লক্ষ্মীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টাকা ছাড়া মিলছে না প্রশংসাপত্র


মু.ওয়াছীঊদ্দিন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :- লক্ষ্মীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে টাকা ছাড়া মিলছে না প্রশংসা পত্র। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য প্রশংসাপত্র আনতে গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক দু’শ থেকে তিন’শ টাকা করে নিচ্ছেন। আর এ টাকা দিতে অপারগতা জানালে তাদের প্রশংসাপত্র দিচ্ছেন না প্রধান শিক্ষিক। সরেজমিনে গিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর পিয়ারাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম হামছাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ শাকচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দালাল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চররুহিতা ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্যাম্পের হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সমসেরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গেলে দেখা যায় এসব অনিয়মের চিত্র।
২০১৬ শিক্ষাবর্ষে উর্ত্তীন শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের স্কুলের সহকারী শিক্ষকরা তাদেরকে অন্য স্কুলে ভর্তির জন্য প্রশংসা পত্রের জন্য ২ থেকে ৫শত টাকা হারে গ্রহন করছে। যদি কোন শিক্ষার্থী শিক্ষকদেরকে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে তাহলে তাদেরকে প্রশংসা পত্র না দেয়ার হুমকীও দিচ্ছে। ঐ শিক্ষকরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এও বলছে যদি তোমরা সামান্য টাকার জন্য প্রশংসা পত্র না নাও তাহলে তোমরা কিন্তু ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি হতে পারবেনা।
মাহফুজুর রহমান পাটওয়ারী নামে এক অভিবাবক অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে মাজেদা আক্তার ক্লাসে ১নং ছাত্রী। সে পরীক্ষায় ভালফলাফলও করেছে। কিন্তু বিদ্যালয়ে প্রশংসা পত্র নিতে গেলে ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রত্মা মজুমদার টাকা ছাড়া তা দিতে অপারগতা জানান। পরে ৩’শ টাকার বিনিময়ে প্রশংসা পত্র নিই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী জানায়, প্রশংসাপত্রের জন্য প্রধান শিক্ষিক তার কাছ থেকে দু’শ টাকা নিয়েছে। সঙ্গে টাকা না থাকায় বাড়ি থেকে এনে প্রশংসাপত্র নিতে হয়েছে। এ ব্যাপারে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিবাবকরা বলেন, আমরা প্রশংসা পত্রের জন্য স্কুলে আসলে আমাদের শিক্ষকরা টাকা ছাড়া সেটা দিচ্ছেনা। আমরা স্যারদেরকে খুশি করতে ১০০ টাকা করে দিলে সেটা তারা নিচ্ছেনা। আমাদেরকে অতিদ্রুত নতুন স্কুলে গিয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি হতে হবে। প্রশংসা পত্র ছাড়া কোন স্কুলেই নতুন ছাত্রছাত্রীদেরকে ভর্তি করানো অসম্ভব। এখন প্রশংসা পত্র অতীব জরুরী বিদায় শিক্ষকদের চাহিদামত টাকা দিয়েই আমাদেরকে প্রশংসা পত্র সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এদিকে জেলার  বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশংসাপত্র নিতে টাকা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকরা বলেন,  সারা বছর বিদ্যালয়ের অনেক খরচ করতে হয়। এজন্য এই টাকা নেয়া হচ্ছে। তবে দুই শত টাকা নির্দিষ্ট করে নয়,অভিভাবকরা খুশি হয়ে যত দিচ্ছে তত টাকাই নেওয়া হচ্ছে। আবার কেউ দিচ্ছেনা।
এদিকে দক্ষিণ বাঞ্চানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন ইকবালকে কোজে পাওয়া যায়নি। পরে তার মুঠোফোনে কল করে ডেকে আনলে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি। কিন্তু ওই স্কুলের সহকারি শিক্ষিকা রহিমা বেগম স্বীকার করে বলেন, আমরা এই বছর প্রশংসা পত্র দিয়ে ২’শ টাকা করে নিচ্ছি।
এবিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: আব্দুল আজিজ বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই। প্রশংসাপত্রের বিনিময়ে টাকা নিবে এমন কোন নিয়মও নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া আমি বিষয়টি দেখছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »