বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ ও বন্ধ কারখানা চালুর দাবিতে গাজীপুরে ল্যাক্সমা সোয়েটার নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। অবস্থান কর্মসূচি শেষে তাদের দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, মহানগরের বড়বাড়ি জয়বাংলা সড়কের ল্যাক্সমা সোয়েটার কারখানায় গত ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত শ্রমিকরা নিয়মিত কাজ করে আসছিল। কিন্তু পরদিন সকালে কাজ করতে এসে শ্রমিকরা কারখানার গেইটে তালা ও সকল সেকশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার নোটিশ দেখতে পান। কাজের অর্ডার না থাকায় লোকসান ও কর্মসংকট তৈরি হওয়ার কারণে কারখানাটি পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না মর্মে নোটিশে উল্লেখ করেন কর্তৃপক্ষ। তবে শ্রমিকদের বেতন ভাতা ২৬ নভেম্বর প্রদান করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়। এতে কয়েকশ শ্রমিক বিক্ষুব্ধ হয়ে কারখানা ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। পরে তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত কয়েকদিন ধরেই ওই কারখানার সামনে বিক্ষোভ চলছিল।

বুধবার সকালে শ্রমিকরা কারখানার সামনে থেকে মিছিল সহকারে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হয়। সেখানে প্রায় ১ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে বন্ধ কারখানা খুলে দেয়া ও ১১ শত শ্রমিকের পাওনা বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেয়া হয় ।

হাফিজ সেলিম, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) ঃ জাতীয় শ্রমিক লীগ উলিপুর শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জাতীয় শ্রমিক লীগ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু অসীম সরকার ও সদস্য সচীব মোস্তাফিজার রহমান স্বাক্ষরিত গত ৭ অক্টোবর এ কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন। এতে সভাপতি হাসান আলী, সিনিয়র সহ সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন মতি, সহ সভাপতি হাবিবুর রহমান রাজু, আব্দুল মোতালেব, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন, আব্দুল হামিদ, আমিনুর ইসলাম বাবু, হারুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক মুকুল সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিন্নাত আলী, মঞ্জুরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দুলাল পাল, সহ দপ্তর সম্পাদক মিঠু মিয়া, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, সহ অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ছালাম হোসেন, আইন দর কষাকষি বিষয়ক সম্পাদক নূর জামাল মিয়া, সহ আইন দর কষাকষি বিষয়ক সম্পাদক রায়হান মিয়া, শিক্ষা, সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক জিহাদুল হক, সহ শিক্ষা, সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক ফুল মিয়া, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মালোক মুকুল, সহ ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক বাবলা মিয়া, শ্রমিক কল্যাণ সম্পাদক বকুল মিয়া, সহ শ্রমিক কল্যাণ সম্পাদক আজগার আলী, ত্রান ও পূর্ণবাসন সম্পাদক জব্বার আলী, সহ ত্রান ও পূর্ণবাসন সম্পাদক কাজল দত্ত, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মালেকা বেগম, সহ মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আনিছা বেগম, কার্যকরী সদস্য ফরহাদ হোসেন, রফিকুল ইসলাম, মাইদুল সরকার, রতন মিয়া, আবুল হোসেন মিঞা, বাবলু মিয়া, শামছুজ্জামান সুজা, জোবেদ আলী, আজগর আলী, সাজ্জাদ হোসেন, নজির হোসেন, এমদাদুল হক ব্যাপারী, আব্দুর রহমান ও আশেকুল ইসলাম আশেক সহ মোট ৪৫ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উলিপুরে বর্ণবৃক্ষে শিশুর জ্ঞানার্জন

হাফিজ সেলিম, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) ঃ কুড়িগ্রামের উলিপুরে বর্ণবৃক্ষ তৈরি করে ১ম থেকে ৩য় শ্রেণীর শিশুদের বর্ণ চেনা ও পড়ার দক্ষতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এতে করে শিশুরা সহজেই বর্ণ চিনতে পাচ্ছে । এ পদ্ধতি ইতোমধ্যেই শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে সাড়া জাগিয়েছে।
জানাগেছে, সেভ দ্য চিলড্রেনের কারিগরী সহযোগিতায় আরডিআরএস বাংলাদেশ’র বাস্তবায়নে রিড প্রকল্প এ কার্যক্রম শুরু করেছে কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভার নারিকেলবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রকল্পটি প্রারম্ভিক শ্রেণীর বাংলা পঠন দক্ষতা বৃদ্ধিকল্পে কাজ করে আসছে। এতে ধ্বনিগত সচেতনতা, বর্ণজ্ঞান, শব্দভান্ডার, পড়ার সাবলীলতা ও বোধগম্যতা সর্বোচ্চ ভুমিকা রাখে। বর্ণজ্ঞানে পিছিয়ে পরা ১ম থেকে ৩য় শ্রেণির অনেক শিক্ষার্থীই অভিনব পদ্ধতিতে সহজেই বর্ণ চেনা ও পড়ার দক্ষতা অর্জন করছে। প্রকল্পভুক্ত টেকনিক্যাল অফিসার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে উদ্ভাবনী মুলক শিখন উপকরণ বর্নগাছের কথা জানাচ্ছেন এবং বর্নগাছের মাধ্যমে শিশুরা আনন্দের সাথে বর্ণজ্ঞান চর্চার সুযোগ পাচ্ছেন। শ্রেণি শিক্ষক পাঠদানের সময় ও পরে শিক্ষার্থীদের বর্ণ সনাক্তকরণ, বর্ণজ্ঞান যাচাই সম্পন্ন করতে পারবেন। শিক্ষকগন শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকালীন ও পাঠদানের পরেও বর্ণজ্ঞান চর্চায় ও বর্ণজ্ঞান মূল্যায়নে বর্ণগাছ ব্যবহার করছেন। বর্তমানে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির সকল শিশুই বাংলা বর্ণমালা চিনে পড়তে পারে। শিশুরা এখন আনন্দেও সাথে গল্পের বইয়ের পাশাপাশি সুন্দরভাবে পাঠ্যবই পড়তে পারে। বর্ণগাছ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক মোছাঃ সাহিদা ইয়াসমিন বলেন, শিক্ষা উপকরণটি শিক্ষার্থীর বর্ণজ্ঞানের দক্ষতা বৃদ্ধিতে অভাবনীয় সাফল্য রাখছে। আমি আশা করি সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি করে উদ্ভাবনী শিখন উপকরণ হিসেবে বর্ণগাছ রাখা। যা সকল শিক্ষার্থীর বর্ণজ্ঞান দক্ষতায় গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখবে। ##

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও মেধাবী আশিকুরের শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত

হাফিজ সেলিম, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) ঃ আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারনে লেখাপড়া কি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অদম্য মেধাবী আশিকুরের। চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে এ-প্লাস পেয়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ‘খ’ ইউনিটে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করলেও স্বপ্নের বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। দিনমজুর পরিবারে জন্ম নেয়া আশিকুর রহমান রুবেলের স্বপ্ন কি থেমে যাবে অর্থাভাবে। সে জেলার উলিপুর উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের পান্ডুল গ্রামের দিনমজুর শহিদুর রহমানের পুত্র। ২ শতক জমিই পরিবারটির স্বম্বল। তাতে ২ টি টিনের ছাপড়া তুলে বিধবা মা, স্ত্রী ও ২ ছেলেমেয়ে নিয়ে শহিদুরের সংসার। কাকডাকা ভোরে ছুটে চলা নিরন্তন সংগ্রামী এ দিনমজুর স্বপ্ন দেখেন ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে অনেক বড় করবেন। কিন্তু আজ যেন সব স্বপ্নই থেমে যেতে বসেছে। পারবো কি ছেলেকে উচ্চ শিক্ষিত করতে? বলেই অঝোরে কেঁদে উঠেন। তার ছলছল চোখের দিকে তাকিয়ে উপস্থিত সবাই অশ্রুশিক্ত হন। কিন্তু কেউ কি এগিয়ে আসবে দিনমজুর পরিবারে জন্ম নেয়া মেধাবী আশিকুরের জন্য। কেউ এগিয়ে আসলে হয়তো পূরণ হবে দিনমজুর বাবা শহিদুরের স্বপ্ন। আর উচ্চ শিক্ষিত হবার স্বপ্ন পূরণ হবে আশিকুরের। হৃদয়বাণদের সাহায্যে হয়তো একদিন ঘুচে যাবে সব অভাব-অনটন। পরিবারটি হয়তো দাড়াতে পারবে মাথা উচু করে। আশিকুর রহমান রুবেল ২০১৫ সালে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরিক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.৭৮ পেয়ে উর্ত্তীর্ণ হয়। তারপর পাঁচপীর ডিগ্রী কলেজ থেকে চলতি বছর মানবিক বিভাগ থেকে এইচ এসসি পরিক্ষায় জিপিএ-৫ সবাইকে চমকে দেয়। দিনমজুর শহিদুর জানান, পরিবার ও রুবেলের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে আমি অক্ষম হয়ে পড়েছি। তিনি সমাজের বিত্তবানদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়ে বলেন, আমার ছেলের উজ্জল ভবিষ্যৎ যেন অর্থাভাবে নষ্ট হয়ে না যায়।

 

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল পুলিশের বাঁধায় পন্ড হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানার প্রতিবাদে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয় শহরের কেডির মোড়ে আসেন কর্মীরা।বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দলীয় কার্যালয় হতে বিএনপির মূল ব্যানার নিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌর মেয়র নজমুল হক সনির নেতৃত্বে মিছিলটি বের হওয়ার চেষ্টা করেন নেতাকর্মী। মিছিলটি সামনের দিকে এগিয়ে যেতেই পুলিশ মিছিলে বাঁধা প্রদান করলে তা পন্ড হয়ে যায়।ফলে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন কর্মীরা। এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন সহ প্রমূখ।অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি কেসি বদরুল আলম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আজম অরুফে ভিপি রানা, যুগ্ম সম্পাদক আমিনুর রহমান বেলাল, প্রচার সম্পাদক আব্দুল মতিন তালুকদার, মহিলা দলের সদস্য সচিব শবনম মোস্তারি কলি, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন, জেলা যুবদলের সভাপতি বায়েজিদ হোসেন পলাশ, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিউর আজম টুটুল ও শামিম নুর আলম শিপলু, পৌর স্বেচ্ছসেবক দলের আহ্বায় আশিক ইকবাল ওথেলো ও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিল যে মিছিল হলে নাশকতা হতে পারে। যার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের বুঝিয়ে মিছিলটি বন্ধ করা হয়। তবে কার্যালয়ের সামনে তারা শান্তিপূর্ন ভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।


সুমন ইসলাম বাবু, লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥
শতকরা ১০ভাগ নি¤œ ও উর্দ্ধদর প্রথার মাধ্যমে টার্ণওভারের ভিত্তিতে পূর্ত কাজের ঠিকাদার নিয়োগ বাতিলসহ ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত সীমিত দরপত্রের লটারী প্রথা বাস্তবায়নের দাবীতে লালমনিরহাটে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। লালমনিরহাট জেলা ঠিকাদার সমিতির আয়োজনে বুধবার দুপুরে জেলার প্রানকেন্দ্র মিশনমোড় গোল চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্বারকলিপি পেশ ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে স্বারকলিপির অনুলিপি প্রেরন করা হয়।
মানববন্ধনে লালমনিরহাট জেলার পূর্ত কাজের ঠিকাদারবৃন্দরা তাদের বক্তব্যে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিপূর্বে ঠিকাদারী কাজে স্বচ্ছতা আনার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে সেই নির্দেশনা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ২ কোটি টাকা মূল্যমান পর্যন্ত এল,টি,এম পদ্ধতিসহ ঠিকাদার নির্বাচনে লটারী পদ্ধতি চালু করেন। কিন্তু সেখানে ঠিকাদারদের পূর্ব অভিজ্ঞতা ব্যতিরেখে শতকরা ৫ভাগ নি¤œদর বা উর্দ্ধদর পর্যন্ত নির্ধারন করা হয়।
যারফলে পূর্তকাজের ঠিকাদারগণ শতঃস্ফুর্তভাবে শত শত দরপত্র ক্রয় করতো। এতে করে সরকারের বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় হতো। ওই সময় সকল ঠিকাদারদের দর একই হওয়ায় দরপত্র আহবানকারী কর্তৃপক্ষ লটারীর মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করতেন। যা সকল ঠিকাদারগণ সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতেন।
বক্তারা আরও বলেন, সরকারের যাবতীয় আর্থসামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে ঠিকাদারগণ উন্নয় সহযোগী হিসেবে কাজ করে থাকেন। কিন্তু ২০১৬-২০১৭গত অর্থ বৎসর থেকে নতুন নিয়ম চালু করা হয়। ওই নিয়মে পূর্ত কাজের ঠিকাদারগণের যাহার পূর্ব অভিজ্ঞতা যত বেশী তারা দরপত্রে অংশগ্রহন করলেই শুধু তাকেই কাজ দেয়া হচ্ছে। এতেকরে সামান্য কিছু ঠিকাদার এই সুবিধা ভোগ করছেন। ওই নীতিমালার কারনে অন্যান্য ঠিকাদাররা দরপত্রে অংশগ্রহন করতে পারছেন না। যারফলে বঞ্চিত ঠিকাদারগণ তাদের লাইসেন্স নবায়নে আগ্রহ হারানোয় সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
অপরদিকে বর্তমান নিয়মে টেন্ডারে অংশগ্রহন করতে না পারায় শত শত ঠিকাদার হতাশাগ্রস্থ ও বেকার হয়ে পড়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
বক্তারা পূর্ব ঘোষিত এল,টি,এম পদ্ধতিতে ২কোটি টাকার স্থলে ৩কোটি টাকার কাজের মুলমান পর্যন্ত পূর্ব কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই টেহুারে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট আবেদন জানান। সেই সাথে বিপুল পরিমান ঠিকাদার জনগোষ্ঠির জীবিকারা স্বার্থে শতকরা ৫ভাগ উর্দ্ধদর বা নি¤œদর দাখিলকৃত দরপত্র লটারীর মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন প্রথা চালু ও শতকরা ১০ভাগ উর্দ্ধদর বা নি¤œদরে নতুন নীতিমালায় যাহার যত বেশী টার্নওভার সেই ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান কাজ পাবেন এই নিয়ম বাতিল করার সবিনয় অনুরোধ জানান।
লালমনিরহাট জেলা ঠিকাদার সমিতির আহবায়ক একেএম কামরুল হাসান বকুলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট ঠিকাদার মোঃ মোফাজ্জল হোসেন, ঠিকাদা মোঃ রেজাউল হক পাটোয়ারী, ঠিকাদার এনামুল হক, ঠিকাদার কাজী নজরুল ইসলাম কপন, ঠিকাদার বদরুজ্জামান প্লাবন প্রমূখ।


আবু বক্কর সিদ্দিক, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
স্বাধীনতা পরবর্তী ৪২ বছর পরে গাইবান্ধা-কুড়িগ্রামবাসীর প্রাণের দাবী তিস্তাসেতু বন্ধন আজ পূরণ হতে চলছে। সেতুটি নির্মিত হলে দু’জেলাবাসীর ভাগ্যোন্নয়নের আশীর্বাদ বয়ে আনবে বলে বিজ্ঞ মহলের অভিমত। এই সেতু বন্ধনের ফলে অবহেলিত গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলাবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থা সুদৃঢ় হবে। বাঁচবে সময়, খরচ ও শ্রম। নদী ভাঙ্গণ রোধে সহায়ক হওয়া ছাড়াও সেতুটি নির্মাণে বাড়বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর- কুড়িগ্রামের চিলমারী পর্যন্ত দ্বিতীয় তিস্তা সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করেছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এরআগে অর্থাৎ বিগত ২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গাইবান্ধা সার্কিট হাউজে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটির উদ্বোধন করেন । এর ৩ বছর অতিক্রান্ত করে গত ২৮ সেপ্টেম্বর টেণ্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক- খন্দকার মাহাবুব হোসাইন। টেণ্ডার বাক্স খোলা হবে আগামী ২২ নভেম্বর। দীর্ঘ ১ দশমিক ৪শ’ ৯০ কিলোমিটার পিছি গার্ডার এই সেতুর নির্মাণ কাজ ২০১৭ সালে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়ায় ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় বরাদ্দ রয়েছে ৭শ’৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে মুল সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে ২শ’ ৭৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। দু’পাশের জন্য পর্শ্বস্ত সড়ক নির্মাণে ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা, নদী শাসনে ৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ও জমি অধিঃগ্রহণে ব্যয় হবে ৬ কোটি টাকা। সেতুটিতে মোট পিলার থাকবে ৩০টি। এর মধ্যে ২৮টি পিলার থাকবে নদী সীমানা অভ্যন্তরে। অপর ২টি পিলার থাকবে বাইরের অংশে। অর্থাৎ সংযোগ সড়কের সংযুক্তিতে সহায়ক হিসেবে। সেতুর উভয় পাশে নদী শাসন করা হবে ৩ দশমিক ১৫ কিলোমিটার করে। সড়ক নির্মাণ করা হবে ৫৭দশমিক ৩ কিলোমিটার। এরমধ্যে কুড়িগ্রমের চিলমারীর মাটিকাঁটা মোড় থেকে সেতু পর্যন্ত ৭ দশমিক ৩ কিলোমিটার। অপরপাশে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর ধাপেরহাট থেকে হরিপুর সেতু পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার। চিলমারী অংশে এক্সেস সড়ক সেতু থেকে কাশিমবাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ৩ কিলোমিটার ও গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট থেকে হরিপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার। সড়ক নির্মাণে জমি অধিঃগ্রহণ করা হবে ৯০দশমিক ৮৪ হেক্টর। এরমধ্যে চিলমারী এলাকায় ২২ দশমিক ৫ হেক্টর ও গাইবান্ধা এলাকায় ৬৮ দশমিক ৩৪ হেক্টর। গত ১৫ জুন জাতীয় সংসদে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা আহমেদ বাজেট অধিবেশনে হরিপুর তিস্তা সেতু নির্মাণের দাবী তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। ফলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ইতোমধ্যে সড়ক নির্মাণে মাটি ভরাটের টেন্ডার হয়েছে। এব্যাপরে উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মুনছুর জানান- তিস্তা সেতুর যাবতীয় কার্যক্রম জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে পরিচালিত হচ্ছে। এই তিস্তা সেতু বাস্তবায়ন আন্দোলনের প্রনেতা আ.ব.ম. শরীয়ত উল্লাহ্ মাস্টার বলেন, “স্বাধীনতা পরবর্তীকাল থেকে এ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে আসছি। এখন অনেক বয়স হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নেকদৃষ্টি কামনা করছি।ত তিনি যেন তারাতারি করে তিস্তা সেতু নির্মাণের ব্যবস্থাটা পাকাপোক্ত করেন”। সেতুটি নির্মাণে অবহেলিত এই কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধাবাসীর সার্বিক যোগাযোগে ব্যবস্থা সুদৃঢ় হবে- শুধু তাই- না, রাজধানীসহ দেশের সর্বস্তরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে ভাগ্যোন্নয়নে আশীর্বাদ বয়ে আনবে বলে বজ্ঞ মহল আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।
গাইবান্ধায় বিএনপি’র মিছিলে টিয়ারসেল নিক্ষেপ: গ্রেপ্তার-১
আবু বক্কর সিদ্দিক, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ

গাইবান্ধায় বিএনপি’র বিক্ষোভ মিছিলে বাঁধা প্রদান, টিয়ারসেল নিক্ষেপসহ ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারীর প্রতিবাদে বুধবার দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে জেলা বিএনপি। এ সময় পুলিশ বাঁধা বিএনপি ও এর অঙ্গ- সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। ফলে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জেলা বিএনপি সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ মইনুল হাসান সাদিকের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন নবী টিটুল, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য- অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, শহর বিএনপির সভাপতি- শহিদুজ্জামান শহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক- মোশাররফ হোসেন বাবু, আনিছুর রহমান নাদিম, জেলা কৃষক দলের আহবায়ক- ইলিয়াস হোসেন প্রমুখ। বক্তারা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নামে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা অবিলম্বে ঐ মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান।

গাইবান্ধায় সাংবাদিকদের প্রতিবাদ: পুলিশের দুঃখ প্রকাশ

আবু বক্কর সিদ্দিক, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধায় বিএনপি’র বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ছবি তুলতে গিয়ে তিনি চরমভাবে লাঞ্চিত হয়েছেন।
বুধবার দুপুরে বিএনপি’র বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ চলাকালে এ ঘটনার শিকার হন ফটো সাংবাদিক সাংবাদিক কুদ্দুস আলম।এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিক রাস্তায় বসে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। এঘটনায় স্থানীয় প্রেস ক্লাবে বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা প্রতিবাদ সভায় মিলিত হন। সে সময় সদর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সদর থানা অফিসার ইনচার্জ খান মো. শাহরিয়ার, অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আরশেদুল হক গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এসে উপস্থিত হন। তারা বিষয়টিকে অনাকাংখিত আখ্যায়িত করে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে পুলিশ আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন। গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে তাৎক্ষনিক অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা প্রেসক্লাব কর্মকর্তা ও জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা প্রতিবাদ সভায় মিলিত হন।

 


নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর ৭টি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায়ের প্রতিবাদে আগামীকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত জেলার সকল বে-সরকারী ক্লিনিক ও ডায়াগনিষ্টিক বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক আরিফুল হক আরিফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এঘোষনা প্রদান করেন জেলা বে-সরকারী ক্লিনিক মালিক ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. রেজাউল মাহমুদ। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, অভিযান চালানোর আগে থেকেই র‌্যাবের লোকজন সাদা পোশাকে ক্লিনিকগুলোতে অবস্থান নিয়ে কোন রকম পরিষ্কার বা কোন কাজ করতে দেয়নি। শুধু তাই নয় অভিযানের সময় ক্লিনিকগুলোতে থাকা চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের সাথে অশালিন আচরনেরও অভিযোগ করেন তারা। বলেন ছোট-খাট অনিয়মে অনেক মোটা অংকের জরিমানা করা হয়েছে যা মোটেও উচিৎ হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে সংগঠনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো: আতাউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ। উল্লেখ্য, গতকাল বিকাল থেকে জেলার বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনিষ্টিকে অভিযান চালিয়ে ৭টি ক্লিনিকের সাড়ে ৫ লাখ ও একটি রেষ্টুরেন্টের দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে র‌্যাব।

রেজুয়ান খান রিকন, গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের ৩নং ওয়ার্ড ববনপুর যুব উন্নয়ন ক্লাবের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সড়কে স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার কাজের উদ্বোধন। গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের ববনপুর এলাকার সড়কটি এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এই সড়ক দিয়ে দৈনিক উপজেলা সদরে বিভিন্ন এলাকার মানুষ যাতায়াত করে। সড়কটি মেরামতের জন্য পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের সকল স্তরের মানুষ সংস্কার করার জন্য মেয়র মহাদয়ের দৃষ্টি কামনা করেন। এতে পৌরসভা থেকে কোন সাড়া না পাওয়ায় স্থানীয় যুবকদের গড়া সংগঠন ববনপুর যুব উন্নয়ন ক্লাবের সভাপতি হারেজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রওশন আলমের নেতৃত্বে ঐকবদ্ধ্য হয়ে আজ সকাল ১০ টার দিকে ওই সড়কে স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি কেটে সংস্কার করেন।

উক্ত সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন গোবিন্দগঞ্জ বিএম বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি বিশিষ্ট সমাজ সেবক মুকিতুর রহমান রাফি। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন, পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম রুকু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক। অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম ও প্রনয় বিকাশ দেব নিতাই প্রমূখ। স্বেচ্ছাশ্রমে এ কাজে এগিয়ে আসার জন্য ববনপুর যুব উন্নয়ন ক্লাবের সদস্যদের ভ’য়শি প্রশংসা করেন উদ্বোধক মুকিতুর রহমান রাফি।

 

 

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ মৎস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁর আত্রাই আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতি না থাকায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

নওগাঁ জেলার একমাত্র বৃহৎ আত্রাইয়ের আহসানগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশনের উপর দিয়ে প্রতিদিন ঢাকাগামী ৫টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করলেও মাত্র একটি ট্রেন ছাড়া ঢাকাগামী অন্য ট্রেনের বিরতি নেই। এ অঞ্চলের অসংখ্য ঢাকাগামী যাত্রীদের প্রতিনিয়ত বাস যোগে যাতায়াত করতে অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। এদিকে সাম্প্রতিক বন্যায় আত্রাই-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে রাজধানী ঢাকার সাথে ট্রেন এক মাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় ঢাকাগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ আরো বেড়েই চলেছে।

আহসানগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশন সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের মধ্যে কেবল নীলসাগর এক্সপ্রেসের বিরতি এ আহসানগঞ্জ ষ্টেশনে রয়েছে। তাও আবার আসন সংখ্যা বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ৩৫টি। অথচ আত্রাই থেকে প্রতিদিন ঢাকা যাতায়াত করেন আত্রাই উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার প্রায় ২ শতাধিক যাত্রী। ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতি না থাকায় আত্রাই থেকে মৎস ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন শত শত টন মাছ বিভিন্ন মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যায়। এত করে তাদের খরচ ও পরিশ্রম দুটোই বেশি পড়ে। এদিকে এ স্টেশনে নীলসাগর এক্সপ্রেস ছাড়াও আত্রাইয়ের উপর দিয়ে প্রতিদিন দ্রুতযান এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস এবং একতা এক্সপ্রেস নামে আরও ৪টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। অথচ আত্রাইবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি সত্বেও এসব আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতি আজও কার্যকর হয়নি।

এ বিষয়ে নাগরিক উদ্যোগের শাহাগোলা ইউনিয়নের দলিত মানবাধিকার কর্মী শ্রীঃ দিনেশ কুমার পাল বলেন, প্রতিদিন আত্রাই থেকে যেসব যাত্রীরা ঢাকায় যাতায়াত করেন তাদের আসন সংখ্যা এ ষ্টেশনে পর্যাপ্ত পরিমান না থাকায় হয় সান্তাহার না হয় নাটোরে গিয়ে তাদের টিকিট কেটে ঢাকায় যেতে হয়। এতে করে একদিকে সময়ের ব্যাপক অপচয় অন্যদিকে অর্থও অনেক বেশি খরচ হয়।

আত্রাই উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম বলেন, আত্রাইয়ে ঢাকাগামী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ দিতে আমরা এলাকাবাসী দীর্ঘদিন থেকে দাবি জানিয়ে আসছি। আত্রাই আহসানগঞ্জ স্টেশনে এক বার দুই নয় এমন কি মাসব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছি। আমরা রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি যাতে যাত্রী দুর্ভোগ লাঘোব এবং রাজস্ব আয়ের স্বার্থে আত্রাইয়ে ঢাকাগামী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতি কার্যকর হয়।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক সুমন বলেন, আত্রাই আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন একটি ঐতিহ্যবাহী স্টেশন। এ স্টেশনে এক সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বিশ্ব কবিগুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন কি মহত্মাগান্ধী ও ট্রেনে করে এ স্টেশনে এসেছিলেন। আহসানগঞ্জ স্টেশনে ঢাকাগামী একটি ট্রেনের বিরতি থাকলে এলাকার ব্যবসায়ী মহলসহ সর্ব স্তরের জনগণকে অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হবে না এবং আর্থিক ভাবেও তারা লাভোবান হবে। এতে করে সরকারের ও রাজস্ব আয় বাড়বে। তিনি আরো বলেন আত্রাইসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার জনগণের একটাই প্রাণের দাবি আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতি।

এদিকে এলাকার সচেতন মহল মনেকরেন যাত্রী সাধারনের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে তাদের দুর্ভোগ লাঘোব এবং রাজস্ব আয়ের স্বার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আত্রাইয়ে ঢাকাগামী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতি কার্যকর করবেন। এছাড়াও আত্রাই উপজেলবাসী এ স্টেশনে সকল আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতির জন্য রেল মন্ত্রীর নিকট তাদের প্রাণের দাবি জানিয়েছেন।


সাগর চক্রবর্ত্তী, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি ০৪ সেপ্টেম্বর সোমবার ঃ ২ সেপ্টম্বর শনিবার সারা দেশের ন্যায় মধুখালীতে শান্তিপূর্ণ ভাবে যথাযথ মর্যাদায় পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়েছে।উপজেলার কোথাও কোন অপ্রিতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি।
সকাল ৯ টায় মধুখালী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে পবিত্র ঈদের নামাজ আদায় করেন ও ফরিদপুর-১ আসনের জনসাধারনের মঙ্গল এবং শান্তি কামনায় বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদ মোঃ আব্দুর রহমান। ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেন মধুখালী উপজেলা চেয়ারম্যান মো.আজিজুর রহমান মোল্যা, পৌর মেয়র খন্দকার মোরশেদ রহমান লিমন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মধুখালী উপজেলা শাখার সভাপতি মির্জা মনিরুজ্জামান বাচ্চুসহ স্বর্বস্তরের কয়েক হাজার মুসল্লীগন।
এছাড়া উপজেলার ব্যাসদী ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন বিচারপতি মো.মজিবর রহমান মিঞা, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ব্যাসদী রাশিদা নবী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাহেদুন নবী মনি। গ্রামের কয়েকশত মুসল্লী ঈদের নামাজ আদায় করেন। অন্যদিকে উপজেলার বাগাট ঈদগাহ মাঠে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ সাধারন কয়েক হাজার মুসল্লীগন ঈদের নামাজ আদায় করেন।বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ উপজেলার শাখার সাধারন সম্পাদক মোঃ রেজাউল হক বকু তিনি উপজেলার নিজ গ্রাম মোরারদিয়ায় ঈদের নামাজ আদায় করেন।
বিকেলে উপজেলা সদরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোরবানী পশুর চামড়া আসতে শুরু করে রাত অবধী কেনা বেচা চলতে দেখা গেছে । বিভিন্ন সাইজের চামড়া ৭শ টাকা থেকে ১৪শ টাকায় বিক্রয় হয়েছে। ছাগলের চামড়া ২০টাকা থেকে ১৩০টাকায় কেনা বেচা হয়েছে বলে ক্রয়/বিক্রয়কারী জানান ।


মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পুষ্টকামুরী চরপাড়া নামক স্থানে যাত্রীবাহী একটি বাস ও বিপরীত দিক থেকে আসা একটি লেগুনার মধ্যে মুখোমুখী সংঘর্ষে লেগুনার চালক নিহত হয়েছে।বাস ও লেগুনার অন্তত ২০ যাত্রী আহত হয়েছে।আজ শুক্রবার সকাল সারে দশটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মির্জাপুর উপজেলার ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স অফিসের স্টেশন অফিসার মো. আতাউর রহমান জানান, সকাল সারে দশটার দিকে টাঙ্গাইল গামী যাত্রীবাহী একটি বাস ও বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী লেগুনার মধ্যে মুখোমুখী সংঘর্ষ হলে লেগুনার সামনে দুমরে মুচরে গিয়ে লেগুনার চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।আহতদের উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।নিহত লেগুনার চালকের নাম মো. রনি মিয়া(২৫) বলে জানা গেছে।তার বাড়ি রাজধানী ঢাকায় বলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল স্টেশনের স্টেশন অফিসার আতাউর রহমান জানিয়েছেন।