন্ধু- সেটি হলো কিডনি অকেজো, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকার দরুন তাদের এই ভয়াবহ ফলাফল। একটু ব্যক্তিগত সচেতনতা এনে দিতে পারে অপরিসীম স্বস্থি, সাচ্ছন্দ্য।

নিম্নে একজন কিডনি রোগের পথ্য ও অন্ত্রের ব্যাপারে সাধারণ ধারণা দেয়া হলো: 
কিডনি রোগ সনাক্ত হবার সাথে সাথে ৩০ gm প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে এ ধারনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীণ। প্রোটিন গ্রহনের পরিমাপ নির্ভর করবে তার রক্তের ক্রিয়েটিনিনের মাত্রার উপর। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ ব্যাক্তির প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ গ্রাম প্রোটিন নির্ধারণ করা হয়। কিডনী রোগে আক্রান্ত- ব্যাক্তির জন্য (০.৫ গ্রাম থেকে ০.৮ গ্রাম) প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য নির্ধারণ করা হয়। সবচেয়ে গুরুতর অবস্থায় ৩০ কেজি ওজনের একজন রোগীর ০.৫ গ্রাম/কেজি প্রোটিন নির্ধারণ হয়। সেই হিসাবে (৩০ x ০.৫) = ৩০ গ্রাম প্রোটিন। মনে রাখতে হবে কিডনি রোগীকে উচ্চ জৈব মূল্যের প্রানিজ প্রোটিন দিতে হবে। যেমন-মাছ, মাংস, ডিম, দই ইত্যাদি। এবং সঠিক হিসেব রাখতে হবে। ৩০ গ্রাম মাছ/মাংসের টুকরা মানে ৩০ গ্রাম প্রোটিন নয়, ৩০ গ্রাম টুকরা থেকে মাত্র ৭ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যাবে। অনেকে ১ টুকরার বেশী মাছ/মাংস খেতে চান না। ৩০ গ্রাম প্রোটিন পূরনের জন্য : ১ টুকরা মাছ (৩০ gm) = ৭ gm প্রোটিন, ১ টুকরা মুরগী (৩০ gm)= ৭ গ্রাম প্রোটিন, ১টি ডিমের সাদাঅংশ = ৪ গ্রাম প্রোটিন, ১ কাপ টক দই = ৬ গ্রাম প্রোটিন মোট= ২৪ গ্রাম প্রোটিন। বাকীটুকু ভাত, রুটি ও সবজি থেকে পাওয়া যায়। কিডনি রোগীর দিনে দিনে ওজন কমতে থাকে। এদিকে খেয়াল রেখে খাদ্য তালিকা তৈরী করতে হবে। তার খাবার সীমিত প্রোটিন ও যথাযথ ক্যালরী সমৃদ্ধ হবে বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখতে হবে:

(১) কিডনি রোগী মাছ, মাংস, দুধ, ডিম সিমীত পরিমানে খাবেন। এগুলো প্রাণিজ প্রোটিন।
(২) উদ্ভিজ প্রোটিন বা দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রোটিন যেমন-ডাল, মটরশুটি, সিমেরবীচি যে কোন বীচি Renal Diet-এ থাকবে না।
(৩) যে সমস্ত- সবজি খাবেননা: ফুলকপি, বাধাকপি, গাজর, ঢেঁড়শ, শীম বরবার্ট, কাঠালের বীচি, শীমের বীচি, মিষ্টি কুমড়ার বীচি, কচু, মূলা এবং পালং, পুই ও

অনলাইন ডেস্ক: অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকার অনুদান পেয়েছেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগম। রোববার বিকেলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী নিজেই অভিনেত্রী আনোয়ারার কাছে এই চেক হস্তান্তর করেন।  প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম সংবাদ মাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ সময় আনোয়ারার সঙ্গে তার মেয়ে রুমানা ইসলাম মুক্তিও ছিলেন।  প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে ‘তিনি (আনোয়ারা) সাহায্য চান না, স্বামীর চিকিৎসার জন্য পাওনা টাকা ফেরত চান’ শিরোনামে একটি খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে সংবাদটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে আনোয়ারার সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তার ব্যক্তিগত সহকারীকে নির্দেশ দেন।

 

 

 

 

 

 

 


