গাংনীতে ভবন ধ্বস নিয়ে সমালোচনা ॥ শ্রমিকের নামে জিডি


আল-আমীনঃ
গাংনীতে নওপাড়া- নবীণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিঁড়ি ধ্বসের ঘটনায় এলাকাবাসির মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঠিকাদার আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক ও বিএনপি নেতা মুলাকের কাজের মান নিয়েও আশংকা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসি। ইতোপূর্বে হিজলবাড়িয়া রাস্তায় নি¤œমানের কাজের কারণে এলাকাবাসিদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অপরদিকে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ সন্দেহ করে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ তাদের ছেলেদেরকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, গাংনীর ৬টি বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ শুরু করেন খালেক – মোলাক ঠিকাদার। প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় প্রায় তিন কোটি টাকা। বিদ্যালয় গুলো হচ্ছে- করমদি মাঠপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেঁতুলবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাড়াডোব পোড়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাড়াডোব হঠাৎপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোগলবাড়িয়া মধ্যপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ও নওপাড়া নবীণপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
ভবনগুলো নির্মাণের প্রথম থেকেই নি¤œ মানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কোন কর্ণপাত করেননি। বরং এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বাধা দিলে রাজনৈতিক শক্তি ব্যবহার করেছেন। লাঞ্ছিত হবার ভয়ে অনেকেই নীরবে চাকরী করছেন। আবার অনেকেই বদলী নিয়ে চলে গেছেন।
একাধিক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন, খালেক -মোলাক অত্যন্ত বেপরোয়া। ইতোপূর্বে হিজলবাড়িয়া রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত গঠিত হলে এমএ খালেককে সতর্ক করেন ও সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। এ নিয়েও চলে নানা আলোচনা সমালোচনা। অনেকেই বলছেন, নি¤œমানের কাজ করায় প্রাকৃতিক দূর্যোগে ভবনগুলো ধ্বসে পড়তে পারে। এগুলোর মাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরী। অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদেরকে বিদ্যালয়ে পাঠাতেও অপারগতা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন না তাদের সন্তানদের। শিক্ষকরাও বেশ নিরাপত্তাহীণ। তারা জানান, ভবন ধ্বসের কারণে ঠিকাদার প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে সামান্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে আর আমরা হারাবো আমাদের আপন জন। বিধায় সন্তানদেরকে বিদ্যালয়ে পাঠাবো কি না তা ভেবে দেখতে হবে।
এদিকে নবীনপুর বিদ্যালয়ের সিঁড়ি পুনরায় নির্মানের জন্য ঠিকাদারের লোকজন গেলে স্থানীয়রা সেটি নির্মাণ করতে দেয়নি। স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও কয়েকজন সাংবাদিক ঠিকাদারের হয়ে লোকজনকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। আবার কয়েকজন সাংবাদিক বলেছেন লিখে কি হবে ? ওদের বিরুদ্ধে লিখে কিছুই করা যাবে না। অনেকেই বলেছেন ,রাজনীতির মাঠে বিএনপি আওয়ামীলীগ দ’ুমেরুতে অবস্থান করলেও ভাগবাটোয়ারার সময় এক। যার প্রমাণ নবীণপুর ভবন নির্মাণের কাজ। এরা একজন আওয়ামীলগ আর অন্যজন বিএনপি।
এদিকে এলজিইডি সুত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছেন। তিনি বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করেছেন। এ ছাড়াও ঢাকা থেকে অপর একটি টীম আসছেন ঘটনাটি তদন্তে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়া হয়েছে উপজেলা প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে।
গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুল হক জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কোন কথা বললে তারা শোনেনা। নানা হয়রানী হতে হয়। অনেকেই এখানে চাকরী করতে চান না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে দেখা যাক কি হয়।
ঠিকাদার ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক জানান, শ্রমিকদের ভুলের কারণে এটি হয়েছে। সেই সাথে তিনি তার বাসভবনে যাবার জন্য অনুরোধ করেন। ঠিকাদার মুলাক জানান, অনিয়ম হয়নি। যা হয়েছে সেটি সামান্য ব্যাপার। এনিয়ে মাথা না ঘামানোর জন্য বলেন।
এদিকে উপজেলা প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে ভবন ধ্বসের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে কাজে অবহেলার কারণ দেখিয়ে শ্রমিকদের নামে জিডি করা হয়েছে। এর সত্যতা স্বীকার করেছেন গাংনী এলজিইডি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
সম্পাদক-প্রকাশক : শেখ মোঃ তৈয়াবুর রহমান॥

যুগ্ম সম্পাদক: এস এম শাহিদুল আলম॥ সহযোগী সম্পাদক: শেখ মোঃ আরিফ আল আরাফাত
সহ-সম্পাদক: (প্রশাসন) হাজী হাবিবুর রহমান শাহেদ: সহ সম্পাদক: আজমাল মাহমুদ
সম্পাদক কর্তৃক বাড়ী বাড়ী নং- ৫৩/২, ৪র্থ তলা, রাজ-নারায়ন-ধর রোড, কিল্লার মোড় বাজার, লালবাগ, ঢাকা-১২১১
ফোন: ০১৯১৮-২০১৬২৬, ফোন: ০১৭১৫-৯৩৩১৬৮
ই-মেইল- notunvor.news@gmail.com
Designed By Hostlightbd.com
| Cyberboss.org
Translate »