,

ThemesBazar.Com

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে হাট বাজার ইজারা ও ওয়ান পার্সেন্টের ২৯ লাখ টাকার কাজ হয়নি !

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় হাট বাজার ইজারা ওয়ান পার্সেন্টের টাকা হরিলুটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত আগস্ট মাসে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানরা দুই খাতের ২৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮শ টাকার চেক গ্রহণ করলেও এখনো প্রকল্প অনুযায়ী কাজ শুরু করেননি। তাই বিষয়টি নিয়ে হরিণাকুন্ডু উপজেলা প্রশাসন অশ্বস্তিতে পড়েছে। হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট ওয়ান পার্সেন্টের ২১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা হাট ইজারার লাখ হাজার ৮শ টাকা উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের অনুকূলে চেক প্রদান করা হয়। হরিণাকুন্ডুুর ভায়না ইউনিয়নে লাখ ৬০ হাজার টাকার মধ্যে ৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। এর মধ্যে কালীশংকরপুর সামছুলের বাড়ি থেকে শাহজাহান আলীর বাড়ী পর্যন্ত ফাট সলিং, ইউনিয়ন পরিষদের আসবাবপত্র কেনা ভায়না ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ডিজিটাল হাজিরা সরবরাহ। সরেজমিন দেখা গেছে, কালীশংকরপুর সামছুলের বাড়ি থেকে শাহজাহান আলীর বাড়ি পর্যন্ত ফ্যাট সলিং সম্পূর্ণ করা হয়নি। ওই রাস্তাটি এখনো এক ফুট বাকি রয়েছে। তাছাড়া ভায়না ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও কোন ডিজিটাল হাজিরা সরবরাহ করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেন ইউনিয়ন ভূমি উন্নয়ন সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান। তবে ইউনিয়ন পরিষদে কিছু আসবাবপত্র কেনার কথা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান ছমির উদ্দীন। তিনি বলেছেন লাখ ৬০ হাজারের মধ্যে আমি এক লাখ ৬০ হাজার পেয়েছি। সেই টাকা দিয়ে আমি রাস্তা আসবাবপত্র কিনেছি। বাকি টাকা আমাকে দেওয়া হয়নি। তবে হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিস থেকে বলা হয়েছে ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট ৭৬৩২৫৫০ নং চেকে ভায়না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছমির উদ্দীনকে লাাখ ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তিনি কোন টাকা পাবেন না। হরিণাকুন্ডুর জোড়াদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা পলাশ জানান, তিনি যে টাকা পেয়েছেন তা অ্যাকাউন্টে আছে। বর্ষা শেষ হলে এই টাকার কাজ করা হবে। নং তাহেরহুদা ইউনিয়ন পরিষদে যেনতেন ভাবে আসবাবপত্র ভবন রং করা হলেও এখনো ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কোন ডিজিটাল হাজিরা সরবরাহ করা হয়নি। ওই ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের অনুকূলে ২৬৩২৫০১ নং চেকে লাখ ৭০ হাজার টাকা প্রদান করা হয় গত ২৩ আগস্ট। বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান মুনজুরুল ইসলাম জানান, ওয়ান পার্সেন্টের টাকা তছরুপের কোন সুযোগ নেই। প্রকল্প তৈরি করে সব টাকার কাজ করা হবে। কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নে এই খাতের লাখ ২০ হাজার টাকা ২৬৩২৫০৪ নং চেকে প্রদান করা হয়। সেখানে তিনটি প্রকল্পের মধ্যে একটিও বাস্তায়ন হয়নি করেননি স্থানীয় চেয়ারম্যান মশিউর রহমান জোয়ারদার। শাখারীদহ গ্রামের মাঠে কোন বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়নি। কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও কোন ডিজিটাল হাজিরা সরবরাহ করা হয়নি বলে জানান, কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা বিবেকানন্দ সরকার। হরিণাকুন্ডুর দৌলতপুর, রঘুনাথপুর, ফলসি চাঁদপুর ইউনিয়নেও প্রকল্প বাস্তবায়নের চিত্র হতাশাজনক। ফলসি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ডিজিটাল হাজিরা সরবরাহ করার কথা প্রকল্পে উল্লেখ থাকলেও ওই ইউনিয়নে কোন ভূমি অফিসই নেই। ইউনিয়নের বাসিন্দারা হরিণাকুন্ডু পৌর ভূমি অফিসে কাজ সারেন বলে জানান, হরিণাকুন্ডর এসিল্যান্ড (ভূমি) দিলারা জামান। এদিকে হরিণাকন্ডুর হাট বাজার ইজারার ৪৬% হিসেবে লাখ হাজার ৮শ টাকা চলতি বছরের ২৩ আগস্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের অনুকূলে চেকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। বরাদ্দকৃত অর্থের বিপরীতে গৃহীত প্রকল্প হরিণাকুন্ডুু উপজেলা প্রকৌশলী কৃর্তৃক প্রাক্কলন পস্তুতপূর্বক ইউএনওর অনুমোদন নিয়ে ব্যয় করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যানগণ তা না করেই অর্থ তুলে নিয়েছেন। সেই টাকায় কি কাজ করা হয়েছে তাও হরিণাকুন্ডু ইউএনও অফিসকে জানানো হয়নি। হরিণাকন্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসও হাট বাজার ইজারা ওয়ান পার্সেন্টের টাকা ব্যয় নিয়ে রয়েছে অন্ধকারে। যথাযথ ভাবে হিসেব দাখিল না করায় এই টাকা তছরুপের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হরিণাকুন্ডুর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা জামান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

ThemesBazar.Com

     More News Of This Category