Category: অর্থ ও বাণিজ্য

রাণীনগরে শুরুতেই জমে উঠেছে ঈদের বাজার ॥ ব্যস্ত সবাই কেনা-কাটায়


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ ঈদ মানে আনন্দ আর এই আনন্দের প্রস্তুতি নিতেই প্রতি বছরের মত এবারও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সবাই কেনা-কাটায় আর জমে উঠেছে রাণীনগরের বিভিন্ন এলাকায় ঈদ বাজার। এবার ক্রেতাদেরকে একটু আগে থেকেই ঈদের কেনাকাটা করতে দেখা যাচ্ছে। এর কারণ হিসাবে অনেক ক্রেতারা জানায় ঈদেও কেনাকাটা তো কম বেশি করতেই হবে তাই প্রথমেই দেখেশুনে কেনার সময় বেশ ভালো পাওয়া যায়। তাই একটু আগে থেকেই সচেতন ক্রেতারা কেনা কাটা শুরু করেছেন।
বর্তমানে রাণীনগরের প্রতিটি মার্কেট ও বিপনী বিতানগুলোতে দেখা গেছে ঈদের আমেজ। সব দোকানেই ক্রেতার সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। পাশাপাশি আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে দর্জি পাড়ার কারিগররা। অনেকেই আবার ঈদের কেনাকাটার ভিড় জমার আগেই দর্জির দোকানগুলোতে পছন্দ মতো কাপড় কিনে তৈরি করতে দিচ্ছেন বিভিন্ন পোষাক।
রাতভর সেলাই মেশিনের শব্দে সমাগম হয়ে থাকছে টেইর্লাস পট্টিগুলো। কিছু কিছু টেইলার্সের দোকানে সাইনর্বোড ঝুলছে “ ঈদের শেষ আট দিন কোন অর্ডার নেয়া হবে না”। ছোট থেকে শুরু করে ভিআইপি দোকানের কারিগররা এখন দিনরাত ব্যস্ত। দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের। তবে গত বারের চেয়ে এবার প্রতিটি কাপড়ের দোকানগুলোতে দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের উপচে পরা ভিড়। এছাড়া শাড়ির দোকানগুলোতেও রয়েছে সমান ভিড়। শাড়ী ও তার সাথে ম্যাচ করে অন্যান্য জিনিসপত্র কেনার জন্য সবাই এখন ব্যস্ত।
এবারে ঈদে বিভিন্ন মেগাসিরিয়ালে নায়িকাদের পরিহিত পোষাকের নামের পোষাকগুলোর চাহিদা তরুনীদের মাঝে। কেউ কেউ বাহুবলী, ধূম, পাখি জামা, কেউ কেউ কিরণমালার জামাসহ অন্যান্য নায়িকাদের পরিহিত জামাই বেশি ক্রয় করছে বলে বিভিন্ন দোকানীরা জানান। সবাই এই ঈদে দেশি-বিদেশি কাপড় কেনায় বেশি ব্যস্ত। এলাকার বিভিন্ন কাপড়ের দোকানে দেখা গেছে দেশি-বিদেশি থ্রি পিচ কেনার জন্য মেয়েদের উপচে পড়া ভিড়। ঈদ মানে আনন্দ তাই অভিভাবকদের একটু কষ্ট হলেও সন্তানসহ অন্যান্য প্রিয়জনের মুখে হাসি ফুটাতেই শত সমস্যা উপেক্ষা করে কিনে দিচ্ছেন।
অপরদিকে সুযোগ হাতে পেয়ে দর্জিপাড়ার লোকেরা সময় নেই এবং কাজের অনেক ভিড় বলে দ্বিগুন পারিশ্রমিকে অর্ডার নিতে বাধ্য হচ্ছেন। প্যান্ট ও শ্যার্ট পিস থেকে শুরু করে থ্রি-পিচ , শাড়ি এবং তৈরী পোষাকের প্রতিটির মূল্য গত বারের চেয়ে এবার হাতের নাগালে আছে বলে অনেক অভিভাবকরা জানান। প্রতিটি ম্যার্কেট ও কসমেটিক্স বিপনী বিতানগুলোতে প্রচন্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও বেশি দামের জন্য পছন্দের জিনিস অনেকেই নিতে পারছে না । রাণীনগরের বাজার মার্কেট, উপজেলা মার্কেট ,আবাদপুকুর মার্কেট, কুজাইল মার্কেট ও বেতগাড়ী মার্কেট গুলো ঘুরে দেখা যায় এবারও মার্কেট গুলোতে বিদেশী কাপড়ে সয়লাব।
ভারত, পাকিস্তানি, চীন, জাপান, কোরিয়ার প্যান্ট ও শ্যার্ট পিস এবং ভারতীয় থ্রি-পিচে বাজার ভরে গেছে। দোকানিরা বলছে এগুলো বৈধ ভাবে আমদানী করা হয়েছে। ভারতীয় থ্রি-পিচ গুলোর বেশির ভাগেরই নাম ভারতীয় ছবির নায়ক ও নায়িকাদের নামানুসারে করা হয়েছে। কুপনের মাধ্যমে সেরা বিজয়ীদের জন্য রাখা হয়েছে বিভিন্ন আর্কষনীয় পণ্য সহ বিভিন্ন অফার।
আর্কষনীয় অফারে অনেকেই ছুটছেন সেই সব বিপনী বিতানগুলোতে। বিভিন্ন মার্কেটে ঈদ বাজার করতে আসা মামুন, রিতু, সুমি, রানা, হোসেন, শিউলী, নাজনীন সহ বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, প্রতি বছরের তুলনায় এবার একটু আগেই ঈদের কেনাকাটা শুরু করেছি। কারণ শেষ সময়ের দিকে তেমন একটা ভালো জিনিস পাওয়া যায় না। তাই আগেই পরিবারের পছন্দ মতো কেনাকাটা করে রাখার জন্য মার্কেটে এসেছি। এবার থ্রি-পিচসহ ছেলেদের প্যান্ট ও শ্যার্টের দাম খুবই চড়া। তাই কাপড় কিনে বানাতে দিয়েছেন । তবে মজুরি একটু বেশী।
রাণীনগর বাজারের এশিয়া টেইলার্সের মালিক বিপ্লব জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছরে ধানের দাম না থাকায় কৃষি প্রধান এই এলাকায় কৃষকরা নায্য মূল্যে ধান বিক্রয় করতে না পারায় অনেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণে কেনা-কাটা করতে পারছে না বলে চাপটা অনেকটাই কম। তবুও এবার শেষ সময়ের আগেই কাজের চাপ অন্য সময়ের তুলনায় একটু বেশি। লোকজনেরা শেষ সময়ে এসে ব্যস্ত হয়ে পড়ে তাই কারখানায় কর্মরত কারিগরদের সারা রাতভর কাজ করতে হয় বলে তাদের মজুরিও একটু বেশি দিতে হয় বলে মজুরিটা কিছুটা বেশি নিতে হচ্ছে।
উপজেলার রাণীনগর বাজারের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী রায়হান আলী জানান, এবছর শুরুর দিকে অন্যান্য বছরের তুলনায় ক্রেতাদের ভিড় একটু হলেও লক্ষণীয়। আশা রাখি এবার ঈদের পুরো মৌসুমে ক্রেতাদের ভিড়ে ঈদ বাজারের কেনা-কাটা জমে উঠবে। এতে করে ব্যবসায়ীরা অন্য বছরের তুলনায় এবার লাভের মুখ একটু হলেও বেশি দেখবেন বলে আমি আশাবাদী।
আবাদপুকুর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী এনামুল হক জানান, প্রতি বছরের তুলনায় এ বছরও জমে উঠেছে ঈদের বাজার। তবে এবার একটু থেকেই বাজারে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাই আশা করা যায় এবার ঈদের ব্যবসা খুব ভালো হবে।
উপজেলা বাসস্ট্যান্ডের এআর ফ্যাশনের মালিক পিন্টু জানান, বিগত বছরের তুলনায় এবছর ক্রেতারা একটু পূর্ব থেকেই ঈদের কেনাকাটা করতে শুরু করেছেন। সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন-বোনাস পাওয়ার পরই পুরোদমে শুরু হবে ঈদের কেনাকাটা।

কাপড়ের দোকান গুলোতে শিশু- মহিলা ও পুরুষের প্রচন্ড ভিড় উত্তরার মার্কেট গুলোতে ঈদের বাজার বেশ জমে উঠেছে

এস,এম মনির হোসেন জীবন : পবিত্র ঈদ উল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর উত্তরা মডেল টাউন এলাকার ভিভিন্ন নামীদামী মার্কেট, বিপনী বিতান, ঈদ মেলা সহ ফুটপাত গুলোতেও ঈদের কেনাকাটা বেশ জমে উঠেছে। বিশেষ করে জামা কাপড়ের দোকান গুলো প্রতিনিয়তই শিশু,মহিলা ও পুরুষ ক্রেতাদের প্রচন্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দিনের চেয়ে এসব মার্কেটে সন্ধ্যার পর বেচাকেনা বেশি হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। বিক্রেতারা বলেছেন, ইতিমধ্যে জুন মাসের বেতন অনেকের হাতে এসে গেছে। বোনাসও পেয়েছেন অনেকে। তাই দু-একদিনের মধ্যে জমে উঠবে বেচাকেনা। উত্তরা মডেল টাউনের নামীদামী মার্কেট মাসকট প্লাজা, নর্থ টাওয়ার, রাজলক্ষèী মার্কেট, কুশল সেন্টার মার্কেট, রাজউক মার্কেট সহ সবকটি মার্কেট,ফুটপাত এবং উত্তরার ১৩ নং সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ সড়কের পাশে জমজম টাওয়ার সংলগ্ন খালি মাঠে বরাবরের মত মাস ব্যাপী ঈদ তাঁত ও বস্ত্র মেলা শুরু হয়েছে। উত্তরার শীতাতপ মার্কেট ও ঈদ তাঁত ও বন্ত্র মেলা বেশ জমে উঠেছে। মেলায় দিনের বেলা বেচাকেনা ও ক্রেতা কম দেখা গেলেও বিকালের পর থেকে জমজমাট হয়ে উঠে। নিন্মবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের মার্কেটগুলো যেমন ঈদ মেলা ও ফুটপাত এখনও বেচাকেনা না জমলেও বিক্রেতারা বলেছেন, ক্রেতাদের উপস্থিতি জমজমাট। গতকাল মঙ্গলবার সারাদিন এসব মার্কেটে ক্রেতাদের কমবেশি উপস্থিতি থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে মার্কেটগুলো ক্রেতাদের আনাগোনায় জমজমাট হয়ে ওঠে।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন উত্তরার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, সর্বত্রই ভারতীয় ডিজাইনের কাপড় ও শাড়ির কালেকশনই বেশি। পাশাপাশি ভারত, সিঙ্গাপুর, মালেশিয়া ও চায়না থেকে আসা ঈদ ফ্যাশন পোশাক ও রয়েছে বিভিন্ন দোকানে। ভারতের মুম্বাই, কাশ্মীরি ডিজাইন, সিকোয়েন্সের কাজ, জরি-সুতোর বাহারি নকশার শাড়ি ঝলমলে কাপড়ে বাহারি সুতোর কাজ করা কাপড়, উজ্জ্বল রঙের জর্জেট, টিস্যু প্রভৃতি কাপড়ে জরি, চুমকি, সুতি কাপড়ে দেশীয় আলপনার সুতো, অ্যাপলিক ও স্ক্রিন-ব¬ক-বাটিকের পোশাক সম্ভার দারুণ আকর্ষণ করেছে ক্রেতাদের। আর পুরুষদের ক্ষেত্রে দেশী ব্র্যান্ডের মধ্যে শীতল, রঙ, সপুরা সিল্ক প্রভৃতির সঙ্গে ভারত-চায়না থেকে আনা নানা ডিজাইনের পাঞ্জাবি সহ দেশীয় বিভিন্ন ডিজাইনের শার্ট-প্যান্ট ও টি-শার্টের সমাহার উল্লে¬খ করার মতো। উত্তরার নামীদামী মার্কেট গুলো মেয়েদের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজের জন্য একটি বিশেষ মার্কেট। এখানকার দোকানগুলো মূলত মেয়েদের পোশাককেন্দ্রিক। সে কারণে এখানে মহিলা ক্রেতাদের আনাগোনা বেশি। এ মার্কেটে রয়েছে রঙ, চৈতি, বি প¬াস, ময়ূরী, মুনলাইট প্রভৃতি স্বনামধন্য পোশাক প্রতিষ্ঠানের শোরুম। এছাড়া কালেকশনও ভালো। সে কারণে এ মার্কেটে কেনাকাটা করতে ভালো লাগে। এখানে দেশীয় খাদি ও সুতির পোশাকের রয়েছে বেশকিছু বিক্রয়কেন্দ্র। এছাড়া শিশু ও ছেলেদের পোশাকের বিক্রি ভালো বলে জানালেন এ মার্কেটের বিক্রেতারা। ভারতীয় ও অন্যান্য ডিজাইনের সালোয়ার-কামিজও পাওয়া যাচ্ছে। ছেলেদের পোশাকের কালেকশন ও রয়েছে ভাল। ঈদের পোশাকাদির কথা বলতে গেলে মার্কেটে মূলত শাড়ি ও বাচ্চাদের পোশাক, শার্ট-প্যান্ট, থানকাপড় থেকে শুরু করে লুঙ্গি-গামছাÑ সবই রয়েছে ঈদ মেলা মার্কেট গুলোতে। মূলত দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় এসব দ্রব্য মেলে সহজ ও নিয়ন্ত্রিত দামেই। এই দুই মার্কেটে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, থানকাপড় ইত্যাদির পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। দর্জিরা বলেছেন, ৪-৫ দিন পর আর নতুন অর্ডার নেয়া হবে না।
উত্তরার মাসকট প্লাজা ও নর্থটাওয়ারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রথম রোজার দিন থেকেই তাদের বেচাকেনা ভালো। মার্কেটের দ্বিতীয়,তৃতীয়,চতুর্থ তলায় অবস্থিত মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ ও শাড়ির দোকানে দুপুরের পর অসংখ্য ক্রেতার ভিড় চোখে পড়েছে। এছাড়া বাটার মার্কেটের জুতার দোকানগুলোতেও ছিল ক্রেতাদের ভিড়। এ মার্কেটে মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ পাওয়া যাচ্ছে ৫শ’ থেকে ৬০ হাজার টাকা। বেশি চলছে ৭/৮ হাজার থেকে ২০/২৫ হাজার টাকা মূল্যের পোশাকগুলো। এই মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে জরি, চুমকি ও কারচুপির কাজ করা শাড়ি, জামদানি শাড়ি, মসলিন, সিল্ক, তসরসহ আরও নানা আইটেম। শাড়ি বিক্রেতারা বলেছেন, কয়েকদিন পর আরও মূল্যবান শাড়ি ওঠানো হবে। এই মার্কেটে দক্ষিণ ভারতের পোশাক লেহেঙ্গাও তুলেছেন অনেক দোকানি। ছোটদের লেহেঙ্গা ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার এর মধ্যে এবং বড়দের লেহেঙ্গা সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
পাশাপাশি মেয়েদের গহনা, পোশাক, শাড়ি, কসমেটিকস্ ইত্যাদির রয়েছে বিশাল সম্ভার। পোশাকগুলো। মার্কেটের গহনার দোকানগুলোতেও ভিড় পরিলক্ষিত হয়েছে ব্যাপক আকারে। এ মার্কেটে ছেলেদের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শার্ট বিক্রি হতে দেখা গেছে ৫০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে। প্যান্ট বিক্রি হতে দেখা গেছে ১২০০ থেকে ৭০০০ টাকার মধ্যে।
অপর দিকে, উওরা মডেল টাউনের ১৩ নং সেক্টরে সোনারগাঁও জনপথ সড়কের পাশে জমজম টাওয়ারের পাশে বিশাল মাঠে এ বছর গড়ে উঠেছে মাস ব্যাপী তাঁত ও বস্ত্র মেলা। মেলায় রয়েছে প্রায় শতাধিক স্টল। শাড়ি দোকার থেকে শুরু করে সালোয়ার কামিজ, জুতা,প্যান্ট,তাতের শাড়ি,জাকাতের শাড়ি ও লুঙ্গী সহ যাবতীয় মালামাল সূলভ মূল্যে বিক্রি করা হচেছ। শাহনাজ আক্তার, মিতা আক্তার ও সুমি আক্তার নামে জৈনক তিন মহিলা ক্রেতা এই প্রতিনিধিকে জানান, উক্ত মেলায় কমমুল্যে ভালমানের জামা কাপড় পাওয়া যায়। তাই এখানে শিশু,মহিলা ক্রেতাদের ভিড় একটু বেশি। তাই এখানে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছি। মেলা আয়োজক কমিটির পরিচালক শাকিল আহম্মেদ এই প্রতিনিধিকে জানান, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে মেলার বেচাকেনা ও বাড়ছে। মেলার পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত ভাল। তবে মেয়েদের জামাকাপড় বেশি বিক্রি হচেছ। নিন্ম ও মধ্যবিত্তর আয়ের লোকেরা এই মেলার বেশি ক্রেতা বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও মেলা আয়োজক কমিটি। বর্তমানে মেলা বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। বেচাকেনা ও বেশ ভাল হচেছ। আশা করছি সামনের দিন গুলো মেলায় ক্রেতাদের সংখ্যা ও বেঁচাকেনা ভাল হবে।

