,

ThemesBazar.Com

টঙ্গীতে ট্রেন দুর্ঘটনা : নেপথ্যে আউটার সিগন্যাল ?

এস. এম. মনির হোসেন জীবন,টঙ্গী থেকে – : গাজীপুরের টঙ্গীতে ৫২-জামালপুর কমিউটার ট্রেনটি নতুন বাজার আউটার সিগন্যাল (লাইন) পরিবর্তন হওয়ায় মর্মান্তিক এক ট্রেন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অন্তত ৫জন নিহত হবার ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা । সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রেনের সিগন্যাল ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এছাড়া রেলগেইটে দায়িত্বরত গেইটম্যানের অবহেলার ও ভুলের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টঙ্গী রেলস্টেশনে কাছে নতুন বাজার উড়ালসেতুন নিচে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৫জনের প্রাণহানি সহ কমপক্ষে ২৫জন যাত্রী আহত হয়েছে। এ ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে বাংলাদেশে রেলওয়ের চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আখতারুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে আরও থাকবেন রেলওয়ের চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও চিফ টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার। আগামী তিন কার্যদিবসে তদন্ত কমিটিকে এবিষয়ে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
টঙ্গী রেলওয়ে জিআরপি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) মো: রফিকুল ইসলাম গতকাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো: হালিমুজ্জামান জানান, জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা ৫২-জামালপুর কমিউটার ট্রেনটি রোববার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে টঙ্গী রেলেওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছায়। এখানে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর যখন ট্রেনটি কমলাপুরের দিকে যাওয়া শুরু করে তখন কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর হয়ে একটি ডেমো ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে আসছিল। যখন জামালপুর কমিউটার ট্রেনটি যখন টঙ্গী জংশন অতিক্রম করছিল ঠিক তখন ডেমো ট্রেনের জন্য সিগন্যাল দেওয়া হয়।
এদিকে, কমিউটার ট্রেনটির সাতটি বগি জংশন পার হলেও লাইন পরিবর্তন হওয়ার কারণে বাকি পাঁচটি বগি বিপরীত লাইনে চলে যায়। ট্রেনের ৮ নম্বর বগিটি দুই লাইনের মাঝখানে পরে যায়। এতে লাইনচ্যুত হয়ে ট্রেনের বগিটি দুই পাশের লাইনের ওপর পড়ে যায়। এসময় ট্রেনের ছাদে থাকা যাত্রীরা নিজেদের জীবন বাঁচাতে লাফ দিয়ে নামার সময় লাইনচ্যুত বগির নিচে কাটা পড়লে ঘটনাস্থলে তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় সাহাদাৎ হোসেন নামে আরও একজন। এনিয়ে মৃতের সংখ্যা ৫জনে এসে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় নিহত ট্রেন যাত্রীরা হলেন- আমির উদ্দিন (৩৫), মো, খোকন (৪০), শাহদাদ হোসেন (৩৫)। অপর জনের নাম জানা যায়নি। আহতদেরকে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, ঢামেক হাসপাতাল ও পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
টঙ্গী নতুনবাজার এলাকার বাসিন্দারা জানান, শনিবার দিবাগত রাতে নতুনবাজার রেলক্রসিংয়ে (একই স্থানে) যাত্রীবাহী আরো একটি ট্রেনের নাটভল্টু নিচে খুলে পড়ে গিয়ে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। অল্পের জন্য বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনার হাত থেকে যাত্রীরা রক্ষা পায়। এছাড়া প্রায় একই স্থানে আউটার সিগন্যালে ট্রেন দুর্ঘটনা কিংবা ট্রেন লাইনচ্যুত হবার ঘটনা অহরহ ঘটছে বলে এলাকাবাসিরা অভিযোগ করেন।
টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন ম্যানেজার এ এস এম কবির হেসেন জানান, দুর্ঘটনায় রেললাইনের অনেকগুলো ¯িøপার ভেঙে গেছে। ট্রেন দুর্ঘটনাটি কী কারণে হয়েছে সে বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। তবে, দুর্ঘটনার কবলে পড়া ট্রেনটিতে মোট ১২টি বগি ছিল। তার মধ্যে সাতটি বগি রোববার দুপুরেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। বাকি বগিগুলো বিকেলে রিলিফ ট্রেনের মাধ্যমে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ঢাকার সাথে সারা দেশের ট্রেনচলাচল স্বাভাবিক হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি অপারেশন) মো. মিয়া জাহান জানান, টঙ্গীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় ব্রজগেজ লাইনের অনেকগুলো ¯িøপার ভেঙে গেছে। সেগুলো মেরামতের পর ’’ব্রডগেজ লাইনে’’ ট্রেন চলাচল করতে পারবে।
ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, এটি আমি বলতে পারি না। তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে ভাল বলতে পারবেন। রোববার বিকাল ৫টার পর থেকে দু’টি লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাকি হয়ে উঠে।
টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন ও বাংলাদেশ রেলওয়ে অধিদফতরের একটি সূত্র জানায়, ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় রেল লাইনের বেশ কিছু অংশের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। মিটার গেজ লাইনের তেমন ক্ষতি না হলেও ব্রডগেজ লাইনের ৫০- ৬০টি ¯িøপার ভেঙে গেছে। এগুলো মেরামত না হওয়া পর্যন্ত ব্রডগেজ লাইনে ট্রেন চলাচল করতে পারবে না। এ ঘটনায় জংশনের সিগন্যাল অপারেশন অথবা লাইনের কোনও ত্রুটি থাকতে পারে বলে জানায় সূত্রটি।
এদিকে,রোববার সন্ধ্যায় টঙ্গীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে ঢামেক হাসপাতালে যান রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক (এমপি)। এ সময় তিনি সাংবাদিকদেরকে বলেন, আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব সরকার নিয়েছে।
এছাড়া রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক সাংবাদিকদেরকে বলেন, হয়তো কোনো ফল্টের (ভুলের) কারণে অথবা প্ল্যাানিং ব্যবস্থার কারণে এই ট্রেন দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি জানান, যে কারণে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে, সেটি খুঁজে বের করতে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আগামি তিন কার্য দিবসের মধ্যে এই তদন্ত কমিটি তদন্তের প্রতিবেদন রিপোর্ট জমা দেবে।
রেলমন্ত্রী সাংবাদিকদেরকে বলেন, দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই, এটা আমরাও কামনা করি না। আপনারাও কামনা করবেন না। আহতদের চিকিৎসা খরচ সরকার বহন করবে। তাদের চিকিৎসার জন্য যা যা করা দরকার, তাই তাই করা হবে।

ThemesBazar.Com

     More News Of This Category