শ্রীলংকায় ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে বাণিজ্যমন্ত্রী বাণিজ্য বিনিয়োগ বাড়াতে সাফটা, বিমসটেক ও আশিয়ানকে শক্তিশালী করতে হবে

ঢাকা, ১৯ ভাদ্র (৩ সেপ্টেম্বর) :
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ভারত মহাসাগর দিয়ে বিশে^র অর্ধেক কনটেইনারবাহী জাহাজ, তিন ভাগের এক ভাগ কার্গো ট্রাফিক, তিন ভাগের দুই ভাগ তেলবাহী জাহাজ চলাচল করে। বাণিজ্যিক দিক থেকে এ অঞ্চল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও পাইরেসি রোধসহ সন্ত্রাস বিরোধী পদক্ষেপ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দারিদ্র্যবিমোচন, আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য বহুমুখী বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ও বাণিজ্য জাহাজের নিরাপদ চলাচলের মাধ্যমে বাণিজ্য উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে সাফটা, বিমসটেক, আশিয়ান-এর মতো বাণিজ্যিক জোটগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। এ জন্য ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী দেশগুলোর মধ্যে প্রিফারেন্সিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ) এর কথা চিন্তা করতে পারে।
বাণিজ্যমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোয় অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও সিঙ্গাপুরের থিংকট্যাংকসমূহের যৌথ আয়োজনে তিন দিনব্যাপী দ্বিতীয় “ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স ২০১৭”-এর প্রথম বিশেষ প্লেনারি অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানের সময় এ কথা বলেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিশে^র মহাসাগরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হলো ভারত মহাসাগর। বিশে^র প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যে মানবিক বিপর্যয় ঘটে, তার ৭০ ভাগই হয় এ অঞ্চলে। সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যায় বাংলাদেশ, ভারত, নেপালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটেছে। সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য না থাকায় কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের টেকশই উন্নয়নের জন্য ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। আমার বিশ^াস সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী দেশগুলোর নিরাপত্তা, বাণিজ্য-বিনিয়োগ এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন সম্ভব।
মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ নিরপেক্ষ বাণিজ্য, মানব কল্যাণ এবং অন্যান্য দেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে সক্ষম। এর সুফল সংশ্লিষ্ট সকলেই ভোগ করতে পারে।
উল্লেখ্য, কনফারেন্সে ২৯ দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এবারের কনফারেন্সের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল পিস, প্রোগ্রেস এন্ড প্রোসপারিটি। প্রথম সম্মেলন ২০১৬ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ভারতের ইনস্টিটিউট অভ্ চাইনিজ স্টাডিজ এর পরিচালক এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত অশোক কান্থা’র সভাপতিত্বে অধিবেশনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমসিংহে (জধহরষ ডরপশৎবসবংরহমযব), ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ (ঝঁংযসধ ঝধিৎধল), সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান (উৎ. ঠরারধহ ইধষধশৎরংযহধহ), নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষ্ণ বাহাদুর মাহারা (কৎরংযহধ ইধযধফঁৎ গধযধৎধ), মরিশাসের ওশান ইকোনমি, মিনারেল রিসোর্সেস, ফিশারিজ এন্ড শিপিং বিষয়ক মন্ত্রী প্রেমদূত কনজো (চৎবসফঁঃ কড়ড়হলড়ড়), শ্রীলংকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিলক মারাপানা (ঞরষধশ গধৎধঢ়ধহধ), জাপানের পররাষ্ট্র বিষয়ক পার্লামেন্টারি ভাইস-মিনিস্টার আইওয়া হোরি (ওধিড় ঐড়ৎরর)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *