ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ ফুলবাড়িয়া চলতি আমন মৌসুমে বন্যার ক্ষয়-ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই সম্প্রতি আমন ধান ক্ষেতে দেখা দিয়েছে বি.এল.বি (পাতাপোড়া) রোগের প্রাদুর্ভাব।উপজেলার ১টি পৌরসভা, ১৩টি ইউনিয়নে আমন ক্ষেতের থোর ধানে পাতা পোড়া রোগের আক্রমনে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়ছে। চৌদার গ্রামের কৃষক আঃ কাদের জানান, ১২ কাটা জমিতে হরি ধান আবাদ করেছি। সম্পূর্ণ ক্ষেতে পাতাপোড়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ভালুকজান গ্রামের বর্গাচাষী ওয়াজ আলী জানান, ১ একর জমি ঋণ করে বর্গা চাষ করেছি। পাতা পোড়া রোগের আক্রমনে ক্ষেতে ধান না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ঋণ কি দিয়া শোধ করব। ক্ষেতে মরা থরের ক্ষত দেখে কৃষকরা ছুটছে স্থানীয় কৃষি অফিসে না হয় কিটনাশকের দোকানে।এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বানু জানান, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ১৯ হাজার ৭শ ৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় আমন ক্ষেতে বিএলবি (ভ্যাক্টরিয়া লিভ ব্লাইড) পাতা পোড়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আমি নিজে এলাকা ঘুরে দেখেছি। এ রোগটা সাধারণত বড় পাতা ওয়ালা হাইব্রীড জাতীয় ধানে বেশী আক্রমন করে থাকে। আমরা কৃষকদের কে পরামর্শ দিচ্ছি বেক্টবান পাউটার প্রতি বিঘায় ৬শ গ্রাম, ৫ কেজি পটাশ। অথবা ১০ লিটার পানিতে ৬০ গ্রাম টাশ, ৬০ মিলি থিওবিট, ৫ শতাংশে স্প্রে করা জন্য।

তাজুল ইসলাম তছলিম, হাতিয়া প্রতিনিধি :মা ইলিশ মাছ রক্ষায় ১ অক্টোবর থেকে চলা সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলছে হাতিয়ার জেলেরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের বরাদ্ধকৃত বিশেষ খাদ্য সহায়তা না পেয়ে ক্ষুব্ধ জেলেরা। কবে নাগাদ এ খাদ্য সহায়তা পৌঁছবে জেলেদের কাছে তা জানেনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা। অন্যদিকে জেলেদের জন্য বরাদ্ধকৃত চাল ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সহযোগিতায় ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার অধিকাংশ মানুষ ইলিশ মাছ ধরার সাথে জড়িত। এখানকার অর্থনীতি মূলত ইলিশ মাছ নির্ভর। মা ইলিশ মাছ রক্ষায় ১ অক্টোবর থেকে চলা নিষেধাজ্ঞার ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে এখানকার অর্থনীতি। জন-মানব শূন্য হাট-বাজার। জেকে বসেছে এখানকার বেকারত্ব।
জেলেরা বলছেন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছে হাতিয়ার জেলেরা। এখন পর্যন্ত সরকারী খাদ্য সহায়তা পৌঁছায়নি জেলেদের কাছে। জেলে পল্লীগুলোতে চলছে খাদ্য সংকট।
জেলেরা বলছেন জেলেরা সরকারের আইন মেনে চলছে। সরকার খাদ্য সহায়তা না দিলে পেটের জ্বালায় আইন অমান্য করে আবার নদীতে নামতে বাধ্য হবে জেলেরা ।
জেলেরা তাদের জন্য বরাদ্ধকৃত চাল ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সহযোগিতায় দলীয় নেতাকর্মীদের ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে যাওয়ার লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর।
হাতিয়া হরনী ইউনিয়নের প্রশাসক মুশফিকুর রহমান বলেন, জেলেদের চাল দেয়ার ক্ষেত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে। মৎস্য কর্মকর্তারা স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করলে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যেত।
হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মৎস্য কর্মকর্তামো: ফরিদ উদ্দিন নিশ্চিত করে বলতে পারেননা,কবে নাগাদ জেলেরা পাবে সরকারী খাদ্য সহায়তা। তিান আরও বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দেয়া তালিকানুযায়ী দেয়া হয় জেলেদের চাল । এ ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হলে খতিয়ে দেখা হবে।


সাগর চক্রবর্ত্তী, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি ১০ অক্টোবর মঙ্গলবার ঃ ফরিদপুরের মধুখালীতে প্রতিকেজি মরিচের দাম ২২০/২৫০ টাকা। সেই সাথে সব্জির বাজারও চড়া । বেড়েছে মাছের দাম। উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রকার ভেদে প্রতি কেজি মরিচ ২২০/২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে বেড়েছে সকল প্রকার সব্জির দাম। প্রতি কেজি পটল ৫০ টাকা, করোলা ৫৫/৬০ টাকা,মুলা ৪০/৫০ টাকা। বাজারে ইলিশ মাছ না থাকায় মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
উল্লেখ্য মধুখালী থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন শত শত মন মরিচ রপ্তানী করা হত। অতি বৃষ্টির কারনে মরিচ ক্ষেতে পানি জমে মরিচ গাছ মরে যাওয়ায় মধুখালী এখন মরিচ শুন্য। অন্য জেলার মরিচের উপর ভরসা করতে হচ্ছে ।

 


হিলি প্রতিনিধি:
হিলি স্থল বন্দরে আবারও বেড়েছে ভারত থেকে আমদানী হয়ে আসা পেয়াজের দাম। বন্যার অজুহাতে সে দেশের রপ্তানীকারকরা বাড়িয়ে দিয়েছে পেয়াজের রপ্তানী মূল্য। এক সপ্তাহের ব্যাবধানে প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমদানী কারকরা বলছেন সরকার ভারত ছাড়া অন্য কোন দেশ থেকে যদি পেয়াজ আমদানী করতো, তবে ভারত থেকে আমদানী করা পেয়াজের দাম বাড়ানো রোধ করা যেত।এক সপ্তাহের ব্যাবধানে বন্যার অজুহাত দেখিয়ে ভারত বাংলাদেশে পেয়াজ রপ্তানীতে রপ্তানী মূল্য ১৫০ থেকে বাড়িয়ে তিন’শ মার্কিন ডলার নির্ধারন করে। এতে করে দেশে পেয়াজের দাম প্রকার ভেদে ১৫ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পায়। গত এক সপ্তাহ আগে যে পেয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা। সেই পেয়াজ এখন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়।হিলি স্থল বন্দর জন সংযোগ কর্মকর্তা, সোহরাব হোসেন মল্লিক প্রতাপ জানান, কয়েক দিন আগেও এবন্দর দিয়ে ৪৫ টির অধিক পেয়াজের ট্রাক দেশে প্রবেশ করলেও বর্তমানে তা কমে দাড়িয়েছে অর্ধেকে।এদিকে পেয়াজ আমদানী কারক বলছেন, পেয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রন করে ভারতীয় রপ্তানী কারকরা। তারা যখন এলসির বিপরীতে ডলার মুল্য বাড়িয়ে দেয় তখন দেশীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়ে।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় হাট বাজার ইজারা ওয়ান পার্সেন্টের টাকা হরিলুটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত আগস্ট মাসে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানরা দুই খাতের ২৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮শ টাকার চেক গ্রহণ করলেও এখনো প্রকল্প অনুযায়ী কাজ শুরু করেননি। তাই বিষয়টি নিয়ে হরিণাকুন্ডু উপজেলা প্রশাসন অশ্বস্তিতে পড়েছে। হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট ওয়ান পার্সেন্টের ২১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা হাট ইজারার লাখ হাজার ৮শ টাকা উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের অনুকূলে চেক প্রদান করা হয়। হরিণাকুন্ডুুর ভায়না ইউনিয়নে লাখ ৬০ হাজার টাকার মধ্যে ৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। এর মধ্যে কালীশংকরপুর সামছুলের বাড়ি থেকে শাহজাহান আলীর বাড়ী পর্যন্ত ফাট সলিং, ইউনিয়ন পরিষদের আসবাবপত্র কেনা ভায়না ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ডিজিটাল হাজিরা সরবরাহ। সরেজমিন দেখা গেছে, কালীশংকরপুর সামছুলের বাড়ি থেকে শাহজাহান আলীর বাড়ি পর্যন্ত ফ্যাট সলিং সম্পূর্ণ করা হয়নি। ওই রাস্তাটি এখনো এক ফুট বাকি রয়েছে। তাছাড়া ভায়না ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও কোন ডিজিটাল হাজিরা সরবরাহ করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেন ইউনিয়ন ভূমি উন্নয়ন সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান। তবে ইউনিয়ন পরিষদে কিছু আসবাবপত্র কেনার কথা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান ছমির উদ্দীন। তিনি বলেছেন লাখ ৬০ হাজারের মধ্যে আমি এক লাখ ৬০ হাজার পেয়েছি। সেই টাকা দিয়ে আমি রাস্তা আসবাবপত্র কিনেছি। বাকি টাকা আমাকে দেওয়া হয়নি। তবে হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিস থেকে বলা হয়েছে ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট ৭৬৩২৫৫০ নং চেকে ভায়না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছমির উদ্দীনকে লাাখ ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তিনি কোন টাকা পাবেন না। হরিণাকুন্ডুর জোড়াদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা পলাশ জানান, তিনি যে টাকা পেয়েছেন তা অ্যাকাউন্টে আছে। বর্ষা শেষ হলে এই টাকার কাজ করা হবে। নং তাহেরহুদা ইউনিয়ন পরিষদে যেনতেন ভাবে আসবাবপত্র ভবন রং করা হলেও এখনো ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কোন ডিজিটাল হাজিরা সরবরাহ করা হয়নি। ওই ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের অনুকূলে ২৬৩২৫০১ নং চেকে লাখ ৭০ হাজার টাকা প্রদান করা হয় গত ২৩ আগস্ট। বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান মুনজুরুল ইসলাম জানান, ওয়ান পার্সেন্টের টাকা তছরুপের কোন সুযোগ নেই। প্রকল্প তৈরি করে সব টাকার কাজ করা হবে। কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নে এই খাতের লাখ ২০ হাজার টাকা ২৬৩২৫০৪ নং চেকে প্রদান করা হয়। সেখানে তিনটি প্রকল্পের মধ্যে একটিও বাস্তায়ন হয়নি করেননি স্থানীয় চেয়ারম্যান মশিউর রহমান জোয়ারদার। শাখারীদহ গ্রামের মাঠে কোন বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়নি। কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও কোন ডিজিটাল হাজিরা সরবরাহ করা হয়নি বলে জানান, কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা বিবেকানন্দ সরকার। হরিণাকুন্ডুর দৌলতপুর, রঘুনাথপুর, ফলসি চাঁদপুর ইউনিয়নেও প্রকল্প বাস্তবায়নের চিত্র হতাশাজনক। ফলসি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ডিজিটাল হাজিরা সরবরাহ করার কথা প্রকল্পে উল্লেখ থাকলেও ওই ইউনিয়নে কোন ভূমি অফিসই নেই। ইউনিয়নের বাসিন্দারা হরিণাকুন্ডু পৌর ভূমি অফিসে কাজ সারেন বলে জানান, হরিণাকুন্ডর এসিল্যান্ড (ভূমি) দিলারা জামান। এদিকে হরিণাকন্ডুর হাট বাজার ইজারার ৪৬% হিসেবে লাখ হাজার ৮শ টাকা চলতি বছরের ২৩ আগস্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের অনুকূলে চেকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। বরাদ্দকৃত অর্থের বিপরীতে গৃহীত প্রকল্প হরিণাকুন্ডুু উপজেলা প্রকৌশলী কৃর্তৃক প্রাক্কলন পস্তুতপূর্বক ইউএনওর অনুমোদন নিয়ে ব্যয় করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যানগণ তা না করেই অর্থ তুলে নিয়েছেন। সেই টাকায় কি কাজ করা হয়েছে তাও হরিণাকুন্ডু ইউএনও অফিসকে জানানো হয়নি। হরিণাকন্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসও হাট বাজার ইজারা ওয়ান পার্সেন্টের টাকা ব্যয় নিয়ে রয়েছে অন্ধকারে। যথাযথ ভাবে হিসেব দাখিল না করায় এই টাকা তছরুপের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হরিণাকুন্ডুর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা জামান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

ছনি চৌধুরী,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ॥॥
হবিগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় শাক-সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। দিন তো দিন বাড়ছে সবজির দাম । জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ শাক-সবজি উৎপাদন সত্ত্বেও হঠাৎ করে সেগুলোর দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মজুদ রাখার কারণে এ সব নিত্য পণ্যের দাম দিন দিন বেড়ে চলছে। শহরের বিভিন্ন বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচামরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩শ’ টাকায়। কেউ খুচরা একশ গ্রাম ক্রয় করতে চাইলে তার কাছে দাম চাওয়া হয় ৩০ টাকা। এছাড়া বেগুন ২০ টাকা বেড়ে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা, সাদা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, শিম ১১০ থেকে ১৩০ টাকা, হাইব্রিড টমেটো ১২০ টাকা। শসা ৭০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০-৬০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০ টাকা, ঝিঙা ৭০-৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০-৭০ টাকা, করলা ৭০-৮০ টাকা, কাঁকরোল ৫৫ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, কচুরমুখী ৬০-৬৫ টাকা, আমড়া ৬০ টাকা, লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা, লালশাক ৩০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ টাকা, লাউশাক ৩০ টাকা। মুলা শাক ২৫-৩০টাকা, বটবটি ৭০-৮০ টাকা, কাচঁ কলা ৪০-৫০ টাকা হালি, ডাটা ৩০-৪০ টাকা, ধনিয়া পাতা ৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে শাক-সবজির দাম বেশি হওয়ায় আমাদেরকে ও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, সবজি ক্রয় করে নিয়ে আসতে প্রচুর টাকা গাড়ি ভাড়ার পাশাপাশি রাস্তায় রাস্তায় চাঁদা দিতে হয়। যে কারণে তুলনামূলভাবে কিছুটা বেশি নিতে হয় দাম। এছাড়াও বর্তমানে ঠিকমত বৃষ্টিবাদল না হওয়ায় অনেক ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। যার ফলে অনেক শাক-সবজির দাম বেড়েছে। প্রশাসন বাজার সঠিক ভাবে মনিটরিং করলে দাম কমবে সবজির বাজারের এমনটাই মনে করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ ক্রেতাগণ ।


নওগাঁ প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে জেলায় প্রায় ১ লাখের অধিক গৃহপালিত পশু কোরবানি দিয়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসলামানরা। কোরবানির পশুর চামড়ায় গরীব-মিসকিনদের হক রয়েছে। উপযুক্ত মূল্যে কোরবানিদাতারা চামড়া বিক্রি করে সেই টাকা গরীব-মিসকিনদের দিয়ে থাকেন। তবে চামড়ার দাম এবার কম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন গরীব-মিসকিনরা। আর মাঝখান থেকে লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা।
কোরবানি ঈদের সময় মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী বা ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের আনাগোনা থাকে বেশি। তারা ধারদেনা করে টাকা সংগ্রহ করে চামড়া কিনে থাকেন। লাভের টাকা থেকে আবার তা পরিশোধ করে থাকেন। তারা গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে চামড়া কিনে চামড়া হাটে বিক্রি করেন। সেখান থেকে বড় বড় চামড়া ব্যবসায়ীরা তাদের কাছ থেকে চামড়া কিনে থাকেন।
জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের ২৫০ জনের মতো সদস্য হলেও মৌসুমে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজারের মতো ফড়িয়া ব্যবসয়ীরা চামড়া কেনেন। এ ঈদে ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের অনেকেই লোকসানের আশঙ্খা করছেন। চামড়া কিনে বিপদে পড়তে হয়েছে বলে জানা গেছে। কেউ কেউ কেনা দামেও চামড়া বিক্রি করেছেন। এতে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত উঠার উপক্রম হয়েছে। ফলে চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কোরবানিদাতা ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।
আবার যারা কোরবানি দিয়েছেন তারাও চামড়ার ন্যায্য দাম পাননি বলেও জানা গেছে। এক কথায় পানির দামে তাদের চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে। বেশি সময় ধরে চামড়া রাখলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই বাধ্য হয়েই অল্পমূল্যে চামড়া বিক্রি করে দিয়েছেন।
শনিবার ঈদের দিন ছিল জেলার মান্দা উপজেলার সতিহাট চামড়ার হাট। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বকরির চামড়া ৫-১৫ টাকা, খাসির চামড়া ১০-৫০ টাকা, বকনা গরু ১৫০-২০০, ষাঁড় গরু ৭৫০-৯০০ টাকায় চামড়া বিক্রি হয়েছে।
মান্দার গনেশপুর গ্রামের মকবুল হোসেন বলেন, এবার একটি বকরি কোরবানি দিয়েছেন। ভাল দাম পাওয়ার আশায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে আড়াই কিলোমিটার দূর থেকে সতিহাটে চামড়া বিক্রি করতে এসে বড়ই বিপদে পড়েছেন। ‘চামড়ার দাম না থাকায় পাঁচ টাকা দিয়ে বিক্রি করতে হয়েছে। যেখানে চামড়ার খাজনাই পাঁচ টাকা।’ তবে চামড়ার দাম না থাকায় গরীব মিসকিনরা তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আল মামুন বলেন, এ বছর প্রায় ৫০ হাজার টাকার কাঁচা চামড়া কিনেছেন। চামড়ার হাটে বড় বড় চামড়া ব্যবসায়ীরা না আসায় কিছুটা লোকসানে আশঙ্খা করছেন।
পতœীতলা উপজেলার নজিপুর পৌর এলাকা নতুন হাটের চামড়া ব্যবসায়ী নয়ন কুমার বলেন, ধারদেনার টাকায় চামড়া কিনে খুব হতাশার মধ্যে পড়েছি। সময়মতো এসব চামড়ায় লবণ দিতে না পারলে বা বিক্রি করতে না পারলে চামড়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই অনেকেই কোরবানির পশুর চামড়া অল্পমূল্যেই বিক্রি করে দিয়েছেন। লবণের দামও বেশি। পাইকাররাও তেমন আসছেন না। এ মাল কবে বিক্রি হবে তার কোন ঠিক নেই।
নওগাঁ জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি মমতাজ হোসেন বলেন, সরকার চামড়ার যে মূল্য নির্ধারন করে দিয়েছে তার থেকে ফড়িয়া ব্যবসয়ীরা অনেক বেশি দামে চামড়া কিনেছে। তারা চামড়ার ধরন ও ফুট না বুঝে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা বর্গফুটে চামড়া কেনায় এখন লোকসানের মুখে। ফলে বেশি দামে চামড়া কেনায় কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। মোট কথায় আগামীতে চামড়ার বাজার পাটের তুলনায় খারাপ হওয়ার আশঙ্খা রয়েছে।#

মোঃ গোলাম মোস্তফা, সাভার
পবিত্র ঈদুল আযাহা উপলক্ষে সাভারের আশুলিয়ায় বিনোদন কেন্দ্র ফ্যান্টাসি কিংডমে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ করা গেছে।রবিবার সকাল থেকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় অবস্থিত বিনোদন কেন্দ্র ফ্যান্টাসি কিংডমে দর্শনার্থীদের এ ভীড় লক্ষ করা গেছে।ফ্যান্টাসি কিংডমের জেনারেল ম্যানেজার মেজর (অব.) মনজুর উদ্দিন আহমেদ জানান পবিত্র ঈদুল আযাহা উপলক্ষে সকাল থেকে Í বিনোদন কেন্দ্র ফ্যান্টাসি কিংডমে সব বয়সের মানুষরা বিনোদন করতে আসে। ফ্যান্টাসি কিংডমের সব রাইড গুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড় দেখা গেছে। এছাড়া ওয়াটার কিংডমে সব বয়সের মানুষরা আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে। ঈদ উপলক্ষে ফ্যান্টাসি কিংডম কতৃপক্ষ এবার দর্শনার্থীদের আন্দা দেওয়ার জন্য এবার ইনভেডেবল স্লাইপসহ দুটি নতুন রাইড নিয়ে এসেছে। এবার ঈদ উপলক্ষে ফ্যান্টাসি কিংডমে প্রত্যেক জনের জন্য ১২’শ টাকার একটি প্যাকেজ ছাড়া হয়েছে। ১২’শ টাকায় রয়েছে ৯ টি রাইড,ওয়াটার কিংডমসহ দুপুরের খাবার।আগামীকাল আরও বেশী দর্শনার্থীদের আগমন ঘটবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।এছাড়া এবার ঈদ উপলক্ষে ফ্যান্টাসি কিংডম কতৃপক্ষ ১২ দিনের জন্য ডিজে সো সহ নানা ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন বলে জানা গেছে।


নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় জাতীয় শ্রমীকলীগ নওগাঁরর উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার শহরের পার নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড চত্বরে বন্যার্তদের মাঝে চাল, ডাল, আটা, সেমাই ওচিনি বিতরণ অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসাবে নওগাঁ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক এমপি এসব ত্রান বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল আহম্মেদ বাদল, জাতীয় শ্রমীকলীগ নওগাঁর সভাপতি জহুরুল ইসলাম সিদ্দিকী মিলন, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুণ হক সোহেল, দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রশিদ, অর্থ সম্পাদক বিপুল চন্দ্র সিকদার, প্রচার সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সহ ত্রান ও পূনাবাসন সম্পাদক মুন্টু চাকি, সহ শ্রমিক কল্যান বুলু জোয়াদ্দার, সদস্য আয়নুল হক খোকন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ, আসলাম শেখ, পিডিবির আব্দুল মজিদ, সাখাওয়াৎ হোসেন হেলাল, ইব্রাহিম, শাহানাজ আক্তার নাইস, আবেদা সুলতানা রেশমা, দীপ্তি, সুমি প্রমুখ।


জৈন্তাপুর প্রতিনিধি-
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে বিশেষ বিজিএফ ৩০ কেজি চাল নগদ ৫শত টাকা বিতরন করা হয়। জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্তরা ত্রানের চাল পেলেও টাকা পায়নি ৮নং ওয়ার্ডের দূর্গতরা।
সরেজমিনে ঘুরে ত্রান প্রাপ্তদের সাথে আলাপকালে জানা যায়- গত ২৯ আগষ্ট মঙ্গলবার জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদে বিশেষ বিজিএফ এর আওতায় বন্যাদূর্গতদের মধ্যে ৩০কেজি চাল ও নগদ ৫শত টাকা বিতরন করা হয়। কিন্তু জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের লামনীগ্রাম, ভিত্রিখেল (ববরবন্দ), ভিত্রিখেল, ভিত্রিখেল (লামাবস্তি) বন্যা দূর্গতদের মধ্যে চাল বিতরন করে। কিন্তু বন্যা দূর্গতরা অতিতের ন্যায় সরকারের পক্ষ হতে চাল পেলেও পূর্বে নগদ অর্থ কখনো পায়নি। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইউপি সদস্য শওকত আলী এবং ট্যাগ অফিসার হাসিনুর রশিদের সহায়তায় দূর্গতদের জন্য বিশেষ বিজিএফ এর ৫শত টাকা করে নিজের কাছে রেখে দেন। ভিত্রিখেল গ্রামের গনি মিয়া, রফিক মিয়া, সুরুজ আলী, নেয়ারুন, মুছা মিয়া, আফিয়া, সাফিয়া সহ প্রায় ৩০/৩৫ জনের সাথে আলাপকালে তারা জানান আমরা ৩০ কেজি করে চাল পেয়েছি কোন টাকা পাইনি। ভিত্রিখেল গ্রামের গনি মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে আলাপকালে তিনি জানান আমার দুই ভাই ৩০ কেজির করে চাল পেয়েছি কিন্তু অন্য ওয়ার্ডের লোকেরা নগদ ৫শত টাকা করে পেলেও আমরা তা পাইনি। টাকার বিষয় জানতে চাইলে “চাল নিয়ে যান” পরে দেখা যাবে। একই ভাবে লামনীগ্রামের সুরুজ আলীর সাথে মোবাইল ফোনে আলাপকালে তিনি বলেন- আমি ও আমার মেয়ে চাল পেয়েছি, এছাড়া গ্রামের আরও অনেকে চাল পেয়েছেন কিন্তু টাকা পয়সা পাইনি বা ওয়ার্ডের কাউকে টাকা পয়সা দেওয়া হয়নি। আপনারা টাকা চাননি প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন- অতিতের মত আমরা মনে করেছি শুধু মাত্র চাল বিতরন করা হচ্ছে, এজন্য টাকা চাইনি। লামনীগ্রামের মুছা মিয়ার সাথে আলাপকালে তিনি জানান- আমার নাম তালিকায় নেই আমাকে ডেকে নিয়ে চাল দেওয়া হয়েছে। আমি কোন টাকা পাইনি এবং কাউকে টাকা দিতে দেখিনি।
এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমানের সাথে পরিষদে আলাপকালে তিনি জানান- আমি একার পক্ষে প্রতিটি ব্যক্তির বিজিএফ এর টাকা ও চাল বিতরন করা সম্ভব নয়। এজন্য নিজ নিজ ওয়ার্ড মেম্বারের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেই। কোন একজন ব্যক্তি যদি টাকা না পাওয়ার বিষয় আমাকে জানাত তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতাম। বিষয়টি আমি রাতে একজন মুরব্বির মাধ্যমে জানতে পারি। পরিষদের সকল সদস্যদের নিয়ে জরুরী বৈঠকের মাধ্যমে টাকা ও চাল বিতরনের অনিয়মের মাধ্যমে কেউ আত্মসাৎ করলে আইননুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার কথা জানান ইউপি চেয়ারম্যান। বিষয়টি নিশ্চিত হতে ২নং জৈন্তাপুর ইউপি সদস্য শওকত আলীর মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অপরদিকে ২নং জৈন্তাপুর ইউপির ট্যাগ অফিসার হাসিনুর রশিদের সাথে আলাপকালে- তিনি জানান আমার সম্মুখে সকল ইউপি সদস্য চাল ও টাকা বিতরন করেছেন। যদি কোন ইউপি সদস্য আমার অনুউপস্থিতে টাকা বিতরন করে না থাকে সেটি আমার জানা নেই।
এবিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ বলেন- আমাকে কেউ এরকম ঘটনার কথা জানায়নি। আপনার মাধ্যমে মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। সংশি¬ষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে আমি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের পদক্ষেপ নিব।