টাঙ্গাইলের মীর্জাপুরে পশুর হাটে চাঁদাবাজি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জমে উঠেছে কোরবানী পশুর হাট ঘাটে ঘাটে চলছে চাঁদাবাজি বেপারিরা দিশেহারা টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জমে উঠেছে কোরবানী পশুর হাট ঘাটে ঘাটে চলছে চাঁদাবাজি বেপারিরা দিশেহারা মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল,টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে কোরবানীর পশুর হাট জমে উঠেছে।ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সমাগমে প্রতিটি পশুর হাট এখন জমজমাট।ছোট থেকে বড় সাইজের ষাঁড় বিক্রি হচ্ছে ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে তিন লাখ টাকায়।ঘাঁটে ঘাঁটে চাঁদা চলছে বলে বেপারিরা অভিযোগ করেছে।ট্রাক প্রতি ২০-৩০ হাজার টাকা চাঁদা গুনতে হচ্ছে।ফলে চরম বিপাকে পরেছে ক্রেতা,বিক্রেতা ও গরুর বেপারিা।আজ মঙ্গলবার টাঙ্গাইল জেলার সব চেয়ে বৃহৎ পশুর হাট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন মির্জাপুর উপজেলার দেওহাটা কোরবানীর পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে প্রচুর গরু বেচা কেনা হচ্ছে।দেলদুয়ার উপজেলার নাল্লাপাড়া থেকে আসা একটি গরুর বেপারি মো.ছানোয়ার হোসেন(৫৬) বলেন,বন্যার কারনে কয়েক দিন গরুর দাম কম থাকলেও এখন হাট বাজার ও গ্রামে গঞ্জে গরুর দাম বেশ চড়া।তিনি দেওহাটা পশুর হাটে তিনটি ষাড় নিয়ে এসেছিলেন।তিনটি ষাঁড়ে খরচ বাদে তার লাভ হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার টাকা।ভুয়াপুরের গোবিন্দদাসী গরুর হাট থেকে বেপারি তাইজুদ্দিন(৫০) জানান,তিনি আটটি গুরু নিয়ে এসেছিলেন।সব গুরুই বিক্রি হয়েছে। লাভ হয়েছে এক লাখ কুড়ি হাজার টাকা।ছোট সাইজের একটি গরু ৩০-৪০ হাজার টাকা,মাজারি সাইজের একটি গরু ৫০-৯০ হাজার টাকা এবং বড় সাইজের একটি গরু এক লাখ-তিন লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এছাড়া খাঁসি ছোট সাইজ-৬ -৭ হাজার টাকা,মাজারি সাইজ ৯-১৫ হাজার টাকা এবং বড় সাইজ ২০-৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এ বছর ভারত ও মিয়ানমার থেকে গুরু আসায় প্রতিটি হাট বাজারেই গরুর দাম গত বছরের চেয়ে একটু কম বলে বেপারি ও স্থানীয় গৃহস্থ্যরা জানিয়েছেন।এদিকে বেপারিদের বড় সমস্যা হচ্ছে ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি।উত্তরা অঞ্চল থেকে একটি গরু ভর্তি ট্রাক রাজধানী ঢাকা ও টাঙ্গাইলসহ মির্জাপুরে আনতে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও হাটের ইজারাদরদের চাঁদা দিতে হচ্ছে গরু প্রতি ৫শ থেকে দেড় হাজার টাকা।আর ট্রাক প্রতি চাঁদা দিতে হচ্ছে ২০-৩০ হাজার টাকা।এ প্রশংগে হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশের দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শ্রমিক সংগঠনের ও রাজনৈতিক দলের কিছু নেতারা কোরবানীর ঈদকে ঘিরে মাহসড়কে চাঁদাবাজি করে থাকে।টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরের গোবিন্দদাসী, গাবসারা, এলেঙ্গা, দেলদুয়ারের রুকসি, করটিয়া, লাউহাটি, মির্জাপুরের দেওহাটা, তক্তারচালা, কাইতলামহ প্রতিটি পশুর হাটই এখন জমজমাট।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,এসব পশুর হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য বাজার কমিটি পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন।এছাড়া চোর ও প্রতারকদের কবল থেকে বেপারি ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীও নিয়োগ করা হয়েছে।এ ব্যাপারে দেওহাটা পশুর হাটের ইজারাদার মো. জামান মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,এই হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ব্যাপক নিরাপত্তা দেওয়া হয়।বেপারি ও গৃহস্থ্যদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোন চাঁদা  (টোল)নেওয়া হয়না ।ঈদের পরের দিন পর্যন্ত এখানে হাট বসবে।মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাইন উদ্দিন বলেন,পশুর হাটে ক্রেতা, বিক্রেতা ও বেপারিদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *