,

ThemesBazar.Com

গাইবান্ধা-কুড়িগ্রামবাসীর প্রাণের দাবী তিস্তাসেতু বন্ধন হবে ভাগ্যোন্নয়নের আশীর্বাদ


আবু বক্কর সিদ্দিক, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
স্বাধীনতা পরবর্তী ৪২ বছর পরে গাইবান্ধা-কুড়িগ্রামবাসীর প্রাণের দাবী তিস্তাসেতু বন্ধন আজ পূরণ হতে চলছে। সেতুটি নির্মিত হলে দু’জেলাবাসীর ভাগ্যোন্নয়নের আশীর্বাদ বয়ে আনবে বলে বিজ্ঞ মহলের অভিমত। এই সেতু বন্ধনের ফলে অবহেলিত গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলাবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থা সুদৃঢ় হবে। বাঁচবে সময়, খরচ ও শ্রম। নদী ভাঙ্গণ রোধে সহায়ক হওয়া ছাড়াও সেতুটি নির্মাণে বাড়বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর- কুড়িগ্রামের চিলমারী পর্যন্ত দ্বিতীয় তিস্তা সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করেছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এরআগে অর্থাৎ বিগত ২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গাইবান্ধা সার্কিট হাউজে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটির উদ্বোধন করেন । এর ৩ বছর অতিক্রান্ত করে গত ২৮ সেপ্টেম্বর টেণ্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক- খন্দকার মাহাবুব হোসাইন। টেণ্ডার বাক্স খোলা হবে আগামী ২২ নভেম্বর। দীর্ঘ ১ দশমিক ৪শ’ ৯০ কিলোমিটার পিছি গার্ডার এই সেতুর নির্মাণ কাজ ২০১৭ সালে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়ায় ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় বরাদ্দ রয়েছে ৭শ’৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে মুল সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে ২শ’ ৭৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। দু’পাশের জন্য পর্শ্বস্ত সড়ক নির্মাণে ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা, নদী শাসনে ৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ও জমি অধিঃগ্রহণে ব্যয় হবে ৬ কোটি টাকা। সেতুটিতে মোট পিলার থাকবে ৩০টি। এর মধ্যে ২৮টি পিলার থাকবে নদী সীমানা অভ্যন্তরে। অপর ২টি পিলার থাকবে বাইরের অংশে। অর্থাৎ সংযোগ সড়কের সংযুক্তিতে সহায়ক হিসেবে। সেতুর উভয় পাশে নদী শাসন করা হবে ৩ দশমিক ১৫ কিলোমিটার করে। সড়ক নির্মাণ করা হবে ৫৭দশমিক ৩ কিলোমিটার। এরমধ্যে কুড়িগ্রমের চিলমারীর মাটিকাঁটা মোড় থেকে সেতু পর্যন্ত ৭ দশমিক ৩ কিলোমিটার। অপরপাশে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর ধাপেরহাট থেকে হরিপুর সেতু পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার। চিলমারী অংশে এক্সেস সড়ক সেতু থেকে কাশিমবাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ৩ কিলোমিটার ও গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট থেকে হরিপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার। সড়ক নির্মাণে জমি অধিঃগ্রহণ করা হবে ৯০দশমিক ৮৪ হেক্টর। এরমধ্যে চিলমারী এলাকায় ২২ দশমিক ৫ হেক্টর ও গাইবান্ধা এলাকায় ৬৮ দশমিক ৩৪ হেক্টর। গত ১৫ জুন জাতীয় সংসদে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা আহমেদ বাজেট অধিবেশনে হরিপুর তিস্তা সেতু নির্মাণের দাবী তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। ফলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ইতোমধ্যে সড়ক নির্মাণে মাটি ভরাটের টেন্ডার হয়েছে। এব্যাপরে উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মুনছুর জানান- তিস্তা সেতুর যাবতীয় কার্যক্রম জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে পরিচালিত হচ্ছে। এই তিস্তা সেতু বাস্তবায়ন আন্দোলনের প্রনেতা আ.ব.ম. শরীয়ত উল্লাহ্ মাস্টার বলেন, “স্বাধীনতা পরবর্তীকাল থেকে এ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে আসছি। এখন অনেক বয়স হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নেকদৃষ্টি কামনা করছি।ত তিনি যেন তারাতারি করে তিস্তা সেতু নির্মাণের ব্যবস্থাটা পাকাপোক্ত করেন”। সেতুটি নির্মাণে অবহেলিত এই কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধাবাসীর সার্বিক যোগাযোগে ব্যবস্থা সুদৃঢ় হবে- শুধু তাই- না, রাজধানীসহ দেশের সর্বস্তরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে ভাগ্যোন্নয়নে আশীর্বাদ বয়ে আনবে বলে বজ্ঞ মহল আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।
গাইবান্ধায় বিএনপি’র মিছিলে টিয়ারসেল নিক্ষেপ: গ্রেপ্তার-১
আবু বক্কর সিদ্দিক, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ

গাইবান্ধায় বিএনপি’র বিক্ষোভ মিছিলে বাঁধা প্রদান, টিয়ারসেল নিক্ষেপসহ ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারীর প্রতিবাদে বুধবার দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে জেলা বিএনপি। এ সময় পুলিশ বাঁধা বিএনপি ও এর অঙ্গ- সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। ফলে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জেলা বিএনপি সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ মইনুল হাসান সাদিকের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন নবী টিটুল, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য- অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, শহর বিএনপির সভাপতি- শহিদুজ্জামান শহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক- মোশাররফ হোসেন বাবু, আনিছুর রহমান নাদিম, জেলা কৃষক দলের আহবায়ক- ইলিয়াস হোসেন প্রমুখ। বক্তারা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নামে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা অবিলম্বে ঐ মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান।

গাইবান্ধায় সাংবাদিকদের প্রতিবাদ: পুলিশের দুঃখ প্রকাশ

আবু বক্কর সিদ্দিক, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধায় বিএনপি’র বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ছবি তুলতে গিয়ে তিনি চরমভাবে লাঞ্চিত হয়েছেন।
বুধবার দুপুরে বিএনপি’র বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ চলাকালে এ ঘটনার শিকার হন ফটো সাংবাদিক সাংবাদিক কুদ্দুস আলম।এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিক রাস্তায় বসে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। এঘটনায় স্থানীয় প্রেস ক্লাবে বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা প্রতিবাদ সভায় মিলিত হন। সে সময় সদর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সদর থানা অফিসার ইনচার্জ খান মো. শাহরিয়ার, অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আরশেদুল হক গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এসে উপস্থিত হন। তারা বিষয়টিকে অনাকাংখিত আখ্যায়িত করে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে পুলিশ আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন। গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে তাৎক্ষনিক অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা প্রেসক্লাব কর্মকর্তা ও জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা প্রতিবাদ সভায় মিলিত হন।

 

ThemesBazar.Com

     More News Of This Category