Category: প্রথম পাতা

ঈদকে সামনে রেখে টঙ্গী-উত্তরার পেশাদার ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া। ছিনতাইকারীদের হাতে থাকে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ॥ প্রাইভেটকার ও মোটর সাইকেলে করে ১০০ অপরাধী ঘুরে বেড়ায়


এস,এম মনির হোসেন জীবন : গাজীপুর মহানগরী শিল্প নগরী টঙ্গী ও তার আশপাশের এলাকা গুলোতে প্রায় ১০০ শতাধিক পেশাদার ছিনতাইকারী, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী,অস্ত্র ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধীরা ঈদকে সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ১৫-২০টি গ্র“পে বিভক্ত হয়ে তারা রাস্তায় নেমে সুযোগ বুঝে খুন,ছিনতাই ও ডাকাতি সহ অপরাধ মূলক কর্মকান্ড দীর্ঘ দিন ধরে অবাধে চালিয়ে যাচেছ বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এসব অপরাধীদের হাতে থাকে অত্যাধুনিক আগ্নেয়ান্ত্র, পিস্তল,রিভলভার, কিরিচ,চাপাতি ও ছোরা। দামী প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে তারা রাত দিন পুরো এলাকা দল বেধে চষে বেড়ায়। বর্তমানে গাজীপুরের ক্রাইম জোন হিসেবে পরিচিত শিল্পনগরী টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০০ ছিনতাইকারী গ্র“পের সদস্যরা মাঠে নেমেছে। পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, র‌্যাব ও বিভিন্ন আইনশৃংখলা বাহিনীর তথ্য সুত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ ও বিভিন্ন আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রাপ্ত তথ্য সুত্রে জানা যায়, বর্তমানে টঙ্গীতে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি দেখা দিয়েছে। গত ৬ মাসে কমপক্ষে ১৮/২০টি খুন,ডাকাতি,অপহরণ,চুরি,ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিরাতে টঙ্গীর শিল্প এলাকার কমপক্ষে ১৫/২০টি স্থানে গনহাতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। টঙ্গীতে থানা পুলিশের তালিকায় নাম রয়েছে প্রায় শতাধিক ছিনতাই ও অপরাধীর নাম। সিনিয়র ও জুনিয়র গ্র“পে ভাগ হয়ে এরা ছিনতাই করে বেড়ায়। ছিনতাই করার আগে অপরাধীরা গোপনে বৈঠকে মিলিত হয়। এর পর প্রাইভেটকার ও মোটর সাইকেল নিয়ে তারা শিকার খুঁজকে বেরিয়ে পড়ে। জুনিয়র গ্র“পকে পাহারায় থাকে দলের শীর্ষ নেতারা। ফোন পাওয়ার সাথে সাথে তারা দামী গাড়ী নিয়ে স্পটে ছুটে যায়। কোন ঝামেলা হলে তারা গাড়ী থেকে গ্ল্যাস খুলে অস্ত্র হাতে নিয়ে গুলি করে। পরে ছিনতাইকৃত টাকা দলনেতা থেকে শুরু করে সকল সদস্যরা মিলে ভাগবাটোয়ারা করে নেয়।
টঙ্গী মডেল থানা এলাকায় বসবাস করে এমন শতাধিক সন্ত্রাসী,অস্ত্র ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী ও অপরাধীর নাম আইনশৃংখলা বাহিনীর তালিকা সুত্রে পাওয়া গেছে। টঙ্গী এলাকার প্রায় ১৮/২০টি স্পটে অপরাধ মূলক কর্মকান্ড হয়। সে সকল স্পট গুলো হল টঙ্গী বাজার,বাটা গেইট,টঙ্গী ব্রীজ,ষ্টেশন রোর্ড,ভরান,আনারকলি ও বউ বাজার এলাকায় যারা ছিনতাই করে বেড়ায় তারা হল সোহাগ, তুষার, ফয়সাল, বুশ, খলিল, রাসেল, জনী, দাঁত ভাঙ্গা রাসেল, দেলু, পাপ্পু, রাজীব, রুবেল, হারুন, বাপ্প্,ি উওরার রাসেল, শাহীন, ইমরান, পিচিচ রহিম,চিটার বাবু,ভাতিজা সোহেল। টঙ্গী নতুন বাজার এলাকার ছিনতাইকারীরা হল শুক্কুর, সাইফুল, ভুট্রো, বুলেট, রিপন, কাওসার, খোকন, আলামীন, জাবেদ, বুলু, লিটন, মনির, রকি, পটল বাবু, গলাকাটা সুমন, মতিন,। মিরাশ পাড়া এলাকার ছিনতাইকারী গ্র“পের সদস্যরা হল জুয়েল,মীর হোলাম মোস্তাফা ওরফে মোস্তফা,হাসান,পিচিছ ওরফে জামান ওরফে সাকিব। স্টেশন রোডের ছিনতাইকারীরা হল মনা,ডিব্বা বাবু,সোর্স রানা। এরশাদ নগর ও চেরাগআলী ,কলেজ গেইট,হোসেন মার্কেট ,গাজীপুরা ও বাঁশপট্রি এলাকায় যারা ছিনতাই করে বেড়ায় তারা হল গদা রতন, পিচিছ রাজু,কাজল,দিলা,তারা, হাসান, বিলাই আলমগীর, রনি, রাকিব, গরম, মাষ্টার রিপন, ছোট জয়নাল,আইকা সুমন, বিপ্লব, রুমান, পলাশ, জনি, কামাল, সোহাগ, শাওন, সেন্টু, সুলতান, রকি, সেলিম, বিল্লাল, চিকনা আলামিন ওরফে কংকাল আল আমিন।
তুরাগের কামার পাড়া এলাকায় যারা ছিনতাই করে বেড়ায় তার মধ্যে রয়েছে ওয়াসিম, রাসেল, মোশারফ, সবুজ,মাসুদ, মারুফ, রিপন, করীম, মালেক, লাদেন সোহেল, বিল্লাল ,রিপন ,আলামিন, রব ,আলাল, জাহাঙ্গীর, মজিবুর, নাসির, আফিল,জজ মিয়া ,সেন্টু, সুজন। উওরা এলাকার ছিনতাইকারী গ্র“পের সদস্যরা হল রানা, জাহাঙ্গীর, সোহেল, রতন, করীম, মতিন, বাবু, টিটু, কালা রতন,স্বপন,টিটো। উওরখান এলাকায় সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারীরা হল হাতকাটা সোহেল,শিপলু,পাগলা মনির,সাজ্জাদ,বাদল,রতন সহ ৪/৫জন। দক্ষিণখানে ছিনতাইকারী ও অপরাধীরা হল ডিব্বা মাসুদ, ইসমাইল, মামুন, কামরুল, সাইদুর, টাইটার আজিজ, মুকুল, মহসীন, মোস্তফা, মোশারফ, রাসেল, মিঠুন, দেলোয়ার, ছোট মামুন, হাবিব,আরিফ, মাসুদ, রনি। ইসমাইল, সুমন, কাজল, মোজাইদুল রহমান।
উওরায় যে সব স্থানে ছিনতাই হয় সে স্পট গুলো হল জসীম উদ্দিন রোর্ড, রাজলক্ষèী মার্কেট,৪ নং সেক্টর মাঠ,জয়নাল মার্কেট,মাসকট প্লাজা,রবীন্দ্র স্বরনী,সোনার হাঁও জনপথ সড়ক, আব্দুল্যাহ পুর, দলিপাড়া,৩ নং সেক্টর খেলার মাঠ,১১ নং চৌরাস্তা,স্ল্যুইচ গেইট,আজমপুর। তুরাগের কামার পাড়া,রানা ভোলা, তালতলা, আশুলিয়া চেকপোষ্ট, ধউর,বাউনিয়া, খালপাড় ও ১০ নং সেক্টর ব্রীজ। দক্ষিণ খানের যেখানে ছিনতাই হয় সে স্পট গুলো হচেছ ফায়দাবাদ, জয়নাল মার্কেট,কাওলা, রেলগেইট, আজমপুর কাঁচা বাজার, কসাইবাড়ি, আশকোনা বাজার, প্রেম বাগান,মোল্লার টেক, চালাবন,দক্ষিণ খান বাজার, জামতলা প্রভৃতি। উওরখানের স্পট গুলো হল মাজার রোর্ড, হেলাল মার্কেট ব্রিজ, চামুড় খান, তেরমুখ ব্রীজ,মোন্ডা গুদারা ঘাট,রাজা বাড়ি গুদারা ঘাট।
র‌্যাব-১,উত্তরা অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্ণেল সারোয়ার বিন কাশেম এই প্রতিবেদককে জানান, চলতি সপ্তাহে একটি বিদেশী রিভলবার ও গুলিভর্তি ম্যাগজিন সহ বাপ্পি নামে এক সন্ত্রাসী ও অস্ত্র ব্যবসায়ীকে টঙ্গী পূর্ব আরিচপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া টঙ্গী নতুন বাজার এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী মো: শুক্কুরকে ও র‌্যাব আটক করেছে। সন্ত্রাসী, ডাকাত, অস্ত্রধারী ও ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করতে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত আছে। আইনশৃংখলা ঠিক রাখতে র‌্যাব সদস্যরা কাজ করে যাচেছ।
টঙ্গী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ফিরোজ তালুকদার আইনশৃংখলার অবনতির কথা অকপটে স্বীকার করে বলেন, পুলিশে জনবল কম ও পরিবহন সংকটের কারনে অনেক সময় আইনশৃংখলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তবু ও আইনশৃংখলা ঠিক রাখতে রাত দিন কাজ করে যাচিছ।
উল্লেখ্য যে, কয়েক বছর আগে উওরায় ছিনতাই করার প্রস্ততিকালে র‌্যাবের সাথে ছিনতাইকারী গ্র“পের মধ্যে বন্দুক যুদ্বে ৫ জন মারা যায়। র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে দুইটি পিস্তল,দুইটি রিভলভার,একটি এলজি (পাইপগান) ৫ রাউন্ড গুলি,একটি চাপাতি,একটি ছোরা উদ্বার করতে সক্ষম হয়। সেই সাথে ছিনতাইকাজে ব্যবহূত ঢাকা মেট্রো-গ-১৪-০০২৮ নম্বর প্রাইভেটকারটি র‌্যাব উদ্বার করেছে।

টেকেরহাট-শিবচর নৌপথ খনন কাজ উদ্বোধন করলেন নৌপরিবহণ মন্ত্রী


শিবচর (মাদারীপুর), ২০ জ্যৈষ্ঠ (৩ জুন) :
দেশে এক সময় ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ছিল। কিন্তু ৭৫ পরবর্তী সরকারগুলোর নদীর প্রতি অবহেলার কারণে তা দাঁড়িয়েছে ৩,৬০০ কিলোমিটারে। বর্তমান সরকার হারানো নদীর পথ পুনরায় উদ্ধারের জন্য কাজ করছে। এজন্য দেশের ৫৩টি নৌপথ খননের জন্য সাড়ে এগার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। নদী খননের জন্য প্রয়োজন ড্রেজার। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে সাতটি ড্রেজার সংগ্রহ করেছিলেন; কিন্তু তাঁকে হত্যার পর কোন সরকার ড্রেজার সংগ্রহ করেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদে নৌপথ খননের জন্য ১৪টি ড্রেজার সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমান মেয়াদে ২০টি ড্রেজার সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।
নৌপরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খান আজ মাদারীপুরের শিবচরে ময়নাকাটা নদীর চর টেকেরহাট-শিবচর নৌপথের ড্রেজিং কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক।
শিবচর ও চর টেকেরহাটের সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের নৌ-যোগাযোগ রক্ষা করে কার্গো ও নৌ-যান নির্বিঘেœ চলাচলের লক্ষ্যে চর টেকেরহাট-শিবচর নৌ-পথের ময়নাকাটা নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বৃদ্ধি করে দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো উক্ত ড্রেজিং কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।
ময়নাকাটা নদীর তীরে অবস্থিত মাদারীপুর জেলার অন্তর্গত শিবচর উপজেলার শিবচর বাজারটি একটি প্রসিদ্ধ ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এ নদীর পারে সরকারি কয়েকটি খাদ্য গুদাম রয়েছে যেখানে পূর্বে নৌ-পথে কম খরচে পণ্য ওঠানামা করত। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কোন ড্রেজিং কার্যক্রম গ্রহণ না করায় উক্ত নৌ-রুটটিতে পলি জমে নৌ-চলাচলে অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকার সারা বাংলাদেশের মৃতপ্রায় নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নদী খননের বিষয়ে বিশাল কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে চর টেকেরহাট-শিবচর নৌ-রুটটিকে সচল করার লক্ষ্যে নাব্যতার উন্নয়নে দরপত্রের মাধ্যমে বেসরকারি ড্রেজিং প্রতিষ্ঠানের দ্বারা ৮ লাখ ঘনমিটার খনন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এতে ব্যয় হবে ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়াধীন বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘১২টি গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথের খনন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মাদারীপুর-কবিরাজপুর-চৌধুরীহাট/পেঁয়াজখালী-চরজানাজাত/কাওড়াকান্দি নৌ-পথের চর টেকেরহাট-শিবচর অংশের অন্তর্গত আড়িয়াল খাঁ এবং ময়নাকাটা নদীর চর টেকেরহাট হতে শিবচর পর্যন্ত যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌ-যান নির্বিঘেœ চলাচলের ব্যবস্থাকরণের জন্য প্রয়োজনীয় নাব্যতা আনয়নের নিমিত্ত ড্রেজিং কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
চর টেকেরহাট-শিবচর নৌ-পথের খনন কাজ সম্পন্ন হলে ঢাকার সাথে শিবচরবাসীর নৌ-যোগাযোগ উন্নত হবে এবং সারা বছর নির্বিঘেœ নৌ-পথে মালামাল পরিবহণ করার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। নৌ-পথটি খনন করা হলে পানির সর্বনিম্ন স্তরে অর্থাৎ শুষ্ক মৌসুমে নৌ-পথটিতে ১২০ ফুট প্রশস্ততা ও ১০ ফুট গভীরতা বিদ্যমান থাকবে। সারা বছর ৮ ফুট ড্রাফটের নৌযান নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারবে।

৭ বছরেও পুরান ঢাকার রাসায়নিক কারখানা গুদাম সরেনি সরকারী সংস্থার দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার অভাব

২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে রাসায়নিক পদার্থের গুদামে বিস্ফোরণে সংগঠিত ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১২৪ জন মারা যান। দুর্ঘটনার পর পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৈধ ও অবৈধ কারখানাগুলো সরাতে উদ্যোগ গ্রহণ করলেও ৭ বছরে নিমতলীর আশেপাশের এলাকা এবং পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক পদার্থের গুদাম, কারখানা সরিয়ে নেয়ার দৃশ্যমান কোন কার্যত্রম পরিলক্ষিত হয়নি। সরকারী সংস্থার দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার অভাবেই এর প্রধান কারণ বলে মানববন্ধনে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। বক্তারা পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক পদার্থের গুদাম, কারখানা ও দোকান সরিয়ে নেয়ার দাবী জানান। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-সহ ২১টি পরিবেশবাদী ও সমমনা সংগঠনের উদ্যোগে আজ ০৩ জুন ২০১৭, শনিবার, সকাল ১০.৩০ টায় নিমতলী ছাতা মসজিদের সামনে “পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক পদার্থের গুদাম , কারখানা ও দোকান সরিয়ে নেয়া হোক”-দাবীতে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

পবা’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌ. মো. আবদুস সোবহানের সভাপতিত্বে এবং পবা’র সহ-সম্পাদক এম এ ওয়াহেদ এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি ও বিএমএ-এর সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী মো. আউয়াল, পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, পবা’র সহ-সম্পাদক মো. সেলিম, সুবন্ধন সমাজ কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি হাবিবুর রহমান, বিসিএইচআরডি-এর সভাপতি মাহবুব হক, বিডিক্লিক-এর সভাপতি আমিনুল ইসলাম টুব্বুস, পবা’র সদস্য ক্যামেলিয়া চৌধুরী, দেবীদাস ঘাট সমাজ কল্যাণ সংসদের সভাপতি মো. মুসা, নগরবাসী সংগঠনের সভাপতি হাজী আনসার আলী, পুষ্প সাহা পুকুর রক্ষা কমিটির সভাপতি নাসির খান মিন্টু, মাস্তুলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মার্জান, বাংলাদেশ নিরাপদ পানি আন্দোলনের সভাপতি ইঞ্জি. মো. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

পবা’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌ. মো. আবদুস সোবহান বলেন, পুরান ঢাকা ঐতিহ্যবাহী ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে একই ভবনে রয়েছে রাসায়নিক কারখানা, গুদাম ও দোকান, বাসা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলীতে রাসায়নিক গুদামে বিস্ফোরণ সংঘঠিত অগ্নিকান্ডে ১২৪ জন মারা যান এবং অনেকে আহত হন। দূর্ঘটনার পরপরই সরকারীভাবে বিভিন্ন কমিটি করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গঠিত কমিটি পুরান ঢাকাসহ ঢাকার সকল রাসায়নিক কারখানা গুদাম ও দোকানের জন্য অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত একটি এলাকা গড়ে তোলার সুপারিশ করে। দীর্ঘ ৭ বছর পার হলেও তৎকালিন কমিটির সুপারিশ আজও আলোর মুখ দেখেনি। যেকোন দূর্ঘটনার পরপরই সরকারী বিভিন্ন সংস্থার কর্মতৎপরতা দেখা যায়। পরবর্তীতে তা ধীরে ধীরে ঝিমিয়ে পরে। সরকারি সংস্থার দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার অভাবই এর প্রধান কারণ।
তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীতে এক হাজারের বেশি রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম রয়েছে। যার প্রায় ৮৫০টি পুরান ঢাকায়। এসব কারখানা গুদাম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসন। এসব সংস্থাকে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে আমরা দেখছি না। রাসায়নিক কারখানা, গুদামের জন্য সরকার একটি সুনির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা এবং এসব প্রতিষ্ঠান পুরান ঢাকা থেকে সরিয়ে নেয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যমান আইনগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কঠোরভাবে প্রয়োগ করা।
তিনি আরও বলেন, একটি আদর্শ নগরীর জন্য ২৫% খোলা জায়গা প্রয়োজন। ঢাকা মহানগরীতে ২০% খোলা জায়গা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে পুরান ঢাকায় ৫% আর নতুন ঢাকায় ১২% খোলা জায়গা রয়েছে। পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোড়স্থ কেন্দ্রীয় কারাগারের ভ’মির পরিমাণ ৪০ একরের বেশি। কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় অবস্থিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান কারা স্মৃতি যাদুঘর ও জাতীয় চার নেতার কারা স্মৃতি যাদুঘর দুটি সংরক্ষণসহ পার্ক, জলাধার, খেলার মাঠ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে একবিংশ শতাব্দির উপযোগী ‘সবুজ বলয়’ গড়ে তোলা প্রয়োজন। যা পুরান ঢাকাসহ ঢাকা মহানগরীর পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। একই সাথে নগরবাসীর জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাবে, সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করবে এবং সামাজিক অস্থিরতা দূরীকরণে সহায়ক ভ’মিকা পালন করবে।

বক্তারা বলেন, পুরান ঢাকার রয়েছে গৌরবোজ্জল এক ইতিহাস। কালের বিবর্তনে আজ তা হারিয়েছে যাচ্ছে। ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকাবাসী বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের প্রাপ্য নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। একদিকে প্রয়োজনের তুলনায় রাস্তা-ঘাট, নালা-নর্দমা, উম্মুক্ত স্থান, খেলার মাঠ, পার্ক, মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অপ্রতুলতা। অন্যদিকে পুরা এলাকা একটি মিশ্র এলাকা হিসাবে গড়ে উঠেছে। যেখানে একই সঙ্গে অবস্থান করছে আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক ভবন, শিল্পকারখানা, কেমিক্যালের গুদাম, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এছাড়া একই ভবনে রয়েছে শিল্পকারখানা, রাসায়নিক দাহ্য পদার্থসহ বিভিন্নমালামালের গুদাম ও দোকান, বাণিজ্যিক কর্মকান্ড এবং আবাসিক ফ্ল্যাট।

রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থের ব্যবস্থাপনায় সামান্য ত্রুটির কারণে ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ। ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে একটি ভবনের নিচতলার রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের গুদামে আগুন লেগে মুহূর্তেই তা বিস্ফোরিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। রাসায়নিক কারখানা, গুদাম, দোকানে আগুন নিভানোর নিজস্ব কোন ব্যবস্থা নেই। এলাকায় প্রয়োজনীয় রাস্তার অভাবে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ীগুলো দুর্ঘটনাস্থলে পৌছাতে পারে না। অনেক সময় অগ্নিকান্ডস্থলের কাছে জলাধার না থাকায় পানির অভাবে ফায়ার সার্ভিসকে বেগ পেতে হয়।

জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, সিটি করপোরেশন -এর উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতা এবং ভবনের মালিক ও রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের ব্যবসায়ীদের আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হওয়া ও অসচেতনার কারণে নিমতলীর ভয়াবহ অগ্নিকান্ডসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনার পর পর সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা লোকদেখানো বিভিন্ন উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৈধ ও অবৈধ কারখানাগুলো সরাতে উদ্যোগ গ্রহণ করলেও গত সাত বছরে নিমতলীর আশেপাশের এলাকা এবং পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক পদার্থের গুদাম, কারখানা, দোকানগুলো সরিয়ে নেয়ার বাস্তসম্মত দৃশ্যমান কোন কার্যত্রম পরিলক্ষিত হয়নি। বরং অলিতে-গলিতে গড়ে উঠছে রাসায়নিকের গুদাম, কারখানা ও দোকান এবং প্লাস্টিক ও পলিথিন কারখানা। নিমতলী এখনো একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা।

ঢাকা মহানগরীতে এক হাজারেরও বেশী কেমিক্যাল কারখানা, গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে আট শত পঞ্চাশেরও বেশী অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কেমিক্যাল কারখানা, গুদাম পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, সিটি করপোরেশনের ছাড়পত্র বা লাইসেন্স গ্রহণের বিধান রয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় কেমিক্যাল কারখানা, গুদাম পরিচালনার কোন সুযোগ নেই।

আবাসিক এলাকা থেকে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থের গুদাম, শিল্পকারখানা ও দোকান সরিয়ে নেয়া না হলে নিমতলীর মতো আবারও যেকোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। পুরান ঢাকায় বিদ্যমান বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থের গুদাম, শিল্পকারখানা ও দোকানগুলো ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকার জনজীবন, জননিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই জরুরীভিত্তিতে পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকা থেকে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থের গুদাম, কারখানা ও দোকান সরিয়ে নেয়া প্রয়োজন।

করণীয়ঃ
১. ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক পদার্থের গুদাম, কারখানা ও দোকান সরিয়ে নেয়া।
২. রাসায়নিক পদার্থের গুদাম, কারখানা ও দোকানের জন্য একটি পরিকল্পিত এলাকা গড়ে তোলা, যেখানে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের ব্যবস্থা থাকবে ।
৩. পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক আবাসিক এলাকায় পরিচালিত রাসায়নিক কারখানা, গুদাম- এর বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।।
৪. রাসায়নিক কারখানা, গুদাম ও দোকান পরিচালনার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, সিটি করপোরেশন কর্তৃক সংশ্লিষ্ট আইন মোতাবেক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৫. পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে রাসায়নিক কারখানা, গুদাম সরাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা।
৬. নিমতলী অগ্নিকান্ডে নিহতদের পরিবারকে পুনর্বাসন করা।
৭. প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সংগৃহীত অর্থ ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে সুষ্ঠু বন্টনের ব্যবস্থা করা।
৮. পুরান ঢাকাসহ ঢাকা মহানগরীর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় অবস্থিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান কারা স্মৃতি যাদুঘর ও জাতীয় চার নেতার কারা স্মৃতি যাদুঘর দুটি সংরক্ষণসহ পার্ক, জলাধার, খেলার মাঠ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে একবিংশ শতাব্দির উপযোগী ‘সবুজ বলয়’ গড়ে তোলা।

বাংলাদেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্ত আটকাতে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন প্রভাব খাটিয়েছিলেন কি না তদন্ত হচ্ছে

বাংলাদেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্ত আটকাতে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন প্রভাব খাটিয়েছিলেন কি না, তার তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সংক্রান্ত সিনেট কমিটি।সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান চাক গ্রাসলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে হিলারির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শুরু করতে বেশ কিছু বিষয়ে তথ্য চেয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপ মিশন প্রধান জন ডানিলোভিচকে জিজ্ঞাসাবাদও করতে চেয়েছে সিনেট কমিটি।গত ১ জুন লেখা ওই চিঠিতে গ্রাসলে আগামী ১৫ জুনের মধ্যে বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় অভিযোগ করে আসছিলেন, তার মাকে চাপে রাখতে এবং ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্ত আটকাতে হিলারির কর্মকর্তারা তাকেও হুমকি দিয়েছিল।মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা ওই চিঠির শুরুতে সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান বলেছেন, হিলারি ক্লিনটনের ফাউন্ডেশন ‌‘ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ’র (সিজিআই) দাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দুর্নীতির তদন্ত থেকে ইউনূসকে বাদ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ আছে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্লিনটন ও তার স্টাফদের বিরুদ্ধে।এতে বলা হয়েছে, তদন্ত থেকে ইউনূসকে বাদ দিতে পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে হুমকি দিয়েছিলেন।

মির্জাপুরে তিন পরিবার দেড় মাস ধরে একঘরা? রমজানে তারাবী নামাজ ও জুমার নামজসহ মসজিদে যাওয়ায় বন্ধ দোকানে কেনাকাটা করলে ৫শ টাকা জরিমানা


মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এক স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে(পরাজিত) কাজ না করার অপরাধে তিন পরিবারের সদস্যদের গত দেড় মাস ধরে একঘরা করে(সামাজিক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে) রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত দেড় মাস ধরেই ঐ তিন পরিবারের সদস্যরা (পরাজিত)স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না।শুধু তাই নয় এই সন্ত্রাসী বাহিনী নিরীহ তিন পরিবারকে জিম্মি করে রমজান মাসের তারাবী নামাজ আদায় ও জুমার নামাজসহ মসজিদে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছে।তারা (সমাজপতিরা)ঘোষনা দিয়েছে ঐ তিন পরিবারের সদস্যদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ কেনাকাটা করলে তাদের ৫শ টাকা জরিমানা করা হবে।টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৯ নম্বর বহুরিয়া ইউনিয়নের গেরামারা গ্রামে এ অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে।ঘটনার দেড় মাস পর গতকাল বৃহস্পতিবার এই তিন নিরীহ পরিবারের সদস্যরা মির্জাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য তুলে ধরেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল ছিল ৯ নম্বর বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন।এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে নির্বাচন করেন আবু সাইদ ছাদু।আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় প্রতীক না পেয়ে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন আওয়ামীলীগের জনপ্রিয় নেতা শিল্পপতি মরহুম নুরুল ইসলাম নুরুর ছোট ভাই রেজাউল করিম বাবুল।নির্বাচনের পুর্বের রাতে আওয়ামীলীগ ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও নৌকার অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়।হামলায় আওয়ামীলীগের দুই কর্মী আহত হয় এবং ৫-৬টি মোটর সাইকেল ভাংচুর হয়।ঘটনার পর মির্জাপুর থানায় একটি মামরা দায়ের হয়।
এদিকে নির্বাচনের পর থেকেই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্র্মী-সমর্থকরা প্রতিপক্ষ আব্দুল বারেক, আব্দুল মালেক ও সানোয়ার এই পরিবারকে একঘরা(সামাজিক ভাবে বন্ধ) করে দেন।গেরামারা গ্রামের মসজিদের ঈমাম মাওলানা মো. রফিকুল ইসলামকে ঐ তিন পরিবারের সদস্যদের মসজিদে নামাজ না পড়ানোর জন্য নির্দেশ জারি করেন।আব্দুল বারেক,আব্দুল মালেক, সরোয়ার ও তাসলিমা বেগম অভিযোগ করেন, এই ঘটনার পর তিন পরিবারের শিশুরা মসজিদে মক্তব, রমজানে তারাবী নামাজ,শুক্রবারে জুমার নামাজ এবং প্রতি দিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারছে না।এছাড়া গেরামারা বাজারে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কেউ কেনাকাটা করলে তাদের ৫শ টাকা করে জরিমানা ঘোষনা দিয়েছেন ঐ সমাজপতিরা।তাদের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারগুলো।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মোস্তফা, দেলোয়ার ও লিটন গংদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের মধ্যে লিটন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত কোন ঘটনা নিয়ে তাদের সামাজিক ভাবে বন্ধ দেওয়া হয়নি।গেরামারা মসজিদের উন্নয়নের কাজের জন্য আব্দুল মালেক, আব্দুল বারেক ও সানোয়ার গংরা প্রায় ৩-৫ লাখ আতœসাত করেছে।এই টাকার হিসেব দিতে না পারায় গ্রামের ও মসজিদের ১৮৮ জন সদস্য মিলে তাদের কাছে টাকা চেয়েছে।তারা মসজিদের টাকা না দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ঘটনাটি ভিন্ন দিকে নিয়েছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাশিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী-তোফায়েল বৈঠক এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ রাশিয়ার

ঢাকা, ১৮ জ্যৈষ্ঠ (১ জুন) : বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, চিংড়ি, চামড়া ও পাট পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ এগুলো স্বল্পমূল্যে রাশিয়ার বাজারে এসকল পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম। এ জন্য বাণিজ্য বাধা দূর করা একান্ত প্রয়োজন। রাশিয়ায় রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে রাশিয়া, বেলারুশ ও কাজাখস্তানের সমন্বয়ে গঠিত কাস্টম ইউনিয়নের কাছে জিএসপি বা শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রাপ্তির জন্য বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য ৭১টি ট্যারিফ লাইনের পণ্যের তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, দু‘দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। ডাবল ট্যাক্সেশনসহ বাণিজ্য বাধা দূর করা হলে রাশিয়ায় বাংলাদেশের পণ্যের রপ্তানি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামে (এসপিআইইএফ) যোগদান উপলক্ষে রাশিয়া সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী আজ রাশিয়ান ফেডারেশনের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ডেনিস ভেলেনটিনোভিস মানটুরোভ (উবহরং ঠধষবহঃরহড়ারপয গধহঃঁৎড়া)-এর সাথে বৈঠকে এসব কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রাশিয়ার গেজপ্রোম কোম্পানি বাংলাদেশে গ্যাস অনুসন্ধান কাজে সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের পেট্রোলিয়াম কোম্পানি রাশিয়ান কোম্পানির সাথে কাজ করছে। রাশিয়া এবং বাংলাদেশের মধ্যে চলতি বছর বাণিজ্য, অর্থনৈতিক এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) পর্যবেক্ষকের মর্যাদা পেতে রাশিয়া বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে, পূর্ণাঙ্গ সদস্য পদ লাভের বিষয়ে রাশিয়া বাংলাদেশের পক্ষেই থাকবে।মন্ত্রী রাশিয়ার শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এসময় রাশিয়া এভিয়েশন সেক্টরে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
রাশিয়ান ফেডারেশনের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মিনিস্টার সের্গেই সিভ ( ঝবৎমবু অ. ঞংুন), কৃষি মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মিনিস্টার ইফগেনি গোমিকো (ঊামবহু এৎড়সুশড়), রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাইফুল হক, কমার্শিয়াল কাউন্সিলর মো. আশফাকুল ইসলাম বাবুল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে যুবলীগের আনন্দ মিছিল

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণ ও রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের বাজেট কে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিন এর উদ্যোগে আনন্দ মিছিল, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে থেকে শুরু হয়ে জিপিও-পল্টন মোড় হয়ে পুনরায় যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট এর নেতৃত্বে আনন্দ মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক মিজানুল ইসলাম মিজু, কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুল ইসলাম হাওলাদার, ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণ সহ-সভাপতি মাইনউদ্দিন রানা, সোহরাব হোসেন স্বপন, সারোয়ার হোসেন মনা, আনোয়ার ইকবাল সান্টু, কামাল উদ্দিন খান, এনামুল হক আরমান, মোরসালিন আহমেদ, যুগ্ম-সম্পাদক জাফর আহমেদ রানা, ওমর ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সারোয়ার হোসেন বাবু, মাকসুদুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক এমদাদুল হক এমদাদ সহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ানের নেতৃবৃন্দ।

জনগণের বাক স্বাধীনতা কোথায় ? ঐক্যবদ্ধভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। ………একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী

বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী দেশে সংবাদপত্র থাকলেও  সেখানে সব সত্য কথা লেখার অধিকার নেই মন্তব্য করে জাতির মুক্তির জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আজ সংবাদপত্র ও জনগণের বাকস্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু কোথায় জনগণের বাক স্বাধীনতা?
বদরুদ্দোজা চৌধুরী বৃহস্পতিবার [১লা জুন’১৭] সকালে  জাতীয় প্রেসক্লাব কনফারেন্স লাউঞ্জে দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সবুজবাংলাটোয়েন্টিফোরডটকম (www.Shabujbangla24.com) -এর ৪র্থ বর্ষপূর্তি ও ৫ম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষ্যে ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
আজো সাগর-রুনি হত্যার বিচার হয়নি বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কোনো এক জুন মাসেই চারটি সংবাদপত্র রেখে সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এখন সংবাদপত্র থাকলেও সেখানে সত্য কথা লেখার অধিকার আছে কী?
তিনি বলেন, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। তা না হলে এ জাতির মুক্তি নেই।
তিনি সব ভেদাভেদ ভুলে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলার জন্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রোজা আমাদের তাকওয়া অর্জন করতে শেখায়। রোজার মাসে আমরা আমাদের চরিত্র গঠনের যেটুকু সময় পাই সেটুকু সময় যথেষ্ট নয়। সুতরাং সারা বছরই নিজেদেরকে গঠন করতে হবে।
সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রের উন্নয়নে দেশে সর্বোচ্চ শিক্ষিত ও যারা কাজ করে তাদেরকে দায়িত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে এদেশের শিক্ষামন্ত্রী তিনিই হবেন যিনি ব্যক্তিগত জীবনে চরিত্রবান, সুশিক্ষিত এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে সব বিষয়ে জানেন ও বোঝেন। আমরা যদি এই খাতটাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত ধরে এগিয়ে যেতে পারি তা হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম আরো অনেক কিছু করতে পারবে।
সবুজবাংলাটোয়েন্টিফোরডটকমের প্রধান সম্পাদক আব্দুল্লাহিল মাসুদের সভাপতিত্বে এবং পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় উক্ত  উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চু, প্রফেসর ড. সুকোমল বড়–য়া, বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা, জিয়া পরিষদের মহাসচিব প্রফেসর ড. মো: এমতাজ হোসেন, এনডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, আলহাজ্ব আবদুর রহমান, হুমায়ূন কবির বেপারী, আবুল কালাম আজাদ এডভোকেট মো: আল-আমিন, কে.এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমূখ।

ঝিনাইদহে চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে আটকে মুক্তিপণ দাবী

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ঝিনাইদহ সরকারী কেসি বিশ্ববিদ্যায় কলেজের অনার্সের ছাত্র সালমান হোসেন (১৭) কে চাকরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর প্রায় আড়াই মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে ফেরৎ পেতে মুক্তিপণ দাবী করা হচ্ছে। দুই লাখ টাকা দিলে সালমানকে ফেরৎ দিবে বলে ০১৯৯৮-৬২০৮৮১ নাম্বারের মোবাইলে জানানো হচ্ছে। এদিকে মেধাবী ছেলের শোকে একটি পরিবার পথে বসেছে। সালমান হোসেন ঝিনাইদহ শহরের হামদহ ঘোষপাড়ার অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক কায়কোবাদের ছেলে। গত ১৯ মার্চ তাকে চাকরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায় মাগুরা জেলার ভোলাাথ গোবিন্দপুরের রুহুল আমিনের ছেলে সুজন (২৭) ও তার বোন রোজিনা খাতুন (৩৫)। এ ঘটনায় সালমানের পিতা কায়কোবাদ ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি জিডি করেছেন, যার নং ১১৪৮। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে সুজন ও তার বোন রোজিনা সন্ত্রাসী ও প্রতারক। পতিবেশির আত্মীয় হওয়ার সুবাদে আমার ছেলে সালমান তাদের সাথে কথা বলতো। এক পর্যায়ে তাদের ফাঁদে পড়ে সালমান। সালমানকে চাকরীর টোপ দেয় সুজন ও তার বোন রোজিনা। এ জন্য ৩ লাখ টাকা দাবী করে।সালমান সরল ভাবে তাদের কথায় বিশ্বাস রেখে গত ১৯ মার্চ বাড়ি থেকে গরু বিক্রির এক লাখ ২০ হাজার টাকা ও ৩ ভরি গহনা নিয়ে গোপনে তাদের সাথে চলে যায়। অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক কায়কোবাদ জানান, সুজন ও তার বোন আমার ছেলেকে ফেরৎ না দিয়ে আটকে রেখে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করছে। থানায় জিডি করার পরও আমি প্রতিকার পাচ্ছি না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ঘূর্ণিঝড় মোরা’র তান্ডবে ৫ সহস্রাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্থঃ বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ


ইমরান জাহেদ, কক্সবাজার।
গত মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল ১১ টা পর্যন্ত বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় মোরা’র তান্ডবে উখিয়ায় প্রায় ৫ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দাবী করছেন। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে অসহনীয় দূর্ভোগ। পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম বলছেন, আগামী কয়েক মাসেও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করে আনা কঠিন হয়ে পড়বে। এদিকে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীসহ, ব্যাংক বীমা, সরকারি অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার মধ্যরাতের পর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা বিদ্যুৎ সংযোগ গতকাল বুধবার দুপুর ২ টার দিকে উপজেলা সদরের কিছু অংশে পুন:সংযোগ দেওয়া সম্ভব হলেও তা নিরবচ্ছিন্ন নয়।
গত মঙ্গলবার ভোর ৪ টার দিকে ঘূর্ণিঝড় মোরা’র তান্ডব শুরু হয়ে সকাল ১১ টা পর্যন্ত ব্যাপক ক্ষতি করে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। উখিয়া প্রেস ক্লাব কার্যালয়ের উপর গাছ উপড়ে ও ভেঙ্গে পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে আসবাবপত্র ও সরঞ্জামাদি খোলা আকাশের নিচে থাকায় বৃষ্টি ও রোদে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে প্রেস ক্লাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন। এসময় থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত, ঝড়ো ও ধমকা হাওয়ার তোড়ে গাছপালা ভেঙ্গে ৫শতাধিক কাচাঁ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বসতবাড়ির ছাউনি ঘেরাবেড়া উপড়ে গিয়ে আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় ২ সহ¯্রাধিক বাড়িঘর। এসময় আত্মরক্ষার্থে নিরাপদ স্থানে পৌঁছার জন্য এদিক সেদিক ছুটাছুটি করতে গিয়ে আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক লোকজন।
বালুখালী পানবাজার এলাকায় সড়কের উপর গাছপড়ে প্রায় আট ঘন্টা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। পড়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরীর সহায়তায় গাছটি সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হলে যানবাহন চলাচল সচল হয়। এদিকে ডেইলপাড়াসহ উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে পড়ার কথা স্বীকার করে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম সালাহ উদ্দিন মোহাম্মদ জোয়ারদার সাংবাদিকদের জানান, পুরো উখিয়া উপজেলায় গাছ পড়ে ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটি ও তাঁর ছিড়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। তিনি বলেন, আগামী কয়েকমাসেও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তবে পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীরা দিনরাত পরিশ্রম করছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী জানান, অর্থকরী ফসল পান সুপারি উৎপাদনে অন্যতম এলাকা তার ইউনিয়নে প্রায় তিন হাজারের মত কাঁচাঘর বাড়ি আংশিক ও পুরোপরি বিধ্বস্ত হয়েছে। এসময় হাজারেরও অধিক পানের বরজ ও সুপারি গাছ ভেঙ্গে গেছে। তিনি জানান, উপকূলীয় এলাকা হওয়ার সুবাধে জালিয়াপালং ইউনিয়নের অধিকাংশ পরিবার বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এভাবে হলদিয়া পালং, রতœাপালং ও রাজাপালং ইউনিয়নে প্রায় ৫শতাধিক ঘরবাড়ি আংশিক ও পুরোপরি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নিকট প্রদত্ত তালিকা সূত্রে জানা গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আহসান উল্লাহ জানান, উখিয়া উপজেলার জন্য তিন টন চাল বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান, উপকূলীয় এলাকায় প্রশাসন তৎপর ছিল বিধায় জানমালের তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও পুরো উপজেলায় অধিকাংশ পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তিনি ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত তালিকা জেলা প্রশাসক বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছে।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org