,

ThemesBazar.Com

চলনবিলের বকের সারি প্রাকৃতিক সৈন্দর্যের লীলাভূমি

পাবনা প্রতিনিধি \ বাংলাদেশ ঋতু বৈচিত্রের দেশ। এক এক ঋতুতে বাংলার প্রতিটি প্রান্তর সাজে নতুন নতুন আঙ্গিকে। পাবনা সিরাজগঞ্জ ও নাটোর অধ্যুষিত চলন বিল অপার সৈন্দর্যের লীলাভুমি। বসন্তের প্রকৃতি যখন সাজছে নব রূপে ঠিক এমন সময় চলনবিলের অপার সৈন্দর্য নজর কাড়ছে সকলের। মাঠের পর মাঠ শস্য খেত। মটর শ্যুটি, খেসারী, বোরো ধান, মশুর, রসুন, গম, কালোজিরা, ভুট্রাসহ নানা ফসলে ভরে গেছে চলনবিলের পানি শুকিয়ে যাওয়া বেশ কিছু অঞ্চল। মৎস্য চাষীদের দুদিন থাকলেও শস্য চাষীদের মুখে এ সময় হাসির ঝিলিক। এ মৌসুমে বিপুল পরিমান জমিতে বোরো আবাদ হয়ে থাকে। ধান গাছের এ সবুজ গালিচার সৈন্দর্য বাড়িয়ে তুলছে ঝাঁক ঝাঁক সাদা বক। বক গুলো সবুজ ধান গাছের ভেতর পোকা মাকড় খাওয়ায় ব্যস্ত। মাঠে চাষীদের পদচারণার আওয়াজ পেলেই পাখা ঝাপটে উড়ে দূরে গিয়ে বসবে অথবা উড়তে উড়তে একসময় মিশে যাবে দূর আকাশ নিলীমায়। বিলের এক প্রান্ত থেকে অন্য পান্তে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে যায় কি অপরুপ শোভা বর্ধন করে চলন বিলের উপরে নীল আকাশ আর জমিতে সবুজ ক্ষেতের মাঝে।

দীর্ঘ গলা ও পা বিশিষ্ট সাদা বকের পালক প্রাচ্যের পোশাকাদী ও টুপির শোভা বর্ধনে ব্যবহৃত হত। আট প্রজাতির সাদা বকের মধ্যে আমাদের দেশে রয়েছে পাঁচ প্রজাতির সাদা বক। এদের আকার ৪৫ থেকে ১শ ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। পা ও লম্বা ঠোঁট ছাড়া এদের সারা দেহ সাদা পালকে আবৃত। গাছে বাসা বেঁধে রাতে সেখানে বসবাস করলেও দিনের বেলায় খাদ্যের অন্বেষণে এরা নদী পুকুর খাল বিল জলাশয়ে ছুটে বেড়ায়।
চাটমোহর- হান্ডিয়াল সড়কের কুঁজোর মোড় থেকে বিন্যাবাড়ি অভিমুখী সড়ক ধরে কিছুদূর এগুতেই সবুজ ধান খেতের মাঝে ঝাঁকে ঝাঁকে হেটে চলা সাদা বক নজর কারে। এ অঞ্চলের রিপন হোসেন নামের যুবক বলেন, “প্রতি বছর এ বিলের শোভা বাড়ায় সাদা ধুসর বিভিন্ন রঙের বক। নিষিদ্ধ হলেও সৌখিন শিকারীরা গুলি করে কখনো কখনো বক নিধন করেন; যা কখনোই কাম্য নয়। কেউ ফাঁদ পেতে আবার কেউ পোষা বক দিয়ে বুনো বক ধরেন”।

ThemesBazar.Com

     More News Of This Category