Category: ক্রাইম রিপোর্ট

বোমা বিষ্ফোরণে ১ জঙ্গি নিহত ভালুকায় ২ শিশুসহ আটক ৭

ইতি শিকদার, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকায় বোমা বিষ্ফোরণে এক জঙ্গি নিহতের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ও ২শিশুসহ ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। জানা যায়, (২৭আগষ্ট) রোববার বিকাল ৬ টার দিকে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের কাঁশর গ্রামের আজিম উদ্দিনের বাড়ীর ভাড়াটিয়া তেলকুপি, নাটোর সদর এলাকার আবুল কালাম প্রামানিকের ছেলে আলম প্রামানিক (৩৮) বোমা বানানোর সময় বোমা বিষ্ফোরিত হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ঘটনার পর পর তার স্ত্রী পারভীন (২৮) সকলের অলক্ষ্যে দুই শিশু সন্তান ইব্রাহিম (৭) ইছাহাক (৮মাস) কে নিয়ে ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ হবিরবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহাম্মেদ বাচ্চুর সহায়তায় তাদেরকে রাস্তা থেকে আটক করে। এ ঘটনায় বাড়িওয়ালা আজিম উদ্দিন (৪৮), তার স্ত্রী ফাতেমা (৪০), তার ছেলে আসিফ (২৫) ও হাসান (১৫) কে আটক করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সোমবার (২৮আগষ্ট) দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ঢাকা থেকে আসা বোম ডিসপোজাল ইউনিট, পুলিশ, র‌্যাব, পিবিআই, সিআইডি, ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল টিম ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে। এ সময় বোমা ডিসপোজাল টিম নিহতের ঘর থেকে উদ্ধার করা ১টি গ্রেনেট,২টি প্রেসার কুকার বোমা ও বড় ১টি বোমা নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়। নিহতের ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম ঘটনার বিররণ দিয়ে সাংবাদিকদের জানান-নিহত আলম প্রামাণিক জঙ্গী তৎপরতায় সম্পৃক্ত,সে ভালুকার কাশরে গত ৭দিন আগে এই বাড়ীটি বাড়া নেয়। এ এলাকায় ১০হাজার লোকের অংশ গ্রহনে বড় ঈদের জামাত হয় সেখানে হামলা বা তৈরী বোমা অন্য কোথাও স্থানান্তর করার পরিকল্পনা ছিল বলে ধারনা করা হচ্ছে। ভালুকা মডেল থানার ওসি মামুন অর রশিদ জানান, নিহত আলম প্রামানিক রাজশাহী নাটোরে মোষ্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা, সে ৫দিন আগে ঐ বাসাটি ভাড়া নেন।

বরগুনা জেলায় শিক্ষিকা ধর্ষণের প্রতিবাদে নবীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

ছনি চৌধুরী, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
“শিক্ষক সুরক্ষা আইন চাই” এই দাবী’কে সামনে রেখে বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার উত্তর করুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে ধর্ষণের প্রতিবাদে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্টিত হয়েছে। সোমবার বিকালে উপজেলার নতুন বাজার মোড়ে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামীম আহমেদ চৌধুরী’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর পরিচালনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ-সভাপতি কৃপেশ চন্দ্র দাশ, সাবেক সভাপতি দীপ্তেন্দু নারায়ণ রায়, ভবানী শংকর ভট্টাচার্য, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবেল মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর বখত চৌধুরী, ফনী ভুষণ রায়, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সমীরণ কিশোর দাশ, আব্দুল মজিদ, সুজিত চন্দ্র দাশ, রাজীব দাশ, আব্দুল মতিন, পলাশ রতন দাশ, কামরুজ্জামান চৌধুরী অপু, যুগ্ম সম্পাদক সমীরণ দে সহ বিভিন্ন প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির নেতারা শিক্ষক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন এবং সারা দেশে শিক্ষক-শিক্ষিকা নির্যাতনের সুষ্ঠ বিচার নিশ্চিত করনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

পীরগঞ্জে ২৯ কোটি টাকার কাজ ১৯ কোটি টাকায়! দুর্নীতি, নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার, ধ্বসে যাচ্ছে সড়ক!

মামুনুররশিদ মেরাজুল, পীরগঞ্জ (রংপুর) থেকে ঃ
রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে সাদল্লাপুর-মাদারগঞ্জ-পীরগঞ্জ-নবাবগঞ্জ সড়কের বর্ধিতকরণ ও কার্পেটিংয়ের শেষ না হতেই সড়কটির অনেক অংশে ফাঁটল ধরেছে, ধ্বসেও গেছে। সড়কটির টেন্ডারে প্রাক্কলিত মুল্য ছিল প্রায় ২৯ কোটি টাকা। কিন্তু সেটি প্রায় ১০ কোটি টাকা কমে ১৯ কোটি টাকায় কাজটি করায় শুরু থেকেই দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার ও কাজে ঘাপলার ফলে সড়কের বেহালদশা হয়েছে। রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ইতিমধ্যেই উল্লেখিত সড়কটির ৮৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন দেখিয়েছে।
রংপুর সওজ সুত্র জানায়, রংপুর সড়ক জোনের অধীনে গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার সাদুল্লাপুর-মাদারগঞ্জ-পীরগঞ্জ-নবাবগঞ্জ সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীতকরনে এডিপি’র অর্থায়নে ২ টি গ্রুপে ৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। ১নং গ্রুপে ১ কি. মি থেকে ২৪ কি. মি এবং ২নং গ্রুপে ২৪ কি. মি থেকে ৪৫ দশমিক ৩’শ কি. মি পর্যন্ত এলাকা বলে জানা গেছে। ওই টেন্ডারে উল্লেখিত সড়কের উভয়পার্শে¦ বর্ধিতকরণ, সাববেজ (খোয়া-বালির মিশ্রন), বেষ্ট টাইপ-১ (পাথর-বালির মিশ্রন) ও কার্পেটিংয়ের কাজ হওয়ার কথা। ২নং গ্রুপে ২১ দশমিক ৩’শ কি. মি সড়কের কাজে প্রাক্কলিত মুল্য ছিল প্রায় ২৯ কোটি টাকা। সড়কটির পীরগঞ্জের উজিরপুর থেকে ওয়াজেদ ব্রীজ পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কি. মি এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা পর্যন্ত ৭ দশমিক ৮’শ কিমি রয়েছে। সড়কটির উভয়পাশে ৯ কি. মি বর্ধিত করে মোট ১৮ ফুট প্রশস্ত করা হবে। ওই সড়কের দুটি গ্রুপে দাখিলকৃত টেন্ডারে বিধি উপেক্ষা করে ১০ শতাংশের বেশী নি¤œ দর দেয়ায় ১নং গ্রুপের টেন্ডার বাতিল করে সেটির রি-টেন্ডার করা হয়েছিল। কিন্তু ২নং গ্রুপে প্রায় ২৩ শতাংশ নি¤œ দরে টেন্ডার দাখিল করা হলেও সেটির রি-টেন্ডার না করে বিশেষ কারণে ময়মনসিংহের মেসার্স শামীম এন্টারপ্রাইজকে (সাদল্লাপুর-মাদারগঞ্জ-পীরগঞ্জ-নবাবগঞ্জ সড়কের ২নং গ্রুপে ২৯ কোটি টাকা) কার্যাদেশ দেয়া হয়। এ নিয়ে রংপুরে ঠিকাদারদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। মেসার্স শামীম এন্টারপ্রাইজ কাজটির কার্যাদেশ পাওয়ার পর থেকেই নি¤œমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার, কাজে ঘাপলাসহ নানান অনিয়মের আশ্রয় নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে রংপুর সওজ’র তত্ত্বাবধানে ২নং গ্রুপে সড়কটিতে কার্পেটিংয়ের কাজ চললেও মোনাইল মোড়ের পশ্চিমে, ছাতুয়া গ্রামে, টিওরমারী (মানিক মন্ডলের পুকুর সংলগ্ন) সহ অনেক স্থানে সড়কে ধ্বসে গেছে, ফাঁটলও ধরেছে। ওই কাজের ব্যাপারে হরিনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলালুর রহমান, মোনাইল (জয়নন্দনপুর) শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন বলেন, ঠিকাদার শুরু থেকেই কাজে ঘাপলা করায় আমরা অভিযোগ করলে ওই ঠিকাদার অফিসের কর্তাবাবুদেরকে ম্যানেজ করে সড়কের কাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সুত্র জানায়, ২নং গ্রুপের ২৯ কোটি টাকার কাজটিতে প্রায় ২৩ শতাংশ নি¤œদরের কারণে মোট ৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা কমে ২২ কোটি ৩৩ লাখ টাকায় কাজটির মুল্য দাঁড়ায়। এরমধ্যে ১৩ শতাংশ টাকা ভ্যাট-ট্যাক্স বাদ দেয়ায় আরও ২ কোটি ৯০ লাখ ২৯ হাজার টাকা কমে গিয়ে ১৯ কোটি ৪২ লাখ ৭১ হাজার টাকা হয়। প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকা দিয়েই ২৯ কোটি টাকার সমমানের কাজ করতে হবে। এরমধ্যেও রংপুর সওজ এর অফিস খরচ ২ পারসেন্ট রয়েছে বলে সুত্রটি দাবী করেছে। যা উৎকোচ হিসেবে পরিগণিত। ওই উৎকোচের পরিমানও প্রায় ৩৯ লাখ টাকা। এ সব খরচ মিটিয়ে ঠিকাদারকে লাভ কিংবা ২৯ কোটি টাকা সমমানের কাজ সওজ কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিতে হবে বলে সুত্রটি জানিয়েছে।
সুত্রটি আরও জানায়, বেষ্ট টাইপ-১ কাজের ক্ষেত্রে পাথর এবং বালির মিশ্রনের পরিমান ৭ অনুপাত ৩। কিন্তু এর উল্টো অনুপাতে পাথর-বালি মিশ্রন করে সড়কে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাববেজ এর ক্ষেত্রে খোয়া-বালিও ৭ অনুপাত ৩। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ওই অনুপাতের ক্ষেত্রেও উল্টোটা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেইসাথে সড়কের উয়পাশে বর্ধিতকরণের অংশ ভালভাবে রোলারিং না করায় অনেকস্থানে দেবে যাওয়ায় ওইসব স্থানে পানি জমে আছে। কাজটির তদারকি কর্মকর্তা রংপুর সওজ’র উপসহকারী প্রকৌশলী এখলাস হোসেন জানান, প্রায় ২৩ পারসেন্ট লেস (নি¤œদর), ভ্যাট-ট্যাক্স বাদ দিয়ে ১৯ কোটি টাকায় কাজ হলেও চুক্তি অনুযায়ীই ঠিকাদারকে কাজ করতেই হবে। আমরা যথাযথভাবে কাজ বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছি। কাজের মান অবশ্যই ভাল হচ্ছে। প্রায় ১০ কোটি টাকা কম হলেও কিভাবে এই কাজ সম্পন্ন করবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ঠিকাদারের হয়তো লাভ থাকবে না। তবে এতে কোয়ানটিটি আর কোয়ালিটির ঘাটতি হবে না। তিনি আরও বলেন, পিপিআর এর নিয়ম অনুযায়ী সর্বনি¤œ রেসপনসিভ দরদাতাকে কাজ দেয়া হয়। এতে আমাদের করার কিছুই নেই। রংপুর সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম খান বলেন, আমি শুনেছি, বেশকিছু স্থানে সড়কটি ধ্বসে গেছে। এখনো কাজ চলছে। ঠিকাদার ঠিক করে দিবে। যেভাবেই কাজ হোক, সড়কটির ৩ বছর ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড রয়েছে। এরমধ্যে সড়কের কোন ক্ষতিসাধিত হলে ঠিকাদারকেই মেরামত করে দিতে হবে। পীরগঞ্জের একজন প্রথম শ্রেনীর ঠিকাদার নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ২৩ পারসেন্ট লেস আর অন্যান্য খাতের যে খরচ হয়েছে। তাতে ঠিকাদারকে অবশ্যই দুর্নীতির আশ্রয় নিতে হয়েছে। যে কাজ হয়েছে, তা বলার মতো না। নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার আর ফাঁকি দেয়ায় সড়ক ধ্বসে যাচ্ছে।

ঝিনাইদহে যৌন হয়রানীর দায়ে স্কুল শিক্ষক গ্রেফতার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পশ্চিম দুর্গাপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে স্কুলশিক্ষকের যৌন হয়রানীর প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এলাকার অভিভাবক ছাত্রীরা।এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা স্কুলে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করে।খবর পেয়ে স্কুলের সভাপতি মধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মেদ জুয়েল স্কুলে উপস্থিত হয়ে বিচারের আশ্বাস দেন।এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত  ঘটনায় জরুরিভাবে পরিচালনা কমিটির সভা চলছে।ি শক্ষার্থীদের অভিযোগ, অষ্টম শ্রেণিতে পড়য়া এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানী করে স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক রবিউল ইসলাম বাবলু। তিনি মহামায়া গ্রামের সোবাহান বিশ্বাসের ছেলে। এদিকে শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক রবিউল ইসলাম বাবলুকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। খবর এলাকায় জানাজানি হলে অভিভাবকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।সেই সাথে বিচার লম্পট শিক্ষককে স্কুল থেকে বরখাস্ত উপযুক্ত শাস্তির দাবি অভিভাবকদের।এর আগেও ওই স্কুলের শিক্ষক জহুরুল ইসলামের নামে আরেক ছাত্রীর গায়ে হাত দেয়া উত্যাক্ত করার অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে তিন মাস সাময়িক বরখাস্ত রেখে চিল্লায় পাঠিয়ে দেয়া হয় বলে কথিত আছে।একটি সূত্র জানায়, ওই স্কুলের একাধিক ছাত্রীকে হয়রানী করা হয়েছে।এদিকে পশ্চিম দুর্গাপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা বার বার নিগ্রহের শিকার হওয়ার বিষয়টি শনিবার বাজারগোপালপুরসহ এলাকায়টক অব দ্য ভিলেজেপরিণত হয়। লম্পট শিক্ষকদের বরখাস্তসহ তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে চায়ের দোকানগুলোতে সমালোচনার ঝড় ওঠে।বিষয়টি নিয়ে পশ্চিম দুর্গাপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান ছাত্রীদের বিক্ষোভ ক্লাস রুমে তালা মারার কথা স্বীকার করে জানান, উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোববার বিশেষ জরুরি সভা আহবান করা হয়েছে।বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক রবিউল ইসলাম বাবলুর ০১৭২৮০৫০৪৯৮ মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।তবে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি এমাদুল হক শেখ জানান, শিক্ষক রবিউল ইসলাম বাবলুকে থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

দুই নারী ভক্তকে ধর্ষণের দায়ে ভারতের হরিয়ানার ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংকে ১০ বছরের কারাদণ্ড

দুই নারী ভক্তকে ধর্ষণের দায়ে ভারতের হরিয়ানার ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যজুড়ে টান টান উত্তেজনা আর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সোমবার রোহতকের জেলে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।এরআগে স্থানীয় সময় বেলা ২টা ২৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে রোহতক থেকে থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের সানোরিয়া কারাগারে যান সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারক জগদীপ সিংহ। এ কারাগারে আটক আছেন ধর্মগুরু রাম রহিম। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই কারাগারে বিচার কাজ পরিচালনা করা হয়।আনন্দবাজার জানায়, ভারতের স্থানীয় সময় দুপুর পৌনে দুটো নাগাদ জেলে প্রবেশ করেন দু’পক্ষের আইনজীবীরা। এরপর আড়াইটা বাজার আগে রোহতকে পৌঁছান বিচারপতি জগদীপ সিং। বেলা আড়াইটার কিছু সময় পর থেকে শুরু হয় শুনানি। শুনানির সময় দুই পক্ষকে ১০ মিনিট করে সময় দেয়া হয়। যুক্তি তর্ক শেষ হওয়ার পর বিচারপতি সবাইকে নীরবতা পালন করতে বলেন। এরপর সাজা ঘোষণা করেন বিচারপতি।রাম রহিমের আইনজীবী দাবি করেন, রাম রহিম একজন সমাজকর্মী। তিনি জনগণের কল্যাণে কাজ করেন। তাই তার অপরাধকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখতে পারেন বিচারক।এর আগে বাদীপক্ষ রাম রহিমের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে। একপর্যায়ে রাম রহিম কান্না করে বিচারকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের প্রধান ডেরা সচ সউদা ঘিরে রেখেছে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা

গত শুক্রবার ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন ভারতের স্বঘোষিত ধর্মগুরু রাম রহিম সিং। এরপরই পাঞ্জাব-হরিয়ানায় সহিংসতা শুরু হয়। হরিয়ানার পঞ্চকুলায় রাম রহিমের ভক্তদের লাগামছাড়া সহিংসতায় নিহত হন ৩৮ জন। আহত হন ২৫০ জনের বেশি।তখন থেকেই কারাগারের আশপাশে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। সাজা ঘোষণার দিন হরিয়ানার সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। মুঠোফোনের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়। ধর্মগুরুর ভক্তরা যাতে কারাগারের আশপাশে যেতে না পারেন, সে জন্য সেখানে অবস্থান নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং হরিয়ানা পুলিশ। যে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীও প্রস্তুত। এদিকে সিরসায় রাম রহিমের প্রধান ডেরা সচ সউদে এখনো ৩০ হাজার ভক্ত অবস্থান করছেন।স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের বিরুদ্ধে প্রায় ৪০০ জন ভক্তের অণ্ডকোষ কেটে ফেলাসহ আশ্রমের ৪০/৪৫ জন তরুণীর সঙ্গে নিয়মিত যৌনাচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে। মূল অভিযোগকারিনীকে নিজের বিশেষ গুহায় ডেকে নিয়ে পাশে আগ্নেয়াস্ত্র রেখে ধর্ষণ করার অভিযোগ রয়েছে।১৯৯৯ সালে তার বিরুদ্ধে দুই শিষ্যকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। বার বার বেনামি চিঠিতে অভিযোগ পেয়ে ২০০২ সালে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই রাম রহিম সিংয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর গত শুক্রবার সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে সেই মামলায় রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

ফলোআপঃ ডিমলায় মাকে বেঁধে রেখে মেয়েকে তুলে নিয়ে ধর্ষন মামলার আলোচিত প্রধান আসামী ধর্ষক রহিম গ্রেফতার ॥

]

মহিনুল ইসলাম সুজন,ক্রাইম রিপোর্টার নীলফামারী ॥
নীলফামারীর ডিমলায় বৃদ্ধা মাকে বেঁধে রেখে মেয়ে ফেন্সি বেগমকে রাতের আধারে বাড়ি হতে জোরপুর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে তিস্তা নদীর দূর্গম চরে ধর্ষন মামলার প্রধান আসামী ও ধর্ষক আব্দুর রহিমকে(৩০) কে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। রবিবার(২৭শে আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়ার এক নম্বর বাজার হতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আব্দুর রহিম উক্ত উপজেলার ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিমলা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সাহাবুদ্দীনের নেতৃত্বে পুলিশ আলোচিত এই মামলার প্রধান আসামী রহিমকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
প্রসঙ্গতঃ ওই গৃহবধুর স্বামী রফিকুল ইসলাম ঢাকায় রিক্সা চালানোর কারনে তার অনুপস্থিতির সুযোগে গত ১৯ আগষ্ট গভীর রাতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের পশ্চিম ছাতুনামা গ্রামের ওই গৃহবধুকে তুলে নিয়ে যায় আসামীরা। এ সময় ওই গৃহবধুর বৃদ্ধা মা ফাতেমা বেগম বাঁধা দিতে গেলে তাকে আসামীরা দড়ি দিয়ে জামাতার উঠানে বেঁেধ রাখে। ঘটনার পর দিন দুপুরে ওই গৃহবধুকে তিস্তার দূর্গম চরে সংজ্ঞাহীন ও হাত বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের পর ওই গৃহবধুসহ তার মাকে প্রথমে ডিমলা হাসপাতালে ও পরে উক্ত গৃহবধুকে নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। জ্ঞান ফিরে এলে ওই গৃহবধু অভিযোগ করে আসামীদের মধ্যে দুইজন তাকে গণধর্ষন করে। তার ডাক্তারী পরীক্ষা করা হলে গণধর্ষনের আলামতও পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ওই গৃহবধুর বাবা কলিম উদ্দিন বাদী হয়ে ডিমলা থানায় একজনকে ধর্ষক উল্লেখ করে ৯জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে।
ডিমলা থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,আগামীকাল গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হবে ।

মহেশপুরে এক কৃষকের ২ বিঘা পেয়ারা বাগান কেটে দিয়েছে দূর্বৃত্তরা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃগাছের সাথে আবার কেমন শত্রুতাঝিনাইদহের মহেশপুরে এক কৃষকের বিঘা জমির পেয়ারা বাগান কেটে দিয়েছে দূর্বৃত্তরা। থানায় অভিযোগ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানাগেছে,মহেশপুর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের মাসুম বিল্লাহা ১৩৫ নং ভাটপাড়া মৌজার বাইশকুড়ো মাঠে বন্ধকী বিঘা জমিতে প্রায় মাস পূর্বে পেয়ারা বাগান করেন। ২৬ আগস্ট দিবাগত রাতে কে বা কাহারা বিঘা জমির সমস্ত পেয়ারা গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। এতে কৃষকের প্রায় লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ব্যাপারে ২৬ আগস্ট পেয়ারা বাগানের মালিক মাসুম বিল্লাহ মহেশপুর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছেন। যার নম্বর১২১৪। এলাকাবাসি আপসোস করে বলছে এরকম কাজ কোন মানুষ করতে পরে না। ওরা মানুষ না।

চাঞ্চল্যকর শিশু অপহরণ ও হত্যামামলায় কারভোগ শেষে মুজিব কোর্ট পরে এলাকায় আগমন জাতীয় শোকের মাসে ব্যান্ডপার্টি ও মটরসাইকেল শোভাযাত্রায় বরণ

মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ
মোল্লাহাটের সিংগাতী গ্রামের মৃত নওয়াব আলী চৌধূরীর ছেলে চৌধূরী নুরুজ্জামান ওরফে মিসকাত চৌধূরী চাঞ্চল্যকর শিশু অপহরণ ও হত্যা মামলায় যাবতজীবন সাজা/কারাভোগ শেষে গতকাল নিজ এলাকায় ফিরেছেন। জাতিয় শোকের মাসে গতকাল দুপুরে মুজিব কোর্ট পরিহিত মিসকাত চৌধূরীর আগমনে তার অতিতকালের সহকর্মী শেখ হায়দার মামুন ওরফে হায়দার শেখ ব্যান্ডপার্টিসহ প্রায় শতাধিক মটর সাইকেল শোভাযাত্রায় আনন্দ-উল্যাসে বরণের আয়োজন করেন। হায়দার মামুনের উক্ত আয়োজনে আ’লীগের কোন নেতা-সচেতন কোন কর্মীকে দেখা না গেলেও উৎসুক কিছু সাধারণ মানুষ যোগ দেন জাতিয় শোক উপেক্ষিত ব্যতিক্রমধর্মী উক্ত বরণ অনুষ্ঠানে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে বলেন, হায়দার-মিসকাত আবার কি তাদের পূর্বের কর্মকান্ডে ফিরে যাবে ? জাতিয় শোকের মাসে কিসের এতসব আনন্দ-উল্যাস ? ৮০’র দশক/৯০’র প্রথম দিকের ন্যায় আবার অশান্ত হয়ে উঠবে না তো এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি !
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে গোপালগঞ্জ জেলার ডুমদিয়া গ্রামের কুটি মিয়া গাজীর ছেলে ৮ম শ্রেণীর ছাত্র বিল্লাল’কে অপহরণ ও নির্মমভাবে হত্যার পর বিলের মধ্যে তার লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়। ওই সময়ের চাঞ্চল্যকর উক্ত মামলায় যাবতজীবন কারাভোগের পর সম্প্রতি মুক্তিপান মিসকাত চৌধূরী। গতকাল তিনি তার গ্রামে ফিরে আসেন।উক্ত বিষয়ে সাক্ষাতকারের জন্য হায়দার শেখের মোবাইলে বারংবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

বীরগঞ্জে অন্ডকোশ চিপে ১ যুবককে হত্যা করা হয়েছে

এন.আই.মিলন, দিনাজপুর প্রতিনিধি- দিনাজপুরের বীরগঞ্জে পরকিয়ার কারনে বিয়াইনের বাড়ী থেকে শংরার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বীরগঞ্জ থানা পুলিশ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মিরাটুঙ্গী গ্রামের শহিদুল ইসলামের বাড়ী হতে একই এলাকার আবেদ আলীর পুত্র মছির উদ্দিন (৩৮) এর লাশ ২৬ আগষ্ট শনিবার সকালে উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করেছে।
এলাকাবাসী সুত্রে জানাজায়, চট্রগ্রামে কর্মরত শহিদুল ইসলামের স্ত্রী বুলবুলি বেগমের সাথে মছির উদ্দিনের পরকিয়ার সম্পর্ক দীঘদিন ধরে ছিলো। শহিদুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে মছির উদ্দিন ঐ বাড়ীতে যাতায়াত করতো।
বুলবুলি জানায়, রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে মছির আমাদের বাড়ীতে এসে বাড়ান্দায় হাপাতে থাকে। সেবলে আমাকে খুবেই খারাপ লাগছে দয়া করে আমার বাড়ীতে সংবাদ দেন তারা আমাকে নিয়ে যাবে। তাৎক্ষনিক মছিরের বাড়ীতে সংবাদ দিলে তার পরিবারের মছিরের লাশ বাড়ীতে নিয়ে যায় এবং কিছুক্ষন পরে তা ফিরিয়ে দিয়ে যায়।
মৃত মছির উদ্দিনের ছোট ভাই মিজানুর রহমান জানায়, ২৫ আগষ্ট শুক্রবার বিকালে মছির উদ্দিন ও তার পুত্র সহেল স্থানীয় লাটের হাট বাজারে যায়, সেখান হতে আর বাড়ীতে ফিরেনি। রাত্রী সাড়ে ১২টার দিকে আমারা সংবাদ পেয়ে মছির উদ্দিনের মৃত দেহ বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে দেখি কোমর থেকে নিচে ও হাতগুলো পানি দিয়ে ধৌত করা হয়েছে। অন্ডকোষ ফুলে গেছে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন আছে। তারই প্রেক্ষিতে সে ভাইয়ের হত্যার ঘটনায় বাদী হয়ে শহিদুল ইসলামের স্ত্রী বুলবুলি (৩৫) ও পুত্র বুলবুল (২০) কে আসামী করে থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করে।
সংবাদ পেয়ে বীরগঞ্জ থানার এসআই সাইদুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল লিপিবদ্ধ করে মৃত্যু সঠিক রহস্য উৎঘাটনের জন্য লাশ ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর এম রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।
অফিসার ইনচার্জ আবু আক্কাস আহমদ সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা রের্কড করা হয়েছে।

মান্দায় আশ্রয়কেন্দ্রে মারপিট ও বন্যা দুর্গতদের বের করে দিলেন চেয়ারম্যানের ছেলে ও অনুগতরা

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় এখ নপর্যন্ত কোন ত্রাণ সহায়তা না পাওয়া ও আশ্রায় কেন্দ্রে বসবাসরত বিভিন্ন হয়রানি বিষয়ে মিডিয়ার সামনে সত্য কথা তুলে ধরায় এক নারীকে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে চেয়ারম্যানের ছেলে ও তার অনুগত লোকজন মারপিট করে সন্তানসহ বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার নুরুল্ল্যাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ পরিষদ (আশ্রয় কেন্দ্রে) এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী কোন জায়গা না পাওয়া রাতেই কাদাপানির মধ্যে তার ভাঙা বাড়িতে ফিরে মানবেতন জীবনযাপন করছেন। ওই ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, খবরটি পত্রিকায় প্রকাশ হলেও সরকার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তাকে হয়রানি করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা, গত ১৩ আগষ্ট মান্দার আত্রাই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের কয়েকটি জায়গায় ভেঙে যায়। ফলে উপজেলার বিষ্ণপুর, প্রসাদপুর,নূরুল্ল্যাবাদ, কালিকাপুর, কশব, কাশোপাড়া, মান্দা ইউনিয়নের বির্স্তণ এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে পানিবন্দী হয়ে পড়ে প্রায় দুই লাখ মানুষ। বন্যার পানিতে মাটির বাড়ি ভেঙে যাওয়ায় দক্ষিণ নূরুল্ল্যাবাদ গ্রামের অসহায় রাহেলা বেগম আশ্রয় নেন পাশ্বের নূরুল্ল্যাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ আশ্রয় কেন্দ্রে। তার মতো ৯০টি পরিবার ওই ইউনিয়ন পরিষদে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়। পরিষদের বানভাসিদের থাকা খাওয়া, পয়:নিষ্কাশন ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র অভাব দেখা দেয়। পরিষদ থেকে ওই আশ্রয় কেন্দ্র ৭০ পরিবারকে এখন পর্যন্ত ত্রাণ হিসেবে মাত্র ১০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। বাঁকি আরো প্রায় ২০টি পরিবারদের কোন সরকারি ত্রাণ দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিষদে থাকা রাহেলা বেগম, আমিনুল ইসলামসহ ত্রাণ না পাওয়া অন্যরা পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশদের অসদ আচরণে চিত্র তুলে ধরে মিডিয়ার সামনে জোরালোভাবে বক্তব্য তুল ধরেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন নূরুল্ল্যাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদের ছেলে মকবুল হোসেন। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রাহেলা বেগমকে চেয়ারম্যানের ছেলে মকবুল হোসেন, মেম্বার মোসলেম উদ্দিন ও নেতা কছিম উদ্দিন মারপিট করে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বের করে দেন। এরপর কোথায়ও থাকার জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে রাহেলা বেগম কাঁদাপানির মধ্যে তার ভাঙা বাড়িতে ফিরে যান।
ভুক্তভোগী রাহেলা বেগম বলেন, বানের পানিতে মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বাড়ি থেকে কোন কিছুই নিয়ে আসতে পারিনি আশ্রয় কেন্দ্রে। শুধু ১০ কেজি চাল পেয়েছি। আর কোন সহযোগীতা পায়নি। এ কথাটি সাংবাদিকদের বলায় আমাকে মারপিট করে বের করে দিয়েছে মকবুল হোসেন, সদস্য মোসলেম উদ্দিন ও নেতা কছিম উদ্দিন। এখন কাঁদাপানির মধ্যে রাত থেকে অবস্থান করছি মা ও ছোট বোনকে নিয়ে। অনেকেই তো ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছিল। তাদের কিছু না বলে আমাদের অন্যায় ভাবে গালিগালাজ ও মারপিট করে জোরপূর্বকভাবে বের করে দেয়া হয়। তিনিসহ অন্যরা অশঙ্কা করছেন, খবর প্রকাশ হলে তাদের উপর সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হবে।
আমিনুল ইসলাম জানান, ত্রাণ চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান তাদের ইউএনও স্যারের কাছে যেতে বলেন। এ ছাড়া পায়খানা, টিউওয়েল ব্যবহার করতে বাধা দেন গ্রাম চেয়ারম্যান, সদস্য ও গ্রাম পুলিশরা। এতে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পরিষদের গ্রাম পুলিশ বাবুল দাশ জানান, এখানে কয়েকটি বেদব মহিলা আছেন। তাদের সাথে ভালো ভাবে কথা বলে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয় না। তাই বাধ্য হয়ে তাদের বকাঝকা করতে হয়।
সদস্য মোসলেম উদ্দিন বলেন, বন্যার প্রথমে পরিষদে আশ্রয় নেয়াদের তালিকা সবাইকে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। যারা অভিযোগ করেছেন তারা হয়তো সেই তালিকার সময় তারা ছিলেন না। পরবর্তীতে বাঁকিরা কেন পেলেন না এমন প্রশ্নে তিনি তাদের তালিকা করা হয়েছে কি না তা জানা নেই। তিনি আরো বলেন, রাহেলা কেন সাংবাদিকের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করেন। এ কারণে চেয়ারম্যানের ছেলে রাতে এসে তাকে বের করে দিয়েছে। নূরুল্ল্যাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ বলেন, ত্রাণ দেয়া হয়েছে। তারা মিথ্যাবাদি। তাদের বাড়ি ঘরের পানি নেমে গেছে। তারপর ত্রাণের খাবার খাওয়ার জন্যে পরিষদ থেকে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে না। তার ছেলে কোন মারপিট করেনি বলে দাবি করে তিনি। তবে চেয়ারম্যানের ছেলে মকবুল হোসেনের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
মান্দা থানার পরিদর্শক আনিছুর রহমান জানান, এ ধরনের ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তারপরও বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নুরুজামান জানান, সরকার থেকে ত্রাণ দেয়ার জন্যে নির্দেশনা রয়েছে। তবে উপজেলা পরিষদ থেকে ত্রাণ দেয়ার কোন সুযোগ নেই। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ত্রাণ দেয়া হয়ে থাকে।
তিনি আরো বলেন, ঘটনাটির সত্যতা পেয়েছি। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যাতে কোন কেউ আশ্রায় কেন্দ্রে থাকা লোক লোকজনদের উপর এ ধরনের অত্যাচার আর না চালাতে পারেন।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org