Category: প্রথম পাতা

যাত্রী দুর্ভোগ চরমে আজও পূরন হয়নি আত্রাইয়ের মানুষের প্রাণের দাবি আন্তঃ নগর ট্রেনের বিরতি

 

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ মৎস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁর আত্রাই আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতি না থাকায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

নওগাঁ জেলার একমাত্র বৃহৎ আত্রাইয়ের আহসানগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশনের উপর দিয়ে প্রতিদিন ঢাকাগামী ৫টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করলেও মাত্র একটি ট্রেন ছাড়া ঢাকাগামী অন্য ট্রেনের বিরতি নেই। এ অঞ্চলের অসংখ্য ঢাকাগামী যাত্রীদের প্রতিনিয়ত বাস যোগে যাতায়াত করতে অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। এদিকে সাম্প্রতিক বন্যায় আত্রাই-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে রাজধানী ঢাকার সাথে ট্রেন এক মাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় ঢাকাগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ আরো বেড়েই চলেছে।

আহসানগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশন সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের মধ্যে কেবল নীলসাগর এক্সপ্রেসের বিরতি এ আহসানগঞ্জ ষ্টেশনে রয়েছে। তাও আবার আসন সংখ্যা বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ৩৫টি। অথচ আত্রাই থেকে প্রতিদিন ঢাকা যাতায়াত করেন আত্রাই উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার প্রায় ২ শতাধিক যাত্রী। ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতি না থাকায় আত্রাই থেকে মৎস ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন শত শত টন মাছ বিভিন্ন মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যায়। এত করে তাদের খরচ ও পরিশ্রম দুটোই বেশি পড়ে। এদিকে এ স্টেশনে নীলসাগর এক্সপ্রেস ছাড়াও আত্রাইয়ের উপর দিয়ে প্রতিদিন দ্রুতযান এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস এবং একতা এক্সপ্রেস নামে আরও ৪টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। অথচ আত্রাইবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি সত্বেও এসব আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতি আজও কার্যকর হয়নি।

এ বিষয়ে নাগরিক উদ্যোগের শাহাগোলা ইউনিয়নের দলিত মানবাধিকার কর্মী শ্রীঃ দিনেশ কুমার পাল বলেন, প্রতিদিন আত্রাই থেকে যেসব যাত্রীরা ঢাকায় যাতায়াত করেন তাদের আসন সংখ্যা এ ষ্টেশনে পর্যাপ্ত পরিমান না থাকায় হয় সান্তাহার না হয় নাটোরে গিয়ে তাদের টিকিট কেটে ঢাকায় যেতে হয়। এতে করে একদিকে সময়ের ব্যাপক অপচয় অন্যদিকে অর্থও অনেক বেশি খরচ হয়।

আত্রাই উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম বলেন, আত্রাইয়ে ঢাকাগামী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ দিতে আমরা এলাকাবাসী দীর্ঘদিন থেকে দাবি জানিয়ে আসছি। আত্রাই আহসানগঞ্জ স্টেশনে এক বার দুই নয় এমন কি মাসব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছি। আমরা রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি যাতে যাত্রী দুর্ভোগ লাঘোব এবং রাজস্ব আয়ের স্বার্থে আত্রাইয়ে ঢাকাগামী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতি কার্যকর হয়।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক সুমন বলেন, আত্রাই আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন একটি ঐতিহ্যবাহী স্টেশন। এ স্টেশনে এক সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বিশ্ব কবিগুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন কি মহত্মাগান্ধী ও ট্রেনে করে এ স্টেশনে এসেছিলেন। আহসানগঞ্জ স্টেশনে ঢাকাগামী একটি ট্রেনের বিরতি থাকলে এলাকার ব্যবসায়ী মহলসহ সর্ব স্তরের জনগণকে অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হবে না এবং আর্থিক ভাবেও তারা লাভোবান হবে। এতে করে সরকারের ও রাজস্ব আয় বাড়বে। তিনি আরো বলেন আত্রাইসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার জনগণের একটাই প্রাণের দাবি আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতি।

এদিকে এলাকার সচেতন মহল মনেকরেন যাত্রী সাধারনের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে তাদের দুর্ভোগ লাঘোব এবং রাজস্ব আয়ের স্বার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আত্রাইয়ে ঢাকাগামী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতি কার্যকর করবেন। এছাড়াও আত্রাই উপজেলবাসী এ স্টেশনে সকল আন্তঃনগর ট্রেনের বিরতির জন্য রেল মন্ত্রীর নিকট তাদের প্রাণের দাবি জানিয়েছেন।

ফুলবাড়ীয়ায় স্বামীর নিষ্ঠুরতা!

ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ ফুলবাড়ীয়ায় যৌতুক না দেওয়ায় স্বামীর নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছে স্ত্রী আছমা আক্তার (২৪)। হাত পাঁ বেঁধে শারীরিক ভাবে নির্মম নির্যাতন করার পর সিগারেটের আগুনের ছ্যাকা দিয়ে অসংখ্য ক্ষত করে দিয়েছে স্ত্রী’র দুটি হাত। এঘটনায় রবিবার রাতে স্ত্রী বাদী হয়ে ফুলবাড়ীয়া থানায় মামলা করেন। রাতেই স্বামী সাইফুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করেন। ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের কানাইপাড় গ্রামের মোঃ ওয়াজ উদ্দিনের কন্যা আছমা আক্তারের ৪ বছর পূর্বে বিয়ে হয় একই উপজেলার আছিম পাটুলী গ্রামের ওমেদ আলীর পুত্র সাইফুল ইসলামের কাছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছিল স্ত্রীকে। যৌতুকের টাকা না দেওয়া স্ত্রী আছমা আক্তারের চলতি বছর বিএ পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করে দেয় স্বামী। গত শনিবার রাতে স্বামীর বাড়িতে ঘরের দরজা বন্ধ করে স্ত্রীকে হাত পাঁ বেঁধে ব্যাপক মারপিট করে সিগারেটের আগুন দিয়ে দুটি হাতে অসংখ্য ক্ষত করে দেয়। নির্যাতনের শিকার আছমা আক্তার বলেন, যৌতুকের জন্য ঘরের দরজাবন্ধ করে আমার স্বামী নিষ্ঠুরভাবে শারীরিক নির্যাতন করে, সিগারেটের আগুন দিয়ে জলসে দিয়েছে দুটি হাত। শিক্ষা জীবনটাও আমার ধ্বংস করে দিয়েছে যৌতুকের কারনে, চলতি বছর ৬ টি বিষয়ে বিএ পরীক্ষা দেওয়ার পর অন্য বিষয়ে পরীক্ষা দিতে দেয়নি। পিতা মোঃ ওয়াজ উদ্দিন বলেন, আমি দরিদ্র মানুষ, মেয়ের সুখের আশায় মাঝে মধ্যে টাকা পয়সা দিয়েছি, তারপরও যৌতুকের জন্য আমার মেয়ের দুটি হাত সিগারেটের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। ফুলবাড়ীয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ কবিরুল ইসলাম জানান, যৌতুকের জন্য স্ত্রী নির্যাতনের ঘটনায় স্বামী সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

গাইবান্ধায় তোফা-তোহুরার পাশে জেলা প্রশাসন

 

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: তোফা-তোহুরা জন্মের প্রায় ১বছর পর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামে রবিবার গভীর রাতে নানার বাড়ীতে ফিরে এসেছে। তার নানার নাম শহিদ মিয়া। তারা বাড়ীতে আসার পর গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে। জানা যায় ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর শাহিদা বেগম কোমরে জোড়া লাগানো দু’কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। দীর্ঘ দিন চিকিৎসা শেষে সুস্থ্র হয়ে তোফা-তোহুরা নানার বাড়ীতে আসায় এলাকায় আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের এক নজর দেখার জন্য সোমবার সকাল থেকেই উৎসুক জনতাকে ভিড় করতে দেখা যায়। গত সোমবার ১১ সেপ্টেম্বর বিকালে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম গোলাম কিবরিয়া, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিয়ার রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা তাদের বাড়ীতে গিয়ে ফুল দিয়ে তাদের স্বাগত জানান। তোফা-তোহুরার পিতার বাড়ী উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম ঝিনিয়া গ্রামে। তারা রাজু মিয়া ও শাহিদা বেগমের জমজ ২য় ও ৩য় সন্তান। ১ম সন্তান সাজ্জাদ মিয়া (৫) এখনো বিদ্যালয়ে ভর্তি হননি। রাজু মিয়া পেশায় একজন কৃষক। কন্যা সস্তানদ্বয়ের চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকার গ্রহণ করায় তাদের পরিবার সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে ফুলবাড়ীয়ায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নির্মমভাবে হত্যা ও নির্যাতন করার প্রতিবাদে ফুলবাড়ীয়ায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রেসিডেন্ট অং সান সুচির কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে বিক্ষোব্ধরা।
সোমবার সকালে উপজেলার আছিম বাজারে ওরিয়েন্ট স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের আয়োজনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ গ্রহণ করে আছিম বহুমূখি উচ্চ বিদ্যালয়, আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেতন, আছিম আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, তালিমুল মিল্লাদ দাখিল মাদ্রাসা, ডাঃ জামান একাডেমি, ইসলামিক কিন্ডার গার্ডেন ও আছিম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারন মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বিক্ষোভ মিছিল শেষ মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট অং সান সুচির কোশপত্তলিকা দাহ করা হয়।
ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, প্রধান শিক্ষক আঃ রাজ্জাক দুলাল, র,ই শামছ আল আসাদ সোহেল, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আরিফ হোসেন ও মোজাম্মেল হক প্রমূখ।

অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন এখন প্রধান লক্ষ্য –এলজিআরডি মন্ত্রী


ঢাকা,২০ ভাদ্র (৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭) : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এখন আমরা অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করছি। এ মুক্তি অর্জনই জাতির সামনে এখন প্রধান লক্ষ্য।
মন্ত্রী আজ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঈদ পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে একথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ঈদ-উল-আযহা ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত পবিত্র ধর্মীয় উৎসব। ত্যাগের এই আদর্শকে ধারণ করে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে সবাইকে আত্মনিয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা এখন আর্থ-সামাজিক সকল সূচকে এগিয়ে যাচ্ছি। দেশে এখন শান্তি বিরাজ করছে। স্বাধীনতার বিগত ৪৬ বছর পর বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশ সবচেয়ে ভাল অবস্থায় আছে। মন্ত্রী অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলনে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে শতকরা ৭৫ ভাগ কাজ আপনাদেরই করতে হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, এ মন্ত্রণালয়ের ওপর জাতির উন্নয়নের গুরুদায়িত্ব রয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় ষাট হাজারেরও অধিক জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। শেখ হাসিনা ঘোষিত মধ্যম ও উন্নত আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার মূল দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের হাতে। তাদের কর্মকান্ড সচল রাখতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যেতে হবে। এ মন্ত্রণালয়ের সেবা গ্রাম থেকে শহরে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষ গ্রহণ করে। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কাজ করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেক এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মাফরূহা সুলতানাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানগণও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

 ১ নভেম্বর জেএসসি পরীক্ষা শুরু

 

ঢাকা,২০ভাদ্র(৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭)ঃ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, আগামী ১ নভেম্বর এ বছরের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট  (জেএসসি) ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে। এজন্য সকল প্রস্তুতি নেয়া হযেছে। এছাড়া আগামী বছরের ১ জানুয়ারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বই বিতরণ করা হবে। এজন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কাজ করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।শিক্ষামন্ত্রী আজ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে একথা বলেন।  শিক্ষামন্ত্রী সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং মন্ত্রণালয় পরিচালনায় সকলের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের কাজ আরো গতিশীল করতে হবে । তিনি বলেন, সকল প্রকল্পের কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নিতে হবে। দ্রুত প্রকল্পের কাজগুলো শেষ করতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের সম্পদ কম। এ সীমিত সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। এক টাকা দিয়ে দুই টাকার কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অনেক সম্ভাবনাময় উল্লেখ করে তিনি বলেন,  আমরা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।    মন্ত্রী আরো বলেন, স্বাধীন দেশের উপযোগী একটি শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর আমরা জোর দিচ্ছি। শিক্ষার গুনগত মান, নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধির জন্য আরো কাজ করতে হবে।পরে শিক্ষামন্ত্রী পরিবহন পুল ভবনে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, অতিরিক্ত সচিব মো. মহিউদ্দিন খান ও আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

চামড়া বিক্রির টাকা খাজনা দিতে শেষ


নওগাঁ প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে জেলায় প্রায় ১ লাখের অধিক গৃহপালিত পশু কোরবানি দিয়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসলামানরা। কোরবানির পশুর চামড়ায় গরীব-মিসকিনদের হক রয়েছে। উপযুক্ত মূল্যে কোরবানিদাতারা চামড়া বিক্রি করে সেই টাকা গরীব-মিসকিনদের দিয়ে থাকেন। তবে চামড়ার দাম এবার কম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন গরীব-মিসকিনরা। আর মাঝখান থেকে লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা।
কোরবানি ঈদের সময় মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী বা ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের আনাগোনা থাকে বেশি। তারা ধারদেনা করে টাকা সংগ্রহ করে চামড়া কিনে থাকেন। লাভের টাকা থেকে আবার তা পরিশোধ করে থাকেন। তারা গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে চামড়া কিনে চামড়া হাটে বিক্রি করেন। সেখান থেকে বড় বড় চামড়া ব্যবসায়ীরা তাদের কাছ থেকে চামড়া কিনে থাকেন।
জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের ২৫০ জনের মতো সদস্য হলেও মৌসুমে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজারের মতো ফড়িয়া ব্যবসয়ীরা চামড়া কেনেন। এ ঈদে ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের অনেকেই লোকসানের আশঙ্খা করছেন। চামড়া কিনে বিপদে পড়তে হয়েছে বলে জানা গেছে। কেউ কেউ কেনা দামেও চামড়া বিক্রি করেছেন। এতে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত উঠার উপক্রম হয়েছে। ফলে চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কোরবানিদাতা ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।
আবার যারা কোরবানি দিয়েছেন তারাও চামড়ার ন্যায্য দাম পাননি বলেও জানা গেছে। এক কথায় পানির দামে তাদের চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে। বেশি সময় ধরে চামড়া রাখলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই বাধ্য হয়েই অল্পমূল্যে চামড়া বিক্রি করে দিয়েছেন।
শনিবার ঈদের দিন ছিল জেলার মান্দা উপজেলার সতিহাট চামড়ার হাট। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বকরির চামড়া ৫-১৫ টাকা, খাসির চামড়া ১০-৫০ টাকা, বকনা গরু ১৫০-২০০, ষাঁড় গরু ৭৫০-৯০০ টাকায় চামড়া বিক্রি হয়েছে।
মান্দার গনেশপুর গ্রামের মকবুল হোসেন বলেন, এবার একটি বকরি কোরবানি দিয়েছেন। ভাল দাম পাওয়ার আশায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে আড়াই কিলোমিটার দূর থেকে সতিহাটে চামড়া বিক্রি করতে এসে বড়ই বিপদে পড়েছেন। ‘চামড়ার দাম না থাকায় পাঁচ টাকা দিয়ে বিক্রি করতে হয়েছে। যেখানে চামড়ার খাজনাই পাঁচ টাকা।’ তবে চামড়ার দাম না থাকায় গরীব মিসকিনরা তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আল মামুন বলেন, এ বছর প্রায় ৫০ হাজার টাকার কাঁচা চামড়া কিনেছেন। চামড়ার হাটে বড় বড় চামড়া ব্যবসায়ীরা না আসায় কিছুটা লোকসানে আশঙ্খা করছেন।
পতœীতলা উপজেলার নজিপুর পৌর এলাকা নতুন হাটের চামড়া ব্যবসায়ী নয়ন কুমার বলেন, ধারদেনার টাকায় চামড়া কিনে খুব হতাশার মধ্যে পড়েছি। সময়মতো এসব চামড়ায় লবণ দিতে না পারলে বা বিক্রি করতে না পারলে চামড়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই অনেকেই কোরবানির পশুর চামড়া অল্পমূল্যেই বিক্রি করে দিয়েছেন। লবণের দামও বেশি। পাইকাররাও তেমন আসছেন না। এ মাল কবে বিক্রি হবে তার কোন ঠিক নেই।
নওগাঁ জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি মমতাজ হোসেন বলেন, সরকার চামড়ার যে মূল্য নির্ধারন করে দিয়েছে তার থেকে ফড়িয়া ব্যবসয়ীরা অনেক বেশি দামে চামড়া কিনেছে। তারা চামড়ার ধরন ও ফুট না বুঝে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা বর্গফুটে চামড়া কেনায় এখন লোকসানের মুখে। ফলে বেশি দামে চামড়া কেনায় কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। মোট কথায় আগামীতে চামড়ার বাজার পাটের তুলনায় খারাপ হওয়ার আশঙ্খা রয়েছে।#

সাভারে বিসিক শিল্প নগরী ট্যানারিতে চালু হওয়া ৫৫ টি ট্যানারির জন্য লক্ষ লক্ষ পিচ চামড়া সংগ্রহ


মোঃ গোলাম মোস্তফা, সাভার
গতকাল পবিত্র কোরবানির ঈদে ধর্ম প্রাণ মুসলমানরা সকালে ঈদের নামাজ শেষ করে লক্ষ লক্ষ পশু কোরবানি করে থাকেন।
এ উপলক্ষ সাভারে বিসিক শিল্প নগরী ট্যানারিতে চালু হওয়া ৫৫ টি ট্যানারির জন্য লক্ষ লক্ষ পিচ চামড়া সংগ্রহের জন্য কোরবানির দিনে শতশত চামড়া ব্যাবসায়ীরা সাভার পৌর ও উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রাম পাড়া এবং মহল্লায় মহল্লয় গরুর চামড়া সংগ্রহ করছেন ব্যবসায়িরা।শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ও সন্ধ্যা নাগাদ সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকার ট্যানারি ব্যবসায়িরা তাদের এ বছরের র্টাগেট ফিলাপ করতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করছেন তারা।
এসময় চালু হওয়া ট্যানারির মালিকরা বলেন,আজকের এই চামড়া সংগ্রহ কয়েক হাজার শ্রমিক পরিবারের রুটিরুজির ব্যবস্থা করে দিবে। ঢাকা-আরিচামহা সড়কের পাশে সাভার বাজার বাসষ্ট্যান্ডে পৌর ও উপজেলার সমস্ত কোরবানির পশুর চামড়া গতকাল সন্ধ্যা নাগাদ জড়ো করে বিক্রি করে দেয় ক্রেতারা। পরে ট্যানারির মালিকরা ট্রাকে করে সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকার ট্যানারিতে নিয়ে যায়।
এছাড়া এই চামড়ার বিক্রিত টাকা ট্যানারি শ্রমিকদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মসজিদ-মাদরাসা,এতিমখানাসহ বিভিন্ন গরীব ও অসহায় লোকদেরও উপকারে আসবে । এ বছর ক্রেতারা চমড়ার দাম ভাল পেয়ে তারা খুশিই হয়েছেন। ছোট গরুর চামড়া ১২শত টাকা থেকে১৫শতটাকা ওবড় গরুর চামড়া ১৮শত টাকা থেকে ২২শত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

বিশ্ব ক্রিকেট তারকাদের অভিনন্দনে বাংলাদেশ 

রায়হান আহমেদ তপাদার :: শরতের আকাশে ছিল রোদের খেলা। তবুও কেমন যেন নিষ্প্রাণ মিরপুর। কারণ দুই অসি ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ। কিন্তু হঠাৎ করেই জ্বলে উঠলেন সাকিব-তাইজুল-মিরাজরা।এ তিনজনের হাত ধরে ১১ বছর আগে ফতুল্লায় হারের প্রতিশোধ নিল বাংলাদেশ। আর মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ পেল ২০ রানের ঐতিহাসিক জয়।মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে বাংলাদেশ বন্দনায় মেতে উঠেছে বিশ্ব ক্রিকেটের রথী-মহারথীরা। শচীন টেন্ডুলকার,বিরেন্দ্র শেবাগ, মাহেলা জয়াবর্ধনে, আকাশ চোপড়াসহ অনেকে।ক্রিকেটের কুলীন শক্তি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ২০ রানের জয় টাইগারদের মনকেও ছুঁয়ে গেছে। ভারতের ক্রিকেট ইশ্বরখ্যাত শচীন টেন্ডুলকার টুইটারে বলেছেন,দুটি আপসেট হল দুদিনে। টাইগারদের অনুপ্রেরণাদায়ী পারফরমেন্স। টেস্ট ক্রিকেটের উন্নতি চলছেই।মাহেলা জয়াবর্ধনে বলেন, ঐতিহাসিক টেস্টে দারুণ খেলেছে টাইগাররা। দুর্দান্ত টেস্ট ম্যাচ। একসময় বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে খোটা দেয়া বিরেন্দ্র শেবাগও মিরপুর টেস্টে মেনে নিয়েছে টাইগারদের শ্রেষ্ঠত্ব।তিনি বলেন,খুব ভালো বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সত্যিই বিশেষ কিছু।বাংলাদেশের ভক্ত ভারতীয় ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়া লেখেন, চারদিনে ৯৪২ রান। ৪০ উইকেট। জয়-পরাজয়ের ব্যবধান মাত্র ২০। খুব ভালো বাংলাদেশ। ইতিহাস রচিত হলো।অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক অজিদের হারে কষ্ট পেলেও ঠিকই অভিনন্দন জানিয়েছেন টাইগারদের। তিনি টুইটারে লেখেন, অভিনন্দন বাংলাদেশ। আমি কখেনো ভাবিনি এমন টুইট লিখতে হবে। তবে যাদের প্রশংসা প্রাপ্য তাদের তো প্রশংসা করতেই হয়। ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ যে শক্তিধর দল তা আবারও প্রমাণ করল টাইগাররা। এমনকি, বলার অপেক্ষা রাখে না যে, টেস্ট ক্রিকেটে বড় দলের বিপক্ষে জয় পাওয়াও বাংলাদেশের জন্য এখন আর অসম্ভব কিছু নয়। গতকাল দুপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষের টেস্ট জয়, আর শুধু জয়ই নয়, এটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়! এই জয় নিসন্দেহেই ঐতিহাসিক। কেননা এক সময়ের প্রবল পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়া, টেস্টের জগতের সেই অভিজাত অস্ট্রেলিয়া, ১১ বছর পর বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট খেলা, আর এই খেলায় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিল বাংলাদেশ। ২০ রানের রোমাঞ্চকর ও মহাকাব্যিক জয়ে স্মরণীয় হয়ে রইল মিরপুর টেস্ট। আমরা আমাদের প্রাণের ভেতর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিবাদন জানাই।বলার অপেক্ষা রাখে না, এই জয়ের মধ্য দিয়ে আরেকটি অনন্য অর্জন যোগ হলো সাকিবের। টেস্টে তৃতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়াই এগিয়ে, হাতে ৮ উইকেট নিয়ে জয় থেকে ১৫৬ রান দূরে ছিল তারা। কিন্তু গতকাল সকালে সাকিব আল হাসানের স্পিনে ঘুরে গেল ম্যাচের মোড়। সকালের সেশনে তার ৩ উইকেটে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। এরপর লাঞ্চ শেষে প্রথম বলেই বিপজ্জনক গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকেও ফেরান বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ১০ উইকেটও পেলেন সাকিব আল হাসান। নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্যার রিচার্ড হ্যাডলির পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এক টেস্টে ১০ উইকেট ও নূ্যনতম ৫০ রান করার কীর্তিটা নিজের করে নিলেন। ব্যক্তিগত সেই অর্জন ছাপিয়ে এই জয় দুর্দান্ত এক দলগত অর্জন বাংলাদেশের।  এ ছাড়া জাদুকরী পারফরম্যান্সে সাকিব রাঙালেন নিজের ৫০তম টেস্ট। আর তার পাশাপাশি তামিমেরও এটি ছিল ৫০তম টেস্ট। মুশফিকুর রহিম টেস্টের আগে বলেছিলেন, এই দুই নায়কের জন্যই খেলবে বাংলাদেশ। সতীর্থদের উপহার দিলেন তারা দুজনই, উপহার দিলেন দেশকে এক ঐতিহাসিক জয়। সাকিবের অসাধারণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্স, ব্যাটিং দুরূহ উইকেটে তামিমের ৭১ ও ৭৮! বলার অপেক্ষা রাখে না, গত বছর এই শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামেই ইংল্যান্ডকে ১০৮ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর গত মার্চে শ্রীলঙ্কায় হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কাকে। টেস্টে এগিয়ে যাওয়ার পালায় যোগ হলো আরও একটি অর্জন।আমরা বলতে চাই, দলগত যে কোনো খেলারই সাফল্য নির্ভর করে টিম স্পিরিট এবং সঠিক সমন্বয়ের ওপর। ক্রিকেটেও বিষয়টা তাই। ব্যাটিং,বোলিং, ফিল্ডিং-এ তিন ক্ষেত্রে ভালো করতে পারলেই সাফল্য হাতের মুঠোয় ধরা দেয়। বর্তমানে টাইগারদের মধ্যে এ সমন্বয় এবং এগিয়ে যাওয়ার যে অদম্যতা লক্ষণীয় তা আশাব্যঞ্জক। তবে আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বাজয় রাখতে হলে নিজেদের আরও বেশি গড়ে তুলতে সামগ্রিক প্রচেষ্টা অব্যহত রাখতে হবে। পাশপাশি সংশ্লিস্টদেরও যথাযথ উদ্যোগ জারি রাখার বিকল্প নেই। এমনও লক্ষ করা গেছে, কোনো টেস্টের প্রথম ইনিংসে খুব ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েও দ্বিতীয় ইনিংসে খারাপ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই এর ফলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন বা জয়ের কাছাকাছি এসেও ব্যর্থ হতে হয়েছে। ফলে আমরা মনে করি,বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দুর্বল জায়গাগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা অপরিহার্য।  সর্বোপরি বলতে চাই, বাংলাদেশের মানুষের ক্রিকেট প্রীতি প্রবল। আর টাইগাররাও বার বার বিশ্বের সামনে একেকটি জয় অর্জর্নের মধ্য দিয়ে দেশের নাম আরও উজ্জ্বল করেছে। ফলে আমরা চাই, এই জয়ের ধারা অব্যাহত থাকুক। টাইগারদের যে কোনো দুর্বলতা থাকলে তা কাটিয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে তারা আরও এগিয়ে যাবে এবং আরও জয় উপহার দেবে আমাদের, এমনটি প্রত্যাশা। তাছাড়া নিজেদের ৫০তম টেস্টে জ্বলে উঠলেন সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। মাইলফলকে পৌঁছানোর ম্যাচে দু’জনের দারুণ নৈপুণ্যে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। অর্ধশতক ও ১০ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। দুই ইনিংসেই অর্ধশতক পেয়েছেন তামিম। মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ প্রায় শতভাগ মুসলমানের এদেশে আর মাত্র একদিন বাদেই সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব প্রবিত্র ঈদুল আজহা। এই জয়ে ঈদের আগে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে ঈদের সবচেয়ে সুন্দর উপহারই দিল সাকিব-তামিমরা। অস্ট্রেলিয়া বিপক্ষে পাঁচ টেস্টে এটাই বাংলাদেশের প্রথম জয়। সেই সঙ্গে টেস্টে বাংলাদেশের জয় পৌঁছাল দুই অঙ্কে-১০১ টেস্টে ১০টি। জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কার পর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ। চার দিনে শেষ হওয়া ঢাকা টেস্টের সারাংশ এটিই। সিরিজের ২য় টেস্ট আগামী ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এই টেস্ট সিরিজের জন্য আসলেই ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষা। নির্দিষ্ট করে বললে ১১ বছরেরও বেশি। সেই ২০০৬ সালের এপ্রিলে রিকি পন্টিংয়ের অস্ট্রেলিয়া দুটি টেস্ট খেলে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া আবার এলো স্টিভেন স্মিথের দল। এই দীর্ঘ সময়ে বদলে গেছে কত কিছু। দুটি দলের মধ্যেই প্রজন্মের ব্যবধান ঘটে গেছে।  অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি নামের সংকরায়িত ক্রিকেটের উন্মাদনায় সারা বিশ্বই উথালপাথাল। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে আর টেস্ট খেলতে আসেনি। বাংলাদেশকেও তারা টেস্ট খেলতে ডাকেনি নিজের দেশে।২০১১ সালে তিন ম্যাচের একটি ওয়ানডে সিরিজ অবশ্য খেলে গেছে, সে ছিল সান্তনা। বাংলাদেশকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আক্ষরিক অর্থে তখন সান্তনাই দিয়েছিল এই বলে যে, আপাতত তিনটি ওয়ানডেই হোক,পরে সময়-সুযোগ বুঝে দুটি টেস্ট খেলে যাওয়া যাবে। তাছাড়া দ্বিপক্ষীয় অনেক যোগাযোগ-প্রক্রিয়া শেষে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে সেই দুটি টেস্ট খেলতে রাজি হলো ২০১৫ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে। সবকিছু ঠিকঠাক, সারা বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া দলের আগমনের প্রতীক্ষায় সময় গুনছে। ঠিক তখনই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাকে কারণ দেখিয়ে সফর বাতিল করে দিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দিলেও মন গলেনি অস্ট্রেলিয়ার। কদিন পরই অবশ্য শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফর করে গেছে। বাংলাদেশ সফলভাবে আয়োজন করেছে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট, কোনো ক্রিকেট দলই নিরাপত্তা নিয়ে কোনো অনুযোগ তোলেনি। শুধু অস্ট্রেলিয়াই বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। সে কারণে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও তাদের দল পাঠায়নি।২০১৫ টেস্ট সফর বাতিল করার পর অস্ট্রেলিয়া অবশ্য বলেছিল,এ সফরটি তারা পরে সুবিধামতো এক সময়ে করবে। সেই সুবিধামতো সময়টা’ অবশেষে এল। ইংল্যান্ডের নির্বিঘ্নে বাংলাদেশ সফর নিশ্চয়ই ভূমিকা রেখেছে এখানে। ইংল্যান্ড দুটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে খেলে গেছে গত বছরের অক্টোবরে ইংল্যান্ড দলকে দেওয়া সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়া দলকেও।  বাংলাদেশ আর আগের দল নেই,সেটি ভালোই জানে অস্ট্রেলিয়াও। এদেশে এসে হেরে যাবার ভয়ের পেছনে নিরাপত্তার যে মিথ্যা অজুহাত দাঁড় করিয়েছিল অজিরা,সেটি ভালোই বোঝা গেল। দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে চার দিনে এই টেস্ট হেরে আজ র‌্যাঙ্কিংয়ের পাঁচে নেমে গেছে অস্ট্রেলিয়া। সিরিজ শুরুর আগে চারে ছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।এক পরাজয়ে তিনটি মহামূল্য রেটিং পয়েন্ট হারিয়ে তাদের পয়েন্ট এখন হয়ে গেল ৯৭। নেমে গেল পাঁচে। আর বাংলাদেশের এই এক জয়ে ৪ রেটিং পয়েন্ট বাড়ল। কাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অমন অবিশ্বাস্য জয় না পেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে বাংলাদেশের পয়েন্ট ব্যবধান তখন নেমে আসত ভগ্নাংশে।অস্ট্রেলিয়া এখন সিরিজের শেষ টেস্ট জিতলেও পাঁচ থেকে চারে উঠে আসতে পারবে না। তবে বাংলাদেশের সামনে আটে উঠে আসার সম্ভাবনা থাকল। বাংলাদেশ যদি ২-০-তে সিরিজ জেতে, আর ওদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি ২-১-এ সিরিজ হারে, তাহলে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার মাত্র দুই ধাপ পরে নিজেদের আবিষ্কার করতে পারবে। অস্ট্রেলিয়া যে তখন নেমে আসবে ছয়ে! এই ভয়টাও কি তাদের মনে খেলে গেছিল সিরিজ বিলম্বে।ভাবতে ভালোই লাগছে সারা বিশ্ব চেয়ে চেয়ে দেখল টাইগারদের বিজয়।

লেখক ও কলামিস্ট

raihan567@yahoo.com

মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে আমাদের নিজে বাঁচার স্বপ্নে বিভোর নির্যাতিত রোহিঙ্গারা


ইমরান জাহেদ, কক্সবাজার ॥
একদিন পর কোরবানের ঈদ। ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে পশুত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে মনুষ্যত্বকে বিকশিত করার শিক্ষায় হলো কোরবান। মিয়ানমারের আরাকান রাখাইন রাজ্যে এবার জলাঞ্জলি দিয়েছে স্ত্রী তার স্বামীকে, বোন তার ভাইকে, বাবা তার মেয়েকে। এমন পরিস্থিতিতে নিজে বাঁচার স্বপ্নে বিভোর নির্যাতিত রোহিঙ্গারা। টেকনাফের নাফ নদীতে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনায় আরও ১৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। মিয়ানমারে ফিরে গুলির মুখে পড়তে চান না স্বজনকে গুলির মুখে ফেলে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। তারা ঢুকতে চান উখিয়া-টেকনাফর রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে। উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প এবং নতুন গড়ে ওঠা বালুখালী বস্তিতে জায়গা পেতে প্রহর গুনছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী ও শিশু। ক্যাম্পের বাইরে দিনের পর দিন জড়ো হচ্ছেন তারা। একদিকে প্রশাসন, অন্যদিকে ক্যাম্পে পুরনো বসবাসকারীদের বাধার মুখে নতুনরা। গত শনিবার থেকে সব ধরণের বাধা, প্রতিরোধ উপেক্ষা করে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ঢুকে পড়ছে অসংখ্য রোহিঙ্গা। তবে অনেকেই এরই মধ্যে স্বজনদের সহায়তায় ক্যাম্পে ঢুকে পড়েছে। বাকিরা খোলা আকাশের নিচে রাস্তার পাশে ও ক্যাম্পের চারপাশে অবস্থান নিয়েছে। নতুন গড়ে ওঠা বালুখালী রোহিঙ্গা বস্তির নেতা লালু মাঝি বলেন, গত চার দিনে আট শতাধিক পরিবার প্রবেশ করেছে বালুখালী বস্তিতে। তাদের কোনো পরিসংখ্যান নেই। স্বজনদের মাধ্যমে তারা ওখানে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকেই নতুন ঝুঁপড়ি ঘর তৈরির চেষ্টা করছে। তবে পুরনো রোহিঙ্গাদের বাধার মুখে কোনো নতুন ঘর তৈরি করতে পারছে না তারা। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় যারা ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে আছেন তাদের ম্যানেজ করে বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের পরও একইভাবে স্রোতের বেগে সীমান্তে আসছে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা। গতকাল বৃহস্পতিবার উখিয়া কুতুপালং ইউএনএইচসিআর অফিস থেকে পুলিশ, আনসার ব্যারাক পেরিয়ে কমিউনিটি সেন্টার ও এমএসএফ হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কযোগে হাজার হাজার রোহিঙ্গার জটলা দেখা গেছে। তারা সবাই গত সোমবার ভোর থেকে অবস্থান করছে। অন্যদিকে অনিবন্ধিত কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বালুখালী রোহিঙ্গা বস্তিতে প্রতিনিয়ত চর্তুদিক দিয়ে রোহিঙ্গা প্রবেশ করতে দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে নিবন্ধিত অনিবন্ধিত মিলে প্রায় দেড় লক্ষাধিক ও বালুখালী নতুন রোহিঙ্গা বস্তিতে প্রায় ৩৫ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পে গত ১০ মাস আগে পালিয়ে আসা প্রায় ১৯ হাজার পরিবার অবস্থান করছে। এখন প্রতিটি ঘরে নতুন প্রবেশকারী রোহিঙ্গা আশ্রয় নিচ্ছে বলে জানা গেছে। মিয়ানমারের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম ঢেকিবনিয়া, চাকমাকাটা, ফকিরাপাড়া, তুমব্র“ মেদায়, কুমিরখালী, বলিবাজার, টং বাজার, ধুমবাইপাড়া, ফকিরাবাজার, সাহেববাজার, মংপ্রিচং, রেইখ্যাপাড়া, ছেংখোলা, কোনারপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে এই রোহিঙ্গারা প্রবেশ করে জড়ো হয়েছে। উখিয়ার সীমান্ত এলাকার পাহাড়ী জনপদ রেজু আমতলী, ফাত্রাঝিরি হয়ে ডেইলপাড়া, করইবনিয়া, ডিগলিয়া, হাতিমোরা, দরগাবিল, ঘুমধুমের বড়বিল, জলপাইতলী, আজুখাইয়া সড়ক পথে টমটম ও অটোরিকসা যোগে কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসছে তারা। ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান করা রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের মধ্যে এনজিওর মাধ্যমে পুষ্টিসমৃদ্ধ বিস্কুট বিতরণ করতে দেখা গেছে। এনজিও মুক্তির এপিসি আবদুল্লাহ আল মামুন শাহীন জানান, নিবন্ধিত শিবিরের তথ্য নেই। তবে কুতুপালং এ অনিবন্ধিত ১৬ টি ব্লকে প্রায় হাজারের অধিক রোহিঙ্গা পরিবার আম্রয় নিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্টে গত সাত দিন ধরে অবস্থান করছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। তারা পলিথিনের ছাউনি তৈরি করে ওখানে অবস্থান করছে। তবে মঙ্গলবার থেকে পলিথিন দিয়ে তৈরি করা অস্থায়ী ছাউনি তুলে কাটাঁতারের দিকে রোহিঙ্গাদের যেতে দেখা গেছে। নারী-পুরুষ, শিশু সবাই আতঙ্কিত অবস্থায় চলে যাচ্ছেন সেই লাইন বরাবর, যার ওপারেই তাদের জন্য অপেক্ষা করছে ভয়ংকর মিয়ানমার সেনাবাহিনী। পালিয়ে আসা যুবক আবদুর রহমান বলেন, আমার বাবা আব্দস সালাম ও বড় ভাই রাহাত আলমকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে। জান বাঁচাতে আমরা এখানে এসেছি। এখন আমাদের আবার ঠেলে দেওয়া হচ্ছে মৃত্যুর দিকে। সেখানে গুলি করার পর জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করছে সেনাবাহিনী। প্রতিদিন একর পর এক ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এখন কাটাতারের বেড়ায় থাকতে ভয় হচ্ছে। ওরা হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি করতে পারে আমার আরো অনেক আতœীয় স্বজন ওখানে রয়ে গেছে। এভাবেই আশঙ্কা প্রকাশ করে রোহিঙ্গা যুবক আব্দুর রহমান। অভিযানের নামে আগস্ট মাসের শুরুতে রাখাইনে সেনা মোতায়েন করে মিয়ানমার সরকার। এরই মধ্যে গ্রামের পর গ্রাম রোহিঙ্গাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। গত বছরের অক্টোবরে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো মিয়ানমার সেনাদের এমনই এক হত্যাকান্ডের ঘটনায় জাতিসংঘের সাবেক প্রধান কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন বৃহস্পতিবার তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। কমিশন রোহিঙ্গাদের ওপর থেকে বিধি নিষেধ প্রত্যাহার এবং তাদের নাগরিকত্ব প্রদানের আহবান জানায়। প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই নতুন করে হামলা ও হত্যাকান্ড শুরু করে মিয়ানমার। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এসব এলাকায় বাংলাদেশ সীমান্ত বাহিনী বিজিবির কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও তারা রাতে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে। এছাড়া নোম্যনস ল্যান্ডে অবস্থান করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org