,

ThemesBazar.Com

সরকারী সম্পদ ভাংচুর নওগাঁর ঐতিহাসিক পাহাড়পুর ইউনিয়ন পরিষদের ই-সেবা কেন্দ্রে হামলা ॥ আহত-১


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়ন পরিষদে ই-সেবা নিতে আসা ব্যক্তির উপর প্রতিপক্ষের হামলায় প্রায় লক্ষাধীক টাকার সরকারী মালামাল নষ্ট হয়েছে এবং সেবা নিতে আসা মিনহাজুল ইসলাম রহেদ নামের এক ব্যক্তি আহত হয়েছে। সরকারী সম্পদ নষ্ট হওয়ার পরও ইউপি চেয়ারম্যান কোন ব্যবস্থা না নিয়ে রহস্যজনক ভাবে নিরব ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে ইউপির মালঞ্চা গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে মিনহাজুল ইসলাম রহেদ ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট নিতে আসে। এসময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই গ্রামের আসাদুজ্জামান হিট এর ছেলে মুনিরুজ্জামান মুন্না, মিতু, মানিক, মিসু এবং আরও কয়েকজনকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ মিনহাজের উপর হামলা করে। হামলায় প্রাণের ভয়ে মিনহাজ ছোটাছুটি করলে তাদের লাঠির আঘাতে তথ্য কেন্দ্রের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টারসহ ই-সেবা কেন্দ্রের প্রায় লক্ষাধীক টাকার সরকারী সম্পদ নষ্ট হয়ে যায়। পরে তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মিনহাজের হাতের একটি আঙ্গুল কেটে যাওয়ায় সে মারাত্মক ভাবে আহত হয়। সংবাদ পেয়ে মিনহাজুলের পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। এই ঘটনায় সরকারের এত টাকার সম্পদ নষ্ট হলেও চেয়ারম্যানের পক্ষ হতে এখন পর্যন্ত কোন প্রকার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। এছাড়া মিনহাজের পক্ষ হতে বদলগাছী থানায় মামলা করতে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন মামলা নেওয়া হয়নি। এতে করে এলাকাবাসীর মধ্যে একটি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পাহাড়পুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে স্যানিটারী ব্যবসায়ী মোস্তফা বেলাল বলেন, মারামারির খবর পেয়ে এসে দেখি মিনহাজ পরিষদের তথ্য কেন্দ্রের ঘরে বন্ধি আছে। আমরা তাকে মারাত্মক আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। যে ক্ষোভই থাক না কেন সরকারী একটি প্রতিষ্ঠানের ভিতরে এসে এভাবে কাউকে আক্রমন করা মোটেও ঠিক হয়নি। চেয়ারম্যানের উচিৎ এর সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া।

পাহাড়পুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম সহ স্থানীয় বাসিন্দা শামীম, রানা ও রাজু বলেন, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এভাবে হামলা করার পরও কোন আইনগত ব্যবস্থা না নেয়া হলে অন্য অপরাধিরাও একই রকম অপরাধ করার সাহস পাবে। চেয়ারম্যানের ভুমিকা পূরোটাই রহস্যজনক। অপরাধ করে এভাবে যদি টাকা দিয়ে মাফ পাওয়া যায় তাহলে অপরাধীরা অপরাধ করতেই থাকবে। হয়তো কাল আবার অন্য কেউ এসে একই আচরন করবে।

চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কিশোর বলেন, হামলাকারীরা আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে কোন হামলা করেনি। অন্য একজনের সঙ্গে বাহিরে মারামারির এক পর্যায়ে সে এখানে এসে আশ্রয় নিলে পুনরাই এখানে এসে তার উপর হামলা চালায়। এতে করে ই-সেবা কেন্দ্রের কিছু মালামালের ক্ষতি হয়েছে। তারা আমাকে ক্ষতি পুরুন দিতে চেয়েছে। সেজন্য কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। ইউএনও স্যারের চার্জে এসিল্যান্ড আছে তার সঙ্গে পরামর্শ করে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় যার উপর হামলা হয়েছে সে ইউনিয়ন পরিষদে বিচার চাইলে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ জালাল হোসেন জানান, পাহাড়পুর ইউনিয়ন পরিষদের ই-সেবা কেন্দ্রে হামলার বিষয়টি শুনেছি। চেয়ারম্যান থানায় কোন অভিযোগ অথবা জিডি করতে আসেনি। আমি ছুটিতে ছিলাম এসে দেখি আহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী একটি অফিসারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসারর (ভারপ্রাপ্ত) সুজিৎ দেবনাথ জানান, পাহাড়পুর ইউনিয়ন পরিষদের বিষয়টি আমার জানা আছে। বিষয়টি অনেকটা মিমাংসা হয়েছে ইউএনও স্যার ছুটি থেকে আসলে পুরোটাই সমাধান করা হবে। তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যান যদি জিডি না করে থাকে তাহলে তাকে দ্রুত জিডি করতে বলা হবে।

ThemesBazar.Com

     More News Of This Category