সুমন ইসলাম বাবু লালমনিরহাট প্রতিনিধি
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সন্মেলন কক্ষে গত ২০ জুলাই সিলিকোসিস রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক উদ্বুদ্ধ করন সভা অনুষ্ঠিত হয়।এতে প্রধান ্অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মজিবুল হক চুন্নু। বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রানালয়ের সচিব মিকাইল সিফাত, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড, মতিয়ার রহমান, পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক।
সভায় বুড়িমারী ইউপি চেয়ারম্যান নিশাদ জানান, স্থল বন্দর ও আশপাশের এলাকায় ১১ হাজার ৪৭০ জন শ্রমিক পাথর উত্তোলন, পাথর ভাঙ্গা মেশিনে ক্রাশিংসহ অন্যান্য কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ইতিমধ্যে সিলিকোসিস রোগে ৬৫ জন মারা গেছে। বর্তমানে ২ শত ২১ জন সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত। আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে। অনেকে আক্রান্ত রয়েছেন।
সভায় সরকারী নিয়ম নীতি অনুসরন করে পাথর ভাঙ্গার মিল কারখানা পরিচালনায় শ্রমিকদের কাজের সময় বাধ্যতামূলক ভাবে মাক্্র ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়।

প্রশ্ন : লেসিক করলে কী সারাজীবন এভাবেই চলবে? না কি আরো কিছু করতে হবে?

উত্তর : খুব ভালো প্রশ্ন। লেসিক করলেই কি ভালো হয়ে যায়? আমরা বলি যে ২১ বছর বয়সে লেসিক করবেন না। কেন বলি? কারণ হলো, সাধারণত মানুষের চোখের পাওয়ারগুলো ২১ থেকে ২২ বছর বয়সের মধ্যে স্থির হয়ে যায়। একজন শিশুর পাওয়ার ছিল মাইনাস দুই। প্রতি বছরই সেটি বেড়ে যাচ্ছে। ২১ বছর পর হয়তো আর বাড়ছে না। আমরা বলছি পাওয়ারটা স্থির হয়েছে। তখনই সে লেসিক সার্জারি করতে পারবে। কেননা লেসিক সার্জারি করার পর তার পাওয়ারটা জিরো হয়ে গেল। সাধারণত পাওয়ারটা আর বেশি বাড়ে না। তবে যদি এমন হয়, একজন রোগী, তাঁর ১৮ বছর বয়স, তাঁর পাওয়ারটা স্থির হয়নি, তিনি লেসিক করলেন। তাঁর হয়তো বিয়ের বিষয় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে বা কোনো মেডিকেল চেকআপের প্রয়োজন রয়েছে, উনি করে ফেললেন। তবে তাঁর পাওয়ার স্থির হয়নি। দেখবেন, এক বছর পর তাঁর পাওয়ার আবার মাইনাস এক হয়েছে বা মাইনাস দুই হয়ে গেছে।

প্রশ্ন : তার কি আবারও লেসিক করা সম্ভব?

উত্তর : সাধারণত হয় না। সেক্ষেত্রে চশমা বা কনট্যাক্ট লেন্স ভালো উপায়।

প্রশ্ন : আর পাওয়ার স্থির হওয়ার পর করলে?

উত্তর : সাধারণত তাদের পাওয়ার আর বাড়ে  না। বাড়লেও খুব কম। এতে চশমা পরার প্রয়োজন হয় না।

প্রশ্ন : যাদের আগে লেসিক করা হয়, তাদের বেলায় ছানি পড়ার প্রবণতা কেমন?

উত্তর : লেসিকের সঙ্গে ছানির তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। তবে লেসিক করা চোখে ছানি অস্ত্রোপচারের সময় পাওয়ারের বিরাট পার্থক্য হয়। যে পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা লেন্সের পাওয়াটা নির্ধারণ করি, যাকে বলি বায়োমেট্রি। যদি কারো চোখে লেসিক করা থাকে সেটি একরকম হবে না। সেক্ষেত্রে অন্য কোনো পদ্ধতির সাহায্যে এটি করতে হবে।

কিডনি রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ঘন ঘন ইউরিন ইনফেকশ, অস্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত খাওয়া-দাওয়া, অতিরিক্ত ওজন ছাড়া আরো নানা কারণে কিডনি রোগ হতে দেখা যায়। যে কারণেই কিডনির সমস্যা হোক না কেন দীর্ঘ মেয়াদি কিডনি রোগের চিকিৎসায় একমাত্র উপায় হলো সঠিক পথ্য। অন্যান্য রোগের চেয়েও খুব হিসাব-নিকাশ করে কিডনি রোগীর চিকিৎসার পথ্য নির্ধারণ করতে হয়। রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বৃদ্ধিকে ধীর গতিতে চালোনার ক্ষেত্রে সঠিকপথ্য দারুণভাবে কার্যকরী। কিছু ক্ষেত্রে সঠিক পথ্য মেনে চললে রক্তে ক্রিয়েটিনের মাত্রাকে অনেকটা নামিয়ে আনা সম্ভব। তবে রোগী ভেদে কিডনির পথ্য নির্ধারণে কিছুটা ভিন্নতা থাকে। কেননা রক্তে ইলেকট্রোলাইটসের পরিমাণ, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, ইউরিয়া ও ইউরিক এসিডের পরিমাণ, রক্ত ও ইউরিনে এলবুমিনের পরিমাণ এবং ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা ভেদে পথ্যটিকে সাজাতে হয়। সে ক্ষেত্রে একজন ক্লিনিক্যাল ডায়েটেশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া একান্ত জরুরি। তারপরও সাধারণভাবে যে বিষয়গুলো মনে রাখা প্রয়োজন সেগুলো হলো :

১. ক্যালরি

কিডনি রোগীদের সাধারণত ক্যালরির চাহিদা অন্যান্য রোগীদের তুলনায় বাড়ানো হয়। যথাযথ শক্তি প্রদান করার মাধ্যমে রোগীর সঠিক মাংসপেশীকে বজায় রাখতে ক্যালরি সাহায্য করে। সাধারত প্রতি কেজি ওজনের জন্য রোগী ভেদে ৩০ থেকে ৩৫ কিলোক্যালরি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এই ক্যালরি রোগীকে শক্তিপ্রদান করা ছাড়াও সচল এবং কর্মক্ষম রাখে। যা রোগীকে এই রোগ মোকাবিলায় দারুণভাবে সাহায্য করে।

২. কার্বোহাইড্রেট

কিডনি রোগী মোট ক্যালোরি চাহিদার বেশির ভাগই কার্বোহাইড্রেটের মাধ্যমে পূরণ হয়। কার্বোহাইড্রেট কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে বন্ধুবৎসল। খাবারে অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ করতে হয় বলে কাবোর্হাইড্রেটকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে শর্করার মাত্রা বিবেচনা করে কার্বোহাইড্রেট হিসাব করা হয়। ভাত, ময়দা, রুটি, চিরা, সুজি , চালের গুঁড়া, চালের রুটি, সাগু, সেমাই ইত্যাদি কিডনি রোগীর জন্য উত্তম কার্বোহাইড্রেট।

৩. প্রোটিন  

কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে প্রোটিন নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ মেয়াদি কিডনি রোগে প্রতি কেজি ওজনের জন্য পয়েন্ট পাঁচ থেকে পয়েন্ট আট গ্রাম প্রোটিন বরাদ্দ করা যেতে পারে। যদিও এই হিসাব নির্ভর করবে রোগীর অবস্থা ও বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্টের ওপর। সাধারণত ডাল, বাদাম, কাঁঠালের বিচি, সিমের বিচি ইত্যাদি রোগীকে বর্জন করতে হয়। প্রতিদিনের দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা ডিমের সাদা অংশ, মাছ, মুরগির মাংস ও দুধ বা  দই ইত্যাদি থেকে হিসাব করে বরাদ্দ করা হয়। গরু, খাসির মাংস, কলিজা, মগজ ইত্যাদি অবশ্যই এড়িয়ে যেতে বলা হয়।

৪. চর্বি  

বেশির ভাগ কিডনির রোগীই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগে। এ ছাড়া কিডনি রোগীদের যাতে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে না যায়- প্রেশার নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে তাই চর্বির হিসাব যথাযথভাবে করতে হয়। সাধারণত স্যাচুরেটেট বা সম্পৃক্ত চর্বি জাতীয় খাবার, ভাজাপোড়া খাবার, ফাস্ট ফুড, ডিমের কুসুম এড়িয়ে যেতে হয়। রান্নার তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে উদ্ভিজ্জ তেল, সূর্যমুখী, কর্ন অয়েল, ক্যানোলা অয়েল ইত্যাদি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। অনেক কিডনি রোগীকে ভয়ে তেল খাওয়া বন্ধ করতে দেখা যায়। যা একেবারেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। প্রতিদিনের রান্নায় চার চা চামচ (২০ এমএল) তেল ব্যবহার করলে ভালো।

৫. সবজি

রক্তে পটাশিয়াম, ইউরিক এসিডের মাত্রা, ফসফরাস ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে সবজি হিসাব করা হয়। অতিরিক্ত পিউরিন ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ শাকসবজি, পিচ্ছিল ও গাড় লাল রঙের শাক সবজি এড়িয়ে যেতে হবে। তবে কিডনি রোগীদের জন্য চালকুমড়া, চিচিঙ্গা, ঝিংগা ইত্যাদি পানীয় সবজি উপকারী। উপকারী হলেও এগুলোর পরিমাণ মেনে চলাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা সবজির সালাদ, সবজি স্যুপ ইত্যাদি কিডনি রোগীদের এড়িয়ে চলতে হয়।

৬. ফল

কিডনি রোগীদের ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সতর্ক হতে হয়। অক্সালিক এসিড, ইউরিক এসিডস, পটাশিয়াম, রক্তচাপ ছাড়াও আরো অনেক কিছু বিবেচনা করে ফল নির্ধারণ করা হয়। তিন চারটি ফল রোগী ভেদে সীমিত আকারে দেওয়া হয়। যেমন : আপেল, পাকা পেপে, পেয়ারা ইত্যাদি। অনেকই কিডনি রোগ হলে ফল খাওয়া বন্ধ করে দেয়। যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ ক্ষেত্রে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বিবেচনা করে ফল নির্ধারণ করতে হবে।

৭. লবণ

লবণ বা সোডিয়াম নিয়ন্ত্রিত পথ্য কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি। রক্তচাপ, রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা, ইডিমা বা শরীরের পানির পরিমাপের ওপর ভিত্তি করে লবণের পরিমাপ করা হয়। সাধারণত দুই থেকে পাঁচ গ্রাম লবণ নির্ধারণে করা হয় যা নির্ভর করবে আপনার শারীরিক অবস্থা ও ডায়েটেশিয়ানের ওপর। তবে আলাদা লবণ অবশ্যই পরিহার করতে হবে এবং অতিরিক্ত সোডিয়ামযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন : চিপস, পাপর, চানাচুর, আচার ইত্যাদি। যা শুধু কিডনি রোগীর চিকিৎসায় নয়, কিডনি রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

৮. তরল/ পানি

কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে তরল নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। দৈনিক চা, দুধ, পানি সব মিলিয়ে তরলের হিসাব করা হয়। কোনো রোগীকে কতটুকু তরল বরাদ্দ করা হবে তা নির্ভর করবে রোগীর অবস্থার ওপর। শরীরের ইডিমা, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, সোডিয়ামের মাত্রা, ইজিএসআর- এসবের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে এক থেকে দেড় লিটার, কখনো কখনো দুই লিটার পর্যন্ত তরল বরাদ্দ হয়। অনেকেই্ অসুস্থ কিডনিকে সুস্থ করার জন্য অতিরিক্ত পানি খায়, এটি ভুল।

দীর্ঘ মেয়াদি ক্রনিক কিডনি রোগী এ ধরনের খাবার মেনে চললে কিডনিকে মারাত্মক জটিলতা থেকে রক্ষা করা যেতে পারে। কিছুটা এক ঘেয়েমি হলেও ধৈর্যের সঙ্গে সঠিক পথ্য ব্যবস্থাপনা মেনে চলা প্রত্যেক কিডনি রোগীর জন্য একান্ত জরুরি।

বিঃ দ্রঃ ডায়ালাইসিসের আগ পর্যন্ত রোগাক্রান্ত কিডনি সুরক্ষার জন্য এই খাবারগুলো মেনে চলা যায়।

লেখক : প্রধান পুষ্টিবিদ, অ্যাপোলো হাসপাতাল।