Category: অর্থ ও বাণিজ্য

ভারতীয় গরুতে ছয়লাভ

অনলাইন ডেস্ক: যশোরে জমে উঠেছে কোরবানি পশুর হাট। তবে হাটগুলোতে দেশি খামারের গরুর পাশাপাশি লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে ভারতীয় গরু। এতে গরুর দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি চরম হতাশায় ভুগছেন খামারিরা। হাটগুলোতে দেখা গেছে ভারতীয় গরুর আধিক্য। এ কারণে পশুর দাম অনেক কম হওয়ায় খুশি ক্রেতারা।গত কয়েক বছর ধরেও ভারত থেকে গরু আসা প্রায় বন্ধ হওয়ায় যশোরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠে হাজার হাজার পশুর খামার। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখেই এসব খামারে বাণিজ্যিকভাবে মোটাতাজাকরণ করা হয় গরু।গত দু’বছর কোরবানির পশুর হাটে খামারের গরুর আধিক্যই ছিল বেশি। কিন্তু এবার চিত্র একটু ভিন্ন। দেশি খামারের গরুর পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে হাটে উঠছে ভারতীয় গরু। এতে লোকসান আতংকে খামারীরা।হাটগুলোতে ভারতীয় ও খামারি গরুর আধিক্যের কারণে দাম অনেকটা কম বলে জানালেন ক্রেতারা। সরবরাহ বাড়ায় ছাগলের দামও তুলনামূলক কম।এদিকে সুস্থ পশুর নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করতে হাটগুলোতে তৎপর রয়েছেন বলে জানান যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভবতেষ কান্তি সরকার।যশোর জেলায় মোট ২১টি স্থায়ী পশু হাট রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় আরো ১০টি  অস্থায়ী হাট গড়ে উঠেছে।

মসলার দাম উর্ধমুখী

ঈদুল আজহা এলেই বাড়ে মসলার কদর। ঈদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দাম। এবারের ঈদেও হয়নি এর ব্যতিক্রম। বাজারে বেড়েছে এলাচ ও জিরার দাম। দাম বাড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
সরেজমিন কারওয়ান বাজার, মহাখালী, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী এবং সায়েদাবাদসহ রাজধানীর বিভিন্ন মসলা বাজার ঘুরে দেখা যায়, সব বাজারেই বেড়েছে এলাচ ও জিরার দাম। এ ছাড়া মার্কেটে এখনো তেমন ভিড় নেই। টুকটাক কেনাকাটা চলছে। তবে ঈদের তিন দিন আগে থেকে বিক্রি বাড়বে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি ইন্ডিয়ান এলাচের দাম ছিল ১২৫০ টাকা, যেটা বেড়ে হয়েছে ১৩৮০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ১৩০ টাকা। এ ছাড়া প্রতিকেজি আমেরিকান এলাচের দাম ছিল ১৪৫০ টাকা, যেটা এখন ১৬৫০ টাকা। অর্থাৎ, দাম বেড়েছে ২০০ টাকা।
এ ছাড়া জিরার বাজার ঘুরে দেখা গেছে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিকেজি ইন্ডিয়ান জিরার দাম ছিল ৩২০ টাকা, যেটা এখন বেড়ে হয়েছে ৩৭০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা। আর সিরিয়া থেকে আমদানিকৃত জিরার দাম ছিল ৩৪০ টাকা, যেটা বেড়ে হয়েছে ৪০০ টাকা। অর্থাৎ দাম বেড়েছে ১৬০ টাকা।
তবে গোলমরিচ, ধনিয়া, দারুচিনি এবং লবঙ্গসহ মসলা-জাতীয় পণ্যের চাহিদা বাড়লেও দাম তেমন বাড়েনি।
কারওয়ান বাজারের মসলা ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, এলাচ ও জিরার দাম বেড়েছে। প্রতিবারই ঈদের আগে দাম বাড়ে। এ ছাড়া ডলারের দাম বাড়লেও এসব পণ্যের দাম বাড়ে। এলাচ কেজিতে সর্বোচ্চ ২০০ এবং
জিরা বেড়েছে ১৬০ টাকার মতো।তিনি বলেন, ঈদুল আজহায় মসলা সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। বাজার এখনো তেমন জমে ওঠেনি। ঈদের তিন দিন আগে থেকে বিক্রি বাড়বে। তখন নিঃশ্বাস ফেলার সময় থাকবে না।
কারওয়ান বাজারে মসলা কিনতে আসা রোজি বেগম জানান, ঈদের জন্য মসলা কিনতে এসেছি। মসলার জন্য কারওয়ান বাজার ভালো। সবসময় এখান থেকেই কিনি।দাম বাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কোরবানির ঈদ এলেই মসলার দাম বেড়ে যায়। এর ভুক্তভোগী হয় জনগণ। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সরকারের যে বাজার নিয়ন্ত্রণ সেল রয়েছে, তাদের উচিত বিষয়টি দেখা।
শুধু কারওয়ান বাজার নয়, মহাখালী কাঁচাবাজারে গিয়ে মিলেছে একই চিত্র। সেখানে দেখা গেছে, বাজারে বেড়েছে এলাচ ও জিরার দাম।মহাখালী কাঁচাবাজারের মসলা ব্যবসায়ী হুমায়ুন জানায়, কোরবানির ঈদ এলেই এলাচ ও জিরার দাম বাড়ে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।মার্কেটে জিরা কিনছিলেন আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ঈদ এলেই মসলার দাম বাড়ে। এ আর নতুন কী, সব বিপদেই আমাদের সরকারের কিছুই করার নেই।
এ বিষয়ে কারওয়ান বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বাবুল মিয়া জানান, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে কোরবানির ঈদে গরম মসলার চাহিদা কয়েক গুণ বাড়ে, তাই দামও বেড়ে যায়। দেশের বাজারে মসলার দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নির্ধারিত হয়।

পীরগঞ্জে বন্যা ,বানে ধান খাইছে, ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা বানভাসীদের

মামুনুররশিদ মেরাজুল, পীরগঞ্জ (রংপুর) থেকে ঃ
দুরদুরান্তে আশ্রয় নেয়া বন্যার্তরা পানি কমার সাথে সাথে নৌকাযোগেই তাদের বাড়ীঘরে ফিরছে। গ্রামের রাস্তাগুলো এখনো পানিতে ডুবে আছে। চারিদিক থেকে বন্যার কারণে আবাদী ফসল আর রবি শষ্যের ক্ষেত পচে যাওয়ায় দুর্গন্ধ আসছে। নাক চেপে নৌকায় করে বন্যার্তদের অবস্থা দেখতে গিয়ে কাছে যেতেই শোনা গেল, বানে হামার ধান খালো। ঈদের আনন্দও খাইবে। তাবোত ধান পানিত পচি যাওয়ায় এখন বেচনোর (ধানের চারা) অভাবে ধান গাড়বার পারোছি না। হামার কপালোত ঈন্দুর নাগছে। আবাদের ক্ষতি এক বছরেও পোষে উঠপ্যার পারবালাই, হামরা ক্যাংকরি ঘুরি দাঁড়ামো বলেই হতাশার সুরে কথাগুলো বললেন বানভাসি গোফফার মিয়া। তিনি উপজেলার চতরা ইউনিয়নের মাটিয়াল পাড়ার বাসিন্দা। উপজেলার চতরা ইউনিয়নের ২৪ মৌজার মধ্যে ১৯টিই বন্যায় কবলিত। কয়েকদিনের বন্যায় পচে গেছে ধান, পাট, ভুট্টা, কলা, মরিচ, পটল, করলা, বেগুন, কচুসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। এ সময় উপস্থিত কুয়াতপুরের বুদু মিয়া, আজাহার, কুমারপুরের শফিকুল, মাটিয়ালপাড়ার কালাম, ঘাসিপুরের নুরুন্নবীসহ কয়েকজন জানান, হামার খাওয়াই সমস্যা, গরু-বকরির (ছাগল) কি করমো ! ঘাস-পাতার অভাবে গরু-বকরি গুলাও কম দামে বেঁচি জীবন বাঁচাওছি। বন্যায় বেশ কয়েক একর নেপিয়ার ঘাসের ক্ষেত পানিতে পচে যাওয়ায় গরুর খাবারের অভাবে অনেকেই কমদামে গবাদিপশু বিক্রি করছে। তারা আরও বলেন, কৃষি সহায়তা না দিলে আবাদ করা যাবা নায়। চতরা হাটোত বেছনের (ধানের চারা) যে দাম। ট্যাকাও নাই, আবাদ করাও যাবা নায়। উপজেলার টুকুরিয়া, কাবিলপুর ইউনিয়নেও বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়েছে। টুকুরিয়া ইউনিয়নটি বন্যায় বেশী ক্ষতি হলেও তাদের পাশে ত্রান নিয়ে খুব লোকই গেছে। কারণ ওই ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা বন্যার্তদের জন্য ভুমিকা না রাখায় সামাজিক সংগঠনগুলো ত্রাণ নিয়ে যেতে পারেনি বলে তরফমৌজার মৃত. শংকরাম দাসের স্ত্রী বিন্নো বালাসহ বন্যার্তরা ক্ষেদোক্তি করেছেন। ইউনিয়নটির আ’লীগ নেতা হেলালুর রহমান বলেন, আমিই ব্যক্তি উদ্যোগে তরফমৌজা, রামকানুপুর ও জয়ন্তীপুরে বানভাসীদের ত্রান দিয়েছি। সেখানে চেয়ারম্যান বা আ’লীগের নেতারা যায়নি। সেখানে প্রায় ২ হাজার মানুষ পানিবন্দী।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, উপজেলায় চলতি মওসুমে ২২ হাজার ২৫০ হেক্টর আমন ক্ষেতের মধ্যে ৭ হাজার ৫’শ হেক্টর জমি বন্যায় বিনষ্ট হয়েছে। এরমধ্যে টুকুরিয়া ও চতরা ইউনিয়নে ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ করে এবং কাবিলপুরে প্রায় ৯০ ভাগ আমন ক্ষেত পচে গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমীর চন্দ্র ঘোষ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের তালিকা করা হয়েছে, আগামীকাল সোমবার স্থানীয় সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর মাধ্যমে কৃষি সহায়তা প্রদান করবেন। তিনি বন্যা এলাকা পরিদর্শনের জন্য কাবিলপুর ও চতরা ইউনিয়নে আসবেন। উপজেলা পিআইও অফিস সুত্রে জানা গেছে, এবারের বন্যায় টুকুরিয়া ইউনিয়নের মানুষ বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়া ৫০ মে. টন চালের মধ্যে টুকুরিয়ায় সাড়ে মে. টন, চতরায় ৮ মে. টন এবং কাবিলপুরে ৯ মে. টন চাল বিতরন করা হয়েছে। অপরদিকে উপজেলার চতরা বিজ্ঞান ও কারিগরি কলেজের পক্ষ থেকে বন্যার শুরু থেকেই বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তাদের মতো প্রতিদিনই সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ সমাজসেবীরা স্ব উদ্যোগে ত্রান সহায়তা নিয়ে আসছেন। এরমধ্যে লক্ষীপুরের রায়পুর কাজী বাড়ীর কুয়েত প্রবাসী কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল নিজস্ব তহবিল থেকে বন্যার্তদের জন্য ৫০ লাখ টাকার ঈদ সহায়তা প্রদান করেছেন। চতরা ইউপির চেয়ারম্যান এনামুল হক প্রধান শাহীন বলেন, পানি কমছে, পাশাপাশি দুর্ভোগও বাড়ছে। কৃষকদেরকে কৃষি সহায়তা দিতে আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি। স্থানীয় এমপি ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাদেরকে সহায়তা দিবেন। চতরা বিজ্ঞান ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রব জানান, বন্যা এলাকায় লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ইউনিক গ্রুপের পক্ষ থেকে রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। উপজেলা আ’লীগের সম্পাদক মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম বলেন, আমরা বন্যার্তদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সরকারী-বেসরকারী ভাবে সহায়তা প্রদান করছি, করবো।

দিনাজপুরে বিএমএ’র আয়োজনে বন্যাদূর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

 


এন.আই.মিলন, দিনাজপুর প্রতিনিধি- বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কোন মানুষ না খেয়ে থাকবে না। দিনাজপুরের বন্যাদূর্গত মানুষদের পাশে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের সকল প্রকার সহায়তা দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। উলে¬¬খ করে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি বলেছেন, যাদের ঘর বাড়ি ভেঙ্গে গেছে তাদের ঘরবাড়ী নির্মাণ, রাস্তা ও অন্যান্য স্থাপনা ইতোমধ্যে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ধানের বীজ, গো-খাদ্য ও মাছের পোনা বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে।
২৫ আগষ্ট শুক্রবার দিনাজপুর সদর উপজেলার ৮নং শংকরপুর ইউনিয়নের বড়াইপুর গ্রামে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে বন্যাদূর্গত মানুষদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি আরো বলেন, বন্যাদূর্গত কোন মানুষ না খেয়ে থাকবে না এ লক্ষে সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ সকল ঘরবাড়ী নির্মাণ করে দেয়া হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের উন্নয়ন ও সহায়তায় যা যা করা দরকার সবই করবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএমএ কেন্দ্রীয় কমিটর সভাপতি ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। এসময় উপস্তিত ছিলেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিব)’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডাঃ উত্তম কুমার বড়–য়া, বিএমএ’র কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি ডাঃ ওয়ারেশ আলী সরকার, সাধারণ সম্পাদক ডাঃ বিকে বোস, সিভিল সার্জন সাঃ মওলা বকস, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ইমদাদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন, ৮নং শংকরপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহ জামাল সরকার, শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউয়িনয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক চৌধুরী প্রমুখ।

বীরগঞ্জে সততা ষ্টোরের উদ্বোধন করেন ইউএনও
এন.আই.মিলন, দিনাজপুর প্রতিনিধি- দিনাজপুরের বীরগঞ্জে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে সততা ষ্টোরের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেন দুর্নীতি দমন কমিশনের আর্থিক সহযোগিতায় ২৬ আগষ্ট শনিবার সকালে বীরগঞ্জ ইব্রাহিম মেমোরিয়াল শিক্ষা নিকেতন প্রঙ্গনে সততা ষ্টোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভপতি আলহাজ্ব মঈন উদ্দিন আহাম্মেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমন্বিত দিনাজপুর জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক মোঃ আব্দুল করিম, ইব্রাহিম মেমোরিয়াল শিক্ষা নিকেতনে ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এ্যাডঃ মোঃ হামিদুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক মোঃ মোসলেম উদ্দিন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আবু হুসাইন বিপু।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারন সম্পাদক বীরগঞ্জ সরকারী ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবু সামা মিয়া ঠান্ডু, সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা এমএ খালেক, বিমল চন্দ্র দাস, নির্বাহী সদস্য-ইয়াকুব আলী বাবুল, সাংবাদিক আবেদ আলী ও অন্যরা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারী শিক্ষক মোঃ সায়েম ও প্রভাসক নজরুল ইসলাম খান বুলু।

অর্ধকোটি টাকার ত্রাণ নিয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে মালয়েশিয়া প্রবাসিরা

মোস্তফা ইমরান রাজু, মালয়েশিয়া থেকে: দেশের উত্তরাঞ্চলে বানভাসি মানুষের সহযোগীতায় এগিয়ে এসেছে মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীরা। মালয়েশিয়া প্রবাসী বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা মুল্যের ত্রাণ সংগৃহীত হয়েছে যার কিছু ইতোমধ্যে বিতরন করা হয়েছে চলছে আরো ত্রাণ সংগ্রহের কাজ।
বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেয় মালয়েশিয়াস্থ বেশ কয়েকটি দল ও সংগঠন। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে ত্রাণও দেয়া হয়েছে।
গেলো পনের-ই আগষ্ট মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে দশ লক্ষ টাকা মুল্যের ত্রাণ দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। এ প্রসঙ্গে মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সভাপতি মকবুল হোসেন মুকুল বলেন, দেশ কিংবা প্রবাস যেখানেই থাকি না কেনো দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপি’র মালয়েশিয়া শাখার পক্ষ থেকে দশ লক্ষ টাকার ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়া বিএনপি’র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার বাদলুর রহমান খান।
এদিকে দিনাজপুর ও রংপুরে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটি অব জোহর। মালয়েশিয়া প্রবাসী আরজু শেখ জনি’র নেতৃত্বে চব্বিশ আগষ্ট সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা পরিমানের ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
বেশ জোরেসোরে ত্রাণ সহযোগীতার জন্য তহবিল সংগ্রহে নেমেছে মালয়েশিয়াস্থ চাঁদপুর সমিতি। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা জানান, এখনও পর্যন্ত এগারো লক্ষ টাকা সংগৃহীত হয়েছে, আশা করছি পনেরো লক্ষ টাকা মু্ল্যের ত্রাণ নিয়ে আমরা দুর্গত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবো।
বাংলাদেশী অধ্যুষিত কোতারায়ায় যুবকদের নিয়ে গঠিত সংগঠন ‘আমরা প্রবাসী যুবসংঘে’র সভাপতি হারুন রশিদ মিয়াজি জানান ত্রাণের জন্য এখন পর্যন্ত আড়াই লক্ষ টাকা সংগৃহীত হয়েছে। সাধারণ প্রবাসীরা যে যেভাবে পারছেন আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। তহবিল সংগ্রহ এখনও চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া মালয়েশিয়াস্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতি’র সভাপতি নাজমুল ইসলাম বাবুল জানান তাদের উদ্যোগে চলছে ত্রাণের জন্য অর্থ সংগ্রহের কাজ। খুব শিগগির-ই দুর্গত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশ স্টুডেন্ট ইউনিয়ন মালয়েশিয়া (বিএসইউএম) উদ্যোগ নিয়েছে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। ‘প্রাণের জন্য ত্রাণ’ শিরোনামে চলছে ত্রাণ সংগ্রহ। সংগঠনটির সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, মালয়েশিয়ায় অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসেছেন। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগীতা করছেন।

 

দেশে বন্যার পরে লক্ষ লক্ষ টন আলু মজুদ। দিশে হারা কৃষক

দেশের ৩৯০টি হিমাগারে থাকা প্রায় ৪০ লাখ টন আলু এখন কৃষকের গলার ফাঁস হয়ে দেখা দিয়েছে। বাজারে তেমন চাহিদা না থাকায় এবং কাক্সিত হারে রফতানি না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ কৃষক এবং হিমাগার মালিক। আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে ব্যর্থ হয়ে গত কয়েক বছরে বন্ধ হয়ে গেছে ৩৩টি হিমাগার। হতাশ কৃষক ও হিমাগার মালিকের অপমৃত্যুর খবর আসছে প্রতিনিয়তই। আশঙ্কা দেখা দিয়েছে আসন্ন মওসুমে আলু চাষে কৃষকের আগ্রহ নিয়েও। সরকারের পক্ষ থেকে গরিব কৃষকদের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিলেই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দেশে আলু উৎপাদিত হয়েছিল ৮০ লাখ টন। এ উৎপাদন চলতি বছর এক কোট্রি ছাড়িয়ে গেছে। অথচ আলুর চাহিদা ও ব্যবহার মোটেই বাড়েনি। ফলস্বরূপ দেশের ৩৯০টি হিমাগারে এখনো অবিক্রীত অবস্থায় রয়ে গেছে ৪০ লাখ টন আলু। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, হিমাগার থেকে আলু বিক্রির যে গতি তাতে বর্তমান মওসুমের যে ৪ মাস বাকী আছে তাতে ১৫ থেকে ২০ লাখ টন অবিক্রীত থেকে যাবে। সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বেন দেশের লাখ লাখ প্রান্তিক আলুচাষি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অল্প সময়ে অধিক উৎপাদন হয় বলে আলু চাষে লাভ অপেক্ষাকৃত বেশি। প্রতি একর জমিতে যেখানে মাত্র ২০ থেকে ২৫ মণ চাল উৎপন্ন হয় সেখানে আলু উৎপন্ন হয় ২৫০ থেকে ৩০০ মণ। ফলে গত কয়েক বছর ধরে কৃষকেরা অধিক হারে আলু উৎপাদনের দিকে ঝুকছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় উৎপাদনও হচ্ছে বেশ। এক সময় কেবল মুন্সিগঞ্জ এলাকায় আলুর বাম্পার উৎপাদনের কথা প্রচার থাকলেও বর্তমানে রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের প্রায় প্রতিটি এলাকায় আলুর উৎপাদন বেড়েছে।

ওয়ার্ল্ড পটেটো কাউন্সিলের হিসাব অনুযায়ী, আলু উৎপাদনে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে সপ্তম এবং এশিয়ায় তৃতীয়। তবে রফতানির দিক থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশ থেকে আলু রফতানি হয়েছে মাত্র ৪৫ হাজার মেট্রিক টন। রফতানিকারকদের কাছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবহন না থাকায় আলু রফতানি অলাভজনক এবং ঝুঁকিপূর্ণ। পচনশীল পণ্য হওয়ায় উৎপাদন মওসুমে আলুর উপযুক্ত দাম পাওয়া যায় না। কোল্ডস্টোরেজে আলু রাখতেও খরচ হয় তুলনামূলক বেশি। কিন্তু ভাতের বিকল্প হিসেবে আলুর ব্যবহারে দেশবাসীকে অভ্যস্ত করে তুলতে ব্যর্থতার কারণে আলুর উৎপাদন বাড়লেও আলুচাষিদের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না।

জানা যায়, আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে ব্যর্থ হয়ে গত কয়েক বছরে ৩৩টি হিমাগার বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হিমাগারের মধ্যে রয়েছে পনের হাজার টন ধারণ ক্ষমতার ময়নামতি আইস অ্যান্ড কোল্ডস্টোরেজ, দশ হাজার টন ক্ষমতার মধুমতি কোল্ডস্টোরেজ, সাড়ে ১০ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার রণাঙ্গন কোল্ডস্টোরেজ লিমিটেড এবং সাত হাজার ৭০০ টন ক্ষমতার শাহ মাখদুম কোল্ডস্টোরেজ প্রভৃতি। ব্যাংক কর্তৃক হিমাগার নিলামে তোলার ঘোষণায় হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন পাকুন্দিয়ার পূর্বাচল হিমাগারের মালিক মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক ও লালমনিরহাটের তিস্তা হিমাগারের মালিক মেজর (অব:) কামরুল হাসান আজাদ। আত্মহত্যা করেছেন বগুড়ার আশরাফি কোল্ডস্টোরেজের মালিক আবদুল মালেক এবং লালমনিরহাটের লিমন কোল্ডস্টোরেজের মালিক মঈনুল ইসলাম খন্দকার।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি উদ্যোগে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ এবং কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে ত্রাণসামগ্রী ও চালের সাথে হিমাগারে সংরতি কৃষকদের বিপুল পরিমাণ আলু বন্যাদুর্গত অঞ্চলের জনগণের মধ্যে জরুরিভিত্তিতে বিতরণের দাবি জানান সংশ্লিষ্টরা। দাবি আদায়ে এরই মধ্যে অর্থ, বাণিজ্য, কৃষি, খাদ্য, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে প্রয়োজনীয় পদপে গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে সমিতির পক্ষ থেকে পত্র দেয়া হয়েছে। তাদের আশা, ত্রাণকার্যে আলু বিতরণ করা হলে হিমাগারগুলোতে সংরতি আলু সময়মতো খালাস করা সম্ভব হবে, আলুচাষিরা উপকৃত হবে এবং হিমাগার মালিকেরাও ব্যাংক ঋণ পরিশোধে সমর্থ হবেন। অন্যথায় পরবর্তী বছর আলুর উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে।

হতাশার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো: মোশাররফ হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, ২০১৭ মওসুমে বাংলাদেশে বাম্পার ফলন অর্থাৎ প্রায় এক কোটি মেট্রিক টন আলু উৎপন্ন হয়েছে এবং ৩৯০টি হিমাগারে ৫৩ লাখ মেট্রিক টন আলু সংরতি হয়েছে। বর্তমানে বাজারে শাক-সবজির দাম বেশি থাকা সত্ত্বে¡ও হিমাগারে সংরতি আলু অন্যান্য বছরের তুলনায় অত্যন্ত কম পরিমাণে ও ধীরগতিতে নি¤œমূল্যে বাজারজাত হচ্ছে। এ পর্যন্ত সংরতি আলুর মাত্র ১০ শতাংশ বাজারজাত হয়েছে।

তথাপি আলুর দাম ও চাহিদা সবচেয়ে কম ও মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। বিগত এক মাস ধরে হিমাগারগুলো থেকে আলু অত্যন্ত ধীরগতিতে বাজারজাত হচ্ছে যা অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক ও উদ্বেগজনক। অথচ আলু বাজারজাতকরণের সময়কাল মাত্র চার মাস। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে চলতি সালে ১৫ থেকে ২০ লাখ টন আলু অবিক্রীত ও উদ্ধৃত্ত থেকে যাবে।

কোল্ডস্টোরেজের মালিকেরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নিজ নামে ঋণ নিয়ে সেখান থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আলুর উপযুক্ত মূল্য পাওয়া না গেলে কৃষক এ ঋণ শোধ করতে পারবে না। স্বাভাবিক কারণেই ব্যাংকিং সেক্টরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

পীরগঞ্জে বন্যা কমছে পানি, বাড়ছে দুর্ভোগ, গবাদিপশু পানির দরে বিক্রি! কুয়েত প্রবাসী ৫০ লাখ টাকা দিলেন

মামুনুররশিদ মেরাজুল, পীরগঞ্জ (রংপুর) থেকে ঃ
এবারের বন্যাত তাবোদ (সব) ধান চলি গেইছে। খাওয়াটাই এখন হামার সমস্যা। ঈদোত কি হামার আনন্দ আছে ! ছোল-পোল গুলাক ঈদোত কিছুই কিনি দিবার পাবালাই। ট্যাকা আর ঘাস-পাতার অভাবে গরু-বকরি (ছাগল) গুলাও কম দামে বেঁচি জীবন বাঁচাওছি। আবাদের ক্ষতি এক বছরেও পোষে উঠপ্যার পারবালাই, বলেই হতাশার সুরে কথাগুলো বললেন বানভাসি গোফফার মিয়া। তিনি উপজেলার চতরা ইউনিয়নের মাটিয়াল পাড়ার বাসিন্দা। বুধবার বিকেলে তাদের এলাকায় কুয়েত প্রবাসী এক ব্যবসায়ী বাংলাদেশের লক্ষীপুরের রায়পুর উপজেলা সদরের কাজীবাড়ীর কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল নিজস্ব তহবিল থেকে ৫০ লাখ টাকার ঈদ সহায়তা করতে গেলে তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে কথাগুলো বলেন। এ সময় উপস্থিত কুয়াতপুরের বুদু মিয়া, আজাহার, কুমারপুরের শফিকুল, মাটিয়ালপাড়ার কালাম, ঘাসিপুরের নুরুন্নবীসহ কয়েক’শ মানুষ সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের কাছে কৃষি সহায়তা দাবী করেন। সেইসাথে করতোয়া নদীর চতরা ইউনিয়নের মেছনার ঘাটে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় তা অতিদ্রুত মেরামতের দাবী করেছেন বন্যার্তরা। আবার বন্যা হলে ওই ভাঙ্গন দিয়ে প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হবে।
সরেজমিনে চতরা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বন্যার পানি কমছে, বাড়ছে দুর্ভোগ। খাদ্য, বাসস্থান, ওষুধ এবং গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। পানি কমার সাথে সাথে বাড়ছে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ। এর মধ্যে জর-সর্দি, ডায়রিয়া ও চুলকানির পরিমান বেশী বলে জানা গেছে। প্রায় ৩০টি গ্রামের রাস্তা এখনো পানির নীচে ডুবে থাকায় কোন বাড়ীতেই নৌকা ছাড়া যাওয়া যাচ্ছে না। এরই মধ্যে অভাবী মানুষের মাঝে শুকনো ও খিচুরী বিতরন কার্যক্রম চলছে। চতরা বিজ্ঞান ও কারিগরি কলেজ, এসএসসি ব্যাচ-৯৯, চককরিম সমাজকল্যাণ সংস্থা, চতরা ডিগ্রি কলেজসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান সরবরাবহ করতে দেখা গেছে। চতরা ইউপির চেয়ারম্যান এনামুল হক প্রধান শাহীন তার পরিষদের সদস্যদের নিয়ে ত্রান সহায়তার পাশাপাশি ত্রান কার্যক্রম মনিটরিং করছেন। তিনি বলেন, পানি কমছে, পাশাপাশি দুর্ভোগ বাড়ছে। বন্যা এলাকায় রোগীদের সেবা দিচ্ছে লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ইউনিক গ্রুপের পরিচালক আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম বলেন, বন্যার শুরু থেকে প্রায় ২ সপ্তাহ ধরে আমরা বন্যার্তদেরকে বন্যাজনিত রোগের চিকিৎসা দিচ্ছি। বন্যা কবলিত কুমারপুরের আরেফা, রোকেয়া, আজিরন নেছা বলেন, প্যাটের ভোক কতক্ষণ না খায়া থাকি। যেকনা আছিলো, সেকনা খায়া ফ্যালাছি। এতো কষ্ট করি ছোলগুলাক ক্যাংকরি পালি। মাটিয়াল পাড়ার কৃষক গোলজার হোসেন বলেন, কৃষি সহায়তা না দিলে আবাদ করা যাবা নায়। বেছনের (ধানের চারা) যে দাম। ট্যাকা নাই, আবাদ করাও যাবা নায়। এবারে ধান, পাট, ভুট্টা, মরিচ, কলা, পটল, করলা, বেগুন, কচুসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তিনি আরও জানান, বেশ কয়েক একর নেপিয়ার ঘাসের ক্ষেত পানিতে পচে যাওয়ায় গরুর খাবারের অভাবে অনেকেই কমদামে গবাদিপশু বিক্রি করছে।
এদিকে রংপুর বিভাগীয় সাংবাদিক সমিতি ঢাকা’র সভাপতি কেরামত উল্লাহ বিপ্লব এর সহযোগিতায় উত্তরাঞ্চলের বন্যার্তদের জন্য কুয়েত প্রবাসী ব্যবসায়ী লক্ষীপুরের রায়পুর উপজেলা সদরের কাজীবাড়ীর কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল বন্যার্তদের মাঝে ঈদ সহায়তার জন্য ৫০ লাখ টাকা প্রদান করেন। বন্যায় নি¤œ আয়ের মানুষেরা খাদ্য, বাসস্থান এবং ওষুধের সংকটে পড়ায় বুধবার বিকেলে ওই ব্যবসায়ীর সহধর্মীনি সেলিনা কাজী পীরগঞ্জের চতরা ইউনিয়নের পার কুয়াতপুর গ্রামে ৫’শ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরন করেন। এ সময় ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক প্রফেসর ডা. হামিদুল হক খন্দকার এবং ওই ব্যবসায়ীর কন্যা মারওয়া কাজী উপস্থিত ছিলেন। সেলিনা কাজী সাংবাদিকদেরকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানোয় আমরা তার ডাকে সাড়া দিয়ে পীরগঞ্জে অতি দুর্গতদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে নগদ ১ হাজার টাকা, শিশু খাদ্য, নতুন শাড়ী, লুঙ্গি এবং ঈদের বাজারসহ প্রতি পরিবারকে ২ হাজার ৫’শ টাকা করে সহায়তা দিলাম। এর আগে রংপুরের বদরগঞ্জ ও দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জেও ঈদ সহায়তা দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, বন্যার্তদের অবর্ননীয় দুর্ভোগ চলছে। চোখে না দেখলে বুঝতে পারতাম না। সমাজের দানশীল ব্যক্তিদেরকে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমিও আহ্বান জানাচ্ছি। সাংবাদিক নেতা কেরামত উল্লাহ বিপ্লব বলেন, উত্তরাঞ্চলের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা হিসেবে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় টন চাল, ডাল এবং বিস্কুট সংগ্রহ করতে পেরেছি। আমরা বিভিন্ন দাতা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের কাছে সাহায্যের আশ্বাস পেয়েছি।

সৈয়দপুরে মুড়িওয়ালী বুড়ির বাড়িতে ইউএনও

আলমগীর হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
মুড়ি তৈরিতে জুড়ি নেই আশিদার (৫১)। ফুরসতও নেই তার। কেননা হাতে তৈরি মুড়ির অনেক স্বাদ, অনেক চাহিদাও। তাই তাকে বিরামহীনভাবে মুড়ি ভাজতে হচ্ছে উনুনে। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার প্রত্যন্ত খাতামধুপুর ইউনিয়নের খালিশা গ্রাম। আশপাশের পাঁচ গ্রামের মধ্যে আশিদা বেওয়া একাই মুড়ি ভাজেন। ভোরের আজান শুনে মুড়ি ভাজতে বসে যান তিনি। ওঠেন সেই গভীর রাতে।
তিন সন্তানের মা আশিদার স্বামী মতিয়ার রহমান প্রায় কুড়ি বছর আগে মারা যান। তিনি ছিলেন গ্রামের ছোট গৃহস্থ। মৃত্যুকালে তিনি কোনো সহায় সম্বল রেখে যাননি। এ অবস্থায় চোখে অন্ধকার দেখতে থাকেন তরুণী বিধবা আশিদা। ছোট ছোট তিনটি সন্তান এক মেয়ে দুই ছেলে নিয়ে পড়েন বিপাকে।
সরেজমিনে গেলে আশিদা শোনান তার অভাব জয়ের গল্প। তিনি বলেন, আমার কোনো পুঁজি ছিল না, কিন্তু জানতাম মুড়ি তৈরি করতে। একদিন পাশের বাড়ির গৃহিণী তাকে দিয়ে দুই কেজি চালের মুড়ি তৈরি করে নেন। এজন্য কিছু পারিশ্রমিক আমার হাতে দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, এ বিষয়টি মাথায় রেখে কয়েকটি দোকানে ঘুরে তিনি চাল সংগ্রহ করেন, আর বসে পড়েন মুড়ি ভাজতে। এরপর আর পেছন ফেরে তাকাতে হয়নি তাকে।
প্রতিদিন দুই থেকে চার, চার থেকে দশ, দশ থেকে কুড়ি কেজি মুড়ি ভাজার অর্ডার পান তিনি। এভাবে দিনে দিনে মুড়ির চাহিদা বাড়ে তার। বাজারে প্রতি কেজি মুড়ির দাম এখন আশি টাকা। ফলে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা লাভ করেন তিনি।
আশিদা মুড়ি বিক্রির টাকায় ছেলে-মেয়েদের কিছু লেখাপড়াও শিখিয়েছেন। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন পাশের উপজেলার তারাগঞ্জে। ছেলে দুটোও বড় রাজমিস্ত্রী ও জোগালির কাজ করছেন।
পাশের খালিশা বাজারের মুড়ি ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম বলেন, আশিদার তৈরি মুড়ির কদর এ গ্রাম ও গ্রাম করে আশেপাশের পাঁচ গ্রাম খালিশাপাড়া, ঢিংঢিং পাড়া, ব্রহ্মোত্তর, পাশারীপাড়া ও ফকিরপাড়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রাম এলাকায় সকাল ও বিকেলের নাস্তার আইটেমেই নয়, সারাবছরই এ মুড়ির কদর থাকে।
খাতামধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরী বলেন, আশেদার মুড়ি ভাজার কথা শুনেছি। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেন তিনি। এ মুড়ি বেঁচে এখন স্বাবলম্বী তিনি। ফলে সাহায্যের জন্য পরিষদের দ্বারস্থ হন না আশেদা। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি।
এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট সম্প্রতি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হলে আজ (২৫ আগষ্ট) শুক্রবার সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বজলুর রশীদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহমেদ মাহবুব-উল-আলম, সাংবাদিক আলমগীর হোসেন পরিদর্শনে যান মুড়িওয়ালী বুড়ির বাড়ি। তারা আশিদার ব্যবসার উন্নতির জন্য মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে সহজ শর্তে ১৫ হাজার টাকা ঋণ অনুদান দেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বজলুর রশীদ বলেন, সমাজের যারা পরিশ্রম করে বেঁচে থাকে আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই এবং চেষ্টা করি তাদের পরিশ্রমকে সার্থক করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার হাত বাড়াতে। শুধু সরকার নয়, সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিৎ।

নওগাঁয় প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ


নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর আত্রাইয়ে উপজেলায় প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে শুক্রবার বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী, শাড়ী ও শিশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার আত্রাই উচ্চ বিদ্যালয় ও আহসানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র এবং পাঁচপুর বাঁধের রাস্তায় আশ্রয় নেওয়া বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে প্রথম আলো নওগাঁ বন্ধুসভার ব্যবস্থাপনায় এসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
৮০টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। প্রতি পরিবারে ২ কেজি চাল, ১ কেজি চিড়া, আধা কেজি সয়াবিন, আধা কেজি গুড়, আধা কেজি ডাল, আধা কেজি করে লবন ও তিনটি খাবার স্যালাইন বিতরণ করা হয়। ৫০টি পরিবারে শিশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। প্রত্যেক শিশুর জন্য ২৫০ গ্রাম গুড়া দুধ, আধা কেজি সুজি ও আধা কেজি করে চিনি বিতরণ করা হয়। এছাড়া বন্যাদুর্গত ৫০ জন অসহায় নারীর মাঝে নতুন শাড়ী বিতরণ করা হয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে সহযোগিতা করেন সালেহা ইমারত ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক রুহুল আমিন, স্থানীয় সমাজকর্মী জাহিদুল ইসলাম ও মাসুদ রানা।
বন্যায় ভিটে-মাটি হারিয়ে উপজেলার পাঁচপুর গ্রামের শিল্পী বেগম পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন আত্রাই নদীর তীর রক্ষা বাঁধের ওপর। ত্রাণ সামগ্রী ও শিশুখাদ্য পেয়ে তিনি বলেন, ‘আইজকা দিয়ে ১২ দিন হলো ছয় মাসের বাচ্চা নিয়ে রাস্তার ওপর পড়ে আছি। সরকারি ইলিপ দ্যাওয়ার কথা বলে নাম লিস্টি করে লিয়ে গেছে কয়েক দিন আগে। এখনও সেই ইলিপের কোনো খবর নাই। বড় মানুষ তাও আধপেটা খ্যায়ে থাকতে পারে। কিন্তু ছোট বাচ্চাকতো আর আধপেটা রাখা য্যাবে না। এদিকে হামার খাওন-দাওন ঠিকমতো না হওয়ায় ছাওয়ালটাও বুকের দুধ প্যাচ্চে না। তোমরা এই দুধ ও সুজি দ্যাওয়ায় হামার বিরাট উপকার হলো।’
ত্রাণের শাড়ি পেয়ে পাঁচপুর উজানপাড়া গ্রামের ষাটার্ধ্বো জামেনা বিবি বলেন, ‘বন্যায় ভিটে-মাটি সব হারাইছুম। যেই এ্যাকনা ধান হতো, তাও বানের পানিত ডুবে গেছে। যেকনা টাকা-পয়সা আছে, তাই দিয়ে জীবন বাঁচানাই কষ্ট হবে। এবার ঈদত নতুন শাড়ী পড়তে পারমু এটা হামার কল্পানাতই ছিল না। এই শাড়ীটা প্যায়ে খুব আনন্দ লাগছে।’
নওগাঁয় প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ
নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর আত্রাইয়ে উপজেলায় প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে শুক্রবার বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী, শাড়ী ও শিশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার আত্রাই উচ্চ বিদ্যালয় ও আহসানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র এবং পাঁচপুর বাঁধের রাস্তায় আশ্রয় নেওয়া বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে প্রথম আলো নওগাঁ বন্ধুসভার ব্যবস্থাপনায় এসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
৮০টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। প্রতি পরিবারে ২ কেজি চাল, ১ কেজি চিড়া, আধা কেজি সয়াবিন, আধা কেজি গুড়, আধা কেজি ডাল, আধা কেজি করে লবন ও তিনটি খাবার স্যালাইন বিতরণ করা হয়। ৫০টি পরিবারে শিশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। প্রত্যেক শিশুর জন্য ২৫০ গ্রাম গুড়া দুধ, আধা কেজি সুজি ও আধা কেজি করে চিনি বিতরণ করা হয়। এছাড়া বন্যাদুর্গত ৫০ জন অসহায় নারীর মাঝে নতুন শাড়ী বিতরণ করা হয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে সহযোগিতা করেন সালেহা ইমারত ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক রুহুল আমিন, স্থানীয় সমাজকর্মী জাহিদুল ইসলাম ও মাসুদ রানা।
বন্যায় ভিটে-মাটি হারিয়ে উপজেলার পাঁচপুর গ্রামের শিল্পী বেগম পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন আত্রাই নদীর তীর রক্ষা বাঁধের ওপর। ত্রাণ সামগ্রী ও শিশুখাদ্য পেয়ে তিনি বলেন, ‘আইজকা দিয়ে ১২ দিন হলো ছয় মাসের বাচ্চা নিয়ে রাস্তার ওপর পড়ে আছি। সরকারি ইলিপ দ্যাওয়ার কথা বলে নাম লিস্টি করে লিয়ে গেছে কয়েক দিন আগে। এখনও সেই ইলিপের কোনো খবর নাই। বড় মানুষ তাও আধপেটা খ্যায়ে থাকতে পারে। কিন্তু ছোট বাচ্চাকতো আর আধপেটা রাখা য্যাবে না। এদিকে হামার খাওন-দাওন ঠিকমতো না হওয়ায় ছাওয়ালটাও বুকের দুধ প্যাচ্চে না। তোমরা এই দুধ ও সুজি দ্যাওয়ায় হামার বিরাট উপকার হলো।’
ত্রাণের শাড়ি পেয়ে পাঁচপুর উজানপাড়া গ্রামের ষাটার্ধ্বো জামেনা বিবি বলেন, ‘বন্যায় ভিটে-মাটি সব হারাইছুম। যেই এ্যাকনা ধান হতো, তাও বানের পানিত ডুবে গেছে। যেকনা টাকা-পয়সা আছে, তাই দিয়ে জীবন বাঁচানাই কষ্ট হবে। এবার ঈদত নতুন শাড়ী পড়তে পারমু এটা হামার কল্পানাতই ছিল না। এই শাড়ীটা প্যায়ে খুব আনন্দ লাগছে।’

আত্রাইয়ে ১২৮ বস্তা ত্রাণের চাল পাচারকালে চালসহ দুইজন আটক


নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর আত্রাইয়ে ১২৮ বস্তা ত্রাণের চাল পাচারকালে চালসহ দুইজনকে আটক করেছে আত্রাই থানা পুলিশ। বুধবার বিকেল ৫টার দিকে ট্রলিযোগে চালগুলো পাচারের সময় আত্রাই রেলওয়ে বাইপার (দক্ষিণ) থেকে আটক করা হয়।
জানা যায়, উপজেলার ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন কাশিয়াবাড়ি বাজার থেকে ১২৮ বস্তা (প্রতিটিতে ৩০ কেজি করে) চাল বোঝাই ট্রলি আত্রাইয়ের দিকে আসতে থাকে। সংবাদ পেয়ে আত্রাই থানার এসআই ফিরোজ মিয়া ও এএসআই এনায়েত ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে চালসহ ট্রলি চালক উপজেলার সদুপুর গ্রামের ফেরদৌসের ছেলে পিন্টু (৩৫) ও হেলপার মোনাক্কার ছেলে বিপ্লবকে (১৮) আটক করেন।
আত্রাই থানার ওসি বদরুদ্দোজা বলেন, চালের গায়ে তো লেখা নেই কিসের চাল, তবে ত্রাণের চাল মনে করেই আমরা আটক করেছি। তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে কিসের চাল, কোথায় যাচ্ছিল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোখলেছুর রহমান বলেন, ত্রাণের নয় বরং এগুলো ভিজিডির চাল। ভোঁপাড়া ইউনিয়ন থেকে গ্রহিতারা এ চালগুলো নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে। যেহেতু সরকারী চাল ক্রয় বিক্রয় নিষিদ্ধ তাই এটি আটক করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান জানবক্সের সাথে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে (০১৭৩৩-৮৬৮১৫৩) যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ চাল আটক নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে।

 


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org