তুরাগে তিন সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মায়ের আত্মহত্যা


এস,এম মনির হোসেন জীবন : রাজধানীর তুরাগে কালিয়ারটেক এলাকাতে তিন সন্তানকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যার পর পাষন্ড মা রেহেনা পারভীন (৩৮) নিজেও ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। নিহতরা হলো বড় মেয়ে শান্তা (১২), ছোট মেয়ে শেফা (৮) এবং ৮ মাসের ছেলে সা’দ এবং তার মা রেহেনা পারভীন (৩৮)। নিহতরা সকলের একই পরিবারের। নিহত ৪জনের মধ্যে ৩জন শিশু রয়েছে। খবর পেয়ে তুরাগ থানা পুলিশ মধ্যরাতে নিহত ৪জনের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ ( ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে তুরাগ থানার কালিয়ারটেক এলাকায় মো. মোস্তফা কামালের বাড়িতে নির্মনভাবে চাঞ্জল্যকর এ খুনের ঘটনাটি ঘটে।
তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মাহবুবে খোদা আজ সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুুলিশ,এলাকাবাসি ও নিহত রেহেনার স্বামী মো. মোস্তফা কামাল আজ জানান, আমি সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতার করে বাসা থেকে বের হয়েছি। বাহিরে কাজ থাকায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাসায় এসে দেখি দরজা বন্ধ। তখন ঘরের লাইন বন্ধ থাকায় রুমের ভেতরে অন্ধকার ছিল। পরে ঘরের লাইট জ্বালিয়ে দেখি, আমার স্ত্রী লাশ ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলছে। তিন সন্তানের লাশ বিছানার উপরে শোয়ানো রয়েছে। বড় মেয়ের দুই পায় রশি দিয়ে বাধা অবস্থায় পড়ে আছে। খবর পেয়ে আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তুরাগ থানার ওসি মাহবুবে খোদা, উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) শাহেন শাহ মাহমুদ উত্তরা বিভাগের পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা,র‌্যাব ও ডিবি পুলিশ। পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ ( ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
রেহেনার বড় ভাই মাহবুব আলম সাগর আজ হত্যাকান্ড সম্পর্কে জানান, কামালের মা, ভাই-বোন তার সম্পত্তি দখলের জন্য দীর্ঘদিন যাবত ধরে অত্যাচার করে আসছিল রেহানাকে। অবশেষে আমার বোন তা সইতে না পেরে তার সন্তানদের হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করেছে। ঘটনার তিন দিন আগে আমি আমার বোন এবং ভাগনী এবং ভাগিরাদের দেখতে আসি তখন দেখি আমার বোন শুধু লাউ পাতা রান্না করেছিলো। তখন আমি বাজার সদাই করে দিয়েছি। দশটা মুরগীও কিনে দিয়েছিলাম। পরে আমার বোন বললো ভাই তুই আর এখানে আসিস না, তোকে মেরে ফেলবে।
রেহেনার বড় ভাই মাহবুব আলম সাগর আরও জানান, আমরা মিরপুর থাকি আমাকে কামালের ছোট বোনের জামাই আমার বোন এবং ভাগিনাদের মৃত্যুর খবর জানায়। আমি খবর পেয়ে চলে আসি। তিনি আর ও জানান এই বাড়িটি আমার বোনের জামাই কামাল করেছে। কামালের মা, বোন ও মেঝো ভাই ওই জায়গা দখল করে রেখেছে বহুদিন ধরে। আমার বোন,বোন জামাই এবং ভাগিনাদের এই বাসা থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছিল বহুদিন ধরে। এছাড়াও কামালের মা ও ভাই-বোন ১২ লাখ টাকার জমি বিক্রি করেছে কিছুদিন পূর্বে। কিন্তু তাদের কোন টাকা দেয় নি।
সাগর আরও জানান,ভাগনি টাকার জন্য স্কুলেরও রেজিস্ট্রেশন করতে পারে নি। এত কষ্টের মধ্যে থেকেও বোন আমাদের কিছুই বুঝতে দেয় নি। কখনো কিছুই আমাদের বলেওনি। কামালের বাসা ভাড়ার টাকাও তার মা ভাই বোনরা খেয়ে ফেলতো প্রতিমাসে এই বাড়ি থেকে ৪০ হাজার টাকার উপরেও ভাড়া আসতো।
তুরাগ থানার ওসি মাহবুবে খোদা আজ জানান, ঘটনাস্থল ওই বাসার ঘরে ভেতর থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল বলে বাড়ির মালিক কামালের কাছ থেকে জানতে পারি। তবে লাশের গলায় দাগ দেখে মনে হচ্ছে সস্তানদের হত্যার পর মা আত্মহত্যা করেছে।
ওসি আর ও জানান, সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের লাশ গুলো ময়নতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এটি হত্যা না আত্মহত্যা সেটির কারণ জানতে চাইলে ওসি মাহবুবে খোদা বলেন, আমরা দ’ুটি কারণ পেয়েছি। একটি হল সংসারের অভাব অনটন এবং অপরটি জমি ও বাড়ি সংক্রান্ত বিরোধ। নিহতের স্বজনরা কি মামলা বা অভিযোগ দেয় তা দেখেই বলা যাবে এটি আতœহত্যা নাকি হত্যা।
এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক কিংবা গ্রেফতার করা হয়নি। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেও জানান ওসি মাহবুবে খোদা।
পুলিশের একটি সূত্রে আজ আরও জানায়, তিন সন্তানের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাদেরকে শ্বাসরোধে হত্যা করা রয়েছে। যার মধ্যে বড় মেয়ে শান্তার গলায় হলুদ রঙের ওড়না দিয়ে পেঁচানো ছিল এবং দুই পা গোলাপি রঙের জরজেট ওড়না দিয়ে বাধা ছিল। তার পরনে গোলাপি রঙের ওড়না ও সেলোয়ার পরিহিত রয়েছে। ছোট মেয়ে শেফার গলায় হলুদের মধ্যে সাদা ওড়না রয়েছে। তার গায়ে লাল কালো রঙের ছেলোয়ার কামিজ পরিহিত ছিল। এছাড়া ৮ মাসের ছেলে সা’দের গলায় নীল ও সাদা রঙ্গের গ্রামীণ ওড়না পেঁচানো ছিল। তার পরনে ছিল সাদা রঙের প্যান্ট ও জামা পরিহিত আছে। ঘটনার পর ছোট মেয়ের শেফার নাক দিয়ে রক্ত ঝরছে।
উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) শাহেন শাহ মাহমুদ জানান আমরা হত্যার কোনা আলামত পাইনি। প্রাথমিকভাবে দেখে বুঝা যাচ্ছে যে, তিন সন্তনকে হত্যার পর মা নিজেও আত্মহত্যা করেছে। তবে ময়নাতদন্তের পর বিস্তরিত বলা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org