পীরগঞ্জে বন্যা ,বানে ধান খাইছে, ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা বানভাসীদের

মামুনুররশিদ মেরাজুল, পীরগঞ্জ (রংপুর) থেকে ঃ
দুরদুরান্তে আশ্রয় নেয়া বন্যার্তরা পানি কমার সাথে সাথে নৌকাযোগেই তাদের বাড়ীঘরে ফিরছে। গ্রামের রাস্তাগুলো এখনো পানিতে ডুবে আছে। চারিদিক থেকে বন্যার কারণে আবাদী ফসল আর রবি শষ্যের ক্ষেত পচে যাওয়ায় দুর্গন্ধ আসছে। নাক চেপে নৌকায় করে বন্যার্তদের অবস্থা দেখতে গিয়ে কাছে যেতেই শোনা গেল, বানে হামার ধান খালো। ঈদের আনন্দও খাইবে। তাবোত ধান পানিত পচি যাওয়ায় এখন বেচনোর (ধানের চারা) অভাবে ধান গাড়বার পারোছি না। হামার কপালোত ঈন্দুর নাগছে। আবাদের ক্ষতি এক বছরেও পোষে উঠপ্যার পারবালাই, হামরা ক্যাংকরি ঘুরি দাঁড়ামো বলেই হতাশার সুরে কথাগুলো বললেন বানভাসি গোফফার মিয়া। তিনি উপজেলার চতরা ইউনিয়নের মাটিয়াল পাড়ার বাসিন্দা। উপজেলার চতরা ইউনিয়নের ২৪ মৌজার মধ্যে ১৯টিই বন্যায় কবলিত। কয়েকদিনের বন্যায় পচে গেছে ধান, পাট, ভুট্টা, কলা, মরিচ, পটল, করলা, বেগুন, কচুসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। এ সময় উপস্থিত কুয়াতপুরের বুদু মিয়া, আজাহার, কুমারপুরের শফিকুল, মাটিয়ালপাড়ার কালাম, ঘাসিপুরের নুরুন্নবীসহ কয়েকজন জানান, হামার খাওয়াই সমস্যা, গরু-বকরির (ছাগল) কি করমো ! ঘাস-পাতার অভাবে গরু-বকরি গুলাও কম দামে বেঁচি জীবন বাঁচাওছি। বন্যায় বেশ কয়েক একর নেপিয়ার ঘাসের ক্ষেত পানিতে পচে যাওয়ায় গরুর খাবারের অভাবে অনেকেই কমদামে গবাদিপশু বিক্রি করছে। তারা আরও বলেন, কৃষি সহায়তা না দিলে আবাদ করা যাবা নায়। চতরা হাটোত বেছনের (ধানের চারা) যে দাম। ট্যাকাও নাই, আবাদ করাও যাবা নায়। উপজেলার টুকুরিয়া, কাবিলপুর ইউনিয়নেও বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়েছে। টুকুরিয়া ইউনিয়নটি বন্যায় বেশী ক্ষতি হলেও তাদের পাশে ত্রান নিয়ে খুব লোকই গেছে। কারণ ওই ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা বন্যার্তদের জন্য ভুমিকা না রাখায় সামাজিক সংগঠনগুলো ত্রাণ নিয়ে যেতে পারেনি বলে তরফমৌজার মৃত. শংকরাম দাসের স্ত্রী বিন্নো বালাসহ বন্যার্তরা ক্ষেদোক্তি করেছেন। ইউনিয়নটির আ’লীগ নেতা হেলালুর রহমান বলেন, আমিই ব্যক্তি উদ্যোগে তরফমৌজা, রামকানুপুর ও জয়ন্তীপুরে বানভাসীদের ত্রান দিয়েছি। সেখানে চেয়ারম্যান বা আ’লীগের নেতারা যায়নি। সেখানে প্রায় ২ হাজার মানুষ পানিবন্দী।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, উপজেলায় চলতি মওসুমে ২২ হাজার ২৫০ হেক্টর আমন ক্ষেতের মধ্যে ৭ হাজার ৫’শ হেক্টর জমি বন্যায় বিনষ্ট হয়েছে। এরমধ্যে টুকুরিয়া ও চতরা ইউনিয়নে ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ করে এবং কাবিলপুরে প্রায় ৯০ ভাগ আমন ক্ষেত পচে গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমীর চন্দ্র ঘোষ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের তালিকা করা হয়েছে, আগামীকাল সোমবার স্থানীয় সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর মাধ্যমে কৃষি সহায়তা প্রদান করবেন। তিনি বন্যা এলাকা পরিদর্শনের জন্য কাবিলপুর ও চতরা ইউনিয়নে আসবেন। উপজেলা পিআইও অফিস সুত্রে জানা গেছে, এবারের বন্যায় টুকুরিয়া ইউনিয়নের মানুষ বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়া ৫০ মে. টন চালের মধ্যে টুকুরিয়ায় সাড়ে মে. টন, চতরায় ৮ মে. টন এবং কাবিলপুরে ৯ মে. টন চাল বিতরন করা হয়েছে। অপরদিকে উপজেলার চতরা বিজ্ঞান ও কারিগরি কলেজের পক্ষ থেকে বন্যার শুরু থেকেই বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তাদের মতো প্রতিদিনই সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ সমাজসেবীরা স্ব উদ্যোগে ত্রান সহায়তা নিয়ে আসছেন। এরমধ্যে লক্ষীপুরের রায়পুর কাজী বাড়ীর কুয়েত প্রবাসী কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল নিজস্ব তহবিল থেকে বন্যার্তদের জন্য ৫০ লাখ টাকার ঈদ সহায়তা প্রদান করেছেন। চতরা ইউপির চেয়ারম্যান এনামুল হক প্রধান শাহীন বলেন, পানি কমছে, পাশাপাশি দুর্ভোগও বাড়ছে। কৃষকদেরকে কৃষি সহায়তা দিতে আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি। স্থানীয় এমপি ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাদেরকে সহায়তা দিবেন। চতরা বিজ্ঞান ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রব জানান, বন্যা এলাকায় লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ইউনিক গ্রুপের পক্ষ থেকে রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। উপজেলা আ’লীগের সম্পাদক মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম বলেন, আমরা বন্যার্তদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সরকারী-বেসরকারী ভাবে সহায়তা প্রদান করছি, করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org