পানি থিতানো…


গ্রামীন ফিল্টার মেশিন। তথা বালি-চাঁড়ি-বালতি দিয়ে পানি থিতানো পদ্ধতি। পানীয় জলের (পানি) আয়রন কমাতে গ্রামবাংলায় পানি থিতানো পদ্ধতি চালু রয়েছে। গ্রামীন জনপদে মান্ধাত্ত্বা আমলের ওই পদ্ধতিতেই পানি থিতিয়ে পানযোগ্য ও রান্না-বান্নার কাজ চলছে। দিনমান পানি থিতিয়ে পারিবারিক জীবনে পানির চাহিদা মেটানো হচ্ছে। থিতানো পদ্ধতিতে চাঁড়ির মধ্যে বালি দিয়ে কয়েকস্তরে পানি থিতানো হয়। এভাবেই পীরগঞ্জের পাঁচগাছী ইউনিয়নের সিংহভাগ গ্রামবাসী জন্মের পর থেকেই জীবনযাপন করছেন। ইউনিয়নটিতে অধিকাংশ টিউবওয়েলের পানিতে আয়রনের মাত্রাতিরিক্ত পরিমান থাকায় কেউ গোসল পর্যন্ত করেন না। ওই এলাকার মানুষের কাছে পুকুর-ডোবা-নদীই গোসলের ভরসার স্থল। পুকুেরই বাসন-কোসন এবং কাপড় ধোয়ার কাজও চলছে। আয়রনযুক্ত পানি পানে দাঁতও মারাত্মকভাবে কৃষ্ণ বর্ন ধারন করেছে। শুধু পানির কারণেই অনেকে ওই ইউনিয়নে আত্মীয়তা করা কিংবা বিয়ে-সাদি দিতেও আপত্ত্বি তুলছেন বলে জাহাঙ্গীরাবাদের জয়নাল আবেদীন, মাহমুদ হাসান সেতু, কলেজ পড়–য়া ছাত্রী সীমা খাতুন জানান। প্রতিটি বাড়ীর টিউবওয়েলের পাশে পানি থিতানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে চুরির ভয়ে থিতানো যন্ত্রপাতি তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ ব্যাপারে ইউনিয়নটির চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান লতিব জানান, পুরো ইউনিয়নটিই আয়রন পানিতে ভরপুর। আয়রন পানি পানে অনেকেই শারীরিক সমস্যায় পড়ছেন। সরকারীভাবে আয়রনমুক্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করলে আমরা উপকৃত হতাম। আমাদের পাশের ইউনিয়ন মিঠিপুরেও পানির একই অবস্থা।আমাদের পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি মামুনুররশিদ মেরাজুল পীরগঞ্জের পাঁচগাছী ইউনিয়ন থেকে ছবিটি ক্যামেরাবন্দী করেছেন।

সুন্দরগঞ্জে দুঃস্থ্যদেরকে তোফায়ে রমদানাল বিতরণ


আবু বক্কর সিদ্দিক, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গরীব ও দুঃস্থ্যদের মাঝে তোফায়ে রমদানাল বিরণ করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্তরে ২শ’ ৬০ জন গরীব ও দুঃস্থদেরকে সুন্দরগঞ্জ শাখা ইসলামী ব্যাংক- বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্যোগে স্থানীয় সমাজ সেবা অফিসের সহযোগীতায় তোফায়ে রমদানাল (উপহার সামগ্রী) বিতরণ করেন- উপজেলা নির্বাহী অফিসার- এস.এম গোলাম কিবরিয়া। এসময় ছিলেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান- মাজেদুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান- আবু সোলায়মান সরকার, ইসলামী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক- এএইচএম রাশেদুল ইসলাম প্রমূখ।

সুন্দরগঞ্জে পানিতে ডুবে বৃদ্ধার মৃত্যু
আবু বক্কর সিদ্দিক, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পানিতে ডুবে নেছা বেওয়া (৯০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।
জানা যায়, সোমবার সকালে উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ ধুমাইটারী গ্রামের মৃত মকর উদ্দীনের স্ত্রী নেছা বেওয়া সবার অলক্ষ্যে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যান। খবর পেয়ে থানার এস আই ইজার আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ লাশ উদ্ধার করেন। এ ব্যাপারে থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বড়াইগ্রামে চাল-গম ক্রয় অভিযান শুরু


বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের বড়াইগ্রামে সরকারীভাবে চাল ক্রয় অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার সকালে সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস আনুষ্ঠানিকভাবে চাল ক্রয়ের শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইশরাত ফারজানা, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুল জলিল প্রামাণিক, খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. মোকলেস আল আমিন, বনপাড়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন, আ’লীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস প্রেস, আবুহেনা মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন। চলতি মৌসুমে মোট ৩৮৩৪ মে.টন.চাউল ও ৮২০ মে.টন গম ক্রয় করা হবে।

মাগুরায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের আধুনিক যন্ত্র বিতরণ করা হয়েছে

মাগুরা প্রতিনিধি ॥ মাগুরায় সদর উপজেলার মালঞ্চি গ্রামের কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের আধুনিক যন্ত্র কম্বাইন্ড হারবেস্টার ও রিপার ম্যাশিন বিতরণ করা হয়েছে। দুপুরে সদর উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে এ ম্যাশিন বিতরণ করা হয়।
এ সময় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়ারুল ইসলাম, সদর কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন স্থানীয় রাঘবদাইড় ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম কৃষকদের মাঝে এ ম্যাশিন বিতরণ করেন।
মৌসুমে কৃষকরা ক্ষেত থেকে পাকা ধান ঘরে তুলতে শ্রমিকের অভাবে সমস্যায় পড়েন। একারনে একাধিক আইপিএম ক্লাবের কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে এই যন্ত্রসহ কৃষি কাজে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হবে। যাতে কৃষকরা অল্প খরচে সল্প সময়ে ধানসহ অনান্য ফসল চাষ করে তা ঘরে তুলতে পারেন।

মিল্ক ভিটা দুগ্ধ সামগ্রী ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে পৌঁছে দিতে সমবায় বিপণি উদ্বোধন

ঢাকা, ২০ জ্যৈষ্ঠ (৩ জুন) : পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীন মিল্ক ভিটা তরল দুধ ও ১০ ধরনের দুগ্ধ পণ্য সামগ্রী সহজে ন্যায্যমূল্যে ভোক্তাগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সমবায় বিপণি উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মোঃ মসিউর রহমান রাঙ্গা রাজধানীর নিকেতন ও কলাবাগানে এ এস কে কো-অপ-শপ উদ্বোধন করে মগবাজারাস্থ ড্রিম প্যারাডাইজ কো-অপ-শপ আকস্মিক পরিদর্শন করেন । এ সময় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মাফরুহা সুলতানা, সমবায় নিবন্ধক আবদুল মজিদ ও মিল্ক ভিটা চেয়ারম্যান শেখ নাদের হোসেন লিপু উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান ‘মিল্ক ভিটা’ পণ্য নিয়ে কোন অনিয়ম বা গুণগতমানের ব্যাপারে কোন আপোশ করা হবে না। তিনি বলেন স্বাস্থ্য ও পুষ্টিকর দুগ্ধ এবং দুগ্ধজাত সামগ্রী রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ড ও জেলায় কো-অপ শপের মাধ্যমে বিপণন করা হবে। ইত্যেমধ্যে ঢাকায় শতাধিক শপ স্থাপিত হয়েছে। তিনি বলেন মিল্ক ভিটার দুধ, মাখন, ঘি, আইসক্রিম ,দই, রাসমালাই, চকোলেট ও লাবাং গুণগতমানের ও সাশ্রয়ী মূল্যের । তিনি এসব সামগ্রী ক্রয় করে দেশের দুগ্ধ সমবায়ীদের জীবন মানোন্নয়নে সহায়তা করতে জনগণের প্রতি আহবান জানান।

কক্সবাজার ন্যায্যমূল্যের চিনি কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ


ইমরান জাহেদ, কক্সবাজার।
পবিত্র রমজান মাসেও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কক্সবাজারের উখিয়ার পাইকারী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। এরা কোটি কোটি টাকার নিত্যপণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে গলাকাটা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, পবিত্র রমজানে চিনির মূল্য সহনীয় রাখার জন্য এস. আলম গ্রুপ উখিয়ায় ২ জন চিনির ডিলার নিয়োগ করলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা ন্যায্যমূল্যে সরবরাহকৃত চিনি পায়নি। যে কারণে এখানে প্রতি কেজি চিনি ৬৬ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর চট্টগ্রামে ন্যায্যমূল্যে চিনি বিক্রির উদ্যোগ নিয়ে এস. আলম গ্রুপ ৭৭ জন ডিলার নিয়োগ করে ৩ মাস পূর্বে থেকে ন্যায্যমূল্যে চিনি সরবরাহ করে আসছে এসব ডিলারদের। এস. আলম গ্রুপ প্রদত্ত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন ১ হাজার মে. টন চিনি উৎপাদন হচ্ছে। জনস্বার্থে এসব চিনির খুচরা বিক্রির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মন প্রতি ২১৮০ টাকা অর্থাৎ প্রতি কেজি চিনির মূল্য পড়েছে ৫৮.৮৬ টাকা হারে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ডিলারেরা পরিবহন ভাড়া ও শ্রমিকের মজুরির অজুহাত তুলে যাতে চিনির অতিরিক্ত মূল্য আদায় করতে না পারে, সেজন্য এস. আলম গ্রুপ পরিবহন ভাড়া ও লোড-আনলোড খরচ সহ প্রতি কেজি চিনি ৫৮.৮৬ টাকা সর্বসাকুল্য মূল্য নির্ধারণ করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে জনসাধারণকে অবহিত করলেও উখিয়ার ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্ত খুচরা ব্যবসায়ীরা উক্ত ন্যায্যমূল্যে চিনি পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। যে কারণে বাজারে চিনির দাম অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। উপরোন্তু ক্ষেত্র বিশেষে পাড়া মহল্লায় চিনির দাম আরো বাড়িয়ে নিচ্ছে বলে ক্রেতা সাধারণের অভিযোগ। উখিয়া সদরের খুচরা ব্যবসায়ী (ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্ত) শামশুল আলম, আমিন শরীফ, লোকমান হাকিম, নজরুল ইসলাম সহ বেশ কয়েকজনের সাথে আলাপ করা হলে তারা জানান, এস. আলম গ্রুপের নিয়োগকৃত ডিলার প্রদীপ সেন ও বিশ্বনাথ ষ্টোরের মালিক তপন বিশ্বাসের অনুকুলে বরাদ্দ দেওয়া চিনির ৫০ কেজি বস্তা ৩২শত টাকা দরে বিক্রি করছেন।
মরিচ্যা বাজারের শামশুল আলম সওদাগর জানান, এস. আলম গ্রুপের ডিলার তপন বিশ্বাসের নিকট থেকে ৭০ বস্তা চিনি ক্রয় করেছেন। প্রতি বস্তার দাম ধরা হয়েছে ৩১শত টাকা করে। এতে প্রতি কেজি চিনির দাম পড়েছে ৬৪ টাকা। যা খুচরা ব্যবসায়ীদের বিক্রি করতে হচ্ছে ৬৬ টাকা দরে। এভাবে দুই জন ডিলার খুচরা ব্যবসায়ীদের চোখে ধুলো দিয়ে গত ৩ মাসে চিনি সরবরাহ খাতে লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়েছে বলে খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। এ ব্যাপারে এস. আলম গ্রুপের নিয়োগকৃত ওই ২ জন ডিলার প্রদীপ সেন ও তপন বিশ্বাসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মত তারা বাজারে চিনি সরবরাহ করেছেন। এভাবে রমজানের নিত্যপণ্য যেমন- ছোলা, চিনি, ডাল, পিঁয়াজ, তেল পণ্যের বিপরীতে ৫-১০ টাকা করে বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে বলে ক্রেতা সাধারণের কাছ থেকে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসন পবিত্র রমজানে নিত্যপণ্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য প্রতিটি দোকানে মূল্য তালিকা টাঙ্গানোর নির্দেশ দিলেও সুচতুর ব্যবসায়ীরা মূল্য তালিকার সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়েছে ঠিকই, কিন্তু অধিকাংশ সাইনবোর্ডে পণ্যের মূল্য লেখা নাই। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উখিয়ায় চোরাচালানী সিন্ডিকেট সক্রিয়ঃ মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে নিত্যপণ্য


ইমরান জাহেদ, কক্সবাজার।
পবিত্র রমজানে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অধ্যুাষিত জনপদে প্রচুর চাহিদার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে উখিয়া সীমান্ত এলাকা চিহ্নিত চোরাচালানী সিন্ডিকেট। এরা গ্রামগঞ্জে খুচরা বিক্রির অজুহাতে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী মজুদ করে। পরে সীমান্তরক্ষী বিজিবি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে পাচার করছে দেশীয় পণ্য সামগ্রী। গত শুক্রবার ভোর রাতে আনজুমানপাড়া নাফনদী দিয়ে পাচারকালে নৌকা ভর্তি মালামাল উদ্ধার করেছে পালংখালী বিজিবি’র সদস্যরা।
উখিয়া কুতুপালং ও বালুখালী বস্তিতে বসবাসরত মিয়ানমারের মংডু নাইছাধং গ্রামের উমর শরীফ (৩৫), কালা পুতু (২৫), আব্দুল বারেক (৪০) সহ বেশ কয়েকজন সদ্যাগত রোহিঙ্গার সাথে কথা বলে জানা যায়, মংডুর টাউনশীপ এলাকায় বেশীর ভাগ নাগরিক রোহিঙ্গা হওয়ার সুবাদে সেখানকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন আকিয়াব থেকে কোন পণ্য সামগ্রী মংডু এলাকায় সরবরাহ করতে দিচ্ছে না যুগ যুগ ধরে। যাতে রোহিঙ্গারা খাদ্যাভাবে অতিষ্ট হয়ে এদেশে পাড়ি জামাতে বাধ্য হয়। এটাই ছিল তাদের মূল পরিকল্পনা। বালুখালী বস্তির নাগু মাঝি জানান, এদেশীয় পণ্য ছাড়া মংডুর রোহিঙ্গারা বাচঁতে পারবে না। সে জানায়, মংডুতে দায়িত্বরত সে দেশের বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা লোকজন এদেশের পণ্যের উপর নির্ভর করে দিন কাটাচ্ছে। যে কারণে সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ করা বিজিবি’র পক্ষে সম্ভব হচ্ছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দাবী করছেন।
পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত উখিয়া উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধ কল্পে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন রমজানে নিত্যপণ্য সামগ্রী মিয়ানমারের পাচার রোধে সীমান্তরক্ষী বিজিবি সদস্যদের আরো আন্তরিকতার সহিত দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান। এসময় ঘুমঘুম বিজিবি’র কোম্পানী কমান্ডার রফিকুল ইসলাম জানান, সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত নাগরিক ও জনপ্রতিনিধিরা সহযোগীতা না করলে চোরাচালান প্রতিরোধ করা তাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়।
এ প্রসঙ্গে উখিয়ার পাইকারী ব্যবসায়ী সিরাজুল হক, প্রদীপ সেন, বিশ্বনাথ স্টোরের মালিক তপন বিশ্বাসের সাথে আলাপ করা হলে তারা জানান, খুচরা বিক্রির অজুহাতে ব্যবসায়ী পরিচয়ে রমজানের পণ্য সামগ্রী ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। এসব পণ্য সামগ্রী কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা তাদের জানার কথা নয় বলে সাংবাদিকদের মতামত ব্যক্ত করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উখিয়ার প্রায় ২০ জন পাইকারী ব্যবসায়ীর মধ্যমে প্রতি সপ্তাহে কোটি কোটি টাকার নিত্যপণ্য আসছে। এসব পণ্য সামগ্রী খুচরা ব্যবসায়ীদের হাতবদল হয়ে মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সীমান্তের পালংখালী, আনজুমান পাড়া বিজিবি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার দিলীপ বিশ্বাস জানান, তাদের টহল পার্টি শুক্রবার ভোর রাতে নাফনদীতে অভিযান চালিয়ে চোলা, তেল, সেমাই, চিনি, ডাল, আটা, পিয়াঁজ, রসূন ভর্তি একটি নৌকা আটক করতে সক্ষম হয়েছে। নিত্য পণ্য সামগ্রী মিয়ানমারে পাচারের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, স্থানীয় ভাবে প্রচুর চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে নিত্যপণ্য পাচার হলেও পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকার কারণে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

নওগাঁয় ব্রিজ আছে নেই দু’পাশের সংযোগ গাইড অংশ

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আত্রাই থেকে বান্দাইখাড়া যাওয়ার রাস্তার পাশেই চোখে পড়বে এই সংযোগ সড়ক গাইড অংশ বিহীন এই ফুটপাত ব্রিজটির। ব্রিজটির মূল অংশের কাজ শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন পরিকল্পনা নেই দুই পাশের সংযোগ গাইড অংশের কাজ শেষ করার ।
ব্রিজের এই রাস্তা দিয়ে তারানগর, বাউল্লাহসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ চলাচল করে প্রতিনিয়ত। বর্ষার সময় এখানকার মানুষের একমাত্র উপায় নৌকা। বছরের পর বছর এই গ্রামের মানুষদের অপেক্ষা করতে হয়েছে এই একটি ফুটপাত ব্রিজের জন্য।
প্রায় ১বছর আগে দীর্ঘদিনের এই আশা পূরণের জন্য এই স্থানে একটি ফুটপাত ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু ব্রিজের মূল অংশের কাজ শেষ হওয়ার পর অজানা কারণে প্রায় ১ বছর পার হলেও এখনো এই ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ গাইড অংশের কাজ শেষ করার নামে কোন খবর নেই।
এই সংযোগ অংশের কাজ শেষ না হওয়ার কারণে কয়েকটি গ্রামের মানুষ এই ফুটপাত ব্রিজটি ব্যবহার করতে পারছেন না। এতে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষদের।কৃষক তাদের উৎপাদিত পন্য পরিবহনের ক্ষেত্রে অনেক পথ পাড়ি দিয়ে তবেই আত্রাই বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন অথচ এই ব্রিজটি ব্যবহারের উপযোগি হলে খুব সহজেই তারা তাদের সকল কাজ কম সময়ের মধ্যেই শেষ করতে পারবেন।তারানগরগ্রামের মুজিবর, হানিফ, রফিকুলসহ আরো অনেকেই জানান, আমরা এই কয়েকটি গ্রামের মানুষ খুবই অবহেলিত। আমাদের গ্রামে নেই উন্নত মানের যোগাযোগ ব্যবস্থা। আমরা অনেক কষ্টে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করে এই স্থানে একটি ফুটপাত ব্রিজের অনুমোদন নিয়ে আসাই। কিন্তু প্রায় ১ বছর পার হলেও ব্রিজটির মূল অংশের কাজ শেষ হলেও দুই পাশের সংযোগ গাইড লাইনের কাজ এখনো পর্যন্ত শেষ না হওয়ায় আমরা এই ব্রিজটি ব্যবহার করতে পারছি না। এতে আমাদের যে চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করতে হতো আজো তাই করতে হচ্ছে।
আত্রাই উপজেলা প্রকৌশলী মো: মোবারক হোসেন জানান, গত বছর বরাদ্দ শেষ হওয়ার কারণে ব্রিজটির বাকি অংশের কাজ শেষ করা সম্ভব হয় নাই। তবে এবারের এডিবির বরাদ্দ পেলেই এই ব্রিজটির দুই পাশের সংযোগ গাইড লাইনের কাজ শুরু করা হবে।


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org