বিভিন্ন ব্যান্ডের ল্যাপটপ

ল্যাপটপের বাজার এখন আগের তুলনায় অনেক পরিবর্তিত। ল্যাপটপ কিনতে গেলে তাই যে কারো মাথা ঘুরে যেতে পারে।

কারণ কোনটি ছেড়ে কোনটি কিনবেন, তার সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেই সহজ কাজ নয়। এ লেখায় তুলে ধরা হলো সেরা ১১টি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপের কথা, যা থেকে পছন্দ করে নিতে পারেন আপনার পছন্দনীয় ল্যাপটপ। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।
১. মাইক্রোসফট সারফেস বুক
মাইক্রোসফটের প্রথম এ ল্যাপটপটির কার্যক্ষমতা যে কোনো আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেটের তুলনায় উন্নত বলেই মানছেন বিশেষজ্ঞরা। সারফেস বুকের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে রয়েছে এর ডুয়াল গ্রাফিক্স। এর ডিসপ্লে ইউনিটের সাথে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড গ্রাফিক্স। আর কিবোর্ড অংশে যুক্ত করা হয়েছে এনভিডিয়ার ডেডিকেটেড গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট। ল্যাপটপটির ১৩.৫ ইঞ্চির ডিসপ্লের পিক্সেল ঘনত্ব ২৬৭ পিপিআই। ভিন্ন ভিন্ন মডেলের জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে ইন্টেলের কোরআইফাইভ থেকে শুরু করে কোরআইসেভেন পর্যন্ত প্রসেসর। এগুলোতে র‌্যাম রয়েছে ৮ জিবি পর্যন্ত। তবে চাইলে ১৬ জিবি পর্যন্ত ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে। আর বিল্ট-ইন স্টোরেজ হিসেবে ১২৮ জিবি থেকে ৫১২ জিবি পর্যন্ত এসএসডি ব্যবহার করেছে মাইক্রোসফট। এর ব্যাটারি ব্যাকআপ ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত পাওয়া যাবে। এর কিবোর্ড অংশের সাথে মাইক্রোসফট যুক্ত করেছে কাচের ট্র্যাকপ্যাড, যা কাজে বাড়তি সুবিধা দেয়। মাইক্রোসফট এর আগে ট্যাবলেট পিসি হিসেবে সারফেস বাজারে আনলেও এক্সটার্নাল কিবোর্ডের মাধ্যমে একে ট্যাবলেট-ল্যাপটপ হাইব্রিড হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ ছিল। এবারে সারফেস বুকের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সরাসরি ল্যাপটপ তৈরি করলো তারা। তবে সারফেস বুকের ডিসপ্লে অংশকেও আলাদা করে ব্যবহার করা যায় ট্যাবলেট হিসেবে। সারফেস বুকের অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে উইন্ডোজ ১০। এর স্ক্রিনটি টাচ সেনসিটিভ। এতে সারফেস পেন স্টাইলাসও ব্যবহার করা যায়। এছাড়া এতে রয়েছে দুটি ইউএসবি পোর্ট, এসডি কার্ড স্লট ও দারুণ টাচপ্যাড। মূল্য প্রায় দেড় হাজার ডলার।
১. ম্যাকবুক
অ্যাপলের নতুন ম্যাকবুক আগের মডেলের তুলনায় এখন অনেক উন্নত। এতে আগের দুর্বলতাগুলো দূর করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাপল। এছাড়া এতে ব্যবহৃত হয়েছে আগের তুলনায় উন্নতমানের প্রসেসর, দ্রুতগতির র‌্যাম ও উন্নতমানের গ্রাফক্স। এতে নতুন ম্যাকবুকের পারফর্মেন্স যেমন বাড়বে তেমন কাজও সহজ হয়ে আসবে বলে দাবি অ্যাপলের। আগের মডেলে যেমন একসঙ্গে বেশ কয়েকটা ক্রোম ট্যাব খোলার অসুবিধা ও অন্যান্য কয়েকটা অ্যাপ চালানোর দুর্বলতা ছিল, নতুন মডেলে তা নেই। অ্যাপল আগের মডেলগুলোর তুলনায় এবার প্রসেসরসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশের মান উন্নত করায় ধারণা করা হচ্ছে এর পারফর্মেন্স যথেষ্ট ভালো হবে। অ্যাপলের নতুন ম্যাকবুকের গতিশীল প্রসেসর, উন্নত মান ও হালকা-পাতলা ডিজাইন সবার মাঝে জনপ্রিয়তা পাবে বলে আশাবাদী অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ম্যাকবুকের ১২ ইঞ্চি মডেলের দাম ১,২৯৯ ডলার।
৩. লেনোভো থিংকপ্যাড টি৪৬০
আপনি যদি একটি বিজনেস ল্যাপটপ চান যেটি নির্ভরযোগ্য এবং পেশাদারী কাজের জন্য কার্যকর হবে তাহলে লেনোভো থিংকপ্যাড টি৪৬০ নিতে পারেন। এটি বাজারের সেরা ল্যপটপের অন্যতম। এর ব্যাটারি পাল্টানো যায়। এছাড়া একবার চার্জে ১৪ ঘণ্টা চার্জ থাকে এর। ফলে আপনি চাইলে তার বেশিক্ষণ চার্জ রাখার জন্য একাধিক ব্যাটারি ব্যবহার করতে পারবেন। মূল্য প্রায় ৮০৯ ডলার।
৪. ম্যাকবুক এয়ার
কিছুটা কম দামে ম্যাকবুক চাইলে ম্যাকবুক এয়ার দেখতে পারেন। অসাধারণ ডিজাইন, অত্যন্ত পাতলা ও হালকা এ ল্যাপটপটির নির্মাতা বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রযুক্তিপণ্য প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। এর চেহারাই শুধু সুন্দর নয়, কাজেও এটি সেরা। এতে রয়েছে দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ (প্রায় ১০ ঘণ্টা)।   দামের সঙ্গে সঙ্গে পারফর্মেন্স পেতে চাইলে ম্যাকবুকের জুড়ি নেই। আর এ বিষয়টি মাথায় রেখেই বিশ্বের বহু ব্যবহারকারী অ্যাপলের পণ্য ব্যবহার করেন।
৫. র‌্যাজের ব্লেড স্টিলথ
গেমিংয়ের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় কোনো ল্যাপটপের কথা বলতে গেলে র‌্যাজের ব্লেড স্টিলথ-এ কথা বলতে হবে। এটি স্বাভাবিকভাবে বেশ পোর্টেবল এবং বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন চালানো যাবে। তবে আপনি যদি দারুণ সব গেম চালাতে চান তাহলে এতে একটি বাড়তি ডিভাইস যোগ করতে হবে, যেটি মূলত একটি গ্রাফিক্স কার্ড। আর গেমিংয়ের ক্ষেত্রে এ কার্ড সংযোজন বিপুল সুবিধা এনে দেবে। ল্যাপটপটির মূল্য ৯৯৯ ডলার। তবে এর সঙ্গে ৩৯৯ ডলার যোগ করতে হবে বাড়তি গ্রাফিক্সের জন্য।
৬. ম্যাকবুক প্রো রেটিনা
আপনি যদি অ্যাপলের রেটিনা ডিসপ্লেযুক্ত ল্যাপটপ নিতে চান তাহলে ম্যাকবুক প্রো রেটিনা দেখতে পারেন। বিভিন্ন নজরকাড়া ফিচারের কারণে এ তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ম্যাকবুক প্রো রেটিনা। এ মডেলটিতে রয়েছে রেটিনা ডিসপ্লেযুক্ত উন্নত স্ক্রিন, দ্রুতগতির প্রসেসর ও উন্নতমানের গ্রাফিক্স প্রযুক্তি। এ ছাড়াও রয়েছে থান্ডারবোল্ট পোর্ট ও এইচডিএমআই সুবিধা। আর এ মডেলের ল্যাপটপের দামও এ কারণে যথেষ্ট বেশি। মূল্য ১২৯৯ ডলার।


৭. ডেল এক্সপিএস ১৩
অনেকটা অ্যাপলের ম্যাকবুক এয়ারের মতো পোর্টেবল হলেও এটি অ্যাপলের পণ্যের তুলনায় দামের দিক দিয়ে কিছুটা কম। এতে রয়েছে ৩,২০০ বাই ১,৮০০ রেজুলিশনের টাচস্ক্রিন। এতে রয়েছে ১২ ঘণ্টা ব্যাটারি লাইফ। মূল্য ৭৯৯ ডলার।
৮. ৯. আসুস ROG G751JT গেমিং ল্যাপটপ
গেমিং ল্যাপটপ বলতে যা বোঝায় তা এই ল্যাপটপটিতে রয়েছে। তবে ল্যাপটপটির দামও অনেক। এতে রয়েছে সবচেয়ে ভালো হার্ডওয়্যারের সমন্বয়। এর স্ক্রিন ও কিবোর্ডও অসাধারণ। মূল্য ১৬৪৯ ডলার।
৯. আসুস জেনবুক ইউএক্স৩০৫
আপনি যদি ম্যাকবুক পছন্দ করেন কিন্তু অর্থের অপচয় করতে না চান তাহলে আসুসের জেনবুক ইউএক্স৩০৫ মডেলটি দেখতে পারেন। এটি যেমন আকর্ষণীয় তেমন শক্তিশালী। ম্যাকবুকের মতোই এটি হালকা ও পাতলা। তবে দামের দিক দিয়ে এটি যথেষ্ট কম। ল্যাপটপটির মূল্য ৭৫০ ডলার।
১০. লেনোভো ইয়োগা ৯০০
সারফেস বুক যাদের প্রিয়, তাদের জন্য সহজ বিকল্প হলো লেনোভো ইয়োগা ৯০০। এটি ট্যাবলেট ও হাইব্রিড হিসেবে ব্যবহার করা যায়। মূল্য ১০৪৯ ডলার।
১১. তোশিবা ক্রোমবুক ২
কমদামে মানসম্মত ল্যাপটপ কিনতে হলে তোশিবার নতুন মডেলের ক্রোমবুক ২-এর জুড়ি নেই। এর রয়েছে সুন্দর স্ক্রিন, দারুণ ব্যাটারি লাইফ ও মানসম্মত ডিজাইন। হালকা কাজের জন্য এটি হতে পারে সবচেয়ে ভালো পছন্দ। মূল্য ৩৩০ ডলার।
১২. এইচপি স্পেকট্রা
আপনি যদি মানসম্মত ও দারুণ একটি ল্যাপটপ নিতে চান তাহলে এইচপি স্পেকট্রা দেখতে পারেন। এইচপি দাবি করে এটি বিশ্বের সবচেয়ে পাতলা ল্যাপটপ। তবে শুধু পাতলাই নয়, এটি যথেষ্ট হালকা। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এতে কাজ করা যথেষ্ট সুবিধাজনক। এছাড়া ল্যাপটপটির ব্যাটারিও যথেষ্ট দীর্ঘস্থায়ী। দাম প্রায় ১,১৬৯ ডলার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *