জেলা কমিটি কর্তৃক যাচাইকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহ দ্রুত জাতীয় করণ প্রসঙ্গে

 

বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষা বান্ধব সরকার। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে দেশ ও জাতী গঠনের প্রথম সোপান। প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ ভবিষ্যত প্রজন্মকে মেধাবি ও আদর্শ জাতী গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে এই চেতনা বোধ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দূরদর্শীতায় প্রতিয়মান। ২০১৩ সালে ৯ জানুয়ারী দেশে ২৬ হাজার ১৯৩টি বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কয়েকটি ধাপে জাতীয় করণ করেন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুদ্ধ বিধস্থ দেশে সাহসিকতার সহিত ১৯৭৩ সালের পহেলা জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয় করণ করেন। অথচ বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কথা রাখেনি, কথা রেখেছে আওয়ামীলীগ সরকার। ১৯৯৭ সালের শেষ দিকে ঢাকার ওসমানী জাতীয় উদ্যানে বেগম খালেদাজিয়া শিক্ষকদের চাকুরী জাতীয় করণে ১ দফা দাবীর প্রতি একত্বতা প্রকাশ করে বলেছিলেন- নির্বাচনে জয়ী হলে বে-সরকারী শিক্ষকদের চাকুরী জাতীয় করণ করা হবে। তারপর ২০০০ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর তিনি বলেছিলেন আপনারা (শিক্ষকগণ) ডাইরীতে দিন, ক্ষন, তারিখ, মিনিট, ঘন্টা লিখে রাখুন আমি খালেদাজিয়া যা বলি তা করি, ইনশাল্লাহ আপনাদের দাবী পূরন হয়ে গেছে। ওই শিক্ষক মহা সমাবেশে বেগম জিয়া ছাড়াও শরিক জোট নেতা এইচ এম এরশাদ, গোলাম আজম, আল্লামা শায়খুল হাদিস শিক্ষকদের দাবী পূরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমস্বরে বলেছিলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে আপনাদের দাবী পূরন করব। আওয়ামীলীগ সরকারের সাথে কোন আলোচনা করবেন না, কারন আওয়ামীলীগ সরকার বাস্তবায়ন করতে পারবে না। আওয়ামীলীগ সরকারের কথার ক্ষপ্পরে পড়বেন না। একই মঞ্চে এইচ এম এরশাদ বলেন শিক্ষকদের সাথে বিশ্বাস ঘাতগতা করা আর নিজের আতœার বে-ঈমানী করা একই কথা অথচ পরবর্তীতে বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় এসেছে কিন্তু কথা রাখেনি। মানুষ গড়ার কারীগর মহান পেশায় নিয়োজিত হাজার হাজার শিক্ষক পরিবারের নিকট বেগম জিয়ার প্রতিশ্রুতি মিথ্যা আশ্বাসে পরিনত হয়েছে। ভাগ্যহত বে-সরকারী প্রাথমিক শিক্ষকদের মর্যাদার আসনে সমাজে আসিন করতে সক্ষম হয়েছেন এবং শত ভাগ উপবৃত্তি প্রদান ও বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্য বই সেট তুলে দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। জাতীয় করণের ১ম ধাপ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শুরু হয়েছিল কিন্তু এখন অবশিষ্ট ধাপ গুলো যথেষ্ট প্রশ্ন বিদ্ধ। জেলা ও উপজেলা যাচাই বাছাই কমিটি কর্তৃক সুপারীশকৃত ৩য় পর্যায়ে অবশিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় বিক্ষিপ্ত ভাবে জাতীয় করণ নিয়ে বর্তমানে যে হ য ব র ল বিরাজ করছে তা নিরসনে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রানালয় বাংলাদেশ সচিবালয় ঢাকা পত্র নং ৩৮.০০৭.০১৫.০০০.০১.০০.২০১১, তাং ১৭ই জানু ২০১৩ইং প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন যা ২০ জানু ২০১৩ইং বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়) অনুযায়ী বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহ ৩য় ধাপে জাতীয় করণের লক্ষে জেলা যাচাই বাছাই কমিটি ও বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয় করণ সংক্রান্ত কেন্দ্রিয় টাস্কফোর্সে এর সুপারিশের আলোকে বিদ্যালয় সমূহকে ৩ ধাপে জাতীয় করণের অংশ হিসেবে বে-সপ্রা বিদ্যালয় বিধিমালায় বর্ণিত সূচক অনুযায়ী বিদ্যালয় গুলোর বাস্তব অবস্থা যাচাই এর জন্য উপজেলা যাচাই বাছাই কমিটির নিকট প্রেরিত হয়। প্রেক্ষিতে উপজেলা যাচাই বাছাই কমিটি কর্তৃক বিদ্যালয় সমূহের সম্পদ অবকাঠামোগত অবস্থা, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের যোগ্যতা ও নিয়োগ পদ্ধতি ইত্যাদি বাস্তবতা যাচাইয়ের মাধ্যমে শুধুমাত্র জাতীয় করণের উপযুক্ত বিদ্যালয় সমূহের বিষয়ে সুপারিশ সহ প্রতিবেদন জেলা কমিটিতে পাঠায়। এর পর জেলা কমিটি বিদ্যালয় জাতীয় করন যাচাই বাছাই কমিটির আহব্বায়ক ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক মহোদয় উপজেলা কমিটির সুপারীশকৃত বিদ্যালয় সমূহের রেকর্ড পত্র, দলিল, খারিজ, খতিয়ান, ছবি, শিক্ষকদের তথ্যাবলী, সম্পত্তি দায়দেনা, ছাত্র/ছাত্রী তথ্য পরীক্ষা নিরিক্ষা করে সঠিক পাওয়া গিয়াছে মর্মে ৩য় ধাপে জাতীয় করণের জন্য প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ে সুপারিশ সহ প্রেরণ করেন। যেহেতু প্রাথমিক গণ শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক দপ্তর আদেশে বলা হয়েছে বে-সপ্রা বিদ্যালয়ের জাতীয় করনের জন্য সরে জমিনে বাস্তব অবস্থার পরিদর্শন প্রতিবেদন আবশ্যক। প্রজ্ঞাপন অনুসারে মন্ত্রানালয়ে তথ্য প্রেরণ করা হলেও ৩য় ধাপে জাতীয় করনের আওত্বায় আনা হয়নি এ সব বিদ্যালয় । বাস্তবায়নের ধাপ অনুসারে জাতীয় করণের যোগ্য বিবেচিত ৩য় ধাপের তালিকা ভুক্ত বিদ্যালয় গুলো ২০১৪ইং সালের ১লা জানু থেকে জাতীয় করনের আওত্বায় আসার কথা। সুপারীশকৃত বিদ্যালয় সমূহকে বাদ দিয়ে চলতি বছরের ২৩ মার্চ কিছু সংখ্যক বিদ্যালয় জাতীয় করণ গেজেট প্রকাশ হয়েছে। মন্ত্রনালয়ের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা জাতীয় করন বাণিজ্যের নামে দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলের সেচ্ছা শ্রমী শিক্ষকদের হয়রানীর সুযোগ নিয়ে বিক্ষিপ্ত ভাবে জাতীয় করণ প্রক্রিয়া চলমান রাখায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ঘোষিত তারিখের পর কিছু সুযোগ সন্ধানী চক্র নতুন দলিল সম্পাদন করে রাতারাতি সাইন বোর্ড সর্বস্ব বিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। অপর পক্ষে ২০১৩ইং সালের পূর্বে অর্থাৎ ২০০০ হতে ২০১২ ইং সাল পর্যন্ত যে সমস্ত শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারনের লক্ষে প্রয়োজনীয় জমি দান করে খাজনা খারিজ হালফিল সহ বিদ্যালয় চলমান রেখেছে এমন প্রতিষ্ঠান সমূহকে চিহ্নিত করে জাতীয় করণ করলেই প্রকৃত ও উপযুক্ত বিদ্যালয় সমূহ অগ্রাধীকার পাবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নয় উপযুক্ত বিদ্যালয় জাতীয় করণ করলেই প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই ধাপের বিদ্যালয় বিভিন্ন সময় খন্ড খন্ড করে বিক্ষিপ্ত ভাবে এলাকা ভিত্তিক গ্রেজেট প্রকাশ রোধ করার মাধ্যমে তদবির বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব।

লেখক-
খন্দকার এইচ আর হাবিব
প্রধান শিক্ষক ও সাবেক গণ মাধ্যম কর্মী
মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্প, দিনাজপুর।
ই-মেইল শযৎ.যধনরন২@মসধরষ.পড়স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org